দেশের ৭ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, নতুন করে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১২ ২০:২২:৫৭
দেশের ৭ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, নতুন করে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা
ছবি : সংগৃহীত

টানা কয়েক দিনের অবিরাম বর্ষণের ধারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আরও অন্তত দুই দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃষ্টির এই প্রবল তীব্রতা এখন ধীরে ধীরে হ্রাস পাবে এবং আগামী মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) থেকে দেশের সার্বিক আবহাওয়া পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হতে পারে।

আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে, বর্তমানে বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের প্রায় সব বিভাগেই কম-বেশি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বিগত কয়েক দিনের আবহাওয়ার পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট বিভাগে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, গত ২৪ ঘণ্টায় এই দুই বিভাগে বৃষ্টির তীব্রতা আগের তুলনায় কিছুটা কমে এসেছে।

বর্তমান আবহাওয়া পরিস্থিতি ও এর গতিপ্রকৃতি নিয়ে আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক জানান, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের চার বিভাগ—রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে তুলনামূলকভাবে বেশি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এর বাইরে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। তবে ভৌগোলিক কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি ও উপকূলীয় এলাকার কোথাও কোথাও এখনও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের আশঙ্কা বহাল রয়েছে।

তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, চলতি সপ্তাহের রবি ও সোমবারও দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। তবে সপ্তাহের মাঝামাঝি অর্থাৎ মঙ্গলবার থেকে বৃষ্টির পরিমাণ ও প্রবণতা অনেকটাই কমে আসবে।

টানা কয়েক দিনের এই অবিরাম বৃষ্টির ফলে দেশের বিভিন্ন শহরাঞ্চলে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এর পাশাপাশি অন্তত সাতটি জেলার নিম্নাঞ্চল ইতিমধ্যে পানির নিচে প্লাবিত হয়েছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারী বৃষ্টির কারণে সামগ্রিক বন্যা পরিস্থিতির নতুন করে অবনতি হয়েছে।

সংস্থাটির সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, চট্টগ্রাম অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি পরিলক্ষিত হলেও সিলেট, সুনামগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনাসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে প্রধান নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নতুন নতুন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় রংপুর অঞ্চলের কিছু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জনসাধারণকে সতর্ক করে জানিয়েছে, মঙ্গলবারের দিকে পরিস্থিতির উন্নতি শুরু হলেও আগামী দুই দিন ঘর থেকে বের হওয়ার সময় অবশ্যই ছাতা সঙ্গে রাখতে হবে। বিশেষ করে ভারী বৃষ্টিপ্রবণ ও পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত নাগরিকদের প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে চলাফেরা না করার জন্য বিশেষভাবে পরামর্শ দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

/আশিক


সাত জেলায় বন্যার্তদের জন্য মাথাপিছু বরাদ্দ মাত্র ২৮ টাকা ও ৩ কেজি চাল!

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১২ ১৮:৪৬:৫৫
সাত জেলায় বন্যার্তদের জন্য মাথাপিছু বরাদ্দ মাত্র ২৮ টাকা ও ৩ কেজি চাল!
ছবি : সংগৃহীত

দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি জেলায় চলমান প্রলয়ংকরী বন্যায় পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। তবে তীব্র এই মানবিক সংকটের মুখে দুর্গতদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে গত ছয় দিনে যে পরিমাণ জরুরি ত্রাণ ও আর্থিক সাহায্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী বন্যাকবলিত প্রতিজন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ভাগে নগদ অর্থ পড়েছে মাত্র প্রায় ২৮ টাকা এবং চাল পড়েছে জনপ্রতি মাত্র ৩ দশমিক ২ কেজি।

আজ রোববার (১২ জুলাই) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত দেশের বন্যা পরিস্থিতির সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এই দুঃখজনক চিত্র ও পরিসংখ্যানের তথ্য পাওয়া গেছে।

মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, টানা কয়েকদিনের রেকর্ডভাঙা ভারী বর্ষণ, ভারতের পাহাড়ি ঢল ও মারাত্মক পাহাড়ধসের কারণে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ—এই সাতটি জেলার সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। বন্যা ও পাহাড়ধসের কবলে পড়েছে এই সাত জেলার ৫৮টি উপজেলা, ৩৮৬টি ইউনিয়ন এবং ১১টি পৌরসভা। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে নিহতের সংখ্যা আরও বেড়ে এখন পর্যন্ত সর্বমোট ৫১ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও ৩৯ জন। জীবন বাঁচাতে ঘরবাড়ি ছেড়ে বর্তমানে ১ হাজার ১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন ৪৪ হাজার ৪৫৭ জন বিপন্ন মানুষ।

ত্রাণ বিতরণের সরকারি খতিয়ান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত ৭ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত এই ছয় দিনে উপদ্রুত সাতটি জেলার জন্য সর্বমোট ২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা নগদ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দেশের মোট ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের বিপরীতে এই অর্থ ভাগ করলে মাথাপিছু বরাদ্দ দাঁড়ায় মাত্র ২৮ টাকা। অন্যদিকে, পানিবন্দি থাকা ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবারের সমীকরণ হিসাব করলে পরিবারপ্রতি এই বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়ায় মাত্র ১০৬ টাকা।

একইভাবে, এই ছয় দিনে জেলাগুলোর জন্য মোট ৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সেই হিসাবে বন্যাকবলিত প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য চালের বরাদ্দ পড়ে মাত্র ৩ দশমিক ২ কেজির মতো, যা একটি পরিবারের জন্য একবেলার আহার জোগানোও কঠিন।

ভৌগোলিক ও ক্ষয়ক্ষতির বিচারে এবারের বন্যায় সবচেয়ে বেশি লণ্ডভণ্ড হয়েছে চট্টগ্রাম ও পর্যটন নগরী কক্সবাজার। দেশের মধ্যে একক জেলা হিসেবে চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫০০টি পরিবার সম্পূর্ণ পানির নিচে বন্দি হয়ে পড়েছে এবং সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৫ লাখ ৯৫ হাজার। চট্টগ্রামে পাহাড়ধস ও পানিতে ডুবে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

অন্যদিকে, পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১ লাখ ৫৮ হাজার ২৭ জন মানুষ। স্থানীয় স্থায়ী বাসিন্দা ও রোহিঙ্গা শরণার্থীসহ এই সীমান্ত জেলায় সর্বোচ্চ ২৮ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এ ছাড়া বান্দরবানে ১২ হাজার ৫০০টি, মৌলভীবাজারে ৭ হাজার ৩০৮টি, হবিগঞ্জে ৬ হাজার ৪৪৪টি, রাঙামাটিতে ১ হাজার ৪৪টি এবং খাগড়াছড়িতে ১ হাজার ৭৩টি পরিবার পানির নিচে বন্দি অবস্থায় চরম খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।

ত্রাণ কার্যক্রমের বিষয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, দুর্গত এলাকাগুলোতে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে চাল, নগদ অর্থ, শুকনো খাবার ও পুনর্বাসনের জন্য ঢেউটিনসহ বিভিন্ন সামগ্রী পৌঁছানো হচ্ছে। এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল এবং দেশের বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) যৌথ সহায়তায়ও উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যতে আরও বরাদ্দ বাড়ানো হবে বলেও মন্ত্রণালয় আশ্বস্ত করেছে।

তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা-সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, লাখ লাখ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দৈনিক খাদ্য, বিশুদ্ধ সুপেয় পানি, চিকিৎসা, জরুরি আশ্রয় এবং পরবর্তী পুনর্বাসনের বিশাল প্রয়োজনের তুলনায় বর্তমান এই সরকারি বরাদ্দ অত্যন্ত সীমিত ও নামমাত্র। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, পাহাড়ি ঢল ও বন্যার পানি যদি দীর্ঘস্থায়ী রূপ নেয়, তবে এই দুর্গত পরিবারগুলোর জীবন বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে শুকনো খাবার ও ওআরএস-এর পাশাপাশি স্থায়ী পুনর্বাসন ও আর্থিক সহায়তার পরিমাণ বহুগুণ বাড়ানো প্রয়োজন, অন্যথায় মহামারি ও খাদ্য সংকট আরও তীব্র হবে।

/আশিক


রোববার রাজধানীর কোথায় মার্কেট বন্ধ? জেনে নিন

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১২ ১০:১৯:৪৬
রোববার রাজধানীর কোথায় মার্কেট বন্ধ? জেনে নিন
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীতে কেনাকাটা কিংবা প্রয়োজনীয় কাজের জন্য প্রতিদিনই হাজারো মানুষ বিভিন্ন মার্কেট ও শপিংমলে যান। তবে সাপ্তাহিক ছুটির নির্ধারিত সূচির কারণে সপ্তাহের বিভিন্ন দিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার মার্কেট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে। তাই অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি ও সময়ের অপচয় এড়াতে বাসা থেকে বের হওয়ার আগে কোন কোন মার্কেট খোলা এবং কোনগুলো বন্ধ থাকবে—তা জেনে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

রোববার (১২ জুলাই) রাজধানীর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা, মার্কেট ও শপিং কমপ্লেক্সে সাপ্তাহিক ছুটি পালন করা হচ্ছে। ফলে এসব এলাকায় কেনাকাটার পরিকল্পনা থাকলে বিকল্প গন্তব্য বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আজ যেসব এলাকার অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ থাকবে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে আগারগাঁও, তালতলা, শেরেবাংলা নগর, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, পল্লবী, মিরপুর-১০, মিরপুর-১১, মিরপুর-১২, মিরপুর-১৩, মিরপুর-১৪, ইব্রাহীমপুর, কচুক্ষেত, কাফরুল, মহাখালী, নিউ ডিওএইচএস, ওল্ড ডিওএইচএস, কাকলী, তেজগাঁও ওল্ড এয়ারপোর্ট এলাকা, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ক্যান্টনমেন্ট, গুলশান-১ ও ২, বনানী, মহাখালী বাণিজ্যিক এলাকা, নাখালপাড়া, মহাখালী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল এলাকা, রামপুরা, বনশ্রী, খিলগাঁও, গোড়ান, মালিবাগের একাংশ, বাসাবো, ধলপুর, সায়েদাবাদ, মাদারটেক, মুগদা, কমলাপুরের একাংশ, যাত্রাবাড়ীর কিছু অংশ, শনির আখড়া, দনিয়া ও রায়েরবাগ।

এছাড়া রাজধানীর বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় মার্কেট ও শপিং সেন্টারও আজ বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে বিসিএস কম্পিউটার সিটি (আইডিবি), পল্লবী সুপার মার্কেট, মিরপুর বেনারসী পল্লী, ইব্রাহীমপুর বাজার, রজনীগন্ধা মার্কেট, ইউএই মৈত্রী কমপ্লেক্স, বনানী সুপার মার্কেট, ডিসিসি মার্কেট (গুলশান-১ ও ২), গুলশান পিংক সিটি, মোল্লা টাওয়ার, আল-আমিন সুপার মার্কেট, রামপুরা সুপার মার্কেট, মালিবাগ সুপার মার্কেট, তালতলা সিটি করপোরেশন মার্কেট, কমলাপুর স্টেডিয়াম মার্কেট, গোড়ান বাজার, আবেদিন টাওয়ার, ঢাকা শপিং সেন্টার, আয়েশা মোশারফ শপিং কমপ্লেক্স এবং মিতালী অ্যান্ড ফ্রেন্ডস সুপার মার্কেট।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটে ভিন্ন ভিন্ন দিনে সাপ্তাহিক ছুটি নির্ধারণের ফলে একদিকে যেমন ব্যবসায়ীরা বিশ্রামের সুযোগ পান, অন্যদিকে পুরো নগরজুড়ে একই দিনে সব মার্কেট বন্ধ না থাকায় ক্রেতারাও বিকল্প স্থানে কেনাকাটার সুযোগ পান।

-রাফসান


ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রের দিকে ছুটছেন বানভাসি মানুষ, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে রেড অ্যালার্ট

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১১ ২১:৫১:০৩
ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রের দিকে ছুটছেন বানভাসি মানুষ, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে রেড অ্যালার্ট
ছবি : সংগৃহীত

টানা কয়েকদিনের রেকর্ডভাঙা ভারী মৌসুমি বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও মারাত্মক ভূমিধসের কারণে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সামগ্রিক বন্যা পরিস্থিতি এক প্রলয়ংকরী রূপ ধারণ করেছে। চলমান এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে পৃথক পৃথক ঘটনায় এ পর্যন্ত অন্তত ৪৪ জন মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে আকস্মিক বন্যার তোড়ে পানিবন্দি ও চরম খাদ্য সংকটে পড়েছেন লাখ লাখ মানুষ। ক্ষতিগ্রস্ত দুর্গম এলাকাগুলোতে জরুরি উদ্ধার তৎপরতা ও ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছাতে শনিবার (১১ জুলাই) থেকে বড় ধরনের সমন্বিত তৎপরতা শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া সর্বশেষ দাপ্তরিক তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট সাতটি জেলা—চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে, যা জনজীবনকে সম্পূর্ণ স্তব্ধ করে দিয়েছে। এসব অঞ্চলের হাজার হাজার পরিবার বহির্বিশ্ব থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন এবং বর্তমানে ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবার পানির নিচে বন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

বন্যার পানির তীব্র স্রোতে বহু গ্রামীণ ও আঞ্চলিক সড়ক আংশিক বা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বহু স্থানে কালভার্ট ধসে পড়েছে এবং গ্রিড লাইনে পানি ওঠায় বিশাল এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ সংযোগ এভাবে ভেঙে পড়ায় দুর্গম স্পটগুলোতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বন্যাকবলিত এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, অনেকের ঘরে টানা কয়েকদিন ধরে কোমর সমান পানি জমে থাকায় উনুন জ্বলছে না, রান্না করার কোনো উপায় নেই। আবার যাদের বাড়ি থেকে পানি কিছুটা নেমেছে, তাদের ঘর ও রান্নাঘর পুরু কাদার আস্তরণে ঢেকে থাকায় তা বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত হাটহাজারী এলাকার দুর্গত বাসিন্দা নুরুল ইসলাম নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “এখনও আমাদের ঘরের ভেতরে বুক সমান পানি থৈ থৈ করছে, রান্না করার কোনো জো নেই। ঘরোয়াভাবে রাখা শুকনো খাবারও আজ সকালে শেষ হয়ে গেছে। এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে ভুতুড়ে অন্ধকারে চরম আতঙ্কের মধ্যে রাত কাটাতে হচ্ছে।” তাঁর মতো হাজার হাজার বিপন্ন পরিবার এখন চিড়া, মুড়ি, গুড় ও বিস্কুটের মতো শুকনো খাবার এবং সরকারি-বেসরকারি জরুরি ত্রাণের আশায় চাতক পাখির মতো চেয়ে আছেন। তবে সড়ক ও সেতু ভেঙে যাওয়ায় মূল উপদ্রুত এলাকায় ট্রাক পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

এমন প্রতিকূল ও যুদ্ধসদৃশ পরিস্থিতিতে বিচ্ছিন্ন ও সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে স্পিডবোট ও দেশীয় নৌকার মাধ্যমে খাবার, বিশুদ্ধ পানি, জরুরি জীবনরক্ষাকারী ওষুধ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দিতে সরাসরি মাঠে নেমেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর সদস্যরা। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হোসেন চট্টগ্রামের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো সশরীরে পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের বলেন, “বন্যার্তদের জীবন রক্ষায় ও পুনর্বাসনে সরকার সর্বোচ্চ সক্ষমতা দিয়ে চেষ্টা চালাচ্ছে। ইতিমধ্যে পর্যাপ্ত ত্রাণ, নিরাপদ পানীয় জল ও জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যাদের কাঁচা ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে গেছে বা পাহাড়ের ঢালুতে রয়েছে, তাদের নিকটস্থ সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার জন্য আমি জোর আহ্বান জানাচ্ছি।”

এদিকে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলোতেও অবিরাম বর্ষণের কারণে একাধিক পয়েন্টে মারাত্মক পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে মাটির নিচে চাপা পড়ে নারী ও শিশুসহ ১৬ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রাণ হারিয়েছেন। কক্সবাজারের এসব ঘিঞ্জি আশ্রয়শিবিরে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অত্যন্ত গাদাগাদি করে বসবাস করছেন। পাহাড় কেটে তৈরি করা এসব অস্থায়ী প্লাস্টিক ও বাঁশের ঘরগুলো প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে মারাত্মক ভূমিধসের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকে।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম প্রধান প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ দেশ হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছরই মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টির সময় দেশটিতে বন্যা, নদীভাঙন ও পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে থাকে। তবে জলবায়ু বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাবের কারণে এখন অতিবৃষ্টি বা মেঘভাঙা বৃষ্টির মতো ঘটনাগুলো আগের চেয়ে অনেক বেশি ঘন ঘন এবং তীব্র রূপ ধারণ করছে, যার ফলে এই ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহতা ও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা প্রতি বছরই জ্যামিতিক হারে বাড়ছে।

/আশিক


ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে পিকআপ উদ্ধারের সময় বাসের চাপা, ৫ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১১ ২১:৩৮:৩৪
ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে পিকআপ উদ্ধারের সময় বাসের চাপা, ৫ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু
ঘটনাস্থলে একাধিক বাসে অগ্নিসংযোগ করা হয়/ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের সুয়াদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বৃষ্টির মধ্যে দুর্ঘটনাকবলিত একটি পিকআপভ্যান উদ্ধার করার সময় পেছন থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বাসের বেপরোয়া গতির চাপায় ৫ জন নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন অন্তত আরও ৫ জন। শনিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যার দিকে এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ও আহতদের নাম-পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি প্রশাসন। তবে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যায় সুয়াদী বাসস্ট্যান্ডে ডিম বোঝাই একটি পিকআপভ্যান বৃষ্টির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে সড়কের ওপর উল্টে যায়। এটি দেখে স্থানীয় সাধারণ লোকজন পিকআপটি ও চালককে উদ্ধার করতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসেন। ঠিক তখনই ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জের দিকে তীব্র গতিতে ধেয়ে আসা ‘নড়াইল এক্সপ্রেসের’ একটি যাত্রীবাহী বাস উদ্ধারকাজে নিয়োজিত ওই জনতার ওপর সরাসরি তুলে দিয়ে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই ৫ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পরপরই পুরো এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং বিক্ষুব্ধ উত্তেজিত জনতা ঘাতক বাসসহ মহাসড়কে থাকা একাধিক গাড়িতে একযোগে আগুন ধরিয়ে দেয়।

ভয়াবহ এই সড়ক দুর্ঘটনা ও অগ্নিসংযোগের খবর পেয়ে ভাঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের একাধিক উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ম্যানেজার আবু জাফর জানান, দুর্ঘটনার বার্তা পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত স্পটে গিয়ে জ্বলতে থাকা গাড়ির আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালান। তিনি নিশ্চিত করেন, ঘটনাস্থল থেকেই ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং মারাত্মক আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমানও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ডিমভর্তি পিকআপ উদ্ধারের সময় নড়াইল এক্সপ্রেস বাসটি লোকজনকে চাপা দিলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।

এদিকে, এই ঘটনার জের ধরে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের সুয়াদী এলাকায় আইনশৃঙ্খলার মারাত্মক অবনতি ঘটে। উত্তেজিত জনতা মহাসড়কের ওপর প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি যানবাহন নির্বিচারে ভাঙচুর করে এবং বেশ কয়েকটি দূরপাল্লার গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এই অগ্নিসংযোগ ও তাণ্ডবের কারণে সড়কের দুপাশে শত শত যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানবাহন আটকা পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী (রাত ৯টা পর্যন্ত), ক্ষুব্ধ জনতার চরম উত্তেজনার মুখে প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা বা পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলের মূল পয়েন্টে পৌঁছাতে পারেননি। সড়কের ওপর তখনও একাধিক যানবাহন দাউ দাউ করে জ্বলতে দেখা গেছে এবং পরিস্থিতি থমথমে রয়েছে।

/আশিক


দাউদকান্দি পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: ২১ ও ১৭ মামলার আসামিসহ গ্রেপ্তার ৯

মোঃ মাসুদ রানা
মোঃ মাসুদ রানা
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১১ ২১:৩৪:৪৩
দাউদকান্দি পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: ২১ ও ১৭ মামলার আসামিসহ গ্রেপ্তার ৯
ছবি : মোঃ মাসুদ রানা

কুমিল্লা দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশের পৃথক পৃথক অভিযানে ডাকাতি ও চুরি মামলার ৬ জন, মারামারি মামলার ২ জন এবং জিআর পরোয়ানাভুক্ত ১ জনসহ মোট ৯ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আজ শনিবার দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

পুলিশ জানায়, চট্টগ্রামের হাটহাজারী, কুমিল্লার বুড়িচং, সদর দক্ষিণ ও কোতোয়ালি মডেল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডাকাতি ও চুরি মামলার ৬ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মো. আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে ২১টি এবং মো. আনিছের বিরুদ্ধে ১৭টিসহ দেশের বিভিন্ন থানায় স্বর্ণ চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়া গ্রেপ্তার হওয়া ২ জন গৌরীপুর বাজার ও সুনামগঞ্জে সংঘটিত স্বর্ণ চুরির ঘটনায় জড়িত বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অন্যদিকে, এসআই মনির হোসেন সঙ্গীয় ফোর্সসহ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মারামারি মামলার আসামি মো. আলম (৫৫) ও ফাতেমা বেগম (৪৫)-কে গ্রেপ্তার করেন।

এছাড়া এসআই রবিউল ইসলাম বিশেষ অভিযান চালিয়ে জিআর পরোয়ানাভুক্ত আসামি মো. রুবেল (২৬)-কে গ্রেপ্তার করেন।

দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম পলাশ বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে।


চার বিভাগে হালকা থেকে মাঝারি বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস দিল আবহাওয়া অফিস

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১১ ১৯:২৮:১১
চার বিভাগে হালকা থেকে মাঝারি বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস দিল আবহাওয়া অফিস
ছবি : সংগৃহীত

টানা কয়েকদিন ধরে চলা অবিরাম বর্ষণের ধারা আগামী আরও অন্তত দুই দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। শনিবার (১১ জুলাই) বৃষ্টিপাত নিয়ে দেওয়া এক নিয়মিত পূর্বাভাসে আবহাওয়া অফিস এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

শনিবার সকাল থেকেই রাজধানী ঢাকার আকাশ মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে এবং থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। টানা বেশ কয়েকদিনের এই অবিরাম বৃষ্টির কারণে সকালে ঘরমুখী চাকরিজীবী, পথচারী এবং বিশেষ করে দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষের প্রাত্যহিক জীবনযাত্রা চরম দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। রাস্তাঘাটে জলজট ও গণপরিবহনের সংকটে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক বর্তমান বৃষ্টিপাতের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে জানান, বিগত ৩ থেকে ৫ দিনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, গত ২৪ ঘণ্টায় ওই দুই অঞ্চলে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। তিনি আরও জানান, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তরাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলে অর্থাৎ রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে তুলনামূলকভাবে বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সামগ্রিক বিচারে সারা দেশেই বৃষ্টির এই প্রবল তীব্রতা এখন থেকে ধীরে ধীরে কমতে শুরু করবে।

এই আবহাওয়াবিদের ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী রবি ও সোমবার (১২-১৩ জুলাই) দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। তবে সপ্তাহের মাঝামাঝি অর্থাৎ আগামী মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) থেকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অনেকটাই কমে যেতে পারে এবং আবহাওয়ার পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে স্বাভাবিক হতে পারে।

এদিকে, আগামী ২৪ ঘণ্টার জন্য দেওয়া আবহাওয়া অফিসের বিস্তারিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এর পাশাপাশি দেশের অন্য এলাকায় তীব্রতা কমলেও ভৌগোলিক কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের আশঙ্কা এখনো বহাল রয়েছে।

/আশিক


টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারে ভয়াবহ বিপর্যয়

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১০ ১৩:৪২:৫১
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারে ভয়াবহ বিপর্যয়
ছবি : সংগৃহীত

টানা পাঁচ দিনের ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজার জেলায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মাতামুহুরী ও বাঁকখালী নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় জেলার চকরিয়া, মাতামুহুরী, পেকুয়া ও রামুসহ বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হয়েছে। প্রশাসনের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, অন্তত তিন লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। একই সঙ্গে বন্যা ও পাহাড়ধস মিলিয়ে গত চার দিনে ২২ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

দুর্যোগে হাজার হাজার বসতঘর, কৃষিজমি, আমনের বীজতলা, সবজিক্ষেত এবং চিংড়ির ঘের পানির নিচে চলে গেছে। অনেক এলাকায় প্রধান সড়ক ও গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া এলাকাগুলোতে মানবিক সংকট ক্রমেই গভীর হচ্ছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে ১৫ জন, কক্সবাজার শহরে দুইজন, চকরিয়ায় দুইজন এবং পেকুয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়ায় একজন করে রয়েছেন। অধিকাংশ মৃত্যুই পাহাড়ধস ও দুর্যোগজনিত দুর্ঘটনার কারণে ঘটেছে।

সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে চকরিয়ার বরইতলী ইউনিয়নের মোহছেনিয়াকাটা এলাকায়। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পাহাড়ধসে ঘুমন্ত অবস্থায় চাপা পড়ে প্রাণ হারায় দুই শিশু—দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রুমি আক্তার (১৫) এবং চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মোহাম্মদ তৌসিফ (১০)। একই ঘটনায় আরও একজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

চকরিয়ার বরইতলী, বমুবিলছড়ি, কাকারা, লক্ষ্যারচর, চিরিঙ্গা ও হারবাং ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো পানির নিচে রয়েছে। নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার পূর্ব বড়ভেওলা, ঢেমুশিয়া, কোনাখালী, বিএমচর ও সাহারবিল ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলেও বন্যার পানি ছড়িয়ে পড়েছে। একইভাবে পেকুয়ার উজানটিয়া, মগনামা, বারবাকিয়া, মেহেরনামা এবং পৌর এলাকার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তীব্র আকার ধারণ করেছে।

বিশেষ করে মাতামুহুরী ও পেকুয়ার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নতুন নতুন এলাকায় পানি প্রবেশ করছে। কোনাখালীর পুরুত্যাখালী ও মরণঘোনা এলাকায় বেড়িবাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ায় স্থানীয়দের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হচ্ছে।

রামু উপজেলাতেও পরিস্থিতি ভয়াবহ। বাঁকখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় ঈদগড়, গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়া, কাউয়ারখোপ, ফতেখাঁরকুল, রাজারকুল ও জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। প্রধান সড়ক পানির নিচে চলে যাওয়ায় উপজেলা সদরের সঙ্গে অনেক এলাকার যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, বহু পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। অনেকেই কয়েক দিন ধরে রান্না করতে না পেরে শুকনো খাবার খেয়ে দিন পার করছেন। বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যও কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

কৃষিখাতেও বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আমনের বীজতলা, মৌসুমি সবজির ক্ষেত এবং মাছ ও চিংড়ির ঘের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষক ও মৎস্যচাষিদের বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। একই সঙ্গে টানা বৃষ্টির কারণে পরিবহন ও ক্ষুদ্র ব্যবসাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বন বিভাগ জানিয়েছে, ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি এখনো অত্যন্ত বেশি। পাহাড়সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে। প্রশাসনও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে অনুরোধ জানিয়েছে।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ পরিমাপে বাঁকখালী নদীর পানি ৫.৮৮ মিটার এবং মাতামুহুরী নদীর পানি ৬.৫৪ মিটার উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা উভয় নদীর নির্ধারিত বিপৎসীমার চেয়ে বেশি। যদিও এখন পর্যন্ত বড় কোনো বেড়িবাঁধ সম্পূর্ণ ভেঙে যাওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে কয়েকটি স্থানে বাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি প্রবেশ অব্যাহত রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত পাঁচ দিনে কক্সবাজারে ৫৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমের অন্যতম সর্বোচ্চ। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১১ জুলাই পর্যন্ত ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে, ফলে বন্যা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সম্ভাব্য বড় দুর্যোগ মোকাবিলায় ৬৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুম চালু রয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রম, ত্রাণ বিতরণ এবং জরুরি সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে উত্তাল সাগরের কারণে টানা সাত দিন ধরে টেকনাফ–সেন্টমার্টিন, কক্সবাজার–মহেশখালী এবং পেকুয়া–কুতুবদিয়া নৌপথে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে দুই শতাধিক পাহাড়ধসের ঘটনা জেলার সামগ্রিক দুর্যোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।

-রফিক


শুক্রবার ঢাকার যেসব মার্কেট ও দোকান থাকবে বন্ধ

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১০ ০৯:৫২:২৭
শুক্রবার ঢাকার যেসব মার্কেট ও দোকান থাকবে বন্ধ
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীতে কেনাকাটা, ব্যবসায়িক কাজ কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহের জন্য প্রতিদিনই হাজারো মানুষ বিভিন্ন মার্কেট ও বাণিজ্যিক এলাকায় যাতায়াত করেন। তবে নির্ধারিত সাপ্তাহিক বন্ধের কারণে প্রতি সপ্তাহেই রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেট ও দোকানপাট নির্দিষ্ট দিনে বন্ধ থাকে। ফলে আগাম তথ্য না থাকলে গন্তব্যে গিয়ে অনেককেই অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়।

শুক্রবার (১০ জুলাই) ঢাকার পুরান ঢাকা ও আশপাশের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা এবং পাইকারি বাজারে সাপ্তাহিক ছুটি পালিত হবে। তাই প্রয়োজনীয় কেনাকাটা বা ব্যবসায়িক কাজে বের হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এলাকার বন্ধের তালিকা জেনে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিন বাংলাবাজার, পাটুয়াটুলী, ফরাশগঞ্জ, শ্যামবাজার, জুরাইন, করিমউল্লাহবাগ, পোস্তগোলা, শ্যামপুর, মীরহাজীরবাগ, দোলাইপাড়, টিপু সুলতান রোড, ধূপখোলা, গেণ্ডারিয়া, দয়াগঞ্জ, স্বামীবাগ, ধোলাইখাল, জয়কালী মন্দির এলাকা, যাত্রাবাড়ীর দক্ষিণ-পশ্চিমাংশ, ওয়ারী, আহসান মঞ্জিল, লালবাগ, কোতোয়ালি, বংশাল, নবাবপুর, সদরঘাট, তাঁতীবাজার, লক্ষ্মীবাজার, শাঁখারীবাজার, চাঁনখারপুল এবং গুলিস্তানের দক্ষিণাংশের অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ থাকবে।

এছাড়া রাজধানীর বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় শপিং কমপ্লেক্স ও পাইকারি মার্কেটও শুক্রবার বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে আজিমপুর সুপার মার্কেট, গুলিস্তান হকার্স মার্কেট, ফরাশগঞ্জ টিম্বার মার্কেট, শ্যামবাজার পাইকারি বাজার, সামাদ সুপার মার্কেট, রহমানিয়া সুপার মার্কেট, ইদ্রিস সুপার মার্কেট, দয়াগঞ্জ বাজার, ধূপখোলা মাঠ বাজার, চকবাজার, বাবুবাজার, নয়াবাজার, কাপ্তানবাজার, রাজধানী সুপার মার্কেট, দয়াগঞ্জ সিটি করপোরেশন মার্কেট, ইসলামপুর কাপড়ের বাজার, ছোট কাঁটারা, বড় কাঁটারা হোলসেল মার্কেট, শারিফ ম্যানসন, ফুলবাড়িয়া মার্কেট এবং সান্দ্রা সুপার মার্কেট।

বিশেষ করে ইসলামপুর, শ্যামবাজার, নবাবপুর, তাঁতীবাজার, কাপ্তানবাজার ও চকবাজার দেশের অন্যতম বড় পাইকারি বাণিজ্যকেন্দ্র। এসব এলাকায় প্রতিদিন ঢাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা কেনাকাটার জন্য আসেন। তাই শুক্রবার এসব মার্কেট বন্ধ থাকায় প্রয়োজনীয় কেনাকাটার পরিকল্পনা আগেই করে নেওয়া উচিত।

বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটে সাপ্তাহিক ছুটির দিন একেক রকম হওয়ায় ক্রেতাদের আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট মার্কেটের বন্ধের সময়সূচি জেনে বের হওয়া সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। এতে সময়, যাতায়াত ব্যয় এবং অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি সবই এড়ানো সম্ভব হবে।

যদি শুক্রবার পুরান ঢাকা, সদরঘাট, গুলিস্তান বা ইসলামপুর এলাকার কোনো মার্কেটে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকে, তাহলে বিকল্প দিন নির্ধারণ করাই হবে সবচেয়ে সুবিধাজনক সিদ্ধান্ত।

-রাফসান


প্রাকৃতিক দুর্যোগে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মানবিক বিপর্যয়, ১৫ জনের প্রাণহানি

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৯ ২০:৫০:৫০
প্রাকৃতিক দুর্যোগে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মানবিক বিপর্যয়, ১৫ জনের প্রাণহানি
ছবি : সংগৃহীত

টানা ভারী বর্ষণ, আকস্মিক পাহাড়ি ঢল ও মারাত্মক ভূমিধসের কারণে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পগুলোর মানবিক পরিস্থিতি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত ৪ জুলাই রাত থেকে শুরু করে ৯ জুলাই দুপুর পর্যন্ত পাওয়া সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে পৃথক ঘটনায় ১৫ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীর মৃত্যু হয়েছে এবং আরও অন্তত ১৮ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

প্রাকৃতিক এই বিপর্যয়ের মুখে ক্যাম্পগুলোতে বসবাসকারী ২৬ হাজার ১১৯ জন শরণার্থী প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং প্রাণ বাঁচাতে ৪ হাজার৩০৭ জন রোহিঙ্গা সাময়িকভাবে নিজেদের বাসস্থান ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর)-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেনের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক জরুরি বিবৃতিতে এই ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

ইউএনএইচসিআর-এর দুর্যোগকালীন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ পর্যন্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর অভ্যন্তরে ২৮৬টি আবহাওয়াজনিত মারাত্মক দুর্ঘটনা নথিবদ্ধ করা হয়েছে। এর মধ্যে পাহাড় কাটার কারণে ৯টি স্থানে বড় ধরনের ভূমিধস, ১৫৬টি পয়েন্টে তীব্র ঝোড়ো হাওয়া এবং ২১টি স্থানে আকস্মিক বন্যার ঘটনা ঘটেছে। অবিরাম বর্ষণের ফলে পাহাড়ের ঢালুতে অবস্থিত ২ হাজার ৮০৯টি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র বা ঘর আংশিকভাবে ভেঙে পড়েছে এবং ১৩টি ঘর সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। বাসস্থানের পাশাপাশি শরণার্থীদের জন্য তৈরি করা অস্থায়ী শিক্ষাকেন্দ্র, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, বিশুদ্ধ পানির উৎস এবং স্যানিটেশন অবকাঠামোসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক স্থাপনাও পানির তোড়ে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এমন উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সমন্বয় সাধন করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় মানবিক সংস্থাগুলো উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশ থেকে বিপন্ন মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, শুকনো ও রান্না করা খাবার বিতরণ, জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রদান এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য নতুন ত্রিপল ও বাঁশসহ জরুরি অস্থায়ী আশ্রয় সামগ্রী সরবরাহের কাজ অব্যাহত রাখা হয়েছে।

তবে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের এখানেই শেষ নয়; বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে দেওয়া পরবর্তী পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে যে, আগামী ১১ জুলাই পর্যন্ত এই অঞ্চলে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। ফলে পাহাড়ি মাটির গঠন দুর্বল হয়ে পড়ায় কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে নতুন করে আরও ভয়াবহ ভূমিধস এবং আকস্মিক বন্যার উচ্চ ঝুঁকি এখনো বহাল রয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: