মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাত যেকোনো মুহূর্তে বিশ্ব কাঁপানো আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেওয়ার ঝুঁকি

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ও প্রভাবশালী কৌশলগত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘দ্য কিলওয়েন গ্রুপ’-এর সম্মানিত চেয়ারম্যান এবং সাবেক তুখোড় মার্কিন নৌ কর্মকর্তা হারলান উলম্যান এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ভৌগোলিক ও সামরিক দিক থেকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের যে একক ও একচেটিয়া প্রভাব রয়েছে, তা পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক রাজনীতির মঞ্চে এক চরম ও কঠিন কৌশলগত ফাঁদে ফেলে দিয়েছে।
কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সাবেক এই মার্কিন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা ওয়াশিংটনের যুদ্ধনীতির তীব্র সমালোচনা করে বলেন, একেবারে শুরু থেকেই এটি সম্পূর্ণ অস্পষ্ট ও কুয়াশচ্ছন্ন ছিল যে, ইরানের বিরুদ্ধে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত ও চূড়ান্ত লক্ষ্য আসলে কী ছিল। আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতে অনেকেই এখন জোরালো প্রশ্ন তুলছেন—ইরানের সাথে এই নজিরবিহীন ও একতরফা যুদ্ধাবস্থা তৈরি করে দিনশেষে হোয়াইট হাউস বা যুক্তরাষ্ট্র ঠিক কী অর্জন করতে চেয়েছিল, তার কোনো স্পষ্ট জবাব মার্কিন নীতিনির্ধারকদের কাছে নেই।
হারলান উলম্যানের সূক্ষ্ম সামরিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রতিপক্ষের চেয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি ও আধুনিক সমরাস্ত্রের আধিপত্য বহুগুণ বেশি হলেও, সেই বিপুল সামরিক ক্ষমতাকে বাস্তবে একটি টেকসই ‘কৌশলগত সাফল্যে’ রূপান্তর করার ক্ষেত্রে এক চরম ও জট পাকানো সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে পেন্টাগন।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ও নৌবাহিনীর সামরিক ক্ষমতা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত শক্তিশালী ও বিধ্বংসী। কিন্তু প্রশ্ন হলো, তারা কি এই বোমাবর্ষণের মাধ্যমে ইরানের ওপর এতটা মনস্তাত্ত্বিক ও সামরিক চাপ সৃষ্টি করতে পারবে, যার ফলে তেহরান তাদের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্র নীতি কিংবা মার্কিন-বিরোধী মনোভাব রাতারাতি বদলে ফেলবে? আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা বলে, মার্কিন সামরিক শক্তি দিয়ে ইরানের আদর্শিক নীতি পরিবর্তন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।”
তিনি আরও যোগ করেন, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কৌশলগত ও ভূরাজনৈতিক সুবিধার দিক থেকে ইরানই যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক বেশি সুবিধাজনক ও ভালো অবস্থানে রয়েছে। কারণ, তেহরানকে ওয়াশিংটনের মতো বিশাল যুদ্ধাস্ত্রের বহর নিয়ে হামলা চালাতে হবে না; ইরানকে আন্তর্জাতিক মহলে কেবল এইটুকু প্রচ্ছন্ন হুমকি দিতে হবে যে, ‘প্রয়োজন হলে আমরা জ্বালানি সরবরাহের লাইফলাইন হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেব এবং আমাদের পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিনপন্থী প্রতিবেশী দেশগুলোর সামরিক ঘাঁটির ওপর সরাসরি হামলা চালাব।’ ইরানের এই একটিমাত্র মাত্রার হুমকিই বিশ্বের জ্বালানি বাজার ও হোয়াইট হাউসের ওপর এক নজিরবিহীন ও বিশাল মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করার জন্য যথেষ্ট।
উলম্যানের মতে, ইরানি এই মরণকামড়ের বিপরীতে পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের হাতে মূলত আকাশপথে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ ও বিমান হামলা চালানো ছাড়া স্থলভাগে তেমন কোনো কার্যকর বা বিকল্প সামরিক উপায় নেই। কিন্তু মার্কিন এই উপর্যুপরি বিমান হামলায় যুদ্ধক্ষেত্রে এমন কোনো সুনির্দিষ্ট বা ফলপ্রসূ ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না, যা চলমান সংকটে দুই পক্ষের কারও জন্যই কোনো ইতিবাচক বা ভালো ভবিষ্যৎ বয়ে আনতে পারে।
সবশেষে এই প্রবীণ সামরিক বিশ্লেষক গভীর উদ্বেগ ও সতর্কবার্তা জারি করে বলেন, বর্তমানের এই সীমিত আকারের সংঘাতটি যেকোনো মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ব্যাপক ও সর্বগ্রাসী ‘বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে’ রূপ নেওয়ার চরম ঝুঁকি রয়েছে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে ধ্বংস করে দিতে পারে। আর সবচেয়ে বড় আশঙ্কার কথা হলো, বর্তমান ভঙ্গুর বিশ্ব অর্থনীতি কোনোভাবেই এই মারাত্মক যুদ্ধ পরিস্থিতি ও তার ধাক্কা সামাল দিতে মোটেও প্রস্তুত নয়।
নিজের দাবির সপক্ষে বিশ্ব জ্বালানি বাজারের সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান তুলে ধরে হারলান উলম্যান বলেন, “সমগ্র বিশ্বে প্রতিদিন যে পরিমাণ খনিজ জ্বালানি ও তেল ব্যবহৃত হয়, তার প্রায় ২০ শতাংশ বা এক-পঞ্চমাংশ একমাত্র এই হরমুজ প্রণালির সরু জলপথ দিয়েই আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবহন করা হয়ে থাকে। মার্কিন-ইরান যুদ্ধের জের ধরে যদি এই আন্তর্জাতিক নৌপথটি মাত্র এক দিন, এক সপ্তাহ, এক মাস কিংবা তার চেয়েও দীর্ঘ সময়ের জন্য সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ বা বন্ধ হয়ে যায়, তবে তার চড়া মূল্য দিতে হবে পুরো বিশ্বকে এবং বিশ্ব অর্থনীতির ওপর তার এক চরম বিপর্যয়কর ও ভয়াবহ নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, যা সামলানো অসম্ভব।”
/আশিক
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি রক্ষায় জোটবদ্ধ হওয়ার ডাক দিলেন শীর্ষ কূটনীতিকরা
আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশে সংঘাত ছড়িয়ে দেওয়ার পাঁয়তারা করছে বলে দাবি করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফ। তিনি উল্লেখ করেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কৌশলগত কাঠামো নির্ধারণে, বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে, ইরান ও ইরাক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করতে সক্ষম।
বুধবার (২৬ আগস্ট) তেহরানে ইরাকের সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের প্রধান ফায়েক জাইদানের সঙ্গে এক আনুষ্ঠানিক বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে দুই দেশের শীর্ষ প্রতিনিধিরা সার্বিক আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, ইরাকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এবং তেহরান ও বাগদাদের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
কলিবফ অভিযোগ করেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা এবং গোটা পশ্চিম এশিয়া ও মুসলিম বিশ্বে আধিপত্য কায়েমের অসৎ উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রাসী তৎপরতা শুরু করেছিল। তবে ইরানি জনগণ, প্রতিরোধ ফ্রন্টের সদস্য ও শহীদদের ত্যাগের মুখে ওয়াশিংটনের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। সামরিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ইরান সফলভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে দাবি করে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক চাপের মুখেও শত্রুপক্ষ পরাজিত হবে।
একই সঙ্গে ইরাকের ভূখণ্ড ও আকাশসীমা থেকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনাকে ইরাকি জনগণ ও সরকারের জন্য একটি ‘ঐতিহাসিক সম্মান’ বলে অভিহিত করেন এবং তা পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
ইসরায়েলের যুদ্ধ সম্প্রসারণের কৌশল সম্পর্কে সতর্কবার্তা দিয়ে ইরানের স্পিকার জানান, ইরানে সফল হলে তারা অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের দিকেও নজর দিত। তাই পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের ভারসাম্য রক্ষায় ইরান-ইরাক যৌথ অবস্থান অত্যন্ত সময়োপযোগী।
বৈঠকে ফায়েক জাইদান ইরানের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর পারস্পরিক নিরাপত্তা চুক্তি ও দ্বিপক্ষীয় মেলবন্ধন পুরো মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে। তেহরানের সঙ্গে বাগদাদের সুদৃঢ় অংশীদারিত্ব অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের সঙ্গেও সহযোগিতার ক্ষেত্রকে আরও বিস্তৃত করবে বলে তিনি আশাবাদ জানান।
সূত্র: ডন, তাসনিম নিউজ এজেন্সি।
নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে প্রবল বন্যা: ৫৫ জনের প্রাণহানি ও শতাধিক নিখোঁজ
নেপাল ও তিব্বত সীমান্তসংলগ্ন হিমালয় অঞ্চলে সংঘটিত প্রবল বন্যায় অন্তত ৫৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং রাস্তাঘাট, সেতু ও বেশ কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) সংঘটিত এই আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, রসুয়া জেলায় ভয়াবহ এই বন্যার পর মোট ৩৮৪ জন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি ও ৯৩ জন নেপালি নাগরিক রয়েছেন। আন্তর্জাতিক পর্যটকদের মধ্যে অন্তত ১০৫ জন ভারতীয়, ১২ জন ব্রিটিশ, ৩৭ জন অনাবাসী ভারতীয়, ১৭ জন মালয়েশীয়, ৪ জন দক্ষিণ আফ্রিকান, ৩ জন মার্কিন নাগরিক এবং অস্ট্রেলিয়া ও নেদারল্যান্ডসের একজন করে নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া আরও ১১১ জনের জাতীয়তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
নিখোঁজদের একটি বড় অংশ কৈলাস মানস সরোবর যাত্রায় অংশ নেওয়া তীর্থযাত্রী বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত তাদের আটজন কর্মী নিখোঁজ এবং ১০ জন আটকে রয়েছেন।
প্রাথমিক মূল্যায়নে জানা গেছে, লেন্দে নদীর একটি বরফধসের কারণে নদীর গতিপথ আটকে যাওয়ায় এর উপনদী ভুতেকোশিতে এই আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। বুধবার সকালে নদীর পানি দুই কূল ছাপিয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করলে বেশ কয়েকটি গ্রাম সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। চীন সীমান্তবর্তী তিব্বতের জিরং বন্দর ও শিগাতসে অঞ্চলেও ভূমিধস ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ভারত ও চীনের সহযোগিতা চেয়েছে নেপাল সরকার। অন্যদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং নিখোঁজদের উদ্ধারে সর্বাত্মক তল্লাশি অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
বন্যাকবলিত রসুয়া জেলায় নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এবং খারাপ আবহাওয়ার কারণে স্যাপ্রু বেসি ও তিমুরে এলাকায় উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারগুলো নামতে পারছে না। ফলে ব্যাহত হচ্ছে উদ্ধারকাজ। নদীর তীরবর্তী জনবসতিগুলো পুরোপুরি তলিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন ভোতেকোশি, ত্রিশূলী ও নারায়ণী নদীর তীর থেকে বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
/আশিক
রাতের আকাশে দেখা যাবে রক্তিম রূপ: প্রস্তুত হচ্ছে বিশ্ব
আগামী ২৮ আগস্ট চলতি বছরের অন্যতম আকর্ষণীয় মহাজাগতিক ঘটনা হিসেবে একটি গভীর আংশিক চন্দ্রগ্রহণ সংঘটিত হতে যাচ্ছে। মহাকাশে ঘূর্ণনের একপর্যায়ে পৃথিবী যখন সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে একই সরলরেখায় অবস্থান করে, তখন পৃথিবীর ছায়া চাঁদের ওপর পড়ার মাধ্যমে এই চন্দ্রগ্রহণের সৃষ্টি হয়। উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ ছাড়াও ইউরোপ এবং আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ বিরল এই দৃশ্যটি প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পাবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার তথ্যানুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) গভীর রাত থেকে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোরের মধ্যে এই ঘটনা ঘটবে। বাংলাদেশ সময় ২৮ আগস্ট সকাল ১০টা ১২ মিনিটে (গ্রিনিচ মান সময় ভোর ৪টা ১২ মিনিটে) গ্রহণের সর্বোচ্চ পর্যায় দৃশ্যমান হওয়ার কথা রয়েছে। এ সময় চাঁদের পৃষ্ঠের প্রায় ৯৬ শতাংশ এবং ব্যাসের হিসেবে প্রায় ৯৩ শতাংশ অংশ পৃথিবীর মূল ও গভীরতম ছায়ার ভেতরে প্রবেশ করবে।
সম্পূর্ণ চাঁদ পুরোপুরি ঢাকা না পড়ায় এটি পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ হিসেবে গণ্য হবে না এবং চাঁদের একটি ক্ষুদ্র অংশ ছায়ার বাইরে উন্মুক্ত থাকবে। তবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে সূর্যের আলো প্রতিসরিত ও বিচ্ছুরিত হয়ে পৌঁছানোর ফলে গ্রহণকবলিত চাঁদটি তামাটে বা রক্তিম লাল রূপ ধারণ করতে পারে, যা জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় ‘ব্লাড মুন’ নামে পরিচিত। সমগ্র প্রক্রিয়াটি পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময়ব্যাপী চললেও এর গভীর আংশিক পর্যায়টি স্থায়ী হবে তুলনামূলকভাবে কম সময়।
ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে আমেরিকা মহাদেশের অধিকাংশ এলাকা থেকে এ মহাজাগতিক দৃশ্য শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গভাবে দেখা যাবে। অন্যদিকে ইউরোপ ও আফ্রিকার কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চল থেকে কেবল সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময়ে এর আংশিক দৃশ্য অবলোকন করা সম্ভব হবে। এর আগে গত ১২ আগস্ট গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও স্পেনে দৃশ্যমান হওয়া পূর্ণ সূর্যগ্রহণের দুই সপ্তাহের ব্যবধানে এই চন্দ্রগ্রহণটি ঘটছে। সূর্যগ্রহণের তুলনায় চন্দ্রগ্রহণ অত্যন্ত নিরাপদ হওয়ায় এটি সরাসরি খালি চোখেই দেখা যায়, তবে টেলিস্কোপ বা সাধারণ বাইনোকুলার ব্যবহার করলে এর রক্তিম রূপটি আরও স্পষ্ট ও আকর্ষণীয়ভাবে উপভোগ করা যাবে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
গ্রিন কার্ডের জন্য অপেক্ষমাণদের জন্য এলো বড় সুখবর
যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারভিত্তিক বা ফ্যামিলি-বেইজড গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য আগস্ট মাসের ভিসা বুলেটিনে বড় ধরনের অগ্রগতি এসেছে। বিশেষ করে পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার ‘এফ-২এ’ (F-2A) ক্যাটাগরিতে ভিসা পাওয়ার সুযোগ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে এগিয়েছে। এই ক্যাটাগরির আওতায় মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা বা গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সি অবিবাহিত সন্তানেরা আবেদন করে থাকেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত আগস্ট ২০২৬-এর ভিসা বুলেটিনের তথ্যানুযায়ী, এফ-২এ ক্যাটাগরির ‘ফাইনাল অ্যাকশন ডেট’ ১ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে এক লাফে এগিয়ে এনে ২২ জুলাই ২০২৬ নির্ধারণ করা হয়েছে। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে কাট-অফ তারিখে এমন লক্ষণীয় পরিবর্তন আসায় যেসব বাংলাদেশি আবেদনকারীর অগ্রাধিকার তারিখ (Priority Date) ২২ জুলাই ২০২৬-এর পূর্বে রয়েছে, তাদের অভিবাসন ভিসা ইস্যু বা পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কার্যকর সুযোগ তৈরি হলো।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিদ্যমান নিয়মে ভিসা বুলেটিনের ‘ফাইনাল অ্যাকশন ডেট’-এর ওপর ভিত্তি করে সুনির্দিষ্ট অগ্রাধিকার তারিখের আবেদনকারীদের ভিসা প্রদান করা হয়ে থাকে। অন্যদিকে জাতীয় ভিসা কেন্দ্রের (NVC) নির্দেশনা মতে, কোটানির্ভর পরিবারভিত্তিক ভিসা ক্যাটাগরিতে চূড়ান্ত সাক্ষাৎকারের (ইন্টারভিউ) জন্য আবেদনকারীর অগ্রাধিকার তারিখটি কার্যকর থাকা বাধ্যতামূলক। সেই হিসাবে আগস্টের এই বড় অগ্রগতি দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষমাণ বহু বাংলাদেশি পরিবারের জন্য প্রক্রিয়াটি সহজ ও গতিশীল করবে।
/আশিক
ট্রাম্পের ছেলে ব্যারনকে হত্যার হুমকি দিয়ে ইরানে ভিডিও প্রকাশ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কনিষ্ঠ পুত্র ব্যারন ট্রাম্পকে হত্যার সম্ভাব্য পরিকল্পনা সংক্রান্ত একটি ভিডিও ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবিতে সম্প্রচারের পর বিষয়টি খতিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস। সংস্থাটি জানিয়েছে, ভিডিওটিকে একটি প্রত্যক্ষ ঝুঁকি বা হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে তারা আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে।
সিক্রেট সার্ভিসের মুখপাত্র নেট হেরিং এক ই-মেইল বার্তায় জানান, প্রচারিত ভিডিওটি তাদের নজরে এসেছে। সংস্থার সুরক্ষার আওতাধীন ব্যক্তিদের নিরাপত্তার স্বার্থে সম্ভাব্য যেকোনো হুমকি গভীরভাবে তদন্ত করা তাদের নিয়মিত দায়িত্ব। তবে সার্বিক নিরাপত্তা ও অপারেশনাল গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে এ সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্যের বিস্তারিত বিবরণ দিতে তিনি অস্বীকৃতি জানান।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত প্রায় তিন মিনিটের ওই ভিডিওতে ২০ বছর বয়সী ব্যারন ট্রাম্পকে লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। ভিডিওটির শুরুতে ইংরেজিতে একটি গ্রাফিক্স প্রদর্শন করে প্রশ্ন তোলা হয়, ব্যারন ট্রাম্পকে কোথায় এবং কীভাবে হত্যা করা সমীচীন। এতে গ্রাফিক্সের মাধ্যমে নিউইয়র্কের ট্রাম্প টাওয়ারসহ বেশ কিছু জনবহুল স্থান চিহ্নিত করা হয়, যেখানে কনিষ্ঠ ট্রাম্পকে প্রায়ই দেখা যায়। একই সঙ্গে ভিডিওতে দাবি করা হয় যে ব্যারনকে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং তাকে হত্যার বিনিময়ে এক কোটি ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা রয়েছে।
এর আগে চলতি মাসেই বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে ইরান হামলা চালাতে পারে মর্মে যুক্তরাষ্ট্রকে একাধিকবার সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা। তুরস্ক সফরের সময় ট্রাম্পকে কেন্দ্র করে বিশেষ নিরাপত্তা কৌশল গ্রহণের আগেও এ ধরনের বার্তা দেওয়া হয়েছিল বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা যায়। স্বয়ং ট্রাম্পও পূর্বে মন্তব্য করেছিলেন যে তিনি তেহরানের হত্যা তালিকার শীর্ষস্থানে রয়েছেন।
অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জ্যেষ্ঠ পুত্র ইয়াইর নেতানিয়াহুকেও হত্যার ছক কষেছিল ইরানের একটি গুপ্তচর চক্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজম্যাক্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ডিসেম্বরে ইসরায়েলি গোয়েন্দারা জানতে পারে যে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার হল্যান্ডেল বিচ এলাকায় অবস্থানরত ৩৫ বছর বয়সী ইয়াইরের ওপর নজরদারি চালাচ্ছে ইরানের একটি সক্রিয় চক্র।
বিষয়টি মার্কিন কর্তৃপক্ষকে তাৎক্ষণিকভাবে জানানোর পর চরম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ইয়াইর নেতানিয়াহুকে দ্রুত ফ্লোরিডা থেকে ইসরায়েলে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরিস্থিতি এতটাই জরুরি ছিল যে নিজের অনেক প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ফেলে রেখেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান সংক্ষিপ্ত করে নিজ দেশে ফিরে যান।
সূত্র : রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের হামলা রুখতে আক্রমণাত্মক কৌশলে যাচ্ছে ইরান
সাম্প্রতিক সংঘাতের পর নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে সম্ভাব্য নতুন সামরিক পদক্ষেপ মোকাবিলায় নিজেদের প্রচলিত প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান পরিবর্তন করে আরও আক্রমণাত্মক কৌশল গ্রহণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে দেশটি।
ইরানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া জানান, ওয়াশিংটনের ভবিষ্যৎ হুমকি রুখতে তাদের সামরিক অবস্থানকে আরও আক্রমণাত্মক রূপ দেওয়া হবে। তিনি দাবি করেন, সংঘাতের শেষ দিকে ইরানি বাহিনী বেশ কয়েকটি আগাম বা পূর্বপ্রস্তুতিমূলক অভিযান পরিচালনা করেছিল। আকরামিনিয়ার ভাষ্যমতে, জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের চালানো হামলা ওয়াশিংটনকে পরবর্তী বড় ধরনের আক্রমণ চালানো থেকে বিরত রাখতে একটি কার্যকর প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করেছে।
এদিকে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে এক কঠোর সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ইরানের সীমানায় কোনো মার্কিন সেনা প্রবেশ করলে তাকে আটক করতে পারা ব্যক্তির জন্য বিশেষ আর্থিক পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার। এছাড়া ইরানের সামরিক বহরে নতুন সমরাস্ত্র যুক্ত হওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোগুলো সফলভাবে পুনর্গঠনের কথা জানানো হলেও, এসব সামরিক সরঞ্জামের ধরন বা পুনর্গঠনের সুনির্দিষ্ট মাত্রা সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
অন্যদিকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়েও কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে তেহরান। আকরামিনিয়া স্পষ্ট করে বলেন, এই আন্তর্জাতিক নৌপথে প্রবেশের আগে সব ধরনের বাণিজ্যিক ও অন্যান্য জাহাজকে বাধ্যতামূলকভাবে ইরানের সার্বক্ষণিক নজরদারির আওতায় থাকতে হবে এবং তেহরানের আনুষ্ঠানিক অনুমতি পাওয়ার পরই কেবল সেগুলোকে প্রণালি অতিক্রম করার সুযোগ দেওয়া হবে।
সূত্র: ডন, সামা টিভি
ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য, ৪ ভারতীয় প্রতিষ্ঠানে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
ইরানের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল খাত থেকে বৈদেশিক আয়ের পথ সংকুচিত করতে নতুন করে বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের সদ্য ঘোষিত ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ অভিযানের অংশ হিসেবে এবার ভারতের চারটি প্রতিষ্ঠান ও তিন নাগরিককে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিরা ইরানি পেট্রোলিয়াম ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের বাণিজ্য, আমদানি কিংবা সংশ্লিষ্ট লেনদেনে ভূমিকা রেখেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ২৪ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন এই অর্থনৈতিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেয়।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা ভারতভিত্তিক চার প্রতিষ্ঠান হলো পোরটিজ পার্টনার্স এলএলপি, সদাশিবা ওভারসিজ লিমিটেড, পিপি সফটটেক প্রাইভেট লিমিটেড এবং প্রকৃতিস ইনফ্রা ইমপেক্স ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড। একই সঙ্গে পোরটিজ পার্টনার্সের অংশীদার হরিশ রামচন্দ্র রাঙ্গি ও ইন্দ্রিসমিয়া আশরাফমিয়া শেখ এবং পিপি সফটটেকের প্রশান্ত গার্গকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে।
ওয়াশিংটনের অভিযোগ, কাস্টমস ব্রোকার হিসেবে কাজ করা পোরটিজ পার্টনার্স ইরান থেকে ভারতে পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের চালান আনতে সহায়তা করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দুই অংশীদারও ওই কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে দাবি করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। এ কারণেই প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে সদাশিবা ওভারসিজের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সরবরাহকারীর কাছ থেকে প্রায় ৬ কোটি ৯০ লাখ ডলার মূল্যের ইরানি পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির অভিযোগ তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র। পিপি সফটটেক ও প্রকৃতিস ইনফ্রা ইমপেক্সের বিরুদ্ধেও প্রায় আড়াই কোটি ডলার করে ইরানি পেট্রোলিয়াম পণ্য কেনার অভিযোগ রয়েছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষ বলছে, এসব লেনদেন ইরানের জ্বালানি খাতের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সচল রাখতে সহায়তা করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের পেট্রোলিয়াম বা পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য কেনা, সংগ্রহ, বিক্রি, পরিবহন কিংবা বিপণনসংক্রান্ত উল্লেখযোগ্য লেনদেনে জেনেশুনে অংশ নেওয়ার অভিযোগেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। নতুন পদক্ষেপের মাধ্যমে ওয়াশিংটন কার্যত এই বার্তাই দিচ্ছে যে নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি এখন শুধু ইরানি প্রতিষ্ঠান বা নাগরিকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; তৃতীয় দেশের ব্যবসায়ী, মধ্যস্থতাকারী, জাহাজ ও আর্থিক নেটওয়ার্কও এর আওতায় আসতে পারে।
এই নিষেধাজ্ঞা বৃহত্তর একটি অভিযানের অংশ। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল বা ওএফএসি একই সময়ে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৬০ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে তেল বাণিজ্যের মধ্যস্থতাকারী, শিপিং নেটওয়ার্ক, ইরানের কথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর জাহাজ এবং সামরিক ও প্রযুক্তিগত সরবরাহের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষ রয়েছে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এই অভিযানকে ইরানের বিরুদ্ধে একটি বিস্তৃত অর্থনৈতিক প্রচারাভিযান হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য হচ্ছে ইরানের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানি থেকে আয় কমানোর পাশাপাশি দেশটির আন্তর্জাতিক আর্থিক যোগাযোগের পথ সংকুচিত করা। নতুন ব্যবস্থায় তেল ও জাহাজ চলাচলের পাশাপাশি প্রযুক্তি, বিমান চলাচল, স্বর্ণ এবং ডিজিটাল সম্পদসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি বাড়ানো হচ্ছে।
নতুন অভিযানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সেকেন্ডারি স্যাংশন বা দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞার হুমকি। অর্থাৎ কোনো প্রতিষ্ঠান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের না হলেও ইরানের সঙ্গে নিষিদ্ধ লেনদেনে যুক্ত হলে মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থা ও বাজারে তার প্রবেশাধিকার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। ওয়াশিংটন ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশকে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সীমিত করার বার্তা দিয়েছে। তবে রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপে বড় কয়েকটি দেশের বিরুদ্ধে ব্যাপক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া থেকে বিরত থেকেছে প্রশাসন।
এই অবস্থান ভারতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। একসময় ভারত ইরানের অন্যতম বড় বাণিজ্য অংশীদার এবং তেলের গুরুত্বপূর্ণ ক্রেতা ছিল। কিন্তু মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও অর্থ পরিশোধের জটিলতায় দুই দেশের বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত হয়েছে। রয়টার্সের হিসাবে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ভারত-ইরান দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলার থাকলেও পরবর্তী সময়ে তা ৯০ শতাংশের বেশি কমেছে। বর্তমানে চাল, চা ও ওষুধের মতো পণ্য দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।
সাম্প্রতিক মার্কিন পদক্ষেপের কারণে ভারতের ইরানমুখী বাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাধ্যমে পরিচালিত অর্থ পরিশোধ ও পণ্য পরিবহনে বাধা তৈরি হওয়ায় ভারতীয় রপ্তানিকারকদের বিকল্প রুট খুঁজতে হচ্ছে। এতে পরিবহন, বীমা ও আর্থিক লেনদেনের ব্যয় বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তবে ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক কৌশলে কঠোরতার পাশাপাশি কিছু সতর্কতার লক্ষণও রয়েছে। নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পর বাজারে যে ব্যাপক সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা করা হয়েছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে দেখা যায়নি। বরং ২৫ আগস্ট আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি কমেছে। ব্যবসায়ীদের একটি অংশ মনে করছে, সামরিক সংঘাত আরও বাড়ানোর পরিবর্তে অর্থনৈতিক চাপকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রবণতা আলোচনার সুযোগ কিছুটা বাড়াতে পারে।
একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু কূটনৈতিক মিশনে কর্মীদের ফিরিয়ে আনতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সাম্প্রতিক উত্তেজনার সময় নিরাপত্তার কারণে বিভিন্ন মিশনে জনবল কমানো হয়েছিল। এই প্রত্যাবর্তনকে স্বল্পমেয়াদে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি কিছুটা কমে আসার সম্ভাব্য ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে, যদিও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের মৌলিক সংকট এখনো কাটেনি।
-রফিক
হরমুজ প্রণালির সব মাইন সরিয়ে ফেলেছে মার্কিন নৌবাহিনী: ট্রাম্প
পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালির আন্তর্জাতিক জলসীমায় থাকা সব মাইন সরিয়ে ফেলা অথবা বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মঙ্গলবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ দাবি করেন।
ট্রাম্প বলেন, মার্কিন নৌবাহিনী তাকে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির আন্তর্জাতিক জলসীমায় থাকা সব মাইন অপসারণ অথবা ধ্বংস করা হয়েছে। ফলে ওই জলপথে নৌযান চলাচলের ক্ষেত্রে মাইন থেকে সৃষ্ট ঝুঁকি দূর হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে কোনো জাহাজ বা নৌযান থেকে হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে মাইন স্থাপনের চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিক ও পরিকল্পিতভাবে সেটি ধ্বংস করা হবে। এ বিষয়ে ইরানকে আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
হরমুজ প্রণালিতে মাইন স্থাপনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ‘শূন্য সহনশীলতা নীতি’ গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, এই নীতি পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে।
পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যে সংযোগকারী হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস পরিবহনের বড় একটি অংশ এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যায়। ফলে সেখানে সামরিক উত্তেজনা বা নৌযান চলাচলে কোনো ধরনের বাধা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে এর প্রভাব পড়তে পারে।
/আশিক
ইরানকে বিচ্ছিন্ন করতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ ঘোষণা
ইরানকে বৈশ্বিক অর্থনীতি থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে নতুন ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে একটি বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় তেহরানের প্রায় ৬০টি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ছাড়াও পণ্যবাহী জাহাজ, সোনা, প্রযুক্তি, বিমান চলাচল এবং ডিজিটাল সম্পদের ওপর কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে সব ধরনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক লেনদেন পুরোপুরি বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছেন।
তবে ওয়াশিংটনের পক্ষে তেহরানকে দ্রুত বিশ্ব অর্থনীতি থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করা বেশ কঠিন। বছরের পর বছর ধরে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলা করে ইরান মূলত এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে সুদৃঢ় বাণিজ্য নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। কাস্টমস তথ্য অনুসারে, ২০২৪ সালে ইরান প্রায় ৫৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি এবং ৬৮.৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে।
ইরানের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সবচেয়ে বড় দুই ভরসা চীন ও প্রতিবেশী ইরাক। সমুদ্রপথে ইরানের রফতানি করা মোট অপরিশোধিত তেলের ৮০ শতাংশের বেশি যায় চীনে, যা ২০২৪ সালে প্রায় ১৪.৫৮ বিলিয়ন ডলারের রফতানি বাণিজ্য নিশ্চিত করেছে। পশ্চিমা নজরদারি এড়াতে অনেক ক্ষেত্রে ছায়া-জাহাজের মাধ্যমে এই তেল সরবরাহ করা হয়। অন্যদিকে ইরাক তাদের বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাস ও সরাসরি বিদ্যুৎ ছাড়াও খাদ্য ও নির্মাণসামগ্রী বাবদ ইরান থেকে ১১.৭ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে।
এতদিন ইরানের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক ট্রানজিট ও রি-রফতানি কেন্দ্র হিসেবে কাজ করা সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে ৭.১৬ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য চললেও, সম্প্রতি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রেক্ষাপটে দুবাই অনির্দিষ্টকালের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় সেই পথ বন্ধ হয়ে গেছে। তবে তুরস্ক গ্যাস, পেট্রোকেমিক্যাল ও খাদ্য বাবদ ৬.১ বিলিয়ন ডলার এবং আফগানিস্তান জ্বালানি ও অবকাঠামোগত সামগ্রী বাবদ ২.৩ বিলিয়ন ডলারের পণ্য ইরান থেকে আমদানি করে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে টিকে রয়েছে।
পণ্য আমদানির ক্ষেত্রেও ইরান সুনির্দিষ্ট কিছু দেশের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। পূর্বে মোট আমদানির ৩০ শতাংশের বেশি (২১ বিলিয়ন ডলার) সংযুক্ত আরব আমিরাত হয়ে পশ্চিমা বিশ্বের যন্ত্রপাতি ও ইলেকট্রনিক্স আসত, যা পথ বন্ধ হওয়ার পর এখন মূলত চীনে স্থানান্তরিত হয়েছে। চীন থেকে যন্ত্রপাতি, গাড়ির যন্ত্রাংশ ও শিল্প সরঞ্জাম বাবদ ১৭.৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করছে তেহরান। এছাড়া স্থলসীমান্তের সুবিধার কারণে তুরস্ক থেকে রাসায়নিক ও শিল্পপণ্যসহ ১১.১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আসে।
সীমিত পরিসরে হলেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ৬.১ বিলিয়ন ডলারের জীবনরক্ষাকারী ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং ভারত থেকে ১.৬ বিলিয়ন ডলারের চাল, চা ও মৌলিক ওষুধ আমদানি করে থাকে ইরান। ফলে চীন, ইরাক ও তুরস্কের মতো শক্তিশালী বাণিজ্যিক অংশীদারদের ইরানের সঙ্গে লেনদেন থেকে বিরত রাখা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সারা দেশে আবহাওয়ার নতুন পূর্বাভাস
- বাংলাদেশ একদিন জামায়াতের নেতৃত্বে পরিচালিত হবে: হামিদুর রহমান আযাদ
- ১০০ মিটারের স্প্রিন্টে অভাবনীয় কীর্তি: রোবটের দৌড়ে বিশ্ব তোলপাড়
- চার বছরের বিরতি ভেঙে বড় পর্দায় ফিরে বক্স অফিসে ঝড়
- স্বামীকে প্রবাসে রেখে দেশে ফিরেই নতুন বিয়ে, চার সন্তানের জননীর
- মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি রক্ষায় জোটবদ্ধ হওয়ার ডাক দিলেন শীর্ষ কূটনীতিকরা
- নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে প্রবল বন্যা: ৫৫ জনের প্রাণহানি ও শতাধিক নিখোঁজ
- সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড় খবর: চূড়ান্ত হচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত প্রজ্ঞাপন
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের সীমা: যেসব বিষয়ে নির্ভরতা বিপজ্জনক
- স্বর্ণের দামে নতুন মোড়, সামনে গুরুত্বপূর্ণ সময়
- চার বছর পর আবারও ঢাকায় আসছেন জনপ্রিয় বিদেশি সংগীতশিল্পী
- রাতের আকাশে দেখা যাবে রক্তিম রূপ: প্রস্তুত হচ্ছে বিশ্ব
- খরচ ছাড়াই ১০ হাজার কর্মী যাবে মালয়েশিয়ায়: মন্ত্রী
- বিদ্যুৎ খাতে ৬০ হাজার কোটি টাকার বকেয়া বড় চাপ: প্রতিমন্ত্রী
- গ্রিন কার্ডের জন্য অপেক্ষমাণদের জন্য এলো বড় সুখবর
- ট্রাম্পের ছেলে ব্যারনকে হত্যার হুমকি দিয়ে ইরানে ভিডিও প্রকাশ
- দেশজুড়ে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে বড় সুখবর দিল সরকার
- যুক্তরাষ্ট্রের হামলা রুখতে আক্রমণাত্মক কৌশলে যাচ্ছে ইরান
- লাফিয়ে বাড়ছে স্বর্ণের দাম, নতুন রেকর্ডের পথে ভরি
- দুবার প্রস্তুতি, তারেক রহমানের দিল্লি সফর বারবার বাতিল, নেপথ্যে কী
- ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য, ৪ ভারতীয় প্রতিষ্ঠানে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
- হরমুজ প্রণালির সব মাইন সরিয়ে ফেলেছে মার্কিন নৌবাহিনী: ট্রাম্প
- ব্রাজিলকে আনতে সরকারের টাকা খরচের মানসিকতা নেই: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
- ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে নজরুল আজও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক: রিজভী
- জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা নিয়ে বোর্ডের নতুন নীতিমালা প্রকাশ
- সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা গ্রেপ্তার
- ইরানকে বিচ্ছিন্ন করতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ ঘোষণা
- নরসিংদীতে ইটবোঝাই লরির ধাক্কায় শ্রমিক নিহত
- বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে চোখ: বড় স্বপ্নের পথে বাংলাদেশ
- আবহাওয়ার বড় বার্তা: বিভিন্ন অঞ্চলে ৫ দিনের বিশেষ পূর্বাভাস
- কাশির সঙ্গে রক্ত: কারণ ও জরুরি সতর্কতার লক্ষণসমূহ
- চীনের জে-১০সি কিনতে এগোচ্ছে বাংলাদেশ
- ইরানে ভয়াবহ মানবিক সংকট চলছে: ট্রাম্প
- মহানবীর আদর্শ অনুসরণে শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
- বাইকারদের জন্য দারুণ খবর: বড় পরিবর্তনের পথে সরকার
- আমি তথ্যমন্ত্রী হিসেবে বসেছি, কারো আত্মীয় হিসেবে নয়: পার্থ
- সাত বছর পর ভারতে ফিরছেন শি, ঘিরে বাড়ছে কূটনৈতিক আগ্রহ
- নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে ফের বাড়ল তেলের দাম
- তিন মাসের সর্বোচ্চে উঠে কমল স্বর্ণের দাম
- পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ছেড়েছেন: আইনমন্ত্রী
- নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে টিসিবির বড় পরিকল্পনা
- চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যে নতুন চাপ, নজর সিঙ্গাপুরেও
- বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ঢলের ৯ বছর: প্রত্যাবাসন কেন এখনো অনিশ্চিত
- আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম
- টস জিতে আগে বোলিং করলে অস্ট্রেলিয়াকে ৬০ রানে অলআউট করত বাংলাদেশ
- উজবেকিস্তান যাওয়ার আগে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলে কোচদের ধাক্কাধাক্কি
- মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ: হুমায়ুন কবির
- নবম পে-স্কেলের অপেক্ষার অবসান, গেজেট নিয়ে নতুন আভাস
- থানা থেকে দুই আ.লীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন যুবশক্তি নেতা
- ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্নে হুমায়ুন কবিরের পাল্টা প্রশ্ন, ‘কার এত জ্বালা?’
- ক্ষমতার পরিবর্তনই যথেষ্ট নয়, বদলাতে হবে রাজনৈতিক সংস্কৃতি: AMRA গোলটেবিলে বক্তারা
- চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যে নতুন চাপ, নজর সিঙ্গাপুরেও
- ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য, ৪ ভারতীয় প্রতিষ্ঠানে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
- লাফিয়ে বাড়ছে স্বর্ণের দাম, নতুন রেকর্ডের পথে ভরি
- বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ঢলের ৯ বছর: প্রত্যাবাসন কেন এখনো অনিশ্চিত
- দুবার প্রস্তুতি, তারেক রহমানের দিল্লি সফর বারবার বাতিল, নেপথ্যে কী
- বঙ্গোপসাগরে ২৪ নাবিক নিয়ে ডুবল জাহাজ, বাংলাদেশিসহ নিখোঁজ ২২
- এডমিরাল পদে পদোন্নতি পেলেন নৌপ্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম
- দুই দিনেই ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরিতে কত
- অলি আহমদকে হারিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়ী মির্জা ফখরুল
- আজ ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না বহু এলাকায়
- আগামী পাঁচ দিনের আবহাওয়া নিয়ে নতুন পূর্বাভাস
- বিপিএল নিয়ে সব ধোঁয়াশার অবসান, যা জানাল বিসিবি
- দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চে উঠে কমল স্বর্ণের দাম
- আজকের নামাজের সময়সূচি, জেনে নিন একনজরে








