মনে হচ্ছে এই বিশ্বকাপ আর্জেন্টিনার দিকেই পরিচালিত হচ্ছে: মিশরীয় কোচ

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৪ ২১:৪৬:১৬
মনে হচ্ছে এই বিশ্বকাপ আর্জেন্টিনার দিকেই পরিচালিত হচ্ছে: মিশরীয় কোচ
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর হাইভোল্টেজ ম্যাচে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির সাথে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের সময় বর্ণবাদবিরোধী কোনো ইঙ্গিতপূর্ণ বা আপত্তিকর অঙ্গভঙ্গি করেননি বলে জোরালো দাবি করেছেন মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। একই সাথে তিনি এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করে বলেছেন, মাঠের সেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ হয়ে কেঁদে ফেলেছিলেন লিওনেল মেসি।

গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত রাউন্ড অব ১৬-এর সেই স্মরণীয় ম্যাচে দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩-২ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল আর্জেন্টিনা। এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে আলবিসেলেস্তেরা এখন সেমিফাইনালের মঞ্চে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সানের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ম্যাচের শেষ দিকে মেসির সাথে চরম তর্কাতর্কির একপর্যায়ে দুই হাত বুকের ওপর ক্রস করে একটি বিশেষ অঙ্গভঙ্গি করতে দেখা যায় ৫৯ বছর বয়সী মিশরীয় কোচ হাসানকে। তাঁর এমন আচরণের কারণে ম্যাচ রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে হলুদ কার্ড দেখান। মাঠের ওই অঙ্গভঙ্গিকে ফুটবলপ্রেমী ও বিশ্লেষকদের অনেকেই বর্ণবাদবিরোধী বা বৈষম্যমূলক ইশারা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছিলেন।

তবে এই বিতর্ক নিয়ে অবশেষে মুখ খুলেছেন হোসাম হাসান। বিষয়টি স্পষ্ট করে তিনি বলেন, ওটা বর্ণবাদ সংক্রান্ত কোনো ইশারা ছিল না। আমি মূলত দুই হাত বুকের ওপর ক্রস করে রেফারিকে বোঝাতে চেয়েছিলাম যে, তিনি মাঠে ন্যায্য বিচার করছেন না। তিনি আরও যোগ করেন, ওই সময় মেসি আমার খুব কাছে চলে আসে এবং ক্ষুব্ধ হয়ে বারবার বলতে থাকে—কেন, কেন, কেন? এরপর সে আরও কিছু কথা বলেছিল।

মিশরীয় কোচ উল্লেখ করেন, ফুটবল ক্যারিয়ারে ম্যাচ চলাকালীন সাধারণত মেসিকে খুব একটা তর্কে জড়াতে দেখা যায় না। কিন্তু ওই ঘটনার পর তীব্র মানসিক চাপের কারণে আবেগের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে সে মাঠে কেঁদে ফেলেছিল। হাসান বলেন, আমরা আর্জেন্টিনার জন্য অত্যন্ত কঠিন এক প্রতিপক্ষ ছিলাম এবং ম্যাচের একটা বড় সময় তাদের চরম কোণঠাসা করে রেখেছিলাম। তবে মেসির বিশাল ফুটবল ক্যারিয়ারের প্রতি গভীর সম্মান দেখিয়ে আমি তার কথার কোনো পাল্টা জবাব দিইনি এবং আমাদের মধ্যে যেন আর কোনো কথার সংঘাত না বাড়ে, সেই চেষ্টাই করেছি।

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের এই ম্যাচ থেকে বিদায় নেওয়ার পর হোসাম হাসান এবং মিশরের ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকো ম্যাচ রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ের পক্ষপাতমূলক আচরণের তীব্র সমালোচনা করেন। ম্যাচে মিশরের একটি বৈধ গোল বাতিল করার পাশাপাশি আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলটি হওয়ার ঠিক আগে লিভারপুল তারকা মোহাম্মদ সালাহকে ডি-বক্সের ভেতর ফাউল করা হলেও পেনাল্টি দেওয়া হয়নি বলে তারা গুরুতর অভিযোগ তোলেন।

রেফারির এমন সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে হাসান বলেন, পুরো ম্যাচে আমরা ন্যূনতম সম্মান কিংবা ‘ফেয়ার প্লে’-এর কোনো নজির দেখিনি। মাঠের পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছিল, আর্জেন্টিনার তারকাদের পক্ষ থেকে রেফারির ওপর একটা প্রচ্ছন্ন মানসিক চাপ ছিল, যার ফলেই একের পর এক এমন একপাক্ষিক সিদ্ধান্ত এসেছে।

তিনি হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, মানুষের বাস্তব জীবন অন্যায্য হতে পারে, এই পৃথিবীটাও হয়তো অন্যায্য। সেটা মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু স্পোর্টসম্যানশিপ বা খেলাধুলার জগতেও কেন ন্যায্যতা থাকবে না? এই অন্যায্য ফলাফল কিংবা ম্যাচটি যেভাবে পরিচালনা করা হয়েছে, তা আমি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। রেফারি সম্পূর্ণ পক্ষপাতদুষ্ট ছিলেন দাবি করে হোসাম হাসান বলেন, তিনি একটি পুরো জাতির চার বছরের কঠোর পরিশ্রম ও স্বপ্ন এক নিমেষে নষ্ট করে দিয়েছেন। মাঠের সিদ্ধান্তগুলো দেখে মনে হচ্ছে, এই বিশ্বকাপটি যেন আগে থেকেই আর্জেন্টিনার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দিকেই পরিচালিত করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, রাউন্ড অব ১৬-এর সেই রোমাঞ্চকর ম্যাচে প্রথমে ইয়াসের ইব্রাহিমের গোলে লিড নিয়ে এগিয়ে যায় মিশর। এরপর প্রথমার্ধে মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর ৩৯ বছর বয়সী মহাতারকা মেসির নেওয়া একটি পেনাল্টিও দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন। এর কিছুক্ষণ পর একটি গোল বাতিল হওয়ার ধাক্কা সামলে মোস্তফা জিকো দলের হয়ে দ্বিতীয় গোল করলে ম্যাচটিতে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে আর্জেন্টিনাকে স্তব্ধ করে দেয় মিশর।

তবে ম্যাচের শেষভাগে এসে নিজেদের চিরচেনা রুপে ফেরে আলবিসেলেস্তেরা। ডিফেন্ডার ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, অধিনায়ক লিওনেল মেসি এবং মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজের পর পর তিনটি গোলে অবিশ্বাস্য এক প্রত্যাবর্তন করে ৩-২ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা। পরবর্তীতে কোয়ার্টার ফাইনালের মঞ্চে অতিরিক্ত সময়ের কঠিন লড়াইয়ে সুইজারল্যান্ডকে পরাস্ত করে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা, যেখানে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তাদের পরবর্তী প্রতিপক্ষ শক্তিশালী ইংল্যান্ড।

/আশিক


বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের মহারণ: স্প্যানিশদের রুখে দিতে প্রস্তুত আত্মবিশ্বাসী ফ্রান্স

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৪ ২১:২৯:৪৯
বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের মহারণ: স্প্যানিশদের রুখে দিতে প্রস্তুত আত্মবিশ্বাসী ফ্রান্স
ছবি : সংগৃহীত

ফিফা বিশ্বকাপের মেগা সেমিফাইনালে শক্তিশালী স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার আগে পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী ফরাসি শিবির। ফ্রান্স দলের প্রধান কোচ দিদিয়ের দেশম স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তা ও পারফরম্যান্স যতই দুর্দান্ত হোক না কেন, তাদের একমাত্র লক্ষ্য জয় ছিনিয়ে নিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করা।

আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জয় পেলে বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে প্রথম কোচ হিসেবে তিনটি ভিন্ন আসরে কোনো দলকে ফাইনালে তোলার অনন্য এক বিশ্বরেকর্ড গড়বেন দেশম। এর আগে ২০১৮ সালে ফ্রান্সকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করার পাশাপাশি ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপেও দলকে ফাইনাল পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছিলেন এই ফরাসি মাস্টারমাইন্ড। ম্যাচ-পূর্ববর্তী আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে দেশম বলেন, স্পেন নিঃসন্দেহে একটি অসাধারণ দল। তবে আমরা আমাদের নিজস্ব শক্তি, সামর্থ্য ও কৌশল সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন। ফাইনালে ওঠার এই সুবর্ণ সুযোগ কাজে লাগাতে দুই দলই মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের সর্বোচ্চটা উজাড় করে দেবে।

স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে ফরাসি ফুটবলারদের শক্তিমত্তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছেন উল্লেখ করে দেশম জানান, ফরাসি ডাগআউটও প্রতিপক্ষের প্রতিটি বিভাগের শক্তি ও দুর্বলতা নিয়ে বিস্তারিত হোমওয়ার্ক শেষ করেছে। বিশেষ করে স্পেনের উদীয়মান তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালকে নিয়ে ফরাসি কোচ বলেন, মাঠের যেকোনো পরিস্থিতিতে ইয়ামালকে আটকে রাখা যেকোনো রক্ষণভাগের জন্যই বেশ কঠিন। তবে ফ্রান্সের আক্রমণভাগের তারকাদের সামলানোও স্প্যানিশ ডিফেন্ডারদের জন্য মোটেও সহজ কাজ হবে না।

স্পেনের খেলার বিশেষ ধরন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে দেশম উল্লেখ করেন, স্প্যানিশরা বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হোল্ডে রাখতে পছন্দ করে, প্রতিপক্ষের ওপর তীব্র আক্রমণাত্মক হাই-প্রেসিং ফুটবল খেলে এবং তাদের ডিফেন্স লাইনও বেশ সুসংগঠিত। তাই এই সেমিফাইনালে মূল পার্থক্য গড়ে দেবে কোন দল মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারছে এবং বক্সে পাওয়া সুযোগগুলো নিখুঁত ফিনিশিংয়ে কাজে লাগাতে পারছে। তবে এই ম্যাচকে উয়েফা ইউরোর কোনো প্রতিশোধের লড়াই হিসেবে দেখতে নারাজ দেশম। তাঁর মতে, এটি শুধুই বিশ্বমঞ্চের ফাইনালে ওঠার এক নতুন যুদ্ধ, যেখানে দুই দলই নিজেদের সেরা ফুটবল উপহার দিতে চাইবে।

দলের অধিনায়ক ও মূল ভরসা কিলিয়ান এমবাপ্পের ফিটনেস নিয়েও দারুণ আশাবাদী ফ্রান্স কোচ। গোড়ালির চোটের কারণে কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করা হলেও এমবাপ্পে নিয়মিত পূর্ণাঙ্গ অনুশীলন করছেন এবং ম্যাচের শুরু থেকেই মাঠে নামার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। বোস্টন থেকে ডালাসে দীর্ঘ ভ্রমণের কারণে খেলোয়াড়দের ক্লান্তির সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে দেশম বলেন, গ্রুপপর্বে নিজেদের গ্রুপে শীর্ষে থাকার কারণে দল পরিকল্পনা অনুযায়ী গুছিয়ে ওঠার পর্যাপ্ত সময় পেয়েছে এবং ম্যাচের আগে ফুটবলাররা চার দিনের পূর্ণ বিশ্রামও উপভোগ করেছে।

স্পেনকে এবারের বিশ্ব আসরের অন্যতম সেরা ও ভারসাম্যপূর্ণ দল হিসেবে অভিহিত করে দেশম জানান, আক্রমণ ও রক্ষণ—উভয় বিভাগেই তারা দারুণ ফুটবল খেলছে। তবে ফ্রান্সও নিজেদের সেরা ফর্ম প্রদর্শন করতে মুখিয়ে আছে। ম্যাচের সম্ভাব্য একাদশ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে দেশম স্বীকার করেন যে, দলের অরেলিয়েন চুয়ামেনি, মানু কোনো, দেজিরে দুয়ে এবং ব্র্যাডলি বারকোলার মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন।

তাই চূড়ান্ত একাদশ বাছাই করা তাঁর জন্য বেশ কঠিন একটি সিদ্ধান্ত। চুয়ামেনির চোটের অবস্থা নিয়ে কোচ জানান, তিনি এখনো শতভাগ ম্যাচ ফিটনেসে না ফিরলেও মাঠে নামার মতো শারীরিক অবস্থায় আছেন। অন্যদিকে দেজিরে দুয়ে ও বারকোলার মধ্যে কে শুরুর একাদশে থাকবেন, তা ম্যাচের মূল কৌশল ও মাঠের পরিস্থিতি বিবেচনা করে শেষ মুহূর্তে নির্ধারণ করা হবে।

সূত্র: এএস স্পোর্টস


বিশ্বকাপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় সেমিফাইনাল: ফ্রান্সের তুরুপের তাস যখন এমবাপ্পে

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৪ ২০:৩৯:৫৩
বিশ্বকাপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় সেমিফাইনাল: ফ্রান্সের তুরুপের তাস যখন এমবাপ্পে
ছবি : সংগৃহীত

ফুটবল বিশ্বকাপের মেগা সেমিফাইনালের আগে ফরাসি শিবিরে বড় ধরনের স্বস্তির বার্তা মিলেছে। চোটের ধাক্কা কাটিয়ে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠেছেন ফ্রান্স দলের অধিনায়ক ও প্রধান তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। ফলে স্পেনের বিরুদ্ধে হাইভোল্টেজ সেমিফাইনাল ম্যাচে তাঁর মাঠে নামা নিয়ে আর কোনো অনিশ্চয়তা নেই বলে নিশ্চিত করেছেন ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম।

কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর বিপক্ষে ২-০ গোলে জয়ী ম্যাচে খেলার শেষ দিকে গোড়ালিতে সামান্য আঘাত পেয়েছিলেন এমবাপ্পে। এরপর সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে সেমিফাইনালের আগের প্রস্তুতি সেশনে তাঁকে পুরো সময় মাঠে না রেখে কিছুটা বাড়তি বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল। তবে অধিনায়কের এই হালকা চোট নিয়ে ফরাসি ডাগআউট যে মোটেও চিন্তিত নয়, তা স্পষ্ট করেছেন দেশম। ম্যাচ-পূর্ববর্তী আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে ফ্রান্সের প্রধান কোচ বলেন, কিলিয়ান এখন পুরোপুরি ভালো আছেন এবং নিয়মিত অনুশীলনও করেছেন। তবে সুরক্ষার স্বার্থে একটি বিশেষ ড্রিল সেশনে যেখানে ১৫ মিনিট থাকার কথা ছিল, সেখানে তাঁকে ১০ মিনিট পর তুলে নেওয়া হয়।

এদিকে ফরাসি ফুটবল দলের চিকিৎসকের দলও (মেডিক্যাল স্টাফ) পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানিয়েছে যে, এমবাপ্পের এই চোট অত্যন্ত সাধারণ ও মৃদু প্রকৃতির। তাই স্পেনের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ফরাসি একাদশে তাঁর অন্তর্ভুক্তিতে কোনো ধরনের বাধা বা ঝুঁকি নেই।

চলতি বিশ্বকাপে ফরাসিদের আক্রমণভাগের মূল চালিকাশক্তি ও ভরসার প্রতীক কিলিয়ান এমবাপ্পে। তাঁর অতিমানবীয় গতি, নিখুঁত গোল করার সক্ষমতা এবং মাঠের নেতৃত্বই ফ্রান্সকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপার স্বপ্ন দেখাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই, তাকে নিয়ে তৈরি হওয়া চোটের কালো মেঘ কেটে যাওয়ায় পুরো ফরাসি শিবিরে চনমনে ভাব ফিরে এসেছে। বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় ও জমজমাট এই সেমিফাইনালে আজ রাত ২টায় যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে ইউরোপের দুই পরাশক্তি স্পেন ও ফ্রান্স একে অপরের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে, আর এমবাপ্পের শতভাগ ফিটনেস এই দ্বৈরথের উত্তেজনাকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

/আশিক


ফ্রান্স-স্পেন মহারণ, সুপারকম্পিউটার কাকে এগিয়ে রাখছে

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৪ ১১:০৭:৩৫
ফ্রান্স-স্পেন মহারণ, সুপারকম্পিউটার কাকে এগিয়ে রাখছে
ছবি : সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত ম্যাচগুলোর একটি আজ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দিবাগত রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে ইউরোপের দুই ফুটবল পরাশক্তি ফ্রান্স ও স্পেন। শিরোপার অন্যতম দুই দাবিদারের এই লড়াইকে অনেকেই আগাম ফাইনাল হিসেবে দেখছেন। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, তারকাসমৃদ্ধ স্কোয়াড এবং পরিসংখ্যান—সব মিলিয়ে ম্যাচটি ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ তুঙ্গে।

পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান অপটা সুপারকম্পিউটার ২৫ হাজার সিমুলেশনের ভিত্তিতে ম্যাচের সম্ভাব্য ফল বিশ্লেষণ করেছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ফ্রান্সের জয়ের সম্ভাবনা ৪৩.৯ শতাংশ, স্পেনের জয়ের সম্ভাবনা ২৯ শতাংশ এবং ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর সম্ভাবনা ২৭.১ শতাংশ। সব মিলিয়ে ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনাও ফ্রান্সের বেশি, যা ৫৭.১ শতাংশ। পুরো বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনায়ও এগিয়ে রয়েছে ফরাসিরা। অপটার পূর্বাভাসে ফ্রান্সের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ৩৪.৬ শতাংশ, যেখানে স্পেনের সম্ভাবনা ২৩.৮ শতাংশ।

এই ম্যাচটি ফ্রান্সের প্রধান কোচ দিদিয়ের দেশমের জন্যও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বিশ্বকাপে এটি হবে তার ২৬তম ম্যাচ পরিচালনা, যার মাধ্যমে তিনি জার্মান কিংবদন্তি হেলমুট শ্যোনকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচে দায়িত্ব পালনকারী কোচ হওয়ার রেকর্ড গড়বেন। অন্যদিকে স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেও দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন। তার অধীনে বিশ্বকাপ ও ইউরো মিলিয়ে স্পেন টানা ১৩ ম্যাচ অপরাজিত রয়েছে।

কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে টানা ষষ্ঠ জয় তুলে নিয়েছে ফ্রান্স। আজ জয় পেলে টানা সপ্তম বিশ্বকাপ জয় তুলে নেওয়ার বিরল কীর্তি গড়বে তারা। ইউরোপের ইতিহাসে এর আগে কেবল ইতালিই ১৯৩৪ ও ১৯৩৮ বিশ্বকাপে এমন সাফল্য অর্জন করেছিল। এটি ফ্রান্সের অষ্টম বিশ্বকাপ সেমিফাইনালও। জার্মানি ছাড়া আর কোনো দল এতবার শেষ চারে খেলতে পারেনি। ১৯৯৮, ২০০৬, ২০১৮ ও ২০২২ সালের বিশ্বকাপে নিজেদের সর্বশেষ চারটি সেমিফাইনালেই জয় পেয়েছে ফরাসিরা। শুধু তাই নয়, শেষ তিনটি সেমিফাইনালে তারা কোনো গোলও হজম করেনি। আজ জয় পেলে জার্মানি ও ব্রাজিলের পর টানা তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার কীর্তিও গড়বে দেশমের দল।

ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় ভরসা কিলিয়ান এমবাপ্পে। কোয়ার্টার ফাইনালে সামান্য গোড়ালির চোট পেলেও সেমিফাইনালে তার খেলার সম্ভাবনা উজ্জ্বল। এবারের বিশ্বকাপে আট গোল করে তিনি লিওনেল মেসির সঙ্গে যৌথভাবে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষে রয়েছেন। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এমবাপ্পের মোট গোল এখন ১২টি, যা ইতিহাসে সর্বোচ্চ। তবে আগের দুই বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে তিনি গোল করতে পারেননি। সেই আক্ষেপ ঘোচানোর লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবেন ফরাসি অধিনায়ক। সতীর্থ ওসমান দেম্বেলের সঙ্গে তার বোঝাপড়াও এবারের আসরে ফ্রান্সের অন্যতম বড় শক্তি হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে স্পেন পুরো টুর্নামেন্টে নিজেদের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে রক্ষণভাগকে। কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে হজম করা গোলটিই এবারের বিশ্বকাপে তাদের বিপক্ষে একমাত্র গোল। শেষ দুটি নকআউট ম্যাচে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নেমে জয়সূচক গোল করে আলোচনায় উঠে এসেছেন মিকেল মেরিনো। বিশ্বকাপ ইতিহাসে নকআউট পর্বে বদলি হিসেবে নেমে টানা দুই ম্যাচে ম্যাচজয়ী গোল করা প্রথম ফুটবলারও তিনি।

২০১৮ সালের পর বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে স্পেন খেলেছে ২৭টি ম্যাচ। এর মধ্যে মাত্র একটিতে হেরেছে লা রোহা। ২০২২ বিশ্বকাপে জাপানের কাছে পরাজয়ের পর থেকে টানা ১৪ ম্যাচ অপরাজিত রয়েছে তারা। এই সময়ে মাত্র পাঁচটি গোল হজম করেছে স্প্যানিশরা এবং নয়টি ম্যাচে ক্লিন শিট রেখেছে। আজ জয় পেলে ইউরোপের প্রথম দল হিসেবে বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে টানা আটটি নকআউট ম্যাচ জয়ের নতুন ইতিহাস গড়বে স্পেন।

ফিটনেসের দিক থেকে দুই দলই প্রায় পূর্ণ শক্তির। ফ্রান্স শিবিরে উইলিয়াম সালিবা, দায়ো উপামেকানো ও অরেলিয়েন চুয়ামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে কিছুটা শঙ্কা থাকলেও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। স্পেনের নিকো উইলিয়ামস চোট কাটিয়ে ফিরতে প্রস্তুত। কাঁধের সমস্যার উন্নতি হলে ইয়েরেমি পিনোকেও দলে দেখা যেতে পারে।

বিশ্বকাপে এটি হবে ফ্রান্স ও স্পেনের মাত্র দ্বিতীয় মুখোমুখি লড়াই। ২০০৬ সালের শেষ ষোলোতে প্রথম দেখায় ৩-১ গোলে জয় পেয়েছিল ফ্রান্স। তবে সাম্প্রতিক ইতিহাসে এগিয়ে স্পেন। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সর্বশেষ ১০ ম্যাচের সাতটিতেই জয় পেয়েছে লা রোহা। ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনালে ২-১ এবং ২০২৫ সালের নেশনস লিগে ৫-৪ ব্যবধানে ফ্রান্সকে হারিয়েছিল স্প্যানিশরা।

-রাফসান


আজকের খেলার সূচি, বিশ্বকাপে জমজমাট সেমিফাইনাল

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৪ ১০:১৬:৪২
আজকের খেলার সূচি, বিশ্বকাপে জমজমাট সেমিফাইনাল
ছবি : সংগৃহীত

ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য মঙ্গলবারের দিনটি হতে যাচ্ছে দারুণ ব্যস্ত। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ইউরোপের দুই পরাশক্তি ফ্রান্স ও স্পেন। একই দিনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শুরু হচ্ছে ইংল্যান্ড ও ভারতের মধ্যকার ওয়ানডে সিরিজ। পাশাপাশি টেলিভিশনে থাকছে বিশ্বকাপের দুটি কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের পুনঃপ্রচারও।

সবচেয়ে বেশি নজর থাকবে বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে। বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় মাঠে নামবে বর্তমান সময়ের দুই অন্যতম শক্তিশালী দল ফ্রান্স ও স্পেন। টুর্নামেন্টজুড়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নেওয়া দুই দলই ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে মরিয়া। কিলিয়ান এমবাপ্পের নেতৃত্বাধীন ফ্রান্স যেমন আক্রমণভাগে আত্মবিশ্বাসী, তেমনি স্পেনও দুর্দান্ত রক্ষণ ও বল দখলের ফুটবলে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখছে। তাই সেমিফাইনালটি কৌশল, গতি ও দক্ষতার এক জমজমাট লড়াই হওয়ার প্রত্যাশা করছেন ফুটবল বিশ্লেষকেরা। ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে বিটিভি, টি স্পোর্টস ও সময় টিভি।

ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্যও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। বিকেল ৪টায় শুরু হবে ইংল্যান্ড ও ভারতের মধ্যকার প্রথম ওয়ানডে। দুই পরাশক্তির এই লড়াই নতুন সিরিজের সূচনা করবে। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে দুই দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। খেলা সরাসরি দেখা যাবে সনি স্পোর্টস ১ ও সনি স্পোর্টস ২ চ্যানেলে।

যারা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের রোমাঞ্চ আবারও উপভোগ করতে চান, তাদের জন্যও রয়েছে বিশেষ আয়োজন। সকাল ১০টায় টি স্পোর্টসে পুনঃপ্রচার করা হবে স্পেন বনাম বেলজিয়াম ম্যাচটি। এরপর দুপুর ১টায় একই চ্যানেলে সম্প্রচার হবে ইংল্যান্ড বনাম নরওয়ে ম্যাচের পুনঃপ্রচার।

আজকের খেলার সূচি

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ (সেমিফাইনাল)

ফ্রান্স বনাম স্পেন

রাত ১:০০টা

বিটিভি, টি স্পোর্টস, সময় টিভি

প্রথম ওয়ানডে

ইংল্যান্ড বনাম ভারত

বিকেল ৪:০০টা

সনি স্পোর্টস ১ ও সনি স্পোর্টস ২

বিশ্বকাপ ফুটবল (পুনঃপ্রচার)

স্পেন বনাম বেলজিয়াম

সকাল ১০:০০টা

টি স্পোর্টস

ইংল্যান্ড বনাম নরওয়ে

দুপুর ১:০০টা

টি স্পোর্টস


২০২৬ বিশ্বকাপ কাঁপানো ৫ বড় বিতর্ক এক নজরে

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৪ ১০:০৬:১৬
২০২৬ বিশ্বকাপ কাঁপানো ৫ বড় বিতর্ক এক নজরে
ছবি : সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ এখন শেষ পর্যায়ে। মাঠের লড়াইয়ে শিরোপার দৌড়ে চার শক্তিশালী দল টিকে থাকলেও টুর্নামেন্টজুড়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে একের পর এক বিতর্ক। রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ, রেফারিং ও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) নিয়ে প্রশ্ন, টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি, এমনকি খেলার মাঝখানে বাধ্যতামূলক হাইড্রেশন বিরতির সিদ্ধান্তও ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বিতর্কিত বিশ্বকাপ হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নিতে পারে এবারের আসর।

বিশ্বকাপ শুরুর আগেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে সোমালিয়ার আন্তর্জাতিক রেফারি ওমর আবদুলকাদির আরতানকে ঘিরে ঘটনা। বৈধ ভিসা এবং ফিফার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাননি তিনি। মার্কিন প্রশাসন তার বিরুদ্ধে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ তুললেও এ বিষয়ে কোনো প্রকাশ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। আফ্রিকার অন্যতম সেরা রেফারি হিসেবে পরিচিত আরতানের ঘটনায় ফিফার নীরব অবস্থানও প্রশ্নবিদ্ধ হয়। সমালোচকদের মতে, নিজের নিযুক্ত কর্মকর্তার পক্ষে আরও দৃঢ় অবস্থান নেওয়া উচিত ছিল বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির।

রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগও এবারের বিশ্বকাপে বড় বিতর্ক তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফলারিন বালোগুন লাল কার্ড দেখার পর নিষিদ্ধ হলেও পরে সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। এর পরই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দাবি ওঠে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানানোর পরই ফিফা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে। যদিও ফিফা এ অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, তাদের বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে পরিচালিত হয়েছে। তবুও ইউরোপের কয়েকটি ফুটবল ফেডারেশন, সাবেক খেলোয়াড় ও বিশ্লেষকেরা এই সিদ্ধান্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআর প্রযুক্তিকে ঘিরে। নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মিশরের একটি গোল আগের একটি ফাউলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাতিল করা হলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মিশরের কোচ হোসাম হাসান, অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহ এবং একাধিক সাবেক ফুটবলার। তাদের মতে, গোলের অনেক আগে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনায় ফিরে গিয়ে গোল বাতিল করা খেলার স্বাভাবিক ধারার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

একই ধরনের বিতর্ক তৈরি হয় কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ডের ম্যাচে। সুইস ফরোয়ার্ড ব্রিল এমবোলোকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান সুইজারল্যান্ডের কোচ মুরাত ইয়াকিন। তার মতে, ওই পরিস্থিতিতে খেলোয়াড়কে মাঠ থেকে বের করে দেওয়ার মতো কোনো অপরাধ ঘটেনি। ম্যাচটির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ভিএআরের ব্যবহার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়।

বিশ্বকাপের টিকিট মূল্য নিয়েও অসন্তোষের শেষ নেই। ফাইনালের দ্বিতীয় শ্রেণির একটি টিকিটের সরকারি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ৩৮০ মার্কিন ডলার। অন্যদিকে পুনর্বিক্রয় বাজারে কিছু টিকিটের দাম কয়েক লাখ ডলার ছাড়িয়ে ২০ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত পৌঁছানোর অভিযোগ ওঠে। অতিরিক্ত মূল্য নির্ধারণ এবং টিকিট বণ্টন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে ইতোমধ্যে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সমর্থকদের একাধিক সংগঠন বিষয়টি নিয়ে তদন্তেরও দাবি জানিয়েছে।

খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে ফিফা এবারের বিশ্বকাপে প্রতিটি ম্যাচে নির্দিষ্ট সময়ে হাইড্রেশন বিরতি বাধ্যতামূলক করেছে। তবে এই সিদ্ধান্তও ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। অনেক কোচ, খেলোয়াড় এবং বিশ্লেষকের দাবি, সব ভেন্যুতে সমান মাত্রার তাপমাত্রা ছিল না। ফলে প্রতিটি ম্যাচে একই নিয়ম প্রয়োগ করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচকদের একটি অংশের অভিযোগ, সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত বিজ্ঞাপনের সময় নিশ্চিত করতেই বিরতির সময় নির্ধারণ করা হয়েছে, যদিও ফিফা এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

বিশ্বকাপজুড়ে রেফারিং, প্রযুক্তির ব্যবহার, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তা শুধু মাঠের ফলাফলকেই নয়, টুর্নামেন্টের সামগ্রিক গ্রহণযোগ্যতাকেও প্রভাবিত করেছে বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, ভবিষ্যতের বড় আন্তর্জাতিক আসরগুলোতে এসব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া ফিফার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।

এদিকে মাঠের লড়াইয়ে এখন শেষ চারের উত্তেজনা তুঙ্গে। ফ্রান্স, স্পেন, আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড শিরোপার স্বপ্ন নিয়ে সেমিফাইনালে লড়বে। তবে চ্যাম্পিয়ন যেই হোক না কেন, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুধু দুর্দান্ত ফুটবলের জন্য নয়, বরং রাজনৈতিক বিতর্ক, ভিএআর বিতর্ক, টিকিট সংকট এবং ফিফার নানা সিদ্ধান্তকে ঘিরে দীর্ঘদিন আলোচিত থাকবে বলেই মনে করছেন ফুটবলবিশ্বের পর্যবেক্ষকরা।

-রাফসান


ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৩ ২০:৪৫:১৮
ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে
ছবি : সংগৃহীত

আগামী বুধবার দিবাগত রাত ১টায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একটি ঐতিহাসিক সেমিফাইনাল ম্যাচে মাঠে নামার জন্য জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে আর্জেন্টিনা দল। আজ দুপুর ১টা ৩০ মিনিটের নির্ধারিত অনুশীলন সেশনটি শেষ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে স্কালোনির শিষ্যরা। তবে অনুশীলনের আগে লিওনেল স্কালোনির কোচিং স্টাফের পক্ষ থেকে যে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, তাতে শুরুর একাদশে বড় কোনো রদবদল হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

সর্বশেষ ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার মাঠের পারফরম্যান্স ফুটবলপ্রেমীদের খুব একটা সন্তুষ্ট করতে পারেনি। সেই ম্যাচে ইউরোপের দলটি দ্বিতীয়ার্ধের ২৭তম মিনিটে ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পরও আর্জেন্টিনাকে জয় ছিনিয়ে আনতে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল। এমন নড়বড়ে পারফরম্যান্সের পরও কোচ স্কালোনি তাঁর নিয়মিত ও অভিজ্ঞ একাদশের ওপরই ভরসা রাখছেন এবং তাদের বেশিরভাগকেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রারম্ভিক লাইনআপে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এর আগে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে স্কালোনি মূলত মিশরের বিরুদ্ধে জয়ী দলটিকে অপরিবর্তিত রেখে মাঠে নামিয়েছিলেন। তাঁর পুরো কোচিং ক্যারিয়ারে এটি ছিল মাত্র চতুর্থবারের মতো একই শুরুর একাদশ টানা দুই ম্যাচে ব্যবহার করার ঘটনা। ওই ম্যাচের আগে এক সংবাদ সম্মেলনে আর্জেন্টাইন বস জানিয়েছিলেন, আফ্রিকান দলটির বিপক্ষে নাটকীয়ভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর ম্যাচটি পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে তারা ইতিবাচক দিকই বেশি খুঁজে পেয়েছেন। কোচিং স্টাফের মূল্যায়ন অনুযায়ী, দল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পেরেছিল এবং পরিষ্কার গোলের সুযোগও তৈরি করেছিল; মূল সমস্যা ছিল কেবল ফিনিশিংয়ের দুর্বলতা এবং রক্ষণের কিছু বিচ্ছিন্ন ভুল।

তবে আসন্ন সেমিফাইনালে নিয়মিত খেলোয়াড়দের ওপর আস্থা রাখার কারণটি কিছুটা ভিন্ন। এর পেছনে কাজ করছে খেলোয়াড়দের প্রতি কোচের দীর্ঘদিনের বিশ্বাস, দলের দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়ার সাথে তাদের গভীর বোঝাপড়া এবং কাতার বিশ্বকাপের মতোই তারা নিজেদের খোলস ছেড়ে সেরা ফর্মে ফিরবে—এমন জোরালো প্রত্যাশা।

সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে আলবিসেলেস্তেদের মাঝমাঠ নিয়ে। লিয়ান্দ্রো পারেদেস আগের ম্যাচে পেশিতে টান অনুভব করায় কিছুটা অস্বস্তিতে থাকলেও, মিডফিল্ডের বাকি খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সও প্রত্যাশার তুলনায় বেশ ম্লান ছিল। তবে এই সংবেদনশীল পজিশনে নতুন কোনো মুখ দেখা যাবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এর বাইরে কিছু নির্দিষ্ট পজিশনে কৌশলগত কারণে ছোটখাটো পরিবর্তন বা সমন্বয় দেখা যেতে পারে, যদিও কারা একাদশে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন তা এখনো ধোঁয়াশায় ঢাকা। সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোর পারফরম্যান্স ও ফর্ম বিবেচনা করে ধারণা করা হচ্ছে, নাহুয়েল মোলিনার পরিবর্তে গনসালো মন্তিয়েল এবং অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের জায়গায় নিকোলাস গনসালেসকে খেলানো হতে পারে।

কাতার বিশ্বকাপের কৌশলের মতোই, এবারও স্কালোনি ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাঁর শুরুর একাদশ সম্পূর্ণ গোপন রাখার নীতি বজায় রাখছেন। স্টেডিয়ামের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার আগে দলের চূড়ান্ত বৈঠকেই কেবল খেলোয়াড়রা জানতে পারবেন কারা মাঠে নামছেন। এর আগে আজকের অনুশীলন, মঙ্গলবারের প্রস্তুতি সেশন এবং কোচের আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের পর সম্ভাব্য পরিবর্তনের বিষয়ে আরও কিছুটা স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

সূত্র: টিওয়াইস্পোর্টস


ইনস্টাগ্রাম থেকে রিয়াল মাদ্রিদের পরিচয় সরালেন ভিনিসিয়ুস, ফুটবল বিশ্বে তোলপাড়

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৩ ১৯:৫৭:২৮
ইনস্টাগ্রাম থেকে রিয়াল মাদ্রিদের পরিচয় সরালেন ভিনিসিয়ুস, ফুটবল বিশ্বে তোলপাড়
ছবি : সংগৃহীত

ফুটবল অঙ্গনে নাটকীয় এক গুঞ্জনের জন্ম দিয়ে নতুন করে সংবাদ শিরোনামে এসেছেন রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। নিজের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল থেকে স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের সব ধরনের পরিচয় ও সম্পৃক্ততা মুছে ফেলেছেন এই তারকা উইঙ্গার। বর্তমানে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যক্তিগত পরিচিতি বা বায়োতে শুধুমাত্র ব্রাজিল জাতীয় দলের ফুটবলার হিসেবে পরিচয় দেওয়া রয়েছে।

সোমবার ভিনিসিয়ুসের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে এই আকস্মিক পরিবর্তনটি ফুটবলপ্রেমীদের নজরে আসে। আর এই ঘটনার পর থেকেই সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে এই তারকার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে নানামুখী জল্পনা ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ক্লাব কর্তৃপক্ষের সাথে তার নতুন চুক্তি স্বাক্ষর নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়ায় এই গুঞ্জন আরও ডালপালা মেলছে।

দীর্ঘদিন ধরেই ভিনিসিয়ুসের সাথে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টিকে রিয়াল মাদ্রিদ প্রশাসন অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করে আসছে। ক্লাবের সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজও চেয়েছিলেন দলে নতুন কোনো বড় তারকা ভেড়ানোর আগেই এই ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গারের চুক্তি নবায়নের প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিনিসিয়ুসের এই আকস্মিক পরিবর্তন সেই পরিকল্পনার ওপর এক ধরনের অনিশ্চয়তার ছায়া ফেলেছে। স্প্যানিশ ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম ‘ডিফেনসা সেন্ট্রাল’ তাদের এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, ভিনিসিয়ুস তার প্রোফাইলের মূল ছবি পরিবর্তন করে সম্পূর্ণ কালো রঙের ছবি দিয়েছেন, বায়ো থেকে রিয়াল মাদ্রিদের নাম বাদ দিয়েছেন এবং ক্লাব সংক্রান্ত পূর্বের পিন করা পোস্টগুলোও প্রোফাইলের ওপর থেকে সরিয়ে ফেলেছেন।

এমনকি তার সাম্প্রতিক পোস্টগুলোর দিকে তাকালেও রিয়াল মাদ্রিদের কোনো ছবি বা সম্পৃক্ততা তেমন একটা চোখে পড়ছে না। সতীর্থ ডেভিড আলাবা এবং দানি কারভাহালের বিদায়লগ্নে দেওয়া কিছু আবেগঘন বার্তা ছাড়া ক্লাবকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি কোনো পোস্ট করেননি। তবে এই ধরনের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে সেভিয়ার বিপক্ষে একটি ম্যাচের পর ভিনিসিয়ুস একইভাবে নিজের প্রোফাইল থেকে রিয়াল মাদ্রিদের নাম সরিয়ে নিয়েছিলেন। সেই ম্যাচে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর দর্শকদের একাংশের কাছ থেকে তাকে দুয়োধ্বনিও শুনতে হয়েছিল।

অবশ্য ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলের এই পরিবর্তনকে ফুটবল বিশ্লেষকদের অনেকেই ক্লাব ছাড়ার চূড়ান্ত সংকেত হিসেবে এখনই বিবেচনা করতে নারাজ। অনেক সময় ফুটবলাররা ব্যক্তিগত কৌশল, স্পনসরশিপের তাগিদ বা বাণিজ্যিক বিভিন্ন কারণেও তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইলে এমন রদবদল এনে থাকেন। তাছাড়া এই পুরো বিষয়টি নিয়ে ভিনিসিয়ুস নিজে বা তার প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য বা মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

বর্তমান চুক্তি অনুযায়ী, রিয়াল মাদ্রিদের সাথে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের চুক্তির মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত বহাল রয়েছে। তবে নিকট ভবিষ্যতের মধ্যে যদি নতুন চুক্তি স্বাক্ষরিত না হয়, তবে লস ব্লাঙ্কোসদের বাধ্য হয়েই তাদের দীর্ঘমেয়াদী ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে।

ভিনিসিয়ুস যদি শেষ পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদে নিজের ক্যারিয়ার দীর্ঘায়িত না করার সিদ্ধান্ত নেন, তবে ক্লাব কর্তৃপক্ষ বিকল্প হিসেবে মাইকেল ওলিসের মতো উদীয়মান ও সম্ভাবনাময় তারকাদের দলে ভেড়ানোর দিকে নজর দিতে পারে। তবে এই ব্রাজিলিয়ান তারকার বিশাল বেতন কাঠামো বজায় রেখে নতুন কোনো সমীকরণ মেলানো রিয়ালের জন্য বেশ জটিল ও কঠিন হতে পারে। আপাতত ফুটবল বিশ্ব সাগ্রহে অপেক্ষা করছে দেখার জন্য যে, ভিনিসিয়ুস শেষ পর্যন্ত রিয়ালের নতুন চুক্তিতে সই করে বার্নাব্যুতেই থেকে যান, নাকি তার পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারে নতুন কোনো বাঁক আসে।

/আশিক


ইউরোপের ফুটবল মাঠে মুসলিম তারকাদের সেজদা ও নতুন আত্মপরিচয়ের গল্প

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৩ ১৮:৫০:০৮
ইউরোপের ফুটবল মাঠে মুসলিম তারকাদের সেজদা ও নতুন আত্মপরিচয়ের গল্প
ছবি : সংগৃহীত

ইউরোপীয় রাজনীতি ও সমাজব্যবস্থায় ইসলাম ধর্মকে ঘিরে বিতর্ক নতুন কোনো বিষয় নয়। দীর্ঘদিন ধরেই মহাদেশটিতে অভিবাসন প্রক্রিয়া, সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং ধর্মীয় অনুশাসনকে কেন্দ্র করে নানামুখী উত্তপ্ত আলোচনা চলছে। তবে এই চেনা পরিস্থিতির উল্টো পিঠে, ইউরোপের ফুটবল মাঠগুলোতে এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র দেখা যাচ্ছে।

বর্তমান প্রজন্মের একঝাঁক মুসলিম ফুটবলার ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরগুলোতে খেলার সময় নিজেদের ধর্মীয় পরিচয় অত্যন্ত প্রকাশ্যে ও গর্বের সাথে তুলে ধরছেন। মাঠের এই চেনা দৃশ্যগুলো যেন স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে, ইসলাম এখন ইউরোপীয় সমাজেরই একটি অন্যতম এবং অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।

বিশ্বজুড়ে বর্তমানে প্রায় ২০০ কোটি মুসলিমের বসবাস, যা পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশ। স্বাভাবিকভাবেই, ১৩টি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ইসলামের বিভিন্ন ধর্মীয় রীতিনীতি ও অনুশীলনের প্রতিফলন দেখা যাওয়াটা খুব স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু এবারের আসরে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে খ্রিস্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ ইউরোপীয় দেশগুলোর জাতীয় দলের জার্সি গায়ে খেলা মুসলিম তারকাদের প্রকাশ্য ধর্মীয় উদযাপন।

এর একটি বড় উদাহরণ স্পেনের উদীয়মান তরুণ তারকা তথা বার্সেলোনার ফরোয়ার্ড লামিন ইয়ামাল। বিশ্বকাপের একটি ম্যাচে সৌদি আরবের বিপক্ষে নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম গোলটি করার পর তিনি মাঠেই সেজদা দিয়ে পরম করুণাময়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ইয়ামালের এই উদযাপন বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।

অথচ এই ঘটনার মাত্র কয়েক মাস আগেই বার্সেলোনায় স্পেন ও মিসরের মধ্যকার একটি প্রীতি ম্যাচ চলাকালীন গ্যালারির একটি অংশ থেকে ‘যে লাফায় না, সে মুসলিম’—এমন আপত্তিকর ও বৈষম্যমূলক স্লোগান দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর কড়া জবাব দিয়ে ইয়ামাল লিখেছিলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমি একজন মুসলিম। ফুটবল মূলত মানুষের বিনোদন এবং পারস্পরিক অনুপ্রেরণার জন্য তৈরি, কারও ব্যক্তিগত ধর্মীয় বিশ্বাসকে আঘাত বা অসম্মান করার জন্য নয়।’

সমাজ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্টেডিয়ামে ফুটবলারদের লক্ষ্য করে এমন বিদ্রূপাত্মক স্লোগান দেওয়া কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ইউরোপের বেশ কিছু দেশে উগ্র ডানপন্থি দল এবং মূলধারার কিছু রাজনৈতিক শক্তি দীর্ঘদিন ধরে ‘খ্রিস্টান ইউরোপ’ বনাম ‘বহিরাগত ইসলাম’—এমন একটি কাল্পনিক বিভাজন দাঁড় করানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অথচ ঐতিহাসিক সত্য হলো, খ্রিস্টধর্ম ও ইসলাম—উভয় ধর্মেরই উৎপত্তি ইউরোপের ভৌগোলিক সীমানার বাইরে, প্রায় একই অঞ্চলে।

ইউরোপে ধর্মীয় পরিচয় প্রকাশ করে সমালোচনার মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা শুধু ইয়ামালের একার নয়। ২০২৪ সালে জার্মানির অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার আন্তোনিও রুডিগার পবিত্র রমজান মাসের শুরুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ডান হাতের এক আঙুল উঁচিয়ে একটি ছবি পোস্ট করেছিলেন, যা ইসলামে আল্লাহর একত্ববাদ বা তাওহিদের প্রতীক হিসেবে সর্বজনবিদিত।

কিন্তু জার্মানির প্রভাবশালী সংবাদপত্র ‘বিল্ড’-এর সাবেক প্রধান সম্পাদক জুলিয়ান রাইশেল্ট এই ছবিটিকে উগ্রপন্থী সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর সমর্থনের প্রতীক বলে দাবি করেন। এই ঘটনার পর রুডিগার ওই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানহানি ও বর্ণবাদী বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে আইনি পদক্ষেপ নিলেও পরবর্তীতে মামলাটি আর আলোর মুখ দেখেনি।

অনুরূপ আরেকটি ঘটনা ঘটে সুইডেনের মিডফিল্ডার ইয়াসিন আইয়ারির ক্ষেত্রে। সৌদি আরবের বিপক্ষে ইয়ামালের সেজদা দেওয়ার ঠিক কয়েক দিন আগেই, তিউনিসিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচে নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক গোল করার পর একইভাবে সেজদা দেন আইয়ারি। তিউনিসীয় বংশোদ্ভূত এই ফুটবলার গোলের পর প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান দেখিয়ে হাত তুলে ক্ষমা চাওয়ার ভঙ্গিও করেছিলেন। তবে তার এই ধর্মীয় উদযাপন সুইডেনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন করে জাতিগত পরিচয় ও জাতীয়তা নিয়ে বিতর্কের জন্ম দেয়। সুইডেনের উগ্র ডানপন্থি দল ‘সুইডিশ ডেমোক্র্যাটস’-এর নেতা জিম্মি আকেসনসহ কট্টরপন্থিদের অনেকেই আইয়ারিকে ‘প্রকৃত সুইডিশ’ নাগরিক হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ধর্মীয় বিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।

উগ্রপন্থিদের এমন বিরোধিতার মুখে আইয়ারির পরিবার তাদের অবস্থান অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে স্পষ্ট করেছে। তার বাবা আজুজ, যিনি বহু বছর আগে তিউনিসিয়া থেকে সুইডেনে এসে স্থায়ী হয়েছেন, তিনি সবসময় তার ছেলেকে তিউনিসিয়ার পরিবর্তে সুইডেনের জাতীয় দলের হয়ে খেলার জন্য উৎসাহিত করেছিলেন। সুইডিশ সংবাদমাধ্যম ‘আফটনব্লাডেট’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমার সন্তানেরা সম্পূর্ণভাবে সুইডেনের অংশ। তারা এই দেশেই জন্মগ্রহণ করেছে, এখানেই বড় হয়েছে এবং তাদের বন্ধু সার্কেলও এখানকারই। আমি নিজে একজন অভিবাসী হলেও ইয়াসিন তিউনিসীয় শিকড় বহনকারী একজন খাঁটি সুইডিশ নাগরিক। সুতরাং সুইডেনের হয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে খেলার পূর্ণ অধিকার তার রয়েছে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি মনেপ্রাণে চেয়েছিলাম সে যেন সুইডেনের হয়েই মাঠে নামে। যে দেশ তাকে উন্নত শিক্ষা, সুন্দর জীবনের সুযোগ এবং নিরাপত্তা দিয়েছে, সেই দেশের জন্য অবদান রাখা ও কিছু ফিরিয়ে দেওয়াটা তার নাগরিক দায়িত্ব। আজ আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার এই বিশাল অর্জনে আমি একজন বাবা হিসেবে অত্যন্ত গর্বিত।’

সূত্র: মিডল ইস্ট আই


ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ ও আর্জেন্টিনার রেফারিং সুবিধা: ২০২৬ বিশ্বকাপে ফিফার নজিরবিহীন কেলেঙ্কারি

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১২ ২০:২৭:২৩
ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ ও আর্জেন্টিনার রেফারিং সুবিধা: ২০২৬ বিশ্বকাপে ফিফার নজিরবিহীন কেলেঙ্কারি
ছবি : সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মহোৎসব চলাকালেই মাঠের বাইরের চরম রাজনৈতিক প্রভাব, স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত এবং দ্বিমুখী নীতির কারণে আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা (FIFA) ও এর সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব এখন বিশ্বজুড়ে তীব্র ও নজিরবিহীন সমালোচনার মুখে পড়েছে।

একদিকে চলমান বিশ্বকাপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে এক আমেরিকান খেলোয়াড়ের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘটনা ক্রীড়াঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে; অন্যদিকে গ্রুপ ও নকআউট পর্বে মিশর ও কেপ ভার্দের মতো দলের বিপক্ষে ম্যাচে পরাশক্তি আর্জেন্টিনার পক্ষে রেফারিদের নগ্ন ও পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্তের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

তবে সমালোচক ও ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই মঞ্চে ফিফার এমন বিতর্কিত ও একপেশে আচরণ মোটেও নতুন কিছু নয়। ফিলিস্তিনের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও নিপীড়িত ফুটবলের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, সংস্থাটির নিজস্ব গঠনতন্ত্রে মানবাধিকার রক্ষার বড় বড় অঙ্গীকারের কথা লেখা থাকলেও, ফিলিস্তিনি ফুটবলের ক্ষেত্রে তারা বছরের পর বছর ধরে তা বাস্তবায়ন করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে এবং অন্ধ ও নীরব ভূমিকা পালন করেছে।

ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (PFA) দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক মহলে জোরালো দাবি জানিয়ে আসছে যে, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে গড়ে ওঠা অবৈধ ইসরায়েলি বসতিতে বসবাসকারী ক্লাবগুলোকে নিজেদের ঘরোয়া লিগে খেলার অনুমতি দেওয়ায় ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে (IFA) ফিফা থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হোক। কিন্তু আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (ICJ) একাধিক রায় এবং জাতিসংঘের অসংখ্য প্রস্তাব থাকা সত্ত্বেও ফিফা প্রতিবারই ফিলিস্তিনের সেই ন্যায্য দাবিকে চরম ঔদাসীন্যে প্রত্যাখ্যান করেছে।

ফিফা এখনও হাস্যকরভাবে দাবি করে যে, ফিলিস্তিনের এই রাজনৈতিক অভিযোগগুলো ‘আন্তর্জাতিক জনআইনের অধীনে অত্যন্ত জটিল বিষয়’ এবং পশ্চিম তীরের চূড়ান্ত আইনি অবস্থান এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। সমালোচকদের স্পষ্ট ভাষ্য, ফিফার এই অবস্থান মূলত পরোক্ষভাবে ইসরায়েলের অবৈধ দখলদারিত্বকেই আন্তর্জাতিকভাবে সমর্থন জোগায় এবং ফিলিস্তিনি ভূমি গ্রাসকে বৈধতা দেওয়ার চক্রান্তের সঙ্গে সুর মেলায়।

শুধু তাই নয়, ইসরায়েলি বাহিনীর বুটের তলায় পিষ্ট ফিলিস্তিনি ফুটবলারদের নির্বিচারে হত্যা, পঙ্গু করা কিংবা বিনা বিচারে গ্রেপ্তারের মতো জঘন্য ঘটনাগুলোর বিরুদ্ধে কোনোদিন একটি আনুষ্ঠানিক নিন্দাপ্রস্তাবও জানায়নি ফিফা। সর্বশেষ ইসরায়েলি কারাগারের অন্ধকারে বন্দী ফিলিস্তিন জাতীয় নারী ফুটবল দলের তারকা খেলোয়াড় র‌্যান্ড হালাওয়ানি ও নাতালি আবু দায়েহর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতেও তারা ন্যূনতম কোনো পদক্ষেপ তোলেনি। গাজায় ফিলিস্তিনি স্টেডিয়ামগুলো বোমাবর্ষণ করে মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া কিংবা খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক ম্যাচে যাতায়াতে ইসরায়েলি চেকপোস্টে বছরের পর বছর ধরে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনাতেও ফিফা সবসময় চোখ বন্ধ করে রেখেছে।

সমালোচকদের মতে, ইসরায়েল যেভাবে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের বর্ণবাদ, বর্ণবৈষম্য (অ্যাপারথেইড) ও বর্বর দখলদারত্বকে স্বাভাবিক করার হাতিয়ার হিসেবে পর্যটন ও কৃষিকে ব্যবহার করেছে, ঠিক একইভাবে ফুটবলকেও তারা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে এবং এই কাজে ফিফা সরাসরি সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। এমনকি গাজা ও লেবাননে ভয়াবহ যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যায় অভিযুক্ত ইসরায়েলি সেনাদের পক্ষে যেসব ফুটবলার সাফাই গেয়েছেন, ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন তাদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেও ফিফা নির্বিকার।

ফিফা প্রধান ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ:মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, বর্তমান ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর আমলে সংস্থাটির এই একচোখা ও পক্ষপাতমূলক ভূমিকা আরও বেশি নগ্ন ও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইতিমধ্যেই ইনফান্তিনোর এই অপরাধমূলক নীরবতার বিরুদ্ধে নেদারল্যান্ডসের হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (ICC) আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের ধারাবাহিক মানবাধিকার লঙ্ঘন, বর্ণবৈষম্য এবং যুদ্ধাপরাধের বিষয়ে শত শত সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ও প্রতিবেদন পাঠানো সত্ত্বেও ইনফান্তিনো তা ইচ্ছাকৃতভাবে উপেক্ষা করেছেন এবং কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেননি।

নীরব থাকার পাশাপাশি ইসরায়েলের কলঙ্কিত ভাবমূর্তি বিশ্বজুড়ে উজ্জ্বল করার জন্য ফিফা নিজে সক্রিয় দালালি করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি একটি অনূর্ধ্ব-১৫ টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচ হিসেবে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলকে মুখোমুখি করার একটি কৃত্রিম প্রস্তাব দেয় ফিফা, যার পোশাকি উদ্দেশ্য বলা হয়েছিল ‘শান্তি প্রতিষ্ঠা’। এর মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে ইনফান্তিনো নিজে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে পিএফএ (PFA) সভাপতিকে তাঁর ইসরায়েলি সমকক্ষের সঙ্গে হাসিমুখে করমর্দন করতে বাধ্য করার জন্য প্রচণ্ড চাপ দিয়েছিলেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফিফা আর কোনো স্বাধীন বা নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থা হিসেবে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখেনি। সংস্থাটি এখন মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্রদের ভূরাজনৈতিক ও পররাষ্ট্রনীতির এক আজ্ঞাবহ গোলাম ও দাসে পরিণত হয়েছে।

ইনফান্তিনোর বিগত বছরগুলোর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডই এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ। ২০১৮ সালে তিনি ফুটবলের গণ্ডি পেরিয়ে সরাসরি ওয়াশিংটনে বিতর্কিত ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ (ইসরায়েল-আরব স্বাভাবিকীকরণ চুক্তি) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ফ্রেমবন্দী হন। ২০২১ সালে তিনি ডানপন্থী ইসরায়েলি মিডিয়া জেরুজালেম পোস্ট-এর একটি বিশেষ সম্মেলনে অংশ নেন, যা অত্যন্ত সংবেদনশীল জেরুজালেমের মামিল্লাহ মুসলিম কবরস্থানের ওপর নির্মিত একটি বিতর্কিত স্থাপনায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি জাতিসংঘকে ফিলিস্তিন ইস্যু থেকে সরিয়ে দেওয়া এবং ইসরায়েলি দখলদারত্ব বন্ধে আন্তর্জাতিক আইনি প্রচেষ্টাকে নস্যাৎ করার লক্ষ্যে গঠিত বিতর্কিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সেখানে ইনফান্তিনো কোনো রাখঢাক না রেখেই ফুটবলের মাধ্যমে পুনর্গঠন ও তথাকথিত শান্তি প্রতিষ্ঠার নামে ওই বিতর্কিত বোর্ডের সঙ্গে একটি ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’-এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণাও দেন।

২০২৬ সালের বিশ্বকাপ আয়োজন ঘিরে চলমান মার্কিন হস্তক্ষেপ ও রেফারিংয়ের নজিরবিহীন কেলেঙ্কারীকে মূলত ফিফার এই বৃহত্তর রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের অংশ হিসেবেই দেখছেন ক্রীড়ামোদীরা। আয়োজক দেশ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে খেলোয়াড়, রেফারি ও সমর্থকদের ওপর বিভিন্ন বিধিনিষেধ ও অধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ উঠলে ইনফান্তিনো উল্টো বিশ্ববাসীকে ধমকের সুরে ‘শান্ত থাকুন, আরাম করুন’ বলে মন্তব্য করে পার পেয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

ফিফার মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ড ফুটবলকে সম্পূর্ণ রাজনীতিমুক্ত রাখার মূল চেতনাকে ধ্বংস করে দিয়েছে এবং কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর আস্থার ভিতকে চিরতরে উপড়ে ফেলেছে। ইনফান্তিনো যদি অবিলম্বে মার্কিন দাসত্ব ও ইসরায়েলি তোষণ নীতি থেকে বেরিয়ে এসে নিজের অবস্থান পরিবর্তন না করেন, তবে বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে তাঁর রেখে যাওয়া উত্তরাধিকার কেবলই ধ্বংস, দুর্নীতি ও কলঙ্কের প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

তবে ফিফার এমন প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি ও আগ্রাসী দখলদারত্বের সব প্রতিকূলতার মধ্যেও ফিলিস্তিনি ফুটবল টিকে থাকবে বুক চিতিয়ে। আজ থেকে এক শতাব্দীরও বেশি সময় আগে, ১৯০৪ সালে জেরুজালেমের সেন্ট জর্জ স্কুল দলের হাত ধরে ফিলিস্তিনের পবিত্র মাটিতে যে ফুটবলের জয়যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা আজ ফিলিস্তিনিদের রক্ত ও অস্তিত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ফিলিস্তিনের আপামর জনতার মুক্তিকামী চেতনার মতোই, তাদের এই প্রিয় খেলাটিও যেকোনো অবৈধ দখলদারত্ব, পাশবিক গণহত্যা এবং ফিফার চরম দুর্নীতির দেয়াল ভেঙে মাথা উঁচু করে টিকে থাকার অসীম শক্তি রাখে।

লেখক: জেভিয়ার আবু ঈদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী

পাঠকের মতামত: