হালিশহরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িতে ইট-পাথর নিক্ষেপ, প্রাণরক্ষার দাবি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। রোববার হালিশহর এলাকায় বিক্ষোভের মুখে পড়লে তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা ইট ও পাথর ছোড়ে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এনডিটিভির বরাতে জানা যায়, পুলিশের হেফাজতে মারা যাওয়া দলীয় এক কর্মীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে হালিশহরে যাচ্ছিলেন তিনি।
হালিশহরে পৌঁছানোর পর বিক্ষোভকারীরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি ঘিরে ধরে এবং ‘চোর ভাগাও’ স্লোগান দিতে থাকে। এ সময় গাড়িতে কাদা ছোড়ার পাশাপাশি জুতা ও পানির বোতল নিক্ষেপ করা হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।
ঘটনার পর সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে মমতা বলেন, গাড়ির জানালা বন্ধ না থাকলে ইট ও পাথরের আঘাতে তাঁর মাথা ফেটে মারাত্মক অঘটন ঘটতে পারত। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, পুলিশের উপস্থিতিতেই বাইরে থেকে আসা কিছু সমাজবিরোধী উপাদান তাঁর গাড়িতে পাথর ছুড়েছে এবং পুলিশ তাঁকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে গাড়িতে থাকা তৃণমূলের লোকসভা সদস্য কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যসভার সদস্য দোলা সেনও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে, পুলিশের সহায়তায় বিরোধী দলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী পুরো বিষয়টি পরিচালনা করছেন।
তবে এই হামলার ঘটনায় দলীয় সম্পৃক্ততার অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এ ধরনের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, তাঁদের দল এই ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবে জড়িত নয়। একই সঙ্গে ঘটনাটির তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সূত্র: এনডিটিভি
বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে যাওয়া সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব নিয়ে বড় বার্তা
বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে ভারতে যাওয়া সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব প্রদানের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গত শুক্রবার (৬ নভেম্বর) নদীয়ার আরংঘাটায় একটি কালীপুজো মণ্ডপ উদ্বোধন করতে গিয়ে তিনি জানান, আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বা সিএএ-র (CAA) আওতায় সমস্ত যোগ্য আবেদন নিষ্পত্তি করে নাগরিকত্বের শংসাপত্র প্রদান করা হবে। তাঁর দাবি, বর্তমানে শুধু নদীয়া এবং উত্তর ২৪ পরগনা জেলাতেই প্রায় আড়াই লক্ষ আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, নাগরিকত্ব দেওয়ার এই কাজ দ্রুত শেষ করতে প্রশাসনিক স্তরে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ করা হয়েছে এবং কোনো যোগ্য আবেদনকারী যাতে বাদ না পড়েন, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে ঝুলে থাকা আবেদনগুলোর নথি যাচাই ও শুনানির প্রক্রিয়া নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই শেষ করতে চায় রাজ্য সরকার। সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসকদের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং মহকুমাশাসকদের তত্ত্বাবধানে এই নথি যাচাই ও শুনানি সম্পন্ন হবে। প্রশাসনিক সমন্বয়ের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই কাজ শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ১ নভেম্বর উত্তর ২৪ পরগনার ঠাকুরনগরে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক মতুয়া গোঁসাই সম্মেলনেও একই সময়সীমার কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তিনি দাবি করেন, রাজ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ সিএএ-র মাধ্যমে নাগরিকত্ব লাভ করেছেন। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ থেকে যাওয়া মতুয়া সহ বিভিন্ন উদ্বাস্তু সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে নাগরিকত্বের বিষয়টি দীর্ঘদিনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দাবি। বিশেষ করে নদীয়া ও উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এই ইস্যুর সামাজিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব অনেক বেশি। ফলে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে আড়াই লক্ষ আবেদন নিষ্পত্তির এই ঘোষণা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে কেবল আবেদন করলেই নাগরিকত্ব নিশ্চিত নয়, সিএএ-র নির্ধারিত শর্ত পূরণ এবং সঠিক নথি যাচাইয়ের পরেই কেবল যোগ্য আবেদনকারীরা নাগরিকত্বের শংসাপত্র হাতে পাবেন।
/আশিক
বাংলাদেশের পরিস্থিতি ও শ্রমিক বিক্ষোভের ওপর ভারত নজর রাখছে: রণধীর জয়সওয়াল
ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআই-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাক্ষিক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ ও সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছি। সেখানে নানা ঘটনাবলি ঘটছে এবং আমরা সেসব ঘটনার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করে যাচ্ছি। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমরা একটি ইতিবাচক, ভবিষ্যৎমুখী ও গঠনমূলক সম্পর্কের অভিমুখে কাজ করতে চাই।
এদিকে বাংলাদেশে ন্যূনতম মজুরি বারো হাজার পাঁচশো টাকা থেকে বাড়িয়ে ত্রিশ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ মঙ্গলবার চতুর্থ দিনে গড়িয়েছে। বিশেষ করে ঢাকার মিরপুর এলাকায় সকালে কিছু কারখানা আংশিক চালু হলে শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে আসেন, যা নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে গঙ্গা পানি চুক্তিসহ দ্বিপক্ষীয় নদী ব্যবস্থাপনার বিষয়টি উঠে এলে রণধীর জয়সওয়াল জানান, আন্তঃসীমান্ত নদী সংক্রান্ত যেকোনও আলোচনা নির্ধারিত দ্বিপক্ষীয় কাঠামোর মাধ্যমেই পরিচালিত হবে। তিনি বলেন, আমি আগেও বলেছি, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যৌথ নদী কমিশন রয়েছে। গঙ্গাসহ সব আন্তঃসীমান্ত নদীর বিষয়ে আলোচনার জন্য এটিই আনুষ্ঠানিক ও কাঠামোবদ্ধ মাধ্যম।
এ ছাড়া ঢাকা ও নয়া দিল্লির মধ্যে আসন্ন উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগের বিষয়ে মুখপাত্র জানান, বাংলাদেশের নেতৃত্বের কাছে ভারতের পক্ষ থেকে একটি স্থায়ী আমন্ত্রণ রয়েছে। জয়সওয়াল বলেন, আমরা ইতোমধ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছি। এই বিষয়ে কোনও নতুন আপডেট থাকলে তা আপনাদের সময়মতো জানানো হবে।
/আশিক
প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে জেলে পাঠানোর হুংকার রাহুল গান্ধীর
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারকে তাঁর পদ থেকে অপসারণ করা হবে এবং ভবিষ্যতে তাকে কারাগারেও যেতে হবে বলে অত্যন্ত কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ইভিএম ও ভোটার তালিকা কারচুপির মাধ্যমে ভোট চুরির গুরুতর অভিযোগ তুলে এই মন্তব্য করেন তিনি।
রোববার (১ নভেম্বর) দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র আয়োজিত এক বিশাল মহাসমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় রাহুল গান্ধী এই মন্তব্য করেন। নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (এসআইআর) কর্মসূচি ও বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে আয়োজিত ‘চলো দিল্লি’ পদযাত্রা শেষে এই মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে রাহুল গান্ধী আরও অভিযোগ করেন, ভোট চুরি কেবল সাধারণ কোনো অপরাধ নয়, বরং এটি ভারতের সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর কেড়ে নেওয়ার শামিল, যা এক ধরনের ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’।
জ্ঞানেশ কুমারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছাড়া নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহের ক্ষমতায় বসা অসম্ভব ছিল দাবি করে তিনি ২০২৪ সালের নির্বাচনকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দেন। তার মতে, নির্বাচনের পর ভোটার তালিকা থেকে সুকৌশলে ১৫ শতাংশ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, অথচ গত নির্বাচনে এনডিএ জোট ও বিরোধীদের ভোটের ব্যবধান ছিল মাত্র ৩ শতাংশ। সমাবেশে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেসহ সোনিয়া গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবসহ বিরোধী জোটের শীর্ষ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, রাহুল গান্ধীর এই বিস্ফোরক অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে পাল্টা অবস্থান নিয়েছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। একই দিনে হরিয়ানার ফরিদাবাদে বিজেপির ‘লোকতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ পদযাত্রায় অংশ নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান অভিযোগ করেন যে, কংগ্রেস ও রাহুল গান্ধী দেশের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর থেকে পুরোপুরি আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন। এছাড়া গোয়ায় এক সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত দাবি করেন, রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে বিরোধীরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি করছে।
তিনি জানান, গত দুই দশকে প্রায় ৪০ কোটি মানুষের স্থানচ্যুতি ঘটেছে এবং প্রায় ২০ কোটি ভোটারের মৃত্যু হয়েছে; যার ফলে স্বচ্ছতা আনতেই ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি ভুয়া বা অনুপযুক্ত নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। স্বচ্ছ ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে এই সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বিজেপি নেতারা পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, কংগ্রেস আদতে পরিচ্ছন্ন ভোটার তালিকা ও নির্বাচনী স্বচ্ছতার পক্ষেই আছে কি না, তা জাতির সামনে পরিষ্কার করা উচিত।
সূত্র: এনডিটিভি
ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে ভারতে তীব্র রাজনৈতিক সংকট
ভারতের নির্বাচন কমিশনের প্রধান জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে ১৩ কোটিরও বেশি মানুষের নাম বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে রাজধানী নয়াদিল্লিতে হাজারো মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। রোববার (১ নভেম্বর) বিরোধী দলগুলোর নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন কংগ্রেস নেতা ও বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। রয়টার্স ও আল জাজিরার প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপিকে রাজনৈতিক সুবিধা দেওয়ার জন্যই ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম কেটে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘু ভোটাররা এই প্রক্রিয়ায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর প্রতিবাদে ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানের দিকে মিছিল নিয়ে যান বিক্ষোভকারীরা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রামলীলা ময়দান ও আশপাশের এলাকায় শত শত পুলিশ সদস্য এবং দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের যানবাহন মোতায়েন করা হয়।
সমাবেশে রাহুল গান্ধী প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করে বলেন, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া নাগরিকদের কণ্ঠস্বর চুরি করা এবং জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। তবে নির্বাচন কমিশনের দাবি, তালিকা হালনাগাদ করার উদ্দেশ্য কেবল দ্বৈত নাম ও অযোগ্য ব্যক্তিদের বাদ দেওয়া। রাজনৈতিক দলগুলোর কোনো পক্ষ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে কমিশন জানিয়েছে, ভুলবশত যাদের নাম বাদ পড়েছে, তারা পুনরায় নিবন্ধনের সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন বিজেপি বিরোধীদের এই আন্দোলনকে ‘সুপরিকল্পিত নাটক’ ও গণতন্ত্রকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র বলে আখ্যা দিয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স ও আলজাজিরা
দিল্লিতে নতুন মুচলেকায় স্বাক্ষর করে শর্তসাপেক্ষ জামিন পেলেন সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকে
নতুন একটি শান্তি রক্ষা মুচলেকায় (পিস বন্ড) স্বাক্ষর করার পর শর্তসাপেক্ষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান অভিজিৎ দীপকে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দিল্লি পুলিশ তাকে মুক্তি প্রদান করে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায়, গত শুক্রবার দিল্লির কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে দলীয় কর্মসূচি ‘লেহরা দো তেরঙ্গা’-তে অংশ নিতে যাওয়ার পথে ঝান্ডেওয়ালানে নিজ বাসভবনের সামন থেকে অভিজিৎ দীপকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর আগে গত ১০ অক্টোবর দিল্লি বিমানবন্দরে আটক হওয়ার পর তিনি এক বছরের জন্য শান্তি বজায় রাখার একটি অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করেছিলেন। পুলিশ অভিযোগ তোলে যে, শুক্রবারের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে তিনি পূর্বে গৃহীত সেই মুচলেকার শর্তাবলি স্পষ্ট লঙ্ঘন করেছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই শনিবার সকালে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
পরবর্তীতে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১২৬ ও ১৭০ ধারায় বিশেষ প্রশাসনিক ম্যাজিস্ট্রেট (এসইএম) আদালতে তাকে পেশ করা হয়। আদালতে সিজিপির আইনি বিষয়াবলির প্রধান রত্না সিং এই গ্রেপ্তারের তীব্র বিরোধিতা করেন এবং এটিকে মৌলিক অধিকারের ওপর চরম আঘাত বলে আখ্যা দেন। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, সাধারণ নাগরিকদের শান্তিপূর্ণভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের আহ্বান জানানো কোনোভাবেই অপরাধ হতে পারে না। শুনানি শেষে বিচারক শর্তসাপেক্ষ জামিন মঞ্জুর করলে নতুন আরেকটি মুচলেকায় স্বাক্ষর করে কারামুক্ত হন অভিজিৎ।
উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা পুনর্নিরীক্ষণ কর্মসূচির (এসআইআর) প্রতিবাদে দিল্লির একাধিক স্থানে বিরোধী দলগুলোর বিক্ষোভ চলছিল। সেন্ট্রাল দিল্লি এলাকায় কড়া প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও আন্দোলনকারীরা সেন্ট্রাল পার্কের অভিমুখে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ ব্যাপক অভিযান চালায়। সেই সময় অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সভাপতি নেহা বোরাসহ প্রায় ১৫০ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়। নেহা বোরাকে শনিবার সকালে ছেড়ে দেওয়া হলেও সিজিপির নেতাকর্মী সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাসহ একাধিক ব্যক্তি এখনও পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
লোকসভার বিরোধী দলের নেতা রাহুল গান্ধীর আমন্ত্রণে বিশেষ বৈঠকে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নেতারা
লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা ও কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতা, বিরোধী এমপি, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মঙ্গলবার এক বিশেষ চা-চক্রে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দেওয়া একটি পোস্টে তিনি নিজেই এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ইনস্টাগ্রামে নিজের ভেরিফায়েড হ্যান্ডলে দেওয়া ওই পোস্টে রাহুল গান্ধী লিখেছেন, আজ তিনি তাঁর বাসভবনে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নেতা, বিরোধী দলের সংসদ সদস্য, ছাত্রসংগঠন ও সুশীল সমাজের বন্ধুদের চা পানের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। গণতন্ত্র রক্ষার এই অবিরাম গণআন্দোলনে তারা সবাই সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ আছেন এবং এই লড়াই সর্বতোভাবে অব্যাহত থাকবে বলেও অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি। চা চক্রের এই আনুষ্ঠানিকতা শেষে আমন্ত্রিত নেতারা গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মুখোমুখি কথা বলবেন বলে জানা গেছে।
মূলত বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র বিতর্কের মাঝেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। গত কিছু সময় ধরে রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী দলগুলো প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের জোরালো দাবি জানিয়ে আসছে।
ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এ প্রকাশিত একটি চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে মূলত এই পদত্যাগের দাবি তুলেছে বিরোধীরা। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, গত বছর বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (এসআইআর) অভিযান পরিচালনার সময় নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনারদের অনেক কিছু জানানোই হয়নি। শুধু তা-ই নয়, দুই নির্বাচন কমিশনার নাকি বারবার এই ধরনের একতরফা সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন, যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।
/আশিক
দিল্লিতে আটক নারী আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে চলমান বিক্ষোভ দমনের সময় আটক নারী আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, পুলিশের গাড়িতে তোলার পর নারী পুলিশ সদস্যরা তাদের শারীরিক নির্যাতন করেছেন। এমনকি তাদের গলা চেপে ধরা, বুক ও সংবেদনশীল স্থানে আঘাত করার মতো গুরুতর অভিযোগও তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যম ‘স্ক্রল ডট ইন’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নরিন নামের এক নারী বিক্ষোভকারী এসব অভিযোগ প্রকাশ্যে আনেন। তিনি ওয়ার্কার্স পার্টি অব ইন্ডিয়ার একজন সদস্য। তার বর্ণনা অনুযায়ী, গত রোববার মধ্য দিল্লিতে তারা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছিলেন। এমন সময় পুলিশ এসে সেখান থেকে ১৬ জনকে জোরপূর্বক আটক করে একটি ভ্যানে তোলে। আটককৃতদের মধ্যে ১৫ জনই নারী ছিলেন বলে তিনি জানান।
নওরিন অভিযোগ করেন, ভ্যানে তোলার পরপরই নারী পুলিশ সদস্যরা তাদের ওপর চড়াও হন এবং মারধর শুরু করেন। ‘দিশা স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন’-এর সদস্য শারন্যাকে ভ্যানের মেঝেতে ফেলে এক নারী পুলিশ সদস্য তার গলা চেপে ধরেন বলে তিনি জানান। এ সময় কনুই দিয়েও শারন্যাকে আঘাত করা হয়। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে পুলিশ তাকে চিকিৎসার জন্য অন্য কোথাও নিয়ে যায় বলে নওরিন উল্লেখ করেন।
শুধু তাই নয়, ভ্যানে থাকা অন্যান্য নারী বিক্ষোভকারীদের বুকে ও যৌনাঙ্গেও আঘাত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। আকস্মিক এই পুলিশি অভিযানের সময় আন্দোলনকারীদের বেশ কয়েকটি মোবাইল ফোনও বলপূর্বক কেড়ে নেওয়া হয়।
তবে নারী বিক্ষোভকারীদের ওপর এই শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করাও সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, বিশেষ নিবিড় পর্যালোচনা (এসআইআর) কার্যক্রম ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে গত শনিবার ও রবিবার ককরোচ জনতা পার্টিসহ বিভিন্ন ছাত্র ও প্রতিবাদী সংগঠন দিল্লিতে বড় ধরনের বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। আন্দোলনকারীরা পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয় এবং বেশ কয়েকজনকে আটক করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
/আশিক
দিল্লিতে ২০ হাজার আধাসামরিক বাহিনী আরও এক মাস রাখার সিদ্ধান্ত
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বিরোধী জোট 'ইন্ডিয়া' ও বিভিন্ন সংগঠনের চলমান বিক্ষোভ এবং আসন্ন উৎসবের মৌসুমকে সামনে রেখে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির তথ্য অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে দিল্লিতে মোতায়েন করা প্রায় ২০ হাজার আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যকে অন্তত আরও এক মাস রাজধানীতেই বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মূলত উৎসবের মৌসুমে বাজার ও জনসমাগমস্থলগুলোতে মানুষের প্রচণ্ড ভিড় বাড়ায় সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে চলমান বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে দিল্লির নতুন করে তিনটি নির্দিষ্ট স্থানকে প্রতিবাদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। স্থানগুলো হলো—রামলীলা ময়দান, বুরারি ময়দান ও সিবিডি ময়দান। তবে এতদিন ধরে রাজনৈতিক বিক্ষোভের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত অতি সুরক্ষিত যন্তর মন্তর এলাকাটিকে নতুন এই তালিকা থেকে পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন হবে, তা নিয়ে ইতোমধ্যে উচ্চপর্যায়ের বিস্তারিত পর্যালোচনা সম্পন্ন হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার সন্ধ্যায় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রাসহ বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার শীর্ষস্থানীয় নেতারা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে একটি স্মারকলিপি জমা দিতে সুপ্রিম কোর্টের অভিমুখে লংমার্চ বা মিছিল করেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া এই আন্দোলনকে ঘিরে রাজধানীতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বিক্ষোভের জেরে অননুমোদিত জমায়েত রোধ এবং যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে দিল্লির প্রবেশদ্বার, বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা, রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল ও স্পর্শকাতর পয়েন্টগুলোতে নিরাপত্তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। শহরের প্রতিটি প্রবেশপথে যানবাহনে নিয়মিত ও কঠোর তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। পাশাপাশি নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা এড়াতে হোটেল, গেস্টহাউস, লজ ও ধর্মশালাগুলোতে宿泊কারীদের পরিচয় যাচাই করার জন্য বিশেষ অভিযানও জোরদার করা হয়েছে।
আধাসামরিক বাহিনীর পাশাপাশি দিল্লি পুলিশের হাজার হাজার সদস্যও মাঠে থেকে দায়িত্ব পালন করছেন। বিশেষ করে নয়াদিল্লি জেলাকে মোট ২০টি আলাদা অঞ্চলে ভাগ করে মাঠপর্যায়ের সার্বিক পরিস্থিতি কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে। যুগ্ম কমিশনার, উপকমিশনার (ডিসিপি) এবং অতিরিক্ত উপকমিশনার পদমর্যাদার শীর্ষ কর্মকর্তারা সরাসরি মাঠে থেকে পুরো নিরাপত্তা পরিস্থিতি তদারকি করছেন।
অন্যদিকে, এই আন্দোলনকে কেবল রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে সীমাবদ্ধ না রেখে এটিকে একটি বৃহত্তর ‘গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ’ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা চালাচ্ছে বিরোধী জোট। এজন্য সাধারণ শিক্ষার্থী এবং নাগরিক সমাজের বিভিন্ন সংগঠনকে এই আন্দোলনে সম্পৃক্ত করার জন্য নানামুখী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মূলত বিশেষ নিবিড় পর্যালোচনা (এসআইআর) কার্যক্রম এবং নির্বাচন কমিশনের কিছু সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই আন্দোলন বর্তমানে মোদি সরকারের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জে রূপ নিয়েছে।
/আশিক
কত পুলিশ আনবেন আনুন, ভয় পাই না: অমিত শাহকে রাহুল গান্ধীর কড়া বার্তা
ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়ম ও বিতর্কের জেরে ভারতে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর প্রতিবাদে দিল্লির সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে পদযাত্রার ডাক দিয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা ও কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে সোমবার দিল্লিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো হাজার হাজার পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দেওয়ায় শহরজুড়ে যান চলাচল চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলতি মাসজুড়ে বিরোধী দল ও আন্দোলনকারীরা প্রতিনিয়ত প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছেন। বিরোধীদের মূল অভিযোগ, এই বিতর্কিত তালিকা সংশোধনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) রাজনৈতিক সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে নির্বাচন পরিচালনাকারী সংস্থা 'ইলেকশন কমিশন অব ইন্ডিয়া' (ইসিআই) এসব অনিয়মের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, ভোটার তালিকা থেকে ভুয়া এন্ট্রি, মৃত ব্যক্তি এবং দ্বৈত নাম বাদ দেওয়ার জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিক্ষোভ দমন করতে পুলিশ দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে ধাতব ব্যারিকেড বসিয়েছে। আন্দোলন চলাকালে ইতোমধ্যেই হাজারো মানুষকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশের এমন গণ-আটক অভিযানের কড়া সমালোচনা করে বিরোধী নেতারা বলছেন, সরকার বলপ্রয়োগের মাধ্যমে বিরোধী কণ্ঠ ও গণআন্দোলন চেপে রাখার চেষ্টা করছে। এমনক সিজেপির সমর্থকদের ওপরও পুলিশের বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক নেতা ও সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সিপিআই(এম) সংসদ সদস্য জন ব্রিটাস জানান, বিক্ষোভকালে পুলিশ তাকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায় এবং ধস্তাধস্তি করে। এই ঘটনাকে তিনি গণতান্ত্রিক অধিকার ও আইনের শাসনের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে, প্রেস কার্ড দেখানোর পরেও বহু সাংবাদিককে আটক করা হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদ স্বাধীনতা বিষয়ক সংস্থা 'রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস' জানিয়েছে, অন্তত ১৬ জন সাংবাদিককে কাজ করার সময় নির্মমভাবে আটক করা হয়, যা পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে একদমই অগ্রহণযোগ্য।
এমন পরিস্থিতির মাঝেই রাহুল গান্ধী আন্দোলনকারীদের সুপ্রিম কোর্টের দিকে পদযাত্রায় যোগ দেওয়ার জোর আহ্বান জানান। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে উদ্দেশ্য করে এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বার্তায় রাহুল জানান, ১০ হাজার কিংবা ৪০ হাজার—যত পুলিশ বা বিজেপি-আরএসএসের লোকই পাঠানো হোক না কেন, তারা ভয় পাওয়ার পাত্র নন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাদের এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিরোধী সিজেপি ও মিত্র দলগুলো।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির টানা ১২ বছরের শাসনামলে এই ভোটার তালিকা বিতর্ক অন্যতম বড় রাজনৈতিক সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নতুন সংশোধনের ফলে প্রায় ১৩ কোটি ৩০ লাখ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে কাটা গেছে। সমালোচকদের বড় একটি অংশ মনে করছে, এই প্রক্রিয়ায় সংখ্যালঘু বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে তুলনামূলক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা
পাঠকের মতামত:
- ইসরায়েলে নতুন সরকার গঠন নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক অচলাবস্থা
- জামায়াতের ক্ষমতার লোভে ভেঙে গেছে ইসলামি দলগুলোর ঐক্য: চরমোনাই পীর
- ডিসেম্বরে কোনো অপশক্তির দেশে ফেরার সুযোগ নেই: নাহিদ ইসলাম
- ট্রাম্পের ছায়া থেকে বেরিয়ে নিজের রাজনৈতিক ভিত্তি শক্ত করছেন জেডি ভ্যান্স
- কিয়েভ ও আশপাশের অঞ্চলে রাশিয়ার রাতভর ব্যাপক বিমান হামলা
- রণবীরের মুখে অবসরের ইঙ্গিত, হতবাক ভক্ত ও সিনেমাপাড়া
- পুরুষের দেহে টেস্টোস্টেরন অতিরিক্ত বেড়ে গেলে যেসব স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়
- বিএনপি হলো একটি ‘ফেইলড আওয়ামী লীগ’: হাসনাত আব্দুল্লাহ
- বিনা খরচে ওমরাহ পালনের সুযোগ দিচ্ছে সৌদি আরব
- হরমুজ প্রণালীতে মাইন বিস্ফোরণের পর ইরানের নৌবাহিনীর কঠোর হুঁশিয়ারি
- ষড়যন্ত্রকারীদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- টেস্টে ইতিহাস গড়ে তাওহীদ হৃদয়ের নতুন রেকর্ড
- ট্রাম্প প্রশাসন ছাড়ার কথা ভাবছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও
- বিদেশি নির্ভরতা ছাড়াই আকাশ প্রতিরক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র শক্তিতে বিপ্লব ইরানের
- রক্ষণাবেক্ষণ শেষে স্বাভাবিক হলো দেশের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি
- বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে যাওয়া সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব নিয়ে বড় বার্তা
- লাখো নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে রাজধানীতে বিএনপির বর্ণাঢ্য র্যালি
- ‘মার্কিন আধিপত্যের পতন আসন্ন, ইরান কখনো আত্মসমর্পণ করবে না’: খামেনির কঠোর বার্তা
- ট্রাম্পের ক্ষমতায় গণতন্ত্রের লাগাম: ডেমোক্র্যাটদের জয়ে কি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে আমেরিকা?
- ভুটানকে হারিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে শুভ সূচনা বাংলাদেশের
- নাহিদ ইসলামের ডাকে এখন ১০০ লোকও জড়ো হবে না: রাশেদ খাঁন
- হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে ভারতসহ চার দেশকে বিশেষ ছাড় ইরানের
- মার্কিন রাজনীতিতে নতুন সংকটের আভাস ও ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারি
- একাদশে বড় চমক নিয়ে মাঠে নামছে লাল-সবুজরা
- পোশাক খাতের অস্থিরতা দমনে কঠোর পদক্ষেপ প্রশাসনের
- জামায়াত জোটের বিরোধিতায় দল ছাড়লেন এনসিপি নেত্রী সামান্ত শারমিন
- রেকর্ড গড়ে বিশ্ব ও দেশীয় বাজারে বড় দরবৃদ্ধি
- সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধনী দিনে রোমাঞ্চকর লড়াই ও নাটকীয় ফিনিশ
- ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিশ্বমানের করে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী
- ইউক্রেন যুদ্ধের প্রযুক্তি এবার ইরানের হাতে তুলে দিচ্ছে রাশিয়া
- ভারতীয় ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য এল নতুন ও জরুরি নির্দেশনা
- পবিত্র মদিনার দিকে ছোড়া হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করল সৌদি জোট
- সীমান্তের ওপার থেকে দেশের বিরুদ্ধে বড় ষড়যন্ত্র চলছে: প্রধানমন্ত্রী
- মার্কিন রাজনীতিতে ইতিহাস গড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নতুন সিনেটর
- বিশ্ব ফুটবলে এক যুগের অবসান ঘটিয়ে বিদায় নিলেন তারকা
- মার্কিন রাজনীতিতে বড় ধাক্কার মুখে ডোনাল্ড ট্রাম্প
- সাংবাদিকদের গ্রেপ্তারে আদালতের অনুমতি নেওয়ার প্রস্তাব সাইবার সুরক্ষা আইনে
- সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য দল ঘোষণা করল বাংলাদেশ
- বড় ধরনের দুর্যোগের মুখে সৌদির বেশ কিছু অঞ্চল
- শীতে কি সত্যিই ফ্রিজের তাপমাত্রা কমানো উচিত?
- ট্রাম্পকে ডাস্টবিনে ফেলার এআই ভিডিও শেয়ার করল ইরানি দূতাবাস
- দীর্ঘ বিরতির পর রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি শুরু করায় মুদ্রাবাজারে আলোচনা
- মার্কিন নির্বাচনের ফল নেতানিয়াহুর জন্য রাজনৈতিক সতর্কবার্তা: ইয়াইর গোলান
- যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অচলাবস্থার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে ডলার ও তেলের দাম হ্রাস
- শ্রমিক আন্দোলনের নামে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পেছনে পার্শ্ববর্তী দেশের ইন্ধন রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- আবহাওয়ার দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে একাধিক লঘুচাপ ও ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা
- পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলেন আদালত
- আরও শক্তিশালী ইরান গড়ে তুলতে জাতীয় ঐক্যের ডাক ইরানি নেতার
- গাজীপুর ও সাভারে শ্রমিক আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না
- বিশ্ববাজারে বড় দরপতনের পর ঘুরে দাঁড়িয়েছে মূল্যবান ধাতুর বাজার
- জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান দিবসে ডেঙ্গু সচেতনতা ও বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত
- ১২৫তম প্রাইজবন্ড ড্র: বিজয়ী হলো যেসব নম্বর
- বেতনের দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভ: ৭ লাখের বেশি শ্রমিক কর্মবিরতিতে
- কালিয়াকৈর থানার ওসির হস্তক্ষেপে স্বাভাবিক হলো ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক
- সরকার গঠন ব্যর্থ হলে ৯০ দিনের মধ্যে ইসরায়েলে নতুন নির্বাচনের হাঁকডাক
- জুমার খুতবায় শেখ হাসিনাকে ‘স্বৈরাচার’ বলায় খতিবকে অব্যাহতি
- সারাদেশে তিন দিন গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের স্বল্প চাপ থাকবে
- পোশাক খাতের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক: জামায়াত আমির
- শীতের সকালে ব্যায়ামের আগে কী খাবেন
- ৯ মাসের ব্যবধানে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ৭১৯ টাকা
- বাংলাদেশের পরিস্থিতি ও শ্রমিক বিক্ষোভের ওপর ভারত নজর রাখছে: রণধীর জয়সওয়াল
- মাত্র দশ মিনিটে কি ধ্বংস সম্ভব ইরানের পরমাণু শক্তি
- ট্রাম্পের জন্য বড় ধাক্কা, মধ্যবর্তী নির্বাচনে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা: বদলে যাচ্ছে মার্কিন রাজনীতির সমীকরণ
- নিউজিল্যান্ড সিরিজেই ঐতিহাসিক ছক্কার মাইলফলক স্পর্শ করল ভারত
- সীমান্ত থেকে পোশাক শিল্পে উসকানি দেওয়া হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী








