হুমকি পাওয়ার পর বুলগেরিয়ার সোফিয়া বিমানবন্দরে নামল ইসরায়েলি প্লেন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০৩ ২০:১৯:২৬
হুমকি পাওয়ার পর বুলগেরিয়ার সোফিয়া বিমানবন্দরে নামল ইসরায়েলি প্লেন
ছবি : সংগৃহীত

ই-মেইলে হুমকি পাওয়ার পর ইসরায়েল থেকে আসা একটি উড়োজাহাজ বুলগেরিয়ার সোফিয়া বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করেছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সংঘটিত এই ঘটনা নিশ্চিত করেছে বুলগেরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম বুলগেরিয়ান ন্যাশনাল রেডিওর (বিএনআর) বরাত দিয়ে আনাদোলু এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে।

বুলগেরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাসচিব লিউবোমির নিকোলভ জানিয়েছেন, ইমেইলে হুমকির বার্তা পাওয়ার পর বিমানটি সোফিয়া বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। তবে উড়োজাহাজটির নির্দিষ্ট এয়ারলাইনস, ফ্লাইটের বিবরণ, যাত্রীর সংখ্যা কিংবা সুনির্দিষ্ট রুট সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। হুমকিতে বিস্ফোরক থাকার আশঙ্কা করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানায়নি কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার আপডেট জানানোর কথা রয়েছে।

এর আগে গত সোমবার লন্ডন থেকে সোফিয়াগামী উইজ এয়ারের একটি ফ্লাইটে বোমা হামলার হুমকির পর সেটি হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে ঘুরিয়ে নেওয়া হয়। তল্লাশিতে কোনো বিস্ফোরক না পাওয়ায় পরবর্তী সময়ে ফ্লাইটটি বুলগেরিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করে। এ ছাড়া গত ১৮ অক্টোবর তেল আবিব থেকে ভিয়েনাগামী অস্ট্রিয়ান এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটও বোমা হুমকির মুখে বুলগেরিয়ার মিগ-২৯ যুদ্ধবিমানের পাহারায় সোফিয়ায় অবতরণ করেছিল। নিরাপত্তা যাচাইয়ে কোনো হুমকি না মেলায় পরে ফ্লাইটটি ভিয়েনার পথে যাত্রা অব্যাহত রাখে। সাম্প্রতিক এসব ঘটনা ইউরোপের আকাশসীমায় চলাচলকারী উড়োজাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


হরমুজ প্রণালিতে মাইনের আঘাতে তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০৩ ১৯:৪৯:১০
হরমুজ প্রণালিতে মাইনের আঘাতে তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণ

হরমুজ প্রণালিতে অনুমোদনহীন পথ দিয়ে চলাচলের সময় সামুদ্রিক মাইনে আঘাত লেগে তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি নৌবাহিনী। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি নৌবাহিনী জানিয়েছে, দিনের প্রথম প্রহর থেকেই এই বিস্ফোরণের ঘটনাগুলো ঘটতে শুরু করে। বিস্ফোরণ এবং এর ফলে সৃষ্ট আগুন এতটাই তীব্র ছিল যে, প্রণালির পূর্বাঞ্চলে অবস্থানরত জেলেরা রাতের আকাশকে উজ্জ্বল আলোয় আলোকিত হতে দেখেছেন।

মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি নৌবাহিনী জানিয়েছে, দিনের প্রথম প্রহর থেকেই এই বিস্ফোরণের ঘটনাগুলো ঘটতে শুরু করে। বিস্ফোরণ এবং এর ফলে সৃষ্ট আগুন এতটাই তীব্র ছিল যে, প্রণালির পূর্বাঞ্চলে অবস্থানরত জেলেরা রাতের আকাশকে উজ্জ্বল আলোয় আলোকিত হতে দেখেছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ট্যাংকারগুলো তাদের নিজস্ব নেভিগেশন ও পরিচয় শনাক্তকরণ বা আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম বন্ধ রেখে কৌশলগত এই জলপথ অতিক্রমের জন্য একটি অননুমোদিত ও নিষিদ্ধ পথ ব্যবহারের চেষ্টা করছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে সেগুলোর তলদেশ সমুদ্রের নিচে পেতে রাখা মাইনে আঘাত হানে। বিস্ফোরণের পরপরই ট্যাংকারগুলোতে আগুন ধরে যায় এবং হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ উপকূলের কাছাকাছি সেগুলো জ্বলতে থাকে।

আইআরজিসি নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ইরানের নির্ধারিত নিয়মকানুন ও সতর্কতাগুলো বেতার বার্তা এবং আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বারবার জাহাজের নাবিকদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বিবৃতিতে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়, যারা এসব নিয়ম উপেক্ষা করে অনুমোদনহীন পথে চলাচলের জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা করবে, তাদের সবাইকে একই ধরনের মারাত্মক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।

/আশিক


ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা প্রচেষ্টার মাঝেই হরমুজ প্রণালিতে বড় ধাক্কা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০৩ ১৯:০১:৩১
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা প্রচেষ্টার মাঝেই হরমুজ প্রণালিতে বড় ধাক্কা

হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ জাহাজ চলাচলের স্বার্থে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। তবে ইসলামাবাদের মধ্যস্থতায় নিরাপত্তা নিশ্চয়তা পাওয়ার পরও একটি কাতারি এলএনজি জাহাজে হামলার ঘটনা দেশটির কূটনৈতিক ও সামরিক সক্ষমতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে প্রকাশ, গত ৩০ অক্টোবর হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী এলাকায় কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী (এলএনজি) জাহাজ ‘আল মায়েদা’ হামলার শিকার হয়। পাকিস্তানের জন্য এলএনজি বহনকারী এই জাহাজটির নিরাপদ চলাচলের বিষয়ে পাকিস্তানের মাধ্যমেই ইরানের পক্ষ থেকে অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। এর আগে একই কূটনৈতিক ব্যবস্থার আওতায় কয়েকটি জাহাজ নিরাপদে ওই প্রণালি পার হলেও, অনুমতি পাওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হামলার মুখে পড়ে জাহাজটি বাধ্য হয়ে পারস্য উপসাগরের দিকে ফিরে যায়। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ হামলার দায় স্বীকার না করলেও কাতারি কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি তদন্ত করছে। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অর্জিত নিরাপত্তার নিশ্চয়তার কার্যকারিতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এদিকে সংকট নিরসনে দোহায় ইরান ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে টানা তৃতীয় দিনের মতো আলোচনা চলছে। বৈঠক শেষে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার সময়সীমা সাত দিন থেকে কমিয়ে দুই দিন করার কথা জানিয়েছেন। তবে তেহরান নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ, উপসাগরে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি হ্রাস এবং ইরান ও ওমানের নির্ধারিত নতুন নৌপথের স্বীকৃতিসহ বেশ কিছু কঠোর শর্ত জুড়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, নৌ চলাচল স্বাভাবিক না হলে ওয়াশিংটন বিকল্প কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

চলতি বছরের শুরু থেকেই ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা হ্রাসে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে পাকিস্তান। গত জুনে ইসলামাবাদে সমঝোতা স্মারক তৈরির উদ্যোগের পাশাপাশি অক্টোবরে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির দুই দফা তেহরান সফর করেন। গত ৩০ অক্টোবর পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্রও মধ্যস্থতার বিষয়ে ইতিবাচক আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন।

তবে হরমুজ প্রণালির এই অচলাবস্থা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক সংকট তৈরি করেছে। দেশটির আমদানিকৃত এলএনজির প্রায় পুরোটাই এই প্রণালি দিয়েই আসে। ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের অক্টোবরে কাতার থেকে পাকিস্তান মাত্র দুটি এলএনজি চালান পেয়েছে, যেখানে গত বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল আটটি। এর ওপর কাতারএনার্জি তাদের সরবরাহে ফোর্স ম্যাজিউর বা অনিবার্য পরিস্থিতির ঘোষণা আগামী ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছে। ফলে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে পাকিস্তান চরম জ্বালানি ঘাটতি ও আন্তর্জাতিক বাজারে চড়া দামে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির তীব্র সংকটের মুখে পড়তে পারে।

সূত্র: দ্য ডিপ্লোম্যাট, রয়টার্স


শত্রুর দৃশ্যমান ও অদৃশ্য সব ঘাঁটি এখন ইরানি বাহিনীর নাগালে: জেনারেল আবদুল্লাহি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০৩ ১৭:৩৫:৫৭
শত্রুর দৃশ্যমান ও অদৃশ্য সব ঘাঁটি এখন ইরানি বাহিনীর নাগালে: জেনারেল আবদুল্লাহি
ছবি : সংগৃহীত

শত্রুপক্ষকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ এবং খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টারের কমান্ডার মেজর জেনারেল আলি আবদুল্লাহি বলেছেন, শত্রুর যাবতীয় দৃশ্যমান ও অদৃশ্য ঘাঁটি এবং সম্পদ এখন ইরানি বাহিনীর সম্পূর্ণ নাগালের মধ্যে ও সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর আওতাধীন রয়েছে। বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদবিরোধী জাতীয় দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিশেষ বাণীতে তিনি এই সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন।

বাণীতে জেনারেল আবদুল্লাহি বর্তমান ইরানকে বিশ্বের চতুর্থ উদীয়মান শক্তির কেন্দ্র হিসেবে অভিহিত করেছেন। বিশেষ করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথভাবে চাপিয়ে দেওয়া ৪০ দিনব্যাপী যুদ্ধের পর তাদের এই সামরিক শক্তি আরও সুদৃঢ় হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ১৩ই আবান দিনটিকে ইরানি জাতির জন্য কেবল পঞ্জিকার একটি পাতা নয়, বরং বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সংগ্রামের অনন্য প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, ঐতিহাসিক এই দিনটি ১৯৬৪ সালে ইমাম খোমেনির নির্বাসন, ১৯৭৯ সালে বিপ্লবী শিক্ষার্থীদের ওপর গণহত্যা এবং একই বছর মার্কিন গুপ্তচরবৃত্তির আখড়া খ্যাত মার্কিন দূতাবাস দখলের মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। ১৯৫৩ সালের অভ্যুত্থান এবং অপারেশন এজাক্সের পথ ধরে সংঘটিত এসব ঐতিহাসিক ঘটনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে চিরতরে ইরানি জাতির কাছে ঋণী করে রেখেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের বর্তমান বহুমুখী বা হাইব্রিড সংঘাত কেবল সামরিক পরিসীমায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি বিশ্ব ক্ষমতার সমীকরণকে আমূল বদলে দিচ্ছে। কৌশলগত হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ইরান আজ বিশ্বের চতুর্থ শক্তির মেরু হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ফলে একমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা এই নতুন বাস্তবতার সামনে মাথা নত করতে বাধ্য হয়েছে, যা প্রমাণ করে যে আঞ্চলিক শক্তি ও দেশগুলো মার্কিন নিরাপত্তার ছত্রছায়া ছাড়াই নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ সক্ষম।

ইরান কখনোই যুদ্ধ কামনা করে না উল্লেখ করে জেনারেল আবদুল্লাহি বলেন, সময়ের চাহিদা ও বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করে দেশের সামরিক নীতি এখন ‘রক্ষাণাত্মক’ অবস্থান থেকে সরে এসে ‘আক্রমণাত্মক উদ্যোগ’ এবং ‘সংকট ব্যবস্থাপনা’ থেকে ‘শৃঙ্খলা নির্মাণ’-এ রূপান্তরিত হয়েছে। এছাড়া লেবানন ও গাজা উপত্যকাসহ সকল রণাঙ্গনে যুদ্ধের চির অবসান ঘটিয়ে দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপরও তিনি বিশেষ জোর দিয়েছেন।

সূত্র: মেহের নিউজ


হরমুজ প্রণালিতে নতুন উত্তেজনা, ইরানের দ্বীপে মার্কিন হামলা: বড় যুদ্ধের পূর্বাভাস?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০৩ ১১:০৩:০৬
হরমুজ প্রণালিতে নতুন উত্তেজনা, ইরানের দ্বীপে মার্কিন হামলা: বড় যুদ্ধের পূর্বাভাস?

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির অনিশ্চয়তা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের কেশম দ্বীপে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তারা এই অভিযানকে সীমিত ও ‘আত্মরক্ষামূলক’ বলে দাবি করলেও তেহরানের পক্ষ থেকে একাধিক মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার ঘোষণা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) রাতে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কেশম দ্বীপে পরপর পাঁচটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে সংস্থাটি জানায়, বিস্ফোরণের আগে দ্বীপটির আকাশে দুটি যুদ্ধবিমান উড়তে দেখা গেছে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি বন্দরনগরী বন্দর লেঙ্গেহ থেকেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার খবর পাওয়া যায়।

প্রথমদিকে বিস্ফোরণের কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো না হলেও পরবর্তী সময়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের তথ্য প্রকাশিত হয়। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এবং অন্যান্য সংবাদমাধ্যমকে একাধিক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, কেশম দ্বীপে ইরানের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে সীমিত হামলা চালানো হয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই অভিযান বৃহত্তর সামরিক সংঘাত পুনরায় শুরুর অংশ নয়। বরং হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন সামরিক বিমান ও নৌসম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে হামলাটি পরিচালনা করা হয়েছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে ইরানের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্র আরও কয়েকটি সীমিত অভিযান পরিচালনা করেছে। তবে সেসব অভিযানের অধিকাংশই প্রকাশ্যে জানানো হয়নি। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, নতুন করে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হচ্ছে এমন বার্তা যাতে না যায়, সে কারণেই অভিযানগুলো প্রচারের বাইরে রাখা হয়েছিল।

এদিকে হামলার আগে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালির আশপাশে মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করে। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, কেশম দ্বীপের দক্ষিণে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি এমকিউএম-১৭০ (MQM-170) ড্রোন ইলেকট্রনিক যুদ্ধপ্রযুক্তি ব্যবহার করে অকার্যকর করা হয়েছে। ড্রোন দুটি গোয়েন্দা নজরদারির কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে দাবি করে ইরান।

একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির পূর্বাঞ্চলে আরও একটি মার্কিন নির্মিত এমকিউ-৯ (MQ-9) ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি জানিয়েছে দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। তবে ড্রোনগুলো ভূপাতিত হওয়ার বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের ড্রোনসংক্রান্ত দাবির সত্যতা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেশম দ্বীপ থেকে আইআরজিসি একটি মার্কিন সামরিক বিমান লক্ষ্য করে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। এর জবাবে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ওই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণব্যবস্থা ধ্বংস করে বলে দাবি করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজ নেশনও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, হামলায় ইরানের রাডার শনাক্তকরণ ব্যবস্থা এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তবে এসব স্থাপনায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখনো নিরপেক্ষভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটন এই সামরিক তৎপরতাকে ইরানের পক্ষ থেকে মার্কিন বিমান ও বাণিজ্যিক নৌযানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য আক্রমণ প্রতিরোধের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখাতে চাইছে। কর্মকর্তাদের দাবি, গত কয়েক সপ্তাহে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন সামরিক বিমানকে লক্ষ্য করে ইরানি বাহিনীর একাধিক তৎপরতা দেখা গেছে।

তবে পরিস্থিতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা সমঝোতা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা চলছে। কাতারসহ বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে দুই পক্ষ পরোক্ষভাবে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রশ্নে মতপার্থক্য এখনো কাটেনি।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সোমবার জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বার্তা বিনিময় চলছে। দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি কাতারের রাজধানী দোহা সফর করেছেন বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার মধ্য দিয়ে সংঘাতের নতুন পর্যায় শুরু হয়। এর জবাবে ইরানও ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়। পরবর্তী সময়ে এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল নিয়ে বিরোধ অব্যাহত থাকে।

বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গত ১৮ জুন প্রণালিতে নৌচলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও নিরাপত্তাসংক্রান্ত মতবিরোধের কারণে এর পূর্ণ বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। পারস্য উপসাগরের তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী বিপুলসংখ্যক জাহাজ এই পথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছায়। ফলে এই অঞ্চলে সামরিক সংঘাত কিংবা বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ, পরিবহন ব্যয় এবং মূল্য পরিস্থিতির ওপর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।

বিশেষ করে এশিয়ার জ্বালানি আমদানিনির্ভর অর্থনীতিগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশসহ যেসব দেশ আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অপরিশোধিত তেল, পরিশোধিত জ্বালানি এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করে, তাদের জন্য এই নৌপথে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা নতুন অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করলেও প্রয়োজনে নতুন সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের ইঙ্গিতও দিয়েছেন। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার প্রত্যাশায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমছে।

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের কূটনৈতিক বার্তা এবং একই সময়ে ইরানের ভূখণ্ডে মার্কিন সামরিক অভিযান পরিচালনার ঘটনাকে ঘিরে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। একদিকে ওয়াশিংটন আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলছে, অন্যদিকে সীমিত সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখছে। এর ফলে চলমান আলোচনার ভবিষ্যৎ এবং দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থার প্রশ্নটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলছেন, কেশম দ্বীপে সর্বশেষ হামলা পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ পুনরায় শুরুর ইঙ্গিত নয়। তবে একই অঞ্চলে ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি, সামরিক বিমান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার অভিযোগ এবং পাল্টা বিমান হামলার মতো ঘটনাগুলো সংঘাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বিশেষ করে কোনো পক্ষের ভুল হিসাব, আকস্মিক সামরিক প্রতিক্রিয়া কিংবা বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে। ফলে সীমিত সামরিক অভিযান ভবিষ্যতে বৃহত্তর সংঘাতে রূপ নেবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

কেশম দ্বীপে হামলার পর হতাহতের সংখ্যা কিংবা সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি। ইরানের ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণব্যবস্থা ধ্বংসের দাবিও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি সামরিক তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আবারও অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে। কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত থাকলেও মাঠপর্যায়ের সামরিক উত্তেজনা যে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি, কেশম দ্বীপের সর্বশেষ ঘটনাই তার নতুন ইঙ্গিত।

এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, সীমিত হামলা ও পাল্টা সামরিক তৎপরতার মধ্য দিয়েই কি দুই দেশ নিজেদের অবস্থান জানান দিতে থাকবে, নাকি এই উত্তেজনা আবারও পূর্ণমাত্রার সংঘাতে রূপ নেবে? এর উত্তর নির্ভর করবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরবর্তী সামরিক সিদ্ধান্ত এবং চলমান কূটনৈতিক আলোচনার অগ্রগতির ওপর।


মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের শঙ্কা, পুতিনকে ফোন ইরানের নিরাপত্তাপ্রধানের: কী বার্তা দিল মস্কো?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০৩ ১০:৫১:৫১
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের শঙ্কা, পুতিনকে ফোন ইরানের নিরাপত্তাপ্রধানের: কী বার্তা দিল মস্কো?
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজাই এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন টেলিফোনে আলাপ করেছেন। আলোচনায় সাম্প্রতিক আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ঘটনাবলি—বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি—গুরুত্ব পেয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে টেলিফোনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের (SNSC) সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি। সোমবার (২ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় পশ্চিম এশিয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা এবং সংবাদমাধ্যম তেহরান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে তেহরান ও মস্কোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে ধারাবাহিক যোগাযোগের অংশ হিসেবেই এই টেলিফোন আলাপ অনুষ্ঠিত হয়। উভয় পক্ষ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময়ের পাশাপাশি দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্ধারিত রোডম্যাপ অনুযায়ী কৌশলগত সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

ফোনালাপের সময় রেজায়ি ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং দেশটির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবস্থানের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাত ও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ইরানি জনগণের দৃঢ়তা এবং সহনশীলতার প্রতি মস্কোর সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কঠিন আঞ্চলিক পরিস্থিতির মধ্যেও রাশিয়ার সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে ইরান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দুই দেশের সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

তবে ফোনালাপে নতুন কোনো সামরিক সহায়তা, প্রতিরক্ষা চুক্তি কিংবা নির্দিষ্ট কূটনৈতিক উদ্যোগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, তা প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়নি। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও আলোচনার বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করেনি।

এমন একসময়ে পুতিন ও রেজায়ির মধ্যে যোগাযোগ হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও এখনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যতে সামরিক হামলা বন্ধের নিশ্চয়তা নিয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। এই প্রেক্ষাপটে মস্কোর সঙ্গে তেহরানের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ আঞ্চলিক কূটনীতির জন্য তাৎপর্যপূর্ণ।

রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক সহযোগী। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে বিরোধের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশ পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করেছে।

২০২৫ সালের ১৭ জানুয়ারি মস্কোয় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান একটি ২০ বছর মেয়াদি বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তির আওতায় প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, জ্বালানি, বাণিজ্য, প্রযুক্তি, পরিবহন এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

চুক্তিতে অভিন্ন সামরিক হুমকি মোকাবিলায় সহযোগিতা, যৌথ সামরিক মহড়া এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এটি সরাসরি পারস্পরিক সামরিক প্রতিরক্ষার নিশ্চয়তা দেয় না। অর্থাৎ কোনো একটি দেশ আক্রান্ত হলে অন্য দেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুদ্ধে অংশ নিতে বাধ্য নয়।

এই বাস্তবতায় পুতিন ও রেজায়ির সর্বশেষ ফোনালাপকে বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারত্ব বজায় রাখার রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতিতে রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখা তেহরানের জন্য কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে রাশিয়ার কাছেও ইরানের ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য, কাস্পিয়ান অঞ্চল এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে দুই দেশের স্বার্থ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। পাশাপাশি পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপটে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিকল্প অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়টিও দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতার প্রচেষ্টার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা অব্যাহত রয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাতারের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চললেও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে মতপার্থক্য কাটেনি।

ইরান চাইছে সংঘাতের স্থায়ী অবসান, নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি। এসব প্রশ্নের গ্রহণযোগ্য সমাধান না হলে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা পুরোপুরি দূর করা কঠিন।

এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়ার পাশাপাশি চীনও মধ্যপ্রাচ্যের সংকট নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে। একই দিনে বেইজিংয়ে ইরানের জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক আলী বাঘেরি কানির সঙ্গে বৈঠক করেন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। সেখানে ইরানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রতি চীনের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানানো হয়।

ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটকে কেন্দ্র করে তেহরানের সঙ্গে মস্কো ও বেইজিংয়ের যোগাযোগ একই সময়ে জোরদার হওয়ার বিষয়টি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে এই যোগাযোগগুলো কোনো সমন্বিত সামরিক উদ্যোগের অংশ কি না, সে বিষয়ে প্রকাশিত তথ্য থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় না।

বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ইরানের সঙ্গে রাশিয়ার কৌশলগত সম্পর্কের দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। প্রথমত, আন্তর্জাতিক চাপের মুখে তেহরানের সঙ্গে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বজায় রাখা। দ্বিতীয়ত, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সংঘাতের সম্ভাব্য বিস্তার সম্পর্কে নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ অব্যাহত রাখা।

সোমবারের ফোনালাপেও এই দুই দিকের প্রতিফলন পাওয়া যায়। উভয় পক্ষ কৌশলগত সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হলেও নতুন কোনো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের ঘোষণা দেয়নি।

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, তেহরান ও মস্কোর এই কূটনৈতিক সমন্বয় আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে কতটা ভূমিকা রাখতে পারবে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতা এখনো অনিশ্চিত এবং নতুন সামরিক সংঘাতের আশঙ্কাও পুরোপুরি কাটেনি।

এই পরিস্থিতিতে পুতিন ও রেজায়ির আলোচনা রাশিয়া-ইরান সম্পর্কের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তেহরানের কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকার একটি বার্তা দিয়েছে। তবে যুদ্ধের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা কতটা এগোবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।


ইরানের পাশে চীন, তবে যুদ্ধ নয়: মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে বেইজিংয়ের নতুন কূটনৈতিক বার্তা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০৩ ১০:৪০:১৪
ইরানের পাশে চীন, তবে যুদ্ধ নয়: মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে বেইজিংয়ের নতুন কূটনৈতিক বার্তা
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই সোমবার ইরানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রতি বেইজিংয়ের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যে ইরানের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে চীন। একই সঙ্গে সামরিক শক্তি প্রয়োগের পরিবর্তে কূটনৈতিক আলোচনা ও রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে চলমান সংকট নিরসনের আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং। অন্যদিকে ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো ধরনের ছাড় দিতে প্রস্তুত নয় তেহরান।

সোমবার (২ নভেম্বর) বেইজিংয়ে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের (SNSC) উপসচিব আলী বাঘেরি কানির সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। এমন একসময়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং যুদ্ধ বন্ধে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এখনো কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায়নি।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার বরাতে জানা গেছে, বৈঠকে ওয়াং ই বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় এর নেতিবাচক প্রভাব ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে পারস্পরিক আলোচনা, বাস্তবসম্মত উদ্যোগ এবং রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে সংকটের স্থায়ী সমাধান খুঁজতে হবে।

চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানান, ইরানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার অধিকারকে বেইজিং সমর্থন করে। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে চায় চীন। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন সত্ত্বেও দুই দেশের সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ওয়াং ইর মতে, বেইজিং ও তেহরানের সহযোগিতা কেবল দুই দেশের স্বার্থের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি উন্নয়নশীল দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা এবং বৈশ্বিক রাজনীতিতে তাদের সম্মিলিত অবস্থান শক্তিশালী করার আকাঙ্ক্ষার সঙ্গেও সম্পর্কিত।

চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের মধ্যপ্রাচ্যসংক্রান্ত শান্তি উদ্যোগগুলোর কথা উল্লেখ করে ওয়াং ই বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে চীন সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। বেইজিং মনে করে, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্যও গুরুতর পরিণতি বয়ে আনতে পারে।

এদিকে বৈঠকে ইরানের অবস্থান তুলে ধরে আলী বাঘেরি কানি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার ক্ষেত্রে তেহরানের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। এসব মৌলিক স্বার্থের প্রশ্নে ইরান কোনো আপস করবে না।

বাঘেরি কানি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের কঠোর সমালোচনা করেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যাসহ দেশটির ওপর চালানো হামলাকে তিনি যুদ্ধাপরাধ হিসেবে অভিহিত করেন। তাঁর দাবি, এসব সামরিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক নীতির পরিপন্থী এবং এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।

ইরানি এই কর্মকর্তা সতর্ক করেন, সামরিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা কিংবা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। বরং এমন পদক্ষেপ সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতি, জ্বালানি সরবরাহ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

তবে কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগও খোলা রেখেছে তেহরান। বাঘেরি কানি জানান, ইরান সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে প্রস্তুত। তবে সেই আলোচনা হতে হবে দেশটির নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে।

বৈঠকের পর চীনের কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বেইজিংয়ের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করে তেহরান। আন্তর্জাতিক ও বহুপক্ষীয় কাঠামোয় দুই দেশের সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে ইরানের সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি সৌদি আরব ও ওমানের সঙ্গেও কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার করেছে চীন। সোমবার সৌদি আরবের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মুসায়েদ বিন মোহাম্মদ আল-আইবানের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন ওয়াং ই।

বৈঠকে তিনি সতর্ক করেন, মধ্যপ্রাচ্য আবারও যুদ্ধ ও শান্তির এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সামরিক উত্তেজনা কমিয়ে আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য নিরসন করা জরুরি। পাশাপাশি আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

সৌদি উপদেষ্টা এ সময় দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের একটি চিঠি চীনা প্রেসিডেন্টের উদ্দেশে হস্তান্তর করেন বলে জানিয়েছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে বেইজিং সফরে ইরান ও সৌদি আরবের প্রতিনিধিদের মধ্যে সরাসরি কোনো বৈঠক হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

একই দিনে বেইজিংয়ে ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিকের সঙ্গে বৈঠক করেন চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং। সেখানে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য ও পারস্য উপসাগরকে বৃহৎ শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং ভূরাজনৈতিক সংঘাতের ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।

চীনা প্রেসিডেন্টের মতে, আঞ্চলিক দেশগুলোর নিজস্ব স্বার্থ ও নিরাপত্তার বিষয়গুলোকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় চীন আরব দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় আরও বাড়াতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।

ওমানের সুলতানের এই সফর কূটনৈতিকভাবে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৭৮ সালে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর এটিই কোনো ওমানি রাষ্ট্রপ্রধানের প্রথম চীন সফর। সফরকালে দুই দেশের মধ্যে অর্থনীতি, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও অন্যান্য খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকের পর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় চীনের উদ্যোগকে সমর্থন জানায় ওমান। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ নৌপরিবহন পুনরায় নিশ্চিত করা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আলোচনায় ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়।

মধ্যপ্রাচ্যে চীনের এই কূটনৈতিক সক্রিয়তার সঙ্গে অর্থনৈতিক ও জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টিও ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি আমদানিকারক দেশ চীন। অন্যদিকে ইরান দেশটির গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহকারী ও বাণিজ্যিক অংশীদার।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। চলমান সংঘাতের কারণে এই নৌপথে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাস সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা চীনের অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গেও সম্পর্কিত।

এই প্রেক্ষাপটে বেইজিং ঘোষণা করেছে, মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক চীনের বিশেষ দূত ঝাই জুন নভেম্বর মাসে ইরান, ওমান ও সৌদি আরব সফর করবেন। তাঁর এই সফরের লক্ষ্য আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো, রাজনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনা অনুসন্ধান এবং নতুন করে সংঘাতের বিস্তার ঠেকাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করা।

মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতিতে চীনের ভূমিকা অবশ্য নতুন নয়। ২০২৩ সালের মার্চে বেইজিংয়ের মধ্যস্থতায় দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্ক কাটিয়ে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সম্মত হয় ইরান ও সৌদি আরব। ওই বছরের ১০ মার্চ চীন, ইরান ও সৌদি আরবের যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ঘটনাটি চীনের একটি উল্লেখযোগ্য মধ্যস্থতামূলক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হয়।

সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও সক্রিয় কূটনৈতিক ভূমিকা নিতে চাইছে বেইজিং। তবে বর্তমান পরিস্থিতি অনেক বেশি জটিল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সামরিক সংঘাত, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মতবিরোধ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং জ্বালানি পরিবহনের সংকট সমাধানে একাধিক পক্ষের সম্মতি প্রয়োজন।

বেইজিংয়ের সাম্প্রতিক উদ্যোগে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে: চীন একদিকে ইরানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রতি সমর্থন বজায় রাখতে চায়, অন্যদিকে নতুন যুদ্ধ এড়াতে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতার পথও খোলা রাখতে আগ্রহী।

তবে চীনের এই কূটনৈতিক তৎপরতা কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে সংঘাতের পক্ষগুলোর আলোচনায় ফিরে আসার আগ্রহ, নিরাপত্তাসংক্রান্ত পারস্পরিক নিশ্চয়তা এবং সম্ভাব্য সমঝোতা বাস্তবায়নের ওপর। আপাতত মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। এমন পরিস্থিতিতে বেইজিংয়ের নতুন উদ্যোগ আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় কতটা অগ্রগতি আনতে পারে, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।


সরকার গঠন ব্যর্থ হলে ৯০ দিনের মধ্যে ইসরায়েলে নতুন নির্বাচনের হাঁকডাক

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০২ ২০:০৬:৫৪
সরকার গঠন ব্যর্থ হলে ৯০ দিনের মধ্যে ইসরায়েলে নতুন নির্বাচনের হাঁকডাক
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট। গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে কোনো পক্ষই ১২০ আসনের নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় জাদুকরি ৬১টি আসন অর্জন করতে পারেনি। এর ফলে দেশটিতে গভীর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের জোটগত দর-কষাকষির ওপর নির্ভর করছে রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।

চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ব্লকের দলগুলো সবমিলিয়ে ৫৩টি আসন পেয়েছে। এর মধ্যে তার দল লিকুদ একাই জিতেছে ২৭টি আসন। এ ছাড়া ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম ও ওতজমা ইয়েহুদিত সাতটি করে এবং শাস ও রিলিজিয়াস জায়োনিজম ছয়টি করে আসন পেয়েছে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুবিরোধী ইহুদি দলগুলোর জোট ঝুলিতে পুরেছে ৪৮টি আসন। এর মধ্যে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের ইয়াশার পার্টি একাই পেয়েছে সর্বোচ্চ ২১টি আসন। বাকি আসনগুলোর মধ্যে বি’ইয়াচাদ ১২টি, দ্য ডেমোক্র্যাটস আটটি এবং ইসরায়েল বেইতেনু সাতটি আসন অর্জন করেছে। এ ছাড়া আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর মধ্যে জয়েন্ট লিস্ট ১১টি এবং রা’আম আটটিসহ মোট ১৯টি আসন পেয়েছে।

নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফল আগামী ৪ নভেম্বরের মধ্যে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। নতুন পার্লামেন্টের সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১০ নভেম্বর এবং ১১ নভেম্বরের মধ্যে প্রেসিডেন্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সরকার গঠনের জন্য উপযুক্ত কাউকে আমন্ত্রণ জানাবেন। সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া এবং সরকার গঠনের সম্ভাবনা সাপেক্ষে প্রথমে নেতানিয়াহু অথবা বিরোধী শিবিরের গাদি আইজেনকট এই দায়িত্ব পেতে পারেন। নেতানিয়াহুকে হটাতে আরব দলগুলোর সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় আইজেনকট এই দৌড়ে এগিয়ে থাকতে পারেন। যদিও অতীতের অনীহা কাটিয়ে রা’আম ও জয়েন্ট লিস্টের মতো আরব দলগুলো নেতানিয়াহুকে হটাতে নতুন এই জোটে যোগ দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।

সংবিধান অনুযায়ী, মনোনীত প্রার্থী সরকার গঠনের জন্য প্রাথমিক ২৮ দিন সময় পাবেন, যা প্রয়োজন সাপেক্ষে আরও ১৪ দিন বাড়ানো সম্ভব। প্রথম প্রার্থী ব্যর্থ হলে প্রেসিডেন্ট অন্য কাউকে সুযোগ দেবেন এবং সেখানেও ব্যর্থতা এলে পার্লামেন্টের সদস্যরা নিজেদের মধ্য থেকে তৃতীয় কাউকে মনোনীত করতে পারবেন। এসব প্রক্রিয়ায় সমাধান না আসলে পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন নির্বাচন দিতে হবে। তবে নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকায়, সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালেও আরও বেশ কিছুদিন ক্ষমতায় থাকার পথ খোলা রয়েছে নেতানিয়াহুর সামনে।

সূত্র: আলজাজিরা


শর্ত মানলে দু’দিনে হরমুজ প্রণালি খোলার ঘোষণা ইরানের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০২ ১৮:৫৬:৩৭
শর্ত মানলে দু’দিনে হরমুজ প্রণালি খোলার ঘোষণা ইরানের
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের শর্তসমূহ মেনে নিলে মাত্র দুই দিনের মধ্যে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে এবং এই নৌপথের নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠাসহ আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছে ইরান। সোমবার (২ নভেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই।

মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তথ্য ও বার্তা লেনদেন বজায় রয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে প্রথমে সাত দিনের একটি পরিকল্পনার কথা বলা হলেও, চুক্তি হলে মাত্র দুই দিনের মধ্যে এটি বাস্তবায়নের সুযোগ রয়েছে—যা ইরানের সদিচ্ছারই প্রমাণ। ইরানের দেওয়া প্রধান দাবিসমূহের মধ্যে রয়েছে—পুরো মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের অবসান, বিদেশে আটকে থাকা ইরানি সম্পদ মুক্ত করা, দেশটির তেল খাতের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ওয়াশিংটন আরোপিত নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া। অন্যদিকে কাতারভিত্তিক আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানান, ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী সম্মত নতুন নৌপথ যুক্তরাষ্ট্রকে মেনে নিতে হবে, সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাসংখ্যা কমাতে হবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নতুন সামরিক হামলার আশঙ্কার মুখে তেহরান তার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্য ইরানের পিকঅ্যাক্স পর্বতসহ বাকি স্থাপনাগুলোতে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিলে বাঘাই স্পষ্ট জানান, ইরানের ওপর যেকোনো ধরনের সামরিক হামলা বা আগ্রাসনের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক, শক্তিশালী এবং সর্বাত্মক জবাব দেওয়া হবে।

সূত্র: এএফপি


হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান নতুন কূটনৈতিক মোড়

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০২ ১৭:৫৫:৫৫
হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান নতুন কূটনৈতিক মোড়
ছবি: ইরানের প্রেসিডেন্টের ওয়েবসাইট/ওয়ানা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের লক্ষে কাতারের মধ্যস্থতায় দোহায় চলমান আলোচনা থেকে সাময়িকভাবে কাতার ছেড়েছেন ইরানি প্রতিনিধিরা। তবে কোনো জটিলতা বা আলোচনা ভেঙে যাওয়ার কারণে নয়, বরং একটি খসড়া প্রস্তাব নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বর্তমানে পর্যালোচনার কাজ চলছে এবং পরবর্তীতে আরেকটি বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, গত সেপ্টেম্বরে তেহরানের তৈরি করা সাত দফার একটি পরিকল্পনাকে এই আলোচনার মূল ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়েছে। এই পরিকল্পনার প্রধান উদ্দেশ্য হলো হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া। দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের সঙ্গে এই বার্তা আদান-প্রদান করছিলেন। বাঘাই আরও স্পষ্ট করে জানান যে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধের অবসান, ইরানের দাবিগুলোর সম্মান এবং দেশটির বৈধ চাহিদা পূরণ না হলে কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো বা হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া সম্ভব নয়। এর আগে আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানিয়েছিলেন, একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে মাত্র দুই দিনের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া সম্ভব।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘাত নতুন মোড় নিতে পারে এমন উদ্বেগের মাঝেই এই কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। মঙ্গলবার মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই নির্বাচন নিয়ে তেহরানের বড় কোনো পরিবর্তনের প্রত্যাশা না থাকলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে কোনো হামলা চালাবে না এবং আলোচনাও ফলপ্রসূ হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে প্রয়োজনে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা তিনি পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি।

/আশিক

পাঠকের মতামত: