ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার শুরুর একাদশে বড় চমকের ইঙ্গিত স্কালোনির

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৫ ২০:৩৬:৫৪
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার শুরুর একাদশে বড় চমকের ইঙ্গিত স্কালোনির
ছবি : সংগৃহীত

টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার হাতছানি ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার সামনে। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে শক্তিশালী ইংল্যান্ডকে হারাতে পারলেই শিরোপা ধরে রাখার মিশনে শেষ ধাপে পৌঁছে যাবে লিওনেল মেসির দল। বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় শুরু হবে বিশ্ব কাঁপানো এই হাইভোল্টেজ লড়াই।

মহাগুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচটিকে সামনে রেখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় শেষ মুহূর্তের রণকৌশল সাজাতে ব্যস্ত আর্জেন্টিনা শিবির। তবে ম্যাচের শুরুর একাদশ নিয়ে এখনই সমস্ত পরিকল্পনা সংবাদমাধ্যমের সামনে প্রকাশ করতে চাননি আলবিসেলেস্তেদের প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ডের শক্তিমত্তা ও কৌশলের কথা মাথায় রেখে ট্র্যাডিশনাল লাইনআপে কয়েকটি চমকপ্রদ পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

ম্যাচ-পূর্ববর্তী অফিশিয়াল সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি বলেন, প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তা ও খেলার ধরন বিবেচনা করে আমরা শুরুর একাদশে কিছু পরিবর্তন আনতে পারি। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো মাঠে সেরা দলটিকে নামানো। দলের প্রতিটি খেলোয়াড় এখন দারুণ ছন্দে আছে এবং যেকোনো চ্যালেঞ্জ নিতে মুখিয়ে আছে।

কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করা একাদশের অধিকাংশ খেলোয়াড়ই এই ম্যাচে বহাল থাকছেন। তবে গুঞ্জন রয়েছে যে, মাঝমাঠের লাইনআপে একটি বড় চমক দিতে পারেন স্কালোনি। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স এবং ট্যাকটিক্যাল পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নিয়মিত মিডফিল্ডার রদ্রিগো ডি পলের পরিবর্তে নিকোলাস গঞ্জালেজ অথবা হুলিয়ানো সিমিওনে শুরুর একাদশে জায়গা করে নিতে পারেন। এ ছাড়া রক্ষণভাগের রাইট-ব্যাক পজিশনে গঞ্জালো মন্তিয়েলের চেয়ে নাহুয়েল মলিনা শুরুর একাদশে নামার দৌড়ে কিছুটা এগিয়ে রয়েছেন।

আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ

এমিলিয়ানো মার্টিনেজ; নাহুয়েল মলিনা/গঞ্জালো মন্তিয়েল, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো; হুলিয়ানো সিমিওনে/নিকোলাস গঞ্জালেজ, লিয়ান্দ্রো পারেদেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, এঞ্জো ফার্নান্দেজ; হুলিয়ান আলভারেজ ও লিওনেল মেসি।

/আশিক


তামিমের অধীনে কাজ করবেন ভারত, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট কর্তারা

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৫ ১৯:৩২:১০
তামিমের অধীনে কাজ করবেন ভারত, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট কর্তারা
ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী পদের বড় দায়িত্ব পেয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নবনির্বাচিত সভাপতি ও জাতীয় দলের সাবেক সফল অধিনায়ক তামিম ইকবাল। এখন থেকে বিসিবির শীর্ষ পদের পাশাপাশি আইসিসির ‘ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগস কমিটি’-এর প্রধান বা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব সামলাবেন তিনি। বিশ্ব ক্রিকেটে তামিমের এই পদপ্রাপ্তি বাংলাদেশের জন্য একটি বিশাল গৌরব ও বড় রাজনৈতিক-কূটনৈতিক সাফল্য, কারণ তাঁর এই শক্তিশালী কমিটির অধীনে সদস্য হিসেবে কাজ করবেন বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে ক্ষমতাধর তিন বোর্ড—ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের শীর্ষ কর্তারা।

বর্তমান বিশ্ব ক্রিকেটে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের দাপট ও জয়জয়কার চলছে। টি-টোয়েন্টি ও টি-টেন সংস্করণের এই লিগগুলোর অতি বাড়বাড়ন্তের কারণে দ্বিপাক্ষিক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সূচি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। সেই সাথে বছরজুড়ে টানা খেলার কারণে ক্রিকেটারদের শারীরিক ও মানসিক সুরক্ষা এবং চুক্তির বিষয়গুলোও বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়েছে। বিশ্ব ক্রিকেটের এই জটিল ও সার্বিক বিষয়গুলোর সুষম সমন্বয় এবং নতুন নীতিমালা প্রণয়ন নিয়ে কাজ করবে তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন আইসিসির এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগস কমিটি।

ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের (বিসিসিআই) প্রভাবশালী সেক্রেটারি দেবজিত সাইকিয়াও সদস্য হিসেবে থাকছেন তামিমের এই কমিটিতে। এ ছাড়া কমিটির অন্যান্য হাই-প্রোফাইল সদস্যদের মধ্যে আরও রয়েছেন ক্রিকেট নামিবিয়ার ডা. রুডি ভন ভুরেন, ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) প্রধান নির্বাহী রিচার্ড গুল্ড এবং ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) প্রধান নির্বাহী টড গ্রিনবার্গ।

এদিকে আইসিসির সদ্য সমাপ্ত বোর্ড সভায় কানাডা, শ্রীলংকা, বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের সদস্যপদ সংক্রান্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ প্রসঙ্গে বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নবনির্বাচিত সভাপতিকে (তামিম ইকবাল) সংস্থাটির ফুল মেম্বার ডিরেক্টর হিসেবে পূর্ণ স্বীকৃতি দিয়েছে আইসিসি বোর্ড।’

তবে এই সভায় বড় ধরনের দুঃসংবাদ এসেছে শ্রীলংকা ক্রিকেটের (SLC) জন্য। লংকান ক্রিকেট বোর্ডকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি গণতান্ত্রিক ও নির্বাচিত কমিটি গঠনের কড়া তাগিদ দিয়ে আইসিসি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আপাতত শ্রীলংকা ক্রিকেট আইসিসি বোর্ডের কোনো আনুষ্ঠানিক সভায় সরাসরি প্রতিনিধিত্ব করতে পারবে না।

এর পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে চরম আর্থিক সংকটে ভুগতে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডকে (CWI) ক্রিকেটের মূল ধারায় টিকিয়ে রাখতে বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছে আইসিসি। ক্রিকেটীয় সহায়তা হিসেবে ক্যারিবীয় বোর্ডকে ১২.৮২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় দেড়শ কোটি টাকারও বেশি) বড় অঙ্কের আর্থিক অনুদান দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইসিসি।

/আশিক


বাংলাদেশিদের ভালোবাসায় আবেগঘন বার্তা স্কালোনির

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৫ ১০:০৯:১৫
বাংলাদেশিদের ভালোবাসায় আবেগঘন বার্তা স্কালোনির
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপে বাংলাদেশ অংশ না নিলেও ফুটবল উন্মাদনায় দেশটির উপস্থিতি আবারও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের সমর্থকদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। হাজার হাজার কিলোমিটার দূর থেকে আলবিসেলেস্তেদের প্রতি বাংলাদেশিদের অকুণ্ঠ সমর্থন তাকে গভীরভাবে মুগ্ধ করেছে বলে জানান তিনি।

সেমিফাইনাল-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের প্রতি তার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা রয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, “বাংলাদেশের মানুষ আমাদের প্রতিবারই বিস্মিত করে। পৃথিবীর এত দূরের একটি দেশ থেকেও তারা যেভাবে আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করে, সেটি সত্যিই অবিশ্বাস্য। আর্জেন্টিনার জার্সি পরে তাদের উদযাপন দেখতে সবসময়ই দারুণ লাগে। আমরা যদি তাদের আরও একটি আনন্দের উপলক্ষ উপহার দিতে পারি, সেটিই হবে আমাদের জন্য বড় প্রাপ্তি।”

বিশ্বকাপজুড়ে বাংলাদেশে আর্জেন্টিনাকে ঘিরে যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে, তা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে। আর্জেন্টিনার প্রতিটি জয়ের পর রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বিজয় মিছিল, আতশবাজি, পতাকা মিছিল এবং আলবিসেলেস্তে জার্সি পরিহিত সমর্থকদের উল্লাসের ছবি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে।

ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে আর্জেন্টিনার জনপ্রিয়তা নতুন কোনো ঘটনা নয়। কয়েক দশক ধরে দেশটির অসংখ্য ফুটবলপ্রেমী আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করে আসছেন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে সেই সমর্থনের দৃশ্য আরও বেশি আন্তর্জাতিক মনোযোগ পাচ্ছে।

স্কালোনিও স্বীকার করেছেন, বাংলাদেশ থেকে আসা এই ভালোবাসার খবর এবং দৃশ্য তার নজর এড়ায়নি। তিনি বলেন, এত দূরের একটি দেশের মানুষের এমন আবেগ ও সমর্থন আর্জেন্টিনা দলের জন্য বাড়তি অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে।

এদিকে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বৃহস্পতিবার (বাংলাদেশ সময়) যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার মার্সিডিজ-বেনজ স্টেডিয়ামে শক্তিশালী ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। ফাইনালের প্রথম টিকিট ইতোমধ্যেই নিশ্চিত করেছে স্পেন, যারা অপর সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা লড়াইয়ে জায়গা করে নিয়েছে।

এখন আর্জেন্টিনার লক্ষ্য ইংল্যান্ডকে পরাজিত করে স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে ওঠা। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের কোটি কোটি সমর্থকসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা আর্জেন্টাইন ভক্তদের আরেকটি স্মরণীয় রাত উপহার দেওয়ার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেছেন স্কালোনি।

-রফিক


মনে হচ্ছে এই বিশ্বকাপ আর্জেন্টিনার দিকেই পরিচালিত হচ্ছে: মিশরীয় কোচ

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৪ ২১:৪৬:১৬
মনে হচ্ছে এই বিশ্বকাপ আর্জেন্টিনার দিকেই পরিচালিত হচ্ছে: মিশরীয় কোচ
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর হাইভোল্টেজ ম্যাচে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির সাথে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের সময় বর্ণবাদবিরোধী কোনো ইঙ্গিতপূর্ণ বা আপত্তিকর অঙ্গভঙ্গি করেননি বলে জোরালো দাবি করেছেন মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। একই সাথে তিনি এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করে বলেছেন, মাঠের সেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ হয়ে কেঁদে ফেলেছিলেন লিওনেল মেসি।

গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত রাউন্ড অব ১৬-এর সেই স্মরণীয় ম্যাচে দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩-২ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল আর্জেন্টিনা। এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে আলবিসেলেস্তেরা এখন সেমিফাইনালের মঞ্চে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সানের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ম্যাচের শেষ দিকে মেসির সাথে চরম তর্কাতর্কির একপর্যায়ে দুই হাত বুকের ওপর ক্রস করে একটি বিশেষ অঙ্গভঙ্গি করতে দেখা যায় ৫৯ বছর বয়সী মিশরীয় কোচ হাসানকে। তাঁর এমন আচরণের কারণে ম্যাচ রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে হলুদ কার্ড দেখান। মাঠের ওই অঙ্গভঙ্গিকে ফুটবলপ্রেমী ও বিশ্লেষকদের অনেকেই বর্ণবাদবিরোধী বা বৈষম্যমূলক ইশারা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছিলেন।

তবে এই বিতর্ক নিয়ে অবশেষে মুখ খুলেছেন হোসাম হাসান। বিষয়টি স্পষ্ট করে তিনি বলেন, ওটা বর্ণবাদ সংক্রান্ত কোনো ইশারা ছিল না। আমি মূলত দুই হাত বুকের ওপর ক্রস করে রেফারিকে বোঝাতে চেয়েছিলাম যে, তিনি মাঠে ন্যায্য বিচার করছেন না। তিনি আরও যোগ করেন, ওই সময় মেসি আমার খুব কাছে চলে আসে এবং ক্ষুব্ধ হয়ে বারবার বলতে থাকে—কেন, কেন, কেন? এরপর সে আরও কিছু কথা বলেছিল।

মিশরীয় কোচ উল্লেখ করেন, ফুটবল ক্যারিয়ারে ম্যাচ চলাকালীন সাধারণত মেসিকে খুব একটা তর্কে জড়াতে দেখা যায় না। কিন্তু ওই ঘটনার পর তীব্র মানসিক চাপের কারণে আবেগের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে সে মাঠে কেঁদে ফেলেছিল। হাসান বলেন, আমরা আর্জেন্টিনার জন্য অত্যন্ত কঠিন এক প্রতিপক্ষ ছিলাম এবং ম্যাচের একটা বড় সময় তাদের চরম কোণঠাসা করে রেখেছিলাম। তবে মেসির বিশাল ফুটবল ক্যারিয়ারের প্রতি গভীর সম্মান দেখিয়ে আমি তার কথার কোনো পাল্টা জবাব দিইনি এবং আমাদের মধ্যে যেন আর কোনো কথার সংঘাত না বাড়ে, সেই চেষ্টাই করেছি।

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের এই ম্যাচ থেকে বিদায় নেওয়ার পর হোসাম হাসান এবং মিশরের ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকো ম্যাচ রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ের পক্ষপাতমূলক আচরণের তীব্র সমালোচনা করেন। ম্যাচে মিশরের একটি বৈধ গোল বাতিল করার পাশাপাশি আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলটি হওয়ার ঠিক আগে লিভারপুল তারকা মোহাম্মদ সালাহকে ডি-বক্সের ভেতর ফাউল করা হলেও পেনাল্টি দেওয়া হয়নি বলে তারা গুরুতর অভিযোগ তোলেন।

রেফারির এমন সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে হাসান বলেন, পুরো ম্যাচে আমরা ন্যূনতম সম্মান কিংবা ‘ফেয়ার প্লে’-এর কোনো নজির দেখিনি। মাঠের পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছিল, আর্জেন্টিনার তারকাদের পক্ষ থেকে রেফারির ওপর একটা প্রচ্ছন্ন মানসিক চাপ ছিল, যার ফলেই একের পর এক এমন একপাক্ষিক সিদ্ধান্ত এসেছে।

তিনি হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, মানুষের বাস্তব জীবন অন্যায্য হতে পারে, এই পৃথিবীটাও হয়তো অন্যায্য। সেটা মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু স্পোর্টসম্যানশিপ বা খেলাধুলার জগতেও কেন ন্যায্যতা থাকবে না? এই অন্যায্য ফলাফল কিংবা ম্যাচটি যেভাবে পরিচালনা করা হয়েছে, তা আমি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। রেফারি সম্পূর্ণ পক্ষপাতদুষ্ট ছিলেন দাবি করে হোসাম হাসান বলেন, তিনি একটি পুরো জাতির চার বছরের কঠোর পরিশ্রম ও স্বপ্ন এক নিমেষে নষ্ট করে দিয়েছেন। মাঠের সিদ্ধান্তগুলো দেখে মনে হচ্ছে, এই বিশ্বকাপটি যেন আগে থেকেই আর্জেন্টিনার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দিকেই পরিচালিত করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, রাউন্ড অব ১৬-এর সেই রোমাঞ্চকর ম্যাচে প্রথমে ইয়াসের ইব্রাহিমের গোলে লিড নিয়ে এগিয়ে যায় মিশর। এরপর প্রথমার্ধে মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর ৩৯ বছর বয়সী মহাতারকা মেসির নেওয়া একটি পেনাল্টিও দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন। এর কিছুক্ষণ পর একটি গোল বাতিল হওয়ার ধাক্কা সামলে মোস্তফা জিকো দলের হয়ে দ্বিতীয় গোল করলে ম্যাচটিতে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে আর্জেন্টিনাকে স্তব্ধ করে দেয় মিশর।

তবে ম্যাচের শেষভাগে এসে নিজেদের চিরচেনা রুপে ফেরে আলবিসেলেস্তেরা। ডিফেন্ডার ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, অধিনায়ক লিওনেল মেসি এবং মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজের পর পর তিনটি গোলে অবিশ্বাস্য এক প্রত্যাবর্তন করে ৩-২ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা। পরবর্তীতে কোয়ার্টার ফাইনালের মঞ্চে অতিরিক্ত সময়ের কঠিন লড়াইয়ে সুইজারল্যান্ডকে পরাস্ত করে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা, যেখানে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তাদের পরবর্তী প্রতিপক্ষ শক্তিশালী ইংল্যান্ড।

/আশিক


বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের মহারণ: স্প্যানিশদের রুখে দিতে প্রস্তুত আত্মবিশ্বাসী ফ্রান্স

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৪ ২১:২৯:৪৯
বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের মহারণ: স্প্যানিশদের রুখে দিতে প্রস্তুত আত্মবিশ্বাসী ফ্রান্স
ছবি : সংগৃহীত

ফিফা বিশ্বকাপের মেগা সেমিফাইনালে শক্তিশালী স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার আগে পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী ফরাসি শিবির। ফ্রান্স দলের প্রধান কোচ দিদিয়ের দেশম স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তা ও পারফরম্যান্স যতই দুর্দান্ত হোক না কেন, তাদের একমাত্র লক্ষ্য জয় ছিনিয়ে নিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করা।

আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জয় পেলে বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে প্রথম কোচ হিসেবে তিনটি ভিন্ন আসরে কোনো দলকে ফাইনালে তোলার অনন্য এক বিশ্বরেকর্ড গড়বেন দেশম। এর আগে ২০১৮ সালে ফ্রান্সকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করার পাশাপাশি ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপেও দলকে ফাইনাল পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছিলেন এই ফরাসি মাস্টারমাইন্ড। ম্যাচ-পূর্ববর্তী আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে দেশম বলেন, স্পেন নিঃসন্দেহে একটি অসাধারণ দল। তবে আমরা আমাদের নিজস্ব শক্তি, সামর্থ্য ও কৌশল সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন। ফাইনালে ওঠার এই সুবর্ণ সুযোগ কাজে লাগাতে দুই দলই মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের সর্বোচ্চটা উজাড় করে দেবে।

স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে ফরাসি ফুটবলারদের শক্তিমত্তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছেন উল্লেখ করে দেশম জানান, ফরাসি ডাগআউটও প্রতিপক্ষের প্রতিটি বিভাগের শক্তি ও দুর্বলতা নিয়ে বিস্তারিত হোমওয়ার্ক শেষ করেছে। বিশেষ করে স্পেনের উদীয়মান তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালকে নিয়ে ফরাসি কোচ বলেন, মাঠের যেকোনো পরিস্থিতিতে ইয়ামালকে আটকে রাখা যেকোনো রক্ষণভাগের জন্যই বেশ কঠিন। তবে ফ্রান্সের আক্রমণভাগের তারকাদের সামলানোও স্প্যানিশ ডিফেন্ডারদের জন্য মোটেও সহজ কাজ হবে না।

স্পেনের খেলার বিশেষ ধরন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে দেশম উল্লেখ করেন, স্প্যানিশরা বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হোল্ডে রাখতে পছন্দ করে, প্রতিপক্ষের ওপর তীব্র আক্রমণাত্মক হাই-প্রেসিং ফুটবল খেলে এবং তাদের ডিফেন্স লাইনও বেশ সুসংগঠিত। তাই এই সেমিফাইনালে মূল পার্থক্য গড়ে দেবে কোন দল মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারছে এবং বক্সে পাওয়া সুযোগগুলো নিখুঁত ফিনিশিংয়ে কাজে লাগাতে পারছে। তবে এই ম্যাচকে উয়েফা ইউরোর কোনো প্রতিশোধের লড়াই হিসেবে দেখতে নারাজ দেশম। তাঁর মতে, এটি শুধুই বিশ্বমঞ্চের ফাইনালে ওঠার এক নতুন যুদ্ধ, যেখানে দুই দলই নিজেদের সেরা ফুটবল উপহার দিতে চাইবে।

দলের অধিনায়ক ও মূল ভরসা কিলিয়ান এমবাপ্পের ফিটনেস নিয়েও দারুণ আশাবাদী ফ্রান্স কোচ। গোড়ালির চোটের কারণে কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করা হলেও এমবাপ্পে নিয়মিত পূর্ণাঙ্গ অনুশীলন করছেন এবং ম্যাচের শুরু থেকেই মাঠে নামার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। বোস্টন থেকে ডালাসে দীর্ঘ ভ্রমণের কারণে খেলোয়াড়দের ক্লান্তির সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে দেশম বলেন, গ্রুপপর্বে নিজেদের গ্রুপে শীর্ষে থাকার কারণে দল পরিকল্পনা অনুযায়ী গুছিয়ে ওঠার পর্যাপ্ত সময় পেয়েছে এবং ম্যাচের আগে ফুটবলাররা চার দিনের পূর্ণ বিশ্রামও উপভোগ করেছে।

স্পেনকে এবারের বিশ্ব আসরের অন্যতম সেরা ও ভারসাম্যপূর্ণ দল হিসেবে অভিহিত করে দেশম জানান, আক্রমণ ও রক্ষণ—উভয় বিভাগেই তারা দারুণ ফুটবল খেলছে। তবে ফ্রান্সও নিজেদের সেরা ফর্ম প্রদর্শন করতে মুখিয়ে আছে। ম্যাচের সম্ভাব্য একাদশ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে দেশম স্বীকার করেন যে, দলের অরেলিয়েন চুয়ামেনি, মানু কোনো, দেজিরে দুয়ে এবং ব্র্যাডলি বারকোলার মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন।

তাই চূড়ান্ত একাদশ বাছাই করা তাঁর জন্য বেশ কঠিন একটি সিদ্ধান্ত। চুয়ামেনির চোটের অবস্থা নিয়ে কোচ জানান, তিনি এখনো শতভাগ ম্যাচ ফিটনেসে না ফিরলেও মাঠে নামার মতো শারীরিক অবস্থায় আছেন। অন্যদিকে দেজিরে দুয়ে ও বারকোলার মধ্যে কে শুরুর একাদশে থাকবেন, তা ম্যাচের মূল কৌশল ও মাঠের পরিস্থিতি বিবেচনা করে শেষ মুহূর্তে নির্ধারণ করা হবে।

সূত্র: এএস স্পোর্টস


বিশ্বকাপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় সেমিফাইনাল: ফ্রান্সের তুরুপের তাস যখন এমবাপ্পে

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৪ ২০:৩৯:৫৩
বিশ্বকাপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় সেমিফাইনাল: ফ্রান্সের তুরুপের তাস যখন এমবাপ্পে
ছবি : সংগৃহীত

ফুটবল বিশ্বকাপের মেগা সেমিফাইনালের আগে ফরাসি শিবিরে বড় ধরনের স্বস্তির বার্তা মিলেছে। চোটের ধাক্কা কাটিয়ে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠেছেন ফ্রান্স দলের অধিনায়ক ও প্রধান তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। ফলে স্পেনের বিরুদ্ধে হাইভোল্টেজ সেমিফাইনাল ম্যাচে তাঁর মাঠে নামা নিয়ে আর কোনো অনিশ্চয়তা নেই বলে নিশ্চিত করেছেন ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম।

কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর বিপক্ষে ২-০ গোলে জয়ী ম্যাচে খেলার শেষ দিকে গোড়ালিতে সামান্য আঘাত পেয়েছিলেন এমবাপ্পে। এরপর সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে সেমিফাইনালের আগের প্রস্তুতি সেশনে তাঁকে পুরো সময় মাঠে না রেখে কিছুটা বাড়তি বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল। তবে অধিনায়কের এই হালকা চোট নিয়ে ফরাসি ডাগআউট যে মোটেও চিন্তিত নয়, তা স্পষ্ট করেছেন দেশম। ম্যাচ-পূর্ববর্তী আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে ফ্রান্সের প্রধান কোচ বলেন, কিলিয়ান এখন পুরোপুরি ভালো আছেন এবং নিয়মিত অনুশীলনও করেছেন। তবে সুরক্ষার স্বার্থে একটি বিশেষ ড্রিল সেশনে যেখানে ১৫ মিনিট থাকার কথা ছিল, সেখানে তাঁকে ১০ মিনিট পর তুলে নেওয়া হয়।

এদিকে ফরাসি ফুটবল দলের চিকিৎসকের দলও (মেডিক্যাল স্টাফ) পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানিয়েছে যে, এমবাপ্পের এই চোট অত্যন্ত সাধারণ ও মৃদু প্রকৃতির। তাই স্পেনের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ফরাসি একাদশে তাঁর অন্তর্ভুক্তিতে কোনো ধরনের বাধা বা ঝুঁকি নেই।

চলতি বিশ্বকাপে ফরাসিদের আক্রমণভাগের মূল চালিকাশক্তি ও ভরসার প্রতীক কিলিয়ান এমবাপ্পে। তাঁর অতিমানবীয় গতি, নিখুঁত গোল করার সক্ষমতা এবং মাঠের নেতৃত্বই ফ্রান্সকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপার স্বপ্ন দেখাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই, তাকে নিয়ে তৈরি হওয়া চোটের কালো মেঘ কেটে যাওয়ায় পুরো ফরাসি শিবিরে চনমনে ভাব ফিরে এসেছে। বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় ও জমজমাট এই সেমিফাইনালে আজ রাত ২টায় যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে ইউরোপের দুই পরাশক্তি স্পেন ও ফ্রান্স একে অপরের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে, আর এমবাপ্পের শতভাগ ফিটনেস এই দ্বৈরথের উত্তেজনাকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

/আশিক


ফ্রান্স-স্পেন মহারণ, সুপারকম্পিউটার কাকে এগিয়ে রাখছে

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৪ ১১:০৭:৩৫
ফ্রান্স-স্পেন মহারণ, সুপারকম্পিউটার কাকে এগিয়ে রাখছে
ছবি : সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত ম্যাচগুলোর একটি আজ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দিবাগত রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে ইউরোপের দুই ফুটবল পরাশক্তি ফ্রান্স ও স্পেন। শিরোপার অন্যতম দুই দাবিদারের এই লড়াইকে অনেকেই আগাম ফাইনাল হিসেবে দেখছেন। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, তারকাসমৃদ্ধ স্কোয়াড এবং পরিসংখ্যান—সব মিলিয়ে ম্যাচটি ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ তুঙ্গে।

পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান অপটা সুপারকম্পিউটার ২৫ হাজার সিমুলেশনের ভিত্তিতে ম্যাচের সম্ভাব্য ফল বিশ্লেষণ করেছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ফ্রান্সের জয়ের সম্ভাবনা ৪৩.৯ শতাংশ, স্পেনের জয়ের সম্ভাবনা ২৯ শতাংশ এবং ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর সম্ভাবনা ২৭.১ শতাংশ। সব মিলিয়ে ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনাও ফ্রান্সের বেশি, যা ৫৭.১ শতাংশ। পুরো বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনায়ও এগিয়ে রয়েছে ফরাসিরা। অপটার পূর্বাভাসে ফ্রান্সের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ৩৪.৬ শতাংশ, যেখানে স্পেনের সম্ভাবনা ২৩.৮ শতাংশ।

এই ম্যাচটি ফ্রান্সের প্রধান কোচ দিদিয়ের দেশমের জন্যও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বিশ্বকাপে এটি হবে তার ২৬তম ম্যাচ পরিচালনা, যার মাধ্যমে তিনি জার্মান কিংবদন্তি হেলমুট শ্যোনকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচে দায়িত্ব পালনকারী কোচ হওয়ার রেকর্ড গড়বেন। অন্যদিকে স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেও দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন। তার অধীনে বিশ্বকাপ ও ইউরো মিলিয়ে স্পেন টানা ১৩ ম্যাচ অপরাজিত রয়েছে।

কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে টানা ষষ্ঠ জয় তুলে নিয়েছে ফ্রান্স। আজ জয় পেলে টানা সপ্তম বিশ্বকাপ জয় তুলে নেওয়ার বিরল কীর্তি গড়বে তারা। ইউরোপের ইতিহাসে এর আগে কেবল ইতালিই ১৯৩৪ ও ১৯৩৮ বিশ্বকাপে এমন সাফল্য অর্জন করেছিল। এটি ফ্রান্সের অষ্টম বিশ্বকাপ সেমিফাইনালও। জার্মানি ছাড়া আর কোনো দল এতবার শেষ চারে খেলতে পারেনি। ১৯৯৮, ২০০৬, ২০১৮ ও ২০২২ সালের বিশ্বকাপে নিজেদের সর্বশেষ চারটি সেমিফাইনালেই জয় পেয়েছে ফরাসিরা। শুধু তাই নয়, শেষ তিনটি সেমিফাইনালে তারা কোনো গোলও হজম করেনি। আজ জয় পেলে জার্মানি ও ব্রাজিলের পর টানা তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার কীর্তিও গড়বে দেশমের দল।

ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় ভরসা কিলিয়ান এমবাপ্পে। কোয়ার্টার ফাইনালে সামান্য গোড়ালির চোট পেলেও সেমিফাইনালে তার খেলার সম্ভাবনা উজ্জ্বল। এবারের বিশ্বকাপে আট গোল করে তিনি লিওনেল মেসির সঙ্গে যৌথভাবে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষে রয়েছেন। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এমবাপ্পের মোট গোল এখন ১২টি, যা ইতিহাসে সর্বোচ্চ। তবে আগের দুই বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে তিনি গোল করতে পারেননি। সেই আক্ষেপ ঘোচানোর লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবেন ফরাসি অধিনায়ক। সতীর্থ ওসমান দেম্বেলের সঙ্গে তার বোঝাপড়াও এবারের আসরে ফ্রান্সের অন্যতম বড় শক্তি হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে স্পেন পুরো টুর্নামেন্টে নিজেদের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে রক্ষণভাগকে। কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে হজম করা গোলটিই এবারের বিশ্বকাপে তাদের বিপক্ষে একমাত্র গোল। শেষ দুটি নকআউট ম্যাচে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নেমে জয়সূচক গোল করে আলোচনায় উঠে এসেছেন মিকেল মেরিনো। বিশ্বকাপ ইতিহাসে নকআউট পর্বে বদলি হিসেবে নেমে টানা দুই ম্যাচে ম্যাচজয়ী গোল করা প্রথম ফুটবলারও তিনি।

২০১৮ সালের পর বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে স্পেন খেলেছে ২৭টি ম্যাচ। এর মধ্যে মাত্র একটিতে হেরেছে লা রোহা। ২০২২ বিশ্বকাপে জাপানের কাছে পরাজয়ের পর থেকে টানা ১৪ ম্যাচ অপরাজিত রয়েছে তারা। এই সময়ে মাত্র পাঁচটি গোল হজম করেছে স্প্যানিশরা এবং নয়টি ম্যাচে ক্লিন শিট রেখেছে। আজ জয় পেলে ইউরোপের প্রথম দল হিসেবে বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে টানা আটটি নকআউট ম্যাচ জয়ের নতুন ইতিহাস গড়বে স্পেন।

ফিটনেসের দিক থেকে দুই দলই প্রায় পূর্ণ শক্তির। ফ্রান্স শিবিরে উইলিয়াম সালিবা, দায়ো উপামেকানো ও অরেলিয়েন চুয়ামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে কিছুটা শঙ্কা থাকলেও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। স্পেনের নিকো উইলিয়ামস চোট কাটিয়ে ফিরতে প্রস্তুত। কাঁধের সমস্যার উন্নতি হলে ইয়েরেমি পিনোকেও দলে দেখা যেতে পারে।

বিশ্বকাপে এটি হবে ফ্রান্স ও স্পেনের মাত্র দ্বিতীয় মুখোমুখি লড়াই। ২০০৬ সালের শেষ ষোলোতে প্রথম দেখায় ৩-১ গোলে জয় পেয়েছিল ফ্রান্স। তবে সাম্প্রতিক ইতিহাসে এগিয়ে স্পেন। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সর্বশেষ ১০ ম্যাচের সাতটিতেই জয় পেয়েছে লা রোহা। ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনালে ২-১ এবং ২০২৫ সালের নেশনস লিগে ৫-৪ ব্যবধানে ফ্রান্সকে হারিয়েছিল স্প্যানিশরা।

-রাফসান


আজকের খেলার সূচি, বিশ্বকাপে জমজমাট সেমিফাইনাল

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৪ ১০:১৬:৪২
আজকের খেলার সূচি, বিশ্বকাপে জমজমাট সেমিফাইনাল
ছবি : সংগৃহীত

ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য মঙ্গলবারের দিনটি হতে যাচ্ছে দারুণ ব্যস্ত। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ইউরোপের দুই পরাশক্তি ফ্রান্স ও স্পেন। একই দিনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শুরু হচ্ছে ইংল্যান্ড ও ভারতের মধ্যকার ওয়ানডে সিরিজ। পাশাপাশি টেলিভিশনে থাকছে বিশ্বকাপের দুটি কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের পুনঃপ্রচারও।

সবচেয়ে বেশি নজর থাকবে বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে। বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় মাঠে নামবে বর্তমান সময়ের দুই অন্যতম শক্তিশালী দল ফ্রান্স ও স্পেন। টুর্নামেন্টজুড়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নেওয়া দুই দলই ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে মরিয়া। কিলিয়ান এমবাপ্পের নেতৃত্বাধীন ফ্রান্স যেমন আক্রমণভাগে আত্মবিশ্বাসী, তেমনি স্পেনও দুর্দান্ত রক্ষণ ও বল দখলের ফুটবলে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখছে। তাই সেমিফাইনালটি কৌশল, গতি ও দক্ষতার এক জমজমাট লড়াই হওয়ার প্রত্যাশা করছেন ফুটবল বিশ্লেষকেরা। ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে বিটিভি, টি স্পোর্টস ও সময় টিভি।

ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্যও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। বিকেল ৪টায় শুরু হবে ইংল্যান্ড ও ভারতের মধ্যকার প্রথম ওয়ানডে। দুই পরাশক্তির এই লড়াই নতুন সিরিজের সূচনা করবে। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে দুই দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। খেলা সরাসরি দেখা যাবে সনি স্পোর্টস ১ ও সনি স্পোর্টস ২ চ্যানেলে।

যারা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের রোমাঞ্চ আবারও উপভোগ করতে চান, তাদের জন্যও রয়েছে বিশেষ আয়োজন। সকাল ১০টায় টি স্পোর্টসে পুনঃপ্রচার করা হবে স্পেন বনাম বেলজিয়াম ম্যাচটি। এরপর দুপুর ১টায় একই চ্যানেলে সম্প্রচার হবে ইংল্যান্ড বনাম নরওয়ে ম্যাচের পুনঃপ্রচার।

আজকের খেলার সূচি

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ (সেমিফাইনাল)

ফ্রান্স বনাম স্পেন

রাত ১:০০টা

বিটিভি, টি স্পোর্টস, সময় টিভি

প্রথম ওয়ানডে

ইংল্যান্ড বনাম ভারত

বিকেল ৪:০০টা

সনি স্পোর্টস ১ ও সনি স্পোর্টস ২

বিশ্বকাপ ফুটবল (পুনঃপ্রচার)

স্পেন বনাম বেলজিয়াম

সকাল ১০:০০টা

টি স্পোর্টস

ইংল্যান্ড বনাম নরওয়ে

দুপুর ১:০০টা

টি স্পোর্টস


২০২৬ বিশ্বকাপ কাঁপানো ৫ বড় বিতর্ক এক নজরে

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৪ ১০:০৬:১৬
২০২৬ বিশ্বকাপ কাঁপানো ৫ বড় বিতর্ক এক নজরে
ছবি : সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ এখন শেষ পর্যায়ে। মাঠের লড়াইয়ে শিরোপার দৌড়ে চার শক্তিশালী দল টিকে থাকলেও টুর্নামেন্টজুড়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে একের পর এক বিতর্ক। রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ, রেফারিং ও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) নিয়ে প্রশ্ন, টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি, এমনকি খেলার মাঝখানে বাধ্যতামূলক হাইড্রেশন বিরতির সিদ্ধান্তও ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বিতর্কিত বিশ্বকাপ হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নিতে পারে এবারের আসর।

বিশ্বকাপ শুরুর আগেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে সোমালিয়ার আন্তর্জাতিক রেফারি ওমর আবদুলকাদির আরতানকে ঘিরে ঘটনা। বৈধ ভিসা এবং ফিফার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাননি তিনি। মার্কিন প্রশাসন তার বিরুদ্ধে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ তুললেও এ বিষয়ে কোনো প্রকাশ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। আফ্রিকার অন্যতম সেরা রেফারি হিসেবে পরিচিত আরতানের ঘটনায় ফিফার নীরব অবস্থানও প্রশ্নবিদ্ধ হয়। সমালোচকদের মতে, নিজের নিযুক্ত কর্মকর্তার পক্ষে আরও দৃঢ় অবস্থান নেওয়া উচিত ছিল বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির।

রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগও এবারের বিশ্বকাপে বড় বিতর্ক তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফলারিন বালোগুন লাল কার্ড দেখার পর নিষিদ্ধ হলেও পরে সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। এর পরই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দাবি ওঠে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানানোর পরই ফিফা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে। যদিও ফিফা এ অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, তাদের বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে পরিচালিত হয়েছে। তবুও ইউরোপের কয়েকটি ফুটবল ফেডারেশন, সাবেক খেলোয়াড় ও বিশ্লেষকেরা এই সিদ্ধান্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআর প্রযুক্তিকে ঘিরে। নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মিশরের একটি গোল আগের একটি ফাউলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাতিল করা হলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মিশরের কোচ হোসাম হাসান, অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহ এবং একাধিক সাবেক ফুটবলার। তাদের মতে, গোলের অনেক আগে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনায় ফিরে গিয়ে গোল বাতিল করা খেলার স্বাভাবিক ধারার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

একই ধরনের বিতর্ক তৈরি হয় কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ডের ম্যাচে। সুইস ফরোয়ার্ড ব্রিল এমবোলোকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান সুইজারল্যান্ডের কোচ মুরাত ইয়াকিন। তার মতে, ওই পরিস্থিতিতে খেলোয়াড়কে মাঠ থেকে বের করে দেওয়ার মতো কোনো অপরাধ ঘটেনি। ম্যাচটির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ভিএআরের ব্যবহার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়।

বিশ্বকাপের টিকিট মূল্য নিয়েও অসন্তোষের শেষ নেই। ফাইনালের দ্বিতীয় শ্রেণির একটি টিকিটের সরকারি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ৩৮০ মার্কিন ডলার। অন্যদিকে পুনর্বিক্রয় বাজারে কিছু টিকিটের দাম কয়েক লাখ ডলার ছাড়িয়ে ২০ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত পৌঁছানোর অভিযোগ ওঠে। অতিরিক্ত মূল্য নির্ধারণ এবং টিকিট বণ্টন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে ইতোমধ্যে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সমর্থকদের একাধিক সংগঠন বিষয়টি নিয়ে তদন্তেরও দাবি জানিয়েছে।

খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে ফিফা এবারের বিশ্বকাপে প্রতিটি ম্যাচে নির্দিষ্ট সময়ে হাইড্রেশন বিরতি বাধ্যতামূলক করেছে। তবে এই সিদ্ধান্তও ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। অনেক কোচ, খেলোয়াড় এবং বিশ্লেষকের দাবি, সব ভেন্যুতে সমান মাত্রার তাপমাত্রা ছিল না। ফলে প্রতিটি ম্যাচে একই নিয়ম প্রয়োগ করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচকদের একটি অংশের অভিযোগ, সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত বিজ্ঞাপনের সময় নিশ্চিত করতেই বিরতির সময় নির্ধারণ করা হয়েছে, যদিও ফিফা এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

বিশ্বকাপজুড়ে রেফারিং, প্রযুক্তির ব্যবহার, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তা শুধু মাঠের ফলাফলকেই নয়, টুর্নামেন্টের সামগ্রিক গ্রহণযোগ্যতাকেও প্রভাবিত করেছে বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, ভবিষ্যতের বড় আন্তর্জাতিক আসরগুলোতে এসব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া ফিফার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।

এদিকে মাঠের লড়াইয়ে এখন শেষ চারের উত্তেজনা তুঙ্গে। ফ্রান্স, স্পেন, আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড শিরোপার স্বপ্ন নিয়ে সেমিফাইনালে লড়বে। তবে চ্যাম্পিয়ন যেই হোক না কেন, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুধু দুর্দান্ত ফুটবলের জন্য নয়, বরং রাজনৈতিক বিতর্ক, ভিএআর বিতর্ক, টিকিট সংকট এবং ফিফার নানা সিদ্ধান্তকে ঘিরে দীর্ঘদিন আলোচিত থাকবে বলেই মনে করছেন ফুটবলবিশ্বের পর্যবেক্ষকরা।

-রাফসান


ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৩ ২০:৪৫:১৮
ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে
ছবি : সংগৃহীত

আগামী বুধবার দিবাগত রাত ১টায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একটি ঐতিহাসিক সেমিফাইনাল ম্যাচে মাঠে নামার জন্য জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে আর্জেন্টিনা দল। আজ দুপুর ১টা ৩০ মিনিটের নির্ধারিত অনুশীলন সেশনটি শেষ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে স্কালোনির শিষ্যরা। তবে অনুশীলনের আগে লিওনেল স্কালোনির কোচিং স্টাফের পক্ষ থেকে যে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, তাতে শুরুর একাদশে বড় কোনো রদবদল হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

সর্বশেষ ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার মাঠের পারফরম্যান্স ফুটবলপ্রেমীদের খুব একটা সন্তুষ্ট করতে পারেনি। সেই ম্যাচে ইউরোপের দলটি দ্বিতীয়ার্ধের ২৭তম মিনিটে ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পরও আর্জেন্টিনাকে জয় ছিনিয়ে আনতে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল। এমন নড়বড়ে পারফরম্যান্সের পরও কোচ স্কালোনি তাঁর নিয়মিত ও অভিজ্ঞ একাদশের ওপরই ভরসা রাখছেন এবং তাদের বেশিরভাগকেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রারম্ভিক লাইনআপে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এর আগে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে স্কালোনি মূলত মিশরের বিরুদ্ধে জয়ী দলটিকে অপরিবর্তিত রেখে মাঠে নামিয়েছিলেন। তাঁর পুরো কোচিং ক্যারিয়ারে এটি ছিল মাত্র চতুর্থবারের মতো একই শুরুর একাদশ টানা দুই ম্যাচে ব্যবহার করার ঘটনা। ওই ম্যাচের আগে এক সংবাদ সম্মেলনে আর্জেন্টাইন বস জানিয়েছিলেন, আফ্রিকান দলটির বিপক্ষে নাটকীয়ভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর ম্যাচটি পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে তারা ইতিবাচক দিকই বেশি খুঁজে পেয়েছেন। কোচিং স্টাফের মূল্যায়ন অনুযায়ী, দল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পেরেছিল এবং পরিষ্কার গোলের সুযোগও তৈরি করেছিল; মূল সমস্যা ছিল কেবল ফিনিশিংয়ের দুর্বলতা এবং রক্ষণের কিছু বিচ্ছিন্ন ভুল।

তবে আসন্ন সেমিফাইনালে নিয়মিত খেলোয়াড়দের ওপর আস্থা রাখার কারণটি কিছুটা ভিন্ন। এর পেছনে কাজ করছে খেলোয়াড়দের প্রতি কোচের দীর্ঘদিনের বিশ্বাস, দলের দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়ার সাথে তাদের গভীর বোঝাপড়া এবং কাতার বিশ্বকাপের মতোই তারা নিজেদের খোলস ছেড়ে সেরা ফর্মে ফিরবে—এমন জোরালো প্রত্যাশা।

সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে আলবিসেলেস্তেদের মাঝমাঠ নিয়ে। লিয়ান্দ্রো পারেদেস আগের ম্যাচে পেশিতে টান অনুভব করায় কিছুটা অস্বস্তিতে থাকলেও, মিডফিল্ডের বাকি খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সও প্রত্যাশার তুলনায় বেশ ম্লান ছিল। তবে এই সংবেদনশীল পজিশনে নতুন কোনো মুখ দেখা যাবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এর বাইরে কিছু নির্দিষ্ট পজিশনে কৌশলগত কারণে ছোটখাটো পরিবর্তন বা সমন্বয় দেখা যেতে পারে, যদিও কারা একাদশে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন তা এখনো ধোঁয়াশায় ঢাকা। সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোর পারফরম্যান্স ও ফর্ম বিবেচনা করে ধারণা করা হচ্ছে, নাহুয়েল মোলিনার পরিবর্তে গনসালো মন্তিয়েল এবং অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের জায়গায় নিকোলাস গনসালেসকে খেলানো হতে পারে।

কাতার বিশ্বকাপের কৌশলের মতোই, এবারও স্কালোনি ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাঁর শুরুর একাদশ সম্পূর্ণ গোপন রাখার নীতি বজায় রাখছেন। স্টেডিয়ামের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার আগে দলের চূড়ান্ত বৈঠকেই কেবল খেলোয়াড়রা জানতে পারবেন কারা মাঠে নামছেন। এর আগে আজকের অনুশীলন, মঙ্গলবারের প্রস্তুতি সেশন এবং কোচের আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের পর সম্ভাব্য পরিবর্তনের বিষয়ে আরও কিছুটা স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

সূত্র: টিওয়াইস্পোর্টস

পাঠকের মতামত: