পিকঅ্যাক্স পর্বত গুঁড়িয়ে দেব, ইরানিদের প্রস্তুত থাকতে বলুন: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা এখন এক নতুন ও মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। এমন বৈরী পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের দক্ষিণে অবস্থিত ‘পিকঅ্যাক্স পর্বত’ (Pickaxe Mountain) নামে পরিচিত অত্যন্ত সুরক্ষিত ও সংবেদনশীল সামরিক স্থাপনাটি সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়ার সরাসরি হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
ভৌগোলিক ও সামরিক দিক থেকে পাহাড়ের গভীরে সুনিপুণভাবে লুকানো এই স্থাপনাটিকে ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ, সুরক্ষিত ও দুর্ভেদ্য সামরিক-পারমাণবিক কমপ্লেক্স হিসেবে বিবেচনা করে পশ্চিমা বিশ্ব। মার্কিন প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর চুলচেরা বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এটি ভূপৃষ্ঠ থেকে কয়েকশত মিটার গভীরে অত্যন্ত কঠিন গ্রানাইট পাথরের নিচে তৈরি করা হয়েছে। সেখানে মাটির অনেক নিচে দুটি বিশাল ও সুরক্ষিত সুড়ঙ্গ কমপ্লেক্স রয়েছে, যা পেন্টাগনের সবচেয়ে শক্তিশালী বাঙ্কার-বাস্টার (Bunker-buster) বোমা দিয়েও সহজে ধ্বংস করা প্রায় অসম্ভব বলে মনে করা হয়।
মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম আল-মনিটরসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, ইরান এই দুর্ভেদ্য পাহাড়ের নিচে অত্যন্ত গোপনে তাদের উন্নত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রমের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করছে বলে জোরালো সন্দেহ করছে ওয়াশিংটন। মার্কিন কৌশলবিদদের মতে, এই ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারটি তেহরানের সামগ্রিক পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত ‘কৌশলগত ব্যাকআপ’ হিসেবে কাজ করতে পারে, যা যেকোনো বহিরাগত বিমান হামলা থেকে সম্পূর্ণ নিরাপদ। তবে ইরান সরকার ২০২০ সালে এই বিশেষ স্থাপনাটির নির্মাণকাজ শুরু করার পর থেকেই পশ্চিমা দাবিগুলো নাকচ করে আসছে। তেহরানের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য অনুযায়ী, এই স্থাপনাটি শুধুমাত্র তাদের বেসামরিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে উন্নত সেন্ট্রিফিউজ সংযোজন ও নিরাপদ উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো গোপন পরিকল্পনা তাদের নেই।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলমান এই উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দিয়ে সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় রেডিও অনুষ্ঠান ‘দ্য হিউ হিউইট শো’-তে (The Hugh Hewitt Show) দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর ও সরাসরি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আমরা পিকঅ্যাক্স পর্বত গুঁড়িয়ে দেব। ইরানিদের এখন থেকেই প্রস্তুত থাকতে বলুন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট হোয়াইট হাউসের নজরদারির কথা উল্লেখ করে আরও যোগ করেন, আমরা ওই নির্দিষ্ট পাহাড়ি এলাকাটি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। সেখানে তেমন কোনো প্রকাশ্য কার্যক্রম এখন আমাদের চোখে পড়ছে না এবং তাদের পারমাণবিক অবস্থানও কৌশলগতভাবে খুব একটা সুবিধাজনক অবস্থায় নেই। তিনি মার্কিন সামরিক গোয়েন্দাদের সক্ষমতা তুলে ধরে বলেন, যখনই আমরা সেখানে বা অন্য কোথাও কোনো ধরনের সন্দেহজনক তথ্য পাই, আমরা সাথে সাথে তা ধ্বংস করার ছক কাটি। তাই তারা (ইরানিরা) এ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে খুব একটা কথা বলতে চায় না। তবে আমি স্পষ্ট করে বলে দিচ্ছি, খুব শিগগিরই আমরা ইরানের পিকঅ্যাক্স পর্বতে সরাসরি হামলা চালাতে পারি।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই সরাসরি হামলার হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের আকাশকে আরও মেঘাচ্ছন্ন করে তুলেছে এবং এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত যেকোনো মুহূর্তে একটি সর্বাত্মক যুদ্ধের রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা।
/আশিক
নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ইরানের নিজস্ব কৌশলের কাছে হার মানল মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ৬০ দিনের নিষেধাজ্ঞা শিথিলের চুক্তি ভঙ্গ করলেও ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি আগের মতোই স্বাভাবিক ও অব্যাহত রয়েছে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির তেলমন্ত্রী মোহসেন পাকনেজাদ।
বুধবার (১৫ জুলাই) তেহরানে এক রাষ্ট্রীয় বক্তব্যে তিনি বলেন, সমঝোতা স্মারকের ১০ নম্বর অনুচ্ছেদের আওতায় অস্থায়ীভাবে তেল-নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার পরও ইরান অসতর্ক থাকেনি। বরং বহু বছর ধরে অত্যন্ত সফলভাবে গড়ে তোলা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল বিক্রির নিজস্ব বিশেষ ও বিকল্প ব্যবস্থাগুলো তেহরান পুরোপুরি সচল রেখেছিল।
পাকনেজাদের মতে, চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র ১৫ দিনের মধ্যেই এটি আবারও প্রমাণিত হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের পূর্বের স্বভাবসুলভ আচরণের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে এই চুক্তির শর্তগুলো সরাসরি লঙ্ঘন করেছে। তিনি জানান, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে সাময়িকভাবে নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের সুবর্ণ সুযোগটি ইরান অত্যন্ত নিখুঁতভাবে কাজে লাগিয়েছে। ওই সীমিত সময়ের মধ্যেই তেহরান তাদের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল মার্কিন অবরোধসীমার বাইরে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়।
ইরানের তেলমন্ত্রী আরও দাবি করেন, বর্তমানে তেহরান এমন এক শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে যার মাধ্যমে মার্কিন চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে আগের মতোই নির্বিঘ্নে আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানের তেল বিক্রি ও সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার নতুন খড়্গ সত্ত্বেও ইরানের তেল রপ্তানি কার্যক্রম পূর্ববর্তী সফল কাঠামোর মধ্য দিয়েই সক্রিয় রয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য রপ্তানির জন্য দেওয়া বিশেষ ছাড় বা অনুমোদন হুট করেই বাতিল করে দেয়। তেহরান ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্তকে দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধবিরতি-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের অন্যতম নগ্ন উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত করে আসছে। এই বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কড়া বার্তা দিয়ে জানিয়েছে, অপর পক্ষ যদি বিশ্বস্ততার সাথে চুক্তির শর্ত মেনে চলে, তবেই কেবল তেহরান সমঝোতা বাস্তবায়ন করবে। অন্যথায় পারস্পরিক স্বার্থ ও সমানুপাতিক জবাবের ভিত্তিতেই ইরান আন্তর্জাতিক মহলে নিজেদের পরবর্তী কঠোর অবস্থান নির্ধারণ করবে।
/আশিক
আমেরিকার সাথে কোনো আলোচনা নয়, হরমুজের নিয়ন্ত্রণ থাকবে ইরানের হাতেই
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো অবস্থাতেই ইরান নিজে থেকে কোনো আলোচনার টেবিলে বসবে না এবং বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল হরমুজ প্রণালির পূর্ণ সামরিক নিয়ন্ত্রণ তেহরান সম্পূর্ণ নিজের হাতে রাখতে চায় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি। বুধবার (১৫ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবি (IRIB)-কে দেওয়া এক বিশেষ ও এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে তিনি দেশটির এই কঠোর ও অনমনীয় অবস্থান স্পষ্ট করেন।
সাক্ষাৎকারে ওয়াশিংটনের বৈরী নীতির তীব্র সমালোচনা করে উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী গারিবাবাদি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা চাঙ্গা রেখে আন্তর্জাতিক আইন ও নিয়মনীতি নিয়ে কথা বলা এক ধরনের বড় প্রহসন ছাড়া আর কিছুই নয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেই বিশ্বজুড়ে সব ধরনের আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন ও চুক্তি অনায়াসে লঙ্ঘন করে, তাই তারা অন্য কোনো স্বাধীন রাষ্ট্রকে আইনি উপদেশ দেওয়ার ন্যূনতম যোগ্যতাও রাখে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ওয়াশিংটন কোনোভাবেই আমাদের আন্তর্জাতিক আইন শেখাতে পারে না।
সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালি ঘিরে তৈরি হওয়া চরম ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রসঙ্গে এই শীর্ষ কূটনীতিক জানান, ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী ওমানের সঙ্গে এই প্রণালির কিছু অংশের যৌথ মালিকানা বা অংশীদারিত্ব থাকলেও, বর্তমান উদ্ভূত পরিস্থিতিটি সম্পূর্ণ যুদ্ধকালীন। তাই এই সংকটময় মুহূর্তে ইরানের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে পুরো হরমুজ প্রণালির একক ও নিচ্ছিদ্র নিয়ন্ত্রণ তেহরানের নিজের হাতে রাখা অত্যন্ত জরুরি ও আবশ্যিক।
উল্লেখ্য, বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সংবেদনশীল ও বৃহত্তম জ্বালানি পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালি ঘিরে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা নজিরবিহীনভাবে তুঙ্গে উঠেছে। ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য নৌ-অবরোধ ও কার্গো জাহাজে শুল্ক আরোপের হুমকির বিপরীতে ইরানি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই কঠোর ও আপসহীন অবস্থান দুই দেশের সম্পর্ককে আরও এক ভয়াবহ ও সর্বাত্মক সামরিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
/আশিক
যৌন নিপীড়ন মামলায় আদালতের রায়ে ৫৬ লাখ ডলার দিলেন ট্রাম্প
দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী লেখক ও সাংবাদিক ই. জিন ক্যারলকে ৫৬ লাখ মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ফেডারেল জুরির দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের সব ধরনের আপিল প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর এসক্রো অ্যাকাউন্টে সংরক্ষিত অর্থ গত সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্যারলের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ফেডারেল আদালতের হালনাগাদ নথিতে দেখা যায়, সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আপিল গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়। এর ফলে পূর্বের রায় বহাল থাকে এবং মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারক ক্ষতিপূরণের অর্থ অবমুক্ত করার নির্দেশ দেন। আদালতের অনলাইন ডকেটেও অর্থ পরিশোধের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
মামলাটির সূত্রপাত হয় ই. জিন ক্যারলের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। তার দাবি ছিল, ১৯৯০-এর দশকে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের একটি ডিপার্টমেন্ট স্টোরে ট্রাম্প তাকে যৌন নিপীড়ন করেছিলেন। পরবর্তীতে অভিযোগ অস্বীকার করার পাশাপাশি ট্রাম্প তার সম্পর্কে প্রকাশ্যে যে মন্তব্য করেন, তা মানহানিকর বলে অভিযোগ তোলেন ক্যারল।
২০২৩ সালে ফেডারেল আদালতের জুরি বোর্ড অভিযোগের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে ট্রাম্পকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় দায়ী এবং পরবর্তী মন্তব্যের মাধ্যমে ক্যারলের মানহানি করেছেন বলে রায় দেয়। সেই রায়ের ভিত্তিতেই ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়।
ই. জিন ক্যারলের আইনজীবী রবার্টা ক্যাপলান এক বিবৃতিতে বলেন, জুরির নির্ধারিত ক্ষতিপূরণের অর্থ তার মক্কেল আনুষ্ঠানিকভাবে পেয়েছেন। তিনি আদালতের সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়াকে বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে হোয়াইট হাউসের প্রেস অফিস বিষয়টি ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবীদের কাছে পাঠিয়ে দেয়। তবে ট্রাম্পের পক্ষে মামলাটি পরিচালনাকারী আইনজীবী অ্যারন হারিসন তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি।
যুক্তরাষ্ট্রের আইনি বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ আপিল প্রক্রিয়া শেষে সুপ্রিম কোর্টের আপিল গ্রহণ না করার সিদ্ধান্তই এই মামলার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এর ফলে নিম্ন আদালতের রায় কার্যকর হয় এবং ক্ষতিপূরণের অর্থ হস্তান্তরের আইনি বাধা দূর হয়।
বিশ্লেষকদের ভাষ্য, এই মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত দেওয়ানি মামলাগুলোর একটি। শুধু আর্থিক ক্ষতিপূরণ নয়, ব্যক্তিগত অভিযোগ, মানহানি এবং রাজনৈতিক প্রভাব সব মিলিয়ে মামলাটি দেশটির বিচারব্যবস্থা ও জনপরিসরে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।
বিদ্যুৎকেন্দ্র-সেতু হতে পারে পরবর্তী লক্ষ্য, দাবি ট্রাম্পের
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, তার নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চলতে থাকবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন।
সাম্প্রতিক সংঘাত নিয়ে দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত থামবে না। ওয়াশিংটনের মতে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং মার্কিন স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।
এদিকে ইরানের একাধিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, মঙ্গলবার দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি শহরে নতুন করে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির আশপাশের কয়েকটি দ্বীপেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে এসব ঘটনার প্রকৃত কারণ কিংবা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
অন্যদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা কুয়েত, বাহরাইন এবং জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। যদিও এই দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি এবং স্বাধীনভাবে দাবিটির সত্যতা যাচাইও সম্ভব হয়নি।
সংঘাতের নতুন পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন বন্দরের ওপর নৌ অবরোধ পুনর্বহালের ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ ইরানের সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং জ্বালানি রপ্তানির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
এর জবাবে ইরান কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে। তেহরান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, তারা কোনো পরিস্থিতিতেই আত্মসমর্পণ করবে না। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ইরানের জাতীয় অবকাঠামোর ওপর বড় ধরনের হামলা হলে ইসরায়েলকেও তার পরিণতি ভোগ করতে হবে।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ঘিরেও নতুন সিদ্ধান্ত এসেছে। এর আগে ওই জলপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপের যে পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন ট্রাম্প, সেখান থেকে আপাতত সরে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সম্ভাব্য চাপ কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই উত্তেজনার প্রভাব ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং কূটনৈতিক অঙ্গনে স্পষ্টভাবে অনুভূত হচ্ছে। সামরিক পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা।
এদিকে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা এখনও পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহল মনে করলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সংঘাত প্রশমনের কোনো সুস্পষ্ট ইঙ্গিত এখনো দেখা যাচ্ছে না।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা।
হরমুজের পর এবার বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধের হুমকি, বিশ্বজুড়ে চড়বে তেলের দাম
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির পর এবার লোহিত সাগরের অন্যতম প্রধান জলপথ ‘বাব আল-মান্দেব প্রণালি’ বন্ধ করে দেওয়ার প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, নিজেদের সরাসরি সম্পৃক্ততা এড়িয়ে ইয়েমেনের সশস্ত্র হুতি গোষ্ঠীকে কাজে লাগিয়ে এই সংবেদনশীল নৌপথে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে তেহরান, যার মূল উদ্দেশ্য হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র রাষ্ট্রগুলোর ওপর পাল্টা মনস্তাত্ত্বিক ও কৌশলগত প্রভাব বিস্তার করা। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
বিশ্বের সামগ্রিক জ্বালানি ও পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অপরিসীম। সমুদ্রপথে পরিবাহিত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি বড় অংশের অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস এই সংকীর্ণ পথ ব্যবহার করেই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পৌঁছায়। ঠিক একইভাবে বাব আল-মান্দেব প্রণালিটিও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সাথে সরাসরি যুক্ত করেছে। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল রপ্তানি এবং এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর যাতায়াতের জন্য এটি অন্যতম প্রধান ও লাইফলাইন রুট হিসেবে বিবেচিত।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের হুতি আন্দোলনের রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রভাবশালী সদস্য মোহাম্মদ আল-ফারাহ কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সৌদি আরব যদি মার্কিন সমর্থনে ইয়েমেনের অভ্যন্তরে তাদের সামরিক অভিযান ও বিমান হামলা অব্যাহত রাখে, তবে বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল চিরতরে বন্ধ করে দেওয়ার মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তিনি দাবি করেন, এই জলপথ অবরুদ্ধ করা হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় ব্যারেলপ্রতি ২০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে।
লন্ডন ও মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক প্রখ্যাত বিশ্লেষক ফাওয়াজ গেরগেসের মতে, এই হুমকির মাধ্যমে তেহরান মূলত ওয়াশিংটনকে একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে যে, প্রয়োজন হলে তারা হরমুজ এবং বাব আল-মান্দেব—উভয় কৌশলগত নৌপথেই একযোগে চাপ সৃষ্টি করার পূর্ণ সামরিক সক্ষমতা রাখে। মাঠপর্যায়ে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে এই আঞ্চলিক সংঘাত খুব দ্রুতই বৈশ্বিক জ্বালানি ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য এক মহাবিপর্যয়ে পরিণত হবে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের একাংশের ভাষ্য অনুযায়ী, এই মুহূর্তে দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি সর্বাত্মক কোনো যুদ্ধের সম্ভাবনা তৈরি না হলেও, ধাপে ধাপে এই প্রক্সি বা পরোক্ষ সংঘাতের পরিধি ও ঝুঁকি বেড়েই চলেছে। ওয়াশিংটন ও তেহরান কোনো পক্ষই সরাসরি মুখোমুখি যুদ্ধে লিপ্ত না হয়ে একে অপরের ওপর পাল্টাপাল্টি কূটনৈতিক ও সামরিক চাপ বজায় রাখছে, যা পরিস্থিতিকে দিন দিন আরও জটিল করে তুলছে। তবে অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, এই চরম উত্তেজনা শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষকে কোনো একটি সাধারণ বিন্দুতে এসে আবারও আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই হুতি গোষ্ঠী লোহিত সাগরে ইসরায়েল ও তার পশ্চিমা মিত্রদের সাথে সম্পৃক্ত বলে দাবি করা বিভিন্ন বাণিজ্যিক জাহাজে একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে। হুতিদের এই ধারাবাহিক আক্রমণের ফলে বিশ্বের বড় বড় আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলো নিরাপত্তার স্বার্থে লোহিত সাগরের রুট পরিহার করে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত (কেপ অব গুড হোপ) ঘুরে দীর্ঘ বিকল্প পথে চলাচল শুরু করে, যার ফলে বৈশ্বিক পণ্য পরিবহন ও জাহাজ ভাড়া উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য যৌথভাবে ইয়েমেনের ভেতরে হুতিদের বিভিন্ন গোপন ঘাঁটিতে দফায় দফায় বিমান হামলা চালায় এবং ওই অঞ্চলের আন্তর্জাতিক নৌ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি বহুজাতিক সামরিক জোট গঠন করে।
কিংস কলেজ লন্ডনের নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগের মতে, হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি বাব আল-মান্দেবও বর্তমান ভূরাজনীতিতে ইরানের জন্য একটি অন্যতম প্রধান কৌশলগত অস্ত্র ও চাপ প্রয়োগের মাধ্যম। তবে তিনি মনে করেন, তেহরান এখনই এই পথ বন্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে না; বরং যখন একটি সর্বাত্মক ও অনিবার্য সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হবে, কেবল তখনই তারা হুতিদের এই ধরনের বিধ্বংসী পদক্ষেপে চূড়ান্ত সম্মতি দেবে।
অন্যদিকে সৌদি আরবভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গালফ রিসার্চ সেন্টারের চেয়ারম্যান আবদুলআজিজ সাগের জানিয়েছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে এখন এই ধারণা প্রবল হচ্ছে যে ইরানের সাথে আলোচনার মাধ্যমে কোনো কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ দিন দিন ফুরিয়ে আসছে। তবে তাঁর মতে, তেহরানের প্রত্যক্ষ ইশারা ও সবুজ সংকেত ছাড়া হুতি গোষ্ঠী আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এত বড় কোনো উত্তেজনাপূর্ণ পদক্ষেপ নেবে না। আর যদি তারা সত্যি সত্যি আন্তর্জাতিক এই নৌপথে বড় ধরনের কোনো বিপর্যয় ঘটায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্রদের কাছ থেকে হুতিদের আরও কঠোর ও সরাসরি সামরিক জবাবের মুখোমুখি হতে হবে।
/আশিক
ইরানি জনগণের অধিকারকে সম্মান করাই হরমুজ প্রণালী সচলের একমাত্র পথ
হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার একমাত্র উপায় হলো ‘ইরানি জনগণের অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা’। কোনো ধরনের মার্কিন সামরিক আগ্রাসন বা যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়ে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল এই জলপথ পুনরায় উন্মুক্ত করা সম্ভব নয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া।
তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদলু এবং ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের যৌথ প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে পাকিস্তানের গণমাধ্যম ডন এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সামরিক মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া অত্যন্ত কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমেরিকার কোনো সামরিক আক্রমণ, যুদ্ধ কিংবা অন্য কোনো অশুভ শক্তির আগ্রাসী তৎপরতার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী কখনোই পুনরায় সচল করা যাবে না। আন্তর্জাতিক এই নৌপথ উন্মুক্ত করার একমাত্র কার্যকর বিকল্প হলো ইরানের জনগণের ন্যায্য অধিকারকে মেনে নেওয়া।
মুখপাত্র আকরামিনিয়া তাঁর বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন যে, ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই এবং বিভিন্ন সময়ে যুদ্ধে নিহত দেশের সকল শহীদের হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নিতে তেহরান সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এই অবস্থান থেকে তারা একচুলও নড়বে না।
ভৌগোলিক ও কৌশলগত দিক থেকে ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত হরমুজ প্রণালীটি বর্তমান বিশ্বের অন্যতম প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হিসেবে বিবেচিত। বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন ব্যবহৃত মোট খনিজ তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ (২০ শতাংশ) এই সংকীর্ণ ও সংবেদনশীল নৌপথ ব্যবহার করেই পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে পরিবহন করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান প্রধান তেল উৎপাদনকারী রাষ্ট্র যেমন—সৌদি আরব, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও স্বয়ং ইরান তাদের জ্বালানি রপ্তানির জন্য সম্পূর্ণভাবে এই রুটের ওপর নির্ভরশীল। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য এই প্রণালীটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর।
সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক ভূরাজনীতিতে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার সামরিক বৈরিতা এক নজিরবিহীন নতুন মাত্রা লাভ করে। ইরান এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পেছনে সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের পশ্চিমা মিত্রদের হাত রয়েছে বলে দাবি করে আসছে।
এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে ইরান যখন হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ বা সামুদ্রিক অবরোধ আরোপের হুঁশিয়ারি দেয়, তখন আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যায়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্ররা এই আন্তর্জাতিক নৌপথটি সচল রাখার লক্ষ্যে প্রয়োজনে সামরিক শক্তি প্রয়োগের পাল্টা হুমকি দেয়।
পশ্চিমা দেশগুলোর সেই হুমকির জবাবেই ইরান এই নতুন ও কঠোর হুঁশিয়ারি বার্তা পাঠাল। তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, বলপ্রয়োগের নীতি দিয়ে এই সংকটের কোনো সমাধান হবে না; বরং ইরানের ওপর আরোপিত অন্যায় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং তাদের রাষ্ট্রীয় অধিকার স্বীকার করলেই কেবল হরমুজ প্রণালীর চলমান সংকটের স্থায়ী অবসান সম্ভব।
/আশিক
হরমুজ প্রণালির আসল প্রহরী ইরানই, চিরকাল থাকবে: ট্রাম্পকে আরাগচির কড়া জবাব
কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নামে ফি আদায়ের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। তেহরান স্পষ্ট ও দৃঢ়ভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, এই আন্তর্জাতিক জলপথের মূল ও প্রকৃত প্রহরী একমাত্র ইরানই ছিল, বর্তমানে আছে এবং ভবিষ্যতেও চিরকাল থাকবে।
সোমবার (১৩ জুলাই) নিজের অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, দীর্ঘ ইতিহাস সাক্ষী যে ইরানই সবসময় এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করে আসছে। ফলে এই সুরক্ষার জন্য যদি কোনো ধরনের মাশুল বা ক্ষতিপূরণ আদায় করার প্রশ্ন ওঠে, তবে তা অবশ্যই ন্যায্য ও যৌক্তিক হওয়া উচিত।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে আরাগচি কিছুটা কটাক্ষের সুরে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাত্ত্বিকভাবে ঠিকই বলেছেন যে, যারা হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা দেবে, তাদের এই বিশেষ সেবার জন্য ক্ষতিপূরণ পাওয়া উচিত। আর ইরান তো যুগ যুগ ধরে এই প্রণালির রক্ষক হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। তবে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২০ শতাংশ ফি-কে ‘অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক’ আখ্যা দিয়ে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তেহরান যদি কখনো এই মাশুল নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু করে, তবে তা সবার জন্য ন্যায্য ও সহনীয় হবে।
ইরানের পক্ষ থেকে এই কড়া জবাবটি এসেছে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক একটি বিতর্কিত ঘোষণার পরপরই। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ওয়াশিংটন খুব শিগগিরই ইরানের ওপর আবারও নতুন করে নৌ-অবরোধ আরোপ করতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর নিরাপত্তা দেওয়ার খরচ মেটাতে এই নৌপথ দিয়ে যাতায়াত করা সমস্ত কার্গো জাহাজ থেকে ২০ শতাংশ হারে ফি আদায় করবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
ট্রাম্প তাঁর পোস্টে আরও উল্লেখ করেছিলেন যে, ইরান সহযোগিতা করুক বা না করুক, এই প্রণালিটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্তই রাখা হবে এবং এই ফি মূলত মার্কিন সুরক্ষার খরচ হিসেবেই নেওয়া হবে। ট্রাম্পের এমন একপাক্ষিক দাবির জবাবেই ইরান পাল্টা শক্ত কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের ঐতিহাসিক ও ‘চিরন্তন কর্তৃত্বের’ কথা বিশ্বমঞ্চে আবারও জোরালোভাবে তুলে ধরেছে।
সূত্র: মেহের নিউজ
ইয়েমেনে হুতিদের দমনে সৌদি আরবকে ট্রাম্পের সবুজ সংকেত, মধ্যপ্রাচ্যে বড় যুদ্ধের শঙ্কা
ইয়েমেনে ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য সৌদি আরবকে সবুজ সংকেত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আমেরিকার প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে।
সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে চরম উত্তেজনা দেখা দেওয়ার পরপরই এই সামরিক সমর্থনের খবর প্রকাশ্যে এলো। মার্কিন সংবাদমাধ্যমটি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ওয়াশিংটনের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতির চূড়ান্ত অবসান ঘটতে পারে। একই সঙ্গে এই পদক্ষেপের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান পরোক্ষ সংঘাত আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
এর আগে সোমবার হুতিদের প্রধান নিয়ন্ত্রণকক্ষ হিসেবে পরিচিত সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি ভয়াবহ বিমান হামলার ঘটনা ঘটে। ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন অনুষ্ঠান শেষে হুতিদের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল উড়োজাহাজে করে সানার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার পরপরই এই হামলা চালানো হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রতিনিধি দলের উড়োজাহাজটি পরে দিক পরিবর্তন করে লোহিত সাগরের উপকূলবর্তী বন্দর নগরী আল হুদায়দাহে অবতরণ করতে বাধ্য হয়।
সানা বিমানবন্দরে এই হামলার জন্য হুতি গোষ্ঠী সরাসরি রিয়াদকে দায়ী করেছে এবং সৌদি আরবের সঙ্গে তাদের চলমান অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি শেষ বলে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। এই ঘোষণার পরপরই গোষ্ঠীটি সৌদির অভ্যন্তরে অবস্থিত আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে পাল্টা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করে।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবারের এই বিমান হামলার কয়েক দিন আগেই রিয়াদের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনের সামরিক ও রাজনৈতিক সমর্থন চাওয়া হয়েছিল। গত বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠক করেন ওয়াশিংটনে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত।
পরবর্তীতে রুবিও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এর সূত্র ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে টেলিফোনে সরাসরি আলাপ করেন। এক মার্কিন কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছেন, টেলিফোন আলাপে যুবরাজ ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে নতুন অভিযানের জন্য ট্রাম্পের সবুজ সংকেত ও সমর্থন চেয়েছিলেন এবং ট্রাম্প তা মঞ্জুর করেন।
সানা বিমানবন্দরে হামলার ঘটনার পর হুতিরা সৌদির বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুললেও ইয়েমেনের সৌদি সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার এই অভিযানের দায় স্বীকার করেছে। তাদের দাবি, এই হামলায় রিয়াদের কোনো প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল না। অন্যদিকে রিয়াদ কর্তৃপক্ষও আনুষ্ঠানিকভাবে এই হামলার বিষয়ে কোনো বিবৃতি দেয়নি।
উল্লেখ্য, ইরানপন্থী শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিরা ২০১৪ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে নিলে পরের বছর অর্থাৎ ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট সেখানে হুতি দমনে সরাসরি হস্তক্ষেপ করে। পরবর্তীতে ২০২২ সালের এপ্রিলে দুই পক্ষের মধ্যে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় একটি আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সেই চুক্তির মেয়াদ ছয় মাস পর আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়ে গেলেও, গত চার বছর ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের কোনো সরাসরি সংঘাতের ঘটনা ঘটেনি, যা এই হামলার পর নতুন করে শুরু হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
/আশিক
ইরানকে নতুন হুমকি ট্রাম্পের, ‘আরও বড় হামলা আসছে’
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) শর্ত মানেনি। একই সঙ্গে আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। এছাড়া হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে বলেও দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৩ জুলাই) রেডিও উপস্থাপক হিউ হিউইটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় সামরিক ব্যবস্থা নিয়েছে। তার ভাষ্য, মার্কিন অভিযানের কারণেই ইরান এখন পর্যন্ত পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে এবং এর ফলে ইসরাইলের নিরাপত্তা বড় ধরনের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পেয়েছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি দাবি করেন, “আজ রাতে আমরা কঠোর হামলা চালাব, আগামীকালও একইভাবে অভিযান চলবে। তারা এর কার্যকর জবাব দেওয়ার সক্ষমতা রাখে না।” একইসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, ইরানের হাতে এখন বড় ধরনের সামরিক বিকল্প নেই এবং তারা কেবল কঠোর ভাষায় বক্তব্য দিচ্ছে।
সাক্ষাৎকার সম্প্রচারের অল্প সময়ের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, প্রেসিডেন্টের নির্দেশনায় টানা তৃতীয় রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করেছে মার্কিন বাহিনী। যদিও অভিযানের বিস্তারিত লক্ষ্য বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
আলোচনার সময় ট্রাম্প বিশেষভাবে ইরানের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’-এর প্রসঙ্গ তোলেন। নাতাঞ্জ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রের কাছাকাছি অবস্থিত এই স্থাপনাকে তিনি সম্ভাব্য সামরিক লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই ওই স্থাপনাটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তার ভাষায়, বর্তমানে সেখানে উল্লেখযোগ্য কোনো কার্যক্রম চোখে পড়ছে না। তবে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হলে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
ট্রাম্প বলেন, “ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির অবস্থা ভালো নয়। যখনই আমরা কোনো নতুন কার্যক্রমের তথ্য পাই, সেটি ধ্বংস করে দিই। প্রয়োজন হলে খুব শিগগিরই পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন ধ্বংস করতে প্রস্তুত। ইরানকে সেই সম্ভাবনার জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত।”
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন ইরানের সবচেয়ে সুরক্ষিত পারমাণবিক অবকাঠামোগুলোর একটি। এটি নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্রের প্রায় এক মাইল দক্ষিণে অবস্থিত এবং গভীর ভূগর্ভে নির্মিত একাধিক সুড়ঙ্গ ও সুরক্ষা ব্যবস্থায় ঘেরা। অনেক বিশেষজ্ঞের ধারণা, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী বাঙ্কার-ভেদী বোমাও এই স্থাপনাটি পুরোপুরি ধ্বংস করতে সক্ষম নাও হতে পারে।
এদিকে ট্রাম্প একদিকে সামরিক চাপ বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও অন্যদিকে আলোচনার সম্ভাবনা এখনো পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ, হরমুজ প্রণালি ঘিরে বিরোধ এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল এখন পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাখছে।
তথ্যসূত্র: সামা টিভি।
পাঠকের মতামত:
- পিকঅ্যাক্স পর্বত গুঁড়িয়ে দেব, ইরানিদের প্রস্তুত থাকতে বলুন: ট্রাম্প
- দেশ স্বাধীনের পর শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাকে রাজনীতিকরণ করা হয়েছিল: প্রধানমন্ত্রী
- স্পেনের ফাইনালের আনন্দের মাঝেই লামিনে ইয়ামালের বাড়িতে চুরির ব্যর্থ চেষ্টা
- ম্যারাডোনার 'হ্যান্ড অব গড' থেকে বেলিংহাম-মেসি দ্বৈরথ: ঐতিহ্যের নতুন অধ্যায়
- ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার শুরুর একাদশে বড় চমকের ইঙ্গিত স্কালোনির
- নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ইরানের নিজস্ব কৌশলের কাছে হার মানল মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
- ৩ দফা দাবিতে ঢাকাজুড়ে পরীক্ষার্থীদের লংমার্চ, শাহবাগ মোড়ে তীব্র উত্তেজনা
- সংসদকে মজলুমের মিলনমেলা বানাতে হবে: ড. শফিকুর রহমান
- তামিমের অধীনে কাজ করবেন ভারত, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট কর্তারা
- আমেরিকার সাথে কোনো আলোচনা নয়, হরমুজের নিয়ন্ত্রণ থাকবে ইরানের হাতেই
- দুর্যোগে বাদ পড়া এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা আবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবেন
- শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের সুযোগ নেই, দেশে ফেরামাত্র রায় কার্যকর করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- পার্ক ও খেলার মাঠের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়েছে, সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- নতুন পে-স্কেলে বাড়ছে বেতন-ভাতা, কারা পাবেন বেশি
- রাস্তায় প্রস্রাব করলেই ডিজিটাল পর্দায় ছবি!
- যৌন নিপীড়ন মামলায় আদালতের রায়ে ৫৬ লাখ ডলার দিলেন ট্রাম্প
- আজকের নামাজের সময়সূচি, এক নজরে দেখে নিন
- ট্যালকট পার্সন্সের Pattern Variable তত্ত্ব: আধুনিকতা ও উন্নয়ন ভাবনার রাজনীতি
- যেদিন থেকে শিশুদের টাইফয়েডের নতুন টিকা শুরু
- বিদ্যুৎকেন্দ্র-সেতু হতে পারে পরবর্তী লক্ষ্য, দাবি ট্রাম্পের
- বের হওয়ার আগে জেনে নিন আজ কোথায় মার্কেট বন্ধ
- বাংলাদেশিদের ভালোবাসায় আবেগঘন বার্তা স্কালোনির
- আজ প্রাথমিক শিক্ষা পদক দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- স্বর্ণ কিনতে সুখবর, একদিনেই বড় মূল্যহ্রাস
- ১৪ জুলাইয়ের অদ্ভুত সমাপতন: ২০২৪-এ 'রাজাকার' আর ২০২৬-এ 'ফার্মের মুরগি' বিতর্ক
- হরমুজের পর এবার বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধের হুমকি, বিশ্বজুড়ে চড়বে তেলের দাম
- সংবিধান সংশোধনে ব্যস্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নে তৎপরতা নেই: নাহিদ ইসলাম
- শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আত্মসমর্পণের সুযোগ নেই, গ্রেফতারের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
- মনে হচ্ছে এই বিশ্বকাপ আর্জেন্টিনার দিকেই পরিচালিত হচ্ছে: মিশরীয় কোচ
- বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের মহারণ: স্প্যানিশদের রুখে দিতে প্রস্তুত আত্মবিশ্বাসী ফ্রান্স
- বিশ্বকাপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় সেমিফাইনাল: ফ্রান্সের তুরুপের তাস যখন এমবাপ্পে
- ইরানি জনগণের অধিকারকে সম্মান করাই হরমুজ প্রণালী সচলের একমাত্র পথ
- চারবার দাম কমিয়ে জুয়েলারি বাজারে স্বস্তির খবর দিল বাজুস
- শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য অনাকাঙ্ক্ষিত, প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর
- হরমুজ প্রণালির আসল প্রহরী ইরানই, চিরকাল থাকবে: ট্রাম্পকে আরাগচির কড়া জবাব
- লক্ষণ খুব ভালো নয়, অপরাধীদের শাস্তি নিয়ে সংশয় প্রকাশ জামায়াত আমিরের
- সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে পদত্যাগ ও ক্ষমা চাইতে হবে: শিক্ষামন্ত্রীকে আন্দোলনকারীদের আলটিমেটাম
- ইয়েমেনে হুতিদের দমনে সৌদি আরবকে ট্রাম্পের সবুজ সংকেত, মধ্যপ্রাচ্যে বড় যুদ্ধের শঙ্কা
- দুর্যোগে পরীক্ষা দিতে না পারলে প্রয়োজনে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী
- ইরানকে নতুন হুমকি ট্রাম্পের, ‘আরও বড় হামলা আসছে’
- ফ্রান্স-স্পেন মহারণ, সুপারকম্পিউটার কাকে এগিয়ে রাখছে
- তারুণ্য ও উদ্ভাবনে জোর, ঢাবিতে প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ সফর
- টানা বর্ষণ কবে কমবে? নতুন পূর্বাভাস দিল আবহাওয়া অফিস
- মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব মার্কেট বন্ধ থাকবে
- ৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না, কোন এলাকাগুলো জানুন
- ১৯ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত
- বিশ্ববাজারে ৩ শতাংশ কমল স্বর্ণের দাম, বাংলাদেশেও কি কমবে?
- বর্ষণ কমলেও সামনে অপেক্ষা করছে নতুন দফার বৃষ্টি
- সৌদি-হুথি সংঘাত ফের তীব্র, ভেঙে গেল যুদ্ধবিরতি
- আজকের খেলার সূচি, বিশ্বকাপে জমজমাট সেমিফাইনাল
- শিক্ষকের মর্যাদা যখন প্রশ্নবিদ্ধ: সংকটে শিক্ষাঙ্গন, সংকটে আমাদের ভবিষ্যৎ
- ২০২৬ বিশ্বকাপ কাঁপানো ৫ বড় বিতর্ক এক নজরে
- ফন্টেইনের ৬৮ বছরের রেকর্ড ভাঙবেন মেসি?
- ওয়াল্ট রস্টোর আধুনিকীকরণ তত্ত্ব ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট
- সোনা-রুপার নতুন দাম কার্যকর, জানুন সর্বশেষ তালিকা
- ৩৪ ম্যাচের অপরাজিত মরক্কোকে বিদায় দিল ফ্রান্স
- ফ্রান্স-স্পেন মহারণ, সুপারকম্পিউটার কাকে এগিয়ে রাখছে
- ‘আমার সঙ্গে সম্মান দিয়ে কথা বলুন’- রেফারিকে মেসি
- বিশ্ববাজারে ৩ শতাংশ কমল স্বর্ণের দাম, বাংলাদেশেও কি কমবে?
- স্পেন-বেলজিয়াম মহারণ, সেমির টিকিট কার হাতে
- টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারে ভয়াবহ বিপর্যয়
- নাহিদ, আসিফ ও পাটওয়ারীকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য নুরের
- ১৯ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত
- এক ঘোষণায় কমল স্বর্ণের দাম, কত হলো নতুন মূল্য?
- ‘হত্যার তালিকায় আমি এক নম্বরে’- ট্রাম্প








