টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারে ভয়াবহ বিপর্যয়

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১০ ১৩:৪২:৫১
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারে ভয়াবহ বিপর্যয়
ছবি : সংগৃহীত

টানা পাঁচ দিনের ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজার জেলায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মাতামুহুরী ও বাঁকখালী নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় জেলার চকরিয়া, মাতামুহুরী, পেকুয়া ও রামুসহ বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হয়েছে। প্রশাসনের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, অন্তত তিন লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। একই সঙ্গে বন্যা ও পাহাড়ধস মিলিয়ে গত চার দিনে ২২ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

দুর্যোগে হাজার হাজার বসতঘর, কৃষিজমি, আমনের বীজতলা, সবজিক্ষেত এবং চিংড়ির ঘের পানির নিচে চলে গেছে। অনেক এলাকায় প্রধান সড়ক ও গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া এলাকাগুলোতে মানবিক সংকট ক্রমেই গভীর হচ্ছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে ১৫ জন, কক্সবাজার শহরে দুইজন, চকরিয়ায় দুইজন এবং পেকুয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়ায় একজন করে রয়েছেন। অধিকাংশ মৃত্যুই পাহাড়ধস ও দুর্যোগজনিত দুর্ঘটনার কারণে ঘটেছে।

সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে চকরিয়ার বরইতলী ইউনিয়নের মোহছেনিয়াকাটা এলাকায়। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পাহাড়ধসে ঘুমন্ত অবস্থায় চাপা পড়ে প্রাণ হারায় দুই শিশু—দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রুমি আক্তার (১৫) এবং চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মোহাম্মদ তৌসিফ (১০)। একই ঘটনায় আরও একজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

চকরিয়ার বরইতলী, বমুবিলছড়ি, কাকারা, লক্ষ্যারচর, চিরিঙ্গা ও হারবাং ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো পানির নিচে রয়েছে। নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার পূর্ব বড়ভেওলা, ঢেমুশিয়া, কোনাখালী, বিএমচর ও সাহারবিল ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলেও বন্যার পানি ছড়িয়ে পড়েছে। একইভাবে পেকুয়ার উজানটিয়া, মগনামা, বারবাকিয়া, মেহেরনামা এবং পৌর এলাকার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তীব্র আকার ধারণ করেছে।

বিশেষ করে মাতামুহুরী ও পেকুয়ার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নতুন নতুন এলাকায় পানি প্রবেশ করছে। কোনাখালীর পুরুত্যাখালী ও মরণঘোনা এলাকায় বেড়িবাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ায় স্থানীয়দের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হচ্ছে।

রামু উপজেলাতেও পরিস্থিতি ভয়াবহ। বাঁকখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় ঈদগড়, গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়া, কাউয়ারখোপ, ফতেখাঁরকুল, রাজারকুল ও জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। প্রধান সড়ক পানির নিচে চলে যাওয়ায় উপজেলা সদরের সঙ্গে অনেক এলাকার যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, বহু পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। অনেকেই কয়েক দিন ধরে রান্না করতে না পেরে শুকনো খাবার খেয়ে দিন পার করছেন। বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যও কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

কৃষিখাতেও বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আমনের বীজতলা, মৌসুমি সবজির ক্ষেত এবং মাছ ও চিংড়ির ঘের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষক ও মৎস্যচাষিদের বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। একই সঙ্গে টানা বৃষ্টির কারণে পরিবহন ও ক্ষুদ্র ব্যবসাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বন বিভাগ জানিয়েছে, ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি এখনো অত্যন্ত বেশি। পাহাড়সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে। প্রশাসনও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে অনুরোধ জানিয়েছে।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ পরিমাপে বাঁকখালী নদীর পানি ৫.৮৮ মিটার এবং মাতামুহুরী নদীর পানি ৬.৫৪ মিটার উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা উভয় নদীর নির্ধারিত বিপৎসীমার চেয়ে বেশি। যদিও এখন পর্যন্ত বড় কোনো বেড়িবাঁধ সম্পূর্ণ ভেঙে যাওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে কয়েকটি স্থানে বাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি প্রবেশ অব্যাহত রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত পাঁচ দিনে কক্সবাজারে ৫৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমের অন্যতম সর্বোচ্চ। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১১ জুলাই পর্যন্ত ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে, ফলে বন্যা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সম্ভাব্য বড় দুর্যোগ মোকাবিলায় ৬৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুম চালু রয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রম, ত্রাণ বিতরণ এবং জরুরি সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে উত্তাল সাগরের কারণে টানা সাত দিন ধরে টেকনাফ–সেন্টমার্টিন, কক্সবাজার–মহেশখালী এবং পেকুয়া–কুতুবদিয়া নৌপথে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে দুই শতাধিক পাহাড়ধসের ঘটনা জেলার সামগ্রিক দুর্যোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।

-রফিক


চম্পাফুলে তরুণ দলের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আলোচনা সভা ও আমের চারা বিতরণ

শিমুল হোসেন
শিমুল হোসেন
কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) ব্যুরো
সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৮ ২১:১৫:২৮
চম্পাফুলে তরুণ দলের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আলোচনা সভা ও আমের চারা বিতরণ
ছবি : শিমুল হোসেন

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী তরুণ দলের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার চম্পাফুল ইউনিয়নে আলোচনা সভা ও ফলজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার চম্পাফুল ইউনিয়নের উজিরপুর বাজার-সংলগ্ন চান্নি এলাকায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী তরুণ দল চম্পাফুল ইউনিয়ন শাখার আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী তরুণ দলের সাতক্ষীরা জেলা সভাপতি ও চম্পাফুল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এম. ডি. আলমগীর কবির।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব ডা. শফিকুল ইসলাম বাবু।বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা জেলা শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মিয়ারাজ আলী, জেলা তাঁতী দলের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, জেলা তরুণ দলের সহসভাপতি জালাল হোসেন, কালিগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেদওয়ান ফেরদৌস রনি, সহকারী অধ্যাপক গোলাম ফারুক ও জেলা তরুণ দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু মুসাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, তরুণরাই একটি দেশের ভবিষ্যৎ। দেশ ও সমাজের উন্নয়নে তরুণদের ঐক্যবদ্ধ, সুশৃঙ্খল ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

মানুষের পাশে দাঁড়ানো, সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং পরিবেশ রক্ষায় তরুণদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তারা।বক্তারা আরও বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী তরুণ দল দেশের গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার ও সামাজিক কল্যাণে তরুণদের সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করে আসছে। আগামী দিনেও সংগঠনের নেতাকর্মীরা মানুষের পাশে থেকে ইতিবাচক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখবেন—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।

আলোচনা সভা শেষে চম্পাফুল ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত নারীদের মাঝে ৪০০টি আমের চারা বিতরণ করা হয়। সাতক্ষীরা জেলা তরুণ দলের সভাপতি এম. ডি. আলমগীর কবির নিজ হাতে এসব চারা বিতরণ করেন।এ সময় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, তরুণ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।


ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার মৃত্যুতে শোকাহত মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী ও রিজভীউল হাসান মুন্সী

মোঃ মাসুদ রানা
মোঃ মাসুদ রানা
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৮ ২০:৪৪:৩৪
ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার মৃত্যুতে শোকাহত মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী ও রিজভীউল হাসান মুন্সী
ছবি : মোঃ মাসুদ রানা

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া আর নেই। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর ২০২৬) সন্ধ্যায় রাজধানীর আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

তাঁর জুনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর গণমাধ্যমকে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ ও আইনজীবী।ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯১ সালে গঠিত খালেদা জিয়ার প্রথম মন্ত্রিসভায় তিনি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, তিনি ১৯৯১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ১৯৯৬ সালের ১৯ মার্চ পর্যন্ত গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন।

তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন প্রবীণ ও খ্যাতিমান আইনজীবী ছিলেন। বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের সংগঠন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সঙ্গেও তিনি দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন। রাজনৈতিক ও আইনজীবী জীবনে বিএনপির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। বিভিন্ন সময়ে তিনি কুমিল্লা-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।শোক প্রকাশ

ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী এবং ব্যারিস্টার রিজভীউল হাসান মুন্সী।এক শোকবার্তায় তাঁরা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।তাঁরা বলেন, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার মৃত্যু বিএনপির রাজনীতি, আইন অঙ্গন এবং দেশের জন্য একটি অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক ও আইনজীবী জীবনের অবদান দলীয় নেতাকর্মীসহ দেশের মানুষ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

তাঁরা মহান আল্লাহর কাছে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার শক্তি কামনা করেন।

ট্যাগ: সারাদেশ

ঢাবিতে শান্তি বৈঠক রূপ নিল সংঘর্ষে: সূর্যসেন ও জহুরুল হক হলের ৪ জন গুরুতর আহত

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৮ ১৯:১৪:০৭
ঢাবিতে শান্তি বৈঠক রূপ নিল সংঘর্ষে: সূর্যসেন ও জহুরুল হক হলের ৪ জন গুরুতর আহত
আহত নেতাকর্মীদের অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। ছবি: ইত্তেফাক কোলাজ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মল চত্বর ও প্রশাসনিক ভবন এলাকায় পূর্ববিরোধ মীমাংসার উদ্দেশ্যে ডাকা শান্তি বৈঠক ঘিরে মাস্টারদা সূর্যসেন হল এবং সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের ছাত্রদল নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টা ৫ মিনিটের দিকে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এতে অন্তত চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

সংঘর্ষের ঘটনায় আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি ও চিকিৎসা দেওয়া হয়। আহতরা হলেন—সূর্যসেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী রমজান আলী, সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাহরিয়ার লিওন, একই হল শাখার সদস্য সাইফ আলী শিথিল এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মাহফুজ সৌরভ। সংঘর্ষকালে মারধরের শিকার হয়ে সূর্যসেন হলের রমজান আলী একপর্যায়ে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঘটনার অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ৫ অক্টোবর বিকেলে একটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দ্বন্দ্বের শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের শিক্ষার্থী মাহফুজ সৌরভ বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর সময় সূর্যসেন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আরিফুল ইসলাম তারেককে ধাক্কা দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়। তারেক এর প্রতিবাদ জানালে সৌরভ ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে চড়-থাপ্পড় মারেন। পরদিন মঙ্গলবার তারেক ও তার সহপাঠীরা সৌরভকে আটকে কৈফিয়ত চাইতে গেলে সৌরভ মোটরসাইকেল ফেলে রেখেই স্থান ত্যাগ করেন। পরবর্তী সময়ে সূর্যসেন হলের শিক্ষার্থীরা ওই মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে নিজেদের হলে নিয়ে যান।

বুধবার রাতে মল চত্বরে আটকে রাখা মোটরসাইকেল উদ্ধার ও বিদ্যমান বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে জহুরুল হক হল ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাহরিয়ার লিওনসহ দুই হলের প্রতিনিধিরা মীমাংসা বৈঠকে বসেন। কিন্তু আলোচনার একপর্যায়ে উভয় পক্ষ বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার রূপ নেয়। সূর্যসেন হলের শিক্ষার্থী ফাইম শাহরিয়ার সাজিব অভিযোগ করেন, জহুরুল হক হলের নেতাকর্মীরা মীমাংসার নামে ডেকে এনে পূর্বপরিকল্পিতভাবে লাঠিসোঁটা দিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

অন্যদিকে জহুরুল হক হল ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাহরিয়ার লিওন এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে উল্টো দাবি করেন, সৌরভ নিজের অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের জন্য ক্ষমা চাওয়ার পরপরই সূর্যসেন হলের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। তাছাড়া সৌরভের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তার মোটরসাইকেলটি আটকে রেখে সেটি ফিরিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। তবে ৫ অক্টোবরের মূল দুর্ঘটনার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সৌরভ সংবাদমাধ্যমকে কোনো মন্তব্য না করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

ক্যাম্পাসে গভীর রাতের এই সংঘাতের বিষয়ে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ইসরাফিল রতন জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে প্রশাসন অবহিত থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ জমা দেয়নি; তবে থানায় একটি অভিযোগ দায়েরের তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যদিকে সার্বিক বিষয়ে জানতে ঢাবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি।

/আশিক


চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ডিপি ওয়ার্ল্ডের ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৮ ১৭:৫৪:৫০
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ডিপি ওয়ার্ল্ডের ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত
ছবি : সংগৃহীত

সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বনামধন্য বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ড আগামী ১৫ বছরের জন্য চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে বড় টার্মিনাল নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিপত্রে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান এবং ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুলতান আহমেদ বিন সুলায়েম নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সই করেন।

এনসিটি হস্তান্তরের প্রক্রিয়াটি পিপিপি ও জিটুজি কাঠামোয় আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শুরু হয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দর-কষাকষির পর্যায়ে পৌঁছায়। তবে শ্রমিক আন্দোলন ও আলোচনা কমিটির আপত্তির মুখে গত ফেব্রুয়ারিতে প্রক্রিয়াটি সাময়িক স্থবির হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর জুনে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় পুনরায় দর-কষাকষির নির্দেশনা দিলে চুক্তি সম্পাদন চূড়ান্ত রূপ লাভ করে।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বন্দরের চারটি মূল টার্মিনালের মধ্যে এনসিটি সর্ববৃহৎ; যেখানে গত অর্থবছরে প্রায় ১৩ লাখ ৮৫ হাজার একক কনটেইনার ওঠানো-নামানো হয়েছে—যা বন্দরের মোট কনটেইনার পরিবহনের প্রায় ৪৪ শতাংশ। বিদেশি অপারেটর হিসেবে ডিপি ওয়ার্ল্ড পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত চিটাগং ড্রাই ডক লিমিটেড এটি পরিচালনা করবে। চট্টগ্রাম বন্দরের অন্য টার্মিনালগুলোর মধ্যে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা করছে সৌদি আরবের ‘রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনাল’, আর জিসিবি ও সিসিটি টার্মিনাল দুটি দেশীয় অপারেটরদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে।

/আশিক


১১ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়ার আভাস: নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৭ ২১:২০:৩৭
১১ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়ার আভাস: নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত
ছবি : সংগৃহীত

দেশের ১১টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব অথবা পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে এসব এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। পরিস্থিতির কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে এক নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হামিদ মিয়া স্বাক্ষরিত আবহাওয়ার এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। পূর্বাভাস অনুযায়ী—রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, নোয়াখালী, কুমিল্লা এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। নদীবন্দরে চলাচলকারী নৌযান ও সংশ্লিষ্টদের সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

/আশিক


পাঁচ দিনের নতুন আবহাওয়া বুলেটিন প্রকাশ, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বর্ষণের আভাস

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৬ ১৯:১৫:০৩
পাঁচ দিনের নতুন আবহাওয়া বুলেটিন প্রকাশ, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বর্ষণের আভাস
ছবি : সংগৃহীত

মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি নতুন লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাবে আগামী পাঁচ দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি ও কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার জন্য প্রকাশিত আবহাওয়া পূর্বাভাসে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, লঘুচাপের সম্ভাব্য প্রভাবে চলতি সপ্তাহের মাঝামাঝি সময় থেকে দেশের বিস্তৃত অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবার আট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে। পরবর্তীতে বুধ ও বৃহস্পতিবার (৭ ও ৮ অক্টোবর) থেকে বৃষ্টিপাতের বিস্তার ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগের বহু স্থানে এবং বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি এবং কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে।

পরবর্তী দিন অর্থাৎ শুক্র ও শনিবার (৯ ও ১০ অক্টোবর) দেশের সর্বত্র বিচ্ছিন্নভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির প্রবাহ বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টিপাতের দরুন সপ্তাহের অধিকাংশ দিনেই দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে, তবে শনিবার থেকে দিনের তাপমাত্রা পুনরায় সামান্য বৃদ্ধির আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

এদিকে আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, গত সোমবার সকাল ৬টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে খুলনায়, ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে দেশের সর্বোচ্চ ২৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে চট্টগ্রামের আমবাগান এলাকায়।

/আশিক


আবহাওয়া দপ্তরের চারদিনের নতুন পূর্বাভাস জারি, বদলাচ্ছে আবহাওয়ার রূপ

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৫ ২১:৫৯:০৫
আবহাওয়া দপ্তরের চারদিনের নতুন পূর্বাভাস জারি, বদলাচ্ছে আবহাওয়ার রূপ
ছবি : সংগৃহীত

আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বাংলাদেশ থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বা বর্ষা পুরোপুরি বিদায় নিতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সাথে বিদায়বেলায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বর্তমানে মৌসুমি বায়ুর অক্ষ বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এটি বাংলাদেশের ওপর বর্তমানে কম সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে দুর্বল অবস্থায় অবস্থান করছে।

আবহাওয়া অফিসের চারদিনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) আট বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। পরবর্তীতে বুধ ও বৃহস্পতিবার (৭ ও ৮ অক্টোবর) বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়ে রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি এবং কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এসময় দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পাবে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বৃষ্টিপাতের তীব্রতা কিছুটা কমে এলেও আট বিভাগের বিচ্ছিন্ন কিছু অঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সার্বিকভাবে আগামী পাঁচ দিনে আবহাওয়ার বড় ধরনের কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলে নিশ্চিত করেছে আবহাওয়া অফিস।

/আশিক


কেনাকাটার সময় বাড়ল দুই ঘণ্টা, সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত বহাল ২২ অক্টোবর পর্যন্ত

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৫ ২১:৪৮:২৮
কেনাকাটার সময় বাড়ল দুই ঘণ্টা, সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত বহাল ২২ অক্টোবর পর্যন্ত
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে শপিং মল, মার্কেট ও দোকানপাট খোলা রাখার সময়সীমায় সাময়িক ছাড় দিয়েছে সরকার। আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের সব শপিং মল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সকাল ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের সমন্বয়-২ শাখা থেকে প্রকাশিত এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উপসচিব সোনিয়া বিনতে তাবিব স্বাক্ষর করেন।

সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও বাজার ব্যবস্থাপনার সমন্বয় ঘটাতে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত এই বিশেষ সময়সূচি কার্যকর থাকবে। তবে পূজা উদযাপনের পরদিন অর্থাৎ ২৩ অক্টোবর থেকে পুনরায় পূর্বের নিয়মিত সময়সূচি ফিরে আসবে; তখন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শপিং মল ও দোকানপাট খোলা রাখা যাবে।

মূলত দেশে চলমান বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও লোড ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে পূর্বে রাত ৮টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাখার আইনি নিয়ম প্রযোজ্য ছিল। এবার দুর্গাপূজাকেন্দ্রিক কেনাকাটা ও উৎসবে ক্রেতা-বিক্রেতাদের বাড়তি সুবিধা প্রদানের কথা বিবেচনা করে বিদ্যুৎ বিভাগ সাময়িকভাবে দুই ঘণ্টা সময় বাড়িয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান চালু রাখার অনুমোদন দিয়েছে।

/আশিক


দক্ষতা উন্নয়নে সেনাবাহিনী কর্তৃক নানিয়ারচর জোনের উদ্যোগে দর্জি প্রশিক্ষণ-২০২৬ উদ্বোধন

শ‌হিদুল ইসলাম
শ‌হিদুল ইসলাম
স্টাফ রিপোর্টার
সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৪ ২১:১৬:২৯
দক্ষতা উন্নয়নে সেনাবাহিনী কর্তৃক নানিয়ারচর জোনের উদ্যোগে দর্জি প্রশিক্ষণ-২০২৬ উদ্বোধন
ছবি : শ‌হিদুল ইসলাম

পার্বত্য চট্টগ্রামে জনসাধারণের কল্যাণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চলমান শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নানিয়ারচর জোনের উদ্যোগে "দর্জি প্রশিক্ষণ-২০২৬” কার্যক্রম ৪ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার শুরু হয়েছে।

নানিয়ারচর জোনের জোন কমান্ডার লেঃ কর্নেল মোঃ মশিউর রহমান, পিএসসি এর দিক নির্দেশনায় জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর শেখ মোহাম্মদ নাঈম প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

উক্ত প্রশিক্ষণে পাহাড়ী ও বাঙালি সম্প্রদায়ের মোট ১৬ জন নারী প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করছেন। প্রশিক্ষণটি ০৪-১৫ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত নানিয়ারচর জোন কর্তৃক পরিচালিত হবে।

প্রশিক্ষণার্থীদের দর্জি প্রশিক্ষণ বিষয়ে দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সেলাই ও কাটিং বিষয়ে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। বর্তমানে বাস্তবমুখী ও হাতে-কলমে দক্ষতার গুরুত্ব ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিশ্বাস করে, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি হাতে-কলমে ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা সম্ভব। বিশেষ করে নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনের মাধ্যমে পরিবার ও সমাজের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।

দর্জি প্রশিক্ষণ একটি বাস্তবমুখী ও কর্মসংস্থানভিত্তিক দক্ষতা। এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে এটিকে আয়ের উৎস হিসেবে কাজে লাগাতে পারবেন। প্রশিক্ষণ শেষে কেউ নিজস্ব দর্জি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে, কেউ উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে এবং অন্যদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে সক্ষম হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। উন্নয়নের সুফল সকল জনগোষ্ঠীর জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য।

পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও সৌহাদ্য বজায় রেখে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ, উন্নত ও সমৃদ্ধ নানিয়ারচর গড়ে তোলা সম্ভব।

পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের কল্যাণ ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চলমান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নানিয়ারচর জোন ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।

ট্যাগ: সারাদেশ

পাঠকের মতামত: