ইরানের ৪ প্রধান ব্যাংকে সাইবার হামলা, ব্যাহত ডিজিটাল সেবা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৪ ১৯:৩৫:৫০
ইরানের ৪ প্রধান ব্যাংকে সাইবার হামলা, ব্যাহত ডিজিটাল সেবা
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের অন্তত চারটি শীর্ষস্থানীয় প্রধান ব্যাংকে সীমিত পরিসরে একটি বড় ধরনের সাইবার হামলা চালানো হয়েছে। এই সুনির্দিষ্ট সাইবার আক্রমণের কারণে সাময়িকভাবে ব্যাংকগুলোর কিছু গুরুত্বপূর্ণ লেনদেন ও ডিজিটাল সেবা ব্যাহত হলেও সাধারণ গ্রাহকদের কোনো গোপনীয় তথ্য চুরি বা খোয়া যায়নি বলে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে দেশটির ব্যাংকিং সমন্বয় পরিষদ। রোববার (১৪ জুন) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি প্রকাশ করেছে।

ইরানের ব্যাংকিং সমন্বয় পরিষদের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, হ্যাকাররা মূলত ব্যাংকগুলোর একটি অভ্যন্তরীণ যৌথ যোগাযোগ অবকাঠামো ও নেটওয়ার্ক সিস্টেমকে লক্ষ্য করে এই সাইবার হামলাটি পরিচালনা করে। সাইবার হামলার শিকার হওয়া ব্যাংকগুলোর তালিকায় রয়েছে দেশটির শীর্ষ চার আর্থিক প্রতিষ্ঠান—ব্যাংক মেল্লি, ব্যাংক তেজারত, ব্যাংক সাদোরাত এবং এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক অব ইরান।

নেটওয়ার্কে এই অনাকাঙ্ক্ষিত সাইবার আক্রমণের বিষয়টি টের পাওয়ার পরপরই ব্যাংকগুলোর কেন্দ্রীয় আইটি ও কারিগরি দলগুলো দ্রুত সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে, যার ফলে বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হলেও সাময়িকভাবে কিছু ব্যাংকিং পরিষেবা ও অনলাইন লেনদেন সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ বা ব্যাহত হয়ে পড়ে।

তবে ব্যাংকিং সমন্বয় পরিষদের ওই বিবৃতিতে দেশের গ্রাহকদের পূর্ণ আশ্বস্ত করে বলা হয়েছে যে, এই সুনির্দিষ্ট হামলার মাধ্যমে হ্যাকাররা ব্যাংকে থাকা গ্রাহকদের কোনো ব্যক্তিগত, আর্থিক বা অত্যন্ত আকর্ষণীয় গোপনীয় তথ্যে অননুমোদিত প্রবেশাধিকার (অ্যাক্সেস) পায়নি। এমনকি হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে কোনো ধরনের তথ্য মুছে ফেলা বা পরিবর্তন করাও হ্যাকারদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। বর্তমানে ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর সার্বিক অনলাইন কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও নিরাপদ অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য কারিগরি পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুত গতিতে চালানো হচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স।


বাব আল-মান্দেব প্রণালি দখল করল হুথিরা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১২ ২০:০২:৩১
বাব আল-মান্দেব প্রণালি দখল করল হুথিরা
ছবি : সংগৃহীত

ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে ব্যাপক সামরিক অভিযান পরিচালনার পর কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযোগকারী আন্তর্জাতিক এই নৌপথ হুথিদের দখলে চলে যাওয়ায় বৈশ্বিক সমুদ্রবাণিজ্য এবং জ্বালানি পরিবহনের নিরাপত্তায় বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে।

বিশ্বের প্রধান তেল সরবরাহকারী বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের এই ধমনি রুদ্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক তীব্র ধাক্কা লেগেছে। সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার শঙ্কায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম লাফিয়ে বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৫ ডলারের মাইলফলক ছাড়িয়ে গেছে। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটির নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে লোহিত সাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে সর্বাত্মক সামরিক সংঘাত ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার গভীর শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

/আশিক


লোহিত সাগরের কৌশলগত প্রণালি ঘিরে নতুন করে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১২ ১৯:০৫:২৫
লোহিত সাগরের কৌশলগত প্রণালি ঘিরে নতুন করে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা
ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং লোহিত সাগরের কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবির প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে চরম সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সার্বিক সংকট মোকাবিলায় সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে সরাসরি সামরিক সহায়তার আহ্বান জানালেও ওয়াশিংটন জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে চলমান বিস্তৃত সংঘাতের কারণে এই মুহূর্তে সরাসরি সেনা অভিযানে অংশ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সম্ভব নয়; তবে লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণ ও গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ অব্যাহত রাখবে পেন্টাগন। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে ইতিমধ্যে মার্কিন সেন্টকম প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের সামরিক প্রতিনিধিদল রিয়াদ সফর করেছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে গণমাধ্যম জানিয়েছে, লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক নৌ চলাচলের নিরাপত্তা যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অগ্রাধিকার হলেও ওয়াশিংটন চায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় সৌদি আরব নিজেই নেতৃত্ব দিক। তবে হুথিদের ওপর সরাসরি হামলা চালালে তেহরান সৌদি আরবের বিরুদ্ধে পাল্টা প্রতিশোধমূলক সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে—এমন তীব্র আশঙ্কার কারণে রিয়াদ একটি যৌথ আন্তর্জাতিক জোট গঠন ও মার্কিন নিরাপত্তা বলয় নিশ্চিত করতে চাইছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অংশ না নিলেও প্রয়োজনে তাদের সহায়তাব্যতীত একাই হুথিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযানে নামার প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে সৌদি আরব।

২০১৪ সালে শুরু হওয়া ইয়েমেন গৃহযুদ্ধ ও ২০১৫ সালে রাজধানী সানা হুথিদের দখলে যাওয়ার পর সৌদি জোটের সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হয়েছিল, ২০২২ সালের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির পর তা আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে ইয়েমেনের প্রায় অর্ধেক ভূখণ্ড হুথিদের এবং বাকি অংশ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিমানবন্দর ও জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টাপাল্টি হামলা এবং লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য রুটে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বৃদ্ধির কারণে পুরো অঞ্চল আবারও সর্বাত্মক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছে।

/আশিক


ইরান-আমিরাত দ্বন্দ্ব মিটিয়ে ব্রিকস সম্মেলনের যৌথ ঘোষণায় ঐকমত্য: বড় জয় দিল্লির

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১২ ১৮:৪৯:২২
ইরান-আমিরাত দ্বন্দ্ব মিটিয়ে ব্রিকস সম্মেলনের যৌথ ঘোষণায় ঐকমত্য: বড় জয় দিল্লির
এবারের সম্মেলনের আগে ব্রিকসের কূটনীতিকেরা কয়েক দিন ধরে যৌথ ঘোষণার ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন। ছবি: এক্স

ভারতের নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন শুরুর প্রাক্কালে সদস্যদেশগুলো একটি অভিন্ন যৌথ ঘোষণাপত্রের বিষয়ে চূড়ান্ত ঐকমত্যে পৌঁছেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, শনিবার বিকেলে আনুষ্ঠানিক ‘ব্রিকস নিউ দিল্লি ডিক্লারেশন’ প্রকাশ করা হবে। রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম সরাসরি উল্লেখ না করে ঘোষণাপত্রে ‘সব ধরনের আগ্রাসনের’ তীব্র নিন্দা জানানো এবং বিরোধ নিষ্পত্তিতে ‘সংলাপ ও কূটনীতিকে’ একমাত্র সমাধানের পথ হিসেবে তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সম্মেলনের যৌথ ঘোষণার ভাষা নির্ধারণ নিয়ে সদস্যদেশগুলোর মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল, বিশেষ করে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভিন্ন অবস্থানের কারণে সমঝোতা কঠিন রূপ নিয়েছিল। যুদ্ধের প্রভাবে গত আগস্টে ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত করে আবুধাবি, পাশাপাশি আমিরাতি ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনাও ঘটেছিল।

এমনকি মে মাসে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকেও এ দুই দেশের অনড় অবস্থানের কারণে কোনো যৌথ বিবৃতি দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে এবারের সম্মেলনের আগে কয়েক দিনের টানা কূটনৈতিক দরকষাকষির পর এমন একটি মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা হয়েছে, যা তেহরান ও আবুধাবি—উভয় পক্ষই গ্রহণ করেছে। সদস্যদেশগুলোর এই অমিল দূর করে অভিন্ন অবস্থানে নিয়ে আসাকে সভাপতি হিসেবে ভারতের জন্য বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বৈশ্বিক জনসংখ্যার ৪০ শতাংশের বেশি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রায় এক-চতুর্থাংশের প্রতিনিধিত্বকারী এই জোট বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও ডব্লিউটিওর মতো পশ্চিমা-প্রভাবিত প্রতিষ্ঠানে কাঠামোগত সংস্কারের দাবি আরও জোরালো করতে চাইছে।

এবারের সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এবং আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। শীর্ষ বৈঠকের স্বাগতিক হিসেবে ভারত বাণিজ্যিক সহযোগিতা বৃদ্ধি ও জ্বালানি সরবরাহের সুরক্ষার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্য এবং ব্রিকস অংশীদারদের মধ্যে একটি কার্যকর কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে।

সূত্র- এনডিটিভি ও রয়টার্স


দীর্ঘ কূটনৈতিক টানাপোড়েন কাটিয়ে প্রতিবেশী দেশে সফরে যাচ্ছেন পরাশক্তির শীর্ষ নেতা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১০ ২১:১৪:৪১
দীর্ঘ কূটনৈতিক টানাপোড়েন কাটিয়ে প্রতিবেশী দেশে সফরে যাচ্ছেন পরাশক্তির শীর্ষ নেতা
ছবি : সংগৃহীত

কয়েক দিনের কূটনৈতিক ধোঁয়াশা ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে ভারত সফরে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস জোটের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) চীন ও ভারত উভয় দেশের পক্ষ থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে এই সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেবেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

২০২০ সালে গালওয়ান উপত্যকার রক্তক্ষয়ী সীমান্ত সংঘাতের পর বেইজিং ও নয়াদিল্লির কূটনৈতিক সম্পর্কে তীব্র অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। সেই তিক্ত সংঘাতের দীর্ঘ সাত বছর পর এটিই হতে যাচ্ছে শি জিনপিংয়ের প্রথম ভারত সফর। এর আগে ২০১৯ সালে তামিলনাড়ুর মামাল্লাপুরমে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে এক অনানুষ্ঠানিক শীর্ষ বৈঠকে অংশ নিতে সর্বশেষ ভারত সফর করেছিলেন তিনি।

সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্কের নানামুখী জটিলতা এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতার পটভূমিতে বেইজিং-নয়াদিল্লি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য বরফ গলতে শুরু করেছে। বিশেষ করে ভারতীয় বাজারে চীনা বিনিয়োগের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ায় ইলেকট্রনিকস ও সৌরবিদ্যুৎ খাতে বাণিজ্যিক লেনদেন পুনরায় সচল হয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে কিরগিজস্তানে এক আঞ্চলিক সম্মেলনের ফাঁকে নরেন্দ্র মোদি ও শি জিনপিং এক সংক্ষিপ্ত বৈঠকে একমত হন যে উভয় দেশ ‘প্রতিযোগী নয়, বরং একে অপরের অংশীদার’। তবে আধুনিক ও সংবেদনশীল প্রযুক্তির বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বেইজিংয়ের অভ্যন্তরীণ কড়া নজরদারি বহাল থাকলেও দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য গত বছর রেকর্ড ১৫ হাজার ৫০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে এবং চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে তা আরও ২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি, রয়টার্স


ইরান যুদ্ধ কবে থামবে, দিনক্ষণ নিয়ে যা বললেন ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১০ ১৯:১৯:৫৯
ইরান যুদ্ধ কবে থামবে, দিনক্ষণ নিয়ে যা বললেন ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাতের অবসান হচ্ছে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, আগামী নভেম্বরে এই নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পরপরই সংঘাতের ইতি ঘটবে এবং এর প্রত্যক্ষ প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য দ্রুত হ্রাস পেতে শুরু করবে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) টেক্সাসে রিপাবলিকান পার্টির নির্বাচনী সম্মেলনে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রাপথে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। তেহরানের সামরিক ও অর্থনৈতিক সামর্থ্য প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে মার্কিন চাপের মুখে ইরান আর বেশি দিন টিকে থাকতে পারবে না, ফলে নির্বাচনের পরপরই যুদ্ধের অবসান ঘটবে। পরবর্তীতে টেক্সাসের মঞ্চেও একই বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করে তিনি জানান, ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখার স্বার্থে স্বল্পমেয়াদে এই অর্থনৈতিক চাপ সহ্য করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যৌক্তিক।

যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অব্যাহত মূল্যবৃদ্ধি ও অভ্যন্তরীণ সংকট নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, যুদ্ধক্ষেত্রে বিজয়ের সঙ্গে সঙ্গেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নিম্নমুখী হতে শুরু করবে। তবে দাম সাধারণের নাগালের ভেতর পৌঁছাতে সামান্য সময় লাগতে পারে বলেও তিনি স্বীকার করেন। সংঘাতের প্রত্যক্ষ প্রভাবে গত ছয় মাসে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম তিন দফায় ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। উপসাগরীয় তেলক্ষেত্রে অচলাবস্থা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে সামরিক বাধার কারণে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা তীব্র হয়েছে। বুধবারও অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে স্পর্শ করে, যা গত জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ রেকর্ড।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরান অভিমুখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের মধ্য দিয়ে এই সংঘাতের সূচনা হয়। জবাবে তেহরানও ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো নিশানা করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও আত্মঘাতী ড্রোন নিক্ষেপ শুরু করলে যুদ্ধ আঞ্চলিক রূপ নেয়।

সংঘাত শুরুর প্রাক্কালে এটি কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নিষ্পত্তির আশ্বাস দিয়েছিলেন ট্রাম্প, কিন্তু প্রায় সাত মাস পেরিয়ে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় ওয়াশিংটনের ভেতরে তাঁর ওপর রাজনৈতিক চাপ ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে খোদ রিপাবলিকান শিবিরের কট্টরপন্থী অংশের বড় একটি পক্ষ এখন এই ব্যয়বহুল যুদ্ধ দ্রুত থামানোর পক্ষে জোর দিচ্ছে। চলমান এই যুদ্ধ অভ্যন্তরীণ বাজারে পণ্যমূল্য ও মুদ্রাস্ফীতি বাড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সম্প্রতি ডিজেলের দাম রেকর্ড মাত্রায় নিয়ে গেছে, যা মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃক সুদের হার পুনরায় বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি করেছে।

এদিকে নির্বাচনের পটভূমিতে তেহরানের বিরুদ্ধে সরাসরি হস্তক্ষেপের অভিযোগ এনেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, তেহরান নির্বাচনে এমন একটি শক্তিকে জয়ী দেখতে চায় যারা মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে নমনীয় হবে এবং তাদের পারমাণবিক শক্তি অর্জনে ছাড় দেবে।

যদিও এই দাবির পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রশাসনিক তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করেননি তিনি, তবে তাঁর এই তির্যক মন্তব্য মূলত ডেমোক্র্যাট শিবিরের বিরুদ্ধেই অভিযোগ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তেহরান অবশ্য তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিকে সর্বদাই শান্তিপূর্ণ দাবি করে সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের বিষয়টি দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে আসছে। আগামী ৩ নভেম্বর মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণী মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক মেরুকরণ যখন তুঙ্গে, তখন মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ রাজনৈতিক সমীকরণ ছাপিয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের প্রধান চাবিকাঠি হয়ে উঠেছে।

সূত্র: বিবিসি।


পর্যটকদের জন্য বিশাল সুখবর: শিগগিরই আসছে মধ্যপ্রাচ্যের একীভূত ভিসা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৯ ২১:১১:৪৭
পর্যটকদের জন্য বিশাল সুখবর: শিগগিরই আসছে মধ্যপ্রাচ্যের একীভূত ভিসা
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি দেশে ভ্রমণের প্রক্রিয়া সহজ করতে শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে ‘জিসিসি গ্র্যান্ড ট্যুরিস্ট ভিসা’। ইউরোপের শেনজেন ভিসার আদলে প্রণীত এই একক ভিসার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যটকরা একটিমাত্র ভিসা ব্যবহার করে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার, ওমান ও কুয়েতে নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারবেন। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) মহাসচিব জাসেম মোহাম্মদ আল-বুদাইউইয়ের বরাতে সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

গত ৬ সেপ্টেম্বর রিয়াদে অনুষ্ঠিত ‘সিকিউরিটি অ্যান্ড হিস্ট্রি ডায়ালগ ২০২৬’-এর বিশেষ অধিবেশনে এই ভিসা চালুর বিষয়ে সর্বশেষ অগ্রগতি তুলে ধরেন জিসিসি মহাসচিব। তিনি জানান, একীভূত এই ভিসা ব্যবস্থা খুব দ্রুতই আলোর মুখ দেখবে এবং বর্তমানে এটি বাস্তবায়নের কাজ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিচালনা করছে। তবে এই ভিসা ঠিক কবে থেকে কার্যকর হবে, এর ফি কত নির্ধারণ করা হবে কিংবা আবেদনের প্রক্রিয়া ও মেয়াদের বিষয়ে এখনই বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

একক উপসাগরীয় পর্যটন ভিসার এই উদ্যোগটি গত কয়েক বছর ধরেই আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। ২০২৩ সালের অক্টোবরে জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর পর্যটনমন্ত্রীরা সর্বসম্মতভাবে এই প্রস্তাব অনুমোদন করেন এবং পরের মাসেই তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের চূড়ান্ত ছাড়পত্র পায়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের জুনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থমন্ত্রী আবদুল্লাহ বিন তৌক আল মাররি জানিয়েছিলেন, আঞ্চলিক সংহতি জোরদার এবং উপসাগরীয় অঞ্চলকে একটি অখণ্ড পর্যটন গন্তব্য হিসেবে বিশ্বের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলতেই এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

পর্যটন ভিসার পাশাপাশি সদস্য দেশগুলোর নাগরিকদের নিজস্ব যাতায়াত আরও সহজ করতে ‘সিঙ্গেল-পয়েন্ট এয়ার ট্রাভেল’ নামক আরেকটি প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন আল-বুদাইউই। তিনি জানান, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের মধ্যে এই ব্যবস্থার পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর ফলে যাত্রীরা ফ্লাইটে ওঠার আগেই ইলেকট্রনিক সংযোগ ও বায়োমেট্রিক পদ্ধতি ব্যবহার করে একবারেই অভিবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারছেন এবং গন্তব্যে পৌঁছানোর পর তাদের আর কোনো তল্লাশির মুখে পড়তে হচ্ছে না। তবে জিসিসি কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে যে, একক স্থানে ভ্রমণ প্রক্রিয়াটি মূলত উপসাগরীয় নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য, আর একীভূত পর্যটন ভিসাটি শুধুমাত্র বিদেশি পর্যটকদের অবাধ চলাচলের সুবিধা দেওয়ার জন্য নকশা করা হয়েছে।

/আশিক


জাতীয় সংসদে গ্যাস সংকট নিরসনে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা উপস্থাপন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৯ ১৯:৪২:০৬
জাতীয় সংসদে গ্যাস সংকট নিরসনে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা উপস্থাপন
ছবি : সংগৃহীত

দেশে বিদ্যমান জ্বালানি সংকট স্থায়ীভাবে সমাধানের লক্ষ্যে সুদূরপ্রসারী ও বহুমুখী একগুচ্ছ নতুন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এই রূপরেখার আওতায় ২০৩০-৩১ অর্থবছরের মধ্যে মোট ১৫০টি নতুন গ্যাসকূপ খনন, উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে ২ডি ও ৩ডি সাইসমিক জরিপ পরিচালনা এবং বঙ্গোপসাগরের গভীর ও অগভীর সমুদ্রাঞ্চলের মোট ২৬টি ব্লকে জোরালো হাইড্রোকার্বন অনুসন্ধানের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের এসব জ্বালানি কৌশল তুলে ধরেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অধিবেশনটির কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী সংসদকে অবহিত করেন, আন্তর্জাতিক জ্বালানি কোম্পানিগুলোকে দেশের অভ্যন্তরে আকৃষ্ট করতে স্থলভাগের জন্য আধুনিক ‘বাংলাদেশ অনশোর মডেল পিএসসি ২০২৬’ প্রণয়নের প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। বর্তমানে দেশে কার্যকর থাকা দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ) মাধ্যমে গড়ে দৈনিক ৯৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, ক্রমবর্ধমান ভবিষ্যৎ চাহিদা মেটাতে কক্সবাজারের মহেশখালীর কুতুবজোমে আরও একটি নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ীতে একটি বৃহৎ আকারের স্থলভিত্তিক বা ল্যান্ড-বেইজড এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের কাজ পুরোদমে চলছে। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, কুতুবজোমের নতুন টার্মিনাল থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে এবং মাতারবাড়ীর স্থলভিত্তিক টার্মিনাল থেকে ২০৩০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এর পাশাপাশি দেশের শিল্পভিত্তিক অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে গ্যাস সঞ্চালন ও সরবরাহ নেটওয়ার্কে নতুন বৈচিত্র্য আনার কথা জানান সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে একটি নতুন ভাসমান টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলমান রয়েছে।

একই সাথে ভোলা দ্বীপের প্রাকৃতিক গ্যাসকে কম্প্রেসড বা এলএনজি আকারে মূল ভূখণ্ডের শিল্পকারখানায় দ্রুত সরবরাহের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাপ্ত গ্যাসের সরবরাহ সাপেক্ষে অর্থনৈতিক অঞ্চল, রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) এবং বিসিকের মতো পরিকল্পিত শিল্পপার্কগুলোতে কারখানা স্থাপনকারী শিল্পোদ্যোক্তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সংযোগ প্রদান করা হবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।

/আশিক


আন্তর্জাতিক চাপে পশ্চিম তীর নিয়ে ইসরায়েলি নেতৃত্বের বড় সিদ্ধান্ত

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৮ ২২:০০:৫৩
আন্তর্জাতিক চাপে পশ্চিম তীর নিয়ে ইসরায়েলি নেতৃত্বের বড় সিদ্ধান্ত
ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের তীব্র চাপের মুখে পড়ে অধিকৃত পশ্চিম তীরে অনুমোদন ছাড়া গড়ে ওঠা অবৈধ ইহুদি বসতিগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বার্তা সংস্থা রয়টার্স সংশ্লিষ্ট দুটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। মূলত প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের জোরালো কূটনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক চাপের কারণেই নেতানিয়াহু এমন নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানা গেছে।

দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিম তীরে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমিতে উগ্রপন্থী বসতি স্থাপনকারীদের ধারাবাহিক হামলা বিশ্বব্যাপী ব্যাপক নিন্দার জন্ম দিয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট জানিয়েছে, সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুমতি ছাড়াই রাতারাতি দাঁড়িয়ে যাওয়া অন্তত ১০০টি অবৈধ চৌকি বা আউটপোস্ট উচ্ছেদের জন্য সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী। তবে এই ভাঙার কাজ ঠিক কবে নাগাদ মাঠপর্যায়ে শুরু হবে, সে সংক্রান্ত কোনো চূড়ান্ত সময়সীমা এখনো খোলাসা করা হয়নি।

ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা ‘পিস নাউ’-এর পরিসংখ্যান অনুসারে, পশ্চিম তীরে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় অনুমোদিত ১৪৬টি বড় আকারের বসতির বাইরেও ফিলিস্তিনিদের ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় জমিতে প্রায় ৩৪০টি অননুমোদিত আউটপোস্ট তৈরি করা হয়েছে। অস্থায়ী ও হালকা অবকাঠামো দিয়ে গড়ে তোলা এসব আস্তানায় মূলত উগ্রপন্থী কট্টর ইহুদিরা অবস্থান নিয়ে থাকে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর) তাদের সাম্প্রতিক মূল্যায়নে জানিয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধেই এসব বসতি স্থাপনকারীদের মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে ৬টি করে সহিংস হামলার ঘটনা নথিবদ্ধ হয়েছে, যার প্রত্যক্ষ শিকার হয়ে এক হাজারের বেশি নিষ্পাপ শিশুসহ দুই হাজার ৩০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিজেদের ভিটামাটি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

সংকটজনক এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তেল আবিবকে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছে ওয়াশিংটন। ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি উগ্র ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর জানমালের সুরক্ষা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন। আসন্ন অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতানিয়াহুর এই সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও তীব্র বিরোধ ও উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে।

/আশিক


সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে মধ্যরাতে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৮ ১৮:০৯:০৯
সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে মধ্যরাতে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা
ছবি : সংগৃহীত

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও আত্মঘাতী ড্রোন হামলায় সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরগুলোতে নারী ও শিশুসহ অন্তত ৭৩ জন আহত হয়েছেন। রিয়াদের অভিযোগ, এসব হামলায় বেসামরিক আবাসিক এলাকা ও কৌশলগত অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে এক যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ে অংশ নিয়ে হামলার তীব্র নিন্দা জানান সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুবরাজ ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ।

সৌদি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, রাতভর আভা, খামিস মুশাইত, জাজান ও নাজরান শহরকে লক্ষ্য করে একযোগে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বিদ্রোহীরা। এসব হামলায় বেসামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি একাধিক জ্বালানি স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। সৌদি নেতৃত্বাধীন যৌথ সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি নিশ্চিত করেছেন, এই হামলায় মোট ৭৩ জন আহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।

বিপরীতে হুথি বিদ্রোহীদের দাবি, তারা সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি এবং অর্থনৈতিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে কয়েক ডজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মাধ্যমে সমন্বিত অভিযান চালিয়েছে। তাদের বিবরণ অনুযায়ী, জাজান, নাজরান, আভা এবং খামিস মুশাইতের সুনির্দিষ্ট কৌশলগত কেন্দ্রগুলোই ছিল তাদের আক্রমণের মূল লক্ষ্য।

হামলার প্রত্যক্ষ প্রভাবে সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি তেল ও বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে তাৎক্ষণিকভাবে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনের তথ্যমতে, এই পরিস্থিতির কারণে জাজান এলাকায় অবস্থিত দেশটির একটি বৃহৎ তেল শোধনাগারে সাময়িকভাবে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়েছে। সৌদি সামরিক জোট একে একটি ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ হিসেবে চিহ্নিত করে হুথিদের বিরুদ্ধে কঠোর ও প্রয়োজনীয় সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সুস্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

২০২২ সালের পর থেকে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যকার সংঘাত অনেকটাই শিথিল হয়ে এলেও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সীমান্তজুড়ে সহিংসতা আবার নতুন মাত্রা পেয়েছে। সর্বশেষ এই বড় ধরনের হামলার ঘটনা দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতটিকে পুনরায় এক ভয়াবহ সংঘাতের মুখে দাঁড় করিয়েছে। এদিকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি অবকাঠামোয় নতুন করে আঘাত হানার ঘটনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে, যা চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বহুলাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: