নতুন পে-স্কেলে বাড়ছে বেতন-ভাতা, কারা পাবেন বেশি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৫ ১২:২২:২৭
নতুন পে-স্কেলে বাড়ছে বেতন-ভাতা, কারা পাবেন বেশি
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বহুল আলোচিত নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে আজ গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছে পুনর্গঠিত সচিব কমিটি। বৈঠকে নতুন বেতন, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, বিভিন্ন ভাতা এবং বাস্তবায়নের রূপরেখা নিয়ে চূড়ান্ত সুপারিশ অনুমোদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

সচিবালয়ে সকাল সাড়ে ৯টায় অনুষ্ঠিতব্য এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। বৈঠক শেষে সুপারিশমালা দ্রুত মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

প্রস্তাবিত খসড়া অনুযায়ী, প্রথম থেকে দশম গ্রেড পর্যন্ত কর্মকর্তাদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। অন্যদিকে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বেতন বৃদ্ধির হার সর্বোচ্চ ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। ফলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের সরকারি কর্মচারীরাই নতুন কাঠামোতে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এবারের পে-স্কেলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে কেবল গ্রেডভিত্তিক নয়, বরং মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং প্রকৃত আয়ক্ষমতা বিবেচনায় বেতন ও বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণের পরিকল্পনা। অর্থাৎ পূর্বের মতো সবার জন্য প্রায় একই হারে ইনক্রিমেন্ট না দিয়ে প্রয়োজন ও আর্থসামাজিক বাস্তবতার ভিত্তিতে ভিন্ন হার নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বর্তমান কাঠামোয় সরকারি চাকরিজীবীরা গড়ে ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট পান। নতুন প্রস্তাবে ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত এই হার বহাল রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে পঞ্চম গ্রেডে ৪ শতাংশ, তৃতীয় ও চতুর্থ গ্রেডে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং দ্বিতীয় গ্রেডে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্টের প্রস্তাব রয়েছে। প্রথম গ্রেডের ইনক্রিমেন্ট পৃথকভাবে নির্ধারণ করা হবে।

সরকারের লক্ষ্য আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর করা। তবে প্রশাসনিক অনুমোদন, আইনি যাচাই, প্রজ্ঞাপন জারি এবং সফটওয়্যার হালনাগাদের মতো আনুষ্ঠানিকতা শেষ হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। সে ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সেপ্টেম্বর অথবা অক্টোবর মাসে বর্ধিত বেতন এবং সম্ভাব্য বকেয়া একসঙ্গে হাতে পেতে পারেন।

জানা গেছে, বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একাধিক বিকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে। শুরুতে তিন ধাপে বাস্তবায়নের বিষয়টি বিবেচনায় থাকলেও বর্তমানে দুই ধাপে কার্যকর করার সম্ভাবনাই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণে সরকার একটি বড় পরিসরের মতামত জরিপ পরিচালনা করেছে। এতে অংশ নেন প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ সরকারি চাকরিজীবী, ৬১ হাজার ৫০০ সাধারণ নাগরিক এবং ৩ হাজার ৫১৩টি প্রতিষ্ঠানের প্রধান। জরিপে মাত্র ৫ দশমিক ৬ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বর্তমান ইনক্রিমেন্ট ব্যবস্থার পক্ষে মত দেন। বিপরীতে প্রায় অর্ধেকের বেশি অংশগ্রহণকারী মূল্যস্ফীতির সঙ্গে বেতন বৃদ্ধির হার সমন্বয়ের পক্ষে মত দেন। এছাড়া উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অংশগ্রহণকারী জীবনযাত্রার ব্যয়কে ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণের ভিত্তি করার সুপারিশ করেছেন।

এছাড়া বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) লিভিং স্ট্যান্ডার্ড সার্ভে-২০২৫-এর তথ্যও নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। জরিপ অনুযায়ী, দেশে একটি পরিবারের গড় মাসিক ব্যয় ৩৫ হাজার ৩১১ টাকা। শহরাঞ্চলে এই ব্যয় প্রায় ৪৬ হাজার ৭৭৮ টাকা এবং ছয় সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে গড় ব্যয় ৬৬ হাজার ২৫৩ টাকায় পৌঁছেছে। এসব তথ্যই নতুন বেতন নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বেতন কমিশনের সুপারিশে প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব থাকলেও সচিব কমিটিতে প্রথম গ্রেডের বেতন ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত বর্তমান ১:৯.৪ থেকে কমিয়ে ১:৭.৫ করার প্রস্তাবও বিবেচনায় রয়েছে।

সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসতে পারে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে। বর্তমানে ২০তম গ্রেডের একজন সরকারি কর্মচারী বেতন-ভাতা মিলিয়ে প্রায় ১৬ হাজার ৯৫০ টাকা পান। নতুন কাঠামো কার্যকর হলে সেই আয় প্রায় ৪১ হাজার ৯০৮ টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের ধারণা।

শুধু মূল বেতন নয়, যাতায়াত, টিফিন, ধোলাই, ঝুঁকিভাতা এবং অন্যান্য ভাতাও পুনর্নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে যেসব কর্মচারী এসব ভাতার ওপর বেশি নির্ভরশীল, তাদের জন্য তুলনামূলক বেশি সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

-রফিক


রাস্তায় প্রস্রাব করলেই ডিজিটাল পর্দায় ছবি!

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৫ ১০:৩৫:৫১
রাস্তায় প্রস্রাব করলেই ডিজিটাল পর্দায় ছবি!
ছবি : সংগৃহীত

রাস্তার ধারে যেখানে-সেখানে প্রস্রাব, থুতু ফেলা কিংবা পানের পিক ছড়িয়ে জনপরিসর নোংরা করার প্রবণতা রোধে অভিনব এক উদ্যোগ নিয়েছে ভারতের আসাম রাজ্যের তিনসুকিয়া পৌরসভা। প্রচলিত জরিমানা, সচেতনতামূলক প্রচারণা এবং প্রশাসনিক অভিযানে কাঙ্ক্ষিত ফল না মেলায় এবার প্রযুক্তিনির্ভর সামাজিক জবাবদিহিতার পথ বেছে নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

নতুন এই ব্যবস্থায় শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়, ব্যস্ত সড়ক ও জনসমাগমস্থলে বড় আকারের ডিজিটাল ডিসপ্লে স্থাপন করা হয়েছে। এসব স্থানে বসানো সিসিটিভি ক্যামেরায় কেউ প্রকাশ্যে প্রস্রাব বা অনুরূপ অস্বাস্থ্যকর আচরণ করতে ধরা পড়লে তার ছবি বা ভিডিও তাৎক্ষণিকভাবে ওই ডিজিটাল স্ক্রিনে প্রদর্শন করা হচ্ছে। ফলে ঘটনাটি জনসম্মুখে প্রকাশ পেয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সামাজিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন।

পৌর কর্তৃপক্ষ এই উদ্যোগের নাম দিয়েছে ‘হল অব শেম’ (Hall of Shame)। প্রশাসনের ভাষ্য, শুধু আর্থিক জরিমানা নয়, বরং সামাজিক দায়বদ্ধতা ও জনসম্মুখে লজ্জাবোধ তৈরি করাই এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। তাদের বিশ্বাস, এমন ব্যবস্থা মানুষকে জনসমক্ষে অসচেতন আচরণ থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত করবে এবং শহরের পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বহু বছর ধরে পরিচ্ছন্ন শহর গড়তে নিয়মিত সচেতনতামূলক প্রচারণা, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং জরিমানার ব্যবস্থা চালু থাকলেও অনেক মানুষ এখনো প্রকাশ্যে প্রস্রাব ও থুতু ফেলার অভ্যাস পরিবর্তন করেননি। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় প্রযুক্তির সহায়তায় আচরণগত পরিবর্তন আনতেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

উদ্যোগটি চালুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই এটিকে জনস্বার্থে সাহসী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, জনপরিসরের পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় নাগরিকদের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে শুধু আইন নয়, সামাজিক জবাবদিহিতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে এই কর্মসূচিকে ঘিরে সমালোচনাও কম নয়। নাগরিক অধিকারকর্মী ও গোপনীয়তা বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, কোনো ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া তার ছবি বা ভিডিও প্রকাশ্যে প্রদর্শন করা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। তাদের মতে, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষাও সমানভাবে বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ কার্যকর করতে হলে স্থানীয় আইন, তথ্য সুরক্ষা নীতি এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

এখন সবার নজর তিনসুকিয়ার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের ফলাফলের দিকে। প্রযুক্তি, সামাজিক চাপ এবং জনসচেতনতার সমন্বয়ে ‘হল অব শেম’ প্রকল্পটি সত্যিই রাস্তার ধারে প্রস্রাব ও অন্যান্য অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস কমাতে পারে কি না, সেটিই আগামী দিনে স্পষ্ট হবে।

-রাফসান


যেদিন থেকে শিশুদের টাইফয়েডের নতুন টিকা শুরু

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৫ ১০:২১:৩১
যেদিন থেকে শিশুদের টাইফয়েডের নতুন টিকা শুরু
ছবি : সংগৃহীত

দেশের শিশুদের টাইফয়েড জ্বর থেকে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা দিতে জাতীয় নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে (ইপিআই) নতুন একটি ভ্যাকসিন যুক্ত করতে যাচ্ছে সরকার। আগামী ১ আগস্ট ২০২৬ থেকে ‘টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (টিসিভি)’ দেশের সব সরকারি নিয়মিত টিকাদান কেন্দ্রের মাধ্যমে নির্ধারিত বয়সী শিশুদের দেওয়া হবে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এ উদ্যোগ শিশুদের মধ্যে টাইফয়েডের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সোমবার (১৩ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন এ সিদ্ধান্তের কথা জানায়। এতে বলা হয়, শিশুদের প্রতিরোধযোগ্য সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে সুরক্ষা আরও শক্তিশালী করতেই জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ১৫ মাস বয়স পূর্ণ হওয়া প্রতিটি শিশুকে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির অংশ হিসেবে এক ডোজ টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। এই টিকা দেশের সব স্থায়ী ও অস্থায়ী ইপিআই কেন্দ্র থেকে বিনামূল্যে পাওয়া যাবে।

ইপিআইর কারিগরি নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, শিশুর বাম ঊরুর মধ্যভাগের বাইরের অংশের মাংসপেশিতে ০.৫ মিলিলিটার মাত্রার এক ডোজ টিসিভি প্রয়োগ করা হবে। একই টিকাদান সেশনে এমআর-২ (হাম ও রুবেলা) টিকার সঙ্গে এই ভ্যাকসিন নিরাপদভাবে একসঙ্গে দেওয়া যাবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, নতুন টিকাদান কার্যক্রম কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা আরও জোরদার করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ১৫ মাস বয়সী শিশুদের তালিকা প্রস্তুত করবেন এবং সরকারি ‘VaxEPI’ অ্যাপের মাধ্যমে তাদের নিবন্ধন সম্পন্ন করবেন। এর ফলে কোনো শিশু যেন টিকাদান কর্মসূচির বাইরে না থাকে, সেটি নিশ্চিত করা সহজ হবে।

অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ইমাম, ধর্মীয় নেতা এবং কমিউনিটি পর্যায়ের ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করে ব্যাপক প্রচারাভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উঠান বৈঠক, জনসচেতনতামূলক সভা এবং বিভিন্ন তথ্যভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে টিকার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করা হবে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে টাইফয়েড এখনো শিশুদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা। দূষিত পানি ও খাদ্যের মাধ্যমে ছড়ানো এই ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ থেকে গুরুতর জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন অন্তর্ভুক্ত হওয়া শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিকে আরও আধুনিক, কার্যকর এবং আন্তর্জাতিক মানসম্মত করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই নতুন ভ্যাকসিন যুক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এর মাধ্যমে আগামী বছরগুলোতে দেশে শিশুদের মধ্যে টাইফয়েড সংক্রমণ ও এ-সংক্রান্ত জটিলতা উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে।

-রফিক


আজ প্রাথমিক শিক্ষা পদক দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৫ ১০:০৬:০১
আজ প্রাথমিক শিক্ষা পদক দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় অবদান রাখা শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি দিতে আজ (বুধবার, ১৫ জুলাই) অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠান। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পদক ও সম্মাননা তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এই জাতীয় আয়োজনের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষায় কৃতিত্ব, সৃজনশীলতা এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগকে উৎসাহিত করা হবে। একই সঙ্গে শিক্ষা খাতের বিভিন্ন সফল উদ্যোগও দেশের সামনে তুলে ধরা হবে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের শিক্ষা-সংক্রান্ত অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় শিশুদের সৃজনশীলতা, নেতৃত্ব, যুক্তিবোধ এবং বহুমাত্রিক দক্ষতা বিকাশে সারা দেশে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিষয়ভিত্তিক কুইজ, কাবিং এবং বিতর্ক প্রতিযোগিতা উপজেলা পর্যায় থেকে শুরু হয়ে জেলা, বিভাগ এবং জাতীয় পর্যায়ে সম্পন্ন হয়েছে।

এবারের প্রতিযোগিতাগুলোতে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মোট ২ কোটি ১৮ লাখ ২৮ হাজার ৬৯৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। দীর্ঘ বাছাই প্রক্রিয়া শেষে জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচিত সেরা শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’।

শুধু শিক্ষার্থীরাই নন, প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানও এ অনুষ্ঠানে জাতীয় স্বীকৃতি পাবেন। ব্যক্তি পর্যায়ে ১৫টি ক্যাটাগরিতে দেশের ১২ হাজার ৩৮৪ জন মনোনীত প্রার্থীর মধ্য থেকে নির্বাচিত শ্রেষ্ঠদের সম্মাননা দেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে দুটি ক্যাটাগরিতে দেশের ৬৫ হাজার ৫৪৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সেরা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও পুরস্কৃত করা হবে।

অনুষ্ঠানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন হচ্ছে সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একযোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন। পরিবেশবান্ধব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে জলবায়ু সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

এছাড়া অনুষ্ঠানে দেশের ৬৪ জেলার প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমের বিভিন্ন উদ্ভাবনী উদ্যোগ, সফল প্রকল্প এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে নেওয়া কার্যক্রম প্রদর্শন করা হবে। জেলা পর্যায়ের স্টলগুলোতে ‘স্কুল ফিডিং’, ‘আনন্দময় শিক্ষা’, ‘ডিজিটাল শিক্ষা’, ‘ফাউন্ডেশনাল লার্নিং’সহ শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন আধুনিক উদ্যোগ দর্শনার্থীদের সামনে উপস্থাপন করা হবে।

-রাফসান


শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আত্মসমর্পণের সুযোগ নেই, গ্রেফতারের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৪ ২১:৫৬:৪৫
শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আত্মসমর্পণের সুযোগ নেই, গ্রেফতারের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
ছবি : সংগৃহীত

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁর আর আত্মসমর্পণের কোনো আইনি সুযোগ থাকবে না, বরং তাঁকে সরাসরি গ্রেফতার করে আদালতের দেওয়া রায় কার্যকর করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরকারের এই কঠোর ও স্পষ্ট অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

গণআন্দোলনের মুখে সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিবেশী দেশ ভারতে আশ্রয় নেওয়া ক্ষমতাচ্যুত এই প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে জুলাই গণহত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা রুজু হয় এবং দেশের আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা প্রদান করেন। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা জানান, তিনি আগামী ডিসেম্বরের দিকে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন এবং দেশে ফিরে তিনিসহ তাঁর অধুনালুপ্ত ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন।

বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুক্রবার পর্যন্ত প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা এই টেলিফোন সাক্ষাৎকারের বরাত দিয়ে রয়টার্স উল্লেখ করেছে, ২০২৪ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এই প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে সরাসরি সাক্ষাৎকার দিলেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। দীর্ঘ দুই বছর যাবত ভারতের আশ্রয়ে থাকার পর এখন তিনি স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে আদালতের মুখোমুখি হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে সাক্ষাৎকারে দাবি করেন।

নিজের নিরাপত্তা ও দেশে ফেরার ঝুঁকি প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা রয়টার্সকে বলেন, বাংলাদেশে পা রাখার পর বর্তমান সরকার আমাকে গ্রেফতার করতে পারে, এমনকি আমার জীবননাশের আশঙ্কাও রয়েছে; তা সত্ত্বেও আমাকে দেশে ফিরতেই হবে। তিনি অভিযোগ করেন, দেশে তাঁর দলের নেতাকর্মীদের ওপর তীব্র দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে। জীবনের চূড়ান্ত ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, যদি আমার মৃত্যুও অবধারিত হয়, তবুও আমি নিজের দেশের মাটিতেই মরতে চাই— যেখানে আমার বাবা-মা সমাহিত আছেন এবং যেখানে তাঁদের রক্ত মিশে রয়েছে।

/আশিক


দুর্যোগে পরীক্ষা দিতে না পারলে প্রয়োজনে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৪ ১৮:১১:৫২
দুর্যোগে পরীক্ষা দিতে না পারলে প্রয়োজনে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বৈরী আবহাওয়ার কারণে কোনো শিক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলে, প্রয়োজনে তাদের জন্য পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে তিনি শিক্ষার্থীদের কোনো ধরনের বিভ্রান্তিতে না ভুগে পড়ার টেবিলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। মন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, দেশের সার্বিক অবস্থা এবং মাঠপর্যায়ের স্থানীয় প্রশাসনের মতামত পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করেই পরীক্ষা যথাসময়ে নেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এছাড়া, পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ভুল থাকার কারণে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীদের ওই প্রশ্নের জন্য সম্পূর্ণ নম্বর (ফুল ক্রেডিট) দেওয়া হবে বলেও তিনি জাতীয় সংসদকে আশ্বস্ত করেন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান।

সংসদ অধিবেশনে স্পিকারের মাধ্যমে সম্পূরক প্রশ্ন উত্থাপন করে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, এইচএসসির মতো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা, যার ওপর শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ উচ্চশিক্ষা ও জীবনের গতিপথ নির্ভর করে, সেটি পদার্থবিজ্ঞানের মতো কঠিন বিষয়ের দিন কেন মাত্র এক বা দুই দিনের জন্য পিছিয়ে দেওয়া গেল না, তা মন্ত্রীর কাছে জানতে চান।

রুমিন ফারহানার প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী জানান, সারা দেশে প্রায় ২ হাজার ৭০০টি কেন্দ্রে একযোগে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়িসহ পুরো চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা আগেই স্থগিত করা হয়েছিল। চলমান পরিস্থিতির ওপর সরকার সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখছিল এবং ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি), আটটি বিভাগীয় কমিশনার, প্রতিটি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা হয়েছিল।

এমনকি আবহাওয়া পূর্বাভাসের জন্য সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামতও নেওয়া হয়। আবহাওয়াবিদরা বৃষ্টি হবে না এবং পরিস্থিতি অনুকূলে থাকবে বলে আশ্বস্ত করার পর, পরীক্ষার আগের দিন বিকেল ৫টা পর্যন্ত অপেক্ষা করে যথাসময়ে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

মন্ত্রী বলেন, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী বিকেল ৫টা পর্যন্ত বসে থেকে আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম, কারণ সবাই বলেছিল আবহাওয়া ভালো হবে। কিন্তু সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখা যায় কুমিল্লা সরকারি কলেজের মাঠ পানিতে তলিয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতি দেখার পরপরই আমি দ্রুত ওই পরীক্ষাকেন্দ্রটি স্থানান্তরের নির্দেশ দিই। এ ছাড়া সারা দেশের ইউএনও এবং জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, দেশের অন্য কোথাও পরীক্ষা নিয়ে এমন বড় কোনো বিপর্যয় ঘটেনি। যে ছাত্রীর কাপড় ভিজে গিয়েছিল, তার জন্য বিকল্প শুকনো কাপড়ের ব্যবস্থা করে এক ঘণ্টা পর তার পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে এবং তার পরীক্ষার সময়সীমাও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।

পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ত্রুটির বিষয়ে মন্ত্রী ব্যাখ্যা দেন যে, প্রশ্নপত্র পরিমার্জন বা মডারেশনের কাজটির প্রক্রিয়া পরীক্ষা শুরুর অন্তত দুই বছর আগে থেকেই শুরু করতে হয়। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র চার মাস অতিবাহিত হয়েছে, যার ফলে এই প্রশ্নগুলো বিগত সরকারের আমলের মডারেটরদের তৈরি করা। তা সত্ত্বেও, পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ভুল থাকার বিষয়টি চিহ্নিত হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে ওই দুটি প্রশ্নের বিপরীতে পরীক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ নম্বর দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য মার্জিয়া বেগমের অন্য এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি সাধারণ বা বিশেষায়িত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রূপান্তরের যে দাবি উঠেছে, তা সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের খসড়া আইনের ভেটিংয়ের কাজ চলছে। ইউরোপ ও আমেরিকার পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একটি বিশেষায়িত ‘স্কুল অব এগ্রিকালচার’ বা কৃষি অনুষদ গড়ে তোলা হবে, যা এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটাবে।

পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বন্যায় বা দুর্যোগে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের সেই ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়া সরকারের জন্য বড় কোনো কঠিন কাজ নয়। অনেক জায়গায় ইতিমধ্যেই পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছে। বিকল্প প্রশ্নপত্রের সেট মজুত রয়েছে এবং প্রয়োজনে তাদের পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হবে। প্রশাসনিক দুর্বলতা কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি ওঠার কারণে কোনো শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে না পারলে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে, যেমনটি চট্টগ্রাম বোর্ডে করা হয়েছে। তাই তিনি শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে মনোযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা এবং দুর্যোগ মোকাবিলা নিয়ে শিক্ষার্থীদের চেয়ে সরকারই বেশি উদ্বিগ্ন।

/আশিক


তারুণ্য ও উদ্ভাবনে জোর, ঢাবিতে প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ সফর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৪ ১১:০৩:০১
তারুণ্য ও উদ্ভাবনে জোর, ঢাবিতে প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ সফর
ছবি : সংগৃহীত

সরকার গঠনের পর দ্বিতীয়বারের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সফর করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বেলা সোয়া ১০টার দিকে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে পৌঁছালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এ সময় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সিন্ডিকেট সদস্য এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে অভ্যর্থনা জানান। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্যাম্পাসজুড়ে নেওয়া হয় বিশেষ ব্যবস্থা।

সফরের মূল আকর্ষণ ছিল ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক জাতীয় অনুষ্ঠানের উদ্বোধন। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচির লক্ষ্য দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করা, প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তা তৈরি এবং তরুণদের উদ্ভাবনী সক্ষমতা বিকাশে নতুন দিকনির্দেশনা প্রদান।

অনুষ্ঠানে দেশের উদীয়মান স্টার্টআপ খাতের বর্তমান অবস্থা, বিনিয়োগের সুযোগ, প্রযুক্তিভিত্তিক কর্মসংস্থান, ডিজিটাল উদ্ভাবন এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের অগ্রগতি তুলে ধরে একটি প্রামাণ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হয়।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্য দেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা। স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান। সমাপনী পর্বে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সফল স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় পর্ব। সেখানে বিভিন্ন উদ্যোক্তা নিজেদের সফলতার গল্প, চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনার বিষয় তুলে ধরেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের একটি মুক্ত মতবিনিময় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তরুণরা সরাসরি নিজেদের ভাবনা, প্রশ্ন ও উদ্ভাবনী পরিকল্পনা তুলে ধরার সুযোগ পান।

এ ছাড়া নির্বাচিত উদ্যোক্তাদের মধ্যে অনুদানের চেক বিতরণ এবং ‘জাতীয় স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্ম’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব উদ্যোক্তা উদ্যোগে রূপ দেওয়ার পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগ, মেন্টরশিপ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা আরও সহজ হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে ডিজিটাল অর্থনীতি এবং জ্ঞানভিত্তিক শিল্পের বিকাশে স্টার্টআপ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি রপ্তানি বৃদ্ধি এবং অর্থনীতিকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করার ক্ষেত্রে এ ধরনের উদ্যোগ ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তারেক রহমানের দ্বিতীয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সফর। এর আগে গত ১২ মে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) উদ্যোগে আয়োজিত ‘Transforming Higher Education in Bangladesh: Roadmap to Sustainable Excellence’ শীর্ষক জাতীয় কর্মশালায় অংশ নিয়েছিলেন। ধারাবাহিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা এবং প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনী কার্যক্রমে সরকারের অংশগ্রহণকে উচ্চশিক্ষা ও উদ্যোক্তা উন্নয়নের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

-রফিক


সবাই মিলে স্বৈরাচার হটিয়েছি, এবার আসুন দেশ গড়ি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৩ ১৯:৪৫:২৫
সবাই মিলে স্বৈরাচার হটিয়েছি, এবার আসুন দেশ গড়ি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় ঐক্য ও দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে দেশের সর্বস্তরের মানুষের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, কিছুদিন আগে দল, মত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সব মানুষ যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়েছে, ঠিক একইভাবে এখন সবাইকে মিলেমিশে দেশের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করতে হবে। সোমবার (১৩ জুলাই) বরিশালের ঐতিহ্যবাহী ত্রিশ গোডাউন বধ্যভূমি এলাকায় সাগরদী খালের পাড়ে দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান।

উদ্বোধনী বক্তব্যে ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজনৈতিক মতাদর্শ ভুলে দেশের সব ধর্মের ও সব পেশার মানুষ যেভাবে একসঙ্গে লড়াই করে দেশ স্বাধীন করেছিল, ঠিক কদিন আগেও দেশের আপামর জনতা রাজপথে নেমে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আমরা যদি সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশের ও জনগণের কল্যাণে কাজ করতে পারি, তবে তার সুফল দেশের প্রতিটি নাগরিক ভোগ করবে। প্রধানমন্ত্রী বধ্যভূমি এলাকায় একটি নারিকেল গাছের চারা রোপণ করে কর্মসূচির সূচনা করেন এবং পরে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।

প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করা কেবল সরকার বা সিটি কর্পোরেশনের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এর জন্য সামাজিক সচেতনতা ও সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন। তিনি উপস্থিত সবার উদ্দেশ্যে বলেন, বৃক্ষরোপণের এই দিনে সবাইকে প্রতিজ্ঞা করতে হবে যে আমরা প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে চারপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখব। তিনি দেশের নাগরিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যার যার ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও কার্যালয়ের চারপাশের আঙিনা সুন্দর ও দূষণমুক্ত রাখার পরামর্শ দেন।

ত্রিশ গোডাউন সংলগ্ন সাগরদী খালের কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই খালের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার দায়িত্ব স্থানীয় বাসিন্দাদেরও। পার্কে ঘুরতে আসা সাধারণ মানুষ অনেক সময় ব্যবহৃত প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন কিংবা টিস্যু পেপার খালের পানিতে ফেলে দেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি সবাইকে এসব বর্জ্য নির্দিষ্ট বিনে ফেলার অনুরোধ জানান এবং সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে মাইকিং করার নির্দেশনা দেন।

খালের পানি দূষণমুক্ত রাখার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, খালের অপর পাড়ে কিছু আবাসিক ভবনের সুয়ারেজ ও ড্রেনেজ লাইনের সংযোগ সরাসরি খালের সাথে যুক্ত করা হয়েছে। তিনি সিটি কর্পোরেশনকে দ্রুত একটি সমন্বিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, খালের পানিতে ময়লা পানি বা বর্জ্যের সংযোগ দেওয়া বন্ধ করতে হবে, অন্যথায় প্রাকৃতিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নিজেদের ঘর গোছানোর মতো করে যদি আমরা নিজেদের এলাকা বা দেশ পরিষ্কার না রাখি, তবে এর ক্ষতিকর প্রভাব আমাদের ওপরই পড়বে। নিজের দেশের সম্পদ নষ্ট করে অন্য দেশের সুন্দর জায়গা দেখে আফসোস করার কোনো মানে হয় না।

পরিবেশ সুরক্ষার এই কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর সাথে পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, নৌ প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মজিবুর রহমান সারোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মাসুদ আহমেদ তালুকদার এবং সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বিলকিস জাহান শিরিনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ অংশ নেন এবং খালের দুপাড়ে বৃক্ষরোপণ করেন। এ সময় উপস্থিত দলীয় নেতাকর্মীরা স্লোগানে স্লোগানে অনুষ্ঠানস্থল মুখরিত করে তোলেন। উদ্বোধনী পর্ব শেষে প্রধানমন্ত্রী বরিশাল সার্কিট হাউসে গিয়ে জোহরের নামাজ আদায় ও মধ্যাহ্নভোজ সম্পন্ন করেন। সফরসূচি অনুযায়ী বিকেলে শিল্পকলা একাডেমিতে স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে তাঁর বরিশাল সফর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

/আশিক


আইএমএফের নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শেষে যা বললেন অর্থমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৩ ১৮:২৪:০৮
আইএমএফের নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শেষে যা বললেন অর্থমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে নতুন একটি ঋণ কর্মসূচিতে যুক্ত হতে যাচ্ছে এবং বর্তমানে এই ঋণের শর্ত ও নীতিমালা নির্ধারণের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সোমবার (১৩ জুলাই) সচিবালয়ে আইএমএফ মিশনের প্রধান ইভো ক্রজনারের নেতৃত্বে সফরকারী একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উল্লেখ করেন, নতুন এই ঋণ সহায়তার অংশ হিসেবে আইএমএফ পর্যায়ক্রমে কিছু অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছে। তবে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং জনগণের চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার নিজস্ব বিবেচনা অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি আরও জানান যে, জনগণের প্রতি একটি রাজনৈতিক সরকারের যেসব দায়বদ্ধতা থাকে, আইএমএফের প্রতিনিধি দল সেটিকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেছে।

বৈঠকের বরাত দিয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, দেশের শেয়ারবাজারের উন্নয়ন এবং কর ও জিডিপির অনুপাত বৃদ্ধি সহ অর্থনীতির বেশ কিছু সূচকের অগ্রগতিতে আইএমএফ সন্তোষ প্রকাশ করেছে। তবে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এসব খাতে আরও দৃশ্যমান সংস্কার ও উন্নতির তাগিদ দিয়েছে দাতা সংস্থাটি।

নতুন এই ঋণ কর্মসূচির রূপরেখা চূড়ান্ত করতে আগামী অক্টোবরে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সাধারণ সভায় সংস্থাটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আরও বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে অর্থমন্ত্রী জানান। তিনি নিজেই সেই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষে অংশ নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেবেন বলে নিশ্চিত করেছেন।

/আশিক


শেখ হাসিনা আত্মসমর্পণ করলে আইন অনুযায়ী জেলে যেতে হবে: শামা ওবায়েদ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৩ ১৮:১৮:৩২
শেখ হাসিনা আত্মসমর্পণ করলে আইন অনুযায়ী জেলে যেতে হবে: শামা ওবায়েদ
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের আদালতে সাজাপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করলে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। সোমবার (১৩ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সাথে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে আলাপকালে তিনি সরকারের এই অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেন।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বিবৃতির বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে শামা ওবায়েদ বলেন, একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি কী বক্তব্য দিচ্ছেন, তা বাংলাদেশ সরকারের কাছে গুরুত্ব পাওয়ার কোনো কারণ নেই। দেশের আইনি পরিভাষায় তিনি একজন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি হিসেবেই বিবেচিত।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, আইন সবার জন্য সমান এবং যেকোনো অপরাধী বা দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি আত্মসমর্পণ করলে দেশের বিদ্যমান আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শেখ হাসিনা দেশে ফিরে যার কাছেই আত্মসমর্পণ করুন না কেন, আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে তাকে প্রথমেই কারাগারে যেতে হবে বলে তিনি জানান।

শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সাথে আলোচনার অগ্রগতি সম্পর্কেও কথা বলেন শামা ওবায়েদ। তিনি জানান, ভারতের সাথে বাংলাদেশের নিয়মিত যে দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক আলোচনা ও যোগাযোগ বজায় রয়েছে, সেখানে এই বিষয়টি সবসময়ই গুরুত্বের সাথে অন্তর্ভুক্ত থাকে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: