হরমুজের পর এবার বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধের হুমকি, বিশ্বজুড়ে চড়বে তেলের দাম

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৪ ২২:১৫:১৮
হরমুজের পর এবার বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধের হুমকি, বিশ্বজুড়ে চড়বে তেলের দাম
ছবি : সংগৃহীত

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির পর এবার লোহিত সাগরের অন্যতম প্রধান জলপথ ‘বাব আল-মান্দেব প্রণালি’ বন্ধ করে দেওয়ার প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, নিজেদের সরাসরি সম্পৃক্ততা এড়িয়ে ইয়েমেনের সশস্ত্র হুতি গোষ্ঠীকে কাজে লাগিয়ে এই সংবেদনশীল নৌপথে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে তেহরান, যার মূল উদ্দেশ্য হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র রাষ্ট্রগুলোর ওপর পাল্টা মনস্তাত্ত্বিক ও কৌশলগত প্রভাব বিস্তার করা। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

বিশ্বের সামগ্রিক জ্বালানি ও পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অপরিসীম। সমুদ্রপথে পরিবাহিত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি বড় অংশের অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস এই সংকীর্ণ পথ ব্যবহার করেই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পৌঁছায়। ঠিক একইভাবে বাব আল-মান্দেব প্রণালিটিও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সাথে সরাসরি যুক্ত করেছে। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল রপ্তানি এবং এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর যাতায়াতের জন্য এটি অন্যতম প্রধান ও লাইফলাইন রুট হিসেবে বিবেচিত।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের হুতি আন্দোলনের রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রভাবশালী সদস্য মোহাম্মদ আল-ফারাহ কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সৌদি আরব যদি মার্কিন সমর্থনে ইয়েমেনের অভ্যন্তরে তাদের সামরিক অভিযান ও বিমান হামলা অব্যাহত রাখে, তবে বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল চিরতরে বন্ধ করে দেওয়ার মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তিনি দাবি করেন, এই জলপথ অবরুদ্ধ করা হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় ব্যারেলপ্রতি ২০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে।

লন্ডন ও মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক প্রখ্যাত বিশ্লেষক ফাওয়াজ গেরগেসের মতে, এই হুমকির মাধ্যমে তেহরান মূলত ওয়াশিংটনকে একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে যে, প্রয়োজন হলে তারা হরমুজ এবং বাব আল-মান্দেব—উভয় কৌশলগত নৌপথেই একযোগে চাপ সৃষ্টি করার পূর্ণ সামরিক সক্ষমতা রাখে। মাঠপর্যায়ে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে এই আঞ্চলিক সংঘাত খুব দ্রুতই বৈশ্বিক জ্বালানি ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য এক মহাবিপর্যয়ে পরিণত হবে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের একাংশের ভাষ্য অনুযায়ী, এই মুহূর্তে দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি সর্বাত্মক কোনো যুদ্ধের সম্ভাবনা তৈরি না হলেও, ধাপে ধাপে এই প্রক্সি বা পরোক্ষ সংঘাতের পরিধি ও ঝুঁকি বেড়েই চলেছে। ওয়াশিংটন ও তেহরান কোনো পক্ষই সরাসরি মুখোমুখি যুদ্ধে লিপ্ত না হয়ে একে অপরের ওপর পাল্টাপাল্টি কূটনৈতিক ও সামরিক চাপ বজায় রাখছে, যা পরিস্থিতিকে দিন দিন আরও জটিল করে তুলছে। তবে অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, এই চরম উত্তেজনা শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষকে কোনো একটি সাধারণ বিন্দুতে এসে আবারও আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই হুতি গোষ্ঠী লোহিত সাগরে ইসরায়েল ও তার পশ্চিমা মিত্রদের সাথে সম্পৃক্ত বলে দাবি করা বিভিন্ন বাণিজ্যিক জাহাজে একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে। হুতিদের এই ধারাবাহিক আক্রমণের ফলে বিশ্বের বড় বড় আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলো নিরাপত্তার স্বার্থে লোহিত সাগরের রুট পরিহার করে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত (কেপ অব গুড হোপ) ঘুরে দীর্ঘ বিকল্প পথে চলাচল শুরু করে, যার ফলে বৈশ্বিক পণ্য পরিবহন ও জাহাজ ভাড়া উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য যৌথভাবে ইয়েমেনের ভেতরে হুতিদের বিভিন্ন গোপন ঘাঁটিতে দফায় দফায় বিমান হামলা চালায় এবং ওই অঞ্চলের আন্তর্জাতিক নৌ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি বহুজাতিক সামরিক জোট গঠন করে।

কিংস কলেজ লন্ডনের নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগের মতে, হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি বাব আল-মান্দেবও বর্তমান ভূরাজনীতিতে ইরানের জন্য একটি অন্যতম প্রধান কৌশলগত অস্ত্র ও চাপ প্রয়োগের মাধ্যম। তবে তিনি মনে করেন, তেহরান এখনই এই পথ বন্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে না; বরং যখন একটি সর্বাত্মক ও অনিবার্য সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হবে, কেবল তখনই তারা হুতিদের এই ধরনের বিধ্বংসী পদক্ষেপে চূড়ান্ত সম্মতি দেবে।

অন্যদিকে সৌদি আরবভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গালফ রিসার্চ সেন্টারের চেয়ারম্যান আবদুলআজিজ সাগের জানিয়েছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে এখন এই ধারণা প্রবল হচ্ছে যে ইরানের সাথে আলোচনার মাধ্যমে কোনো কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ দিন দিন ফুরিয়ে আসছে। তবে তাঁর মতে, তেহরানের প্রত্যক্ষ ইশারা ও সবুজ সংকেত ছাড়া হুতি গোষ্ঠী আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এত বড় কোনো উত্তেজনাপূর্ণ পদক্ষেপ নেবে না। আর যদি তারা সত্যি সত্যি আন্তর্জাতিক এই নৌপথে বড় ধরনের কোনো বিপর্যয় ঘটায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্রদের কাছ থেকে হুতিদের আরও কঠোর ও সরাসরি সামরিক জবাবের মুখোমুখি হতে হবে।

/আশিক


ন্যাটো ভূখণ্ডে হামলা হলে সবকিছু ধ্বংস করে দেওয়ার কঠোর হুঁশিয়ারি কমান্ডারের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১২ ২০:৩৬:০৮
ন্যাটো ভূখণ্ডে হামলা হলে সবকিছু ধ্বংস করে দেওয়ার কঠোর হুঁশিয়ারি কমান্ডারের
ছবি : সংগৃহীত

ইউরোপে ন্যাটোর সদস্যভুক্ত কোনো দেশের ভূখণ্ডে রাশিয়া যদি সামরিক আগ্রাসন চালায়, তবে জোটটির সামরিক শক্তি সেই হামলার সঙ্গে জড়িত সবকিছু সম্পূর্ণভাবে গুঁড়িয়ে দেবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ন্যাটোর শীর্ষ সামরিক কমান্ডার জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকিউইচ। সোমবার (১২ অক্টোবর) পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশতে অনুষ্ঠিত এক নিরাপত্তা সম্মেলনে তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, মস্কো যদি এমন কোনো বোকামি করে বসল, তবে তার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ ও অর্থহীন হবে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর জেনারেল গ্রিনকিউইচ বর্তমানে ন্যাটোর ‘সুপ্রিম অ্যালায়েড কমান্ডার ইউরোপ’-এর দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন। ওয়ারশ নিরাপত্তা ফোরামে ন্যাটোর বিজয়ের নিজস্ব রণকৌশল তুলে ধরে তিনি বলেন, ন্যাটো মূলত একটি প্রতিরক্ষামূলক জোট হলেও জোটভুক্ত কোনো একটি দেশের ওপরও যদি কোনো ধরনের হামলা চালানো হয়, তবে সেই আক্রমণ শুধু প্রতিহতই করা হবে না, বরং হামলাকারীকে সম্পূর্ণরূপে দুর্বল ও অকার্যকর করে দেওয়া হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে রাশিয়ার উত্তেজনা ক্রমশ চরম রূপ ধারণ করেছে। ইউরোপীয় সরকারগুলোর পক্ষ থেকে বরাবরই অভিযোগ করা হচ্ছে যে, রাশিয়া সুপরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন ড্রোনের অনুপ্রবেশ, নাশকতা এবং সাইবার হামলার মাধ্যমে তাদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এর আগে গত মাসেও রাশিয়া কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিল যে, ন্যাটো যদি তাদের বিচ্ছিন্ন ভূখণ্ড কালিনিনগ্রাদ অবরুদ্ধ করার কোনো অপচেষ্টা চালায়, তবে মস্কো পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারে পিছপা হবে না।

যদিও ওয়ারশ নিরাপত্তা ফোরামে দেওয়া বক্তৃতায় গ্রিনকিউইচ সরাসরি রাশিয়ার নাম উচ্চারণ করেননি, তবে তার এই প্রকাশ্য সতর্কবার্তা যে পুরোপুরি মস্কোকে উদ্দেশ্য করেই ছিল, তা স্পষ্ট। উল্লেখ্য, ন্যাটোর ২০২২ সালের কৌশলগত ধারণাপত্রে রাশিয়াকে জোটের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ও তাৎপর্যপূর্ণ হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।

জেনারেল গ্রিনকিউইচ দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, ‘কেউ যদি আমাদের ওপর আক্রমণ করার মতো বড় কোনো বোকামি করে বসে, তবে আমরা তার উপযুক্ত জবাব দেব। আমরা সেই হামলা তাৎক্ষণিকভাবে থামিয়ে দেব এবং হামলাকারীকে তাদের কোনো লক্ষ্য অর্জনে পুরোপুরি ব্যর্থ করে দেব। সংক্ষেপে বলতে গেলে, যেকোনো মিত্রের ওপর যেকোনো ধরনের হামলাকে আমরা সম্পূর্ণ অর্থহীন করে তুলব।’

প্রয়োজনে এই পাল্টা জবাব কেবল সীমান্তবর্তী সংঘাতে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং আরও ব্যাপক ও সুদূরপ্রসারী রূপ নিতে পারে বলে মস্কোকে পরিষ্কার বার্তা দিয়েছেন এই শীর্ষ কমান্ডার। তিনি জানান, শত্রুপক্ষ যদি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য অতিরিক্ত বা রিজার্ভ বাহিনী মোতায়েন করতে চায়, তবে তাদের গোটা যুদ্ধ পরিচালনা ব্যবস্থাকেই ধ্বংস করে দেওয়া হবে।

গ্রিনকিউইচ আরও যোগ করেন, ‘এই ধ্বংসযজ্ঞের আওতায় কেবল সরাসরি আক্রমণকারী বাহিনীই থাকবে না, বরং যে শক্তিগুলো ওই বাহিনীকে পেছন থেকে সহায়তা করে, টিকিয়ে রাখে এবং সার্বিক নিয়ন্ত্রণ পরিচালনা করে—তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবকিছুই গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।’

সূত্র : রয়টার্স


রিয়াদের মধ্যাঞ্চলে আবার বিকট বিস্ফোরণের শব্দ, আতঙ্ক

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১১ ২১:০৯:০৮
রিয়াদের মধ্যাঞ্চলে আবার বিকট বিস্ফোরণের শব্দ, আতঙ্ক
ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের মধ্যাঞ্চলে আবারও বিকট বিস্ফোরণের বিকট শব্দ পাওয়া গেছে। রোববার (১১ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় রাত ৮টার দিকে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তবে ঘটনার পরপরই বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ কিংবা বিস্তারিত তথ্য জানা সম্ভব হয়নি। এটি সরাসরি কোনো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নাকি সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে আগত কোনো হামলা প্রতিহত করার ঘটনা—সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এর ঠিক একদিন আগে, শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলায় ১২ জন নিহত এবং অন্তত ৩০৯ জন আহত হন, যাদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অন্যান্য দেশের নাগরিকদের পাশাপাশি পাঁচজন সৌদি নাগরিকও ছিলেন। এই প্রাণহানির পাশাপাশি বিমানবন্দরের পরিকাঠামোগত ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, যার প্রকৃত পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা হচ্ছে। উক্ত ঘটনার পরপরই নিরাপত্তার স্বার্থে বিমানবন্দরটিতে আপাতত ফ্লাইট ওঠানামা স্থগিত করা হয়।

শনিবারের বিমানবন্দর হামলার জবাবে রোববার ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা রাজধানী সানার বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে শক্তিশালী বিমান হামলা চালায় সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। আর এই বিমান হামলার প্রায় এক ঘণ্টার মাথায় রিয়াদ শহর জুড়ে আবারও বিকট বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসে।

উল্লেখ্য, বিগত প্রায় দুই মাস ধরে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে ক্রমাগত হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটছে। দুই পক্ষের এই সামরিক উত্তেজনায় কৌশলগত সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি সাধারণ বেসামরিক মানুষও হতাহতের শিকার হচ্ছেন।

সূত্র: আলজাজিরা


রাশিয়া-ইউক্রেন জ্বালানি যুদ্ধবিরতির দাবি ডোনাল্ড ট্রাম্পের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১১ ২১:০১:৪০
রাশিয়া-ইউক্রেন জ্বালানি যুদ্ধবিরতির দাবি ডোনাল্ড ট্রাম্পের
ছবি : সংগৃহীত

রাশিয়া ও ইউক্রেন পরস্পরের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বন্ধে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (১১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই বিষয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।

নিজের পোস্টে ট্রাম্প উল্লেখ করেন যে, এখন থেকেই রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে জ্বালানি অবকাঠামো সংক্রান্ত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হচ্ছে। উভয় দেশই এই সমঝোতায় সম্মত হয়েছে এবং কোনো পক্ষই এটি লঙ্ঘন করবে না বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তবে এই জ্বালানি যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের বিষয়ে রাশিয়া (মস্কো) বা ইউক্রেন (কিয়েভ)—কোনো পক্ষ থেকেই তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করা হয়নি।

অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যদি ৬০ দিনের একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হন, তবে ইউক্রেনে সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করা হবে। ট্রাম্পের একাধিক সমালোচনার জবাবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসির ‘দিস উইক’ অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। জেলেনস্কি জানান, পুতিন দুই মাসের জন্য সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতি দিলে ইউক্রেন নির্বাচন আয়োজনে প্রস্তুত।

এর আগে জেলেনস্কি আরও ইঙ্গিত দেন যে, রাশিয়া যদি ইউক্রেনের সার্বিক জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ রাখে, তবে কিয়েভও রুশ তেল শোধনাগারগুলোতে পাল্টা আক্রমণ চালানো বন্ধ করতে সম্মত রয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, উত্তেজনা কমানোর যেকোনো পদক্ষেপ হতে হবে দ্বিপাক্ষিক এবং এর পেছনে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার নিরেট নিশ্চয়তা থাকতে হবে।

উল্লেখ্য, জ্বালানির আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির জন্য মধ্যপ্রাচ্যের ইরান সংঘাতের চেয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকেই বেশি দায়ী করছেন ট্রাম্প। এই প্রেক্ষাপটে গত শুক্রবার রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে একটি জ্বালানি সরবরাহ চুক্তি স্বাক্ষরের ঘোষণা দেন ট্রাম্প, যার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও জ্বালানি সরবরাহ বাড়াতে সম্মত হয়েছে মস্কো। তবে এই সমঝোতাকে পুতিনের জন্য একটি বড় সুবিধা বা ‘উপহার’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জেলেনস্কি। তাঁর মতে, রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানির সুযোগ দিলে যুদ্ধ পরিচালনায় ক্রেমলিনের রাজস্ব আরও বৃদ্ধি পাবে।

সূত্র : রয়টার্স


হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী সুপারট্যাংকারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও আগুন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১১ ২০:১২:৩৬
হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী সুপারট্যাংকারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও আগুন
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে একটি অপরিশোধিত তেলবাহী সুপারট্যাংকারে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের খবর নিশ্চিত করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনী। তেহরানের দাবি, আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথের নিরাপত্তাবিধি অমান্য করে এবং নিজেদের অবস্থান শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বা ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ রেখে নিষিদ্ধ পথ দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় সমুদ্রের মাইনের সঙ্গে ধাক্কা লেগে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

ইরানের সংবাদমাধ্যম মেহের-এর বরাতে পার্সটুডে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আইআরজিসির নৌবাহিনী এক জরুরি বিবৃতিতে জানায় যে নিয়ম ভঙ্গকারী তেলবাহী জাহাজটি মাইনের সঙ্গে আঘাত পাওয়ার পর তাতে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ হয় এবং মুহূর্তের মধ্যেই তা দাউ দাউ করে জ্বলতে শুরু করে। উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দারাও দূর থেকে এই আগুনের তীব্র শিখা প্রত্যক্ষ করেছেন বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজটির নাম, এটি কোন দেশের পতাকাবাহী, জাহাজে কতজন নাবিক অবস্থান করছিলেন কিংবা এই ঘটনায় হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না—সে বিষয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো বিবরণ দেওয়া হয়নি।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য আন্তর্জাতিক নৌযানগুলোকে কড়া বার্তা দিয়েছে আইআরজিসি। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রণালির নৌচলাচল সংক্রান্ত নির্দেশনা উপেক্ষা করে অনিয়ম করার চেষ্টা করলে অন্যান্য জাহাজগুলোকেও এই ধরনের মারাত্মক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।

উল্লেখ্য, বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ, যা দিয়ে প্রতিদিন বিশ্ববাজারের বড় একটি অংশের অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়। ফলে এই অঞ্চলে সামুদ্রিক চলাচলে যেকোনো ধরণের ব্যাঘাত বা অস্থিরতা সৃষ্টি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরণের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। তবে উক্ত সুপারট্যাংকারে বিস্ফোরণ ও এর নেপথ্য কারণ নিয়ে তেহরানের দাবিকৃত তথ্যের সতত্য এখনো কোনো স্বাধীন বা আন্তর্জাতিক নিরপেক্ষ উৎস থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

পার্সটুডে


আটলান্টিক বা প্রশান্ত মহাসাগরের নাম বদলে ‘ট্রাম্প মহাসাগর’ রাখার প্রস্তাব মার্কিন প্রেসিডেন্টের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১১ ১৮:৫৬:৫৭
আটলান্টিক বা প্রশান্ত মহাসাগরের নাম বদলে ‘ট্রাম্প মহাসাগর’ রাখার প্রস্তাব মার্কিন প্রেসিডেন্টের
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আটলান্টিক অথবা প্রশান্ত মহাসাগরের যেকোনো একটির নাম পরিবর্তন করে সেটির নাম ‘ট্রাম্প মহাসাগর’ কিংবা ‘আমেরিকা মহাদেশগুলোর মহাসাগর’ রাখার অভিনব ও বিতর্কিত প্রস্তাব দিয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার (১০ অক্টোবর) টেনেসি অঙ্গরাজ্যের ক্লার্কসভিলে আয়োজিত এক নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন।

সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, তিনি প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব ছাড়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্রের নামে একটি বড় মহাসাগর এবং একটি নদীর নামকরণ করা উচিত। তাঁর মতে, উপসাগর ও হ্রদ ছাড়াও মার্কিন ভূখণ্ডের নামে একটি নদী ও মহাসাগর থাকা প্রয়োজন। তিনি রসিকতার সুরে আটলান্টিক বা প্রশান্ত মহাসাগরের নাম বদলে নিজের নামানুসারে ‘ট্রাম্প মহাসাগর’ অথবা ‘আমেরিকা মহাদেশগুলোর মহাসাগর’ রাখার প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তাঁর এই মন্তব্যে সমাবেশে উপস্থিত সমর্থকেরা হাসে এবং হাততালি দিয়ে সাধুবাদ জানান।

এর আগেও ভৌগোলিক নামের পরিবর্তনের এমন একাধিক নজির সৃষ্টি করেছেন ট্রাম্প। গত বছর তিনি মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে ‘আমেরিকা উপসাগর’ রাখেন। এই একতরফা সিদ্ধান্তের কারণে মেক্সিকোর সাথে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং নতুন নাম ব্যবহার না করায় সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) সাথেও তাঁর চরম বিরোধ বাধে। এছাড়া গত আগস্টে বাণিজ্য ও শুল্ক সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে নিউ ইয়র্ক ও কানাডার মধ্যবর্তী অন্টারিও হ্রদের নাম পাল্টে ‘আমেরিকা হ্রদ’ রাখেন তিনি।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করে সাধারণত জলভাগ ও ভৌগোলিক স্থানের নাম পরিবর্তন করা সম্ভব হয়। এর ফলে বেসরকারি অনলাইন মানচিত্র প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোও সাধারণত ট্রাম্পের ঘোষণা করা নতুন নামগুলোই ব্যবহার করে থাকে।

তবে শনিবারে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প স্পষ্ট করে দেন যে তিনি নিজ অঙ্গরাজ্য নিউইয়র্কের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ঐতিহাসিক হাডসন নদীর নাম পরিবর্তন করবেন না। অভিযাত্রী হেনরি হাডসনের নামে নামকরণ করা এই নদীর কাজের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি জানান যে নদীটি যেভাবে আছে সেভাবেই থাকবে। পাশাপাশি, টেনেসি অঙ্গরাজ্যের পশ্চিম সীমানা নির্ধারণকারী মিসিসিপি নদীর নামও পরিবর্তন করবেন না বলে জানান তিনি। ওই অঙ্গরাজ্যে নির্বাচনী লড়াইয়ে বড় ব্যবধানে বিজয়ী হওয়ায় মিসিসিপির প্রতি তাঁর বিশেষ অনুরাগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন ট্রাম্প।

এর আগে গত মাসে তিনি নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের নাম পরিবর্তন করে ‘নিউ আমেরিকা’ নামকরণের প্রস্তাব দিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন। যদিও অঙ্গরাজ্যটির নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার ও কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। গত সপ্তাহে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি জানান যে বিষয়টি পুরোপুরি নিউ মেক্সিকোর স্থানীয় বাসিন্দাদের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে এবং তিনি এ নিয়ে কোনো অপ্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টি করবেন না, যদিও প্রস্তাবটি অনেকেরই বেশ পছন্দ হয়েছে।

/আশিক


রোমান সম্রাটের নতিস্বীকারের ইতিহাস টেনে যুক্তরাষ্ট্রকে চরম হুঁশিয়ারি ইরানের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১০ ২০:২৬:৪৩
রোমান সম্রাটের নতিস্বীকারের ইতিহাস টেনে যুক্তরাষ্ট্রকে চরম হুঁশিয়ারি ইরানের
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব ও মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি প্রাচীন ইতিহাসের এক ঐতিহাসিক পরাজয়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, ইরানের কাছে পরাজয় ও অপমানের সম্ভাব্য পুনরাবৃত্তি এড়াতে না পারার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের মানসিক প্রস্তুতি নিতে হবে। বার্তাটি প্রকাশ করেছে ইরানি সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবি (পার্সটুডের সৌজন্যে)।

রেজায়ি তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেন, ইরানের কাছে পরাজয় এবং অপমানের মুখোমুখি হওয়ার পর মার্কিন কর্মকর্তারা এথেন্সে গিয়ে ‘সভ্যতার সংঘাত’ বিষয়ে নতুন রাজনৈতিক বয়ান দাঁড় করানোর চেষ্টা করছেন। এই ধরনের আলোচনার প্রেক্ষাপটে তাঁদের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় স্মরণ করিয়ে দেন তিনি। তিনি বিশেষ করে সাসানীয় সাম্রাজ্যের শক্তিশালী শাসক প্রথম শাপুরের সামনে রোমান সম্রাটের নতিস্বীকার ও হাঁটু গেড়ে বসে থাকার ঐতিহাসিক ঘটনার অবতারণা করেন।

আইআরআইবিকে দেওয়া ওই বার্তায় ইরানি এই শীর্ষ কর্মকর্তা আরও সতর্ক করে বলেন, যারা রাজনৈতিক বা কৌশলগত আলোচনায় ইতিহাসকে টেনে আনে, তাদের সেই ইতিহাসেরই পুনরাবৃত্তি প্রত্যক্ষ করার জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত।

রেজায়ির এই বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্বের মধ্যে প্রাচীন ইতিহাসকে রাজনৈতিক বার্তার প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তবে ইরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের ‘পরাজয় ও অপমান’ সংক্রান্ত দাবিগুলো তাঁর নিজস্ব কৌশলগত বক্তব্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

পার্সটুডে


বিশ্বমানের কূটনৈতিক সাফল্যের দাবি করেও নোবেল না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১০ ১৮:৫৩:০৯
বিশ্বমানের কূটনৈতিক সাফল্যের দাবি করেও নোবেল না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে একাধিক সংঘাতের অবসান ঘটানো এবং জিম্মি মুক্তিসহ বিভিন্ন বড় কূটনৈতিক সাফল্যের দাবি করার পরও নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

ওই পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি বিশ্বব্যাপী মোট আটটি যুদ্ধের সফল নিষ্পত্তি করেছেন এবং আরও দুটি যুদ্ধের অবসান বা সমাধানের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন। এর পাশাপাশি, জীবিত ও মৃত উভয় অবস্থাতেই ইসরায়েলের সকল জিম্মিকে উদ্ধার করা এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শত শত জিম্মিকে মুক্ত করে তাদের নিজ নিজ দেশে ফিরিয়ে আনার কৃতিত্বও নিজের দাবি করেন তিনি।

পোস্টে নিজের প্রশাসনের অন্যান্য সাফল্যের কথা তুলে ধরে ট্রাম্প জানান, তিনি ভেনেজুয়েলায় সংঘটিত সংকটে বিজয় অর্জন করেছেন এবং সে দেশের শাসককে আটক করেছেন। একই সঙ্গে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করা থেকে বিরত রাখার ক্ষেত্রে নিজের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তেহরানকে ‘সন্ত্রাসবাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র’ বলে অভিহিত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এত সব ঐতিহাসিক ও শান্তি প্রতিষ্ঠার অবদান রাখার পরও তাঁকে বা যুক্তরাষ্ট্রকে নোবেল শান্তি পুরস্কার না দেওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি পোস্টে লেখেন, ‘বাহ!’

/আশিক


বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় অস্থিরতা: রেকর্ড বাড়ল তেলের দাম

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৮ ২১:০৮:৩৭
বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় অস্থিরতা: রেকর্ড বাড়ল তেলের দাম
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং মেক্সিকো উপসাগরে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৪ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা ও মার্কিন জ্বালানি উত্তোলনে বড় ধরনের ধাক্কা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে নতুন করে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

তুর্কি সংবাদমাধ্যম আনাদোলুর বরাতে জানানো হয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর দেশটির সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডকে (সেন্টকম) ইরানে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলের নির্বাচনের আগেই ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও পারমাণবিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে যৌথ হামলা চালানো হতে পারে বলে আন্তর্জাতিক একাধিক সূত্রে আভাস পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি পরিবহনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। সংস্থাটির শীর্ষ নেতৃত্বের উপদেষ্টা মোহাম্মদ রেজা নাকদি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই প্রণালি বন্ধ রাখা হবে।

ভূরাজনৈতিক এই সংকটের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ প্রাকৃতিক দুর্যোগ যুক্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহে নতুন দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে। মেক্সিকো উপসাগরে ঘূর্ণিঝড় ইসাইয়াসের আঘাতে সেখানকার মার্কিন তেল ও গ্যাস উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় দৈনিক প্রায় ৫ লাখ ১১ হাজার ৬১৯ ব্যারেল উত্তোলন বন্ধ রাখতে হয়েছে, যা ওই অঞ্চলের মোট ক্ষমতার এক-চতুর্থাংশ। শেল ও শেভরনের মতো শীর্ষ সংস্থাগুলো তাদের একাধিক অফশোর স্থাপনায় কার্যক্রম স্থগিত করেছে। একই সাথে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব অপরিশোধিত তেলের মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় এক দিনেই আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪.২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৪.৪৩ ডলারে এবং মার্কিন ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ৪.৬ শতাংশ বেড়ে ৯২.৪২ ডলারে পৌঁছেছে।

/আশিক


রাজনৈতিক ভাষণে স্ত্রীর দেয়া বিশেষ বার্তার কথা ফাঁশ করলেন ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৮ ২০:৪৯:৪৫
রাজনৈতিক ভাষণে স্ত্রীর দেয়া বিশেষ বার্তার কথা ফাঁশ করলেন ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে আয়োজিত এক নির্বাচনি সমাবেশে বক্তৃতা দেওয়ার সময় নিজের বৈবাহিক জীবনের এক কৌতূহলোদ্দীপক কথা প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, দীর্ঘ ২১ বছরের দাম্পত্য সম্পর্কের পর আজও তাঁর স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প তাঁকে প্রথাগত সম্মান দেখিয়ে ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করেন, ঠিক যেভাবে সরকারি কর্মচারীরা তাঁর সাথে কথা বলেন। টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল ও রিপাবলিকান পার্টির সিনেট প্রার্থী কেন প্যাক্সটনের সমর্থনে আয়োজিত এই সমাবেশে ট্রাম্প রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের কড়া সমালোচনা করেন।

ভাষণ চলাকালে তিনি ডেমোক্র্যাট দলের সিনেট প্রার্থী জেমস তালারিকোর ওপর আক্রমণাত্মক বক্তব্য রেখে তাঁকে ভিগান (পূর্ণ নিরামিষভোজী) হিসেবে দাবি করেন। তবে তালারিকো ট্রাম্পের এই দাবি শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছেন। বক্তব্যের একপর্যায়ে ট্রাম্প জানান, তিনি আগে ‘ভিগান’ শব্দটি সঠিকভাবে উচ্চারণ করতে পারতেন না এবং মেলানিয়া ট্রাম্পই তাঁর সেই ভুল শুধরে দেন। স্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, মেলানিয়া তাঁকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়ে বলেছিলেন, শব্দটির সঠিক উচ্চারণ ‘ভেগান’ নয়, বরং ‘ভিগান’।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলীয় রাজনীতির উত্তাপ ও সাম্প্রতিক জরিপে পিছিয়ে থাকার পটভূমিতে টেক্সাসের সাম্প্রতিক নির্বাচনে প্যাক্সটনের অবস্থান শক্তিশালী করতেই ট্রাম্পের এই সফর। রাজনৈতিক মঞ্চে টেক্সাস সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী প্যাক্সটনের চেয়ে ৩৭ বছর বয়সী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী তালারিকো ক্রমাগত এগিয়ে আছেন।

বিপরীতে, তালারিকো নিজের নিরামিষাশী হওয়ার খবর গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। সমাবেশে ট্রাম্প ব্যঙ্গ করে মন্তব্য করেন, ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ভোটের লড়াইয়ে সুবিধা করতে বাধ্য হয়ে আমিষ খাওয়া শুরু করায় এখন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। টেক্সাসের স্যান অ্যান্টোনিওতে গত ছয় সপ্তাহের মধ্যে এটি ছিল ট্রাম্পের চতুর্থ সফর। সাম্প্রতিক জরিপগুলো যেমন সিয়েনা কলেজের ৫১-৪৫ শতাংশ ব্যবধান কিংবা ফক্স নিউজের ব্যবধানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর এগিয়ে থাকার চিত্র প্রকাশের প্রেক্ষাপটেই এই জোর প্রচারণা চালাচ্ছে রিপাবলিকান শিবির।

সূত্র: দ্য ইনডিপেনডেন্ট

পাঠকের মতামত: