রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করার দুঃসাহস দেখালে পুরোপুরি নির্মূল করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চট্টগ্রামের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল জঙ্গল সলিমপুরসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী আস্তানা সম্পূর্ণ উপড়ে ফেলা হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করার মতো দুঃসাহস যে বা যারাই দেখাক না কেন, তাদের আস্তানা পুরোপুরি নির্মূল করা হবে। আজ রবিবার (৩১ মে) চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগর এলাকা সরজমিনে পরিদর্শন শেষে বিকেলে নগরের সার্কিট হাউজে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বিশেষ সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
জঙ্গল সলিমপুরের সার্বিক পরিস্থিতি, অবৈধ দখল এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা নিয়ে আয়োজিত এই বৈঠককে চট্টগ্রামের ইতিহাসে অন্যতম ‘হাই-লেভেল মিটিং’ বলে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এই মেগা সমন্বয় সভায় পার্বত্য বিষয়ক ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রামের সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রামের সব সংসদ সদস্য, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মঞ্জুর মোরশেদ চৌধুরী, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী ফকির হোসেন এবং বিজিবি, র্যাব, সেনাবাহিনীসহ সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী দেশে ‘আইনের শাসন’ প্রতিষ্ঠা করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য যেখানেই থাকুক, তা যেকোনো মূল্যে নির্মূল করতে হবে। সন্ত্রাসীরা অতীতে যে দুঃসাহস দেখিয়েছে, আমরা রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে তা যথাযথভাবে অ্যাড্রেস করবো। তাদের আশ্রয়স্থল যেখানেই হোক এবং পর্দার আড়াল থেকে যারাই তাদের প্রশ্রয় বা রাজনৈতিক ইন্ধন দিক না কেন, সবকিছু নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে জঙ্গল সলিমপুর, সলিমপুর ও আলীনগর এলাকার সাধারণ ও সাধারণ খাস জমিতে থাকা বাসিন্দাদের উচ্ছেদের আশঙ্কার বিষয়ে আবারও আশ্বস্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো সাধারণ বা নিরীহ বাসিন্দাকে উচ্ছেদ করা হবে না। যারা পরিস্থিতির শিকার হয়ে সেখানে বিভিন্নভাবে আশ্রয় নিয়েছিলেন, সরকারের পক্ষ থেকে মানবিক বিবেচনায় তাদের জন্য টেকসই পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। তবে ওই অঞ্চলের আধুনিক ও পরিকল্পিত উন্নয়ন এবং সরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও একাডেমি গড়ে তোলার জন্য ম্যাপ (মানচিত্র) অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট জায়গা নির্ধারণের কাজ পুরোদমে চলছে।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের ঝুলে থাকা মেগা প্রকল্পের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, বায়েজিদ লিংক রোডের পাশে নতুন কারাগারের জন্য প্রস্তাবিত খাস জায়গাটি আজই উচ্চপর্যায়ের দল নিয়ে সরজমিনে ভিজিট করা হয়েছে। কারা অধিদপ্তর ও আইজি প্রিজন খুব দ্রুত জায়গাটি সম্পূর্ণ নিজেদের আইনি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর সেখানে পরবর্তী আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হবে।
পাহাড়ে চলমান যৌথ অভিযানের সক্ষমতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত ভূমিকার প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে এখন আর শুধু প্রথাগত বা সাধারণ পুলিশিং ব্যবস্থা নয়; বরং পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীসহ প্রায় ৪ হাজার চৌকস সদস্যের একটি বিশাল যৌথবাহিনী হেলিকপ্টার সহায়তায় অত্যন্ত নিখুঁত ও সফল অভিযান পরিচালনা করছে। রাষ্ট্রের অখণ্ডতা রক্ষা ও জননিরাপত্তার স্বার্থে সব বাহিনী এক হয়ে কাজ করছে।
জঙ্গল সলিমপুর ছাড়াও চট্টগ্রামের অন্যান্য অপরাধপ্রবণ এলাকা যেমন—রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি ও বোয়ালখালীর মতো উপজেলাগুলোতেও সন্ত্রাস দমনে একটি সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আইনশৃঙ্খলার এই ইতিবাচক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তিনি গণমাধ্যম ও চট্টগ্রামের সাধারণ জনগণের পূর্ণ সহযোগিতা কামনা করেন।
এর আগে, আজ রবিবার সকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল নিয়ে চট্টগ্রামের লিংক রোডের পাশে জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগর পাহাড়ি এলাকা পরিদর্শনে যান। সেখানে একটি স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি সরজমিনে আরও নিখুঁতভাবে যাচাই করতে মাঠপর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে মিলিত হন তিনি।
/আশিক
দেশ স্বাধীনের পর শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাকে রাজনীতিকরণ করা হয়েছিল: প্রধানমন্ত্রী
দেশ স্বাধীনের পর প্রকৃত শহীদ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা প্রণয়নের যাদের দায়িত্ব ছিল, তারা তা সঠিকভাবে না করে সম্পূর্ণ বিষয়টিকে ‘রাজনীতিকরণ’ করেছেন বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পিরোজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্যের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সরকারের এই ঐতিহাসিক ও নীতিনির্ধারণী অবস্থান স্পষ্ট করেন। এর আগে বিকেল ৩টায় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়, যার প্রথম ৩০ মিনিট ছিল প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব। নির্ধারিত সময়ে প্রধানমন্ত্রী ৩টি তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন ও তৎসংশ্লিষ্ট সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দেন।
সংসদে ১৯৭১ সালের শহীদ পরিবার ও গণহত্যার সঠিক তালিকা প্রণয়নের পরিকল্পনা সরকারের আছে কি না—ময়মনসিংহ-৮ আসনের (প্রসঙ্গ উল্লেখ করে কুড়িগ্রাম ও পিরোজপুরের প্রশ্নকর্তাদের জবাবে) সংসদ সদস্য রুহুল আমীন দুলালের এই প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী তাঁর দলের নির্বাচনী অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের পর প্রকৃত শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের একটি বস্তুনিষ্ঠ তালিকা তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি ছিল। কিন্তু তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্তরা নিরপেক্ষভাবে তা না করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে উপস্থাপন করেছেন।
এই ঐতিহাসিক ভুল সংশোধনে তাঁর সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে বিভিন্ন বাস্তবমুখী উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে দেশের খ্যাতনামা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষকদের নিয়ে বিশেষজ্ঞ সভা আয়োজন, বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে একটি বাস্তবসম্মত ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তার ভিত্তিতে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম গ্রহণ করা অন্যতম।’ তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে গণহত্যার শিকার হওয়া সব শহীদের একটি নির্ভুল ও সর্বজনগ্রাহ্য তালিকা প্রণয়ন এবং তাঁদের আত্মত্যাগের যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও মর্যাদা প্রদান সম্ভব হবে। ইতিমধ্যে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে কাজ শুরু হয়েছে বলেও তিনি জানান।
পরবর্তীতে দলীয়করণমুক্ত প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা করার বিষয়ে কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) হচ্ছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গঠিত দল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, যিনি সরাসরি মাঠে থেকে যুদ্ধ করেছেন এবং শুধু তাই নয়, তিনি স্বাধীনতার ঘোষণাও দিয়েছিলেন।’
সরকারপ্রধান দৃঢ়তার সাথে বলেন, স্বাধীনতার ঘোষকের দ্বারা গঠিত দল হিসেবে বিএনপি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করে যে, দেশের প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রতি তাদের একটি পবিত্র রাষ্ট্রীয় ও নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে। সে কারণেই অতীতে বিভিন্ন সময়ে এই তালিকা তৈরিতে যে নানাবিধ সমস্যা ও রাজনৈতিক জটিলতা তৈরি করা হয়েছিল, বর্তমান সরকার তা দূর করতে বদ্ধপরিকর। দেশবরেণ্য ও নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ, নির্ভুল ও নিখুঁত মুক্তিযোদ্ধার তালিকা তৈরি করতে সরকার বর্তমানে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
/আশিক
দুর্যোগে বাদ পড়া এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা আবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবেন
প্রতিকূল আবহাওয়া বা অনিবার্য কোনো কারণে যেসব পরীক্ষার্থী চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি, তাদের জন্য বিশেষ পুনর্বিবেচনায় আবারও পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে সরকার। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের স্থগিত হওয়া পরীক্ষার সাথে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এই বিশেষ পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে।
বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতিতে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান।
শিক্ষামন্ত্রী সংসদকে অবহিত করে বলেন, এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় দেশজুড়ে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন। সম্প্রতি অতিবৃষ্টি, বন্যা ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন পাঁচটি জেলা—চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের নির্ধারিত পরীক্ষাগুলো আগেই স্থগিত করা হয়েছিল। তবে চট্টগ্রাম বোর্ডের বাইরেও ঢাকা ও দেশের অন্যান্য কিছু জেলায় বিচ্ছিন্নভাবে বেশ কিছু পরীক্ষার্থী অতিবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও নানাবিধ অনিবার্য কারণে নির্দিষ্ট বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। এইচএসসি পরীক্ষা যেহেতু একজন শিক্ষার্থীর জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ, তাই সাধারণ পরীক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে বিশেষ বিবেচনায় তাদের এই পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলো।
পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্রে ভুলের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী জানান, বিতর্কিত ওই প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও মডারেশনের সাথে জড়িত দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে ইতিমধ্যে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সাথে তিনি পরীক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র বিষয়ের প্রশ্নপত্রের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে যে প্রায়োগিক ভুল ছিল, তার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত সকল পরীক্ষার্থীকে ওই দুটি প্রশ্নের নির্ধারিত পূর্ণ নম্বর (ফুল ক্রেডিট) দেওয়া হবে।
/আশিক
শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের সুযোগ নেই, দেশে ফেরামাত্র রায় কার্যকর করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে দেশের ফ্যাসিবাদী রাজনীতির স্থায়ী অবসান এবং অপরাধীদের আইনানুগ বিচারের বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, গণআন্দোলনের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আইনি আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই। তাঁকে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরিয়ে এনে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে আদালতের দেওয়া রায় কার্যকর করা হবে। আর তাঁর ক্ষেত্রে কোনো আপিলের আইনি সুযোগ অবশিষ্ট আছে কি না, তা সম্পূর্ণভাবে দেশের আইন ও আদালত নির্ধারণ করবে।
বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত ‘গণঅভ্যুত্থানে বাঁক বদলের দিন’ শীর্ষক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, শেখ হাসিনা ডিসেম্বরের দিকে বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের যে কথা বলছেন, সরকারও তাঁর সেই প্রত্যাবর্তন চায়। তবে তা হবে সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়ায় এবং দেশে ফেরামাত্রই আদালতের রায় অনুযায়ী তাঁকে গ্রেফতার ও শাস্তি কার্যকর করা হবে।
বিদেশে পলাতক অন্যান্য অপরাধীদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, দেশে জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে যারা বিদেশে রাজনৈতিক বা অবৈধ আশ্রয় নিয়েছেন, সেই সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালী সরকারি কর্মকর্তাদের ফিরিয়ে আনতে সরকার ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের (Interpol) মাধ্যমে রেড নোটিশসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, এই ধারাবাহিক আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ বিদেশে গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং খুব শিগগিরই তাঁকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হবে বলে তিনি দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন।
ক্ষমতাচ্যুত দল আওয়ামী লীগের বিচার ও দলটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমেদ স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান সরকার কোনো প্রকার নির্বাহী বা প্রশাসনিক আদেশে কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার পক্ষপাতী নয়। বরং জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সম্পূর্ণ আইনানুগ ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই দল হিসেবে আওয়ামী লীগের সামগ্রিক দায়-দায়িত্ব ও শাস্তি নির্ধারণ করা হবে।
তিনি সংসদকে ও জনগণকে অবহিত করেন যে, ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) আইন এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে প্রয়োজনীয় আইনি সংশোধন আনা হয়েছে, যার ফলে ব্যক্তি অপরাধীর পাশাপাশি আওয়ামী লীগকে দল হিসেবেও কাঠগড়ায় দাঁড় করানো সম্ভব হবে এবং এ বিষয়ে বর্তমানে তদন্ত চলছে।
মন্ত্রী আরও যোগ করেন, দেশের সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যেকোনো দল বা সংগঠনের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে বিচার করার পূর্ণ আইনি সুযোগ রয়েছে। যেহেতু শেখ হাসিনার একক নেতৃত্বে বিগত সরকার পরিচালিত হয়েছে, তাই সেই সরকারের বর্বরোচিত কর্মকাণ্ড ও গণহত্যার সাংগঠনিক দায় সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগকেও বহন করতে হবে।
তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আওয়ামী লীগের শীর্ষ থেকে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সরাসরি এই নৃশংস গণহত্যায় জড়িত ছিলেন এবং দল হিসেবে তারা এই জঘন্য ঘটনার জন্য এখনো পর্যন্ত ন্যূনতম কোনো অনুশোচনা প্রকাশ বা জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেনি। উল্টো তারা জুলাইয়ের ঐতিহাসিক গণআন্দোলনে অংশ নেওয়া বীর ছাত্র-জনতা ও সাধারণ ব্যক্তিদেরই অপরাধী হিসেবে বিশ্বমঞ্চে উপস্থাপনের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক আদেশে কোনো দলকে নিষিদ্ধ করলে তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না, তাই এটি অবশ্যই স্বচ্ছ বিচারিক ও আইনানুগ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই হতে হবে, যাতে দেশে ফ্যাসিবাদী রাজনীতির চিরতরে অবসান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। আওয়ামী লীগের অতীত ইতিহাসের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দলটির পুরো ইতিহাস মূলত গণতন্ত্র ধ্বংস করা, একদলীয় বাকশালী শাসন কায়েম, বিরোধী মতের ওপর দমনপীড়ন ও সহিংসতার ইতিহাস। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের মাটিতে যেন আর কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তির পুনরুত্থান না ঘটে, সেজন্য দেশের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশের ছাত্ররাজনীতি প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ছাত্রসমাজের ইতিহাস সবসময়ই গৌরব ও ত্যাগের। কিন্তু বিগত দিনগুলোতে একটি নির্দিষ্ট ‘মাফিয়া ছাত্রসংগঠন’ তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দিয়ে সেই সোনালী ইতিহাসকে মারাত্মকভাবে কলঙ্কিত করেছে। সরকার ছাত্রসমাজকে সেই কলঙ্কের হাত থেকে মুক্ত করে একটি সুস্থ ধারার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের জাতীয় গুরুত্ব তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের শেষভাগে বলেন, জুলাইয়ের এই মহান বিপ্লব কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা একক কোনো রাজনৈতিক দলের ব্যক্তিগত সম্পদ বা অর্জিত সম্পত্তি নয়। এটি দল-মত নির্বিশেষে সমগ্র বাংলাদেশের অধিকারবঞ্চিত মানুষের দীর্ঘ সংগ্রামের এক যৌথ প্রতীক। তাই এই পবিত্র চেতনাকে নিজেদের রাজনৈতিক ব্যবসার হাতিয়ার বানানো কারও উচিত নয়। জুলাইয়ের মূল শক্তি ও চেতনাকে বুকে ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো সরকার জনগণের ওপর চড়াও হওয়ার বা ফ্যাসিবাদী আচরণ করার দুঃসাহস দেখাতে না পারে।
/আশিক
পার্ক ও খেলার মাঠের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়েছে, সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনসহ দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের খেলার মাঠ ও পার্কগুলোর অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়েছে এবং শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত খোলা জায়গা নিশ্চিত করতে এই অভিযান ভবিষ্যতেও কঠোরভাবে চলমান থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ময়মনসিংহ-৮ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সরকারের এই দৃঢ় অবস্থানের কথা জানান। এ সময় সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
সংসদে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডিএনসিসির আওতায় বর্তমানে মোট ১৮৯টি পার্ক, খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত স্থান রয়েছে। এর মধ্যে ৩৮টি স্থাপনা ডিএনসিসির নিজস্ব মালিকানাধীন, যার মধ্যে রয়েছে ২৪টি পার্ক, ৬টি খেলার মাঠ, ৪টি শিশু পার্ক ও ৪টি ঈদগাহ। সাধারণ মানুষের বিনোদন ও শিশুদের খেলাধুলার এসব স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, আধুনিক বৈদ্যুতিক বাতি লাগানো এবং স্থায়ী নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োগ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ২০টি পার্ক ও ৪টি খেলার মাঠসহ মোট ২৮টি স্থাপনার আধুনিকায়ন ও উন্নয়ন কাজ সফলভাবে শেষ হয়েছে। বাকি ১৫১টি স্থান—যা রাজউক ও গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের অধীনে রয়েছে—সেগুলোও পর্যায়ক্রমে উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আনা হবে।
একই সাথে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, ডিএসসিসি এলাকায় সংস্থাটির নিজস্ব ও অন্যান্য সরকারি সংস্থার মালিকানাধীন মোট ২৫৬টি পার্ক ও খেলার মাঠ রয়েছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, সাধারণ মানুষের যাতায়াতের ফুটপাত এবং শিশুদের খেলার মাঠ থেকে যেকোনো ধরনের অবৈধ দখল উচ্ছেদে ডিএসসিসি সর্বদা তৎপর ভূমিকা পালন করছে। বর্তমানে মালিটোলা পার্ক, শহীদ মতিউর রহমান পার্ক (গুলিস্তান), ওসমানী উদ্যান, নবাবগঞ্জ পার্ক ও বাসাবো খেলার মাঠসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বড় প্রকল্পের উন্নয়ন কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।
এদিকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা সংসদে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সেখানে বর্তমানে উন্মুক্ত মাঠের সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকলেও, নতুন মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী গাজীপুরের ৮টি জোনে ৮টি এবং ৫৭টি ওয়ার্ডে ৫৭টি আধুনিক খেলার মাঠ তৈরি করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। এর বাইরে ময়মনসিংহ ও বরিশালসহ দেশের অন্যান্য সিটি করপোরেশনেও পার্ক ও মাঠ দখলমুক্ত করার বিশেষ অভিযান অব্যাহত আছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে দেশে খেলাধুলার মান ও পরিবেশের প্রভূত উন্নতি হয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও শিশুরা যাতে পর্যাপ্ত খোলা জায়গায় খেলাধুলা করে সুস্থভাবে বেড়ে উঠতে পারে, সেজন্য প্রতিটি এলাকায় পর্যাপ্ত মাঠ নিশ্চিত করা হবে। জনস্বার্থে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
/আশিক
নতুন পে-স্কেলে বাড়ছে বেতন-ভাতা, কারা পাবেন বেশি
দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বহুল আলোচিত নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে আজ গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছে পুনর্গঠিত সচিব কমিটি। বৈঠকে নতুন বেতন, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, বিভিন্ন ভাতা এবং বাস্তবায়নের রূপরেখা নিয়ে চূড়ান্ত সুপারিশ অনুমোদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
সচিবালয়ে সকাল সাড়ে ৯টায় অনুষ্ঠিতব্য এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। বৈঠক শেষে সুপারিশমালা দ্রুত মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
প্রস্তাবিত খসড়া অনুযায়ী, প্রথম থেকে দশম গ্রেড পর্যন্ত কর্মকর্তাদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। অন্যদিকে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বেতন বৃদ্ধির হার সর্বোচ্চ ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। ফলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের সরকারি কর্মচারীরাই নতুন কাঠামোতে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এবারের পে-স্কেলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে কেবল গ্রেডভিত্তিক নয়, বরং মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং প্রকৃত আয়ক্ষমতা বিবেচনায় বেতন ও বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণের পরিকল্পনা। অর্থাৎ পূর্বের মতো সবার জন্য প্রায় একই হারে ইনক্রিমেন্ট না দিয়ে প্রয়োজন ও আর্থসামাজিক বাস্তবতার ভিত্তিতে ভিন্ন হার নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বর্তমান কাঠামোয় সরকারি চাকরিজীবীরা গড়ে ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট পান। নতুন প্রস্তাবে ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত এই হার বহাল রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে পঞ্চম গ্রেডে ৪ শতাংশ, তৃতীয় ও চতুর্থ গ্রেডে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং দ্বিতীয় গ্রেডে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্টের প্রস্তাব রয়েছে। প্রথম গ্রেডের ইনক্রিমেন্ট পৃথকভাবে নির্ধারণ করা হবে।
সরকারের লক্ষ্য আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর করা। তবে প্রশাসনিক অনুমোদন, আইনি যাচাই, প্রজ্ঞাপন জারি এবং সফটওয়্যার হালনাগাদের মতো আনুষ্ঠানিকতা শেষ হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। সে ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সেপ্টেম্বর অথবা অক্টোবর মাসে বর্ধিত বেতন এবং সম্ভাব্য বকেয়া একসঙ্গে হাতে পেতে পারেন।
জানা গেছে, বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একাধিক বিকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে। শুরুতে তিন ধাপে বাস্তবায়নের বিষয়টি বিবেচনায় থাকলেও বর্তমানে দুই ধাপে কার্যকর করার সম্ভাবনাই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণে সরকার একটি বড় পরিসরের মতামত জরিপ পরিচালনা করেছে। এতে অংশ নেন প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ সরকারি চাকরিজীবী, ৬১ হাজার ৫০০ সাধারণ নাগরিক এবং ৩ হাজার ৫১৩টি প্রতিষ্ঠানের প্রধান। জরিপে মাত্র ৫ দশমিক ৬ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বর্তমান ইনক্রিমেন্ট ব্যবস্থার পক্ষে মত দেন। বিপরীতে প্রায় অর্ধেকের বেশি অংশগ্রহণকারী মূল্যস্ফীতির সঙ্গে বেতন বৃদ্ধির হার সমন্বয়ের পক্ষে মত দেন। এছাড়া উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অংশগ্রহণকারী জীবনযাত্রার ব্যয়কে ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণের ভিত্তি করার সুপারিশ করেছেন।
এছাড়া বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) লিভিং স্ট্যান্ডার্ড সার্ভে-২০২৫-এর তথ্যও নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। জরিপ অনুযায়ী, দেশে একটি পরিবারের গড় মাসিক ব্যয় ৩৫ হাজার ৩১১ টাকা। শহরাঞ্চলে এই ব্যয় প্রায় ৪৬ হাজার ৭৭৮ টাকা এবং ছয় সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে গড় ব্যয় ৬৬ হাজার ২৫৩ টাকায় পৌঁছেছে। এসব তথ্যই নতুন বেতন নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বেতন কমিশনের সুপারিশে প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব থাকলেও সচিব কমিটিতে প্রথম গ্রেডের বেতন ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত বর্তমান ১:৯.৪ থেকে কমিয়ে ১:৭.৫ করার প্রস্তাবও বিবেচনায় রয়েছে।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসতে পারে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে। বর্তমানে ২০তম গ্রেডের একজন সরকারি কর্মচারী বেতন-ভাতা মিলিয়ে প্রায় ১৬ হাজার ৯৫০ টাকা পান। নতুন কাঠামো কার্যকর হলে সেই আয় প্রায় ৪১ হাজার ৯০৮ টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের ধারণা।
শুধু মূল বেতন নয়, যাতায়াত, টিফিন, ধোলাই, ঝুঁকিভাতা এবং অন্যান্য ভাতাও পুনর্নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে যেসব কর্মচারী এসব ভাতার ওপর বেশি নির্ভরশীল, তাদের জন্য তুলনামূলক বেশি সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
-রফিক
রাস্তায় প্রস্রাব করলেই ডিজিটাল পর্দায় ছবি!
রাস্তার ধারে যেখানে-সেখানে প্রস্রাব, থুতু ফেলা কিংবা পানের পিক ছড়িয়ে জনপরিসর নোংরা করার প্রবণতা রোধে অভিনব এক উদ্যোগ নিয়েছে ভারতের আসাম রাজ্যের তিনসুকিয়া পৌরসভা। প্রচলিত জরিমানা, সচেতনতামূলক প্রচারণা এবং প্রশাসনিক অভিযানে কাঙ্ক্ষিত ফল না মেলায় এবার প্রযুক্তিনির্ভর সামাজিক জবাবদিহিতার পথ বেছে নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
নতুন এই ব্যবস্থায় শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়, ব্যস্ত সড়ক ও জনসমাগমস্থলে বড় আকারের ডিজিটাল ডিসপ্লে স্থাপন করা হয়েছে। এসব স্থানে বসানো সিসিটিভি ক্যামেরায় কেউ প্রকাশ্যে প্রস্রাব বা অনুরূপ অস্বাস্থ্যকর আচরণ করতে ধরা পড়লে তার ছবি বা ভিডিও তাৎক্ষণিকভাবে ওই ডিজিটাল স্ক্রিনে প্রদর্শন করা হচ্ছে। ফলে ঘটনাটি জনসম্মুখে প্রকাশ পেয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সামাজিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন।
পৌর কর্তৃপক্ষ এই উদ্যোগের নাম দিয়েছে ‘হল অব শেম’ (Hall of Shame)। প্রশাসনের ভাষ্য, শুধু আর্থিক জরিমানা নয়, বরং সামাজিক দায়বদ্ধতা ও জনসম্মুখে লজ্জাবোধ তৈরি করাই এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। তাদের বিশ্বাস, এমন ব্যবস্থা মানুষকে জনসমক্ষে অসচেতন আচরণ থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত করবে এবং শহরের পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বহু বছর ধরে পরিচ্ছন্ন শহর গড়তে নিয়মিত সচেতনতামূলক প্রচারণা, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং জরিমানার ব্যবস্থা চালু থাকলেও অনেক মানুষ এখনো প্রকাশ্যে প্রস্রাব ও থুতু ফেলার অভ্যাস পরিবর্তন করেননি। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় প্রযুক্তির সহায়তায় আচরণগত পরিবর্তন আনতেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
উদ্যোগটি চালুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই এটিকে জনস্বার্থে সাহসী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, জনপরিসরের পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় নাগরিকদের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে শুধু আইন নয়, সামাজিক জবাবদিহিতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে এই কর্মসূচিকে ঘিরে সমালোচনাও কম নয়। নাগরিক অধিকারকর্মী ও গোপনীয়তা বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, কোনো ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া তার ছবি বা ভিডিও প্রকাশ্যে প্রদর্শন করা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। তাদের মতে, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষাও সমানভাবে বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ কার্যকর করতে হলে স্থানীয় আইন, তথ্য সুরক্ষা নীতি এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
এখন সবার নজর তিনসুকিয়ার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের ফলাফলের দিকে। প্রযুক্তি, সামাজিক চাপ এবং জনসচেতনতার সমন্বয়ে ‘হল অব শেম’ প্রকল্পটি সত্যিই রাস্তার ধারে প্রস্রাব ও অন্যান্য অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস কমাতে পারে কি না, সেটিই আগামী দিনে স্পষ্ট হবে।
-রাফসান
যেদিন থেকে শিশুদের টাইফয়েডের নতুন টিকা শুরু
দেশের শিশুদের টাইফয়েড জ্বর থেকে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা দিতে জাতীয় নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে (ইপিআই) নতুন একটি ভ্যাকসিন যুক্ত করতে যাচ্ছে সরকার। আগামী ১ আগস্ট ২০২৬ থেকে ‘টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (টিসিভি)’ দেশের সব সরকারি নিয়মিত টিকাদান কেন্দ্রের মাধ্যমে নির্ধারিত বয়সী শিশুদের দেওয়া হবে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এ উদ্যোগ শিশুদের মধ্যে টাইফয়েডের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সোমবার (১৩ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন এ সিদ্ধান্তের কথা জানায়। এতে বলা হয়, শিশুদের প্রতিরোধযোগ্য সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে সুরক্ষা আরও শক্তিশালী করতেই জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ১৫ মাস বয়স পূর্ণ হওয়া প্রতিটি শিশুকে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির অংশ হিসেবে এক ডোজ টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। এই টিকা দেশের সব স্থায়ী ও অস্থায়ী ইপিআই কেন্দ্র থেকে বিনামূল্যে পাওয়া যাবে।
ইপিআইর কারিগরি নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, শিশুর বাম ঊরুর মধ্যভাগের বাইরের অংশের মাংসপেশিতে ০.৫ মিলিলিটার মাত্রার এক ডোজ টিসিভি প্রয়োগ করা হবে। একই টিকাদান সেশনে এমআর-২ (হাম ও রুবেলা) টিকার সঙ্গে এই ভ্যাকসিন নিরাপদভাবে একসঙ্গে দেওয়া যাবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, নতুন টিকাদান কার্যক্রম কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা আরও জোরদার করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ১৫ মাস বয়সী শিশুদের তালিকা প্রস্তুত করবেন এবং সরকারি ‘VaxEPI’ অ্যাপের মাধ্যমে তাদের নিবন্ধন সম্পন্ন করবেন। এর ফলে কোনো শিশু যেন টিকাদান কর্মসূচির বাইরে না থাকে, সেটি নিশ্চিত করা সহজ হবে।
অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ইমাম, ধর্মীয় নেতা এবং কমিউনিটি পর্যায়ের ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করে ব্যাপক প্রচারাভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উঠান বৈঠক, জনসচেতনতামূলক সভা এবং বিভিন্ন তথ্যভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে টিকার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করা হবে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে টাইফয়েড এখনো শিশুদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা। দূষিত পানি ও খাদ্যের মাধ্যমে ছড়ানো এই ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ থেকে গুরুতর জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন অন্তর্ভুক্ত হওয়া শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিকে আরও আধুনিক, কার্যকর এবং আন্তর্জাতিক মানসম্মত করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই নতুন ভ্যাকসিন যুক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এর মাধ্যমে আগামী বছরগুলোতে দেশে শিশুদের মধ্যে টাইফয়েড সংক্রমণ ও এ-সংক্রান্ত জটিলতা উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে।
-রফিক
আজ প্রাথমিক শিক্ষা পদক দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় অবদান রাখা শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি দিতে আজ (বুধবার, ১৫ জুলাই) অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠান। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পদক ও সম্মাননা তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এই জাতীয় আয়োজনের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষায় কৃতিত্ব, সৃজনশীলতা এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগকে উৎসাহিত করা হবে। একই সঙ্গে শিক্ষা খাতের বিভিন্ন সফল উদ্যোগও দেশের সামনে তুলে ধরা হবে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের শিক্ষা-সংক্রান্ত অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় শিশুদের সৃজনশীলতা, নেতৃত্ব, যুক্তিবোধ এবং বহুমাত্রিক দক্ষতা বিকাশে সারা দেশে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিষয়ভিত্তিক কুইজ, কাবিং এবং বিতর্ক প্রতিযোগিতা উপজেলা পর্যায় থেকে শুরু হয়ে জেলা, বিভাগ এবং জাতীয় পর্যায়ে সম্পন্ন হয়েছে।
এবারের প্রতিযোগিতাগুলোতে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মোট ২ কোটি ১৮ লাখ ২৮ হাজার ৬৯৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। দীর্ঘ বাছাই প্রক্রিয়া শেষে জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচিত সেরা শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’।
শুধু শিক্ষার্থীরাই নন, প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানও এ অনুষ্ঠানে জাতীয় স্বীকৃতি পাবেন। ব্যক্তি পর্যায়ে ১৫টি ক্যাটাগরিতে দেশের ১২ হাজার ৩৮৪ জন মনোনীত প্রার্থীর মধ্য থেকে নির্বাচিত শ্রেষ্ঠদের সম্মাননা দেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে দুটি ক্যাটাগরিতে দেশের ৬৫ হাজার ৫৪৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সেরা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও পুরস্কৃত করা হবে।
অনুষ্ঠানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন হচ্ছে সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একযোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন। পরিবেশবান্ধব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে জলবায়ু সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
এছাড়া অনুষ্ঠানে দেশের ৬৪ জেলার প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমের বিভিন্ন উদ্ভাবনী উদ্যোগ, সফল প্রকল্প এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে নেওয়া কার্যক্রম প্রদর্শন করা হবে। জেলা পর্যায়ের স্টলগুলোতে ‘স্কুল ফিডিং’, ‘আনন্দময় শিক্ষা’, ‘ডিজিটাল শিক্ষা’, ‘ফাউন্ডেশনাল লার্নিং’সহ শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন আধুনিক উদ্যোগ দর্শনার্থীদের সামনে উপস্থাপন করা হবে।
-রাফসান
শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আত্মসমর্পণের সুযোগ নেই, গ্রেফতারের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁর আর আত্মসমর্পণের কোনো আইনি সুযোগ থাকবে না, বরং তাঁকে সরাসরি গ্রেফতার করে আদালতের দেওয়া রায় কার্যকর করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরকারের এই কঠোর ও স্পষ্ট অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
গণআন্দোলনের মুখে সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিবেশী দেশ ভারতে আশ্রয় নেওয়া ক্ষমতাচ্যুত এই প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে জুলাই গণহত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা রুজু হয় এবং দেশের আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা প্রদান করেন। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা জানান, তিনি আগামী ডিসেম্বরের দিকে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন এবং দেশে ফিরে তিনিসহ তাঁর অধুনালুপ্ত ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন।
বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুক্রবার পর্যন্ত প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা এই টেলিফোন সাক্ষাৎকারের বরাত দিয়ে রয়টার্স উল্লেখ করেছে, ২০২৪ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এই প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে সরাসরি সাক্ষাৎকার দিলেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। দীর্ঘ দুই বছর যাবত ভারতের আশ্রয়ে থাকার পর এখন তিনি স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে আদালতের মুখোমুখি হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে সাক্ষাৎকারে দাবি করেন।
নিজের নিরাপত্তা ও দেশে ফেরার ঝুঁকি প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা রয়টার্সকে বলেন, বাংলাদেশে পা রাখার পর বর্তমান সরকার আমাকে গ্রেফতার করতে পারে, এমনকি আমার জীবননাশের আশঙ্কাও রয়েছে; তা সত্ত্বেও আমাকে দেশে ফিরতেই হবে। তিনি অভিযোগ করেন, দেশে তাঁর দলের নেতাকর্মীদের ওপর তীব্র দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে। জীবনের চূড়ান্ত ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, যদি আমার মৃত্যুও অবধারিত হয়, তবুও আমি নিজের দেশের মাটিতেই মরতে চাই— যেখানে আমার বাবা-মা সমাহিত আছেন এবং যেখানে তাঁদের রক্ত মিশে রয়েছে।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- হরমুজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের তেল-গ্যাস বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের
- ঘনীভূত হচ্ছে বঙ্গোপসাগরের লঘুচাপ, ৫ দিনের আবহাওয়া নিয়ে বড় দুঃসংবাদ
- পিকঅ্যাক্স পর্বত গুঁড়িয়ে দেব, ইরানিদের প্রস্তুত থাকতে বলুন: ট্রাম্প
- দেশ স্বাধীনের পর শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাকে রাজনীতিকরণ করা হয়েছিল: প্রধানমন্ত্রী
- স্পেনের ফাইনালের আনন্দের মাঝেই লামিনে ইয়ামালের বাড়িতে চুরির ব্যর্থ চেষ্টা
- ম্যারাডোনার 'হ্যান্ড অব গড' থেকে বেলিংহাম-মেসি দ্বৈরথ: ঐতিহ্যের নতুন অধ্যায়
- ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার শুরুর একাদশে বড় চমকের ইঙ্গিত স্কালোনির
- নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ইরানের নিজস্ব কৌশলের কাছে হার মানল মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
- ৩ দফা দাবিতে ঢাকাজুড়ে পরীক্ষার্থীদের লংমার্চ, শাহবাগ মোড়ে তীব্র উত্তেজনা
- সংসদকে মজলুমের মিলনমেলা বানাতে হবে: ড. শফিকুর রহমান
- তামিমের অধীনে কাজ করবেন ভারত, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট কর্তারা
- আমেরিকার সাথে কোনো আলোচনা নয়, হরমুজের নিয়ন্ত্রণ থাকবে ইরানের হাতেই
- দুর্যোগে বাদ পড়া এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা আবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবেন
- শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের সুযোগ নেই, দেশে ফেরামাত্র রায় কার্যকর করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- পার্ক ও খেলার মাঠের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়েছে, সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- নতুন পে-স্কেলে বাড়ছে বেতন-ভাতা, কারা পাবেন বেশি
- রাস্তায় প্রস্রাব করলেই ডিজিটাল পর্দায় ছবি!
- যৌন নিপীড়ন মামলায় আদালতের রায়ে ৫৬ লাখ ডলার দিলেন ট্রাম্প
- আজকের নামাজের সময়সূচি, এক নজরে দেখে নিন
- ট্যালকট পার্সন্সের Pattern Variable তত্ত্ব: আধুনিকতা ও উন্নয়ন ভাবনার রাজনীতি
- যেদিন থেকে শিশুদের টাইফয়েডের নতুন টিকা শুরু
- বিদ্যুৎকেন্দ্র-সেতু হতে পারে পরবর্তী লক্ষ্য, দাবি ট্রাম্পের
- বের হওয়ার আগে জেনে নিন আজ কোথায় মার্কেট বন্ধ
- বাংলাদেশিদের ভালোবাসায় আবেগঘন বার্তা স্কালোনির
- আজ প্রাথমিক শিক্ষা পদক দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- স্বর্ণ কিনতে সুখবর, একদিনেই বড় মূল্যহ্রাস
- ১৪ জুলাইয়ের অদ্ভুত সমাপতন: ২০২৪-এ 'রাজাকার' আর ২০২৬-এ 'ফার্মের মুরগি' বিতর্ক
- হরমুজের পর এবার বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধের হুমকি, বিশ্বজুড়ে চড়বে তেলের দাম
- সংবিধান সংশোধনে ব্যস্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নে তৎপরতা নেই: নাহিদ ইসলাম
- শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আত্মসমর্পণের সুযোগ নেই, গ্রেফতারের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
- মনে হচ্ছে এই বিশ্বকাপ আর্জেন্টিনার দিকেই পরিচালিত হচ্ছে: মিশরীয় কোচ
- বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের মহারণ: স্প্যানিশদের রুখে দিতে প্রস্তুত আত্মবিশ্বাসী ফ্রান্স
- বিশ্বকাপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় সেমিফাইনাল: ফ্রান্সের তুরুপের তাস যখন এমবাপ্পে
- ইরানি জনগণের অধিকারকে সম্মান করাই হরমুজ প্রণালী সচলের একমাত্র পথ
- চারবার দাম কমিয়ে জুয়েলারি বাজারে স্বস্তির খবর দিল বাজুস
- শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য অনাকাঙ্ক্ষিত, প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর
- হরমুজ প্রণালির আসল প্রহরী ইরানই, চিরকাল থাকবে: ট্রাম্পকে আরাগচির কড়া জবাব
- লক্ষণ খুব ভালো নয়, অপরাধীদের শাস্তি নিয়ে সংশয় প্রকাশ জামায়াত আমিরের
- সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে পদত্যাগ ও ক্ষমা চাইতে হবে: শিক্ষামন্ত্রীকে আন্দোলনকারীদের আলটিমেটাম
- ইয়েমেনে হুতিদের দমনে সৌদি আরবকে ট্রাম্পের সবুজ সংকেত, মধ্যপ্রাচ্যে বড় যুদ্ধের শঙ্কা
- দুর্যোগে পরীক্ষা দিতে না পারলে প্রয়োজনে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী
- ইরানকে নতুন হুমকি ট্রাম্পের, ‘আরও বড় হামলা আসছে’
- ফ্রান্স-স্পেন মহারণ, সুপারকম্পিউটার কাকে এগিয়ে রাখছে
- তারুণ্য ও উদ্ভাবনে জোর, ঢাবিতে প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ সফর
- টানা বর্ষণ কবে কমবে? নতুন পূর্বাভাস দিল আবহাওয়া অফিস
- মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব মার্কেট বন্ধ থাকবে
- ৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না, কোন এলাকাগুলো জানুন
- ১৯ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত
- বিশ্ববাজারে ৩ শতাংশ কমল স্বর্ণের দাম, বাংলাদেশেও কি কমবে?
- বর্ষণ কমলেও সামনে অপেক্ষা করছে নতুন দফার বৃষ্টি
- শিক্ষকের মর্যাদা যখন প্রশ্নবিদ্ধ: সংকটে শিক্ষাঙ্গন, সংকটে আমাদের ভবিষ্যৎ
- ২০২৬ বিশ্বকাপ কাঁপানো ৫ বড় বিতর্ক এক নজরে
- ফন্টেইনের ৬৮ বছরের রেকর্ড ভাঙবেন মেসি?
- ওয়াল্ট রস্টোর আধুনিকীকরণ তত্ত্ব ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট
- সোনা-রুপার নতুন দাম কার্যকর, জানুন সর্বশেষ তালিকা
- ৩৪ ম্যাচের অপরাজিত মরক্কোকে বিদায় দিল ফ্রান্স
- ফ্রান্স-স্পেন মহারণ, সুপারকম্পিউটার কাকে এগিয়ে রাখছে
- ‘আমার সঙ্গে সম্মান দিয়ে কথা বলুন’- রেফারিকে মেসি
- বিশ্ববাজারে ৩ শতাংশ কমল স্বর্ণের দাম, বাংলাদেশেও কি কমবে?
- স্পেন-বেলজিয়াম মহারণ, সেমির টিকিট কার হাতে
- টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারে ভয়াবহ বিপর্যয়
- নাহিদ, আসিফ ও পাটওয়ারীকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য নুরের
- ১৯ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত
- এক ঘোষণায় কমল স্বর্ণের দাম, কত হলো নতুন মূল্য?
- ‘হত্যার তালিকায় আমি এক নম্বরে’- ট্রাম্প








