শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের সুযোগ নেই, দেশে ফেরামাত্র রায় কার্যকর করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৫ ১৮:৩৭:০১
শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের সুযোগ নেই, দেশে ফেরামাত্র রায় কার্যকর করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: কালবেলা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে দেশের ফ্যাসিবাদী রাজনীতির স্থায়ী অবসান এবং অপরাধীদের আইনানুগ বিচারের বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, গণআন্দোলনের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আইনি আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই। তাঁকে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরিয়ে এনে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে আদালতের দেওয়া রায় কার্যকর করা হবে। আর তাঁর ক্ষেত্রে কোনো আপিলের আইনি সুযোগ অবশিষ্ট আছে কি না, তা সম্পূর্ণভাবে দেশের আইন ও আদালত নির্ধারণ করবে।

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত ‘গণঅভ্যুত্থানে বাঁক বদলের দিন’ শীর্ষক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, শেখ হাসিনা ডিসেম্বরের দিকে বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের যে কথা বলছেন, সরকারও তাঁর সেই প্রত্যাবর্তন চায়। তবে তা হবে সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়ায় এবং দেশে ফেরামাত্রই আদালতের রায় অনুযায়ী তাঁকে গ্রেফতার ও শাস্তি কার্যকর করা হবে।

বিদেশে পলাতক অন্যান্য অপরাধীদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, দেশে জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে যারা বিদেশে রাজনৈতিক বা অবৈধ আশ্রয় নিয়েছেন, সেই সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালী সরকারি কর্মকর্তাদের ফিরিয়ে আনতে সরকার ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের (Interpol) মাধ্যমে রেড নোটিশসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, এই ধারাবাহিক আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ বিদেশে গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং খুব শিগগিরই তাঁকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হবে বলে তিনি দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন।

ক্ষমতাচ্যুত দল আওয়ামী লীগের বিচার ও দলটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমেদ স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান সরকার কোনো প্রকার নির্বাহী বা প্রশাসনিক আদেশে কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার পক্ষপাতী নয়। বরং জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সম্পূর্ণ আইনানুগ ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই দল হিসেবে আওয়ামী লীগের সামগ্রিক দায়-দায়িত্ব ও শাস্তি নির্ধারণ করা হবে।

তিনি সংসদকে ও জনগণকে অবহিত করেন যে, ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) আইন এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে প্রয়োজনীয় আইনি সংশোধন আনা হয়েছে, যার ফলে ব্যক্তি অপরাধীর পাশাপাশি আওয়ামী লীগকে দল হিসেবেও কাঠগড়ায় দাঁড় করানো সম্ভব হবে এবং এ বিষয়ে বর্তমানে তদন্ত চলছে।

মন্ত্রী আরও যোগ করেন, দেশের সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যেকোনো দল বা সংগঠনের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে বিচার করার পূর্ণ আইনি সুযোগ রয়েছে। যেহেতু শেখ হাসিনার একক নেতৃত্বে বিগত সরকার পরিচালিত হয়েছে, তাই সেই সরকারের বর্বরোচিত কর্মকাণ্ড ও গণহত্যার সাংগঠনিক দায় সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগকেও বহন করতে হবে।

তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আওয়ামী লীগের শীর্ষ থেকে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সরাসরি এই নৃশংস গণহত্যায় জড়িত ছিলেন এবং দল হিসেবে তারা এই জঘন্য ঘটনার জন্য এখনো পর্যন্ত ন্যূনতম কোনো অনুশোচনা প্রকাশ বা জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেনি। উল্টো তারা জুলাইয়ের ঐতিহাসিক গণআন্দোলনে অংশ নেওয়া বীর ছাত্র-জনতা ও সাধারণ ব্যক্তিদেরই অপরাধী হিসেবে বিশ্বমঞ্চে উপস্থাপনের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক আদেশে কোনো দলকে নিষিদ্ধ করলে তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না, তাই এটি অবশ্যই স্বচ্ছ বিচারিক ও আইনানুগ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই হতে হবে, যাতে দেশে ফ্যাসিবাদী রাজনীতির চিরতরে অবসান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। আওয়ামী লীগের অতীত ইতিহাসের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দলটির পুরো ইতিহাস মূলত গণতন্ত্র ধ্বংস করা, একদলীয় বাকশালী শাসন কায়েম, বিরোধী মতের ওপর দমনপীড়ন ও সহিংসতার ইতিহাস। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের মাটিতে যেন আর কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তির পুনরুত্থান না ঘটে, সেজন্য দেশের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশের ছাত্ররাজনীতি প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ছাত্রসমাজের ইতিহাস সবসময়ই গৌরব ও ত্যাগের। কিন্তু বিগত দিনগুলোতে একটি নির্দিষ্ট ‘মাফিয়া ছাত্রসংগঠন’ তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দিয়ে সেই সোনালী ইতিহাসকে মারাত্মকভাবে কলঙ্কিত করেছে। সরকার ছাত্রসমাজকে সেই কলঙ্কের হাত থেকে মুক্ত করে একটি সুস্থ ধারার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের জাতীয় গুরুত্ব তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের শেষভাগে বলেন, জুলাইয়ের এই মহান বিপ্লব কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা একক কোনো রাজনৈতিক দলের ব্যক্তিগত সম্পদ বা অর্জিত সম্পত্তি নয়। এটি দল-মত নির্বিশেষে সমগ্র বাংলাদেশের অধিকারবঞ্চিত মানুষের দীর্ঘ সংগ্রামের এক যৌথ প্রতীক। তাই এই পবিত্র চেতনাকে নিজেদের রাজনৈতিক ব্যবসার হাতিয়ার বানানো কারও উচিত নয়। জুলাইয়ের মূল শক্তি ও চেতনাকে বুকে ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো সরকার জনগণের ওপর চড়াও হওয়ার বা ফ্যাসিবাদী আচরণ করার দুঃসাহস দেখাতে না পারে।

/আশিক


বাণিজ্য বাধা দূর করতে ঢাকায় ভারতের শীর্ষ ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৭ ২১:৩৮:৪৩
বাণিজ্য বাধা দূর করতে ঢাকায় ভারতের শীর্ষ ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল
ছবি : সংগৃহীত

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বিদ্যমান শুল্ক ও বন্দরসংক্রান্ত বাধা নিরসনের লক্ষ্য নিয়ে দুই দিনের সফরে ঢাকায় পৌঁছেছে ভারতের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠন কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির (সিআইআই) ১৮ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। সোমবার (১৭ আগস্ট) প্রতিনিধিদলটি রাজধানী ঢাকায় এসে পৌঁছায়।

সিআইআই-এর মহাপরিচালক চন্দ্রজিৎ ব্যানার্জীর নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদলে ভারত বায়োটেক, মাহিন্দ্রা গ্রুপ, গোদরেজ ইন্ডাস্ট্রিজ, অরবিন্দ লিমিটেড, ফোর্বস মার্শাল ও অ্যাপোলো হসপিটালসের মতো শীর্ষ করপোরেট প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ নির্বাহীরা রয়েছেন।

সফরকালে প্রতিনিধিদলটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরসহ সরকারের শীর্ষ নীতি-নির্ধারক ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সঙ্গে বৈঠক করবে। এছাড়া মঙ্গলবার দেশের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন এফবিসিসিআই ও বাংলাদেশি ব্যবসায়ী নেতাদের সাথে তাঁদের একটি যৌথ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

গত দুই বছরে বন্দরসংক্রান্ত বিভিন্ন বিধিনিষেধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য গতিশীল করতে এই সফরকে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

/আশিক


২০২৮-২৯ থেকে নতুন অর্থবছর: ৯ মাসের অন্তর্বর্তী বাজেট ২০২৭-২৮ অর্থবছরে

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৭ ২১:৩৪:৪৯
২০২৮-২৯ থেকে নতুন অর্থবছর: ৯ মাসের অন্তর্বর্তী বাজেট ২০২৭-২৮ অর্থবছরে
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের অর্থবছরের বিদ্যমান সময়কাল (১ জুলাই থেকে ৩০ জুন) পরিবর্তন করে ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ নির্ধারণের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সোমবার (১৭ আগস্ট) অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

মন্ত্রিসভার গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই পরিবর্তন বাস্তবায়নের জন্য ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে রূপান্তরকালীন (ট্রানজিশনাল) অর্থবছর হিসেবে গণ্য করা হবে, যার মেয়াদ হবে ৯ মাস (১ জুলাই থেকে ৩১ মার্চ)। এরপর ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গভাবে ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ অর্থবছর গণনা শুরু হবে।

সরকার জানিয়েছে, প্রচলিত অর্থবছরের শুরুতে (জুলাই-আগস্ট) বর্ষাকাল থাকায় দেশের সার্বিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বৃষ্টির কারণে ব্যাহত হয়, কাজের মান খারাপ হয় এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। নতুন সময়সূচি চালু হলে বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই প্রধান প্রধান উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

এই রূপান্তর কার্যকর করার লক্ষ্যে সংবিধান ও ‘জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট, ১৮৯৭’-এ প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হবে। এছাড়া অর্থ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও লেজিসলেটিভ বিভাগের সমন্বয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন এবং সরকারের ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিতে প্রযুক্তিগত হালনাগাদ করা হবে।

/আশিক


বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সহজ হচ্ছে ভিসা নীতি: শিক্ষামন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৭ ১৮:৩৫:৫১
বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সহজ হচ্ছে ভিসা নীতি: শিক্ষামন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের আগমন সহজতর করতে ভিসা নীতি সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি উল্লেখ করেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিদেশি শিক্ষার্থীরা সহজে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাবেন, যা বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আকর্ষণীয় শিক্ষাকেন্দ্রে পরিণত করতে সাহায্য করবে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘কিউএস বাংলাদেশ ফোরাম ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের ৯০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা এই ফোরামে অংশ নেন।

শিক্ষার মানোন্নয়ন ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বাড়াতে তিনি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই), কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা (টিভিইটি) এবং উচ্চতর গবেষণার ওপর জোর দেন। মন্ত্রী বলেন, জনসংখ্যাকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে কারিগরি শিক্ষা ও এআইয়ের ব্যবহার প্রসারিত করতে হবে। কিউএস র‍্যাংকিংয়ে দেশের অবস্থান এগিয়ে নিতে গবেষণার মান বৃদ্ধির পাশাপাশি ‘ক্রস-বর্ডার এডুকেশন’ ব্যবস্থার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বিদেশে থাকা বাংলাদেশি মেধাবীদের ‘রিভার্স ব্রেইন ড্রেইন’-এর মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে এনে জাতীয় উন্নয়নে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক এডুকেশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার মতো যথেষ্ট সামর্থ্য দেশের রয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এছাড়া অ্যাসোসিয়েশন অব প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিজ অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান, এআইইউবির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য ইশতিয়াক আবেদিন, কিউএসের চিফ কমার্শিয়াল অফিসার জেসন নিউম্যান ও কিউএস ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান ড. অশ্বিন ফার্নান্দেজ বক্তব্য দেন।

/আশিক


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি সফরের আমন্ত্রণ জানালেন মোহাম্মদ বিন সালমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৭ ১৮:১২:৫৫
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি সফরের আমন্ত্রণ জানালেন মোহাম্মদ বিন সালমান
ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি আরব সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দেশটির ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ।

সোমবার (১৭ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তাঁর হাতে এই আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তর করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফের এইচ. বিন আবিয়াহ।

প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব শাহাদাত হোসেন স্বাধীন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সৌদি যুবরাজের পক্ষে রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রীর কাছে সরকারি সফরের এ আমন্ত্রণ পৌঁছে দেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সফরের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি ও কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতার বিষয়ে পরবর্তী সময়ে উভয় দেশের পক্ষ থেকে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

/আশিক


শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে ফিরলেও পাবেন না বিলম্ব মার্জনা: ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৬ ২১:২৫:১২
শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে ফিরলেও পাবেন না বিলম্ব মার্জনা: ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশন
ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) বিচারিক কার্যক্রম সম্পর্কে ‘জানতেন না’ দাবি করে দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোনো বিলম্ব মার্জনা বা তামাদি মওকুফের সুযোগ পাবেন না বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম।

রোববার ট্রাইব্যুনালে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার বক্তব্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, পলাতক ব্যক্তিরা ফিরে এসে সাধারণত বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কে অজ্ঞাত থাকার দাবি তুলে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে শেখ হাসিনাসহ এই মামলার আসামিরা নিয়মিত বক্তব্য দিচ্ছেন এবং সংবাদমাধ্যমে মামলা ডিফেন্ড করছেন। ফলে কার্যক্রম সম্পর্কে তারা অবগত ছিলেন—তা স্পষ্ট এবং এ কারণে ট্রাইব্যুনালে এসে তাদের বিলম্ব মওকুফ চাওয়ার কোনো আইনি সুযোগ থাকবে না।

মামলার বিচারিক অগ্রগতি প্রসঙ্গে প্রসিকিউটর উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের পর প্রায় এক বছর ধরে আইনসম্মত নিয়ম ও পর্যাপ্ত সময় মেনেই ট্রায়াল পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো বা বিলম্ব কোনোটিই করা হচ্ছে না।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও জানান, বাংলাদেশি আদালতের পরোয়ানা বা দণ্ডাদেশ থাকলে আইনগতভাবেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করার বিধান রয়েছে।

/আশিক


জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়তে চায় সরকার: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৬ ২০:২৬:২৮
জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়তে চায় সরকার: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দেশে একটি জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। রোববার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে 'বায়োটেড' (BioTED) ও 'সমরু বায়োসায়েন্স' (Somru BioScience) আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সরকারের প্রধান অগ্রাধিকারগুলোর একটি হলো উচ্চমানের কর্মসংস্থান (হাই-অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট) সৃষ্টি করা। জাতীয় অর্থনীতিতে ওষুধ শিল্পের অবদান আরও বাড়াতে সরকার সম্ভাব্য সব ধরনের নীতিগত সহায়তা দেবে। তবে প্রকৃত প্রবৃদ্ধি অর্জনের আগে এ খাতের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং প্রয়োজনীয় কৌশল প্রণয়ন জরুরি বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বর্তমানে দেশের মোট চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশ ওষুধ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হচ্ছে এবং বিশ্বের ১৬৬টি দেশে তা রপ্তানি হচ্ছে। ২০২৫ অর্থবছরে এই খাত থেকে প্রায় ২১৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয় হয়েছে। বক্তারা মত দেন, জেনেরিক ওষুধের শক্তিশালী ভিত কাজে লাগিয়ে এখন উচ্চমূল্যের বায়োলজিকস, বায়োসিমিলার ও ভ্যাকসিন উৎপাদনের দিকে নজর দেওয়া উচিত। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে ১১৮টি বায়োলজিকস ওষুধের পেটেন্ট মেয়াদ শেষ হতে চলায় আন্তর্জাতিক বাজারে ২৩২ বিলিয়ন ডলারের বেশি বায়োসিমিলার ওষুধের বাজার উন্মুক্ত হচ্ছে।

বায়োফার্মা খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বৈঠকে ৫ দফা নীতি প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে বায়োলজিকস ও ভ্যাকসিনের জন্য ১০ বছর মেয়াদী কৌশলপত্র তৈরি, যৌথ গবেষণা অবকাঠামোতে বিনিয়োগ, আন্তর্জাতিক মানের নিয়ন্ত্রক সক্ষমতা বৃদ্ধি, গবেষণা ও উন্নয়নে (R&D) বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো এবং মানসম্মত ওষুধের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণ।

/আশিক


নারীদের অনার্স পর্যন্ত পড়াশোনা ফ্রি করার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৬ ১৯:৩৩:৫৬
নারীদের অনার্স পর্যন্ত পড়াশোনা ফ্রি করার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
ছবি : সংগৃহীত

দেশের নারী সমাজকে এগিয়ে নিতে স্নাতক (অনার্স) শ্রেণি পর্যন্ত নারীদের বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়িঘাট এলাকায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত, জেলেদের মাঝে পোনা বিতরণ ও স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারী শিক্ষাকে উৎসাহিত করতে উচ্চমাধ্যমিক (ইন্টারমিডিয়েট) পর্যন্ত অবৈতনিক করেছিলেন। দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীকে পেছনে রেখে সামগ্রিক উন্নয়ন অসম্ভব বিবেচনায় বর্তমান সরকার নারীদের স্নাতক পর্যন্ত পড়াশোনার যাবতীয় খরচ বহন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি ভালো ফলাফলকারী ছাত্রীদের জন্য বিশেষ উপবৃত্তির ব্যবস্থাও রাখা হবে।

প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসচ্ছল পরিবারের প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ শিশুর হাতে নতুন বইয়ের পাশাপাশি প্রতি বছর বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস ও স্কুল ব্যাগ পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

নারীদের স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ প্রসঙ্গে তারেক রহমান জানান, সংসার পরিচালনাকারী নারীদের আর্থিক নিরাপত্তা দিতে প্রতিশ্রুত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ শুরু হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের চার কোটি পরিবারের নারী প্রধানের হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার অংশ হিসেবে এদিন কিশোরগঞ্জ জেলায় এর কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। এছাড়া স্থানীয় নদী ও জলাশয়ে মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধিতে নেওয়া উদ্যোগের সুফল দেশের মানুষই পাবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলমসহ স্থানীয় মৎস্যজীবী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।

/আশিক


গত ১৭ বছরের সব হত্যাকাণ্ডের বিচার করা হবে: আইনমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৬ ১৮:২০:৫০
গত ১৭ বছরের সব হত্যাকাণ্ডের বিচার করা হবে: আইনমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

বিগত ১৭ বছরে সংঘটিত প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশে ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক কারণে বিগত সময়ে বিএনপির ৬০ লাখেরও বেশি নেতাকর্মীর নামে মামলা দায়ের করা হয়েছিল, যেখানে বহু বছর আগে মৃত্যুবরণ করা ব্যক্তিদেরও আসামি করা হয়।

রোববার (১৬ আগস্ট) বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির আধুনিক দশতলা ভবনের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী স্মৃতিচারণ করে বলেন, ১/১১ পটপরিবর্তনের সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনীতি ছেড়ে বিদেশ চলে যাওয়ার জন্য চাপ ও প্রলোভন দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর সন্তানদের প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল; কিন্তু তিনি দেশ ও জনগণ ছেড়ে যাননি। বিপরীতে অন্য রাজনৈতিক নেতৃত্ব সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করে দেশত্যাগ করেছিলেন।

বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই সরকার জনগণের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সব পরিবারকে এই সহায়তার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারের কৃচ্ছ্রসাধনের উদাহরণ দিয়ে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যাতায়াতে ঢাকার সড়কে বহরের ২৮টি গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে মাত্র ৪টিতে নামিয়ে আনা হয়েছে, যা ব্যয় কমানোর পাশাপাশি নাগরিক ভোগান্তিও হ্রাস করেছে। একই সাথে বিচার বিভাগের অতীত অনিয়ম ও হস্তক্ষেপের সংস্কৃতি বন্ধ করে সম্পূর্ণ স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যয় জানান তিনি।

বিশ্ব পরিস্থিতির প্রভাব নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা ও যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লেও সরকার যথাসম্ভব দীর্ঘ সময় অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করেছে।

বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। এতে প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিন। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. মজিবর রহমান সরোয়ার, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরীন, জেলা পরিষদ প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান এবং জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ ফারুক হোসেন।

/আশিক


বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট কাটতে কমপক্ষে দুই বছর লাগবে: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৬ ১৮:০৯:২৫
বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট কাটতে কমপক্ষে দুই বছর লাগবে: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী
ছবি : সংগৃহীত

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের চলমান সংকট পুরোপুরি দূর করতে অন্তত দুই বছর সময় প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি উল্লেখ করেছেন, মাত্র ছয় মাস বা এক বছরে এই জটিল সমস্যার পূর্ণ সমাধান সম্ভব নয়; তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি সহনীয় মাত্রায় আনতে সরকার নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আমেরিকা বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস নিয়ে যে সংকট চলছে, তা বর্তমান সরকারের তৈরি নয় বরং অতীত থেকে পাওয়া উত্তরাধিকার। তিনি স্পষ্ট করেন, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে আগামী ছয় মাস কিংবা এক বছরেও এই সংকট পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়, এর জন্য কমপক্ষে দুই বছর সময় লাগবে। বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না রেখে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ধরে রাখা অসম্ভব বলেও তিনি স্বীকার করেন।

গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধির উদ্যোগ সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী জানান, ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) ও স্থলভাগে গ্যাস সংরক্ষণাগার (অনশোর স্টোরেজ) নির্মাণের বিষয়গুলো চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এ সংক্রান্ত বিস্তারিত পদক্ষেপ প্রকাশ করা হবে।

বিদ্যুৎ খাতের কারিগরি সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিসংখ্যান অনেক বেশি দেখানো হলেও মূল সংকট দাঁড়িয়েছে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থায়। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন, পাওয়ার মিক্স ও এনার্জি মিক্সের সার্বিক বিন্যাস ঢেলে সাজাতে সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির পাশাপাশি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ এবং দেশের কয়লা সম্পদের সঠিক ব্যবহারের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। একটি সমন্বিত জ্বালানি মিশ্রণ (এনার্জি মিক্স) বাস্তবায়নের মাধ্যমে যথাসময়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে বলে তিনি ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করেন।

/আশিক

পাঠকের মতামত: