আজকের সোনার বাজার

সৌদি-দুবাইয়ে ভরিতে ৪০ হাজার টাকা কম! জানুন কেন বাংলাদেশের সাধারণ ক্রেতারা ঠকছেন

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৮ ১৪:৩৫:২৩
সৌদি-দুবাইয়ে ভরিতে ৪০ হাজার টাকা কম! জানুন কেন বাংলাদেশের সাধারণ ক্রেতারা ঠকছেন

স্বর্ণের বাজারে যেন আগুন লেগেছে, তবে সেই আগুনের তাপ দেশভেদে ভিন্ন। আজ ২৮ এপ্রিল, ২০২৬; ঢাকার জুয়েলারি দোকানগুলোতে যখন ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি ২,৪৪,৭১১ টাকায় ঠেকেছে, তখন মধ্যপ্রাচ্যের আকাশছোঁয়া বুর্জ খলিফার দেশ দুবাই বা মরুবেষ্টিত কুয়েতে চিত্রটা সম্পূর্ণ আলাদা। একজন সাধারণ ক্রেতা যদি আজ ঢাকা থেকে এক ভরি গয়না কেনেন, আর ঠিক একই মানের গয়না যদি দুবাই বা কাতার থেকে আনেন, তবে তার পকেটে জমা থাকতে পারে প্রায় ৩৬,০০০ থেকে ৪০,০০০ টাকা বাড়তি সঞ্চয়। কিন্তু কেন এই আকাশ-পাতাল ব্যবধান? এটি কি কেবল শুল্কের খেলা, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো গাণিতিক সমীকরণ?

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে স্বর্ণের বাজার সরাসরি আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটের সাথে তাল মিলিয়ে চলে। আজ কুয়েতে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম বাংলাদেশি টাকায় মাত্র ২,০৪,৯৮০ টাকা, যা বাংলাদেশের তুলনায় প্রায় ৩৯,৭৩১ টাকা কম। এমনকি সৌদি আরব বা কাতারেও এই ব্যবধান ৩৮ হাজার টাকার আশেপাশে। দুবাই, যাকে বলা হয় ‘সিটি অব গোল্ড’, সেখানেও ভরিপ্রতি দাম বাংলাদেশের চেয়ে অন্তত ৩৬ হাজার টাকা সাশ্রয়ী। এই বিশাল পার্থক্যের প্রধান কারণ হলো বাংলাদেশের উচ্চ আমদানি শুল্ক এবং ডলারের বিপরীতে টাকার রেকর্ড অবমূল্যায়ন। মধ্যপ্রাচ্যে স্বর্ণ আমদানিতে করের বোঝা যেমন কম, তেমনি সেখানে পর্যটকদের জন্য রয়েছে ভ্যাট রিফান্ডের বিশেষ সুবিধা, যা একজন ক্রেতার খরচকে নাটকীয়ভাবে কমিয়ে দেয়।

তবে এই দামের পার্থক্যের পেছনে কেবল ট্যাক্স নয়, কাজ করছে স্থানীয় বাজারের ‘তেজাবী’ স্বর্ণের যোগান ও চাহিদার মনস্তাত্ত্বিক খেলাও। বাংলাদেশে যখনই বিশ্ববাজারে দাম বাড়ে, তার প্রভাব পড়ে মুহূর্তের মধ্যে; কিন্তু বিশ্ববাজারে দাম কমলে স্থানীয় বাজারে তার সুফল পৌঁছাতে সময় লাগে কয়েক সপ্তাহ। এই শ্লথ গতির সমন্বয় সাধারণ ভোক্তাদের পকেট কাটছে প্রতিনিয়ত। ফলে মধ্যপ্রাচ্য ফেরত প্রবাসীদের মাধ্যমে স্বর্ণ আনার প্রবণতা এখন আর কেবল শখ নয়, বরং একটি লাভজনক বিনিয়োগে পরিণত হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, দেশের বাজারে এই কৃত্রিম উচ্চমূল্য কি শেষ পর্যন্ত বৈধ জুয়েলারি শিল্পকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে? নীতিনির্ধারকরা যদি শুল্ক কাঠামো এবং গোল্ড এক্সচেঞ্জ নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ না নেন, তবে সাধারণ মানুষের কাছে ‘সোনার হরিণ’ কেবল প্রবাসীদের হাত ধরেই আসবে, দেশের দোকানগুলো থেকে নয়।


আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে চীনের মুদ্রা নীতি: ডলারের বিপরীতে ইউয়ানের নতুন দর

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১০ ২০:১৯:২৪
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে চীনের মুদ্রা নীতি: ডলারের বিপরীতে ইউয়ানের নতুন দর
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন ডলারের বিপরীতে চীনের মুদ্রা রেনমিনবির (ইউয়ান) মান সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দেশটির বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ডলারের বিপরীতে ইউয়ানের মান ৩ পিপস বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৭৭৬৬-এ।

চীনের মুদ্রা ব্যবস্থাপনা নীতি অনুযায়ী, দেশটির স্পট বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে প্রতিদিন কেন্দ্রীয় সমাপনী মধ্যমূল্যের সাপেক্ষে ইউয়ানের দর সর্বোচ্চ ২ শতাংশ পর্যন্ত ওঠানামা করার সুযোগ থাকে। মূলত আন্তঃব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা বাজার খোলার আগে অনুমোদিত বাজার-নির্ধারক সংস্থাগুলোর প্রস্তাবিত দরের গড়ের ওপর ভিত্তি করেই এই আনুষ্ঠানিক কেন্দ্রীয় বিনিময় হার নির্ধারণ করা হয়।

তথ্যসূত্র: সিএমজি


আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে মিশ্র প্রবণতা, নজর মার্কিন মূল্যস্ফীতিতে

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১০ ২০:০৪:৪৯
আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে মিশ্র প্রবণতা, নজর মার্কিন মূল্যস্ফীতিতে
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন ডলারের বিনিময় মান কিছুটা নিম্নমুখী হওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) স্বর্ণের দামে সামান্য ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। তবে বাজারে বড় কোনো পরিবর্তনের আগে বিনিয়োগকারীদের মূল দৃষ্টি এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মূল্যস্ফীতি সংক্রান্ত ডেটার দিকে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সুদের হার নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রধান নির্দেশক হিসেবে কাজ করবে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, বৃহস্পতিবার স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪০৫ দশমিক ০৯ ডলারে উঠেছে, যদিও একই সময়ে মার্কিন ফিউচার্স মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৪৪৮ দশমিক ৮০ ডলারে অবস্থান নেয়।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ডলার সূচক কিছুটা দুর্বল থাকায় আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের জন্য ডলারভিত্তিক স্বর্ণ কেনা সাশ্রয়ী হয়েছে, যা মূল্যবান ধাতুটির চাহিদা বাড়াতে সহায়তা করেছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তে থাকা ঋণ নিয়ে অনিশ্চয়তাও নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদাকে চাঙ্গা রেখেছে। তবে বাজার এখন দেশটির প্রযোজক মূল্যসূচক (পিপিআই) এবং শুক্রবার প্রকাশিতব্য ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে। মূল্যস্ফীতির হার অনুমানের চেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেলে ফেড সুদের হার বাড়াতে পারে, যা ভবিষ্যতে স্বর্ণের মূল্যের ওপর তীব্র নিম্নমুখী চাপ তৈরি করার ঝুঁকি রাখে।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারের এই সামান্য বৃদ্ধির বিপরীতে দেশের স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন নির্ধারিত মূল্যের তালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৮ টাকা। ২১ ক্যারেটের ভরিপ্রতি দাম ১ হাজার ৪৯ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫৪১ টাকা। এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ৯৩৩ টাকা কমিয়ে ভরিপ্রতি ১ লাখ ৯১ হাজার ৯৩১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৭০০ টাকা হ্রাস পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮২২ টাকায়।

/আশিক


বিশ্ববাজারে আবারও কমল স্বর্ণের দাম

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৮ ১৯:২৯:৫২
বিশ্ববাজারে আবারও কমল স্বর্ণের দাম
ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের মূল্যে কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান প্রকাশের প্রাক্কালে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববাজারের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের সতর্ক অবস্থান তৈরি হওয়ায় মূল্যবান এই ধাতুর দর কমেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার গ্রিনিচ মান সময় সকাল ৮টা ১৬ মিনিটে তাৎক্ষণিক লেনদেন হওয়া বা স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি ট্রয় আউন্স ৪ হাজার ৩৯০ দশমিক ৫০ ডলারে নেমে আসে। যদিও কার্যদিবসের শুরুতে লেনদেনের একপর্যায়ে মূল্যবান এই ধাতুর দর ৪ হাজার ৪৪২ দশমিক ৭০ ডলার পর্যন্ত স্পর্শ করেছিল।

সমান্তরালভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ডিসেম্বর ডেলিভারির গোল্ড ফিউচারের দরও শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি ট্রয় আউন্স ৪ হাজার ৪৩৫ ডলারে স্থিতি পায়। দিনের শুরুর ভাগে স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪ হাজার ৪১৮ দশমিক ৭৯ ডলারে ওঠানামা করলেও সামগ্রিকভাবে লেনদেনে বড় ধরনের অস্থিরতা লক্ষ করা গেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের অভিমত, যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মূল্যস্ফীতির উপাত্ত নিয়ে লগ্নিকারীদের সাবধানী প্রতিক্রিয়াই মূলত স্বর্ণের বাজারে এই নেতিবাচক চাপ সৃষ্টি করেছে। বাজারে এমন শঙ্কা রয়েছে যে মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী হলে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইউএস ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। সাধারণত কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বৃদ্ধি করলে সুদবিহীন নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণে পুঁজি খাটানোর আগ্রহ কমে যায়।

এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অস্থিরতার জেরে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার নতুন শঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা সার্বিক মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। ফলে ফেডের ভবিষ্যৎ মুদ্রানীতি কোন দিকে গড়াবে, তা নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা মাথাচাড়া দিয়েছে।

বর্তমানে স্বর্ণবাজারের সামগ্রিক গতিপ্রকৃতি নির্ভর করছে চলতি সপ্তাহে প্রকাশিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদক মূল্যসূচক বা পিপিআই এবং ভোক্তা মূল্যসূচক বা সিপিআই সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্যের ওপর। বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত সিদ্ধান্তের জন্য এই দুটি অর্থনৈতিক সূচক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। মূল্যস্ফীতি যদি পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি দেখা যায়, তবে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা জোরালো হবে, যা স্বর্ণের দরপতনকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে। বিপরীতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকার ইঙ্গিত মিললে নীতিমালার ক্ষেত্রে নমনীয় হওয়ার প্রত্যাশা বাড়বে এবং স্বর্ণের দাম আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে।

এদিকে বৈশ্বিক বাজারের এই প্রভাবের মাঝে দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন নির্ধারিত হার অনুযায়ী, সবচেয়ে উন্নত মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের গহনার বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১০০ টাকা কমিয়ে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৫৯০ টাকায়। এছাড়া বাজারে বর্তমানে ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৯২ হাজার ৮৬৪ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৫২২ টাকায়।

/আশিক


মার্কিন অর্থনৈতিক তথ্যের প্রভাবে চাপে মূল্যবান ধাতুর বাজার

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৭ ১৮:২৯:১১
মার্কিন অর্থনৈতিক তথ্যের প্রভাবে চাপে মূল্যবান ধাতুর বাজার
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী কর্মসংস্থান প্রতিবেদনের জেরে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) চলতি মাসেই সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা কমেছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) স্পট গোল্ডের দাম ০.২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪২১ দশমিক ০৪ ডলারে নেমে আসে। একই সঙ্গে ডিসেম্বর সরবরাহের মার্কিন গোল্ড ফিউচারের দরও ০.২ শতাংশ হ্রাস পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪৬৬ দশমিক ৯০ ডলারে। ফেডের আসন্ন মুদ্রানীতির দিকনির্দেশনা বুঝতে বিশ্ববাজারের বিনিয়োগকারীরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের চলতি সপ্তাহের উৎপাদক মূল্যসূচক (পিপিআই) এবং ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) তথ্যের দিকে নজর রাখছেন।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, শক্তিশালী চাকরির বাজার প্রকাশিত হওয়ার পর মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর ফেডের নীতি নির্ধারণী বৈঠকে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাকে ৫৮ শতাংশে উন্নীত করেছে। সাধারণত সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশা তৈরি হলে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ কমে যায়।

একই দিনে স্পট রুপার দাম কমে প্রতি আউন্স ৬৬ দশমিক ০৬ ডলারে নামলেও প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দাম সামান্য বেড়েছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবে দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে; যেখানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ টাকা, ২১ ক্যারেট ২ লাখ ২৪ হাজার ৫৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৯২ হাজার ৮৬৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৫২২ টাকা।

/আশিক


তিন দফা পতনের পর স্বর্ণের দামে বড় লাফ

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৪ ১০:০২:০২
তিন দফা পতনের পর স্বর্ণের দামে বড় লাফ
ছবি : সংগৃহীত

দেশের স্বর্ণবাজারে টানা তিন দফা দরপতনের পর আবারও বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা বিশুদ্ধ স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা বাড়িয়েছে। এতে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬২ টাকা। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে এবং নতুন কোনো সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আজ শুক্রবারও দেশের জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে এই দর বহাল থাকবে।

বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় সংগঠনটির মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণসংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নতুন দর চূড়ান্ত করা হয়। এক ঘণ্টা পর, অর্থাৎ সকাল ১০টা থেকেই তা কার্যকর হয়।

নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, প্রতি ভরি বা ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬২ টাকা। একই পরিমাণ ২১ ক্যারেট স্বর্ণ কিনতে লাগবে ২ লাখ ২৬ হাজার ৬৯০ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৬১৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম রাখা হয়েছে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৯৮০ টাকা।

এর ঠিক আগের দিন বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) স্বর্ণের দাম কমিয়েছিল বাজুস। তখন ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরিতে ৪ হাজার ২৩ টাকা কমিয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৩১ হাজার ৮৮০ টাকা। ফলে মাত্র এক দিনের ব্যবধানে সেই পতনের চেয়েও বড় অঙ্কে দাম বেড়ে গেছে। বুধবারের তুলনায় বৃহস্পতিবার ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরিতে বৃদ্ধি পেয়েছে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা বা প্রায় ২ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

সাম্প্রতিক দর পরিবর্তনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে, এই বৃদ্ধির আগে দেশের বাজারে টানা তিন দফা স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছিল। ফলে স্বর্ণের দাম কিছুটা নিম্নমুখী হওয়ার যে প্রবণতা তৈরি হয়েছিল, বৃহস্পতিবারের বড় বৃদ্ধিতে সেটি আপাতত থেমে গেছে। স্থানীয় তেজাবি স্বর্ণের বাজারদরের পরিবর্তনকেই সর্বশেষ মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে বাজুস।

দেশীয় বাজারের এই পরিবর্তনের সময় আন্তর্জাতিক বাজারেও স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী ছিল। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স প্রায় ৪ হাজার ৪৪০ দশমিক ৮৭ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচার্স ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স প্রায় ৪ হাজার ৪৮৭ দশমিক ৭০ ডলারে ওঠে। ফলে স্থানীয় তেজাবি স্বর্ণের মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজারেও মূল্যবান ধাতুটির ওপর ঊর্ধ্বমুখী চাপ দেখা যাচ্ছে।

স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার নতুন মূল্যও নির্ধারণ করা হয়েছে। সর্বশেষ তালিকায় ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ১৩২ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ২৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ২০৮ টাকা রাখা হয়েছে।

এবারের মূল্যতালিকায় ক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ও স্পষ্ট করেছে বাজুস। ঘোষিত স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের মধ্যেই সরকার নির্ধারিত ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে নির্ধারিত দামের ওপর স্বর্ণের জন্য আলাদাভাবে ভ্যাট যোগ করার সুযোগ নেই। তবে অলংকারের নকশা, কারুকাজ ও তৈরির জটিলতার ওপর ভিত্তি করে মজুরি যুক্ত হবে। সে কারণে দোকানে গহনা কেনার সময় একজন ক্রেতার চূড়ান্ত ব্যয় বাজুস ঘোষিত স্বর্ণের মূল্যের চেয়ে বেশি হতে পারে।

এ ছাড়া পুরোনো স্বর্ণ বা রুপার অলংকার বিনিময় কিংবা বিক্রির ক্ষেত্রে আগের নিয়মই বহাল থাকবে। এসব ক্ষেত্রে ভ্যাট, অলংকার তৈরির মজুরি এবং ব্যবহৃত পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে মূল্য হিসাব করার বিধান কার্যকর থাকবে। পরবর্তী মূল্য সমন্বয়ের ঘোষণা না আসা পর্যন্ত দেশের জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সর্বশেষ নির্ধারিত দর অনুসরণ করতে হবে।

-রাফসান


জামানত ছাড়া সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকার আর্থিক প্যাকেজ চালু

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৩ ২১:২৩:৩২
জামানত ছাড়া সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকার আর্থিক প্যাকেজ চালু
ছবি : সংগৃহীত

তৃণমূল পর্যায়ে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে তরুণদের জন্য সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন আর্থিক সহায়তার একটি বিশেষ কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘উদ্যোগ: উপজেলা ভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি’ শীর্ষক এই প্রকল্পের আওতায় নির্বাচিত প্রত্যেক উদ্যোক্তার মোট সহায়তার অর্ধেক দেওয়া হবে ব্যাংক ঋণ হিসেবে এবং বাকি অর্ধেক অংশ প্রদান করা হবে এককালীন অনুদান হিসেবে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান এবং সহকারী মুখপাত্র মো. শাহরিয়ার সিদ্দিকীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হস্তশিল্প, মৎস্য, গবাদিপশু পালন, পর্যটন, সেবা খাত এবং প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্যোগসহ বিভিন্ন খাতের বাস্তবসম্মত ব্যবসায়িক পরিকল্পনা নিয়ে সর্বোচ্চ ২৮ বছর বয়সী তরুণরা এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবেন। অর্থায়নের পাশাপাশি উদ্যোক্তারা প্রয়োজনীয় পেশাগত প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞ মেন্টরদের নিবিড় পরামর্শ, ব্যবসা নিবন্ধন প্রক্রিয়া এবং বাজার সংযোগের মতো নানাবিধ কারিগরি সুবিধা পাবেন। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর এই সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত সার্কুলার জারি করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সার্কুলার প্রকাশের পর থেকে আগ্রহী প্রার্থীরা এক মাস সময় পাবেন নির্ধারিত ফরমে নিজ নিজ উপজেলার যেকোনো ব্যাংক শাখায় আবেদন জমা দেওয়ার জন্য। কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই বাস্তবায়নযোগ্য ব্যবসায়িক ধারণার ভিত্তিতে যে কেউ আবেদন করতে পারবেন।

প্রাথমিক পর্যায়ে মানিকগঞ্জ, ফেনী, নওগাঁ, ঝিনাইদহ, ভোলা, হবিগঞ্জ, রংপুর ও নেত্রকোনাসহ দেশের আটটি জেলায় এই কর্মসূচি চালু করা হবে। এরপর ৬৪টি উপজেলায় কর্মসূচিটি সম্প্রসারিত করে প্রতি উপজেলা থেকে ১০ জন করে মোট ৬৪০ জন সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তা নির্বাচন করা হবে। পরবর্তীতে এটি পর্যায়ক্রমে দেশজুড়ে বিস্তৃত করে প্রতি বছর ৫ হাজার তরুণ উদ্যোক্তাকে স্বাবলম্বী করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কর্মসূচিটি বাস্তবায়নে প্রাথমিকভাবে ৫০০ কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করা হয়েছে, যেখানে অনুদানের অংশটি ব্যাংকগুলোর করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে সরবরাহ করা হবে। ঋণের অংশের ক্ষেত্রে গ্রাহক পর্যায়ে মুনাফা বা সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ৪ থেকে ৭ শতাংশের মধ্যে, যার জন্য কোনো জামানতের প্রয়োজন পড়বে না। তবে শর্ত হিসেবে জানানো হয়েছে, কোনো উদ্যোক্তা যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হন, তবে তাঁর প্রাপ্ত অনুদানের অংশটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সুদমুক্ত ঋণে রূপান্তরিত হবে। সেই সঙ্গে তিনি প্রচলিত ব্যাংকিং বিধি অনুযায়ী ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হবেন এবং ভবিষ্যতে যেকোনো প্রাতিষ্ঠানিক ঋণপ্রাপ্তির যোগ্যতা হারাবেন।

/আশিক


টানা পতনের পর দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় পরিবর্তন

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৩ ১৯:৩৯:০৭
টানা পতনের পর দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় পরিবর্তন
ছবি : সংগৃহীত

টানা তিন দফা কমার পর দেশের বাজারে আবারও বড় ব্যবধানে বেড়েছে স্বর্ণের দাম। মাত্র এক দিনের ব্যবধানেই ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬২ টাকা। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন এই মূল্য ঘোষণা করা হয় এবং সকাল ১০টা থেকেই তা বাজারে কার্যকর হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে খাঁটি বা তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম বৃদ্ধির কারণেই সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার ৬৮৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৯৪ হাজার ৬১৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৯৮০ টাকা।

ঘোষিত এই বিক্রয়মূল্যের মধ্যেই সরকারি ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদা কোনো ভ্যাট নেওয়া যাবে না। তবে অলংকারের নকশা ও কারিগরি কাজের ধরনভেদে গহনার মজুরি অতিরিক্ত যুক্ত হবে। এর আগে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ভরিতে ৪ হাজার ২৩ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ৩১ হাজার ৮৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানেই সেই দর সংশোধন করে নতুন দফায় ৫ হাজার ৪৮২ টাকা বাড়ানো হলো। এছাড়া গহনা কেনাবেচা ও রূপান্তরের ক্ষেত্রে ভ্যাট, মজুরি ও পাথরের ওজন বাদ দেওয়ার প্রচলিত নিয়ম অপরিবর্তিত থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

/আশিক


মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সামরিক সংঘাতের ধাক্কা লাগল বিশ্ববাজারে

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০২ ২০:০১:৫৮
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সামরিক সংঘাতের ধাক্কা লাগল বিশ্ববাজারে
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে হামলা ও পাল্টা হামলা শুরু হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানির বাজারে তীব্র অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। দুই দেশের মধ্যকার এই সামরিক সংঘাতের সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক দরে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) লেনদেনের একপর্যায়ে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি সর্বোচ্চ ৯৭ দশমিক ০৪ ডলারে উঠে যায়। তবে পরবর্তী সময়ে দাম কিছুটা কমে ৯৪ দশমিক ৭৬ ডলারে থিতু হয়, যা আগের দিনের তুলনায় ব্যারেলপ্রতি ১১ সেন্ট বেশি। একই সময়ে মার্কিন বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৯০ দশমিক ২৬ ডলারে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত নতুন মাত্রা নেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে বৈশ্বিক বাজারে তেল সরবরাহের চেইন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা তেলের দামকে দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী করে তুলছে। বাজার সংশ্লিষ্টদের অনেকেই আশঙ্কা করছেন, সংঘাত এভাবে চলতে থাকলে খুব দ্রুতই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার স্পর্শ করতে পারে।

এদিকে মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট দাবি করেছেন, সংঘাত সত্ত্বেও গত সোমবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হয়েছে, যা যুদ্ধাবস্থা শুরুর পর থেকে ওই নৌপথ দিয়ে একক দিনে সর্বোচ্চ তেল পরিবহনের রেকর্ড।

তবে পরিস্থিতি নিয়ে বিপরীত চিত্র তুলে ধরেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় সমুদ্রের মাইনে আঘাত লেগে দুটি তেলবাহী ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত ও অচল হয়ে পড়েছে। এই ঘটনার পর গুরুত্বপূর্ণ ওই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক তেলবাহী জাহাজের নিরাপত্তা ও পরিবহন ধারাবাহিকতা বজায় রাখা নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা নিরসন এবং এই নৌপথে জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন করতে কাতার ও ওমানসহ মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো কূটনৈতিক তৎপরতা চালালেও এখনো কোনো দৃশ্যমান সমাধান আসেনি। এই কূটনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা আরও কিছুদিন স্থায়ী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

/আশিক


বিশ্ববাজারের ধাক্কায় মূল্যবান ধাতুর দামে বড় পতন

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০২ ১৯:২৩:০৮
বিশ্ববাজারের ধাক্কায় মূল্যবান ধাতুর দামে বড় পতন
ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক বাজারে শক্তিশালী মার্কিন ডলারের চাপের মুখে স্বর্ণের দাম কমে তিন সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বৈশ্বিক বাজারে এই দরপতন ঘটে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া উত্তেজনার ফলে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হওয়াও স্বর্ণের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ১ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩২৩ দশমিক ৫৯ মার্কিন ডলারে, যা দিনের শুরুতে গত ৭ আগস্টের পর সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে গিয়েছিল। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচার্সের ডিসেম্বর ডেলিভারির দর শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৭০ দশমিক ৪০ ডলারে অবস্থান করছে। যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মসংস্থান সংক্রান্ত তথ্যের দিকে এখন দৃষ্টি রাখছেন বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা। ওই তথ্য আনুষ্ঠানিক প্রকাশের আগেই শক্তিশালী ডলার এবং মূল্যস্ফীতির আশঙ্কায় স্বর্ণের ওপর এই নিম্নমুখী চাপ তৈরি হয়েছে।

বৈশ্বিক বাজারের এই পতনের প্রভাব সরাসরি পড়েছে বাংলাদেশের বাজারেও। মাত্র চার দিনের ব্যবধানে টানা তিন দফায় স্থানীয় বাজারে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম কমেছে মোট ১৫ হাজার ৮৬৩ টাকা। গত ২৯ আগস্ট মূল্যহ্রাসের আগে দেশের বাজারে এই মানের প্রতি ভরি স্বর্ণের দর ছিল ২ লাখ ৪৭ হাজার ৭৪৩ টাকা, যা ধারাবাহিকভাবে কমে বর্তমানে ২ লাখ ৩১ হাজার ৮৮০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের বৈঠকে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দর ভরিতে নতুন করে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বাজুসের নেওয়া এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বুধবার সকাল ১০টা থেকেই সারা দেশে নতুন মূল্যতালিকা কার্যকর হয়েছে। নতুন দর অনুযায়ী দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ এখন বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩১ হাজার ৮৮০ টাকায়।

/আশিক

পাঠকের মতামত: