কোরবানি হচ্ছে না ভাইরাল মহিষ ডোনাল্ড ট্রাম্প, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে ফিরল খামারে

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৭ ১৮:৪৪:৩৩
কোরবানি হচ্ছে না ভাইরাল মহিষ ডোনাল্ড ট্রাম্প, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে ফিরল খামারে
ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করা অ্যালবিনো জাতের আলোচিত মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’কে শেষ পর্যন্ত কোরবানি দেওয়া হচ্ছে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বিশেষ হস্তক্ষেপে মহিষটিকে নতুন ক্রেতার কাছ থেকে ফেরত এনে পুনরায় নারায়ণগঞ্জের আদি খামারেই পুনর্বাসন করা হয়েছে।

আজ বুধবার (২৭ মে) সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে এই চাঞ্চল্যকর সিদ্ধান্তটির কথা নিশ্চিত করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিরল জাতের এই মহিষটিকে কেন্দ্র করে কৌতূহলী মানুষের অতিরিক্ত সমাগম এবং এর ফলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি বা সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলার তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সার্বিক জননিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে কেরানীগঞ্জের ওই ক্রেতাকে তার দেওয়া পুরো টাকা বুঝিয়ে দিয়ে মহিষটি ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আপাতত ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের এই মহিষটিকে কোনো ধরনের জবাই বা কোরবানি না করে আগের মতোই খামারে রেখে নিয়মিত লালন-পালন করা হবে।

সংশ্লিষ্ট খামার কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়া এলাকায় অবস্থিত রাবেয়া এগ্রো ফার্মে প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের এই অ্যালবিনো বা শ্বেতবর্ণের মহিষটি বড় করা হয়। সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী সাদা রঙের লোম এবং মাথার অভিনব চুলের স্টাইলের কারণে সাধারণ মানুষের কাছে এটি বিশেষভাবে নজর কাড়ে। এর বাহ্যিক অবয়ব ও চুলের ধরণ অনেকটা বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো মনে হওয়ায় খামারিরা শখ করে এর নাম রেখেছিলেন ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’।

নামকরণের পর থেকেই মহিষটি ফেসবুক ও ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাতারাতি ভাইরাল হয়ে যায়। এরপর থেকেই প্রতিদিন দেশের দূর-দূরান্ত থেকে শত শত উৎসুক মানুষ মহিষটিকে একনজর দেখতে ওই খামারে এসে ভিড় জমাতে শুরু করেন। শুধু দেশের মূলধারার গণমাধ্যমই নয়, ফ্রান্সের এএফপি এবং ব্রিটেনের রয়টার্সের মতো শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থাগুলোতেও এই ভাইরাল মহিষটিকে নিয়ে বিশেষ সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছিল।

তথ্য সূত্র: যমুনা টেলিভিশন


সরকারি পরিসংখ্যানে ভয়াবহ চিত্র: দুই মাসের ব্যবধানে হামের গ্রাসে সাড়ে ৫০০ শিশু

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৭ ১৭:৫৪:৫২
সরকারি পরিসংখ্যানে ভয়াবহ চিত্র: দুই মাসের ব্যবধানে হামের গ্রাসে সাড়ে ৫০০ শিশু
ছবি : সংগৃহীত

দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব পরিস্থিতি দিন দিন আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে এই সংক্রামক ব্যাধি ও এর উপসর্গ নিয়ে আরও ৫টি শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। একই সময়ে নতুন করে এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ১১৮ জন, যাদের মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে ৬২ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের উপস্থিতি শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

আজ বুধবার (২৭ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ মহামারি সংক্রান্ত পরিস্থিতি প্রতিবেদন থেকে এই আশঙ্কাজনক তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সরকারি এই প্রতিবেদনটির বিস্তারিত তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত দুই মাসে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর হামের প্রকোপ কতটা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত ১৫ই মার্চ থেকে শুরু করে আজ ২৭শে মে সকাল ৮টা পর্যন্ত, অর্থাৎ এই আড়াই মাসেরও কম সময়ে সারা দেশে হাম এবং এর তীব্র উপসর্গ নিয়ে সর্বমোট ৫৬০টি শিশু মারা গেছে। এই মোট মৃত্যুর মধ্যে রোগতাত্ত্বিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে হামের কারণে প্রাণ হারিয়েছে ৮৮টি শিশু, আর বাকি ৪৭২টি শিশু মারা গেছে হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে।

একই নির্দিষ্ট সময়কালের মধ্যে সারা দেশে ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়েছে ৮ হাজার ৮৩৪ জন। এর বাইরে আরও ৬৭ হাজার ৭৯ জন শিশু হামের বিভিন্ন প্রাথমিক ও জটিল উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য শরণাপন্ন হয়েছে। সরকারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যার দিক থেকে দেশের অন্য সব অঞ্চলের চেয়ে ঢাকা বিভাগ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে। এই দুই মাসে কেবল ঢাকা বিভাগেই হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ২৩৮টি শিশু এবং আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার ৭৯৪ জনে।

/আশিক


রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ ভিআইপিদের উপস্থিতিতে মুখরিত হবে জাতীয় ঈদগাহ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৭ ১৭:৩০:৩১
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ ভিআইপিদের উপস্থিতিতে মুখরিত হবে জাতীয় ঈদগাহ
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সার্বিক ব্যবস্থাপনায় পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে। গুরুত্বপূর্ণ এই ঈদ জামাত আয়োজনের লক্ষে মাঠের সব ধরনের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে চূড়ান্ত করেছে ডিএসসিসি। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সরকারের মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, উচ্চ আদালতের বিচারপতি, রাষ্ট্রের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ ও বিদেশি কূটনীতিকরা জাতীয় ঈদগাহের এই প্রধান জামাতে অংশ নেবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

প্রশাসক জানান, আধুনিক নাগরিক সুযোগ-সুবিধা, কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নারী ও পুরুষদের জন্য সম্পূর্ণ পৃথক জোনের মাধ্যমে ঈদ জামাতকে সুশৃঙ্খল ও আরামদায়ক করতে এবার বড় পরিসরে আয়োজন করা হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ শাখার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক এই প্রধান ঈদ জামাতে ইমামতি করবেন।

জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের মোট আয়তন প্রায় ৩০ হাজার বর্গমিটার, যার মধ্যে মূল প্যান্ডেলের আওতাভুক্ত এলাকার পরিমাণ ২৫ হাজার ৪০০ বর্গমিটার। এখানে নির্ধারিত ১২১টি কাতারে একসঙ্গে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করতে পারবেন। বিশিষ্ট ও অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের (ভিআইপি) জন্য বিশেষ জোনে ২৫০ জন পুরুষ এবং ৮০ জন নারী মুসল্লির আসন সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। এর বাইরে সাধারণ মুসল্লিদের জন্য তৈরি করা প্যান্ডেলে প্রায় ৩১ হাজার পুরুষ এবং সাড়ে ৩ হাজার নারী মুসল্লির জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ঈদগাহ ময়দানে মুসল্লিদের সুশৃঙ্খলভাবে প্রবেশের সুবিধার্থে মোট ৪টি গেটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যার মধ্যে ভিআইপিদের জন্য ১টি, সাধারণ পুরুষদের জন্য ২টি এবং নারীদের জন্য ১টি পৃথক প্রবেশপথ থাকবে। নামাজ শেষে কোনো ধরনের হুড়োহুড়ি ছাড়া বের হওয়ার জন্য মোট ৭টি বহির্গমন ফটক তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে ভিআইপিদের জন্য ১টি, সাধারণ পুরুষদের জন্য ৫টি এবং নারীদের জন্য ১টি আলাদা গেট ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।

মাঠের ভেতরে সর্বমোট ১২১টি কাতারের বিন্যাস করা হয়েছে, যেখানে ভিআইপি পুরুষদের জন্য ৫টি ও নারীদের জন্য ১টি কাতার বরাদ্দ রয়েছে। সাধারণ পুরুষ মুসল্লিরা ৬৫টি বড় আকারের কাতারে এবং নারী মুসল্লিরা ৫০টি ছোট আকারের কাতারে নামাজ আদায়ের সুযোগ পাবেন। এছাড়া মাঠের ওজুখানায় একসাথে প্রায় ১৪০ জন মুসল্লির ওজু করার ব্যবস্থা করা হয়েছে, যার মধ্যে পুরুষদের জন্য ১১৩টি এবং নারীদের জন্য ২৭টি পৃথক ওজু পয়েন্ট রয়েছে।

মুসল্লিদের শারীরিক স্বস্তি ও গরমের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্যান্ডেলের ভেতরে বিশেষ শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, পর্যাপ্ত সংখ্যক ফ্যান ও আলোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একই সাথে বিশুদ্ধ খাবার পানি, আরামদায়ক কার্পেট এবং ভিআইপি কাতারে বিছানোর জন্য জায়নামাজ সরবরাহ করার প্রস্তুতি রয়েছে। মাঠের মূল প্যান্ডেলটি সম্পূর্ণ পানি নিরোধক সামিয়ানা দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে, যাতে আকস্মিক বৃষ্টি হলেও নামাজে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে।

প্রধান ঈদ জামাতকে ঘিরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও অগ্নিকাণ্ড রোধে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের বিশেষ দল অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জামসহ মোতায়েন থাকবে। এর পাশাপাশি জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রাথমিক চিকিৎসা বুথ, ভ্রাম্যমাণ টয়লেট এবং বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রাখা হয়েছে। উৎসবের আমেজ ফুটিয়ে তুলতে ঈদগাহের চারপাশে দৃষ্টিনন্দন ৩টি তোরণ বা প্রবেশদ্বার নির্মাণ করা হয়েছে। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা যেন সম্পূর্ণ নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক এবং ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে ঈদের নামাজ আদায় করতে পারেন, তার সব আয়োজন এখন প্রস্তুত।

/আশিক


ঈদযাত্রায় বাড়তি ভাড়া নিলেই জরিমানা, মহাখালীতে কড়া হুঁশিয়ারি সেতুমন্ত্রী রবিউল আলমের

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৭ ১৭:২৫:২৪
ঈদযাত্রায় বাড়তি ভাড়া নিলেই জরিমানা, মহাখালীতে কড়া হুঁশিয়ারি সেতুমন্ত্রী রবিউল আলমের
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ঈদুল আজহার ঈদযাত্রায় গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় প্রতিরোধ, মহাসড়কের চাপ সামলানো এবং সার্বিক পরিবহন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি উল্লেখ করেন, শেষ মুহূর্তে যাত্রীদের তাড়াহুড়ো ও অতিরিক্ত ভিড়ের সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মাঝপথে বাড়তি ভাড়া আদায়ের চেষ্টা করছে। তবে এ ধরনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া মাত্রই প্রশাসন তাৎক্ষণিক আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং দায়ীদের জরিমানা করা হচ্ছে।

আজ বুধবার (২৭ মে) রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা যেন সম্পূর্ণ নির্বিঘ্ন হয়, সে জন্য সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল থেকেও সারা দেশের সড়ক ও পরিবহনের সার্বিক তদারকি চলছে।

সেতুমন্ত্রী বলেন, বাস টার্মিনালগুলোর মূল কাউন্টারগুলোতে নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ এখন পর্যন্ত খুব বেশি পাওয়া যায়নি। তবে অনেক সময় মাঝপথে যাত্রীরা দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর তাগিদে সামনে পাওয়া যেকোনো বাসে উঠতে চান, আর ঠিক এই সুযোগটি নিয়েই কিছু ক্ষেত্রে অসাধু চক্র বেশি ভাড়া আদায়ের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটাচ্ছে।

সড়ক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতুর আগে চন্দ্রা ত্রিমোহনী এলাকায় যানবাহনের কিছুটা ধীরগতি দেখা গেলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি একেবারেই অস্বাভাবিক নয়। কারণ ওই রুটে সাত লেনের যানবাহন এসে যখন হঠাৎ দুই লেনের সড়কে প্রবেশ করছে, তখন স্বাভাবিকভাবেই সেখানে একটি বড় চাপ তৈরি হচ্ছে। তবে রাস্তায় বড় ধরনের কোনো যানজট বা ব্যবস্থাপনায় বড় কোনো বিপর্যয় ঘটেনি।

চলতি বছরের ঈদযাত্রার তীব্র চাপ প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, গত কয়েক দিনের ব্যবধানে ইতিমধ্যে প্রায় দেড় কোটি মানুষ রাজধানী ঢাকা ছেড়েছেন। একই সময়ে সারা দেশে কোরবানির জন্য প্রায় ৮০ লাখ পশু বিভিন্ন অঞ্চলে পরিবহন করতে হচ্ছে, যা দেশের সীমিত পরিবহন ব্যবস্থার ওপর একটি বিশাল মনস্তাত্ত্বিক ও অবকাঠামোগত চাপ তৈরি করেছে। সীমিত সক্ষমতা নিয়েও পরিবহন খাত এই চাপ সামলাতে তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

চাপ সামাল দিতে তিনি সাধারণ যাত্রীদেরও কিছুটা ধৈর্য ধারণ করার আহ্বান জানান। তার মতে, অনেক যাত্রী আগে থেকে কোনো টিকিট না কেটে একদম শেষ মুহূর্তে টার্মিনালে এসে যাত্রা শুরু করেন। এর ফলে স্টেশনে তাৎক্ষণিক চাপ আরও বহুগুণ বেড়ে যায় এবং এই বিশৃঙ্খল অবস্থার সুযোগ নেয় অসাধু চক্র।

রেলপথে নারীদের জন্য বিশেষ কোচ সংযোজন করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ইতোমধ্যে তিনটি আন্তঃনগর ট্রেনে নারীদের জন্য বিশেষ কামরার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। তবে দেশের সব ট্রেনে এখনই এই সেবা দেওয়া সম্ভব হয়নি, কারণ রেলের পর্যাপ্ত বগির সংকট রয়েছে এবং ঈদের সমস্ত অগ্রিম টিকিট অনেক আগেই বিক্রি হয়ে গেছে। তা সত্ত্বেও ঈদ উপলক্ষে নিয়মিত বহরের সাথে অতিরিক্ত ৫১টি কোচ যুক্ত করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রাজধানীর মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পশুর হাট বসানো নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, এ ধরনের কোনো বিতর্কিত সিদ্ধান্ত সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি। বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে স্থানীয় সিটি কর্পোরেশনের এখতিয়ারাধীন এবং ইজারা সংক্রান্ত সমস্ত ভালো-মন্দ দায়-দায়িত্বও তাদেরই বহন করতে হবে।

দেশের সড়ক ও গণপরিবহন ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা তুলে ধরে শেখ রবিউল আলম বলেন, দেশের পুরো পরিবহন খাতকে একটি সমন্বিত বা মাল্টিমোডাল ব্যবস্থায় নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ চলছে। রুটভিত্তিক বাস কোম্পানি গঠন, ঢাকার মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যতে মনোরেল চালুর পরিকল্পনাও সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকারে রয়েছে। তিনি দাবি করেন, এবারের ঈদযাত্রায় নানামুখী চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতা থাকলেও সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যাত্রীরা নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন।

/আশিক


চতুর্থ থেকে দশম গ্রেডের বেতন বৃদ্ধির খসড়া রূপরেখা: কার কত বাড়ছে?

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৭ ১২:৪৭:১৫
চতুর্থ থেকে দশম গ্রেডের বেতন বৃদ্ধির খসড়া রূপরেখা: কার কত বাড়ছে?
ছবি : সংগৃহীত

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে একটি বড় ও ইতিবাচক সুখবর আসতে যাচ্ছে। সরকারের প্রস্তাবিত নতুন এই বেতন কাঠামোয় সবচেয়ে বেশি লাভবান হতে পারেন নিম্ন গ্রেডের সাধারণ কর্মচারী এবং তুলনামূলক কম পেনশন পাওয়া অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। একই সঙ্গে সরকারি চাকরিতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা গ্রেডভিত্তিক বেতন বৈষম্য কমিয়ে আনার বিষয়টিকে এবার বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, নতুন এই পে-স্কেলে নিম্ন আয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন তুলনামূলক বেশি হারে বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এর বিপরীতে উচ্চ গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেতন বৃদ্ধির হার কিছুটা কম হতে পারে। নীতিনির্ধারকদের ধারণা, এই ধরনের ভারসাম্যপূর্ণ পদক্ষেপের ফলে সরকারি চাকরিতে বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যে বিরাজমান আয়ের ব্যবধান অনেকটাই কমে আসবে।

প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো অনুযায়ী, সরকারি চাকুরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন বা বেসিক ৫০ শতাংশ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ দ্বিগুণ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রাথমিক আলোচনা চলছে। এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুলিশ, মাঠ প্রশাসন ও বিচার বিভাগসহ সব খাতের নিম্ন আয়ের কর্মচারীরা সরাসরি সুফল পাবেন। বিশেষ করে দেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্যও এই পে-স্কেলে বড় ধরনের কোনো সুখবর আসতে পারে বলে জোর আশা করা হচ্ছে।

নতুন এই খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী বিভিন্ন পদের বেতন বৃদ্ধির একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ রূপরেখা পাওয়া গেছে। যেমন, চতুর্থ গ্রেডে কর্মরত কলেজ অধ্যক্ষদের মূল বেতন বর্তমানের ৫০ হাজার টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৭৫ হাজার টাকা হতে পারে। এছাড়া ষষ্ঠ গ্রেডের সহকারী অধ্যাপকদের বেতন ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫৩ হাজার ২৫০ টাকা এবং সপ্তম গ্রেডের প্রধান শিক্ষক ও উপাধ্যক্ষদের বিদ্যমান ২৯ হাজার টাকার বেসিক বাড়িয়ে ৪৩ হাজার ৫০০ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। অন্যদিকে, নবম গ্রেডের প্রভাষকদের প্রারম্ভিক বেতন ২২ হাজার টাকা থেকে ৩৩ হাজার টাকা এবং দশম গ্রেডের বিএডধারী সহকারী শিক্ষকদের মূল বেতন ১৬ হাজার টাকা থেকে ২৪ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

নিম্ন গ্রেডের পদগুলোতে বেতন কাঠামোতে আরও আমূল পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। খসড়া অনুযায়ী, ১১তম গ্রেডের সহকারী শিক্ষকদের বর্তমান ১২ হাজার ৫০০ টাকার বেসিক দ্বিগুণ হয়ে ২৫ হাজার টাকা এবং ১৬তম গ্রেডের অফিস সহকারীদের ৯ হাজার ৩০০ টাকার বেতন বেড়ে ১৮ হাজার ৬০০ টাকা হতে পারে। একইভাবে ১৮তম গ্রেডে কর্মরত ল্যাব সহকারীদের ৮ হাজার ৮০০ টাকার মূল বেতন ১৭ হাজার ৬০০ টাকা এবং ২০তম গ্রেডের অফিস সহায়ক ও নৈশপ্রহরীদের বিদ্যমান ৮ হাজার ২৫০ টাকার বেতন দ্বিগুণ হয়ে ১৬ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

চাকরিজীবীদের পাশাপাশি নতুন পে-স্কেলে কম পেনশন পাওয়া অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বড় সুবিধার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। যাদের মাসিক পেনশনের পরিমাণ বর্তমানে ২০ হাজার টাকার নিচে, তাদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত পেনশন বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। এর পাশাপাশি বর্তমানে চালু থাকা ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতাও নতুন এই পে-স্কেলের মূল বেতনের সঙ্গে সমন্বয় করার চিন্তা করা হচ্ছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ১ জুলাই থেকে এই নবম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর করার প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রশাসন। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন এবং সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির পরই এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে।

সার্বিক এই পরিস্থিতি নিয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের মহাসচিব দেলোয়ার হোসেন আজিজী জানান, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে শিক্ষক-কর্মচারীদের বিদ্যমান সামান্য বেতনে পরিবার চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। এই বাস্তবতায় নতুন বাজেটে সরকার অবশ্যই একটি ইতিবাচক ও কল্যাণমুখী সিদ্ধান্ত নেবে বলে তারা গভীরভাবে আশা প্রকাশ করছেন।

/আশিক


ভঙ্গুর অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা সংকট: ১০০ দিনের মাথায় কেমন চলছে নতুন সরকার?

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৭ ১১:৫৪:১৮
ভঙ্গুর অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা সংকট: ১০০ দিনের মাথায় কেমন চলছে নতুন সরকার?
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশে এক বড় ধরনের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসা বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের প্রথম ১০০ দিন পূর্ণ হয়েছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন এই সরকারটি দেশের রাজনৈতিক অচলাবস্থা, ভঙ্গুর অর্থনৈতিক দশা, দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং গভীর সামাজিক বিভাজনের প্রেক্ষাপটে চলতি বছরের ১৭ই ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করে। ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দ্রুত পূরণের একটি বাড়তি চাপ সরকারের ওপর রয়েছে। এর পাশাপাশি নতুন করে দেখা দেওয়া জ্বালানি সংকট এবং হামের প্রাদুর্ভাবের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সরকারকে শুরুতেই বেশ বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। এই ১০০ দিনে সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া কিছু উদ্যোগ যেমন প্রশংসা কুড়িয়েছে, তেমনি সরকারের কিছু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত জন্ম দিয়েছে নানা সমালোচনার।

বিশ্লেষকদের মতে, পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সরকারের সফলতা বা ব্যর্থতা মাত্র একশ দিনের মাথায় চূড়ান্তভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়, তবে সরকারের ভবিষ্যৎ পথচলার শুরুটা কেমন হলো তা বোঝার জন্য এই সময়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই দিনগুলোতে সরকার নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে মনোযোগ দেওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রীয় সংস্কারের লক্ষ্যে খাতভিত্তিক কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতির আভাস মিললেও অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ খাত এখনো স্থবির রয়ে গেছে।

বিশেষ করে দেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন এবং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকারের ভূমিকা এখনো সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী কার্যকর হয়ে ওঠেনি। ভঙ্গুর অবস্থা থেকে দেশের অর্থনীতিকে টেনে তোলার এই কঠিন চ্যালেঞ্জে নতুন সরকার কতটা সফল হবে, তা নিশ্চিত হতে আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তাফিজুর রহমান মনে করেন, আসন্ন জাতীয় বাজেট দেখলেই পরিষ্কার হবে যে এই সরকার দেশের অর্থনীতি নিয়ে আসলে কী ধরনের পরিকল্পনা করছে এবং তাদের অগ্রাধিকারের জায়গাগুলো ঠিক কী। অবশ্য সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই তারা বিপর্যস্ত অর্থনীতি পুনর্গঠনে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন এবং সিংহভাগ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সরবরাহ করা তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে মন্ত্রিসভায় গৃহীত ৬০টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের প্রায় ৬২ শতাংশ ইতিমধ্যে সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

নতুন সরকারের প্রথম একশ দিনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা ছিল অর্থনৈতিক খাতের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা। ব্যাংক খাতের সংস্কার, লাগামহীন মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখাই ছিল মূল আলোচনার বিষয়। এর সঙ্গে বাড়তি বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারের ওপর চাপ আরও বেড়েছে।

ফলে অর্থনীতিবিদরা সরকারের এই সময়কালকে মূলত একটি তীব্র সংকট ব্যবস্থাপনার সময় হিসেবেই দেখছেন। সামাজিক নিরাপত্তা খাতে নেওয়া কিছু সময়োপযোগী পদক্ষেপে সরকার ইতিবাচক বার্তা দিতে পারলেও, কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে নেওয়া বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা চলছে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ বা সিপিডি-এর সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক ঋণের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের একটি সদিচ্ছা সরকারের মধ্যে দেখা গেছে। তবে দেশে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে এখনো দৃশ্যমান কোনো বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। যার ফলে অর্থনীতির বেশ কিছু সূচকে উদ্বেগ এখনো কাটেনি।

অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, মাত্র একশ দিনের মধ্যে আর্থিক খাতে বড় কোনো আমূল পরিবর্তন আনা অলৌকিক, তবে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তগুলো থেকে ভবিষ্যতের একটি স্পষ্ট বার্তা পাওয়া যেতে পারে। আগের সরকারের রেখে যাওয়া পুঞ্জীভূত সমস্যাগুলো এখনো রয়ে গেছে এবং কিছু ক্ষেত্রে তা আরও ঘনীভূত হয়েছে। এবারও রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হচ্ছে না এবং সরকারকে ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নিতে হচ্ছে। অবশ্য এই সময়ে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স প্রবাহে একটি ইতিবাচক গতি লক্ষ্য করা গেছে।

ব্যাংকিং আইনে আনা সাম্প্রতিক সংশোধন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন গভর্নর নিয়োগসহ আর্থিক খাতের বেশ কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিয়ে ইতোমধ্যে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। এই খাতের সামগ্রিক সংস্কারে সরকার আসলে সুনির্দিষ্টভাবে কী করতে চায়, তা এখনো বিশেষজ্ঞদের কাছে স্পষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞরা সরকারকে অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে সতর্কতার সাথে পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।

ড. মোস্তাফিজুর রহমান উল্লেখ করেন যে, ব্যাংকিং অর্ডিন্যান্স নতুন করে পর্যালোচনা করার কথা বলা হলেও, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্ণ স্বাধীনতার ব্যাপারে সরকারের যে রাজনৈতিক অঙ্গীকার ছিল, তা এখনো দৃশ্যমান হয়ে ওঠেনি। এছাড়া বেসরকারি খাতে বিনিয়োগে বড় ধরনের সংকোচন দেখা যাচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য একটি বড় অন্তরায়। উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় যেভাবে বাড়ছে, তা নিয়ন্ত্রণ করা এবং বাজার ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখা সরকারের জন্য অন্যতম কঠিন পরীক্ষা।

ব্যাংকিং খাতের অস্থিতিশীলতা ও খেলাপি ঋণের উচ্চ হার এখনো অর্থনীতির প্রধান দুর্বলতা হিসেবে রয়ে গেছে। একই সাথে রাজস্ব ও জিডিপির অনুপাত গত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসায় সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা ও বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি দেওয়ার সক্ষমতা অনেকখানি সীমিত হয়ে পড়েছে। আর্থিক শৃঙ্খলা ফেরাতে কাঠামোগত স্থায়ী সংস্কার ছাড়া কেবল প্রশাসনিক তদারকি দিয়ে এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় থেকেই দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে দেশজুড়ে নানা আলোচনা ও সমালোচনা চলছে, যার মধ্যে অন্যতম ছিল ‘মব ভায়োলেন্স’ বা গণপিটুনির মতো ঘটনা। রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব নিলে এই পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটবে বলে সাধারণ মানুষ আশা করলেও বাস্তবে পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি। নিরাপত্তা বিশ্লেষক ড. নাসির উদ্দিন আহাম্মেদ মনে করেন, ধর্ষণ, হত্যাকাণ্ড এবং ছিনতাইয়ের মতো অপরাধগুলো এখনো সমাজে অস্বস্তির কারণ হয়ে আছে।

বিশেষ করে নারী ও শিশু নির্যাতন এবং ধর্ষণের মতো ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে বিচার ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর মানুষের আস্থা এখনো পুরোপুরি ফিরে আসেনি, যা কোনোভাবেই কাম্য ছিল না। অপরাধ ও রাজনৈতিক সহিংসতা দমনে পুলিশের পেশাদারিত্ব ও ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়ে গেছে। সম্প্রতি রাজধানীর কালশিতে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় পুলিশের পিছু হটার দৃশ্যটি ছিল অত্যন্ত দৃষ্টিকটু, যা নির্দেশ করে যে পুলিশ এখনো তাদের পূর্ণ সক্ষমতা ও পেশাদার জায়গায় ফিরতে পারেনি।

অবশ্য দেশের মাঠ পর্যায় থেকে সেনাবাহিনী ধাপে ধাপে সরিয়ে নেওয়া এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়াগুলোকে পরিস্থিতির উন্নতির ইতিবাচক দিক হিসেবেও দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সম্প্রতি মব ভায়োলেন্সের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত দিলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের আইনের আওতার বাইরে রাখার প্রবণতা নিয়ে সমালোচনা রয়েছে।

এর পাশাপাশি র‍্যাবের কর্মকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিনের যে বিতর্ক, তা থেকে সংস্থাটিকে মুক্ত করা বর্তমান সরকারের জন্য বড় পরীক্ষা। এক সময় র‍্যাব বিলুপ্তির দাবি রাজনৈতিক এজেন্ডায় থাকলেও, সরকার এখন এটিকে বিলুপ্ত না করে একটি সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামোর আওতায় এনে পুনর্গঠন করার পরিকল্পনা করছে। সরকারের পক্ষ থেকে পরিস্থিতির উন্নতির দাবি করা হলেও মাঠ পর্যায়ে ছিনতাই, মাদক ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধগুলো এখনো জনগণের উদ্বেগের প্রধান কারণ।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে আসা এই নতুন সরকারকে শুরু থেকেই নানামুখী রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বিশেষ করে জাতীয় সংসদে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে সামাল দেওয়া বর্তমান সরকারের জন্য একটি বড় পরীক্ষা, যার আভাস সংসদের প্রথম অধিবেশনেই পাওয়া গেছে। জুলাই সনদসহ বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বেশ উত্তপ্ত ও আলোচিত ছিল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান খান মনে করেন, সরকার এখন পর্যন্ত বিরোধী দলগুলোর সাথে বড় ধরনের সংঘাত এড়িয়ে আলোচনার পরিবেশ ধরে রাখতে পেরেছে, যা একটি সুস্থ ও ইতিবাচক গণতান্ত্রিক চর্চার লক্ষণ। তবে জুলাই আন্দোলনের চেতনা সমুন্নত রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা সরকারের জন্য সহজ হবে না। এছাড়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা ও স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন প্রতিষ্ঠার মতো বিষয়গুলোতে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক জটিলতা তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে শপথ গ্রহণের দিন থেকেই সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় সংসদের ভেতরে ও বাইরে বিরোধী দলগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে বিএনপি। বিরোধীরা সংসদের বাইরেও আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে। তবে সরকার শুরু থেকেই সামাজিক সুরক্ষামূলক অঙ্গীকারগুলো আগে বাস্তবায়নের দিকে মনোযোগ দিয়েছে।

ফ্যামিলি কার্ড বা কৃষি কার্ডের মতো পদক্ষেপগুলো দ্রুত চালু করে সরকার যেমন জনগণের কাছে তাদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াচ্ছে, তেমনি অতীতে এসবের কটাক্ষ করা বিরোধীদেরও একটি পাল্টা রাজনৈতিক বার্তা দিচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি করতে না পারলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা খুব শিগগিরই সরকারকে আরও বড় ধরনের চাপে ফেলতে সক্ষম হবে।

এই সমস্ত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি দেশজুড়ে দেখা দেওয়া হামের প্রাদুর্ভাব বর্তমান সরকারকে বেশ ভাবিয়ে তুলেছে। ইতোমধ্যে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে পাঁচ শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এই স্বাস্থ্য সংকটের জন্য আগের সরকারকে দায়ী করা হলেও বর্তমান স্বাস্থ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা কম হচ্ছে না। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে দেশব্যাপী ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে এবং স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে।

সম্প্রতি সরকারের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের অবস্থান ও অর্জনের খতিয়ান তুলে ধরেছে প্রশাসন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানান, গত ১৭ই ফেব্রুয়ারি থেকে ২৪শে মে পর্যন্ত মন্ত্রিসভার মোট ১০টি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে গৃহীত ৬০টি নীতিগত সিদ্ধান্তের মধ্যে ইতোমধ্যে ৩৭টি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়েছে।

প্রশাসনিক গতিশীলতা বজায় রাখতে প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দেশের আর্থিক অপরাধ দমনে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বাক্ষর এবং এস আলম গ্রুপের প্রায় ৪ হাজার ২৬৪ কোটি টাকার সম্পদ জব্দের মাধ্যমে সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাদের কঠোর অবস্থানের প্রমাণ দিয়েছে।

মুখপাত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের সামগ্রিক কৃষি ব্যবস্থাকে আধুনিক ও ডিজিটাল কাঠামোর আওতায় আনতে ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ক্ষুদ্র কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পানি সংকট নিরসনে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ‘পদ্মা ব্যারেজ’ প্রকল্পসহ দেশজুড়ে জলাশয় ও খাল খনন কর্মসূচি পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে।

সরকার দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করার ওপর সর্বোচ্চ জোর দিয়েছে দাবি করে উপদেষ্টা মেহেরপুরের একটি ধর্ষণ মামলায় মাত্র ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে আসামির মৃত্যুদণ্ড প্রদান এবং ঢাকার পল্লবীর চাঞ্চল্যকর শিশু হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়ায় সরকারের সরাসরি তদারকির উদাহরণ পেশ করেন।

সূত্র: বিবিসি বাংলা


এভারেস্টে উড়ল লাল-সবুজ: তৃতীয় বাংলাদেশি নারী হিসেবে নুরুন্নাহার নিম্নির বিশ্বজয়

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৭ ১০:৩৬:২১
এভারেস্টে উড়ল লাল-সবুজ: তৃতীয় বাংলাদেশি নারী হিসেবে নুরুন্নাহার নিম্নির বিশ্বজয়
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের পর্বতারোহণের ইতিহাসে এক নতুন ও গৌরবময় অধ্যায় রচনা করে পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট (৮,৮৪৮.৮৬ মিটার) জয় করেছেন দেশের সাহসী নারী পর্বতারোহী নুরুন্নাহার নিম্নি। তিনি তৃতীয় বাংলাদেশি নারী এবং সামগ্রিকভাবে অষ্টম বাংলাদেশি হিসেবে এই অনন্য কীর্তি স্থাপন করলেন।

আজ বুধবার (২৭ মে ২০২৬) নেপালের স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ২৪ মিনিটে এভারেস্টের চূড়ায় সফলভাবে আরোহণ করেন তিনি। এর আগে ২০১২ সালের মে মাসে প্রথম বাংলাদেশি নারী হিসেবে নিশাত মজুমদার এবং পরবর্তীতে ওয়াসফিয়া নাজরীন এভারেস্টের চূড়ায় লাল-সবুজ পতাকা উড়িয়েছিলেন। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় পর আবার কোনো বাংলাদেশি নারী বিশ্বের সর্বোচ্চ চূড়ায় আরোহণ করে দেশের ভাবমূর্তি বৈশ্বিক দরবারে উজ্জ্বল করলেন।

আজ বুধবার এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলা মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব (বিএমটিসি) নুরুন্নাহার নিম্নির এই ঐতিহাসিক মেগা এভারেস্ট জয়ের খবরটি নিশ্চিত করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নেপালের স্বনামধন্য এভারেস্ট অভিযান ব্যবস্থাপনা সংস্থা '৮কে এক্সপেডিশন' (8K Expedition)-এর পক্ষে অ্যাঙ তেম্বা শেরপা আনুষ্ঠানিকভাবে নিম্নির চূড়া ছোঁয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। চূড়ান্ত আরোহণের লক্ষ্যে গত ২৫ মে নিম্নি ক্যাম্প-২ (৬,৪০০ মিটার) থেকে যাত্রা শুরু করেন এবং রাতে ক্যাম্প-৩ (৭,২০০ মিটার) এ অবস্থান করেন।

২৬ মে ভোরে তিনি ক্যাম্প-৩ থেকে রওনা হয়ে দুপুর আড়াইটা নাগাদ মৃত্যুর উপত্যকা হিসেবে পরিচিত ক্যাম্প-৪ (ডেথ জোন) এ পৌঁছান। সেখানে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রয়োজনীয় বিশ্রাম ও অক্সিজেন সিলিন্ডার নিশ্চিত করার পর তিনি চূড়ার উদ্দেশ্যে তাঁর চূড়ান্ত মরণজয়ী সামিট পুশ শুরু করেন। সারারাত তীব্র ঠান্ডা, দুর্গম বরফের দেয়াল ও প্রতিকূল আবহাওয়া পেরিয়ে আজ ভোরে তিনি এভারেস্টের শীর্ষবিন্দুতে পৌঁছান এবং পরম গৌরবে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা তুলে ধরেন। এই ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে তাঁর ছায়াসঙ্গী হিসেবে ছিলেন দুই অভিজ্ঞ নেপালি গাইড দাওয়া নুপু শেরপা ও লাকপা থিনদুক শেরপা।

বিএমটিসি আরও জানায়, অভিযাত্রী নুরুন্নাহার নিম্নি গত ১১ এপ্রিল ২০২৬ নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছিলেন। এই ঐতিহাসিক এভারেস্ট অভিযানটি যৌথভাবে পরিকল্পনা করেছে বাংলা মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব এবং এতে একক স্পনসর হিসেবে অর্থায়ন করেছে পূবালী ব্যাংক পিএলসি।

রংপুরের মফস্বল শহরে বেড়ে ওঠা নুরুন্নাহার নিম্নি দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগ থেকে সফলভাবে উচ্চশিক্ষা শেষ করেছেন। বর্তমানে তিনি পূবালী ব্যাংক পিএলসির জেনারেল ব্যাংকিং বিভাগে প্রিন্সিপাল অফিসার হিসেবে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে কর্মরত আছেন। নিম্নির এই হিমালয় জয় দেশের তরুণ সমাজ ও নারীদের যেকোনো প্রতিকূলতা জয়ের ক্ষেত্রে এক নতুন অনুপ্রেরণা জোগাবে।

/আশিক


শনিবার রাজধানীর ১৬ স্পটে খাদ্য বিতরণ করবে তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৬ ২২:০৬:২৩
শনিবার রাজধানীর ১৬ স্পটে খাদ্য বিতরণ করবে তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার ১৬টি পয়েন্টে দুস্থ ও অসহায়দের মাঝে বড় পরিসরে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বিএনপি। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির যৌথ উদ্যোগে আগামী শনিবার (৩০ মে ২০২৬) এই সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচি একযোগে পালন করা হবে। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব এই কর্মসূচি সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান কর্মসূচির বিবরণ দিয়ে জানান, ঢাকা মহানগরের ১৫টি সংসদীয় আসন এবং নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনেসহ মোট ১৬টি সুনির্দিষ্ট স্থানে এই খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ করা হবে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় ও তত্ত্বাবধানে এই কর্মসূচি পরিচালিত হবে। এছাড়া প্রতিবছরের মতো এবারও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে মিলাদ, বিশেষ দোয়া মাহফিল ও তবারক বিতরণের আয়োজন করা হয়েছে।

নির্ধারিত প্রতিটি স্পটে স্থানীয় সংসদ সদস্য, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য এবং বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও সিনিয়র নেতারা উপস্থিত থেকে দুস্থদের মাঝে সামগ্রী বিতরণ করবেন। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে একদল বিপথগামী সেনাসদস্যের হাতে নিহত হন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তাঁর ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকীতে দেশব্যাপী দলটির পক্ষ থেকে দোয়া ও আলোচনা সভারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

/আশিক


 জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাতের মেগা প্রস্তুতি সম্পন্ন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৬ ২১:৫৪:৩০
 জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাতের মেগা প্রস্তুতি সম্পন্ন
ছবি : সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাত আয়োজনের যে চূড়ান্ত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, তা আপাতদৃষ্টিতে চমৎকার ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধায় ঠাসা মনে হলেও এর অভ্যন্তরীণ লজিস্টিকস, সক্ষমতা এবং রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় ধরনের গরমিল ও দুর্বলতা স্পষ্ট।

২৫ হাজার ৪০০ বর্গমিটারের প্যান্ডেলে ১২১টি কাতারে একসঙ্গে মাত্র ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের যে হিসাব দেওয়া হয়েছে, তা রাজধানীর জনসংখ্যার তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। এর চেয়ে বড় খটকা হলো ভিআইপি এবং সাধারণ মুসল্লিদের মধ্যকার অসম বণ্টন। মাত্র ২৫০ জন পুরুষ ও ৮০ জন নারী ভিআইপির জন্য যে মেগা নিরাপত্তা ও স্পেস বরাদ্দ রাখা হয়েছে, তার বিপরীতে ৩১ হাজার পুরুষ এবং মাত্র ৩ হাজার ৫০০ নারীর স্থান সংকুলান করা হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) এই ব্যবস্থাপনায় নারী মুসল্লিদের জন্য বরাদ্দ মাত্র ৫০টি ছোট কাতার, যা আধুনিক ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ নারীর উপস্থিতির চাহিদাকে পুরোপুরি অবমূল্যায়ন করে।

নামাজ শেষে বের হওয়ার জন্য ৭টি গেটের ব্যবস্থা রাখা হলেও, সাধারণ পুরুষদের (৩১ হাজার) জন্য মাত্র ৫টি এবং নারীদের (৩ হাজার ৫০০) জন্য মাত্র ১টি গেট রাখা হয়েছে। নামাজ শেষ হওয়ার পর যখন হাজার হাজার মানুষ একসাথে বের হওয়ার চেষ্টা করবেন, তখন মাত্র ১টি গেট দিয়ে সাড়ে তিন হাজার নারীর বের হওয়া মারাত্মক বিশৃঙ্খলা এবং ‘বটলনেক’ বা হুড়োহুড়ির সৃষ্টি করবে। ৭টি গেটের লজিস্টিকস বিন্যাসটি বৈজ্ঞানিক উপায়ে করা হয়নি, যা যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে বড় দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে।

৩৫ হাজার মুসল্লির জন্য মাত্র ১৪০টি অজুর ট্যাপ (পুরুষ ১১৩, নারী ২৭) রাখা সবচেয়ে বড় লজিস্টিকস ফেইলিওর বা অন্ধবিন্দু। ঈদের জামাতের ঠিক ১৫-২০ মিনিট আগে যদি একসঙ্গে মাত্র ২ থেকে ৩ হাজার মানুষও অজু করতে আসেন, তবে এই সামান্য ট্যাপ দিয়ে তা সামলানো অসম্ভব। এর ফলে অজুখানায় দীর্ঘ লাইন পড়বে, যা সামাজিক দূরত্ব ও শৃঙ্খলা নষ্ট করবে।

বাস্তবতা হলো, দেশের বর্তমান নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নন, বরং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমান দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বা অন্য নীতিগত দায়িত্বে রয়েছেন। ফলে জাতীয় ঈদগাহের প্রধান জামাতে ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান’ অংশ নেবেন—এই তথ্যের রাজনৈতিক ভিত্তি ভুল। এছাড়া প্রচণ্ড গ্রীষ্মের তাপদাহে খোলা ময়দানে তৈরি প্যান্ডেলে কেবল ‘পর্যাপ্ত ফ্যান’ দিয়ে ৩৫ হাজার মানুষের জন্য আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি করা অবাস্তব। ওয়াটারপ্রুফ সামিয়ানার নিচে আর্দ্রতা (Humidity) ও গরম কয়েক গুণ বেড়ে যায়, যেখানে সেন্ট্রাল কুলিং বা মেগা কুলার ফ্যান ছাড়া হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি থেকেই যায়।

/আশিক


এআই ট্রাফিক মামলার নামে ‘ফিলিপাইনি’ ফাঁদ: ওটিপি ছাড়াই কার্ডের টাকা ওড়ানোর ছক

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৬ ২১:৪৩:৫৫
এআই ট্রাফিক মামলার নামে ‘ফিলিপাইনি’ ফাঁদ: ওটিপি ছাড়াই কার্ডের টাকা ওড়ানোর ছক
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীতে সম্প্রতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-ভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক নজরদারি চালু হওয়ার সুযোগ নিয়ে সাধারণ মানুষের ব্যাংকের টাকা হাতাতে মাঠে নেমেছে এক ভয়ংকর আন্তর্জাতিক সাইবার প্রতারক চক্র। বিআরটিএ-এর (বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ) নাম এবং লোগো হুবহু নকল করে গাড়ি বা মোটরসাইকেল চালকদের মোবাইলে পাঠানো হচ্ছে ভুয়া গতিসীমা লঙ্ঘনের মামলা ও জরিমানার খুদে বার্তা (SMS)। এমনকি যাদের কোনো গাড়ি নেই, তাদের ফোনেও পাঠানো হচ্ছে এই সতর্কবার্তা। মূলত ‘জাতীয় ড্রাইভিং লাইসেন্স ও যানবাহন নিবন্ধন পরিষেবা’ বা সড়ক ট্রাফিক আইনের ৫২ ধারার ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে ‘ফিশিং লিংক’-এ ক্লিক করতে বাধ্য করা হচ্ছে, যার উদ্দেশ্য ব্যাংক কার্ডের গোপন তথ্য হাতিয়ে নেওয়া।

মিরপুরের বাসিন্দা বেসরকারি চাকরিজীবী মাহফুজ পলাশ ট্রাফিক আইন মেনে গাড়ি চালানোর পরও সোমবার রাতে এমন একটি বার্তা পান। শুধু তিনি নন, গণমাধ্যমকর্মী ফৌজিয়া সুলতানা—যার নিজের কোনো গাড়িই নেই, তাঁর ফোনেও আসে ‘ট্রাফিক জরিমানার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি বিজ্ঞপ্তি’। এই বার্তায় ৩০ দিনের মধ্যে জরিমানা না দিলে ২০০% জরিমানা বৃদ্ধি এবং গাড়ি বাজেয়াপ্তের পাশাপাশি মামলা নিম্ন আদালতে স্থানান্তরের ভুয়া হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ব্যাংকে কর্মরত রাসেল আহমেদ নামের এক ভুক্তভোগী একে সত্যি মনে করে লিংকে ঢুকে ৫০% ডিসকাউন্টের লোভে পড়ে যান এবং ১,৫০০ টাকা জরিমানা দিতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হন।

সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চক্রটি বিআরটিএ-এর আসল পোর্টালের আদলে হুবহু ক্লোন বা নকল ‘ফিশিং সাইট’ তৈরি করেছে। কোনো ব্যবহারকারী লিংকে ক্লিক করে সেখানে নিজের নাম, গাড়ির নম্বর এবং ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের তথ্য দেওয়ার সাথে সাথে কার্ডের পেছনে থাকা গোপন ৩ ডিজিটের ‘সিভিভি’ (CVV) নম্বরটিও চক্রের সার্ভারে চলে যায়। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ আরিফ মঈনুদ্দীন সতর্ক করে বলেন, সিভিভি নম্বর ও কার্ডের তথ্য চলে গেলে আন্তর্জাতিক বহু পোর্টালে কেনাকাটার জন্য কোনো ‘ওটিপি’ (OTP) বা পাসওয়ার্ডের প্রয়োজন হয় না; ফলে ব্যবহারকারীর অজান্তেই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা ক্রেডিট কার্ড খালি হয়ে যেতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক বি এম মঈনুল হোসেন জানান, এই চক্রগুলো প্রথমে মানুষের মনে ভয় ও আইনি জটিলতার অস্থিরতা তৈরি করে, যাতে মানুষ তাড়াহুড়ো করে লিংকে ক্লিক করে। এটি একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক, কারণ এই ম্যাসেজগুলো কোনো দেশীয় নম্বর থেকে আসছে না, বরং এগুলোর শুরুতে রয়েছে ‘+৬৩’ (Country Code +63), যা দূরপ্রাচ্যের দেশ ফিলিপাইনের আন্তর্জাতিক কান্ট্রি কোড। অথচ আসল সরকারি যেকোনো ওয়েবসাইটের শেষাংশে অবশ্যই .gov.bd লেখা থাকে, যা এই ভুয়া লিংকে নেই।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বিআরটিএ এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) আলাদা আলাদা জরুরি বিবৃতিতে জনগণকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে। বিআরটিএ স্পষ্ট করেছে, এই স্পিডিং ফাইন বা বকেয়া জরিমানার বার্তার সাথে তাদের বিএসপি (BSP) পোর্টালের কোনো সম্পর্ক নেই এবং এটি সম্পূর্ণ জালিয়াতি। অন্যদিকে, ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের ডিসি এনএম নাসিরুদ্দিন এবং ট্রাফিক প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার আনিসুর রহমান জানিয়েছেন, এআই প্রযুক্তির আড়ালে চলা এই মেগা প্রতারণার কোনো দায় ডিএমপির নয়।

সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ অনুযায়ী আসল মামলা হলে ট্রাফিক টেকনিক্যাল ইউনিটের কর্মকর্তার স্বাক্ষরযুক্ত ভৌত চিঠি সরাসরি মালিকের ঠিকানায় পাঠানো হয়। বিশেষ প্রয়োজনে ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ কেবল ০১৩২০-০৪২২০৭ এবং ০১৩২০-০৪২২২৭ নম্বর থেকেই এসএমএস পাঠায়। ফিলিপাইনি কোডের কোনো লিংকে ক্লিক না করার এবং প্রতারিত হলে অবিলম্বে পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সাহায্য নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

পাঠকের মতামত: