এক্সে ছবি পোস্ট করে ট্রাম্পের রহস্যময় বার্তা: সব কার্ড আমার কাছে

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৪ ১০:২৪:০৭
এক্সে ছবি পোস্ট করে ট্রাম্পের রহস্যময় বার্তা: সব কার্ড আমার কাছে
ছবি : সংগৃহীত

সোমবার (৪ মে) হোয়াইট হাউসের অফিশিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা একটি ছবি আন্তর্জাতিক রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। ছবিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বেশ আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে হাসিমুখে কয়েকটি ‘উনো’ কার্ড হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। পোস্টটিতে আলাদা কোনো ক্যাপশন না থাকলেও ছবির ওপর বড় বড় অক্ষরে লেখা ছিল—‘All the cards are with me’ (সব কার্ড আমার কাছে)।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই ছবির নেপথ্য তাৎপর্য বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বলেছে, এটি মূলত তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার চলমান স্নায়ুযুদ্ধের একটি অংশ। বিশেষ করে আজই যখন ট্রাম্পের ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ শুরু হওয়ার কথা এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের ১৪ দফা প্রস্তাব ওয়াশিংটনের টেবিলে রয়েছে, ঠিক সেই মুহূর্তে এই ছবিটির অর্থ অত্যন্ত গভীর। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প বোঝাতে চাইছেন যে আলোচনার সব নিয়ন্ত্রণ এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা (Ace cards) এখন কেবল যুক্তরাষ্ট্রের হাতেই রয়েছে।

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এই ছবির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা না দেওয়া হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটি ভাইরাল হয়ে গেছে। কেউ কেউ একে ট্রাম্পের চিরাচরিত ‘পাবলিসিটি স্টান্ট’ মনে করছেন, আবার অনেকে মনে করছেন এটি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালির নৌ-অবরোধ নিয়ে তেহরানকে একপ্রকার তুচ্ছজ্ঞান করার শামিল। ‘উনো’ খেলায় যেমন একটি মোক্ষম কার্ড দিয়ে পুরো খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া যায়, ট্রাম্পের এই ছবিও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটে তেমনই কোনো ‘মাস্টারস্ট্রোক’-এর ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে চলছে ব্যাপক জল্পনা।

/আশিক


‘সব জায়গায় বোমা ফেলতে চান নেতানিয়াহু’: ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৮ ০৯:৫২:২৫
‘সব জায়গায় বোমা ফেলতে চান নেতানিয়াহু’: ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে হতাশা প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প তার ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাদের কাছে মন্তব্য করেছেন যে, নেতানিয়াহুকে সামলানো অত্যন্ত কঠিন, কারণ তিনি প্রায় প্রতিটি সমস্যার সমাধান সামরিক হামলার মধ্যেই খুঁজে পান।

প্রতিবেদনে একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ট্রাম্প মনে করেন নেতানিয়াহু প্রায় সব পরিস্থিতিতেই বোমা হামলার পথ বেছে নিতে চান। যদিও তিনি ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীকে একজন শক্তিশালী নেতা হিসেবে দেখেন, তবুও অনেক সময় তিনি প্রয়োজনের চেয়ে বেশি আগ্রাসী হয়ে ওঠেন বলে মনে করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ট্রাম্পের ভাষায়, নেতানিয়াহু একজন “দারুণ” নেতা হলেও তিনি অনেক ক্ষেত্রে সীমা অতিক্রম করে ফেলেন। মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে এই মন্তব্যকে ওয়াশিংটন-তেলআবিব সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট এবং ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে হওয়া অধিকাংশ ফোনালাপের মূল বিষয়বস্তু থাকে নতুন সামরিক অভিযান। প্রায় প্রতিবারই নেতানিয়াহু বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নিয়মিতভাবে যুক্তি উপস্থাপন করেন কেন নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো জরুরি, কেন ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তা সফলভাবে পরিচালনা করতে পারবে এবং কখন সেই অভিযান শুরু করা উচিত।

তার ভাষায়, “প্রায় প্রতিটি ফোনালাপই একই ধাঁচের হয়ে থাকে। নেতানিয়াহু নতুন কোনো সামরিক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেন, আর প্রেসিডেন্ট তা শোনেন। কিন্তু ধীরে ধীরে এই পুনরাবৃত্তি ট্রাম্পকে ক্লান্ত করে তুলছে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প প্রশাসন এখন সামরিক সমাধানের পাশাপাশি কূটনৈতিক বিকল্পকে বেশি গুরুত্ব দিতে চাইছে। বিপরীতে, নেতানিয়াহুর সরকার এখনও নিরাপত্তাকেন্দ্রিক ও শক্তি প্রয়োগনির্ভর নীতিতে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্যই দুই নেতার মধ্যে মতবিরোধের অন্যতম কারণ হয়ে উঠছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ইরান, লেবানন এবং গাজা পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের অবস্থানের মধ্যে সূক্ষ্ম পার্থক্যও স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। বিশেষ করে আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে ট্রাম্প প্রশাসন তুলনামূলকভাবে সংযত অবস্থান নিতে চাইছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো প্রশাসনের জন্য ইসরাইল একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হলেও মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সামরিক পদক্ষেপের সীমাবদ্ধতা ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

বিশ্লেষকরা আরও মনে করছেন, আগামী মাসগুলোতে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সম্পর্কের এই টানাপোড়েন মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। বিশেষ করে ইরান, গাজা, লেবানন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে আরও সমন্বয় প্রয়োজন হতে পারে।

তবে হোয়াইট হাউস বা ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই


ইরানকে ১৭০ কোটি ডলার নগদ ঘুষ দিয়েছিল ওবামা প্রশাসন: ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৭ ২০:০৮:৫৮
ইরানকে ১৭০ কোটি ডলার নগদ ঘুষ দিয়েছিল ওবামা প্রশাসন: ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসনের বিরুদ্ধে ইরানকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ‘ঘুষ’ দেওয়ার বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (১৭ জুন) ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই দাবি করেন। ট্রাম্পের মতে, ২০১৫ সালের বহুল আলোচিত ইরান পরমাণু সমঝোতা (JCPOA) কার্যকর করার সময় ওবামা প্রশাসন তেহরানের কাছে ১৭০ কোটি ডলার নগদ অর্থ পাঠিয়েছিল।

ট্রাম্প দাবি করেন, ওবামা প্রশাসন মার্কিন স্বার্থের তোয়াক্কা না করে একটি বোয়িং ৭৫৭ উড়োজাহাজে করে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ সরাসরি তেহরানে পৌঁছে দিয়েছিল। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তৎকালীন ডেমোক্র্যাট প্রশাসন স্রেফ অর্থের বিনিময়ে ইরানের সাথে একটি দুর্বল সমঝোতায় পৌঁছানোর কৌশল গ্রহণ করেছিল। এই নমনীয় নীতির কারণেই ইরান তৎকালীন মার্কিন প্রশাসনকে দুর্বল হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ পেয়েছিল। তবে নিজের মেয়াদে তিনি ইরানের প্রতি কোনো ধরনের দুর্বলতা বা এমন নীতি অনুসরণ করেননি বলেও সাফ জানিয়ে দেন।

সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পুনর্গঠনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশেষ তহবিলে অর্থায়ন করতে যাচ্ছে—এমন গুঞ্জন ও খবরকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ওয়াশিংটন এ ধরনের কোনো তহবিলে অর্থ দিচ্ছে না এবং ভবিষ্যতেও দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা মার্কিন প্রশাসনের নেই। তবে উপসাগরীয় অঞ্চলের ধনী দেশগুলো চাইলে তাদের নিজস্ব স্বার্থে ইরানে বিনিয়োগ করতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান তীব্র উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেই ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করেছে। ওবামা প্রশাসনের চুক্তিকে 'ইতিহাসের অন্যতম বাজে চুক্তি' আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প আগেই তা থেকে সরে এসেছিলেন, আর এবার জি-৭ মঞ্চে দাঁড়িয়ে সরাসরি 'নগদ অর্থ পাচারের' অভিযোগ এনে ডেমোক্র্যাটদের তীব্র সমালোচনার মুখে ফেললেন তিনি।

/আশিক


ইরানের সঙ্গে সমঝোতা কাঠামোকে খুবই শক্তিশালী: ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৭ ১৮:৩১:৩৮
ইরানের সঙ্গে সমঝোতা কাঠামোকে খুবই শক্তিশালী: ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে একটি নতুন এবং অত্যন্ত শক্তিশালী সমঝোতা চুক্তি হতে চলায় বিশ্ববাজার ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (১৭ জুন) জি-৭ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই দাবি করেন। একই সাথে আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুরোপুরি উন্মুক্ত হয়ে যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

জি-৭ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, "এটি খুবই শক্তিশালী একটি চুক্তি। যদিও এখনো কেউ পুরো বিষয়টি বিস্তারিত জানে না।" এই সমঝোতার খবরের ইতিবাচক প্রভাব বাজারে পড়তে শুরু করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "এই সমঝোতার ফলে আন্তর্জাতিক বাজার ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। যারা সবচেয়ে বেশি খুশি, তারা হলো বাজারের অংশগ্রহণকারীরা।" হরমুজ প্রণালি খুলে গেলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন তিনি।

তবে এই সমঝোতার অংশ হিসেবে ইরানের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন তহবিল গঠনে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নের খবরটি পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, "আমরা ১০ সেন্টও দিচ্ছি না। আমরা কোনো বিনিয়োগ করছি না এবং আমাদের কোনো তহবিলও নেই। তবে উপসাগরীয় দেশগুলো চাইলে ইরানে বিনিয়োগ করতে পারে।"

সূত্র : আল জাজিরা


আর্জেন্টিনাকে ২০০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৭ ১৪:৩১:৩৬
আর্জেন্টিনাকে ২০০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার তীব্র চাপ মোকাবিলায় নতুন করে বড় ধরনের সহায়তা পেয়েছে আর্জেন্টিনা। দেশটির অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিতে ২০০ কোটি ডলারের একটি বিশেষ ঋণ প্যাকেজ অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিশ্বব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঋণ সহায়তার অনুমোদন দেয়। বিশেষ ‘গ্যারান্টি-ব্যাকড ফিন্যান্সিং’ ব্যবস্থার আওতায় এই অর্থ ছাড় করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

এই আর্থিক কাঠামো অনুযায়ী, কোনো কারণে ঋণগ্রহীতা নির্ধারিত সময়ে ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে তৃতীয় পক্ষের কোনো প্রতিষ্ঠান তার হয়ে অর্থ পরিশোধের নিশ্চয়তা দেবে। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অর্থায়নে এ ধরনের ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ হিসেবে বিবেচিত হয়।

বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, দুটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের গ্যারান্টির ভিত্তিতে এই ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠান দুটি হলো ইন্টারন্যাশনাল ব্যাংক ফর রিকনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইবিআরডি) এবং মাল্টিল্যাটারাল ইনভেস্টমেন্ট গ্যারান্টি এজেন্সি (এমআইজিএ)।

এই ঋণের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ছয় বছর। পাশাপাশি অতিরিক্ত তিন বছরের একটি গ্রেস পিরিয়ডও রাখা হয়েছে। অর্থাৎ নির্ধারিত ছয় বছরের মধ্যে ঋণ পরিশোধ সম্ভব না হলে আর্জেন্টিনা আরও তিন বছর সময় পাবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই ধরনের নমনীয় ঋণ কাঠামো সংকটে থাকা দেশগুলোর জন্য কিছুটা স্বস্তি তৈরি করে। কারণ এতে তাৎক্ষণিক ঋণ পরিশোধের চাপ অনেকাংশে কমে যায়।

করোনা মহামারির পর থেকেই আর্জেন্টিনার অর্থনীতি ধারাবাহিকভাবে চাপের মুখে রয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাওয়া, ডলারের ঘাটতি এবং দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক অস্থিরতা দেশটির আর্থিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

২০২৪ সালে আর্জেন্টিনার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ১০০ শতাংশের সীমা অতিক্রম করে। এর ফলে খাদ্য, ওষুধ, জ্বালানি এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যেতে শুরু করে।

বর্তমান প্রেসিডেন্ট জাভিয়ের মিলেই ক্ষমতায় আসার পর ব্যাপক অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন। সরকারি ব্যয় কমানো, বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণ এবং বাজারভিত্তিক নীতি বাস্তবায়নের মতো বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

তবে এসব উদ্যোগ সত্ত্বেও এখনো দেশের অর্থনীতিতে কাঙ্ক্ষিত স্থিতিশীলতা পুরোপুরি ফিরে আসেনি। কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ এবং জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

সূত্র: রয়টার্স


ইরানকে ৩০০ বিলিয়ন ডলার দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র? জবাব দিলেন জেডি ভ্যান্স

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৭ ১০:৫৩:২৯
ইরানকে ৩০০ বিলিয়ন ডলার দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র? জবাব দিলেন জেডি ভ্যান্স
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার নতুন সমঝোতা ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইরানের পুনর্গঠনের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়। তবে সেই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

মঙ্গলবার দেওয়া এক ব্যাখ্যায় তিনি স্পষ্ট করে জানান, ওয়াশিংটন কোনোভাবেই ইরানকে সরাসরি অর্থ সহায়তা দিচ্ছে না। বরং ইরান যদি ভবিষ্যতে চুক্তির শর্তসমূহ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করে, তাহলে অন্য দেশগুলোকে সেখানে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার পরিবেশ তৈরি করা হতে পারে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেডি ভ্যান্স বলেন, অনেকেই ভুলভাবে ধারণা করছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে শত শত বিলিয়ন ডলার দিয়ে দিচ্ছে। বাস্তবে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, ইরানের আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন এলে কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ধীরে ধীরে শিথিল করা হতে পারে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা দেশটিতে ব্যবসা ও অবকাঠামোগত প্রকল্পে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।

ভ্যান্স উদাহরণ দিয়ে বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত যদি ভবিষ্যতে ইরানের কোনো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিনিয়োগ করতে চায়, তাহলে বর্তমানে বিদ্যমান আর্থিক নিষেধাজ্ঞার কারণে সেটি সম্ভব নয়। তবে ইরান চুক্তির শর্ত মেনে চললে পরিস্থিতি পরিবর্তন হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ইরান তার নীতিগত অবস্থানে পরিবর্তন না আনা পর্যন্ত কোনো ধরনের বিনিয়োগের সুযোগ কার্যকর হবে না। তাই যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে অর্থ দিচ্ছে—এমন দাবি বিভ্রান্তিকর।

এর আগে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য কাঠামোগত সমঝোতার অংশ হিসেবে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বেসরকারি তহবিল গঠনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই তহবিলের উল্লেখযোগ্য অংশের জন্য ইতোমধ্যে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে পুরো পরিকল্পনাটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।

জানা গেছে, এই অর্থ সরাসরি সরকারি কোষাগার থেকে দেওয়া হবে না। বরং এটি হবে সম্পূর্ণ বেসরকারি বিনিয়োগভিত্তিক একটি অর্থনৈতিক প্ল্যাটফর্ম।

সূত্রগুলো বলছে, মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া, আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এতে অংশ নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে।

এই অর্থ প্রধানত জ্বালানি, পরিবহন, শিল্প উৎপাদন, লজিস্টিকস এবং অবকাঠামো উন্নয়নের মতো খাতে বিনিয়োগ করা হতে পারে।

‘রিকনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফান্ড’ নামে আলোচিত এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যুদ্ধ ও দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।

একটি ইরানি সূত্রের দাবি, আঞ্চলিক দেশগুলো সরাসরি অর্থ সহায়তা, ঋণ নিশ্চয়তা, ক্রেডিট লাইন এবং অবকাঠামো পুনর্গঠন প্রকল্পে অংশ নিতে পারে।

এর আওতায় স্টিল কারখানা, তেল শোধনাগার, বিমানবন্দরসহ ক্ষতিগ্রস্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো পুনর্নির্মাণের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ চার দশকের নিষেধাজ্ঞা ইরানকে আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে ঠেলে দিয়েছে। অথচ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল ও গ্যাস মজুদের মালিক দেশটি বিপুল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বহন করে।

প্রায় ৯ কোটি ২০ লাখ শিক্ষিত ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী, শক্তিশালী শিল্পভিত্তি এবং কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দেশটি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার হিসেবে বিবেচিত হয়।

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, চূড়ান্ত রাজনৈতিক সমঝোতা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত কোনো তহবিল কার্যকর হবে না।

প্রাথমিক সমঝোতা অনুযায়ী, চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে প্রকল্পগুলোর কাঠামো, বিনিয়োগের খাত এবং বাস্তবায়ন পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে।

-রফিক


আমি না থাকলে ইসরায়েল মানচিত্র থেকে মুছে যেত: ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৬ ২০:০০:২৫
আমি না থাকলে ইসরায়েল মানচিত্র থেকে মুছে যেত: ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ ও নিজের ব্যক্তিগত ভূমিকা না থাকলে অনেক আগেই ইসরায়েল রাষ্ট্র ধ্বংস হয়ে যেত বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি তিনি নিজে না থাকলে দেশটির কোনো অস্তিত্বই থাকত না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। চলমান জি-৭ (G7) সম্মেলনের সাইডলাইনে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে এক দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় ট্রাম্প এমন বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।

বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কড়া সমর্থন না থাকলে ইসরায়েল টিকে থাকতে পারত না। তিনি ব্যক্তিগতভাবে হস্তক্ষেপ না করলে অন্য কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইসরায়েলের সুরক্ষায় তার মতো এমন কঠোর ও নজিরবিহীন পদক্ষেপ নেওয়ার সাহস দেখাতেন না। ট্রাম্পের মতে, তিনি মধ্যস্থতা না করলে অনেক আগেই ইসরায়েল মানচিত্র থেকে মুছে যেত।

ইসরায়েলের প্রতি নিজের এই একচ্ছত্র সমর্থনের কথা জানানোর পাশাপাশি বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর নিজের তীব্র অসন্তোষের কথাও লুকাননি ট্রাম্প। লেবানন ইস্যুতে তিনি নেতানিয়াহুকে চরম সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। ট্রাম্প কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, লেবাননে ইসরায়েলের ঘন ঘন ও অনবরত সামরিক হামলা মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি চুক্তিকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

কথোপকথনে লেবাননের গৌরবময় অতীতের স্মৃতিচারণ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, লেবানন একসময় মধ্যপ্রাচ্যের একটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ দেশ ছিল। এটি মূলত পরিচিত ছিল বিশ্বখ্যাত অধ্যাপক, চিকিৎসক ও আইনজীবীদের দেশ হিসেবে। মেধাবী ও সুশিক্ষিত মানুষের এক বড় কেন্দ্র ছিল লেবানন। কিন্তু চলমান যুদ্ধবিগ্রহের কারণে দেশটির বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত শোচনীয় হয়ে পড়েছে যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

এর আগে গত রবিবার বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক ফোনালাপেও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর যুদ্ধকালীন সিদ্ধান্ত ও বিচারবোধ নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রকাশ্য ও গোপনে ট্রাম্পের এমন কঠোর অবস্থান নেতানিয়াহু সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।

সূত্র: আল জাজিরা


চীনের কিনহাই প্রদেশে শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাত

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৬ ১৯:৪৪:০১
চীনের কিনহাই প্রদেশে শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাত
ছবি : সংগৃহীত

চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় কিনহাই প্রদেশে ৬ দশমিক ৩ মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে অন্তত ১ জন নিহত এবং চারজন আহত হওয়ার খবর জানা গেছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) বেইজিং সময় বিকেল ৫টা ৬ মিনিটে প্রদেশের হাইশি অঞ্চলে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়।

চায়না আর্থকোয়েক নেটওয়ার্কস সেন্টার (সিইএনসি) জানিয়েছে, শক্তিশালী এই ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়েছে ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। ভূগর্ভের কম গভীরে উৎপত্তি হওয়ায় আশেপাশের এলাকায় বেশ ভালো ঝাঁকুনি অনুভূত হয়েছে। মূল ভূমিকম্পটি আঘাত হানার পর ওই অঞ্চলে একাধিক আফটারশকও রেকর্ড করা হয়েছে, যার মধ্যে একটি আফটারশকের তীব্রতা রিখটার স্কেলে প্রায় ৫ মাত্রা ছিল বলে নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি।

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভূমিকম্পের পরপরই স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে স্থানীয় প্রশাসন সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নিরূপণে মাঠপর্যায়ে মূল্যায়ন কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় উদ্ধার ও জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।

/আশিক


যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি: মধ্যপ্রাচ্যে কি আসলেই শান্তি ফিরবে নাকি নতুন সংকটের শুরু?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৬ ১৮:১৭:০১
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি: মধ্যপ্রাচ্যে কি আসলেই শান্তি ফিরবে নাকি নতুন সংকটের শুরু?
ছবি : সংগৃহীত

বন্দুকের গুলি থামলেও কাটছে না মধ্যপ্রাচ্যের সংকট: নতুন বাস্তবতায় ইরান ও বৈশ্বিক রাজনীতিমধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভয়াবহ সংঘাতের অবসানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। আপাতদৃষ্টিতে এই চুক্তি বন্দুকের গুলি থামিয়ে দিলেও, আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির যে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে তা মোটেও আশাব্যঞ্জক নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কূটনীতিক ও উপসাগরীয় দেশগুলোর নীতিনির্ধারকদের মতে, এই চুক্তি যুদ্ধের অবসান ঘটালেও সামগ্রিক শক্তির ভারসাম্য এবং নিরাপত্তা কাঠামোকে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

ওয়াশিংটনের কৌশলগত ব্যর্থতা ও তেহরানের আত্মবিশ্বাস

বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটনের জন্য এই চুক্তি মূলত একটি দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল সংঘাত থেকে সম্মানজনক ‘প্রস্থানপথ’ বা এক্সিট রুট। ট্রাম্প প্রশাসনের ‘এপিক ফিউরি’ অভিযান তেহরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা কিংবা তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করার যে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল, তা অর্জনে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। উল্টো ইরান রাজনৈতিকভাবে আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী এবং অপরাজিত শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। প্রবল সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের মুখেও তারা নিজেদের কাঠামো ধরে রেখেছে এবং আন্তর্জাতিক জলপথ ও জ্বালানি প্রবাহকে হুমকির মুখে ফেলার মতো কৌশলগত সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে।

উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা সংকট ও নতুন সমীকরণ

এই চুক্তির ফলে সবচেয়ে বড় কৌশলগত ধাক্কা খেয়েছে সুন্নি আরব উপসাগরীয় দেশগুলো। তাদের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির মূল ভিত্তি ছিল যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যা এখন কার্যত ভেঙে পড়ছে। উপসাগরীয় দেশগুলো এখন বুঝতে পারছে যে ইরানকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ বা উৎখাত করার সামর্থ্য যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল—কারোই নেই। ফলে ইরানকে একটি ‘স্থায়ী আঞ্চলিক শক্তি’ হিসেবে মেনে নেওয়া ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো বিকল্প নেই। নিজেদের অস্তিত্ব ও স্থিতিশীলতার জন্য পশ্চিমাদের ওপর অতিনির্ভরশীলতা কমিয়ে, এখন উপসাগরীয় রাজধানীগুলো তেহরানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সমঝোতার দিকে ঝুঁকছে।

ইসরায়েলের কৌশলগত উদ্বেগ ও ক্ষোভ

ইসরায়েলের জন্য এই চুক্তি একটি বড় কূটনৈতিক আঘাত। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ক্ষেপণাস্ত্র বিধিনিষেধের মতো ইসরায়েলের মূল দাবিগুলো এই চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় নেতানিয়াহু সরকারের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বিস্ময় বিরাজ করছে। ইসরায়েল মনে করছে, আলোচনার শর্ত নির্ধারণের ক্ষেত্রে মার্কিন প্রশাসনের ওপর তাদের প্রভাব এখন নামমাত্র। বিশ্লেষকদের মতে, গাজা ও লেবানন ফ্রন্টেও ইসরায়েলের ওপর একই ধরনের ‘চুক্তি মেনে নেওয়ার’ আন্তর্জাতিক চাপ আসতে পারে।

চুক্তির ভবিষ্যৎ: শান্তির বার্তা নাকি কেবলই ‘আলোচনার টিকিট’?

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, যা স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে তা কোনো স্থায়ী শান্তিচুক্তি নয়, বরং সংঘাত সাময়িক স্তিমিত করার একটি প্রাথমিক কাঠামো মাত্র। সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মাত্রা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিয়ন্ত্রণের মতো মূল বিরোধগুলো এখনো অমীমাংসিতই রয়ে গেছে। মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশ্লেষক অ্যারন ডেভিড মিলারের ভাষায়, "এটি কোনো সমাধান নয়, বরং কেবল ‘আলোচনার টিকিট’।" সামগ্রিকভাবে, এই সংঘাতের সাময়িক অবসান ঘটলেও মধ্যপ্রাচ্য এমন এক পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করেছে, যেখানে ইরান আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগের চেয়ে অনেক বেশি ভঙ্গুর।

/আশিক


ইইউর ‘রুশ সেনা প্রশিক্ষণ’ সংক্রান্ত বিস্ফোরক দাবি প্রত্যাখ্যান করল চীন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৬ ১৮:১২:৩৬
ইইউর ‘রুশ সেনা প্রশিক্ষণ’ সংক্রান্ত বিস্ফোরক দাবি প্রত্যাখ্যান করল চীন
ছবি : সংগৃহীত

ইউক্রেন যুদ্ধে লিপ্ত রুশ সেনাদের চীনা সামরিক বাহিনী প্রশিক্ষণ দিচ্ছে—ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) এমন গুরুতর অভিযোগকে সম্পূর্ণ 'ভিত্তিহীন' ও 'মানহানিকর' উল্লেখ করে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে চীন। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বেইজিংয়ে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান ইইউর এই দাবিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, "এই ধরনের দাবির কোনো বাস্তব বা যৌক্তিক ভিত্তি নেই। এটি চীনের বিরুদ্ধে অপবাদ এবং মানহানিকর বক্তব্য ছড়ানোর শামিল।" চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলোও বেইজিংয়ের এই আনুষ্ঠানিক অস্বীকৃতির খবরটি বেশ গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করেছে।

এর আগে লুক্সেমবার্গে অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠক শেষে ইইউর পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস দাবি করেন, চীনা সামরিক সদস্যদের দ্বারা রুশ সেনাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রতিবেদন ইইউর হাতে এসেছে। গোয়েন্দা ও কূটনৈতিক সূত্রে পাওয়া এই প্রতিবেদনগুলো তারা গুরুত্বের সাথে যাচাই করেছে এবং এর সম্ভাব্য ভূরাজনৈতিক প্রভাব ও নিরাপত্তা ঝুঁকি সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করছে।

বৈঠক শেষে কাজা কালাস আরও একটি বড় ঘোষণা দেন। তিনি জানান, রাশিয়ার সামরিক খাতকে পরোক্ষ সহায়তার অভিযোগে বৈঠকে উপস্থিত ইইউর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বেশ কয়েকটি চীনা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা (Sanctions) আরোপের বিষয়ে একমত হয়েছেন। তবে কূটনৈতিক ও কৌশলগত কারণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম বা নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত রূপরেখা তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

ইউক্রেন সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই রাশিয়ার প্রতি বেইজিংয়ের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত নমনীয় অবস্থান নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলো ধারাবাহিক উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। যার ফলে সাম্প্রতিক সময়ে চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। তবে বেইজিং শুরু থেকেই এই যুদ্ধে নিজেদের সম্পূর্ণ 'নিরপেক্ষ' দাবি করে আসছে এবং শান্তি আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের পক্ষে অবস্থান ধরে রেখেছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: