মক্কায় ড্রোন হামলার চেষ্টার তীব্র নিন্দা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজের

পাকিস্তান ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৬ ১৮:০৮:১০
মক্কায় ড্রোন হামলার চেষ্টার তীব্র নিন্দা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজের
ছবি : সংগৃহীত

পবিত্র নগরী মক্কায় ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের একটি ড্রোন হামলার চেষ্টা প্রতিহত করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে হুতিদের ছোড়া একটি বিস্ফোরক ড্রোন মক্কার আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই সফলভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। সামরিক জোটের তথ্যমতে, এটি মক্কায় হুতিদের দ্বিতীয়বারের মতো সরাসরি হামলার অপচেষ্টা; এর পূর্বে ২০১৭ সালের ২৭ জুলাই তারা পবিত্র এই নগরী লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল।

মক্কায় ড্রোন হামলার চেষ্টার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এটিকে একটি জঘন্য ও কাপুরুষোচিত পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ভাতৃপ্রতিম সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় পাকিস্তান সর্বদাই তাদের পাশে থাকবে বলে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। তবে সৌদি আরবের এই দাবিকে পুরোপুরি অসত্য ও সাজানো বলে উড়িয়ে দিয়েছে হুতি গোষ্ঠী। হুতিদের পলিটিক্যাল ব্যুরোর সদস্য হিজাম আল-আসাদ দাবি করেন, মক্কায় হামলার অভিযোগটি একটি ডাহা মিথ্যা এবং বিশ্ববাসীকে বিভ্রান্ত করতে অতীতেও এমন ভিত্তিহীন দাবি তোলা হয়েছিল।

২০১৪ সালে গৃহযুদ্ধ শুরুর পর ২০১৫ সালে ইরান-সমর্থিত হুতিরা রাজধানী সানা দখল করলে এবং প্রেসিডেন্ট মনসুর হাদি রিয়াদে আশ্রয় নিলে ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযান শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় একটি আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়, যার ফলে দীর্ঘ চার বছর সেখানে পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত ছিল। তবে গত ১৩ জুলাই সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনি বাহিনীর নতুন করে হামলার পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যকার পুরনো সংঘাত ও উত্তেজনা আবারও চরম আকার ধারণ করেছে।

সূত্র: আলজাজিরা


ইরানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন থেকেই মধ্যপ্রাচ্য সংকটের শুরু:  শাহবাজ শরিফ

পাকিস্তান ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০২ ২০:১৬:০৮
ইরানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন থেকেই মধ্যপ্রাচ্য সংকটের শুরু:  শাহবাজ শরিফ
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে যে তীব্র অস্থিতিশীলতা দেখা দিয়েছে, তা নিরসনের একমাত্র টেকসই উপায় কূটনীতি বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, পাকিস্তান সর্বদা শান্তির পক্ষে অবস্থান নেয় এবং বর্তমান সংকট উত্তরণে গঠনমূলক মধ্যস্থতা ও সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় নিজেদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে ইসলামাবাদ। কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে আয়োজিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সম্মেলনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এসসিও সদস্যরাষ্ট্র ইরান চলতি বছরের শুরুর দিকে সরাসরি হামলার মুখে পড়েছে, যা দেশটির সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এক ভয়াবহ আঞ্চলিক সংকট ডেকে এনেছে। সংঘাতের ফলে আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ নৌ ও পরিবহন পথ বন্ধ বা বিঘ্নিত হওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাকিস্তানসহ বিশ্বের বহু দেশ এর প্রত্যক্ষ নেতিবাচক শিকার হচ্ছে বলে তিনি জানান।

শাহবাজ শরিফ স্পষ্টভাবে জানান, সামরিক সংঘাত নয়, বরং কূটনৈতিক সংলাপই পারে এই গভীর খাদ থেকে উত্তরণ ঘটাতে। পাশাপাশি স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে তা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে। সংকট সমাধানে পাকিস্তান যেকোনো আন্তরিক আলোচনার মধ্যস্থতায় সক্রিয় থাকতে প্রস্তুত।

সম্প্রতি পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে হওয়া বহুল আলোচিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়েও কথা বলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। তিনি আশ্বস্ত করে জানান, এই চুক্তিটি সম্পূর্ণভাবে আত্মরক্ষামূলক এবং এটি কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে গঠন করা হয়নি। কোনো ধরনের সংঘাত উসকে দেওয়া কিংবা নতুন বিভাজন তৈরির কোনো উদ্দেশ্য এতে নেই।

এছাড়া ফিলিস্তিনের গাজা ও পশ্চিম তীরের মানবিক পরিস্থিতির চরম অবনতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন শাহবাজ শরিফ। তিনি অবিলম্বে ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানান। একই সঙ্গে ঐতিহাসিক প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফিলিস্তিনের নির্যাতিত জনগণের পাশে দাঁড়াতে এবং নিজেদের বৈশ্বিক দায়িত্ব পালন করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান তিনি।

/আশিক


ভারতের পূর্ব সীমান্তে ২৫০টি চিনা হাউইটজার মোতায়েন করল পাকিস্তান

পাকিস্তান ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৩ ২০:২২:০৮
ভারতের পূর্ব সীমান্তে ২৫০টি চিনা হাউইটজার মোতায়েন করল পাকিস্তান
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের সীমান্তবর্তী পূর্ব সেক্টরে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে চীনের তৈরি ২৫০টি 'এসএইচ-১৫' ট্রাক-মাউন্টেড সেলফ-প্রপেলড হাউইটজার মোতায়েন করেছে পাকিস্তান। গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে জানা গেছে, ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের পরিচালিত 'অপারেশন সিন্দুর'-এর পর নিজেদের সামরিক অবকাঠামো শক্তিশালী করতে ইসলামাবাদের নেওয়া বড় পদক্ষেপগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।

চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘নরিনকো’ নির্মিত এই ১৫৫ মিলিমিটারের এসএইচ-১৫ হাউইটজারটিতে উন্নত প্রযুক্তি ও দ্রুত অবস্থান পরিবর্তনের সুবিধাসমূহ রয়েছে। ৬×৬ চ্যাসিসের ওপর স্থাপিত এই কামানটিতে ৪০০ হর্সপাওয়ারের ডিজেল ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে। এটি সাধারণ ন্যাটো-সামঞ্জস্যপূর্ণ গোলাবারুদ দিয়ে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত আঘাত হানতে পারে এবং রকেট-অ্যাসিস্টেড প্রজেক্টাইলের সহায়তায় এর সর্বোচ্চ পাল্লা ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছায়। এছাড়া এতে থাকা আধুনিক স্বয়ংক্রিয় ফায়ার-কন্ট্রোল ও হাইড্রোলিক ব্যবস্থার মাধ্যমে খুব কম সময়ে অবস্থান পরিবর্তন করে প্রতি মিনিটে সর্বোচ্চ ছয় রাউন্ড পর্যন্ত গোলা বর্ষণ করা সম্ভব।

সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্তের কাছে ভারী এই কামানের উপস্থিতি বেইজিং ও ইসলামাবাদের মধ্যে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাওয়া দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত ও সামরিক সম্পর্কের স্পষ্ট প্রতিফলন। সম্প্রতি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির দুই দেশের মধ্যকার এই সম্পর্ককে অনন্য উচ্চতার বলে অভিহিত করেছেন। সামরিক আধুনিকায়নের এই ধারায় চলতি বছরে পাকিস্তান নিজেদের প্রতিরক্ষা বাজেট ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি করে ৩ ট্রিলিয়ন পাকিস্তানি রুপিতে উন্নীত করেছে।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস


ইমরান খানকে সরাতে মার্কিন চাপের প্রমাণ দিল ড্রপ সাইট

পাকিস্তান ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৯ ২০:০৮:০২
ইমরান খানকে সরাতে মার্কিন চাপের প্রমাণ দিল ড্রপ সাইট
ছবি : সংগৃহীত

ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করা এবং ‘আগ্রাসী নিরপেক্ষতা’ বজায় রাখার জেরে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ক্ষমতা থেকে সরাতে আমেরিকার সরাসরি চাপ ছিল—এমন এক বিস্ফোরক ও গোপন কূটনৈতিক তারবার্তা (সাইফার) প্রথমবারের মতো হুবহু ফাঁস করেছে মার্কিন অনুসন্ধানী গণমাধ্যম ‘ড্রপ সাইট’।

২০২২ সালের এপ্রিলে পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ইমরান খানকে নাটকীয়ভাবে অপসারণের প্রায় চার বছর পর, গত সোমবার (১৮ মে) ‘ফ্রম মিউচুয়াল সাসপিশন টু পলিটিক্যাল এমব্রেস: হাউ দ্য ইউএস লার্নড টু স্টপ ওয়ারিয়িং অ্যান্ড লাভ পাকিস্তান’ শিরোনামে প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য ও মূল নথির অনুলিপি প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনটিতে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক তৎকালীন মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু এবং ওয়াশিংটনে নিযুক্ত তৎকালীন পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূত আসাদ মজিদ খানের মধ্যকার গোপন ও আনুষ্ঠানিক কথোপকথনের হুবহু বিবরণ (ক্যাবল নম্বর: I-0678) তুলে ধরা হয়েছে, যা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও বৈশ্বিক কূটনীতিতে নতুন করে মেগা ঝড় তুলেছে।

অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানা যায়, ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রুশ বাহিনী যখন ইউক্রেনে প্রবেশ করে, কাকতালীয়ভাবে সেদিনই পূর্বনির্ধারিত দ্বিপক্ষীয় সফরে মস্কোতে অবস্থান করছিলেন ইমরান খান এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে করমর্দনরত তাঁর একটি ছবি বিশ্বজুড়ে ভাইরাল হয়। জো বাইডেন প্রশাসনের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান সফরের আগেই পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মইদ ইউসুফকে ফোন করে এই সফর বাতিলের কড়া তাগিদ দিলেও ইমরান খান তা উপেক্ষা করেন। পরবর্তীতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আনা নিন্দা প্রস্তাবে ভোট দেওয়া থেকে পাকিস্তান বিরত থাকলে ক্ষিপ্ত হন মার্কিন কর্মকর্তারা।

এর জের ধরে ২০২২ সালের ৭ মার্চ ওয়াশিংটনে এক মধ্যাহ্নভোজে পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূত আসাদ মজিদ খানকে সরাসরি হুমকি দিয়ে মার্কিন কূটনীতিক ডোনাল্ড লু বলেন, “ইউক্রেন ইস্যুতে পাকিস্তানের এমন ‘আগ্রাসী নিরপেক্ষ’ অবস্থান বজায় রাখা ওয়াশিংটনের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। তবে যদি প্রধানমন্ত্রীর (ইমরান খান) বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা ভোট সফল হয়, তাহলে ওয়াশিংটনে সব কিছু ক্ষমা করে দেওয়া হবে (‘All will be forgiven in Washington’)।

অন্যথায় পাকিস্তানের জন্য সামনে কঠিন দিন অপেক্ষা করছে।” এই বৈঠকের পর পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূত ইসলামাবাদে পাঠানো গোপন সাইফারে মূল্যায়ন করেছিলেন যে, হোয়াইট হাউসের স্পষ্ট অনুমোদন ছাড়া ডোনাল্ড লু এত বড় ও শক্তিশালী হুমকি দিতে পারতেন না এবং তিনি সরাসরি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অন্যায় হস্তক্ষেপ করেছেন।

এই সাইফার বৈঠকের ঠিক পরের মাসেই (৯ এপ্রিল, ২০২২) দেশটির শক্তিশালী সামরিক এস্টাবলিশমেন্টের প্রচ্ছন্ন সমর্থনে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতা হারান ইমরান খান। ড্রপ সাইটের দাবি, ইমরান খানের পতনের পর তাঁর দল পিটিআই-এর ওপর যে নজিরবিহীন দমনপীড়ন চালানো হয় এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে কারচুপির মাধ্যমে পিটিআই-সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীদের যেভাবে কোণঠাসা করা হয়েছিল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভূ-রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে তখন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তা পুরোপুরি এড়িয়ে যায়। বর্তমানে ইমরান খান ও তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবি দুর্নীতি, রাষ্ট্রদ্রোহ ও সাইফার মামলায় কারাবন্দী থাকলেও, সামরিক বাহিনী সমর্থিত বর্তমান শাহবাজ শরিফ সরকার ওয়াশিংটনকে সন্তুষ্ট করতে পর্দার আড়ালে বড় ধরনের আপস করেছে।

ফাঁস হওয়া অতি গোপন সামরিক নথি থেকে জানা যায়, ইমরান খান যা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় বসেই তৃতীয় দেশের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে গোপনে ইউক্রেনীয় বাহিনীর জন্য বিপুল পরিমাণ কামানের গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ শুরু করে। আর ইউক্রেনকে এই গোপন অস্ত্র সরবরাহের পুরস্কারস্বরূপ পাকিস্তান আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিলিয়ন ডলারের জরুরি বেইলআউট ঋণ পেতে ওয়াশিংটনের পূর্ণ ও একচেটিয়া সমর্থন লাভ করে।

/আশিক


বিশ্বজুড়ে এখন ‘থ্যাংক ইউ পাকিস্তান’! পাল্টে গেল শাহবাজ সরকারের ভাবমূর্তি

পাকিস্তান ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১১ ১৯:২২:০০
বিশ্বজুড়ে এখন ‘থ্যাংক ইউ পাকিস্তান’! পাল্টে গেল শাহবাজ সরকারের ভাবমূর্তি
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ

বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তানের ভাবমূর্তি এখন এক নাটকীয় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশটির প্রতি বিশ্ববাসীর দীর্ঘদিনের নেতিবাচক ধারণা এখন ইতিবাচক মনোভাবে রূপ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ইপসোসের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত মাসের শেষ দিকেও পাকিস্তানের কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিশ্বের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষের মনে নেতিবাচক ধারণা ছিল। তবে গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে চিত্রটি সম্পূর্ণ বদলে গেছে।

বর্তমানে ৭০ শতাংশের বেশি মানুষ পাকিস্তানের বর্তমান কূটনৈতিক ভূমিকার বিষয়ে ইতিবাচক মত দিচ্ছেন। উল্লেখ্য, এর আগে পাকিস্তানের প্রতি সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক মনোভাব ছিল যুক্তরাষ্ট্র, ভারত এবং খোদ পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নাগরিকদের মধ্যে, যারা সরকারের বৈধতা ও রণকৌশল নিয়ে সন্দিহান ছিলেন।

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘থ্যাংক ইউ পাকিস্তান’ হ্যাশট্যাগটি ট্রেন্ডিংয়ে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল এই যুদ্ধবিরতির জন্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের সমন্বিত উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করছে।

এমনকি ভারতের অনেক সাধারণ নাগরিকও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে পাকিস্তানের এই কূটনৈতিক সাফল্যের প্রশংসা করছেন। বিশ্বমঞ্চে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের এই নতুন উত্থান দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র: জিও নিউজ


এবার সংঘাত হবে কলকাতা পর্যন্ত! ভারতকে চরম হুমকি পাকিস্তানের

পাকিস্তান ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৫ ১৩:১১:০৫
এবার সংঘাত হবে কলকাতা পর্যন্ত! ভারতকে চরম হুমকি পাকিস্তানের
ছবি : সংগৃহীত

চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। গতকাল শনিবার (৪ এপ্রিল ২০২৬) শিয়ালকোটে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দিল্লির যেকোনো উস্কানির জবাবে এবার সংঘাত কেবল সীমান্তেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজনে কলকাতাকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।

খাজা আসিফ দাবি করেন, ভারত নিজের নাগরিকদের বা হেফাজতে থাকা পাকিস্তানি কয়েদিদের হত্যা করে জঙ্গি হামলার নাটক সাজিয়ে পাকিস্তানকে দোষারোপ করার চেষ্টা করতে পারে। তবে এই অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, "ভারত যদি এবার কোনো অভিযান চালানোর চেষ্টা করে, তবে সংঘাত ২০০-২৫০ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; ইনশাআল্লাহ আমরা তা কলকাতা পর্যন্ত নিয়ে যাব।" তিনি ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সাম্প্রতিক বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে একে ভারতের 'হতাশার প্রতিফলন' হিসেবে বর্ণনা করেন।

খাজা আসিফের মতে, ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক মর্যাদা ভারতকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি আঞ্চলিক শান্তির কথা বললেও সতর্ক করে দিয়ে বলেন, দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে যুদ্ধ হলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ এবং যেকোনো হঠকারী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের জবাব হবে দ্রুত ও চূড়ান্ত।

সূত্র: দ্য ডন, ইন্ডিয়া টুডে


কাবুলের হাসপাতালে পাকিস্তানের বিমান হামলা! ৪০০ প্রাণহানির দাবি তালেবানের

পাকিস্তান ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৭ ০৯:৫০:১০
কাবুলের হাসপাতালে পাকিস্তানের বিমান হামলা! ৪০০ প্রাণহানির দাবি তালেবানের
ছবি : সংগৃহীত

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে একটি মাদকাসক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাকিস্তানের ভয়াবহ বিমান হামলায় কমপক্ষে ৪০০ জন নিহত এবং ২৫০ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে তালেবান সরকার। সোমবার (১৬ মার্চ) রাত ৯টার দিকে কাবুলের ‘ওমিদ’ নামক ২ হাজার শয্যাবিশিষ্ট একটি নিরাময় কেন্দ্র লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছেন তালেবানের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরত। তাঁর দাবি অনুযায়ী, হামলায় হাসপাতালটির বড় একটি অংশ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং উদ্ধারকাজ এখনও চলমান থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

তবে পাকিস্তান এই অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর’ বলে পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছে। পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দাবি, তারা সোমবার রাতে কাবুল ও নানগারহারে বেসামরিক স্থাপনায় নয়, বরং জঙ্গি আস্তানা ও গোলাবারুদের গুদাম লক্ষ্য করে সুনির্দিষ্ট সামরিক অভিযান চালিয়েছে। তাদের অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তানের নাগরিকদের ওপর হামলাকারী সন্ত্রাসীদের পরিকাঠামো ধ্বংস করা। কোনো হাসপাতাল বা বেসামরিক নাগরিকের ওপর হামলার বিষয়টি তারা সাফ অস্বীকার করেছে।

প্রতিবেশী এই দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত বিরোধ ও সন্ত্রাসবাদ নিয়ে গত মাস থেকেই উত্তেজনা তুঙ্গে ছিল। পাকিস্তান অভিযোগ করে আসছে যে, তালেবান সরকার তাদের দেশে হামলাকারী জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছে। সোমবারের এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও হামলা দুই দেশের মধ্যে নতুন করে যুদ্ধের শঙ্কা জাগিয়ে তুলেছে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় আফগানিস্তানে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ দূত রিচার্ড বেনেট গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে উভয় পক্ষকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

সূত্র : রয়টার্স


জায়নবাদ মানবতার জন্য হুমকি: ইরানের যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া দাবি পাকিস্তানের

পাকিস্তান ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৩ ১৬:৪৭:৪৬
জায়নবাদ মানবতার জন্য হুমকি: ইরানের যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া দাবি পাকিস্তানের
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এক বিস্ফোরক মন্তব্যে বলেছেন যে, জায়নবাদ বা উগ্র ইহুদি জাতীয়তাবাদ মুসলিম বিশ্বে অস্থিতিশীলতার মূল চালিকাশক্তি এবং এটি বর্তমান মানবতার জন্য এক বড় হুমকি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধকে পাকিস্তানের এই মন্ত্রী একটি ‘চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) শেয়ার করা একটি পোস্টে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ইরানের ওপর এই হামলা ও যুদ্ধ পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইসলামি বিশ্বের ওপর যত বিপর্যয় ও যুদ্ধ নেমে এসেছে, তার প্রতিটি ঘটনার পেছনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জায়নবাদী মতাদর্শের হাত রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। একই সঙ্গে তিনি যেকোনো বহিরাগত হুমকির বিরুদ্ধে ঢাল হিসেবে পাকিস্তানের পারমাণবিক সক্ষমতার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

খাজা আসিফ আরও দাবি করেন যে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও বর্তমান এই ভয়াবহ সংঘাত তাদের ওপর জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এদিকে গত শনিবার মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো পাকিস্তানজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ ও সংঘাত শুরু হয়েছে।

আল জাজিরার তথ্যমতে, রোববারের সেই বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে পাকিস্তানজুড়ে অন্তত ২০ জন নিহত এবং আরও কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। এর মধ্যে করাচিতে ১০ জন, স্কার্দুতে ৮ জন এবং রাজধানী ইসলামাবাদে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির বিশাল শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতৃত্বে এই বিক্ষোভ বড় আকার ধারণ করলে নিরাপত্তা বাহিনী টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।

পরবর্তীতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক চাঞ্চল্যকর তথ্যে নিশ্চিত করেছে যে, করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটে বিক্ষোভ চলাকালে মার্কিন মেরিন সেনারা সাধারণ মানুষের ওপর সরাসরি গুলি চালিয়েছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুইজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে মেরিন সেনাদের গুলি চালানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে নিহতরা সরাসরি মেরিন সেনাদের গুলিতেই মারা গেছেন কি না, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।

ওই সময় কনস্যুলেট রক্ষায় নিয়োজিত বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী বা স্থানীয় পুলিশও গুলি চালিয়েছিল কি না, সে বিষয়েও এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ২৫ কোটি জনসংখ্যার সুন্নি প্রধান দেশ পাকিস্তানে শিয়া সম্প্রদায়ের এই বিশাল জনরোষ এবং মার্কিন কনস্যুলেটে সরাসরি গুলির ঘটনাটি দেশটিতে এক চরম অস্থির ও থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।

/আশিক


মার্কিন সেনাদের সরাসরি গুলিতে করাচি রণক্ষেত্র

পাকিস্তান ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৩ ১১:৩৬:২৩
মার্কিন সেনাদের সরাসরি গুলিতে করাচি রণক্ষেত্র
করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটের সামনে বিক্ষোভের দৃশ্য। ছবি: ভিডিও থেকে

পাকিস্তানের করাচিতে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটে বিক্ষোভ প্রদর্শনকালে এক ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে মার্কিন মেরিন সেনারা সাধারণ মানুষের ওপর সরাসরি গুলি চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, করাচিতে পাকিস্তানিদের ওপর মার্কিন মেরিন সেনাদের এই গুলিবর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। মূলত গত শনিবার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই পাকিস্তানজুড়ে চরম উত্তেজনা ও বিক্ষোভ দানা বাঁধে। করাচির মার্কিন কনস্যুলেট এলাকায় কয়েকশ বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে তাণ্ডব চালালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হয়।

এই বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ১০ জন বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুইজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন যে, কনস্যুলেট ভবন ও এর কর্মীদের রক্ষায় সেখানে মোতায়েন থাকা মেরিন সেনারা গুলি চালিয়েছে। তবে মার্কিন মেরিন সেনাদের ছোড়া গুলিতেই কোনো প্রাণহানি ঘটেছে কি না, তা এখনো স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। এছাড়া ওই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে মিশন রক্ষায় নিয়োজিত বেসরকারি নিরাপত্তা রক্ষী বা স্থানীয় পুলিশ সদস্যরাই সরাসরি গুলি চালিয়েছে কি না, সে বিষয়েও রয়টার্স নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেনি। তবে ঘটনার ভয়াবহতা বিবেচনায় নিয়ে করাচি ও এর আশেপাশে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

এই নজিরবিহীন সহিংসতার পর পাকিস্তানে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস বড় ধরণের নিরাপত্তা শঙ্কা প্রকাশ করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং নাগরিকদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে পাকিস্তানে মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে তাদের সব ধরণের ভিসা কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। করাচির এই ঘটনায় পাকিস্তান সরকারের উচ্চ মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে এবং ওয়াশিংটন থেকেও পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। ইরানের নেতার মৃত্যুর প্রতিবাদে করাচির এই বিক্ষোভ এবং তাতে মেরিন সেনাদের গুলি চালানোর ঘটনাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

/আশিক


খামেনিকে হত্যার ঘটনায় পাকিস্তানে মার্কিন কনস্যুলেটে তাণ্ডব

পাকিস্তান ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০১ ১৬:০৬:৪৬
খামেনিকে হত্যার ঘটনায় পাকিস্তানে মার্কিন কনস্যুলেটে তাণ্ডব
মার্কিন কনস্যুলেটে শত শত পাকিস্তানি হামলা চালিয়েছে। ছবি সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে পাকিস্তানের বন্দর নগরী করাচি। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় খামেনির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে রোববার (১ মার্চ) করাচিতে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটে হামলা চালায় শত শত বিক্ষুব্ধ জনতা। বার্তা সংস্থা এপি ও এএফপি জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ভেঙে কনস্যুলেটের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশের সাথে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পুরো এলাকা। ইদি ফাউন্ডেশন রেসকিউ সার্ভিসের মুখপাত্র মুহাম্মদ আমিন নিশ্চিত করেছেন যে, এই সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ২০ জন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীরা পাথর নিক্ষেপ শুরু করলে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে একদল বিক্ষোভকারী কনস্যুলেটের গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং ভবনের জানালা ও দরজার কাচ ভাঙচুর করে। এমনকি ভবনের কিছু অংশে আগুন লাগিয়ে দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। খামেনি হত্যার পর মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে পাকিস্তানেই প্রথম এমন রক্তক্ষয়ী প্রতিবাদ দেখা গেল, যা বিশ্বজুড়ে মার্কিন স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরণের উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এদিকে, ইরানের ‘চূড়ান্ত প্রতিশোধের’ হুমকির প্রেক্ষিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ আরও একটি বিধ্বংসী পোস্ট দিয়েছেন। ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে লিখেছেন, ইরান আজ প্রচণ্ড আঘাত হানার যে পরিকল্পনা করেছে, তা তাদের না করাই ভালো। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি তারা হামলা করে, তবে আমরা তাদের এমন এক শক্তি দিয়ে আঘাত করব যা আগে কখনো দেখা যায়নি!” করাচির এই সহিংসতা আর ট্রাম্পের এই কড়া বার্তার পর পুরো বিশ্ব এখন এক ভয়াবহ সামরিক সংঘাতের আশঙ্কায় দিন গুনছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: