নৈতিক স্খলন প্রমাণিত: জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার এমপি গাজী নজরুল

সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলামের একটি বিতর্কিত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পরিচালিত সাংগঠনিক তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে 'নৈতিক স্খলন'-এর অভিযোগ সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এর প্রত্যক্ষ ফলশ্রুতিতে তাঁকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই ২০২৬) রাজধানীর মিন্টো রোডস্থ বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে আয়োজিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি নীতি-নির্ধারণী বৈঠকে এই শাস্তিমূলক ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। আন্তর্জাতিক ও দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জামায়াতের এই পদক্ষেপ নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কারের চূড়ান্ত বিষয়টি অবিলম্বে আইনানুযায়ী বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) অবহিত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে দলটি।
সংগঠনের আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত জরুরি বৈঠকে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের শীর্ষ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত স্পর্শকাতর বিষয়গুলোর প্রেক্ষিতে দলটির গঠিত উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়। তদন্তে তাঁর গুরুতর নৈতিক স্খলনের বিষয়টি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্রের নির্দিষ্ট ৬২ নম্বর ধারা অনুসরণ করে তাকে দল থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
/আশিক
গাজী নজরুল বিতর্কে ফেসবুকে তাসনিম জারার বক্তব্য
সাতক্ষীরা-৪ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ব্যক্তিগত ভিডিওকে কেন্দ্র করে চলমান বিতর্কে এবার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী তাসনিম জারা। বুধবার (২২ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন এবং রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
ফেসবুক পোস্টে তাসনিম জারা একটি তরুণীর সম্ভাব্য সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, অনেক নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য একটি চাকরি কেবল কর্মসংস্থানের বিষয় নয়; বরং পুরো পরিবারের জীবনযাত্রার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, আর্থিক সংকটে থাকা পরিবারের সদস্যরা প্রায়ই চাকরির আশায় স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি বা জনপ্রতিনিধির দ্বারস্থ হন এবং সেই প্রক্রিয়ায় ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা নানা ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
তিনি উল্লেখ করেন, অভিযোগের বিষয়ে এখনো নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয় এবং কোনো সম্ভাবনাকেই প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। তবে তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যেসব তথ্য ও উপকরণ জনসমক্ষে এসেছে, সেগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করার মতো যথেষ্ট কারণ রয়েছে। এ কারণে তিনি একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত কমিটি গঠনের আহ্বান জানান।
তাসনিম জারা বলেন, তদন্তের মাধ্যমে যদি অভিযোগ ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জনসমক্ষে সম্মান পুনরুদ্ধারের সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে, অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে আইন ও সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলেও তিনি মত দেন। তাঁর মতে, কোনো অভিযোগই তদন্ত ছাড়া গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করা উচিত নয়।
নিজের পোস্টে তিনি সংসদের ভূমিকাও উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, এ ধরনের আলোচিত অভিযোগের ক্ষেত্রে সংসদ বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নীরবতা জনমনে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। তাই বিষয়টি উপেক্ষা না করে স্বচ্ছ তদন্ত ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে জনআস্থা বজায় রাখার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
শুধু চলমান বিতর্ক নয়, তাসনিম জারা চাকরির ক্ষেত্রে সুপারিশ-নির্ভর সংস্কৃতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর মতে, ক্ষমতাবান ব্যক্তির সুপারিশের ওপর চাকরির সুযোগ নির্ভরশীল হয়ে পড়লে সাধারণ মানুষ বিশেষ করে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল পরিবারগুলো নানা ধরনের অনিশ্চয়তা ও নির্ভরশীলতার মধ্যে পড়ে। তিনি এই ব্যবস্থার সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতি দিলেও চাকরিতে সুপারিশ ও প্রভাবের সংস্কৃতি এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি। তাঁর মতে, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে স্বচ্ছ নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে এমন বিতর্ক ও অভিযোগের সুযোগও অনেকাংশে কমে আসবে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে একটি ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পরে তিনি নিজেই বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। এ ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত আরও কিছু ভিডিও ও অডিও ক্লিপও সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। তবে এসব উপকরণের সত্যতা এবং বিভিন্ন পক্ষের দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন বা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয়নি। ফলে বিষয়টি তদন্তাধীন বা যাচাই-অপেক্ষমাণ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
-রফিক
গাজী নজরুলের বিয়ে বিতর্কে নতুন মোড়, ভাইরাল কাজীর অডিও
জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে চলমান বিয়ে-সংক্রান্ত বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও ক্লিপ। এর আগে একটি ব্যক্তিগত ভিডিওকে কেন্দ্র করে যে আলোচনা শুরু হয়েছিল, তার মধ্যেই মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিয়ে নিবন্ধনকারী কাজী বাকীবিল্লাহর কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। অডিওতে দেওয়া তাঁর বক্তব্য কাবিননামার তারিখ, স্বাক্ষরের সময় এবং বিয়ে নিবন্ধনের প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
ভাইরাল হওয়া অডিওতে কাজী বাকীবিল্লাহকে বলতে শোনা যায়, কনের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ টেলিফোনে প্রয়োজনীয় সম্মতি প্রদান করেছিলেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, পরে ২১ জুলাই মঙ্গলবার সকালে কনে মরিয়ম খাতুন এবং তাঁর অভিভাবক এসে কাবিননামায় স্বাক্ষর করেন। অর্থাৎ, কাবিননামায় বিয়ের তারিখ ১৭ জুলাই উল্লেখ থাকলেও স্বাক্ষর গ্রহণ করা হয় চার দিন পর, ২১ জুলাই। এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার প্রকৃত সময় এবং নিবন্ধন প্রক্রিয়া নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
অডিওতে কনের পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য নিয়েও বক্তব্য দেন ওই কাজী। কনের নাম ও জন্মতারিখ কীভাবে কাবিননামায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় তথ্য তাঁকে ফোনে জানানো হয়েছিল এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতেই কাবিননামা প্রস্তুত করা হয়। তাঁর দাবি, কনের বয়স ছিল ১৮ বছর ৩ মাস, যা আইনগতভাবে বিয়ের জন্য প্রযোজ্য বয়সসীমার মধ্যে পড়ে।
এর আগে ভাইরাল ভিডিও নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেছিলেন, ১৩ জুলাই তিনি তাঁর প্রথম স্ত্রী, দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়া মরিয়ম খাতুন এবং মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহকে নিয়ে রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত তাঁর ব্যবসায়িক কার্যালয়ে যান। সেখানে তাঁদের জিম্মি করে অর্থ আদায় করা হয় এবং গোপনে ব্যক্তিগত ভিডিও ধারণ করে পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তবে পরবর্তীতে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক ভিডিওতে ঘটনার স্থান, উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং পুরো ঘটনার বিবরণ নিয়ে ভিন্নধর্মী তথ্য সামনে আসে। এসব ভিডিও ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয় এবং ঘটনার বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর গাজী নজরুল ইসলাম আরও দাবি করেন, তিনি ১৭ জুন পারিবারিকভাবে এবং তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামের সম্মতিতে মরিয়ম খাতুনকে বিয়ে করেছেন। পরে পৃথক ভিডিও বার্তায় প্রথম স্ত্রী, মরিয়ম খাতুন এবং কনের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহও বিয়ের দাবির পক্ষে বক্তব্য দেন, যা বিতর্ককে আরও আলোচনায় নিয়ে আসে।
সর্বশেষ ভাইরাল হওয়া কাজীর অডিও প্রকাশের পর এমপির বিয়ের দাবির সঙ্গে কাবিননামার তারিখ, স্বাক্ষর গ্রহণের সময় এবং নিবন্ধন প্রক্রিয়ার সামঞ্জস্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা ও মতামত প্রকাশ পাচ্ছে।
-রফিক
ভিডিও ফাঁসের পর দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি কতটা ইসলামিক?: রাশেদ খাঁনের বিস্ফোরক স্ট্যাটাস
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামের একটি ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর ওই তরুণীকে ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ হিসেবে দাবি করার বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন। ভিডিও ফাঁস হওয়ার পর এভাবে হঠাৎ দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করা ওই দলের নীতি বা ফতোয়া অনুযায়ী কতটা শরীয়তসম্মত, সেই প্রশ্ন রেখে ফেসবুকে একটি তীক্ষ্ণ ও সমালোচনামূলক পোস্ট দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই ২০২৬) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে রাশেদ খাঁন লেখেন, “ভিডিও ধারণ হওয়ার সময় ২য় স্ত্রী হিসেবে দাবি না করে, ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ২য় স্ত্রী হিসেবে দাবি করা নিশ্চয়ই বিরোধীদলের ফতুয়া (ফতোয়া) মোতাবেক ইসলামিক? এই এমপিকে কি মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে ইমপিচমেন্ট করার জন্য প্রস্তাব উত্থাপন করবেন, নাকি তাকে দায়মুক্তি দেওয়ার জন্য শীঘ্রই ষড়যন্ত্র দাবি করে বিবৃতি দিবেন?”
পোস্টে তিনি বিরোধী দলের অবস্থান ও দলীয় নীতিকে ব্যঙ্গ করে আরও লেখেন, “সবকিছুর জন্য আমাদের, আপনাদের অপেক্ষা করতে হবে... নিশ্চয়ই দলের গঠনতন্ত্রে উল্লেখিত শরিয়া আইনের ভিত্তিতেই মাননীয় এমপি মহোদয়ের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবেন মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা! মাননীয় রাহাবারের ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখুন।”
উল্লেখ্য, গত ২০ জুলাই রাত থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের এক তরুণীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম নিজে, তাঁর প্রথম স্ত্রী মোসাম্মৎ মাকছুদা বেগম, ভিডিওতে থাকা তরুণী মরিয়ম খাতুন ও তাঁর বাবা—সব পক্ষ থেকেই দাবি করা হয় যে উক্ত তরুণী এমপির বৈধ দ্বিতীয় স্ত্রী। তবে ভিডিও ফাঁসের পর তড়িঘড়ি করে এই দাবি করা এবং আনুষঙ্গিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে দেশের বিভিন্ন মহলে এখন জোর আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।
/আশিক
এমপি গাজী নজরুলের ভাইরাল ভিডিও নিয়ে জামায়াতের বিশেষ বিবৃতি
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামের একটি ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
গত ২০ জুলাই রাত থেকে ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে শ্যামনগরের এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে একটি কক্ষে এক তরুণীর সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে নানান বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ার পর মঙ্গলবার (২১ জুলাই ২০২৬) আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
এক বিজ্ঞপ্তিতে জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রচারিত সংবাদের ওপর দলটি কড়া নজর রাখছে। মঙ্গলবার দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের সই করা এই বিবৃতিটি গণমাধ্যমে পাঠানো হয়।
বিবৃতিতে জানানো হয়, ‘অতি সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত খবরের দিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কড়া নজর রাখছে।’
এতে আরও বলা হয়, ‘ইতোমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে জনাব গাজী নজরুল ইসলামের নিজস্ব স্পষ্টীকরণ বিবৃতি, তার প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রী এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতার ধারণকৃত ভিডিও বক্তব্য মিডিয়াতে প্রকাশিত হয়েছে। এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে এবং ঘটনার প্রকৃত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর সংশ্লিষ্ট তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করে একটি ব্যাখ্যা সামনে আনা হয়েছে এবং এমপি জিয়াউর রহমানের পরিবারের সদস্যরাও বিষয়টিতে মুখ খুলেছেন। তবে জামায়াতের পক্ষ থেকে পুরো ঘটনাটি যাচাই-বাছাই করে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
/আশিক
সরকারের সমালোচনার জন্য এখন আর কাউকে গুম হতে হয় না: রুহুল কবির রিজভী
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সরকারের সমালোচনা করার কারণে এখন আর দেশের কোনো নাগরিককে গুম হওয়ার আতঙ্কে বা শঙ্কায় দিন কাটাতে হয় না। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক বিজয়ের মধ্য দিয়ে দেশের প্রতিটি মানুষের অবরুদ্ধ বাকস্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার পুনরায় ফিরে এসেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর উত্তরায় ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (আইইউবিএটি) ক্যাম্পাসে আয়োজিত ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক বিশেষ সেমিনার ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই সব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী দেশের বর্তমান ভূরাজনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি উল্লেখ করে বলেন, ‘দেশে টেকসই গণতন্ত্র রক্ষা করতে হলে এবং ঐতিহাসিক জুলাই সনদকে মাঠপর্যায়ে বাস্তবে রূপ দিতে হলে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি ন্যূনতম জাতীয় ঐক্য বজায় থাকা অত্যন্ত জরুরি।’ তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যদি দলগুলোর মধ্যে এই ঐক্যের ঘাটতি থাকে, তবে সেই রাজনৈতিক সুযোগ নিয়ে নানা ছিদ্রপথে গণতন্ত্রবিরোধী দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অপশক্তিগুলো আবারও দেশে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে।’
/আশিক
‘বিচারের মুখোমুখি হলে সাহসের প্রমাণ মিলত’- হাসিনাকে নিয়ে নাহিদের মন্তব্য
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, যারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়, তারা সাধারণত আর ফিরে আসে না। তাঁর ভাষায়, যদি সাহস থাকত, তাহলে পালিয়ে না গিয়ে আইনের মুখোমুখি হয়ে বিচার প্রক্রিয়ায় অংশ নিত। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রোববার (১৯ জুলাই) রাজধানীর উত্তরায় মীর মুগ্ধ মঞ্চে আয়োজিত ‘রক্তাক্ত জুলাই’ শীর্ষক স্মরণসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, উত্তরা ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধকেন্দ্র। তাঁর দাবি, ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পুনর্বাসনের কোনো চেষ্টা হলে সেই প্রতিরোধের সূচনা আবারও উত্তরার মাটি থেকেই হবে।
নিজের অতীত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দুই বছর আগে ঠিক এই সময় তাঁকে জোরপূর্বক গুম করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, সে সময় আরও বহু মানুষ একই ধরনের ঘটনার শিকার হন। সেই ঘটনার স্মৃতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন তাঁদের প্রধান দাবি হলো স্বৈরাচার এবং এর সহযোগীদের বিচার নিশ্চিত করা। তাঁর মতে, যদি এসব ঘটনার বিচার সম্পন্ন না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আবারও স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠার ঝুঁকি থেকে যাবে। তাই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা শক্তিশালী করতে বিচারের কোনো বিকল্প নেই।
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, জনগণ যে আন্দোলনের মাধ্যমে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছে, সেই প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে দলটির পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হলে জনগণ তা মেনে নেবে না। উত্তরা অতীতেও প্রতিরোধের প্রতীক ছিল এবং প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতেও সেই ভূমিকা পালন করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বক্তব্যে বিএনপিকেও কড়া সমালোচনার মুখে ফেলেন এনসিপির এই নেতা। তাঁর অভিযোগ, জুলাই আন্দোলনের মূল আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের পথে এখন সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিএনপি। তিনি বলেন, একসময় বিএনপি যে ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচির কথা বলেছিল, এখন তারা সেখান থেকে সরে এসে ‘নোট অব ডিসেন্ট’-ভিত্তিক জুলাই সনদের কথা বলছে। নাহিদের মতে, জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গণভোট ও গণরায়ের ভিত্তিতে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, সংবিধান সংশোধনের আগে বিএনপির নিজেদের অবস্থান ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিরও পরিবর্তন প্রয়োজন।
দেশের পররাষ্ট্রনীতি নিয়েও বক্তব্য রাখেন নাহিদ ইসলাম। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক ‘প্রতিবেশী বদলানো যায় না’ মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, কোনো প্রতিবেশী রাষ্ট্র যদি বাংলাদেশের মানুষের জীবনহানি বা ক্ষতির সঙ্গে জড়িত থাকে, তাহলে সেই রাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রাখা কঠিন। এ ধরনের বিষয়ে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বক্তব্যের শেষাংশে রাজধানীর উত্তরাকে চাঁদাবাজি, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার জন্য স্থানীয় জনগণ ও রাজনৈতিক কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের চেতনা শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং একটি নিরাপদ, সুশাসনভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই সেই আকাঙ্ক্ষার বাস্তব প্রতিফলন ঘটতে পারে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনসিপি ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগম, জাতীয় যুবশক্তির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদ সোহেল, জাতীয় ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক আবু বকর মজুমদার। এছাড়া জুলাই আন্দোলনে নিহতদের স্বজন ও আহত অংশগ্রহণকারীরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
-রফিক
গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে: হাসনাত আবদুল্লাহ
ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করতে এবং দেশের সামগ্রিক স্বার্থে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সংস্কারের মূল দায়িত্ব আমাদের নিজেদেরই কাঁধে তুলে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। রোববার (১৯ জুলাই ২০২৬) বিকেলে ঝালকাঠির রাজাপুরে বাইপাস মোড়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় পদযাত্রা কর্মসূচি শেষে আয়োজিত এক বিশাল পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই রাজনৈতিক আহ্বান জানান।
পথসভায় উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বিগত গণঅভ্যুত্থানের উত্তাল দিনগুলোতে আমরা রাজপথে বুক চিতিয়ে স্লোগান দিয়েছিলাম, ‘তুমি কে, আমি কে, বিকল্প, বিকল্প’। দেশের মাটিতে সেই কাঙ্ক্ষিত বিকল্প ও বৈষম্যহীন রাজনীতিকে চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে হলে এবং রাষ্ট্রের স্বার্থে প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কার নিশ্চিত করতে হলে তার মূল দায়িত্ব আমাদেরই অগ্রণী ভূমিকা নিয়ে পালন করতে হবে।
তিনি আরও যোগ করে বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার সময় আমরা সাধারণ জনগণকে স্পষ্ট কথা দিয়েছিলাম যে আপনারা আমাদের ফ্রিতে ভোট দিন, আমরা আপনাদের সম্পূর্ণ ফ্রিতে রাষ্ট্রীয় সার্ভিস বা সেবা দেব। নির্বাচনের পর ক্ষমতা হাতে পেয়ে জনগণের কাছে দেওয়া সেই পবিত্র প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতেই আমরা প্রতিনিয়ত সংসদের ভেতরে ও বাইরে আমজনতার পক্ষে জোরালো আওয়াজ তুলে যাচ্ছি।
বিগত পাঁচ মাস ধরে সংসদে নিজের সংসদীয় কার্যক্রম ও ভূমিকার কথা দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করে এই তরুণ সংসদ সদস্য বলেন, তিনি মাঠের রাজনীতি বা সংসদের ভেতরে কোনো ধরনের কায়েমী স্বার্থবাদী গোষ্ঠীর রক্তচক্ষুকে বিন্দুমাত্র ভয় পাননি। দেশের মিডিয়া মাফিয়া, প্রভাবশালী ভূমিখেকো, রাষ্ট্রীয় ব্যাংক ডাকাত এবং জনগণের ভোটচোরদের বিরুদ্ধে তিনি জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে সবসময় চোখে চোখ রেখে সত্য কথা বলে যাচ্ছেন।
দেশের সম্পদ লুটেরাদের বর্তমান ও অতীত চিত্র তুলে ধরে তিনি তীব্র অভিযোগ করে বলেন, বিগত আমলে এস আলমের মতো বড় বড় করপোরেট গ্রুপ দেশের ব্যাংক ও জাতীয় সম্পদ নির্বিচারে লুট করেছে, আবার কেউ কেউ একক আধিপত্য খাটিয়ে দেশের মেগা বিদ্যুৎ খাতে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি করেছে। আর অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো, বর্তমান সময়ে এসেও একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের স্থানীয় স্তরের নেতারা সিন্ডিকেট তৈরি করে বালুমহাল, নদী ও সাধারণ মানুষের গরু চুরির মতো জঘন্য অপরাধের সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে পড়েছেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ অত্যন্ত কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সাধারণ মানুষের পকেট কেটে ও জনগণের রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটের এই নোংরা রাজনৈতিক সংস্কৃতি যেকোনো মূল্যে দেশে চিরতরে বন্ধ করতে হবে। সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে সব ধরনের দুর্নীতি, লুণ্ঠন এবং দখলদারিত্বের রাজনীতি উচ্ছেদ করতে সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, জনগণের জানমাল ও সম্পদ রক্ষায় কোনো মহলের সাথেই কোনো ধরনের আপস করা হবে না।
/আশিক
সংসদে দাবি আদায় না হলে রাজপথে সরকার ভাঙার আন্দোলন: ডা. শফিকুর রহমান
জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেট বা রায়ের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, জাতীয় সংসদের ভেতরে যদি জনগণের ন্যায্য দাবি আদায় করা সম্ভব না হয়, তবে রাজপথে তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তোলার মাধ্যমে সেই দাবি বাস্তবায়নে বর্তমান সরকারকে বাধ্য করা হবে।
শনিবার (১৯ জুলাই ২০২৬) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক বটতলায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে আয়োজিত ‘রক্তাক্ষরে জুলাই’ শীর্ষক এক বিশেষ আলোকচিত্র ও স্মৃতি প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই সব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশের সাধারণ জনগণকে অপমান বা তাদের আকাঙ্ক্ষাকে হেয় করার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না। দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ যেখানে গণভোটে সংস্কারের পক্ষে স্পষ্ট রায় দিয়েছে, সেই রায় অবশ্যই রাষ্ট্রীয়ভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি দলের কৌশল স্পষ্ট করে বলেন, জামায়াত প্রথমে সংসদের ভেতরে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে লড়াই করবে, আর সেখানে যদি দাবি আদায় না হয় তবে রাজপথের কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমেই তা বাস্তবায়ন করা হবে।
বিগত সরকারের পতন ও বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা ছিল একটি স্বাধীন বিচার বিভাগ, স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন এবং একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করা। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় বসার পর থেকে এই মৌলিক সংস্কারগুলো বাস্তবায়নে কোনো ধরনের দৃশ্যমান আগ্রহ দেখাচ্ছে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান প্রশাসনও আগের ফ্যাসিবাদী শাসনের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সবকিছু নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে দিতে চাচ্ছে এবং খোদ গণভোটের ঐতিহাসিক রায়কেও তারা মানতে চাইছে না।
বিগত আমলের ভয়াবহ দুর্নীতি ও বিদেশে বাংলাদেশি অর্থ পাচারের তীব্র সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের মানুষের রক্ত জল করা টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এর উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, ব্রিটেনে সাবেক এক মন্ত্রীর শত শত বিলাসবহুল বাড়ি এবং বেলজিয়ামে আরেক প্রভাবশালী মন্ত্রীর শত শত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সন্ধান মিলেছে। এই বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের অর্থ লুণ্ঠন করেই কেনা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোর অভ্যন্তরীণ পরিবেশ ও ছাত্র রাজনীতি নিয়ে জামায়াত আমির বলেন, প্রথাগত ছাত্র রাজনীতির নামে বিশ্ববিদ্যালয়ে যে নিপীড়নমূলক ‘গণরুম’ ও ‘গেস্টরুম’ সংস্কৃতি চালু ছিল, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমেই তার চিরকবর হয়ে গেছে। এই ধরনের কোনো নিপীড়নমূলক অপসংস্কৃতি দেশের শিক্ষাঙ্গনে আর কখনোই ফিরতে দেওয়া হবে না। যদি কোনো মহল বা গোষ্ঠী জোরপূর্বক এগুলো আবার চালু করার ধৃষ্টতা দেখায়, তবে দেশের সাধারণ জনগণই তাদের কঠোরভাবে প্রতিহত করবে।
তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো প্রথাগত রাজনৈতিক অপসংস্কৃতি থেকে পুরোপুরি মুক্ত হতে পারেনি। এখনো অনেক ক্ষেত্রে মেধার মূল্যায়ন না করে রাজনৈতিক বিবেচনা ও দলীয় লেজুড়বৃত্তিকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমরা এখন চুপ করে আছি মানে এই নয় যে জামায়াত ঘুমিয়ে গেছে। সমুদ্রে গভীর নিম্নচাপ তৈরি হলে যেমন পরবর্তীতে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নেয়, ঠিক তেমনি সরকারের এই সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনগণের ভেতরের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বিস্ফোরণও যেকোনো সময় ঘটবে।’
দেশের তরুণ ও যুবসমাজের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, যুবকদের কাঙ্ক্ষিত বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার লড়াইয়ে তারা তাদের জীবনের বাকি সময় উৎসর্গ করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তরুণ প্রজন্মকে সাথে নিয়েই এই অধিকার আদায়ের আন্দোলন চলবে এবং দেশের স্বার্থ রক্ষায় কোনো দেশীয়, আঞ্চলিক কিংবা আন্তর্জাতিক মোড়ল বা অপশক্তির কাছে জামায়াত কখনোই মাথা নত করবে না।
গুরুত্বপূর্ণ এই ছাত্র সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। এ ছাড়া শিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েমসহ সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
/আশিক
প্রধানমন্ত্রী মুখে মধু আর অন্তরে ছলনা রাখছেন: নাহিদ ইসলাম
সরকার যদি গণভোটের রায়ের আলোকে জুলাই সনদ পুরোপুরি বাস্তবায়ন না করে, তবে পুনরায় গণআন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের পথে হাঁটার তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকার যদি জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে জুলাই সনদ কার্যকর করতে ব্যর্থ হয়, তবে তারা রাজপথে কঠোর গণআন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থান গড়ে তুলতে বাধ্য হবেন।
শনিবার (১৮ জুলাই ২০২৬) বরিশালের ঐতিহ্যবাহী হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত ১১-দলীয় ঐক্যের এক বিশাল বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই রাজনৈতিক অবস্থান ও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
বক্তব্যে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ উল্লেখ করেন যে, দেশের সার্বিক স্থিতিশীলতার কথা বিবেচনা করে তারা এখনো পর্যন্ত হরতাল কিংবা অবরোধের মতো কোনো চরম ও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করেননি। তবে জনগণের দাবি আদায়ে যেকোনো মুহূর্তে এই ধরনের কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার মতো সব ধরনের প্রস্তুতি তাদের রাজনৈতিক জোটের রয়েছে। তিনি যোগ করেন, তারা এই মুহূর্তে দেশের অর্থনীতি ও পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে চরম কর্মসূচির পক্ষে ছিলেন না, কিন্তু সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ক্রমশ সেই সংঘাতময় ও কঠোর কর্মসূচির দিকেই ঠেলে দিচ্ছেন।
এনসিপির শীর্ষ এই নেতা প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও বক্তব্য নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মুখে মধুর কথা থাকলেও তার অন্তরে আসলে ছলনা রয়েছে। এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, যে গণভোট ও জুলাই সনদের পক্ষে প্রধানমন্ত্রী নিজে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার জন্য জোরালো প্রচারণা চালিয়েছিলেন এবং নির্বাচনের ফলাফলে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ যেখানে সংস্কারের পক্ষে স্পষ্ট রায় দিয়েছে, সেখানে বিজয়ী হওয়ার পর তিনি জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গড়িমসি করছেন।
অথচ বাইরে তিনি মুখে বলে যাচ্ছেন যে জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে। এই দ্বিমুখী নীতির সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম গণঅভ্যুত্থানের সময়কার একটি জনপ্রিয় স্লোগানের আদলে বলেন, ‘নাটক কম করো প্রিয়’। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, দেশের মানুষ ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসিয়েছে মানে এই নয় যে, যা খুশি তা-ই করা যাবে কিংবা জনগণের সঙ্গে ছলনা ও প্রতারণা করা যাবে।
বিগত বছরগুলোতে বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপি গত দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নামে রাজপথে লড়াই-সংগ্রাম করেছে বলে দাবি করে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে তারা মূলত গণতন্ত্রের বিপক্ষেই অবস্থান নিয়ে লড়াই করে যাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, আসল সত্য হলো বিএনপি কখনোই প্রকৃত অর্থে গণতন্ত্রের পক্ষে ছিল না, তাদের পুরো লড়াইটাই ছিল কেবল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করার জন্য।
এমনকি বিগত গণঅভ্যুত্থানেও তারা কেবল ক্ষমতার লোভেই অন্যান্য শক্তির সঙ্গে কাঁধ মিলিয়েছিল। এখন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা নিজেদের কবজায় নিয়ে নেওয়ার পর তারা আর কোনো ধরনের সংস্কারের কথা মুখে আনছে না।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- নৈতিক স্খলন প্রমাণিত: জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার এমপি গাজী নজরুল
- গাজী নজরুল বিতর্কে ফেসবুকে তাসনিম জারার বক্তব্য
- বেসরকারি হজে কত খরচ? প্রকাশ হলো ৩ প্যাকেজ
- প্রতিদিনের ৫ সুন্নাহ আমল, জান্নাতের আশার পথ
- তারেক রহমানের সভাপতিত্বে শুরু একনেক সভা
- গাজী নজরুলের বিয়ে বিতর্কে নতুন মোড়, ভাইরাল কাজীর অডিও
- স্বর্ণের বাজারে নতুন ধাক্কা, ভরিতে বাড়ল যত
- বুধবার বন্ধ যেসব মার্কেট, বের হওয়ার আগে দেখে নিন
- সৌদি-যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক চুক্তি, কী থাকছে এতে
- পাখির গ্রাম’ খ্যাতি পেয়েছে কুমিল্লার কিশোরনগর
- উচ্চশিক্ষায় ১০ বছর পূর্তি উদযাপন করল ইউকে ম্যানেজমেন্ট কলেজ
- ভিডিও ফাঁসের পর দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি কতটা ইসলামিক?: রাশেদ খাঁনের বিস্ফোরক স্ট্যাটাস
- ২০২৬ বিশ্বকাপের সেরা গোল কোনটা? শুরু হলো ফিফার ভোটিং যুদ্ধ
- ট্রাম্পের হুমকির পরপরই ইরানে টানা ১০ম রাতের হামলা
- শিক্ষার্থী নির্যাতনের জবাব চাইতে গিয়ে বন্দি রাহুল গান্ধী, উত্তাল ভারতের রাজনীতি
- সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপির বিরুদ্ধে সাবেক গাড়ি চালকের গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ
- দেশের ৮ অঞ্চলে গভীর রাতের মধ্যে ঝড়ের পূর্বাভাস, ১ নম্বর সতর্কসংকেত
- এমপি গাজী নজরুলকে আরও ২টি বিয়ে করার পরামর্শ দিলেন রফিক উল্লাহ আফসারী
- আর্জেন্টাইন শিবিরের আচরণে ক্ষুব্ধ বিশ্বফুটবল: শৃঙ্খলাভঙ্গের তদন্ত শুরু করল ফিফা
- প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে মোদির নীরবতা ভঙ্গ: 'ত্রুটিহীন' নিয়োগ পরীক্ষার নির্দেশ
- সব মামলায় জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি
- যুদ্ধবিরতির তোয়াক্কা না করে গাজায় আবার ইসরায়েলি হামলা, মা ও ৩ মেয়ে নিহত
- লালমনিরহাট সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফ মুখোমুখি, বিজিবির কঠোরতায় ব্যাকফুটে ভারত
- এমপি গাজী নজরুলের ভাইরাল ভিডিও নিয়ে জামায়াতের বিশেষ বিবৃতি
- কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানি শোধন কেন্দ্রে ইরানের আবার ভয়াবহ হামলা
- ২০২৭ হজ প্যাকেজ ঘোষণা, কোথায় কী সুবিধা মিলবে
- স্বর্ণের দামে পরিবর্তন নেই, প্রকাশিত সর্বশেষ তালিকা
- মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এক বছর, স্মৃতিতে আজও রক্তাক্ত ২১ জুলাই
- ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নতুন পর্যায়ে, বাড়ছে যুদ্ধের শঙ্কা
- ঢাকার যেসব এলাকায় আজ ৮ ঘণ্টা গ্যাস বন্ধের ঘোষণা
- মঙ্গলবারের নামাজের সময়সূচি, ফজর থেকে এশা পর্যন্ত
- আজ টিভিতে কী কী খেলা? দেখে নিন সময়সূচি
- ইরান যুদ্ধে মার্কিন সেনা হতাহতের নতুন তথ্য প্রকাশ
- রেফারিকে প্রভাবিত করে ম্যাচ জিতেছে স্পেন: ফাইনাল হেরে বিস্ফোরক ওটামেন্ডি
- সরকারি হাসপাতালই যেন হয় মানুষের একমাত্র ভরসা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় দেশজুড়ে অতি ভারী বর্ষণের সতর্কতা জারি
- চট্টগ্রামে যুব রেড ক্রিসেন্টের ৪১ ওয়ার্ড ডিজাস্টার রেসপন্স টিমের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত
- 'সবকিছু ভুলে যাও': ড্রেসিংরুমে মেসির রহস্যময় বার্তা নিয়ে ফুটবলবিশ্বে তোলপাড়
- ধেয়ে আসছে পাহাড়ি ঢল: উত্তরবঙ্গের ৫ জেলায় বন্যার আগাম সতর্কতা
- চোখের বদলে চোখ নীতিতে সৌদির ওপর সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা জারি করল হুতিরা
- সরকারের সমালোচনার জন্য এখন আর কাউকে গুম হতে হয় না: রুহুল কবির রিজভী
- মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত যেসব এলাকায় থাকবে না গ্যাস
- ট্রাম্প-ইয়ামাল কুশল বিনিময়ের খণ্ডিত ভিডিও নিয়ে ইন্টারনেটে তুমুল বিতর্ক ও আসল সত্য
- যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরান এখন পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে লিপ্ত: প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান
- ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপের ফাইনালে এমন লজ্জাজনক রেকর্ডে জড়াল আর্জেন্টিনার নাম
- জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি মেজর মোজাফফরের বিচার হবে সেনা আইনে
- দিল্লিতে 'চলো সংসদ' অভিযানে তুলকালাম, ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা আটক
- আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে স্পেনের বিশ্বজয়, অভিনন্দনের জোয়ারে ভাসাল ইরান
- আর্জেন্টিনার হারে ভেঙে পড়েছেন? কীভাবে সামলাবেন মন
- ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে বিশ্ববাজারে তেলের দামে নতুন রেকর্ড
- সৌদি-যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক চুক্তি, কী থাকছে এতে
- ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার প্রতি সমর্থন নেতানিয়াহুর
- মেসি কী করলে জিতবেন গোল্ডেন বুট
- ট্রাম্পের স্বাক্ষরের মূল্য নেই, দাবি খামেনির
- স্বর্ণের দামে পরিবর্তন নেই, প্রকাশিত সর্বশেষ তালিকা
- স্বর্ণ কিনবেন? আগে জেনে নিন আজকের সর্বশেষ দাম
- স্বর্ণের বাজারে নতুন ধাক্কা, ভরিতে বাড়ল যত
- তারেক রহমানের সভাপতিত্বে শুরু একনেক সভা
- মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এক বছর, স্মৃতিতে আজও রক্তাক্ত ২১ জুলাই
- ২০২৭ হজ প্যাকেজ ঘোষণা, কোথায় কী সুবিধা মিলবে
- ‘বিধ্বংসী জবাব’ দেবে ইরান, সতর্ক বার্তা যুক্তরাষ্ট্রকে
- শনিবার বন্ধ রাজধানীর বহু মার্কেট, দেখুন তালিকা
- ৬০ কিমি বেগে ঝড়ো হাওয়া, কোন কোন জেলায় সতর্কতা?
- ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নতুন পর্যায়ে, বাড়ছে যুদ্ধের শঙ্কা
- ২২ ক্যারেট স্বর্ণ এখন কত? জেনে নিন সর্বশেষ দাম








