গাজার পুনর্বাসনে ইউরোপীয় কমিশনের ১০০ কোটি ডলারের বিশাল প্যাকেজ ঘোষণা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৩ ১৮:৪৪:১২
গাজার পুনর্বাসনে ইউরোপীয় কমিশনের ১০০ কোটি ডলারের বিশাল প্যাকেজ ঘোষণা
ছবি : সংগৃহীত

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকার বাসিন্দাদের জরুরি মানবিক সাহায্য এবং প্রাথমিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের জন্য প্রায় ৮৮৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন ইউরো (যা প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ) বরাদ্দের একটি নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ইউরোপীয় কমিশন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত ফিলিস্তিনবিষয়ক আন্তর্জাতিক দাতা গোষ্ঠীর একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ‘টিম গাজা ইনিশিয়েটিভ’ নামের এই বিশেষ সহায়তার রূপরেখা প্রকাশ করা হয়। ইউরোপীয় কমিশন স্পষ্ট করেছে যে, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কারণে বিপর্যস্ত গাজাবাসীর জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করতে চলমান ও পরিকল্পিত বিভিন্ন জরুরি পুনর্বাসন প্রকল্প বাস্তবায়নে এই অর্থ সরাসরি ব্যয় করা হবে।

ইউরোপীয় কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বিশাল মানবিক উদ্যোগে ইউরোপের ১২টি রাষ্ট্রসহ জাপান, বিশ্বব্যাংক এবং ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক যৌথভাবে অংশীদার হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তাবিষয়ক শীর্ষ প্রতিনিধি কাজা কালাস এক বিবৃতিতে দাবি করেন, ফিলিস্তিনি জনগণের সবচেয়ে বিশ্বস্ত এবং নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক অংশীদার হলো ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

কাজা কালাস তাঁর বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করেন, গাজার সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদা মেটানো, অবকাঠামোগত পুনর্গঠন এবং তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘমেয়াদে ধারাবাহিক আর্থিক সাহায্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের মূল প্রক্রিয়াটি ফিলিস্তিনিদের নিজস্ব নেতৃত্বেই পরিচালিত হতে হবে, তবে এই লক্ষ্য অর্জনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ও সক্রিয় সহযোগিতা অপরিহার্য।

/আশিক


বাঁধ ভাঙার অভিযোগ নাকচ চীনের: নেপালকে হিমবাহ ধসের তথ্য দিল ইউএসজিএস

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৭ ২১:০৪:৪৭
বাঁধ ভাঙার অভিযোগ নাকচ চীনের: নেপালকে হিমবাহ ধসের তথ্য দিল ইউএসজিএস
ছবি : সংগৃহীত

ভয়াবহ বন্যা ও আকস্মিক জলস্রোতে বিপর্যস্ত নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩২ জনে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে দেশটির পুলিশ সর্বশেষ এই প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করে।

এদিকে দুর্যোগের মূল কারণ নিয়ে নেপাল ও চীনের মধ্যে শুরু হয়েছে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য, যার জেরে দুই প্রতিবেশী দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিপর্যয়ের শুরুতে নেপাল চীনা বাঁধ ভেঙে যাওয়ার অভিযোগ তুললেও বেইজিং তা পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। নেপালের দাবি ছিল, চীনের একটি বাঁধ ধসে পড়ায় এই আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয় এবং চীন এ সংক্রান্ত কোনো আগাম সতর্কবার্তা দেয়নি।

তবে এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে কাঠমান্ডুতে নিযুক্ত চীনা দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানায়, বিপর্যয়ের সূত্রপাত ঘটেছিল ২৬ আগস্ট সকালে সীমান্ত এলাকায় সংঘটিত ভূমিকম্প বা হিমবাহ ধস থেকে সৃষ্ট কাদাধসের কারণে। এর ফলেই গিরং-রাসুয়াগাধি সীমান্তে উভয় দেশের নাগরিকরা হতাহত ও নিখোঁজ হন। বেইজিং স্পষ্ট করেছে যে, একে অপরকে দোষারোপ না করে যৌথ সহযোগিতার মাধ্যমে জীবন রক্ষায় জোর দেওয়া উচিত।

অন্যদিকে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, সিসমিক তথ্য, ভূকম্পন তরঙ্গ ও স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণের পর তারা নিশ্চিত হয়েছে যে কাঠমান্ডুর উত্তরে সৃষ্ট কম্পনটি ভূমিকম্প নয়, বরং হিমবাহ ধসের ফল ছিল; যার সংশোধিত কম্পনের মাত্রা ছিল ৫.২। সংস্থাটির মতে, বিপুল পরিমাণ বরফ ও পাথর ধসে নিচে নেমে আসার ফলেই এমন প্রলয়ঙ্করী আকস্মিক জলস্রোতের সৃষ্টি হয়। জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক মূল্যায়নও ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, হিমবাহের এই ধসই উপত্যকার জনবসতিগুলো ভেসে যাওয়ার মূল কারণ।

/আশিক


নেপালে আরও একটি কৃত্রিম লেক ফেটে বন্যার শঙ্কা: চীনের সতর্কতা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৭ ২০:২৮:৩৫
নেপালে আরও একটি কৃত্রিম লেক ফেটে বন্যার শঙ্কা: চীনের সতর্কতা
ছবি : সংগৃহীত

একটি কৃত্রিম লেক ফেটে গিয়ে বুধবার (২৬ আগস্ট) নেপালে স্মরণকালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়, যাতে এখন পর্যন্ত সাড়ে তিন শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় দেড় হাজার মানুষ। এই প্রলয়ঙ্করী দুর্যোগের রেশ কাটতে না কাটতেই নেপালকে নতুন করে বড় ধরনের সতর্কবার্তা দিয়েছে চীন। বেইজিং জানিয়েছে, সীমান্তসংলগ্ন তিব্বত অঞ্চলে আরও একটি কৃত্রিম হ্রদ তৈরি হয়েছে, যা যেকোনো মুহূর্তে বিস্ফোরিত হয়ে নতুন করে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পারে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) চীনা টেলিভিশন চ্যানেল সিসিটিভির বরাতে দেশটির সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস এই তথ্য প্রকাশ করে। চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নবগঠিত কৃত্রিম লেকটি ইতোমধ্যেই অতিরিক্ত পানিতে পূর্ণ হয়ে গেছে। শনিবার সকাল পর্যন্ত সেখানে প্রায় ২০ লাখ (২ মিলিয়ন) কিউবিক মিটার পানি জমে ছিল এবং পরবর্তী দুই থেকে তিন দিনে আরও প্রায় ৩০ লাখ (৩ মিলিয়ন) কিউবিক মিটার পানি যুক্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে মাত্রাতিরিক্ত পানির চাপে বাঁধ বা লেকটির যেকোনো সময় ধসে পড়ার তীব্র ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তিব্বতের ছোচেন খোলা ও পুরেপু সাংপো নদীর মোহনার কাছাকাছি এলাকায় বিপজ্জনক এই কৃত্রিম জলাশয়টি সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করায় চীনা কর্তৃপক্ষ সার্বক্ষণিক লেকটির ওপর কড়া নজরদারি রাখছে এবং বাঁধ ভাঙলে সম্ভাব্য প্লাবনের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণসহ জরুরি উদ্ধার তৎপরতার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখছে। উল্লেখ্য, তিব্বত থেকে উৎপন্ন এই নদী দুটি একত্রিত হয়ে নেপালে প্রবেশ করেছে, যা সেখানে 'ভোটেকোশি' নদী নামে পরিচিত এবং এটি মূলত ত্রিশূলী নদীর প্রধান ঊর্ধ্ব উপনদী।

বুধবার মূলত এই ভোটেকোশি নদীর অববাহিকাতেই কৃত্রিম লেক বিস্ফোরণে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছিল, যার তোড়ে নিচু অঞ্চলের বহু জনপদ প্লাবিত হয়ে কাদা-পানিতে ঢেকে যায় এবং পথের সমস্ত অবকাঠামো তছনছ হয়ে পড়ে। আগের সেই আকস্মিক বিপর্যয়ের পর যখন জোর উদ্ধার অভিযান চলছে, ঠিক তখনই নতুন আরেকটি কৃত্রিম লেক ফেটে পড়ার এই পূর্বাভাস নেপালজুড়ে চরম আতঙ্ক তৈরি করেছে।

/আশিক


ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা পুনর্নির্মাণের প্রমাণ মেলেনি: আইএইএ প্রধান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৭ ১৮:২১:৫৪
ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা পুনর্নির্মাণের প্রমাণ মেলেনি: আইএইএ প্রধান
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ব্যাপকভাবে পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে—এমন কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি।

আর্জেন্টিনার সংবাদপত্র ক্লারিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধের কারণে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে, তবে মাঠপর্যায়ে পর্যবেক্ষণ ও সামগ্রিক যাচাই-বাছাই কার্যক্রম পুনরায় শুরু করতে সংস্থাটি প্রস্তুত রয়েছে।

রাফায়েল গ্রোসির ভাষ্যমতে, ইরানের কাছে থাকা প্রায় ৪৪০ কেজি বা ৯৭২ পাউন্ড উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত গত বছরের ‘১২ দিনের যুদ্ধ’-এর সময় যেখানে ছিল, মূলত সেখানেই রয়েছে।

সামরিক হামলার কারণে সংশ্লিষ্ট পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং ইরান হয়তো কিছু অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো মেরামতের প্রাথমিক কাজ শুরু করে থাকতে পারে—এমন সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে তেহরান এগুলো পুরোদমে পুনর্নির্মাণ করছে, এমন কোনো সুনির্দিষ্ট ও অকাট্য তথ্য-প্রমাণ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের হাতে নেই। ফলে পুরো বিষয়টি এখনো একটি বড় ধরনের অমীমাংসিত সংকট হিসেবে রয়ে গেছে।

উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জ্বালানি ও সামরিক সক্ষমতা—উভয় ক্ষেত্রের সঙ্গেই ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত হওয়ায় ইরানের এই মজুত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে গভীর উদ্বেগ রয়েছে।

আইএইএ প্রধানের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, হামলার পর ওই ইউরেনিয়াম অন্যত্র স্থানান্তর করার নিশ্চিত কোনো তথ্য না থাকলেও, এর বর্তমান অবস্থা ও অবস্থান সরাসরি সরেজমিনে যাচাইয়ের জন্য পরিদর্শকদের স্বাধীন প্রবেশাধিকার প্রয়োজন। যুদ্ধের কারণে সংস্থাগত নজরদারি ব্যাহত হওয়ায় মজুতটির প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে একধরনের আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে।

পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে সরাসরি সামরিক আঘাতের পর আইএইএর নিয়মিত পরিদর্শন প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে স্বাধীন তথ্য সরবরাহের পথকে জটিল করে তুলেছে। গ্রোসি জোর দিয়ে জানান, পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ইরানে আইএইএর প্রযুক্তিগত পর্যবেক্ষণ ও পরিদর্শন পুনরায় চালু করা অত্যন্ত জরুরি।

স্থাপনাগুলোর ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র নিরূপণ, কোনো পুনর্গঠন কার্যক্রম চলছে কি না তা নিশ্চিতকরণ এবং ইউরেনিয়াম মজুতের সঠিক হিসাব পাওয়ার জন্য সরাসরি পরিদর্শনের কোনো বিকল্প নেই বলেই আন্তর্জাতিক মহল মনে করছে।

সূত্র: আল-জাজিরা


ধ্বংসস্তূপে চলছে সন্ধান: প্রাণহানি ছাড়াল তিন শতাধিক

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৭ ১৮:০৪:৪৫
ধ্বংসস্তূপে চলছে সন্ধান: প্রাণহানি ছাড়াল তিন শতাধিক
সেনাবাহিনীর স্থাপন করা একটি অস্থায়ী ক্যাম্পে নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনরা। বৃহস্পতিবার নেপালের নুয়াকোটে। ছবি: এএফপি

নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে এবং অন্তত ৩৫টি দেশের নাগরিকদের নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের দেওয়া তথ্যের বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি মোট ১ হাজার ৩৮১ জন নিখোঁজের পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে অপর বার্তা সংস্থা রয়টার্স নিখোঁজের মোট সংখ্যা প্রায় দেড় হাজার বলে উল্লেখ করেছে।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত নেপালে ৩৩২ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়া চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া তিব্বত অংশে তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের খবর জানিয়েছে। নেপাল পুলিশের বরাত দিয়ে দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট জানায়, উদ্ধার হওয়া মরদেহের মধ্যে চিতওয়ানে ১০৮, নওয়ালপরাসি ইস্টে ৬২, ধাদিংয়ে ২৭, গোরখায় ২০, রাসুওয়ায় ১৭, নওয়ালপরাসি ওয়েস্টে ১৫, নুয়াকোটে ১২ এবং তানাহুনে ৯ জন রয়েছেন।

জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নেপালে স্থানীয় বাসিন্দা, নিরাপত্তাকর্মী এবং দেশি-বিদেশি পর্যটকসহ অন্তত ৮২৬ জনের এখনও কোনো সন্ধান মেলেনি। অপরপক্ষে তিব্বতে সকাল আটটা পর্যন্ত ৫৫৮ জন নিখোঁজ থাকার তথ্য নিশ্চিত করেছে সিনহুয়া, যেখানে স্থানীয় একটি গ্রাম থেকে দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

এএফপির প্রকাশিত নাগরিকত্বভিত্তিক তালিকা অনুযায়ী, নিখোঁজদের মধ্যে নেপালের ১২৭ জন, ভারতের ১৭৮, চীনের ১০০, যুক্তরাষ্ট্রের ৬৪, ইউক্রেনের ৫৩, মালয়েশিয়ার ৫০, অস্ট্রেলিয়ার ৩৪, যুক্তরাজ্যের ৩৩, কানাডার ২৫, দক্ষিণ কোরিয়ার ৯, সিঙ্গাপুরের ৯, জার্মানির ৮, রাশিয়ার ৮, দক্ষিণ আফ্রিকার ৬, লাটভিয়ার ৬, জাপানের ৫, নিউজিল্যান্ডের ৫, ফ্রান্সের ৪ এবং স্পেনের ৪ জন নাগরিক রয়েছেন।

এছাড়া বেলজিয়ামের ৩ জন, পর্তুগাল, নেদারল্যান্ডস, ইতালি, আয়ারল্যান্ড, কাজাখস্তান ও হাঙ্গেরির ২ জন করে এবং বেলারুশ, বুলগেরিয়া, ফিনল্যান্ড, ইসরায়েল, লিথুয়ানিয়া, ফিলিপাইন, সার্বিয়া, সুইডেন ও সুইজারল্যান্ডের একজন করে নাগরিক নিখোঁজের তালিকায় আছেন।

হিমালয়ের পর্বতশৃঙ্গে আরোহণ, ভ্রমণ এবং কৈলাস মানস সরোবরসহ বিভিন্ন তীর্থযাত্রায় অংশ নিতে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক পর্যটক নেপালে আসেন বলেই নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা এত বেশি বলে জানিয়েছে এএফপি। তবে দুর্যোগকালীন বিশৃঙ্খলা, উদ্ধার হওয়া মরদেহের পরিচয় শনাক্তকরণ এবং দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত জটিলতার কারণে হতাহত ও নিখোঁজের সংখ্যা প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হতে পারে।

এদিকে তিব্বত অংশের পরিসংখ্যানে নিখোঁজদের জাতীয়তা আলাদা করা হয়নি এবং নেপালের বিভিন্ন ট্যুর এজেন্সির পৃথকভাবে দেওয়া নিখোঁজের হিসাব পর্যটন বোর্ডের নতুন তালিকায় সমন্বিত হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

/আশিক


মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি রক্ষায় জোটবদ্ধ হওয়ার ডাক দিলেন শীর্ষ কূটনীতিকরা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৬ ২০:১৩:৩৪
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি রক্ষায় জোটবদ্ধ হওয়ার ডাক দিলেন শীর্ষ কূটনীতিকরা
ছবি : সংগৃহীত

আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশে সংঘাত ছড়িয়ে দেওয়ার পাঁয়তারা করছে বলে দাবি করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফ। তিনি উল্লেখ করেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কৌশলগত কাঠামো নির্ধারণে, বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে, ইরান ও ইরাক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করতে সক্ষম।

বুধবার (২৬ আগস্ট) তেহরানে ইরাকের সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের প্রধান ফায়েক জাইদানের সঙ্গে এক আনুষ্ঠানিক বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে দুই দেশের শীর্ষ প্রতিনিধিরা সার্বিক আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, ইরাকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এবং তেহরান ও বাগদাদের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

কলিবফ অভিযোগ করেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা এবং গোটা পশ্চিম এশিয়া ও মুসলিম বিশ্বে আধিপত্য কায়েমের অসৎ উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রাসী তৎপরতা শুরু করেছিল। তবে ইরানি জনগণ, প্রতিরোধ ফ্রন্টের সদস্য ও শহীদদের ত্যাগের মুখে ওয়াশিংটনের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। সামরিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ইরান সফলভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে দাবি করে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক চাপের মুখেও শত্রুপক্ষ পরাজিত হবে।

একই সঙ্গে ইরাকের ভূখণ্ড ও আকাশসীমা থেকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনাকে ইরাকি জনগণ ও সরকারের জন্য একটি ‘ঐতিহাসিক সম্মান’ বলে অভিহিত করেন এবং তা পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

ইসরায়েলের যুদ্ধ সম্প্রসারণের কৌশল সম্পর্কে সতর্কবার্তা দিয়ে ইরানের স্পিকার জানান, ইরানে সফল হলে তারা অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের দিকেও নজর দিত। তাই পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের ভারসাম্য রক্ষায় ইরান-ইরাক যৌথ অবস্থান অত্যন্ত সময়োপযোগী।

বৈঠকে ফায়েক জাইদান ইরানের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর পারস্পরিক নিরাপত্তা চুক্তি ও দ্বিপক্ষীয় মেলবন্ধন পুরো মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে। তেহরানের সঙ্গে বাগদাদের সুদৃঢ় অংশীদারিত্ব অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের সঙ্গেও সহযোগিতার ক্ষেত্রকে আরও বিস্তৃত করবে বলে তিনি আশাবাদ জানান।

সূত্র: ডন, তাসনিম নিউজ এজেন্সি।


নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে প্রবল বন্যা: ৫৫ জনের প্রাণহানি ও শতাধিক নিখোঁজ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৬ ২০:০১:০৩
নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে প্রবল বন্যা: ৫৫ জনের প্রাণহানি ও শতাধিক নিখোঁজ
আকস্মিক বন্যার পর নদীর তীরে কাদাপানিতে আংশিক তলিয়ে আছে ঘরবাড়ি। নুয়াকোট, নেপাল। ২৬ আগস্ট ২০২৬ছবি: এএফপি

নেপাল ও তিব্বত সীমান্তসংলগ্ন হিমালয় অঞ্চলে সংঘটিত প্রবল বন্যায় অন্তত ৫৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং রাস্তাঘাট, সেতু ও বেশ কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) সংঘটিত এই আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, রসুয়া জেলায় ভয়াবহ এই বন্যার পর মোট ৩৮৪ জন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি ও ৯৩ জন নেপালি নাগরিক রয়েছেন। আন্তর্জাতিক পর্যটকদের মধ্যে অন্তত ১০৫ জন ভারতীয়, ১২ জন ব্রিটিশ, ৩৭ জন অনাবাসী ভারতীয়, ১৭ জন মালয়েশীয়, ৪ জন দক্ষিণ আফ্রিকান, ৩ জন মার্কিন নাগরিক এবং অস্ট্রেলিয়া ও নেদারল্যান্ডসের একজন করে নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া আরও ১১১ জনের জাতীয়তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।

নিখোঁজদের একটি বড় অংশ কৈলাস মানস সরোবর যাত্রায় অংশ নেওয়া তীর্থযাত্রী বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত তাদের আটজন কর্মী নিখোঁজ এবং ১০ জন আটকে রয়েছেন।

প্রাথমিক মূল্যায়নে জানা গেছে, লেন্দে নদীর একটি বরফধসের কারণে নদীর গতিপথ আটকে যাওয়ায় এর উপনদী ভুতেকোশিতে এই আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। বুধবার সকালে নদীর পানি দুই কূল ছাপিয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করলে বেশ কয়েকটি গ্রাম সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। চীন সীমান্তবর্তী তিব্বতের জিরং বন্দর ও শিগাতসে অঞ্চলেও ভূমিধস ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ভারত ও চীনের সহযোগিতা চেয়েছে নেপাল সরকার। অন্যদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং নিখোঁজদের উদ্ধারে সর্বাত্মক তল্লাশি অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

বন্যাকবলিত রসুয়া জেলায় নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এবং খারাপ আবহাওয়ার কারণে স্যাপ্রু বেসি ও তিমুরে এলাকায় উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারগুলো নামতে পারছে না। ফলে ব্যাহত হচ্ছে উদ্ধারকাজ। নদীর তীরবর্তী জনবসতিগুলো পুরোপুরি তলিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন ভোতেকোশি, ত্রিশূলী ও নারায়ণী নদীর তীর থেকে বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

/আশিক


রাতের আকাশে দেখা যাবে রক্তিম রূপ: প্রস্তুত হচ্ছে বিশ্ব

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৬ ১৯:২৫:৩৬
রাতের আকাশে দেখা যাবে রক্তিম রূপ: প্রস্তুত হচ্ছে বিশ্ব
ছবি : সংগৃহীত

আগামী ২৮ আগস্ট চলতি বছরের অন্যতম আকর্ষণীয় মহাজাগতিক ঘটনা হিসেবে একটি গভীর আংশিক চন্দ্রগ্রহণ সংঘটিত হতে যাচ্ছে। মহাকাশে ঘূর্ণনের একপর্যায়ে পৃথিবী যখন সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে একই সরলরেখায় অবস্থান করে, তখন পৃথিবীর ছায়া চাঁদের ওপর পড়ার মাধ্যমে এই চন্দ্রগ্রহণের সৃষ্টি হয়। উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ ছাড়াও ইউরোপ এবং আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ বিরল এই দৃশ্যটি প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পাবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার তথ্যানুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) গভীর রাত থেকে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোরের মধ্যে এই ঘটনা ঘটবে। বাংলাদেশ সময় ২৮ আগস্ট সকাল ১০টা ১২ মিনিটে (গ্রিনিচ মান সময় ভোর ৪টা ১২ মিনিটে) গ্রহণের সর্বোচ্চ পর্যায় দৃশ্যমান হওয়ার কথা রয়েছে। এ সময় চাঁদের পৃষ্ঠের প্রায় ৯৬ শতাংশ এবং ব্যাসের হিসেবে প্রায় ৯৩ শতাংশ অংশ পৃথিবীর মূল ও গভীরতম ছায়ার ভেতরে প্রবেশ করবে।

সম্পূর্ণ চাঁদ পুরোপুরি ঢাকা না পড়ায় এটি পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ হিসেবে গণ্য হবে না এবং চাঁদের একটি ক্ষুদ্র অংশ ছায়ার বাইরে উন্মুক্ত থাকবে। তবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে সূর্যের আলো প্রতিসরিত ও বিচ্ছুরিত হয়ে পৌঁছানোর ফলে গ্রহণকবলিত চাঁদটি তামাটে বা রক্তিম লাল রূপ ধারণ করতে পারে, যা জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় ‘ব্লাড মুন’ নামে পরিচিত। সমগ্র প্রক্রিয়াটি পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময়ব্যাপী চললেও এর গভীর আংশিক পর্যায়টি স্থায়ী হবে তুলনামূলকভাবে কম সময়।

ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে আমেরিকা মহাদেশের অধিকাংশ এলাকা থেকে এ মহাজাগতিক দৃশ্য শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গভাবে দেখা যাবে। অন্যদিকে ইউরোপ ও আফ্রিকার কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চল থেকে কেবল সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময়ে এর আংশিক দৃশ্য অবলোকন করা সম্ভব হবে। এর আগে গত ১২ আগস্ট গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও স্পেনে দৃশ্যমান হওয়া পূর্ণ সূর্যগ্রহণের দুই সপ্তাহের ব্যবধানে এই চন্দ্রগ্রহণটি ঘটছে। সূর্যগ্রহণের তুলনায় চন্দ্রগ্রহণ অত্যন্ত নিরাপদ হওয়ায় এটি সরাসরি খালি চোখেই দেখা যায়, তবে টেলিস্কোপ বা সাধারণ বাইনোকুলার ব্যবহার করলে এর রক্তিম রূপটি আরও স্পষ্ট ও আকর্ষণীয়ভাবে উপভোগ করা যাবে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


গ্রিন কার্ডের জন্য অপেক্ষমাণদের জন্য এলো বড় সুখবর

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৬ ১৮:২৪:০৩
গ্রিন কার্ডের জন্য অপেক্ষমাণদের জন্য এলো বড় সুখবর
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারভিত্তিক বা ফ্যামিলি-বেইজড গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য আগস্ট মাসের ভিসা বুলেটিনে বড় ধরনের অগ্রগতি এসেছে। বিশেষ করে পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার ‘এফ-২এ’ (F-2A) ক্যাটাগরিতে ভিসা পাওয়ার সুযোগ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে এগিয়েছে। এই ক্যাটাগরির আওতায় মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা বা গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সি অবিবাহিত সন্তানেরা আবেদন করে থাকেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত আগস্ট ২০২৬-এর ভিসা বুলেটিনের তথ্যানুযায়ী, এফ-২এ ক্যাটাগরির ‘ফাইনাল অ্যাকশন ডেট’ ১ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে এক লাফে এগিয়ে এনে ২২ জুলাই ২০২৬ নির্ধারণ করা হয়েছে। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে কাট-অফ তারিখে এমন লক্ষণীয় পরিবর্তন আসায় যেসব বাংলাদেশি আবেদনকারীর অগ্রাধিকার তারিখ (Priority Date) ২২ জুলাই ২০২৬-এর পূর্বে রয়েছে, তাদের অভিবাসন ভিসা ইস্যু বা পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কার্যকর সুযোগ তৈরি হলো।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিদ্যমান নিয়মে ভিসা বুলেটিনের ‘ফাইনাল অ্যাকশন ডেট’-এর ওপর ভিত্তি করে সুনির্দিষ্ট অগ্রাধিকার তারিখের আবেদনকারীদের ভিসা প্রদান করা হয়ে থাকে। অন্যদিকে জাতীয় ভিসা কেন্দ্রের (NVC) নির্দেশনা মতে, কোটানির্ভর পরিবারভিত্তিক ভিসা ক্যাটাগরিতে চূড়ান্ত সাক্ষাৎকারের (ইন্টারভিউ) জন্য আবেদনকারীর অগ্রাধিকার তারিখটি কার্যকর থাকা বাধ্যতামূলক। সেই হিসাবে আগস্টের এই বড় অগ্রগতি দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষমাণ বহু বাংলাদেশি পরিবারের জন্য প্রক্রিয়াটি সহজ ও গতিশীল করবে।

/আশিক


ট্রাম্পের ছেলে ব্যারনকে হত্যার হুমকি দিয়ে ইরানে ভিডিও প্রকাশ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৬ ১৮:১৯:৪৮
ট্রাম্পের ছেলে ব্যারনকে হত্যার হুমকি দিয়ে ইরানে ভিডিও প্রকাশ
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কনিষ্ঠ পুত্র ব্যারন ট্রাম্পকে হত্যার সম্ভাব্য পরিকল্পনা সংক্রান্ত একটি ভিডিও ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবিতে সম্প্রচারের পর বিষয়টি খতিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস। সংস্থাটি জানিয়েছে, ভিডিওটিকে একটি প্রত্যক্ষ ঝুঁকি বা হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে তারা আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে।

সিক্রেট সার্ভিসের মুখপাত্র নেট হেরিং এক ই-মেইল বার্তায় জানান, প্রচারিত ভিডিওটি তাদের নজরে এসেছে। সংস্থার সুরক্ষার আওতাধীন ব্যক্তিদের নিরাপত্তার স্বার্থে সম্ভাব্য যেকোনো হুমকি গভীরভাবে তদন্ত করা তাদের নিয়মিত দায়িত্ব। তবে সার্বিক নিরাপত্তা ও অপারেশনাল গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে এ সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্যের বিস্তারিত বিবরণ দিতে তিনি অস্বীকৃতি জানান।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত প্রায় তিন মিনিটের ওই ভিডিওতে ২০ বছর বয়সী ব্যারন ট্রাম্পকে লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। ভিডিওটির শুরুতে ইংরেজিতে একটি গ্রাফিক্স প্রদর্শন করে প্রশ্ন তোলা হয়, ব্যারন ট্রাম্পকে কোথায় এবং কীভাবে হত্যা করা সমীচীন। এতে গ্রাফিক্সের মাধ্যমে নিউইয়র্কের ট্রাম্প টাওয়ারসহ বেশ কিছু জনবহুল স্থান চিহ্নিত করা হয়, যেখানে কনিষ্ঠ ট্রাম্পকে প্রায়ই দেখা যায়। একই সঙ্গে ভিডিওতে দাবি করা হয় যে ব্যারনকে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং তাকে হত্যার বিনিময়ে এক কোটি ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা রয়েছে।

এর আগে চলতি মাসেই বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে ইরান হামলা চালাতে পারে মর্মে যুক্তরাষ্ট্রকে একাধিকবার সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা। তুরস্ক সফরের সময় ট্রাম্পকে কেন্দ্র করে বিশেষ নিরাপত্তা কৌশল গ্রহণের আগেও এ ধরনের বার্তা দেওয়া হয়েছিল বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা যায়। স্বয়ং ট্রাম্পও পূর্বে মন্তব্য করেছিলেন যে তিনি তেহরানের হত্যা তালিকার শীর্ষস্থানে রয়েছেন।

অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জ্যেষ্ঠ পুত্র ইয়াইর নেতানিয়াহুকেও হত্যার ছক কষেছিল ইরানের একটি গুপ্তচর চক্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজম্যাক্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ডিসেম্বরে ইসরায়েলি গোয়েন্দারা জানতে পারে যে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার হল্যান্ডেল বিচ এলাকায় অবস্থানরত ৩৫ বছর বয়সী ইয়াইরের ওপর নজরদারি চালাচ্ছে ইরানের একটি সক্রিয় চক্র।

বিষয়টি মার্কিন কর্তৃপক্ষকে তাৎক্ষণিকভাবে জানানোর পর চরম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ইয়াইর নেতানিয়াহুকে দ্রুত ফ্লোরিডা থেকে ইসরায়েলে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরিস্থিতি এতটাই জরুরি ছিল যে নিজের অনেক প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ফেলে রেখেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান সংক্ষিপ্ত করে নিজ দেশে ফিরে যান।

সূত্র : রয়টার্স

পাঠকের মতামত: