সংসদের ১ম অধিবেশনের শেষদিনে প্রধানমন্ত্রীর নীতিনির্ধারণী সমাপনী বক্তব্য, হুবহু পড়ুন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০১ ১৫:০৮:৫৭
সংসদের ১ম অধিবেশনের শেষদিনে প্রধানমন্ত্রীর নীতিনির্ধারণী সমাপনী বক্তব্য, হুবহু পড়ুন
জাতীয় সংসদের নেতা ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের শেষ দিনে বক্তব্য রাখছেন।

জাতীয় সংসদের নেতা ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের শেষ দিনে একটি দীর্ঘ, আবেগঘন ও নীতিনির্ধারণী সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন। বক্তব্যে তিনি গণতন্ত্র, শহীদদের আত্মত্যাগ, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জ্বালানি সংকট, নারী উন্নয়ন, সংসদীয় সহযোগিতা, অর্থনীতি, স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। পাঠকদের সুবিধার্থে বক্তব্যটি ভাষাগতভাবে পরিমার্জিত করে সাজিয়ে হুবহু উপস্থাপন করা হলো।

"বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

ধন্যবাদ মাননীয় স্পিকার।

প্রথমেই আমি আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে অশেষ শুকরিয়া আদায় করছি। কারণ, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আজ আমাদেরকে এই তৌফিক দিয়েছেন যে, আমরা একটি ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশে বাংলাদেশের মানুষের সমর্থনের ভিত্তিতে এই জাতীয় সংসদে বসতে পেরেছি।

আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর রহমতে প্রায় এক মাস ২৫ দিন ধরে এই সংসদ পরিচালিত হয়েছে। এই সময়জুড়ে আমরা দেশ ও জনগণের স্বার্থে আলোচনা করেছি এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।

মাননীয় স্পিকার,

বক্তব্যের শুরুতেই আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে চাই ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মত্যাগকারী সকল শহীদকে। আমি স্মরণ করতে চাই ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহীদ হওয়া সকল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের। আমি স্মরণ করতে চাই ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরে নির্মমভাবে নিহত মানুষদের। আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করি, তিনি যেন তাদের শহীদের মর্যাদা দান করেন। আমি স্মরণ করতে চাই ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত এই দেশের মানুষের কথা বলার অধিকার, রাজনৈতিক অধিকার ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মত্যাগকারী সকল মানুষকে। আমি তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। একইসঙ্গে আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে চাই সেই সকল রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের, যারা দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে রাজপথে থেকে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দুর্বার প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন এবং বিভিন্নভাবে নির্যাতিত ও আহত হয়েছেন।

মাননীয় স্পিকার,

আজকের এই সংসদের দিকে সমগ্র বাংলাদেশ তাকিয়ে আছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীর যেখানেই একজন বাংলাদেশি আছেন, তারাও এই সংসদের বর্তমান ও ভবিষ্যতের দিকে গভীর প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে আছেন। এই সংসদের প্রায় প্রতিটি সদস্য তাদের বক্তব্যের শুরুতে বিভিন্ন সময়ের শহীদদের স্মরণ করেছেন। আমরা ভবিষ্যতেও তাদের স্মরণ করব। কিন্তু প্রশ্ন হলো, শুধুই কি শ্রদ্ধা নিবেদন করলেই শহীদদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়? অবশ্যই নয়। যারা জীবন দিয়েছেন, যারা আহত হয়েছেন, যারা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, তাদের প্রত্যেকের একটি স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্ন ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে মানুষ স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারবে, অন্যের স্বাধীনতাকে সম্মান করে নিজের মত প্রকাশ করতে পারবে। তাদের স্বপ্ন ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে মানুষ তার যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে, মর্যাদার সঙ্গে জীবন পরিচালনা করতে পারবে।

মাননীয় স্পিকার,

বিরোধীদলীয় নেতা যথার্থভাবেই কৃষকের কথা বলেছেন। আমরাও দেশের বিভিন্ন নির্বাচনে গ্রামে গিয়েছি, কৃষকের কাছে গিয়েছি, কৃষাণীর কাছে গিয়েছি। আমরা জানি আমাদের কৃষকদের বাস্তব অবস্থা কী। আমি বিরোধীদলীয় নেতাকে আশ্বস্ত করে বলতে চাই, কৃষকদের এই সমস্যা থেকে উত্তরণের লক্ষ্যেই আমরা আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে “কৃষক কার্ড”-এর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ, বাংলাদেশের মানুষের সমর্থনে সরকার গঠন করার পর আমরা দ্রুততার সঙ্গে সেই কাজ শুরু করেছি। আমরা কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তনের কাজ শুরু করেছি। শুধু ধানচাষি নয়, মৎস্যচাষি, গবাদিপশুপালকসহ সব ধরনের কৃষকের কাছে আমরা ধীরে ধীরে পৌঁছাতে চাই।

মাননীয় স্পিকার,

বিরোধীদলীয় নেতা শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। আমিও চাই না, আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বর্তমান অবস্থা এভাবেই থাকুক। রাজনৈতিক কারণে দীর্ঘদিন আমাকে বিদেশে থাকতে হয়েছে। ব্রিটেনে থাকাকালে আমি সেখানকার স্কুলগুলো দেখেছি। ছোট ছোট বাচ্চারা সুন্দর পোশাক পরে, শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশে স্কুলে যাচ্ছে। তখন আমার মনে হতো, আহা, আমার দেশের স্কুলগুলোও যদি এমন হতো! আজ আল্লাহর রহমতে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে আমরা হাঁটছি। এই সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আগামী জুলাই মাস থেকে পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্কুলব্যাগ, স্কুলড্রেস এবং জুতার ব্যবস্থা করা হবে ইনশাআল্লাহ। আমরা চাই, বাংলাদেশের প্রতিটি শিশু মর্যাদার সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাক।

মাননীয় স্পিকার,

আমি নিজেও এই দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়েছি। ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় রাজনৈতিক সহিংসতার মধ্যেও পড়েছিলাম। তাই আমি চাই, আমাদের সন্তানরা একটি নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশে লেখাপড়া করুক।

মাননীয় স্পিকার,

বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সংকট সৃষ্টি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব বাংলাদেশেও এসেছে। দেশের মানুষ কষ্ট পেয়েছে। আমি বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে একমত যে, এ ধরনের সংকট মোকাবিলায় সরকার ও বিরোধী দল একসঙ্গে বসে আলোচনা করলে সমাধান বের করা সম্ভব। সেই কারণেই আমরা যৌথভাবে একটি কমিটি গঠন করেছি। আমি বিশ্বাস করি, আমরা একসঙ্গে বসে এই সমস্যার সমাধান বের করতে সক্ষম হব ইনশাআল্লাহ।

মাননীয় স্পিকার,

বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। তাদের পিছিয়ে রেখে কোনো উন্নয়ন সম্ভব নয়। ১৯৯১-৯৬ এবং ২০০১-২০০৬ সালে বিএনপি সরকার মেয়েদের শিক্ষা দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক করেছিল। এবার আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, মেয়েদের স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করা হবে। যেসব মেয়ে ভালো ফল করবে, তাদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থাও করা হবে ইনশাআল্লাহ। শুধু শিক্ষাই নয়, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করাও জরুরি। সেই লক্ষ্যেই আমরা “ফ্যামিলি কার্ড” কর্মসূচি চালু করেছি। এই কার্ডের মাধ্যমে যে অর্থ দেওয়া হবে, সেটিকে আমরা ব্যয় নয়; বিনিয়োগ হিসেবে দেখি। কারণ, এই অর্থ গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।

মাননীয় স্পিকার,

বিরোধীদলীয় নেতা তার নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন সমস্যার কথা বলেছেন। আমি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে ইতোমধ্যে বিষয়গুলো দেখার নির্দেশনা দিয়েছি। চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতার ঘটনা ঘটার পরও আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছি। কারণ, এই সরকার জনগণের নির্বাচিত সরকার এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সরকার।

মাননীয় স্পিকার,

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বর্ষণে কৃষকের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা স্থানীয় প্রশাসনকে আগেই নির্দেশনা দিয়েছি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করার জন্য। আমাদের প্রথম দায়িত্ব জনগণের পাশে দাঁড়ানো। এই কারণেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর খাল খনন কর্মসূচি আমরা আবারও শুরু করেছি। এই কর্মসূচি শুধু সেচের জন্য নয়, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর রক্ষার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজ যদি আমরা কাজ শুরু করি, এর সুফল পেতে হয়তো ২০ বছর সময় লাগবে। কিন্তু ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে এখনই কাজ শুরু করতে হবে।

মাননীয় স্পিকার,

আমরা শিক্ষা খাতে বাজেটের প্রায় ৫ শতাংশ বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা করেছি। স্বাস্থ্য খাতেও জিডিপির একটি বড় অংশ ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে। আমাদের লক্ষ্য এক। আমাদের উদ্দেশ্য এক। আমাদের গন্তব্য এক। আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশের মানুষ। আমাদের উদ্দেশ্য একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। আমাদের গন্তব্য একটি আত্মনির্ভরশীল ও নিরাপদ বাংলাদেশ।

মাননীয় স্পিকার,

গণতান্ত্রিক সংসদে মতভেদ থাকবে। “এগ্রি টু ডিসএগ্রি” গণতন্ত্রের স্বীকৃত নীতি। যে বিষয়গুলোতে মতভেদ আছে, আমরা বিরোধী দলের সঙ্গে বসব, আলোচনা করব এবং দেশের স্বার্থে সমাধান বের করব। আমি আবারও পরিষ্কার করে বলতে চাই, ডেপুটি স্পিকারের বিষয়ে বিরোধী দলকে দেওয়া আমাদের প্রস্তাব এখনো বহাল আছে। আমরা চাই, এই সংসদ সহযোগিতার ভিত্তিতে পরিচালিত হোক।

মাননীয় স্পিকার,

বাংলাদেশের মানুষ এখন রাজনৈতিক বিতর্কের চেয়ে তাদের সমস্যার সমাধান বেশি চায়। একজন বেকার যুবক চাকরি চায়। একজন মা তার অসুস্থ সন্তানের জন্য ওষুধ চায়। একজন কৃষক তার ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের ক্ষতিপূরণ চায়। শুধু ঐতিহাসিক বিতর্ক দিয়ে তাদের কষ্ট দূর হবে না।

মাননীয় স্পিকার,

এই চেয়ারে বসে আমি প্রতিনিয়ত অনুভব করি, এটি আরামের চেয়ার নয়। এটি দায়িত্বের চেয়ার। এই চেয়ার আমাকে প্রতিনিয়ত মনে করিয়ে দেয়:

“You have to take the right decision, not the popular decision.”

আমাদের পপুলার সিদ্ধান্ত নয়, সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

মাননীয় স্পিকার,

আগামী অধিবেশনে আমরা আলোচনা করতে চাই, কীভাবে দ্রুত বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করা যায়, কীভাবে কর্মসংস্থান বাড়ানো যায়, কীভাবে হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সেবা নিশ্চিত করা যায়। দেশকে এগিয়ে নিতে হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও কার্যকর সংসদ নিশ্চিত করতে হবে। গণতন্ত্র বারবার বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণেই বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়েছে। সুতরাং আমরা বিতর্ক করব, আলোচনা করব, কিন্তু কোনোভাবেই এই সংসদকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। আপনি ব্যর্থ হলে আমি ব্যর্থ। আমি ব্যর্থ হলে আপনি ব্যর্থ। আর আমরা ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ ব্যর্থ হবে। আমরা কেউই ব্যর্থ বাংলাদেশ দেখতে চাই না। কারণ, এই সংসদ দাঁড়িয়ে আছে হাজারো শহীদের রক্তের ওপর।

মাননীয় স্পিকার,

আমি আবারও পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, বাংলাদেশের স্বার্থে বিরোধী দলের সঙ্গে যেকোনো আলোচনা ও সহযোগিতার জন্য সরকার সবসময় প্রস্তুত। আমরা একসঙ্গে এই দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাব ইনশাআল্লাহ।

পরিশেষে আমি আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি আপনাকে, মাননীয় ডেপুটি স্পিকারকে, মন্ত্রিসভার সদস্যদের, বিরোধীদলীয় নেতা ও সদস্যদের, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের, চিকিৎসক, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, গণপূর্ত, বিদ্যুৎ বিভাগ, গণমাধ্যমকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে।

আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। ফ্যাসিবাদের পতনের পর তারা দেশকে স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

সবশেষে আমি সকল সংসদ সদস্যের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি:

আসুন, আমরা এই সবুজ চেয়ারের পবিত্রতা রক্ষা করি।দেশ ও জনগণের প্রত্যাশার সর্বোচ্চ সম্মান করি।কারণ, দেশ ও জনগণ থাকলেই আমরা আছি।

সবচেয়ে আগে বাংলাদেশ।সবচেয়ে আগে দেশের জনগণ।সবচেয়ে আগে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি।

ধন্যবাদ মাননীয় স্পিকার।

আসসালামু আলাইকুম।"


অর্থনীতিতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় সরকার: অর্থমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১০ ১২:৫০:০৭
অর্থনীতিতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় সরকার: অর্থমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

রাজনীতিতে গণতন্ত্রের পাশাপাশি অর্থনীতিতেও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে মূলধারার অর্থনীতিতে সম্পৃক্ত করার ওপর জোর দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। রোববার (১০ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অনানুষ্ঠানিক খাতের উন্নয়নে পিকেএসএফ ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ প্রকল্প ‘রেইজ’-এর দ্বিতীয় পর্যায়ের কার্যক্রম উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, যারা বর্তমানে মূলধারার অর্থনীতির বাইরে রয়েছেন, তাদের অন্তর্ভুক্ত করা কোনো করুণা নয় বরং এটি নাগরিকদের অধিকার। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা জনমিতিক লভ্যাংশকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি উল্লেখ করেন, যেকোনো প্রকল্প বাস্তবায়নে নির্দিষ্ট মানদণ্ড বজায় রাখা হবে এবং পিকেএসএফ-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দেশের স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় আফগানিস্তানের চেয়েও বেশি, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগামী বাজেটে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি এসব সেবা সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

হস্তশিল্প ও সাংস্কৃতিক খাতের সম্ভাবনা নিয়ে আমির খসরু বলেন, বিশ্ববাজারে শীতলপাটির মতো পণ্যের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও সঠিক নকশা ও আন্তর্জাতিক মানের বিপণন কৌশলের অভাবে বাংলাদেশ পিছিয়ে আছে। শুধু পণ্য নয়, বাংলাদেশের মিউজিক, থিয়েটার এবং খেলাধুলাও জিডিপিতে বড় অবদান রাখতে পারে। এশিয়ান দেশগুলো যেভাবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নিজেদের সংস্কৃতি বিশ্ববাজারে তুলে ধরছে, বাংলাদেশকেও দ্রুত সেই পথে এগোতে হবে।

গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা করতে নারীদের ভূমিকার প্রশংসা করে অর্থমন্ত্রী জানান, পরিবার পরিচালনায় নারীদের সঞ্চয়ী মনোভাবের কারণে ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে তাদের আর্থিক স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এর পাশাপাশি ‘কৃষক কার্ড’ চালু হলে স্থানীয় অর্থনীতিতে অর্থের প্রবাহ বাড়বে এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

/আশিক


পুলিশকে আর ফ্যাসিবাদীদের হাতিয়ার হতে দেব না: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১০ ১২:১৭:২০
পুলিশকে আর ফ্যাসিবাদীদের হাতিয়ার হতে দেব না: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

পুলিশ বাহিনীকে আর কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তি যেন নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে না পারে, সেজন্য বাহিনীকে নতুন করে শপথ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (১০ মে) সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে ‘জাতীয় পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬’ উদ্বোধনকালে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে এই রাজারবাগেই হানাদার বাহিনীর প্রথম আক্রমণের শিকার হয়েছিলেন পুলিশ সদস্যরা। স্বাধীনতার জন্য তাদের সেই আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, যেকোনো মূল্যে দেশের এই স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে। তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠী যেন পুলিশকে দমন-পীড়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা হবে।

বিগত ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনের উদাহরণ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি স্বাধীন ও পেশাদার বাহিনীর পক্ষে যে নিরপেক্ষভাবে কাজ করা সম্ভব, তা পুলিশ প্রমাণ করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে অর্জিত বিদেশের সুনাম দেশের মাটিতেও বজায় থাকবে এবং জনগণের প্রতি পুলিশের আচরণ হবে আরও মানবিক ও জনবান্ধব। ‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে বর্ণিল কুচকাওয়াজ ও সালাম গ্রহণের মধ্য দিয়ে চার দিনব্যাপী এই আয়োজনের উদ্বোধন করেন তিনি।

/আশিক


জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই পুলিশের মূল দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১০ ১১:০৬:০৮
জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই পুলিশের মূল দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

জনগণের শান্তি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই পুলিশের প্রধান দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (১০ মে) সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬’-এর বর্ণাঢ্য উদ্বোধন ও বার্ষিক প্যারেড অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এবারের পুলিশ সপ্তাহের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের রায়ে গঠিত এই গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনেক। দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নিপীড়িত-নির্যাতিত মানুষ এখন প্রকৃত শান্তি ও নিরাপত্তা চায়। তিনি আরও বলেন, পুলিশ সদস্যদের শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধের ওপরই দেশের মানুষের জানমালের নিরাপত্তা অনেকাংশে নির্ভরশীল। তাই জনগণের আস্থা অর্জনে সাধ্য ও সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

রাজারবাগের কুচকাওয়াজ পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই প্যারেড কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং এটি পুলিশ বাহিনীর আত্মমর্যাদা ও সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার অবিচল অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশ। বর্তমান সরকার জনগণের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বাহিনীকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন। চার দিনব্যাপী এই পুলিশ সপ্তাহ আগামী ১৩ মে পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উদযাপিত হবে।

/আশিক


স্বৈরাচারের অন্ধকারে আর ফিরবে না বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৯ ১৯:৩৯:৩৪
স্বৈরাচারের অন্ধকারে আর ফিরবে না বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
ছবি : সংগৃহীত

নতুন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে কোনো একক দেশের ওপর নির্ভরশীল না থেকে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। আজ শনিবার (৯ মে) রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে ‘সবার আগে বাংলাদেশ: নতুন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির দৃষ্টিভঙ্গি’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

হুমায়ুন কবির স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি হবে বহুমাত্রিক ও নমনীয়, যা কোনো নির্দিষ্ট দেশকেন্দ্রিক হবে না। বর্তমান পরিবর্তনশীল বিশ্বব্যবস্থায় একক শক্তির আধিপত্য শেষের পথে উল্লেখ করে তিনি জানান, জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণই হবে সরকারের মূল লক্ষ্য।

বিশেষ করে অর্থনৈতিক কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দিয়ে রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করবে।

উপদেষ্টা আরও বলেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে একটি অর্থনৈতিক সেতুবন্ধন হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কোনো পক্ষ না নিয়ে বরং বাণিজ্য ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার মতো ইস্যুতে অন্তর্ভুক্তিমূলক অবস্থান রাখবে বাংলাদেশ।

এছাড়া জলবায়ু কূটনীতিতে নেতৃত্ব দেওয়া এবং অভ্যন্তরীণ সুশাসন ও গণতন্ত্রের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি করার বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশ আর কখনো স্বৈরাচারী শাসনের অন্ধকারে ফিরে যাবে না।

সূত্র: বাসস


নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী 

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৯ ১৭:৩৬:৩৭
নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী 
ছবি : সংগৃহীত

নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (৯ মে) দুপুরে রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট (কেআইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে এটিই তার প্রথম বড় ধরনের সাংগঠনিক বৈঠক।

ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে এই সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, "নির্বাচনের আগে যা বিএনপির ইশতেহার ছিল, দেশের মানুষের নিরঙ্কুশ সমর্থনের কারণে তা এখন জনগণের ইশতেহারে পরিণত হয়েছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিগত নির্বাচন ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং এবং দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সক্রিয় ও সুশৃঙ্খল ভূমিকা পালন করতে হবে। নেতাকর্মীদের সহযোগিতা ছাড়া সরকার তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।

সভায় দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা, স্থানীয় কোন্দল নিরসন এবং চেইন অব কমান্ড পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। দুপুর পৌনে ১২টায় প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে নেতাকর্মীরা তাকে স্বাগত জানান।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ রাসিন, সারোয়ার তুষার, যুগ্ম সদস্য সচিব আলাউদ্দীন মোহাম্মদ, তারিকুল ইসলাম এবং সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা আলম মিতু ও নুসরাত তাবাসসুমসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

/আশিক


নিজের বানানো গাড়িতে প্রধানমন্ত্রীকে ঘুরিয়ে দেখালেন ১৭ বছরের তরুণ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৯ ১৩:১৭:৪২
নিজের বানানো গাড়িতে প্রধানমন্ত্রীকে ঘুরিয়ে দেখালেন ১৭ বছরের তরুণ
ছবি : সংগৃহীত

নিজস্ব উদ্ভাবনী শক্তির জোরে শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ১৭ বছরের তরুণ ওয়াকিমুল ইসলাম। নিজের চলাফেরার কষ্ট লাঘব করার স্বপ্ন থেকে তিনি তৈরি করেছেন পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী 'এ টু আই স্মার্ট কার'। আজ শনিবার (৯ মে) সকালে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে নিজের তৈরি সেই ব্যাটারিচালিত গাড়িতে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ঘুরিয়ে দেখান এই বিস্ময়কর তরুণ।

যশোরের চৌগাছা সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ওয়াকিমুল ইসলামের শৈশব কেটেছে নানা সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে। এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর সন্তান হিসেবে বড় হওয়া এই তরুণের জন্য একা বাইরে বের হওয়া ছিল প্রায় অসম্ভব। দিনের পর দিন ঘরে বসে থাকার একঘেয়েমি আর পরনির্ভরশীলতা থেকে মুক্তি পেতেই তিনি বেছে নেন উদ্ভাবনের পথ। দেশীয় প্রযুক্তি ও নিজের বিজ্ঞানমনস্কতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি এমন একটি যান তৈরি করেন যা এখন তার মতো হাজারো বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের নতুন আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপকালে ওয়াকিমুল তার সংগ্রামের দিনগুলোর কথা স্মরণ করে বলেন, "একটা সময় ছিল যখন আমি চাইলেও স্বাধীনভাবে কোথাও যেতে পারতাম না। সেই অসহায়ত্ব থেকেই এই গাড়িটি বানানোর চিন্তা মাথায় আসে।" উদ্ভাবনটির প্রযুক্তিগত দিক নিয়ে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির (বিপিকেস) নির্বাহী পরিচালক আবদুস সাত্তার দুলাল জানান, এই বিশেষ স্মার্ট কারটি একবার চার্জ দিলে অনায়াসে ৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে পারে। এর সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪৫ কিলোমিটার, যা শহরের রাস্তায় চলাচলের জন্য অত্যন্ত কার্যকর।

তরুণ এই উদ্ভাবকের তৈরি গাড়িতে চড়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অভিভূত হন এবং ওয়াকিমুলের অদম্য ইচ্ছাশক্তির ভূয়সী প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমাদের তরুণরা যে কত মেধাবী, ওয়াকিমুল তার প্রমাণ। দেশীয় প্রযুক্তির এমন সঠিক ব্যবহার আমাদের আত্মনির্ভরশীল হতে সাহায্য করবে।" তিনি ওয়াকিমুলকে এই বাহনটি আরও আধুনিকায়ন করার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি স্মার্ট কারটি যেন স্বল্পমূল্যে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো যায়, সে বিষয়ে সরকারি সহায়তার আশ্বাস দেন।

ওয়াকিমুল আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও কারিগরি সমর্থন পেলে তিনি এমন স্মার্ট কার বড় পরিসরে উৎপাদন করতে পারবেন, যা শুধু বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিরাই নন, বরং বয়স্ক নাগরিকদের চলাফেরার ক্ষেত্রেও বিপ্লব ঘটাতে পারে। এই ঐতিহাসিক সাক্ষাতের সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম, মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

/আশিক


বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নিয়মিত ফ্লাইটে যুক্তরাজ্যের পথে রাষ্ট্রপতি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৯ ১২:১৯:১৭
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নিয়মিত ফ্লাইটে যুক্তরাজ্যের পথে রাষ্ট্রপতি
ছবি : সংগৃহীত

স্বাস্থ্য পরীক্ষার উদ্দেশ্যে যুক্তরাজ্যের পথে যাত্রা করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শনিবার (০৯ মে) সকাল পৌনে ৮টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইটে (বিজি-২০১) তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী যুক্তরাজ্যের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে রাষ্ট্রপতির প্রয়োজনীয় ফলোআপ ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হবে।

এই সফরে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে রয়েছেন তার সহধর্মিণী রেবেকা সুলতানা, পরিবারের সদস্য, ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বিমানবন্দরে তাকে বিদায় জানাতে উপস্থিত ছিলেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা।

এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরে সিঙ্গাপুরে রাষ্ট্রপতির কার্ডিয়াক বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন হয়েছিল। এবারের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে আগামী ১৮ মে তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

/আশিক


কবে থেকে কার্যকর হবে নবম পে-স্কেল? বাস্তবায়ন পরিকল্পনা জানাল অর্থ বিভাগ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৯ ১২:১৩:৫২
কবে থেকে কার্যকর হবে নবম পে-স্কেল? বাস্তবায়ন পরিকল্পনা জানাল অর্থ বিভাগ
ছবি : সংগৃহীত

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত নবম পে-স্কেল নিয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত মিলেছে। এবার শুধু কর্মরতরাই নন, নতুন বেতন কাঠামোর বড় সুফল পেতে যাচ্ছেন অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগীরাও। উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় নিয়ে জাতীয় বেতন কমিশন নিম্ন আয়ের পেনশনভোগীদের মাসিক পেনশন দ্বিগুণ করার প্রাথমিক সুপারিশ করেছে। এছাড়া বৈশাখী, টিফিন ও শিক্ষা ভাতার পরিমাণেও বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব আনা হয়েছে।

নতুন সুপারিশের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো পেনশনের স্তরভিত্তিক বৃদ্ধি। যাদের মাসিক পেনশন ২০ হাজার টাকার কম, তাদের জন্য ১০০ শতাংশ বা দ্বিগুণ বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পেনশনভোগীদের জন্য ৭৫ শতাংশ এবং এর বেশি অংকের পেনশনভোগীদের জন্য ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ এসেছে। প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোতে বৈশাখী ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য টিফিন ভাতা ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা এবং সন্তানদের শিক্ষা ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা মাথায় রেখে সরকার তিন ধাপে এই পে-স্কেল বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে। আগামী অর্থবছরের বাজেটে মূল বেতনের একটি অংশ কার্যকর করার জন্য প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার একটি খসড়া বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে পূর্ণাঙ্গ ভাতাগুলো ২০২৮-২৯ অর্থবছরের আগে পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কম। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে পুনর্গঠিত কমিটির চূড়ান্ত সুপারিশের ভিত্তিতে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

/আশিক


বগুড়া এখন সিটি করপোরেশন! তালিকায় যুক্ত হলো ৫টি নতুন উপজেলা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৭ ২১:২৮:৩২
বগুড়া এখন সিটি করপোরেশন! তালিকায় যুক্ত হলো ৫টি নতুন উপজেলা
ছবি : সংগৃহীত

বগুড়াবাসীর দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ‘বগুড়া সিটি করপোরেশন’ গঠনের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে প্রশাসনিক কার্যক্রম গতিশীল করতে দেশের চারটি জেলায় আরও পাঁচটি নতুন উপজেলা গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (০৭ মে) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১২০তম বৈঠকে এই ঐতিহাসিক অনুমোদন দেওয়া হয়।

নতুন করে গঠিত উপজেলাগুলোর মধ্যে বগুড়ার শিবগঞ্জকে ভেঙে ‘মোকামতলা’ এবং কক্সবাজারের চকরিয়াকে বিভক্ত করে ‘মাতামুহুরী’ উপজেলা করা হয়েছে। এছাড়া ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলাকে ভাগ করে ‘রুহিয়া’ ও ‘ভুল্লী’ নামে দুটি এবং লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলাকে ভেঙে ‘চন্দ্রগঞ্জ’ নামে একটি নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। নিকার বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, ভৌগোলিক বিস্তৃতি এবং তৃণমূল পর্যায়ে সরকারি সেবা আরও দ্রুত পৌঁছে দিতেই এই প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার এই সিদ্ধান্তে উত্তরাঞ্চলের এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জনপদে খুশির জোয়ার বইছে। সরকার মনে করছে, সিটি করপোরেশন ও নতুন উপজেলাগুলো কার্যকর হলে স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আরও ত্বরান্বিত হবে এবং সাধারণ মানুষের প্রশাসনিক ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: