শেখ মুজিবুর রহমানের পাকিস্তান ভাঙার ইচ্ছা ছিল না: স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা এবং স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে প্রচলিত ইতিহাসের একটি বড় অসঙ্গতি ও বিতর্কিত দাবি সামনে এনেছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি দাবি করেছেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তান ভাঙার বা বিচ্ছিন্নতাবাদী হওয়ার কোনো ইচ্ছা শেখ মুজিবুর রহমানের ছিল না এবং ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরোচিত ক্র্যাকডাউনের আগে তাজউদ্দীন আহমদের অনুরোধ সত্ত্বেও তিনি স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি।
শনিবার (১১ জুলাই) ‘রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া)’ ভবনে আয়োজিত ‘দি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে ইতিহাস ঐতিহ্য এবং বাংলাদেশের অভ্যুদয়’ শীর্ষক এক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিবরণ দিতে গিয়ে বলেন, ২৫ মার্চের সেই কালরাতে তাজউদ্দীন আহমদ স্বয়ং শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে গিয়ে বলেছিলেন যে পাকিস্তানি সেনারা সাধারণ মানুষের ওপর আক্রমণ করতে যাচ্ছে এবং এই মুহূর্তে দেশের মানুষ স্বাধীনতা চায়। কিন্তু শেখ সাহেব সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে বলেছিলেন, তিনি কোনোভাবেই বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা হতে পারেন না এবং পাকিস্তান রাষ্ট্রটি ভেঙে যাওয়ার পেছনে তাঁর কোনো অবদান থাকুক—এটি তিনি চান না। স্পিকারের দাবি অনুযায়ী, এই কারণেই শেখ মুজিবুর রহমান সেদিন স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, পাকিস্তানি বাহিনীর অতর্কিত ও নৃশংস আক্রমণের মুখে যখন সমগ্র বাঙালি জাতি দিশেহারা এবং অবদমিত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল, ঠিক তখনই ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙালি সেনারা সাহসের সঙ্গে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এই চরম সংকটময় ও নেতৃত্বহীন মুহূর্তেই তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, যা দিকবিদিক জ্ঞানশূন্য জাতিকে পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্দীপ্ত ও অনুপ্রাণিত করেছিল। স্পিকার জোর দিয়ে বলেন, ‘এটিই হলো বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের প্রকৃত সত্য ইতিহাস।’
মেজর হাফিজ উদ্দিন রাজনৈতিক দলগুলোর ইতিহাস চর্চার সমালোচনা করে বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের একক যুদ্ধ ছিল না, এটি ছিল এ দেশের আপামর জনসাধারণের একটি সমন্বিত ‘জনতার যুদ্ধ’। তিনি অভিযোগ করেন, স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসে একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠী প্রকৃত ইতিহাস বিকৃত করার অপচেষ্টা চালায়। তারা অন্য সবার অবদান অস্বীকার করে শুধু ৭ই মার্চের ভাষণের ওপর ভিত্তি করে স্বাধীনতার পুরো কৃতিত্ব নিজেদের পকেটে পুরতে চেয়েছিল, যা ছিল ইতিহাসের প্রতি এক চরম অন্যায়। রাজনীতিবিদদের মানসিকতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক নেতারা সাধারণত অন্যের ত্যাগ ও কৃতিত্ব হাইজ্যাক বা ছিনতাই করতে পছন্দ করেন এবং নিজের দলের নির্দিষ্ট নেতা ছাড়া অন্য কাউকে ইতিহাসে স্থান দিতে চান না।
আলোচনা সভায় স্পিকার ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের গৌরবময় ও ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি জানান, ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানে রেজিমেন্টের মাত্র পাঁচটি ব্যাটালিয়ন সক্রিয় ছিল। ২৫ মার্চের গণহত্যার পর কোনো পূর্বপরিকল্পনা, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ ছাড়াই একেকটি ক্যান্টনমেন্টে বাঙালি অফিসার ও সৈনিকেরা পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। তাঁরা নিজেদের জীবন বাজি রেখে সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের ডাক দেন। সামরিক বাহিনীর এই স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধ যুদ্ধই ছিল পরবর্তী ৯ মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী ও গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধের মূল ভিত্তি ও চালিকাশক্তি।
নিজের সামরিক জীবনে যোগদানের স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফিজ উদ্দিন জানান, তিনি মূলত ফুটবল খেলার প্রতি গভীর টানের কারণেই পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের ব্যক্তিগত অনুপ্রেরণাতেই তিনি ‘ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে’ যোগদানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, ‘আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি স্বাধীনতার মহান ঘোষক এদেশের মহান রাষ্ট্রপতি জেনারেল জিয়াউর রহমানকে, যিনি আমাকে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগদানের জন্য উৎসাহিত করেছিলেন।’
এ ছাড়া তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রধান সংগঠক মেজর আব্দুল গনি এবং ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামের রেজিমেন্ট কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার মাহমুদুর রহমান মজুমদারের ঐতিহাসিক অবদানের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন। পরিশেষে, তিনি আধুনিক সামরিক বাহিনীতে সাধারণ সৈনিকদের সাথে অফিসারদের সম্পর্কের যে চিরাচরিত ও আত্মিক বন্ধন, তা পুনরায় শক্তিশালী করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
/আশিক
নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে টিসিবির বড় পরিকল্পনা
দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধির চাপ সামাল দিতে বড় পরিসরের ক্রয় পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ভোজ্যতেল, মসুর ডাল, চিনি, ছোলা ও খেজুর সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে রাষ্ট্রীয় বিপণন সংস্থাটি। একই সঙ্গে গুদাম সক্ষমতা বৃদ্ধি, স্মার্ট কার্ড ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং পণ্য বিতরণে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ জানিয়েছেন, পরিকল্পিত পণ্যের প্রায় অর্ধেক স্থানীয় বাজার এবং বাকি অংশ আন্তর্জাতিক উৎস থেকে সংগ্রহের প্রাথমিক লক্ষ্য রয়েছে। তবে কোন উৎসে দাম, মান, সরবরাহের নিশ্চয়তা ও প্রতিযোগিতা বেশি সুবিধাজনক—তার ওপর চূড়ান্ত ক্রয়ের অনুপাত নির্ভর করবে। আন্তর্জাতিক দরপত্রে তুলনামূলক ভালো শর্ত পাওয়া গেলে বিদেশ থেকে আমদানির অংশ বাড়ানো হতে পারে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ক্রয় পরিকল্পনায় সবচেয়ে বড় অংশ রাখা হয়েছে ভোজ্যতেলের জন্য। টিসিবি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উৎস মিলিয়ে ২২ কোটি লিটার ভোজ্যতেল সংগ্রহ করতে চায়। পাশাপাশি ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল, ১ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন চিনি, ১৪ হাজার মেট্রিক টন ছোলা এবং ৪ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন খেজুর কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।
বাজারে সংকট দেখা দেওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় পণ্যের মজুত নিশ্চিত করতে সরবরাহ ব্যবস্থাপনাতেও পরিবর্তন আনছে সংস্থাটি। মাসভিত্তিক চাহিদা, বরাদ্দ, গুদামে থাকা পণ্য এবং ইতোমধ্যে কেনা কিন্তু সরবরাহের অপেক্ষায় থাকা পণ্যের তথ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য হলো নির্দিষ্ট সময়ে প্রয়োজনীয় পণ্য বাজারে ছেড়ে সরবরাহের ঘাটতি বা অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি কমানো।
বিশেষ করে রমজান, ঈদ কিংবা নিত্যপণ্যের চাহিদা বেড়ে যাওয়ার সময় বাজারে টিসিবির কার্যকর উপস্থিতির জন্য পর্যাপ্ত মজুতকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ। সংস্থাটির চেয়ারম্যানের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে টিসিবির মজুত পরিস্থিতি চলমান কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সন্তোষজনক। তবে ভবিষ্যতে বাজারে হস্তক্ষেপের সক্ষমতা বাড়াতে ক্রয় ব্যবস্থার পাশাপাশি লজিস্টিক অবকাঠামোও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।
বর্তমানে টিসিবির ব্যবহারে মোট ৪০টি গুদাম রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৯টি সংস্থার নিজস্ব, আর ৩১টি ভাড়া করা। সব মিলিয়ে এসব গুদামের ধারণক্ষমতা প্রায় ৪৮ হাজার ৩৭০ মেট্রিক টন। নিজস্ব গুদামগুলোতে প্রায় ১৩ হাজার ৩৭১ মেট্রিক টন এবং ভাড়া করা গুদামে ৩৪ হাজার ৯৯৯ মেট্রিক টন পণ্য রাখার সুযোগ রয়েছে।
ভাড়া করা অবকাঠামোর ওপর নির্ভরতা কমাতে আরও প্রায় ১০ হাজার মেট্রিক টন নিজস্ব মজুত সক্ষমতা তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে টিসিবি। কর্তৃপক্ষ মনে করছে, বড় আকারে পণ্য কিনে সুবিধাজনক সময়ে বাজারে সরবরাহ করতে হলে নিজস্ব গুদাম ও পরিবহন ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।
নিত্যপণ্যের বাজারে টিসিবির প্রভাবও বাড়াতে চায় সরকার। চেয়ারম্যান ফয়সল আজাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটি বছরে প্রায় আড়াই লাখ মেট্রিক টন ভোজ্যতেল সরবরাহ করে, যা দেশের সামগ্রিক বাজারের প্রায় ১৫ শতাংশের সমপরিমাণ। তবে পরিবারভিত্তিক ভোগের বাজার বিবেচনা করলে টিসিবির কার্যকর অংশীদারত্ব আরও বেশি বলে মনে করেন তিনি।
মসুর ডাল ও চিনির ক্ষেত্রেও নিম্ন ও সীমিত আয়ের পরিবারের চাহিদার উল্লেখযোগ্য অংশ টিসিবির মাধ্যমে পূরণ হচ্ছে। সংস্থাটির মূল্যায়ন হচ্ছে, বড়সংখ্যক পরিবারের জন্য তুলনামূলক কম দামে পণ্য সরবরাহ করা গেলে খুচরা বাজারেও এর একটি মূল্য-স্থিতিশীলকারী প্রভাব তৈরি হয়।
সরকারি ভর্তুকির ওপর দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরতা কমানোর বিষয়টিও টিসিবির নতুন কৌশলে গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রতিযোগিতামূলক উৎস থেকে কম দামে পণ্য সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট কিছু পণ্য সীমিত মুনাফায় বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে একদিকে ভোক্তারা বাজারের তুলনায় কম দামে পণ্য পাবেন, অন্যদিকে প্রতিটি পণ্যের জন্য সরকারকে সরাসরি ভর্তুকি দিতে হবে না।
টিসিবির পণ্যতালিকাও ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে। এতদিন ভোজ্যতেল, ডাল ও চিনির মতো কয়েকটি পণ্যকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম পরিচালিত হলেও পরীক্ষামূলকভাবে সাবান, ডিটারজেন্ট ও লবণ বিক্রি শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে আটা, মরিচ, হলুদ এবং বিভিন্ন মসলা যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
তবে নতুন এসব পণ্য ভর্তুকির আওতায় থাকবে না বলে জানিয়েছেন টিসিবির চেয়ারম্যান। প্রতিযোগিতামূলকভাবে সংগ্রহের মাধ্যমে সাধারণ বাজারদরের চেয়ে কম মূল্যে সেগুলো বিক্রির পরিকল্পনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সুবিধাভোগীদের জন্য অতিরিক্ত পণ্য কেনা বাধ্যতামূলক করা হবে না।
কোন পণ্য টিসিবির বিক্রয়তালিকায় যুক্ত হবে, সে সিদ্ধান্তেও ভোক্তার চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি। নতুন পণ্য চালুর আগে জরিপ করে সুবিধাভোগীদের প্রয়োজন ও আগ্রহ যাচাই করা হবে। ভোক্তার বাস্তব চাহিদার সঙ্গে মিল রেখেই ধাপে ধাপে পণ্যের পরিধি বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
টিসিবির কার্যক্রমে বড় পরিবর্তন এসেছে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড ব্যবস্থায়। চেয়ারম্যানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৮০ লাখ স্মার্ট কার্ড অনুমোদন করা হয়েছে এবং এর মধ্যে প্রায় ৭৫ লাখ কার্ড ইতোমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট সুবিধাভোগীদের আগামী ঈদুল ফিতরের আগেই কার্ড দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
তবে সুবিধাভোগীর তালিকা স্থায়ী নয়। মৃত্যু, ঠিকানা পরিবর্তন, স্থানান্তর কিংবা যোগ্যতার পরিবর্তনের কারণে তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া বা নতুন সুবিধাভোগী যুক্ত করার প্রয়োজন হতে পারে। এ কারণে স্মার্ট কার্ড ব্যবস্থাকে নিয়মিত হালনাগাদযোগ্য একটি গতিশীল সামাজিক সুরক্ষা প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
পণ্য বিতরণে অনিয়ম কমানো এবং লেনদেনের তথ্য আরও সহজে যাচাই করতে পুরো সরবরাহব্যবস্থাকে ধাপে ধাপে স্বয়ংক্রিয় করার কাজও চলছে। বর্তমানে ডিলাররা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে স্মার্ট কার্ড স্ক্যান করে সুবিধাভোগীর পরিচয় যাচাই করেন। পরবর্তী পর্যায়ে বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতে পয়েন্ট অব সেল বা পিওএস মেশিন বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে পণ্য কেনার পর গ্রাহক লেনদেনের রসিদও পাবেন।
স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য আলাদা ডিজিটাল সুবিধা তৈরির কাজও চলছে। পরিকল্পিত ব্যবস্থায় একজন সুবিধাভোগী নিজের কার্ডের তথ্য ডিজিটালভাবে দেখতে পারবেন এবং মোবাইল আর্থিক সেবা কিংবা নগদ অর্থের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধের সুযোগ পাবেন। ফলে কার্ড ব্যবস্থাপনা থেকে পণ্য বিক্রি পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ার ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষণ সহজ হবে।
আরও বড় পরিসরে টিসিবির ডিজিটাল অবকাঠামোকে অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করার সম্ভাবনাও রয়েছে। সংস্থাটির দাবি, তাদের তৈরি প্ল্যাটফর্মে প্রায় ২১ ধরনের কর্মসূচি সংযুক্ত করার প্রযুক্তিগত সুযোগ রয়েছে। ভবিষ্যতে অন্যান্য সরকারি সংস্থাও সুবিধাভোগীভিত্তিক কর্মসূচি পরিচালনায় এই অবকাঠামো ব্যবহার করতে পারবে।
টিসিবির সামগ্রিক পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হচ্ছে শুধু কম দামে পণ্য বিক্রি নয়; বরং বাজারে প্রয়োজনের সময় দ্রুত হস্তক্ষেপ করতে সক্ষম একটি রাষ্ট্রীয় বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তোলা। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজার থেকে প্রতিযোগিতামূলক দামে পণ্য সংগ্রহ, পর্যাপ্ত মজুত, শক্তিশালী গুদাম ব্যবস্থা, ডিজিটাল সুবিধাভোগী শনাক্তকরণ এবং চাহিদাভিত্তিক পণ্যতালিকা সবকিছুকে একই কাঠামোর মধ্যে আনার চেষ্টা চলছে।
তবে এই পরিকল্পনার কার্যকারিতা শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে সঠিক সময়ে পণ্য কেনা, আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্যঝুঁকি সামলানো, ক্রয়প্রক্রিয়ায় প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা এবং ডিলার পর্যায়ে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের ওপর। প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার পরিকল্পিত ক্রয় কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে নিত্যপণ্যের বাজারে আকস্মিক সরবরাহ সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির সময় টিসিবির হস্তক্ষেপের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।
-রফিক
বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ঢলের ৯ বছর: প্রত্যাবাসন কেন এখনো অনিশ্চিত
মিয়ানমারে হত্যা, নিপীড়ন ও ব্যাপক সহিংসতা থেকে প্রাণ বাঁচাতে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার বড় ঢলের নয় বছর পূর্ণ হলো আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট)। ২০১৭ সালের এই দিনে রাখাইন রাজ্যে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর লাখ লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত অতিক্রম করে কক্সবাজারে প্রবেশ করতে শুরু করেন। নয় বছর পেরিয়ে গেলেও নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের প্রতিশ্রুতি এখনো বাস্তবে রূপ নেয়নি। বরং মিয়ানমারের চলমান সংঘাত, রাখাইনে ক্ষমতার নতুন সমীকরণ, নাগরিকত্বের অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক অর্থায়নের সংকোচন পুরো সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের সর্বশেষ উপলভ্য তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন শেষে বাংলাদেশে রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ১২ লাখ। এর মধ্যে কক্সবাজারে প্রায় ১১ লাখ ৬৬ হাজার এবং ভাসানচরে প্রায় ৩৩ হাজার ৮০০ রোহিঙ্গা রয়েছেন। নতুন করে বাংলাদেশে আসা ১ লাখ ৫৩ হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকেও বায়োমেট্রিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে।
২৫ আগস্টকে রোহিঙ্গারা গণহত্যা স্মরণ দিবস হিসেবে পালন করে থাকেন। দিনটি উপলক্ষে কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের সমবেত হয়ে ২০১৭ সালের সহিংসতার বিচার দাবি এবং নিজ ভূমি আরাকানে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরার কর্মসূচি রয়েছে। তবে তাদের বক্তব্যের কেন্দ্রে এবারও একই প্রশ্ন—নয় বছর পরও কেন নিরাপদ প্রত্যাবাসনের পথ তৈরি হলো না।
প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক একটি অগ্রগতি হলো, বাংলাদেশ থেকে পাঠানো তালিকার মধ্যে প্রায় ৩ লাখ ৯ হাজার রোহিঙ্গাকে রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে যাচাই করেছে মিয়ানমার। তবে একই সঙ্গে দেশটি জানিয়েছে, রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যাবাসন শুরু করা সম্ভব নয়। ফলে যাচাই প্রক্রিয়ার অগ্রগতি হলেও বাস্তবে কবে একজন রোহিঙ্গাও ফিরে যেতে পারবেন, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত সময়সীমা নেই।
রোহিঙ্গাদের বড় উদ্বেগ নাগরিকত্ব ও জাতিগত পরিচয়ের স্বীকৃতি নিয়েও। ইউএনএইচসিআর বলছে, মিয়ানমারে নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত হওয়ায় রোহিঙ্গারা বিশ্বের বৃহত্তম রাষ্ট্রহীন জনগোষ্ঠীগুলোর একটি। সংস্থাটির অবস্থান হলো, মিয়ানমারে অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হলেই কেবল নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই প্রত্যাবর্তন সম্ভব।
এই বাস্তবতায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক রাহমান নাসির উদ্দিন মনে করেন, প্রত্যাবাসনই সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হলেও শুধু কূটনৈতিক ঘোষণা দিয়ে সেটি অর্জন করা সম্ভব নয়। তার মতে, মিয়ানমারের পরিবর্তিত রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি মাথায় রেখে একটি সুস্পষ্ট কৌশলগত পরিকল্পনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব, মর্যাদা এবং নিজ ভূমিতে অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়গুলো প্রত্যাবাসনের কাঠামোর কেন্দ্রে রাখতে হবে।
ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গার সভাপতি সৈয়দ উল্লাহর বক্তব্যেও দীর্ঘদিনের হতাশা স্পষ্ট। তার মতে, ২০১৮ সাল থেকে প্রত্যাবাসনের সম্ভাব্য সময় নিয়ে বহু আলোচনা হলেও বাস্তব অগ্রগতি সামান্য। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের পাশাপাশি মিয়ানমার এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোকেও এই সংকটের দায় ও সমাধানের দায়িত্ব নিতে হবে। রোহিঙ্গাদের কোনো ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার উপাদান হিসেবে না দেখে অধিকারসম্পন্ন মানুষ হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বানও জানান তিনি।
রাখাইনের পরিবর্তিত সামরিক বাস্তবতাও এখন প্রত্যাবাসনের অন্যতম বড় বাধা। রোহিঙ্গা যুবনেতা ও আরাকান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মুজিবুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, রাখাইনের বিস্তীর্ণ অঞ্চল এখন আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে। ফলে কেবল মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমঝোতা করেই প্রত্যাবাসনের বাস্তব পরিবেশ তৈরি করা কঠিন হতে পারে। তার মতে, চীন ও ভারতের মতো প্রভাবশালী আঞ্চলিক শক্তির কার্যকর সম্পৃক্ততাও প্রয়োজন।
দীর্ঘায়িত সংকটের আরেকটি উদ্বেগজনক দিক হচ্ছে আন্তর্জাতিক অর্থায়নের ঘাটতি। জাতিসংঘ ও সহযোগী সংস্থাগুলো ২০২৬ সালে রোহিঙ্গা এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর জরুরি প্রয়োজন মেটাতে ৭১০ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার সহায়তা চেয়েছে। এই আবেদন ২০২৫ সালের তুলনায় ২৬ শতাংশ কম, এবং জাতিসংঘ বলছে এটি জীবনরক্ষাকারী ন্যূনতম প্রয়োজন মেটানোর জন্য অগ্রাধিকারভিত্তিকভাবে সংকুচিত করা হয়েছে। পরিকল্পনাটির আওতায় রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠী মিলিয়ে প্রায় ১৫ লাখ ৬০ হাজার মানুষকে সহায়তার লক্ষ্য রয়েছে।
অর্থসংকট ইতোমধ্যেই মানবিক কার্যক্রমে চাপ তৈরি করেছে। ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, ২০২৫ সালে মানবিক অর্থায়ন কমে যাওয়ায় জরুরি সেবার ক্ষেত্রেও কঠিন অগ্রাধিকার নির্ধারণ ও কিছু কার্যক্রম সীমিত করতে হয়েছে। রোহিঙ্গাদের বড় অংশ খাদ্য, আশ্রয়, স্বাস্থ্য, পানি ও সুরক্ষাসহ মৌলিক প্রয়োজনের জন্য এখনো মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।
তবে আন্তর্জাতিক সহায়তা পুরোপুরি থেমে যায়নি। চলতি আগস্টেই অস্ট্রেলিয়া ২০২৬-২৮ মেয়াদি মানবিক সহায়তা প্যাকেজের আওতায় ২ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সহায়তায় ইউএনএইচসিআরকে আরও ১ কোটি ৪০ লাখ ইউরো দেওয়ার ঘোষণা দেয়।
সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ায় কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপরও অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত চাপ বাড়ছে। স্থানীয় প্রতিনিধিদের মতে, দীর্ঘদিন পাশাপাশি বসবাসের ফলে রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের মধ্যে সম্পদ, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা ও সামাজিক সম্পর্ককে ঘিরে চাপ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে ক্যাম্পে অপরাধ, সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও পুরো রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে অপরাধের সঙ্গে এক করে দেখলে সামাজিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।
উন্নয়নকর্মী ফারিহা হোসাইন মনে করেন, নয় বছর ধরে চলা এই সংকটকে এখন আর শুধু জরুরি ত্রাণের সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের আলোচনায় তাদের নিজেদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা, দক্ষতা ও দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা তৈরির বিষয়ও বিবেচনায় নিতে হবে।
ব্র্যাকের উপদেষ্টা সুব্রত চক্রবর্তীর মতে, শরণার্থী সংকটের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সমাধানের মধ্যে স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসন, স্থানীয় একীভূতকরণ এবং তৃতীয় দেশে পুনর্বাসন রয়েছে। বাংলাদেশের বাস্তবতায় স্থানীয়ভাবে একীভূত করার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত হওয়ায় প্রত্যাবাসনকে মূল লক্ষ্য রেখেই সীমিত পরিসরে তৃতীয় দেশে পুনর্বাসনের পথও খোলা রাখা যেতে পারে।
ইউএনএইচসিআরের বর্তমান অবস্থানও বলছে, প্রত্যাবাসনের আকাঙ্ক্ষা থাকলেও তার জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও অধিকারভিত্তিক পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি। মিয়ানমারের সংঘাত আরও তীব্র হওয়ায় নতুন বাস্তুচ্যুতি ও সীমান্ত অতিক্রমের ঘটনাও ঘটছে। ফলে একদিকে পুরোনো শরণার্থীদের ফেরত পাঠানোর চেষ্টা, অন্যদিকে নতুন বাস্তুচ্যুত মানুষের আগমন দুই বাস্তবতাই বাংলাদেশের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।
নয় বছর পর তাই রোহিঙ্গা সংকটের সামনে মূল প্রশ্ন শুধু ‘কবে প্রত্যাবাসন হবে’ নয়; বরং কোথায়, কোন কর্তৃপক্ষের অধীনে, কী নাগরিক মর্যাদায় এবং কতটা নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নিয়ে তারা ফিরবেন এসব প্রশ্নের গ্রহণযোগ্য উত্তর পাওয়া জরুরি। প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের মানবিক মর্যাদা ও মৌলিক সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে সংকটের চাপ বহন করা কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীকেও আন্তর্জাতিক সহায়তার কেন্দ্রে রাখার প্রয়োজন রয়েছে।
-রফিক
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ: হুমায়ুন কবির
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের উদ্যোগে প্রস্তাবিত ‘মক্কা ডিফেন্স প্যাক্ট’ বা নিরাপত্তা সহযোগিতা চুক্তিতে যুক্ত হতে বাংলাদেশ আগ্রহী বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।
হুমায়ুন কবির বলেন, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যকার প্রস্তাবিত নিরাপত্তা সহযোগিতা চুক্তিতে বাংলাদেশ যুক্ত হওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বিষয়টিকে ঢাকা অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে দেখছে।
তিনি বলেন, মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা বহুমাত্রিক করতে বর্তমান সরকার কাজ করবে। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের উদ্যোগে গঠিত এই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তির বিষয়েও বাংলাদেশের ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে।
এদিকে যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে নিজেকে বাংলাদেশি হিসেবে উল্লেখ করেন হুমায়ুন কবির। তার নাগরিকত্ব নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা এবং একটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের প্রসঙ্গ উঠলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বাংলাদেশি। এখানে তো বাংলাদেশের... বাংলাদেশি। আমি মনে করি না এমন কেউ আছে যে আমার বাংলাদেশি নাগরিকত্ব বা আমার অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন করবে।’
এ সময় একটি গণমাধ্যমে তার যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব নিয়ে সংবাদ প্রকাশের বিষয়টি তুলে ধরলে তিনি বলেন, ‘আমি তো সিটিজেন নিয়ে আছি, আপনি বলেন নেটিজেন! কোন নিউজপেপার? কার এত জ্বালা যে কাজ করতে দেবে না, হ্যাঁ?’
পরে দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের পক্ষে অবস্থান নেওয়া দেশপ্রেমিক মানুষ, গণমাধ্যম, দেশবাসী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সবাই মিলে দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করবেন।
এদিন সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে হুমায়ুন কবির জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারত—দুই দেশই কাজ করছে। ঢাকা ও দিল্লির সুবিধাজনক সময়ে সফরের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হবে।
বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সাম্প্রতিক বক্তব্যকেও ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেন, দেশের স্বার্থ সুরক্ষিত রেখে কূটনীতিতে ভারসাম্য রক্ষা করা তার অন্যতম দায়িত্ব। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সমতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
—সত্য প্রতিবেদন/আশিক
ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্নে হুমায়ুন কবিরের পাল্টা প্রশ্ন, ‘কার এত জ্বালা?’
ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে নিজেকে বাংলাদেশি হিসেবে উল্লেখ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তার দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ও সংবাদ প্রকাশের প্রসঙ্গ উঠলে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘কার এত জ্বালা?’
সোমবার (২৪ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
ব্রিটিশ নাগরিকত্বের বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমি বাংলাদেশি। এখানে তো বাংলাদেশের... বাংলাদেশি। আমি মনে করি না এমন কেউ আছে, যে আমার বাংলাদেশি নাগরিকত্ব বা আমার অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন করবে।’
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের জন্য কাজ করা কোনো সুবিধাবাদী ব্যক্তির কাজ নয়।
এ সময় সাংবাদিকরা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে আলোচনা চলছে এবং এ নিয়ে সংবাদও প্রকাশিত হয়েছে। বিষয়টি শুনে প্রতিমন্ত্রী জানতে চান, কোথায় এ আলোচনা হয়েছে। এক সাংবাদিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ভাইরাল হওয়ার কথা জানালে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমি তো সিটিজেন নিয়ে আছি, আপনি বলেন নেটিজেন! মানে কোন নেটিজেন? আমি তো সিটিজেন নিয়ে আছি, কাজ করি। আপনি বলেন নেটিজেন!’
এরপর তিনি প্রশ্ন তোলেন, কোন সংবাদপত্রে এ নিয়ে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘কার এত জ্বালা যে মানে কাজ করতে দেবে না, হ্যাঁ? তো তাঁর জ্বালা কেন হচ্ছে? তার কি ২০০৮-এর জ্বালা উঠছে নাকি আবার? মইনুদ্দীন-ফখরুদ্দীনের জ্বালা উঠছে তার আবার? নাকি?’
পরে দেশের স্বার্থে জোরালো অবস্থান নেওয়া মানুষ, গণমাধ্যম, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ জনগণকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের পক্ষে অবস্থান নেওয়া দেশপ্রেমিক মানুষ, গণমাধ্যম, দেশবাসী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সবাই মিলে দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করবেন।
হুমায়ুন কবিরের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্নটি সামনে আসে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তার শপথ নেওয়ার পর। সিলেটে জন্মগ্রহণ করলেও আড়াই বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাজ্যে চলে যান তিনি। সেখানে বেড়ে ওঠার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন এবং যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
—সত্য প্রতিবেদন/আশিক
দলিলে এক নাম, খতিয়ানে আরেক—মালিক কে হবেন?
জমি কেনাবেচা, উত্তরাধিকার কিংবা সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে বিরোধ বাংলাদেশে নতুন নয়। অনেক সময় জমির নিবন্ধিত দলিলে এক ব্যক্তির নাম থাকলেও সরকারি রেকর্ডে অন্য ব্যক্তির নাম পাওয়া যায়। আবার কোনো জমি দীর্ঘদিন ধরে অন্য কেউ দখলে রেখেছেন—এমন ঘটনাও রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, আইন অনুযায়ী জমিটির প্রকৃত মালিক কে?
জমির মালিকানা নির্ধারণের ক্ষেত্রে সাধারণত নিবন্ধিত দলিল, সরকারি রেকর্ড বা খতিয়ান এবং বৈধ দখল—এই বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোনো একটি নথিকে সব পরিস্থিতিতে চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। মালিকানার ইতিহাস, দলিলের বৈধতা, রেকর্ডের ধারাবাহিকতা এবং দখলের আইনগত অবস্থাসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে বিষয়টি নির্ধারণ করা হয়।
বাংলাদেশে জমির সরকারি রেকর্ডের মধ্যে সিএস (CS), এসএ (SA), আরএস (RS), বিএস (BS) এবং বিভিন্ন এলাকায় চলমান বিডিএস (BDS) জরিপের খতিয়ান রয়েছে। জমির মালিকানা যাচাইয়ের সময় পুরোনো রেকর্ড থেকে সর্বশেষ রেকর্ড পর্যন্ত মালিকানার ধারাবাহিকতা দেখা গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ আগের মালিক কে ছিলেন, পরবর্তী সময়ে কীভাবে মালিকানা পরিবর্তিত হয়েছে এবং সেই পরিবর্তনের পেছনে বৈধ দলিল বা অন্য কোনো আইনগত ভিত্তি রয়েছে কি না—এসব বিষয়ও যাচাই করা হয়।
শুধু সর্বশেষ খতিয়ানে কোনো ব্যক্তির নাম থাকলেই সব ক্ষেত্রে মালিকানা চূড়ান্ত হয়ে যায় না। আগের খতিয়ান, নিবন্ধিত দলিল এবং মালিকানা হস্তান্তরের ধারাবাহিকতার মধ্যেও সামঞ্জস্য থাকতে হয়। তাই জমি কেনার আগে শুধু বর্তমান রেকর্ড দেখলেই যথেষ্ট নয়; মালিকানার পুরো ইতিহাস যাচাই করা প্রয়োজন।
জমি কেনা, দান বা হেবার মাধ্যমে মালিকানা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে নিবন্ধিত দলিল গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ। তবে দলিলের বৈধতা নির্ভর করে যিনি জমিটি হস্তান্তর করেছেন, তার ওই সম্পত্তির ওপর বৈধ মালিকানা বা হস্তান্তরের আইনগত অধিকার ছিল কি না, তার ওপর। বিক্রেতার নিজের মালিকানাই যদি প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তাহলে তার করা দলিল নিয়েও আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।
এ কারণে জমি কেনার আগে বিক্রেতার মালিকানার উৎস, পূর্ববর্তী দলিল, খতিয়ান, নামজারি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই করা জরুরি। মালিকানার ধারাবাহিকতায় কোনো অসঙ্গতি থাকলে শুধু একটি নিবন্ধিত দলিলের ভিত্তিতে মালিকানা দাবি করা জটিল হয়ে উঠতে পারে।
জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের দখলের বিষয়টিও অনেক সময় আলোচনায় আসে। তবে কোনো ব্যক্তি ১২ বছর জমি দখলে রাখলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওই জমির মালিক হয়ে যান—এমন ধারণা সঠিক নয়। প্রতিকূল দখল বা adverse possession-এর দাবি নির্দিষ্ট আইনগত শর্তের সঙ্গে সম্পর্কিত। দখল কী ধরনের ছিল, প্রকৃত মালিকের অধিকার কী ছিল এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি নিজের অধিকার রক্ষায় কোনো আইনগত পদক্ষেপ নিয়েছেন কি না—এসব বিষয়ও বিবেচনায় আসতে পারে।
তাই দীর্ঘদিন কোনো জমিতে বসবাস, চাষাবাদ বা দখলে থাকাকে একাই মালিকানার চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে ধরা ঠিক নয়। এ ধরনের দাবি থাকলে সংশ্লিষ্ট নথি ও পরিস্থিতির ভিত্তিতে আইনগতভাবে বিষয়টি প্রমাণ করতে হয়।
জমির প্রকৃত মালিক নির্ধারণের ক্ষেত্রে সাধারণত একাধিক প্রমাণকে একসঙ্গে বিবেচনা করা হয়। এর মধ্যে সিএস থেকে সর্বশেষ জরিপ পর্যন্ত রেকর্ডের ধারাবাহিকতা, বৈধ ও ত্রুটিমুক্ত নিবন্ধিত দলিল, আইনসম্মত দখল, পূর্ববর্তী মালিকানা ও হস্তান্তরের ইতিহাস এবং নামজারি ও ভূমি উন্নয়ন করসংক্রান্ত নথি গুরুত্বপূর্ণ।
অর্থাৎ বৈধ দলিল, ধারাবাহিক সরকারি রেকর্ড এবং আইনসম্মত দখল—এই বিষয়গুলোর সমন্বিত প্রমাণ জমির মালিকানা নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে প্রতিটি জমির মালিকানার ইতিহাস আলাদা হওয়ায় কোনো একটি সাধারণ নিয়ম সব ক্ষেত্রে একইভাবে প্রয়োগ করা যায় না।
জমি নিয়ে বিরোধ, মালিকানা নিয়ে মামলা বা নথিপত্রে অসঙ্গতি থাকলে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই করে আইনজীবী বা ভূমি বিষয়ে অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ জমির ধরন, রেকর্ডের ইতিহাস, দলিলের বৈধতা, দখলের প্রকৃতি এবং চলমান মামলার পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আইনি অবস্থান ভিন্ন হতে পারে।
/আশিক
মির্জা ফখরুলকে শি জিনপিংয়ের অভিনন্দন, যা বললেন চীনের প্রেসিডেন্ট
বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সোমবার (২৪ আগস্ট) পাঠানো এক অভিনন্দনবার্তায় তিনি বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
অভিনন্দনবার্তায় শি জিনপিং বাংলাদেশ ও চীনকে ঐতিহ্যগতভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৫১ বছরে পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে উভয় দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ ও উদ্বেগের বিষয়গুলোতেও পরস্পরের সঙ্গে সহযোগিতা করে আসছে দুই দেশ।
চীনের প্রেসিডেন্ট বলেন, নিজ নিজ আধুনিকায়নের পথে বাংলাদেশ ও চীন একসঙ্গে কাজ করেছে। দ্রুত পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ ও পরীক্ষার মধ্যেও দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্থিতিশীলভাবে এগিয়ে গেছে।
বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের উন্নয়নকে চীন অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় উল্লেখ করে শি জিনপিং বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে কাজ করে দুই দেশের ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বকে আরও এগিয়ে নেওয়া এবং কৌশলগত যোগাযোগ জোরদার করতে তিনি আগ্রহী।
তিনি আরও বলেন, চীন উচ্চমানের বেল্ট অ্যান্ড রোড সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের পারস্পরিক বিনিময় ও সহযোগিতা আরও গভীর করতে চায়। এর মাধ্যমে নতুন যুগে চীন-বাংলাদেশ অভিন্ন ভবিষ্যতের অংশীদারত্ব আরও গভীর ও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
শি জিনপিং আশা করেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্কের এই অগ্রগতির সুফল দুই দেশের জনগণ আরও বেশি উপভোগ করতে পারবেন।
/আশিক
সবাইকে প্রস্তুত নিয়েই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যেতে হবে: সিইসি
স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শুধু নির্বাচন কমিশনের একার বিষয় নয় বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। তিনি বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সব বাহিনীকেও প্রস্তুত থাকতে হবে। সংশ্লিষ্ট সবাই প্রস্তুত হলেই বোঝা যাবে নির্বাচন আয়োজনের জন্য কমিশন প্রস্তুত।
সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ‘এক্সিকিউটিভ লিডারশিপ ডায়ালগ’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন সিইসি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিনক্ষণ কবে নির্ধারণ করা হবে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেন, এখনই নির্দিষ্ট তারিখ বলা সম্ভব নয়। নির্বাচনের সময় নির্ধারণ অনেকগুলো বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রস্তুতি চূড়ান্ত হওয়ার পর ভোটের আয়োজন করা হবে।
তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে কিছু আইন ও বিধি সংশোধনের কাজ চলছে। নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে প্রস্তাব তৈরি করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের সঙ্গে কিছু বিষয়ে আলোচনা প্রয়োজন রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়টি উল্লেখ করে সিইসি বলেন, নির্বাচনে পুলিশ, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রয়োজন হবে। তাই এসব বিষয়ে সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করেই নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
নির্বাচনের দিনক্ষণ নির্বাচন কমিশনই নির্ধারণ করবে জানিয়ে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করা হবে। ভোটের সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে আবহাওয়া, বর্ষাকাল, বন্যা, পূজা ও পাবলিক পরীক্ষার মতো বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
সম্প্রতি পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি জানান, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে পুলিশের প্রস্তুতি, দেশের বিভিন্ন এলাকার পরিস্থিতি এবং নির্বাচনের জন্য কত সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা সম্ভব হবে—এসব বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশকে কিছু পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
সিইসি বলেন, জাতীয় নির্বাচন যেভাবে আয়োজন করা হয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন তার চেয়ে ভালো হবে; কোনোভাবেই খারাপ হবে না। সবার সহযোগিতা নিয়ে এই নির্বাচন সফলভাবে আয়োজন করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
/আশিক
স্কুলের খাবার নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নজর, হবে পাইলট প্রকল্প
বিদ্যালয় পর্যায়ে মিড-ডে মিল কার্যক্রম পরিচালনা, খাবারের পুষ্টিমান এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ খাদ্য প্রস্তুত ও সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শিক্ষার্থীদের দেওয়া খাবার অবশ্যই পুষ্টিকর, নিরাপদ ও মানসম্মত হতে হবে এবং খাদ্যের মানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের চলমান কার্যক্রম, এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে তাদের শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখা ও ঝরে পড়া রোধে ট্রাস্টের ভূমিকা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে বিস্তারিত জানানো হয়।
এ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলে মেয়েদের জন্য চালু হওয়া সার্বজনীন উপবৃত্তি কর্মসূচির প্রভাব ও অর্জন নিয়েও আলোচনা হয়। ওই কর্মসূচির ফলে মেয়েদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ানো, শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখা এবং বাল্যবিবাহ নিরুৎসাহিত করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছিল বলে বৈঠকে তুলে ধরা হয়।
এই প্রেক্ষাপটে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের জন্য সার্বজনীন উপবৃত্তি পুনরায় চালুর সম্ভাবনা যাচাই করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়ে সম্ভাব্য ব্যয়, উপকারভোগীর সংখ্যা, বাস্তবায়ন পদ্ধতি এবং এর প্রত্যাশিত সামাজিক ও শিক্ষাগত প্রভাব বিশ্লেষণ করে একটি সুস্পষ্ট প্রস্তাব তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
একই সঙ্গে ছেলেদের শিক্ষায় উৎসাহিত করতে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে উপবৃত্তি দেওয়ার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে শিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি সমান গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। মিড-ডে মিল কার্যক্রম বাস্তবায়নে সম্ভাব্য ব্যয়, ব্যবস্থাপনার দক্ষতা, স্থানীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ এবং খাবারের মান নিয়ন্ত্রণের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে দুটি বিকল্প পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
দুটি পদ্ধতির কার্যকারিতা, বাস্তবায়নযোগ্যতা ও সম্ভাব্য ফলাফল যাচাই করতে পৃথক দুটি জেলায় প্রতিটি পদ্ধতির জন্য পাইলট প্রকল্প চালুর নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। এসব প্রকল্পের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে কার্যকর পদ্ধতি নির্ধারণের সুযোগ তৈরি হবে।
বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মাহদী আমিন, শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
/আশিক
গ্যাস সরবরাহে গতি আনতে এলএনজি আমদানির নতুন অনুমোদন
আন্তর্জাতিক কোটেশন সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান থেকে দুই কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
সোমবার (২৪ আগস্ট) অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ৪১তম সভায় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের উপস্থাপিত এ প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়।
অনুমোদিত প্রস্তাবের বিবরণ অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়ার পোসকো ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন থেকে আগামী ১৩-১৪ সেপ্টেম্বর সময়ের মধ্যে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৪.৬২৫ মার্কিন ডলারে এক কার্গো এলএনজি কেনা হবে। এছাড়া যুক্তরাজ্যের টোটাল এনার্জিস থেকে ২৩-২৪ সেপ্টেম্বর সময়ে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৪.২৫ মার্কিন ডলার দরে আরও এক কার্গো এলএনজি আমদানি করা হবে। সভায় এলএনজি ক্রয়ের এই প্রস্তাবসহ মোট ১৩টি উন্নয়ন ও ক্রয় প্রস্তাব উপস্থাপন ও অনুমোদন পায়।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে টিসিবির বড় পরিকল্পনা
- চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যে নতুন চাপ, নজর সিঙ্গাপুরেও
- বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ঢলের ৯ বছর: প্রত্যাবাসন কেন এখনো অনিশ্চিত
- আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম
- টস জিতে আগে বোলিং করলে অস্ট্রেলিয়াকে ৬০ রানে অলআউট করত বাংলাদেশ
- উজবেকিস্তান যাওয়ার আগে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলে কোচদের ধাক্কাধাক্কি
- মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ: হুমায়ুন কবির
- নবম পে-স্কেলের অপেক্ষার অবসান, গেজেট নিয়ে নতুন আভাস
- থানা থেকে দুই আ.লীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন যুবশক্তি নেতা
- ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্নে হুমায়ুন কবিরের পাল্টা প্রশ্ন, ‘কার এত জ্বালা?’
- দক্ষিণ আফ্রিকা-ইরান আইনি সহযোগিতা জোরদারের আলোচনা
- দলিলে এক নাম, খতিয়ানে আরেক—মালিক কে হবেন?
- চোখের নিচে কালো দাগ কেন, কমানোর সহজ কিছু উপায়
- মির্জা ফখরুলকে শি জিনপিংয়ের অভিনন্দন, যা বললেন চীনের প্রেসিডেন্ট
- পেটের যে ব্যথা অবহেলা করলেই বাড়তে পারে বিপদ
- সবাইকে প্রস্তুত নিয়েই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যেতে হবে: সিইসি
- দিল্লিতে রেড অ্যালার্ট জারি, ১৫টি বিমান ঘুরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ
- প্রথম ছয় মাসেই সরকারের ব্যর্থতা প্রমাণ হয়েছে: নাহিদ
- উত্তেজনার মধ্যেই সাড়ে ৭ ট্রিলিয়ন ঘনফুটের গ্যাস ক্ষেত্র পেল ইরান
- কলেরার টিকা গ্রহণের প্রক্রিয়া: জেনে নিন আবেদনের নিয়ম
- স্কুলের খাবার নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নজর, হবে পাইলট প্রকল্প
- গ্যাস সরবরাহে গতি আনতে এলএনজি আমদানির নতুন অনুমোদন
- সোনা-রুপার আজকের দাম, দেখে নিন একনজরে
- তেলের দামে পতন
- আজকের নামাজের সময়সূচি, জেনে নিন একনজরে
- তিন ঘণ্টা মায়ের আকুতি, বাবার শেষ চেষ্টা তবুও মন গলেনি ছেলের
- ধর্ষণের পর হত্যা বেড়েছে ৮১ শতাংশ, আজও একই প্রশ্ন নারীর নিরাপত্তায়
- দুপুরের মধ্যেই ৮ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টি, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্কসংকেত
- মেসির পাশে আবার ডি মারিয়া? মায়ামি নিয়ে নতুন গুঞ্জন
- ‘নতুন ধাপে’ যাচ্ছে ইরান যুদ্ধ, মিত্রদের চায় যুক্তরাষ্ট্র
- ডার্ক ওয়েবে ৬০ লাখ বাংলাদেশির সিভি বিক্রির বিজ্ঞাপন
- হরমুজ দিয়ে ‘এক ফোঁটা তেলও’ যেতে দেব না: ইরান
- ট্রেডমার্ক লুক বদলে নতুন চেহারায় হাজির ম্যানচেস্টার সিটির তারকা
- দূতাবাসে হুমকির ই-মেইল: কূটনৈতিক এলাকায় সতর্কতা
- বিশ্বব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ পদে সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তার নতুন দায়িত্ব
- নতুন দায়িত্বের পর নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রথম দাপ্তরিক কাজ
- সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল নিয়ে বড় অগ্রগতির খবর
- বৈদেশিক সহায়তা কাটছাঁট: বিপাকে সুন্দরবনের জলবায়ু প্রকল্প
- ব্রাজিল প্রতিনিধিদলের ঢাকা সফর: ফুটবলে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত
- ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে বাড়ছে খরচ, যুক্ত হচ্ছে নতুন চার্জ
- ঢাকাসহ সারা দেশে ঝড়-বৃষ্টির আভাস দিল আবহাওয়া অফিস
- আকাশসীমা নজরদারিতে নতুন প্রযুক্তি: সক্ষমতা বৃদ্ধির তথ্য জানাল বিএনপি
- ২০২৭ সালের রমজান ও দুই ঈদের সম্ভাব্য সময়সূচি প্রকাশ
- তিন ইনিংসেই স্টার্কের শিকার: দুঃস্বপ্নের অস্ট্রেলিয়া সফর লিটনের
- চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান চূড়ান্ত লড়াই নয়, ছিল লড়াইয়ের মহড়া: শফিকুর রহমান
- বিপুল জনগোষ্ঠীকে মানব সম্পদে রূপান্তরের মহাপরিকল্পনা সরকারের: শিক্ষামন্ত্রী
- মার্কিন হামলার পর বৈশ্বিক নীতিতে বড় পরিবর্তনের হুঁশিয়ারি ইরানের
- গ্যাস সংকটের জন্য সরকার দায়ী নয়, যুদ্ধের প্রভাব: রিজভী
- পরিবার নিয়ে বঙ্গভবনে উঠলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল
- এডমিরাল পদে পদোন্নতি পেলেন নৌপ্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম
- ক্ষমতার পরিবর্তনই যথেষ্ট নয়, বদলাতে হবে রাজনৈতিক সংস্কৃতি: AMRA গোলটেবিলে বক্তারা
- ছয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর
- সরকারি অনুদানের চেক গ্রহণ করলেন রেসডোর চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ
- দুপুরের আকাশে জ্বলজ্বল করবে তারা: বিরল সূর্যগ্রহণে রেকর্ড গড়বে লুক্সর
- ফ্যাসিবাদমুক্ত দেশে এবার বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর পালা: প্রধানমন্ত্রী
- তারেক রহমানের কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই, দেশেই সব উৎসর্গ: রিজভী
- বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক ও জ্বালানি সরবরাহ পর্যালোচনার আশ্বাস ভারতের
- স্মার্টফোন চার্জে দেওয়ার সময় যেসব সাধারণ ভুল এড়িয়ে চলবেন
- আইন পেশার উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে সরকারের বার্তা
- বঙ্গোপসাগরে ২৪ নাবিক নিয়ে ডুবল জাহাজ, বাংলাদেশিসহ নিখোঁজ ২২
- এডমিরাল পদে পদোন্নতি পেলেন নৌপ্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম
- বিআরটিসির ‘পিংক বাসে’ এবার স্টারলিংকের হাই-স্পিড স্যাটেলাইট ইন্টারনেট
- দীর্ঘ তিন দশক পর রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের প্রস্তুতি
- প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য
- অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী টেস্টের আগে ডোনাল্ডের মূল্যায়ন








