আসিফ মাহমুদের দুর্নীতির কারণেই আসন ছাড়েননি জামায়াত আমির: রাশেদ খান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ৩১ ২০:০০:৩৯
আসিফ মাহমুদের দুর্নীতির কারণেই আসন ছাড়েননি জামায়াত আমির: রাশেদ খান
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খান। তাঁর দাবি, এনসিপি নেতা ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের দুর্নীতির কারণেই স্বয়ং জামায়াতে ইসলামীর আমির ঢাকা-১০ আসন ছাড়েননি। আজ রবিবার (৩১ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন।

ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান বলেন, সাংবাদিকরা যদি কখনো জামায়াত আমিরকে জিজ্ঞেস করেন, তাহলেই এই গোপন বিষয়ের আসল উত্তর পেয়ে যাবেন। জামায়াত আমির যদি প্রকৃত ইমানদার হন, তবে হয় তিনি বিষয়টি সম্পূর্ণ এড়িয়ে যাবেন কিংবা কোনো উত্তর দেবেন না। আসিফ মাহমুদের এই দুর্নীতির বিষয়টি এনসিপির নীতিনির্ধারণী মহলের সবাই খুব ভালো করেই জানে।

বিএনপির এই নেতা আরও উল্লেখ করেন, কৌশলগত বা রাজনৈতিক কারণে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের আরেক শীর্ষ নেতা নাহিদ ইসলাম এই তথ্য অস্বীকার করতে পারেন। কিন্তু এটা শতভাগ সত্য এবং এতে বিন্দু পরিমাণ কোনো ভেজাল নেই। আমি একটি বিশেষ সূত্র বা ক্লু ধরে আসিফ মাহমুদ এবং তাঁর এপিএস (APS) মোয়াজ্জেমের এই সুনির্দিষ্ট দুর্নীতির তথ্য পেয়েছিলাম। এই সংবেদনশীল বিষয়টি নিয়ে আমি সরকারের আরেকজন উপদেষ্টার সঙ্গেও ব্যক্তিগতভাবে আলোচনা করেছিলাম; তিনিও পুরো ঘটনাটি শুনে চরম অবাক হয়েছিলেন।

শুধু আসিফ মাহমুদই নন, অন্যান্য শীর্ষ তরুণ নেতাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগের আঙুল তুলে রাশেদ খাঁন বলেন, বহুল আলোচিত ডিসি কেলেঙ্কারির তথ্যও মোটেও অসত্য নয় এবং হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলম সরাসরি এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এই গোপন তথ্যটি আমি কিছু ক্লুসহ খোদ তাদেরই অত্যন্ত বিশ্বস্ত মানুষদের কাছ থেকে পেয়েছিলাম।

এমনকি এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সবসময় বলতো—আওয়ামী লীগের সম্পদ দখল এবং বিপুল টাকা-পয়সা ছাড়া আগামী দিনে কোনো রাজনীতি করা সম্ভব হবে না। নাহিদ ইসলামের মন্ত্রী পাড়ার সরকারি বাসভবনে বসে যখনই কোনো রাজনৈতিক আলোচনা হতো, তখন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মুখ থেকে সবসময় এই টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেওয়ার আলাপটাই সামনে আসত।

প্রশাসনিক দুর্নীতির উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, বর্তমান প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ মূলত এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সরাসরি পরামর্শ ও সুপারিশেই এই গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগটি পেয়েছেন। কারণ তিনি আগে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে জাতীয় নাগরিক কমিটিতে কাজ করতেন। ফলে মোহাম্মদ এজাজের মাধ্যমে অর্জিত অবৈধ টাকা-পয়সা সরাসরি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও এনসিপির দলীয় তহবিলে যায়। এটা এখন রাজনৈতিক মহলে ওপেন সিক্রেট যে, এনসিপির শীর্ষ এক ডজন নেতা বর্তমানে দেশজুড়ে ব্যাপক দুর্নীতির সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত।

সারজিস আলমের একটি পুরোনো প্রসঙ্গের অবতারণা করে রাশেদ খাঁন বলেন, দেশবাসী নিশ্চয়ই ভুলে যাননি, সারজিসের কাছে এক ভুক্তভোগী নারীর ৭ লাখ টাকা দেওয়ার সেই ভিডিওর কথা। বিভিন্ন দপ্তরে কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ওই নারীর কাছ থেকে ধাপে ধাপে মোট ৪৮ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।

পোস্টের একদম শেষাংশে এনসিপির চরম সমালোচনা করে বিএনপি নেতা রাশেদ বলেন, জুলাই বিপ্লবের শহীদ ওসমান হাদি মৃত্যুর আগে এনসিপির প্রধান ৩টি বড় অপরাধ চিহ্নিত করে গিয়েছিলেন, যার মধ্যে অন্যতম শীর্ষ অপরাধ হলো এনসিপি সুনির্দিষ্টভাবে দুর্নীতি করেছে। শহীদ ওসমান হাদি নিশ্চয়ই মিথ্যা বলে যাননি? যদি তিনি মিথ্যা বলে থাকেন, তবে এনসিপি সাহস করে প্রকাশ্যে বলুক যে শহীদ ওসমান হাদি মৃত্যুর আগে এনসিপি সম্পর্কে বিষোদগার বা অপপ্রচার করে গেছেন।

/আশিক


সংসদকে মজলুমের মিলনমেলা বানাতে হবে: ড. শফিকুর রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৫ ১৯:৩৫:৫৫
সংসদকে মজলুমের মিলনমেলা বানাতে হবে: ড. শফিকুর রহমান
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় সংসদকে দেশের মজলুম ও অধিকারবঞ্চিত সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার এক অনন্য ‘মিলনমেলা’ হিসেবে গড়ে তোলার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় বা বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি সংসদকে জনগণের হতাশা দূর ও রাষ্ট্রের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনার প্রধান চাবিকাঠি হিসেবে বর্ণনা করেন। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে বিরোধীদলীয় নেতা রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধ, সুষম উন্নয়ন, সংসদের কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং একটি দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সরকারের নীতিগত ও কার্যকর উদ্যোগ দাবি করেন।

সংসদের মর্যাদা ও গুরুত্ব তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই সংসদটি অত্যন্ত ব্যতিক্রমী এবং আমরা এটিকে মজলুমের মিলনমেলা বলে বিশ্বাস করি। সংসদের কার্যক্রম যত বেশি সুন্দর, কার্যকর ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে চলবে, দেশের মানুষের মন থেকে হতাশা তত দ্রুত দূর হবে, তাদের আস্থা ও ভরসা বৃদ্ধি পাবে এবং তারা দেশ গড়ার মহৎ কাজে অনুপ্রাণিত হবে। এ সময় তিনি স্পিকারের অভিভাবকত্বকে আরও বলিষ্ঠ করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি ও নীতিমালার পরিপালন নিশ্চিত করতে স্পিকারকে একজন ‘বলিষ্ঠ কমান্ডারের’ ভূমিকা পালন করতে হবে।

বাজেট ও গুরুত্বপূর্ণ বিল পাশের প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সম্প্রতি একটি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ বিল সংসদে পাস হয়েছে, যা দেশের বেকারত্ব দূরীকরণে ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে জরুরি ছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, বিলটির ওপর বিস্তারিত আলোচনা ও অংশ নেওয়ার সুনির্দিষ্ট সুযোগ থেকে বিরোধী দলকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতিবন্ধকতা বহাল রাখলে সংসদে বসা এবং জনগণের অর্থ ও সময়ের অপচয় ছাড়া আর কোনো লাভ হবে না। তিনি বিরোধী দলের সদস্যদের যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানান।

সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক বিপর্যয় নিয়ে গভীর দুঃখ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যায়, ভূমিধসে ও পানিতে ডুবে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। এবারের বন্যায় চারটি বিভাগ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও চট্টগ্রামের ক্ষয়ক্ষতি ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ। তিনি নিহতদের পরিবারকে বিশেষ আর্থিক প্রণৌদনা দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর সরাসরি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। অর্থমন্ত্রী চট্টগ্রামের সন্তান হিসেবে এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অতিরিক্ত দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

রাজধানী ঢাকার নাজুক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ও কৃত্রিম জলাবদ্ধতা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, একটু বৃষ্টি হলেই ঢাকা শহর ময়লা ও ড্রেনের পানিতে ভেসে যায়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ময়লা পানি অনেক সময় সুপেয় পানির লাইনের সঙ্গে মিশে পানি দূষিত করছে। ঢাকাকে দেশের ‘চেহারা’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, বিদেশী অতিথিরা যখন বাংলাদেশে আসেন, তখন ঢাকা দেখেই তারা পুরো দেশ সম্পর্কে একটি প্রাথমিক ধারণা পান। তাই ঢাকাকে তিলোত্তমা ও দৃষ্টিনন্দন করতে বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখা এবং একটি সুনির্দিষ্ট ও সমন্বিত মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির উদ্যোগকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি প্রাথমিক ও উচ্চশিক্ষার ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, প্রাথমিক স্তরে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এটি সব ধর্মের শিক্ষার্থীদের জন্যই প্রযোজ্য, কারণ ধর্ম মানুষকে শালীনতা, দেশপ্রেম ও সৎ হতে শেখায়। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করা এবং অবহেলিত স্বতন্ত্র মাদ্রাসাসমূহের উন্নয়নে বিশেষ নজর দেওয়ার তাগিদ দেন তিনি। একই সঙ্গে রাজনৈতিক বিবেচনায় অযোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে এসে সঠিক যোগ্যতার ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই করার অনুরোধ জানান।

উন্নয়ন বরাদ্দের ক্ষেত্রে সুষম বণ্টনের দাবি জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা অভিযোগ করেন, সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন ও আর্থিক পদক্ষেপে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি ইনসাফ করা হয়নি। সংরক্ষিত আসনের সরকারি দলের সদস্যদের বড় অংকের ফান্ড বা বরাদ্দ দেওয়া হলেও বিরোধী দলের কাউকে তা দেওয়া হয়নি। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, বিএনপির ৩১ দফা এবং নির্বাচনী ইশতেহারে সুষম উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি রয়েছে; আমরা সেই সুষম বণ্টনটাই প্রত্যাশা করি। রাজনৈতিক বৈষম্যের কারণে যেন সাধারণ জনগণ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়টি তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনেন।

সরকারি অর্থ অপচয় এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নিজেদের নামফলক বসানোর প্রাচীন কালচার নিয়ে কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকারি টাকায় কোনো ব্যক্তি বা রাজনীতিকের নামে স্থাপনার নামফলক বসানোর সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া উচিত। সরকারের পট পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শত শত কোটি টাকার সরকারি সম্পদ নষ্ট করে নামফলক পরিবর্তনের এই অপরাজনীতি দেশের জন্য চরম ক্ষতি ডেকে আনে। কারো যদি নিজের নামের মোহ থাকে, তবে তিনি নিজের টাকা ও জমিতে জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে নাম দিতে পারেন, তাতে কারও আপত্তি থাকবে না। কিন্তু জনগণের টাকায় কোনো আত্মপ্রচার গ্রহণযোগ্য নয়।

দেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা ‘দুর্নীতি’ নিয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ার দাবি জানান ড. শফিকুর রহমান। বর্তমান অর্থমন্ত্রীর পূর্ববর্তী সফল কর্মযজ্ঞের প্রশংসা করে তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী একজন গতিশীল মানুষ এবং তিনি চাইলে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পারবেন। তবে এর জন্য দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলতে হবে। প্রধানমন্ত্রী যেখানে বলেছেন দুর্নীতির টুটি চেপে ধরবেন, সেখানে ড. শফিকুর রহমান পরামর্শ দেন, আপাতত দুর্নীতির হাত চেপে ধরুন এবং হাতকড়া পরিয়ে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করুন, যাতে আর কেউ জনসম্পদ লুটের সাহস না পায়।

জুলাই বিপ্লব ও ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় প্রধানমন্ত্রীকে অগ্রিম ধন্যবাদ জানান তিনি। একইসঙ্গে সংসদ সচিবালয়ের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের স্বীকৃতিস্বরূপ নিয়মিত রেওয়াজ অনুযায়ী এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ বিশেষ ইনসেন্টিভ বা বোনাস প্রদানের জোর দাবি জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা তাঁর বক্তব্যের সমাপ্তি টানেন।

/আশিক


সংবিধান সংশোধনে ব্যস্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নে তৎপরতা নেই: নাহিদ ইসলাম

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৪ ২১:৫৯:৫৮
সংবিধান সংশোধনে ব্যস্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নে তৎপরতা নেই: নাহিদ ইসলাম
ছবি : সংগৃহীত

দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন না হওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেন, সংবিধান সংশোধনের মতো রাজনৈতিক বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ অত্যন্ত সক্রিয় থাকলেও, সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নে তাঁর কোনো কার্যকর তৎপরতা বা দৃশ্যমান পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে অবস্থিত ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এনসিপি আয়োজিত ‘জুলাই নারী সমাবেশে’ প্রধান অতিথির বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি সরকারের এই দুর্বলতা তুলে ধরেন।

নাহিদ ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে একটি নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নিলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে—এমনটাই প্রত্যাশা ছিল সাধারণ মানুষের। কিন্তু বাস্তবে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ অন্যান্য নানান কাজে এবং বিশেষ করে সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে অতিরিক্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন, যার ফলে দেশের ভেতরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আশানুরূপ উন্নয়ন ঘটছে না।

ঐতিহাসিক জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে বিরোধীদলীয় হুইপ বলেন, ১৪ জুলাই ছিল আন্দোলনের ইতিহাসে অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। সেই সময় রাজপথে নারীদের অভূতপূর্ব ও সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণেই পরবর্তী দিনগুলোতে স্বৈরাচারী শক্তির পক্ষ থেকে আন্দোলনরত নারীদের লক্ষ্য করে বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছিল, যা আন্তর্জাতিক মহলেও ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।

নারী অধিকার ও স্পেস নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, গণঅভ্যুত্থানে নারীদের অসামান্য অবদান ও আত্মত্যাগের কথা আমরা সবসময় স্মরণ করি। সরকারি চাকরিতে প্রচলিত নারী কোটার বৈষম্যের বিরুদ্ধে গিয়ে একটি যৌক্তিক কোটা সংস্কারের দাবিতে ছাত্র-জনতা তথা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই রাজপথে নেমে এসেছিল। নারীরা এই আন্দোলনের অগ্রভাগে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিল বলেই স্বৈরাচারের পেটুয়া বাহিনী তাদের ওপর পরিকল্পিতভাবে নির্যাতন চালায়।

তবে অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো, আন্দোলন সফল হওয়ার পরবর্তী সময়ে আমরা রাষ্ট্র ও সমাজে নারীদের জন্য সেই কাঙ্ক্ষিত কাজের পরিবেশ বা স্পেস তৈরি করে দিতে পারিনি। তা সত্ত্বেও নারীরা এখনো আমাদের সামগ্রিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। নারী শক্তির প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নারীদের রাজনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। বিশেষ করে দেশের প্রান্তিক অঞ্চলের নারীদের বিভিন্ন মৌলিক দাবি বাস্তবায়নে রাষ্ট্রকে আরও কার্যকর ও টেকসই উদ্যোগ নিতে হবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া নিয়েও নাহিদ ইসলাম তাঁর বক্তব্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোকপাত করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) মূল ভবন থেকে সরিয়ে নেওয়ার যে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা জনমনে নানামুখী প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এ ছাড়া সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর আদালতে ১০ বছরের কারাদণ্ড হওয়ার বিষয়টি নিয়েও তিনি পথসভায় মন্তব্য করেন।

/আশিক


শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য অনাকাঙ্ক্ষিত, প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৪ ১৯:৫৩:১২
শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য অনাকাঙ্ক্ষিত, প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর
ছবি : সংগৃহীত

চলমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করে শিক্ষামন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্য এবং বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম। এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের দেওয়া বক্তব্যকে অনাকাঙ্ক্ষিত আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে তাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার সি-এ অফিস বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এনসিপি আয়োজিত ‘জুলাই পথসভা’য় তিনি এই দাবি তোলেন।

পথসভায় দেওয়া বক্তব্যে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বিএনপির রাজনৈতিক ভূমিকারও সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, দলটির বর্তমান নেতাকর্মীরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মূল আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে ভারতের সাথে রাজনৈতিক সমন্বয় করে চলছেন।

বিগত শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বগুড়া অঞ্চলে সংঘটিত সকল গুম ও হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করার পাশাপাশি তিনি ওসমান হাদি হত্যারও দ্রুত বিচার নিশ্চিতের তাগিদ দেন। একই সাথে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিএনপি জনগণের সাথে প্রতারণা করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। আওয়ামী লীগের বিচার প্রক্রিয়াকে কোনোভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করা হলে সে বিষয়ে এনসিপি কোনো ধরনের আপস করবে না বলেও স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

সমাবেশে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলমও বক্তব্য রাখেন। দেশের বর্তমান সংবাদমাধ্যমের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিএনপির প্রভাব মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এই সুযোগে গণমাধ্যমগুলোকে ব্যবহার করে পরোক্ষভাবে আওয়ামী লীগের পক্ষে একটি রাজনৈতিক বয়ান বা ন্যারেটিভ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

সারজিস আলম আরও উল্লেখ করেন যে, যথাযথ সংস্কার কিংবা গণভোটের ম্যান্ডেট ছাড়া কোনো সরকারের পক্ষেই পূর্ণ বৈধতা পাওয়া সম্ভব নয়। এই প্রসঙ্গে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সমালোচনা করার পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের প্রেক্ষাপটও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে। রাষ্ট্র পরিচালনায় পুলিশ ও সাধারণ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব বরদাশত করা উচিত নয়। সভায় এনসিপির স্থানীয় বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


লক্ষণ খুব ভালো নয়, অপরাধীদের শাস্তি নিয়ে সংশয় প্রকাশ জামায়াত আমিরের

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৪ ১৮:৩২:৩৭
লক্ষণ খুব ভালো নয়, অপরাধীদের শাস্তি নিয়ে সংশয় প্রকাশ জামায়াত আমিরের
ছবি : সংগৃহীত

দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকার দেশের সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষকে এখন নিজেদের সুরক্ষার উপায় নিয়ে নিজেদেরই ভাবতে হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে চট্টগ্রাম নগরীতে এক ইন্টারনেট ব্যবসায়ীর প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই হামলার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, তা অবিলম্বে জনসমক্ষে প্রকাশ করা উচিত। একই সাথে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য তিনি প্রশাসনের প্রতি জোর আহ্বান জানান।

তবে অপরাধীদের বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হবে কি না, তা নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করে জামায়াতের আমির তাঁর পোস্টে লিখেছেন, ‘লক্ষণ খুব ভালো নয়।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওই পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, সরকার জনগণের কার্যকর নিরাপত্তা দিতে পারছে না। ফলে সাধারণ জনগণকে এখন নিজেদের আত্মরক্ষার স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা বেছে নিতে হচ্ছে। দেশে একের পর এক নতুন ধরনের অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

চট্টগ্রামের ওই হামলার ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ফেসবুক পোস্টের শেষদিকে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘এদের খুঁটির জোর কোথায়?’

/আশিক


বন্যায় মানুষ মরছে, আর প্রধানমন্ত্রী বরিশালে সফর করছেন: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৩ ২১:৫১:১১
বন্যায় মানুষ মরছে, আর প্রধানমন্ত্রী বরিশালে সফর করছেন: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
সোমবার সন্ধ্যায় নওগাঁর বদলগাছী ডাক বাংলো মোড়ে এক পদযাত্রা কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ছবি-সমকাল

দেশের চলমান বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যায় গৃহপালিত পশু ডুবে যাচ্ছে এবং মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে, অথচ প্রধানমন্ত্রী দুর্গত এলাকায় না গিয়ে বরিশালে সফর করছেন। এর আগের দিন তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে সেলফি তুলেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ সংস্কার বাস্তবায়ন, অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করা, আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বাহিনীকে শায়েস্তা করা এবং বন্যা কবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্যই সরকারকে ম্যান্ডেট দিয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যায় নওগাঁর বদলগাছী ডাক বাংলো মোড়ে এনসিপি আয়োজিত ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী চলমান এইচএসসি পরীক্ষার দুর্ভোগ তুলে ধরে বলেন, দেশের পরীক্ষার্থীরা সাঁতার কেটে কিংবা হাঁটু পানি ভেঙে কেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে। মা-বাবারা সন্তানদের নিয়ে যাতায়াতের সময় নোংরা পানি ও রাস্তার গর্তে পড়ছেন। শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, মন্ত্রীরা এসি রুমে বসে না থেকে যদি মাঠপর্যায়ে গিয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য নৌকা বা বিকল্প যাতায়াতের ব্যবস্থা করতেন কিংবা বন্যা কবলিত কেন্দ্রগুলো অন্য কোথাও স্থানান্তরের উদ্যোগ নিতেন, তবে পরীক্ষার্থীরা এই চরম ভোগান্তি থেকে রক্ষা পেত। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত বা পিছিয়ে দিলে কোনো ক্ষতি হতো না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও দাবি করেন, দেশের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুরোপুরি পুনর্গঠন করতে হলে বিশৃঙ্খল শক্তির হাত থেকে সমাজকে মুক্ত করতে হবে। এর পরিবর্তে সমাজের সবচেয়ে যোগ্য, সজ্জন এবং তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিদের হাতে দেশের দায়িত্ব তুলে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এনসিপির নওগাঁ জেলা কমিটির আহ্বায়ক মাহফুজার রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই পদযাত্রা সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, যুগ্ম সদস্য সচিব এস এম সাইফ মোস্তাফিজ এবং রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

/আশিক


বন্যা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৩ ১০:৫৪:২৬
বন্যা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দেশের চলমান বন্যা পরিস্থিতি, রাষ্ট্রীয় সংস্কার, বিচার প্রক্রিয়া এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয়ে সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত হলেও সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় তৎপরতা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে।

রোববার (১২ জুলাই) সন্ধ্যায় নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে জুলাই পথসভা শেষে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় সমর্থকদের উপস্থিতিতে বিভিন্ন সমসাময়িক রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন এনসিপির এই নেতা।

বক্তব্যে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বহু মানুষ বন্যার পানিতে ঘরবাড়ি, ফসল ও জীবিকা হারিয়ে মানবিক সংকটে পড়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশিত ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি অভিযোগ করেন, দুর্যোগকবলিত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর পদক্ষেপের চেয়ে অন্য কর্মকাণ্ড বেশি দৃশ্যমান হচ্ছে, যা জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ এখন দুর্যোগ, অর্থনৈতিক চাপ এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তাই সরকারকে রাজনৈতিক কর্মসূচির চেয়ে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান।

জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, আন্দোলনের সময় যেসব প্রত্যাশা ও অঙ্গীকার সামনে আনা হয়েছিল, সেগুলোর বাস্তবায়ন এখনো দৃশ্যমান নয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, বিচার বিভাগ এবং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে আরও স্বাধীন ও জবাবদিহিমূলক করার যে লক্ষ্য ছিল, তা এখনো পূরণ হয়নি।

তিনি আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের বিচার প্রসঙ্গও উত্থাপন করেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর দাবি, জুলাই আন্দোলনে নিহতদের ঘটনার বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় সংস্কার ও বিচার প্রক্রিয়া বাস্তবায়িত না হলে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধেও রাজনৈতিক কর্মসূচি গড়ে তোলার বিষয়ে তাদের দল বিবেচনা করবে।

নির্বাচন প্রসঙ্গে এনসিপির এই নেতা বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তার দল এককভাবে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি জানান, প্রার্থীদের বিরুদ্ধে যদি দুর্নীতি, অনিয়ম বা অন্য কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে দলীয়ভাবে তাদের প্রার্থিতা বাতিল করা হবে। তার দাবি, ন্যায়নীতি ও জবাবদিহিতার প্রশ্নে এনসিপি কোনো আপস করতে চায় না।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি দিলেও ক্ষমতায় যাওয়ার পর অনেক ক্ষেত্রেই জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়। জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সভায় সভাপতিত্ব করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক এবং যুবশক্তির নিয়ামতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নিশাত আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দলের যুগ্ম সদস্য সচিব এস এম সাইফ মোস্তাফিক, যুগ্ম আহ্বায়ক ও নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমন, যুবশক্তির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ সোহেল, যুগ্ম সদস্য সচিব সাকিব মাহাদীসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ এবং নিহতদের স্মরণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন উপস্থিত নেতাকর্মীরা।

-রফিক


শেখ হাসিনা দিল্লিতে পালিয়েছে, আপনারা বঙ্গোপসাগরেও জায়গা পাবেন না: পাটওয়ারী

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১২ ২১:৫৪:৩১
শেখ হাসিনা দিল্লিতে পালিয়েছে, আপনারা বঙ্গোপসাগরেও জায়গা পাবেন না: পাটওয়ারী
পোরশার সারাইগাছী মোড়ে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে বক্তব্য দিচ্ছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ছবি: কালবেলা

বিএনপির শীর্ষ নেতাদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, “এত গরম দেখাবেন না। আমরা যদি ভালো মতো একটু গরম দেখাই, শেখ হাসিনা তো দিল্লিতে পালিয়েছে, আপনারা কই পালাবেন—বঙ্গোপসাগরে? বঙ্গোপসাগরেও পালানোর জায়গা পাবেন না।” একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে সিএনজি স্ট্যান্ড, বাস স্ট্যান্ড ও দোকানপাট দখলদারির ব্যাপারেও তিনি দলটির নেতাকর্মীদের তীব্র ভাষায় সতর্ক করেছেন।

রোববার (১২ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নওগাঁর পোরশা উপজেলার সারাইগাছী মোড়ে আয়োজিত ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তাঁর বক্তব্যে ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের রক্তের বিচারের ওপর জোর দিয়ে বলেন, “বাংলাদেশে খুনি হাসিনা ১ হাজার ৪০০ লোককে হত্যা করে পালিয়ে গিয়েছে। আমরা এখনও তার বিচার করতে পারি নাই। আমরা শহীদ আবু সাঈদের রক্তের বিচার করতে চাই। এ বিচার চাওয়া আমাদের অপরাধ না। যারা এখন মিডিয়ায় বড় বড় কথাবার্তা বলছেন, বিভিন্ন মন্ত্রী-এমপি হয়েছেন, তাদের বলছি—এত গরম দেখাবেন না।”

বিদ্যমান ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের দাবি তুলে এনসিপির এই শীর্ষ নেতা সরাসরি হুংকার দিয়ে বলেন, “যদি বাংলাদেশে সংস্কার বাস্তবায়ন না হয়, তবে বিএনপি সরকারের পতন আমরা করব ইনশাআল্লাহ। যদি বাংলাদেশে শেখ হাসিনার বিচার বাস্তবায়ন না হয়, তবুও এই বিএনপি সরকারের পতন আমরা করব। আমরা ইনশাআল্লাহ, আগামীতে সরকার গঠন করে শেখ হাসিনাকে ফাঁসিতে ঝুলাব, আওয়ামী লীগের খুনিদের ফাঁসিতে ঝুলাব এবং বাংলাদেশের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার বাস্তবায়ন করব।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে প্রার্থীরা নানা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও জেতার পর তাদের আর জনগণের পাশে পাওয়া যায় না।

দেশের চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে সরকারের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “দক্ষিণবঙ্গে ভয়াবহ বন্যা হচ্ছে, মানুষ মারা যাচ্ছে। অথচ বাংলাদেশের ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের যিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, তাকে শুধু নির্বাচনের আগেই খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল। এই বন্যাগ্রস্ত মানুষের মধ্যে তাকে একদিনও আমরা মাঠে দেখতে পাইনি। আপনারা কি তাকে টিভিতে দেখতে পেয়েছেন? এরা হলো জাতির মহাপ্রতারক, যারা বর্তমানে দুর্নীতি, সন্ত্রাস আর চাঁদাবাজিতে ব্যস্ত রয়েছে।”

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা সমাজে যথেষ্ট ভদ্র আচরণ করছি, কারণ আমরা সবাইকে নিয়ে একটি সভ্য ও সুন্দর বাংলাদেশ দাঁড় করাতে চাই। কিন্তু এ সুযোগে কেউ যদি বেশি লাফ দেওয়া শুরু করেন, তবে কীভাবে ক্ষমতা থেকে টেনে নামাতে হয় তা আমাদের ভালো করেই জানা আছে। আপনাদের ঘাড়ে যে চাঁদাবাজির ভূত আর দিল্লির ভূত চেপেছে, তা আমরা ইনশাআল্লাহ নামিয়ে ছাড়ব।”

বক্তব্যের শেষাংশে ভারতের কট্টরপন্থি রাজনৈতিক দল বিজেপি এবং হিন্দু জাতীয়তাবাদী সংগঠন আরএসএস-কে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “বাংলাদেশের মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান এক হয়ে ৪৭-এর আজাদির লড়াই করেছে, ৭১-এ যুদ্ধ করেছে, ৯০ ও ২৪-এ রাজপথে রক্ত দিয়েছে। ফলে তোমাদের কোনো ষড়যন্ত্রই বাংলাদেশে কখনো বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না। বাংলাদেশ স্বাধীন আছে এবং স্বাধীন থাকবে। বাংলাদেশের মানুষ জানবাজি রেখে লড়ে যাবে, তবুও আমরা কখনোই ভারতের সেবাদাস বা গোলাম হব না।”

এনসিপির নওগাঁ জেলা কমিটির আহ্বায়ক মাহফুজার রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই পদযাত্রা সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, এস এম সাইফ মোস্তাফিজ এবং জাতীয় যুবশক্তির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদ সোহেলসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

/আশিক


আনোয়ারার বেড়িবাঁধের বরাদ্দের একটি টাকাও দুর্নীতি করতে দেওয়া হবে না: নাহিদ ইসলাম

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১২ ১৮:১৭:৪৭
আনোয়ারার বেড়িবাঁধের বরাদ্দের একটি টাকাও দুর্নীতি করতে দেওয়া হবে না: নাহিদ ইসলাম
ছবি : কালবেলা

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দুঃখ ও প্রধান সমস্যা টেকসই বেড়িবাঁধ না থাকা এবং এই বাঁধ নির্মাণের নামে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হাজার হাজার কোটি টাকার ব্যাপক লুটপাট ও দুর্নীতি হয়েছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, চলতি অর্থবছরেও এই বাঁধ নির্মাণের জন্য রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবং এবার এই বরাদ্দের একটি টাকাও কাউকে দুর্নীতি করতে দেওয়া হবে না।

রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের অন্তর্গত গহিরা দোভাষী বাজার এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও জলাবদ্ধতায় পানিবন্দী ও অসহায় মানুষের মাঝে ব্যক্তিগত ও দলীয় ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ শেষে গণমাধ্যমের সামনে তিনি এসব কথা বলেন।

সার্বিক উপকূলীয় বেড়িবাঁধের বেহাল দশা নিয়ে নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, এলাকার মানুষের সুরক্ষার স্বার্থে জাতীয় সংসদে আনোয়ারার এই প্রধান সংকটটি অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরা হবে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে টেকসই বাঁধের কাজ বাস্তবায়ন করার জন্য সরকারের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টি করা হবে।

সারা দেশের চলমান বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরিস্থিতি প্রসঙ্গে সরকারের সমালোচনা করে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, যে কারণেই হোক না কেন, বর্তমান সরকার এই ভয়াবহ পরিস্থিতি সঠিকভাবে সামাল দিতে পারছে না। তবে এই চরম সংকটের মুহূর্তে রাজনৈতিক দোষারোপের কাদা ছোঁড়াছুড়ি করে কোনো লাভ নেই। সবচেয়ে বড় এবং রূঢ় বাস্তব সত্য হলো, দেশের সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাই এই জাতীয় দুর্যোগ সফলভাবে মোকাবিলা করতে দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সব সামর্থ্যবান ব্যক্তি, সচেতন ছাত্রসমাজ এবং সাধারণ মানুষকে একযোগে দুর্গতদের পাশে এগিয়ে আসতে হবে।

চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত এলাকার চিত্র তুলে ধরে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, “চট্টগ্রামের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে বর্তমানে সারা দেশের মানুষ গভীর উদ্বিগ্ন। আমাদের দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যরা একদম শুরু থেকেই এই উপদ্রুত অঞ্চলগুলোতে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। আমি নিজে সশরীরে এসে দেখলাম, গত পাঁচ থেকে সাত দিন ধরে এই এলাকার কয়েকশ পরিবার পানির নিচে সম্পূর্ণ পানিবন্দী অবস্থায় অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, এই চরম সংকটে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কিংবা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউকে কার্যকরভাবে দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে দেখা যায়নি। এমনকি বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম ত্রাণও এখন পর্যন্ত অনেক মানুষ পাননি।”

তিনি আরও ঘোষণা করেন যে, আনোয়ারা উপজেলার এই ত্রাণ কার্যক্রম শেষ করার পর অবিলম্বে বাঁশখালীসহ চট্টগ্রামের অন্যান্য সমস্ত বন্যাকবলিত ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতেও এনসিপির পক্ষ থেকে ধারাবাহিক ত্রাণ ও জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

আনোয়ারার এই ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপের সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, দলটির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য জুবাইরুল আলম মানিক, ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আবু বকর মজুমদার, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক খান তালাত মাহমুদ রাফি, মোহাম্মদ শাহেদসহ স্থানীয় অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

/আশিক


আগামী ১০০ বছরেও বাংলাদেশে আর কোনো গণ-অভ্যুত্থান হবে না: রুমিন ফারহানা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১১ ১৯:২৫:০৮
আগামী ১০০ বছরেও বাংলাদেশে আর কোনো গণ-অভ্যুত্থান হবে না: রুমিন ফারহানা
ছবি : সংগৃহীত

গত ২০২৪ সালের চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় জনগণের চরম প্রত্যাশাভঙ্গ ও উগ্রবাদের নতুন উত্থানের প্রসঙ্গ টেনে আগামী ১০০ বছরেও বাংলাদেশে আর কোনো নতুন গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

শনিবার (১১ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক রাজনৈতিক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

রুমিন ফারহানা তাঁর বক্তব্যে অভ্যুত্থান-পরবর্তী ক্ষমতার সমীকরণ নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে মানুষের মনে যে সুনির্দিষ্ট স্বপ্ন ছিল, তার জন্য দেশের সাধারণ মানুষ শেষবারের মতো নিজের জীবন বাজি রেখে রাজপথে নেমেছিল। কিন্তু অভ্যুত্থানের পর যখন মানুষ দেখল যে এই পরিবর্তনটি আদতে কতিপয় মানুষের নিজস্ব সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছে, এটি বাংলাদেশে এক ভয়াবহ উগ্রবাদের নতুন উত্থান ঘটিয়েছে এবং অদ্ভুতভাবে কিছু শূন্য থেকে হঠাৎ শতকোটি টাকার মালিক হয়ে যাওয়ার একটি নতুন প্রকল্পে রূপ নিয়েছে; তখন স্বাভাবিকভাবেই এ দেশের গণমানুষ ভবিষ্যতে এই ধরনের আর কোনো গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়ার আগে হাজারবার, লক্ষবার ও কোটিবার চিন্তা করবে।’

তিনি চব্বিশের আন্দোলনের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রশ্ন তোলেন, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের সময় হিজাব পরা এবং হিজাব ছাড়া প্রগতিশীল—সব শ্রেণির নারীরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যেভাবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন, অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে এসে সেই সম্প্রীতি ও বৈষম্যহীন পরিবেশ কেন রক্ষা করা গেল না? চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের ঠিক পরপরই সারা দেশে মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক ম্যুরাল ও বিভিন্ন ভাস্কর্যগুলো সুনির্দিষ্টভাবে কারা ভাঙল এবং কেন একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ আর চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানকে কৃত্রিমভাবে মুখোমুখি দাঁড় করানো হলো, তিনি সেই জবাবও দাবি করেন।

গণ-অভ্যুত্থানপরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে এক ‘ভয়াবহ উগ্রবাদের উত্থান হয়েছে’ বলে দাবি করে রুমিন ফারহানা উপস্থিত সবার উদ্দেশ্যে বলেন, আন্দোলনের পর দেশের পরিস্থিতি এমন উগ্র রূপ ধারণ করবে—এই অনাকাঙ্ক্ষিত ভবিষ্যৎ যদি আগে থেকে জানা থাকত, তবে চব্বিশে কয়জন সাধারণ মানুষ জীবন বাজি রেখে রাস্তায় আন্দোলনে নামতেন?

ইতিহাসের ধারাবাহিকতা টেনে তিনি আরও বলেন, ১৯৪৭ সালের দেশভাগ, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৯৯০ সালের ঐতিহাসিক গণ-আন্দোলনের পরও এই দেশের সাধারণ মানুষ রাজনৈতিকভাবে বারবার প্রতারিত হয়েছে। এ দেশের আমপাবলিক বা সাধারণ মানুষ প্রতিবারই নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য রাজপথে বুক পেতে রক্ত দিয়েছে, কিন্তু বিনিময়ে প্রতিবারই তারা চূড়ান্ত প্রতারণার শিকার হয়েছে।

‘গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনীতি: সংকট, সম্ভাবনা ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক এই গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী আলোচনা সভার আয়োজন করেছিল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)। অনুষ্ঠানে দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং বিভিন্ন স্তরের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক

পাঠকের মতামত: