আগামী পাঁচ দিন দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকার পূর্বাভাস

পরিবেশ ও জলবায়ু ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০২ ১৯:৫৬:৩৭
আগামী পাঁচ দিন দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকার পূর্বাভাস

আগামী পাঁচ দিন দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক ও আংশিক মেঘলা থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে এই সময়ের মধ্যে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা কমে শীতের আমেজ বাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সারা দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক ও অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং এ সময় দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে। পরদিন মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আবহাওয়া একই রকম থাকলেও তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে।

তবে আবহাওয়ার মূল পরিবর্তন আসতে পারে বুধবার। ওই দিন আকাশ আংশিক মেঘলা থাকার পাশাপাশি সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমে যেতে পারে। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমলেও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। সপ্তাহের শেষ দিন শুক্রবারও একই প্রবণতা বজায় থেকে রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।

এদিকে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আরও ঘনীভূত হয়েছে। বর্তমানে এটি পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এটি আরও উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে সোমবার মধ্যরাত থেকে মঙ্গলবার ভোর নাগাদ প্রবল ঘূর্ণিঝড় হিসেবে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

/আশিক


রাতে অন্ধ্র উপকূলে আঘাত হানতে পারে প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’

পরিবেশ ও জলবায়ু ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০২ ১৯:০০:৪৫
রাতে অন্ধ্র উপকূলে আঘাত হানতে পারে প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’
ছবি : সংগৃহীত

পশ্চিমমধ্য ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ভারতের অন্ধ্র উপকূলের দিকে এগিয়ে চলেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সোমবার রাত নাগাদ এটি প্রবল ঘূর্ণিঝড় হিসেবে অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

সোমবার সকালে আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এদিন সকাল ৬টায় ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র ১৪ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮১ দশমিক ৮ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থান করছিল। এ সময় এটি মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ২৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ২৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এছাড়া চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে এর দূরত্ব ছিল ১ হাজার ৪৪০ কিলোমিটার এবং কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৪০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে।

ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর উত্তাল ও বিক্ষুব্ধ রয়েছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দরগুলোকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

/আশিক


দেশের পাঁচ বিভাগে হতে পারে বজ্রসহ বৃষ্টি

পরিবেশ ও জলবায়ু ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০১ ২৩:৩৮:২৭
দেশের পাঁচ বিভাগে হতে পারে বজ্রসহ বৃষ্টি
ছবি : সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া গভীর নিম্নচাপটি ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’-তে রূপ নিয়েছে এবং এর প্রভাবে ঢাকাসহ দেশের পাঁচ বিভাগের দু-এক জায়গায় বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। রোববার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড়টি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে এবং পরবর্তীতে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির প্রভাবে রোববার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। তবে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক ও আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। এ সময় রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।

পরবর্তী দিনগুলোতে (সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার) দেশের সার্বিক আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক ও আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। এই সময়ে রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেলেও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এছাড়া বর্ধিত পাঁচ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এই সময়ের মধ্যে দেশের তাপমাত্রা আরও হ্রাস পেতে পারে।

/আশিক


তাপপ্রবাহের পর ভ্যাপসা গরমের মধ্যেই এলো ঘূর্ণিঝড়ের আপডেট

পরিবেশ ও জলবায়ু ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৮ ১৯:২১:৪১
তাপপ্রবাহের পর ভ্যাপসা গরমের মধ্যেই এলো ঘূর্ণিঝড়ের আপডেট
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের উপকূলে আঘাত হানার পর প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর গতি কমে যাওয়ায় বাংলাদেশে এর প্রভাবে বৃষ্টির পরিমাণ আগের পূর্বাভাসের তুলনায় কম হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে দেশের কয়েকটি বিভাগে বৃষ্টির সম্ভাবনার পাশাপাশি রাজধানী ঢাকাতেও সামান্য বৃষ্টি হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোরে অন্ধ্র প্রদেশের বাপাতলা ও বিশাখাপট্টনমের মধ্যবর্তী উপকূলীয় এলাকা দিয়ে ঘূর্ণিঝড়টি স্থলভাগে প্রবেশ করতে শুরু করে এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই তা উপকূল অতিক্রম করা শুরু করে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির তথ্য অনুযায়ী, ঝড়ের অগ্রভাগের প্রভাবে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে ভারী বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বইছে। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গেও এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে এবং পূর্ব মেদিনীপুরের দিঘা সমুদ্রসৈকত উত্তাল হয়ে ওঠায় স্থানীয় প্রশাসন পর্যটক ও বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে। বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের ১৩ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতেও এই ঝড়ের আঘাত হানার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবীর জানিয়েছেন, স্থলভাগে উঠে আসার পর ঘূর্ণিঝড়টির গতি অনেক কমে গেছে এবং এটি ধীরে ধীরে উত্তর-পশ্চিম দিকে সরে যাচ্ছে।

কমগতির এই ঝড়ের প্রভাবে খুলনা, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হতে পারে। এর আগে মঙ্গলবার ঢাকা, খুলনা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার ফলে ভ্যাপসা গরম অনুভূত হয়েছিল এবং রাজধানীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল। বর্তমানে ঘূর্ণিঝড়ের গতি মন্থর হওয়ায় আগের ধারণার চেয়ে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

/আশিক


আরও শক্তিশালী হয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে ‘অর্ণব’

পরিবেশ ও জলবায়ু ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৬ ১৮:৫২:০৬
আরও শক্তিশালী হয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে ‘অর্ণব’
ছবি : সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ আরও শক্তিশালী হয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় ঘূর্ণিঝড়টি পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমানের দেওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, এটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে সোমবার মধ্যরাত নাগাদ প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে এবং পরবর্তীতে আরও শক্তি সঞ্চয় করে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। আগামী বুধবার (২৮ অক্টোবর) এটি ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার রয়েছে, যা দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর অত্যন্ত উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

/আশিক


ঢাকায় দুপুরে বজ্রবৃষ্টি ও কালবৈশাখীর পূর্বাভাস: কাঁপতে পারে ৬ বিভাগ

পরিবেশ ও জলবায়ু ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৫ ০৯:৩৯:০৭
ঢাকায় দুপুরে বজ্রবৃষ্টি ও কালবৈশাখীর পূর্বাভাস: কাঁপতে পারে ৬ বিভাগ
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় আজ বুধবার (২৫ মার্চ ২০২৬) বজ্রবৃষ্টিসহ কালবৈশাখী ঝড়ের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সকাল থেকেই ঢাকার আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে এবং দুপুরের মধ্যে বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে ঢাকা ছাড়াও দেশের আরও ৫টি বিভাগে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া অফিসের বিশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে, যা অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।

সিনপটিক অবস্থায় দেখা যাচ্ছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে এবং মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপটি দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে বিরাজমান। এর প্রভাবে আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। তবে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আজ ভোরে ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৩.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯০ শতাংশ। দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেয়ে ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে। আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ১১ মিনিটে এবং আগামীকাল বৃহস্পতিবার সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ৫৮ মিনিটে। হঠাৎ ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কায় নগরবাসীকে চলাচলে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

/আশিক


আসছে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ: হাড়কাঁপানো শীতের পূর্বাভাস দিল আবহাওয়া অফিস

পরিবেশ ও জলবায়ু ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ৩০ ০৯:০২:৫০
আসছে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ: হাড়কাঁপানো শীতের পূর্বাভাস দিল আবহাওয়া অফিস
ছবি : সংগৃহীত

সারা দেশে পৌষের মাঝামাঝি সময়ে জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। যদিও আবহাওয়া অধিদপ্তরের মতে এখন পর্যন্ত শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়নি, তবে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান কমে যাওয়ায় এবং দিনের বেলা সূর্যের দেখা না মেলায় কনকনে ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, সোমবার ভোরে কিশোরগঞ্জের নিকলীতে দেশের সর্বনিম্ন ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। ঢাকায় সর্বনিম্ন ১৩.৮ ডিগ্রি এবং সর্বোচ্চ ১৫.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে পার্থক্য ছিল মাত্র ১.৭ ডিগ্রি, যার ফলে রাজধানীবাসী হাড়কাঁপানো শীতের কবলে পড়েছেন।

আবহাওয়াবিদ শাহনাজ সুলতানা জানিয়েছেন, আগামী ১ থেকে ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত তাপমাত্রা খুব একটা না কমলেও ৬ জানুয়ারি থেকে পারদ নামতে শুরু করবে। এরপর ৮ জানুয়ারি থেকে দেশজুড়ে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি) এই শৈত্যপ্রবাহের নাম দিয়েছে ‘কনকন’। তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৩১ ডিসেম্বর থেকে ৭ জানুয়ারির মধ্যে এই শৈত্যপ্রবাহের সবচেয়ে শক্তিশালী রূপ দেখা যাবে, বিশেষ করে রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে তাপমাত্রা ৬ থেকে ৮ ডিগ্রিতে নেমে আসতে পারে।

কুয়াশার তীব্রতার কারণে মঙ্গলবার থেকে শনিবার পর্যন্ত আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। এই সময়ে মধ্যরাত থেকে দুপুর পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশার দাপট থাকবে, যার ফলে বিমান, অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হতে পারে বলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেটসহ উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে শীতের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি থাকবে। তবে বরিশাল ও চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকায় শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব তুলনামূলক কম হতে পারে। শীতের এই বৈরী পরিস্থিতিতে শিশু ও বয়স্কদের বিশেষ যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।


২১০০ সালের মধ্যে ২০ কোটি মানুষ ঘরহারা হতে পারে, জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ চিত্র

পরিবেশ ও জলবায়ু ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ০৬ ১১:৫৭:৩৯
২১০০ সালের মধ্যে ২০ কোটি মানুষ ঘরহারা হতে পারে, জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ চিত্র
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে গরম বেড়ে যাওয়ার খবর প্রায়ই শোনা যায় তবে অধিকাংশ বাসযোগ্য এলাকায় পরিস্থিতি এখনো মানুষের জন্য জীবনযাপন অসহনীয় নয়। বিশেষ করে শুষ্ক অঞ্চলে গরম হলেও শরীর ঘাম দিয়ে নিজেকে ঠাণ্ডা রাখতে পারে। কিন্তু বিজ্ঞানীদের কপালে ভাঁজ ফেলছে এমন কিছু জায়গা যেখানে গরমের সঙ্গে আর্দ্রতাও বেশি থাকে। মধ্যপ্রাচ্য পাকিস্তান ও ভারতের কিছু এলাকায় গরমে সামুদ্রিক আর্দ্রতা যুক্ত হয়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করে। সেখানে ঘাম দ্রুত বাষ্পীভূত হয় না তাই শরীর ঠাণ্ডা হয় না এবং দীর্ঘ সময় থাকলে মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে।

গবেষকরা ওয়েট বাল্ব থার্মোমিটার ব্যবহার করে এই ঝুঁকি মাপেন। যদি ওয়েট বাল্ব তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হয় তবে শরীর যথেষ্ট তাপ বের করতে পারে না। উদাহরণস্বরূপ ২০২৪ সালের মে মাসে দিল্লিতে তাপমাত্রা ৪৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছালে অনেক মানুষ তাপদাহে মারা গিয়েছিলেন। তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিপজ্জনক গরম এবং আর্দ্রতা আরও বেশি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গালফ কোস্ট ও মরুভূমি এলাকায় যেখানে কৃষিকাজে জল স্প্রে করা হয় সেসব অঞ্চলেও গরম ও আর্দ্রতার ঝুঁকি বাড়ছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের মূল কারণ হিসেবে বিজ্ঞানীরা বলছেন যখন আমরা কয়লা তেল বা গ্যাস জ্বালাই তখন কার্বন ডাই অক্সাইড তৈরি হয় যা বায়ুমণ্ডলে জমে সূর্যের তাপ ধরে রাখে। জলবায়ু পরিবর্তন শুধু গরমের সমস্যা নয় বরং এটি আগুন খরা সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ও বন্যার ঝুঁকি বাড়ায়। একুশ শতকের শেষ নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের ঊর্ধ্বগতির কারণে প্রায় ২০ কোটি মানুষ বাসস্থান হারাতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া কৃষি ও অর্থনীতিও মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

খারাপ খবর হলো যতক্ষণ আমরা কার্বন জ্বালাব তাপমাত্রা বাড়তেই থাকবে। তবে ভালো খবর হলো আমরা সোলার ও উইন্ড পাওয়ারের মতো পরিচ্ছন্ন শক্তি ব্যবহার করে কার্বন নির্গমন কমাতে পারি। গত ১৫ বছরে পরিষ্কার শক্তি আরও সাশ্রয়ী এবং নির্ভরযোগ্য হয়েছে এবং প্রায় সব দেশ জলবায়ু পরিবর্তন রোধে সম্মত হয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করেই এই পৃথিবী বাসযোগ্য রাখা সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তথ্যসূত্র : এনডিটিভি


২৫০ বছরের ইতিহাস বিশ্লেষণ: বাংলাদেশ কি বড় ভূমিকম্পের দ্বারপ্রান্তে? 

পরিবেশ ও জলবায়ু ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২১ ১৮:১৪:০৮
২৫০ বছরের ইতিহাস বিশ্লেষণ: বাংলাদেশ কি বড় ভূমিকম্পের দ্বারপ্রান্তে? 

বাংলাদেশ আবারও একটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনুভূত এই সকালের কম্পন খুব বেশি ক্ষতি না করলেও বিশেষজ্ঞদের মতে এটি মোটেও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং উপনিবেশিক যুগ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত ধারাবাহিক সিসমিক সক্রিয়তার অংশ। আজকের ভূমিকম্প বাংলাদেশের দীর্ঘ ভূমিকম্প-ইতিহাসকে নতুনভাবে সামনে এনেছে এবং দেখিয়েছে যে দেশটি এখনো বড় ধরনের কম্পনের ঝুঁকি থেকে মুক্ত নয়।

দেশের ভূতাত্ত্বিক অবস্থান এমন যে বাংলাদেশের নিচ দিয়ে তিনটি টেকটোনিক প্লেটের চাপের রেখা চলে গেছে। এই কারণে কয়েক শতাব্দী ধরে বাংলাদেশ নানা সময়ে বড় কম্পনের অভিঘাত সহ্য করেছে। ১৭৬২ সালের আরাকান ভূমিকম্প যার মাত্রা প্রায় ৮ দশমিক ৮ ধরা হয়, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার উপকূলের বৃহৎ ভূমি পরিবর্তন ঘটায়। উপকূলের অনেক অংশ নিচে নেমে যায় এবং কোথাও কোথাও নতুন চর ও দ্বীপ সৃষ্টি হয়। এই ভূমিকম্প এখনো বাংলাদেশের ভূ-ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ভূ-পরিবর্তনের উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত।

১৮৯৭ সালের শিলং ভূমিকম্প ছিল আরেকটি ভয়াবহ ঘটনা। প্রায় ৮ দশমিক ১ মাত্রার এই ভূমিকম্পে সিলেট, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল এবং রংপুরসহ উত্তর পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। বহু ভবন ধসে পড়ে, রেললাইন বেঁকে যায় এবং জমিতে দীর্ঘ ফাটল সৃষ্টি হয়। এই ভূমিকম্প বাংলাদেশের ভূমিকম্প-ঝুঁকির কেন্দ্রীয়তা স্পষ্ট করে দেয়।

এরপর ১৯১৮ এবং ১৯২৩ সালে নেত্রকোনা অঞ্চলে ঘটে দুটি বড় ভূমিকম্প। এই দুই ঘটনার ধাক্কায় বহু ঘরবাড়ি, ধর্মীয় স্থাপন এবং স্থানীয় স্থাপনা ধসের মুখে পড়ে। উপকেন্দ্র ছিল নেত্রকোনা ময়মনসিংহ অঞ্চল। উভয় ঘটনায় প্রাণহানি হওয়ায় কেন্দ্রীয় বাংলাদেশের ভূমিকম্প-সংবেদনশীলতা আবারও সামনে আসে।

উপনিবেশিক যুগের আরেক বড় ঘটনা ১৯৫০ সালের আসাম ভূমিকম্প। প্রায় ৮ দশমিক ৬ মাত্রার এই কম্পনের উপকেন্দ্র ছিল ভারতের অরুণাচল সীমান্ত, তবে এর ধাক্কা বাংলাদেশেও শক্তভাবে অনুভূত হয়। উত্তর পূর্বাঞ্চলে বহু স্থাপনায় ফাটল দেখা দেয়।

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে মাঝারি মাত্রার একাধিক ভূমিকম্প ঘটে। ১৯৮৮ সালের সিলেট ভূমিকম্পে বহু ভবনে ফাটল ও ধসের ঘটনা ঘটে। ১৯৮৯ সালে খুলনা অঞ্চলে এবং ১৯৯৭ সালে চট্টগ্রামে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পে ঘরবাড়ি, স্থাপনা ও পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে এবং প্রাণহানি হয়। ১৯৯৯ সালে মহেশখালী দ্বীপে ভূমিকম্পে অন্তত ছয়জন নিহত হন। ২০০৩ সালে রাঙ্গামাটি ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে অনুভূত কম্পন আবারও পাহাড়ধসসহ নানা ক্ষতি তৈরি করে।

সাম্প্রতিক সময়েও সিসমিক সক্রিয়তা বাংলাদেশের জন্য নতুন চিন্তার কারণ। ২০১৬ সালে মণিপুর ভূমিকম্প, ২০১৭ সালে ত্রিপুরার ভূমিকম্প এবং ২০১৫ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ধারাবাহিক ছোট মাঝারি ভূমিকম্প দেশের প্রস্তুতিহীনতার বিষয়টি সামনে আনে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের আশপাশে ২ মাত্রার বেশি শক্তির একশটিরও বেশি ভূমিকম্প রেকর্ড হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে অঞ্চলটি এখন অত্যন্ত সক্রিয় এবং বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকি বিদ্যমান।

আজকের ভূমিকম্পও সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। কম গভীরতার কারণে কম্পনটি বহু এলাকায় তীব্রভাবে অনুভূত হয়। ঘনবসতি, দুর্বল ভবন, নরম পলিমাটি এবং অপরিকল্পিত নগরায়ন বাংলাদেশের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। এমন পরিস্থিতিতে অল্প শক্তির ভূমিকম্পও বড় বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে ছোট ছোট ভূমিকম্প বড় বিপদের সম্ভাবনা কমিয়ে দেয় এমন ধারণা বিজ্ঞানসম্মত নয়। বরং ছোট কম্পনগুলো দেখাচ্ছে ভূতলের নিচে টেনশন জমছে যা ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী ভূমিকম্পের ইঙ্গিত হতে পারে।

বাংলাদেশের দীর্ঘ ইতিহাস, সাম্প্রতিক সিসমিক প্যাটার্ন এবং আজকের ভূমিকম্প মিলিয়ে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে। দেশটি ভূমিকম্পের ঝুঁকি থেকে কখনোই নিরাপদ ছিল না এবং এখনো নয়। উন্নত ও ভূমিকম্প সহনশীল নির্মাণ, কড়া বিল্ডিং কোড বাস্তবায়ন, নগর পরিকল্পনায় ভূমিকম্প ঝুঁকি যুক্ত করা এবং জনগণকে সচেতন করা এখন সময়ের দাবি।


আজকের ভূমিকম্প আমাদের কী শিক্ষা দিচ্ছে: একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ

পরিবেশ ও জলবায়ু ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২১ ১২:০২:২১
আজকের ভূমিকম্প আমাদের কী শিক্ষা দিচ্ছে: একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ

আজকের ভূমিকম্প বাংলাদেশের মানুষকে আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে যে ভূমিকম্প এদেশে কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা নয় বরং একটি স্থায়ী বাস্তবতা। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনুভূত কম্পনটি স্বল্প সময়ের হলেও এটি মানুষের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে এবং অনেকে ভবন থেকে বের হয়ে রাস্তায় নেমে এসেছে। বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি না হলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন এই ভূমিকম্প ভবিষ্যতের আরও বড় সম্ভাব্য বিপদের সতর্ক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।

বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল এবং এটি বহুদিনের বাস্তবতা

বাংলাদেশ এমন একটি স্থানে অবস্থিত যেখানে পৃথিবীর তিনটি বড় টেকটোনিক প্লেট পরস্পরের সংযোগস্থলে রয়েছে। ইন্ডিয়ান প্লেট, ইউরেশিয়ান প্লেট এবং বার্মা মাইক্রো প্লেটের সংঘর্ষপ্রবণ অবস্থান বাংলাদেশকে স্বাভাবিকভাবেই উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। বিশেষ করে ইন্ডো বার্মা সাবডাকশন জোনে দীর্ঘদিন ধরে টেকটোনিক চাপ জমে আছে যা বড় মাত্রার ভূমিকম্প সৃষ্টি করতে পারে। বিভিন্ন ভূতাত্ত্বিক গবেষণা বলছে এই অঞ্চলে শক্তি সঞ্চয়ের প্রকৃতি বিবেচনায় ৮ দশমিক ২ থেকে ৯ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের সম্ভাবনা রয়েছে।

ছোট বা মাঝারি মাত্রার কম্পন ঘন ঘন অনুভূত হওয়া এই অঞ্চলের সক্রিয়তার একটি স্বাভাবিক ইঙ্গিত। এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে ফল্ট লাইনগুলো সক্রিয় রয়েছে এবং সিসমিক গতিবিধির ধারাবাহিকতা বজায় আছে। তাই বাংলাদেশ ভূমিকম্প ঝুঁকির দিক থেকে একটি দীর্ঘস্থায়ী ও বাস্তব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।

ঘনবসতি এবং দুর্বল অবকাঠামো আমাদের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে

বাংলাদেশের বড় শহরগুলো, বিশেষ করে ঢাকা, বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ নগর কেন্দ্র। অতিরিক্ত জনসংখ্যা, অপরিকল্পিত নগরায়ন, অনুমোদনহীন নির্মাণ এবং নরম পলিমাটির ওপর অসংখ্য ভবন নির্মাণ বাংলাদেশের ভূমিকম্প ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলেছে। উন্নত দেশের মতো এখানে ভবনগুলো ভূমিকম্প সহনশীলভাবে নির্মাণ করা হয়নি। ফলে একই মাত্রার ভূমিকম্প বিদেশে কম ক্ষতি করলেও বাংলাদেশে অধিক ক্ষতির সম্ভাবনা অনেক বেশি।

এর পাশাপাশি গ্যাসলাইন, পানি সরবরাহ, বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক, সেতু এবং উড়ালসড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও বড় ভূমিকম্প প্রতিরোধে পর্যাপ্তভাবে প্রস্তুত নয়। মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প হলেও পাইপলাইন বিস্ফোরণ, অগ্নিকাণ্ড, ভবন ধস বা সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মতো গৌণ বিপর্যয় ঘটতে পারে। ফলস্বরূপ মৃত্যুহার এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দ্রুত বাড়তে পারে।

ছোট ছোট কম্পন বড় ভূমিকম্পের শক্তি কমিয়ে দেয় এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল

বাংলাদেশে একটি ভুল ধারণা প্রচলিত আছে যে ছোট ছোট ভূমিকম্প হলে নাকি ভূগর্ভের চাপ মুক্ত হয়ে যায় এবং বড় ভূমিকম্পের সম্ভাবনা কমে যায়। ভূতত্ত্ববিদরা জানিয়েছেন এই ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। পৃথিবীর বিভিন্ন এলাকার গবেষণা বলছে ছোট ভূমিকম্প বড় ভূমিকম্পের সম্ভাবনা দূর করে না বরং সক্রিয় ফল্ট লাইনের চলমান ভূ-চাপের একটি সাধারণ ইঙ্গিত।

ইতিহাস বলছে যেসব অঞ্চলে বিধ্বংসী ভূমিকম্প হয়েছে তারও আগে অনেক জায়গায় ছোট কম্পন দেখা গিয়েছে। তাই ছোট ভূমিকম্পকে নিরাপত্তার লক্ষণ হিসেবে দেখা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বরং এগুলো ভূগর্ভে সিসমিক শক্তির সক্রিয়তার একটি সতর্ক সংকেত যা মানুষকে আরও সচেতন ও প্রস্তুত হওয়ার প্রয়োজনীয়তা স্মরণ করিয়ে দেয়।

নির্দিষ্ট সময় ধরে ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেওয়া বৈজ্ঞানিকভাবে সম্ভব নয়

প্রতি ভূমিকম্পের পরই গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে অমুক সময়ে বা নির্দিষ্ট ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বড় ভূমিকম্প হবে। এসব দাবি মানুষের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। কিন্তু পৃথিবীর কোন আধুনিক বৈজ্ঞানিক সংস্থা এখনো নির্দিষ্ট দিন, সময় বা ঘণ্টা ধরে ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দিতে সক্ষম হয়নি। ভূমিকম্প একটি অত্যন্ত জটিল প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া এবং এর সুনির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা এখনো বিজ্ঞানের নাগালের বাইরে।

কেবল ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল, সম্ভাব্য মাত্রা এবং সিসমিক সক্রিয়তার ধরণ নিয়ে বিজ্ঞানীরা বিশ্লেষণ করতে পারেন। নির্দিষ্ট সময় ধরে ভূমিকম্পের ভবিষ্যদ্বাণী শুধুই গুজব এবং আতঙ্ক ছড়ানোর একটি পদ্ধতি। তাই ভূমিকম্প সংক্রান্ত তথ্য জানতে সর্বদা বৈজ্ঞানিক উৎসের ওপর নির্ভর করা এবং গুজবকে প্রত্যাখ্যান করা অত্যন্ত জরুরি।

আজকের ভূমিকম্প ছিল সতর্ক সংকেত

আজকের ভূমিকম্প বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মরণ করিয়ে দেওয়া যে বড় মাত্রার ভূমিকম্পের ঝুঁকি বাস্তব এবং যেকোনো সময় বিপর্যয় ঘটতে পারে। ভূ-অবস্থান, সক্রিয় ফল্ট লাইন, ঘনবসতি, দুর্বল ভবন এবং প্রস্তুতিহীনতা বাংলাদেশের বড় দুর্বলতা। ভূমিকম্প প্রতিরোধ করা সম্ভব নয় তবে ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব যদি বিল্ডিং কোড কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হয়, নগর পরিকল্পনায় ভূমিকম্প ঝুঁকি অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং জনগণকে বৈজ্ঞানিক তথ্যভিত্তিক প্রস্তুতি শেখানো হয়।

পাঠকের মতামত: