বিশেষ প্রতিবেদন

ট্রাম্পের ক্ষমতায় গণতন্ত্রের লাগাম: ডেমোক্র্যাটদের জয়ে কি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে আমেরিকা?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০৬ ১৫:০৯:২৩
ট্রাম্পের ক্ষমতায় গণতন্ত্রের লাগাম: ডেমোক্র্যাটদের জয়ে কি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে আমেরিকা?

গণতন্ত্র কখনো নিখুঁত শাসনব্যবস্থা ছিল না, ভবিষ্যতেও হয়তো হবে না। কিন্তু মানুষের স্বাধীনতা, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার জবাবদিহি এবং ভুল সংশোধনের সুযোগ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গণতন্ত্রের বিকল্প কী? প্রায় আট দশক আগে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল যে প্রশ্নের অবতারণা করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন যেন নতুন করে সেই প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজতে বাধ্য করছে বিশ্ববাসীকে।

১৯৪৭ সালের ১১ নভেম্বর ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এক ঐতিহাসিক বক্তব্যে চার্চিল বলেছিলেন, পৃথিবীতে বহু ধরনের শাসনব্যবস্থার পরীক্ষা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও হবে। কেউ দাবি করে না, গণতন্ত্র নিখুঁত কিংবা সর্বজ্ঞ। বরং প্রচলিত একটি মন্তব্যের উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত পরীক্ষিত অন্য সব শাসনব্যবস্থা বাদ দিলে গণতন্ত্রই সবচেয়ে খারাপ ব্যবস্থা। কথাটির অন্তর্নিহিত তাৎপর্য ছিল গভীর। গণতন্ত্রের দুর্বলতা রয়েছে, কিন্তু জনগণের সম্মতি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্রক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার যে সুযোগ এটি দেয়, তা অন্য অনেক শাসনব্যবস্থায় অনুপস্থিত।

যুক্তরাষ্ট্রের এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচন সেই গণতান্ত্রিক সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে উঠেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের মাঝামাঝি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় ধরনের রাজনৈতিক পরাজয়ের মুখোমুখি হতে হয়েছে। বিপরীতে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষ, অর্থাৎ প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ অর্জন করেছে। এর মধ্য দিয়ে আগামী দুই বছরের মার্কিন রাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্য উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত একাধিক অঙ্গরাজ্যেও ডেমোক্র্যাটরা জয় পেয়েছে। ৫ নভেম্বর পর্যন্ত প্রকাশিত রয়টার্সের হিসাবে সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের ৫৪টি এবং রিপাবলিকানদের ৪৪টি আসন নিশ্চিত হয়েছে। একই সময়ে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটরা ২৪৭টি এবং রিপাবলিকানরা ১৫৪টি আসনে জয় পেয়েছে। তখনো কিছু আসনের গণনা ও ফল ঘোষণা বাকি ছিল।

নির্বাচনের এই ফলাফল শুধু দুটি রাজনৈতিক দলের আসনসংখ্যার পরিবর্তন নয়। এটি ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি, রাজনৈতিক আচরণ, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার ধরন নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন।

নির্বাচন-পরবর্তী পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি, ইরান যুদ্ধ, সরকারি স্বচ্ছতা এবং ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ বহু ভোটারের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে। ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসননীতি, রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে ঘিরে তাঁর প্রশাসনের বিভিন্ন অবস্থানও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।

সমালোচকদের অভিযোগ, ট্রাম্পের রাজনৈতিক বক্তব্য ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের কিছু অংশ মার্কিন সমাজে বিভাজন, বর্ণগত উত্তেজনা এবং প্রাতিষ্ঠানিক অবিশ্বাসকে বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে তাঁর সমর্থকেরা সীমান্ত নিরাপত্তা, জাতীয় স্বার্থ, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদের পক্ষে প্রশাসনের অবস্থানকে সমর্থন করে আসছেন। নির্বাচনের ফলাফল এই বিতর্কের সব প্রশ্নের নিষ্পত্তি করেনি, তবে তা প্রশাসনের প্রতি একটি উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক সতর্কবার্তা দিয়েছে।

এখানেই মার্কিন সংবিধানের প্রাতিষ্ঠানিক শক্তির বিষয়টি সামনে আসে।

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রব্যবস্থার অন্যতম মৌলিক বৈশিষ্ট্য হলো ক্ষমতার পৃথকীকরণ এবং পারস্পরিক নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য, যাকে রাজনৈতিক বিজ্ঞানের পরিভাষায় Checks and Balances বলা হয়। আইনসভা, নির্বাহী বিভাগ এবং বিচার বিভাগ যেন একে অপরের ওপর প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারে, সেই উদ্দেশ্যেই মার্কিন রাষ্ট্রকাঠামো নির্মিত হয়েছিল।

এই ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান স্থপতি ছিলেন জেমস ম্যাডিসন। মার্কিন সংবিধান প্রণয়নে তাঁর ভূমিকা এবং The Federalist Papers-এ ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে তাঁর যুক্তি আধুনিক সাংবিধানিক গণতন্ত্রের ভিত্তি নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। অন্যদিকে জন অ্যাডামসও আইনের শাসন, প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার এবং নির্বাহী ক্ষমতার ওপর প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণের পক্ষে শক্তিশালী বুদ্ধিবৃত্তিক ভিত্তি তৈরি করেছিলেন।

তাঁরা উপলব্ধি করেছিলেন, রাষ্ট্রক্ষমতা মানুষের হাতে ন্যস্ত হলে সেই ক্ষমতার অপব্যবহারের ঝুঁকিও থাকবে। তাই রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য শুধু সৎ বা যোগ্য নেতৃত্বের ওপর নির্ভর করলেই চলবে না। এমন প্রতিষ্ঠান ও সাংবিধানিক ব্যবস্থা প্রয়োজন, যা ক্ষমতাসীন ব্যক্তির ইচ্ছা কিংবা রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে রাষ্ট্রীয় ভারসাম্য রক্ষা করতে পারবে।

যুক্তরাষ্ট্রের এবারের নির্বাচনে সেই সাংবিধানিক দর্শনের বাস্তব প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে। ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ অর্জন করায় ট্রাম্প প্রশাসন আর আগের মতো একক দলীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ওপর নির্ভর করে আইন প্রণয়ন করতে পারবে না। নতুন কংগ্রেস দায়িত্ব নেওয়ার পর গুরুত্বপূর্ণ আইন, সরকারি ব্যয় এবং বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সমঝোতার প্রয়োজনীয়তা বাড়বে।

একই সঙ্গে কংগ্রেসের সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো প্রশাসনের কার্যক্রম, সরকারি অর্থব্যবস্থাপনা, সম্ভাব্য দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত ও শুনানির উদ্যোগ নিতে পারবে। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেই ডেমোক্র্যাটরা নির্বাহী বিভাগের প্রতিটি সিদ্ধান্ত বাতিল করতে পারবে, এমন নয়। প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতা, সিনেটের কার্যপ্রণালি এবং বিচার বিভাগের স্বাধীন ভূমিকাও এই ক্ষমতার ভারসাম্যের অংশ।

অভিশংসনের প্রশ্নটিও এখন মার্কিন রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট কিংবা অন্য কোনো যোগ্য ফেডারেল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিশংসনের অভিযোগ আনতে প্রতিনিধি পরিষদের সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। তবে অভিযোগ প্রমাণিত হলে পদচ্যুত করার জন্য সিনেটে উপস্থিত সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন। পূর্ণ ১০০ সদস্য উপস্থিত থাকলে সেই সংখ্যা ৬৭। ফলে ডেমোক্র্যাটরা সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও শুধু নিজেদের ভোটে প্রেসিডেন্টকে পদচ্যুত করার মতো পর্যাপ্ত সমর্থন তাদের নেই।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথসহ প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে কংগ্রেস তদন্ত করতে পারে। তবে কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিশংসনের আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ গ্রহণ এবং তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা সম্পূর্ণ পৃথক সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। রাজনৈতিক বিরোধ কিংবা অভিযোগের অস্তিত্ব নিজে থেকেই অপরাধ প্রমাণ করে না।

এই সাংবিধানিক কাঠামোর ঐতিহাসিক গুরুত্ব বুঝতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটনের উদাহরণও স্মরণ করতে হয়। বিপুল জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক প্রভাব থাকা সত্ত্বেও তিনি দুই মেয়াদ শেষে স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ছেড়ে দেন। এর মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর এবং রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বের মেয়াদসীমা সম্পর্কে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক রীতি প্রতিষ্ঠিত হয়।

পরবর্তীকালে প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট চারবার নির্বাচিত হলে সেই প্রচলিত রীতির পরিবর্তন ঘটে। এরপর ১৯৫১ সালে সংবিধানের ২২তম সংশোধনী অনুমোদনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট পদে সর্বোচ্চ দুইবার নির্বাচিত হওয়ার বিধান প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি মার্কিন সাংবিধানিক ব্যবস্থার একটি তাৎপর্যপূর্ণ উদাহরণ, যেখানে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মকে আরও সুসংহত করা হয়েছে।

বস্তুত মার্কিন সংবিধান বিশ্বের প্রাচীনতম এখনো কার্যকর লিখিত জাতীয় সংবিধানগুলোর অন্যতম। দুই শতাব্দীর বেশি সময় ধরে এই সংবিধান রাজনৈতিক সংঘাত, গৃহযুদ্ধ, অর্থনৈতিক মহামন্দা, বর্ণবৈষম্যবিরোধী আন্দোলন এবং বিভিন্ন সাংবিধানিক সংকটের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়েছে। এর প্রতিটি অধ্যায় সফলতার ইতিহাস নয়। বরং ইতিহাসের অনেক অধ্যায় গভীর বৈষম্য, অন্যায় এবং প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার সাক্ষ্য বহন করে। তবু সংশোধন ও পরিবর্তনের সুযোগই ব্যবস্থাটিকে টিকিয়ে রাখতে ভূমিকা রেখেছে।

মার্কিন গণতন্ত্রের এই আদর্শিক পরিচয়ের সঙ্গে একটি বিখ্যাত ঐতিহাসিক ধারণা জড়িয়ে আছে, *A City upon a Hill*।

১৬৩০ সালে ইংরেজ পিউরিটান নেতা জন উইনথ্রপ উত্তর আমেরিকায় নতুন সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, সেখানে তিনি এমন একটি সমাজের কল্পনা করেছিলেন, যার কর্মকাণ্ডের দিকে পৃথিবীর অন্য মানুষের দৃষ্টি থাকবে। পরবর্তীকালে এই ধারণা মার্কিন রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বিশেষ গুরুত্ব পায়।

১৯৮৯ সালে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে বিদায়ের সময় রোনাল্ড রিগ্যান আমেরিকাকে সেই পাহাড়ের ওপর আলোকিত নগরীর প্রতীকে বর্ণনা করেছিলেন। তাঁর কল্পনার আমেরিকা ছিল এমন একটি রাষ্ট্র, যেখানে স্বাধীনতা, সুযোগ, সৃজনশীলতা এবং বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সহাবস্থান একসঙ্গে বিকশিত হবে।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, আজকের আমেরিকা সেই আদর্শ থেকে কতটা দূরে সরে গেছে?

দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের বহু মানুষের কাছে যুক্তরাষ্ট্র গণতন্ত্র, ব্যক্তি স্বাধীনতা, আইনের শাসন এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির পররাষ্ট্রনীতি, সামরিক হস্তক্ষেপ, বর্ণগত বৈষম্য এবং বৈশ্বিক ক্ষমতা প্রয়োগের ইতিহাস নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মেরুকরণ, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থার সংকট এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে দ্বৈত নীতির অভিযোগ দেশটির ভাবমূর্তিকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। বিশেষত জাতীয় স্বার্থের ব্যাখ্যায় রাজনৈতিক সুবিধাবাদ, ব্যক্তিকেন্দ্রিক ক্ষমতার চর্চা এবং বহুপক্ষীয় আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার প্রতি অনিশ্চিত অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ও অংশীদারদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এই প্রেক্ষাপটে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল মার্কিন গণতন্ত্রের আত্মসংশোধনের একটি সুযোগ তৈরি করেছে। তবে শুধু একটি নির্বাচনে ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তন হলেই রাষ্ট্রীয় আস্থা ও আন্তর্জাতিক মর্যাদা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে না।

ডেমোক্র্যাটিক পার্টিও সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়। তাদের প্রশাসনিক অতীত, অর্থনৈতিক নীতি, পররাষ্ট্রনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন রয়েছে। ফলে রিপাবলিকানদের পরাজয়কে ডেমোক্র্যাটদের সব নীতির প্রতি নিঃশর্ত জনসমর্থন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

বরং নতুন সংখ্যাগরিষ্ঠতার সামনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো নির্বাহী বিভাগের কার্যক্রমে কার্যকর জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা, প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নে দায়িত্বশীল সহযোগিতা এবং রাজনৈতিক প্রতিশোধের পরিবর্তে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেওয়া।

একইভাবে রিপাবলিকানদের জন্যও নির্বাচনের ফলাফল ভোটারদের উদ্বেগ নতুন করে মূল্যায়ন করার সুযোগ। গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতায় পরাজয় কোনো রাজনৈতিক দলের স্থায়ী প্রত্যাখ্যান নয়; এটি জনসমর্থন পুনরুদ্ধারের জন্য নীতি ও নেতৃত্ব পর্যালোচনারও একটি উপলক্ষ।

যুক্তরাষ্ট্রের এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের আন্তর্জাতিক তাৎপর্যও কম নয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিংশ শতাব্দীর বড় অংশজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক রাজনীতি, অর্থনীতি, প্রযুক্তি এবং নিরাপত্তাব্যবস্থার কেন্দ্রীয় শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বিশেষ করে স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী সময়কে অনেকেই মার্কিন একক প্রাধান্যের যুগ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা ক্রমেই আরও জটিল ও বহুকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে। চীনের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত উত্থান, ভারতের ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক ভূমিকা, রাশিয়ার সামরিক ও ভূরাজনৈতিক অবস্থান এবং গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর অধিকতর নীতিগত স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা বিশ্বরাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা তৈরি করছে।

ফলে বিংশ শতাব্দীকে যদি আমেরিকান সেঞ্চুরি বলা হয়, তাহলে একবিংশ শতাব্দীকে ক্রমবর্ধমান বহুমেরুকেন্দ্রিকতার যুগ হিসেবে ব্যাখ্যা করার যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে। তবে বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা কোনো একক শক্তির সম্পূর্ণ পতন কিংবা অন্য শক্তির অবধারিত আধিপত্য বোঝায় না। বরং এটি আন্তর্জাতিক ক্ষমতা, অর্থনৈতিক প্রভাব এবং কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে একাধিক রাষ্ট্র ও অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার প্রতিফলন।

এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক মর্যাদা বজায় রাখার জন্য শুধু সামরিক শক্তি কিংবা অর্থনৈতিক সক্ষমতা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন নীতিগত ধারাবাহিকতা, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা, অংশীদারদের সঙ্গে আস্থাভিত্তিক সম্পর্ক এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিশ্বাসযোগ্য চর্চা।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল এই বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। কংগ্রেসে ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তনের ফলে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা, সরকারি ব্যয় এবং বিভিন্ন বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতি নিয়ে আরও নিবিড় পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে পররাষ্ট্রনীতির উল্লেখযোগ্য নির্বাহী ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতে থাকায় পরিবর্তনের প্রকৃত ব্যাপ্তি নির্ভর করবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যকার সম্পর্ক ও রাজনৈতিক সমঝোতার ওপর।

সবশেষে উইনস্টন চার্চিলের সেই ঐতিহাসিক মন্তব্যের কাছে ফিরে যাওয়া যায়। গণতন্ত্রের সার্থকতা এই নয় যে সেখানে ভুল হবে না, ক্ষমতার অপব্যবহার ঘটবে না কিংবা রাজনৈতিক নেতৃত্ব কখনো জনস্বার্থের বিপরীতে অবস্থান নেবে না। বরং এর প্রকৃত শক্তি নিহিত রয়েছে ভুল শনাক্ত করার স্বাধীনতা, ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহির আওতায় আনার সুযোগ এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে রাজনৈতিক গতিপথ পরিবর্তনের সক্ষমতায়।

২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন সেই সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। ভোটাররা তাঁদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন, নির্বাচনী প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যক্রম পরিচালনা করেছে এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু প্রকৃত পরীক্ষা এখনো বাকি। নতুন সংখ্যাগরিষ্ঠতা কতটা দায়িত্বশীলভাবে ক্ষমতা প্রয়োগ করবে, বিরোধী পক্ষ কতটা সাংবিধানিক সীমারেখাকে সম্মান করবে এবং প্রশাসন কতটা প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি মেনে চলবে, তার ওপরই নির্ভর করবে পরবর্তী অধ্যায়।

মার্কিন গণতন্ত্রের সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক শিক্ষা সম্ভবত এখানেই: কোনো নেতা, দল কিংবা প্রশাসন রাষ্ট্রের ঊর্ধ্বে নয়। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও জনগণের সাংবিধানিক অধিকারই হওয়া উচিত ক্ষমতার চূড়ান্ত সীমারেখা।

যুক্তরাষ্ট্র তার হারানো আস্থা, নৈতিক কর্তৃত্ব ও আন্তর্জাতিক মর্যাদা কতটা পুনরুদ্ধার করতে পারবে, তা এখনই বলা কঠিন। কিন্তু এবারের নির্বাচন অন্তত এটুকু দেখিয়েছে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো পরিবর্তনের পথ তৈরি করতে পারে।

গণতন্ত্রের সাফল্য তাই কোনো একটি দলের বিজয়ে নয়, বরং এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা টিকিয়ে রাখায়, যেখানে জনগণ শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলাতে পারে এবং রাষ্ট্র তার নিজের ভুল সংশোধনের সুযোগ ধরে রাখে।


‘মার্কিন আধিপত্যের পতন আসন্ন, ইরান কখনো আত্মসমর্পণ করবে না’: খামেনির কঠোর বার্তা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০৬ ১৫:৫৪:০৪
‘মার্কিন আধিপত্যের পতন আসন্ন, ইরান কখনো আত্মসমর্পণ করবে না’: খামেনির কঠোর বার্তা
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা হোসেইনি খামেনি।

বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আধিপত্য ও রাজনৈতিক প্রভাব ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে বলে দাবি করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা হোসেইনি খামেনি। তাঁর মতে, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক সংঘাত মার্কিন সামরিক শক্তির সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করে দিয়েছে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও প্রভাবও ক্ষয়িষ্ণু অবস্থায় পৌঁছেছে। তবে সামরিক কিংবা অর্থনৈতিক চাপ যতই বাড়ানো হোক, ইরান কখনো যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

বুধবার (৪ নভেম্বর) ইরানের 'বৈশ্বিক আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের জাতীয় দিবস' এবং শিক্ষার্থী দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক লিখিত বার্তায় এসব মন্তব্য করেন খামেনি। এমন একসময়ে তাঁর এই কঠোর অবস্থান সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে কাতারসহ বিভিন্ন দেশের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে কূটনৈতিক সমঝোতার প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় ও সরকারঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রকাশিত বার্তা অনুযায়ী, খামেনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক প্রভাব, অর্থাৎ হার্ড পাওয়ার ও সফট পাওয়ার উভয় ক্ষেত্রেই এমন অবনতি ঘটেছে, যা সহজে পুনরুদ্ধার করা সম্ভব নয়। তাঁর ভাষায়, পারস্য উপসাগরের ঘটনাপ্রবাহ মার্কিন সামরিক শক্তির অপ্রতিরোধ্য হওয়ার ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক আধিপত্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে খামেনি বলেন, আমেরিকা তার আধিপত্যের অবসানকে অনেক দূরের ঘটনা বলে মনে করছে, কিন্তু ইরানের দৃষ্টিতে সেই সময় দ্রুত এগিয়ে আসছে।

এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থান নিয়েই প্রশ্ন তোলেননি, বরং পশ্চিমা শক্তির ওপর নির্ভরশীল মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন।

খামেনির দাবি, সাম্প্রতিক সংঘাতে প্রমাণিত হয়েছে, কোনো রাষ্ট্র নিজের জনগণ ও অভ্যন্তরীণ সক্ষমতার পরিবর্তে বিদেশি শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করলে সংকটের সময় তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের মতো পরাশক্তিও তার আঞ্চলিক মিত্রদের প্রত্যাশিত নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

তবে মার্কিন সামরিক শক্তি ও আন্তর্জাতিক প্রভাবের অপরিবর্তনীয় পতন সম্পর্কে খামেনির মূল্যায়ন ইরানের রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতিফলন। এসব দাবি স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠিত কোনো আন্তর্জাতিক মূল্যায়ন নয়।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা তাঁর বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধের ঐতিহাসিক পটভূমিও তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, ইরানের ওপর মার্কিন আধিপত্য প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার সূচনা হয়েছিল সাত দশকেরও বেশি সময় আগে, ১৯৫৩ সালের ১৯ আগস্টের অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে।

ওই অভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মোসাদ্দেকের সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়। ঐতিহাসিকভাবে এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এবং ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থার ভূমিকা নথিভুক্ত রয়েছে। খামেনির মতে, সেই সময় ইরানের তেলসম্পদ ও জাতীয় অর্থনীতির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করাই ছিল বিদেশি শক্তিগুলোর অন্যতম উদ্দেশ্য।

তিনি অভিযোগ করেন, পরবর্তী সময়েও যুক্তরাষ্ট্র পাহলভি রাজতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখা এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিরোধিতা দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি শাহের আমলের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থা সাভাক (SAVAK) প্রতিষ্ঠায় মার্কিন সহায়তার কথাও উল্লেখ করেন।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পরও ওয়াশিংটনের অবস্থানের পরিবর্তন হয়নি বলে দাবি করেন খামেনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিপ্লবোত্তর সময়ে বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীকে সমর্থন, সামরিক অভ্যুত্থানের প্রচেষ্টা, বিরোধী সংগঠনকে সহযোগিতা এবং ইরাক-ইরান যুদ্ধে সাদ্দাম হোসেনের সরকারকে সহায়তার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছিল।

১৯৮০ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত ইরাক-ইরান যুদ্ধ, ইরানের বেসামরিক যাত্রীবাহী বিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার বিষয়গুলোও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।

খামেনি আরও উল্লেখ করেন, ২০২০ সালে ইরানের কুদস ফোর্সের তৎকালীন প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে মার্কিন ড্রোন হামলায় হত্যা এবং বিদেশে ইরানের সম্পদ জব্দের মতো পদক্ষেপ দুই দেশের বৈরিতা আরও গভীর করেছে।

সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকেও একই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, এসব হামলায় ইরানের বিজ্ঞানী, সামরিক কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং সাধারণ নাগরিকেরা নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে শিশু ও বয়স্ক মানুষও ছিলেন।

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নিহত হওয়ার ঘটনাকেও তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের ভয়াবহ পরিণতি হিসেবে তুলে ধরেন।

মোজতবা খামেনির মতে, এসব ঘটনার পেছনে ওয়াশিংটনের দীর্ঘমেয়াদি উদ্দেশ্য হলো ইরানকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করা, দেশটির স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা সীমিত করা এবং শেষ পর্যন্ত নিজেদের শর্ত মেনে নিতে বাধ্য করা।

তবে তিনি দাবি করেন, ইরানি জনগণের প্রতিরোধ ও জাতীয় ঐক্যের কারণে সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি। ভবিষ্যতেও সামরিক হুমকি কিংবা অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে ইরানের মৌলিক অবস্থান পরিবর্তন করা সম্ভব হবে না।

হরমুজ প্রণালির সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহকে এই প্রতিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন খামেনি। তাঁর দাবি, পারস্য উপসাগরে ইরানের সামরিক তৎপরতা এবং আঞ্চলিক মার্কিন ঘাঁটিগুলোর বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আধিপত্য সম্পর্কে প্রচলিত ধারণাকে দুর্বল করেছে।

তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবস্থান এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে পরিচালিত অভিযান ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের জবাব। তাঁর মতে, এসব ঘটনা আঞ্চলিক পর্যায়ে বিদেশি আধিপত্য প্রতিরোধের বৃহত্তর প্রক্রিয়ার অংশ।

তবে ইরানের দাবি অনুযায়ী মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো কতটা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে, সে সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান শুরু করলে পাল্টা প্রতিক্রিয়ার মাত্রা আরও বাড়ানো হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন খামেনি। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, তেহরান ভবিষ্যৎ সংঘাতের ক্ষেত্রে আগের তুলনায় বিস্তৃত সামরিক প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক সীমিত সামরিক অভিযানগুলোকে আত্মরক্ষামূলক বলে বর্ণনা করা হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন সামরিক বিমান ও স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে ইরানি হুমকি মোকাবিলার জন্যই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ওয়াশিংটন ও তেহরানের এই পরস্পরবিরোধী অবস্থানের কারণে যুদ্ধের স্থায়ী অবসান নিয়ে অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা তাঁর বার্তায় মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতির পরিবর্তন নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। যুক্তরাষ্ট্রে রিপাবলিকান কিংবা ডেমোক্র্যাট যে দলই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, ইরানের প্রতি ওয়াশিংটনের মৌলিক নীতিতে পরিবর্তন আসবে না বলে মনে করেন তিনি।

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় ধরনের পরাজয়ের পর তাঁর এই মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

খামেনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন পরিবর্তন কিংবা রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষমতার পালাবদলের কারণে ইরানের প্রতি মার্কিন নীতিতে মৌলিক পরিবর্তন আসবে, এমন আশা করা ভুল। একইভাবে ছাড় বা আপসের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে তার চাপ প্রয়োগের নীতি থেকে সরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে যারা বিশ্বাস করেন, তাঁরাও ভুল করছেন।

তাঁর দাবি, ওয়াশিংটনের চূড়ান্ত লক্ষ্য ইরানের কাছ থেকে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ আদায় করা। ফলে জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বাধীনতার প্রশ্নে কোনো আপস তেহরানের জন্য গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

খামেনি সতর্ক করেন, বিদেশি চাপের কাছে নতি স্বীকার করা হলে তা শুধু অতীতের আত্মত্যাগকে অর্থহীন করে তুলবে না, বরং ভবিষ্যতে আরও চাপ ও দাবি উত্থাপনের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

তবে এই কঠোর বক্তব্যের মধ্যেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাতারের মধ্যস্থতায় দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে যুদ্ধের অবসান এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে আলোচনা চলছে।

আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, মার্কিন সামরিক অবরোধ এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার নিশ্চয়তার মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রশ্নে মতপার্থক্য থাকায় এখনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

খামেনি তাঁর বার্তায় ফিলিস্তিন, লেবানন, ইরাক ও ইয়েমেনে সক্রিয় ইরানপন্থি প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর ভূমিকাও তুলে ধরেন। তাঁর মতে, এসব গোষ্ঠীর কার্যক্রম এবং ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্যে পরিবর্তন আনছে।

তিনি দাবি করেন, আঞ্চলিক প্রতিরোধ শক্তিগুলোর পারস্পরিক সংহতি এমন একটি আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ভিত্তি তৈরি করছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রচলিত পরাশক্তিগুলোর একক আধিপত্য ক্রমেই সীমিত হয়ে আসবে।

এই প্রসঙ্গে তিনি পবিত্র কোরআনের সূরা বনি ইসরাইলের ৮১ নম্বর আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে সত্যের বিজয় এবং মিথ্যার পরাজয়ের বিষয়ে নিজের বিশ্বাস প্রকাশ করেন।

তবে সামরিক প্রতিরোধের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। তাঁর মতে, শুধু অস্ত্র ও সামরিক প্রস্তুতি দিয়ে স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। প্রয়োজন অর্থনৈতিক সক্ষমতা, বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি, সামাজিক সংহতি এবং জনগণের আস্থা।

খামেনি বলেন, ভবিষ্যতের যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় পূর্ণাঙ্গ প্রতিরোধক্ষমতা অর্জনের একমাত্র পথ হলো একটি আগের চেয়ে শক্তিশালী ইরান গড়ে তোলা। এই লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং সাধারণ জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সামাজিক সংহতিকে তিনি ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে বর্ণনা করেন। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতি জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনসেবার মান বাড়ানোর আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা রক্ষার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবিকা, কল্যাণ এবং মর্যাদা নিশ্চিত করাও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। জনগণের সমর্থন ধরে রাখতে হলে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে এবং মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে হবে।

ইরানের ভবিষ্যৎ নির্মাণে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকাকেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন খামেনি। তিনি শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ এবং স্কুলপড়ুয়া শিশু-কিশোরদের দেশের আগামী দিনের প্রধান শক্তি হিসেবে অভিহিত করেন।

তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, হতাশা ও ব্যর্থতার আশঙ্কায় নিজেদের সীমাবদ্ধ করে রাখা যাবে না। বরং জ্ঞান, দক্ষতা, নৈতিকতা, আত্মবিশ্বাস এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হবে।

তাঁর মতে, ভবিষ্যতের শক্তিশালী ইরান গড়তে হলে নতুন প্রজন্মের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা, পেশাগত দক্ষতা, সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং দেশপ্রেমের বিকাশ জরুরি।

বক্তব্যের শেষাংশে খামেনি ইরানের সমৃদ্ধি, নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক অগ্রগতির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি আবারও দাবি করেন, বিশ্বরাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্যের যুগ ক্রমেই দুর্বল হয়ে আসছে এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ক্ষমতার ভারসাম্যে আরও পরিবর্তন ঘটবে।

সব মিলিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার এই বক্তব্যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা উঠে এসেছে। প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের কাছে তেহরান নতি স্বীকার করবে না। দ্বিতীয়ত, সম্ভাব্য নতুন হামলার জবাবে ইরান আরও বিস্তৃত সামরিক প্রতিক্রিয়া দেখানোর প্রস্তুতির বার্তা দিচ্ছে। তৃতীয়ত, দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় ঐক্য, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামরিক সক্ষমতার সমন্বয়ে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে চায় দেশটি।

তবে তেহরানের এই কঠোর অবস্থান এবং একই সময়ে চলমান কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যে কতটা সমন্বয় সম্ভব হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের মতপার্থক্য অব্যাহত থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

এই প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান কি রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের অবসান ঘটাতে পারবে, নাকি নতুন সামরিক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যকে আবারও বৃহত্তর যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবে?

খামেনির সর্বশেষ বার্তায় আপাতত একটি বিষয় স্পষ্ট: ওয়াশিংটনের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও জাতীয় নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এবং বিদেশি চাপের কাছে আত্মসমর্পণ না করার প্রশ্নে ইরানের নেতৃত্ব কঠোর অবস্থান বজায় রাখতে চাইছে।

মাসাবীহ/২০১৯-২


হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে ভারতসহ চার দেশকে বিশেষ ছাড় ইরানের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০৫ ২০:৩০:২৭
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে ভারতসহ চার দেশকে বিশেষ ছাড় ইরানের
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও উত্তেজনার মধ্যেই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দিয়েছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে ভারত, চীন, ইরাক ও কাতারের জাহাজগুলোকে চলাচল নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিটির সহ-সভাপতি আমির হায়াত মোকাদ্দাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বর্তমানে এই চার দেশের বাণিজ্যিক জাহাজগুলো ওই জলপথ দিয়ে তুলনামূলক স্বাধীনভাবে চলাচল করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রও এসব জাহাজে কোনো বাধা সৃষ্টি করছে না। তবে এই বিশেষ ছাড় পাওয়ার অর্থ সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে প্রণালি ব্যবহারের সুযোগ নয়। ভারতীয়সহ নির্দিষ্ট দেশগুলোর জাহাজগুলোকে ট্রানজিট ফি বা নির্ধারিত যাতায়াত মাশুল পরিশোধ করতে হতে পারে। মূলত জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, আর্থিক মাশুল মওকুফের জন্য নয়।

বিভিন্ন দেশের জন্য এই ছাড় দেওয়ার পেছনে ইরানের রয়েছে সুনির্দিষ্ট কৌশলগত ও ভূরাজনীতিগত কারণ। চীনের ক্ষেত্রে তেহরানের প্রধান লক্ষ্য বেইজিংয়ের রাজনৈতিক সমর্থন ধরে রাখা এবং কৌশলগত সম্পর্ক দৃঢ় করা। কারণ চীন ইরানের তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা এবং গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার। অন্যদিকে, ভারত থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী আমদানির ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে ভারতীয় জাহাজগুলোর চলাচলে এই ছাড় দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি কাতার ও ইরাকের ক্ষেত্রেও রয়েছে বিশেষ বিবেচনা। কাতার বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ এলএনজি রপ্তানিকারক দেশ এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের নৌপথ সচল রাখতে দেশটির বড় ভূমিকা রয়েছে। অন্যদিকে, ইরাকের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে ইরান নিজেদের আঞ্চলিক নিরাপত্তার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত বলে মনে করে।

উল্লেখ্য, পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্তকারী হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর এই জলপথে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়। তেহরান কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করার পাশাপাশি ওয়াশিংটনও ইরানি বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ জারি করে। এই সংঘাতে এ পর্যন্ত বিভিন্ন জাহাজে হামলায় অন্তত ১৫ জন ভারতীয় নাবিক প্রাণ হারিয়েছেন। সর্বশেষ গত সোমবার ওমানের লিমার কাছে ‘এমএসভি আল জুসুফি’ নামক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলায় আরও এক ভারতীয় নাবিক নিহত হন। বাণিজ্যিক জাহাজে এ ধরনের হামলার ঘটনায় ভারত গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের তাগিদ দিয়ে আসছে।

সূত্র: এনডিটিভি


মার্কিন রাজনীতিতে নতুন সংকটের আভাস ও ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০৫ ২০:১১:২৪
মার্কিন রাজনীতিতে নতুন সংকটের আভাস ও ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারি
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর ডোনাল্ড ট্রাম্প তৃতীয়বারের মতো অভিশংসিত হতে পারেন—এমন আশঙ্কার মুখে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাকে অভিশংসনের কোনো চেষ্টা করা হলে উল্টো ডেমোক্র্যাট পার্টিই ধ্বংস হয়ে যাবে। দেশ এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি সফল দাবি করে ট্রাম্প এই অভিশংসন উদ্যোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

সাম্প্রতিক নির্বাচনে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারালেও ডেমোক্র্যাটদের অবস্থান বেশ শক্ত হয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ২১৮টি আসনের বিপরীতে তারা ২৪০টি আসন নিশ্চিত করেছে এবং সিনেটে আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ৫৪টিতে উন্নীত করেছে। এই জয়ের সুবাদে ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্তের সুযোগ পেলেও অভিশংসনের প্রশ্নে দলটি এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিস সম্ভাবনা নাকচ না করলেও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে দায়িত্ব থেকে সরানোর বিষয়ে দলের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিচালনা ও অন্যান্য ইস্যুতে সমালোচনার মুখে থাকা হেগসেথের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিসকে আনার কথা ভাবছেন ট্রাম্প। এদিকে নির্বাচনে হারের পেছনে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রভাব রয়েছে বলে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মন্তব্য করলেও ট্রাম্প সেই যুদ্ধকে সফল বলে দাবি করেছেন।

উল্লেখ্য, এর আগে নিজের প্রথম মেয়াদে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ইউক্রেন ইস্যু এবং ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে সিনেটে নির্দোষ ঘোষিত হওয়ার মতো ঘটনার মধ্য দিয়ে দুবার অভিশংসিত হয়েছিলেন ট্রাম্প।

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ


ইউক্রেন যুদ্ধের প্রযুক্তি এবার ইরানের হাতে তুলে দিচ্ছে রাশিয়া

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০৫ ১৮:৩২:২৭
ইউক্রেন যুদ্ধের প্রযুক্তি এবার ইরানের হাতে তুলে দিচ্ছে রাশিয়া
ছবি : সংগৃহীত

রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হওয়ার তথ্য সামনে এসেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের (এফটি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানকে ৯০টি অত্যাধুনিক ‘এপিইউ-এল’ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা বিক্রির চুক্তিতে সম্মতি দিয়েছে রাশিয়া। হেলিকপ্টার থেকে পরিচালিত এসব লঞ্চার নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম, যা বর্তমানে রুশ বাহিনী ইউক্রেন যুদ্ধেও ব্যবহার করছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা খাতের ২০২৪ ও ২০২৫ সালের উৎপাদন নথিতে অস্ত্র রপ্তানির এই তথ্য উঠে এসেছে। সেখানে ক্রেতার নাম গোপন রাখতে ‘কে-১০’ সাংকেতিক পরিচয় ব্যবহার করা হলেও রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় অস্ত্র রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের নথিতে এটি ইরানকে নির্দেশ করে। রাশিয়ার এমআই-২৮ আক্রমণকারী হেলিকপ্টারে স্থাপনযোগ্য এই প্রতিটি লঞ্চার দুটি করে ‘এলএমইউআর’ ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে পারে, যার গতিপথ উড্ডয়নকালেও পরিবর্তন করা সম্ভব। তবে অস্ত্রগুলো ইতোমধ্যে তেহরানের হাতে পৌঁছেছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে কিছু জানানো হয়নি।

এছাড়াও, ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের তথ্যানুযায়ী, ‘সি৪৩০এল’ নামক একটি গোপন প্রকল্পের মাধ্যমে ইরানের সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের ইঞ্জিন ও জ্বালানি ব্যবস্থার উন্নয়নেও রুশ প্রকৌশলীরা কারিগরি সহায়তা দিয়েছেন। এর আগে রাশিয়া ইরান থেকে শাহেদ ড্রোন সংগ্রহ করলেও বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে সরাসরি জড়ানোর ঝুঁকি এড়াতে ক্রেমলিন যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য শক্তির সঙ্গে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রেখেই এগোচ্ছে। ফলে এই সামরিক লেনদেন দুই দেশের সম্পর্ক গভীর করলেও আঞ্চলিক সংঘাতে কতটুকু প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

/আশিক


পবিত্র মদিনার দিকে ছোড়া হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করল সৌদি জোট

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০৫ ১৮:১৭:১৪
পবিত্র মদিনার দিকে ছোড়া হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করল সৌদি জোট
ছবি : সংগৃহীত

ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিদের নিক্ষিপ্ত একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে ধ্বংস করার দাবি জানিয়েছে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। পবিত্র মদিনার দিকে তাক করে ক্ষেপণাস্ত্রটি ছোড়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে জোট কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) এক বিবৃতির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেন সৌদি জোটের মুখপাত্র কর্নেল তুর্কি আল-মালিকি। তিনি জানান, মদিনা অঞ্চলের দিকে ধেয়ে আসা হুথিদের ওই ক্ষেপণাস্ত্রটি সময়মতো প্রতিহত করে ধ্বংস করা হয়েছে।

এদিকে এই ঘটনার আগে সৌদি আরবের মদিনা প্রদেশের লোহিত সাগর উপকূলবর্তী ইয়ানবু গভর্নরেট এলাকায় দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে স্বল্প সময়ের জন্য একটি সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।

সূত্র: মিডল-ইস্ট আই


মার্কিন রাজনীতিতে ইতিহাস গড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নতুন সিনেটর

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০৫ ১৮:০৫:১৩
মার্কিন রাজনীতিতে ইতিহাস গড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নতুন সিনেটর
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগান অঙ্গরাজ্য থেকে জয়লাভ করে দেশটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন আবদুল এল-সাইয়েদ। বুধবার (৪ নভেম্বর) রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করে এই ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করেন মিশরীয় অভিবাসী পরিবারের এই সন্তান। এই বিজয়ের পর তার ব্যক্তিগত জীবন ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত স্ত্রী ডা. সারা জুকাকুকে নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

চলতি বছরের আগস্টে প্রকাশিত ‘মিট দ্য রিয়েল আবদুল এল-সাইয়েদ’ পডকাস্টে তাদের দাম্পত্য জীবনের মজার একটি স্মৃতি শেয়ার করেছিলেন এল-সাইয়েদ। তিনি জানান, ২০০৬ সালে সারার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর মিশর থেকে আসা তার এক চাচা রসিকতা করে বলেছিলেন, আট কোটি মিশরীয় বাদ দিয়ে তিনি কেন ভারতীয় নারীকে বিয়ে করলেন? জবাবে এল-সাইয়েদ মজা করে বলেছিলেন, ভারতীয়দের সংখ্যা যেহেতু শ কোটির বেশি, তাই পরিসংখ্যানের হিসাবে এমন কাউকে বেছে নেওয়ার সম্ভাবনাই তার বেশি ছিল। দুই দশকের এই সম্পর্কে তিনি নিজেকে অনেকখানি ভারতীয় বলেও রসিকতা করেছেন।

ডা. সারা জুকাকুর পরিবারের পৈত্রিক শিকড় ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের উপকূলীয় শহর ভাটকালে। তার দাদা জুকাকু শামসুদ্দিন তৎকালীন মহীশূর রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী বিডি জাট্টির অধীনে অর্থবিষয়ক উপমন্ত্রী এবং ভাটকালের প্রথম আইনজীবী ছিলেন। সারার বাবা ডা. তাইয়েব জুকাকু বেঙ্গালুরু থেকে চিকিৎসাশাস্ত্র শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে থিতু হন। ব্যক্তিগত জীবনে এল-সাইয়েদ ও সারা দম্পতির এমালি ও সেরিন নামের দুই কন্যাসন্তান রয়েছে। এক নির্বাচনী প্রচারে স্বামীকে নিয়ে রসিকতা করে সারা মন্তব্য করেছিলেন যে, তাকে কেউ কোনো আদেশ দিতে পারে না, কেবল তিনি ছাড়া।

সূত্র: এনডিটিভি


মার্কিন রাজনীতিতে বড় ধাক্কার মুখে ডোনাল্ড ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০৫ ১৭:২৪:৫৫
মার্কিন রাজনীতিতে বড় ধাক্কার মুখে ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব অনেকটাই সংকুচিত হয়ে পড়েছে। বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের পাশাপাশি সিনেটেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় তাকে ঘিরে নতুন করে অভিশংসন ও নানা তদন্তের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন রাজনীতিতে এই পরিস্থিতিকে ট্রাম্পের ক্ষমতার শেষের শুরু বা ‘লেম ডাক’ পর্যায় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক ব্যবস্থা অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ বা অসদাচরণের অভিযোগ আনার প্রক্রিয়া হলো অভিশংসন। প্রতিনিধি পরিষদে অভিযোগ পাস হওয়ার পর উচ্চকক্ষ সিনেটে তার বিচার হয়। ডেমোক্র্যাটরা চাইলে তৃতীয়বারের মতো ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব আনতে পারেন, যা নিয়ে খোদ ট্রাম্পের মধ্যেও আশঙ্কা রয়েছে। এর আগে নিজের প্রথম মেয়াদে ইউক্রেন ইস্যু এবং ক্যাপিটল ভবনে দাঙ্গায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে ডেমোক্র্যাটদের উদ্যোগে দুইবার প্রতিনিধি পরিষদে অভিশংসিত হয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে সে সময় সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তিনি রক্ষা পান।

বর্তমানে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ট্রাম্পকে সিনেটে দোষী সাব্যস্ত করা অত্যন্ত দুরূহ। মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, সিনেটে কোনো অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে পদ থেকে সরাতে উপস্থিত সিনেটরদের দুই-তৃতীয়াংশ বা ৬৭ জনের সমর্থন প্রয়োজন হয়। সাম্প্রতিক নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা সিনেটে পর্যাপ্ত আসন পেলেও তা ৬৭-এর কোটা পূরণের জন্য যথেষ্ট নয়। তাছাড়া রিপাবলিকান সিনেটরদের ভোট পাওয়ার সম্ভাবনাও অত্যন্ত কম। ফলে প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাব পাস হলেও সিনেটের বাধায় ট্রাম্পের ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা বাস্তবে খুবই কম। মার্কিন ইতিহাসে এ পর্যন্ত অ্যান্ড্রু জনসন ও বিল ক্লিনটন অভিশংসিত হলেও কোনো প্রেসিডেন্টকে এই প্রক্রিয়ায় ক্ষমতাচ্যুত করা সম্ভব হয়নি।

/আশিক


বড় ধরনের দুর্যোগের মুখে সৌদির বেশ কিছু অঞ্চল

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০৪ ২০:৪১:৪১
বড় ধরনের দুর্যোগের মুখে সৌদির বেশ কিছু অঞ্চল
ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে আগামী শনিবার পর্যন্ত দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। দেশটির ন্যাশনাল সেন্টার ফর মেটিওরোলজি (এনসিএম) জানিয়েছে, এই সময়ে ভারি বজ্রসহ বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও শিলাবৃষ্টি আঘাত হানতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশজুড়ে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, জাজান, আসির, আল বাহা ও মক্কা অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি মদিনা, তাবুক, আল জউফ, হাইল, নাজরানসহ রিয়াদের বিভিন্ন অংশেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে মক্কা, তায়েফ এবং এর আশেপাশের গভর্নরেটগুলোতে শনিবারেও ভারী বৃষ্টির ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। এছাড়া জেদ্দা ও রাবিঘের মতো উপকূলীয় এলাকাগুলোতেও বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

প্রতিকূল এই আবহাওয়ায় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে এনসিএম। এর ফলে তীব্র ধূলিঝড়, সড়কে দৃশ্যমানতা হ্রাস, উপকূলীয় অঞ্চলে বড় ঢেউ এবং কিছু এলাকায় টর্নেডো বা জলস্তম্ভ সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। সম্ভাব্য এই দুর্যোগ এড়াতে স্থানীয় বাসিন্দা ও চালকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আবহাওয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে এনসিএমের ওয়েবসাইট ও অ্যাপ নিয়মিত ফলো করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সূত্র: গালফ নিউজ।


ট্রাম্পকে ডাস্টবিনে ফেলার এআই ভিডিও শেয়ার করল ইরানি দূতাবাস

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০৪ ২০:১৮:৩৬
ট্রাম্পকে ডাস্টবিনে ফেলার এআই ভিডিও শেয়ার করল ইরানি দূতাবাস
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরণের রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে। ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টিকে পরাজিত করে কংগ্রেসের দুই কক্ষ—সিনেট এবং প্রতিনিধি পরিষদ—উভয়টিরই একক নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে বিরোধী ডেমোক্র্যাট দল।

এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরই ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অবস্থিত ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের দূতাবাসের পক্ষ থেকে একটি প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। দূতাবাসের ভেরিফাইড সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’ (টুইটার) অ্যাকাউন্টে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি করা একটি অ্যানিমেশন ভিডিও প্রকাশ করা হয়।

প্রকাশিত ওই ভিডিওটিতে দেখা যায়, কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি মিলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জোর করে তুলে নিয়ে একটি বড় ময়লার পাত্রের ভেতর ফেলে দিচ্ছেন। ওই ময়লার পাত্রটির গায়ে ইংরেজিতে ‘বিপজ্জনক বর্জ্য’ কথাটি লেখা ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের প্রতিক্রিয়ায় মূলত এই ভিডিওটি শেয়ার করে ইরানি দূতাবাস। ভিডিওটির সঙ্গে যুক্ত করা ক্যাপশনে কেবল ‘যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন’ কথাটি লেখা হয়েছে এবং এর সঙ্গে একটি হাসিমুখের ইমোজি ব্যবহার করা হয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের এই জোরালো সাফল্যের পরই মূলত ইরানি দূতাবাসের পক্ষ থেকে এই ব্যঙ্গাত্মক পোস্টটি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

পাঠকের মতামত: