বাংলাদেশে ধর্ম নিয়ে বিভাজনের রাজনীতি চলবে না: মন্ত্রী মির্জা ফখরুল

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২২ ২০:৩১:৪৬
বাংলাদেশে ধর্ম নিয়ে বিভাজনের রাজনীতি চলবে না: মন্ত্রী মির্জা ফখরুল
ছবি : সংগৃহীত

দেশে ধর্ম ও রাজনীতির নামে নতুন বিভাজন তৈরির চেষ্টা চলছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বাংলাদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের সংখ্যা বেশি হলেও রাষ্ট্রে সকল ধর্মের মানুষের সমান অধিকার ও গুরুত্ব রয়েছে; ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো ধর্মকে ছোট বা খাটো করার সুযোগ নেই।

বুধবার (২২ জুলাই ২০২৬) রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে ‘বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মেম্বার এসোসিয়েশন’ আয়োজিত এক বিশেষ প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে একদম নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে বিএনপি বা জামায়াত পরিচয়ে বিশেষ কোনো পক্ষপাত বা অনুকম্পা পাওয়ার সুযোগ থাকবে না, বরং জনগণের প্রত্যক্ষ ভালোবাসা অর্জন করেই নির্বাচিত হতে হবে। তিনি ঘোষণা করেন, নতুন জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে পরবর্তীতে জাতীয় সংগঠন ও এডহক কমিটি গঠন করা হবে, যার জাতীয় কাউন্সিলে দেশের প্রধানমন্ত্রী নিজে উপস্থিত থাকবেন।

সীমিত সম্পদ দিয়ে বিশাল জনগোষ্ঠীর চাহিদা মেটাতে নতুন সরকার শুরু থেকেই আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। সরকারের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী তাঁর নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করছেন। চলতি বছরের মধ্যেই ৪১ লাখ পরিবারকে 'ফ্যামিলি কার্ড'-এর আওতায় আনা হচ্ছে। এছাড়া কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ, 'কৃষক কার্ড' চালু, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বিশেষ ভাতা প্রদান এবং নদী ও খাল খনন কর্মসূচি পুরোদমে শুরু হয়েছে।

তৃণমূলের উন্নয়ন কেবল ইউএনও বা সরকারি আমলাদের দিয়ে সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশ গঠনে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের ক্ষমতা ও ক্ষমতায়ন বাড়াতে হবে। প্রতিটি উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের সরাসরি সম্পৃক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে। একই সাথে বর্তমান সামান্য ভাতা বৃদ্ধি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অন্যায্য বরখাস্ত বন্ধে নতুন আইন পাসের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে ইতিবাচক আলোচনার আশ্বাস দেন তিনি।

আওয়ামী লীগের অতীতের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব আরও যোগ করেন, “আওয়ামী লীগ ও গণতন্ত্র একসাথে যেতে পারে না। ৭১ থেকে ২৪ পর্যন্ত যখনই তারা ক্ষমতায় এসেছে, তখনই দেশের সকল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে”।

সূত্র: বাসস


এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় হত্যাচেষ্টা ও মারধরের মামলা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২২ ১৯:৫০:২৭
এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় হত্যাচেষ্টা ও মারধরের মামলা
গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা। ছবি: কালবেলা গ্রাফিক্স

অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ করা এবং গোপন ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে ঘরের মধ্যে আটকে রেখে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে রাজধানীর পল্লবী থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় গ্রেপ্তারকৃত এক আসামিকে ইতোমধ্যেই আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই ২০২৬) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের ওপর ভিত্তি করে আসামি আমিনুর রহমানকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। গ্রেপ্তারকৃত আমিনুর রহমান মামলার বাদী ওবায়দুর রহমানের নিজের চাচাতো ভাই।

এ মামলায় এমপি গাজী নজরুল ইসলাম (৭৪) ছাড়াও অভিযুক্ত অন্য আসামিরা হলেন—মাসুম বিল্লাহ (৪১), মোতাসসিম বিল্লাহ (২৫) ও রাকিবুল হাসান (৩০)।

মামলার শুনানি চলাকালে তদন্তকারী কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পল্লবী জোনাল টিমের উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাকিবুল হুদা গ্রেপ্তার আসামি আমিনুরকে বিচারকের সামনে হাজির করেন। তিনি মামলার সঠিক ও সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিকে কারাগারে আটকে রাখার জোর আবেদন জানান। বিবাদী পক্ষে কোনো জামিন আবেদন না থাকায় শুনানি শেষে আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

দায়েরকৃত মামলার এজাহার সূত্র জানায়, ঘটনার বাদী ওবায়দুর রহমান পল্লবীর উত্তর কালশী এলাকার ‘রোজ গার্ডেন টাওয়ার’-এ তাঁর বোনের বাসায় পরিবারসহ বসবাস করতেন এবং পেশাগতভাবে তিনি এমপি গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়িচালক ছিলেন। পারিবারিক ও আত্মীয়তার সুযোগ নিয়ে এমপি নজরুল ইসলাম ওই বাসায় মাঝেমধ্যেই যাতায়াত করতেন। একপর্যায়ে ওবায়দুরের ১৭ বছর বয়সী ভাগ্নির সঙ্গে এমপি নজরুল ইসলাম অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি টের পেয়ে ওবায়দুল নিজের পরিবারকে অবহিত করেন এবং এমপিকে এই অনৈতিক আচরণ থেকে বিরত থাকার আকুতি জানান। এতে প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হয়ে এমপি গাজী নজরুল তাঁকে প্রাণনাশের সরাসরি হুমকি দেন।

বাদীর এজাহারে আরও বলা হয়, সম্প্রতি মগবাজারের একটি সংঘবদ্ধ চক্র এমপি নজরুল ও তাঁর ভাগ্নির কিছু 'অপ্রীতিকর ও ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও' হাতিয়ে নিয়ে এমপিকে ব্ল্যাকমেইল করতে শুরু করে। এতে এমপি নজরুল ইসলাম ধারণা করেন যে তাঁর ব্যক্তিগত গাড়িচালক ওবায়দুলই এই গোপন দৃশ্য ধারণ করে গণমাধ্যম ও ব্ল্যাকমেইলারদের হাতে তুলে দিয়েছেন। এই সন্দেহের জের ধরে গত ১৪ জুলাই এমপি নজরুলের সরাসরি নির্দেশে অন্য আসামিরা ওবায়দুরের ওপর চড়াও হয়।

হামলার ভয়াবহ বর্ণনা দিয়ে ওবায়দুর জানান, গত ১৪ জুলাই বেলা ১১টার দিকে তাঁর চাচাতো ভাই আসামি আমিনুর রহমান তাঁকে কৌশলে বাসার ড্রয়িংরুমে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে পূর্বপরিকল্পিতভাবে অন্য আসামিরা লাঠিসোটা দিয়ে তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। মারধরের একপর্যায়ে আমিনুর তাঁকে মেঝেবে ফেলে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলার চেষ্টা চালায়। এ সময় ওবায়দুরের মা তাহমিনা ও ছোট বোন মীম ঘরের ভেতর থেকে ছুটে এসে চিৎকার শুরু করলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় ওবায়দুরকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

অভিযোগে আরও জানানো হয়, এই ন্যক্কারজনক হামলার পর থেকেও আসামিরা ওবায়দুলকে যেখানে পাবে সেখানেই মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছে। বর্তমানে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় আত্মগোপনে দিন কাটাচ্ছেন। আদালত মামলাটি নিবিড়ভাবে তদন্ত করে আগামী ২৮ আগস্টের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন।

/আশিক


নৈতিক স্খলন প্রমাণিত: জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার এমপি গাজী নজরুল

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২২ ১৮:১৯:১২
নৈতিক স্খলন প্রমাণিত: জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার এমপি গাজী নজরুল
ছবি : সংগৃহীত

সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলামের একটি বিতর্কিত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পরিচালিত সাংগঠনিক তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে 'নৈতিক স্খলন'-এর অভিযোগ সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এর প্রত্যক্ষ ফলশ্রুতিতে তাঁকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই ২০২৬) রাজধানীর মিন্টো রোডস্থ বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে আয়োজিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি নীতি-নির্ধারণী বৈঠকে এই শাস্তিমূলক ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। আন্তর্জাতিক ও দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জামায়াতের এই পদক্ষেপ নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কারের চূড়ান্ত বিষয়টি অবিলম্বে আইনানুযায়ী বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) অবহিত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে দলটি।

সংগঠনের আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত জরুরি বৈঠকে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের শীর্ষ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত স্পর্শকাতর বিষয়গুলোর প্রেক্ষিতে দলটির গঠিত উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়। তদন্তে তাঁর গুরুতর নৈতিক স্খলনের বিষয়টি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্রের নির্দিষ্ট ৬২ নম্বর ধারা অনুসরণ করে তাকে দল থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

/আশিক


গাজী নজরুল বিতর্কে ফেসবুকে তাসনিম জারার বক্তব্য

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২২ ১২:৫৯:৫৯
গাজী নজরুল বিতর্কে ফেসবুকে তাসনিম জারার বক্তব্য
ছবি : সংগৃহীত

সাতক্ষীরা-৪ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ব্যক্তিগত ভিডিওকে কেন্দ্র করে চলমান বিতর্কে এবার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী তাসনিম জারা। বুধবার (২২ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন এবং রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

ফেসবুক পোস্টে তাসনিম জারা একটি তরুণীর সম্ভাব্য সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, অনেক নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য একটি চাকরি কেবল কর্মসংস্থানের বিষয় নয়; বরং পুরো পরিবারের জীবনযাত্রার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, আর্থিক সংকটে থাকা পরিবারের সদস্যরা প্রায়ই চাকরির আশায় স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি বা জনপ্রতিনিধির দ্বারস্থ হন এবং সেই প্রক্রিয়ায় ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা নানা ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

তিনি উল্লেখ করেন, অভিযোগের বিষয়ে এখনো নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয় এবং কোনো সম্ভাবনাকেই প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। তবে তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যেসব তথ্য ও উপকরণ জনসমক্ষে এসেছে, সেগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করার মতো যথেষ্ট কারণ রয়েছে। এ কারণে তিনি একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত কমিটি গঠনের আহ্বান জানান।

তাসনিম জারা বলেন, তদন্তের মাধ্যমে যদি অভিযোগ ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জনসমক্ষে সম্মান পুনরুদ্ধারের সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে, অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে আইন ও সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলেও তিনি মত দেন। তাঁর মতে, কোনো অভিযোগই তদন্ত ছাড়া গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করা উচিত নয়।

নিজের পোস্টে তিনি সংসদের ভূমিকাও উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, এ ধরনের আলোচিত অভিযোগের ক্ষেত্রে সংসদ বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নীরবতা জনমনে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। তাই বিষয়টি উপেক্ষা না করে স্বচ্ছ তদন্ত ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে জনআস্থা বজায় রাখার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

শুধু চলমান বিতর্ক নয়, তাসনিম জারা চাকরির ক্ষেত্রে সুপারিশ-নির্ভর সংস্কৃতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর মতে, ক্ষমতাবান ব্যক্তির সুপারিশের ওপর চাকরির সুযোগ নির্ভরশীল হয়ে পড়লে সাধারণ মানুষ বিশেষ করে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল পরিবারগুলো নানা ধরনের অনিশ্চয়তা ও নির্ভরশীলতার মধ্যে পড়ে। তিনি এই ব্যবস্থার সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতি দিলেও চাকরিতে সুপারিশ ও প্রভাবের সংস্কৃতি এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি। তাঁর মতে, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে স্বচ্ছ নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে এমন বিতর্ক ও অভিযোগের সুযোগও অনেকাংশে কমে আসবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে একটি ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পরে তিনি নিজেই বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। এ ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত আরও কিছু ভিডিও ও অডিও ক্লিপও সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। তবে এসব উপকরণের সত্যতা এবং বিভিন্ন পক্ষের দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন বা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয়নি। ফলে বিষয়টি তদন্তাধীন বা যাচাই-অপেক্ষমাণ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

-রফিক


গাজী নজরুলের বিয়ে বিতর্কে নতুন মোড়, ভাইরাল কাজীর অডিও

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২২ ১১:০৭:০৫
গাজী নজরুলের বিয়ে বিতর্কে নতুন মোড়, ভাইরাল কাজীর অডিও
ছবি : সংগৃহীত

জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে চলমান বিয়ে-সংক্রান্ত বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও ক্লিপ। এর আগে একটি ব্যক্তিগত ভিডিওকে কেন্দ্র করে যে আলোচনা শুরু হয়েছিল, তার মধ্যেই মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিয়ে নিবন্ধনকারী কাজী বাকীবিল্লাহর কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। অডিওতে দেওয়া তাঁর বক্তব্য কাবিননামার তারিখ, স্বাক্ষরের সময় এবং বিয়ে নিবন্ধনের প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

ভাইরাল হওয়া অডিওতে কাজী বাকীবিল্লাহকে বলতে শোনা যায়, কনের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ টেলিফোনে প্রয়োজনীয় সম্মতি প্রদান করেছিলেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, পরে ২১ জুলাই মঙ্গলবার সকালে কনে মরিয়ম খাতুন এবং তাঁর অভিভাবক এসে কাবিননামায় স্বাক্ষর করেন। অর্থাৎ, কাবিননামায় বিয়ের তারিখ ১৭ জুলাই উল্লেখ থাকলেও স্বাক্ষর গ্রহণ করা হয় চার দিন পর, ২১ জুলাই। এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার প্রকৃত সময় এবং নিবন্ধন প্রক্রিয়া নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

অডিওতে কনের পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য নিয়েও বক্তব্য দেন ওই কাজী। কনের নাম ও জন্মতারিখ কীভাবে কাবিননামায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় তথ্য তাঁকে ফোনে জানানো হয়েছিল এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতেই কাবিননামা প্রস্তুত করা হয়। তাঁর দাবি, কনের বয়স ছিল ১৮ বছর ৩ মাস, যা আইনগতভাবে বিয়ের জন্য প্রযোজ্য বয়সসীমার মধ্যে পড়ে।

এর আগে ভাইরাল ভিডিও নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেছিলেন, ১৩ জুলাই তিনি তাঁর প্রথম স্ত্রী, দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়া মরিয়ম খাতুন এবং মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহকে নিয়ে রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত তাঁর ব্যবসায়িক কার্যালয়ে যান। সেখানে তাঁদের জিম্মি করে অর্থ আদায় করা হয় এবং গোপনে ব্যক্তিগত ভিডিও ধারণ করে পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তবে পরবর্তীতে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক ভিডিওতে ঘটনার স্থান, উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং পুরো ঘটনার বিবরণ নিয়ে ভিন্নধর্মী তথ্য সামনে আসে। এসব ভিডিও ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয় এবং ঘটনার বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর গাজী নজরুল ইসলাম আরও দাবি করেন, তিনি ১৭ জুন পারিবারিকভাবে এবং তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামের সম্মতিতে মরিয়ম খাতুনকে বিয়ে করেছেন। পরে পৃথক ভিডিও বার্তায় প্রথম স্ত্রী, মরিয়ম খাতুন এবং কনের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহও বিয়ের দাবির পক্ষে বক্তব্য দেন, যা বিতর্ককে আরও আলোচনায় নিয়ে আসে।

সর্বশেষ ভাইরাল হওয়া কাজীর অডিও প্রকাশের পর এমপির বিয়ের দাবির সঙ্গে কাবিননামার তারিখ, স্বাক্ষর গ্রহণের সময় এবং নিবন্ধন প্রক্রিয়ার সামঞ্জস্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা ও মতামত প্রকাশ পাচ্ছে।

-রফিক


ভিডিও ফাঁসের পর দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি কতটা ইসলামিক?: রাশেদ খাঁনের বিস্ফোরক স্ট্যাটাস

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২১ ২১:৫০:১৬
ভিডিও ফাঁসের পর দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি কতটা ইসলামিক?: রাশেদ খাঁনের বিস্ফোরক স্ট্যাটাস
ছবি : সংগৃহীত

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামের একটি ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর ওই তরুণীকে ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ হিসেবে দাবি করার বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন। ভিডিও ফাঁস হওয়ার পর এভাবে হঠাৎ দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করা ওই দলের নীতি বা ফতোয়া অনুযায়ী কতটা শরীয়তসম্মত, সেই প্রশ্ন রেখে ফেসবুকে একটি তীক্ষ্ণ ও সমালোচনামূলক পোস্ট দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই ২০২৬) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে রাশেদ খাঁন লেখেন, “ভিডিও ধারণ হওয়ার সময় ২য় স্ত্রী হিসেবে দাবি না করে, ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ২য় স্ত্রী হিসেবে দাবি করা নিশ্চয়ই বিরোধীদলের ফতুয়া (ফতোয়া) মোতাবেক ইসলামিক? এই এমপিকে কি মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে ইমপিচমেন্ট করার জন্য প্রস্তাব উত্থাপন করবেন, নাকি তাকে দায়মুক্তি দেওয়ার জন্য শীঘ্রই ষড়যন্ত্র দাবি করে বিবৃতি দিবেন?”

পোস্টে তিনি বিরোধী দলের অবস্থান ও দলীয় নীতিকে ব্যঙ্গ করে আরও লেখেন, “সবকিছুর জন্য আমাদের, আপনাদের অপেক্ষা করতে হবে... নিশ্চয়ই দলের গঠনতন্ত্রে উল্লেখিত শরিয়া আইনের ভিত্তিতেই মাননীয় এমপি মহোদয়ের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবেন মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা! মাননীয় রাহাবারের ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখুন।”

উল্লেখ্য, গত ২০ জুলাই রাত থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের এক তরুণীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম নিজে, তাঁর প্রথম স্ত্রী মোসাম্মৎ মাকছুদা বেগম, ভিডিওতে থাকা তরুণী মরিয়ম খাতুন ও তাঁর বাবা—সব পক্ষ থেকেই দাবি করা হয় যে উক্ত তরুণী এমপির বৈধ দ্বিতীয় স্ত্রী। তবে ভিডিও ফাঁসের পর তড়িঘড়ি করে এই দাবি করা এবং আনুষঙ্গিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে দেশের বিভিন্ন মহলে এখন জোর আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।

/আশিক


এমপি গাজী নজরুলের ভাইরাল ভিডিও নিয়ে জামায়াতের বিশেষ বিবৃতি

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২১ ১৮:২৪:৫৪
এমপি গাজী নজরুলের ভাইরাল ভিডিও নিয়ে জামায়াতের বিশেষ বিবৃতি
ছবি : সংগৃহীত

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামের একটি ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

গত ২০ জুলাই রাত থেকে ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে শ্যামনগরের এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে একটি কক্ষে এক তরুণীর সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে নানান বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ার পর মঙ্গলবার (২১ জুলাই ২০২৬) আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

এক বিজ্ঞপ্তিতে জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রচারিত সংবাদের ওপর দলটি কড়া নজর রাখছে। মঙ্গলবার দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের সই করা এই বিবৃতিটি গণমাধ্যমে পাঠানো হয়।

বিবৃতিতে জানানো হয়, ‘অতি সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত খবরের দিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কড়া নজর রাখছে।’

এতে আরও বলা হয়, ‘ইতোমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে জনাব গাজী নজরুল ইসলামের নিজস্ব স্পষ্টীকরণ বিবৃতি, তার প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রী এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতার ধারণকৃত ভিডিও বক্তব্য মিডিয়াতে প্রকাশিত হয়েছে। এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে এবং ঘটনার প্রকৃত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর সংশ্লিষ্ট তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করে একটি ব্যাখ্যা সামনে আনা হয়েছে এবং এমপি জিয়াউর রহমানের পরিবারের সদস্যরাও বিষয়টিতে মুখ খুলেছেন। তবে জামায়াতের পক্ষ থেকে পুরো ঘটনাটি যাচাই-বাছাই করে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

/আশিক


সরকারের সমালোচনার জন্য এখন আর কাউকে গুম হতে হয় না: রুহুল কবির রিজভী

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২০ ২০:০৬:৩৯
সরকারের সমালোচনার জন্য এখন আর কাউকে গুম হতে হয় না: রুহুল কবির রিজভী
ছবি : সংগৃহীত

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সরকারের সমালোচনা করার কারণে এখন আর দেশের কোনো নাগরিককে গুম হওয়ার আতঙ্কে বা শঙ্কায় দিন কাটাতে হয় না। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক বিজয়ের মধ্য দিয়ে দেশের প্রতিটি মানুষের অবরুদ্ধ বাকস্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার পুনরায় ফিরে এসেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর উত্তরায় ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (আইইউবিএটি) ক্যাম্পাসে আয়োজিত ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক বিশেষ সেমিনার ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই সব কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী দেশের বর্তমান ভূরাজনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি উল্লেখ করে বলেন, ‘দেশে টেকসই গণতন্ত্র রক্ষা করতে হলে এবং ঐতিহাসিক জুলাই সনদকে মাঠপর্যায়ে বাস্তবে রূপ দিতে হলে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি ন্যূনতম জাতীয় ঐক্য বজায় থাকা অত্যন্ত জরুরি।’ তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যদি দলগুলোর মধ্যে এই ঐক্যের ঘাটতি থাকে, তবে সেই রাজনৈতিক সুযোগ নিয়ে নানা ছিদ্রপথে গণতন্ত্রবিরোধী দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অপশক্তিগুলো আবারও দেশে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে।’

/আশিক


‘বিচারের মুখোমুখি হলে সাহসের প্রমাণ মিলত’- হাসিনাকে নিয়ে নাহিদের মন্তব্য

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২০ ০৯:৫৯:১৭
‘বিচারের মুখোমুখি হলে সাহসের প্রমাণ মিলত’- হাসিনাকে নিয়ে নাহিদের মন্তব্য
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, যারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়, তারা সাধারণত আর ফিরে আসে না। তাঁর ভাষায়, যদি সাহস থাকত, তাহলে পালিয়ে না গিয়ে আইনের মুখোমুখি হয়ে বিচার প্রক্রিয়ায় অংশ নিত। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রোববার (১৯ জুলাই) রাজধানীর উত্তরায় মীর মুগ্ধ মঞ্চে আয়োজিত ‘রক্তাক্ত জুলাই’ শীর্ষক স্মরণসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, উত্তরা ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধকেন্দ্র। তাঁর দাবি, ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পুনর্বাসনের কোনো চেষ্টা হলে সেই প্রতিরোধের সূচনা আবারও উত্তরার মাটি থেকেই হবে।

নিজের অতীত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দুই বছর আগে ঠিক এই সময় তাঁকে জোরপূর্বক গুম করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, সে সময় আরও বহু মানুষ একই ধরনের ঘটনার শিকার হন। সেই ঘটনার স্মৃতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন তাঁদের প্রধান দাবি হলো স্বৈরাচার এবং এর সহযোগীদের বিচার নিশ্চিত করা। তাঁর মতে, যদি এসব ঘটনার বিচার সম্পন্ন না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আবারও স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠার ঝুঁকি থেকে যাবে। তাই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা শক্তিশালী করতে বিচারের কোনো বিকল্প নেই।

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, জনগণ যে আন্দোলনের মাধ্যমে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছে, সেই প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে দলটির পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হলে জনগণ তা মেনে নেবে না। উত্তরা অতীতেও প্রতিরোধের প্রতীক ছিল এবং প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতেও সেই ভূমিকা পালন করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বক্তব্যে বিএনপিকেও কড়া সমালোচনার মুখে ফেলেন এনসিপির এই নেতা। তাঁর অভিযোগ, জুলাই আন্দোলনের মূল আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের পথে এখন সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিএনপি। তিনি বলেন, একসময় বিএনপি যে ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচির কথা বলেছিল, এখন তারা সেখান থেকে সরে এসে ‘নোট অব ডিসেন্ট’-ভিত্তিক জুলাই সনদের কথা বলছে। নাহিদের মতে, জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গণভোট ও গণরায়ের ভিত্তিতে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, সংবিধান সংশোধনের আগে বিএনপির নিজেদের অবস্থান ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিরও পরিবর্তন প্রয়োজন।

দেশের পররাষ্ট্রনীতি নিয়েও বক্তব্য রাখেন নাহিদ ইসলাম। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক ‘প্রতিবেশী বদলানো যায় না’ মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, কোনো প্রতিবেশী রাষ্ট্র যদি বাংলাদেশের মানুষের জীবনহানি বা ক্ষতির সঙ্গে জড়িত থাকে, তাহলে সেই রাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রাখা কঠিন। এ ধরনের বিষয়ে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বক্তব্যের শেষাংশে রাজধানীর উত্তরাকে চাঁদাবাজি, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার জন্য স্থানীয় জনগণ ও রাজনৈতিক কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের চেতনা শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং একটি নিরাপদ, সুশাসনভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই সেই আকাঙ্ক্ষার বাস্তব প্রতিফলন ঘটতে পারে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনসিপি ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগম, জাতীয় যুবশক্তির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদ সোহেল, জাতীয় ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক আবু বকর মজুমদার। এছাড়া জুলাই আন্দোলনে নিহতদের স্বজন ও আহত অংশগ্রহণকারীরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

-রফিক


গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে: হাসনাত আবদুল্লাহ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৯ ২২:০৬:০২
গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে: হাসনাত আবদুল্লাহ
ছবি : সংগৃহীত

ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করতে এবং দেশের সামগ্রিক স্বার্থে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সংস্কারের মূল দায়িত্ব আমাদের নিজেদেরই কাঁধে তুলে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। রোববার (১৯ জুলাই ২০২৬) বিকেলে ঝালকাঠির রাজাপুরে বাইপাস মোড়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় পদযাত্রা কর্মসূচি শেষে আয়োজিত এক বিশাল পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই রাজনৈতিক আহ্বান জানান।

পথসভায় উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বিগত গণঅভ্যুত্থানের উত্তাল দিনগুলোতে আমরা রাজপথে বুক চিতিয়ে স্লোগান দিয়েছিলাম, ‘তুমি কে, আমি কে, বিকল্প, বিকল্প’। দেশের মাটিতে সেই কাঙ্ক্ষিত বিকল্প ও বৈষম্যহীন রাজনীতিকে চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে হলে এবং রাষ্ট্রের স্বার্থে প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কার নিশ্চিত করতে হলে তার মূল দায়িত্ব আমাদেরই অগ্রণী ভূমিকা নিয়ে পালন করতে হবে।

তিনি আরও যোগ করে বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার সময় আমরা সাধারণ জনগণকে স্পষ্ট কথা দিয়েছিলাম যে আপনারা আমাদের ফ্রিতে ভোট দিন, আমরা আপনাদের সম্পূর্ণ ফ্রিতে রাষ্ট্রীয় সার্ভিস বা সেবা দেব। নির্বাচনের পর ক্ষমতা হাতে পেয়ে জনগণের কাছে দেওয়া সেই পবিত্র প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতেই আমরা প্রতিনিয়ত সংসদের ভেতরে ও বাইরে আমজনতার পক্ষে জোরালো আওয়াজ তুলে যাচ্ছি।

বিগত পাঁচ মাস ধরে সংসদে নিজের সংসদীয় কার্যক্রম ও ভূমিকার কথা দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করে এই তরুণ সংসদ সদস্য বলেন, তিনি মাঠের রাজনীতি বা সংসদের ভেতরে কোনো ধরনের কায়েমী স্বার্থবাদী গোষ্ঠীর রক্তচক্ষুকে বিন্দুমাত্র ভয় পাননি। দেশের মিডিয়া মাফিয়া, প্রভাবশালী ভূমিখেকো, রাষ্ট্রীয় ব্যাংক ডাকাত এবং জনগণের ভোটচোরদের বিরুদ্ধে তিনি জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে সবসময় চোখে চোখ রেখে সত্য কথা বলে যাচ্ছেন।

দেশের সম্পদ লুটেরাদের বর্তমান ও অতীত চিত্র তুলে ধরে তিনি তীব্র অভিযোগ করে বলেন, বিগত আমলে এস আলমের মতো বড় বড় করপোরেট গ্রুপ দেশের ব্যাংক ও জাতীয় সম্পদ নির্বিচারে লুট করেছে, আবার কেউ কেউ একক আধিপত্য খাটিয়ে দেশের মেগা বিদ্যুৎ খাতে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি করেছে। আর অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো, বর্তমান সময়ে এসেও একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের স্থানীয় স্তরের নেতারা সিন্ডিকেট তৈরি করে বালুমহাল, নদী ও সাধারণ মানুষের গরু চুরির মতো জঘন্য অপরাধের সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে পড়েছেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ অত্যন্ত কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সাধারণ মানুষের পকেট কেটে ও জনগণের রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটের এই নোংরা রাজনৈতিক সংস্কৃতি যেকোনো মূল্যে দেশে চিরতরে বন্ধ করতে হবে। সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে সব ধরনের দুর্নীতি, লুণ্ঠন এবং দখলদারিত্বের রাজনীতি উচ্ছেদ করতে সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, জনগণের জানমাল ও সম্পদ রক্ষায় কোনো মহলের সাথেই কোনো ধরনের আপস করা হবে না।

/আশিক

পাঠকের মতামত: