অপারেশন শরতের তুফান: ৮ বছর পর ট্রাইব্যুনালে উঠে এল কোন চাঞ্চল্যকর তথ্য?

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০২ ১৮:৩২:১৫
অপারেশন শরতের তুফান: ৮ বছর পর ট্রাইব্যুনালে উঠে এল কোন চাঞ্চল্যকর তথ্য?
ছবি : সংগৃহীত

গাজীপুরের পাতারটেকে সাতজনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। রোববার (২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে এই আবেদন পেশ করা হয়। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, যার সাথে যুক্ত ছিলেন একাধিক প্রসিকিউটর।

শুনানিতে প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, সাবেক সরকারের আমলে বিরোধী দল ও ইসলামী মতাদর্শ দমনে বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুমের মতো একটি ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল। কোনো রাজনৈতিক নেতা বা সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা করা নিষিদ্ধ সমতুল্য ছিল এবং বহু মানুষকে গোপন বন্দিশালায় রাখা হতো। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই ধরনের অভিযান ও ক্রসফায়ারের নামে হত্যাকে জাতিসংঘসহ বৈশ্বিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বহুবার মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে চিহ্নিত করেছে বলে ট্রাইব্যুনালকে জানানো হয়।

ঘটনার বিবরণে প্রসিকিউটর তামিম উল্লেখ করেন, ২০১৬ সালের ৮ অক্টোবর গাজীপুরের নোয়াগাঁও পাতারটেক এলাকায় ‘অপারেশন শরতের তুফান’ নামের এক অভিযানে সোয়াত সদস্যরা কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) নেতৃত্বে সাতজনকে গুলি করে হত্যা করে। তাদের বিভিন্ন স্থান থেকে তুলে এনে প্রথমে বগুড়ার একটি গোপন স্থানে রাখা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে জঙ্গি নাটক সাজিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত সাতজনের মধ্যে চারজনের পরিচয় এখনও অজানা হলেও বাকি তিনজন ছিলেন মো. ইবরাহীম, ফরিদুল ইসলাম আকাশ ও সাইফুর রহমান। ২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর ইবরাহীমের বাবা ট্রাইব্যুনালে এ বিষয়ে অভিযোগ করেন। এছাড়া তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হুমকির কারণে নিহতদের স্বজনেরা সেসময় লাশ দাবি করতে সাহস পাননি বলেও শুনানিতে উঠে আসে।

মামলায় অভিযুক্ত অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক, তৎকালীন এসবি প্রধান ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, ডিএমপির তৎকালীন কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া, সিটিটিসির তৎকালীন প্রধান মনিরুল ইসলামসহ পুলিশ ও ডিবি বিভাগের একাধিক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা। আসামিদের মধ্যে শহীদুল হক ও আসাদুজ্জামান মিয়া বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন এবং শুনানির দিন তাদের ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত করা হয়।

অভিযোগ গঠনের শুনানির পাশাপাশি আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আদালত থেকে অব্যাহতির (ডিসচার্জ) আবেদন এবং শুনানির প্রস্তুতির জন্য অতিরিক্ত সময় চান। প্রসিকিউশন থেকে নথিপত্র পেতে দেরি হয়েছে উল্লেখ করে আসামিপক্ষ সময় আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রসিকিউশনের কোনো আপত্তি না থাকায় ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১০ আগস্ট দিন ধার্য করেন। উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি এই ১০ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছিল।

/আশিক


২০৩১ সালের মধ্যে চালু হচ্ছে নতুন ইলেকট্রিক ট্রেন, মেগা বরাদ্দ একনেকে

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৬ ১৯:২১:২১
২০৩১ সালের মধ্যে চালু হচ্ছে নতুন ইলেকট্রিক ট্রেন, মেগা বরাদ্দ একনেকে
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) মোট ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১২টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প অনুমোদন করেছে। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রাজধানীর তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্প এবং ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-জয়দেবপুর রুটে একটি আধুনিক ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর মেগা প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি সরকারের ভবিষ্যৎ যোগাযোগ পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশের সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ঢাকা, এর আশপাশের অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আরও মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে ৩ হাজার ৮২২ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-জয়দেবপুর রুটে ইলেকট্রিক ট্রেন প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে, যা সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩১ সালের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার কথা রয়েছে। ডলারের অবমূল্যায়নের ফলে বিভিন্ন প্রকল্পের মোট ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী সতর্ক করেন যে, দ্রুত এসব প্রকল্পের কাজ শেষ না করা গেলে চলতি সেপ্টেম্বর মাসের পরই জাইকা তাদের ঋণের সুদের হার পরিবর্তন করতে পারে।

একনেক সভায় ইলেকট্রিক ট্রেনের পাশাপাশি একই সঙ্গে তিনটি বৃহৎ মেট্রোরেল প্রকল্পের সংশোধন ও নতুন অনুমোদন দেওয়া হয়, যা বাস্তবায়নে সব মিলিয়ে ব্যয় হবে প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা। প্রকল্পগুলো হলো—এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন রুট, এমআরটি লাইন-১ এবং এমআরটি লাইন-৫ নর্দান রুট। এর মধ্যে জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে চলমান এমআরটি লাইন-১ (বিমানবন্দর-কমলাপুর) এবং এমআরটি লাইন-৫ নর্দান (হেমায়েতপুর-ভাটারা) অংশের সংশোধিত ব্যয় প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। এর পাশাপাশি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ অর্থায়নে গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত নতুন এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন প্রকল্পটিও একনেকের পূর্ণাঙ্গ অনুমোদন লাভ করেছে।

/আশিক


রাজধানীতে আধুনিক যোগাযোগের মহাবিপ্লব, একনেক সভায় বিপুল অর্থ বরাদ্দ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৬ ১৭:৫২:৪৯
রাজধানীতে আধুনিক যোগাযোগের মহাবিপ্লব, একনেক সভায় বিপুল অর্থ বরাদ্দ
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্প এবং বহুল প্রতীক্ষিত ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-জয়দেবপুর রুটের ইলেকট্রিক ট্রেনসহ মোট ১২টি গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। অনুমোদিত এসব উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নির্বাহী কমিটির নিয়মিত সভায় এই বৃহৎ অর্থায়ন ও প্রকল্পগুলোর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রধান আকর্ষণ রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থার খোলস বদলে দেওয়ার মতো তিনটি পৃথক মেট্রোরেল প্রকল্প। এগুলো হলো—এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন রুট, এমআরটি লাইন-১ এবং এমআরটি লাইন-৫ নর্দান রুট। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, দীর্ঘমেয়াদে এই তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্প পুরোপুরি বাস্তবায়নে সব মিলিয়ে ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা।

এর আওতায় জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)-এর অর্থায়নে চলমান এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের আওতাধীন বিমানবন্দর-কমলাপুর অংশ এবং এমআরটি লাইন-৫ নর্দান রুটের হেমায়েতপুর-ভাটারা অংশের সংশোধিত ব্যয় প্রস্তাব আনুষ্ঠানিক অনুমোদন লাভ করেছে। পাশাপাশি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ অর্থায়নে গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত নতুন এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন প্রকল্পটিরও পূর্ণাঙ্গ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ঢাকার চারপাশের শহরতলিকে আধুনিক গণপরিবহন নেটওয়ার্কে যুক্ত করতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-জয়দেবপুর রুটে দ্রুতগতির ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর উচ্চাভিলাষী প্রকল্পটি একনেক বৈঠকে ছাড়পত্র পেয়েছে। ৩ হাজার ৮২২ কোটি টাকা ব্যয়ে গৃহীত এই যুগান্তকারী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২০৩১ সালের মধ্যে উক্ত রুটে সর্বসাধারণের জন্য নিয়মিত ইলেকট্রিক ট্রেন চালু করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

/আশিক


স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তারিখ নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন বার্তা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৫ ২১:৩৫:৪১
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তারিখ নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন বার্তা
ছবি : সংগৃহীত

নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচি কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয় বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আগামী বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সচিবদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিতব্য আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার মতামতের ভিত্তিতে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে জানিয়ে তিনি সবাইকে সেদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করার আহ্বান জানান। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, নির্বাচন কমিশন তাদের সাংবিধানিক ও আইনি এখতিয়ার মেনেই কাজ করে; তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মতো দেশব্যাপী বৃহৎ আয়োজনে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও মাঠপর্যায়ের সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় অপরিহার্য। এর আগে ইসির সম্ভাব্য সূচি ঘোষণা ও তা নিয়ে বিভিন্ন মহলের প্রতিক্রিয়ার প্রেক্ষাপটে মন্ত্রী এই অবস্থান পরিষ্কার করলেন। উল্লেখ্য, আগামী নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন শুরুর প্রাথমিক পরিকল্পনা রয়েছে বলে নির্বাচন কমিশনের সূত্রে জানা গিয়েছিল।

ব্রিফিংয়ের মূল বিষয়বস্তু ছিল ঢাকা মহানগরীতে চলমান মেগা প্রকল্পগুলোর কারণে সৃষ্ট যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক রাখা। এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো নগরবাসীর ভোগান্তি কমিয়ে স্বস্তি নিশ্চিত করা এবং সময় ও অর্থের অপচয় রোধ করা। বিশেষ করে বর্ষাকালে যত্রতত্র রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির ভোগান্তি এড়াতে আন্তঃসংস্থা সমন্বয়ের মাধ্যমে একই সঙ্গে বিভিন্ন ইউটিলিটি স্থানান্তর বা নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মেগা প্রকল্পের কাজগুলোর সঠিক তদারকির সুবিধার্থে এমআরটি, সেতু কর্তৃপক্ষ, সড়ক বিভাগ, সিটি করপোরেশন, ওয়াসা এবং ডেসাসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিটি সংস্থার জন্য পৃথক ‘ফোকাল পয়েন্ট’ কর্মকর্তা নির্ধারণ করা হয়েছে। কাজের অগ্রগতি মূল্যায়নের জন্য প্রতি ১৫ দিন পরপর এই সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হবে এবং প্রয়োজনে সাব-কমিটি গঠন করে সার্বক্ষণিক প্রশাসনিক যোগাযোগ রক্ষা করা হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

/আশিক


গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখা ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়াই প্রধান কাজ:  রাষ্ট্রপতি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৫ ১৯:৪৮:০২
গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখা ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়াই প্রধান কাজ:  রাষ্ট্রপতি
ছবি : সংগৃহীত

বিপুল রক্তপাত ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে ফিরিয়ে আনা গণতান্ত্রিক পরিবেশকে টিকিয়ে রাখা এবং একে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ প্রদান করাই বর্তমান সময়ের প্রধান জাতীয় দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সিলেট সিটি কর্পোরেশন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, এক দীর্ঘ সংগ্রাম ও অগণিত তরুণের চরম আত্মাহুতির পথ বেয়ে কর্তৃত্ববাদী সরকারকে অপসারণ করে দেশে পুনরায় গণতন্ত্রের পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় একটি আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্বভার গ্রহণ করেছে। বিগত সময়ের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া রাষ্ট্রকাঠামোকে অতিদ্রুত পুনর্গঠনের মাধ্যমে সচল করতে বর্তমান প্রশাসন নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

গণতন্ত্রকামী জনগণের ঘুরে দাঁড়ানোর অদম্য ক্ষমতাকে পৌরাণিক ফিনিক্স পাখির সঙ্গে তুলনা করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, যাবতীয় ধ্বংসাবশেষের মধ্য থেকে বারবার মাথা তুলে দাঁড়িয়ে এগিয়ে যাওয়াই বাংলাদেশের মানুষের চিরন্তন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। অর্জিত এই গণতান্ত্রিক ধারাকে স্থায়ী রূপ দিতে জাতীয় সংসদকে প্রাণবন্ত ও কার্যকর রাখা সরকারি ও বিরোধী—উভয় পক্ষেরই প্রধান কর্তব্য। রাজনৈতিক যেকোনো মতপার্থক্য বা বিরোধ রাজপথের বদলে আলোচনার টেবিলে সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

সিলেট অঞ্চলের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত নানা সমস্যা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি আশ্বস্ত করে জানান, বর্তমান মন্ত্রিসভায় অত্যন্ত দক্ষ ও যোগ্য প্রতিনিধিরা দায়িত্ব পালন করছেন এবং সিলেটের সমস্যাগুলো নিরসনে ইতোমধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়েছে। মেগা উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই জনপদের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশা পূরণ হবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। সবশেষে তিনি অতীতের মতোই দেশ পুনর্গঠনের ঐতিহাসিক লড়াইয়ে শামিল হয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বসবাসযোগ্য রাষ্ট্র বিনির্মাণে অর্জিত এই সুযোগকে কোনোভাবেই অবহেলায় নষ্ট না করার জন্য সবার প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

/আশিক


ফজরের পর অল্প লোক নিয়ে ভিডিওর জন্য মিছিল করে নিষিদ্ধ লীগ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৫ ১৯:৪০:৪২
ফজরের পর অল্প লোক নিয়ে ভিডিওর জন্য মিছিল করে নিষিদ্ধ লীগ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ মাঝে মাঝে অপতৎপরতার অংশ হিসেবে ফজরের নামাজের পর সামান্য কিছু লোক জড়ো করে মিছিল করে এবং সেগুলোর ভিডিও তৈরি করে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি সরকারের এই পর্যবেক্ষণের কথা জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত এই দলটির অল্পসংখ্যক লোক নিয়ে ভোরে মিছিল করা এবং তা প্রচারের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে এবং এসব মিছিলের কিছু দৃশ্যমান প্রমাণও দেখা গেছে।

রাজধানীর গুলশানে দলটির সাম্প্রতিক মিছিল প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, দিনের বেলা বেলা ১১টার দিকে জুমার নামাজ আদায়ের কথা বলে কিছু লোক সেখানে জড়ো হয়েছিল; পরবর্তীতে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি জানান, পুলিশের কাছে এ সংক্রান্ত কিছু গোয়েন্দা তথ্য থাকলেও শুক্রবারের সেই সময়টিতে জুমার নামাজের নাম করে তারা এমন অপতৎপরতা চালাতে পারে, তা দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা হয়তো তাৎক্ষণিকভাবে আঁচ করতে পারেনি। তবে একে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যর্থতা হিসেবে দেখার কোনো সুযোগ নেই দাবি করে মন্ত্রী বলেন, ঘটনার পরই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

একই ব্রিফিংয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের রূপরেখা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, নির্বাচন কমিশন তাদের সাংবিধানিক ও আইনি এখতিয়ার মেনেই দায়িত্ব পালন করে, তবে মাঠপর্যায়ের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, নির্বাচন কমিশন যে সম্ভাব্য সময়সূচি প্রকাশ করেছে তা কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর সচিব পর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সামগ্রিক মতামতের ভিত্তিতেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে এবং ততদিন পর্যন্ত সবাইকে অপেক্ষা করার আহ্বান জানান তিনি।

/আশিক


ঢাকার যানজট ও রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কঠোর পদক্ষেপ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৫ ১৯:১৪:৪৪
ঢাকার যানজট ও রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কঠোর পদক্ষেপ
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীতে যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থার কার্যকর শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সব সেবা সংস্থা ও অংশীজনদের নিয়ে প্রতি ১৫ দিন পরপর নিয়মিত সমন্বয় সভা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) আধুনিক ট্রাফিক সংকেত ব্যবস্থা কার্যকর করায় শহরের সড়কগুলোতে দৃশ্যমান শৃঙ্খলা ফিরতে শুরু করেছে এবং নগরবাসী এর ইতিবাচক সুফল ভোগ করছেন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এর পূর্বে তিনি ঢাকা মহানগরীতে চলমান ও প্রস্তাবিত মেগা প্রকল্পসমূহের নির্মাণকাজের জেরে সৃষ্ট যানজট নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় সভায় সভাপতিত্ব করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ঢাকা মহানগরী ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার সব ধরনের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম যেন সমন্বিতভাবে সম্পন্ন হয়, সেই লক্ষ্যেই বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সেবা বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিদের এই সভায় একত্রিত করা হয়েছে। বিশেষ করে এক সংস্থার কাজ শেষ হওয়ার পরপরই অন্য কোনো সংস্থা যাতে একই স্থানে নতুন করে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা হবে। সরকারের মূল লক্ষ্য নগরবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব করা এবং অপ্রয়োজনীয় সময় ও আর্থিক অপচয় রোধ করা। সাধারণত বর্ষা মৌসুমে যত্রতত্র রাস্তা খোঁড়ার যে প্রবণতা দেখা যায়, তা নিরসনে আন্তঃসংস্থা সমন্বয়ের মাধ্যমে একই সময়ে ইউটিলিটি স্থানান্তর বা অন্যান্য ভূগর্ভস্থ কাজ একসঙ্গে শেষ করার সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

মন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে চলমান এমআরটি, সেতু কর্তৃপক্ষ, সড়ক পরিবহন বিভাগ, সিটি করপোরেশন, ওয়াসা এবং ডেসকো-ডেসাসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মেগা প্রকল্পগুলোর তদারকির স্বার্থে নির্দিষ্ট ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা নির্ধারণ করা হয়েছে। পুরো কাজের অগ্রগতি মূল্যায়নের জন্য প্রতি ১৫ দিন অন্তর এই সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হবে এবং প্রয়োজনে সাব-কমিটি গঠন করে সার্বক্ষণিক প্রশাসনিক যোগাযোগ রক্ষা করা হবে।

আধুনিক ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে তিনি জানান, এআই ট্রাফিক সিস্টেম চালুর মাধ্যমে সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিতের পাশাপাশি ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে যেকোনো ইউটিলিটি স্থানান্তরের কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি শহরের অভ্যন্তরীণ সড়কে যানবাহনের চাপ কমাতে গাবতলী, মহাখালী ও ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল রাজধানীর বাইরে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত ধাপে রয়েছে; যার জন্য জমি অধিগ্রহণসহ অন্যান্য অবকাঠামোগত প্রস্তুতি চলমান থাকায় অন্তর্বর্তীকালীন কিছু ট্রাফিক নির্দেশনা জারি রাখা হয়েছে।

রাজধানীর ট্রাফিক বিশৃঙ্খলার জন্য ব্যাটারিচালিত রিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচলকে দায়ী করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধান সড়কে এ ধরনের ধীরগতির যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বিধিবহির্ভূত। তবে চালকদের হঠাৎ করে কর্মহীন না করে ধাপে ধাপে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় এনে এগুলোতে শৃঙ্খলা ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে অবৈধ সংযোগ নিয়ে যেসব অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট গড়ে তোলা হয়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে দেশব্যাপী কঠোর অভিযান পরিচালনা করে বিপুল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এবং এই তৎপরতা নিয়মিত চলবে।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচি সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, কমিশন তাদের সাংবিধানিক এখতিয়ার অনুযায়ী কাজ করলেও এ ধরনের বৃহৎ নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় অপরিহার্য। ফলে ঘোষিত সূচিটি কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয় এবং আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর সচিব পর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্তের পরই এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা পরিষ্কার হবে।

নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক ঝটিকা মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণ প্রসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সাময়িক আতঙ্ক সৃষ্টির লক্ষ্যে এসব নাশকতা চালানো হচ্ছে। গুলশান ও সুপ্রিম কোর্ট সংলগ্ন এলাকায় সংঘটিত অপরাধের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। যেকোনো বিশৃঙ্খলা কঠোর হস্তে দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

/আশিক


শিল্পে গ্যাস সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বড় ঘোষণা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৪ ২১:৩৬:৫৯
শিল্পে গ্যাস সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বড় ঘোষণা
ছবি : সংগৃহীত

শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ আগামীকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা নাগাদ দেড় মাস আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চলমান সংকট নিরসনে সরকারের গৃহীত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের স্বার্থে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমের সর্বাত্মক সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা সামাজিক অস্থিতিশীলতা তৈরি না করে সরকারের বর্তমান মেয়াদে এসব উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্ট গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে আয়োজিত দীর্ঘ তিন ঘণ্টার এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু বৈঠকের বিস্তারিত সাংবাদিকদের জানান। সভায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক একটি বিশদ তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিদ্যমান জটিলতাকে ‘উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সংকট’ হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের এই পুঞ্জীভূত সমস্যা ছয় মাস কিংবা এক বছরে পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সরকার সমস্যাগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খ চিহ্নিত করে বাস্তবমুখী পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে এবং বর্তমানে তা বাস্তবায়নের ধাপে রয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সরকার একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে কাজ করছে, যা কার্যকর হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ও সামগ্রিক অর্থনীতি গতিশীল হবে।

সাম্প্রতিক তীব্র গ্যাস সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি জানান, দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটিতে দুর্ঘটনার কারণে সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছিল, যার প্রভাব শিল্পকারখানাসহ বিভিন্ন খাতে পড়েছে। তবে সেই কারিগরি সমস্যা ইতোমধ্যে সমাধান করা হয়েছে এবং আগামীকাল সন্ধ্যা থেকেই গ্যাস সরবরাহ এক থেকে দেড় মাস আগের ইতিবাচক অবস্থায় ফিরবে। এর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ঘাটতি মেটাতে সরকার জিটুজি ভিত্তিতে গত এক মাসে তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের প্রাথমিক প্রস্তুতি শেষ করেছে, যার কাজ দ্রুত শুরু হয়ে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় সরবরাহ ব্যবস্থায় যুক্ত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ব্যবসায়ী নেতাদের আশ্বস্ত করে তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করেছে এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সামান্য সময় এদিক-সেদিক হলেও লক্ষ্য অর্জনে সরকার অবিচল। ব্যবসা ও শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার চূড়ান্ত নেতিবাচক প্রভাব দেশের অর্থনীতির ওপর পড়ে, তাই এই সমস্যার সমাধান শুধু শিল্পপতিদের নয়, বরং সমগ্র জাতির অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে জড়িত। ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ নিশ্চিত করার বিকল্প নেই।

বর্তমান সংকটের গভীরতা নিয়ে হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার কোনো তথ্য গোপন না করে খোলামেলাভাবে সংকট ও সমাধানের উপায় তুলে ধরছে। পরিকল্পনাগুলো যৌক্তিক মনে হলে দেশকে এগিয়ে নিতে ব্যবসায়ীদের পাশে থাকা উচিত। এ সময় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, জনগণ সময়মতো তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে সরকার নির্বাচন করবে, তবে বিদ্যমান সরকারকে তার মেয়াদে জনকল্যাণমুখী পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের পরিবেশ দেওয়া জরুরি।

গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের মতবিনিময়ে আমন্ত্রণ জানানোর গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও উদ্দেশ্য গণমাধ্যমের সামনে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন, যাতে কোনো ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্যের সুযোগ না থাকে এবং জনগণ সঠিক বার্তা পায়। একটি কার্যকর দল হিসেবে সরকারের প্রতিটি অংশ একযোগে কাজ করছে যাতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফেরে। সভায় সরকারি শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, শিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা মাহদী আমিন, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান, বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ এবং জ্বালানি সচিব মো. জিয়াউল হক।

ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হক, বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ, বিজেএমএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল কামাল, চিটাগাং চেম্বারের সভাপতি আমিরুল হক এবং বাপা সভাপতি মাহবুব আনাম। গণমাধ্যম ও বিশিষ্টজনদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ড. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, ইংরেজি দৈনিক ওয়াদার সম্পাদক শফিকুল আলম, সাংবাদিক আশরাফ কায়সার, মোস্তাফা ফিরোজ, আব্দুন নূর তুষার, আকবর হোসেন, শাহেদ আলম, রেজাউল করিম রনি, আজিজুর রহমান রিপন, তরিকুল ইসলাম সৌরভ এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহরিন ইসলাম খান।

/আশিক


দেশের ভেতরে ৩০০ গ্যাসকূপ খনন ও ৫টি এফএসআরইউ করার পরিকল্পনা সরকারের

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৪ ১৯:৩৯:২৯
দেশের ভেতরে ৩০০ গ্যাসকূপ খনন ও ৫টি এফএসআরইউ করার পরিকল্পনা সরকারের
ছবি : সংগৃহীত

দেশে বিদ্যমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিরসনে সরকারের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

দেশের শীর্ষস্থানীয় ২১টি বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন ও শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাদের পাশাপাশি গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিস্তারিত ব্রিফ করেন মুখপাত্র। তিনি জানান, অতীতে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ) ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীলতা তৈরি হলেও একটি দীর্ঘদিন কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ ছিল। বর্তমান নির্বাচিত সরকার তা কেবল সংস্কারই করছে না, বরং জ্বালানি নিরাপত্তাকে স্থায়ী রূপ দিতে সচল দুটির পাশাপাশি ২০২৮ সালের মধ্যে তৃতীয়টি এবং পরবর্তীতে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে মোট পাঁচটি এফএসআরইউতে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গ্যাস সরবরাহের দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই রূপরেখা তুলে ধরে মুখপাত্র আরও জানান, মধ্যমেয়াদে দেশের ভেতরে প্রায় ১৫০টি নতুন গ্যাসকূপ খননের কাজ চলছে। এই প্রাথমিক ধাপ সমাপ্ত হলে দ্বিতীয় দফায় আরও ১৫০টি কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সরকার শুধু এফএসআরইউ-এর ওপর নির্ভরশীল না থেকে স্থলভিত্তিক বা ল্যান্ড-বেসড এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন এবং জাতীয় গ্যাস পাইপলাইন নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করার বহুমুখী কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে তেল, গ্যাস ও কয়লানির্ভর ব্যবস্থার মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ সমন্বয় আনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতের প্রধান অগ্রাধিকার হবে সৌরবিদ্যুৎ বা নবায়নযোগ্য জ্বালানি। বিদ্যুৎ খাতকে বহুমুখী করার পাশাপাশি সোলার এনার্জিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে জ্বালানি নিরাপত্তার মূল ভিত গড়ে তোলা হবে।

বৈঠকের অভ্যন্তরীণ আলোচনার বরাত দিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, শীর্ষ ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা তাঁদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও সংকটের কথা অত্যন্ত আন্তরিকতা ও খোলামেলাভাবে তুলে ধরেছেন। শিল্পপতি ও উদ্যোক্তাদের আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, সরকার নীতিগত সব সহায়তা নিশ্চিত করবে এবং বেসরকারি খাত এর বাস্তবায়ন করবে, যার মাধ্যমে সরকারি-বেসরকারি যৌথ প্রয়াসে দেশ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে। মুখপাত্র উল্লেখ করেন, বিগত ১৬ বছরের দুঃশাসন, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে সংকট পাহাড়সম রূপ নিলেও সরকারের শতভাগ সদিচ্ছা ও দায়বদ্ধতা রয়েছে। এই ধরনের জটিলতা অল্প সময়ে নিরসন সম্ভব না হলেও প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবমুখী পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি সংকটকে নতুন সম্ভাবনার সুযোগ উল্লেখ করে ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গে যৌথ সংলাপ অব্যাহত রাখতে সরকার নিয়মিত এই ধরনের মতবিনিময় সভা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সরকারি প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন (আশিক চৌধুরী), বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সচিব, পেট্রোবাংলা ও পিডিবির চেয়ারম্যান। এ ছাড়া সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, মো. সুজাউদ্দৌলা ও শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন অংশ নেন।

ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. ফজলুল হক, আইসিসি-বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট মাহবুবুর রহমান, বিসিআই প্রেসিডেন্ট আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী, এমসিসিআই প্রেসিডেন্ট কামরান টি. রহমান, ফিকি-এর সিনিয়র ডিরেক্টর শামস জামান, ডিসিসিআইয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট রাজিব এইচ চৌধুরী, সিসিসিআই প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আমিরুল হক, বিজিএমইএ প্রেসিডেন্ট মাহমুদ হাসান খান, বিকেএমইএ প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেম, বিটিএমএর ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট আবুল কালাম, বিপিজিএমইএ প্রেসিডেন্ট শামীম আহমেদ, ওষুধ শিল্প সমিতির প্রেসিডেন্ট আবদুল মুক্তাদির, বিএপিএ প্রেসিডেন্ট মাহবুব আনাম, বিএসএমএ প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, বিসিএমইএ প্রেসিডেন্ট ময়নুল ইসলাম, বিজিএমএ চেয়ারম্যান মো. আবুল হোসেন, বিটিটিএলএমইএ প্রেসিডেন্ট এম শাহাদাত হোসেন সোহেল, এবিবির চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার, বাংলাদেশ ইনসিওরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট সাঈদ আহমেদ, রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট আলী আফজাল এবং এলএফএমইএবি-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট জাকারিয়া শহীদ।

গণমাধ্যম ও বিশিষ্টজনদের মধ্যে অংশ নেন দৈনিক মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, ড. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, শফিকুল আলম, আশরাফ কায়সার, মোস্তাফা ফিরোজ, আব্দুন নূর তুষার, আকবর হোসেন, শাহেদ আলম, রেজাউল করিম রনি, আজিজুর রহমান রিপন, তরিকুল ইসলাম সৌরভ এবং জাবি শিক্ষক ড. নাহরিন ইসলাম খান।

/আশিক


ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বামী-স্ত্রীর মতো হতে পারে না: স্পিকার

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৪ ১৯:০৪:২০
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বামী-স্ত্রীর মতো হতে পারে না: স্পিকার
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বামী-স্ত্রীর মতো কোনো সম্পর্কে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না, বরং তা হতে হবে সমমর্যাদার ভিত্তিতে—এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। সোমবার সকালে ভোলা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি স্পষ্ট করেন যে, প্রতিবেশীসুলভ সমমর্যাদার ভিত্তিতেই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দুই দেশের সম্পর্ককে যেভাবে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন, বাংলাদেশ আর সেই ধরনের সম্পর্কে বিশ্বাসী নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দ্বিপাক্ষিক টানাপোড়েনের কারণ তুলে ধরে স্পিকার জানান, ব্রিকস জোটের বিষয়ে ভারত এখনো বাংলাদেশ সরকারের কাছে তাদের নীতিগত অবস্থান পরিষ্কার করেনি এবং এ ক্ষেত্রে অপর পক্ষের দিক থেকে কোনো ইতিবাচক মনোভাবও দেখা যাচ্ছে না। এর পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত যথাযথ মর্যাদা দিয়ে আমন্ত্রণ জানায়নি বলেও তিনি অভিযোগ করেন। বিশেষ করে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ভারতে আশ্রয় দেওয়া এবং সেখান থেকে রাজনৈতিক তৎপরতা চালানোর সুযোগ করে দেওয়াকে বাংলাদেশ কোনোভাবেই প্রতিবেশীসুলভ আচরণ বলে মনে করে না। ভবিষ্যতে ভারতের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখার প্রত্যাশা থাকলেও নয়াদিল্লির দিক থেকে সুসম্পর্ক রক্ষার কার্যকর সদিচ্ছার ঘাটতি রয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, একটি সার্বভৌম দেশের সঙ্গে অপর সার্বভৌম দেশের পারস্পরিক সম্মানজনক সম্পর্কই কাম্য।

বিগত সরকারের শাসনকাল নিয়ে কথা বলতে গিয়ে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, টানা প্রায় ১৭ বছর ধরে চলা শাসনামলে দেশের প্রতিটি খাত ও প্রশাসনিক কাঠামোতে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। হত্যা, গুম, দুর্নীতি এবং অর্থ পাচার বিগত সব নজিরকে অতিক্রম করে দেশকে ধ্বংসের কিনারে নিয়ে গেছে, যা থেকে উত্তরণে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হবে।

এদিকে রাষ্ট্র সংস্কার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অগ্রগতির বিষয়ে তিনি জানান, ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং বিদ্যমান আইন-কানুন সংশোধনে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ধারাবাহিক আলোচনা চলছে। তবে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কিছু বিষয়ে দলগুলোর মধ্যে পূর্ণ ঐকমত্য গড়ে না ওঠায় কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছে। সংসদ পরিচালনায় নিজের নিরপেক্ষ ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বিএনপি ও অন্যান্য বিরোধী দল সমঝোতায় পৌঁছালে জনগণ দীর্ঘ সময়ের দুঃশাসন থেকে মুক্তি লাভ করবে। পরবর্তী সংসদ অধিবেশনে সংস্কার প্রস্তাবে বিরোধী দল একমত হলে দ্রুত আইনগত পরিবর্তন নিশ্চিত করা যাবে এবং সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন হলে দেশের নাগরিকরা এর সুফল ভোগ করবেন।

মতবিনিময়কালে জনগণের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনা ছাড়াও স্থানীয় ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে কথা বলেন স্পিকার। পরবর্তীতে ‘আমরা ভোলাবাসী’ সংগঠনের প্রতিনিধিরা সেতুটি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে তার কাছে একটি স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন। এ বিষয়ে স্পিকার জানান, সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা আগেই যাচাই করা হয়েছে এবং পাশাপাশি নতুন মহাসড়কের সম্ভাব্যতাও পরীক্ষা করে দেখা হবে; সার্বিক বিবেচনায় যেটি অধিক উপযোগী প্রমাণিত হবে, সরকার সে অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, জেলা পরিষদ প্রশাসক গোলাম নবী আলমগীর এবং পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছারসহ প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তারা।

/আশিক

পাঠকের মতামত: