সংসদের ১ম অধিবেশনের শেষদিনে প্রধানমন্ত্রীর নীতিনির্ধারণী সমাপনী বক্তব্য, হুবহু পড়ুন

জাতীয় সংসদের নেতা ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের শেষ দিনে একটি দীর্ঘ, আবেগঘন ও নীতিনির্ধারণী সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন। বক্তব্যে তিনি গণতন্ত্র, শহীদদের আত্মত্যাগ, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জ্বালানি সংকট, নারী উন্নয়ন, সংসদীয় সহযোগিতা, অর্থনীতি, স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। পাঠকদের সুবিধার্থে বক্তব্যটি ভাষাগতভাবে পরিমার্জিত করে সাজিয়ে হুবহু উপস্থাপন করা হলো।
"বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
ধন্যবাদ মাননীয় স্পিকার।
প্রথমেই আমি আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে অশেষ শুকরিয়া আদায় করছি। কারণ, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আজ আমাদেরকে এই তৌফিক দিয়েছেন যে, আমরা একটি ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশে বাংলাদেশের মানুষের সমর্থনের ভিত্তিতে এই জাতীয় সংসদে বসতে পেরেছি।
আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর রহমতে প্রায় এক মাস ২৫ দিন ধরে এই সংসদ পরিচালিত হয়েছে। এই সময়জুড়ে আমরা দেশ ও জনগণের স্বার্থে আলোচনা করেছি এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।
মাননীয় স্পিকার,
বক্তব্যের শুরুতেই আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে চাই ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মত্যাগকারী সকল শহীদকে। আমি স্মরণ করতে চাই ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহীদ হওয়া সকল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের। আমি স্মরণ করতে চাই ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরে নির্মমভাবে নিহত মানুষদের। আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করি, তিনি যেন তাদের শহীদের মর্যাদা দান করেন। আমি স্মরণ করতে চাই ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত এই দেশের মানুষের কথা বলার অধিকার, রাজনৈতিক অধিকার ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মত্যাগকারী সকল মানুষকে। আমি তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। একইসঙ্গে আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে চাই সেই সকল রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের, যারা দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে রাজপথে থেকে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দুর্বার প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন এবং বিভিন্নভাবে নির্যাতিত ও আহত হয়েছেন।
মাননীয় স্পিকার,
আজকের এই সংসদের দিকে সমগ্র বাংলাদেশ তাকিয়ে আছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীর যেখানেই একজন বাংলাদেশি আছেন, তারাও এই সংসদের বর্তমান ও ভবিষ্যতের দিকে গভীর প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে আছেন। এই সংসদের প্রায় প্রতিটি সদস্য তাদের বক্তব্যের শুরুতে বিভিন্ন সময়ের শহীদদের স্মরণ করেছেন। আমরা ভবিষ্যতেও তাদের স্মরণ করব। কিন্তু প্রশ্ন হলো, শুধুই কি শ্রদ্ধা নিবেদন করলেই শহীদদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়? অবশ্যই নয়। যারা জীবন দিয়েছেন, যারা আহত হয়েছেন, যারা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, তাদের প্রত্যেকের একটি স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্ন ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে মানুষ স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারবে, অন্যের স্বাধীনতাকে সম্মান করে নিজের মত প্রকাশ করতে পারবে। তাদের স্বপ্ন ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে মানুষ তার যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে, মর্যাদার সঙ্গে জীবন পরিচালনা করতে পারবে।
মাননীয় স্পিকার,
বিরোধীদলীয় নেতা যথার্থভাবেই কৃষকের কথা বলেছেন। আমরাও দেশের বিভিন্ন নির্বাচনে গ্রামে গিয়েছি, কৃষকের কাছে গিয়েছি, কৃষাণীর কাছে গিয়েছি। আমরা জানি আমাদের কৃষকদের বাস্তব অবস্থা কী। আমি বিরোধীদলীয় নেতাকে আশ্বস্ত করে বলতে চাই, কৃষকদের এই সমস্যা থেকে উত্তরণের লক্ষ্যেই আমরা আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে “কৃষক কার্ড”-এর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ, বাংলাদেশের মানুষের সমর্থনে সরকার গঠন করার পর আমরা দ্রুততার সঙ্গে সেই কাজ শুরু করেছি। আমরা কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তনের কাজ শুরু করেছি। শুধু ধানচাষি নয়, মৎস্যচাষি, গবাদিপশুপালকসহ সব ধরনের কৃষকের কাছে আমরা ধীরে ধীরে পৌঁছাতে চাই।
মাননীয় স্পিকার,
বিরোধীদলীয় নেতা শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। আমিও চাই না, আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বর্তমান অবস্থা এভাবেই থাকুক। রাজনৈতিক কারণে দীর্ঘদিন আমাকে বিদেশে থাকতে হয়েছে। ব্রিটেনে থাকাকালে আমি সেখানকার স্কুলগুলো দেখেছি। ছোট ছোট বাচ্চারা সুন্দর পোশাক পরে, শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশে স্কুলে যাচ্ছে। তখন আমার মনে হতো, আহা, আমার দেশের স্কুলগুলোও যদি এমন হতো! আজ আল্লাহর রহমতে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে আমরা হাঁটছি। এই সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আগামী জুলাই মাস থেকে পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্কুলব্যাগ, স্কুলড্রেস এবং জুতার ব্যবস্থা করা হবে ইনশাআল্লাহ। আমরা চাই, বাংলাদেশের প্রতিটি শিশু মর্যাদার সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাক।
মাননীয় স্পিকার,
আমি নিজেও এই দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়েছি। ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় রাজনৈতিক সহিংসতার মধ্যেও পড়েছিলাম। তাই আমি চাই, আমাদের সন্তানরা একটি নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশে লেখাপড়া করুক।
মাননীয় স্পিকার,
বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সংকট সৃষ্টি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব বাংলাদেশেও এসেছে। দেশের মানুষ কষ্ট পেয়েছে। আমি বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে একমত যে, এ ধরনের সংকট মোকাবিলায় সরকার ও বিরোধী দল একসঙ্গে বসে আলোচনা করলে সমাধান বের করা সম্ভব। সেই কারণেই আমরা যৌথভাবে একটি কমিটি গঠন করেছি। আমি বিশ্বাস করি, আমরা একসঙ্গে বসে এই সমস্যার সমাধান বের করতে সক্ষম হব ইনশাআল্লাহ।
মাননীয় স্পিকার,
বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। তাদের পিছিয়ে রেখে কোনো উন্নয়ন সম্ভব নয়। ১৯৯১-৯৬ এবং ২০০১-২০০৬ সালে বিএনপি সরকার মেয়েদের শিক্ষা দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক করেছিল। এবার আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, মেয়েদের স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করা হবে। যেসব মেয়ে ভালো ফল করবে, তাদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থাও করা হবে ইনশাআল্লাহ। শুধু শিক্ষাই নয়, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করাও জরুরি। সেই লক্ষ্যেই আমরা “ফ্যামিলি কার্ড” কর্মসূচি চালু করেছি। এই কার্ডের মাধ্যমে যে অর্থ দেওয়া হবে, সেটিকে আমরা ব্যয় নয়; বিনিয়োগ হিসেবে দেখি। কারণ, এই অর্থ গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।
মাননীয় স্পিকার,
বিরোধীদলীয় নেতা তার নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন সমস্যার কথা বলেছেন। আমি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে ইতোমধ্যে বিষয়গুলো দেখার নির্দেশনা দিয়েছি। চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতার ঘটনা ঘটার পরও আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছি। কারণ, এই সরকার জনগণের নির্বাচিত সরকার এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সরকার।
মাননীয় স্পিকার,
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বর্ষণে কৃষকের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা স্থানীয় প্রশাসনকে আগেই নির্দেশনা দিয়েছি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করার জন্য। আমাদের প্রথম দায়িত্ব জনগণের পাশে দাঁড়ানো। এই কারণেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর খাল খনন কর্মসূচি আমরা আবারও শুরু করেছি। এই কর্মসূচি শুধু সেচের জন্য নয়, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর রক্ষার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজ যদি আমরা কাজ শুরু করি, এর সুফল পেতে হয়তো ২০ বছর সময় লাগবে। কিন্তু ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে এখনই কাজ শুরু করতে হবে।
মাননীয় স্পিকার,
আমরা শিক্ষা খাতে বাজেটের প্রায় ৫ শতাংশ বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা করেছি। স্বাস্থ্য খাতেও জিডিপির একটি বড় অংশ ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে। আমাদের লক্ষ্য এক। আমাদের উদ্দেশ্য এক। আমাদের গন্তব্য এক। আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশের মানুষ। আমাদের উদ্দেশ্য একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। আমাদের গন্তব্য একটি আত্মনির্ভরশীল ও নিরাপদ বাংলাদেশ।
মাননীয় স্পিকার,
গণতান্ত্রিক সংসদে মতভেদ থাকবে। “এগ্রি টু ডিসএগ্রি” গণতন্ত্রের স্বীকৃত নীতি। যে বিষয়গুলোতে মতভেদ আছে, আমরা বিরোধী দলের সঙ্গে বসব, আলোচনা করব এবং দেশের স্বার্থে সমাধান বের করব। আমি আবারও পরিষ্কার করে বলতে চাই, ডেপুটি স্পিকারের বিষয়ে বিরোধী দলকে দেওয়া আমাদের প্রস্তাব এখনো বহাল আছে। আমরা চাই, এই সংসদ সহযোগিতার ভিত্তিতে পরিচালিত হোক।
মাননীয় স্পিকার,
বাংলাদেশের মানুষ এখন রাজনৈতিক বিতর্কের চেয়ে তাদের সমস্যার সমাধান বেশি চায়। একজন বেকার যুবক চাকরি চায়। একজন মা তার অসুস্থ সন্তানের জন্য ওষুধ চায়। একজন কৃষক তার ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের ক্ষতিপূরণ চায়। শুধু ঐতিহাসিক বিতর্ক দিয়ে তাদের কষ্ট দূর হবে না।
মাননীয় স্পিকার,
এই চেয়ারে বসে আমি প্রতিনিয়ত অনুভব করি, এটি আরামের চেয়ার নয়। এটি দায়িত্বের চেয়ার। এই চেয়ার আমাকে প্রতিনিয়ত মনে করিয়ে দেয়:
“You have to take the right decision, not the popular decision.”
আমাদের পপুলার সিদ্ধান্ত নয়, সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
মাননীয় স্পিকার,
আগামী অধিবেশনে আমরা আলোচনা করতে চাই, কীভাবে দ্রুত বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করা যায়, কীভাবে কর্মসংস্থান বাড়ানো যায়, কীভাবে হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সেবা নিশ্চিত করা যায়। দেশকে এগিয়ে নিতে হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও কার্যকর সংসদ নিশ্চিত করতে হবে। গণতন্ত্র বারবার বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণেই বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়েছে। সুতরাং আমরা বিতর্ক করব, আলোচনা করব, কিন্তু কোনোভাবেই এই সংসদকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। আপনি ব্যর্থ হলে আমি ব্যর্থ। আমি ব্যর্থ হলে আপনি ব্যর্থ। আর আমরা ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ ব্যর্থ হবে। আমরা কেউই ব্যর্থ বাংলাদেশ দেখতে চাই না। কারণ, এই সংসদ দাঁড়িয়ে আছে হাজারো শহীদের রক্তের ওপর।
মাননীয় স্পিকার,
আমি আবারও পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, বাংলাদেশের স্বার্থে বিরোধী দলের সঙ্গে যেকোনো আলোচনা ও সহযোগিতার জন্য সরকার সবসময় প্রস্তুত। আমরা একসঙ্গে এই দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাব ইনশাআল্লাহ।
পরিশেষে আমি আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি আপনাকে, মাননীয় ডেপুটি স্পিকারকে, মন্ত্রিসভার সদস্যদের, বিরোধীদলীয় নেতা ও সদস্যদের, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের, চিকিৎসক, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, গণপূর্ত, বিদ্যুৎ বিভাগ, গণমাধ্যমকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে।
আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। ফ্যাসিবাদের পতনের পর তারা দেশকে স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
সবশেষে আমি সকল সংসদ সদস্যের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি:
আসুন, আমরা এই সবুজ চেয়ারের পবিত্রতা রক্ষা করি।দেশ ও জনগণের প্রত্যাশার সর্বোচ্চ সম্মান করি।কারণ, দেশ ও জনগণ থাকলেই আমরা আছি।
সবচেয়ে আগে বাংলাদেশ।সবচেয়ে আগে দেশের জনগণ।সবচেয়ে আগে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি।
ধন্যবাদ মাননীয় স্পিকার।
আসসালামু আলাইকুম।"
বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে চার সমঝোতা স্মারকসহ সাতটি চুক্তি সই
বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদার এবং পারস্পরিক সম্পর্ককে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে মোট চারটি সমঝোতা স্মারক, দুটি অনুদান চুক্তি ও একটি অভিপ্রায়পত্র সই হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চলমান জাপান সফরকালে দুই দেশের শীর্ষপর্যায়ের বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকগুলো স্বাক্ষরিত হয়।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণে গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) চার দিনের এক সরকারি ও রাষ্ট্রীয় সফরে টোকিও পৌঁছান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফরের মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে দুই দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে জাপানে গেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যানসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকগুলোর সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে উভয় দেশের মধ্যকার অংশীদারিত্বমূলক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।
/আশিক
ক্ষমতা নয়, শিক্ষা-স্বাস্থ্য সংস্কারই সরকারের প্রধান লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী
রাজনীতিতে কার ক্ষমতা বাড়ল বা কমল তার চেয়ে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের সংস্কার এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থানীয় সময় বুধবার (২৮ অক্টোবর) টোকিওর একটি হোটেলে বাংলাদেশ কমিউনিটি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। সরকার ভঙ্গুর অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক অবস্থার মধ্য দিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভালো কাজগুলোতে কারো কোনো দ্বিমত থাকার কারণ নেই।
অনুষ্ঠানে দেশের উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবার মান ও সক্ষমতা বাড়াতে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালগুলোকে ১০০ থেকে ১৫০ শয্যায় রূপান্তর করার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান যে, এসব হাসপাতালে শিশু ও গাইনি ওয়ার্ডের ব্যবস্থা রাখা হবে। এছাড়া অর্থনীতিকে গতিশীল করতে আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে দেশের বন্ধ থাকা ৪৬টি কারখানা চালু করার পাশাপাশি বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনার জন্য সব ধরনের সুযোগ সৃষ্টির কাজ বর্তমান সরকার করে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।
শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা যত মজবুত হবে, জাতির ভবিষ্যৎ তত উজ্জ্বল হবে। আগামী বছর থেকে দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য একাধিক ভাষা শিক্ষার সুযোগ রাখা এবং আসছে জানুয়ারি থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ্যপুস্তকে ট্রাফিক আইন সম্পর্কিত শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। জাপান সরকারের বাংলাদেশে বিনিয়োগে গভীর আগ্রহের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের মানুষের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশকেও আটঘাট বেঁধে প্রস্তুতি নিতে হবে এবং প্রবাসীদের দেশের একেকজন অ্যাম্বাসেডর হিসেবে ভূমিকা রাখতে হবে।
/আশিক
তারেক রহমানকে নিয়ে সমালোচনার কড়া জবাব দিলেন প্রধানমন্ত্রী
জাপান সফরে আমজনতা পার্টির সদস্যসচিব মো. তারেক রহমানকে সফরসঙ্গী করা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলা সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থানীয় সময় বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে জাপানের টোকিওতে হোটেল নিউ ওতানির হলরুমে বাংলাদেশ কমিউনিটি জাপান আয়োজিত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। দেশের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা না করে কেবল একজন ব্যক্তিকে ঘিরে সমালোচনার বিষয়ে সরকারপ্রধান তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, গত দুই দিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি নিয়ে নানা কথা বলা হচ্ছে এবং তার কোনো অবদান নেই কিংবা সরকারি অর্থ অপচয় হয়েছে বলে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা অত্যন্ত আশ্চর্যজনক।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে এক ফেসবুক পোস্টে সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে আমজনতা পার্টির সদস্যসচিব মো. তারেক রহমানও ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান যে, একটি মহল তাকে হেয় করতে গিয়ে তার রাষ্ট্রীয় সম্মানপ্রাপ্তি সহ্য করতে পারছে না।
বুধবারের সভায় দেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় প্রবাসীদের বিদেশের মাটিতে দেশের একেকজন মূল প্রতিনিধি হিসেবে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, জাপান সফরকালে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্ব, সরকার ও ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিষয়ে ব্যাপক আগ্রহ ও অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া গেছে। তবে এই বিনিয়োগ দ্রুত দেশে নিয়ে আসতে প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক প্রস্তুতি আরও জোরদার করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রবাসীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে জাপানি ভাষা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণ, বন্ধ শিল্পকারখানা চালু এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
পরিশেষে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে দেশের প্রতিটি শিশুর সুশিক্ষা, চিকিৎসা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক, স্বাবলম্বী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে প্রবাসীদের সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন তিনি। বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুস সাত্তার পাটোয়ারীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ডা. জুবাইদা রহমান, মন্ত্রী-উপদেষ্টাগণ, সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং জাপান বিএনপির নেতৃবৃন্দসহ বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি উপস্থিত ছিলেন।
/আশিক
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে চলেছে এবং প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলে আগামী নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই দেশটিতে কর্মী পাঠানো শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূর। বুধবার (২৮ অক্টোবর) উইটনেস ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘অনিয়মিত ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন প্রতিরোধ এবং সাব-এজেন্টের জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক অভিবাসন সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে সরকারি জনশক্তি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলের মাধ্যমে ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে পর্যায়ক্রমে বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হবে। এই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারগুলোর তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে এবং ১ নভেম্বর থেকে তালিকাভুক্ত কেন্দ্রগুলোতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও অন্যান্য দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সফলভাবে শেষ হলে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে কর্মীরা মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ পাবেন।
কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ ৩৩৮টি বড় লাইসেন্সধারী রিক্রুটিং এজেন্সিকে অনুমোদন দিয়েছে এবং তাদের চাহিদাপত্র এফডব্লিউসিএমএস ও বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে সত্যায়ন করা হচ্ছে। দূতাবাসের সত্যায়ন ছাড়া কোনো চাহিদাপত্র গ্রহণ করা হবে না বলে জানানো হয়েছে। বোয়েসেলের মাধ্যমে প্রথম ধাপে পাঠানো ১০ হাজার কর্মীর ক্ষেত্রে বিমান ভাড়া, মেডিকেল ও সার্ভিস চার্জ মিলিয়ে মোট ব্যয় ১ লাখ ৫৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার মধ্যে হতে পারে। অন্যদিকে, বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে পাঠানোর খরচ সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে নির্ধারিত হবে এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি থাকবে। মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদিত তালিকার বাইরে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করাতে এবং আর্থিক লেনদেনের পূর্বে সরকারি নির্দেশনা যাচাই করার জন্য কর্মীদের প্রতি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
/আশিক
বাংলাদেশের ৫ খাতে জাপানি বিনিয়োগের বড় প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর
টোকিওর জেট্রো হলে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরাম ডায়ালগ’-এ প্রধান বক্তার বক্তব্যে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে শক্তিশালী অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য অংশীদারত্বে রূপ দেওয়ার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দেশগুলোর অন্যতম ছিল জাপান এবং বিগত পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে পাশে রয়েছে। পিতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং মাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জাপান সফরের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সুদৃঢ় হওয়ার কথা স্মরণ করে তিনি দুই দেশের এই ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের কথা তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৩৫০টি জাপানি কোম্পানি কাজ করলেও দেশটিতে জাপানের সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ এখনও ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের নিচে রয়েছে। গত অর্থবছরে জাপানে বাংলাদেশের রফতানি ১.৩৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং জাপান থেকে আমদানি ২.১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছিল উল্লেখ করে তিনি এই সম্পর্ককে কেবল উন্নয়ন সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে এগিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দেন। পাশাপাশি, দুই দেশ সম্প্রতি একটি ‘অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি’ স্বাক্ষর করেছে, যা বাংলাদেশের জন্য কোনো দেশের সাথে স্বাক্ষরিত প্রথম এ ধরনের চুক্তি। এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের ৭,৩৭৯টি পণ্য জাপানে এবং স্টিল, অটোমোটিভ পার্টস ও ইলেকট্রনিক সামগ্রীসহ জাপানি পণ্য বাংলাদেশে শুল্কমুক্ত ও অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা পাবে।
বিনিয়োগকারীদের জন্য দেশের ১৮ কোটিরও বেশি মানুষের বাজার, গড় বয়স ২৭ বছরের তরুণ জনশক্তি এবং ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে বড় সুবিধা হিসেবে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ ১০টি ভোক্তা অর্থনীতির একটিতে পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই লক্ষ্য সামনে রেখে তিনি অটোমোটিভ উৎপাদন, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও মহাকাশ গবেষণা, রেল ও লজিস্টিকস এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ—এই মূল পাঁচটি অগ্রাধিকারমূলক খাতে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বড় আকারের বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছেন। অটোমোটিভ খাতে বাংলাদেশে গাড়ি উৎপাদন কারখানা স্থাপনের বিষয়ে টয়োটার পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়ে তিনি ২০২৯ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রায় সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস দেন।
জ্বালানি খাতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) অবকাঠামো, দক্ষ গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ জাপানের ‘জেরা’র সাথে কাজ করছে। প্রযুক্তি ও মহাকাশ সহযোগিতার বিষয়ে তিনি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিক্স এবং ইলেকট্রনিক্স ম্যানুফ্যাকচারিংকে গুরুত্ব দিয়ে একটি ‘বাংলাদেশ-জাপান টেকনোলজি পার্ক’ এবং উদ্ভাবন-কেন্দ্রিক আইটি পার্ক স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানান। সেই সাথে জাপান স্পেস সায়েন্স ও স্যাটেলাইট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে মহাকাশ সক্ষমতা জোরদার করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
রেল ও লজিস্টিকস খাতে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশালসহ প্রধান শহরগুলোকে যুক্ত করে আধুনিক ও দ্রুতগতির উন্নত রেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনায় জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগকে স্বাগত জানানো হবে বলে জানান তিনি। কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে সুমিতোমো কর্পোরেশন দ্বারা জাপানি মানে উন্নত আড়াইহাজারের ‘বাংলাদেশ স্পেশাল ইকোনমিক জোন’-এ বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। জাপানি কোম্পানিগুলোর নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি, দক্ষ অবকাঠামো এবং সহজ কাস্টমস ও কর ব্যবস্থার উদ্বেগের বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার এসব সমাধানে কাজ করছে এবং ব্যবসায়ীদের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে দিতে বদ্ধপরিকর। এছাড়া, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জাপানি ভাষা শেখানোকে অগ্রাধিকার দিয়ে দক্ষ পেশাদার গড়ে তোলার মাধ্যমে উভয় দেশের কর্মসংস্থানের চাহিদা মেটানোর কথা তিনি জানান।
যৌথভাবে এই ফোরামের আয়োজন করে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো), জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন (জেবিসিসিইসি) এবং জাপানস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস। অনুষ্ঠানে জেট্রো সভাপতি সুসুমু কাতাওকা সূচনা বক্তব্য দেন এবং জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের পার্লামেন্টারি ভাইস-মিনিস্টার শিনজি ওয়াকায়ামা অতিথি বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন। এছাড়া অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, মিৎসুই অ্যান্ড কোম্পানির ঢাকা শাখার জেনারেল ম্যানেজার কেনইচিরো কাওয়ামোতো, ওয়াইকেকে কর্পোরেশনের গ্লোবাল সেলসের ভাইস প্রেসিডেন্ট রেইসুকে আরাতানি এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ অনুষ্ঠানে বক্তব্য ও প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
/আশিক
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে জাপানের জোরালো সমর্থনের ঘোষণা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরের দ্বিতীয় দিনে টোকিওতে দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর বাংলাদেশের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মতো অভিন্ন মূল্যবোধে বিশ্বাসী বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে অভিহিত করে তাকাইচি বলেন, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে সংযুক্তকারী কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ জাপানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।
টোকিওতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। জাপানের প্রধানমন্ত্রী তার অফিসিয়াল ‘এক্স’ অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য ব্যক্তিগতভাবে অভিনন্দন জানান এবং গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের জাতি গঠনমূলক উদ্যোগগুলোর প্রতি জাপানের জোরালো সমর্থনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে উভয় নেতা পারস্পরিক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বাড়াতে ‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট’ বা ‘বিগ-বি’ উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একমত পোষণ করেন। এই উদ্যোগটিকে পরবর্তীতে ‘শেয়ারিং প্রসপারিটি বিগ-বি’ নামক একটি নতুন কৌশলগত সহযোগিতা কাঠামোয় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া ১৭ কোটি মানুষের বিশাল ও তরুণ জনগোষ্ঠীর বাজার হিসেবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথাও বৈঠকে বিশেষভাবে তুলে ধরেন জাপানি প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে দেশটির প্রতি জাপানের অবিচল সমর্থন ও বিভিন্ন খাতের উন্নয়নে জাপানি অবদানের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। দুই দেশের সরকারি ও বেসরকারি খাতের যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে কৌশলগত অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করে জাপানের প্রধানমন্ত্রী জানান, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অভিন্ন সমৃদ্ধি বজায় রাখতে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে কাজ করে যাবেন।
/আশিক
ক্রসফায়ার বা কাস্টডিয়াল ডেথ সরকার সহ্য করবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের ‘ক্রসফায়ার’সংক্রান্ত বক্তব্যের বিষয়ে তাকে সরাসরি নাকচ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি পরিষ্কার ভাষায় জানিয়েছেন যে আইজিপির এ ধরনের মন্তব্য করা একদমই ঠিক হয়নি এবং উচিত হয়নি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির একজন সহজ-সরল মানুষ এবং মূলত আইনের কঠোর প্রয়োগের বিষয় বোঝাতে গিয়ে তিনি অসতর্কতাবশত ওই কথাটি বলে ফেলেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা ক্রসফায়ারের ব্যাপারে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে। সরকার কোনোভাবেই বিচারবহির্ভূত হত্যা কিংবা পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু (কাস্টডিয়াল ডেথ) বরদাশত করবে না এবং এ বিষয়ে প্রশাসন অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সুদৃঢ় উন্নয়ন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন যে, এখন পর্যন্ত দেশে ক্রসফায়ার বা হেফাজতে মৃত্যুর মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে অপরাধ দমন এবং আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত সোমবার রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির মন্তব্য করেছিলেন যে, সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে ‘ক্রসফায়ার’ করা হবে। তিনি সে সময় আরও বলেন যে পুলিশ বলপ্রয়োগ করলে এক পক্ষ তাদের ‘ফ্যাসিস্ট’ বলে আবার নিষ্ক্রিয় থাকলে ‘দুর্বল’ বলে আখ্যায়িত করে, তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে পুলিশকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত পরিবেশ দিতে হবে।
আইজিপির এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গন ও মানবাধিকার মহলে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী যুবদলের এক অনুষ্ঠানে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন যে, দীর্ঘকাল গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা দলের সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে পুলিশপ্রধানের মুখে এমন বক্তব্য অত্যন্ত বিব্রতকর ও ভাবনার বিষয়।
পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, এবি পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। তীব্র সমালোচনার মুখে গত সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দপ্তরের পক্ষ থেকেও একটি আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। সেই ব্যাখ্যায় দাবি করা হয়েছিল যে, আইজিপি মূলত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে শাস্তি দেওয়ার অর্থে ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি ব্যবহার করেননি; বরং অপরাধ দমনে আইনের কঠোর প্রয়োগের বিষয়টি বোঝাতেই তিনি রূপক অর্থে শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন।
সূত্র: প্রথম আলো
গ্রিড বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন
গ্রিড বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) এক অফিসিয়াল বার্তার মাধ্যমে এই কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রতিষ্ঠানটি।
গঠিত এই কমিটির প্রধান বা আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের সঞ্চালন-২ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সৈয়দ এবাদুল্লাহ হায়দার আলী। পাঁচ সদস্যের এই কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও পর্যালোচনামূলক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে মূলত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মূল নেপথ্য কারণগুলো চিহ্নিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সফলভাবে প্রতিরোধ করার জন্য প্রয়োজনীয় সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালা প্রণয়ন করতে বলা হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ৪৩ মিনিটে রাজধানী ঢাকার পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা এবং বন্দরনগরী চট্টগ্রামের একাংশে হঠাৎ করেই বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, যার ফলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলোতে চরম ভোগান্তি ও বিদ্যুৎ বিঘ্ন ঘটে। এই ঘটনার পরপরই দ্রুত জাতীয় গ্রিডের জরুরি পুনরুদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিরলস প্রচেষ্টার পর একই দিন দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে জাতীয় গ্রিডের সম্পূর্ণ পুনরুদ্ধার কাজ সফলভাবে শেষ হয়। এরপর গ্রিড লাইন ও উপকেন্দ্রগুলো সচল রেখেই ধাপে ধাপে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালু করার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। পরবর্তীতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে স্বাভাবিক করে আনা হয়।
/আশিক
পর্যটকদের জন্য বড় স্বস্তি: সেন্টমার্টিনে রাতে থাকতে আর বাধা নেই
সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটকদের রাতযাপন এবং ভ্রমণসংক্রান্ত আগের সিদ্ধান্ত সংশোধন করেছে সরকার। নতুন এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১ নভেম্বর থেকে শুরু করে আগামী বছরের ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকেরা সেন্টমার্টিন দ্বীপটিতে ভ্রমণের পাশাপাশি রাতেও নিরাপদে থাকতে পারবেন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই সংশোধিত নির্দেশনা জারি করা হয়।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব সাবরীনা রহমান বিষয়টি স্পষ্ট করে জানান যে, নভেম্বর ও ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে সেন্ট মার্টিনে রাত্রিযাপন নিয়ে পূর্বে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, তা আনুষ্ঠানিকভাবে সংশোধন করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ওই পুরো সময়জুড়েই পর্যটকেরা দ্বীপে রাত্রিযাপন করতে পারবেন।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১২ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে সেন্ট মার্টিনে পর্যটকদের যাতায়াত ও নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত একটি আন্তমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গত রোববার মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ-২ শাখা থেকে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থায় যে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছিল, তাতে গত বছরের ২২ অক্টোবর জারি করা পুরোনো প্রজ্ঞাপনের নিয়ম বহাল রাখা হয়েছিল। ওই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে পর্যটকেরা কেবল দিনের বেলা সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করে একই দিনে ফিরে আসতে পারবেন এবং কেবল ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে দ্বীপে রাতে থাকার অনুমতি থাকবে—এমন বিধান থাকায় পর্যটক, হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট ব্যবসায়ী এবং জাহাজমালিকদের মধ্যে চরম বিভ্রান্তি তৈরি হয়। পরবর্তীতে গণমাধ্যমে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং সরকারের নজরে আসার পর এই সংশোধিত সিদ্ধান্ত এল।
নতুন সংশোধিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পর্যটকদের জন্য অন্যান্য যেসব নিয়ম বহাল থাকছে তার মধ্যে রয়েছে
আগের নিয়মের মতোই কক্সবাজার শহরের নুনিয়াছড়ার বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকেই পর্যটকবাহী জাহাজগুলো সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে।
দ্বীপের পরিবেশ রক্ষার্থে এবার পর্যটক যাতায়াতের দৈনিক সর্বোচ্চ সীমা বা কোটা বাড়িয়ে সাড়ে তিন হাজার নির্ধারণ করা হয়েছে।
সেন্টমার্টিন ভ্রমণকারী প্রতিটি পর্যটককে বাধ্যতামূলকভাবে ১০০ টাকা করে পরিবেশ সংরক্ষণ ফি প্রদান করতে হবে।
দ্বীপে যাতায়াতের জন্য আগের মতো এবারও পর্যটকদের নির্দিষ্ট ‘ট্রাভেল পাস’ সংগ্রহ করতে হবে।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে চার সমঝোতা স্মারকসহ সাতটি চুক্তি সই
- চ্যাটজিপিটিতে এলো নতুন ‘মেমরি আর্কিটেকচার’ ও চ্যাট লক সুবিধা
- নরম সুরে কথা বলে পানির ন্যায্য হিস্যা মিলবে না: রুহুল কবির রিজভী
- বিএনপির নিজেদের নেতাকর্মীও এখন নিরাপদ নন: ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম
- মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যেই ইরানে কর্মী বাড়াচ্ছে রাশিয়া
- জয়-পুতুলসহ আটজনের মামলায় সিআরআইয়ের কর নথিপত্র জব্দের নির্দেশ আদালতের
- হোয়াটসঅ্যাপে ‘No’ লিখলেই কি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খালি হয়ে যায়?
- তাপপ্রবাহের পর ভ্যাপসা গরমের মধ্যেই এলো ঘূর্ণিঝড়ের আপডেট
- বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত যেসব এলাকায় মিলবে না বিদ্যুৎ
- ক্ষমতা নয়, শিক্ষা-স্বাস্থ্য সংস্কারই সরকারের প্রধান লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী
- দৈনিক মাত্র চার ঘণ্টা ঘুম ডেকে আনছে বড় বিপদ
- তারেক রহমানকে নিয়ে সমালোচনার কড়া জবাব দিলেন প্রধানমন্ত্রী
- ইসরায়েলে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা
- মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা
- রমজানে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ছে না: বাণিজ্যমন্ত্রী
- বাংলাদেশের ৫ খাতে জাপানি বিনিয়োগের বড় প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর
- বিশ্ববাজারে কমল স্বর্ণের দাম, প্রভাবে অস্থিরতার আভাস
- গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতন হলেও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই শেষ হয়নি
- বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে জাপানের জোরালো সমর্থনের ঘোষণা
- ডি-থ্রি ট্রফিতে শক্তিশালী দল গড়ল ওয়ালটন, লক্ষ্য শিরোপা
- ক্রসফায়ার বা কাস্টডিয়াল ডেথ সরকার সহ্য করবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- গ্রিড বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন
- পর্যটকদের জন্য বড় স্বস্তি: সেন্টমার্টিনে রাতে থাকতে আর বাধা নেই
- হুথিদের হামলা থামাতে তেহরানকে ১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাব সৌদির?
- বিক্রির কদিন না যেতেই অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডিং আইফোনে ফাটল!
- হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম ব্যবহারে আসছে নতুন কড়াকড়ি
- প্রধানমন্ত্রীর আশপাশের লোকজনের পকেটে ফিরতি টিকিট থাকে: হাসনাত আবদুল্লাহ
- রমজানের আগেই ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব ব্যবসায়ীদের
- চেলসির তরুণ তুর্কি এস্তেভাওকে দলে ভেড়াতে মরিয়া পিএসজি
- ব্রাজিলে লুলার প্রত্যাবর্তন, লাতিন আমেরিকায় চাপে ট্রাম্প
- হুথি উত্তেজনার মাঝে সৌদিতে রহস্যময় জরুরি সতর্কতা
- স্বর্ণের বাজার নিয়ে মার্কিন প্রতিষ্ঠানের চাঞ্চল্যকর পূর্বাভাস
- আবেদন শুরুর তারিখ ঘোষণা, আবারও আসছে ডিভি লটারি সুযোগ
- ঐতিহাসিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার দুই নেতার
- স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনের সহযোগিতা চাইলেন ডা. জুবাইদা রহমান
- বিরোধীরা জিতলেও এখনই ক্ষমতা ছাড়ছেন না নেতানিয়াহু
- গভীর সংকটে চীনের বাজার, বড় পতনের মুখে শেয়ারমূল্য
- ইসরায়েল ভোটের প্রাক্কালে মস্কোয় পেজেশকিয়ানের কূটনৈতিক চাল
- নতুন পে-স্কেলে ভাতা না বাড়ায় বড় ধাক্কা, হতাশ সরকারি কর্মচারীরা
- সৌদি গমনে ব্যর্থ বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সুখবর, স্বয়ংক্রিয়ভাবে মিলবে প্রবেশের সুযোগ
- আঞ্জনি হলে ঘরোয়া পরিচর্যায় কোন কাজগুলো করা একেবারেই নিরাপদ নয়?
- ইসরায়েলে ২৬তম নেসেট নির্বাচনে মঙ্গলবার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন নাগরিকরা
- ইরানের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসছে তিন দেশ
- রাজনীতিতে পারিবারিক প্রভাব ও মন্ত্রীদের স্বজনপ্রীতির কঠোর সমালোচনা এনসিপি নেতার
- তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বিএনপি এবারও টালবাহানা করছে: এনসিপি আহ্বায়ক
- শেষ হলো বিসিবির নতুন ডি-থ্রি টুর্নামেন্টের আকর্ষণীয় ক্রিকেটার নিলাম
- আরও শক্তিশালী হয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে ‘অর্ণব’
- আপনি আসেন, আমরা আপনার অপেক্ষায় আছি: শেখ হাসিনাকে হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু
- এনবিআরের ই-রিটার্ন সিস্টেমে যেভাবে দেখবেন বিলম্বের প্রদেয় অর্থের পরিমাণ
- আলোচনার আড়ালে শর্ত চাপাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, তেহরানের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন ইসমাইল বাঘাইয়ের
- 'এখন থেকে ১০ হাজার লোক নিয়ে চলব': সরাইল থানায় এমপি রুমিন ও ওসির তীব্র বাগ্বিতণ্ডার পেছনে আসল ঘটনা কী?
- ভিডিও বানিয়ে আয়ের সুযোগ দিচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স
- জামায়াত-এনসিপির ৯০ এমপির মেধা-যোগ্যতা বনাম এক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: রাশেদ খান
- ইরানের পরমাণু অস্ত্র ইসরায়েলের অস্তিত্ব ধ্বংস করে দেবে: বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
- টি-টোয়েন্টিতে প্রথম বলের ইতিহাস ও নতুন বিশ্বরেকর্ড
- প্রকাশ্যে চুমু দেওয়ার সংস্কৃতি চালু করেছেন এক রাজনৈতিক নেতা: রাশেদ খাঁন
- যে আতঙ্কে খালি করা হলো বিশ্বের সর্ববৃহৎ তেল কোম্পানির সদর দপ্তর: বড় বিপর্যয়ের ইঙ্গিত?
- এআই চ্যাট গোপনে রাখতে মেটার পর এবার ওপেনএআইয়ের বড় পদক্ষেপ
- আগামী জাতীয় নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- আবহাওয়া অধিদপ্তরের আগামী ৫ দিনের বিশেষ পূর্বাভাস
- আরও শক্তিশালী হয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে ‘অর্ণব’
- ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন রুখতে বড় সামরিক অভিযানের নির্দেশ নেতানিয়াহুর
- মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনায় আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব
- আমি আটটি যুদ্ধ থামিয়েছি, অথচ নোবেল পাইনি: ট্রাম্প
- অন্যের নামে জমি রেকর্ড হলে করণীয় কী?








