যুক্তরাষ্ট্রবাসী বিরক্ত হলে ইসরায়েলে চলে যাওয়ার ঘোষণা মার্কিন প্রেসিডেন্টের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০৪ ১৮:২৪:২২
যুক্তরাষ্ট্রবাসী বিরক্ত হলে ইসরায়েলে চলে যাওয়ার ঘোষণা মার্কিন প্রেসিডেন্টের
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ তাঁর ওপর বিরক্ত হয়ে গেলে ইসরায়েলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কথা ভাবতে পারেন—এমন মন্তব্য করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরায়েলে নিজের বিপুল জনপ্রিয়তার দাবি করার পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিলেও নিজের নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগে পিছপা হবেন না। প্রয়োজনে ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করে বিরোধী দলের আইনগত উদ্যোগ আটকে দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দিন ফক্স নিউজের ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে ফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ কোনোদিন আমাকে নিয়ে বিরক্ত হয়ে গেলে আমি ইসরায়েলে চলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী হয়ে যাব।’ ইসরায়েলে নিজের জনপ্রিয়তা নিয়ে গর্ব করতে গিয়ে এমন মন্তব্য করেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, ইসরায়েলে তাঁর সমর্থনের হার নিরানব্বই শতাংশ, যা ইতিহাসে যেকোনো ব্যক্তির মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগেও গত মে মাসে একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন তিনি। তখনও ইসরায়েলিদের মধ্যে নিজের জনপ্রিয়তা নিরানব্বই শতাংশ বলে দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে তাঁর জনপ্রিয়তার চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। তেরো থেকে ছাব্বিশ অক্টোবর পরিচালিত সিএনএনের এক জরিপে ট্রাম্পের সামগ্রিক অনুমোদনের হার ছিল চৌত্রিশ শতাংশ। বিপরীতে চৌষট্টি শতাংশ উত্তরদাতা তাঁর কর্মকাণ্ডে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। একই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ইসরায়েলকে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক সামরিক সহায়তা বন্ধ করা হবে। তাঁর দাবি, ইসরায়েল এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে সক্ষম এবং দেশটির আর এই অর্থের প্রয়োজন নেই।

ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এ বিষয়ে তাঁর একটি চুক্তি হয়েছে। সেই চুক্তি অনুযায়ী, বছরের শেষ নাগাদ ইসরায়েলকে বছরে চারশ কোটি ডলারের মার্কিন সহায়তা দেওয়া বন্ধ করা হবে। তবে প্রয়োজন দেখা দিলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইসরায়েলকে সহায়তা করতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের মতে, ইসরায়েলকে দেওয়া মার্কিন সামরিক সহায়তার বিষয়টি ব্যবহার করে ডেমোক্র্যাট ও বামপন্থি রাজনীতিকদের একটি অংশ রিপাবলিকানদের সমালোচনা করছেন।

এদিকে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার আগেই সিবিএস নিউজকে দেওয়া পৃথক এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের এক বা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলে তিনি ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করে তাদের আইন প্রণয়নের উদ্যোগ আটকে দিতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, আমার হাতে চূড়ান্ত ক্ষমতা আছে, তার নাম ভেটো। ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলে ‘মিস্টার ভেটো’ নামে পরিচিত হওয়ার সম্ভাবনাকেও স্বাগত জানান ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, কংগ্রেসে বিরোধী দলের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হলেও নিজের নীতিগত কর্মসূচি বাস্তবায়নে নির্বাহী ক্ষমতার ওপর নির্ভর করতে চান তিনি।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টের ‘ট্রাম্প বনাম স্লটার’ মামলার রায়ের কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, এই রায়ের ফলে ফেডারেল সংস্থাগুলোর ওপর প্রেসিডেন্টের কর্তৃত্ব বেড়েছে। ট্রাম্পের যুক্তি, ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলেও সুপ্রিম কোর্টের এই রায় তাঁকে নিজের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেবে। সিবিএসকে তিনি বলেন, আমরা স্লটার মামলায় জিতেছি, আর এই মামলা প্রেসিডেন্টকে এমন বিশাল ক্ষমতা দিয়েছে, যা আগে কখনো ছিল না।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে ব্যাপক প্রচার চালিয়েছেন ট্রাম্প। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে জনসভা ও নির্বাচনী কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে ভোটারদের আহ্বান জানান তিনি। নিজের প্রচারণার পক্ষে সাফাই গেয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, তাঁর জনসভাগুলো রিপাবলিকানদের নির্বাচনী সম্ভাবনা বাড়িয়েছে।

তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফল রিপাবলিকানদের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে। ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ অর্জন করেছে। নির্বাচনে ট্রাম্পের শাসন, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও নীতিগত সিদ্ধান্তগুলো গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় ছিল। এখন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার মুখে ট্রাম্প প্রশাসন কীভাবে নিজের রাজনৈতিক কর্মসূচি এগিয়ে নেয়, সেটিই হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

পার্সটুডে


শেনজেনে আসন্ন এপেক সম্মেলনে তিন বিশ্বনেতার বৈঠকের সম্ভাবনা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০৪ ১৮:০৮:৪৮
শেনজেনে আসন্ন এপেক সম্মেলনে তিন বিশ্বনেতার বৈঠকের সম্ভাবনা
ছবি : সংগৃহীত

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে একটি সম্ভাব্য ত্রিপক্ষীয় বৈঠক আয়োজনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে বেইজিং। চলতি নভেম্বর মাসের শেষ দিকে চীনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানা গেছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যে একটি বৈঠক আয়োজনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে চীন।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আগামী আঠারো ও উনিশ নভেম্বর দক্ষিণ-পূর্ব চীনের শেনজেনে এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন বা এপেক নেতাদের সম্মেলনের ফাঁকে সম্ভাব্য এই বৈঠকটি আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে তিন দেশের কর্মকর্তারা নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করছেন। এর আগে এই বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস।

আসন্ন এই এপেক সম্মেলনে একুশটি সদস্য অর্থনীতির শীর্ষ নেতা ও প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন, যাদের আতিথ্য দেবেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এই সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পেরও যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠক আয়োজনের বিষয়ে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভও নিশ্চিত করে বলেছেন যে, এ ধরনের একটি বৈঠক আয়োজনের কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে।

এদিকে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এই সম্ভাব্য বৈঠক আয়োজনের জন্য চীনকে রাজি করাতে ওয়াশিংটন ও মস্কো যৌথভাবে কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করছে।

সূত্র: আনাদোলু


ট্রাম্পের জন্য বড় ধাক্কা, মধ্যবর্তী নির্বাচনে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা: বদলে যাচ্ছে মার্কিন রাজনীতির সমীকরণ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০৪ ১০:১১:৫৮
ট্রাম্পের জন্য বড় ধাক্কা, মধ্যবর্তী নির্বাচনে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা: বদলে যাচ্ছে মার্কিন রাজনীতির সমীকরণ

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর রিপাবলিকান পার্টি। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ভোট গণনা যত এগোচ্ছে, ততই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোতে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করছে বিরোধী ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। সিনেটের দুটি রিপাবলিকান আসন নিজেদের দখলে নেওয়ার পাশাপাশি প্রতিনিধি পরিষদের একাধিক আসনেও জয় পেয়েছে দলটি। ফলে মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা, রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, নর্থ ক্যারোলাইনা ও সাউথ ক্যারোলাইনায় রিপাবলিকানদের দখলে থাকা দুটি সিনেট আসন জিতেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। পাশাপাশি জর্জিয়ায় নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ সিনেট আসন ধরে রেখেছে দলটি। প্রতিনিধি পরিষদেও রিপাবলিকানদের কাছ থেকে অন্তত ছয়টি আসন ছিনিয়ে নেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

তবে ভোট গণনা এখনো সম্পূর্ণ না হওয়ায় সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে যাচ্ছে, তা নিশ্চিত হতে আরও ফলাফলের প্রয়োজন রয়েছে।

নির্বাচনের অন্যতম আলোচিত ফল এসেছে সাউথ ক্যারোলাইনা থেকে। দীর্ঘদিন রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত অঙ্গরাজ্যটিতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যানি অ্যান্ড্রুজ জয় পেয়েছেন। তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী ডারলিন গ্রাহামকে পরাজিত করেন। এর মধ্য দিয়ে দুই দশকের বেশি সময় পর সাউথ ক্যারোলাইনার একটি সিনেট আসনে জয় পেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি।

পেশায় শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অ্যানি অ্যান্ড্রুজ নির্বাচনী প্রচারে জনস্বাস্থ্য, শিশুদের নিরাপত্তা, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সাধারণ মানুষের উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। বিশেষ করে স্বাস্থ্যনীতি ও জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর অবস্থান নির্বাচনী প্রচারে আলোচনায় আসে।

জয়ের পর সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে অ্যান্ড্রুজ বলেন, যাঁরা তাঁকে ভোট দেননি, তাঁদের প্রতিনিধিত্ব করাও তাঁর দায়িত্ব। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও প্রত্যেক নাগরিকের কথা শোনা এবং সবার জন্য কাজ করার অঙ্গীকার করেন তিনি।

আরেক গুরুত্বপূর্ণ ফল এসেছে নর্থ ক্যারোলাইনা থেকে। সেখানে সাবেক গভর্নর রয় কুপার রিপাবলিকান প্রার্থী মাইকেল হোয়াটলিকে পরাজিত করে সিনেট আসনে জয় পেয়েছেন। হোয়াটলি ছিলেন রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান এবং ট্রাম্পের সমর্থিত প্রার্থী। ফলে এই ফলাফলকে শুধু একটি আসনের পরিবর্তন হিসেবে নয়, ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রভাবের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রয় কুপার নির্বাচনী প্রচারে খাদ্যপণ্য, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। ভোটারদের অর্থনৈতিক উদ্বেগ তাঁর প্রচারের অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে ওঠে।

ডেমোক্র্যাটদের জন্য স্বস্তির আরেকটি খবর এসেছে জর্জিয়া থেকে। সেখানে বর্তমান সিনেটর জন অসফ রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক কলিন্সকে পরাজিত করে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই অঙ্গরাজ্যে জয় ডেমোক্র্যাটদের সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

নিউ হ্যাম্পশায়ারেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ক্রিস পাপাস সিনেট নির্বাচনে জয় পেয়েছেন। তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক সিনেটর জন সুনুনুকে পরাজিত করেন। এর ফলে অঙ্গরাজ্যটির সিনেট আসন ডেমোক্র্যাটদের হাতেই থাকছে।

মার্কিন সিনেটের মোট আসন ১০০টি। নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের হাতে ছিল ৫৩টি এবং ডেমোক্র্যাট ও তাঁদের সঙ্গে থাকা স্বতন্ত্র সদস্যদের হাতে ৪৭টি আসন। সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে হলে ডেমোক্র্যাটদের রিপাবলিকানদের কাছ থেকে নিট চারটি আসন নিজেদের দখলে আনতে হবে।

নর্থ ক্যারোলাইনা ও সাউথ ক্যারোলাইনায় জয়ের মাধ্যমে সেই লক্ষ্যের অর্ধেক পথ অতিক্রম করেছে দলটি। তবে বাকি গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোর ফলাফলের ওপর সিনেটের চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ নির্ভর করছে।

এদিকে প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনেও রিপাবলিকানদের ওপর চাপ বাড়ছে। পেনসিলভানিয়ার তিনটি আসনে ডেমোক্র্যাটদের জয় হয়েছে। পাশাপাশি নিউ জার্সি, কেন্টাকি এবং নর্থ ক্যারোলাইনাতেও রিপাবলিকানদের দখলে থাকা আসনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা।

পেনসিলভানিয়ার দশম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টে সাতবারের রিপাবলিকান প্রতিনিধি স্কট পেরিকে পরাজিত করেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জ্যানেল স্টেলসন। এই জয় ডেমোক্র্যাটদের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ দীর্ঘদিন ধরে আসনটি রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে ছিল।

মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের মোট আসন ৪৩৫টি। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ২১৮টি আসন। নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের হাতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও নতুন ফলাফল তাদের অবস্থানকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

শুধু কংগ্রেস নয়, বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচনেও উল্লেখযোগ্য ফল পেয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। জর্জিয়ায় গভর্নর নির্বাচনে জয় পেয়েছেন কিশা ল্যান্স বটমস। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী হিসেবে কোনো অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচিত হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন তিনি।

অন্যদিকে ওহাইওতে রিপাবলিকান প্রার্থী বিবেক রামাস্বামীকে পরাজিত করেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যামি অ্যাকটন। রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অঙ্গরাজ্যটিতে ডেমোক্র্যাটদের এই জয়ও জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

একের পর এক ফলাফল আসার মধ্যে নির্বাচন নিয়ে প্রথম প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, এবারের নির্বাচনে তিনি নিজে প্রার্থী হলে রিপাবলিকানরা বিপুল ব্যবধানে জয়ী হতো।

ট্রাম্পের বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল, তিনি নিজে ব্যালটে না থাকায় রিপাবলিকান প্রার্থীরা প্রত্যাশিত সমর্থন পাননি। তবে নির্বাচনী ফলাফলের ওপর তাঁর প্রশাসনের নীতি ও রাজনৈতিক অবস্থানের প্রভাব নিয়েও আলোচনা চলছে।

অন্যদিকে নিউইয়র্ক টাইমসের বরাতে আল-জাজিরা জানিয়েছে, ট্রাম্প নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেওয়ার প্রস্তুতির কথা বলেছেন। তিনি জানান, ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতেও তাঁর আপত্তি নেই এবং প্রয়োজনে সমঝোতার পথ খোঁজা হবে।

মধ্যবর্তী নির্বাচন সাধারণত ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা ও প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হয়। কারণ, এই নির্বাচনের মাধ্যমে ভোটাররা সরাসরি প্রেসিডেন্ট নির্বাচন না করলেও তাঁর প্রশাসনের নীতি ও কর্মসম্পাদন সম্পর্কে নিজেদের অবস্থান প্রকাশের সুযোগ পান।

এবারের নির্বাচনে অর্থনীতি, মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানির দাম, অভিবাসননীতি এবং ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সংঘাত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ভোটার জরিপ অনুযায়ী, বিপুলসংখ্যক মার্কিন নাগরিক দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তুষ্ট। অনেক ভোটার মনে করছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় তাঁদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

জরিপে অংশ নেওয়া ভোটারদের একটি বড় অংশ কংগ্রেসের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার ওপর কার্যকর নজরদারি ও ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার পক্ষেও মত দিয়েছেন। তবে এই অসন্তোষের সবটুকু যে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রতি ইতিবাচক সমর্থনে রূপ নিয়েছে, এমনটিও নয়। দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের প্রতি ভোটারদের আস্থা ও অসন্তোষের বিষয়গুলোও জরিপে উঠে এসেছে।

এই নির্বাচনের ফলাফল মার্কিন রাজনীতির আগামী দুই বছরের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদের অবশিষ্ট সময় কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁর প্রশাসনের সম্পর্ক অনেকাংশেই নির্ভর করবে কোন দল আইনসভার নিয়ন্ত্রণ পাচ্ছে তার ওপর।

ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও সরকারি ব্যয় নিয়ে তদন্ত, শুনানি এবং রাজনৈতিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষমতা বাড়বে। অন্যদিকে সিনেটের নিয়ন্ত্রণেও পরিবর্তন এলে সরকারি নিয়োগ, আইন প্রণয়ন এবং বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে নতুন সমঝোতা প্রয়োজন হতে পারে।

তবে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্য ভিন্ন রূপ নিতে পারে। ফলে নির্বাচনের সম্পূর্ণ ফলাফল প্রকাশের আগে ওয়াশিংটনের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল ডেমোক্র্যাটদের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কয়েকটি অঙ্গরাজ্যেও ডেমোক্র্যাটদের জয় ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করেছে।

তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখনো অমীমাংসিত: মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কি রিপাবলিকানদের হাতেই থাকবে, নাকি ডেমোক্র্যাটরা আইনসভার এক বা উভয় কক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করবে?

ভোট গণনা শেষ হওয়ার পরই মিলবে সেই প্রশ্নের উত্তর। তবে এখন পর্যন্ত প্রকাশিত ফলাফলে স্পষ্ট, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে আগামী দুই বছরের ক্ষমতার সমীকরণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।


‘ভুল করলে নতুন যুদ্ধক্ষেত্র দেখবে যুক্তরাষ্ট্র’: ইরানের কড়া হুঁশিয়ারি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০৪ ০৯:৫৫:২২
‘ভুল করলে নতুন যুদ্ধক্ষেত্র দেখবে যুক্তরাষ্ট্র’: ইরানের কড়া হুঁশিয়ারি

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ। তিনি বলেছেন, ওয়াশিংটন আবারও কোনো সামরিক ভুল করলে ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া হবে অপ্রত্যাশিত ও সুদূরপ্রসারী। সম্ভাব্য হামলার জবাব শুধু নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এমনকি নতুন সংঘাত শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের যুদ্ধক্ষেত্রের মুখোমুখি হতে হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) তেহরানে ইরানের পার্লামেন্টের উন্মুক্ত অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন কালিবাফ। এমন একসময়ে তিনি এই সতর্কবার্তা দিলেন, যখন হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে সংঘাতের স্থায়ী অবসান ঘটাতে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কূটনৈতিক যোগাযোগও অব্যাহত রয়েছে।

ইরানের সংবাদমাধ্যম তেহরান টাইমস ও তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পার্লামেন্টে কালিবাফ দাবি করেন, ইরান বর্তমানে সামরিক ও প্রতিরক্ষাগত প্রস্তুতির সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। দেশটির সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো সম্ভাব্য হামলার জবাব দিতে প্রস্তুত এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তেহরান কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির নির্ধারিত সামরিক কৌশলের প্রসঙ্গ তুলে কালিবাফ বলেন, সম্ভাব্য আগ্রাসন মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনীকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষায়, শত্রুপক্ষের যেকোনো সামরিক ভুলের জবাব এমনভাবে দেওয়া হবে, যা তাদের পূর্বপরিকল্পনা ও কৌশলগত হিসাবকে অকার্যকর করে দিতে পারে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবারও কৌশলগত ভুল করে, তাহলে এবার এমন একটি যুদ্ধক্ষেত্রের মুখোমুখি হবে, যেখান থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজতে ওয়াশিংটনকে আরও কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে।

কালিবাফের বক্তব্যে ইরানের সামরিক প্রতিক্রিয়া ভৌগোলিক সীমারেখার বাইরে বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনার কথাও উঠে আসে। তবে সম্ভাব্য পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তু, পরিধি কিংবা সামরিক কৌশল সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

মার্কিন নীতির সমালোচনা করে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার অভিযোগ করেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের দীর্ঘদিনের বিরোধের মূল কারণ ইরানের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি এবং বিদেশি আধিপত্য প্রত্যাখ্যানের অবস্থান। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র অতীতে বিভিন্ন উপায়ে ইরানের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছে। কিন্তু ইরানি জনগণের প্রতিরোধের কারণে সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি।

তিনি আরও বলেন, সামরিক হুমকি, অর্থনৈতিক চাপ এবং মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের মাধ্যমে ইরানকে নিজেদের শর্ত মেনে নিতে বাধ্য করার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তবে এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরানের জাতীয় অবস্থান পরিবর্তন করা সম্ভব হবে না বলে দাবি করেন তিনি।

কালিবাফের মতে, সাম্প্রতিক সংঘাতের অভিজ্ঞতা ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও প্রস্তুত করেছে। তাঁর দাবি, বারবার সামরিক চাপ সৃষ্টি করেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তেহরানের অবস্থান বদলাতে পারেনি।

তবে কঠোর সামরিক হুঁশিয়ারির পাশাপাশি কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাও পুরোপুরি নাকচ করেননি ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইতোমধ্যে একটি দৃঢ় ও যুক্তিসংগত জবাব পৌঁছে দিয়েছে তেহরান। এখন নতুন যুদ্ধ এড়ানোর দায়িত্ব ওয়াশিংটনের।

কালিবাফ বলেন, সংঘাত প্রতিরোধের সুযোগ এখনো রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

অবশ্য তেহরানের পক্ষ থেকে দেওয়া এই জবাবের বিস্তারিত বিষয়বস্তু তিনি প্রকাশ করেননি। ফলে আলোচনায় ঠিক কোন কোন বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে এবং কোন প্রশ্নগুলো এখনো অমীমাংসিত, তা পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।

এদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত বন্ধের লক্ষ্যে পরোক্ষ আলোচনা চললেও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, জব্দ করা সম্পদ মুক্ত করা, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা এবং সামরিক অবরোধ প্রত্যাহারের মতো বিষয়গুলো আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।

এর মধ্যেই হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের কেশম দ্বীপে সীমিত সামরিক অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা থেকে মার্কিন সামরিক বিমানকে হুমকি দেওয়ার পর আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ওই হামলা চালানো হয়।

অন্যদিকে ইরান এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক তৎপরতার বিরোধিতা করে আসছে। ফলে একদিকে কূটনৈতিক সমঝোতার চেষ্টা এবং অন্যদিকে পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ, এই দুই বিপরীত প্রবণতা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

এমন প্রেক্ষাপটে কালিবাফের সর্বশেষ বক্তব্যকে ওয়াশিংটনের প্রতি তেহরানের কঠোর সামরিক সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ইরান বাস্তবে কতটা বিস্তৃত সামরিক প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশিত হয়নি।

পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে কালিবাফ দেশের অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও সংহতির ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, সম্ভাব্য বহিঃশত্রুর হুমকি মোকাবিলায় ইরানের সবচেয়ে বড় শক্তি জনগণের ঐক্য। জাতীয় সংহতি অটুট থাকলে সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা করা সহজ হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ইরানের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে বলে যেসব আলোচনা চলছে, সেগুলোও প্রত্যাখ্যান করেন পার্লামেন্ট স্পিকার। তাঁর দাবি, সামরিক, কূটনৈতিক ও জনসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

তবে সামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কালিবাফ। তিনি স্বীকার করেন, মূল্যস্ফীতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের অস্থিরতার কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় চাপ বাড়ছে।

বিশেষ করে বাজারে একই পণ্যের ভিন্ন ভিন্ন মূল্য, দুর্বল তদারকি এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের সুযোগ নেওয়ার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ জানান তিনি। তাঁর মতে, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাকে কাজে লাগিয়ে কিছু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের চেষ্টা করছেন। বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এ ধরনের অনিয়মের সুযোগ তৈরি করছে।

ইরানের বিভিন্ন সীমান্তপথে পণ্যবাহী ট্রাকের দীর্ঘ সারি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। বিশেষ করে দেশটির উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি সীমান্তে আমদানি, রপ্তানি এবং ট্রানজিট পণ্যবাহী যানবাহনের দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে বাণিজ্যিক কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, পরিবহনসংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা এবং সরবরাহব্যবস্থার অনিশ্চয়তা ইরানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তাই সীমান্ত বাণিজ্য সচল রাখা, বাজারে পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং মূল্যস্ফীতির চাপ কমানো দেশটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কালিবাফের বক্তব্যে একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কঠোর সামরিক হুঁশিয়ারি, অন্যদিকে অর্থনৈতিক সংকট ও জনজীবনের দুর্ভোগের স্বীকৃতি উঠে এসেছে। অর্থাৎ বহিরাগত নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিতে হচ্ছে ইরানের নেতৃত্বকে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের বিস্তার ঠেকাতে চীনসহ বিভিন্ন দেশ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বেইজিং সম্প্রতি ইরানের সার্বভৌমত্বের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে আলোচনায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে। রাশিয়ার সঙ্গেও উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে তেহরান।

তবে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উদ্যোগ কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা অনেকাংশে নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা, নিষেধাজ্ঞা এবং সম্ভাব্য সামরিক হামলা বন্ধের নিশ্চয়তা নিয়ে গ্রহণযোগ্য সমঝোতায় পৌঁছানো এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকারের সর্বশেষ হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তেহরান একদিকে আলোচনার দরজা খোলা রাখার কথা বলছে, অন্যদিকে স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে নতুন সামরিক অভিযানের জবাব দেওয়ার প্রস্তুতিও তাদের রয়েছে।

সব মিলিয়ে প্রশ্ন এখন একটাই: ওয়াশিংটন ও তেহরান কি কূটনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে নতুন যুদ্ধ এড়াতে পারবে, নাকি সীমিত সামরিক হামলা এবং পাল্টা হুঁশিয়ারির ধারাবাহিকতা মধ্যপ্রাচ্যকে আরেকটি বড় সংঘাতের দিকে ঠেলে দেবে?


ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে আরও দুটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি আইআরজিসির

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০৩ ২০:৪২:৪৫
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে আরও দুটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি আইআরজিসির
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে আরও দুটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি। মঙ্গলবার হরমোজগান প্রদেশের বন্দর খামিরের আকাশে ড্রোন দুটি ধ্বংস করা হয়।

আইআরজিসির হরমোজগান প্রদেশের ইউনিটের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের আওতাধীন আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিটগুলো সফলভাবে ড্রোন দুটি ভূপাতিত করেছে। ইরানের আকাশসীমা ও জলসীমায় মার্কিন ড্রোন-সংক্রান্ত ঘটে চলা একাধিক ঘটনার ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই সর্বশেষ এই ঘটনা ঘটল।

এর আগে গত সোমবার রাতে আইআরজিসি জানায়, তাদের বাহিনী কেশম দ্বীপের দক্ষিণে দুটি মার্কিন এমকিউএম-সতেরো শূন্য গোয়েন্দা ড্রোন ভূপাতিত করেছে। আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের পরিচালিত অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ব্যবস্থা ব্যবহার করে ড্রোনগুলো নামানো হয়। ওই সময় বিবৃতিতে জানানো হয়, এ ধরনের মার্কিন ড্রোন আটকের সংখ্যা তখন থেকেই চারটিতে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ ছাড়া হরমুজ প্রণালীর পূর্বাঞ্চলে একটি মার্কিন এমকিউ-নয় ড্রোন শনাক্ত করে ধ্বংস করার কথাও জানিয়েছে আইআরজিসি। ইরানের দাবি অনুযায়ী, তাদের নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে এ পর্যন্ত ভূপাতিত হওয়া এমকিউ-নয় ড্রোনের মোট সংখ্যা পঞ্চান্নটিতে দাঁড়িয়েছে।

তথ্যসূত্র: তাসনিম নিউজ।


হুমকি পাওয়ার পর বুলগেরিয়ার সোফিয়া বিমানবন্দরে নামল ইসরায়েলি প্লেন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০৩ ২০:১৯:২৬
হুমকি পাওয়ার পর বুলগেরিয়ার সোফিয়া বিমানবন্দরে নামল ইসরায়েলি প্লেন
ছবি : সংগৃহীত

ই-মেইলে হুমকি পাওয়ার পর ইসরায়েল থেকে আসা একটি উড়োজাহাজ বুলগেরিয়ার সোফিয়া বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করেছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সংঘটিত এই ঘটনা নিশ্চিত করেছে বুলগেরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম বুলগেরিয়ান ন্যাশনাল রেডিওর (বিএনআর) বরাত দিয়ে আনাদোলু এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে।

বুলগেরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাসচিব লিউবোমির নিকোলভ জানিয়েছেন, ইমেইলে হুমকির বার্তা পাওয়ার পর বিমানটি সোফিয়া বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। তবে উড়োজাহাজটির নির্দিষ্ট এয়ারলাইনস, ফ্লাইটের বিবরণ, যাত্রীর সংখ্যা কিংবা সুনির্দিষ্ট রুট সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। হুমকিতে বিস্ফোরক থাকার আশঙ্কা করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানায়নি কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার আপডেট জানানোর কথা রয়েছে।

এর আগে গত সোমবার লন্ডন থেকে সোফিয়াগামী উইজ এয়ারের একটি ফ্লাইটে বোমা হামলার হুমকির পর সেটি হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে ঘুরিয়ে নেওয়া হয়। তল্লাশিতে কোনো বিস্ফোরক না পাওয়ায় পরবর্তী সময়ে ফ্লাইটটি বুলগেরিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করে। এ ছাড়া গত ১৮ অক্টোবর তেল আবিব থেকে ভিয়েনাগামী অস্ট্রিয়ান এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটও বোমা হুমকির মুখে বুলগেরিয়ার মিগ-২৯ যুদ্ধবিমানের পাহারায় সোফিয়ায় অবতরণ করেছিল। নিরাপত্তা যাচাইয়ে কোনো হুমকি না মেলায় পরে ফ্লাইটটি ভিয়েনার পথে যাত্রা অব্যাহত রাখে। সাম্প্রতিক এসব ঘটনা ইউরোপের আকাশসীমায় চলাচলকারী উড়োজাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


হরমুজ প্রণালিতে মাইনের আঘাতে তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০৩ ১৯:৪৯:১০
হরমুজ প্রণালিতে মাইনের আঘাতে তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণ

হরমুজ প্রণালিতে অনুমোদনহীন পথ দিয়ে চলাচলের সময় সামুদ্রিক মাইনে আঘাত লেগে তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি নৌবাহিনী। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি নৌবাহিনী জানিয়েছে, দিনের প্রথম প্রহর থেকেই এই বিস্ফোরণের ঘটনাগুলো ঘটতে শুরু করে। বিস্ফোরণ এবং এর ফলে সৃষ্ট আগুন এতটাই তীব্র ছিল যে, প্রণালির পূর্বাঞ্চলে অবস্থানরত জেলেরা রাতের আকাশকে উজ্জ্বল আলোয় আলোকিত হতে দেখেছেন।

মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি নৌবাহিনী জানিয়েছে, দিনের প্রথম প্রহর থেকেই এই বিস্ফোরণের ঘটনাগুলো ঘটতে শুরু করে। বিস্ফোরণ এবং এর ফলে সৃষ্ট আগুন এতটাই তীব্র ছিল যে, প্রণালির পূর্বাঞ্চলে অবস্থানরত জেলেরা রাতের আকাশকে উজ্জ্বল আলোয় আলোকিত হতে দেখেছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ট্যাংকারগুলো তাদের নিজস্ব নেভিগেশন ও পরিচয় শনাক্তকরণ বা আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম বন্ধ রেখে কৌশলগত এই জলপথ অতিক্রমের জন্য একটি অননুমোদিত ও নিষিদ্ধ পথ ব্যবহারের চেষ্টা করছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে সেগুলোর তলদেশ সমুদ্রের নিচে পেতে রাখা মাইনে আঘাত হানে। বিস্ফোরণের পরপরই ট্যাংকারগুলোতে আগুন ধরে যায় এবং হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ উপকূলের কাছাকাছি সেগুলো জ্বলতে থাকে।

আইআরজিসি নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ইরানের নির্ধারিত নিয়মকানুন ও সতর্কতাগুলো বেতার বার্তা এবং আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বারবার জাহাজের নাবিকদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বিবৃতিতে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়, যারা এসব নিয়ম উপেক্ষা করে অনুমোদনহীন পথে চলাচলের জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা করবে, তাদের সবাইকে একই ধরনের মারাত্মক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।

/আশিক


ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা প্রচেষ্টার মাঝেই হরমুজ প্রণালিতে বড় ধাক্কা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০৩ ১৯:০১:৩১
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা প্রচেষ্টার মাঝেই হরমুজ প্রণালিতে বড় ধাক্কা

হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ জাহাজ চলাচলের স্বার্থে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। তবে ইসলামাবাদের মধ্যস্থতায় নিরাপত্তা নিশ্চয়তা পাওয়ার পরও একটি কাতারি এলএনজি জাহাজে হামলার ঘটনা দেশটির কূটনৈতিক ও সামরিক সক্ষমতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে প্রকাশ, গত ৩০ অক্টোবর হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী এলাকায় কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী (এলএনজি) জাহাজ ‘আল মায়েদা’ হামলার শিকার হয়। পাকিস্তানের জন্য এলএনজি বহনকারী এই জাহাজটির নিরাপদ চলাচলের বিষয়ে পাকিস্তানের মাধ্যমেই ইরানের পক্ষ থেকে অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। এর আগে একই কূটনৈতিক ব্যবস্থার আওতায় কয়েকটি জাহাজ নিরাপদে ওই প্রণালি পার হলেও, অনুমতি পাওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হামলার মুখে পড়ে জাহাজটি বাধ্য হয়ে পারস্য উপসাগরের দিকে ফিরে যায়। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ হামলার দায় স্বীকার না করলেও কাতারি কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি তদন্ত করছে। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অর্জিত নিরাপত্তার নিশ্চয়তার কার্যকারিতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এদিকে সংকট নিরসনে দোহায় ইরান ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে টানা তৃতীয় দিনের মতো আলোচনা চলছে। বৈঠক শেষে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার সময়সীমা সাত দিন থেকে কমিয়ে দুই দিন করার কথা জানিয়েছেন। তবে তেহরান নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ, উপসাগরে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি হ্রাস এবং ইরান ও ওমানের নির্ধারিত নতুন নৌপথের স্বীকৃতিসহ বেশ কিছু কঠোর শর্ত জুড়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, নৌ চলাচল স্বাভাবিক না হলে ওয়াশিংটন বিকল্প কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

চলতি বছরের শুরু থেকেই ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা হ্রাসে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে পাকিস্তান। গত জুনে ইসলামাবাদে সমঝোতা স্মারক তৈরির উদ্যোগের পাশাপাশি অক্টোবরে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির দুই দফা তেহরান সফর করেন। গত ৩০ অক্টোবর পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্রও মধ্যস্থতার বিষয়ে ইতিবাচক আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন।

তবে হরমুজ প্রণালির এই অচলাবস্থা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক সংকট তৈরি করেছে। দেশটির আমদানিকৃত এলএনজির প্রায় পুরোটাই এই প্রণালি দিয়েই আসে। ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের অক্টোবরে কাতার থেকে পাকিস্তান মাত্র দুটি এলএনজি চালান পেয়েছে, যেখানে গত বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল আটটি। এর ওপর কাতারএনার্জি তাদের সরবরাহে ফোর্স ম্যাজিউর বা অনিবার্য পরিস্থিতির ঘোষণা আগামী ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছে। ফলে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে পাকিস্তান চরম জ্বালানি ঘাটতি ও আন্তর্জাতিক বাজারে চড়া দামে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির তীব্র সংকটের মুখে পড়তে পারে।

সূত্র: দ্য ডিপ্লোম্যাট, রয়টার্স


শত্রুর দৃশ্যমান ও অদৃশ্য সব ঘাঁটি এখন ইরানি বাহিনীর নাগালে: জেনারেল আবদুল্লাহি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০৩ ১৭:৩৫:৫৭
শত্রুর দৃশ্যমান ও অদৃশ্য সব ঘাঁটি এখন ইরানি বাহিনীর নাগালে: জেনারেল আবদুল্লাহি
ছবি : সংগৃহীত

শত্রুপক্ষকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ এবং খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টারের কমান্ডার মেজর জেনারেল আলি আবদুল্লাহি বলেছেন, শত্রুর যাবতীয় দৃশ্যমান ও অদৃশ্য ঘাঁটি এবং সম্পদ এখন ইরানি বাহিনীর সম্পূর্ণ নাগালের মধ্যে ও সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর আওতাধীন রয়েছে। বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদবিরোধী জাতীয় দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিশেষ বাণীতে তিনি এই সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন।

বাণীতে জেনারেল আবদুল্লাহি বর্তমান ইরানকে বিশ্বের চতুর্থ উদীয়মান শক্তির কেন্দ্র হিসেবে অভিহিত করেছেন। বিশেষ করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথভাবে চাপিয়ে দেওয়া ৪০ দিনব্যাপী যুদ্ধের পর তাদের এই সামরিক শক্তি আরও সুদৃঢ় হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ১৩ই আবান দিনটিকে ইরানি জাতির জন্য কেবল পঞ্জিকার একটি পাতা নয়, বরং বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সংগ্রামের অনন্য প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, ঐতিহাসিক এই দিনটি ১৯৬৪ সালে ইমাম খোমেনির নির্বাসন, ১৯৭৯ সালে বিপ্লবী শিক্ষার্থীদের ওপর গণহত্যা এবং একই বছর মার্কিন গুপ্তচরবৃত্তির আখড়া খ্যাত মার্কিন দূতাবাস দখলের মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। ১৯৫৩ সালের অভ্যুত্থান এবং অপারেশন এজাক্সের পথ ধরে সংঘটিত এসব ঐতিহাসিক ঘটনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে চিরতরে ইরানি জাতির কাছে ঋণী করে রেখেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের বর্তমান বহুমুখী বা হাইব্রিড সংঘাত কেবল সামরিক পরিসীমায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি বিশ্ব ক্ষমতার সমীকরণকে আমূল বদলে দিচ্ছে। কৌশলগত হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ইরান আজ বিশ্বের চতুর্থ শক্তির মেরু হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ফলে একমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা এই নতুন বাস্তবতার সামনে মাথা নত করতে বাধ্য হয়েছে, যা প্রমাণ করে যে আঞ্চলিক শক্তি ও দেশগুলো মার্কিন নিরাপত্তার ছত্রছায়া ছাড়াই নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ সক্ষম।

ইরান কখনোই যুদ্ধ কামনা করে না উল্লেখ করে জেনারেল আবদুল্লাহি বলেন, সময়ের চাহিদা ও বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করে দেশের সামরিক নীতি এখন ‘রক্ষাণাত্মক’ অবস্থান থেকে সরে এসে ‘আক্রমণাত্মক উদ্যোগ’ এবং ‘সংকট ব্যবস্থাপনা’ থেকে ‘শৃঙ্খলা নির্মাণ’-এ রূপান্তরিত হয়েছে। এছাড়া লেবানন ও গাজা উপত্যকাসহ সকল রণাঙ্গনে যুদ্ধের চির অবসান ঘটিয়ে দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপরও তিনি বিশেষ জোর দিয়েছেন।

সূত্র: মেহের নিউজ


হরমুজ প্রণালিতে নতুন উত্তেজনা, ইরানের দ্বীপে মার্কিন হামলা: বড় যুদ্ধের পূর্বাভাস?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০৩ ১১:০৩:০৬
হরমুজ প্রণালিতে নতুন উত্তেজনা, ইরানের দ্বীপে মার্কিন হামলা: বড় যুদ্ধের পূর্বাভাস?

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির অনিশ্চয়তা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের কেশম দ্বীপে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তারা এই অভিযানকে সীমিত ও ‘আত্মরক্ষামূলক’ বলে দাবি করলেও তেহরানের পক্ষ থেকে একাধিক মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার ঘোষণা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) রাতে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কেশম দ্বীপে পরপর পাঁচটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে সংস্থাটি জানায়, বিস্ফোরণের আগে দ্বীপটির আকাশে দুটি যুদ্ধবিমান উড়তে দেখা গেছে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি বন্দরনগরী বন্দর লেঙ্গেহ থেকেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার খবর পাওয়া যায়।

প্রথমদিকে বিস্ফোরণের কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো না হলেও পরবর্তী সময়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের তথ্য প্রকাশিত হয়। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এবং অন্যান্য সংবাদমাধ্যমকে একাধিক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, কেশম দ্বীপে ইরানের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে সীমিত হামলা চালানো হয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই অভিযান বৃহত্তর সামরিক সংঘাত পুনরায় শুরুর অংশ নয়। বরং হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন সামরিক বিমান ও নৌসম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে হামলাটি পরিচালনা করা হয়েছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে ইরানের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্র আরও কয়েকটি সীমিত অভিযান পরিচালনা করেছে। তবে সেসব অভিযানের অধিকাংশই প্রকাশ্যে জানানো হয়নি। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, নতুন করে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হচ্ছে এমন বার্তা যাতে না যায়, সে কারণেই অভিযানগুলো প্রচারের বাইরে রাখা হয়েছিল।

এদিকে হামলার আগে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালির আশপাশে মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করে। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, কেশম দ্বীপের দক্ষিণে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি এমকিউএম-১৭০ (MQM-170) ড্রোন ইলেকট্রনিক যুদ্ধপ্রযুক্তি ব্যবহার করে অকার্যকর করা হয়েছে। ড্রোন দুটি গোয়েন্দা নজরদারির কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে দাবি করে ইরান।

একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির পূর্বাঞ্চলে আরও একটি মার্কিন নির্মিত এমকিউ-৯ (MQ-9) ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি জানিয়েছে দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। তবে ড্রোনগুলো ভূপাতিত হওয়ার বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের ড্রোনসংক্রান্ত দাবির সত্যতা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেশম দ্বীপ থেকে আইআরজিসি একটি মার্কিন সামরিক বিমান লক্ষ্য করে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। এর জবাবে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ওই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণব্যবস্থা ধ্বংস করে বলে দাবি করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজ নেশনও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, হামলায় ইরানের রাডার শনাক্তকরণ ব্যবস্থা এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তবে এসব স্থাপনায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখনো নিরপেক্ষভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটন এই সামরিক তৎপরতাকে ইরানের পক্ষ থেকে মার্কিন বিমান ও বাণিজ্যিক নৌযানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য আক্রমণ প্রতিরোধের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখাতে চাইছে। কর্মকর্তাদের দাবি, গত কয়েক সপ্তাহে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন সামরিক বিমানকে লক্ষ্য করে ইরানি বাহিনীর একাধিক তৎপরতা দেখা গেছে।

তবে পরিস্থিতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা সমঝোতা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা চলছে। কাতারসহ বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে দুই পক্ষ পরোক্ষভাবে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রশ্নে মতপার্থক্য এখনো কাটেনি।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সোমবার জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বার্তা বিনিময় চলছে। দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি কাতারের রাজধানী দোহা সফর করেছেন বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার মধ্য দিয়ে সংঘাতের নতুন পর্যায় শুরু হয়। এর জবাবে ইরানও ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়। পরবর্তী সময়ে এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল নিয়ে বিরোধ অব্যাহত থাকে।

বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গত ১৮ জুন প্রণালিতে নৌচলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও নিরাপত্তাসংক্রান্ত মতবিরোধের কারণে এর পূর্ণ বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। পারস্য উপসাগরের তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী বিপুলসংখ্যক জাহাজ এই পথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছায়। ফলে এই অঞ্চলে সামরিক সংঘাত কিংবা বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ, পরিবহন ব্যয় এবং মূল্য পরিস্থিতির ওপর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।

বিশেষ করে এশিয়ার জ্বালানি আমদানিনির্ভর অর্থনীতিগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশসহ যেসব দেশ আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অপরিশোধিত তেল, পরিশোধিত জ্বালানি এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করে, তাদের জন্য এই নৌপথে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা নতুন অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করলেও প্রয়োজনে নতুন সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের ইঙ্গিতও দিয়েছেন। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার প্রত্যাশায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমছে।

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের কূটনৈতিক বার্তা এবং একই সময়ে ইরানের ভূখণ্ডে মার্কিন সামরিক অভিযান পরিচালনার ঘটনাকে ঘিরে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। একদিকে ওয়াশিংটন আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলছে, অন্যদিকে সীমিত সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখছে। এর ফলে চলমান আলোচনার ভবিষ্যৎ এবং দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থার প্রশ্নটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলছেন, কেশম দ্বীপে সর্বশেষ হামলা পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ পুনরায় শুরুর ইঙ্গিত নয়। তবে একই অঞ্চলে ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি, সামরিক বিমান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার অভিযোগ এবং পাল্টা বিমান হামলার মতো ঘটনাগুলো সংঘাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বিশেষ করে কোনো পক্ষের ভুল হিসাব, আকস্মিক সামরিক প্রতিক্রিয়া কিংবা বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে। ফলে সীমিত সামরিক অভিযান ভবিষ্যতে বৃহত্তর সংঘাতে রূপ নেবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

কেশম দ্বীপে হামলার পর হতাহতের সংখ্যা কিংবা সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি। ইরানের ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণব্যবস্থা ধ্বংসের দাবিও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি সামরিক তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আবারও অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে। কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত থাকলেও মাঠপর্যায়ের সামরিক উত্তেজনা যে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি, কেশম দ্বীপের সর্বশেষ ঘটনাই তার নতুন ইঙ্গিত।

এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, সীমিত হামলা ও পাল্টা সামরিক তৎপরতার মধ্য দিয়েই কি দুই দেশ নিজেদের অবস্থান জানান দিতে থাকবে, নাকি এই উত্তেজনা আবারও পূর্ণমাত্রার সংঘাতে রূপ নেবে? এর উত্তর নির্ভর করবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরবর্তী সামরিক সিদ্ধান্ত এবং চলমান কূটনৈতিক আলোচনার অগ্রগতির ওপর।

পাঠকের মতামত: