১৪৪ ধারার অজুহাতে যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের বাধা

ভারতের রাজধানী দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-এর আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে যোগ দিতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের পথে বাধা সৃষ্টি করেছে দিল্লি পুলিশ।
বৃহস্পতিবার অটোরিকশায় করে যন্তর মন্তরের কর্মসূচিস্থলে যাওয়ার পথে একদল শিক্ষার্থীকে গন্তব্য থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার আগেই থামিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাদের আর সামনের দিকে অগ্রসর হতে দেয়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
আটকে পড়া শিক্ষার্থীরা জানান, তারা সম্পূর্ণ শান্তিপূর্নভাবে সাধারণ যাত্রীর মতো অটোতে করে বিক্ষোভে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। তবে কোনো কারণ ছাড়াই মাঝপথে তাদের পথ রোধ করে পুলিশ।
অন্যদিকে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিএনএসএস আইনের আওতায় ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে। সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এবং যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতেই শিক্ষার্থীদের যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়া থেকে বিরত রাখা হয়েছে।
পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় চলমান বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে সিজেপি এবং কয়েকটি ছাত্র সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এই প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়। তবে প্রতিবাদস্থলে বড় ধরনের জনসমাগম ঠেকানোর লক্ষ্যে দিল্লির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও পয়েন্টগুলোতে জোরদার করা হয়েছে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
সূত্র: দ্য হিন্দু
মোদী সরকারের আলোচনার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিল সিজেপি, অনড় যন্তর মন্তরে
ভারতে চলমান বিতর্কিত প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে আসা বৈঠকের আহ্বান সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলটির স্পষ্ট বক্তব্য, আলোচনা হতে হলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের আন্দোলনের মূল কেন্দ্র দিল্লির যন্তর মন্তরে আসতে হবে, নতুবা যেকোনো নিরপেক্ষ স্থানে এই বৈঠকের আয়োজন করতে হবে।
বৃহস্পতিবার ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা সিজেপি নেতাদের সঙ্গে আলোচনার একটি প্রস্তাব পাঠান। তবে আন্দোলনকারী রাজনৈতিক দলটির পক্ষ থেকে সে প্রস্তাব সঙ্গে সঙ্গেই প্রত্যাখ্যান করা হয়।
সরকারের অনাগ্রহের বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে সিজেপি নেতা অশুতোষ রাঙ্কা জানান, সাধারণ মানুষের ক্ষোভের কারণে মন্ত্রীরা যন্তর মন্তরে আসতে রাজি হচ্ছেন না বলে জানানো হয়েছে। তবে তিনি অনর্থক সময় নষ্ট না করার বার্তা দেন।
এর আগে আন্দোলনরত তরুণ নেতাদের আলোচনার টেবিলে আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন আরেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। তিনি স্পষ্ট করেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও চলমান এই গণআন্দোলন সরকারের জন্য কোনো প্রেস্টিজ ইস্যু নয়। তিনি ও জে.পি. নাড্ডা যেকোনো সময় আলোচনায় বসতে তৈরি আছেন এবং এর জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি।
মন্ত্রীর এমন নমনীয় আশ্বাসের পরও নিজেদের অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন সিজেপি নেতারা। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আলোচনা সম্পর্কিত শর্তে কোনো পরিবর্তন আসবে না এবং বৈঠক হতে হলে অবশ্যই তা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ জায়গায় হতে হবে।
অন্যদিকে, আন্দোলন পরিচালনায় অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করা সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক শারীরিক অসুস্থতার কারণে সাময়িক বিশ্রামে থাকার তথ্য জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সামাজিক মাধ্যমে এক বার্তায় তিনি নিশ্চিত করেন, সাময়িকভাবে কিছুটা দূরে থাকলেও সন্ধ্যার মধ্যেই তিনি পুনরায় যন্তর মন্তরের প্রতিবাদী মঞ্চে যোগ দেবেন।
অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে আন্দোলনকারীরা দেশটির কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে তাদের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
উল্লেখ্য, বুধবার রাতে দিল্লিতে অবস্থানরত আন্দোলনকারীদের হটাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নেয় এবং পুলিশ লাঠিচার্জের পাশাপাশি কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়ে। পুলিশ প্রশাসন দাবি করেছে, পার্লামেন্ট স্ট্রিটের অভিমুখে ধেয়ে আসা বিক্ষোভকারীদের একটি দল তাদের ওপর পাথর ও বোতল ছোঁড়ায় তারা প্রতিহত করতে বাধ্য হয়।
তবে বিক্ষোভকারীদের দাবি, পুলিশ সম্পূর্ণ অহেতুক ও অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের মাধ্যমে ন্যায়সংগত আন্দোলন নস্যাৎ করার চেষ্টা চালিয়েছে। অভিজিৎ দীপকও পুলিশের এই আগ্রাসী ভূমিকার তীব্র নিন্দা জানান। আন্দোলনকারীদের যৌথ ঘোষণা—প্রশ্নপত্র ফাঁসের পূর্ণাঙ্গ নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রকৃত দোষীদের শাস্তির আওতায় না আনা পর্যন্ত এই আন্দোলন থামবে না।
/আশিক
ককরোচ মুভমেন্টে উত্তাল দিল্লি: প্রশ্নফাঁস কাণ্ডেও কেন অনড় মোদি ও তাঁর শিক্ষামন্ত্রী?
ভারতে পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে দেশটির রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গন। জেন-জি তরুণদের আন্দোলন ‘ককরোচ মুভমেন্ট’-এর হাজার হাজার সমর্থক গত এক মাস ধরে নয়া দিল্লিতে অবস্থান ধর্মঘট পালন করছেন।
পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাসে শতাধিক আন্দোলনকারী আহত হলেও তারা পিছু হটেননি। এত তীব্র বিক্ষোভ ও বিরোধীদের চাপের পরও মোদি সরকার শিক্ষামন্ত্রীকে বরখাস্ত বা পদত্যাগে বাধ্য করেনি। আপাতদৃষ্টিতে এটি অস্বাভাবিক মনে হলেও নরেন্দ্র মোদির ১২ বছরের শাসনকালের ধারা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, রাজপথ বা মিডিয়ার চাপের মুখে নিজের মন্ত্রীদের পদত্যাগ না করানো তাঁর বহু পুরোনো কৌশল।
মোদি সরকারের এই নীতি পূর্ববর্তী কংগ্রেস সরকারের বিপরীত। কংগ্রেস আমলে কেলেঙ্কারি বা জনদাবিতে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের সরিয়ে দেওয়া হলেও, মোদি জমানায় এটিকে প্রশাসনিক দুর্বলতা হিসেবে দেখা হয়। ২০১৫ সালের দাদরি গণপিটুনি কাণ্ডের পর মহেশ শর্মা, ২০১৬ সালে রোহিত ভেমুলার আত্মহত্যার পর স্মৃতি ইরানি ও বান্দারু দত্তাত্রেয় এবং ২০২১ সালে লখিমপুর খেরির ঘটনার পর অজয় মিশ্র তেনি—কাউকেই গণদাবির মুখে বরখাস্ত করা হয়নি।
১২ বছরে কেবল করোনা মহামারীর সময় কোভিড ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতার দায়ে তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. হর্ষ বর্ধনের পদত্যাগই ছিল এর একমাত্র ব্যতিক্রম। রাজপথের চাপের সামনে নতি স্বীকার না করে বরং নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকাকেই রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন মোদি।
/আশিক
এই মোদি সরকারের পতন ঘটাও: আটকের সময় রাহুলকে কানে কানে পুলিশ সদস্যের বার্তা!
প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে তোলপাড় সৃষ্টি করা আন্দোলনে অংশ নিয়ে আটক হওয়ার পর এবার নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। আটকের মুহূর্তে দায়িত্বপ্রাপ্ত এক পুলিশ কর্মকর্তা তাঁকে খোদ মোদি সরকারের পতন ঘটানোর পরামর্শ দিয়েছেন বলে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন তিনি।
বুধবার (২২ জুলাই ২০২৬) পুলিশি হেফাজত থেকে মুক্ত হয়ে নিজের আটকের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিতে গিয়ে রাজকীয় এই দাবি সামনে আনেন রাহুল গান্ধী।
এর আগে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষাসহ একাধিক সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে দিল্লির রাস্তায় নামেন রাহুল। আন্দোলনের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবন অভিমুখে পদযাত্রার সময় পুলিশ তাঁকে আটক করে বাসে তুলে নিয়ে যায়।
সেই আটক প্রক্রিয়ার পরের দিনই রাহুল গান্ধী বলেন, “আমাকে যখন আটক করে গাড়িতে তোলা হচ্ছিল, তখন আমাকে নিরাপত্তায় থাকা এক পুলিশ সদস্য ব্যক্তিগতভাবে এসে আমার কানে কানে বলেন—‘এই (মোদি) সরকারের পতন ঘটিয়ে দাও’।”
দেশের শিক্ষাব্যবস্থার ভঙ্গুর দশার জন্য কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে দায়ী করে তাঁর অনতিবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করেছেন রাহুল। তিনি কঠোর ভাষায় বলেন, “আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ধর্মেন্দ্র প্রধানের দ্রুত পদত্যাগ চাচ্ছেন। শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে তিনি সম্পূর্ণ ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছেন। তাঁকে এই মুহূর্তেই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া উচিত। আস্ত একটা শিক্ষাব্যবস্থা চালানোর ক্ষেত্রে তিনি চরম অযোগ্য ও অক্ষম ব্যক্তি।”
উল্লেখ্য, ভারতে ব্যাপক আলোড়ন তোলা মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসার পর ক্ষোভে ফুসে ওঠেন তরুণ ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। স্বতঃস্ফূর্তভাবে তারা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র ব্যানারে দিল্লি রাজপথ অচল করে আন্দোলন শুরু করে এবং শুরু থেকেই শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অটল রয়েছে।
বিজেপি সরকারের ১২ বছরের রেকর্ড তুলে ধরে রাহুল গান্ধী দাবি করেন, এ পর্যন্ত দেশে মোট ১৫২ বার প্রশ্নপত্র ফাঁসের নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে।
এই পরিসংখ্যান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, “গত এক যুগে ১৫২ বার প্রশ্ন ফাঁস হওয়া মানে আপনি হিসাব করলে দেখবেন প্রতি মাসে গড়ে একবার করে কোনো না কোনো পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে! এতে দেশের প্রায় সাড়ে সাত কোটি শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, যাদের সিংহভাগই মধ্যবিত্ত শ্রেণির। সন্তানের পড়াশোনা ও পরীক্ষার ফি জোগাতে পরিবারের জীবনের সব কষ্টার্জিত সঞ্চয় তারা শেষ করেছেন, অথচ তারাই সবচেয়ে বেশি প্রতারিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।”
সবচেয়ে ক্ষোভের বিষয় হিসেবে সরকারের বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে অভিযুক্ত করে তিনি আরও বলেন, “সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো—এত বড় বড় জাতীয় কেলেঙ্কারি ও গত ১০ বছরে টানা এত প্রশ্ন ফাঁসের পরও আজ পর্যন্ত কাউকেই দায়ী করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হয়নি। বিচার পাওয়ার হার এক কথায় শূন্য!”
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
শিক্ষার্থী নির্যাতনের জবাব চাইতে গিয়ে বন্দি রাহুল গান্ধী, উত্তাল ভারতের রাজনীতি
ভারতের আলোচিত পরীক্ষা বিতর্ক ও প্রশ্নপত্র ফাঁস ইস্যুতে রাজনৈতিক উত্তাপ এবার চরমে পৌঁছেছে। দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় জরুরি সংস্কার এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের দ্রুত পদত্যাগের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রাসহ একাধিক শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। মঙ্গলবার (২১ জুলাই ২০২৬) নতুন দিল্লির লোক কল্যাণ মার্গে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা ‘এএনআই’ (ANI)।
কংগ্রেসের অভিযোগ, আন্দোলনরত নিরপরাধ শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীদের ওপর দিল্লি পুলিশ বেপরোয়া ও অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে। পুলিশের এই নজিরবিহীন অভিযানের তীব্র প্রতিবাদ জানাতে এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ড নিয়ে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর জবাবদিহি চাইতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রার নেতৃত্বে দলটির শীর্ষ নেতারা একযোগে লোক কল্যাণ মার্গে অবস্থান নেন। অবস্থান কর্মসূচির একপর্যায়ে দিল্লি পুলিশ সরাসরি হস্তক্ষেপ করে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কাসহ সেখানে উপস্থিত অন্য জ্যেষ্ঠ নেতাদের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে যায়।
আটক হওয়ার আগে রাহুল গান্ধী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, রাজপথে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিরুদ্ধে সরকারের নির্দেশে পুলিশি নির্যাতনের বিষয়ে তারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে সরাসরি উত্তর চাইতে সেখানে গেছেন।
এর আগে, প্রশ্নপত্র ফাঁস কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে এবং শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কারের একদফা দাবিতে দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) সমর্থিত হাজার হাজার ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী সংসদ ভবনের দিকে ঐতিহাসিক মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে পুলিশি বাধার মুখে সেই মিছিল সংঘর্ষে রূপ নেয়। দিল্লি পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘর্ষ, লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের ঘটনায় পুলিশ সদস্য ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীসহ প্রায় ১৮০ জন আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে আটক ও বিক্ষোভের প্রসঙ্গে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, অতিসংবেদনশীল লোক কল্যাণ মার্গ এলাকায় কোনো প্রকার পূর্বানুমতি ছাড়া বেআইনিভাবে বিক্ষোভ প্রদর্শন করায় আইন অনুযায়ী কংগ্রেস নেতাদের আটক করে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
সূত্র: এনি
প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে মোদির নীরবতা ভঙ্গ: 'ত্রুটিহীন' নিয়োগ পরীক্ষার নির্দেশ
ভারতে বহুল আলোচিত মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (NEET) সহ একাধিক সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দেশজুড়ে তুমুল যুব আন্দোলনের তোপের মুখে অবশেষে মুখ খুলেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। টানা জনবিক্ষোভ ও শিক্ষার্থীদের রাজপথ দখলের প্রেক্ষাপটে ভারতের বিতর্কিত ও ভঙ্গুর নিয়োগ পরীক্ষাব্যবস্থায় জরুরি সংস্কারের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। একই সাথে দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় একটি সম্পূর্ণ ‘ত্রুটিহীন’ ও নির্ভরযোগ্য পরীক্ষাকাঠামো গড়ে তোলার ওপর বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই ২০২৬) ক্ষমতাসীন এনডিএ (NDA) জোটের আইনপ্রণেতাদের নিয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে নরেন্দ্র মোদি স্পষ্ট করে বলেন, ‘দেশের তরুণ ও ছাত্রসমাজের ভবিষ্যৎ যাতে কোনো অবস্থাতেই বিঘ্নিত বা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করতে সরকারকে কঠোর ও ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ নিতে হবে।’
কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্য ও সংসদীয়বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু মোদির বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। উল্লেখ্য, চলতি ২০২৬ সালের গত মে মাসে মেডিকেল কলেজে ভর্তির জাতীয় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর থেকে পুরো ভারতে তোলপাড় শুরু হলেও এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদির এটিই প্রথম প্রত্যক্ষ প্রকাশ্য মন্তব্য। টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে সারা দেশে গড়ে ওঠা এই অভূতপূর্ব যুব বিক্ষোভ নরেন্দ্র মোদি সরকারের জন্য এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) জাতীয় রাজধানী দিল্লিতে হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশী যুবকরা কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান তুলে সংসদ ভবনের দিকে এক বিশাল পদযাত্রা ও মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। আন্দোলনরত পরীক্ষার্থীদের প্রধান ও একদফা দাবি ছিল—নজিরবিহীন এই প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায়ভার মাথায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অনতিবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। আন্দোলনকারী সমন্বয়কদের অভিযোগ, সরকারের চরম অবহেলা ও প্রশ্নফাঁসের কারণে দেশে ২০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থীর জীবন অনিশ্চয়তায় পড়েছে এবং হতাশা সহ্য করতে না পেরে ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকজন মেধাবী শিক্ষার্থী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স (Reuters) তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সোমবারের এই সংসদ ভবনমুখী মিছিলকে কেন্দ্র করে দিল্লির রাজপথে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দিল্লি পুলিশের দফায় দফায় ব্যাপক সংঘর্ষ, লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ নির্মম বলপ্রয়োগ করে। দিল্লি পুলিশের দাবি অনুযায়ী, সংঘর্ষের ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর ১১৮ জন সদস্য এবং ৬০ জন বিক্ষোভকারীসহ অন্তত ১৮০ জন আহত হয়েছেন। তবে আন্দোলনকারীদের পাল্টা দাবি, পুলিশের বেপরোয়া লাঠিচার্জে অন্তত ১৫০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রয়টার্স অবশ্য সততার সাথে জানিয়েছে যে তারা স্বাধীনভাবে এই আহতদের সংখ্যার সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।
জোটের বৈঠকে নরেন্দ্র মোদি দাবি করেন, মে মাসে প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর পাওয়ার পরপরই তাঁর সরকার হাত গুটিয়ে বসে থাকেনি বরং দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে। এই চক্রের মূল হোতাসহ ইতোমধ্যে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ক্ষতি কমাতে অতি দ্রুত পুনঃপরীক্ষার সফল আয়োজন করে নির্ধারিত সময়ে রেজাল্ট প্রকাশ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী একদম পরিষ্কার বার্তা দিয়েছেন—দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ ধ্বংসকারী মূল অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে, সে জন্য একটি আধুনিক, প্রযুক্তিভিত্তিক ও ত্রুটিহীন পরীক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।’
অন্যদিকে, পুলিশের মারমুখী আচরণের পরও পিছু হটছে না ভারতের ক্ষুব্ধ যুবসমাজ। আন্দোলনকারী নেতারা জানিয়েছেন, সরকারের বিরুদ্ধে তাদের এই অহিংস প্রতিবাদ ও লড়াই অব্যাহত থাকবে, তবে কৌশলগত কারণে তারা আপাতত সংসদ ভবনের দিকে আর মিছিল করবেন না। আন্দোলনের অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা অভিজিৎ দিপকে আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা চাই না পুলিশের নির্মম লাঠিচার্জে আর কোনো তরুণ বা ছাত্রী রক্তাক্ত হোক।’ এ সময় মিছিলের দিন নারী বিক্ষোভকারীদের ওপর পুরুষ পুলিশ সদস্যদের হাত তোলার নিন্দনীয় ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
বিতর্কিত এই প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে ভারতে রাতারাতি গড়ে ওঠা তরুণদের সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) বা সিজেপি আন্দোলন গত কয়েক মাসে অভাবনীয় সাড়া ফেলেছে। দেশের কোটি কোটি বেকার তরুণের কর্মসংস্থান ও চাকরির চরম সংকট এবং বারবার সরকারি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসে ক্ষুব্ধ তরুণ প্রজন্মের জমে থাকা তীব্র হতাশাই এই আন্দোলনকে গণবিস্ফোরণে রূপ দিয়েছে বলে মনে করছেন প্রবীণ ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
এর পাশাপাশি, এই যুব আন্দোলনে ঘি ঢেলেছে ভারতের প্রখ্যাত সমাজকর্মী ও ম্যাগসেসে পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব সোনম ওয়াংচুকের সরাসরি সমর্থন ও অনশন কর্মসূচি। গত ২৮ জুন থেকে প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে আমরণ অনশন শুরু করা ওয়াংচুককে গত শনিবার দিল্লি পুলিশ জোরপূর্বক তুলে নিয়ে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করায়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দিল্লি হাইকোর্ট এক নির্দেশে ওয়াংচুককে সরকারি হাসপাতাল থেকে একটি উন্নত বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি দিয়েছে। আন্দোলনকারীদের অন্যতম প্রধান তিনটি দাবির মধ্যে ওয়াংচুকের পূর্ণ মুক্তি অন্যতম।
আন্দোলনকারীদের অপর দুটি মূল দাবি হলো— ব্যর্থতার দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের দ্রুত পদত্যাগ এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের মানসিক আঘাত সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করা প্রায় এক ডজন শিক্ষার্থীর পরিবারের প্রত্যেককে ১ কোটি রুপি করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান করা। সব মিলিয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের এই অনাকাঙ্ক্ষিত কেলেঙ্কারি এখন কেবল একটি শিক্ষাগত সমস্যা নয়, বরং নরেন্দ্র মোদি সরকারের নীতি, তরুণদের ভবিষ্যৎ ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতা নিয়ে ভারতের রাজনীতির সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
/আশিক
দিল্লিতে 'চলো সংসদ' অভিযানে তুলকালাম, ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা আটক
ভারতে চলমান পরীক্ষা পদ্ধতির আমূল সংস্কারের দাবিতে আয়োজিত ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে দিল্লি পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) ভারতের পার্লামেন্টের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনে এই আটকের ঘটনা ঘটে। দলটির কেন্দ্রীয় মুখপাত্র সৌরভ দাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন বলে এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে দেশটির প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া।
সামাজিক মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক জরুরি পোস্টে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে-কে পুলিশ সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে আটক করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গেছে। তিনি আরও দাবি করেন, পুলিশ রাজপথে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর নির্মমভাবে লাঠিচার্জ ও হামলা চালাচ্ছে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মারধর করছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি রাস্তায় নেমে আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর তীব্র আহ্বান জানান তিনি।
জানা গেছে, ভারতের প্রচলিত পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও জালিয়াতি রোধের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) পূর্বঘোষিত এই বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করে। সোমবার সকালে সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর সাথে সাথে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও সিজেপি সমর্থক দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর-মন্তরে এসে সমবেত হন। একপর্যায়ে তারা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে মিছিল নিয়ে সংসদের মূল ভবনের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থা দিল্লি পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীরা সংসদ এলাকার অত্যন্ত উচ্চ নিরাপত্তা বলয় ভেঙে এবং কাঁটাতারের ব্যারিকেড অতিক্রম করে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ও সংসদ ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বাধ্য হয়ে টিয়ার গ্যাস (কাঁদানে গ্যাস) নিক্ষেপ করে এবং সীমিত আকারে বলপ্রয়োগ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এই অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে কিছু সময়ের জন্য ভারতীয় সংসদের কয়েকটি প্রবেশদ্বার সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর মাঠপর্যায়ের খবর অনুযায়ী, সকাল আনুমানিক ১১টা ২৫ মিনিটের দিকে উত্তেজিত বিক্ষোভকারীরা একাধিক নিরাপত্তা ব্যারিকেড জোরপূর্বক অতিক্রমের চেষ্টা করলে পুলিশের সাথে ব্যাপক ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এই সংঘর্ষের ঘটনায় কয়েকজন তরুণ আন্দোলনকারী ও মাঠের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য সামান্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সিজেপির মূল নেতাসহ ১০ থেকে ১৫ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশ ভ্যানে তুলে নেয়।
সংসদ ভবনের ঠিক কাছাকাছি অবস্থিত কনস্টিটিউশন ক্লাব এবং রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (আরবিআই) আশপাশের রাস্তাগুলোতে উত্তেজনা আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। সেখানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করে বিক্ষোভকারীদের চারপাশ থেকে অবরুদ্ধ ও ছত্রভঙ্গ করা হয়। সিজেপি শিবিরের দাবি, আরবিআই ভবনের কাছ থেকেই কেবল তাদের অন্তত ৭ জন সক্রিয় সমর্থককে পুলিশ নির্মমভাবে আটক করেছে।
তবে আন্দোলনকারীদের ওপর দমন-পীড়নের এই গুরুতর অভিযোগটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে দিল্লি পুলিশ। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আরবিআই সংলগ্ন এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কেবল সরকারি নিয়ম মেনে সীমিত মাত্রায় বলপ্রয়োগ করা হয়েছে এবং কোনো ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেনি।
দিল্লি পুলিশের উপকমিশনার (ডিসিপি) সচিন শর্মা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, মাঠের আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অতিরিক্ত বা অপ্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগ করা হয়নি। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
পরবর্তীতে দিল্লি পুলিশ তাদের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডেলে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানায়, যন্তর-মন্তরে পুলিশের সহিংসতা ও আন্দোলনকারীদের ওপর ব্যাপক লাঠিচার্জ ও গণ-আটকের যে খবর বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য। তারা দাবি করে, পুরো সংবেদনশীল পরিস্থিতি অত্যন্ত পেশাদারিত্ব এবং ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবিলা করা হয়েছে। একই সাথে কোনো ধরনের উসকানিমূলক গুজবে কান না দিয়ে রাজধানীর জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সর্বস্তরের জনগণকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানায় পুলিশ প্রশাসন।
এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, ভারতের রাজনীতিতে সম্পূর্ণ নতুন ধারার এই ককরোচ জনতা পার্টিটি চলতি বছরের মে মাসে অভিজিৎ দীপকে কর্তৃক একটি ব্যঙ্গধর্মী (স্যাটায়ারিকাল) ডিজিটাল সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের একটি মামলার শুনানিতে দেওয়া পরজীবী ও তেলাপোকা সংক্রান্ত এক বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে যে তোলপাড় সৃষ্টি হয়, মূলত তার পরই এই দলটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।
অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যেই অভিনব প্রচারণার মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং লাখ লাখ তরুণের অনুসারী পায়। বর্তমানে ভারতের বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা, সমাজকর্মী, প্রখ্যাত শিল্পী ও ক্রীড়াবিদরাও দলটির ছাত্রবান্ধব কর্মসূচির প্রতি নিজেদের নৈতিক সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।
/আশিক
'এ বছরই দেশে ফিরব' এনডিটিভি সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনার বিস্ফোরক ঘোষণা
দুই বছরের দীর্ঘ প্রবাসজীবন এবং দেশে রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হয়েও রাজনৈতিক পুনরুত্থানের ব্যাপারে অনড় অবস্থান ব্যক্ত করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম ‘এনডিটিভি’-কে দেওয়া এক বিশেষ ও বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন, “আমি সব বাধা ও ষড়যন্ত্র অতিক্রম করে এ বছরই দেশে ফিরব।” ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর তাঁর বিরুদ্ধে হওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়কে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ আখ্যা দিয়ে তিনি বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে তীব্রভাবে আক্রমণ করেন। দেশজুড়ে নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করে আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের প্রেক্ষাপটে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে দলটির সাংগঠনিক শক্তি, দেশের বর্তমান অর্থনীতি ও সংখ্যালঘু পরিস্থিতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন তিনি।
সাক্ষাৎকারটির মূল প্রশ্নোত্তরগুলো নিচে তুলে ধরা হলো
প্রশ্ন: আপনার বিরুদ্ধে দেশে মৃত্যুদণ্ডের রায় রয়েছে এবং দল হিসেবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমও নিষিদ্ধ। এই পরিস্থিতিতে এ বছরই আপনার দেশে ফেরার ঘোষণা কতটা বাস্তবসম্মত?
শেখ হাসিনা: আমার দেশে ফেরা কোনো ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা নয়; এটি মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, আইনের শাসন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনরুদ্ধারের লড়াই। আমার বিরুদ্ধে যে রায় দেওয়া হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অবৈধ, অসাংবিধানিক ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফসল। আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করতেই বিচারব্যবস্থাকে হাতিয়ার বানানো হয়েছে। অতীতেও এমন চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে, এবারও হবে।
আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না। ১৯৭৫ সালে আমি আমার পুরো পরিবারকে হারিয়েছি, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলাসহ বহুবার আমাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। জনগণের ভোটে পাঁচবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে আমি দেশের নজিরবিহীন উন্নয়ন করেছি। জীবনের পুরোটা সময়ই আমি দেশের মানুষের জন্য উৎসর্গ করেছি, তাই সব বাধা ভেঙে আমি এ বছরই আমার প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরব।
প্রশ্ন: বর্তমান পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পুনরুত্থান এবং পুনরায় জনসমর্থন ফিরে পাওয়া কতটা সম্ভব?
শেখ হাসিনা: আওয়ামী লীগ কোনো কাগুজে সংগঠন নয়; এটি বাংলার ইতিহাস ও মানুষের হৃদয়ের গভীরে প্রোথিত একটি শক্তি। ৭৭ বছরের পথচলায় দলটি বহুবার নিষিদ্ধ ও হামলার শিকার হলেও প্রতিবারই ফিনিক্স পাখির মতো ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অবৈধ অন্তর্বর্তী সরকারের পর এখন সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বিএনপি সরকারের অধীনে মানুষ বাস্তব চিত্র দেখছে। দেশে এখন গণতন্ত্র নেই, উগ্রবাদ ছড়াচ্ছে, অর্থনীতি পঙ্গু হচ্ছে এবং আমাদের নেতা-কর্মীদের ওপর রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন চলছে। মানুষ এখন বিগত সময়ের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের সাথে বর্তমানের তুলনা করতে পারছে। শাসকের এই নির্যাতনই আওয়ামী লীগকে প্রতিদিন আরও শক্তিশালী করছে। জনগণের শক্তিতেই দল আবার ঘুরে দাঁড়াবে।
প্রশ্ন: দল নিষিদ্ধ এবং নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে হাজারো মামলার মধ্যে এই পুনর্জাগরণ কীভাবে সম্ভব হবে?
শেখ হাসিনা: আওয়ামী লীগের পুনরুত্থান কোনো সরকারের দয়ার ওপর নির্ভর করে না, এটি জনগণের ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। তারা দল নিষিদ্ধ করতে পেরেছে, কার্যালয় বন্ধ করেছে, কিন্তু মানুষের মন থেকে আমাদের মুছে ফেলতে পারেনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চরম নির্যাতনের মধ্যেও দেশের প্রতিটি অঞ্চলে সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আওয়ামী লীগের সমর্থনে মিছিল করছে। আমাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি ঠেকাতে যেভাবে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ মোতায়েন করতে হয়েছে—তাতেই স্পষ্ট যে বর্তমান সরকার আওয়ামী লীগের শক্তিকে কতটা ভয় পায়। বাংলাদেশে প্রকৃত স্থিতিশীলতা ফেরাতে হলে আমাদের ওপর থেকে এই অবৈধ নিষেধাজ্ঞা দ্রুত তুলে নিতে হবে।
প্রশ্ন: আপনি বলেছেন, ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশ তার মৌলিক বৈশিষ্ট্য হারিয়ে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রের মডেলের দিকে যাচ্ছে। এর পেছনে আপনার যুক্তি কী?
শেখ হাসিনা: বাংলাদেশের ভিত্তি ছিল জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। ৫ আগস্টের পর আমরা দেখেছি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর সর্বাত্মক আঘাত। মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করা হয়েছে, ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে অপরাধ বানানো হয়েছে, বঙ্গবন্ধুর বাসভবন ও ভাস্কর্য ভাঙচুর করা হয়েছে।অথচ আমাদের সময়ে ২০২৩ সালে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল 7.25% এবং বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৫তম বৃহৎ অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছিল। আমরা মেগা প্রজেক্টের মাধ্যমে দেশকে উন্নয়নের বৈশ্বিক রোল মডেলে নিয়ে গিয়েছিলাম। এখন সেই উন্নয়নের ধারা ধ্বংস করে দেশে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগই জয়ী হবে জেনেই পরিকল্পিতভাবে দলটিকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা হয়েছে।
প্রশ্ন: আপনার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও দেশে ফেরার বিষয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে পর্দার আড়ালে কোনো গোপন সমঝোতা হয়েছে কি না?
শেখ হাসিনা: জনগণকে বিভ্রান্ত করতে ষড়যন্ত্রকারীরা এই অপপ্রচার চালাচ্ছে। বাংলাদেশের গণতন্ত্র, মানুষের ভোটাধিকার এবং আমাদের রাজনৈতিক অধিকার কোনো গোপন দরকষাকষির বিষয় নয়। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার কোনো দয়া নয়, এটি একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ন্যূনতম শর্ত। একইভাবে, রাজনৈতিক নির্দেশনায় পরিচালিত ট্রাইব্যুনাল বা সাজানো মামলার মাধ্যমে কখনো ন্যায়বিচার হয় না। আওয়ামী লীগ কারও রাজনৈতিক করুণা চায় না, আমরা সংবিধানপ্রদত্ত অধিকার এবং জনগণের সমর্থনের ভিত্তিতেই রাজনীতি করব। কোনো গোপন সমঝোতার প্রশ্নই ওঠে না।
প্রশ্ন: সম্প্রতি বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ও মন্দির ভাঙচুরের ঘটনাগুলোকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
শেখ হাসিনা: এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং গভীর উদ্বেগের। ৫ আগস্টের পর থেকে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান বা সুফি দরগা—কোনোটিই নিরাপদ নয়। সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে কথা বলার কারণে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস এখনও মিথ্যা মামলায় কারাগারে আছেন। ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে সব ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছিল। যারা আজ ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর আঘাত হানছে, তারা শুধু একটি সম্প্রদায়ের শত্রু নয়, তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার চেতনার শত্রু। কোনো নাগরিক যদি তার ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে ভয়ে থাকে, তবে বুঝতে হবে রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে। এই সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদ শুধু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয়, এটি পুরো দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার জন্যই বড় হুমকি।
প্রশ্ন: ভারতে আপনার বর্তমান নির্বাসিত জীবন ব্যক্তিগতভাবে কেমন কাটছে?
শেখ হাসিনা: ১৯৭৫ সালের পর আমার জীবনে ব্যক্তিগত বলে আলাদা কিছু নেই। দেশের এই চরম সংকটময় মুহূর্তে আমি মেঠো মানুষের পাশে থাকতে পারছি না, এটাই আমাকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয়। আমার মন সারাক্ষণ বাংলাদেশেই পড়ে থাকে। প্রতিদিন নেতা-কর্মীদের ওপর নির্মম নির্যাতনের খবর শোনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তবে দূর থেকেও আমি প্রতিদিন দেশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি, আন্তর্জাতিক মহলে মানবাধিকারের চিত্র তুলে ধরছি। আমার সংগ্রাম থামেনি। জনগণের শক্তিতে আমি বিশ্বাস করি এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এই লড়াইয়ে আমি মানুষের পাশেই থাকব।
/আশিক
পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক তোলপাড়: মমতাকে সরিয়ে তৃণমূলের নতুন চেয়ারম্যান অরূপ রায়
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নজিরবিহীন ও নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় তিন দশক আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে যে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল, এখন সেই দলেরই সর্বোচ্চ পদ তথা চেয়ারম্যান পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি তুলেছে দলের একটি ক্ষুব্ধ অংশ। তৃণমূলের এই বিদ্রোহী নেতারা দলটির প্রতিষ্ঠাতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাদ দিয়ে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে হাওড়ার বর্তমান বিধায়ক অরূপ রায়ের নাম ঘোষণা করেছেন।
সোমবার (২২ জুন) কলকাতার নিউ টাউনের একটি অভিজাত হোটেলে তৃণমূলের এই বিক্ষুব্ধ ও বিদ্রোহী শিবিরের এক বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আয়োজিত এই সভায় দলটির বড় একটি অংশ যোগ দেয়। বিদ্রোহী নেতাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই বৈঠকে দলটির প্রায় ৬০ জন বর্তমান বিধায়ক এবং কলকাতা পৌরসভার প্রায় ৭০ জন প্রাক্তন কাউন্সিলর সশরীরে উপস্থিত থেকে এই সিদ্ধান্তের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।
অনুষ্ঠিত এই বৈঠক থেকে দলের ভেতর বড় ধরনের সাংগঠনিক পরিবর্তনের ডাক দিয়ে একটি নতুন জাতীয় কর্মসমিতি গঠনের কথা জানানো হয়। বিক্ষুব্ধ নেতাদের অভিযোগ, দলের নিজস্ব সাংগঠনিক সংবিধান বা গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পরপর জাতীয় কর্মসমিতি পুনর্গঠন করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু ২০২২ সালের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও দলটির ভেতরে এমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দলীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও আইনি বাধ্যবাধকতা বজায় রাখতেই তারা এই নতুন বিকল্প কমিটি গঠনে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি করেন।
ঘোষিত এই নতুন সাংগঠনিক কমিটিতে অরূপ রায়কে চেয়ারম্যান করার পাশাপাশি দলের শীর্ষ স্তরেও বড় রদবদল করা হয়েছে। কমিটির সহ-সভাপতি পদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, রথীন ঘোষ এবং সাবিনা ইয়াসমিনকে। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, জাভেদ খান এবং সন্দীপন সাহা। এছাড়া দলটির নতুন কোষাধ্যক্ষ হিসেবে আখরুজ্জামান আনসারির নাম ঘোষণা করা হয়েছে এবং দলের দীর্ঘদিনের আর্থিক লেনদেন ও কার্যক্রম খতিয়ে দেখতে একটি অডিট বা নিরীক্ষক দল নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিদ্রোহী এই গোষ্ঠীর স্পষ্ট বক্তব্য, তারা দল ভাঙতে চান না বরং দলের ভেতর কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে একটি নতুন এবং গতিশীল নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চান। অপরদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগত ও মূল ধারার নেতারা এই পুরো ঘটনাকে পাত্তাই দিতে চাচ্ছেন না। তাদের পাল্টা দাবি, দলের প্রচলিত গঠনতন্ত্র ও নিয়মকানুন অমান্য করে মুষ্টিমেয় কিছু নেতার নেওয়া এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্তের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা আইনি বৈধতা নেই।
দলীয় বৈধতার প্রশ্ন যা-ই থাক, পশ্চিমবঙ্গের সামগ্রিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই ঘটনাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। যার একক ক্যারিশমা, নেতৃত্ব ও আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার ওপর ভর করে তৃণমূল কংগ্রেসের জন্ম ও ক্ষমতার উত্থান ঘটেছিল, আজ তাঁর নেতৃত্বকেই দলের একটি বড় অংশ সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল। এই নতুন সমীকরণ আগামী দিনে রাজ্যের বিরোধী রাজনীতির মাঠ এবং তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্যকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
/আশিক
মমতাকে বাংলাদেশে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে নতুন বিতর্কে বিজেপির মন্ত্রী
ভারতের সংবিধান ও সরকারকে যদি দেশের কোনো নাগরিক বা রাজনৈতিক নেতা অমান্য করেন, তবে তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এ দেশে না থেকে বাংলাদেশে চলে যাওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বিজেপি নেতা ও মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তা (পিএসও) পরিবর্তনের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দিলীপ ঘোষ এই বিতর্কিত মন্তব্য করেন।
দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিএসও হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন স্বরুপ গোস্বামী ও কুসুম কুমার দ্বিবেদী। সরকারি নিয়ম ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত বুধবার সন্ধ্যায় তাদেরকে সেই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নতুন নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমান রাজ্য সরকারের এই আকস্মিক প্রশাসনিক পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করে ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস।
প্রশাসনিক সূত্র থেকে জানা গেছে, সরকারিভাবে পাঠানো নতুন নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের নিজের দায়িত্বে যোগ দিতে দেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর পরিবর্তে তিনি সরকারি নিরাপত্তা বর্জন করে সম্পূর্ণ নিজস্ব ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে নতুন নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করেছেন। বৃহস্পতিবার সকালে এই সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ প্রশ্ন তোলেন, একসময় সরকার তাকেও দুজন নিরাপত্তারক্ষী দিয়েছিল এবং সরকারি সিদ্ধান্ত মেনে ওনারা দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন সরকারি সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নিজের পছন্দমতো নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগ করবেন?
বিজেপির এই মন্ত্রী আরও যুক্তি দেন যে, যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তখন তিনিও ক্ষমতার আওতায় এই ধরনের প্রশাসনিক বদলি ও নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতেন। কাকে কোন পদে বা কোথায় দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনিই নির্ধারণ করতেন। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান যিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পদে আসীন রয়েছেন, প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী এই ধরনের নিয়োগ ও বদলি ঠিক করার সম্পূর্ণ আইনি ও সাংবিধানিক অধিকার তারও রয়েছে।
দিলীপ ঘোষ বলেন, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী কেবল তার প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। এমতাবস্থায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন এই সরকারি সিদ্ধান্ত মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছন তা বোধগম্য নয়। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কেউ যদি দেশের সংবিধান ও নির্বাচিত সরকারকে অমান্য করেন, তবে তার এই দেশে থাকার কোনো যৌক্তিকতা নেই; তার বরং বাংলাদেশে চলে যাওয়া উচিত।
উল্লেখ্য, এর আগেও বিভিন্ন বিষয়ে মন্তব্য করে রাজনৈতিক মহলে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন দিলীপ ঘোষ। সম্প্রতি পবিত্র ঈদুল আজহায় কলকাতার ঐতিহাসিক রেড রোডে মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের অনুমতি না দেওয়ার পক্ষে যুক্তি দেখাতে গিয়েও তিনি উগ্র মন্তব্য করেছিলেন। সেই সময় তিনি বলেছিলেন, নামাজ পড়তে হলে বাংলাদেশ বা পাকিস্তানে গিয়ে পড়া উচিত, এখানে এসব চলবে না কারণ এখন সরকার পরিবর্তন হয়েছে।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- ১৪৪ ধারার অজুহাতে যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের বাধা
- রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর গ্রেপ্তারের দাবি নাহিদ ইসলামের
- মোদী সরকারের আলোচনার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিল সিজেপি, অনড় যন্তর মন্তরে
- রাষ্ট্রপতির অপসারণকে সুসংবাদ হিসেবে দেখছেন আসিফ মাহমুদ
- কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র বানাতে সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান হচ্ছে
- বিশ্বকাপ ফাইনালে কেপ ভার্দের গোলরক্ষকের পরিবারকে ফ্রি টিকিট উপহার দিয়েছিলেন মেসি
- ককরোচ মুভমেন্টে উত্তাল দিল্লি: প্রশ্নফাঁস কাণ্ডেও কেন অনড় মোদি ও তাঁর শিক্ষামন্ত্রী?
- ৮ জেলায় ঝড়ের পূর্বাভাস: নদীবন্দরগুলোতে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত
- রেকর্ড ছোঁয়ার ২৪ ঘণ্টার মাথায় ধাক্কা: স্বর্ণের পাশাপাশি দর হারাল রুপা ও প্ল্যাটিনাম
- শেখ হাসিনার সঙ্গে গোপন ফোনালাপের খেসারত? পদত্যাগের চাপে রাষ্ট্রপতি
- দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণে চিঠি পাঠালেন নরেন্দ্র মোদি
- আবারও বাড়ল বিশ্ববাজারে তেলের দাম
- তেল রপ্তানি বন্ধ হলে কাউকেই ছাড় দেবে না ইরান
- গ্রেফতারের পর মোদিকে কড়া বার্তা রাহুল গান্ধীর
- আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম
- আইনের ফাঁকফোকর নাকি সংবিধানের দোহাই? বহিষ্কৃত এমপির ভাগ্য নির্ধারণে জটিলতা
- অজুহাত নয়, ব্যর্থতা স্বীকার: পুজাতোয় ফিরে বিশ্বমঞ্চের ফাইনাল হার নিয়ে মুখ খুললেন স্কালোনি
- দেবিদ্বারে ৫ আগস্টের শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষার দাবি
- চীন, রাশিয়া ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে ম্যানিলায় বাংলাদেশের বৈঠকের ঝড়
- বাংলাদেশে ধর্ম নিয়ে বিভাজনের রাজনীতি চলবে না: মন্ত্রী মির্জা ফখরুল
- ফাইনাল শেষে ইয়ামালকে কী বলেছিলেন মেসি? গোপন বার্তা ফাঁস করলেন স্প্যানিশ তরুণ
- মার্কিন-ইরান যুদ্ধ থামাতে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব মধ্যস্থতাকারীদের
- এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় হত্যাচেষ্টা ও মারধরের মামলা
- মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও ফেড সভার প্রভাবে ২ সপ্তাহের উঁচুতে স্বর্ণের বাজার
- এই মোদি সরকারের পতন ঘটাও: আটকের সময় রাহুলকে কানে কানে পুলিশ সদস্যের বার্তা!
- ইরানি ৪টি বিধ্বংসী ড্রোন আকাশে উড়িয়ে দিল জর্ডানের যুদ্ধবিমান
- ফিফা প্রধান থেকে জাতিসংঘ প্রধান? ইনফান্তিনোকে নিয়ে ট্রাম্পের বড় ছক
- ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের উপহার: কাগজ ছাড়াই দেশে আনা যাবে রেমিট্যান্স
- ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার বন্যা সতর্কতা: বিপদসীমা ছুঁইছুঁই উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদী
- নৈতিক স্খলন প্রমাণিত: জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার এমপি গাজী নজরুল
- গাজী নজরুল বিতর্কে ফেসবুকে তাসনিম জারার বক্তব্য
- বেসরকারি হজে কত খরচ? প্রকাশ হলো ৩ প্যাকেজ
- প্রতিদিনের ৫ সুন্নাহ আমল, জান্নাতের আশার পথ
- তারেক রহমানের সভাপতিত্বে শুরু একনেক সভা
- গাজী নজরুলের বিয়ে বিতর্কে নতুন মোড়, ভাইরাল কাজীর অডিও
- স্বর্ণের বাজারে নতুন ধাক্কা, ভরিতে বাড়ল যত
- বুধবার বন্ধ যেসব মার্কেট, বের হওয়ার আগে দেখে নিন
- সৌদি-যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক চুক্তি, কী থাকছে এতে
- পাখির গ্রাম’ খ্যাতি পেয়েছে কুমিল্লার কিশোরনগর
- উচ্চশিক্ষায় ১০ বছর পূর্তি উদযাপন করল ইউকে ম্যানেজমেন্ট কলেজ
- ভিডিও ফাঁসের পর দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি কতটা ইসলামিক?: রাশেদ খাঁনের বিস্ফোরক স্ট্যাটাস
- ২০২৬ বিশ্বকাপের সেরা গোল কোনটা? শুরু হলো ফিফার ভোটিং যুদ্ধ
- ট্রাম্পের হুমকির পরপরই ইরানে টানা ১০ম রাতের হামলা
- শিক্ষার্থী নির্যাতনের জবাব চাইতে গিয়ে বন্দি রাহুল গান্ধী, উত্তাল ভারতের রাজনীতি
- সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপির বিরুদ্ধে সাবেক গাড়ি চালকের গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ
- দেশের ৮ অঞ্চলে গভীর রাতের মধ্যে ঝড়ের পূর্বাভাস, ১ নম্বর সতর্কসংকেত
- এমপি গাজী নজরুলকে আরও ২টি বিয়ে করার পরামর্শ দিলেন রফিক উল্লাহ আফসারী
- আর্জেন্টাইন শিবিরের আচরণে ক্ষুব্ধ বিশ্বফুটবল: শৃঙ্খলাভঙ্গের তদন্ত শুরু করল ফিফা
- প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে মোদির নীরবতা ভঙ্গ: 'ত্রুটিহীন' নিয়োগ পরীক্ষার নির্দেশ
- সব মামলায় জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি
- আবারও বাড়ল বিশ্ববাজারে তেলের দাম
- সৌদি-যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক চুক্তি, কী থাকছে এতে
- তেল রপ্তানি বন্ধ হলে কাউকেই ছাড় দেবে না ইরান
- আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম
- ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার প্রতি সমর্থন নেতানিয়াহুর
- গ্রেফতারের পর মোদিকে কড়া বার্তা রাহুল গান্ধীর
- মেসি কী করলে জিতবেন গোল্ডেন বুট
- ট্রাম্পের স্বাক্ষরের মূল্য নেই, দাবি খামেনির
- স্বর্ণের দামে পরিবর্তন নেই, প্রকাশিত সর্বশেষ তালিকা
- স্বর্ণের বাজারে নতুন ধাক্কা, ভরিতে বাড়ল যত
- তারেক রহমানের সভাপতিত্বে শুরু একনেক সভা
- স্বর্ণ কিনবেন? আগে জেনে নিন আজকের সর্বশেষ দাম
- ২০২৭ হজ প্যাকেজ ঘোষণা, কোথায় কী সুবিধা মিলবে
- মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এক বছর, স্মৃতিতে আজও রক্তাক্ত ২১ জুলাই
- ‘বিধ্বংসী জবাব’ দেবে ইরান, সতর্ক বার্তা যুক্তরাষ্ট্রকে








