মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যেই শাহজালালের দরগায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সিলেটের আকাশ ভেঙে নামা বৃষ্টিও দমাতে পারেনি সাধারণ মানুষের আবেগ আর প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিকে। আজ শনিবার সকাল ১০টা ৫ মিনিটে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করতে যান। মাজারে তিনি দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি ও শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করেন।
এই সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। বিমানবন্দর থেকে দরগাগেট এলাকা পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে হাজার হাজার মানুষ প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। তারেক রহমানও হাত নেড়ে সাধারণ মানুষের অভিবাদনের জবাব দেন।
মাজার জিয়ারত শেষে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি নগরের চাঁদনী ঘাটে যান। সেখানে তিনি সিলেট সিটি করপোরেশন কর্তৃক গৃহীত শহরের দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে তিনি একটি সুধী সমাবেশে ভাষণ দেন, যেখানে তিনি সিলেটের উন্নয়নে তাঁর সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী খাল খনন কার্যক্রম এবং ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।
উল্লেখ্য যে, গত ২১ জানুয়ারি এই সিলেট থেকেই নির্বাচনের প্রচারণা শুরু করেছিলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম এই সফরে তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ও কর্মকর্তারা। সব কর্মসূচি শেষে আজ রাতেই তাঁর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।
/আশিক
পাম্পে গাড়ির লাইনের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে: জ্বালানিমন্ত্রী
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু দাবি করেছেন যে, সম্প্রতি দেশে যে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছিল তা মূলত ‘কৃত্রিম’। আজ রাজধানীতে এক সেমিনারে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, পাম্পগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ লাইনের পেছনে তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর গাফিলতি ছিল প্রধান কারণ। জ্বালানি সচিবের দেওয়া নির্দেশনাগুলো অনেক ক্ষেত্রে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা হয়নি বলেই এই ভোগান্তি তৈরি হয়েছিল।
মন্ত্রী আরও দাবি করেন, পাম্পের এই দীর্ঘ লাইনের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও থাকতে পারে। তিনি অকপটে স্বীকার করেন যে, তাঁর দপ্তরের লোকজনও সব ক্ষেত্রে ঠিকমতো কাজ করতে পারেনি; অন্যথায় এই সংকট এতোটা প্রকট হতো না। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক এবং কোথাও কোনো দীর্ঘ লাইন নেই বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
মন্ত্রী জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ৭৫ দিন তিনি মূলত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংকট মোকাবিলাতেই ব্যস্ত ছিলেন। আজই প্রথম তিনি তাঁর মন্ত্রণালয়ের খনিজ সম্পদ বিভাগ নিয়ে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। দেশের বাজেট ও গবেষণা খাত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, গত ২০ বছর ধরে দেশে মেগা বাজেট হলেও গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে না।
তিনি স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “যে দেশ গবেষণায় পিছিয়ে থাকে, তারা সারাজীবনই অন্যের ওপর নির্ভরশীল থাকতে বাধ্য হয়।” দেশকে স্বনির্ভর করতে হলে ভূতাত্ত্বিক জরিপ ও গবেষণায় আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
/আশিক
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম সিলেট সফরে তারেক রহমান: বিমানবন্দরে রাজকীয় সংবর্ধনা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে নিয়ে আজ সকালে সিলেটে পৌঁছালে বিমানবন্দরে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুত্তাদীর এবং শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি হযরত শাহজালাল (র.)-এর মাজার জিয়ারত করতে যান এবং এরপর খাদিম নগরে হযরত শাহ পরাণ (র.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। আধ্যাত্মিক এই মাজার জিয়ারত শেষে সকাল ১১টায় তিনি শহরের চাঁদনী ঘাটে সিলেট সিটি করপোরেশনের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং একটি সুধী সমাবেশে ভাষণ দেবেন।
দুপুর ১২টায় প্রধানমন্ত্রী সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নে ‘বাইশা নদী পুনঃখনন’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন, যা কৃষি ও পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সার্কিট হাউজে মধ্যাহ্নভোজ ও বিরতি শেষে বিকেল ৩টায় সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে তিনি বহুল প্রতীক্ষিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। তৃণমূল পর্যায় থেকে শিশু-কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণে বিএনপির এই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিটি বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে আজ।
সফরের শেষ ভাগে বিকেল ৫টায় সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এক দলীয় জনসভায় বক্তব্য রাখবেন তিনি। উল্লেখ্য যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা এই সিলেট থেকেই শুরু করেছিলেন তারেক রহমান, আর আজ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সেই পুণ্যভূমিতে তাঁর প্রথম পদচারণা রাজনৈতিকভাবেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রাতে তাঁর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।
/আশিক
বন্ধ কারখানা চালুর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিশাল শ্রমিক সমাবেশে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শ্রমিক, কৃষক ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সরকার বন্ধ হয়ে থাকা কল-কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে এবং ধাপে ধাপে সব শিল্পপ্রতিষ্ঠান সচল করা হবে, যাতে শ্রমিকরা নিয়মিত কাজ ও আয় নিশ্চিত করতে পারেন।
শুক্রবার (১ মে) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে অনুষ্ঠিত শ্রমিক দলের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, শ্রমিকরা ভালো থাকলে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং সামগ্রিকভাবে রাষ্ট্রও এগিয়ে যাবে। তার ভাষায়, দেশের উৎপাদন ব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে শ্রমজীবী মানুষ, তাই তাদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
তারেক রহমান অভিযোগ করেন, অতীতের স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা শ্রমিকদের জীবন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলেছে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা উপেক্ষিত হয়েছে। সেই অবস্থা থেকে দেশকে বের করে আনতেই সরকার শ্রমিকবান্ধব নীতিমালা বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে।
সমাবেশে তিনি আরও ঘোষণা দেন, শ্রমিক পরিবারের নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড সুবিধা চালু করা হবে। এর মাধ্যমে নিম্ন ও মধ্যআয়ের পরিবারগুলোকে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
কৃষকদের প্রসঙ্গ তুলে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, সরকার ইতোমধ্যে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ করেছে। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য বিশেষ কার্ড চালুর কাজও এগিয়ে চলছে। তার মতে, কৃষি ও শ্রম খাতকে শক্তিশালী না করলে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
গ্রামীণ অবকাঠামো ও সেচব্যবস্থা নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের অধিকাংশ মানুষ গ্রামে বসবাস করলেও সময়মতো পর্যাপ্ত পানি না পাওয়ায় কৃষকরা নানা সমস্যার মুখোমুখি হন। এ কারণে সরকার বিভিন্ন এলাকায় খাল খনন ও জলাধার সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছে, যাতে কৃষিজমিতে সেচব্যবস্থা উন্নত হয় এবং উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।
তারেক রহমান বলেন, কৃষক ও শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন করতে পারলে পুরো বাংলাদেশের ভাগ্য পরিবর্তন সম্ভব। তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার উন্নয়নকে কেবল অবকাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করছে।
শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, শিল্পখাত পুনরুদ্ধার এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
-রফিক
সংসদের ১ম অধিবেশনের শেষদিনে প্রধানমন্ত্রীর নীতিনির্ধারণী সমাপনী বক্তব্য, হুবহু পড়ুন
জাতীয় সংসদের নেতা ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের শেষ দিনে একটি দীর্ঘ, আবেগঘন ও নীতিনির্ধারণী সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন। বক্তব্যে তিনি গণতন্ত্র, শহীদদের আত্মত্যাগ, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জ্বালানি সংকট, নারী উন্নয়ন, সংসদীয় সহযোগিতা, অর্থনীতি, স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। পাঠকদের সুবিধার্থে বক্তব্যটি ভাষাগতভাবে পরিমার্জিত করে সাজিয়ে হুবহু উপস্থাপন করা হলো।
"বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
ধন্যবাদ মাননীয় স্পিকার।
প্রথমেই আমি আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে অশেষ শুকরিয়া আদায় করছি। কারণ, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আজ আমাদেরকে এই তৌফিক দিয়েছেন যে, আমরা একটি ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশে বাংলাদেশের মানুষের সমর্থনের ভিত্তিতে এই জাতীয় সংসদে বসতে পেরেছি।
আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর রহমতে প্রায় এক মাস ২৫ দিন ধরে এই সংসদ পরিচালিত হয়েছে। এই সময়জুড়ে আমরা দেশ ও জনগণের স্বার্থে আলোচনা করেছি এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।
মাননীয় স্পিকার,
বক্তব্যের শুরুতেই আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে চাই ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মত্যাগকারী সকল শহীদকে। আমি স্মরণ করতে চাই ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহীদ হওয়া সকল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের। আমি স্মরণ করতে চাই ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরে নির্মমভাবে নিহত মানুষদের। আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করি, তিনি যেন তাদের শহীদের মর্যাদা দান করেন। আমি স্মরণ করতে চাই ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত এই দেশের মানুষের কথা বলার অধিকার, রাজনৈতিক অধিকার ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মত্যাগকারী সকল মানুষকে। আমি তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। একইসঙ্গে আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে চাই সেই সকল রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের, যারা দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে রাজপথে থেকে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দুর্বার প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন এবং বিভিন্নভাবে নির্যাতিত ও আহত হয়েছেন।
মাননীয় স্পিকার,
আজকের এই সংসদের দিকে সমগ্র বাংলাদেশ তাকিয়ে আছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীর যেখানেই একজন বাংলাদেশি আছেন, তারাও এই সংসদের বর্তমান ও ভবিষ্যতের দিকে গভীর প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে আছেন। এই সংসদের প্রায় প্রতিটি সদস্য তাদের বক্তব্যের শুরুতে বিভিন্ন সময়ের শহীদদের স্মরণ করেছেন। আমরা ভবিষ্যতেও তাদের স্মরণ করব। কিন্তু প্রশ্ন হলো, শুধুই কি শ্রদ্ধা নিবেদন করলেই শহীদদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়? অবশ্যই নয়। যারা জীবন দিয়েছেন, যারা আহত হয়েছেন, যারা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, তাদের প্রত্যেকের একটি স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্ন ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে মানুষ স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারবে, অন্যের স্বাধীনতাকে সম্মান করে নিজের মত প্রকাশ করতে পারবে। তাদের স্বপ্ন ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে মানুষ তার যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে, মর্যাদার সঙ্গে জীবন পরিচালনা করতে পারবে।
মাননীয় স্পিকার,
বিরোধীদলীয় নেতা যথার্থভাবেই কৃষকের কথা বলেছেন। আমরাও দেশের বিভিন্ন নির্বাচনে গ্রামে গিয়েছি, কৃষকের কাছে গিয়েছি, কৃষাণীর কাছে গিয়েছি। আমরা জানি আমাদের কৃষকদের বাস্তব অবস্থা কী। আমি বিরোধীদলীয় নেতাকে আশ্বস্ত করে বলতে চাই, কৃষকদের এই সমস্যা থেকে উত্তরণের লক্ষ্যেই আমরা আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে “কৃষক কার্ড”-এর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ, বাংলাদেশের মানুষের সমর্থনে সরকার গঠন করার পর আমরা দ্রুততার সঙ্গে সেই কাজ শুরু করেছি। আমরা কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তনের কাজ শুরু করেছি। শুধু ধানচাষি নয়, মৎস্যচাষি, গবাদিপশুপালকসহ সব ধরনের কৃষকের কাছে আমরা ধীরে ধীরে পৌঁছাতে চাই।
মাননীয় স্পিকার,
বিরোধীদলীয় নেতা শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। আমিও চাই না, আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বর্তমান অবস্থা এভাবেই থাকুক। রাজনৈতিক কারণে দীর্ঘদিন আমাকে বিদেশে থাকতে হয়েছে। ব্রিটেনে থাকাকালে আমি সেখানকার স্কুলগুলো দেখেছি। ছোট ছোট বাচ্চারা সুন্দর পোশাক পরে, শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশে স্কুলে যাচ্ছে। তখন আমার মনে হতো, আহা, আমার দেশের স্কুলগুলোও যদি এমন হতো! আজ আল্লাহর রহমতে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে আমরা হাঁটছি। এই সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আগামী জুলাই মাস থেকে পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্কুলব্যাগ, স্কুলড্রেস এবং জুতার ব্যবস্থা করা হবে ইনশাআল্লাহ। আমরা চাই, বাংলাদেশের প্রতিটি শিশু মর্যাদার সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাক।
মাননীয় স্পিকার,
আমি নিজেও এই দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়েছি। ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় রাজনৈতিক সহিংসতার মধ্যেও পড়েছিলাম। তাই আমি চাই, আমাদের সন্তানরা একটি নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশে লেখাপড়া করুক।
মাননীয় স্পিকার,
বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সংকট সৃষ্টি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব বাংলাদেশেও এসেছে। দেশের মানুষ কষ্ট পেয়েছে। আমি বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে একমত যে, এ ধরনের সংকট মোকাবিলায় সরকার ও বিরোধী দল একসঙ্গে বসে আলোচনা করলে সমাধান বের করা সম্ভব। সেই কারণেই আমরা যৌথভাবে একটি কমিটি গঠন করেছি। আমি বিশ্বাস করি, আমরা একসঙ্গে বসে এই সমস্যার সমাধান বের করতে সক্ষম হব ইনশাআল্লাহ।
মাননীয় স্পিকার,
বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। তাদের পিছিয়ে রেখে কোনো উন্নয়ন সম্ভব নয়। ১৯৯১-৯৬ এবং ২০০১-২০০৬ সালে বিএনপি সরকার মেয়েদের শিক্ষা দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক করেছিল। এবার আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, মেয়েদের স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করা হবে। যেসব মেয়ে ভালো ফল করবে, তাদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থাও করা হবে ইনশাআল্লাহ। শুধু শিক্ষাই নয়, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করাও জরুরি। সেই লক্ষ্যেই আমরা “ফ্যামিলি কার্ড” কর্মসূচি চালু করেছি। এই কার্ডের মাধ্যমে যে অর্থ দেওয়া হবে, সেটিকে আমরা ব্যয় নয়; বিনিয়োগ হিসেবে দেখি। কারণ, এই অর্থ গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।
মাননীয় স্পিকার,
বিরোধীদলীয় নেতা তার নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন সমস্যার কথা বলেছেন। আমি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে ইতোমধ্যে বিষয়গুলো দেখার নির্দেশনা দিয়েছি। চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতার ঘটনা ঘটার পরও আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছি। কারণ, এই সরকার জনগণের নির্বাচিত সরকার এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সরকার।
মাননীয় স্পিকার,
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বর্ষণে কৃষকের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা স্থানীয় প্রশাসনকে আগেই নির্দেশনা দিয়েছি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করার জন্য। আমাদের প্রথম দায়িত্ব জনগণের পাশে দাঁড়ানো। এই কারণেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর খাল খনন কর্মসূচি আমরা আবারও শুরু করেছি। এই কর্মসূচি শুধু সেচের জন্য নয়, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর রক্ষার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজ যদি আমরা কাজ শুরু করি, এর সুফল পেতে হয়তো ২০ বছর সময় লাগবে। কিন্তু ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে এখনই কাজ শুরু করতে হবে।
মাননীয় স্পিকার,
আমরা শিক্ষা খাতে বাজেটের প্রায় ৫ শতাংশ বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা করেছি। স্বাস্থ্য খাতেও জিডিপির একটি বড় অংশ ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে। আমাদের লক্ষ্য এক। আমাদের উদ্দেশ্য এক। আমাদের গন্তব্য এক। আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশের মানুষ। আমাদের উদ্দেশ্য একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। আমাদের গন্তব্য একটি আত্মনির্ভরশীল ও নিরাপদ বাংলাদেশ।
মাননীয় স্পিকার,
গণতান্ত্রিক সংসদে মতভেদ থাকবে। “এগ্রি টু ডিসএগ্রি” গণতন্ত্রের স্বীকৃত নীতি। যে বিষয়গুলোতে মতভেদ আছে, আমরা বিরোধী দলের সঙ্গে বসব, আলোচনা করব এবং দেশের স্বার্থে সমাধান বের করব। আমি আবারও পরিষ্কার করে বলতে চাই, ডেপুটি স্পিকারের বিষয়ে বিরোধী দলকে দেওয়া আমাদের প্রস্তাব এখনো বহাল আছে। আমরা চাই, এই সংসদ সহযোগিতার ভিত্তিতে পরিচালিত হোক।
মাননীয় স্পিকার,
বাংলাদেশের মানুষ এখন রাজনৈতিক বিতর্কের চেয়ে তাদের সমস্যার সমাধান বেশি চায়। একজন বেকার যুবক চাকরি চায়। একজন মা তার অসুস্থ সন্তানের জন্য ওষুধ চায়। একজন কৃষক তার ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের ক্ষতিপূরণ চায়। শুধু ঐতিহাসিক বিতর্ক দিয়ে তাদের কষ্ট দূর হবে না।
মাননীয় স্পিকার,
এই চেয়ারে বসে আমি প্রতিনিয়ত অনুভব করি, এটি আরামের চেয়ার নয়। এটি দায়িত্বের চেয়ার। এই চেয়ার আমাকে প্রতিনিয়ত মনে করিয়ে দেয়:
“You have to take the right decision, not the popular decision.”
আমাদের পপুলার সিদ্ধান্ত নয়, সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
মাননীয় স্পিকার,
আগামী অধিবেশনে আমরা আলোচনা করতে চাই, কীভাবে দ্রুত বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করা যায়, কীভাবে কর্মসংস্থান বাড়ানো যায়, কীভাবে হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সেবা নিশ্চিত করা যায়। দেশকে এগিয়ে নিতে হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও কার্যকর সংসদ নিশ্চিত করতে হবে। গণতন্ত্র বারবার বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণেই বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়েছে। সুতরাং আমরা বিতর্ক করব, আলোচনা করব, কিন্তু কোনোভাবেই এই সংসদকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। আপনি ব্যর্থ হলে আমি ব্যর্থ। আমি ব্যর্থ হলে আপনি ব্যর্থ। আর আমরা ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ ব্যর্থ হবে। আমরা কেউই ব্যর্থ বাংলাদেশ দেখতে চাই না। কারণ, এই সংসদ দাঁড়িয়ে আছে হাজারো শহীদের রক্তের ওপর।
মাননীয় স্পিকার,
আমি আবারও পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, বাংলাদেশের স্বার্থে বিরোধী দলের সঙ্গে যেকোনো আলোচনা ও সহযোগিতার জন্য সরকার সবসময় প্রস্তুত। আমরা একসঙ্গে এই দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাব ইনশাআল্লাহ।
পরিশেষে আমি আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি আপনাকে, মাননীয় ডেপুটি স্পিকারকে, মন্ত্রিসভার সদস্যদের, বিরোধীদলীয় নেতা ও সদস্যদের, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের, চিকিৎসক, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, গণপূর্ত, বিদ্যুৎ বিভাগ, গণমাধ্যমকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে।
আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। ফ্যাসিবাদের পতনের পর তারা দেশকে স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
সবশেষে আমি সকল সংসদ সদস্যের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি:
আসুন, আমরা এই সবুজ চেয়ারের পবিত্রতা রক্ষা করি।দেশ ও জনগণের প্রত্যাশার সর্বোচ্চ সম্মান করি।কারণ, দেশ ও জনগণ থাকলেই আমরা আছি।
সবচেয়ে আগে বাংলাদেশ।সবচেয়ে আগে দেশের জনগণ।সবচেয়ে আগে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি।
ধন্যবাদ মাননীয় স্পিকার।
আসসালামু আলাইকুম।"
৫ আগস্টের শহীদদের স্বপ্ন পূরণই এখন আমাদের মূল লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের শিক্ষা, নারী উন্নয়ন এবং জাতীয় সংকট নিরসনে একগুচ্ছ ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল ২০২৬) সংসদে দেওয়া এই বক্তব্যে তিনি যেমন তাঁর দীর্ঘ প্রবাস জীবনের আবেগঘন স্মৃতি তুলে ধরেছেন, তেমনি জুলাই মাস থেকে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি উপহারের ঘোষণা দিয়ে আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বাধ্য হয়ে তাঁকে দীর্ঘ সময় প্রবাস জীবন কাটাতে হয়েছে।
ব্রিটেনে থাকাকালীন ওখানকার স্কুলগুলোর উন্নত পরিবেশ দেখে তিনি সবসময় ভাবতেন, কবে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা এমন সুন্দর পরিবেশে পড়াশোনা করবে। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে তিনি ঘোষণা করেন যে, আগামী জুলাই মাস থেকে সরকার দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে স্কুল ব্যাগ, ড্রেস এবং জুতা প্রদান করবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "আমি শিক্ষাঙ্গনের বর্তমান অবস্থা চাই না, আমূল পরিবর্তন চাই।"
দেশের নারী শিক্ষার প্রসারে প্রধানমন্ত্রী এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। তিনি জানান, বিএনপি এর আগে মেয়েদের শিক্ষা দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক করেছিল, আর এবার তাঁর সরকার স্নাতক (ডিগ্রি) পর্যায় পর্যন্ত নারী শিক্ষাকে সম্পূর্ণ ফ্রি বা অবৈতনিক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই সঙ্গে ভালো ফলের ভিত্তিতে উপবৃত্তির ব্যবস্থাও থাকবে যাতে মেধাবী ছাত্রীরা উৎসাহ পায়।
বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ, ৯০-এর গণ-অভ্যুত্থান, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনা এবং ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আত্মত্যাগকারীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, শহীদদের আকাঙ্ক্ষা ছিল মানুষ মুক্তভাবে কথা বলবে এবং যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থান পাবে; তাঁদের সেই স্বপ্ন পূরণ করাই এখন সরকারের মূল লক্ষ্য।
চলমান জ্বালানি সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক উদারতার পরিচয় দিয়ে বিরোধী দলের দেওয়া প্রস্তাব গ্রহণ করার কথা জানান এবং এ লক্ষ্যে একটি যৌথ কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন। দেশের সাম্প্রতিক বন্যা ও জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রমের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি। সংসদকে জনগণের অধিকার রক্ষার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এই সরকার জনগণের নির্বাচিত এবং জবাবদিহিমূলক সরকার। জনগণের দেখাশোনা করাই এই সরকারের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব।
/আশিক
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন না থাকলে দেশ অরাজকতায় পড়ত: মির্জা ফখরুল
জাতীয় সংসদ অধিবেশনে আজ এক তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দাবি করেছেন যে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন যদি দায়িত্বে না থাকতেন, তবে দেশ এক চরম অরাজকতার মুখে পড়ত। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল ২০২৬) সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি সংবিধানকে জাতীয় অস্তিত্বের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “সংবিধান আমাদের আবেগের সঙ্গে জড়িত, তাই সংবিধান নিয়ে আমাদের কথা বলতেই হবে।”
একই অধিবেশনে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ যখন রাষ্ট্রপতির অপসারণ চাচ্ছেন, তখন মির্জা ফখরুলের এই বক্তব্য সরকারের ভেতরে কৌশলগত অবস্থানের ভিন্নতা স্পষ্ট করে তুলেছে। এছাড়া তিনি তারেক রহমান ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের মধ্যকার লন্ডন বৈঠকের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ওই ঐতিহাসিক বৈঠকের কারণেই আজ দেশের রাজনীতি এই পর্যায়ে পৌঁছাতে পেরেছে।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ‘দেশের প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে অভিহিত করে তাঁর দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর খালেদা জিয়া যেভাবে সার্বভৌমত্বের পতাকা তুলে নিয়েছেন এবং গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন, তা পুরো এশিয়ায় বিরল।
তাঁর মতে, খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্বই বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে বারবার সংকট থেকে রক্ষা করেছে। একই সঙ্গে তিনি বর্তমান প্রজন্মের নেতা তারেক রহমানের কর্মতৎপরতার প্রশংসা করে বলেন, তারেক রহমান দেশ গড়ার একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে দিনে ১৮ ঘণ্টা কাজ করছেন, যা তাঁর রক্তে মিশে আছে। সারা দেশের মানুষ এখন তারেক রহমানের সেই ‘মাস্টারপ্ল্যান’ বাস্তবায়নের দিকে তাকিয়ে আছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
/আশিক
অতীতেও লুটপাটের সুযোগ দেয়নি বিএনপি, এবারও দেবে না: অর্থমন্ত্রী
দেশের পুঁজিবাজারকে লুটপাটমুক্ত রাখা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল ২০২৬) সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, অতীতেও বিএনপির আমলে শেয়ারবাজার লুটপাটের সুযোগ ছিল না এবং বর্তমান সরকারের মেয়াদেও কেউ এমন কোনো সুযোগ পাবে না। সংসদ অধিবেশনে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬ পাসের প্রক্রিয়ার সময় তিনি এই দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন।
অধিবেশনে বিলটির ওপর জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বিগত ১৫ বছরের পুঁজিবাজারের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের শ্বেতপত্রের তথ্য উল্লেখ করে দাবি করেন যে, গত দেড় দশকে একটি বিশেষ ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে।
রুমিন ফারহানা এই লুটপাটে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি-তে দক্ষ ও যোগ্য মানুষ নিয়োগের মাধ্যমে বাজারের ওপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানান। অর্থমন্ত্রী রুমিন ফারহানার দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করলেও বিলটি বিশেষ কমিটিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা হওয়ায় নতুন করে জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব নাকচ করে দেন।
এদিকে, সংসদ অধিবেশনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নিয়োগ ও আর্থিক খাতের সংস্কার নিয়ে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে কড়া সমালোচনা করা হয়। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান যোগ্য লোকদের সঠিক স্থানে বসানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, দেশের দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। জবাবে অর্থমন্ত্রী দাবি করেন, বর্তমান গভর্নরের পারফরম্যান্স আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো এবং ফিন্যান্সিয়াল সেক্টরে কোনো ‘রাজনৈতিক নিয়োগ’ না দেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে।
বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের গভর্নরের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার প্রশ্ন তুললে অর্থমন্ত্রী তা নাকচ করে দিয়ে বলেন, ‘দলকে সমর্থন করা মানেই দলের লোক হওয়া নয়’। দীর্ঘ আলোচনা ও বাদানুবাদ শেষে বিরোধী দলের আপত্তি সত্ত্বেও সংসদে ‘বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ সংশোধন বিল-২০২৬’ এবং বিএসইসি সংক্রান্ত বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।
/আশিক
ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলের পুরনো আইন সংস্কারের ঘোষণা দিলেন আইনমন্ত্রী
ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলের পুরনো এবং অপ্রাসঙ্গিক আইনগুলো বাতিল বা সংশোধন করে নতুনভাবে প্রণয়নের ঘোষণা দিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল ২০২৬) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এক লিখিত প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, আধুনিক বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক আইনগুলো চিহ্নিত করতে ল’ কমিশন কাজ শুরু করেছে। এছাড়া রাজনৈতিক কারণে দায়ের হওয়া প্রায় ২৪ হাজার হয়রানিমূলক মামলা ইতিমধ্যে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলেও সংসদকে অবহিত করেন মন্ত্রী।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ১৯৭৩ সালে ‘দ্য বাংলাদেশ ল’স (রিভিশন অ্যান্ড ডিক্লারেশন) অ্যাক্ট’ এর মাধ্যমে ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলের অনেক আইন সুসংহত ও বাতিল করা হয়েছিল। তবে বর্তমানেও কিছু আইন রয়েছে যা অকার্যকর বা অপ্রাসঙ্গিক। ল’ কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের আলোকে সরকার পর্যায়ক্রমে এসব আইন সংশোধন বা নতুন আইন প্রণয়ন করবে।
তিনি আরও জানান, ২০০৭ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা হয়েছে। ইতিমধ্যে ২৩,৮৬৫টি হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং বাকিগুলো প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।
এদিন সংসদে মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী ২০০৭ থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত দলটির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে এজাহারে রাজনৈতিক পরিচয় না থাকায় সরকারের কাছে এর সঠিক পরিসংখ্যান নেই।
ফ্যাসিবাদের আমলে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার কোনো সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যানও সরকারের কাছে সংরক্ষিত নেই বলে তিনি জানান। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে সরকারের এই আইনি সংস্কার পরিকল্পনা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়।
/আশিক
হজ পালনের উদ্দেশ্যে ৯৮টি ফ্লাইটে সৌদি পৌঁছেছেন ৩৯ হাজারের বেশি হাজি
বাংলাদেশ থেকে পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের সৌদি আরব যাত্রা পুরোদমে অব্যাহত রয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল ২০২৬) ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ পোর্টালের বুলেটিন অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৯৮টি ফ্লাইটে ৩৯ হাজার ৩৫৪ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। তবে এই পবিত্র যাত্রার মাঝেই বিষাদের ছায়া নেমে এসেছে; হজ পালন করতে গিয়ে এ পর্যন্ত ৭ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।
মৃতদের মধ্যে পাঁচজন মক্কায় এবং দুইজন মদিনায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার মদিনায় রংপুরের মো. শামসুল আলম (৬৩) নামে এক সরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।
আইটি হেল্পডেস্কের তথ্যমতে, সৌদি পৌঁছানো হজযাত্রীদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় রয়েছেন ৪ হাজার ৩১ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় গিয়েছেন ৩৫ হাজার ৩২৩ জন। ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ৪৪টি, সৌদি এয়ারলাইন্স ৩৬টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ১৮টি ফ্লাইট সফলভাবে পরিচালনা করেছে।
এ বছর এ পর্যন্ত মারা যাওয়া সাতজনই পুরুষ এবং তাদের অধিকাংশের বয়স ৫৮ থেকে ৭৫ বছরের মধ্যে। এর আগে টাঙ্গাইল, জয়পুরহাট, ময়মনসিংহ, দিনাজপুর ও শেরপুরের হজযাত্রীরাও সৌদি আরবে ইন্তেকাল করেছেন।
উল্লেখ্য যে, গত ১৮ এপ্রিল হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকভাবে এবারের হজ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছিলেন তারেক রহমান। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হওয়ার আগেই বাংলাদেশ থেকে বাকি হজযাত্রীদের পাঠানোর কাজ দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করছে ধর্ম মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলো। সৌদি আরবে অবস্থানরত হজযাত্রীদের সার্বক্ষণিক সহায়তায় কাজ করছে মক্কা ও মদিনার হজ মিশন।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যেই শাহজালালের দরগায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- গরমে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় খাবার ও পানীয়
- ৫ মিনিটে ইন্টারনেটের স্পিড দ্বিগুণ করার উপায়: রাউটার রাখুন সঠিক জায়গায়
- ফ্লোরিডায় মেধাবীদের খুনি কে? পুলিশের বিশেষ অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর মোড়
- পাম্পে গাড়ির লাইনের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে: জ্বালানিমন্ত্রী
- ৮ হাজার মিটারের ৫টি পর্বত জয়: বাবর আলীর হাত ধরে বিশ্ব রেকর্ড গড়ল বাংলাদেশ
- আজকের টাকার রেট: জেনে নিন প্রবাসী ভাইদের জন্য বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হার
- মধ্যপ্রাচ্যে ১৬টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এখন ধ্বংসস্তূপ
- ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিনিদের রায়: ৬১ শতাংশ নাগরিকই বলছেন এই যুদ্ধ একটি ‘ভুল’
- দেশের ৪ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা: ১ নম্বর সতর্কসংকেত জারি
- প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম সিলেট সফরে তারেক রহমান: বিমানবন্দরে রাজকীয় সংবর্ধনা
- ক্রিকেটে ঠাসা সূচি; বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজ ও আইপিএলের উত্তাপ আজ
- বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে নাটকীয় মোড়: কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও বাড়ল দাম
- ঢাকায় আজ যেসব কর্মসূচি রয়েছে: জেনে নিন দিনভর ব্যস্ততার তালিকা
- শনিবার রাজধানীর যেসব এলাকার মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ থাকবে
- ইরানের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন ট্রাম্প: মধ্যপ্রাচ্যে অনিশ্চিত যুদ্ধবিরতি
- আজকের নামাজের সময়সূচি: জানুন ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার সঠিক সময়
- আজ টানা ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ থাকবে যে এলাকায়
- বন্ধ কারখানা চালুর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
- সংসদের ১ম অধিবেশনের শেষদিনে প্রধানমন্ত্রীর নীতিনির্ধারণী সমাপনী বক্তব্য, হুবহু পড়ুন
- সংসদের ১ম অধিবেশনের শেষদিনে জামায়াত আমিরের আবেগঘন বক্তব্য, হুবহু পড়ুন
- যুদ্ধ শেষ নয়, ইরান হামলার ছক এখনো টেবিলে
- সংসদে নাহিদ ইসলামের জ্বালাময়ী বক্তব্য, হুবহু পড়ুন
- ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের দামামা: হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা ও বিশ্ব অর্থনীতির চরম অস্থিরতা
- যুদ্ধবিরতিতে গোপনে অস্ত্র উদ্ধার করছে ইরান?
- রাতজুড়ে ক্রিকেট উত্তেজনা, কোন ম্যাচ কখন দেখবেন জানুন সূচী
- শুক্রবারের নামাজের পূর্ণ সময়সূচি প্রকাশ
- সোনা কিনতে এখন কত টাকা লাগবে জানুন
- আজ যেসব এলাকায় ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না
- দেবদ্বারে সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদের কমিটি গঠন: সভাপতি বাবুল, সম্পাদক মাসুদ
- ৫ আগস্টের শহীদদের স্বপ্ন পূরণই এখন আমাদের মূল লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী
- দর্শকদের কষ্ট কমাতে তামিমের বড় উদ্যোগ: বদলে যাচ্ছে মিরপুর স্টেডিয়াম
- ইরানের জন্য কি বড় স্বস্তি? মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ার ঘোষণা দিলো ইউএসএস ফোর্ড
- শুক্রবার টানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ থাকবে যেসব এলাকায়
- মে থেকে জ্বালানি তেলের দাম কত হবে? জানিয়ে দিল সরকার
- রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন না থাকলে দেশ অরাজকতায় পড়ত: মির্জা ফখরুল
- মানচিত্রে ‘ট্রাম্প প্রণালি’! হরমুজের নাম বদলে ট্রাম্পের নতুন চাল ও যুদ্ধের দামামা
- আমাকে বাংলাদেশে ফিরতেই হবে: সাকিব
- কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পাল্টে গেল সিদ্ধান্ত: আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম
- ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক শক্তি আমাদের জাতীয় মূলধন, কোনো আপস নয়: মোজতবা খামেনি
- আপনার প্রাইজবন্ডের নম্বরটি মিলেছে কি? জেনে নিন ১২৩তম ড্র-এর ফলাফল
- অতীতেও লুটপাটের সুযোগ দেয়নি বিএনপি, এবারও দেবে না: অর্থমন্ত্রী
- ইরানকে দমাতে গিয়ে বিশ্ব অর্থনীতি ধ্বংস করছেন ট্রাম্প: ইরানি স্পিকার
- রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু ইসলামী ব্যাংক লুণ্ঠনের কারিগর: নাহিদ ইসলাম
- ৩০ এপ্রিল: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ৩০ এপ্রিল: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ৩০ এপ্রিল: শেয়ারবাজার লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ওজন অনুযায়ী প্রোটিন মেপে ডায়েট: সুস্থ থাকার সঠিক গাইডলাইন
- ইরানের শান্তি প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন ট্রাম্প: আত্মসমর্পণ না করলে উঠবে না অবরোধ
- চ্যাটজিপিটি কি অপরাধ শেখায়? সাম্প্রতিক বিতর্ক ও আসল সত্য জেনে নিন
- সোনার বাজারে খুশির আমেজ; বাজুসের নতুন মূল্যে বড় ছাড়
- মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বনাম ডিজিটাল অসভ্যতা: গণতান্ত্রিক সংহতি রক্ষায় নতুন চ্যালেঞ্জ
- আবারও সস্তা হলো সোনা: আজ থেকেই নতুন মূল্য কার্যকর
- রেকর্ড দামের পর এবার কি কমছে স্বর্ণ? একনজরে আজকের বাজার দর
- বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ড ১ম টি-টোয়েন্টি: সময়সূচি ও সরাসরি দেখার উপায় একনজরে
- আজ থেকেই আদানির বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমতে পারে লোডশেডিং
- বন্ধ কারখানা চালুর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
- সংসদের ১ম অধিবেশনের শেষদিনে প্রধানমন্ত্রীর নীতিনির্ধারণী সমাপনী বক্তব্য, হুবহু পড়ুন
- ২৬ এপ্রিল: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ঢাকার যে ১১ পাম্পে বাধ্যতামূলক হচ্ছে ফুয়েল পাস
- ২৬ এপ্রিল: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ২৬ এপ্রিল: শেয়ারবাজার লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- টানা ২ বার কমার রেকর্ড! স্বর্ণের বাজারে কী ঘটছে? জানাল বাজুস
- যুদ্ধবিরতিতে গোপনে অস্ত্র উদ্ধার করছে ইরান?
- গরমে নীরব ঘাতক হিট স্ট্রোক, জানুন সতর্কতা








