ইউরোপের ফুটবল মাঠে মুসলিম তারকাদের সেজদা ও নতুন আত্মপরিচয়ের গল্প

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৩ ১৮:৫০:০৮
ইউরোপের ফুটবল মাঠে মুসলিম তারকাদের সেজদা ও নতুন আত্মপরিচয়ের গল্প
ছবি : সংগৃহীত

ইউরোপীয় রাজনীতি ও সমাজব্যবস্থায় ইসলাম ধর্মকে ঘিরে বিতর্ক নতুন কোনো বিষয় নয়। দীর্ঘদিন ধরেই মহাদেশটিতে অভিবাসন প্রক্রিয়া, সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং ধর্মীয় অনুশাসনকে কেন্দ্র করে নানামুখী উত্তপ্ত আলোচনা চলছে। তবে এই চেনা পরিস্থিতির উল্টো পিঠে, ইউরোপের ফুটবল মাঠগুলোতে এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র দেখা যাচ্ছে।

বর্তমান প্রজন্মের একঝাঁক মুসলিম ফুটবলার ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরগুলোতে খেলার সময় নিজেদের ধর্মীয় পরিচয় অত্যন্ত প্রকাশ্যে ও গর্বের সাথে তুলে ধরছেন। মাঠের এই চেনা দৃশ্যগুলো যেন স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে, ইসলাম এখন ইউরোপীয় সমাজেরই একটি অন্যতম এবং অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।

বিশ্বজুড়ে বর্তমানে প্রায় ২০০ কোটি মুসলিমের বসবাস, যা পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশ। স্বাভাবিকভাবেই, ১৩টি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ইসলামের বিভিন্ন ধর্মীয় রীতিনীতি ও অনুশীলনের প্রতিফলন দেখা যাওয়াটা খুব স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু এবারের আসরে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে খ্রিস্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ ইউরোপীয় দেশগুলোর জাতীয় দলের জার্সি গায়ে খেলা মুসলিম তারকাদের প্রকাশ্য ধর্মীয় উদযাপন।

এর একটি বড় উদাহরণ স্পেনের উদীয়মান তরুণ তারকা তথা বার্সেলোনার ফরোয়ার্ড লামিন ইয়ামাল। বিশ্বকাপের একটি ম্যাচে সৌদি আরবের বিপক্ষে নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম গোলটি করার পর তিনি মাঠেই সেজদা দিয়ে পরম করুণাময়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ইয়ামালের এই উদযাপন বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।

অথচ এই ঘটনার মাত্র কয়েক মাস আগেই বার্সেলোনায় স্পেন ও মিসরের মধ্যকার একটি প্রীতি ম্যাচ চলাকালীন গ্যালারির একটি অংশ থেকে ‘যে লাফায় না, সে মুসলিম’—এমন আপত্তিকর ও বৈষম্যমূলক স্লোগান দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর কড়া জবাব দিয়ে ইয়ামাল লিখেছিলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমি একজন মুসলিম। ফুটবল মূলত মানুষের বিনোদন এবং পারস্পরিক অনুপ্রেরণার জন্য তৈরি, কারও ব্যক্তিগত ধর্মীয় বিশ্বাসকে আঘাত বা অসম্মান করার জন্য নয়।’

সমাজ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্টেডিয়ামে ফুটবলারদের লক্ষ্য করে এমন বিদ্রূপাত্মক স্লোগান দেওয়া কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ইউরোপের বেশ কিছু দেশে উগ্র ডানপন্থি দল এবং মূলধারার কিছু রাজনৈতিক শক্তি দীর্ঘদিন ধরে ‘খ্রিস্টান ইউরোপ’ বনাম ‘বহিরাগত ইসলাম’—এমন একটি কাল্পনিক বিভাজন দাঁড় করানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অথচ ঐতিহাসিক সত্য হলো, খ্রিস্টধর্ম ও ইসলাম—উভয় ধর্মেরই উৎপত্তি ইউরোপের ভৌগোলিক সীমানার বাইরে, প্রায় একই অঞ্চলে।

ইউরোপে ধর্মীয় পরিচয় প্রকাশ করে সমালোচনার মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা শুধু ইয়ামালের একার নয়। ২০২৪ সালে জার্মানির অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার আন্তোনিও রুডিগার পবিত্র রমজান মাসের শুরুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ডান হাতের এক আঙুল উঁচিয়ে একটি ছবি পোস্ট করেছিলেন, যা ইসলামে আল্লাহর একত্ববাদ বা তাওহিদের প্রতীক হিসেবে সর্বজনবিদিত।

কিন্তু জার্মানির প্রভাবশালী সংবাদপত্র ‘বিল্ড’-এর সাবেক প্রধান সম্পাদক জুলিয়ান রাইশেল্ট এই ছবিটিকে উগ্রপন্থী সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর সমর্থনের প্রতীক বলে দাবি করেন। এই ঘটনার পর রুডিগার ওই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানহানি ও বর্ণবাদী বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে আইনি পদক্ষেপ নিলেও পরবর্তীতে মামলাটি আর আলোর মুখ দেখেনি।

অনুরূপ আরেকটি ঘটনা ঘটে সুইডেনের মিডফিল্ডার ইয়াসিন আইয়ারির ক্ষেত্রে। সৌদি আরবের বিপক্ষে ইয়ামালের সেজদা দেওয়ার ঠিক কয়েক দিন আগেই, তিউনিসিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচে নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক গোল করার পর একইভাবে সেজদা দেন আইয়ারি। তিউনিসীয় বংশোদ্ভূত এই ফুটবলার গোলের পর প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান দেখিয়ে হাত তুলে ক্ষমা চাওয়ার ভঙ্গিও করেছিলেন। তবে তার এই ধর্মীয় উদযাপন সুইডেনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন করে জাতিগত পরিচয় ও জাতীয়তা নিয়ে বিতর্কের জন্ম দেয়। সুইডেনের উগ্র ডানপন্থি দল ‘সুইডিশ ডেমোক্র্যাটস’-এর নেতা জিম্মি আকেসনসহ কট্টরপন্থিদের অনেকেই আইয়ারিকে ‘প্রকৃত সুইডিশ’ নাগরিক হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ধর্মীয় বিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।

উগ্রপন্থিদের এমন বিরোধিতার মুখে আইয়ারির পরিবার তাদের অবস্থান অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে স্পষ্ট করেছে। তার বাবা আজুজ, যিনি বহু বছর আগে তিউনিসিয়া থেকে সুইডেনে এসে স্থায়ী হয়েছেন, তিনি সবসময় তার ছেলেকে তিউনিসিয়ার পরিবর্তে সুইডেনের জাতীয় দলের হয়ে খেলার জন্য উৎসাহিত করেছিলেন। সুইডিশ সংবাদমাধ্যম ‘আফটনব্লাডেট’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমার সন্তানেরা সম্পূর্ণভাবে সুইডেনের অংশ। তারা এই দেশেই জন্মগ্রহণ করেছে, এখানেই বড় হয়েছে এবং তাদের বন্ধু সার্কেলও এখানকারই। আমি নিজে একজন অভিবাসী হলেও ইয়াসিন তিউনিসীয় শিকড় বহনকারী একজন খাঁটি সুইডিশ নাগরিক। সুতরাং সুইডেনের হয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে খেলার পূর্ণ অধিকার তার রয়েছে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি মনেপ্রাণে চেয়েছিলাম সে যেন সুইডেনের হয়েই মাঠে নামে। যে দেশ তাকে উন্নত শিক্ষা, সুন্দর জীবনের সুযোগ এবং নিরাপত্তা দিয়েছে, সেই দেশের জন্য অবদান রাখা ও কিছু ফিরিয়ে দেওয়াটা তার নাগরিক দায়িত্ব। আজ আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার এই বিশাল অর্জনে আমি একজন বাবা হিসেবে অত্যন্ত গর্বিত।’

সূত্র: মিডল ইস্ট আই


জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যাওয়ায় রোনালদোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১০ ২০:৪৪:৫০
জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যাওয়ায় রোনালদোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা
ছবি : সংগৃহীত

পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের (এফপিএফ) ডিসিপ্লিনারি কাউন্সিল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যাওয়ার কারণে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

৪১ বছর বয়সী রোনালদো প্রধান কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে বিরোধের জেরে ডেনমার্কের বিপক্ষে পর্তুগালের নেশন্স লিগের ম্যাচের আগে জাতীয় দলের ক্যাম্প ত্যাগ করেন। নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে তাকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখার পর নিজের খেলার পর্যাপ্ত সুযোগ না পাওয়ার বিষয়ে তিনি কোচের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ এনেছিলেন।

ঘটনার পর রোনালদো তার সতীর্থ ও সমর্থকদের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চান। ক্যাম্প ছেড়ে চলে যাওয়া যে তার ঠিক হয়নি, তা তিনি স্বীকার করেন এবং নিজের এই আচরণের জন্য ফেডারেশনকে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়ার আহ্বান জানান। শনিবার এফপিএফ নিশ্চিত করেছে যে, রোনালদোর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং বিষয়টি ফেডারেশনের শৃঙ্খলাবিষয়ক তদন্ত কমিশনে পাঠানো হয়েছে।

ফেডারেশনের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, গত ৯ অক্টোবর অপেশাদার বিভাগীয় শাখার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রথমে রোনালদো স্বয়ংক্রিয় নিয়মের আওতায় সাময়িক নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়লেও পরবর্তীতে তার ওপর অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। পুরো বিষয়টিকে ‘জরুরি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ফেডারেশন।

এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো শাস্তি ঘোষণা করা হয়নি। তদন্তের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত শৃঙ্খলাভঙ্গের এই প্রক্রিয়া সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য গোপন রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে চলতি সপ্তাহের শুরুতে রোনালদো স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, তার ওপর যে শাস্তিই আসুক না কেন, তিনি তা হাসিমুখে মেনে নেবেন। পাশাপাশি তিনি পর্তুগালের হয়ে ভবিষ্যৎতেও খেলা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

এদিকে সব বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে আন্তর্জাতিক বিরতি শেষেই ক্লাবের হয়ে মাঠে ফিরেছেন রোনালদো। সৌদি প্রো লিগে দিরিয়াহর বিপক্ষে আল-নাসরের ৩-০ গোলের জয়ে ম্যাচের প্রথম গোলটি করেন তিনি। বক্সের বাইরে থেকে কিংসলে কোম্যানের নেওয়া শট গোলরক্ষক ফিরিয়ে দিলে ফিরতি বল থেকে খুব কাছ থেকে গোল আদায় করে নেন রোনালদো। এটি ছিল তার বর্ণিল ফুটবল ক্যারিয়ারের ৯৮০তম গোল। এই জয়ের ফলে লিগের অষ্টম রাউন্ড শেষে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আল-নাসর গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকা শীর্ষ দল আল-কাদসিয়াহর ঠিক পরেই অবস্থান করছে।

/আশিক


ইতালিয়ান ফুটবলে কিংবদন্তি তারকার নতুন অধ্যায়: সূচি নিয়ে জল্পনা

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৮ ১৯:৫৮:৪৭
ইতালিয়ান ফুটবলে কিংবদন্তি তারকার নতুন অধ্যায়: সূচি নিয়ে জল্পনা
ছবি : সংগৃহীত

ইতালীয় ক্লাব রাভেন্নার জার্সিতে ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার রোনালদিনহোর মাঠে নামার সম্ভাব্য সময় নিয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাচ্ছে, যদিও ক্লাবের পক্ষ থেকে এখনও কোনো প্রথাগত ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ইতালির স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইল রেস্তো দেল কার্লিনোর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সার্বিক পরিকল্পনা সঠিক পথে থাকলে আগামী ১৫ নভেম্বর ইতালিয়ান ফুটবলের তৃতীয় বিভাগ সিরি সিতে ৪৬ বছর বয়সী এই সাবেক ব্যালন ডি’অরজয়ীর অভিষেক ঘটতে পারে।

প্রতিবেদনের তথ্য মতে, নির্ধারিত দিনে নিজেদের ঘরের মাঠ বেনেল্লি স্টেডিয়ামে ফোরলির বিরুদ্ধে ডার্বি ম্যাচে নামবে রাভেন্না। বিকেল সাড়ে ৫টায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সেই ম্যাচটিকেই ব্রাজিলিয়ান তারকার প্রথমবার মাঠে নামার সম্ভাব্য উপলক্ষ হিসেবে ধরা হচ্ছে। ক্লাবের তরফ থেকে চূড়ান্ত সূচি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা না হলেও, সম্ভাব্য সময়সূচি অনুযায়ী এই আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার ম্যাচটি দিয়েই রাভেন্নার পোশাকে তাঁর আনুষ্ঠানিক সূচনা হতে পারে।

সম্ভাব্য অভিষেকের এই খবর ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে প্রবল উৎসাহ তৈরি করলেও, মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই সমর্থকদের জন্য এসেছে আরেকটি চমক। বিশ্বখ্যাত স্টিকার ও কার্ড প্রকাশনা সংস্থা পাণিনি ভক্তদের জন্য বিশেষ একটি এক্সক্লুসিভ সংগ্রহ উন্মোচন করেছে। এই বিশেষ প্যাকে রাভেন্নার ঐতিহ্যবাহী হলুদ-লাল জার্সিতে রোনালদিনহোর ছবি সম্বলিত দুটি বিশেষ কার্ড অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে মাঠে নামার আগেই ক্লাব সমর্থকদের ঘরে ও সংগ্রহে স্থান করে নিয়েছেন সাবেক এই বিশ্বসেরা তারকা। এখন কেবল বল পায়ে মাঠে নামার সময়টির অপেক্ষা, যা পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী ১৫ নভেম্বর ফোরলির বিপক্ষে ডার্বি ম্যাচ দিয়েই বাস্তবে রূপ নেবে।

/আশিক


রিয়াল মাদ্রিদের অভ্যন্তরীণ সংঘাত নিয়ে স্প্যানিশ গণমাধ্যমের নতুন খবর

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৭ ১৯:২৬:৪৫
রিয়াল মাদ্রিদের অভ্যন্তরীণ সংঘাত নিয়ে স্প্যানিশ গণমাধ্যমের নতুন খবর
ছবি : সংগৃহীত

ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ঘিরে রিয়াল মাদ্রিদে চলমান গুঞ্জন ও বিতর্ক এবার নতুন মাত্রা নিয়েছে। স্প্যানিশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, দলের কোচ হোসে মরিনহোর সঙ্গে এ বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে বেশ উত্তপ্ত কথোপকথন হয়েছে এই ফরাসি ফরোয়ার্ডের। গত ২৫ সেপ্টেম্বর তুরস্কের বিপক্ষে উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচে বাঁ হাঁটুতে চোট পান এমবাপ্পে। চোট পাওয়ার পর প্যারিসের একটি নাইটক্লাবে বান্ধবী এস্তের এক্সপো্সিতোর সঙ্গে সময় কাটানোর ছবি এবং পরবর্তীতে সুইস আল্পসে সাইক্লিং করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রিয়াল মাদ্রিদ সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে অসন্তোষ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

স্প্যানিশ জনপ্রিয় টেলিভিশন শো ‘এল চিরিংগিতো’র তথ্যমতে, মঙ্গলবার ভালদেবেবাসে দলের সকালের নাশতার সময় এমবাপ্পের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেন মরিনহো। সেখানে স্পেশাল ওয়ান-খ্যাত এই কোচ ফরাসি তারকাকে নিজের অসন্তোষের কথা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন। সংবাদমাধ্যমটি আরও দাবি করেছে, কোচের দৃষ্টিভঙ্গি হলো প্রকাশ্যে তিনি সবসময় খেলোয়াড়ের পাশেই থাকবেন, কিন্তু দলের অভ্যন্তরে এমন অনিয়ন্ত্রিত আচরণ কোনোভাবেই বরদাশত বা সমর্থন করা হবে না।

চোট কাটিয়ে ওঠার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত সোমবার ব্যক্তিগত অনুশীলনে ফিরেছিলেন এমবাপ্পে। ধারণা করা হচ্ছিল, শনিবার ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে লা লিগার ম্যাচে তিনি সরাসরি মূল একাদশে ফিরতে পারেন। তবে মঙ্গলবার সতীর্থদের সঙ্গে মূল দলীয় অনুশীলনে তাকে দেখা না যাওয়ায় ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ম্যাচে তার শুরুর একাদশে থাকা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে এবং তিনি বেঞ্চে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অবশ্য কয়েক সপ্তাহ আগেও সামাজিক সমালোচনার জবাবে এমবাপ্পের হয়ে সুর চড়িয়েছিলেন মরিনহো; সেসময় তিনি মন্তব্য করেছিলেন, যে খেলোয়াড় এক মৌসুমে ৪০টিরও বেশি গোল করতে সক্ষম, তাকে কখনো দলের জন্য সমস্যা হিসেবে দেখা অনুচিত।

/আশিক


বিশ্বমঞ্চে অনিয়ম ঢাকার অভিযোগ, তোপের মুখে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৬ ২০:০৪:৪২
বিশ্বমঞ্চে অনিয়ম ঢাকার অভিযোগ, তোপের মুখে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফুটবল বাছাইপর্বে অযোগ্য খেলোয়াড়কে খেলানোর বিষয়ে নিয়ম ভেঙে ব্যবস্থা না নেওয়ার গুরুতর অভিযোগে নতুন করে তোলপাড়ের মুখে পড়েছেন বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম 'দ্য নিউইয়র্ক টাইমস'-এর এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে যে, ফিফার আইন বিভাগ অনিয়মের বিষয়টি জানা সত্ত্বেও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, ফ্রান্সে জন্মগ্রহণকারী কঙ্গোর গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসি পূর্বে বয়সভিত্তিক পর্যায়ে ফ্রান্সের অনূর্ধ্ব-১৬ ও অনূর্ধ্ব-১৭ দলে খেলেছিলেন। পরবর্তীতে কঙ্গোর জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামার আগে ফিফার আবশ্যকীয় প্রশাসনিক অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করা হয়নি, যা ফিফার নিজস্ব আইন বিভাগের প্রাথমিক তদন্তেই প্রমাণিত হয়। এই অনিয়ম নিয়ে নাইজেরিয়া ফুটবল ফেডারেশন আনুষ্ঠানিকভাবে ফিফার কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী কঙ্গোকে নিষিদ্ধ বা প্লে-অফ থেকে বাতিল করে নাইজেরিয়াকে সুযোগ দেওয়ার বিকল্প থাকলেও, রহস্যজনকভাবে কারিগরি অজুহাতে অভিযোগটি খারিজ করে দেয় ফিফা।

পরবর্তীতে এই এমপাসিকে গোলপোস্টে রেখেই প্লে-অফে জ্যামাইকাকে হারিয়ে কঙ্গো বিশ্বকাপে তাদের টিকিট নিশ্চিত করে। কঙ্গোর ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ অভিযানে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নেওয়ার ম্যাচটিতেও পুরো ৯০ মিনিট মাঠে ছিলেন এমপাসি। এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কঙ্গোর ফুটবল ফেডারেশনের তৎকালীন নির্বাচনী রাজনীতি এবং সভাপতি পদের প্রার্থী ও ইনফান্তিনোর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী ভেরন মোসেঙ্গো-ওমবাকে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার কৌশল ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

যদিও ফিফার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ স্বাধীন ও স্বায়ত্তশাসিত শৃঙ্খলা কমিটির এবং এতে প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সরাসরি কোনো ভূমিকা ছিল না। তা সত্ত্বেও বিশ্বমঞ্চে অনিয়ম চেপে যাওয়ার এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসায় ফিফা প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও সভাপতি ইনফান্তিনোর ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে চরম সমালোচনার ঝড় বইছে।

/আশিক


ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের অন্তিম পর্বে মেসি, প্রস্তুত ফুটবল বিশ্ব

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৬ ১৯:২২:৫৭
ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের অন্তিম পর্বে মেসি, প্রস্তুত ফুটবল বিশ্ব
ছবি : সংগৃহীত

আর্জেন্টিনার সোনালি জার্সিতে দীর্ঘ দুই দশকের মহাকাব্যিক অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক ইতি টানতে যাচ্ছেন ফুটবলের রাজপুত্র লিওনেল মেসি। সাম্প্রতিক বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে হারের তিক্ততার পর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর কথা বললেও, দেশের মাটিতে ভক্তদের সামনে শেষবার জাতীয় দলের প্রিয় ১০ নম্বর জার্সিতে মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই মহাতারকা। বুধবার ভোরে আফ্রিকার দেশ বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচটিই হতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের এই অবিসংবাদিত জাদুকরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের অন্তিম দ্বৈরথ।

রোসারিওর গলি থেকে উঠে এসে ফুটবল ইশ্বর ম্যারাডোনার উত্তরসূরি হওয়ার স্বপ্ন লালন করা মেসির আন্তর্জাতিক পথচলা অবশ্য সবসময় কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। ২০১৪ বিশ্বকাপ ফাইনাল ও একাধিক কোপা আমেরিকার ফাইনালে পরাজয়ের হতাশা কাটিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলেই ইতিহাস পুনর্লিখন করেন তিনি। ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা জয় দিয়ে যে স্বর্ণযুগের সূচনা, ২০২২ সালে ফিনালিসিমা এবং একই বছর কাতার বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার পূর্ণতা পায়। আর্জেন্টিনার ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২০৮ ম্যাচে রেকর্ড ১২৫ গোল এবং বিশ্বকাপে ২১ গোল ও ১২টি অ্যাসিস্টে অবদান রেখে পরিসংখ্যানের সব রেকর্ড তিনি নিজের নামে করে নিয়েছেন।

বেনিনের বিরুদ্ধে বিদায়ী ম্যাচের প্রাক্কালে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি আলবিসেলেস্তেদের মাস্টারমাইন্ড কোচ লিওনেল স্কালোনি। সংবাদ সম্মেলনে শিষ্যকে নিয়ে মূল্যায়ন করতে গিয়ে স্কালোনি বলেন, মেসি ফুটবল ময়দানে এবং ময়দানের বাইরে সতীর্থদের জন্য এমন এক অতুলনীয় মানদণ্ড রেখে যাচ্ছেন, যার কোনো তুলনাই হয় না। মাঠে মেসির অনুপস্থিতিই ভবিষ্যতে আর্জেন্টিনার ফুটবলে সবচেয়ে বড় শূন্যতা হয়ে বিরাজ করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বেনিনের বিপক্ষে বিদায়ী ম্যাচে আবারও গ্যালারিতে ধ্বনিত হবে মেসির জয়গান। শেষ বাঁশি বাজলেই হয়তো হাত তুলে আন্তর্জাতিক আঙিনাকে আনুষ্ঠানিক বিদায় জানাবেন এই কিংবদন্তি। তবে পরিসংখ্যান ও অর্জনের ঊর্ধ্বে উঠে কোটি ফুটবলপ্রেমীর হৃদয়ে লিওনেল মেসি থেকে যাবেন একটি যুগান্তকারী অধ্যায় ও অতুলনীয় আবেগ হয়ে।

/আশিক


'নকল ভিনিসিয়ুস খেলছেন মাঠে!' রিয়াল তারকাকে ঘিরে ব্রাজিলে উদ্ভট ষড়যন্ত্র তত্ত্ব

মোঃ আশিকুজ্জামান
মোঃ আশিকুজ্জামান
নিজস্ব প্রতিবেদক
খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৫ ২১:২০:৩২
'নকল ভিনিসিয়ুস খেলছেন মাঠে!' রিয়াল তারকাকে ঘিরে ব্রাজিলে উদ্ভট ষড়যন্ত্র তত্ত্ব
ছবি : সংগৃহীত

স্প্যানিশ পরাশক্তি রিয়াল মাদ্রিদ ও ব্রাজিল জাতীয় দলের তারকা ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে নিয়ে এক অদ্ভুত ও পরাবাস্তব ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চরম তোলপাড় শুরু হয়েছে। ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া এই অবাস্তব গুঞ্জনে দাবি করা হচ্ছে, আসল ভিনিসিয়ুস রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ বা গুম হয়েছেন এবং বিজ্ঞাপন ও প্রাতিষ্ঠানিক চুক্তি রক্ষার্থে তাঁর জায়গায় একজন হুবহু দেখতে রূপধারী বা নকল মানুষকে (লুকঅ্যালাইক) মাঠে নামানো হয়েছে।

স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক 'মার্কা'-এর বরাত দিয়ে জানা গেছে, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ব্রাজিলের বিভিন্ন অনলাইন ফোরাম ও টিকটক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রথম এই উদ্ভট দাবির সূত্রপাত ঘটে। নেটিজেনদের একাংশের দাবি, রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলা ভিনিসিয়ুস এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের জন্য ব্রাজিল জাতীয় দলের ক্যাম্প যোগ দেওয়া ভিনিসিয়ুসের উরুর ট্যাটুতে (Thigh Tattoo) দৃশ্যমান অসঙ্গতি রয়েছে। এমনকি তাঁর শারীরিক ও মুখমন্ডলের গঠনেও কৃত্রিম পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে তারা দাবি করে।

ইন্টারনেটের এই আজগুবি তত্ত্ব পরবর্তীতে সামাজিক মাধ্যম এক্স-এর (সাবেক টুইটার) বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে আরও ভয়াবহ ও বিভ্রান্তিকর মোড় নেয়। একটি বিতর্কিত হ্যান্ডেল থেকে দাবি করা হয় যে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ (CIA), প্রভাবশালী রথচাইল্ড পরিবার এবং বৈশ্বিক অভিজাত গোষ্ঠী ষড়যন্ত্র করে ভিনিসিয়ুসকে সরিয়ে সেখানে কৃত্রিম রূপধারীকে বসিয়েছে।

বিতর্কের পারদ আরও এক ধাপ পেরিয়ে চূড়ান্ত অবাস্তব রূপ নেয়, যখন 'ফো বাহিয়ানা' নামের এক নারীর কথিত এলিয়েন বা ভিনগ্রহের প্রাণীদের অপহরণ সংক্রান্ত এক ভিডিও বার্তা ভাইরাল হয়। সেখানে তিনি দাবি করেন, তিনি স্বপ্নে দেখেছেন যে মায়ামির একটি ফুটবল স্টেডিয়াম থেকে ভিনগ্রহের স্পেসশিপ এসে লাখ লাখ দর্শকের সামনে থেকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও নেইমারকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে।

বাস্তবতার সাথে দূরতম সম্পর্ক না থাকা এবং সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন হওয়া সত্ত্বেও ডিজিটাল দুনিয়ায় ভিনিসিয়ুসকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই ‘নকল খেলোয়াড়’ ও ‘ভিনগ্রহের প্রাণী’ সম্পর্কিত অদ্ভুত গুঞ্জন বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ক্রীড়ামোদী ও নেটিজেনদের চটকদার আলোচনার খোরাকে পরিণত হয়েছে।

/আশিক


মোস্তাফিজের বাজে ওভার ও অদ্ভুত কৌশলগত ভুলে ক্ষুব্ধ ক্রিকেট অঙ্গন

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৪ ১৯:৩১:৩৬
মোস্তাফিজের বাজে ওভার ও অদ্ভুত কৌশলগত ভুলে ক্ষুব্ধ ক্রিকেট অঙ্গন
ছবি : সংগৃহীত

এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনো পদক ছাড়াই খালি হাতে দেশে ফিরতে হয়েছে বাংলাদেশ পুরুষ ক্রিকেট দলকে। টুর্নামেন্টে বল হাতে চরম হতাশাজনক পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান। বিশেষ করে ব্রোঞ্জ পদকের লড়াই তথা তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এক ওভারেই ২৫ রান বিলিয়ে দিয়ে বাংলাদেশ দলের পরাজয় ত্বরান্বিত করেছেন এই টাইগার পেসার।

জাপানের স্পিন-সহায়ক উইকেটে মোস্তাফিজের এমন নির্বিষ ও খরুচে বোলিংকে অত্যন্ত অপ্রত্যাশিত এবং অবিশ্বাস্য বলে অভিহিত করেছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবির পরিচালক খালেদ মাহমুদ সুজন। গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি মন্তব্য করেন, এমন কন্ডিশনে মোস্তাফিজের এত বেশি রান দেওয়া একেবারেই অভাবনীয়। পাশাপাশি একাদশে থাকা সত্ত্বেও অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে দিয়ে কোনো বোলিং না করানোয় বিস্ময় প্রকাশ করেন সুজন। তাঁর মতে, ওই উইকেটে মোসাদ্দেকের অফ-স্পিন কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারত এবং বাংলাদেশকে জয়ের ভালো সুযোগ তৈরি করে দিতে পারত।

বোলারদের পাশাপাশি দলের টপ-অর্ডার ব্যাটারদের চূড়ান্ত ব্যর্থতাকেও কাঠগড়ায় তোলেন সুজন। তিনি স্পষ্ট জানান, সাইফ হাসান, তানজিশ তামিম, তাওহীদ হৃদয় কিংবা লিটন দাসের মতো প্রথম সারির চার ব্যাটার একযোগে ব্যর্থ হলে ১৬৫ রানের মতো বড় লক্ষ্য তাড়া করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। শুরুতেই দ্রুত উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যাওয়াতেই শেষ পর্যন্ত ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছে দল।

প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা নিজেদের সেরা প্রথম সারির দল না পাঠানো সত্ত্বেও পূর্ণশক্তির বাংলাদেশ দলের এই ভরাডুবিকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও হতাশাজনক বলে আখ্যা দেন বিসিবির এই শীর্ষ পরিচালক।

/আশিক


দক্ষিণ এশিয়ার মাটিতে বড় ব্যবধানে এগিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৩ ২১:২৪:২৫
দক্ষিণ এশিয়ার মাটিতে বড় ব্যবধানে এগিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা
ছবি : সংগৃহীত

দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে এক ঐতিহাসিক ক্ষণে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে স্বাগতিক ভারত এবং পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। কলকাতার ঐতিহ্যবাহী বিবেকানন্দ যুব ভারতী ক্রীড়াঙ্গনে অনুষ্ঠিত এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষে সফরকারী ব্রাজিল ২-০ গোলের সুস্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে।

তবে ম্যাচের শুরুটা উভয় দলের জন্যই বেশ কিছুটা ঢিমেতালে ঘটে। প্রথমার্ধের শুরুর দিকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে তাদের চেনা আক্রমণাত্মক ছন্দে দেখা যায়নি। প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যদের তৈরি করা শুরুর দিকের আক্রমণগুলোতে কাঙ্ক্ষিত তীব্রতার অভাব ছিল, যার ফলে ম্যাচের প্রথম ২৭ মিনিট পর্যন্ত কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি।

অবশেষে ম্যাচের ২৮ মিনিটে ব্রাজিলীয়দের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত প্রথম গোলের দেখা মেলে। চমৎকার একক প্রচেষ্টায় বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ভারতীয় পেনাল্টি বক্সের ডান দিক থেকে জোরালো শট নেন উদীয়মান তারকা এস্তেভাও। ভারতীয় গোলরক্ষক শটটি ঠেকানোর আপ্রাণ চেষ্টা করলেও বলের তীব্র গতির কারণে তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হন এবং বল জালে জড়ায়।

এর কিছু সময় পর ম্যাচের ৪২ মিনিটে একই কায়দায় ব্রাজিলের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন পেদ্রো। বক্সের ডান প্রান্ত থেকেই নেওয়া তাঁর শক্তিশালী শটটি আবার ভারতীয় গোলরক্ষকের হাতে লেগে জালে প্রবেশ করে। শেষ পর্যন্ত ভিনিসিয়ুস ও মারকুইনহোসদের দল ২-০ গোলের শক্ত লিড বজায় রেখেই প্রথমার্ধের খেলা সমাপ্ত করে।

/আশিক


ফুটবলের নতুন ইতিহাস গড়তে প্রস্তুত কলকাতার ক্রীড়াঙ্গন

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৩ ১৯:৪০:৩৬
ফুটবলের নতুন ইতিহাস গড়তে প্রস্তুত কলকাতার ক্রীড়াঙ্গন
ছবি : সংগৃহীত

কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে আয়োজিত ঐতিহাসিক ভারত বনাম ব্রাজিল ফুটবল ম্যাচের আগে দুই দলের চূড়ান্ত প্রথম একাদশ ঘোষণা করা হয়েছে। এই ম্যাচের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো ভারতের মাটিতে খেলতে নামছে ব্রাজিলের জাতীয় ফুটবল দল। আন্তর্জাতিক এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচটি বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে।

ঐতিহাসিক এই লড়াইয়ে ভারতের একাদশে গোলপোস্ট সামলানোর দায়িত্ব পেয়েছেন গুরপ্রীত সিং সান্ধু। রক্ষণভাগে রয়েছেন অভিষেক সিং টেকচাম, আনোয়ার আলি, বিজয় ভার্গিজ ও আকাশ মিশ্র। মিডফিল্ড এবং আক্রমণভাগে ভারসাম্য রেখে মাঠে নামছেন আপুইয়া, রায়ান উইলিয়ামস, সাহাল আব্দুল সামাদ, অনিরুদ্ধ থাপা, মহম্মদ আশিক কুরুনিয়ান এবং মনবীর সিং।

অন্যদিকে ব্রাজিলের প্রথম একাদশে গোলরক্ষক হিসেবে খেলছেন পেদ্রো মরিস্কো। রক্ষণভাগে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয়ে রয়েছে মারকুইনহোস, ডগলাস সান্তোস, ম্যাথেউস সিলভা ও আর্থার দিয়াজ। মাঝমাঠ সামলাবেন দানিলো, আন্দ্রে সান্তোস ও গ্যাব্রিয়েল বোনতেম্পো। আক্রমণভাগে দলটিকে নেতৃত্ব দেবেন তরুণ তারকা এস্তেভাও পেদ্রো ও বিশ্বসেরা ফরোয়ার্ডদের একজন ভিনিসিয়ুস।

/আশিক

পাঠকের মতামত: