ট্রফির চেয়েও বড় কোন ‘উত্তরাধিকার’ খুঁজছেন স্কালোনি? সুইজারল্যান্ড বধের আগে বিশ্বজয়ীর আবেগঘন বার্তা

ফুটবল ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১১ ১২:১২:৪০
ট্রফির চেয়েও বড় কোন ‘উত্তরাধিকার’ খুঁজছেন স্কালোনি? সুইজারল্যান্ড বধের আগে বিশ্বজয়ীর আবেগঘন বার্তা
অ্যারোহেড স্টেডিয়ামের সংবাদ সম্মেলনে কথা বলার সময় স্কালোনি। ছবি- সংগৃহীত।

লিওনেল স্কালোনির হাত ধরে দীর্ঘ ৩৬ বছরের খরা কাটিয়ে বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি জিতেছিল আর্জেন্টিনা। এবার সেই মাস্টারমাইন্ড কোচ দাঁড়িয়ে আছেন ফুটবলের এক অনন্য ইতিহাস গড়ার দোরগোড়ায়। ১৯৬২ সালে পেলের ব্রাজিলের পর বিশ্বের প্রথম দল হিসেবে টানা দুবার বিশ্বকাপ জয়ের এক অবিশ্বাস্য সুবর্ণ সুযোগ এখন আলবিসেলেস্তেদের সামনে। সেই মহোত্তম লক্ষ্য পূরণে বাংলাদেশ সময় আগামীকাল সকাল ৭টায় যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটির বিখ্যাত অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ মহারণের আগে সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়ে স্কালোনি জানালেন, তাঁর ভাবনায় কেবল ট্রফি জয়ের রেকর্ড নয়, বরং তিনি খুঁজছেন এমন এক চিরন্তন উত্তরাধিকার যা ফুটবল ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে থাকবে। তিনি চান তাঁর দল শুধু ট্রফি বিজয়ী হিসেবে নয়, বরং বিশ্বমঞ্চে ‘কখনো হার না মানা’ এক লড়াকু দল হিসেবে পরিচিতি পাক।

অ্যারোহেড স্টেডিয়ামের সংবাদ সম্মেলনে কথা বলার সময় স্কালোনির কণ্ঠে ছিল এক অদ্ভুত মনস্তাত্ত্বিক ও মানবিক আবেগ। আগের দিনই আর্জেন্টিনার এক ১০ বছর বয়সী খুদে ভক্তের পাঠানো অত্যন্ত আবেগঘন একটি ভিডিও বার্তা তাঁর হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। সেই প্রসঙ্গের অবতারণা করে আর্জেন্টাইন কোচ জানান, তিনি চান ফুটবল বিশ্ব এই বর্তমান জাতীয় দলটাকে এমন একটি দল হিসেবে মনে রাখুক, যারা মাঠের লড়াইয়ে পরিস্থিতি যতই প্রতিকূল হোক না কেন, কখনো হাল ছাড়ে না। স্কালোনি জোর দিয়ে বলেন যে, তাঁরা কোচিং স্টাফ এবং খেলোয়াড়েরা মূলত কোটি ভক্তের এই নিঃশর্ত ভালোবাসার জন্যই ফুটবল খেলেন, কেবল একটি জয় বা ট্রফির সংকীর্ণ বৃত্তে তাঁদের স্বপ্ন সীমাবদ্ধ নয়। হৃদয় থেকে আসা এমন বিশুদ্ধ আবেগ ও মাঠের ভেতরের হার না মানার মানসিকতাই ট্রফির চেয়ে তাঁর দলের আসল ও সার্থক উত্তরাধিকার, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।

এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার পথচলাটা গ্রুপ পর্বে বেশ অনায়াস ও মসৃণ হলেও নকআউট পর্বে এসে তাদের চরম পরীক্ষা ও তীব্র স্নায়ুচাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। বিশেষ করে কেপ ভার্দে এবং মিসরের মতো লড়াকু দলগুলোর বিপক্ষে জয় পেতে আলবিসেলেস্তেদের নিজেদের শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত ঢেলে দিতে হয়েছে। অবশ্য সব বাধা ও প্রতিকূলতা পেরিয়ে লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, এনজো ফার্নান্দেজদের নিয়ে গঠিত স্কালোনির এই অপরাজেয় দল এখন বিশ্বকাপে টানা ১১ ম্যাচে অপরাজিত থাকার এক দুর্দান্ত কীর্তি ধরে রেখেছে। তবে সেমিফাইনালের টিকিট কাটার এই মরণপণ লড়াইয়ে সুইজারল্যান্ড যে তাদের রক্ষণ ও আক্রমণভাগের কঠোর পরীক্ষা নেবে, তা খুব ভালো করেই জানেন আর্জেন্টাইন রণকৌশলী।

প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ডকে কোনোভাবেই হালকা করে দেখছেন না স্কালোনি, কারণ সুইসদের মাঠের ভেতরে নেতৃত্ব দিচ্ছেন অভিজ্ঞ এবং আগ্রাসী মিডফিল্ডার গ্রানিত জাকা। সুইজারল্যান্ডের ফুটবলীয় ঐতিহ্য ও শক্তির প্রতি গভীর সমীহ প্রদর্শন করে স্কালোনি বলেন যে, বিশ্বকাপে ওদের অত্যন্ত দীর্ঘ ও গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে। তাছাড়া শারীরিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী এবং দারুণ অভিজ্ঞ সব খেলোয়াড়ে সমৃদ্ধ এই সুইস দলটি এই বিশ্বকাপেই দুর্দান্ত ফর্মে থাকা শক্তিশালী কলম্বিয়াকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পা রেখেছে, তাই ম্যাচটি যে আর্জেন্টিনার জন্য ভীষণ কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কানসাসের এই মহালড়াইয়ে সুইজারল্যান্ডকে যদি আর্জেন্টিনা হারাতে পারে, তবে সেমিফাইনালের মহারণে তাদের প্রতিপক্ষ হবে অন্য প্রান্তের কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হওয়া ইংল্যান্ড কিংবা নরওয়ের মধ্যে যেকোনো একটি দল।

মিয়ামিতে মহাদ্বৈরথ: ইংল্যান্ডকে ফেবারিট মেনেও কোন সমীকরণে হুঙ্কার ছাড়ছে নরওয়ে?

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার মহালড়াইয়ে আজ রাতে এক হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে নরওয়ে ও ইংল্যান্ড। যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে শেষ আটের এই ঐতিহাসিক মহারণটি বাংলাদেশ সময় আজ রাত ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে। এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ে প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ডকেই ফেবারিট হিসেবে এগিয়ে রাখছেন নরওয়ের কোচ স্টেল সোলবাক্কেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নরওয়েজিয়ান বস অকপটে স্বীকার করেছেন যে এই ম্যাচে ইংল্যান্ডই জয় পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা এগিয়ে থাকবে, তবে মাঠের লড়াইয়ে তারা খুব বড় ব্যবধানে ফেবারিট নয়। সেমিফাইনালের টিকিট কাটার এই মরণপণ লড়াইয়ে থ্রি লায়ন্সদের রুখে দিতে তারা যে বিন্দুমাত্র ছাড় দেবে না, সেই ইঙ্গিতও দিয়ে রেখেছেন তিনি।

ম্যাচ-পূর্ববর্তী অফিসিয়াল সংবাদ সম্মেলনেও কোচ স্টেল সোলবাক্কেন একই সুর ধরে রেখে প্রতিপক্ষের ওপর কৌশলে মানসিক চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, শক্তির বিচারে এবং ঐতিহ্যের কারণে তাদের চেয়ে ইংল্যান্ডের ওপরই ম্যাচ জেতার মনস্তাত্ত্বিক চাপ অনেক বেশি থাকবে। তবে নিজেদের পারফরম্যান্স ও দেশের মানুষের প্রত্যাশা নিয়ে নরওয়ে দলও ভেতরে ভেতরে কিছুটা চাপ অনুভব করছে বলে তিনি অকপটে স্বীকার করেন। সোলবাক্কেন দৃঢ়তার সাথে বলেন যে, মাঠের বাইরে যতই আলোচনা বা চাপ থাকুক না কেন, রেফারি যখনই বাঁশি বাজিয়ে খেলা শুরু করে দেবেন, তখন খেলোয়াড়দের মাথায় আর কোনো বাড়তি চিন্তা কাজ করে না; তারা কেবল নিজেদের স্বাভাবিক কৌশল ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মনোযোগী হন।

চলতি বিশ্বকাপে নরওয়ের এই পর্যন্ত আসার পথটি ছিল অবিশ্বাস্য রকমের রোমাঞ্চকর, বিশেষ করে শেষ ষোলোর ম্যাচে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন পরাশক্তি ব্রাজিলকে বিদায় করে তারা কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে। দলটিতে আরলিং হালান্ড এবং মার্টিন ওডেগার্ডের মতো ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা বিশ্বমানের একঝাঁক তারকা ফুটবলার রয়েছেন, যারা ব্রিটিশ ফুটবলারদের শক্তির জায়গাগুলো খুব ভালো করেই চেনেন। নরওয়ে কোচ গর্বের সাথে জানান যে, বিশ্বকাপের ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিবেচনা করলে ব্রাজিল ও ইংল্যান্ড সম্ভবত ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুটি দল, আর এই বিশ্বমঞ্চে নকআউট পর্বে টানা এমন দুটি পরাশক্তির মুখোমুখি হতে পারাটা তাদের ফুটবলারদের জন্য এক বিশাল অভিজ্ঞতা ও বীরত্বের বিষয়।

মিয়ামির এই ব্লকবাস্টার কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের বিজয়ী দল সরাসরি চলে যাবে সেমিফাইনালের গৌরবময় মঞ্চে। আগামী বুধবার আটলান্টায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সেই হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালে তারা মুখোমুখি হবে অন্য প্রান্তের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ড ম্যাচের বিজয়ী দলের বিপক্ষে। ফুটবলপ্রেমীরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন দেখার জন্য—আরলিং হালান্ডের নরওয়ে কি ব্রাজিলের পর এবার ইংল্যান্ডকেও স্তব্ধ করে নতুন কোনো ইতিহাস লিখবে, নাকি ফেবারিট হিসেবে থ্রি লায়ন্সরাই শেষ চারের টিকিট বুক করবে।


মিয়ামিতে মহাদ্বৈরথ: ইংল্যান্ডকে ফেবারিট মেনেও কোন সমীকরণে হুঙ্কার ছাড়ছে নরওয়ে?

ফুটবল ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১১ ১১:০৯:২৫
মিয়ামিতে মহাদ্বৈরথ: ইংল্যান্ডকে ফেবারিট মেনেও কোন সমীকরণে হুঙ্কার ছাড়ছে নরওয়ে?

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার মহালড়াইয়ে আজ রাতে এক হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে নরওয়ে ও ইংল্যান্ড। যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে শেষ আটের এই ঐতিহাসিক মহারণটি বাংলাদেশ সময় আজ রাত ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে। এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ে প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ডকেই ফেবারিট হিসেবে এগিয়ে রাখছেন নরওয়ের কোচ স্টেল সোলবাক্কেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নরওয়েজিয়ান বস অকপটে স্বীকার করেছেন যে এই ম্যাচে ইংল্যান্ডই জয় পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা এগিয়ে থাকবে, তবে মাঠের লড়াইয়ে তারা খুব বড় ব্যবধানে ফেবারিট নয়। সেমিফাইনালের টিকিট কাটার এই মরণপণ লড়াইয়ে থ্রি লায়ন্সদের রুখে দিতে তারা যে বিন্দুমাত্র ছাড় দেবে না, সেই ইঙ্গিতও দিয়ে রেখেছেন তিনি।

ম্যাচ-পূর্ববর্তী অফিসিয়াল সংবাদ সম্মেলনেও কোচ স্টেল সোলবাক্কেন একই সুর ধরে রেখে প্রতিপক্ষের ওপর কৌশলে মানসিক চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, শক্তির বিচারে এবং ঐতিহ্যের কারণে তাদের চেয়ে ইংল্যান্ডের ওপরই ম্যাচ জেতার মনস্তাত্ত্বিক চাপ অনেক বেশি থাকবে। তবে নিজেদের পারফরম্যান্স ও দেশের মানুষের প্রত্যাশা নিয়ে নরওয়ে দলও ভেতরে ভেতরে কিছুটা চাপ অনুভব করছে বলে তিনি অকপটে স্বীকার করেন। সোলবাক্কেন দৃঢ়তার সাথে বলেন যে, মাঠের বাইরে যতই আলোচনা বা চাপ থাকুক না কেন, রেফারি যখনই বাঁশি বাজিয়ে খেলা শুরু করে দেবেন, তখন খেলোয়াড়দের মাথায় আর কোনো বাড়তি চিন্তা কাজ করে না; তারা কেবল নিজেদের স্বাভাবিক কৌশল ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মনোযোগী হন।

চলতি বিশ্বকাপে নরওয়ের এই পর্যন্ত আসার পথটি ছিল অবিশ্বাস্য রকমের রোমাঞ্চকর, বিশেষ করে শেষ ষোলোর ম্যাচে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন পরাশক্তি ব্রাজিলকে বিদায় করে তারা কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে। দলটিতে আরলিং হালান্ড এবং মার্টিন ওডেগার্ডের মতো ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা বিশ্বমানের একঝাঁক তারকা ফুটবলার রয়েছেন, যারা ব্রিটিশ ফুটবলারদের শক্তির জায়গাগুলো খুব ভালো করেই চেনেন। নরওয়ে কোচ গর্বের সাথে জানান যে, বিশ্বকাপের ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিবেচনা করলে ব্রাজিল ও ইংল্যান্ড সম্ভবত ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুটি দল, আর এই বিশ্বমঞ্চে নকআউট পর্বে টানা এমন দুটি পরাশক্তির মুখোমুখি হতে পারাটা তাদের ফুটবলারদের জন্য এক বিশাল অভিজ্ঞতা ও বীরত্বের বিষয়।

মিয়ামির এই ব্লকবাস্টার কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের বিজয়ী দল সরাসরি চলে যাবে সেমিফাইনালের গৌরবময় মঞ্চে। আগামী বুধবার আটলান্টায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সেই হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালে তারা মুখোমুখি হবে অন্য প্রান্তের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ড ম্যাচের বিজয়ী দলের বিপক্ষে। ফুটবলপ্রেমীরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন দেখার জন্য—আরলিং হালান্ডের নরওয়ে কি ব্রাজিলের পর এবার ইংল্যান্ডকেও স্তব্ধ করে নতুন কোনো ইতিহাস লিখবে, নাকি ফেবারিট হিসেবে থ্রি লায়ন্সরাই শেষ চারের টিকিট বুক করবে।


হালান্ডের আঘাতে ভাঙল ব্রাজিলের ‘হেক্সা’ স্বপ্ন, কান্নাভেজা বিদায় নেইমারের

ফুটবল ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৬ ১০:৪০:৩১
হালান্ডের আঘাতে ভাঙল ব্রাজিলের ‘হেক্সা’ স্বপ্ন, কান্নাভেজা বিদায় নেইমারের

হালান্ডের আঘাতে ভাঙল ব্রাজিলের ‘হেক্সা’ স্বপ্ন, কান্নাভেজা বিদায় নেইমারের

বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় আকাঙ্ক্ষা ছিল ‘হেক্সা’—ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপা। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপেও সেই স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল। বরং পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ইতিহাসে যুক্ত হলো আরেকটি বেদনাদায়ক অধ্যায়। শেষ ষোলোর রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে কার্লো আনচেলত্তির দল। আর সেই বিদায়ের রাতেই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর ঘোষণা দিয়ে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের এক উজ্জ্বল অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি টেনে দিলেন নেইমার জুনিয়র।

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই ব্রাজিল বল দখল ও আক্রমণে এগিয়ে থাকার চেষ্টা করে। সেলেসাওদের লক্ষ্য ছিল দ্রুত গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়া। কিন্তু নরওয়ে শুরু থেকেই ছিল সংগঠিত, ধৈর্যশীল এবং পাল্টা আক্রমণে ভয়ংকর। ব্রাজিলের আক্রমণ বারবার নরওয়ের রক্ষণে আটকে যায়, আর সুযোগ পেলেই আর্লিং হালান্ডকে সামনে রেখে দ্রুতগতির আক্রমণে ওঠে ইউরোপের দলটি।

প্রথমার্ধেই ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে ব্রাজিলের পক্ষে পাওয়া পেনাল্টি থেকে। ব্রুনো গুইমারায়েস স্পট-কিক নিতে এগিয়ে এলেও নরওয়ের গোলরক্ষক অরিয়ান নাইল্যান্ড দুর্দান্ত সেভে ব্রাজিলকে হতাশ করেন। সেই মিসই যেন ম্যাচের মনস্তত্ত্ব বদলে দেয়। ব্রাজিল যেখানে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ হারায়, নরওয়ে সেখানে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে বদলাতে থাকে। ব্রাজিল আক্রমণে উঠলেও শেষ পাস ও ফিনিশিংয়ে ছিল অস্থিরতা। অন্যদিকে নরওয়ে অপেক্ষা করছিল সঠিক মুহূর্তের। সেই মুহূর্ত এনে দেন হালান্ড। প্রথমে শক্তিশালী হেডে গোল করে নরওয়েকে এগিয়ে দেন তিনি। এরপর আরেকটি নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ম্যানচেস্টার সিটির এই তারকা ফরোয়ার্ড। কয়েক মিনিটের ব্যবধানে হালান্ডের দুই গোল ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্বপ্নকে কার্যত ধাক্কা দিয়ে বাইরে ফেলে দেয়।

শেষ দিকে নেইমার মাঠে নেমে ব্রাজিলের আক্রমণে কিছুটা প্রাণ ফেরান। যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান কমান তিনি। কিন্তু সেই গোল ছিল কেবল সান্ত্বনা; ব্রাজিলকে আর ম্যাচে ফেরাতে পারেনি। শেষ বাঁশি বাজতেই নরওয়ের খেলোয়াড়রা উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন, আর ব্রাজিল শিবিরে নেমে আসে গভীর হতাশা।

এই পরাজয় শুধু একটি বিশ্বকাপ ম্যাচ হারার ঘটনা নয়; এটি ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের দীর্ঘ ব্যর্থতার ধারাকে আরও ভারী করে তুলল। ২০০২ সালে রোনালদো, রিভালদো ও রোনালদিনহোর হাত ধরে পঞ্চম বিশ্বকাপ জয়ের পর ২৪ বছর কেটে গেছে। এরপর প্রতিটি বিশ্বকাপেই ব্রাজিল এসেছে শিরোপাপ্রত্যাশী হিসেবে, কিন্তু ফিরেছে হতাশা নিয়ে। ২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং এখন ২০২৬—প্রতিবারই ‘হেক্সা’ স্বপ্ন ভেঙেছে ভিন্ন ভিন্নভাবে।

২০১৪ সালে ঘরের মাঠে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের দুঃস্বপ্ন এখনও ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের মানসিক ক্ষত হয়ে আছে। তবে নরওয়ের কাছে এই বিদায়ও কম বেদনাদায়ক নয়। কারণ, এবার ব্রাজিল বিদায় নিল শেষ ষোলো থেকেই, যা সাম্প্রতিক বিশ্বকাপ ইতিহাসে তাদের অন্যতম বড় ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত হবে।

ম্যাচ শেষে সবচেয়ে আবেগঘন দৃশ্য ছিল নেইমারকে ঘিরে। শেষ বাঁশির পর মাঠেই ভেঙে পড়েন ব্রাজিলিয়ান মহাতারকা। সতীর্থরা তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেও চোখের জল আটকাতে পারেননি তিনি। কারণ, এই রাত ছিল শুধু বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের বিদায়ের রাত নয়; ছিল নেইমারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ রাতও।

ব্রাজিলের জার্সিতে নেইমারের পথচলা শুরু হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতেই। প্রায় ১৬ বছর পর সেই যুক্তরাষ্ট্রেই শেষ হলো তার জাতীয় দলের অধ্যায়। চারটি বিশ্বকাপ খেলেও বিশ্বকাপ ট্রফি ছোঁয়া হলো না তার। কনফেডারেশনস কাপ, অলিম্পিক সোনা, অসংখ্য গোল, অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত—সবকিছু থাকার পরও বিশ্বকাপহীন বিদায়টাই তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অপূর্ণতা হয়ে থাকবে।

নেইমার ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা, এক প্রজন্মের ফুটবলপ্রেমীদের আবেগের কেন্দ্রবিন্দু। তার ড্রিবল, সৃজনশীলতা, ব্যক্তিগত নৈপুণ্য এবং বড় ম্যাচে দায়িত্ব নেওয়ার ক্ষমতা তাকে আলাদা পরিচয় দিয়েছে। কিন্তু বিশ্বকাপের মঞ্চে বারবার চোট, চাপ, দলগত অস্থিরতা এবং শেষ পর্যন্ত ভাগ্যের নির্মমতা তাকে শিরোপা থেকে দূরে রেখেছে।

নরওয়ের বিপক্ষে গোল করে নেইমার আরেকটি ব্যক্তিগত মাইলফলকও ছুঁয়েছেন। তিনি ব্রাজিলের ইতিহাসে পেলের পর এমন বিরল কীর্তিতে নাম লিখিয়েছেন, যেখানে চারটি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার গৌরব আছে। কিন্তু ব্যক্তিগত অর্জনের আলোও এই বিদায়ের অন্ধকার কাটাতে পারেনি।

নরওয়ের জন্য রাতটি ছিল ঐতিহাসিক। ব্রাজিলের মতো ফুটবল পরাশক্তিকে বিদায় করে তারা শুধু কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠেনি, নিজেদের ফুটবল ইতিহাসেও লিখেছে এক সোনালি অধ্যায়। হালান্ডের নেতৃত্বে নরওয়ে দেখিয়ে দিল, বিশ্বকাপের নকআউট মঞ্চে নাম, ঐতিহ্য বা অতীত গৌরব নয়—সিদ্ধান্ত নেয় বর্তমানের সাহস, শৃঙ্খলা এবং সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষমতা।

অন্যদিকে ব্রাজিলের সামনে এখন কঠিন আত্মসমালোচনার সময়। প্রতিভার অভাব নেই, ইতিহাসের গৌরবও অটুট; তবু বিশ্বকাপ জয়ের মতো দলগত ধারাবাহিকতা, মানসিক দৃঢ়তা ও কৌশলগত ভারসাম্য বারবার অনুপস্থিত থেকে যাচ্ছে। নেইমারের বিদায়ের পর নতুন প্রজন্মের হাতে সেলেসাওদের ভবিষ্যৎ। কিন্তু প্রশ্ন রয়ে গেল—২০৩০ সালে কি সত্যিই ফিরবে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ?

হেক্সার অপেক্ষা এখন আরও দীর্ঘ হলো। ২০০২ থেকে ২০৩০—কমপক্ষে ২৮ বছরের ব্যবধান। নেইমার নেই, স্বপ্ন এখনও আছে। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণে ব্রাজিলকে এখন শুধু তারকানির্ভরতা নয়, নতুন ফুটবল দর্শন, নতুন নেতৃত্ব এবং কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে।


অ্যাজটেকার আগুনে ইংল্যান্ডের বেঁচে ফেরা, মেক্সিকোকে কাঁদিয়ে শেষ আটে টুখেলের দল

ফুটবল ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৬ ১০:২৮:৪৯
অ্যাজটেকার আগুনে ইংল্যান্ডের বেঁচে ফেরা, মেক্সিকোকে কাঁদিয়ে শেষ আটে টুখেলের দল

প্রবল ঝড়, মেক্সিকো সিটির উচ্চতা, অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামের বধির করা গর্জন এবং শেষ দিকে ১০ জনের লড়াই—সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ইংল্যান্ড। রুদ্ধশ্বাস শেষ ষোলোর ম্যাচে সহ-আয়োজক মেক্সিকোকে ৩-২ গোলে হারিয়ে শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছে থ্রি লায়ন্সরা। থমাস টুখেলের দলের সামনে এবার নরওয়ে, যারা ব্রাজিলকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে।

মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হওয়ার কথা ছিল নির্ধারিত সময়ে। কিন্তু প্রবল ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির কারণে কিক-অফ পিছিয়ে যায় প্রায় এক ঘণ্টা। আবহাওয়ার এই বিলম্ব যেন ম্যাচের নাটকীয়তাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। মাঠে নামার পর শুরু থেকেই বোঝা যাচ্ছিল, এটি শুধু আরেকটি নকআউট ম্যাচ নয়; স্বাগতিক মেক্সিকোর জন্য ছিল ঘরের মাঠে ইতিহাস লেখার সুযোগ, আর ইংল্যান্ডের জন্য ছিল বহু বছরের বিশ্বকাপ-আকাঙ্ক্ষা ধরে রাখার কঠিন পরীক্ষা।

ম্যাচের শুরুতে মেক্সিকো গ্যালারির তুমুল সমর্থনকে পুঁজি করে ইংল্যান্ডের ওপর চাপ তৈরি করার চেষ্টা করে। রাউল হিমেনেস কয়েকবার ইংলিশ রক্ষণভাগকে বিপদে ফেলেন। তবে গোলপোস্টের নিচে জর্ডান পিকফোর্ড ছিলেন দুর্দান্ত। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাঁর কয়েকটি সেভ ইংল্যান্ডকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখে। মেক্সিকোর প্রথম দিকের আক্রমণ সামলে ধীরে ধীরে খেলায় নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করে ইংল্যান্ড।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে ম্যাচের ছবি পাল্টে দেন জুড বেলিংহ্যাম। মাত্র ৯৮ সেকেন্ডের ব্যবধানে দুই গোল করে অ্যাজটেকার গর্জন স্তব্ধ করে দেন তিনি। ৩৬ মিনিটে নিখুঁত হেডে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেওয়ার পর ৩৮ মিনিটে কাছ থেকে বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রিয়াল মাদ্রিদের এই মিডফিল্ডার। মুহূর্তের মধ্যেই মেক্সিকোর গ্যালারিতে নেমে আসে নীরবতা, আর ইংল্যান্ড শিবিরে ফিরে আসে আত্মবিশ্বাস।

তবে স্বাগতিকরা সহজে হার মানার দল ছিল না। বিরতির ঠিক আগে ৪২ মিনিটে হুলিয়ান কুইনোনেস শক্তিশালী শটে গোল করে মেক্সিকোকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন। প্রথমার্ধ শেষ হয় ইংল্যান্ডের ২-১ ব্যবধানের লিডে, কিন্তু ম্যাচের উত্তেজনা তখনও অনেক বাকি।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় ইংল্যান্ড। ৫৪ মিনিটে হেসুস গালার্দোর ওপর বিপজ্জনক ট্যাকলের কারণে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন জ্যারেল কোয়ানসাহ। এক গোলের ব্যবধানে এগিয়ে থাকা অবস্থায় ১০ জনে নেমে যাওয়া ইংল্যান্ডের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়ে। অ্যাজটেকার গ্যালারি তখন আরও উন্মত্ত, আর মেক্সিকো মাঠের প্রতিটি ইঞ্চিতে চাপ বাড়াতে শুরু করে।

কিন্তু সেই চাপের মধ্যেই অভিজ্ঞতার পরিচয় দেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন। অ্যান্থনি গর্ডনকে ফাউল করায় পাওয়া পেনাল্টি থেকে ৬০ মিনিটে ঠান্ডা মাথায় গোল করেন তিনি। গোলটি ইংল্যান্ডকে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেয় এবং কিছু সময়ের জন্য ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আবারও টুখেলের দলের হাতে ফিরিয়ে আনে।

তবে নাটক তখনও শেষ হয়নি। কিছুক্ষণ পর কেইনের ফাউল থেকেই পেনাল্টি পায় মেক্সিকো। ৬৯ মিনিটে স্পট-কিক থেকে রাউল হিমেনেস গোল করলে ব্যবধান কমে দাঁড়ায় ৩-২। এরপর শুরু হয় মেক্সিকোর একের পর এক আক্রমণ। শেষ ২০ মিনিটের বেশি সময় এবং যোগ করা ১১ মিনিটে ইংল্যান্ডকে কার্যত নিজেদের বক্সের ভেতরেই লড়তে হয়।

চাপ সামলাতে কৌশল বদলান টুখেল। ড্যান বার্ন ও জেড স্পেন্সকে নামিয়ে রক্ষণভাগ আরও শক্ত করেন তিনি। ইংল্যান্ড তখন পাঁচজনের রক্ষণে নেমে যায়, আর সামনে একা লড়তে থাকেন কেইন। মেক্সিকো ক্রমাগত ক্রস, লং বল ও দ্রুত আক্রমণে সমতা ফেরানোর চেষ্টা করে; কিন্তু পিকফোর্ডের দৃঢ়তা, ডিফেন্ডারদের ব্লক এবং ইংল্যান্ডের মানসিক দৃঢ়তা শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফল বদলাতে দেয়নি।

এই জয় ইংল্যান্ডের জন্য শুধু কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পথ খুলে দেয়নি, বরং অ্যাজটেকার মতো কঠিন মঞ্চে তাদের চরিত্রেরও বড় পরীক্ষা হয়ে উঠেছে। স্বাগতিক মেক্সিকো বিশ্বকাপে এই মাঠে দীর্ঘদিন প্রায় অজেয় ভাবমূর্তি ধরে রেখেছিল। সেই দুর্গ ভেঙে দেওয়া ইংল্যান্ডের জন্য এক ঐতিহাসিক অর্জন।

অন্যদিকে মেক্সিকোর জন্য এটি ছিল হৃদয়বিদারক বিদায়। ঘরের মাঠ, তীব্র সমর্থন এবং শেষ পর্যন্ত লড়াই করেও তারা শেষ আটে যেতে পারল না। ম্যাচ শেষে মেক্সিকোর খেলোয়াড়দের হতাশা আর ইংল্যান্ডের উল্লাস—দুটি বিপরীত দৃশ্যই অ্যাজটেকার রাতকে স্মরণীয় করে রাখল।

ইংল্যান্ড এখন তাকিয়ে আছে মায়ামির দিকে। কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ নরওয়ে, যার আক্রমণভাগে আছেন দুরন্ত ছন্দে থাকা আর্লিং হলান্ড। মেক্সিকো সিটির কঠিন পরীক্ষা পেরিয়ে টুখেলের দল বিশ্বকাপ স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখল; তবে শিরোপার পথে আরও বড় পরীক্ষা অপেক্ষা করছে সামনে।


জাপানের বিরুদ্ধে নামার আগে দাদির ভিডিও দেখে ক্যামেরার সামনেই কাঁদলেন ভিনিসিয়ুস

ফুটবল ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৯ ২০:২২:০৩
জাপানের বিরুদ্ধে নামার আগে দাদির ভিডিও দেখে ক্যামেরার সামনেই কাঁদলেন ভিনিসিয়ুস
ছবি : সংগৃহীত

মাঠে তিনি প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া এক নির্ভীক যোদ্ধা, আর মাঠের বাইরে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এক আপসহীন কণ্ঠস্বর। তবে রিয়াল মাদ্রিদের সেই তারকা ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ভেতরেও যে এক আবেগপ্রবণ ও সংবেদনশীল মানুষ লুকিয়ে আছে, তারই প্রমাণ মিলল এবার। বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ নকআউট পর্বে জাপানের মুখোমুখি হওয়ার ঠিক আগের দিন একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ক্যামেরার সামনেই আবেগ ধরে রাখতে না পেরে কেঁদে ফেললেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা।

ব্রাজিলের অত্যন্ত জনপ্রিয় টিভি অনুষ্ঠান ‘দোমিঙ্গাও কম হাকে’-তে সঞ্চালক হুলিয়ানো হাকের মুখোমুখি হয়েছিলেন ভিনিসিয়ুস। আড্ডার একপর্যায়ে আচমকাই স্টুডিওর পর্দায় ভেসে ওঠে ভিনির প্রিয় দাদি নিলজার একটি বিশেষ ভিডিও বার্তা। দাদির সেই ভালোবাসা ও আবেগঘন কথা শোনার পর আর নিজেকে সামলাতে পারেননি তিনি। রিও ডি জেনিরোর সাও গনসালোয় কেটে যাওয়া নিজের শৈশব আর দাদির সঙ্গে কাটানো দিনগুলোর কথা মনে করে ঝরঝর করে কেঁদে ফেলেন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। বিদায়বেলায় আবেগ জড়ানো কণ্ঠে ভিনিসিয়ুস বলেন, ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি তার দাদির সঙ্গেই বড় হয়েছেন এবং তার জীবনে দাদির অবদান কতটা গভীর, তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।

বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর মতো মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের ঠিক আগমুহূর্তে ভিনির এই আবেগপ্রবণ রূপ আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংবাদমাধ্যমগুলোরও বেশ নজর কেড়েছে। স্পেনের খ্যাতনামা ক্রীড়া দৈনিক ‘এএস’ তাদের বিশেষ প্রতিবেদনে লিখেছে, সাক্ষাৎকারে নিজের আবেগ ধরে রাখতে না পেরে পুরোপুরি ভেঙে পড়েন ভিনিসিয়ুস। স্প্যানিশ পত্রিকাটি আরও মনে করিয়ে দেয়, এই মুহূর্তে সেলেসাওদের হেক্সা বা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের মিশনের অন্যতম প্রধান কাণ্ডারি ও আশা-ভরসার প্রতীক হলেন ভিনি। সেই সঙ্গে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে তার চলমান সাহসী লড়াই এবং মাঠ ও মাঠের বাইরে তিনি মানসিকভাবে কতটা পরিণত, সেই প্রশংসাও ঝরেছে তাদের প্রতিবেদনে।

অন্যদিকে স্পেনের আরেক জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী দৈনিক ‘মার্কা’ এই ঘটনাকে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ব্রাজিলের প্রস্তুতির অন্যতম ‘সবচেয়ে শক্তিশালী ও মানবিক মুহূর্ত’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তারা তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, পরিবারের কথা বলতে গিয়ে ভিনিসিয়ুস সাময়িকভাবে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেও, বিশ্বকাপ জয় নিয়ে নিজের ভেতরের প্রবল আত্মবিশ্বাসের কথা জানাতে মোটেও ভুলেননি। বিশ্বমঞ্চে ব্রাজিলের দীর্ঘদিনের শিরোপা খরা নিয়ে আফসোস করে ভিনি বলেন, ব্রাজিলের জার্সিতে ষষ্ঠ তারকাটি বা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ ট্রফিটি আসতে বড্ড বেশি সময় নিয়ে নিচ্ছে, যা এবার তারা ঘোচাতে চান।

লাতিন আমেরিকার দেশ আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ‘ওলে’ ভিনির এই কান্নার ভিডিওটি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে। তারা বিষয়টিকে বিশ্বকাপের মতো একটি মেগা টুর্নামেন্টের চরম মানসিক চাপের মাঝে ‘পারিবারিক বন্ধনের এক অনন্য ও গভীর দৃষ্টান্ত’ হিসেবে পাঠকদের সামনে তুলে ধরেছে। উল্লেখ্য, টেক্সাসের হিউস্টন স্টেডিয়ামে আজ শেষ ষোলোর টিকিটের লড়াইয়ে এশিয়ার পরাশক্তি জাপানের মুখোমুখি হচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল, যেখানে সবার চোখ থাকবে ছন্দে থাকা এই ভিনিসিয়ুসের ওপরই।

/আশিক


কোলম্যানকে পেতে সব দিতে প্রস্তুত সরকার, তবে কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে এজেন্টের কমিশন

ফুটবল ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৭ ১৯:৩৭:০৮
কোলম্যানকে পেতে সব দিতে প্রস্তুত সরকার, তবে কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে এজেন্টের কমিশন
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের কোচ নিয়ে সৃষ্ট নাটকীয়তার জট কিছুতেই খুলছে না। হামজা চৌধুরী ও জামাল ভূঁইয়াদের জন্য ওয়েলসের হাইপ্রোফাইল কোচ ক্রিস কোলম্যানকে ডাগআউটে আনতে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক অত্যন্ত আন্তরিক হলেও, চুক্তিটি এখন পুরোপুরি আটকে গেছে কোলম্যানের এজেন্টের আকাশচুম্বী অর্থ দাবির মুখে। আজ রোববার (১৭ মে) বিকেলে জাতীয় স্টেডিয়ামে ৪৯তম জাতীয় অ্যাথলেটিক্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী স্বয়ং।

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক স্পষ্ট করে বলেন, "আমরা যাকে (কোলম্যান) নেওয়ার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি, তার বিষয়ে সার্বিকভাবে ফেডারেশন যে সহযোগিতা চেয়েছে, তা প্রদান করার জন্য আমরা প্রস্তুত। কিন্তু আমি বাফুফে থেকে জানলাম তার যে এজেন্ট রয়েছে, তার সঙ্গে এখনও বোঝাপড়া হয়নি।"

বাফুফে কোলম্যানকে দুই বছরের জন্য চুক্তিবদ্ধ করতে চাইলেও, তাঁর এজেন্ট কয়েক লাখ টাকার (বৈদেশিক মুদ্রায়) একটি বিশাল অঙ্কের কমিশন বা ফি দাবি করেছে, যা মেটানো বাফুফের জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। এজেন্টের এই অনড় অবস্থানের কারণে চুক্তিটি ভেস্তে যাওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "এজেন্টের সঙ্গে বোঝাপড়া শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। আসলে আমরা শেষ পর্যন্ত কোলম্যানকে পাব কি না?"

এদিকে আগামী ৫ জুন সান মারিনোর বিপক্ষে বাংলাদেশের একটি প্রীতি ম্যাচ রয়েছে। হাতে মাত্র তিন সপ্তাহ সময় থাকায় বাফুফেকে দ্রুত বিকল্প ভাবার নির্দেশ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, কোলম্যান কোনো কারণে না হলে তালিকার পরবর্তীতে থাকা কোচকে যেন বেছে নেওয়া হয়। অন্যদিকে, বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল থাইল্যান্ড সফর শেষে শনিবার রাতে দেশে ফিরেছেন।

আজ রোববারই তাঁর কোচ ইস্যুটি চূড়ান্ত করার কথা থাকলেও ইউরোপের সাথে সময়ের ব্যবধানের কারণে আজ গভীর রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। ফলে, বহুল আলোচিত এই কোচ নিয়োগের সামগ্রিক আপডেট ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামীকাল সোমবার (১৮ মে) সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বাফুফে সভাপতি দেশবাসীকে জানাবেন।

/আশিক


ভিয়েতনামের গতির কাছে অসহায় লাল-সবুজ: প্রথমার্ধে রক্ষণের বেহাল দশা

ফুটবল ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৬ ১৯:০১:২৮
ভিয়েতনামের গতির কাছে অসহায় লাল-সবুজ: প্রথমার্ধে রক্ষণের বেহাল দশা
ছবি : সংগৃহীত

ভিয়েতনামের হ্যানয়ে হাং জু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে স্বাগতিকদের বিপক্ষে প্রথমার্ধেই বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদেশ ফুটবল দল। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ ২০২৬) ম্যাচের প্রথম ৪৫ মিনিট শেষে ৩-০ গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে গেছে ফিফা র‍্যাংকিংয়ে অনেক এগিয়ে থাকা ভিয়েতনাম। হ্যাভিয়ের কাবরেরার শিষ্যরা রক্ষণভাগে সেট পিস সামলাতে হিমশিম খাওয়ায় শুরুতেই ম্যাচ থেকে ছিটকে যাওয়ার শঙ্কায় পড়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলতে থাকা ভিয়েতনাম মাত্র ৮ মিনিটেই গোলের দেখা পায়। কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে তুয়ান হাই স্বাগতিকদের এগিয়ে নেন। এর ঠিক ১০ মিনিট পর অর্থাৎ ১৮ মিনিটে আবারও সেট পিস থেকে গোল হজম করে বাংলাদেশ। এবার দুয়ি মাহন বল জালে জড়িয়ে ব্যবধান ২-০ করেন। দুই গোল খেয়ে ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। ডি-বক্সের বাইরে থেকে ফয়সাল ফাহিমের একটি জোরালো শট গোলরক্ষক আটকে দিলে গোলবঞ্চিত হয় কাবরেরার দল।

তবে ম্যাচের ৩৮ মিনিটে বাংলাদেশের রক্ষণের ভুলে আবারও গোল উৎসব করে ভিয়েতনাম। এবার দুর্দান্ত এক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে ডি-বক্সে ঢুকে কোনাকুনি শটে গোল করেন নগুয়েন। ফলে ৩-০ গোলের বড় লিড নিয়ে প্রথমার্ধ শেষ করে স্বাগতিকরা। র‍্যাংকিংয়ে ৭৮ ধাপ এগিয়ে থাকা ভিয়েতনামের গতি ও শারীরিক ফুটবলের সামনে বাংলাদেশের রক্ষণভাগ কার্যত অসহায় হয়ে পড়ে। দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়াতে হলে কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে লাল-সবুজ বাহিনীকে।

/আশিক


সিঙ্গাপুর ম্যাচের আগে মিশন ভিয়েতনাম: কাবরেরার তুরুপের তাস কি আজ মাঠে নামবে?

ফুটবল ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৬ ১২:২২:২৪
সিঙ্গাপুর ম্যাচের আগে মিশন ভিয়েতনাম: কাবরেরার তুরুপের তাস কি আজ মাঠে নামবে?
ছবি : সংগৃহীত

ফিফা র‍্যাংকিংয়ে ৭৮ ধাপ এগিয়ে থাকা শক্তিশালী ভিয়েতনামের বিপক্ষে আজ মাঠে নামছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ ২০২৬) ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হতে যাওয়া এই প্রীতি ম্যাচে স্বাগতিকদের চোখে চোখ রেখে লড়াই করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। র‍্যাংকিংয়ে ভিয়েতনামের অবস্থান ১০৩ হলেও ১৮১তম অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ দল মোটেও ভীত নয়। আগামী ৩১ মার্চ সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে নিজেদের ঝালিয়ে নিতেই এই কঠিন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছে হাভিয়ের কাবরেরার শিষ্যরা।

বুধবার হ্যানয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে স্প্যানিশ কোচ কাবরেরা জানান, ভিয়েতনামের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেললে দলের আত্মবিশ্বাস বাড়বে। তবে স্বাগতিক দলে থাকা দুজন ব্রাজিলীয় বংশোদ্ভূত প্রবাসী ফুটবলার নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন তিনি। সবার নজর এখন প্রবাসী তারকা হামজা চৌধুরীর দিকে। হামজা দলের সঙ্গে যোগ দিলেও আজ তিনি শুরু থেকেই খেলবেন কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রেখেছেন কোচ। কাবরেরার মতে, আবহাওয়া ও সময়ের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হামজার কিছুটা সময় প্রয়োজন হতে পারে।

এদিকে, বাংলাদেশ দল নিয়ে বেশ চিন্তিত দেখা গেছে ভিয়েতনামের কোচ কিম সাং-সিককে। বিশেষ করে হামজা চৌধুরীকে নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে কিম বলেন, ইংল্যান্ডে খেলা হামজার ভিডিও বিশ্লেষণ করে তাঁর শক্তির মোকাবিলা করার পথ খুঁজছে ভিয়েতনাম। অন্যদিকে, অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া দলের উন্নতির ওপর আস্থা রেখে জানিয়েছেন, তাঁরা ভিয়েতনামের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লড়াই করতে প্রস্তুত। র‍্যাংকিংয়ের বিশাল ব্যবধান ঘুচিয়ে মাঠের পারফরম্যান্সে চমক দেখাতে মুখিয়ে আছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

/আশিক


যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া রোনানের কাঁধে চড়ে জয়: সাফে বাংলাদেশের দাপুটে পারফরম্যান্স

ফুটবল ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৪ ২১:০৮:৩৮
যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া রোনানের কাঁধে চড়ে জয়: সাফে বাংলাদেশের দাপুটে পারফরম্যান্স
ছবি : সংগৃহীত

সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে হারিয়ে শুভসূচনা করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ ২০২৬) মালদ্বীপের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘বি’ গ্রুপের প্রথম ম্যাচে ২-০ গোলের ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছে লাল-সবুজের দল। বাংলাদেশের এই দাপুটে জয়ের নায়ক যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া প্রবাসী বাংলাদেশি ফুটবলার রোনান সুলিভান। দেশের জার্সিতে অভিষেক ম্যাচেই জোড়া গোল করে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড।

ম্যাচের শুরু থেকেই আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দুই ভাই রোনান সুলিভান ও ডেকলাইন সুলিভান। শুরুর একাদশে রোনান থাকলেও ডেকলাইনকে সাইডবেঞ্চে রাখা হয়। প্রথমার্ধে বল দখল এবং আক্রমণে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করেও গোল পায়নি বাংলাদেশ। প্রথমার্ধের প্রথম ১০ মিনিটেই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ম্যাচ জমে উঠলেও ফিনিশিংয়ের অভাবে লিড নিতে ব্যর্থ হয় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। অন্যদিকে পাকিস্তান রক্ষণাত্মক কৌশল অবলম্বন করে নিজেদের অর্ধে গুটিয়ে থেকে পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা চালায়।

দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার বাড়ালে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় বাংলাদেশ। রোনান সুলিভানের ব্যক্তিগত কারিশমায় দুই গোল আদায় করে নিয়ে সেমিফাইনালের পথে এক ধাপ এগিয়ে যায় কোচ মারুফুল হকের শিষ্যরা। বয়সভিত্তিক এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের রেকর্ড বেশ সমৃদ্ধ। ২০১৫ সালে প্রথম সেমিফাইনালে খেলার পর থেকে অনূর্ধ্ব-১৮, ১৯ ও ২০ পর্যায়ে মোট সাতবার অংশ নিয়ে ২০২৪ সালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে বাংলাদেশ। এছাড়া চারবার রানার্সআপ হওয়ার রেকর্ডও রয়েছে লাল-সবুজদের।

/আশিক


ব্রাজিল দল থেকে ছিটকে যাচ্ছেন নেইমার? কোচের প্রতি অবজ্ঞার অভিযোগ সিবিএফ-এর

ফুটবল ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৩ ১৭:৩০:৫৩
ব্রাজিল দল থেকে ছিটকে যাচ্ছেন নেইমার? কোচের প্রতি অবজ্ঞার অভিযোগ সিবিএফ-এর
ছবি : সংগৃহীত

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ভক্তদের জন্য এক বড় দুঃসংবাদ নিয়ে এলো সিএনএন ব্রাজিল। সেলেসাওদের পোস্টার বয় নেইমার জুনিয়রের আসন্ন বিশ্বকাপে খেলা এখন প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কোচ কার্লো আনচেলত্তির নতুন কৌশলগত পরিকল্পনা এবং ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) অভ্যন্তরীণ তীব্র অসন্তোষের কারণে এই তারকা ফরোয়ার্ড কার্যত দল থেকে ছিটকে যাওয়ার দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন।

নেইমারের ফিটনেস এবং খেলার বর্তমান ধরন সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে সান্তোস ও মিরাসোলের মধ্যকার একটি ম্যাচ দেখতে গিয়েছিলেন কোচ আনচেলত্তি। কিন্তু নেইমার সেই ম্যাচে মাঠে নামেননি তো বটেই, এমনকি স্টেডিয়ামে উপস্থিত হয়ে কোচের সাথে ন্যূনতম সৌজন্য সাক্ষাৎ করার প্রয়োজনও বোধ করেননি।

বিষয়টিকে কোচ এবং বোর্ডের প্রতি চরম অবজ্ঞা ও অপেশাদার আচরণ হিসেবে দেখছে সিবিএফ। দীর্ঘদিন ইনজুরির কারণে মাঠের বাইরে থাকা নেইমারের বর্তমান শারীরিক অবস্থা ও স্ট্যামিনা নিয়ে মোটেও সন্তুষ্ট নয় ব্রাজিলের বর্তমান কোচিং স্টাফ। ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক ফুটবলের যে উচ্চগতি ও দম প্রয়োজন, তা বর্তমানে নেইমারের মধ্যে অনুপস্থিত।

সম্প্রতি আনচেলত্তির প্রীতি ম্যাচের দল থেকে বাদ পড়ার পর নেইমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ধরনের বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন, তা সিবিএফ কর্মকর্তারা মোটেও ইতিবাচকভাবে নেননি। কর্মকর্তাদের ধারণা, নেইমার তার বিশাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্স ও ভক্তদের সমর্থন ব্যবহার করে কোচিং স্টাফের ওপর এক ধরনের মানসিক চাপ তৈরির চেষ্টা করছেন, যা দলের শৃঙ্খলার পরিপন্থি।

ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ফেডারেশন মনে করে, নেইমারকে নিজেকে প্রমাণ করার যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, যা তিনি কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছেন। বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণার আগে হাতেগোনা কয়েকটি ম্যাচ বাকি থাকায় এই অল্প সময়ে নেইমারের পক্ষে ফিটনেস প্রমাণ করে আনচেলত্তির মন জয় করা প্রায় অসম্ভব বলে মনে করছে সিএনএন ব্রাজিল।

/আশিক

পাঠকের মতামত: