মার্কার অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান: গতির বিচারে ক্রীড়াবিজ্ঞানকে বিস্মিত করছেন মেসি

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১১ ২০:৩১:০৯
মার্কার অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান: গতির বিচারে ক্রীড়াবিজ্ঞানকে বিস্মিত করছেন মেসি
ছবি : সংগৃহীত

৩৯ বছর বয়সে এসেও বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে লিওনেল মেসির অবিশ্বাস্য ও জাদুকরী পারফরম্যান্স ফুটবলপ্রেমী ও ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের স্তম্ভিত করে দিয়েছে। ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে যেভাবে তিনি একের পর এক ম্যাচে আলো ছড়াচ্ছেন, তা দেখে অনেকেই তাঁর বয়সকে সংখ্যা ছাড়া আর কিছুই মনে করছেন না; মাঠের গতিতে তাঁকে ২৫ বছর বয়সী কোনো উদ্যমী তরুণের মতোই সাবলীল দেখাচ্ছে। স্প্যানিশ জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেও মেসির এই অসাধারণ শারীরিক ক্ষিপ্রতা ও ম্যাচ ফিটনেসের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেছেন যে, মেসি এখন বিশ্বজুড়ে নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের জন্য এক জীবন্ত অনুপ্রেরণার নাম।

মেগা এই টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত মাত্র ৫টি ম্যাচ খেলে ব্যক্তিগত ৮টি গোল করার গৌরব অর্জন করেছেন আর্জেন্টিনার এই প্রাণভ্রমরা। গোল্ডেন বুটের শীর্ষ দৌড়ে থাকা এই ফুটবল জাদুকর শুধু মাঠের ভেতরেই রাজত্ব করছেন না, বরং মাঠের বাইরের চরম সুশৃঙ্খল জীবনযাপন ও নিয়মতান্ত্রিক শৃঙ্খলার কারণেই তিনি বয়সের এই কঠিন বাঁধাকে অনায়াসে জয় করতে সক্ষম হয়েছেন।

অথচ বেশ কিছুদিন আগে, মেসি যখন ইউরোপীয় ফুটবলের পাট চুকিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে যোগ দিয়েছিলেন, তখন সমালোচকদের অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন যে মেসির বর্ণিল ক্যারিয়ারের বুঝি গোধূলি লগ্ন শুরু হয়ে গেছে। তবে বর্তমানের বাস্তবতা সেই ধারণাকে পুরোপুরি ভুল প্রমাণ করেছে। আমেরিকার মেজর লিগ সকার (এমএলএস) যে অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক এবং শারীরিকভাবে কতটা কঠিন ও চাহিদাপূর্ণ একটি লিগ, তা মেসি মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই বুঝিয়ে দিয়েছেন।

এমএলএস-এর দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর ভ্রমণ সূচি, কৃত্রিম টার্ফে (আর্টিফিশিয়াল টার্ফ) খেলার চ্যালেঞ্জ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৈচিত্র্যময় জলবায়ুর বৈরিতা সামলে যেভাবে তিনি নিজেকে সর্বোচ্চ ফিট রেখেছেন, তা তাঁর পেশাদারিত্বের এক পরম উৎকর্ষতা প্রকাশ করে। মায়ামিতে তাঁর সতীর্থ সের্হিও রেগুইলোনও অকপটে স্বীকার করেছেন যে, বিশ্বমঞ্চে মেসির এই দুর্দান্ত ফর্ম পরোক্ষভাবে প্রমাণ করে যে এমএলএস আদতে কতটা মানসম্মত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি ফুটবল লিগ।

ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের মতে, মেসির এই অসামান্য ও দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের পেছনে আকস্মিক কোনো জাদুমন্ত্র নেই, বরং রয়েছে বছরের পর বছর ধরে করা কঠোর পরিকল্পনা ও সঠিক ব্যবস্থাপনা। তাঁর পরিবার, মার্কেটিং পার্টনার এবং বিশেষায়িত যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ দল অত্যন্ত সুচারুভাবে মাঠের বাইরের সব ধরনের মানসিক চাপ ও মিডিয়া হাইপ থেকে তাঁকে দূরে রাখে, যাতে তিনি মাঠে নেমে কেবল শতভাগ ফুটবলেই মনোযোগ ধরে রাখতে পারেন।

এ ছাড়া, ইন্টার মায়ামি ক্লাব কর্তৃপক্ষের প্রত্যক্ষ সহায়তায় বছরের শুরুতে সুপরিকল্পিত প্রাক-মৌসুম (প্রি-সিজন) কঠোর প্রশিক্ষণ এবং ফিজিও থেরাপির আধুনিক ও সঠিক ব্যবহার তাঁকে বিশ্বকাপের মতো আসরের জন্য শারীরিকভাবে সর্বোচ্চ চূড়ায় প্রস্তুত হতে সাহায্য করেছে। পাশাপাশি নিজের চিরচেনা খাদ্যভ্যাসে আমূল পরিবর্তন আনার মতো ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তগুলোও এখন দীর্ঘমেয়াদী সুফল বয়ে আনছে, যা তাঁকে বয়সের ভার থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি দিয়েছে।

তাঁর এই বয়সে এসেও শারীরিক সক্ষমতার সবচেয়ে বিস্ময়কর দিকটি আরও স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে তাঁর দৌড়ের গতির নিখুঁত পরিসংখ্যানে। স্প্যানিশ খ্যাতনামা ক্রীড়া পত্রিকা ‘মার্কা’-এর প্রকাশিত ডেটা অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মেসির ক্যারিয়ারের স্বর্ণযুগে তাঁর সর্বোচ্চ গতি যেখানে ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৩২ থেকে ৩৪ কিলোমিটারের কাছাকাছি; সেখানে ৩৯ বছর বয়সে এসে চলমান বিশ্বকাপে তিনি ঘণ্টায় ৩০.৯ কিলোমিটার সর্বোচ্চ গতি তুলেছেন।

২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের চেয়েও বর্তমান সময়ে এসে তাঁর গতির এই ইতিবাচক পরিবর্তন শারীরবৃত্তীয় দিক থেকে এক রহস্যময় ও অভূতপূর্ব উন্নতি, যা চিকিৎসা ও ক্রীড়াবিজ্ঞানের আধুনিক ইতিহাসেও অত্যন্ত বিরল। আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনিও মনে করেন, মেসি আসলে তাঁর সহজাত সামর্থ্যের সেরা ও বুদ্ধিদীপ্ত ব্যবহার করছেন এবং তিনি যখনই প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে সুযোগ পান, তখনই মাঠে এক বিধ্বংসী ও অপ্রতিরোধ্য গোলিং মেশিনে পরিণত হন।

চলতি আসরে মেসির এই দুর্দান্ত ও রাজকীয় পথচলা দেখে এখন বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মনে নতুন এক রোমাঞ্চকর প্রশ্ন উঁকি দিতে শুরু করেছে; লিওনেল মেসি কি তবে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপেও আলবিসেলেস্তেদের জার্সিতে মাঠ কাঁপাবেন? ৪৩ বছর বয়সে গিয়ে নিজের ক্যারিয়ারের রেকর্ড সপ্তম বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন পূরণ করা আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভব ও কাল্পনিক মনে হলেও, মেসির সাম্প্রতিক ফর্ম, নিখুঁত ফিটনেস ও ফুটবলের প্রতি প্রবল ইচ্ছাশক্তির কাছে যেকোনো অসম্ভবই যেন সম্ভব হতে পারে।

তিনি নিজে যতদিন না বুটজোড়া তুলে রাখার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, ততদিন পর্যন্ত মাঠের ফুটবলে তাঁকে থামিয়ে দেওয়া কোনো প্রতিপক্ষের ডিফেন্সের পক্ষেই সম্ভব নয়। আপাতত বৈশ্বিক ফুটবলে তাঁর পায়ের জাদুতে মুগ্ধ হওয়ার প্রতিটি মুহূর্তকে উপভোগ করতে প্রস্তুত পুরো বিশ্ববাসী, কারণ লিওনেল মেসি কেবল একজন ক্ষণজন্মা খেলোয়াড় নন, তিনি ফুটবলের ইতিহাসের এক অমর ও জীবন্ত মহাকাব্য।

সূত্র: মার্কা


ব্রাজিলকে আনতে সরকারের টাকা খরচের মানসিকতা নেই: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৫ ২১:৩৭:০৬
ব্রাজিলকে আনতে সরকারের টাকা খরচের মানসিকতা নেই: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ফুটবল দলের সম্ভাব্য বাংলাদেশ সফর নিয়ে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে ব্রাজিলের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসে রাজধানীসহ দুটি সম্ভাব্য ভেন্যু পরিদর্শন করে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে (বাফুফে) কিছু পর্যবেক্ষণ জানিয়েছে। তবে ব্রাজিলের ম্যাচ আয়োজনের জন্য সরকার কোনো অর্থ ব্যয় করতে আগ্রহী নয় বলে জানিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ঢাকায় বাংলাদেশ বক্সিং ফেডারেশন আয়োজিত কোচেস ট্রেনিংয়ের সমাপনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ব্রাজিলের ম্যাচ আয়োজন নিয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে আমিনুল হক বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় একটি ম্যাচ আয়োজনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বড় ধরনের অর্থ ব্যয়ের মানসিকতা নেই। বিদ্যুৎ, জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে সরকারকে উল্লেখযোগ্য ব্যয় বহন করতে হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, বাফুফের সঙ্গে ব্রাজিলের প্রতিনিধি দলের আলোচনা হয়েছে। বাফুফে যদি বিভিন্ন স্পনসর এনে ম্যাচ আয়োজনের ব্যয়ভার বহন করতে পারে, তাহলে সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।

ব্রাজিলের বাংলাদেশ সফরের সম্ভাবনা সম্পর্কে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি এখনো একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এ বিষয়ে বাফুফে সভাপতি কাজী মো. সালাহউদ্দিনের সঙ্গে তার প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তবে ব্রাজিলের সফরের ব্যয়ভার কে বহন করবে এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয় কীভাবে সম্পন্ন হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছেন আমিনুল হক।

এর আগে ব্রাজিল ফুটবল দলের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করে সম্ভাব্য ম্যাচ আয়োজনের ভেন্যু ও অন্যান্য অবকাঠামো পরিদর্শন করে। প্রতিনিধি দলের পর্যবেক্ষণের পর বাফুফের সঙ্গে পরবর্তী আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

সরকারি অর্থায়নের পরিবর্তে বেসরকারি স্পনসরদের মাধ্যমে ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনাই এখন সামনে রয়েছে। ফলে ব্রাজিলের মতো বিশ্বখ্যাত দলের বাংলাদেশ সফর শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নির্ভর করছে বাফুফের আলোচনা, স্পনসর সংগ্রহ এবং অন্যান্য আয়োজনের ওপর।

/আশিক


বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে চোখ: বড় স্বপ্নের পথে বাংলাদেশ

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৫ ১৯:৫১:৫৬
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে চোখ: বড় স্বপ্নের পথে বাংলাদেশ
ছবি : সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দুই ম্যাচের ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ ১-১ ব্যবধানে ড্র করার পর বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার স্বপ্ন আরও জোরালো হয়েছে বাংলাদেশের। আগামী ২৭ আগস্ট দেশে ফিরতে যাওয়া নাজমুল হোসেন শান্তর দল ডারউইনে প্রথম টেস্টে ঐতিহাসিক জয় পেলেও ম্যাকাইয়ে দ্বিতীয় টেস্টে ইনিংস ও ৫১ রানে পরাজিত হয়। এরপরও টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চলমান চক্রে ৬ ম্যাচে ৪০ পয়েন্ট সংগ্রহ করে তালিকার চতুর্থ স্থানে শক্ত অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার সমীকরণে বাংলাদেশের সামনে এখনও বাকি রয়েছে ছয়টি টেস্ট ম্যাচ। এর মধ্যে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজ দিয়ে পরবর্তী ধাপ শুরু হবে। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে তাদের বিপক্ষে দুটি এবং পরবর্তীতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে আরও দুটি টেস্ট খেলবে দল। এ প্রসঙ্গে জাতীয় দলের নির্বাচক ও সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার জানান, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে বাংলাদেশ বর্তমানে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে এবং সামনের ম্যাচগুলো ফাইনালের দৌড়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ফাইনালের বড় স্বপ্ন থাকলেও মাঠের বাস্তবতাকে সামনে রাখছেন নির্বাচকরা। পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ২-০ ব্যবধানে ঐতিহাসিক সিরিজ জয় এবং অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে পাওয়া জয়কে টেস্ট ক্রিকেটে দৃশ্যমান অগ্রগতির বড় প্রমাণ হিসেবে দেখছেন হাবিবুল বাশার। ২০০০ সাল থেকে শুরুর পরিসংখ্যানের তুলনায় গত দুই বছরের অর্জনে বাংলাদেশ দল অনেক এগিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দল হিসেবে এখনই নিজেদের খুব বড় দল দাবি করার সুযোগ নেই এবং পাড়ি দিতে হবে আরও দীর্ঘ পথ, তবে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ।

অস্ট্রেলিয়া সফরকে সামগ্রিকভাবে মূল্যায়ন করতে গিয়ে দলটির আত্মবিশ্বাস ও বৈশ্বিক সম্মান অর্জনের বিষয়টিকেই মূল প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন হাবিবুল বাশার। সফর শুরুর প্রাক্কালে ক্রিকেটবিশ্বের কাছ থেকে যে সম্মান অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, সিরিজ সমতায় শেষ করে সেই সম্মান এবং নিজেদের সামর্থ্যের স্পষ্ট বার্তা নিয়েই দল দেশে ফিরছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন সাবেক এই অধিনায়ক।

/আশিক


টস জিতে আগে বোলিং করলে অস্ট্রেলিয়াকে ৬০ রানে অলআউট করত বাংলাদেশ

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৪ ২১:৪৮:১১
টস জিতে আগে বোলিং করলে অস্ট্রেলিয়াকে ৬০ রানে অলআউট করত বাংলাদেশ
ছবি : সংগৃহীত

ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার দ্বিতীয় টেস্ট শেষ হয়েছে মাত্র দুই দিনে। ১২৫ ওভার বা ৭৫০ বলে শেষ হওয়া ম্যাচে দুই দলের ৩০টি উইকেটের পতন ঘটে। শেষ পর্যন্ত ইনিংস ও ৫১ রানের জয়ে সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করেছে অস্ট্রেলিয়া। তবে ম্যাচের ফলের চেয়ে ম্যাকাইয়ের উইকেটের আচরণ নিয়েই এখন বেশি আলোচনা। ইংল্যান্ডের সাবেক পেসার স্টুয়ার্ট ব্রড মনে করছেন, অতিরিক্ত পেস ও অসমান বাউন্সের এমন উইকেট শক্তিশালী কোনো দলের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার জন্যই বিপদ ডেকে আনতে পারত।

‘ফর দ্য লাভ অব ক্রিকেট’ ইউটিউব চ্যানেলে আলোচনার সময় ব্রড বলেন, অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশকে এক ইনিংসে হারিয়ে সিরিজ সমতায় ফিরলেও তাদের পারফরম্যান্স নিয়ে কিছু প্রশ্ন থেকেই যায়। বিশেষ করে ম্যাকাইয়ের উইকেটে বল যেভাবে নড়াচড়া ও অসমান বাউন্স করেছে, সেটিকে তিনি অস্বাভাবিক বলে মনে করেন।

ব্রডের মতে, নিজেদের খেলোয়াড়দের দক্ষতা ও মানসিক শক্তিতে যদি কোনো দল প্রতিপক্ষের চেয়ে এগিয়ে থাকে, তাহলে তাদের তুলনামূলক ফ্ল্যাট উইকেটে খেলা উচিত। কারণ অতিরিক্ত পেস-সহায়ক উইকেট ম্যাচের ফলকে অনিশ্চিত করে দিতে পারে। বাংলাদেশ টস জিতে প্রথমে বোলিং করলে অস্ট্রেলিয়াই বড় বিপদে পড়তে পারত বলেও মন্তব্য করেন সাবেক এই ইংলিশ পেসার।

ম্যাকাই টেস্টে প্রথম দিনেই ১৮টি উইকেট পড়ে। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়াও ব্যাট হাতে বড় সংগ্রহ গড়তে পারেনি। ২১০ রানে থামে তাদের একমাত্র ইনিংস। পরে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ৯৫ রানে গুটিয়ে গেলে ইনিংস ও ৫১ রানের জয় নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়া।

অস্ট্রেলিয়ার জয়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন মিচেল স্টার্ক। দুই ইনিংস মিলিয়ে ১০ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার পান এই বাঁহাতি পেসার। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে আরও ৪ উইকেট শিকার করেন তিনি। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ের সামনেই বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ দুই ইনিংসে বড় ধসের মুখে পড়ে।

এই ম্যাচটি বলের হিসেবে পুরুষদের টেস্ট ইতিহাসের যৌথভাবে চতুর্থ সংক্ষিপ্ততম ম্যাচ। মাত্র ৭৫০ বলে শেষ হওয়া এই টেস্ট অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেও দীর্ঘদিন পর সবচেয়ে দ্রুত শেষ হওয়া টেস্টগুলোর একটি। ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার সর্বশেষ সাত টেস্টের মধ্যে এটি তৃতীয় ম্যাচ, যা দুই দিনের মধ্যেই শেষ হলো।

তবে শুধু পিচ নয়, অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ব্রড। বিশেষ করে মারনাস লাবুশেনের দীর্ঘদিনের ফর্মহীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। তিন নম্বর পজিশনে লাবুশেনের জায়গা নিয়ে এখন প্রশ্ন তোলার সময় এসেছে বলে মনে করেন সাবেক এই ইংলিশ পেসার।

ব্রডের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জুলাই থেকে লাবুশেনের ব্যাটিং গড় ২৫-এর নিচে। এত দীর্ঘ সময় ধরে একজন টপ-অর্ডার ব্যাটারের এমন ফর্মহীনতা অস্ট্রেলিয়ার জন্য উদ্বেগের বিষয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দুই টেস্টের সিরিজে প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বড় চমক দেখিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে ম্যাকাইয়ে দ্বিতীয় টেস্টে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। স্টার্কের বিধ্বংসী বোলিংয়ের সামনে মাত্র দুই দিনেই ম্যাচ শেষ করে সিরিজ ১-১ সমতায় ফেরায় অস্ট্রেলিয়া।

—সত্য প্রতিবেদন/আশিক


উজবেকিস্তান যাওয়ার আগে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলে কোচদের ধাক্কাধাক্কি

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৪ ২১:২৯:২৩
উজবেকিস্তান যাওয়ার আগে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলে কোচদের ধাক্কাধাক্কি
ছবি : সংগৃহীত

এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব খেলতে উজবেকিস্তান যাওয়ার আগে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের টিম হোটেলে ঘটেছে অপ্রীতিকর ঘটনা। দলের ইংলিশ প্রধান কোচ জেরার্ড জোন্স ও সহকারী কোচ আতিকুর রহমানের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সহায়তা চান প্রধান কোচ জেরার্ড জোন্স। গত বুধবার টিম হোটেলেই এ ঘটনা ঘটে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দুই কোচের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের একপর্যায়ে হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে প্রধান কোচ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা চান। খবর পেয়ে পুলিশ টিম হোটেলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

তবে কী কারণে দুই কোচের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়েছিল কিংবা পুলিশকে ঠিক কী অভিযোগ জানানো হয়েছিল, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টের ঠিক আগে কোচিং স্টাফের এমন দ্বন্দ্বে দলের প্রস্তুতি ও অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে দলের ম্যানেজার সামিদ কাশেম বলেন, ‘বাফুফের ডেভেলপমেন্ট কমিটি এ বিষয় নিয়ে কাজ করছে। আশা করি খুব শিগগির একটি সুন্দর সমাধান হয়ে যাবে।’

তবে ডেভেলপমেন্ট কমিটির অনেক সদস্যই ঘটনার বিষয়ে শুরুতে অবগত ছিলেন না। কমিটির চেয়ারম্যান নাসের শাহরিয়ার জাহেদী এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অন্যদিকে কমিটির আরেক সদস্য মঞ্জুরুল করিম জানিয়েছেন, এমন কোনো ঘটনা ঘটে থাকলে অবশ্যই তা তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনার বিষয়ে প্রধান কোচ জেরার্ড জোন্সের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আগামী ৩১ আগস্ট উজবেকিস্তানে শুরু হওয়ার কথা এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব। টুর্নামেন্টে অংশ নিতে আগামী ২৭ আগস্ট বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের দেশ ছাড়ার কথা রয়েছে।

—সত্য প্রতিবেদন/আশিক


মেসির পাশে আবার ডি মারিয়া? মায়ামি নিয়ে নতুন গুঞ্জন

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৪ ০৮:০৮:৩৬
মেসির পাশে আবার ডি মারিয়া? মায়ামি নিয়ে নতুন গুঞ্জন
ছবি : সংগৃহীত

কোপা লিবার্তাদোরেস থেকে রোজারিও সেন্ট্রালের বিদায়ের পর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে রহস্য তৈরি করেছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী তারকা আনহেল ডি মারিয়া। ৩৮ বছর বয়সেও অবসরের ঘোষণা না দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, ফুটবল চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে; তবে ক্যারিয়ারের পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সব দিক বিবেচনা করতে চান। আর তার এই মন্তব্যের পরই সম্ভাব্য নতুন গন্তব্য হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছে মেজর লিগ সকারের ইন্টার মায়ামি।

রোজারিও সেন্ট্রালের লিবার্তাদোরেস অভিযান শেষ হওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের সামনে ডি মারিয়ার বক্তব্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। বরং তিনি খেলা চালিয়ে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষার কথা জানিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে ভাবার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ফলে আর্জেন্টিনাতেই থেকে যাবেন, নতুন কোনো ক্লাবে যাবেন নাকি শেষ পর্যন্ত বুটজোড়া তুলে রাখবেন এই তিন সম্ভাবনাই আপাতত আলোচনায় রয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে GOAL-এর প্রতিবেদন ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ইন্টার মায়ামি। অতীতেও ডি মারিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাবটির নাম জড়িয়েছিল। তাকে দলে নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে একাধিকবার আলোচনা হলেও কোনো চুক্তি হয়নি। এবার ২০২৭ মৌসুম সামনে রেখে সেই সম্ভাবনাই আবার ফুটবল মহলে আলোচিত হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত ডি মারিয়া বা ইন্টার মায়ামির পক্ষ থেকে নতুন কোনো চুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

ডি মারিয়ার মায়ামিতে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে এত আগ্রহের বড় কারণ অবশ্যই Lionel Messi। দীর্ঘদিন আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে একসঙ্গে খেলার সুবাদে মেসি ও Ángel Di María শুধু ঘনিষ্ঠ বন্ধুই নন, মাঠেও তাদের বোঝাপড়া আর্জেন্টিনার সাম্প্রতিক স্বর্ণযুগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছিল। ডি মারিয়া যদি এমএলএসে পাড়ি জমান, তাহলে জাতীয় দলের সাবেক দুই সতীর্থকে আবার একই ক্লাবের জার্সিতে দেখার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এই দুই তারকার যৌথ সাফল্যের ইতিহাসও দীর্ঘ। ২০০৮ বেইজিং অলিম্পিকে আর্জেন্টিনার স্বর্ণপদক জয়ের অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন দুজন। নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ফাইনালে ডি মারিয়ার গোলেই ১-০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত হয়েছিল। সেই সাফল্যের বহু বছর পর সিনিয়র জাতীয় দলেও গুরুত্বপূর্ণ ফাইনালগুলোতে বারবার মেসির পাশে ম্যাচ নির্ধারক হয়ে ওঠেন ডি মারিয়া।

সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত আসে ২০২১ কোপা আমেরিকার ফাইনালে। ব্রাজিলের ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ডি মারিয়ার দুর্দান্ত লব করা গোলেই আর্জেন্টিনা ১-০ ব্যবধানে জয় পায়। দীর্ঘ ২৮ বছরের অপেক্ষার পর বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা জেতে আলবিসেলেস্তেরা, একই সঙ্গে মেসির সিনিয়র আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম বড় ট্রফিও আসে সেই রাতে।

পরের বছর ওয়েম্বলিতে ইতালিকে হারিয়ে ফিনালিসিমা জয়ের পথেও ডি মারিয়া গোল করেন। এরপর আসে আর্জেন্টিনা ফুটবলের বহু প্রতীক্ষিত কাতার বিশ্বকাপ। ২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে প্রথমার্ধে দুর্দান্ত ফুটবল খেলেন ডি মারিয়া। পেনাল্টি আদায়ের পর নিজেও গোল করে আর্জেন্টিনাকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। নাটকীয় ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে জিতে ৩৬ বছর পর বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনা।

২০২৪ সালের কোপা আমেরিকা ছিল জাতীয় দলের হয়ে ডি মারিয়ার শেষ অধ্যায়। কলম্বিয়াকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের পর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানান তিনি। ফলে মেসি-ডি মারিয়া জুটিকে আর্জেন্টিনার জার্সিতে আবার দেখার সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেলেও ক্লাব ফুটবলে পুনর্মিলনের দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

তবে ইন্টার মায়ামির সম্ভাবনাকে এখনই নিশ্চিত দলবদল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। একজন ৩৮ বছর বয়সী খেলোয়াড়কে নেওয়ার ক্ষেত্রে তার শারীরিক অবস্থা, চুক্তির মেয়াদ, বেতন কাঠামো, এমএলএসের রোস্টার বিধি এবং ইন্টার মায়ামির ২০২৭ সালের দল পরিকল্পনা সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। একইভাবে রোজারিও সেন্ট্রালে থেকে ক্যারিয়ার শেষ করার আবেগও ডি মারিয়ার সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

ডি মারিয়ার ক্যারিয়ারের সঙ্গে রোজারিও সেন্ট্রালের সম্পর্ক বিশেষ আবেগের। এখান থেকেই পেশাদার ফুটবলে উঠে এসে ইউরোপে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। পরে বেনফিকা, রিয়াল মাদ্রিদ, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, প্যারিস সেন্ট জার্মেই, জুভেন্টাসের মতো ইউরোপের বড় ক্লাবে খেলার পর আবার বেনফিকায় ফেরেন। শেষ পর্যন্ত শৈশবের ক্লাব রোজারিওতে ফিরে আসা তার ক্যারিয়ারের বৃত্ত পূরণের মতোই ছিল।

এখন তাই ডি মারিয়ার সামনে দুটি আবেগঘন সম্ভাবনা শৈশবের ক্লাবে থেকেই ফুটবলকে বিদায় জানানো, অথবা আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ে পুরোনো বন্ধু মেসির সঙ্গে নতুন গল্প লেখা। তিনি খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে ইন্টার মায়ামি সেই গল্পের গন্তব্য হবে কি না, সেটিই আগামী দলবদলের বাজারে অন্যতম আকর্ষণীয় প্রশ্ন হয়ে উঠতে পারে।

-রাফসান


ট্রেডমার্ক লুক বদলে নতুন চেহারায় হাজির ম্যানচেস্টার সিটির তারকা

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৩ ২১:২৬:০২
ট্রেডমার্ক লুক বদলে নতুন চেহারায় হাজির ম্যানচেস্টার সিটির তারকা
ছবি : সংগৃহীত

ম্যানচেস্টার সিটির নরওয়েজিয়ান তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড তাঁর দীর্ঘদিনের পরিচিত ‘ভাইকিং’ লুক বদলে একেবারে নতুন বেশে হাজির হয়েছেন। নতুন মৌসুম শুরুর প্রাক্কালে নিজের ট্রেডমার্ক লম্বা স্বর্ণালি চুল কেটে ছোট ‘বাজ কাট’ স্টাইলে রূপ দিয়েছেন ২৬ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।

রবিবার (২৩ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের নতুন হেয়ারস্টাইলের একটি ভিডিও পোস্ট করেন হালান্ড। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই কখনো পনিটেল, কখনো খোলা চুলে মাঠে নামা হালান্ডের অন্যতম পরিচয় হয়ে উঠেছিল তাঁর লম্বা চুল। হঠাৎ এই পরিবর্তনের ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্ত ও সমর্থকদের মধ্যে বেশ আলোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

এর আগে সাবেক সুইডিশ তারকা জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ তাঁকে চুল না কাটার পরামর্শ দিলেও নতুন মৌসুমকে সামনে রেখে সেই পথ থেকে সরে এসেছেন এই তারকা। গত সপ্তাহে কমিউনিটি শিল্ডের ম্যাচেও লম্বা চুলে দেখা গেলেও প্রিমিয়ার লিগের আসন্ন নতুন মৌসুমের প্রথম ম্যাচে একেবারে নতুন লুকেই ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে মাঠে নামবেন হালান্ড।

/আশিক


ব্রাজিল প্রতিনিধিদলের ঢাকা সফর: ফুটবলে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৩ ২০:০৫:০৯
ব্রাজিল প্রতিনিধিদলের ঢাকা সফর: ফুটবলে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত
ছবি : সংগৃহীত

কলকাতা থেকে ব্রাজিলে ফেরার পথে হঠাৎ ঢাকায় এসে পৌঁছায় ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর তারা সরাসরি বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে গিয়ে মাঠ ও সার্বিক সুযোগ-সুবিধা নিবিড়ভাবে পরিদর্শন করেন।

আগামী ৩ অক্টোবর কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে ভারতের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল দল। সেই ম্যাচের প্রস্তুতি ও ভেন্যু দেখার পর দেশে ফেরার ট্রানজিটের সময় তারা ঢাকার মাঠে প্রবেশ করেন। প্রতিনিধিদলের সদস্যরা মাঠের ঘাস, ড্রেসিংরুম, গ্যালারি, ডাগআউট ও মিডিয়া বক্সসহ পুরো স্টেডিয়ামের প্রতিটি অংশ খুঁটিয়ে পর্যবেক্ষণ করেন।

পরিদর্শনকালে তাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) মাঠ ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষার। পরিদর্শন শেষে ইকবাল হোসেন সাংবাদিকদের জানান, নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে বাংলাদেশে ম্যাচ খেলা কিংবা বাংলাদেশ জাতীয় দলের বিপক্ষে মাঠে নামার বিষয়ে ব্রাজিল প্রতিনিধিরা ইতিবাচক আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। মাঠের সার্বিক অবস্থা নিয়ে তারা নিজেদের ফেডারেশনে মূল্যায়ন প্রতিবেদন জমা দেবেন এবং অবকাঠামো পুরোপুরি প্রস্তুত হলে পুনরায় আসার ইঙ্গিতও দিয়েছেন।

স্টেডিয়াম পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা সন্ধ্যায় বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেন। আগামী ২৫ ও ২৯ সেপ্টেম্বর অস্ট্রেলিয়ায় দুটি ম্যাচ খেলে ভারতের উদ্দেশ্যে যাত্রার আগে ৩০ সেপ্টেম্বর বা ১ অক্টোবর ঢাকায় অনুশীলন-বিরতি নেওয়া যায় কি না—সে সংক্রান্ত প্রাথমিক বিষয়গুলোও আলোচনায় স্থান পায়।

পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সরাসরি বাংলাদেশের মাটিতে খেলা দেখার স্বপ্ন দেশের ফুটবলপ্রেমীদের দীর্ঘদিনের। ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের এই আকস্মিক সফর ও আনুষ্ঠানিক আগ্রহ সেই প্রত্যাশাকে কিছুটা উসকে দিলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য বাফুফের মাঠ প্রস্তুতি ও ব্রাজিলিয়ান ফেডারেশনের পরবর্তী মূল্যায়নের দিকেই তাকিয়ে থাকতে হবে।

/আশিক


তিন ইনিংসেই স্টার্কের শিকার: দুঃস্বপ্নের অস্ট্রেলিয়া সফর লিটনের

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৩ ১৯:০৬:৪৫
তিন ইনিংসেই স্টার্কের শিকার: দুঃস্বপ্নের অস্ট্রেলিয়া সফর লিটনের
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে গিয়েই অবিস্মরণীয় ইতিহাস গড়ে বাংলাদেশ। ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে ঐতিহাসিক জয় তুলে নেয় টাইগাররা। তবে সিরিজের শেষটা বাংলাদেশের জন্য সুখকর হয়নি। ম্যাকাইয়ে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে মাত্র দুই দিনের মধ্যেই ইনিংস ও ৫১ রানের বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে লাল-সবুজের দল।

সিরিজের সমাপ্তি পরাজয়ে হলেও সামগ্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে খালি হাতে দেশে ফিরছে না বাংলাদেশ। তবে এই ঐতিহাসিক অস্ট্রেলিয়া সফরটি ব্যক্তিগতভাবে উইকেটরক্ষক-ব্যাটার লিটন দাসের জন্য চরম এক দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। সফরের দুই টেস্ট মিলিয়ে তিনটি ইনিংসে ব্যাট করার সুযোগ পেয়েও কোনো রান যোগ করতে পারেননি তিনি।

ইনজুরির কারণে সফরের শুরু থেকেই লিটনের অংশগ্রহণ নিয়ে তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। কাফ মাসলের চোটের কারণে শুরুতে তিনি প্রথম টেস্টের মূল স্কোয়াডে জায়গা পাননি। পরবর্তীতে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় নাটকীয় উন্নতি হওয়ায় শেষ মুহূর্তে তাকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

টেস্ট ফরম্যাটে দলের অন্যতম সেরা ব্যাটিং স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত হওয়ায় লিটনকে ঘিরে টিম ম্যানেজমেন্টের প্রত্যাশাও ছিল অনেক বেশি। অতীতে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে বহুবার দলের পরিত্রাতা হয়ে ইনিংস সামলেছেন তিনি।

তবে প্রত্যাশার বিপরীতে অস্ট্রেলিয়া সিরিজে চরম ব্যাটিং ব্যর্থতায় পড়েন লিটন। দুই টেস্টের তিন ইনিংসে ব্যাট হাতে নেমে তিনি উপহার দিয়েছেন টানা তিনটি শূন্য রানের ইনিংস। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, তিনটি ইনিংসেই তাকে সাজঘরে ফিরিয়েছেন অজি বাঁহাতি পেসার মিচেল স্টার্ক, যা এই অভিজ্ঞ ব্যাটারের জন্য রীতিমতো এক তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়ে থাকল।

/আশিক


টেস্টের প্রথম দিন শেষে লড়াইয়ে ফেরার প্রত্যয় বাংলাদেশি পেসারের

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২২ ২০:৩৪:১৭
টেস্টের প্রথম দিন শেষে লড়াইয়ে ফেরার প্রত্যয় বাংলাদেশি পেসারের
ছবি : সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে চলমান টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে অবিস্মরণীয় জয়ের পর দ্বিতীয় টেস্টের শুরুতেই বড় ধরনের ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। ম্যাকাইয়ে অনুষ্ঠিত ম্যাচের প্রথম দিনেই মাত্র ৬৪ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারীদের ইনিংস। জবাবে প্রথম দিনের খেলা শেষে অস্ট্রেলিয়া ৮ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ১৬৫ রান, যার ফলে স্বাগতিকরা ইতোমধ্যে ১০১ রানের লিড নিশ্চিত করেছে।

ব্যাট হাতে দল ব্যর্থ হলেও বল হাতে বাংলাদেশকে লড়াইয়ে টিকিয়ে রেখেছেন তারকা পেসার শরীফুল ইসলাম। প্রথম দিনের খেলা শেষে তিনি আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে জানান, টেস্ট ম্যাচ এখনো শেষ হয়ে যায়নি এবং দলীয়ভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রাখবেন তারা।

ডারউইনে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারানোর ঐতিহাসিক ম্যাচে একাদশে ছিলেন না শরীফুল। দ্বিতীয় টেস্টে সুযোগ পেয়েই বল হাতে অনন্য পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে তিনি জানান, ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো টেস্টের এক ইনিংসে পাঁচ উইকেট লাভ করার অনুভূতি সত্যিই দুর্দান্ত এবং এতে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত।

ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে মিচেল স্টার্ক ৬ উইকেট শিকার করে বাংলাদেশকে চেপে ধরেন। পরবর্তীতে বল হাতে মাঠে নেমে স্টার্কের মতোই অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে সমান ৬টি উইকেট তুলে নেন শরীফুল ইসলাম। স্টার্কের সমান উইকেট শিকারের এই সমীকরণ বাড়তি অনুপ্রেরণা দিচ্ছে উল্লেখ করে শরীফুল বলেন, স্টার্কের মতো বিশ্বমানের বোলারের সমান উইকেট অর্জন তার কাছে বেশ ভালো লাগার একটি বিষয়।

সিরিজের প্রথম টেস্ট জিতে বর্তমানে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে সফরকারী বাংলাদেশ। দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিন শেষে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার অনুকূলে থাকলেও শরীফুলের আগুনে স্পেলে প্রাপ্ত ৬ উইকেটের সুবাদে লড়াইয়ের সম্ভাবনা এখনো পুরোপুরি জিইয়ে রেখেছে বাংলাদেশ দল।

/আশিক

পাঠকের মতামত: