আল জাজিরা বিশ্লেষণ

ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ ও আর্জেন্টিনার রেফারিং সুবিধা: ২০২৬ বিশ্বকাপে ফিফার নজিরবিহীন কেলেঙ্কারি

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১২ ২০:২৭:২৩
ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ ও আর্জেন্টিনার রেফারিং সুবিধা: ২০২৬ বিশ্বকাপে ফিফার নজিরবিহীন কেলেঙ্কারি
ছবি : সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মহোৎসব চলাকালেই মাঠের বাইরের চরম রাজনৈতিক প্রভাব, স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত এবং দ্বিমুখী নীতির কারণে আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা (FIFA) ও এর সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব এখন বিশ্বজুড়ে তীব্র ও নজিরবিহীন সমালোচনার মুখে পড়েছে।

একদিকে চলমান বিশ্বকাপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে এক আমেরিকান খেলোয়াড়ের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘটনা ক্রীড়াঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে; অন্যদিকে গ্রুপ ও নকআউট পর্বে মিশর ও কেপ ভার্দের মতো দলের বিপক্ষে ম্যাচে পরাশক্তি আর্জেন্টিনার পক্ষে রেফারিদের নগ্ন ও পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্তের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

তবে সমালোচক ও ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই মঞ্চে ফিফার এমন বিতর্কিত ও একপেশে আচরণ মোটেও নতুন কিছু নয়। ফিলিস্তিনের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও নিপীড়িত ফুটবলের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, সংস্থাটির নিজস্ব গঠনতন্ত্রে মানবাধিকার রক্ষার বড় বড় অঙ্গীকারের কথা লেখা থাকলেও, ফিলিস্তিনি ফুটবলের ক্ষেত্রে তারা বছরের পর বছর ধরে তা বাস্তবায়ন করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে এবং অন্ধ ও নীরব ভূমিকা পালন করেছে।

ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (PFA) দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক মহলে জোরালো দাবি জানিয়ে আসছে যে, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে গড়ে ওঠা অবৈধ ইসরায়েলি বসতিতে বসবাসকারী ক্লাবগুলোকে নিজেদের ঘরোয়া লিগে খেলার অনুমতি দেওয়ায় ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে (IFA) ফিফা থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হোক। কিন্তু আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (ICJ) একাধিক রায় এবং জাতিসংঘের অসংখ্য প্রস্তাব থাকা সত্ত্বেও ফিফা প্রতিবারই ফিলিস্তিনের সেই ন্যায্য দাবিকে চরম ঔদাসীন্যে প্রত্যাখ্যান করেছে।

ফিফা এখনও হাস্যকরভাবে দাবি করে যে, ফিলিস্তিনের এই রাজনৈতিক অভিযোগগুলো ‘আন্তর্জাতিক জনআইনের অধীনে অত্যন্ত জটিল বিষয়’ এবং পশ্চিম তীরের চূড়ান্ত আইনি অবস্থান এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। সমালোচকদের স্পষ্ট ভাষ্য, ফিফার এই অবস্থান মূলত পরোক্ষভাবে ইসরায়েলের অবৈধ দখলদারিত্বকেই আন্তর্জাতিকভাবে সমর্থন জোগায় এবং ফিলিস্তিনি ভূমি গ্রাসকে বৈধতা দেওয়ার চক্রান্তের সঙ্গে সুর মেলায়।

শুধু তাই নয়, ইসরায়েলি বাহিনীর বুটের তলায় পিষ্ট ফিলিস্তিনি ফুটবলারদের নির্বিচারে হত্যা, পঙ্গু করা কিংবা বিনা বিচারে গ্রেপ্তারের মতো জঘন্য ঘটনাগুলোর বিরুদ্ধে কোনোদিন একটি আনুষ্ঠানিক নিন্দাপ্রস্তাবও জানায়নি ফিফা। সর্বশেষ ইসরায়েলি কারাগারের অন্ধকারে বন্দী ফিলিস্তিন জাতীয় নারী ফুটবল দলের তারকা খেলোয়াড় র‌্যান্ড হালাওয়ানি ও নাতালি আবু দায়েহর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতেও তারা ন্যূনতম কোনো পদক্ষেপ তোলেনি। গাজায় ফিলিস্তিনি স্টেডিয়ামগুলো বোমাবর্ষণ করে মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া কিংবা খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক ম্যাচে যাতায়াতে ইসরায়েলি চেকপোস্টে বছরের পর বছর ধরে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনাতেও ফিফা সবসময় চোখ বন্ধ করে রেখেছে।

সমালোচকদের মতে, ইসরায়েল যেভাবে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের বর্ণবাদ, বর্ণবৈষম্য (অ্যাপারথেইড) ও বর্বর দখলদারত্বকে স্বাভাবিক করার হাতিয়ার হিসেবে পর্যটন ও কৃষিকে ব্যবহার করেছে, ঠিক একইভাবে ফুটবলকেও তারা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে এবং এই কাজে ফিফা সরাসরি সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। এমনকি গাজা ও লেবাননে ভয়াবহ যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যায় অভিযুক্ত ইসরায়েলি সেনাদের পক্ষে যেসব ফুটবলার সাফাই গেয়েছেন, ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন তাদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেও ফিফা নির্বিকার।

ফিফা প্রধান ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ:মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, বর্তমান ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর আমলে সংস্থাটির এই একচোখা ও পক্ষপাতমূলক ভূমিকা আরও বেশি নগ্ন ও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইতিমধ্যেই ইনফান্তিনোর এই অপরাধমূলক নীরবতার বিরুদ্ধে নেদারল্যান্ডসের হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (ICC) আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের ধারাবাহিক মানবাধিকার লঙ্ঘন, বর্ণবৈষম্য এবং যুদ্ধাপরাধের বিষয়ে শত শত সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ও প্রতিবেদন পাঠানো সত্ত্বেও ইনফান্তিনো তা ইচ্ছাকৃতভাবে উপেক্ষা করেছেন এবং কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেননি।

নীরব থাকার পাশাপাশি ইসরায়েলের কলঙ্কিত ভাবমূর্তি বিশ্বজুড়ে উজ্জ্বল করার জন্য ফিফা নিজে সক্রিয় দালালি করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি একটি অনূর্ধ্ব-১৫ টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচ হিসেবে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলকে মুখোমুখি করার একটি কৃত্রিম প্রস্তাব দেয় ফিফা, যার পোশাকি উদ্দেশ্য বলা হয়েছিল ‘শান্তি প্রতিষ্ঠা’। এর মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে ইনফান্তিনো নিজে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে পিএফএ (PFA) সভাপতিকে তাঁর ইসরায়েলি সমকক্ষের সঙ্গে হাসিমুখে করমর্দন করতে বাধ্য করার জন্য প্রচণ্ড চাপ দিয়েছিলেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফিফা আর কোনো স্বাধীন বা নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থা হিসেবে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখেনি। সংস্থাটি এখন মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্রদের ভূরাজনৈতিক ও পররাষ্ট্রনীতির এক আজ্ঞাবহ গোলাম ও দাসে পরিণত হয়েছে।

ইনফান্তিনোর বিগত বছরগুলোর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডই এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ। ২০১৮ সালে তিনি ফুটবলের গণ্ডি পেরিয়ে সরাসরি ওয়াশিংটনে বিতর্কিত ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ (ইসরায়েল-আরব স্বাভাবিকীকরণ চুক্তি) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ফ্রেমবন্দী হন। ২০২১ সালে তিনি ডানপন্থী ইসরায়েলি মিডিয়া জেরুজালেম পোস্ট-এর একটি বিশেষ সম্মেলনে অংশ নেন, যা অত্যন্ত সংবেদনশীল জেরুজালেমের মামিল্লাহ মুসলিম কবরস্থানের ওপর নির্মিত একটি বিতর্কিত স্থাপনায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি জাতিসংঘকে ফিলিস্তিন ইস্যু থেকে সরিয়ে দেওয়া এবং ইসরায়েলি দখলদারত্ব বন্ধে আন্তর্জাতিক আইনি প্রচেষ্টাকে নস্যাৎ করার লক্ষ্যে গঠিত বিতর্কিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সেখানে ইনফান্তিনো কোনো রাখঢাক না রেখেই ফুটবলের মাধ্যমে পুনর্গঠন ও তথাকথিত শান্তি প্রতিষ্ঠার নামে ওই বিতর্কিত বোর্ডের সঙ্গে একটি ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’-এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণাও দেন।

২০২৬ সালের বিশ্বকাপ আয়োজন ঘিরে চলমান মার্কিন হস্তক্ষেপ ও রেফারিংয়ের নজিরবিহীন কেলেঙ্কারীকে মূলত ফিফার এই বৃহত্তর রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের অংশ হিসেবেই দেখছেন ক্রীড়ামোদীরা। আয়োজক দেশ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে খেলোয়াড়, রেফারি ও সমর্থকদের ওপর বিভিন্ন বিধিনিষেধ ও অধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ উঠলে ইনফান্তিনো উল্টো বিশ্ববাসীকে ধমকের সুরে ‘শান্ত থাকুন, আরাম করুন’ বলে মন্তব্য করে পার পেয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

ফিফার মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ড ফুটবলকে সম্পূর্ণ রাজনীতিমুক্ত রাখার মূল চেতনাকে ধ্বংস করে দিয়েছে এবং কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর আস্থার ভিতকে চিরতরে উপড়ে ফেলেছে। ইনফান্তিনো যদি অবিলম্বে মার্কিন দাসত্ব ও ইসরায়েলি তোষণ নীতি থেকে বেরিয়ে এসে নিজের অবস্থান পরিবর্তন না করেন, তবে বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে তাঁর রেখে যাওয়া উত্তরাধিকার কেবলই ধ্বংস, দুর্নীতি ও কলঙ্কের প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

তবে ফিফার এমন প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি ও আগ্রাসী দখলদারত্বের সব প্রতিকূলতার মধ্যেও ফিলিস্তিনি ফুটবল টিকে থাকবে বুক চিতিয়ে। আজ থেকে এক শতাব্দীরও বেশি সময় আগে, ১৯০৪ সালে জেরুজালেমের সেন্ট জর্জ স্কুল দলের হাত ধরে ফিলিস্তিনের পবিত্র মাটিতে যে ফুটবলের জয়যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা আজ ফিলিস্তিনিদের রক্ত ও অস্তিত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ফিলিস্তিনের আপামর জনতার মুক্তিকামী চেতনার মতোই, তাদের এই প্রিয় খেলাটিও যেকোনো অবৈধ দখলদারত্ব, পাশবিক গণহত্যা এবং ফিফার চরম দুর্নীতির দেয়াল ভেঙে মাথা উঁচু করে টিকে থাকার অসীম শক্তি রাখে।

লেখক: জেভিয়ার আবু ঈদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী


রেফারিই হারিয়ে দিল আমাদের, এমবোলোর বিতর্কিত লাল কার্ডে ফুঁসছেন মুরাত ইয়াকিন

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১২ ২০:০৭:৫৬
রেফারিই হারিয়ে দিল আমাদের, এমবোলোর বিতর্কিত লাল কার্ডে ফুঁসছেন মুরাত ইয়াকিন
ছবি : সংগৃহীত

চলতি বিশ্বকাপে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে ফিফা ব্যাপক উন্নতিসাধন করলেও, ফুটবল বিশ্বের চিরন্তন বিতর্ক ‘রেফারিং’-এর জটলা থেকে মুক্ত হতে পারেননি সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা প্রযুক্তিগত আসর বানানোর চেষ্টা সত্ত্বেও প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই রেফারিং নিয়ে দলগুলোর ক্ষোভ ও অভিযোগের পাহাড় জমছে। নকআউট পর্বের হাইভোল্টেজ আর্জেন্টিনা বনাম সুইজারল্যান্ড ম্যাচটিও এর ব্যতিক্রম ছিল না।

ম্যাচ শেষে সুইজারল্যান্ডের কোচ মুরাত ইয়াকিন তাঁর দলের প্রধান স্ট্রাইকার ব্রিল এমবোলোর বিতর্কিত লাল কার্ড নিয়ে সরাসরি রেফারি ও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) প্রযুক্তির ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। রেফারি কর্তৃক ‘মিস্টেকেন আইডেন্টিটি’ (Mistaken Identity) প্রোটোকল ব্যবহার করে এমবোলোকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড তথা লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন সুইস কোচ। তাঁর স্পষ্ট দাবি, রেফারির এই চরম বিতর্কিত ও ভুল সিদ্ধান্তই ম্যাচের মোড় পুরোপুরি ঘুরিয়ে দিয়েছে।

ম্যাচের প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা এগিয়ে থাকলেও, দ্বিতীয়ার্ধের ৬৭ মিনিটে সুইজারল্যান্ডের উইঙ্গার ড্যান এনডয়ে দুর্দান্ত এক গোল করে দলকে ১-১ ব্যবধানে সমতায় ফেরান। কিন্তু ইউরোপীয় দলটির সেই সমতায় ফেরার আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই ম্যাচের ৭০ মিনিটের মাথায় ঘটে এই আসরের অন্যতম সবচেয়ে বিতর্কিত ঘটনাটি।

ম্যাচে সমতা আসার কিছুক্ষণ পর মাঠের মাঝখানে সুইজারল্যান্ডের স্ট্রাইকার ব্রিল এমবোলোকে পেছন থেকে ট্যাকল করেন আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস। তাৎক্ষণিকভাবে মাঠের দায়িত্বে থাকা পর্তুগিজ রেফারি জোয়াও পিনেইরো পারেদেসকে ফাউলের অপরাধে হলুদ কার্ড দেখান। তবে আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের আপত্তির মুখে ভিএআর (VAR) রুম থেকে অন-ফিল্ড রেফারিকে রিপ্লে দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়।

রেফারি পিনেইরো মাঠের পাশের মনিটরে রিপ্লে দেখার পর তাঁর মূল সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ বদলে ফেলেন। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, লিয়ান্দ্রো পারেদেসের শরীরের সাথে সরাসরি কোনো স্পর্শ বা সংস্পর্শে আসার আগেই এমবোলো ডাইভ দিয়ে মাটিতে পড়ে যান। এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে রেফারি ভিএআর-এর বিশেষ ‘মিস্টেকেন আইডেন্টিটি’ প্রোটোকল প্রয়োগ করেন। এর ফলে পারেদেসের ওপর আনা ফাউলের অভিযোগ ও হলুদ কার্ডটি পুরোপুরি বাতিল করা হয়। উল্টো রেফারিকে ধোঁকা দেওয়ার বা ডাইভ দেওয়ার অপরাধে ব্রিল এমবোলোকে হলুদ কার্ড প্রদর্শন করেন রেফারি।

যেহেতু সুইস এই ফরোয়ার্ড ম্যাচের প্রথমার্ধেই প্রথাগত অন্য একটি ফাউলের কারণে একটি হলুদ কার্ড পেয়ে সতর্ক অবস্থায় ছিলেন, তাই ডাইভের কারণে প্রাপ্ত এই দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের সমীকরণে রেফারি তাঁকে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেন। ১-১ সমতার ম্যাচে মুহূর্তের মধ্যে ১০ জনের দলে পরিণত হয় সুইজারল্যান্ড, যা তাদের পুরো রণকৌশলকে ধ্বংস করে দেয়।

ম্যাচ পরবর্তী অফিশিয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে রেফারির ওপর নিজের সমস্ত ক্ষোভ ও হতাশা উগরে দেন সুইস মাস্টারমাইন্ড মুরাত ইয়াকিন। তিনি ম্যাচ হারের প্রধান কারণ হিসেবে রেফারিকে দায়ী করে বলেন, “রেফারির একটি সম্পূর্ণ ভুল ও একতরফা সিদ্ধান্তের কারণে আজ আমাদের পুরো দলকে চড়া মূল্য চোকাতে হয়েছে। ফুটবলের এই অদ্ভুত নিয়মটি সম্পর্কে ম্যাচ শুরুর আগে আমি বা আমার কোচিং স্টাফের কেউই জানতাম না। খুবই সাধারণ এবং সাধারণ একটি ট্যাকলের ঘটনায় ভিএআর যেভাবে অযাচিত হস্তক্ষেপ করল, সেটাই আজ ম্যাচের পুরো ভাগ্য বদলে দিল।

রেফারি এখানে সম্পূর্ণ ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ওটা যদি ডাইভ বা ফাউলও হয়ে থাকে, তবে সেটি ছিল খুবই লঘু একটি ঘটনা, যার জন্য লাল কার্ডের মতো কঠোর শাস্তি কখনোই হতে পারে না। আমি ভালো করেই জানি ফিফা অফিশিয়ালি তাদের রেফারিকেই সমর্থন করবে, কিন্তু বাস্তব সত্য হলো এই ত্রুটিপূর্ণ নিয়মটি আজ আমাদের পুরো ম্যাচটাই নষ্ট করে দিয়েছে।”

/আশিক


বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের ভবিষ্যদ্বাণী: আর্জেন্টিনাকে পেছনে ফেলে এগিয়ে ইংল্যান্ড!

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১২ ১৯:৫৬:২৪
বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের ভবিষ্যদ্বাণী: আর্জেন্টিনাকে পেছনে ফেলে এগিয়ে ইংল্যান্ড!
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর 'দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ' খ্যাত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী মঞ্চ এখন একদম শেষ প্রান্তে। গ্রুপ পর্ব ও নকআউটের সমস্ত নাটকীয়তা পেছনে ফেলে ইতিমধ্যেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে ফিফা র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষ চার পরাশক্তি। ফাইনালে ওঠার প্রথম হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইউরোপের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ফ্রান্স ও স্পেন। অন্যদিকে, ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম ধ্রুপদী দ্বৈরথে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা মাঠে নামবে লড়াকু ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।

সেমিফাইনালে পা রাখা প্রতিটি দলই ব্যক্তিগত নৈপুণ্য ও দলীয় শক্তিতে শিরোপা জেতার সমান সামর্থ্য রাখে। তবে মহাগুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগে ফুটবলপ্রেমীদের কৌতূহল মেটাতে শক্তিমত্তা, সাম্প্রতিক ফর্ম ও নিখুঁত অতীত পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে সেমিফাইনালের সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেছে বিখ্যাত ক্রীড়া পরিসংখ্যান ও ডেটা অ্যানালিটিক্স প্রতিষ্ঠান অপ্টার (Opta) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন সুপার কম্পিউটার।

অপ্টার ডেটা অ্যানালিসিস অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার দ্বিতীয় সেমিফাইনাল ম্যাচটি হতে যাচ্ছে চরম উত্তেজনাপূর্ণ ও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের। তবে সবচেয়ে বড় চমকপ্রদ তথ্য হলো, দুই দলের এই মহাযুদ্ধে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে নয়, বরং থ্রি-লায়ন্স খ্যাত ইংল্যান্ডকে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রাখছে অপ্টা সুপার কম্পিউটার। তাদের গাণিতিক হিসাব বলছে, ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনায় কিঞ্চিৎ এগিয়ে রয়েছে ইংলিশরা। হ্যারি কেনদের ফাইনাল খেলার সম্ভাবনা যেখানে ৫০.৯৬ শতাংশ, সেখানে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার সম্ভাবনা ৪৯.০৪ শতাংশ।

নির্ধারিত ৯০ মিনিটের মূল ম্যাচের সম্ভাব্য ফলাফলের ক্ষেত্রে সুপার কম্পিউটার ভবিষ্যদ্বাণী করেছে যে, মাঠের লড়াইয়ে সরাসরি ইংল্যান্ডের জেতার সম্ভাবনা ৩৮.৯ শতাংশ এবং আর্জেন্টিনার ম্যাচ জয়ের সম্ভাবনা ৩৪.১০ শতাংশ। এর পাশাপাশি চরম প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো ফলাফল না এসে ম্যাচটি অতিরিক্ত সময় কিংবা টাইব্রেকারে (ড্র) গড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে ২৭ শতাংশ।

ফাইনালের টিকিট কাটার লড়াইয়ের পাশাপাশি এই আসরের মূল সোনালী ট্রফিটি শেষ পর্যন্ত কার ঘরে যাচ্ছে, তা নিয়েও একটি দীর্ঘমেয়াদি সমীকরণ দাঁড় করিয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। সুপার কম্পিউটারের সর্বশেষ সিমুলেশন অনুযায়ী, এবারও টানা দ্বিতীয়বারের মতো আর্জেন্টিনার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা ২০.৫৫ শতাংশ। তবে ট্রফি জয়ের এই দৌড়েও আর্জেন্টিনাকে সামান্য পেছনে ফেলে ২১.৯৪ শতাংশ সম্ভাবনা নিয়ে এগিয়ে রয়েছে হ্যারি কেন ও বেলিংহ্যামদের ইংল্যান্ড। ফুটবলপ্রেমীরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন, মাঠের বাস্তব লড়াইয়ে সুপার কম্পিউটারের এই গাণিতিক হিসাব শেষ পর্যন্ত কতটা মেলে, তা দেখার জন্য।

/আশিক


‘আমার সঙ্গে সম্মান দিয়ে কথা বলুন’- রেফারিকে মেসি

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১২ ১১:১৯:৩৬
‘আমার সঙ্গে সম্মান দিয়ে কথা বলুন’- রেফারিকে মেসি
ছবি : সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ডের রোমাঞ্চকর লড়াই শুধু মাঠের পারফরম্যান্সেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ম্যাচ চলাকালে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি এবং ম্যাচ রেফারি জোয়াও পেদ্রো পিনেইরোর মধ্যে ঘটে যাওয়া উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

ম্যাচের প্রথমার্ধে সুইজারল্যান্ড একটি ফ্রি-কিক পাওয়ার পর ঘটনাটির সূত্রপাত হয়। প্রতিরক্ষা দেওয়ালে দাঁড়িয়ে থাকা মেসিকে নির্ধারিত দূরত্বে সরে যেতে নির্দেশ দেন পর্তুগিজ রেফারি পিনেইরো। তবে নির্দেশ দেওয়ার সময় তার কথা বলার ধরন ও অঙ্গভঙ্গি আর্জেন্টাইন অধিনায়কের পছন্দ হয়নি। এতে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মেসি রেফারিকে বলেন, ‘আমার সঙ্গে সম্মান দিয়ে কথা বলুন।’

ঘটনাটি সেখানেই থেমে থাকেনি। ফ্রি-কিক নেওয়ার পরও দুজনের মধ্যে আবার কথোপকথন হয়। টেলিভিশনের ক্যামেরায় দেখা যায়, মেসি আবারও রেফারির কাছে গিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। ঠোঁটের ভাষা বিশ্লেষণে ফুটে ওঠে, তিনি বলছিলেন, ‘আমার সঙ্গে ঠিকভাবে কথা বলুন। আমাকে অসম্মান করবেন না। আমি তো আপনাকে সম্মান দিয়েই কথা বলেছি।’

উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তেও মেসির আচরণ ছিল সংযত। উচ্চস্বরে প্রতিবাদ করলেও তিনি হাত পেছনে রেখে শান্তভাবে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, অধিনায়ক হিসেবে তিনি মূলত সম্মানজনক আচরণের দাবিই জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত আক্রমণ করেননি।

এই ঘটনার ভিডিও দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্বজুড়ে ফুটবল সমর্থকদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা। কেউ মেসির অবস্থানকে নেতৃত্বের উদাহরণ হিসেবে দেখেছেন, আবার কেউ মাঠে রেফারির কর্তৃত্ব বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন।

ম্যাচটি পরিচালনা করা জোয়াও পেদ্রো পিনেইরো বর্তমানে ইউরোপের অন্যতম সম্ভাবনাময় রেফারি হিসেবে পরিচিত। ৩৮ বছর বয়সী এই পর্তুগিজ রেফারি ২০১৫ সালে দেশটির শীর্ষ লিগে অভিষেক করেন। মাত্র এক বছর পরই তিনি ফিফার আন্তর্জাতিক রেফারি ব্যাজ অর্জন করেন।

পরবর্তীতে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ, ইউরোপা লিগ, উয়েফা নেশনস লিগ এবং ২০২৫ সালের উয়েফা সুপার কাপসহ ইউরোপের একাধিক শীর্ষ প্রতিযোগিতায় দায়িত্ব পালন করে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই তাকে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রেফারি প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

-রাফসান


সুইসদের বিপক্ষে অপরাজেয় রেকর্ডের আত্মবিশ্বাস নিয়ে সেমিফাইনালের লক্ষ্যে মেসিরা

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১১ ২০:৪৭:৪৪
সুইসদের বিপক্ষে অপরাজেয় রেকর্ডের আত্মবিশ্বাস নিয়ে সেমিফাইনালের লক্ষ্যে মেসিরা
ছবি : সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের স্মৃতি জড়ানো যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটির বিখ্যাত অ্যারোহেড স্টেডিয়ামেই আবারও ফিরছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে ওঠার মহাসমীকরণে বা কোয়ার্টার ফাইনালের হাইভোল্টেজ ম্যাচে এই ভেন্যুতেই আলবিসেলেস্তেরা মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইউরোপের লড়াকু দল সুইজারল্যান্ডের।

ফুটবলীয় ইতিহাস ও পরিসংখ্যান অবশ্য এই দ্বৈরথে স্পষ্ট ব্যবধানে আর্জেন্টিনার পক্ষেই কথা বলছে। কারণ, সুইসদের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ফুটবলের দীর্ঘ ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোনো ম্যাচেই হারের মুখ দেখেনি তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। আগামী রোববার (১২ জুলাই) বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় বিশ্বকাপের শেষ ও চতুর্থ কোয়ার্টার ফাইনালে সেমির টিকিট কাটার লক্ষ্যে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ড।

দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের অতীত ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, এখন পর্যন্ত তারা সর্বমোট সাতটি ম্যাচে একে অপরের বিরুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে দুটি ম্যাচ ছিল সরাসরি বিশ্বকাপের মঞ্চে—প্রথমটি ১৯৬৬ সালের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে এবং দ্বিতীয়টি ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপের রাউন্ড অব সিক্সটিন বা শেষ ষোলোর লড়াইয়ে।

সরাসরি সাতবারের দেখায় পাঁচটিতেই শেষ হাসি হেসেছে আর্জেন্টিনা, আর বাকি দুটি ম্যাচ অমীমাংসিত বা ড্র হয়েছে। আজ থেকে ৬০ বছর আগে ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে সুইজারল্যান্ডকে ২-০ গোলে অনায়াসে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা। আর দুই দলের সর্বশেষ স্মরণীয় দেখা হয়েছিল ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে। সেই আসরের রাউন্ড অব সিক্সটিনে ১-০ গোলের নাটকীয় জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কেটেছিল আলবিসেলেস্তেরা।

ব্রাজিলের সেই ঐতিহাসিক ম্যাচে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের মূল সময়ে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। যখন মনে হচ্ছিল ম্যাচটি টাইব্রেকারের দিকে যাচ্ছে, ঠিক তখনই অতিরিক্ত সময়ের ১১৮তম মিনিটে মাঝমাঠ থেকে লিওনেল মেসির জাদুকরী পাস থেকে ডি-বক্সে বল পান আনহেল ডি মারিয়া। নিখুঁত শটে গোল করে আর্জেন্টিনাকে উল্লাসে ভাসিয়েছিলেন তিনি।

এবারের ২০২৬ আসরে আর্জেন্টিনার সেই ট্রফিজয়ী তারকা ডি মারিয়া আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ায় দলে না থাকলেও, বরাবরের মতোই দলকে নেতৃত্ব দিতে আছেন ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি। রাউন্ড অব সিক্সটিনে মিশরের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানের শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ও গোল করে দলকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি।

এদিকে ফুটবলীয় এক দারুণ সংযোগ হিসেবে, ২০১৪ সালের সেই ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় ম্যাচের তিন ফুটবলার দীর্ঘ ১২ বছর পর আবারও এই বিশ্বকাপে একে অপরের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। তাঁরা হলেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি অধিনায়ক লিওনেল মেসি, সুইজারল্যান্ডের বর্তমান অধিনায়ক ও মাঝমাঠের চালিকাশক্তি গ্রানিত জাকা এবং দলটির অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার রিকার্ডো রদ্রিগেজ।

কানসাসের চেনা মাঠে এবারও কি অতীতের সেই অপরাজেয় ইতিহাসের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে সেমিফাইনালে পা রাখবে আর্জেন্টিনা, নাকি শক্তিশালী বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বধ করে প্রথমবারের মতো জয় তুলে নিয়ে নতুন রূপকথা লিখবে সুইজারল্যান্ড—সেই চূড়ান্ত উত্তর মিলবে অ্যারোহেড স্টেডিয়ামের মাঠের লড়াইয়ে।

/আশিক


মার্কার অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান: গতির বিচারে ক্রীড়াবিজ্ঞানকে বিস্মিত করছেন মেসি

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১১ ২০:৩১:০৯
মার্কার অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান: গতির বিচারে ক্রীড়াবিজ্ঞানকে বিস্মিত করছেন মেসি
ছবি : সংগৃহীত

৩৯ বছর বয়সে এসেও বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে লিওনেল মেসির অবিশ্বাস্য ও জাদুকরী পারফরম্যান্স ফুটবলপ্রেমী ও ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের স্তম্ভিত করে দিয়েছে। ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে যেভাবে তিনি একের পর এক ম্যাচে আলো ছড়াচ্ছেন, তা দেখে অনেকেই তাঁর বয়সকে সংখ্যা ছাড়া আর কিছুই মনে করছেন না; মাঠের গতিতে তাঁকে ২৫ বছর বয়সী কোনো উদ্যমী তরুণের মতোই সাবলীল দেখাচ্ছে। স্প্যানিশ জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেও মেসির এই অসাধারণ শারীরিক ক্ষিপ্রতা ও ম্যাচ ফিটনেসের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেছেন যে, মেসি এখন বিশ্বজুড়ে নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের জন্য এক জীবন্ত অনুপ্রেরণার নাম।

মেগা এই টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত মাত্র ৫টি ম্যাচ খেলে ব্যক্তিগত ৮টি গোল করার গৌরব অর্জন করেছেন আর্জেন্টিনার এই প্রাণভ্রমরা। গোল্ডেন বুটের শীর্ষ দৌড়ে থাকা এই ফুটবল জাদুকর শুধু মাঠের ভেতরেই রাজত্ব করছেন না, বরং মাঠের বাইরের চরম সুশৃঙ্খল জীবনযাপন ও নিয়মতান্ত্রিক শৃঙ্খলার কারণেই তিনি বয়সের এই কঠিন বাঁধাকে অনায়াসে জয় করতে সক্ষম হয়েছেন।

অথচ বেশ কিছুদিন আগে, মেসি যখন ইউরোপীয় ফুটবলের পাট চুকিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে যোগ দিয়েছিলেন, তখন সমালোচকদের অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন যে মেসির বর্ণিল ক্যারিয়ারের বুঝি গোধূলি লগ্ন শুরু হয়ে গেছে। তবে বর্তমানের বাস্তবতা সেই ধারণাকে পুরোপুরি ভুল প্রমাণ করেছে। আমেরিকার মেজর লিগ সকার (এমএলএস) যে অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক এবং শারীরিকভাবে কতটা কঠিন ও চাহিদাপূর্ণ একটি লিগ, তা মেসি মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই বুঝিয়ে দিয়েছেন।

এমএলএস-এর দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর ভ্রমণ সূচি, কৃত্রিম টার্ফে (আর্টিফিশিয়াল টার্ফ) খেলার চ্যালেঞ্জ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৈচিত্র্যময় জলবায়ুর বৈরিতা সামলে যেভাবে তিনি নিজেকে সর্বোচ্চ ফিট রেখেছেন, তা তাঁর পেশাদারিত্বের এক পরম উৎকর্ষতা প্রকাশ করে। মায়ামিতে তাঁর সতীর্থ সের্হিও রেগুইলোনও অকপটে স্বীকার করেছেন যে, বিশ্বমঞ্চে মেসির এই দুর্দান্ত ফর্ম পরোক্ষভাবে প্রমাণ করে যে এমএলএস আদতে কতটা মানসম্মত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি ফুটবল লিগ।

ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের মতে, মেসির এই অসামান্য ও দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের পেছনে আকস্মিক কোনো জাদুমন্ত্র নেই, বরং রয়েছে বছরের পর বছর ধরে করা কঠোর পরিকল্পনা ও সঠিক ব্যবস্থাপনা। তাঁর পরিবার, মার্কেটিং পার্টনার এবং বিশেষায়িত যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ দল অত্যন্ত সুচারুভাবে মাঠের বাইরের সব ধরনের মানসিক চাপ ও মিডিয়া হাইপ থেকে তাঁকে দূরে রাখে, যাতে তিনি মাঠে নেমে কেবল শতভাগ ফুটবলেই মনোযোগ ধরে রাখতে পারেন।

এ ছাড়া, ইন্টার মায়ামি ক্লাব কর্তৃপক্ষের প্রত্যক্ষ সহায়তায় বছরের শুরুতে সুপরিকল্পিত প্রাক-মৌসুম (প্রি-সিজন) কঠোর প্রশিক্ষণ এবং ফিজিও থেরাপির আধুনিক ও সঠিক ব্যবহার তাঁকে বিশ্বকাপের মতো আসরের জন্য শারীরিকভাবে সর্বোচ্চ চূড়ায় প্রস্তুত হতে সাহায্য করেছে। পাশাপাশি নিজের চিরচেনা খাদ্যভ্যাসে আমূল পরিবর্তন আনার মতো ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তগুলোও এখন দীর্ঘমেয়াদী সুফল বয়ে আনছে, যা তাঁকে বয়সের ভার থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি দিয়েছে।

তাঁর এই বয়সে এসেও শারীরিক সক্ষমতার সবচেয়ে বিস্ময়কর দিকটি আরও স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে তাঁর দৌড়ের গতির নিখুঁত পরিসংখ্যানে। স্প্যানিশ খ্যাতনামা ক্রীড়া পত্রিকা ‘মার্কা’-এর প্রকাশিত ডেটা অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মেসির ক্যারিয়ারের স্বর্ণযুগে তাঁর সর্বোচ্চ গতি যেখানে ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৩২ থেকে ৩৪ কিলোমিটারের কাছাকাছি; সেখানে ৩৯ বছর বয়সে এসে চলমান বিশ্বকাপে তিনি ঘণ্টায় ৩০.৯ কিলোমিটার সর্বোচ্চ গতি তুলেছেন।

২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের চেয়েও বর্তমান সময়ে এসে তাঁর গতির এই ইতিবাচক পরিবর্তন শারীরবৃত্তীয় দিক থেকে এক রহস্যময় ও অভূতপূর্ব উন্নতি, যা চিকিৎসা ও ক্রীড়াবিজ্ঞানের আধুনিক ইতিহাসেও অত্যন্ত বিরল। আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনিও মনে করেন, মেসি আসলে তাঁর সহজাত সামর্থ্যের সেরা ও বুদ্ধিদীপ্ত ব্যবহার করছেন এবং তিনি যখনই প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে সুযোগ পান, তখনই মাঠে এক বিধ্বংসী ও অপ্রতিরোধ্য গোলিং মেশিনে পরিণত হন।

চলতি আসরে মেসির এই দুর্দান্ত ও রাজকীয় পথচলা দেখে এখন বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মনে নতুন এক রোমাঞ্চকর প্রশ্ন উঁকি দিতে শুরু করেছে; লিওনেল মেসি কি তবে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপেও আলবিসেলেস্তেদের জার্সিতে মাঠ কাঁপাবেন? ৪৩ বছর বয়সে গিয়ে নিজের ক্যারিয়ারের রেকর্ড সপ্তম বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন পূরণ করা আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভব ও কাল্পনিক মনে হলেও, মেসির সাম্প্রতিক ফর্ম, নিখুঁত ফিটনেস ও ফুটবলের প্রতি প্রবল ইচ্ছাশক্তির কাছে যেকোনো অসম্ভবই যেন সম্ভব হতে পারে।

তিনি নিজে যতদিন না বুটজোড়া তুলে রাখার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, ততদিন পর্যন্ত মাঠের ফুটবলে তাঁকে থামিয়ে দেওয়া কোনো প্রতিপক্ষের ডিফেন্সের পক্ষেই সম্ভব নয়। আপাতত বৈশ্বিক ফুটবলে তাঁর পায়ের জাদুতে মুগ্ধ হওয়ার প্রতিটি মুহূর্তকে উপভোগ করতে প্রস্তুত পুরো বিশ্ববাসী, কারণ লিওনেল মেসি কেবল একজন ক্ষণজন্মা খেলোয়াড় নন, তিনি ফুটবলের ইতিহাসের এক অমর ও জীবন্ত মহাকাব্য।

সূত্র: মার্কা


মন্তিয়েল বনাম মোলিনা: সুইজারল্যান্ড ম্যাচে রাইটব্যাকে কে পাচ্ছেন সুযোগ?

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১১ ১৯:৩৬:০১
মন্তিয়েল বনাম মোলিনা: সুইজারল্যান্ড ম্যাচে রাইটব্যাকে কে পাচ্ছেন সুযোগ?
ছবি : সংগৃহীত

চলতি ফুটবল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে আর্জেন্টিনা দলে বড় ধরনের কোনো রদবদল বা আকস্মিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখছেন না দলটির প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। স্থানীয় সময় শুক্রবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করেন যে, শেষ ষোলোর ম্যাচে মিশরের বিপক্ষে যে দলটি জয় এনে দিয়েছিল, সেই উইনিং কম্বিনেশনই তিনি সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষেও প্রায় অপরিবর্তিত রাখতে পারেন। তবে চূড়ান্ত একাদশের দুটি সুনির্দিষ্ট পজিশন নিয়ে এখনও তাঁর মনে কিছুটা দোলাচল রয়েছে এবং সেই সিদ্ধান্ত ম্যাচের দিনই নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ সময় আগামী রোববার (১২ জুলাই) সকালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কানসাসের বিখ্যাত অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে শেষ ষোলোর বা নকআউট পর্বের হাইভোল্টেজ ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আলবিসেলেস্তেরা।

এই বাঁচা-মরার লড়াইয়ের আগে দলের রণকৌশল নিয়ে প্রধান কোচ স্কালোনি বলেন, “আমি আগেও একই দল একাধিকবার মাঠে নামিয়েছি এবং সফল হয়েছি। এবারও তার ব্যতিক্রম না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কৌশলগত কারণে কিছু ছোটখাটো পরিবর্তন আসতে পারে, তবে আপাতত আগের ম্যাচের স্কোয়াডের কাছাকাছিই থাকছি। মিশরের বিপক্ষে ম্যাচে আমাদের ছেলেরা অনেক ভালো দিক দেখাতে পেরেছে, যা ধরে রাখা জরুরি।”

স্কালোনির কোচিং স্টাফের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন অনুযায়ী, মিশরের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে নাটকীয় ও বিতর্কিত জয়ের ম্যাচে দল দীর্ঘ সময় পিছিয়ে থাকলেও সামগ্রিকভাবে মাঠের নিয়ন্ত্রণ ছিল আর্জেন্টিনারই। তারা প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে পর্যাপ্ত গোলের সুযোগ তৈরি করতে পেরেছিল, তবে ফরোয়ার্ডদের ফিনিশিংয়ের চরম ঘাটতি এবং ডিফেন্সের কিছু মারাত্মক রক্ষণাত্মক ভুল ম্যাচটিকে শেষ পর্যন্ত কঠিন করে তোলে। সে কারণেই সুইজারল্যান্ডের লড়াকু দলের বিপক্ষেও একই আক্রমণাত্মক কৌশল ও চেনা কাঠামো ধরে রাখতে চান মাস্টারমাইন্ড স্কালোনি। তবে কোনো ধরনের ঝুঁকি না নিয়ে ম্যাচের একদম শেষ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করেই তিনি খেলোয়াড়দের ফিটনেস দেখে চূড়ান্ত একাদশ ঘোষণা করবেন।

বর্তমানে স্কালোনির সামনে একাদশ সাজানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় দুটি প্রশ্ন বা বিকল্প রয়েছে রাইটব্যাক এবং মিডফিল্ড পজিশন নিয়ে। রাইটব্যাক পজিশনে গনসালো মন্তিয়েল ও নাহুয়েল মোলিনার মধ্যে একাদশে জায়গা পাওয়ার তীব্র লড়াই চলছে। অন্যদিকে মাঝমাঠ বা মিডফিল্ডে নিকোলাস গনসালেস জায়গা পেতে পারেন অভিজ্ঞ অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের পরিবর্তে, যদিও টিম ম্যানেজমেন্টের পরিসংখ্যান অনুযায়ী এখন পর্যন্ত ম্যাক অ্যালিস্টারই রেসের দৌড়ে কিছুটা এগিয়ে রয়েছেন।

সম্ভাব্য পরিবর্তনের তালিকায় থাকা এই দুই ফুটবলারই মিশরের বিপক্ষে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে আর্জেন্টিনার দুর্দান্ত ও ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। আক্রমণভাগে অবশ্য তরুণ তুর্কি জুলিয়ান আলভারেজের জায়গা আপাতত সম্পূর্ণ নিরাপদ বলেই মনে হচ্ছে, যদিও ডাগআউটে থাকা লাউতারো মার্তিনেজের সঙ্গে তাঁর একাদশে থাকার নীরব প্রতিদ্বন্দ্বিতা অব্যাহত রয়েছে।

সব মিলিয়ে নকআউট পর্বের কঠিন সমীকরণে একাদশে বড় ধরনের কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা রদবদলের ঝুঁকি নেবেন না স্কালোনি। কেবল মাঠের প্রয়োজন ও প্রতিপক্ষের শক্তি বিবেচনা করে নির্দিষ্ট কিছু পজিশনে সামান্য পরিবর্তন আনবেন, কারণ নকআউট পর্বে প্রতিটি ক্ষুদ্র সিদ্ধান্তই যেকোনো দলের টুর্নামেন্টের ভাগ্য গড়ে দিতে পারে কিংবা বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে দিতে পারে।

সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ

এমিলিয়ানো মার্টিনেজ (গোলরক্ষক); নাহুয়েল মোলিনা বা গনসালো মন্তিয়েল, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, নিকোলাস তালিয়াফিকো; রদ্রিগো ডি পল, এনজো ফার্নান্দেজ, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার বা নিকোলাস গনসালেস; লিওনেল মেসি (অধিনায়ক) ও জুলিয়ান আলভারেজ।

/আশিক


স্পেন-বেলজিয়াম মহারণ, সেমির টিকিট কার হাতে

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১০ ১২:৫২:১৯
স্পেন-বেলজিয়াম মহারণ, সেমির টিকিট কার হাতে
ছবি : সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আজ চোখ থাকবে ইউরোপের দুই শক্তিশালী ফুটবল পরাশক্তি স্পেন ও বেলজিয়ামের লড়াইয়ে। দুই দলের লক্ষ্য একটাই—শেষ চারের টিকিট নিশ্চিত করে শিরোপার আরও এক ধাপ কাছে পৌঁছে যাওয়া। তবে মাঠের লড়াইয়ে এগিয়ে থাকবে কে, তা নির্ধারণ করবে কৌশল, ধৈর্য, রক্ষণভাগের দৃঢ়তা এবং সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতা।

এই বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে স্পেন। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, টুর্নামেন্টে এখনো একটি গোলও হজম করেনি লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। শেষ ষোলোতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পর্তুগালকে ১-০ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস আরও বেড়েছে স্প্যানিশদের। নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে বদলি হিসেবে নেমে মিকেল মেরিনোর করা গোলই নিশ্চিত করে স্পেনের জয়।

সেই গোলের পেছনেও ছিল কোচের কৌশলগত সিদ্ধান্তের ছাপ। বদলি হিসেবে মাঠে নামা ফাবিয়ান রুইস ও ফেরান তোরেস আক্রমণ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। ফলে স্পেনের স্কোয়াডের গভীরতাও প্রতিপক্ষের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

তবে স্পেনের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের আক্রমণ নয়, বরং দুর্ভেদ্য রক্ষণভাগ। পাও কুবারসি, আয়মেরিক লাপোর্তে এবং গোলরক্ষক উনাই সিমন এখন পর্যন্ত প্রতিপক্ষের সব আক্রমণ সফলভাবে ঠেকিয়ে দিয়েছেন। সংগঠিত ডিফেন্স, দ্রুত বল পুনরুদ্ধার এবং মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ স্পেনকে এই বিশ্বকাপের অন্যতম ভারসাম্যপূর্ণ দলে পরিণত করেছে।

অন্যদিকে, বেলজিয়ামও শেষ আটে এসেছে দারুণ এক জয় নিয়ে। শেষ ষোলোতে যুক্তরাষ্ট্রকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে আত্মবিশ্বাসী অবস্থায় রয়েছে রেড ডেভিলরা। ম্যাচে জোড়া গোল করেন চার্লস ডি কেটেলারে, আর বাকি দুই গোল আসে হ্যান্স ভানাকেন ও রোমেলু লুকাকুর পা থেকে।

তবে বেলজিয়ামের যাত্রা খুব একটা মসৃণ ছিল না। গ্রুপ পর্বে মিশর ও ইরানের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়েছিল দলটিকে। এমনকি নকআউটের আগের ম্যাচেও সেনেগালের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের লড়াইয়ে জয় নিশ্চিত করতে হয়। ফলে আক্রমণভাগ যতটা উজ্জ্বল, রক্ষণে ততটাই অস্থিরতার ইঙ্গিত দেখা গেছে।

ফুটবল বিশ্লেষকদের ধারণা, ম্যাচে বলের দখল ও খেলার গতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করবে স্পেন। বিপরীতে বেলজিয়াম অপেক্ষাকৃত নিচু রক্ষণ গড়ে দ্রুত পাল্টা আক্রমণের কৌশল বেছে নিতে পারে। বিশেষ করে উইঙ্গার জেরেমি ডকুর গতি এবং লুকাকুর ফিনিশিংকে কাজে লাগিয়ে স্পেনের রক্ষণে চাপ তৈরি করার পরিকল্পনা থাকবে তাদের।

এই ম্যাচে দুই দলের কোচের কৌশলও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। স্পেন চাইবে ধৈর্য ধরে ছোট ছোট পাসে খেলা গড়ে তুলতে, আর বেলজিয়াম সুযোগ পেলেই দ্রুতগতির আক্রমণে প্রতিপক্ষকে চমকে দিতে চাইবে। ফলে ট্যাকটিক্যাল লড়াই, রক্ষণভাগের শৃঙ্খলা এবং গোলের সুযোগ কাজে লাগানোর সক্ষমতাই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফল নির্ধারণ করতে পারে।

-রাফসান


আজ মাঠে স্পেন-বেলজিয়াম, জমজমাট ক্রীড়া সূচি

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১০ ১০:৩৭:৫৬
আজ মাঠে স্পেন-বেলজিয়াম, জমজমাট ক্রীড়া সূচি
ছবি : সংগৃহীত

ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য শুক্রবারের দিনটি হতে যাচ্ছে দারুণ ব্যস্ত। ফুটবল, ক্রিকেট ও টেনিস তিনটি জনপ্রিয় খেলাতেই রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ লড়াই। তবে দিনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ নিঃসন্দেহে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেন ও বেলজিয়ামের মুখোমুখি সংঘর্ষ, যেখানে জয়ী দল নিশ্চিত করবে সেমিফাইনালের টিকিট।

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে দুই ইউরোপীয় পরাশক্তির এই লড়াইকে ঘিরে ইতোমধ্যেই তৈরি হয়েছে তুমুল আগ্রহ। আক্রমণাত্মক ফুটবল, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং কৌশলগত লড়াই সব মিলিয়ে ম্যাচটি হতে পারে এবারের টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা দ্বৈরথ। দুই দলই শক্তিশালী স্কোয়াড নিয়ে মাঠে নামবে এবং একটি ভুলই বদলে দিতে পারে ম্যাচের ভাগ্য।

ফুটবলের উত্তেজনার পাশাপাশি ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্যও রয়েছে বিশেষ আয়োজন। ইংল্যান্ড ও ভারতের মধ্যকার নারী টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচ শুরু হবে শুক্রবার বিকেলে। দুই শক্তিশালী দলের এই লাল বলের লড়াই আন্তর্জাতিক নারী ক্রিকেটে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

টেনিসপ্রেমীদের নজর থাকবে উইম্বলডন চ্যাম্পিয়নশিপের পুরুষ এককের সেমিফাইনালে। বিশ্বের সেরা তারকারা ঘাসের কোর্টে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে লড়াই করবেন। ঐতিহ্যবাহী এই গ্র্যান্ড স্ল্যামের শেষ পর্যায়ের ম্যাচগুলো বরাবরের মতোই রোমাঞ্চে ভরপুর হওয়ার আভাস দিচ্ছে।

একই দিনে ক্রিকেট ও টেনিসের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ থাকায় বিশ্বের ক্রীড়াঙ্গনজুড়েই থাকবে ব্যস্ততা ও উত্তেজনা।

আজকের ক্রীড়া সূচি

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ (কোয়ার্টার ফাইনাল)

ফুটবল বিশ্বকাপ এখন শেষ আটের লড়াইয়ে পৌঁছে যাওয়ায় প্রতিটি ম্যাচই শিরোপার পথে এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ। স্পেন ও বেলজিয়ামের মতো দুই শক্তিশালী দলের মুখোমুখি হওয়ায় সমর্থকদের প্রত্যাশাও তুঙ্গে।

স্পেন বনাম বেলজিয়াম

রাত ১:০০টা

বিটিভি, টি স্পোর্টস ও সময় টিভি

নারী টেস্ট ক্রিকেট (প্রথম দিন)

ইংল্যান্ড বনাম ভারত

বিকেল ৪:০০টা

সনি স্পোর্টস ১

উইম্বলডন ২০২৬

পুরুষ এককের সেমিফাইনাল

সন্ধ্যা ৬:০০টা

স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ১ ও স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ২


৩৪ ম্যাচের অপরাজিত মরক্কোকে বিদায় দিল ফ্রান্স

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১০ ১০:৩৩:২৫
৩৪ ম্যাচের অপরাজিত মরক্কোকে বিদায় দিল ফ্রান্স
ছবি : সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে শক্তিশালী মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপ্পের নেতৃত্বে দুর্দান্ত আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে দিদিয়ের দেশামের দল। এই জয়ের মাধ্যমে শুধু শেষ চারেই জায়গা করে নেয়নি ফরাসিরা, একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফুটবলে মরক্কোর টানা ৩৪ ম্যাচের অপরাজিত থাকার অবিশ্বাস্য ধারারও ইতি টেনেছে।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল ফ্রান্স। তবে মরক্কোর অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনু প্রথমার্ধে একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন। এমনকি পেনাল্টি থেকেও ফ্রান্সকে গোল করতে দেননি তিনি। তার অসাধারণ দৃঢ়তায় বিরতিতে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি।

দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমেই গতি আরও বাড়িয়ে দেয় ফরাসিরা। মিডফিল্ড ও দুই প্রান্ত ব্যবহার করে ধারাবাহিক আক্রমণ চালাতে থাকে তারা। মরক্কোর রক্ষণভাগ দীর্ঘ সময় চাপ সামাল দিলেও শেষ পর্যন্ত এমবাপ্পের দুর্দান্ত ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের সামনে ভেঙে পড়ে।

ম্যাচের অচলাবস্থা ভাঙেন ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার শক্তিশালী ও নিখুঁত শট মরক্কোর জালে জড়িয়ে গেলে এগিয়ে যায় ফ্রান্স। গোলের পর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে ইউরোপের দলটি এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়।

দ্বিতীয় গোলেও ছিল এমবাপ্পের গুরুত্বপূর্ণ অবদান। ডি-বক্সের সামনে চমৎকার পাস বাড়িয়ে দেন তিনি। সেই বল থেকে উসমান দেম্বেলে শট নিলে তা খুব বেশি জোরালো না হলেও মরক্কোর রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে ডান পাশের নিচের কোণা দিয়ে জালে প্রবেশ করে। ব্যবধান ২-০ হওয়ার পর ম্যাচে ফেরার মতো সুযোগ আর তৈরি করতে পারেনি মরক্কো।

মরক্কো অবশ্য পুরো ম্যাচজুড়েই লড়াকু ফুটবল উপহার দেয়। পাল্টা আক্রমণে কয়েকবার ফরাসি রক্ষণকে ব্যস্ত রাখলেও শেষ মুহূর্তে কার্যকর ফিনিশিংয়ের অভাব তাদের হতাশ করেছে। আফ্রিকার প্রতিনিধিরা বলের জন্য লড়াই করেছে, মাঝমাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়েছে এবং শেষ পর্যন্ত হার না মানা মানসিকতা দেখিয়েছে, কিন্তু ফ্রান্সের অভিজ্ঞতা ও আক্রমণভাগের ধারাল পারফরম্যান্সের সামনে সেটি যথেষ্ট ছিল না।

এই জয়ের মাধ্যমে ২০২৬ বিশ্বকাপের শিরোপা দৌড়ে নিজেদের শক্ত অবস্থান আরও স্পষ্ট করল ফ্রান্স। এমবাপ্পে আবারও বড় ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে প্রমাণ করলেন কেন তিনি বর্তমান প্রজন্মের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে বিবেচিত। অন্যদিকে, হারলেও বিশ্বকাপজুড়ে শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল, শক্তিশালী রক্ষণ এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের জন্য মরক্কো সমর্থকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

৩৪ ম্যাচের দীর্ঘ অপরাজিত অভিযানের সমাপ্তি হলেও মরক্কোর এই যাত্রা আফ্রিকান ফুটবলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আর ফ্রান্স এখন তাকিয়ে থাকবে সেমিফাইনালের দিকে, যেখানে আরেকটি জয় তাদের বিশ্বকাপ ফাইনালের আরও কাছে পৌঁছে দিতে পারে।

-রাফসান

পাঠকের মতামত: