তীব্র দাবদাহে সুস্থ থাকার মহৌষধ: কী খাবেন আর কী এড়িয়ে চলবেন?

তীব্র তাপদাহে সারা দেশের জনজীবন এখন বিপর্যস্ত। এই অসহনীয় গরমে সুস্থ থাকাটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং দ্য টাইমস ম্যাগাজিনের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তীব্র গরমে সুস্থ ও নিরাপদ থাকার কিছু কার্যকর উপায় নিচে দেওয়া হলো।
তীব্র রোদে ঘর ঠান্ডা রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। দিনের বেলা রোদের তাপ বেশি থাকলে জানালা বন্ধ রেখে ভারি পর্দা ব্যবহার করুন। তবে সন্ধ্যার পর বাইরের বাতাস যখন কিছুটা ঠান্ডা হয়, তখন সব জানালা খুলে দিয়ে ঘরে বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা করুন। ঘরে অপ্রয়োজনীয় লাইট বা ইলেকট্রনিক যন্ত্র বন্ধ রাখলে তাপমাত্রা কিছুটা কম থাকে।
অনেকেই মনে করেন ফ্যান সব সময় আরাম দেয়, কিন্তু তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে উঠে গেলে ফ্যান সরাসরি ব্যবহার করলে হিতে বিপরীত হতে পারে। এসি ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রিতে সেট করে সাথে একটি ফ্যান চালালে ঘর দ্রুত ঠান্ডা হয় এবং বিদ্যুৎ বিলও কম আসে।
গরমে আরাম পেতে হালকা রঙের ঢিলেঢালা সুতির কাপড় পরার বিকল্প নেই। নিয়মিত ঠান্ডা পানিতে গোসল করুন এবং বাইরে থেকে ফিরে ঘাম শুকিয়ে শরীর ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে নিন। মাঝেমধ্যে চোখে-মুখে পানির ঝাপটা বা স্প্রে ব্যবহার করলে প্রশান্তি পাওয়া যায়।
তৃষ্ণা না পেলেও দিনে অন্তত ২-৩ লিটার পানি পান নিশ্চিত করতে হবে। আপনার প্রস্রাবের রং যদি গাঢ় হয়, তবে বুঝতে হবে শরীর পানিশূন্যতায় ভুগছে। ডাবের পানি বা বাড়িতে তৈরি লেবুর শরবত এ সময় শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
এই গরমে ভাজাপোড়া, অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার এবং প্রক্রিয়াজাত প্যাকেটজাত খাবার (যেমন চিপস) পুরোপুরি এড়িয়ে চলা উচিত। ক্যাফেইন সমৃদ্ধ পানীয় যেমন চা-কফি বা অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় শরীরকে দ্রুত পানিশূন্য করে ফেলে। এছাড়া উচ্চ ফ্যাটযুক্ত দুধ বা চিজ হজমে সমস্যা তৈরি করে শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে।
অতিরিক্ত গরমে যদি মাথা ঘোরা, বমিভাব, প্রচণ্ড ক্লান্তি বা বিভ্রান্তি দেখা দেয়, তবে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। বিশেষ করে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা কিডনি রোগীদের এই সময়ে বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে।
/আশিক
অল্প পরিশ্রমে শ্বাসকষ্ট ও ক্লান্তির পেছনে যেসব অজানা কারণ
কম বয়সেও অনেকের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, দীর্ঘদিনের কাশি কিংবা সামান্য কায়িক পরিশ্রমে ক্লান্ত হয়ে পড়ার মতো জটিলতা দেখা যায়। এসব সমস্যার পেছনে কেবল কোনো সুনির্দিষ্ট রোগ বা সংক্রমণই একমাত্র কারণ নয়, বরং প্রতিদিনের কিছু অসচেতন জীবনযাপনও দীর্ঘমেয়াদে ফুসফুসের কর্মক্ষমতা নষ্ট করে দিতে পারে। বিশেষ করে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ধূমপান, পরিবেশের দূষণ, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এবং নিয়মবহির্ভূত অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার শ্বাসযন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, তামাকের ধোঁয়া এবং বায়ুদূষণ শ্বাসতন্ত্রের দীর্ঘস্থায়ী রোগের অন্যতম প্রধান নিয়ামক।
ফুসফুস তার কার্যক্ষমতা হারাতে শুরু করলে স্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট, দীর্ঘমেয়াদি কাশি, শ্বাস নেওয়ার সময়ে সাঁই-সাঁই শব্দ হওয়া কিংবা অল্পতেই অতিরিক্ত ক্লান্তির মতো স্পষ্ট উপসর্গ প্রকাশ পায়। শ্বাসযন্ত্রের প্রকৃত অবস্থা নিরূপণে চিকিৎসকেরা স্পাইরোমেট্রি নামক একটি বিশেষ পরীক্ষা করিয়ে থাকেন। এই পরীক্ষার মাধ্যমে ফুসফুস ঠিক কতটা বাতাস ধারণ করতে সক্ষম এবং কত দ্রুত তা নির্গমন করতে পারে, তা সুনির্দিষ্টভাবে পরিমাপ করা হয়। মূলত দৈনন্দিন জীবনের সাতটি বিশেষ অভ্যাসের কারণেই ফুসফুসের এই ক্ষতি তরান্বিত হয়।
শ্বাসনালির জন্য সবচেয়ে মারাত্মক প্রভাব ফেলে তামাক সেবনের অভ্যাস। সিগারেট ও তামাকজাত বিভিন্ন পণ্যের বিষাক্ত রাসায়নিক শ্বাসনালি ও ফুসফুসের ভেতরে গভীর প্রদাহ সৃষ্টি করে, যা দীর্ঘমেয়াদে ফুসফুসের সূক্ষ্ম টিস্যুগুলোকে নষ্ট করে দেয়। ফলে ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ বা সিওপিডির মতো দুরারোগ্য ব্যাধির আশঙ্কা তীব্র আকার ধারণ করে। তাই শ্বাসযন্ত্র সুরক্ষিত রাখার মৌলিক শর্তই হলো ধূমপান সম্পূর্ণ বর্জন করা বা এটি থেকে দূরে থাকা।
একইভাবে অন্যের ছেড়ে দেওয়া সিগারেটের ধোঁয়া অনিচ্ছাকৃতভাবে শ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করলেও প্রায় সমপরিমাণ ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়। এই পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শে নিয়মিত থাকলে শ্বাসনালির জটিল রোগ বাসা বাঁধতে পারে। ফলে পরিবার, কর্মস্থল কিংবা জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় ধূমপায়ীদের আশপাশ থেকে সতর্কতার সাথে নিজেকে নিরাপদ দূরত্বে রাখা জরুরি।
সড়কে বা কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষা ছাড়া চলাচল করাও ফুসফুসের সুরক্ষায় বড় অন্তরায়। যানবাহনের বিষাক্ত ধোঁয়া, ক্ষতিকর ভাসমান ধূলিকণা এবং কলকারখানার রাসায়নিক উপাদান শ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসের গভীরে পৌঁছায়। দীর্ঘ সময় এমন দূষিত আবহে সুরক্ষা ছাড়া থাকলে বিদ্যমান শ্বাসকষ্ট আরও তীব্র হয় এবং নতুন রোগের পথ তৈরি হয়। তাই অপ্রয়োজনে দূষিত স্থানে না থাকা এবং ধোঁয়া ও রাসায়নিকের মধ্যে কাজ করার ক্ষেত্রে সঠিক সুরক্ষামূলক আবরণ ব্যবহার করা আবশ্যক।
বাইরের দূষণের পাশাপাশি আবদ্ধ পরিবেশের অপরিচ্ছন্ন বাতাসও শ্বাসযন্ত্রের মারাত্মক অবনতি ঘটাতে পারে। পর্যাপ্ত আলো-বাতাস প্রবেশ না করা ঘরে রান্নার ধোঁয়া, মশার কয়েল কিংবা জ্বালানি থেকে নির্গত গ্যাস আটকে থাকলে ফুসফুস ক্রমাগত বিষাক্ত উপাদানের সংস্পর্শে আসে। তাই ঘরের ভেতরে যাতে সহজে বাতাস চলাচল করতে পারে এবং রান্নার ক্ষতিকর ধোঁয়া সহজেই বাইরে বেরিয়ে যেতে পারে, সে ব্যবস্থা থাকা অত্যন্ত দরকারি।
দৈনন্দিন জীবনে দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে থাকা এবং কায়িক শ্রম থেকে দূরে থাকাও ফুসফুসের সহনশীলতা ধীরে ধীরে কমিয়ে দেয়। শারীরিক সক্রিয়তা মানুষের সামগ্রিক কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শ্বাসযন্ত্রের স্থিতিস্থাপকতা ও কার্যকারিতা অটুট রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এ কারণে একটানা দীর্ঘ সময় বসে থাকার অভ্যাস পরিহার করে কাজের ফাঁকে হাঁটাচলা এবং শারীরিক সক্ষমতা অনুসারে নিয়মিত শরীরচর্চা বজায় রাখা প্রয়োজন।
সাধারণ সর্দি-কাশি দেখা দিলেই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া নিজের সিদ্ধান্তে অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণের প্রবণতা শরীরে নতুন বিপদের জন্ম দেয়। সাধারণ ফ্লু বা সব ধরনের সংক্রমণে অ্যান্টিবায়োটিক কোনো কাজেই আসে না। বরং অপ্রয়োজনীয় ও যথেচ্ছ ব্যবহারের কারণে শরীরে থাকা ক্ষতিকর জীবাণুগুলো অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী হয়ে ওঠে, যার ফলে ভবিষ্যতে প্রাণঘাতী সংক্রমণের সময় কোনো ওষুধ আর কাজ নাও করতে পারে।
অন্যদিকে শরীরে পানির ঘাটতি হলে শ্বাসনালির স্বাভাবিক প্রতিরক্ষামূলক মিউকাস স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যা ফুসফুসের আর্দ্রতার ভারসাম্য নষ্ট করে। তবে কেবল পর্যাপ্ত পানি পান করলেই ফুসফুসের যাবতীয় রোগ ঠেকানো সম্ভব—এমন ধারণা অবৈজ্ঞানিক। ফুসফুস সুস্থ রাখতে পানি পানের পাশাপাশি ধূমপান এড়ানো, দূষণমুক্ত থাকা এবং শারীরিক পরিশ্রম অব্যাহত রাখাই হলো কার্যকর সমাধান।
স্বাভাবিক বয়স বৃদ্ধির কারণে ফুসফুসের ক্ষমতায় কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে। তবে দূষিত বায়ু, পরোক্ষ ধূমপান পরিহার, উন্মুক্ত বাতাসের নিশ্চয়তা এবং নিয়মিত চলাফেরার মাধ্যমেই ফুসফুসের দীর্ঘস্থায়িত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব। দীর্ঘদিনের কাশি, তীব্র শ্বাসকষ্ট, বুকে চাপ ধরা ভাব কিংবা সামান্য নড়াচড়াতেও বুক ধড়ফড় করে ক্লান্ত হয়ে পড়ার মতো জটিলতা দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
/আশিক
কারণ ছাড়া ওজন কমছে বা ক্লান্ত লাগছে? ক্যানসারের ৫ সংকেত জানাল জনস হপকিন্স
মানবদেহে কোনো রোগ সাধারণত হঠাৎ করে বাসা বাঁধে না; বড় ধরনের অসুস্থতার আগে শরীর প্রায়ই বিভিন্ন নীরব সংকেত দিতে থাকে, যা অনেক সময় অবহেলার কারণে নজর এড়িয়ে যায়। জনস হপকিন্স মেডিসিনের বিশেষজ্ঞদের বরাতে জানা গেছে, মারণব্যাধি ক্যানসারের ক্ষেত্রে প্রাথমিক অবস্থায় শরীর এমন কিছু মৃদু লক্ষণ প্রকাশ করতে পারে, যা সময়মতো শনাক্ত হলে চিকিৎসার সাফল্য বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়। তবে এ ধরনের লক্ষণ দেখা দেওয়া মানেই ক্যানসার নয়, বরং অন্য কোনো শারীরিক জটিলতার সংকেতও হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা প্রধান যে পাঁচটি লক্ষণের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন, তার মধ্যে অন্যতম হলো কোনো ধরনের ডায়েট বা শরীরচর্চা ছাড়াই হঠাৎ দ্রুত ওজন কমে যাওয়া; বিশেষ করে কয়েক মাসে সাড়ে চার কেজি বা তার বেশি ওজন হ্রাস পেলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত। এছাড়া পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামের পরও দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র ক্লান্তি ভাব থাকা, কোনো সংক্রমণ ছাড়াই বারবার জ্বর আসা (বিশেষ করে রাতে অতিরিক্ত ঘামসহ জ্বর), এবং কারণ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে শরীরের কোনো অংশে ক্রমাগত ব্যথা বৃদ্ধি পাওয়া ক্যানসারের প্রাথমিক সংকেত হতে পারে। টিউমারের চাপ বা রোগ ছড়িয়ে পড়ার কারণে এ ধরনের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তৈরি হতে পারে।
পঞ্চম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণটি হলো ত্বক বা তিলের অস্বাভাবিক পরিবর্তন। ত্বক বা চোখ হঠাৎ হলুদ হয়ে যাওয়া ছাড়াও শরীরের কোনো তিলের আকার, রঙ ও কিনারায় পরিবর্তন এলে, কিংবা তিলটি দ্রুত বড় ও অসমান হতে থাকলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। চিকিৎসকদের মতে, এসব লক্ষণের পেছনে রক্তস্বল্পতা, মানসিক চাপ বা সাধারণ সংক্রমণের মতো অন্যান্য কারণও থাকতে পারে; তবে লক্ষণগুলো দীর্ঘস্থায়ী হলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হয়ে সঠিক পরীক্ষা করানোই সুরক্ষার সর্বোত্তম উপায়।
/আশিক
কাশির সঙ্গে রক্ত: কারণ ও জরুরি সতর্কতার লক্ষণসমূহ
কাশির সঙ্গে কফ, লালা বা শ্লেষ্মায় রক্ত দেখা দিলে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন, তবে এটি সবসময় জটিল বা গুরুতর রোগের লক্ষণ নয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় কাশির সঙ্গে রক্ত বের হওয়াকে ‘হেমোপ্টাইসিস’ বলা হয়। অতিরিক্ত কাশির কারণে গলা বা শ্বাসনালিতে সামান্য ক্ষত সৃষ্টি হলেও কফের সঙ্গে রক্ত আসতে পারে। রক্ত সাধারণত অল্প পরিমাণে থাকে এবং তা গোলাপি, লাল, মরিচা রঙের কিংবা ফেনার মতোও দেখা যেতে পারে। কাশির সঙ্গে বের হওয়া রক্ত শ্বাসনালি বা ফুসফুস থেকে আসে, যা পরিপাকতন্ত্র থেকে হওয়া রক্তবমি থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।
ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের তথ্য অনুযায়ী, কাশির সঙ্গে রক্ত আসার পেছনে সাধারণ ও জটিল বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। সাধারণ কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্রঙ্কাইটিস বা শ্বাসনালির প্রদাহ, নিউমোনিয়া, যক্ষ্মা (টিবি), দীর্ঘস্থায়ী বা অতিরিক্ত কাশি, ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি রোগ, রক্ত পাতলা করার ওষুধ সেবন এবং নাক, দাঁত, টনসিল বা গলা থেকে রক্ত শ্বাসনালিতে চলে আসা। এছাড়া ফুসফুসে রক্ত জমাট বাঁধা, রক্তনালির সমস্যা, অটোইমিউন রোগ, হৃদযন্ত্রের সমস্যা কিংবা ফুসফুসের ক্যানসারের মতো কারণেও এটি হতে পারে। বিশেষ করে ধূমপায়ী ও বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই লক্ষণ দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে তা অবহেলা করা বিপজ্জনক।
অল্প পরিমাণ রক্ত একবার দেখা গেলে তাৎক্ষণিক ভয়ের কিছু না থাকলেও বেশি পরিমাণে রক্ত বের হলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া রক্তের সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, তীব্র জ্বর, অতিরিক্ত দুর্বলতা, মাথা ঘোরা কিংবা প্রস্রাব-পায়খানায় রক্তের মতো উপসর্গ থাকলে অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। এমনকি এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে অল্প অল্প রক্ত দেখা গেলেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
রোগের সঠিক কারণ নির্ণয়ে চিকিৎসকরা রক্তের পরিমাণ, স্থায়িত্ব ও উপসর্গের তীব্রতা পর্যালোচনা করেন। নিশ্চিত হতে বুকের এক্স-রে, ফুসফুসের বিস্তারিত পর্যালোচনায় সিটি স্ক্যান, শ্বাসনালির ভেতরের উৎস খুঁজতে ব্রঙ্কোস্কপি, রক্ত পরীক্ষা এবং ব্যাকটেরিয়া বা যক্ষ্মা শনাক্তে কফ পরীক্ষার মতো প্রয়োজনীয় ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার সহায়তা নেওয়া হয়। কাশির সঙ্গে রক্ত মানেই ক্যানসার নয়, তবে কারণ স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত অবহেলা না করে দ্রুত সঠিক চিকিৎসার পদক্ষেপ নেওয়াই নিরাপদ।
/আশিক
পেটের যে ব্যথা অবহেলা করলেই বাড়তে পারে বিপদ
অ্যাপেনডিসাইটিস এমন একটি শারীরিক সমস্যা, যা শুরুতে সাধারণ পেটব্যথার মতো মনে হলেও দ্রুত গুরুতর আকার নিতে পারে। অ্যাপেনডিক্স হলো আঙুলের মতো ছোট, নলাকার একটি থলির মতো অঙ্গ, যা পেটের নিচের ডানদিকে বৃহদন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত থাকে।
অ্যাপেনডিক্সে প্রদাহ দেখা দিলে তাকে অ্যাপেনডিসাইটিস বলা হয়। এ অবস্থাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে জরুরি পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ অ্যাপেনডিক্সে অতিরিক্ত প্রদাহ ও ফোলাভাব হলে সেখানে রক্ত সরবরাহ কমে যেতে পারে। এতে টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি একপর্যায়ে অ্যাপেনডিক্স ফেটে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সংক্রমণ ছড়িয়ে গুরুতর জটিলতা এবং জীবনহানির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
অ্যাপেনডিসাইটিসের অন্যতম প্রধান লক্ষণ হলো নাভির চারপাশে ব্যথা শুরু হয়ে ধীরে ধীরে পেটের নিচের ডানদিকে চলে যাওয়া। আক্রান্ত স্থানে নড়াচড়া, কাশি বা গভীরভাবে শ্বাস নেওয়ার সময় ব্যথা আরও বেড়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে বমি, বদহজম, জ্বর, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং হঠাৎ ক্ষুধামন্দার মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে।
অ্যাপেনডিসাইটিস সাধারণত কয়েকটি পর্যায়ের মধ্য দিয়ে গুরুতর হতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে নাভির চারপাশে ব্যথা অনুভূত হয়। পরে তীব্র পর্যায়ে ব্যথা পেটের নিচের দিকে, বিশেষ করে ডানদিকে চলে যায় এবং এর সঙ্গে জ্বর বা বমি বমি ভাব দেখা দিতে পারে। অ্যাপেনডিক্স ফেটে গেলে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে ওঠে এবং দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।
অ্যাপেনডিসাইটিসের চিকিৎসা রোগীর অবস্থা ও অ্যাপেনডিক্সের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। প্রচলিত চিকিৎসার একটি পদ্ধতি হলো খোলা অস্ত্রোপচার। এ ক্ষেত্রে অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়ার পর পেটে প্রয়োজনীয় স্থানে কেটে অ্যাপেনডিক্স অপসারণ করা হয়। অ্যাপেনডিক্স ফেটে গেলে সংক্রমণ ও পুঁজ পরিষ্কার করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়।
আরেকটি পদ্ধতি হলো ল্যাপারোস্কোপিক অস্ত্রোপচার। এতে পেটে বড় করে কাটার পরিবর্তে ছোট কয়েকটি ছিদ্র করে বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে অ্যাপেনডিক্স অপসারণ করা হয়। রোগীর অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসক উপযুক্ত পদ্ধতি নির্ধারণ করেন।
অ্যাপেনডিসাইটিসের ক্ষেত্রে ঘরোয়া ব্যবস্থাকে মূল চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে নেওয়া উচিত নয়। পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া ও শরীরে পানিশূন্যতা এড়াতে পর্যাপ্ত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হালকা চলাফেরা করা যেতে পারে এবং পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত ভারী জিনিস তোলা এড়িয়ে চলতে হয়। অস্ত্রোপচারের কাটা স্থানও পরিষ্কার ও শুকনো রাখতে হবে এবং চিকিৎসকের দেওয়া নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।
অ্যাপেনডিক্স শরীরের এমন একটি অঙ্গ, এটি অপসারণ করলেও সাধারণত মানুষ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে। তবে অ্যাপেনডিক্সে প্রদাহ দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। বিশেষ করে পেটের ডানদিকে তীব্র বা ক্রমাগত ব্যথা, জ্বর, বমি কিংবা দ্রুত শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। নিজে থেকে ঘরোয়া চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে প্রয়োজন হলে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়াই নিরাপদ।
/আশিক
কলেরার টিকা গ্রহণের প্রক্রিয়া: জেনে নিন আবেদনের নিয়ম
কলেরা সংক্রমণ প্রতিরোধে দেশে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে মুখে খাওয়ার টিকা (পিওসিভি) প্রদান কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার অধীনে পরিচালিত এই কর্মসূচির আওতায় ৫১ লাখের বেশি মানুষকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির প্রথম ডোজ চলছে, যা চলবে আগামী দিনগুলোতে এবং এর দ্বিতীয় ডোজ আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এক বছর বা তার বেশি বয়সী সব নাগরিক এই টিকা নিতে পারবেন, তবে অন্তঃসত্ত্বা নারীরা এ সুবিধার বাইরে থাকবেন।
কর্মসূচির আওতায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত এলাকা ছাড়াও কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঝুঁকিপূর্ণ মোট ১৪টি থানা ও উপজেলায় টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
টিকা গ্রহণের জন্য উপযুক্ত নাগরিকদের নির্দিষ্ট অনলাইন পোর্টাল (vaxepi.gov.bd) অথবা নির্ধারিত কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে জন্মনিবন্ধন সনদ বা জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ব্যবহার করে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে। নিবন্ধন শেষে প্রাপ্ত ন্যাশনাল হেলথ আইডি (NHID) কার্ডটি ভবিষ্যতে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে সহায়ক হবে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে এই উদ্যোগে গ্যাভি, ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, আইসিডিডিআর,বি ও আইএফআরসিসহ আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থাগুলো সহায়তা প্রদান করছে।
/আশিক
ডেঙ্গু শনাক্তে কোন পরীক্ষা কখন করবেন? পূর্ণ গাইড
বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ উদ্বেগজনকভাবে বাড়তে থাকে। চলতি বছরও সেই চিত্রের ব্যতিক্রম হয়নি। ২৯ জুন পর্যন্ত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে প্রায় ছয় হাজার মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো রোগ শনাক্ত এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো গেলে ডেঙ্গুর জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
ডেঙ্গু ভাইরাস বহনকারী এডিস মশার কামড়ে এ রোগ ছড়ায়। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (CDC) জানায়, ডেঙ্গু আক্রান্ত প্রতি চারজনের মধ্যে অন্তত একজনের ক্ষেত্রে রোগটি জটিল আকার ধারণ করতে পারে। গুরুতর ডেঙ্গুতে দ্রুত চিকিৎসা না পেলে রক্তক্ষরণ, শক সিনড্রোম, অঙ্গ বিকল হওয়া এবং মৃত্যুঝুঁকি পর্যন্ত তৈরি হতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গুর সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো উচ্চমাত্রার জ্বর। এর সঙ্গে শরীরে ব্যথা, মাথাব্যথা, বমি, ত্বকে র্যাশ, চোখের পেছনে ব্যথা, চুলকানি কিংবা দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। বেশিরভাগ রোগী দুই থেকে সাত দিনের মধ্যে সুস্থ হতে শুরু করলেও সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময়টি অনেক ক্ষেত্রে জ্বর কমে যাওয়ার পর শুরু হয়। এ সময় রক্তের প্লাটিলেট কমে যেতে পারে, রক্তনালিতে তরল পদার্থ বেরিয়ে আসতে পারে এবং অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের মতো গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু নির্ণয়ের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় হলো রক্ত পরীক্ষা। তবে রোগের কোন পর্যায়ে রোগী আছেন, তার ওপর নির্ভর করে পরীক্ষার ধরন পরিবর্তিত হয়। সঠিক সময়ে সঠিক পরীক্ষা না করলে অনেক সময় রিপোর্ট বিভ্রান্তিকর হতে পারে।
জ্বরের শুরুতেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ডেঙ্গু এনএস১ (NS1 Antigen) পরীক্ষা
চিকিৎসকদের মতে, জ্বরের প্রথম দিন থেকে চতুর্থ বা পঞ্চম দিনের মধ্যে ডেঙ্গু শনাক্তের সবচেয়ে কার্যকর পরীক্ষা হলো এনএস১ অ্যান্টিজেন টেস্ট। ভাইরাস শরীরে প্রবেশের পর প্রাথমিক পর্যায়েই এই পরীক্ষায় ডেঙ্গু শনাক্ত করা সম্ভব হয়। তবে পাঁচ দিনের পর সাধারণত এনএস১ নেগেটিভ হয়ে যেতে পারে, তাই দেরিতে পরীক্ষা করলে এর কার্যকারিতা কমে যায়।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, প্রথমদিকে এনএস১ নেগেটিভ এলেও কেবল সেই রিপোর্ট দেখে ডেঙ্গু নেই—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। রোগীর উপসর্গ, শারীরিক অবস্থা এবং প্রয়োজন হলে পুনরায় পরীক্ষা বিবেচনায় নিতে হয়।
জ্বরের পঞ্চম দিনের পর প্রয়োজন হতে পারে ডেঙ্গু IgM পরীক্ষা
যদি জ্বরের শুরুতে এনএস১ পরীক্ষা করা না হয় বা পাঁচ দিনের বেশি সময় পেরিয়ে যায়, তখন চিকিৎসকরা সাধারণত ডেঙ্গু IgM অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করতে বলেন। এই পরীক্ষায় শরীরের তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডি শনাক্ত করা হয় এবং বর্তমান সংক্রমণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। সাধারণত জ্বরের ষষ্ঠ দিন থেকে এই পরীক্ষা সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ফল দেয় এবং কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত পজিটিভ থাকতে পারে।
দ্বিতীয়বার ডেঙ্গু শনাক্তে গুরুত্বপূর্ণ IgG পরীক্ষা
IgG অ্যান্টিবডি পরীক্ষা মূলত বোঝায় রোগী আগে কখনো ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন কি না। রক্তে IgG পজিটিভ পাওয়া গেলে পূর্ববর্তী সংক্রমণের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। চিকিৎসকদের মতে, দ্বিতীয়বার ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার ক্ষেত্রে গুরুতর জটিলতার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে। তাই IgG রিপোর্ট চিকিৎসা পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রায় সব রোগীর জন্য প্রয়োজন সিবিসি (CBC) পরীক্ষা
ডেঙ্গু রোগীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগুলোর একটি হলো Complete Blood Count (CBC)। এই পরীক্ষার মাধ্যমে প্লাটিলেট কাউন্ট, শ্বেত রক্তকণিকা, লোহিত রক্তকণিকা, হিমোগ্লোবিন এবং হেমাটোক্রিট সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়।
চিকিৎসকরা বলছেন, শুধুমাত্র প্লাটিলেট কমেছে কি না সেটিই নয়, বরং হেমাটোক্রিট বৃদ্ধি পেয়েছে কি না সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ হেমাটোক্রিট বেড়ে গেলে শরীর থেকে প্লাজমা বেরিয়ে যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে, যা গুরুতর ডেঙ্গুর একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক।
জটিল রোগীদের ক্ষেত্রে লাগতে পারে অতিরিক্ত পরীক্ষা
যদি রোগীর শরীরে রক্তক্ষরণ, লিভারের জটিলতা, রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা বা শক সিনড্রোমের লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে চিকিৎসকরা Prothrombin Time (PT), International Normalized Ratio (INR) এবং প্রয়োজন অনুযায়ী Bleeding Time–Clotting Time (BT-CT) পরীক্ষার পরামর্শ দিতে পারেন। এসব পরীক্ষার মাধ্যমে রক্ত জমাট বাঁধার সক্ষমতা মূল্যায়ন করা হয় এবং গুরুতর জটিলতা নির্ণয়ে সহায়তা পাওয়া যায়।
চিকিৎসকদের পরামর্শ
বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলছেন, ডেঙ্গুর কোনো নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নেই। তাই সময়মতো রোগ শনাক্ত, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক বা ব্যথানাশক ওষুধ সেবন না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা মৌসুমে জ্বরকে কখনোই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে ডেঙ্গুর মৌসুমে জ্বর দেখা দিলে রোগের দিন গণনা করে সঠিক সময়ে NS1, IgM, IgG ও CBC পরীক্ষা করানো রোগীর জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
কার্বন ডাই-অক্সাইডে কোনো শিশু মরেনি, মন্ত্রীর পেছনে ঘুষ নিয়ে ঘুরিনি: আদ্-দ্বীনের প্রধান
রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালে আশঙ্কাজনকভাবে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার কারণে কোনো নবজাতক বা শিশুর মৃত্যু হয়নি বলে জোর দাবি করেছেন আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মো. মহিউদ্দিন। একই সঙ্গে এই নামী হাসপাতালটির নিবন্ধন ও লাইসেন্স টিকিয়ে রাখতে সরকারের নীতি-নির্ধারকদের পেছনে ‘ঘুষের টাকা’ নিয়ে ঘোরার যে গুঞ্জন বা অভিযোগ উঠেছে, তাও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে এসব কথা বলেন ডা. শেখ মো. মহিউদ্দিন। সম্প্রতি ওই হাসপাতালে পরপর শিশু মৃত্যুর ঘটনা এবং তার জেরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কড়া আইনি পদক্ষেপের পর হাসপাতালটির বর্তমান পরিস্থিতি, ভবিষ্যৎ আইনি লড়াই এবং বিতর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে নিজেদের প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থান পরিষ্কার করতেই মূলত এই জরুরি প্রেস ব্রিফিং ডাকা হয়।
আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক বলেন, সরকারের তদন্ত কমিটি যে কারিগরি প্রতিবেদন দিয়েছে, তার ভিত্তিতে ইতিমধ্যে আমাদের পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ দল গঠন করা হয়েছে। সেই বিশেষজ্ঞদের মতামত ও গাইডলাইন অনুযায়ী হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ড ও কক্ষের কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং তা দ্রুত সম্পূর্ণ সহনীয় মাত্রায় আনার কারিগরি কাজ চলছে। এছাড়া হাসপাতাল ভবনটির নিচ থেকে বেকারিটি সম্পূর্ণ অন্য জায়গায় স্থানান্তরের কাজও বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বাতাসে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার কারণেই শিশুদের অকাল মৃত্যু হয়েছে বলে বাইরে যে কথা ছড়ানো হচ্ছে, তা মোটেও সঠিক নয়; এই সুনির্দিষ্ট কারণে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।
হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল হওয়া ঠেকাতে বা পুনরায় সচল করতে সরকারের উচ্চমহলে বিপুল অঙ্কের টাকা লেনদেন বা ঘুষ দেওয়ার চেষ্টার যে গুঞ্জন উঠেছে, সে বিষয়ে আদ্-দ্বীনের এই শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন—আমরা কোনো মন্ত্রী বা কর্মকর্তার পেছনে টাকা নিয়ে ঘুরিনি। ঘুষ দেওয়ার বিষয়ে কোনো ধরনের অভিযোগ যদি থেকে থাকে, তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী মহোদয় নিজে সরাসরি কথা বললেই সবচেয়ে ভালো হয়।
লাইসেন্স বাতিল ও হাসপাতাল বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আগামী মঙ্গলবার (১৬ জুন) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আপিল করা হবে জানিয়ে ডা. মহিউদ্দিন বলেন, এই আদেশ ঠেকাতে হাইকোর্টে নতুন করে কোনো রিট করার বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখনও চূড়ান্ত কিছু সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে আইনি প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ হিসেবে মঙ্গলবার আমরা সরকারের কাছে আপিল আবেদন জমা দেবো।
একই সাথে হাসপাতাল ভবনটির কাঠামোগত উপযোগিতা নিয়ে তিনি বলেন, ভবনটি হাসপাতালের জন্য একেবারেই অনুপযোগী বলে সরকারের পক্ষ থেকে যে গুরুতর মতামত দেওয়া হয়েছে, সেটি যদি আইনি ও কারিগরি দল দ্বারা শতভাগ প্রমাণিত হয়, তবে জনস্বার্থে আমরা এই ভবনটি সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলবো। লাইসেন্স বাতিলের পর হাসপাতালের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি জানান, উদ্ভূত এই চরম পরিস্থিতির মধ্যেই তাঁরা হাত গুটিয়ে বসে নেই; বরং হাসপাতালের সামগ্রিক সেবার মান আরও উন্নত করতে বর্তমানে কর্মরত সকল ডাক্তার ও নার্সদের বিশেষ রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের চূড়ান্ত আদেশ জারি করা হয়। হাসপাতালটিতে চিকিৎসাাধীন অবস্থায় পরপর ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটির দেওয়া প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই মূলত এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওই অফিসিয়াল আদেশে বলা হয়েছে, আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয়টি নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রথমে কারণ দর্শানোর (শো-কজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। গত ৯ জুন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সেই নোটিশের যে লিখিত জবাব দাখিল করে, তা সরকারের কাছে বিন্দুমাত্র সন্তোষজনক বলে প্রতীয়মান হয়নি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে জনস্বার্থে ও জননিরাপত্তায় হাসপাতালটির লাইসেন্স স্থায়ীভাবে বাতিল করা হলো।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই আদেশ জারির ঠিক আগের দিন দুপুরে সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ঘটে যাওয়া এই শিশু মৃত্যুর ঘটনাকে একটি ‘অমার্জনীয় অপরাধ’ বলে কড়া আখ্যা দিয়েছিলেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, তদন্তে প্রতিষ্ঠানের দায় ও গাফিলতি প্রমাণিত হলে এই হাসপাতালের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে নিবন্ধন চিরতরে বাতিল করা হবে। তাঁর ওই কঠোর বক্তব্যের ঠিক কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই সরকারের পক্ষ থেকে হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের চূড়ান্ত প্রশাসনিক আদেশ চলে আসে।
উল্লেখ্য, গত মে মাসের শেষের দিকে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসাাধীন অবস্থায় অত্যন্ত রহস্যজনক ও বিতর্কিতভাবে পরপর ছয়টি নবজাতক শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। ওই মর্মান্তিক ঘটনায় হাসপাতালের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় চরম অবহেলা ও কারিগরি গাফিলতির গুরুতর অভিযোগ উঠলে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি আমলে নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। পরবর্তীতে সেই তদন্ত কমিটির রিপোর্টের জবাবে দেওয়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আত্মপক্ষ সমর্থনের ব্যাখ্যায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
/আশিক
ক্যান্সার চিকিৎসায় চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের বড় সাফল্য, স্মার্ট ইনজেকশনে উধাও হচ্ছে টিউমার
ক্যান্সার চিকিৎসায় এক যুগান্তকারী ও অভূতপূর্ব সাফল্যের দাবি করেছেন আন্তর্জাতিক চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা। একটি আন্তর্জাতিক ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে নতুন এক ধরনের ‘স্মার্ট ইনজেকশন’ কিছু রোগীর শরীরে থাকা টিউমার সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত করে দিতে সক্ষম হয়েছে। ‘অ্যামিভ্যানটাম্যাব’ (amivantamab) নামের এই নতুন ওষুধটি মূলত একটি ট্রিপল-অ্যাকশন ক্যান্সার থেরাপি হিসেবে কাজ করে, যা অত্যন্ত জটিল রোগীদের ক্ষেত্রেও অভাবনীয় ফলাফল দেখিয়েছে।
বিশ্বের ১১টি দেশের অংশগ্রহণে পরিচালিত এই মেগা ট্রায়ালে এমন সব জটিল রোগীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, যাদের ক্যান্সার ইতোমধ্যে শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়েছিল (মেটাস্ট্যাসিস) অথবা যারা প্রচলিত অন্যান্য চিকিৎসায় কোনোভাবেই সাড়া দিচ্ছিলেন না।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, এই ইনজেকশনটি মাথা ও ঘাড়ের ক্যান্সারে (Head and Neck Cancer) আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কার্যকারিতা দেখিয়েছে। ট্রায়ালে অংশ নেওয়া এমন ১০২ জন রোগীর মধ্যে ৪৩ জনেরই টিউমার আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে সঙ্কুচিত হয়ে গেছে। এর মধ্যে ২৮ জনের ক্ষেত্রে টিউমার উল্লেখযোগ্যভাবে ছোট হয়েছে এবং ১৫ জন রোগীর শরীর থেকে ক্যান্সার টিউমার সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত বা ভ্যানিশ হয়ে গেছে।
লন্ডনের ইনস্টিটিউট অব ক্যান্সার রিসার্চের অধ্যাপক ও বায়োলজিক্যাল ক্যান্সার থেরাপির খ্যাতনামা বিশেষজ্ঞ কেভিন হ্যারিংটন এই ফলাফলকে ‘অভূতপূর্বভাবে শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, যেসব রোগীর ক্যান্সার প্রচলিত কেমোথেরাপি ও ইমিউনোথেরাপি উভয়ের প্রতিই প্রতিরোধী বা রেজিস্ট্যান্ট হয়ে গেছে, তাদের শরীরে এমন ইতিবাচক সাড়া পাওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই স্মার্ট চিকিৎসা পদ্ধতি আগামী দিনে প্রতিবছর বিশ্বের হাজার হাজার ক্যান্সার রোগীর জীবন বাঁচাতে ভূমিকা রাখতে পারে।
মেডিকেল সায়েন্সের এই যুগান্তকারী গবেষণার ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে অনুষ্ঠিত বিশ্বের বৃহত্তম ক্যান্সার সম্মেলন ‘আমেরিকান সোসাইটি অব ক্লিনিক্যাল অনকোলজিতে’ আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হবে।
গবেষকদের মতে, মাথা ও ঘাড়ের ক্যান্সারের পাশাপাশি একই ধরনের ইতিবাচক ফলাফল দেখা গেছে ফুসফুসের ক্যান্সার (Lung Cancer) রোগীদের ক্ষেত্রেও। বহুজাতিক ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানি জে অ্যান্ড জে (জনসন অ্যান্ড জনসন) কর্তৃক উদ্ভাবিত এই ওষুধটি বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৬০টি পৃথক ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে পরীক্ষা করা হচ্ছে, যার মধ্যে ফুসফুস ছাড়াও কোলন, মস্তিষ্ক ও পাকস্থলীর ক্যান্সার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এই স্মার্ট ইনজেকশনটি মূলত মানবদেহে ক্যান্সারকে তিনটি ভিন্ন উপায়ে একযোগে লক্ষ্যবস্তু করে: প্রথমত, এটি ‘ইজিএফআর’ (EGFR) নামক প্রোটিনকে ব্লক বা বাধা দেয়; দ্বিতীয়ত, এটি ‘এমইটি’ (MET) নামক সেই কোষীয় পথকে বন্ধ করে দেয় যা ক্যান্সার কোষকে চিকিৎসা থেকে বাঁচতে সাহায্য করে; এবং তৃতীয়ত, এটি রোগীর নিজস্ব রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউন সিস্টেমকে সক্রিয় করে সরাসরি টিউমারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্ররোচিত করে।
এই ট্রায়ালে অংশ নেওয়া ৫৬ বছর বয়সী কার্ল ওয়ালশ নামের একজন ব্রিটিশ রোগী নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, পূর্বের সব কেমোথেরাপি ও ইমিউনোথেরাপি ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি চরম হতাশায় এই ট্রায়ালে যুক্ত হয়েছিলেন এবং ধীরে ধীরে তার শারীরিক অবস্থার অলৌকিক উন্নতি ঘটে। চিকিৎসা শুরুর মাত্র কয়েকটি সাইকেলের পরই তিনি স্বাভাবিক খাবারে ফিরতে পারেন এবং তার অসহ্য শারীরিক ব্যথা সম্পূর্ণ কমে যায়।
গবেষণা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই ইনজেকশনটি সাধারণত রোগীর ত্বকের নিচে (Subcutaneous) ছোট আকারে দেওয়া হয়, যা হাসপাতালে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে প্রচলিত ইনট্রাভেনাস ড্রিপ বা স্যালাইনের মাধ্যমে দেওয়ার তুলনায় অনেক দ্রুত, সহজ এবং আরামদায়ক। ট্রায়ালে দেখা গেছে, এই ওষুধের অধিকাংশ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াই ছিল অত্যন্ত মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার, যার কারণে খুব কম রোগীকেই মাঝপথে চিকিৎসা বন্ধ করতে হয়েছে।
গবেষকদের মতে, বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই ট্রায়ালে মানব প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি)-নেতিবাচক মাথা ও ঘাড়ের ক্যান্সার রোগীদের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাদের চিকিৎসা করা চিকিৎসাবিজ্ঞানে সাধারণত সবচেয়ে বেশি কঠিন ও জটিল বলে গণ্য হয়। এই ইনজেকশন বা চিকিৎসা শুরু করার পর অত্যন্ত অগ্রসর (Advanced Stage) পর্যায়ে থাকা রোগীদেরও গড় বেঁচে থাকার সময় ছিল প্রায় ১২ দশমিক ৫ মাস।
ইনস্টিটিউট অব ক্যান্সার রিসার্চের প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক ক্রিস্টিয়ান হেলিন বলেন, এই অগ্রগতি প্রমাণ করে যে কঠোর ও সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক গবেষণার মাধ্যমে একদম সীমিত বিকল্প থাকা মুমূর্ষু রোগীদের ক্ষেত্রেও কার্যকর নতুন চিকিৎসা নিয়ে আসা সম্ভব। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অসাধারণ ফলাফল বিশ্বব্যাপী ক্যান্সার চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে যাচ্ছে, যদিও ওষুধটি এখনও ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পর্যায়ে রয়েছে এবং বাজারে বাণিজ্যিকভাবে আসার আগে আরও কিছু বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
দেশে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে নিশ্চিত হাম রোগীর গ্রাফ
রাজধানীসহ সারা দেশে আশঙ্কাজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে হাম (Measles)। প্রাণঘাতী এই রোগে আক্রান্ত হয়ে ও এর উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আরও ১ হাজার ৪৯৪ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। আজ সোমবার (১৮ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিন ও প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া সর্বশেষ তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪০৫ জনে। গত ১৫ মার্চ থেকে ১৮ মে পর্যন্ত মাত্র দুই মাসে দেশজুড়ে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৪ হাজার ৯১১ জনে। এছাড়া ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে আরও ৮৯ জনের শরীরে। ফলে ১৫ মার্চ থেকে ১৮ মে পর্যন্ত দেশে ল্যাব-নিশ্চিত হাম রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৮৫৬ জনে।
প্রতিবেদনে দেশের হাসপাতালগুলোর চিকিৎসা ব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরে বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৮ মে পর্যন্ত তীব্র উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪২ হাজার ৮৬৮ জন হাম রোগী। এর মধ্যে যথাযথ চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৮ হাজার ৯৮০ জন। মে মাসের তীব্র গরমের মধ্যে শিশুদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ দ্রুত বাড়তে থাকায় অভিভাবক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- শেখ হাসিনাকে বিমানবন্দর থেকে ফাঁসির মঞ্চে নিতে শহীদ পরিবারই যথেষ্ট: সারজিস আলম
- অটোরিকশার ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নতুন বার্তা
- সাইকেলে ছয় দেশ পাড়ি দিয়ে হজ পালনের উদ্দেশ্যে নরসিংদীর সজিবের যাত্রা
- ক্যালেন্ডারের সংখ্যা নাকি মনের অনুভূতি: বার্ধক্যের আসল পরিচয় আসলে কী?
- ঢাকার দুই সিটির লড়াইয়ে নতুন সমীকরণ: মাঠে নামছে তরুণ নেতৃত্ব
- ১২ মাসের গড় হিসাবে দেশের সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা নিম্নমুখী
- জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রা ও ভবিষ্যৎ এআই: মানব মূল্যবোধ রক্ষা কতটা কঠিন?
- অল্প পরিশ্রমে শ্বাসকষ্ট ও ক্লান্তির পেছনে যেসব অজানা কারণ
- এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটের সূচি প্রকাশ, পদক জয়ের অভিযানে বাংলাদেশ
- যুদ্ধ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র, আর বিল দিচ্ছে পুরো বিশ্ব: ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
- যানজট কমাতে রাজধানীতে ফের কার্যকর হচ্ছে বিকল্প নৌপরিবহন
- সংসদে ডা. শফিকুর রহমানের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের দোয়া
- ইসরায়েলি দূতাবাসের কাছে ফ্ল্যাট বিক্রিতে খামেনির নাম যেভাবে সামনে এল
- মার্কিন অর্থনৈতিক তথ্যের প্রভাবে চাপে মূল্যবান ধাতুর বাজার
- দেশে শেখ হাসিনার নামে কত টাকার সম্পদ, জানা গেল হিসাব
- যানজট কমাতে নৌপথে আসছে নতুন গণপরিবহন ব্যবস্থা
- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে আমরা আত্মবিশ্বাসী: ভারতীয় হাইকমিশনার
- বিরোধী দলের ওয়াকআউটের পর বিরোধীদলীয় নেতাকে স্পিকারের ধন্যবাদ
- আইপিএলের ধাক্কা এড়াতে পিএসএলের সূচিতে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব
- ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশকে রেখে আইসিসির বহুজাতিক সিরিজের পরিকল্পনা
- সন্তান ফ্ল্যাটে যাবে আর বাবা-মা বৃদ্ধাশ্রমে এটা মেনে নেওয়া যায় না: রুমিন ফারহানা
- ৩ ইরানি ট্যাংকারে আঘাতের পর মার্কিন ড্রোন জাহাজে হামলার দাবি তেহরানের
- লংমার্চে পথচারীদের ভোগান্তি: দেশবাসীর কাছে জামায়াত জোটের দুঃখ প্রকাশ
- আমি কাতারে হামলা করেছি, বোমাও ফেলেছি: আই২৪ নিউজে নেতানিয়াহুর দম্ভোক্তি
- আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতি টানলেও ক্লাবে নতুন কীর্তি মহাতারকার
- ছেঁড়া-ফাটা টাকা বদল স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রমের অংশ: সংসদে অর্থমন্ত্রী
- ‘সংঘাত-প্রতিশোধ নয়, ভালোবাসার সমাজ চাই’: মির্জা ফখরুল
- আওয়ামী লীগ নেতার গাড়িতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর লংড্রাইভ: রাশেদ খাঁনের দাবি
- ২০২৭ সালের হজ নিবন্ধন: বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে জমা দিতে হবে আবেদন
- চীন-নেপাল সীমান্তে ভয়াবহ বিপর্যয়: গিরং বন্দরে চলছে জটিল উদ্ধার তৎপরতা
- বিপিএল না হওয়ার বিষয়ে কিছুই জানেন না যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
- অস্ত্রের ঘাটতির তথ্য ফাঁস: পেন্টাগনের ৫০ শীর্ষ কর্মকর্তার পলিগ্রাফ পরীক্ষা
- বাংলাদেশ ব্যাংক এখন চাঁদের মতো, দেখা যায় কিন্তু যাওয়া যায় না: এমপি মনিরুল
- ওয়াশিংটনকে ‘যন্ত্রণাদায়ক জবাবের’ নতুন হুঁশিয়ারি শীর্ষ নেতার
- জাতীয় সংসদে দেশের জনগণের মাথাপিছু ঋণের হিসাব তুলে ধরলেন অর্থমন্ত্র
- গুপ্তদের আড়ালে স্বৈরাচার ফেরার শঙ্কা, অরাজকতা নিয়ে সতর্ক করলেন তারেক রহমান
- মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ে তেল আবিবের বড় লক্ষ্য প্রকাশ
- রাতে রাজধানীর আবহাওয়া নিয়ে নতুন পূর্বাভাস
- আর্জেন্টিনার জার্সিতে আবারও দেখা যেতে পারে মেসিকে
- শেখ হাসিনার বক্তব্য ইস্যুতে ‘নো কমেন্ট’, তারেক রহমানের সফর নিয়ে যা বলল ভারত
- দেবিদ্বারে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিল বল্লভপুর শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন
- নরসিংদীতে ছেলের হাতে বাবা খুন, আহত মা-ভাই
- নির্বাচনের আগে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে নতুন সতর্কবার্তা
- বিনা মূল্যে ২ লাখ টাকার আইটি প্রশিক্ষণ, রয়েছে চাকরির সুযোগ
- ‘চিকেনস নেক’-এ সমান্তরাল মহাসড়ক এনএইচ-৩২৭ বানাচ্ছে ভারত
- দলবদলের বাজারে নতুন চমক, ইউরোপ ছেড়ে মধ্যপ্রাচ্যে তরুণ উইঙ্গার
- লিপজিগে ড্রোন হামলা: রাশিয়ার বিরুদ্ধে ‘হাইব্রিড যুদ্ধের’ অভিযোগ জার্মানির
- কারণ ছাড়া ওজন কমছে বা ক্লান্ত লাগছে? ক্যানসারের ৫ সংকেত জানাল জনস হপকিন্স
- সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের আগে যেসব বিষয় জানা জরুরি
- ধর্ম নয়, নাগরিক পরিচয়ে দেশ গড়ে উঠবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- টানা পতনের পর দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় পরিবর্তন
- নবম পে-স্কেল অনুমোদনের আড়ালে দুঃসংবাদ: বাতিল হচ্ছে বিশেষ সুবিধা
- ধর্ম নয়, নাগরিক পরিচয়ে দেশ গড়ে উঠবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- অস্ত্রের মজুদ ফাঁকা হওয়ার খবর ‘শতভাগ ভুল’: ট্রাম্পের হুঙ্কার
- বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে সহযোগিতা বাড়াবে আইপিইউ: শামা ওবায়েদ
- হতাশাজনক হারে এশিয়ান কাপ বাছাই থেকে বিদায় নিশ্চিত বাংলাদেশের
- গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে নতুন সংকট তৈরি হতে পারে: ডা. শফিকুর রহমান
- লন্ডনের ইলফোর্ডে গ্রেটার চট্টগ্রাম অ্যাসোসিয়েশন ইউকে’র মিলনমেলা অনুষ্ঠিত
- তিন দফা পতনের পর স্বর্ণের দামে বড় লাফ
- ইরানের পাশে পুতিন: ‘ক্ষুধার্ত হাঙরদের’ দাঁতভাঙা জবাবের হুঁশিয়ারি
- বড় সংঘাতের আশঙ্কায় বেইজিংয়ের নজিরবিহীন পদক্ষেপ
- ক্রিকেটের নতুন বিশ্বমঞ্চের দায়িত্ব পেল ভারত
- দক্ষিণ ইরানে বড় ধরনের সামরিক হামলায় ব্যাপক হতাহত
- মেসিকে ছাড়া বিশ্বকাপ আগের মতো থাকবে না: জোসে মরিনিও
- ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময়ে দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: পার্থ








