জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সব সম্প্রদায়ের অবদান ছিল: নাহিদ ইসলাম

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০১ ২০:১৩:১২
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সব সম্প্রদায়ের অবদান ছিল: নাহিদ ইসলাম
ছবি : সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যে বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজের প্রতিশ্রুতির কথা বলা হয়েছিল, তা এখনো দলীয় আদর্শ হিসেবে ধারণ করা হয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম।

শনিবার (১ আগস্ট) গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে রাজধানীর ডিআরইউ মিলনায়তনে 'সম্প্রীতির জুলাই: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অবদান' শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, গণঅভ্যুত্থানে দল-মত ও ধর্ম নির্বিশেষে সব সম্প্রদায়ের মানুষ রাজপথে নেমেছিল। আন্দোলনের সূচনা থেকেই এর একটি অসাম্প্রদায়িক চরিত্র ছিল, যেখানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অন্তত ৯ জন সদস্য শহীদ হন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, অতীতে ফ্যাসিস্ট সরকারগুলো নিজেদের অসাম্প্রদায়িক দাবি করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে রাজনৈতিক কার্ড হিসেবে ব্যবহার করেছে। ভোটে ফায়দা লুটতে তাদের একটি নির্দিষ্ট দলের পকেটে রাখার অপচেষ্টা চালানো হতো। এর ফলে সেই রাজনৈতিক দলের নানা অপকর্মের দায়ভারও অন্যায়ভাবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর গিয়ে পড়ত। তাই সংখ্যালঘুদের কোনো নির্দিষ্ট দলের পকেটে না গিয়ে সব দলের সাথে রাজনৈতিক সম্পর্ক রাখা উচিত, যাতে কোনো দলই তাদের ব্যবহার করতে না পারে।

জুলাই-পরবর্তী পরিস্থিতিতে ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রতি জোর দিয়ে তিনি বলেন, সংকটের সময় বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে সবাই যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল, সেটিই জুলাইয়ের আসল শিক্ষা। শুধু গুম-খুন নয়, বিগত সময়গুলোতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জমি দখল ও হামলার সাথে জড়িত সবার দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি।

জাতীয় অগ্রগতি ও সম্প্রীতি রক্ষায় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার অপরিহার্য উল্লেখ করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, বিচার বিভাগ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ হলে তার সুফল রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিক পাবে। তাই দেশকে বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণ ঘটাতে এবং নতুন করে ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি না করে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব প্রীতম দাশের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় প্রধান ও বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

/আশিক


ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর ওবায়দুল কাদেরের কথোপকথন ফাঁস

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৫ ১৮:০১:৩১
ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর ওবায়দুল কাদেরের কথোপকথন ফাঁস
ছবি : সংগৃহীত

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে কথোপকথনের সময় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও মারধরের প্রত্যক্ষ উসকানি দিয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়ে রায় ঘোষণা করেন। এই ঐতিহাসিক রায়ের পর আয়োজিত আনুষ্ঠানিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে মামলার বিভিন্ন তথ্য ও আসামিদের ভূমিকা তুলে ধরেন চিফ প্রসিকিউটর।

চিফ প্রসিকিউটর জানান, ওবায়দুল কাদের ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দামকে স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়ে বলেছিলেন, ‘তোমরা মারো না কেন? মারো।’ এভাবে তিনি বিভিন্ন বক্তব্যের মাধ্যমে ছাত্রলীগকে সহিংসতায় প্ররোচিত করেন। এর পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের ‘দেখা মাত্রই গুলি’ করার কঠোর নির্দেশনাও জারি করেছিলেন ওবায়দুল কাদের। আমিনুল ইসলাম উল্লেখ করেন, গত ১১ জুলাই সাদ্দামকে ওই নির্দেশ দেওয়ার পরপরই ১৬ জুলাই ওয়াসিম ও আবু সাঈদসহ কয়েকজন আন্দোলনকারী নির্মমভাবে নিহত হন।

পরবর্তী পরিস্থিতির বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, ১৯ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নির্বিচারে গুলি চালিয়ে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যা করে এবং এই সহিংসতার শিকার হয়ে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ গুরুতর আহত হয়ে পঙ্গুত্ববরণ করেন। এর আগে ওবায়দুল কাদের প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে আন্দোলন দমনের জন্য ছাত্রলীগই যথেষ্ট। প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব উসকানি ও দমনমূলক তৎপরতার ফলেই দেশজুড়ে এমন ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। আসামিদের সহিংস বক্তব্য ও দিকনির্দেশনার ওপর ভর করেই তৎকালীন সরকারের অনুগত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ক্যাডাররা যৌথভাবে নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের ওপর প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে হত্যাযজ্ঞ চালায়।

/আশিক


স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে লড়বে জামায়াত

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৪ ১৯:৩৫:৫৭
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে লড়বে জামায়াত
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় নির্বাচনে এবং নির্বাচন-পরবর্তী বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে জোটভুক্ত অবস্থানে থাকলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পুরোপুরি এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এই সিদ্ধান্তের ফলে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের মতো স্থানীয় সরকারের সব স্তরেই দলটির নিজস্ব প্রার্থীরা দলীয় ব্যানারে লড়াই করবেন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে আয়োজিত সীরাতুন্নবী (সা.) কনফারেন্সের সমাপ্তি পর্বে গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে দলের এই অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

সাংগঠনিক প্রস্তুতির বিস্তারিত তুলে ধরে মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, জামায়াতে ইসলামী একটি নির্বাচনমুখী রাজনৈতিক দল হিসেবে স্থানীয় সরকারের প্রতিটি ধাপের জন্য সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করেছে। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা থেকে শুরু করে সিটি করপোরেশন পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ এখন চূড়ান্ত ধাপে রয়েছে এবং অনেক অঞ্চলেই ইতোমধ্যে অভ্যন্তরীণভাবে প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করে তাদের মাঠপর্যায়ে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

রাজধানীর নির্বাচনী পরিকল্পনা প্রসঙ্গে জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা উল্লেখ করেন যে, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ—উভয় সিটি করপোরেশন নির্বাচনেই জামায়াত এককভাবে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং দলীয় ফোরামে প্রার্থীদের নাম মনোনীত করা হয়েছে। উপযুক্ত সময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তা প্রকাশ করা হবে, যদিও গণমাধ্যমে ইতিমধ্যে ঢাকা উত্তরে সেলিম উদ্দিন এবং ঢাকা দক্ষিণে সাদিক কায়েমের নাম সামনে এসেছে।

স্থানীয় নির্বাচনে জোটগত সমীকরণের বিষয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার ব্যাখ্যা দেন যে, জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাদের যে ১১ দলীয় ঐক্য গড়ে উঠেছিল, নির্বাচনের পরও বিভিন্ন আন্দোলনের কর্মসূচি তারা সেই জোটের আওতাতেই পালন করে আসছেন। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে জোটের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া হয়েছে যে প্রতিটি দলই নিজস্ব প্রতীকে ও একক প্রার্থী নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেবে, ফলে স্থানীয় সরকারের কোনো স্তরেই জোটগত কোনো প্রার্থী থাকছে না।

/আশিক


দেশে অতীতের মতো অন্ধকার যেন আর না আসে: নেতা-কর্মীদের রিজভীর কড়া বার্তা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৩ ২১:২৬:৩২
দেশে অতীতের মতো অন্ধকার যেন আর না আসে: নেতা-কর্মীদের রিজভীর কড়া বার্তা
ছবি : সংগৃহীত

দেশে অতীতের মতো অন্ধকার ও দুঃসময় যাতে আর ফিরে না আসে, সে বিষয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফেনী সদর উপজেলার ফরহাদনগর ইউনিয়নের ভোরবাজার এলাকায় ওমরিয়া ফারুকিয়া দাখিল মাদ্রাসা মাঠে ২০১৩ সালে নিহত যুবদল কর্মী মোহাম্মদ হারুনুর রশিদের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। রিজভী অভিযোগ করেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে দলীয় পুলিশ বাহিনী সরাসরি গুলি চালিয়ে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের হত্যা করেছে; সেই রক্তক্ষয়ী দুর্দিনের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বজায় রেখে কাজ করতে হবে।

স্মরণসভায় হারুনুর রশিদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে রিজভী বলেন, কোনো লুটপাট বা ব্যাংক দুর্নীতির সুবিধাভোগী হয়ে নয়, বরং নির্ভেজাল বহুদলীয় গণতন্ত্রের আদর্শ রক্ষার লড়াইয়ে শামিল হয়ে তিনি প্রাণ দিয়েছেন। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদীন, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম এবং নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন বক্তব্য দেন। স্মরণসভা শেষে ২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর গুলিতে নিহত হওয়া হারুনের স্ত্রী জোহরা আক্তার ও সন্তানদের হাতে একটি নতুন নির্মিত ঘরের চাবি ও আর্থিক অনুদান তুলে দেন রিজভী।

/আশিক


ঢাকার দুই সিটিতে মেয়র পদে প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করল এনসিপি

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৩ ১৯:৪৮:০০
ঢাকার দুই সিটিতে মেয়র পদে প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করল এনসিপি
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) কেন্দ্রীয় নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এক বিজ্ঞপ্তিতে এই দুই প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত ঘোষণা করেন।

মেয়র প্রার্থী ঘোষণার পাশাপাশি একই দিনে ঢাকার দুই মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের সঙ্গে এনসিপির একটি গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করতে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেন। তিনি ওয়ার্ডভিত্তিক কাউন্সিলর প্রার্থী চূড়ান্তকরণ, স্থানীয় নাগরিক সমস্যা চিহ্নিতকরণ এবং জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত পরিবারগুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক নিবিড় যোগাযোগ রাখার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের যেকোনো ধরনের নাশকতা ও বিশৃঙ্খল তৎপরতা প্রতিহত করতে দলীয় নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকার আহ্বান জানান।

/আশিক


দেড় বছরেই অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার: দুর্নীতির পোস্টার বয় আসিফ মাহমুদ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৩ ১৮:৫৫:০৬
দেড় বছরেই অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার: দুর্নীতির পোস্টার বয় আসিফ মাহমুদ
ছবি : সংগৃহীত

ছাত্র আন্দোলন থেকে উঠে এসে অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হওয়া আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম, কমিশন বাণিজ্য, পদায়ন বাণিজ্য এবং বিদেশে অর্থপাচারের গুরুতর অভিযোগ জমা পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)। উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ নিয়ে সম্প্রতি রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

এর আগে গত ৪ মার্চ বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) তাঁর ব্যাংক হিসাব তলব করলে তিনি সংবাদ সম্মেলন করে নিজের ও পরিবারের অ্যাকাউন্টের বিবরণ তুলে ধরেন, যেখানে তাঁর দুটি হিসাবে প্রায় পৌনে দশ লাখ টাকা থাকার তথ্য জানানো হয়। তবে বিশ্লেষক ও অভিযোগকারীদের দাবি, প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে দুর্নীতির অর্থ রাখা হয় না, বরং বিভিন্ন অপ্রচলিত ও গোপন মাধ্যমে এই অর্থ সরানো হয়েছে।

দুদকে জমা পড়া অভিযোগগুলোর মধ্যে প্রধান বিষয়গুলো হলো—স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দাবি, ওয়াসা ও সিটি করপোরেশনে শীর্ষ পদ বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের ঘুষ লেনদেন (যার মধ্যে ওয়াসা এমডি নিয়োগে ১০ কোটি ও ডিএনসিসি প্রশাসক নিয়োগে ২০ কোটি টাকার অভিযোগ রয়েছে), এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে পদোন্নতি ও বদলি সিন্ডিকেট পরিচালনা।

এ ছাড়া সারাদেশে ৩৬ জন জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়নে বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেন, সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার টেন্ডার থেকে ১০-৩০ শতাংশ কমিশন গ্রহণ এবং তাঁর এপিএস মো. মোয়াজ্জেম হোসেনের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার লেনদেন করে সেই অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগ নথিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগের তালিকায় তাঁর পিতার নামে ঠিকাদারি লাইসেন্স প্রদান এবং দুর্নীতির অর্থ ক্রিপ্টোকারেন্সি ও দুবাইয়ের সম্পদে রূপান্তরের বিষয়টিও রয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির সাবেক এই উপদেষ্টার বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ এনে দ্রুত বিচার ও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান জোর দিয়ে বলেছেন, রাষ্ট্রীয় পদে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো এসব গুরুতর অভিযোগের নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া অপরিহার্য।

/আশিক


সংবিধানে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম প্রতিস্থাপনের দাবি খেলাফত মজলিসের

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১২ ২১:৩০:৫৪
সংবিধানে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম প্রতিস্থাপনের দাবি খেলাফত মজলিসের
ছবি : সংগৃহীত

এমন নামমাত্র বা দুর্বল পরিবর্তনের জন্য ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র ও যুবসমাজ ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী লড়াই করেনি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক। তিনি ঘোষণা দেন, এবারের মূল সংগ্রাম হলো কার্যকর সংস্কারের মাধ্যমে দেশের সংবিধান আমূল পরিবর্তন করা এবং সেই সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ পুনঃস্থাপিত করা। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বরিশালের সদর রোডস্থ ঐতিহাসিক অশ্বিনী কুমার টাউন হলে আয়োজিত এক নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গণভোটের গণরায় অবিলম্বে বাস্তবায়ন, তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি রোধ এবং সাম্প্রতিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান অবনতির তীব্র প্রতিবাদে এই সমাবেশের আয়োজন করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বরিশাল জেলা ও মহানগর শাখা। সমাবেশে মামুনুল হক বলেন, দীর্ঘদিনের শোষণ ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জনগণের যে ঐতিহাসিক আত্মত্যাগ, তা কেবল শাসনক্ষমতার হাতবদলের জন্য ছিল না; বরং তা ছিল রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামো ও সাংবিধানিক চরিত্র পরিবর্তনের লড়াই। জনগণের কাঙ্ক্ষিত সেই লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত রাজপথের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

/আশিক


ডিসেম্বরে না ফিরলে শেখ হাসিনার রাজনীতির মৃত্যু ঘটবে

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১২ ১৯:৫২:০২
ডিসেম্বরে না ফিরলে শেখ হাসিনার রাজনীতির মৃত্যু ঘটবে
ছবি : সংগৃহীত

ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তীব্র আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘোষণা নিছক কোনো বক্তব্য নয়; বরং এর পেছনে দলের চরম বিপর্যস্ত নেতাকর্মীদের চাঙা রাখা এবং সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল রয়েছে।

তবে বাস্তবতা হলো, দেশে ফিরতে চাইলে শেখ হাসিনাকে চরম আইনি ও রাজনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলা করতে হবে; আর যদি ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে তিনি না ফেরেন, তবে ১ জানুয়ারি থেকেই তাঁর নেতৃত্বের বিশ্বাসযোগ্যতা চূড়ান্তভাবে ধসে পড়বে এবং তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সমাপ্তি ঘটবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আইনুল ইসলাম এই বক্তব্যকে মূলত ‘রাজনৈতিক স্টান্টবাজি ও স্লোগান’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি জানান, ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এবং অসংখ্য মামলার আসামি হিসেবে দেশে ফেরা মাত্রই তাঁকে কঠোর আইনি মুখোমুখি হতে হবে, যা তাঁর বর্তমান বয়স ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রায় অসম্ভব। শেষ পর্যন্ত না ফিরলে ট্রাভেল পাস বা বিমান অবতরণের অনুমতি না মেলার মতো বাহানা তৈরি করা হতে পারে, যা নেতাকর্মীদের আস্থার সংকট দূর করতে পারবে না।

অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজের মতে, দেশে ফেরার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো অনিশ্চিত হলেও এমন কোনো পদক্ষেপ দেশের রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ও অস্থিরতা ছড়াবে। সবচেয়ে বড় বাস্তব প্রতিবন্ধকতা হলো, দলগুলোর অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য থাকলেও শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগকে প্রতিহত করার প্রশ্নে জুলাইয়ের পক্ষের সব রাজনৈতিক শক্তি ও সরকারের মধ্যে ইস্পাতকঠিন ঐকমত্য রয়েছে।

বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল উল্লেখ করেন, হাজারো মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় কোনো অনুশোচনা না করে বলপ্রয়োগের জেদ দেখিয়ে দেশে ফিরে দল পুনর্গঠন করার স্বপ্ন দেখা ‘অমাবস্যার দিনে পূর্ণিমার চাঁদ দেখার মতো’।

এদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামিম স্পষ্ট করেছেন যে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ইতোমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে এবং নির্ধারিত ৩০ দিন অতিবাহিত হওয়ায় আপিলের আইনগত সুযোগও শেষ হয়ে গেছে। ফলে ভারত থেকে প্রত্যর্পণ চুক্তি বা নিজ উদ্যোগে দেশে ফেরার সঙ্গে সঙ্গেই বিমানবন্দরে তাঁকে গ্রেপ্তার করে সরাসরি মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করার কোনো বিকল্প আইনি পথ খোলা নেই।

/আশিক


কোনো নির্দিষ্ট পরিবারের দেশ নয় বাংলাদেশ, ২০ কোটির মানুষের: বিরোধীদলীয় হুইপ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১২ ১৯:৩০:২৬
কোনো নির্দিষ্ট পরিবারের দেশ নয় বাংলাদেশ, ২০ কোটির মানুষের: বিরোধীদলীয় হুইপ
ছবি: কালবেলা

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রণীত অধ্যাদেশ বাতিল ও সংশোধনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার দেশকে পুনরায় ফ্যাসিবাদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে তীব্র অভিযোগ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের (রুয়া) সভাপতি মাওলানা রফিকুল ইসলাম।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে শাখা ছাত্রশিবির আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে অন্তর্বর্তী সরকারের আনা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ২০টি বাতিল করা হয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম বিতর্কিত পদক্ষেপ ছিল ‘গুম-খুন কমিশন’ বাতিল ও তদন্ত প্রক্রিয়ায় আইনি পরিবর্তন আনা।

মাওলানা রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, আগের অধ্যাদেশে গুমের সঙ্গে জড়িত সংস্থাকে তদন্ত থেকে বাইরে রাখার সুস্পষ্ট নিয়ম থাকলেও তা বদলে ফেলা হয়েছে। ফলে পুলিশ অপরাধের সাথে যুক্ত থাকলে পুলিশই তার তদন্ত করবে—এমন বিধান যুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগকারী তার অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হলে উল্টো পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের শাস্তির বিধান রাখায় সাধারণ নাগরিকরা ভীতিতে কোনো প্রতিকারই চাইতে পারবে না।

এটিকে দেশে আবারও গুম-খুনের রাজনীতি কায়েম করার চক্রান্ত আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ কোনো নির্দিষ্ট পরিবারের সম্পত্তি নয়, এ দেশ ২০ কোটি মানুষের। কোনো দল আবারও স্বৈরাচারী মানসিকতা দেখালে ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতা তাদেরও একইভাবে ক্ষমতাচ্যুত করবে। এছাড়া মেয়াদ শেষের আগেই সব উপাচার্য পরিবর্তন এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোক পুনর্বাসনের মাধ্যমে সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছে বলেও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকটের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি জানান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী আবাসিক হলে থাকার সুযোগ পান এবং বাকি ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী আবাসনহীন থাকেন।

অথচ পাবলিক সার্ভিস কমিশন বা অনুৎপাদনশীল খাতে হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাঠামোগত উন্নয়নে নজর নেই। আগামী দুই বছরের মধ্যে রাবি শিক্ষার্থীদের জন্য শতভাগ আবাসন নিশ্চিত করার আইনি ও প্রশাসনিক রূপরেখা ঘোষণার দাবি জানান তিনি। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল, সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ, রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদসহ স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

/আশিক


পালিয়ে গিয়েও সমাজকে অস্থির করার চেষ্টা করছেন হাসিনা: ডা. শফিকুর রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১০ ২১:২৮:৪২
পালিয়ে গিয়েও সমাজকে অস্থির করার চেষ্টা করছেন হাসিনা: ডা. শফিকুর রহমান
ছবি : সংগৃহীত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েও দূর থেকে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশে কোনো অপরাধ না করলে বা সৎ সাহস থাকলে পালিয়ে না গিয়ে মাটি কামড়ে রাজনীতি করা উচিত ছিল। কোনো সৎ মানুষ পালিয়ে যায় না, বরং অপরাধী, চোর ও লুটেরারাই বিচারের ভয়ে দেশ ছাড়ে।

ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে। তিনি এই অভ্যুত্থানে আত্মদানকারী তরুণ নেতৃত্ব, সাধারণ জনগণ এবং সক্রিয় সব রাজনৈতিক দলকে অভিনন্দন জানান। জাতিসংঘের প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি দাবি করেন, সেই গণআন্দোলনে কমপক্ষে ১ হাজার ৪০০ জন শহীদ হয়েছেন এবং প্রায় ২০ হাজার মানুষ আজীবনের জন্য পঙ্গুত্ববরণ করেছেন।

প্রতিবেশী দেশ ভারতের প্রতি ইঙ্গিত করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ঐতিহাসিক অবদানকে অস্বীকার করা যায় না, কিন্তু গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের আশ্রয় দিয়ে সেখান থেকে রাজনৈতিক অপতৎপরতা চালাতে দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক চাইলে তা হতে হবে সমমর্যাদা ও সদিচ্ছার ভিত্তিতে। সীমান্তে ফেলানীর মতো হত্যাকাণ্ড এবং নাগরিকদের নির্বিচারে হত্যা অবিলম্বে বন্ধ হতে হবে। একইসঙ্গে উত্তরবঙ্গের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর করতে অভিন্ন তিস্তা নদীর পানিবণ্টন সমস্যার সম্মানজনক সমাধানের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে কোনো ধরনের একতরফা সম্পর্ক বাংলাদেশ আর মেনে নেবে না।

/আশিক

পাঠকের মতামত: