জায়নবাদ মানবতার জন্য হুমকি: ইরানের যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া দাবি পাকিস্তানের

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এক বিস্ফোরক মন্তব্যে বলেছেন যে, জায়নবাদ বা উগ্র ইহুদি জাতীয়তাবাদ মুসলিম বিশ্বে অস্থিতিশীলতার মূল চালিকাশক্তি এবং এটি বর্তমান মানবতার জন্য এক বড় হুমকি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধকে পাকিস্তানের এই মন্ত্রী একটি ‘চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) শেয়ার করা একটি পোস্টে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ইরানের ওপর এই হামলা ও যুদ্ধ পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইসলামি বিশ্বের ওপর যত বিপর্যয় ও যুদ্ধ নেমে এসেছে, তার প্রতিটি ঘটনার পেছনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জায়নবাদী মতাদর্শের হাত রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। একই সঙ্গে তিনি যেকোনো বহিরাগত হুমকির বিরুদ্ধে ঢাল হিসেবে পাকিস্তানের পারমাণবিক সক্ষমতার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
খাজা আসিফ আরও দাবি করেন যে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও বর্তমান এই ভয়াবহ সংঘাত তাদের ওপর জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এদিকে গত শনিবার মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো পাকিস্তানজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ ও সংঘাত শুরু হয়েছে।
আল জাজিরার তথ্যমতে, রোববারের সেই বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে পাকিস্তানজুড়ে অন্তত ২০ জন নিহত এবং আরও কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। এর মধ্যে করাচিতে ১০ জন, স্কার্দুতে ৮ জন এবং রাজধানী ইসলামাবাদে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির বিশাল শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতৃত্বে এই বিক্ষোভ বড় আকার ধারণ করলে নিরাপত্তা বাহিনী টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।
পরবর্তীতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক চাঞ্চল্যকর তথ্যে নিশ্চিত করেছে যে, করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটে বিক্ষোভ চলাকালে মার্কিন মেরিন সেনারা সাধারণ মানুষের ওপর সরাসরি গুলি চালিয়েছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুইজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে মেরিন সেনাদের গুলি চালানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে নিহতরা সরাসরি মেরিন সেনাদের গুলিতেই মারা গেছেন কি না, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।
ওই সময় কনস্যুলেট রক্ষায় নিয়োজিত বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী বা স্থানীয় পুলিশও গুলি চালিয়েছিল কি না, সে বিষয়েও এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ২৫ কোটি জনসংখ্যার সুন্নি প্রধান দেশ পাকিস্তানে শিয়া সম্প্রদায়ের এই বিশাল জনরোষ এবং মার্কিন কনস্যুলেটে সরাসরি গুলির ঘটনাটি দেশটিতে এক চরম অস্থির ও থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।
/আশিক
দ্রুত কমছে যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি তেল মজুত, বৈশ্বিক বাজারে বড় ধাক্কার আশঙ্কা
মধ্যপ্রাচ্যের চরম ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ চড়ার মাঝেই যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি কৌশলগত তেল মজুত (স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ বা এসপিআর) আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে তীব্র উদ্বেগ ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সাফ সতর্কবার্তা দিয়েছেন—বর্তমান বৈশ্বিক সংকট সামাল দিতে জরুরি তেলভান্ডার যেভাবে খালি করা হচ্ছে, তার ফলে অদূর ভবিষ্যতে বিশ্ববাজারে তেলের আকাশচুম্বী দাম এবং তীব্র সরবরাহ সংকট—উভয় ক্ষেত্রেই নজিরবিহীন চাপ তৈরি হবে।
গত ২৮ মে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘সিএনএন’ (CNN)-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই বিস্ফোরক তথ্য সামনে আনা হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের মার্কিন নির্বাচনী প্রচারণার সময় তৎকালীন প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প তীব্র অভিযোগ তুলে বলেছিলেন, জো বাইডেন প্রশাসন কেবল সস্তা রাজনৈতিক সুবিধা ও ভোট ব্যাংক টানতে জাতীয় জরুরি তেলভান্ডার খালি করছে। কিন্তু ক্ষমতার চাকা ঘোরার পর, বর্তমানে ইরানকে ঘিরে সৃষ্ট তীব্র বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মুখে পড়ে খোদ ট্রাম্প প্রশাসনও বাজার স্থিতিশীল রাখতে সেই একই মজুত থেকে রেকর্ড পরিমাণ তেল বাজারে ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে।
সাম্প্রতিক অফিশিয়াল তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকার এই কৌশলগত তেল মজুত (SPR) গত কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি নেমে এসেছে। জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে যে চরম সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে, তা সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্র কার্যত বাধ্য হয়ে তাদের এই লাইফলাইন বা জরুরি ব্যাকআপ ব্যবহার করছে।
বিশ্বখ্যাত জ্বালানি বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ‘কেপলার’ (Kpler)-এর প্রধান তেল বিশ্লেষক ম্যাট স্মিথ এই সংকটের গভীরতা তুলে ধরে বলেন
"এই জরুরি মজুত চিরকাল খালি রাখা যাবে না, একসময় এটি অবশ্যই পুনরায় চড়া মূল্যে কিনে পূরণ করতে হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের কৃত্রিম অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হবে, যা অপরিশোধিত তেলের দামকে বিপজ্জনক মাত্রায় বাড়িয়ে দেবে।"
টেক্সাস ও লুইজিয়ানার ভূগর্ভস্থ লবণ গুহায় সংরক্ষিত ‘এসপিআর’ হলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় জরুরি অপরিশোধিত তেলের ভান্ডার। সাধারণত বৈশ্বিক যুদ্ধ, বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বিশ্ব সরবরাহ চেইনে ধস নামলে এই তেল ছড়া হয়। এর আগে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় যুক্তরাষ্ট্রের এই মজুত ৬৩ কোটি ব্যারেল থেকে কমে একলাফে ৩৫ কোটির নিচে নেমে এসেছিল। আর এবার ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর থেকে মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে এসপিআরের মজুত আরও প্রায় ৫ কোটি ব্যারেল কমে বর্তমানে ৩৬ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেলে এসে ঠেকেছে।
কেপলারের হিসাব অনুযায়ী, এপ্রিল ও মে মাসে মার্কিন মজুত থেকে ছাড়া তেলের প্রায় অর্ধেকই বিদেশে রপ্তানি করা হয়েছে, কারণ মধ্যপ্রাচ্যের তেল বন্ধ হওয়ায় ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলো এখন সম্পূর্ণ মার্কিন তেলের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
সংকট কেবল সরকারি জরুরি মজুতেই সীমাবদ্ধ নেই, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যিক তেলভান্ডারও দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। ওকলাহোমার কুশিং কেন্দ্র—যেখানকার তেলের ওপর ভিত্তি করে আন্তর্জাতিক ‘ডব্লিউটিআই’ (WTI) তেলের মূল্য নির্ধারণ করা হয়, সেখানে গত সাত সপ্তাহে প্রায় ৮৫ লাখ ব্যারেল তেল কমেছে। বর্তমানে কুশিংয়ের মজুত নেমে এসেছে মাত্র ২ কোটি ৪৫ লাখ ব্যারেলে, যা একটি রিফাইনারি হাব সচল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সর্বনিম্ন সীমার কাছাকাছি।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান ‘আরবিসি ক্যাপিটাল মার্কেটস’-এর বৈশ্বিক পণ্যকৌশল বিভাগের প্রধান হেলিমা ক্রফট বলেন, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যাচ্ছে যেখানে সংরক্ষণ ট্যাংকগুলোর তেলের স্তর বিপজ্জনকভাবে নিচে নেমে যেতে পারে। তবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পর্দার আড়ালে কোনো সমঝোতা হলে বাজারে সাময়িক স্বস্তি ফিরতে পারে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিস্থিতি বেগতিক দেখলে হোয়াইট হাউস মার্কিন তেল রপ্তানিতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা বা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে পারে, যা আমেরিকার অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম কমালেও সমগ্র বিশ্ববাজারকে এক ধাক্কায় খাদের কিনারায় এনে দাঁড় করাবে।
/আশিক
যুক্তরাষ্ট্রকে চরম মূল্য দিতে হবে: গালিবাফ
চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন এবং প্রতিশ্রুতি পূরণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চরমভাবে ব্যর্থ হচ্ছে বলে তীব্র ক্ষোভ ও গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। এই চুক্তি লঙ্ঘনের জন্য ওয়াশিংটনকে ভবিষ্যতে ‘চরম মূল্য’ দিতে হবে বলেও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। আজ সোমবার (১ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ইরানি স্পিকার সরাসরি মার্কিন নীতি ও একপেশে পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেন।
স্পিকার গালিবাফ তাঁর পোস্টে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে উল্লেখ করেন—ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অন্যায়ভাবে আরোপিত নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখা এবং লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক বর্বরতা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়াটাই প্রমাণ করে যে, যুক্তরাষ্ট্র আসলে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে। তিনি লিখেছেন:
"নৌ অবরোধ বজায় রাখা এবং লেবাননে গণহত্যাকারী জায়নবাদী শাসনের যুদ্ধাপরাধ বৃদ্ধিই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের সুস্পষ্ট প্রমাণ। প্রতিটি ভুল সিদ্ধান্তের একটি নির্দিষ্ট চড়া মূল্য থাকে এবং তা একসময় পরিশোধ করতেই হয়।"
এভাবে চলতে থাকলে যুক্তরাষ্ট্রকে এর জন্য চরম পরিণতি ভোগ করতে হবে এবং শেষ পর্যন্ত আসল সত্য সবার সামনে স্পষ্ট হয়ে যাবে বলে তিনি সতর্ক করেন। ইরান শুরু থেকেই দাবি করে আসছে, এই যুদ্ধবিরতি দীর্ঘস্থায়ী করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো মুখের কথার বদলে বাস্তবে রূপ দিতে হবে।
এদিকে, আমেরিকার সাথে চলমান পারমাণবিক চুক্তি (Nuclear Deal) ও সার্বিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ইরানের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাই।
এক সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে বাঘাই সাংবাদিকদের জানান, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচির বিস্তারিত বা খুঁটিনাটি কোনো বিষয় নিয়ে ইরানের সরাসরি আলোচনা চলছে না। পারমাণবিক ইস্যুতে ঠিক কখন ও কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে তা ইরানের খুব ভালো করেই জানা আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "এই মুহূর্তে তেহরানের প্রধান ও একমাত্র অগ্রাধিকার হচ্ছে চলমান যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ঘটানো।" বাঘাইও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের একই অভিযোগ এনে দাবি করেন, এমনকি সোমবার সকালেও মার্কিন ও ইসরায়েলি পক্ষ থেকে চুক্তি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে।
/আশিক
হয় শক্তিতে এগোব, নয়তো শহীদ হব: পেজেশকিয়ান
যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিতর্কিত সংবাদমাধ্যম 'ইরান ইন্টারন্যাশনাল'-এর ছড়ানো চাঞ্চল্যকর খবরকে সম্পূর্ণ আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত করে নিজের পদত্যাগের গুঞ্জনকে স্রেফ উড়িয়ে দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। কট্টরপন্থী আইআরজিসি (IRGC)-র সাথে ক্ষমতা ও নীতিগত দ্বন্দ্বে তিনি সর্বোচ্চ নেতার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে যে আন্তর্জাতিক প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হয়েছিল, তার দাঁতভাঙা জবাব দিয়ে পেজেশকিয়ান স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন—যতদিন তাঁর শ্বাস চলবে, ততদিন তিনি জনগণের দেওয়া রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করে যাবেন।
আজ সোমবার (১ জুন) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘প্রেস টিভি’ (Press TV) এক বিশেষ প্রতিবেদনে প্রেসিডেন্টের এই কঠোর অবস্থানের কথা বিশ্ববাসীকে জানিয়েছে।
এর আগে গতকাল রোববার অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করার সময় অত্যন্ত আবেগঘন ও দৃঢ় কণ্ঠে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন,
"যতদিন আমার নিঃশ্বাস চলবে, আমি আমার পথচলা অব্যাহত রাখব। আমরা হয় পূর্ণ শক্তি ও সাহসের সঙ্গে এগিয়ে যাব, নয়তো দেশের জন্য শহীদ হব—উভয় ক্ষেত্রেই এটি আমাদের জন্য অবধারিত বিজয়।"
তিনি আরও যোগ করেন, তাঁর নিজের ব্যক্তিগত জীবন ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা শহীদ আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির (ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি, যাঁর মৃত্যুর পর বর্তমানে মোজতবা খামেনি দায়িত্বে রয়েছেন) পবিত্র জীবনের চেয়ে বেশি মূল্যবান নয়। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও সামরিক সংকট সমাধান করতে হলে এসি রুমে বসে না থেকে সরাসরি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শতভাগ সততার সঙ্গে কাজ করতে হবে বলে তিনি মন্ত্রীদের নির্দেশ দেন।
এদিকে, এই পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমের নোংরা অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইরান সরকারের মূল মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি। তিনি বলেন, "শত্রুভাবাপন্ন ও ইহুদিবাদী এই আন্তর্জাতিক মিডিয়ার দাবি মূলত ইরানের ভেতরে চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করার একটি কুৎসিত অপচেষ্টা মাত্র। যখনই আমাদের জাতীয় ঐক্য আরও মজবুত হয় এবং মার্কিন আগ্রাসনের মুখে দেশের জনগণ সংকটের সময় একত্রিত হয়, তখনই পশ্চিমা মদদপুষ্টরা এমন আজগুবি গুজব ছড়ানোর নোংরা খেলায় মেতে ওঠে।"
মুখপাত্র মোহাজেরানি ক্ষ্লেষ প্রকাশ করে বলেন, "বহু আন্তর্জাতিক হলুদ মিডিয়া এখন বাস্তবতার বদলে নিজেদের কাল্পনিক ইচ্ছাকে ব্রেকিং নিউজ বানিয়ে প্রচার করছে।" তবে তাদের এই দাবির যে কোনো ভিত্তি নেই, তার প্রমাণ হিসেবে তিনি জানান, রোববারের পূর্ণাঙ্গ ও দীর্ঘ মন্ত্রিসভা বৈঠকেও প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান নিজে স্বশরীরে উপস্থিত থেকে সভাপতিত্ব করেছেন এবং সেখানে তিনি জনসেবা, জাতীয় ঐক্য ও দেশের সার্বভৌমত্ব বজায় রেখে নিরলসভাবে কাজ এগিয়ে নেওয়ার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন।
/আশিক
আইআরজিসির সঙ্গে দ্বন্দ্বে পেজেশকিয়ানের পদত্যাগ, সত্য নাকি গুজব?
ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সঙ্গে চরম নীতিগত বিরোধ ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পদত্যাগ করেছেন—এমন একটি চাঞ্চল্যকর আন্তর্জাতিক খবর উড়িয়ে দিয়েছে ইরান সরকার।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম 'ইরান ইন্টারন্যাশনাল' এক বিশেষ প্রতিবেদনে দাবি করেছিল, যুদ্ধকালীন সিদ্ধান্ত গ্রহণে আইআরজিসির অতিরিক্ত ও কট্টরপন্থী প্রভাবের প্রতিবাদে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তাঁর পদত্যাগপত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির কাছে জমা দিয়েছেন। তবে তেহরানের সরকারি সূত্র ও খোদ প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এই দাবিকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন গুজব’ ও মনগড়া বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
আজ সোমবার (১ জুন) আইআরজিসি-ঘনিষ্ঠ শীর্ষস্থানীয় ইরানি সংবাদমাধ্যম ‘তাসনিম নিউজ এজেন্সি’ সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের অবগত সূত্রের বরাত দিয়ে নিশ্চিত করেছে যে, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পদত্যাগ করেননি এবং তিনি স্বাভাবিকভাবেই তাঁর রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করছেন।
এর আগে ইরান ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে তাদের সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করা হয়, সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ে পাঠানো আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্রে পেজেশকিয়ান লিখেছেন—দেশের গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধকালীন ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে আইআরজিসির আধিপত্য এতটাই বেড়েছে যে, নির্বাচিত সরকারকে কার্যত সব প্রক্রিয়া থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হচ্ছে।
এর ফলে সৃষ্ট ক্ষমতার শূন্যতাকে কাজে লাগিয়ে আইআরজিসির কট্টরপন্থী কমান্ডাররা দেশের সবকিছুর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে, যার কারণে তিনি নিজের সাংবিধানিক ও আইনি দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না এবং কার্যকরভাবে সরকার চালাতে ব্যর্থ হচ্ছেন।
তবে এই প্রতিবেদনের তীব্র সমালোচনা করে ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের যোগাযোগ ও তথ্য বিভাগের উপপ্রধান সৈয়দ মেহেদী তাবাতাবাই এক্সে (টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে বলেন, "বিদেশভিত্তিক এই বিতর্কিত সংবাদমাধ্যমের গুজব ছড়ানো আগের মতোই তাদের ভিত্তিহীন প্রচারণার অংশ। তারা বাস্তবতার পরিবর্তে নিজেদের কুৎসিত কল্পনাকে খবর হিসেবে প্রকাশ করেছে।" তাবাতাবাই আরও জোর দিয়ে বলেন, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান জনগণের সেবা করা থেকে এক চুলও সরে দাঁড়াবেন না এবং ইরানের জাতীয় ঐক্য নষ্ট করার এই পশ্চিমা অপচেষ্টা কখনো সফল হবে না।
ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পদত্যাগের গুঞ্জনটি মূলত ইরানের নির্বাচিত সরকার এবং দেশটির সামরিক ও শক্তিশালী নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে গত কয়েক মাস ধরে চলা মনস্তাত্ত্বিক উত্তেজনারই বহিঃপ্রকাশ। এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘নিউইয়র্ক টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনেও দাবি করা হয়েছিল, ইরানের সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত মূলত বর্তমান ও সাবেক উচ্চপদস্থ আইআরজিসি কমান্ডারদের একটি ছোট কিন্তু অত্যন্ত প্রভাবশালী গোষ্ঠী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে, যাদের অনেকেরই সামরিক অভিজ্ঞতা এসেছে ১৯৮০ সালের ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় থেকে। তবে তেহরান প্রশাসনের দাবি, যুদ্ধকালীন সময়ে সরকারের ভেতর ফাটল দেখানোর উদ্দেশ্যেই আন্তর্জাতিক মহল এই কাল্পনিক প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে।
/আশিক
ড্রোনের বদলে ড্রোন আস্তানায় বোমাবর্ষণ: ইরানে আবারও মার্কিন বাহিনীর বিমান হামলা
যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ‘আত্মরক্ষামূলক হামলা’ চালিয়েছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। ইরানের কৌশলগত গোড়ুক শহর এবং কেশম দ্বীপে অবস্থিত রাডার ও ড্রোন স্থাপনাগুলোতে এই বিমান হামলা চালানো হয়েছে।
আজ সোমবার (১ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (পূর্বে টুইটার) দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক পোস্টে সেন্টকম জানায়, আন্তর্জাতিক জলসীমায় মার্কিন বাহিনীর একটি অত্যন্ত মূল্যবান ‘এমকিউ-১’ (MQ-1) ড্রোন ভূপাতিত করার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র এই জরুরি পাল্টা সামরিক অভিযান চালিয়েছে।
মার্কিন সামরিক সংস্থাটি তাদের বিবৃতিতে আরও দাবি করে, সেন্টকমের হামলায় ইরানের শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, একটি ড্রোন গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন এবং দুটি ওয়ান-ওয়ে বা একমুখী আক্রমণাত্মক ড্রোন (Suicide Drones) সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, ধ্বংস হওয়া এই সামরিক সরঞ্জামগুলো আঞ্চলিক জলসীমায় চলাচলকারী বাণিজ্যিক ও সামরিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তার জন্য ‘স্পষ্ট এবং আসন্ন হুমকি’ তৈরি করছিল।
সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক রুটে ইরানের ‘আগ্রাসী পদক্ষেপের’ উপযুক্ত জবাবে এবং নিজেদের আত্মরক্ষার স্বার্থেই এই হামলা পরিচালনা করা হয়। তবে ওয়াশিংটনের এই মেগা বিমান হামলার বিষয়ে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এখনো তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ জানানো হয়নি।
উপসাগরীয় অঞ্চলে দুই দেশের মধ্যে চলমান মুহুর্মুহু পালটাপালটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যেকার উত্তেজনা এখন সরাসরি যুদ্ধাবস্থায় রূপ নিয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সূত্র: আল জাজিরা
সিরিক দ্বীপে মার্কিন হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিমানঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা মিসাইল হামলা
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের সিরিক দ্বীপে একটি যোগাযোগ টাওয়ারে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে চরম যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছে। এই আগ্রাসনের জবাবে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানঘাঁটিতে এক ঘণ্টার মধ্যে বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। আজ সোমবার (১ জুন) ইরানের রাষ্ট্রীয় ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাতে আইআরজিসির মহাকাশ বাহিনী (Aerospace Force) এই হামলার দায় স্বীকার করে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে।
আইআরজিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হরমোজগান প্রদেশের কৌশলগত সিরিক দ্বীপে অবস্থিত ইরানি যোগাযোগ টাওয়ারে মার্কিন বাহিনীর বিমান বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরপরই আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের যোদ্ধারা সক্রিয় হয়। হামলার নিখুঁত উৎসস্থল বা ‘লঞ্চিং প্যাড’ হিসেবে ব্যবহৃত মার্কিন বিমানঘাঁটিকে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে এই পাল্টা আঘাত হানা হয়। বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পরিচালিত এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মার্কিন বিমানঘাঁটির পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুসমূহ সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে।
আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে মার্কিন বাহিনীর এই আক্রমণকে সরাসরি ‘নগ্ন আগ্রাসন’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। তবে প্রথমিক বিবৃতিতে ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ কিংবা আক্রান্ত মার্কিন বিমানঘাঁটিটি ঠিক কোন দেশে বা কোথায় অবস্থিত, সে বিষয়ে নিরাপত্তার স্বার্থে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। একই সাথে তারা সতর্ক করেছে যে, মার্কিন পক্ষ থেকে পুনরায় এ ধরনের দুঃসাহস দেখানো হলে পরবর্তী জবাবের মাত্রা ও ধরন হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন।
এদিকে, ইরানের এই মেগা পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবরের পরপরই পার্শ্ববর্তী দেশ কুয়েতে আকস্মিকভাবে সর্বোচ্চ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (Air Defense) সক্রিয় করা হয়েছে। কুয়েতের সামরিক বাহিনীর জেনারেল স্টাফের বরাতে জানানো হয়েছে, সোমবার ভোরে কুয়েতের আকাশসীমায় ধেয়ে আসা একাধিক শত্রুভাবাপন্ন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত করেছে তাদের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা।
এই সামরিক অভিযানের সময় কুয়েতের রাজধানীসহ দেশজুড়ে আকস্মিক সতর্কতামূলক যুদ্ধ সাইরেন (Air Raid Sirens) বেজে ওঠে এবং নাগরিকদের মোবাইল ফোনে জরুরি সতর্কতা বার্তা পাঠানো হয়। কুয়েতের সেনাবাহিনী সাধারণ জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর এই সরাসরি ও মুখোমুখি সামরিক সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকে এক চরম ও বিপজ্জনক উত্তেজনার দিকে ঠেলে দিয়েছে। প্রক্সি বা ছদ্মযুদ্ধের খোলস ছেড়ে দুই দেশের এই সরাসরি পালটাপালটি সামরিক পদক্ষেপ এশিয়াসহ বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন সংকটের আশঙ্কা তৈরি করছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
উদ্ধারকারীদের ছাড়াই ৭৮ তলা সমান সুড়ঙ্গ পেরিয়ে জীবনজয়ী ৪ খনির শ্রমিকের রূপকথা
লাওসের দুর্গম লং তিয়াং গ্রামের কাছে প্লাবিত গুহার ঘুটঘুটে অন্ধকারে টানা ১১ দিন ক্ষুধার্ত ও দুর্বল শরীরে এক অবর্ণনীয় পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন পাঁচ খনি শ্রমিক। চারদিকে থই থই পানি আর তীব্র শীতের মধ্যে বাঁচার আশা যখন প্রায় শেষ, ঠিক তখনই অলৌকিকভাবে গুহার ভেতরের পানি কিছুটা কমতে শুরু করে। আর তা দেখেই ভেতরে আটকে থাকা চার শ্রমিক নিজেদের অবশিষ্ট শক্তিটুকু এক করে মেতে ওঠেন এক অবিশ্বাস্য জীবনযুদ্ধে।
কোনো উদ্ধারকারীর প্রত্যক্ষ সাহায্য ছাড়াই, সম্পূর্ণ নিজেদের সাহসে ভর করে দীর্ঘ সুড়ঙ্গ পেরিয়ে শনিবার (৩০ মে) যখন তারা হুট করে গুহার মুখে এসে হাজির হন, তখন বাইরে অপেক্ষমাণ আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলও বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যায়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে বেঁচে ফেরা যুবকরা জানিয়েছেন, চরম মৃত্যুকালীন ভয় থেকেই মূলত এই অদম্য সাহসের জন্ম হয়েছিল।
যে অন্ধকার চেম্বারে তারা বন্দি ছিলেন, সেখান থেকে গুহার মুখ পর্যন্ত দূরত্ব প্রায় ২৬০ মিটার, যা একটি ৭৮ তলা ভবনের উচ্চতার সমান। এই পথটুকু মোটেও সহজ ছিল না। কোথাও ছিল বুক সমান বরফশীতল পানি, কোথাও আবার সুড়ঙ্গ এতটাই সরু ছিল যে অক্সিজেনের তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছিল। এর আগের দিন অবশ্য এই দলের প্রথম সদস্যকে আন্তর্জাতিক ডুবুরি দল অত্যাধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে বাইরে নিয়ে আসে। কিন্তু বাকি চারজনকে নিরাপদ সময়ের জন্য ভেতরে অপেক্ষা করতে বলা হয়েছিল।
লং তিয়াং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ২৩ বছর বয়সী মী সিংফামালাই সেই ভয়াল অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, "ভেতরে আমরা চার-পাঁচজন কোনো কম্বল ছাড়াই একে অপরকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে থাকতাম, যা আমাদের শরীর গরম রাখতে সাহায্য করেছিল। ভেতরে প্রচণ্ড ঠান্ডা ছিল এবং পানি যখন কিছুটা কমে আসে, তখন একা থাকার ভয়ে আমরা নিজেরাই হামাগুড়ি দিয়ে বের হওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। অনেক জায়গায় আমাদের ডুব দিতে হয়েছে, আবার কোথাও আক্ষরিক অর্থেই মানুষের শরীরের মাপে তৈরি সরু সুড়ঙ্গ দিয়ে ইঞ্চি ইঞ্চি করে টেনেহিঁচড়ে এগোতে হয়েছে।"
মূলত দারিদ্র্যের তাড়নাতেই ওই খনি প্রকল্পের পাহাড়ের গুহায় সোনার খোঁজে প্রথমবার ঢুকেছিলেন মী এবং তাঁর বন্ধুরা। লাওসের এই প্রত্যন্ত অঞ্চলে জীবনধারণের স্থায়ী উপায় না থাকায় অনেকেই এভাবে পাহাড়ি গুহায় ভাগ্য অন্বেষণে যান। কিন্তু তারা ভেতরে ঢোকার পরপরই গ্রীষ্মকালীন ভারী বর্ষণে জঙ্গল ও গুহা পুরোপুরি প্লাবিত হয়ে যায়। দীর্ঘ ১১ দিন শুধু পানি খেয়ে বেঁচে থাকা মী জানান, মা ও বোনদের মুখ দেখার তীব্র আকুতিই তাঁকে এই নরককুণ্ডে লড়াই করার শক্তি জুগিয়েছে।
বাইরে এসে যখন তিনি মানুষের উল্লাস দেখেন, তাঁর মনে হয়েছিল তিনি এক নতুন জীবন পেয়েছেন। ল্যাম নামের আরেক জীবনজয়ী শ্রমিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, "দারিদ্র্য বড় ভয়ানক জিনিস। আর সেই কারণেই টিকে থাকার জন্য এবং বেঁচে থাকার জন্য আমরা এতটা কঠিন লড়াই করেছি।"
গুহা থেকে বেরিয়ে মীর মুখে প্রথম জুটেছিল গরম জাউ ভাত। এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় তিনি কেবল নরম খাবারই খেতে পারছেন। অন্য দুই শ্রমিক কিছুটা আঘাত পেলেও ওষুধের মাধ্যমে এখন তারা সুস্থতার পথে।
এই চারজন নিজেদের চেষ্টায় অলৌকিকভাবে ফিরে এলেও খনি এলাকায় উদ্ধার অভিযান কিন্তু এখনই শেষ হচ্ছে না। কারণ, এই পাঁচজন ভেতরে ঢোকার আগেই আরও দুজন গ্রামবাসী অন্য একটি পথ দিয়ে ওই গুহাব্যবস্থায় প্রবেশ করেছিলেন, যারা গত ১১ দিন ধরে নিখোঁজ। তাদের সন্ধানে পরিবারের সদস্যরা গুহার বাইরে চাতক পাখির মতো অপেক্ষা করছেন। উদ্ধারকাজে নিয়োজিত অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ ডুবুরি জশ রিচার্ডস জানিয়েছেন, বেঁচে ফেরা শ্রমিকদের দেওয়া মানচিত্র অনুযায়ী গুহার আরও ১০০ মিটার গভীরে একটি বড় ‘এয়ার পকেট’ বা বায়ুস্তর রয়েছে।
সুড়ঙ্গের সেই অংশটি অত্যন্ত সংকীর্ণ ও বিপজ্জনক। যদি নিখোঁজ দুজন বেঁচে থাকেন, তবে কেবল সেখানেই তাদের থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে গত রাতে নতুন করে বৃষ্টি হওয়ায় গুহার পানির স্তর আবারও বেড়ে গেছে, যা উদ্ধারকাজকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। আবার কখনো এই গুহায় ঢুকবেন কি না, জানতে চাইলে মী সিংফামালাই শিউরে উঠে বলেন, "কখনো না। আমাকে যদি কেউ জোর করে আবার ওখানে পাঠাতে চায়, তবে তা আমাকে সরাসরি মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার মতোই হবে।"
সূত্র: সিএনএন
গ্রিনকার্ডের কড়াকড়ি নিয়ম থেকে আংশিক পিছুটান দিল মার্কিন সরকার
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিনকার্ড বা স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়ার নিয়মে বড় ধরনের কড়াকড়ির ঘোষণা দিয়েও তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের মুখে শেষ মুহূর্তে নিজেদের অবস্থান থেকে আংশিক সরে এসেছে দেশটির ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)। গত সপ্তাহে এক বিতর্কিত নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, বিশেষ কিছু ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি ছাড়া স্থায়ী রেসিডেন্সির জন্য আবেদনকারী সমস্ত অভিবাসীকে গ্রিনকার্ড পাওয়ার আগ পর্যন্ত নিজ দেশে ফিরে গিয়ে অপেক্ষা করতে হবে। তবে বিশ্বব্যাপী তীব্র প্রতিক্রিয়া ও প্রতিবাদের মুখে প্রশাসন এখন স্পষ্ট করেছে যে, এটি কোনো ঢালাও নিয়ম নয় এবং সব অভিবাসীকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে না।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, পূর্বের নীতিতে কোনো বড় পরিবর্তন আনা হয়নি। গ্রিনকার্ডের জন্য আবেদনকারীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) কর্মকর্তাদের নিজস্ব বিবেচনার ওপর নির্ভর করবে।
ডিএইচএস-এর এক মুখপাত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আইনি এখতিয়ার আগে থেকেই ছিল, নতুন নির্দেশনায় কেবল সেই বিষয়টিই কর্মকর্তাদের পুনরায় মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে। মূলত যারা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে অবস্থান করছেন কিংবা যেসব দেশের নাগরিকরা বেশি মাত্রায় মার্কিন সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল, তাদের ক্ষেত্রে এই নিয়মটি কঠোরভাবে প্রযোজ্য হতে পারে।
প্রশাসনের এমন আকস্মিক পিছুটানকে একটি ‘আংশিক ইউ-টার্ন’ হিসেবে দেখছেন ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞরা। তবে এই নতুন ব্যাখ্যার পরও সাধারণ অভিবাসী এবং তাদের আইনি আইনজীবীদের মধ্যকার বিভ্রান্তি বা আতঙ্ক পুরোপুরি কাটেনি। কার ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর হবে আর কে ছাড় পাবেন, সে বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো গাইডলাইন প্রকাশ করা হয়নি।
এমনকি নীতিটি প্রথম জনসমক্ষে আসার সময় খোদ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের ভেতরেও এর পরিধি ও প্রয়োগ নিয়ে এক ধরণের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টিকে নীতিগত পরিবর্তন নয়, বরং একটি সাধারণ প্রশাসনিক অভ্যন্তরীণ সমন্বয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ইমিগ্রেশন আইনজীবীরা জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহেই বেশ কিছু গ্রিনকার্ড ইন্টারভিউতে আবেদনকারীদের প্রশ্ন করা হয়েছে যে—কেন তারা নিজ দেশে ফিরে গিয়ে আবেদন করছেন না এবং এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার পেছনে বিশেষ কোনো কারণ আছে কি না। থার্ড ওয়ে নামের একটি সামাজিক নীতি নির্ধারণী সংস্থার প্রধান ও ইউএসসিআইএস-এর সাবেক কর্মকর্তা সারাহ পিয়ার্স বলেন, জনসাধারণের তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে মার্কিন প্রশাসন এখন তাদের তৈরি করা জটলা সামাল দিতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে।
মার্কিন চেম্বার অব কমার্সের মতো বড় বড় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোও এই নীতির তীব্র সমালোচনা করে জানিয়েছে, উচ্চ-দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের জন্য এই নতুন প্রক্রিয়াটি মার্কিন অর্থনীতিকে অত্যন্ত বিঘ্নিত করতে পারে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১৪ লাখ গ্রিনকার্ড দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে প্রায় ৮ লাখ ২০ হাজার আবেদনই মঞ্জুর করা হয়েছে ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, যা আবেদনকারীদের যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থান করেই গ্রিনকার্ড পাওয়ার সুযোগ দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কড়াকড়ির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারত পারিবারিক স্পনসরশিপের আওতায় থাকা অভিবাসী এবং সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি খাতে কর্মরত এইচ-১বি ভিসা ধারী দক্ষ বিদেশি কর্মীদের ওপর। তবে শেষ মুহূর্তে প্রশাসনের এই আংশিক পিছুটান এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিবেচনার ওপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা অভিবাসী মহলে সাময়িক কিছুটা স্বস্তি দিলেও, আইনি অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি।
সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস।
নেতানিয়াহুর পদত্যাগের দাবিতে তেল আবিবে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অবিলম্বে পদত্যাগ এবং দেশে আগাম সাধারণ নির্বাচনের দাবিতে রাজধানী তেল আবিবের রাজপথে নেমে তীব্র বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন হাজার হাজার ইসরায়েলি নাগরিক। গতকাল শনিবার (৩০শে মে) রাতে আয়োজিত এই বিশাল গণ-বিক্ষোভে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী জনস্রোত দেখা গেছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো।
বিক্ষোভে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, যুদ্ধাপরাধ বিরোধী জোট এবং নাগরিক সামাজিক সংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। বিক্ষোভকারীরা নেতানিয়াহু সরকারের যুদ্ধ নীতি এবং অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতার তীব্র সমালোচনা করে স্লোগান দেন এবং অতি দ্রুত নতুন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার দাবি জানান।
মিছিলটি তেল আবিবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহরের প্রাণকেন্দ্র কাপলান স্ট্রিটসহ একাধিক কৌশলগত এলাকায় অবস্থান নেয়। পরে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী থিয়েটার স্কয়ার এবং হাবিমা স্কয়ারে সমবেত হয়ে নেতানিয়াহুর পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল স্লোগান দিতে থাকেন।
একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের একটি বড় অংশ তেল আবিবের অন্যতম প্রধান যোগাযোগ ধমনী ‘আয়ালন মহাসড়ক’ অবরোধ করলে পুলিশ তাদের ওপর চড়াও হয়। রাজপথ থেকে দাঙ্গাকারীদের সরিয়ে দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সাধারণ মানুষের তুমুল ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এই সময় মহাসড়ক অবরুদ্ধ করা এবং পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া একটি বড় অংশের দাবি, ২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবরের হামাস-ইসরায়েল সংঘাতের সূত্রপাত এবং পরবর্তী সময়ে সরকারের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা বিভাগের চরম ব্যর্থতার পেছনে দায়ীদের চিহ্নিত করতে একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করতে হবে। তারা নেতানিয়াহু প্রশাসনের বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারা এবং নিজেদের ব্যর্থতার দায় এড়ানোর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তোলেন।
এদিকে, তেল আবিবের এই অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকটের মধ্যেই ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ-এর মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর নতুন করে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে ইসরায়েল হোম ফ্রন্ট কমান্ড। সংস্থাটি জানিয়েছে, হিজবুল্লাহর লাগাতার রকেট ও ড্রোন হামলার পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকায় আরও কঠোর নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন ফ্রন্টে ইসরায়েলি স্থল বাহিনী ও হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষের তীব্রতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে বলে আন্তর্জাতিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকারী ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে সফল প্রতিরোধ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
পাঠকের মতামত:
- ১০ জন নিয়ে পাকিস্তানকে রুখে দিল বাংলাদেশ
- মায়ামি থেকে ব্যক্তিগত বিমানে কানসাসে মেসি; ফুটবল জাদুকরের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ মিশন শুরু
- মধ্যরাতের মধ্যে ৩ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস
- আসিফ ও হাসনাতকে চিটার-বাটপাড় ও অমানুষ আখ্যা দিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন ফজলুর রহমান
- কালিগঞ্জে বৃদ্ধাকে মারধর ও জমি জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ
- কালিগঞ্জে পৈত্রিক সম্পত্তি ও মৎস্য ঘের দখলে থানায় অভিযোগ
- দ্রুত কমছে যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি তেল মজুত, বৈশ্বিক বাজারে বড় ধাক্কার আশঙ্কা
- সন্ধ্যা ৭টার পর মার্কেট-দোকানপাট বন্ধ, যে ব্যাখ্যা দিল বিদ্যুৎ বিভাগ
- যুক্তরাষ্ট্রকে চরম মূল্য দিতে হবে: গালিবাফ
- বিচারের দীর্ঘসূত্রিতার কারণেই দেশে অপরাধ বাড়ছে: জামায়াত আমির
- হয় শক্তিতে এগোব, নয়তো শহীদ হব: পেজেশকিয়ান
- রাস্তার আন্দোলনে ব্যাংকের সিদ্ধান্ত হবে না: বাংলাদেশ ব্যাংক
- জেলা পরিষদের ১০ কোটি নিয়ে অপপ্রচারের জবাবে যে ব্যাখ্যা দিলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ
- এক নজরে সোমবারের ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ব্লক মার্কেটের শীর্ষ লেনদেনের তালিকা
- ১ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ১ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ইউটিউবে আসছে বড় পরিবর্তন: এআই ভিডিও এখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করবে অ্যালগরিদম
- আমি ধর্ষণ করছি, মারছে ডলার: আদালতে রামিসার খুনির বিস্ফোরক দাবি
- আমার সন্তান হারানোর জন্য বিজয় আন্নাই দায়ী: তামিল অভিনেত্রী জুলি
- আইআরজিসির সঙ্গে দ্বন্দ্বে পেজেশকিয়ানের পদত্যাগ, সত্য নাকি গুজব?
- উন্নয়ন বরাদ্দের টাকায় ৭৭টি আসন কিনেছে জামায়াত-এনসিপি: রাশেদ খান
- ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় অবরুদ্ধ: পুলিশের অ্যাকশনে রণক্ষেত্র মতিঝিল
- ড্রোনের বদলে ড্রোন আস্তানায় বোমাবর্ষণ: ইরানে আবারও মার্কিন বাহিনীর বিমান হামলা
- মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমায় হাটে বিপুল পশু উদ্বৃত্ত, লোকসানের মুখে খামারিরা
- সিরিক দ্বীপে মার্কিন হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিমানঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা মিসাইল হামলা
- ১ জুনের মুদ্রা বাজার: জেনে নিন ডলার, রিয়াল ও রুপির আজকের সর্বশেষ রেট
- ১ জুন ২০২৬: আজ দিনভর কেমন থাকবে রাজধানীসহ দেশের আবহাওয়া?
- আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মূল্যে বিক্রি হচ্ছে সোনা
- ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার ১ জুনের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ
- পল্লবীর শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলা; দুই আসামির চার্জ গঠন শুনানি আজ
- কালিগঞ্জে জমি বিক্রির টাকা আত্মসাত বসতভিটা দখলের চেষ্টা থানায় লিখিত অভিযোগ
- বিশ্বকাপের মহড়ায় আজ রাতে মাঠে নামছে ব্রাজিল: প্রতিপক্ষ পানামা
- কালশী বস্তির আগুনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও নাশকতার শঙ্কা: আসিফ মাহমুদ
- উদ্ধারকারীদের ছাড়াই ৭৮ তলা সমান সুড়ঙ্গ পেরিয়ে জীবনজয়ী ৪ খনির শ্রমিকের রূপকথা
- জিয়াউর রহমান ও বাংলাদেশ অবিচ্ছেদ্য নাম: মির্জা ফখরুল
- পাকিস্তানকে একঘরে করার মোদির ১০ বছরের নীতি ব্যর্থ ও বুমেরাং: আল-জাজিরা
- আবহাওয়ার ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাস: চলতি সপ্তাহে দেশের কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণ
- গ্রিনকার্ডের কড়াকড়ি নিয়ম থেকে আংশিক পিছুটান দিল মার্কিন সরকার
- শহীদ জিয়ার কালজয়ী আদর্শেই সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- আমি কী জিনিস শেখ হাসিনার কাছে জাইনা নিয়েন: শফিকুল ইসলাম মাসুদ
- আসিফ মাহমুদের দুর্নীতির কারণেই আসন ছাড়েননি জামায়াত আমির: রাশেদ খান
- নেতানিয়াহুর পদত্যাগের দাবিতে তেল আবিবে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ
- রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করার দুঃসাহস দেখালে পুরোপুরি নির্মূল করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- আরব সাগরের তীরে ভারতকে হারিয়ে আজও কি উৎসব করবে বাংলাদেশ?
- ট্রাম্পের সামনে ভালো বিকল্প নেই, বেছে নিতে হবে খারাপ বা আরও খারাপ পথ: আইআরজিসি
- আগামীতে জামায়াতে ইসলামীই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসবে: ডা. আবদুল্লাহ তাহের
- দেশে শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপ বৃদ্ধি: ২৪ ঘণ্টায় বড় ধাক্কা স্বাস্থ্য খাতে
- আর্জেন্টিনার প্রস্তুতি ম্যাচের সূচি প্রকাশ: প্রতিপক্ষ হন্ডুরাস ও আইসল্যান্ড
- প্রকল্পের আড়ালে ক্ষমতার প্রভাব? আসিফ-হাসনাতকে নিয়ে নতুন বিতর্ক
- পিএসজি'র চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের আনন্দ ফ্রান্সে রণক্ষেত্র, দেশজুড়ে ৪ শতাধিক গ্রেপ্তার
- বিশ্বকাপের মহড়ায় আজ রাতে মাঠে নামছে ব্রাজিল: প্রতিপক্ষ পানামা
- ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য ২৬ মে ২০২৬-এর নামাজের সময়সূচি প্রকাশ
- কোরবানি হচ্ছে না ভাইরাল মহিষ ডোনাল্ড ট্রাম্প, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে ফিরল খামারে
- ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি
- জলদি জলদি ভাগো, জামাই নাকি! সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর তীব্র কটাক্ষ
- ইউটিউবে বিনামূল্যে দেখা যাবে বিশ্বকাপের ১০৪ ম্যাচ, নেপথ্যে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো
- সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে আজ পবিত্র ঈদুল আজহা: উৎসবের আমেজে কোরবানি ও ঈদ জামাত
- ঈদের দিন কেমন থাকবে আবহাওয়া?
- গরম বনাম ভারী বৃষ্টি: আর কত দিন চলবে আবহাওয়ার এই খামখেয়ালিপনা?
- কাতার সেমিফাইনালের সেই নায়ক এবারও আর্জেন্টিনাকে মেগা আনন্দে ভাসাতে মরিয়া
- ইরান যুদ্ধে মেলেনি সাফল্য: সম্মানজনক বিদায়ের পথ খুঁজছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
- দুপুরের মধ্যে ৫ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত
- শেখ হাসিনার দেশে ফেরার দাবি সস্তা ‘স্ট্যান্ডবাজি’ ছাড়া আর কিছু নয়: রিজভী
- ১ জুন ২০২৬: আজ দিনভর কেমন থাকবে রাজধানীসহ দেশের আবহাওয়া?
- আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যু: তদন্তে ডিএমপির বোম ডিসপোজাল ইউনিট








