ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা থেকে বাদ পড়ছেন কারা, প্রকাশ পেল অযোগ্যতার তালিকা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ৩০ ১৯:০৮:৪৮
ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা থেকে বাদ পড়ছেন কারা, প্রকাশ পেল অযোগ্যতার তালিকা
ছবি : সংগৃহীত

দরিদ্র, অতিদরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে সমন্বিত সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় আনার লক্ষ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬’ আনুষ্ঠানিকভাবে জারি করেছে সরকার। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত এই সমন্বিত নীতিমালার মাধ্যমে ইতিপূর্বে পরীক্ষামূলকভাবে পরিচালিত ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমকে সারা দেশে বৃহৎ পরিসরে পরিচালনার জন্য একটি স্থায়ী আইনি ও প্রশাসনিক রূপরেখা চূড়ান্ত করা হলো। নতুন এই কাঠামোর অধীনে দেশের প্রায় দুই কোটি নারী পরিবার প্রধানের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ‘জিটুপি’ (গভর্নমেন্ট টু পারসন) ডিজিটাল পদ্ধতিতে মাসিক নগদ অর্থ সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী ও নিম্নবিত্ত পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মৌলিক চাহিদা পূরণে ধারাবাহিক সহায়তা দেওয়াই এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের অঙ্গীকার অনুযায়ী একটি বৈষম্যহীন ও মানবিক সামাজিক কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের অংশ হিসেবে ‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’—এই ধারণাকে প্রাধান্য দিয়ে কর্মসূচিটি সাজানো হয়েছে।

এ লক্ষ্যে প্রতিটি পরিবারকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল ডেটাবেজের আওতায় আনতে ‘ওয়ান-আইডি’ ব্যবস্থাকে মূল ভিত্তি ধরা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে জাতীয় তথ্য ব্যবস্থাপনায় একটি সমন্বিত ডেটা গভর্ন্যান্স প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে এবং অনুমোদিত সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজনে তা ব্যবহারের সুযোগ পাবে।

তবে নগদ আর্থিক সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে নীতিমালায় একটি সুনির্দিষ্ট ‘নেগেটিভ লিস্ট’ বা অযোগ্যতার তালিকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার অধীনে আট ধরনের বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তি বা পরিবার এই সুবিধার বাইরে থাকবে।

প্রথমত, সরকার নির্ধারিত পিএমটি স্কোরের ঊর্ধ্বসীমার চেয়ে বেশি স্কোরপ্রাপ্ত পরিবারগুলো এ সুবিধা পাবে না।

দ্বিতীয়ত, পরিবারের মনোনীত নারী প্রধান সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থেকে নিয়মিত বেতন-ভাতা পেলে অথবা এমপিওভুক্ত শিক্ষক বা কর্মচারী হলে তিনি বিবেচিত হবেন না।

তৃতীয়ত, নারী প্রধান যদি নিয়মিত সরকারি পেনশন বা অবসর সুবিধা ভোগ করেন, তবে তিনিও বাদ পড়বেন; যদিও প্রতিবন্ধী সন্তান হিসেবে বিশেষ পেনশন সুবিধা গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে এই শর্ত শিথিল থাকবে।

চতুর্থত, পরিবারের কোনো সদস্যের নামে জাতীয় সঞ্চয়পত্রে পাঁচ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ অথবা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পাঁচ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয় বা মেয়াদি আমানত থাকলে সেই পরিবার অযোগ্য বলে গণ্য হবে।

পঞ্চমত, পরিবারের যেকোনো সদস্যের মালিকানায় সিএনজি, পেট্রোলচালিত ফোর-স্ট্রোক থ্রি-হুইলার, কার, জিপ, পিকআপ, মাইক্রোবাস, বাস, ট্রাক, লরি কিংবা কাভার্ড ভ্যানের মতো বিআরটিএ নিবন্ধিত তিন বা চার চাকার মোটরযান থাকলে কার্ড দেওয়া হবে না।

ষষ্ঠত, কোনো সদস্যের নামে বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান অথবা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে হালনাগাদ লাইসেন্সযুক্ত ব্যবসা থাকলে সুবিধা মিলবে না।

সপ্তমত, পরিবারের কোনো সদস্য নিয়মিত আয়করদাতা হলে এবং তাঁর করযোগ্য আয় থাকলে পরিবারটি সুবিধার বাইরে থাকবে।

অষ্টমত, বসতভিটাসহ মোট আবাদি জমির পরিমাণ শূন্য দশমিক ৫০ একর বা তার বেশি হলে অথবা পাঁচ লাখ টাকার বেশি বাজারমূল্যের অকৃষি বা বাণিজ্যিক জমির মালিকানা থাকলে সংশ্লিষ্ট পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবে না।

নীতিমালা অনুযায়ী, একই সঙ্গে একাধিক সরকারি সুবিধা গ্রহণের কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। ফ্যামিলি কার্ডের জন্য মনোনীত নারী প্রধান একই সময়ে অন্য কোনো মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সমজাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আর্থিক বা খাদ্য সহায়তা গ্রহণ করতে পারবেন না।

ফলে টিসিবির স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভিডব্লিউবি কার্যক্রম কিংবা বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতার মতো নগদ সুবিধা ভোগকারী নারী প্রধানদের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ যাচাইয়ের মাধ্যমে আগের সুবিধাগুলো স্থগিত বা বাতিল করা হবে। তবে মনোনীত নারী প্রধান ছাড়া সংশ্লিষ্ট পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা প্রচলিত নিয়মে অন্যান্য সরকারি ভাতা গ্রহণের সুবিধা বহাল রাখতে পারবেন।

/আশিক


আন্তর্জাতিক মঞ্চে বড় দায়িত্বের মুখে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ৩০ ১৮:২৫:২৬
আন্তর্জাতিক মঞ্চে বড় দায়িত্বের মুখে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস
ছবি : সংগৃহীত

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালনকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে অবস্থান করবেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে মন্ত্রণালয়ের দৈনন্দিন কাজের ধারাবাহিকতা ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ নির্বিঘ্ন রাখতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির তাঁর নির্ধারিত দায়িত্বের বাইরেও সার্বিক প্রশাসনিক ও নীতিগত বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অতিরিক্ত সহায়তা প্রদান করবেন। রোববার (৩০ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক আনুষ্ঠানিক পরিপত্রে এই দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের তথ্য জানানো হয়েছে।

পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬ অনুযায়ী দুই প্রতিমন্ত্রীর কাছে অর্পিত নির্দিষ্ট দায়িত্বাবলির বাইরেও হুমায়ুন কবির অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করবেন। মূলত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ফোরামে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের সময়ে যাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত না হয় এবং দেশের বৈদেশিক নীতির ধারাবাহিকতা বজায় থাকে, সেজন্যই এ আগাম প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সরকার গঠনের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন ড. খলিলুর রহমান।

এর আগে গত ২ জুন জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত গোপন ব্যালট ভোটে সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস এস কাকৌরিসকে ৯৯-৯১ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন ড. খলিলুর রহমান। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে পরবর্তী এক বছরের জন্য তিনি এই বৈশ্বিক দায়িত্বে নিযুক্ত থাকবেন। এই দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে তাঁকে দীর্ঘ সময় নিউইয়র্কসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করতে হবে। বাংলাদেশ ১৯৮৬-৮৭ মেয়াদের পর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই মর্যাদাপূর্ণ নেতৃত্বের পদ অর্জন করল।

উল্লেখ্য, গত ২১ আগস্ট মন্ত্রিসভার রদবদলে হুমায়ুন কবিরকে টেকনোক্র্যাট হিসেবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হয় এবং শামা ওবায়েদ ইসলামও নিজ পদে বহাল থাকেন। পরবর্তীতে ২৩ আগস্টের পরিপত্রে হুমায়ুন কবিরকে প্রতিমন্ত্রী-১ এবং শামা ওবায়েদ ইসলামকে প্রতিমন্ত্রী-২ হিসেবে চিহ্নিত করে মন্ত্রণালয়ের কর্মবণ্টন চূড়ান্ত করা হয়েছিল।

সেই রূপরেখা অনুযায়ী, প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্ক, প্রবাসী বা অনাবাসী বাংলাদেশি সংক্রান্ত বিষয়াবলি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশিত অন্যান্য খাত দেখভালের পাশাপাশি তাঁর অনুপস্থিতিতে সার্বিক কার্যক্রমে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করবেন। অন্যদিকে প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলামের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি, মানবাধিকার, গবেষণা ও উদ্ভাবন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন, সৃজনশীল অর্থনীতি, এলডিসি উত্তরণ, তথ্যপ্রযুক্তি, সমুদ্র আইন, বৈশ্বিক স্বাস্থ্য কূটনীতি এবং সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কূটনীতি সংক্রান্ত বিষয়গুলো।

/আশিক


বিএনপি কাউকে গুম করেনি, ভবিষ্যতেও কাউকে করতে দেবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ৩০ ১৮:১৭:১৮
বিএনপি কাউকে গুম করেনি, ভবিষ্যতেও কাউকে করতে দেবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

বিএনপি সরকার কাউকে গুম করেনি এবং ভবিষ্যতেও কারও গুম হওয়ার সুযোগ দেবে না বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, বিদ্যমান গুমবিরোধী আইনকে আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী করা হয়েছে, যার মাধ্যমে দেশে মৌলিক মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে। রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত আন্তর্জাতিক গুম দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের আমলে সংঘটিত একের পর এক গুমের ঘটনায় শেখ হাসিনার কোনো অনুশোচনা বা অনুতাপ নেই। উল্টো জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানকে ‘জঙ্গি হামলা’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক চরম লজ্জাজনক বিষয়। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের সব গণতন্ত্রকামী মানুষ আজ শেখ হাসিনার অপশাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ এবং অপরাধের দায়ে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগেরও যথাযথ বিচার নিশ্চিত করা হবে।

অতীতের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার স্মৃতিচারণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি নিজে একসময় জোরপূর্বক গুমের শিকার হয়েছিলেন; ফলে ভুক্তভোগী হিসেবে গুমবিরোধী কোনো আইন দুর্বল হোক—তা তিনি কখনোই চাইতে পারেন না। বিএনপি সরকার অতীতে যেমন কাউকে গুমের মুখে ঠেলে দেয়নি, তেমনি ভবিষ্যতেও কাউকে এ ধরনের অপরাধের শিকার হতে দেবে না। তিনি আরও আশ্বস্ত করেন, গুমের শিকার পরিবারের সদস্যরা আদালতে মামলা করলে সরকার তাদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে সব ধরনের সহায়তা দেবে।

সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক বর্জন ও বিরোধী দলের সংসদ কক্ষ ত্যাগের প্রসঙ্গ টেনে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ওয়াকআউট কোনো স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। রাজনৈতিক ও নীতিনির্ধারণী প্রতিটি বিষয়ে সংসদে খোলামেলা আলোচনা হওয়া উচিত। কোনো বিষয় না শুনে বা নিজের বক্তব্য তুলে না ধরে এভাবে ওয়াকআউট করলে জাতি তাদের মূল্যবান মতামত জানা থেকে বঞ্চিত হয়। এছাড়া জুলাই সনদের আলোকেই দেশের সংবিধান সংশোধন করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই সনদের প্রতিটি ধারার সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমেই জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করা হবে।

/আশিক


জ্বালানি সংকট বিগত ১৭ বছরের উত্তরাধিকার: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তিতুমীর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৯ ২১:২৩:১৫
জ্বালানি সংকট বিগত ১৭ বছরের উত্তরাধিকার: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তিতুমীর
ছবি : সংগৃহীত

দেশের চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের মূল কারণ বিগত ১৭ বছরের সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর উত্তরাধিকার এবং মাত্রাতিরিক্ত আমদানিনির্ভর নীতি—এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি জানান, বিদ্যমান জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভরতা কাটিয়ে সৌরসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিস্তার ঘটানো এবং সাধারণ গ্রাহকদের শুধু বিদ্যুৎ ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে উৎপাদকে রূপান্তর করার সমন্বিত রূপরেখা নিয়ে কাজ করছে বর্তমান সরকার।

শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের এনইসি সম্মেলনকক্ষে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের আওতাধীন ফাউন্ডেশনগুলোর ১৮০ দিনের কর্মসূচি বাস্তবায়নের অগ্রগতি, সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার এবং সংস্কার ও উন্নয়নের পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত ফ্রেমওয়ার্ক নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ দর্শনের আলোকেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে সবার কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগকে দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি জানান, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় একটি বিপর্যস্ত অর্থনৈতিক কাঠামো পেয়েছিল। সেই অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠতে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনে পুনরুদ্ধার, উত্তরণ এবং সমৃদ্ধির জন্য পুনর্গঠন—এই তিন ধাপে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে, যার অধীনে ইতোমধ্যে ১৮০ দিনের নানা লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে।

উপদেষ্টা জানান, সরকারের উন্নয়ন কৌশল বাস্তবায়নে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ফাউন্ডেশনগুলো পাঁচটি ক্লাস্টারে ভাগ হয়ে কাজ করবে। এর মধ্যে প্রথম সিদ্ধান্ত হিসেবে ‘এক গ্রাম, এক পণ্য’ উদ্যোগের মাধ্যমে সারা দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ফাউন্ডেশনগুলোকে। বিগত সরকারের ত্রুটিপূর্ণ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কারণে দারিদ্র্য ৮০ লাখ থেকে এক কোটি পর্যন্ত বেড়েছিল দাবি করে তিনি বলেন, বর্তমান সমন্বিত পরিকল্পনায় তেমন ব্যর্থতার সুযোগ থাকবে না।

দ্বিতীয়ত, বিদ্যুৎ খাতে গ্রাহকদের উৎপাদকে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তৃতীয়ত, ভেঙে পড়া স্বাস্থ্য খাতকে ঢেলে সাজাতে বাজেটে বড় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলো ২০ শয্যা এবং পরবর্তীতে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে তা ৫০ শয্যায় উন্নীত হওয়ার পর আর কোনো সম্প্রসারণ হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১৫০ শয্যায় রূপান্তরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

চতুর্থ পদক্ষেপ হিসেবে আজীবন মেয়াদি সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমের রূপরেখা তুলে ধরে ড. তিতুমীর জানান, এর আওতায় দেশের প্রতিটি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে সরাসরি অধিকারভোগী হিসেবে নিবন্ধিত করা হবে এবং এ খাতের বিকল্প অর্থায়নে জাকাতের তহবিলকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পঞ্চম বিষয় হিসেবে বাস্তবায়নের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) একটি ডিজিটাল ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের দেওয়া প্রতিশ্রুতির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবে। ফাউন্ডেশনগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবেই এসব দায়িত্ব গ্রহণে অঙ্গীকার করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত প্রসঙ্গে ড. তিতুমীর জানান, সরকার ভারসাম্যপূর্ণ জ্বালানি মিশ্রণ গড়ে তুলতে চায়। আগামী পাঁচ বছরে ৫ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সরকারি লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সংশ্লিষ্ট ফাউন্ডেশনগুলো ইতোমধ্যে ২ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া গত ছয় মাসে ঝুলে থাকা ৩০০টির বেশি নেট-মিটারিং আবেদন নিষ্পত্তি করে জাতীয় গ্রিডে ২০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করা হয়েছে।

সৌরবিদ্যুৎ প্রসারে বাজেটে বরাদ্দকৃত দুই হাজার কোটি টাকা আইডকল এবং বিআইএফএফএলের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে, যেখানে উৎপাদককে ২০ শতাংশ ও পিকেএসএফের সহযোগী এনজিওর মতো কোনো অ্যাগ্রিগেটরকে ২০ শতাংশ অর্থ দিতে হবে এবং সরকার ৬০ শতাংশ ঋণ সহায়তা দেবে। এতে ঋণের সুদের হার কমে ৬ থেকে ৭ শতাংশে নেমে আসবে। তুলনামূলক ব্যয় বিশ্লেষণ করে তিনি বলেন, যেখানে দেশীয় গ্যাসে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ ৪ থেকে ৫ টাকা, সেখানে এলএনজি দিয়ে উৎপাদনে খরচ দাঁড়ায় ৬৪ টাকা; ফলে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন বাড়লে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকির সাশ্রয় হবে।

শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, পাঁচ বছরের করকাঠামোর ধারাবাহিকতা, নিয়ন্ত্রণমুক্ত পরিবেশ ও দ্রুত অনুমোদন ব্যবস্থা, অর্থায়নের উৎস, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ—বিনিয়োগকারীদের এই পাঁচটি প্রধান চাহিদাকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। পাশাপাশি বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় সচল করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিলের ব্যবস্থা করেছে, যার আওতায় ৪০টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে আগামী সেপ্টেম্বর থেকেই ঋণ বিতরণ শুরু হবে এবং ঋণের সুদের পার্থক্যজনিত ব্যয় বহন করবে অর্থ বিভাগ।

২০৩০ সালের মধ্যে রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশ এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশে উন্নীত করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির অভীষ্ট লক্ষ্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাসের সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।

/আশিক


রাজধানীর ট্রাফিক ও পরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রধানমন্ত্রীর একগুচ্ছ কঠোর সিদ্ধান্ত

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৯ ১৯:৩৭:৩৪
রাজধানীর ট্রাফিক ও পরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রধানমন্ত্রীর একগুচ্ছ কঠোর সিদ্ধান্ত
ছবি : সংগৃহীত

সড়কে অনুমোদনহীন ডাবল ডেকার স্লিপার কোচ চলাচলের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২৯ আগস্ট) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনি এই নির্দেশনা দেন। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি শাহাদাৎ স্বাধীন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

রাজধানীর সার্বিক যানজট নিরসন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক রূপ দেওয়া এবং গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এ সময় ঢাকা মহানগরের ট্রাফিক পরিস্থিতি, প্রধান প্রধান সড়ক ও উড়ালসেতুতে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণ, গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা, বিদ্যমান বাস টার্মিনালগুলোর পুনর্বিন্যাস এবং কার্যকর পার্কিং সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে উড়ালসেতু ও এক্সপ্রেসওয়ের টোল প্লাজাগুলোতে স্বয়ংক্রিয় ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) ব্যবস্থা চালুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই প্রযুক্তিগত সেবা নির্বিঘ্ন করতে একটি বিশেষ অ্যাপ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যার উন্নয়নকাজ আগামী চার মাসের মধ্যে শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ফ্লাইওভার ও এর সংলগ্ন এলাকার দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনের উপায় নিয়েও বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়।

ঢাকার অভ্যন্তরীণ পরিবহন ব্যবস্থাকে সুশৃঙ্খল করতে ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনালটি কেরানীগঞ্জে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই স্থানান্তর কার্যক্রমের অংশ হিসেবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জমি অধিগ্রহণ করে চূড়ান্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। তবে স্থায়ী টার্মিনাল নির্মাণে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হওয়ায় অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে আগামী চার মাসের মধ্যেই ঝিলমিল প্রকল্পের ১৫ একর জমিতে একটি অস্থায়ী বাস টার্মিনাল তৈরির সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

এর পাশাপাশি গাবতলী বাস টার্মিনালের পরিধি সম্প্রসারণ, কারওয়ান বাজারের পাইকারি কাঁচাবাজার (কিচেন মার্কেট) গাবতলীতে সরিয়ে নেওয়া, সচিবালয় এলাকার আশপাশে সুশৃঙ্খল পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা এবং রাজধানীজুড়ে অটোরিকশা চলাচলের জন্য একটি আলাদা সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়েও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম। এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নেন।

/আশিক


বিদ্যুৎ সংকট অব্যাহত: সন্ধ্যার পিক আওয়ার নিয়ে নতুন পূর্বাভাস

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৯ ১৮:১৯:৩২
বিদ্যুৎ সংকট অব্যাহত: সন্ধ্যার পিক আওয়ার নিয়ে নতুন পূর্বাভাস
ছবি : সংগৃহীত

বিদ্যুতের উৎপাদন ঘাটতি অব্যাহত থাকায় শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যার পিক আওয়ারে সারাদেশে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৭০৩ মেগাওয়াট লোডশেডিংয়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। অঞ্চলভিত্তিক হিসাবে এদিন সবচেয়ে বেশি লোডশেডিংয়ের মুখে পড়তে যাচ্ছে রাজধানী ঢাকা, যেখানে ঘাটতির পরিমাণ ধরা হয়েছে প্রায় ৬৯৮ মেগাওয়াট।

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি) প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করে এই চিত্র পাওয়া গেছে।

পিজিসিবির তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যার পিক সময়ে ঢাকায় ৬৯৮ মেগাওয়াট ছাড়াও ময়মনসিংহ ও খুলনা অঞ্চলে ৩৫০ মেগাওয়াট করে এবং কুমিল্লা অঞ্চলে ৩১৫ মেগাওয়াট লোডশেডিং হতে পারে। এছাড়া রাজশাহীতে ৩০০, রংপুরে ২৫০, চট্টগ্রামে ১৯০, সিলেটে ১৫০ এবং বরিশাল অঞ্চলে ১০০ মেগাওয়াট লোডশেডিংয়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

অঞ্চলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাজধানীর পর ময়মনসিংহ ও খুলনা অঞ্চল সবচেয়ে বেশি লোডশেডিংয়ের ঝুঁকিতে রয়েছে। সার্বিকভাবে বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে শনিবার সন্ধ্যায় দেশজুড়েই লোডশেডিংয়ের বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছে পিজিসিবি।

/আশিক


আত্মত্যাগীদের পরিবারের পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৯ ১৮:১৪:৫৮
আত্মত্যাগীদের পরিবারের পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর
আজ শনিবার দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : পিএমও

গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ ও ভুক্তভোগীদের প্রত্যাশা পূরণে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, সীমিত সম্পদের মধ্যেও গুম-খুন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত ও শহীদ পরিবারগুলোর পাশে সরকার অতীতে ছিল, বর্তমানে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। গুম-খুনের শিকার পরিবার এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত ও শহীদ পরিবারের ৭৪ জন সদস্যের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিতে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই আত্মত্যাগীদের মহান বিনিময়েই দেশের ২০ কোটি মানুষ স্বৈরশাসন থেকে মুক্তি পেয়েছে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে পরবর্তী গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ও চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানে আত্মদানকারীদের লক্ষ্য ও চেতনা বাস্তবায়নে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সরকারের এই সহায়তা কোনো করুণা নয়; বরং তাঁদের সীমাহীন ত্যাগই সরকারের পথচলার মূল শক্তি ও উদ্দীপনার উৎস।

অনুষ্ঠানে শহীদ ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা তাঁদের আবেগঘন অনুভূতি প্রকাশ করেন। এ সময় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, হাসান শিপলু, সুজাউদ্দৌলা, শাহাদাৎ স্বাধীন, সহকারী প্রেস সচিব একেএম নাজমুল হক, শাহরিয়ার পামির এবং 'আমরা বিএনপি পরিবার'-এর সদস্য মোকছেদুল মোমিন মিথুনসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: বাসস


দুদকের দুই মামলায় খালাস পেলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৭ ২১:৪৯:৫১
দুদকের দুই মামলায় খালাস পেলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী
ছবি : সংগৃহীত

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা পৃথক দুটি দুর্নীতি মামলায় খালাস পেয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩-এর বিচারক মুহাম্মদ কামরুল হাসান খান এই রায় ঘোষণা করেন। আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর আইনজীবী মহিউদ্দিন চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, রাজধানীর গুলশান, ধানমণ্ডি ও শান্তিনগর এলাকার ১৮টি পরিত্যক্ত সরকারি বাড়ি নিলামে বিক্রির ক্ষেত্রে অনিয়ম, দরপত্রে কারচুপি ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারের ১২৭ কোটি ৬৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৯ টাকা আর্থিক ক্ষতির অভিযোগে ২০০৭ সালে মোট ১৫টি মামলা দায়ের করে দুদক।

এসব মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মির্জা আব্বাসসহ ১২ জনকে প্রতিটি মামলায় আসামি করা হয়। অন্য আসামিদের তালিকায় ছিলেন এস এম জাফর উল্লাহ, মো. এমদাদুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী, গোলাম নবী, কাজী রিয়াজুল মনির, জিয়াউদ্দিন আহমেদ, আব্দুস সাদেক, হুমায়ুন খান, মীর মোশাররফ হোসেন, ইকবাল উদ্দিন চৌধুরী ও মো. শহীদ আলম।

এ ছাড়া এই ১৫টি মামলার মধ্যে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুটি এবং মেহেদী হাসান, শফিকুর রহমান কিরন, নুরুচ্ছাফা, মো. শুকুর মিয়া, হাসনা আহমেদ ও আলী হায়দার চৌধুরীকে পৃথক মামলায় আসামি করা হয়েছিল।

দুদকের এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছিল, রাজউকের মাধ্যমে সাজানো দরপত্রে কারচুপি করে পছন্দের ব্যক্তিদের কাছে নামমাত্র মূল্যে এসব বাড়ি বিক্রি করা হয়। এতে তৎকালীন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রভাব খাটিয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকৌশলীদের নির্ধারিত উচ্চমূল্য উপেক্ষা করে কম মূল্যের দরপত্র অনুমোদন দেন বলে দাবি করা হয়। এসব ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছিল।

/আশিক


অর্থসংকটে অনিশ্চিত মেডিকেল ভবিষ্যৎ: শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৭ ২১:২১:৫৫
অর্থসংকটে অনিশ্চিত মেডিকেল ভবিষ্যৎ: শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী
ফাতেমা খানমের হাতে সহায়তা তুলে দেন ‍প্রধানমন্ত্রী। ছবি: বিএনপির ফেসুবক পেজ

অর্থসংকটে লেখাপড়া বন্ধের ঝুঁকিতে পড়া অসচ্ছল মেডিকেল শিক্ষার্থী মোছা. ফাতেমা খানমের পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়ে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী ফাতেমা খানমের হাতে ৫ লাখ টাকার আর্থিক অনুদান তুলে দেন।

নাটোরের বাসিন্দা মেধাবী শিক্ষার্থী মোছা. ফাতেমা খানম নিজের মেধার স্বাক্ষর রেখে সম্প্রতি চীনের একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ অর্জন করেন। তবে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় পরিবারের চরম অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা ও প্রয়োজনীয় অর্থের সংকট।

মেধাবী এই শিক্ষার্থীর সংকটের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসার পর তাঁর মেডিকেল শিক্ষার প্রাথমিক খরচ নির্বাহের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে এই ৫ লাখ টাকার সহায়তা প্রদান করা হয়। অনুদানের অর্থ তুলে দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দেন যে, বিদেশে ফাতেমার পড়াশোনা নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাওয়ার স্বার্থে ভবিষ্যতে আরও সহায়তার প্রয়োজন হলে তা প্রদান করা হবে।

/আশিক


বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানালেন বিশ্বনেতা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৭ ২০:২০:৪৪
বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানালেন বিশ্বনেতা
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্ব ইউরোপ ও সিআইএস (সিআইএস) উইংয়ের মহাপরিচালক এস এম মাহবুবুল আলমের সঙ্গে এক আনুষ্ঠানিক বৈঠকে মিলিত হন। এ সময় তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পক্ষ থেকে প্রেরিত এই বিশেষ অভিনন্দনপত্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন।

ঢাকাস্থ রাশিয়ান দূতাবাসের এক বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দায়িত্বভার গ্রহণ করায় তাঁর সফলতা কামনা করে এই কূটনৈতিক বার্তা ও শুভেচ্ছা পাঠিয়েছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান।

/আশিক

পাঠকের মতামত: