পাকিস্তানকে একঘরে করার মোদির ১০ বছরের নীতি ব্যর্থ ও বুমেরাং: আল-জাজিরা

ইসলামী বিশ্ব ও বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতা এবং ভারতের একঘরে করার নীতির অকার্যকারিতা নিয়ে কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা এক চাঞ্চল্যকর বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম প্রধান ও ঘোষিত লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্পূর্ণ একঘরে বা ‘ডিপ্লোম্যাটিক আইসোলেশন’-এ ফেলা। বিশেষ করে ২০১৪ সালে মোদি ক্ষমতায় আসার পর এবং ২০১৬ সালের উরি হামলার পর থেকে দিল্লির এই আক্রমণাত্মক নীতি আরও স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। দিল্লির কৌশল ছিল বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তানকে “সন্ত্রাসবাদে মদদদাতা রাষ্ট্র” হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা এবং দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক সম্পর্ক সীমিত করে দেওয়া।
তবে আল-জাজিরার সাম্প্রতিক এক গভীর বিশ্লেষণ বলছে, মোদি সরকারের গত এক দশকের এই ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ প্রত্যাশিত ফল দিতে ব্যর্থ হয়েছে। বরং অনেক ক্ষেত্রে এটি ভারতের জন্য উল্টো ফল বা ‘বুমেরাং’ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে পাকিস্তান আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন না হয়ে উল্টো বিশ্বমঞ্চে নতুন নতুন শক্তিশালী অংশীদারিত্ব ও কূটনৈতিক জোট গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে।
ভারত শুরু থেকেই চেষ্টা করেছে আন্তর্জাতিক বড় বড় ফোরামে পাকিস্তানকে কোণঠাসা করতে। জাতিসংঘ (UN), জি-টোয়েন্টি (G20), সার্কসহ (SAARC) বিভিন্ন বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়। বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা বা সার্ক-এর কার্যক্রম বর্তমানে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে, কারণ ভারত পাকিস্তানের সঙ্গে আঞ্চলিক সহযোগিতা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। ২০১৬ সালের পর ভারত ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য সার্ক শীর্ষ সম্মেলন বর্জন করলে এই আঞ্চলিক সংগঠনটির মেরুদণ্ড আরও দুর্বল হয়ে পড়ে।
দিল্লির পাকিস্তান-কেন্দ্রিক কৌশলের মূল তিনটি দিক ছিল—প্রথমত, পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিকভাবে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করা; দ্বিতীয়ত, পরাশক্তিগুলোর কাছে পাকিস্তানের গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা কমিয়ে আনা; এবং তৃতীয়ত, দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক কূটনৈতিক কাঠামোয় ভারতের একক প্রভাব বৃদ্ধি করা। শুরুতে এই কৌশল অনেকটাই কার্যকর মনে হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হয়ে যায়।
আল-জাজিরার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ভারতের এই নীতি ব্যর্থ হওয়ার অন্যতম বড় চালিকাশক্তি হলো চীন-পাকিস্তান সম্পর্কের অভাবনীয় গভীরতা ও মেগা বিনিয়োগ। চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (BRI)-এর অংশ হিসেবে ‘চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর’ (CPEC) প্রকল্প পাকিস্তানের অর্থনীতি ও অবকাঠামো খাতে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের দুয়ার খুলে দেয়। এই প্রকল্পের মাধ্যমে জ্বালানি, শক্তি খাত এবং গভীর সমুদ্রবন্দরের মতো যোগাযোগ ব্যবস্থায় পাকিস্তান ব্যাপক উন্নয়ন সহযোগিতা পায়। ফলে ইসলামাবাদের জন্য বেইজিংয়ের ভেটো ও সমর্থন আন্তর্জাতিক মঞ্চে একটি শক্তিশালী কূটনৈতিক ঢাল হিসেবে কাজ করছে।
অন্যদিকে পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রও ভূ-রাজনৈতিক কারণে পাকিস্তানকে পুরোপুরি উপেক্ষা বা অবহেলা করতে পারেনি। আফগানিস্তানের জটিল পরিস্থিতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষা এবং দীর্ঘদিনের সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতার কারণে ওয়াশিংটনকে সবসময়ই ইসলামের সঙ্গে একটি কার্যকর সম্পর্ক বজায় রাখতে হয়েছে। আল-জাজিরা বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল সবসময় ভারসাম্যপূর্ণ ছিল—ভারতকে কৌশলগত মূল অংশীদার হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হলেও পাকিস্তানকে তারা কখনোই পুরোপুরি ফেলে দেয়নি।
এই বৈশ্বিক মেরুকরণের মধ্যেই পাকিস্তান মধ্যপ্রাচ্যের পরাশক্তি ও প্রভাবশালী মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ক আরও জোরদার করেছে। বিশেষ করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE) এবং কাতারের মতো ধনী দেশগুলোর সঙ্গে বিশাল অর্থনৈতিক ও শ্রমবাজার-ভিত্তিক অংশীদারিত্ব ইসলামাবাদের অর্থনীতিকে সচল রেখেছে। বিপুল সংখ্যক পাকিস্তানি রেমিট্যান্স যোদ্ধা মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত থাকায় এই সম্পর্ক শুধু কূটনৈতিক নয়, বরং অর্থনৈতিক লাইফলাইন হিসেবে রূপ নিয়েছে। আল-জাজিরা স্পষ্ট করেছে যে—চীন, যুক্তরাষ্ট্র এবং মধ্যপ্রাচ্যের এই তিনটি বড় আন্তর্জাতিক সংযোগই পাকিস্তানকে একটি “পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন রাষ্ট্র” হওয়া থেকে রক্ষা করেছে।
ভারতের কৌশল ব্যর্থ হওয়ার আরেকটি বড় তাত্ত্বিক কারণ হলো বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য পরিবর্তন। আজকের আন্তর্জাতিক বিশ্ব আর এককেন্দ্রিক (Unipolar) নয়; বরং এটি বহুকেন্দ্রিক বা মাল্টিপোলার (Multipolar) হয়ে উঠছে। ফলে আধুনিক বিশ্বে কোনো একটি দেশের পক্ষে অন্য কোনো সার্বভৌম দেশকে সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন বা অবরুদ্ধ করা প্রায় অসম্ভব। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এখন নিখাদ স্বার্থ এবং ‘চয়েস বেসড অ্যালায়েন্স’ বা সুবিধাভিত্তিক জোটের ওপর নির্ভরশীল, যেখানে দেশগুলো কোনো একক ব্লকে না থেকে একাধিক পক্ষের সঙ্গে সমান্তরাল সম্পর্ক বজায় রাখে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারত পাকিস্তানকে একঘরে করতে গিয়ে আঞ্চলিক কূটনীতিতে কিছুটা একক বা আইসোলেটেড অবস্থানে চলে গেছে, যা শেষ পর্যন্ত ভারতের নিজের কূটনৈতিক নমনীয়তা (Diplomatic Flexibility) অনেক কমিয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতা কাঠামো ভেঙে পড়ায় ভারতের নিজের চারপাশেই দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ, নেপাল বা শ্রীলঙ্কার মতো প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোও এখন বহুমাত্রিক কূটনীতি পছন্দ করছে।
২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলা এবং পরবর্তী সময়ে বালাকোট বিমান হামলার পর দুই দেশের সম্পর্ক একেবারে তলানিতে পৌঁছালেও আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো এই পরিস্থিতিতে সরাসরি ভারতের পক্ষ না নিয়ে বরং উভয় পক্ষকে সংযম ও আলোচনার আহ্বান জানিয়েছিল। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ মনে করেন, ভারতের এই পাকিস্তান নীতি অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনার পরিবর্তে তাৎক্ষণিক অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ফায়দা ও বার্তা তৈরির দিকে বেশি ঝুঁকেছিল।
আল-জাজিরা উপসংহারে বলেছে, মোদির এই নীতি পাকিস্তানকে দুর্বল করার বদলে তাকে নতুন কূটনৈতিক স্পেস ও সুযোগ তৈরি করতে পরোক্ষভাবে সাহায্য করেছে। চীন, তুরস্ক, সৌদি আরব এবং কিছু ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক পাকিস্তানকে একটি বহুমাত্রিক কূটনৈতিক অবস্থানে নিয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভবিষ্যতে দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক মুক্তি কোনো সংঘাত বা একঘরে করার নীতিতে নয়, বরং সংলাপ ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপরই নির্ভর করবে।
সূত্র: আল-জাজিরা
তাড়াতাড়ি পালাও: অবৈধ বাংলাদেশিদের রাজ্য ছাড়ার কড়া হুঁশিয়ারি শুভেন্দু অধিকারীর
পশ্চিমবঙ্গে বসবাসরত তথাকথিত ‘অবৈধ বাংলাদেশিদের’ দ্রুত রাজ্য ত্যাগ করার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। হাকিমপুর সীমান্ত এলাকার একটি ঘটনা টেলিভিশন খবরের মাধ্যমে জানতে পেরে তিনি এই মন্তব্য করেন। অনুপ্রবেশকারীদের অবিলম্বে ভারত ছাড়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, তাদের দ্রুত নিজ দেশে ফিরে যাওয়া উচিত।
গত মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার অন্তর্গত হাকিমপুর চেকপয়েন্টে বিপুল সংখ্যক অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিক অবস্থান নিয়েছেন বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। এই সমাবেশকে কেন্দ্র করেই তিনি সীমান্তে জড়ো হওয়া ব্যক্তিদের উদ্দেশে সরাসরি সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন। হিন্দি ভাষায় দেওয়া সেই বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন যে, অনুপ্রবেশকারীরা যদি অনতিবিলম্বে সীমানা পার না হয়, তবে রাজ্য সরকার তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বাধ্য হবে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, যেন সীমান্তে অবস্থানরত এই ব্যক্তিদের অবিলম্বে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, কোনো অনুপ্রবেশকারীকে ভারতের কারাগারে রেখে সরকারি খরচে লালন-পালন করার কোনো পরিকল্পনা তার সরকারের নেই। জনগণের ট্যাক্সের টাকা এই খাতে অপচয় করার কোনো যৌক্তিকতা দেখছেন না তিনি। তার মতে, বহিরাগতদের এই উপস্থিতি পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষের অধিকার ও স্বার্থ ক্ষুণ্ন করছে। ভোটব্যাংকের রাজনীতির কারণে অতীতে আইন প্রয়োগে শিথিলতা দেখানো হলেও, বর্তমান সরকার দেশ ও রাজ্যের সুরক্ষাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধন আইন বা সিএএ কার্যকর করতে বদ্ধপরিকর।
নদিয়া, হুগলি ও উত্তর ২৪ পরগনা জেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিয়ে কল্যাণীতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সভা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, সীমান্ত পয়েন্টে যারা জড়ো হয়েছেন তারা মূলত নিজেদের ইচ্ছায় বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন। তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, পশ্চিমবঙ্গের নাগরিকদের জন্য বরাদ্দ খাদ্য, বস্ত্র কিংবা বাসস্থানের অধিকার কেন বহিরাগতদের দেওয়া হবে।
কল্যাণীর ওই প্রশাসনিক সভায় উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী সুনির্দিষ্ট কার্যপদ্ধতি বাতলে দেন। তিনি জানান, অনুপ্রবেশকারীদের গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো বা কারাগারে বন্দি রাখার কোনো প্রয়োজন নেই, কারণ দেশের সংবিধানে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। পুলিশ সরাসরি তাদের আটক করে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করবে, যেন তাদের পুশ-ব্যাক করা যায়। দেশের অর্থ খরচ করে তাদের পেছনে চিকিৎসা কিংবা পোশাকের জোগান দেওয়ার কোনো কারণ নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়লাভ করে ক্ষমতায় আসার পরপরই পশ্চিমবঙ্গে বিতর্কিত সিএএ আইন পুরোপুরি বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেই সময় থেকেই তিনি ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গাদের চিহ্নিত করে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া এবং দ্রুত বিতাড়নের নীতি অনুসরণের জন্য রাজ্য পুলিশ ও সীমান্ত বাহিনীকে কড়া নির্দেশ দিয়ে আসছেন।
/আশিক
জলদি জলদি ভাগো, জামাই নাকি! সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর তীব্র কটাক্ষ
পশ্চিমবঙ্গে অবৈধভাবে বসবাসকারী ও অনুপ্রবেশকারীদের জন্য বিতর্কিত ‘হোল্ডিং সেন্টার’ বা আটক শিবির চালুর ঘোষণা ও ক্র্যাকডাউনের পর ভারতের হাকিমপুর সীমান্তে নিজ দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে শত শত মানুষের উপচে পড়া ভিড় ও চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নতুন ও কঠোর এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই রাজ্যজুড়ে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, যার জেরে আজ মঙ্গলবার (২৬ মে ২০২৬) সকাল থেকে উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরের হাকিমপুর থানার অন্তর্গত বিঠারি হাকিমপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার আন্তর্জাতিক চেকপয়েন্টে দীর্ঘ সারি দেখা যায়।
নদীয়া জেলার কল্যাণীতে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক সভায় যোগ দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সীমান্তে মানুষের এই মেগা ভিড় এবং গণ-পলায়ন নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অত্যন্ত কড়া ও আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "হাকিমপুরের সীমান্ত পরিস্থিতি আমি টেলিভিশনের পর্দায় দেখেছি। আমি শুধু একটাই কথা বলব— ‘তাড়াতাড়ি পালাও, তাড়াতাড়ি পালাও’।
আমাদের রাজ্যের মানুষের খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থানের অংশ ওদের কেন দিতে যাব আমরা?" শুভেন্দু অধিকারী জোর দিয়ে বলেন, এটি কোনো নতুন আইন নয়, ভারতে আগে থেকেই এই আইন বিদ্যমান রয়েছে এবং এসব অবৈধ লোকদের যত দ্রুত সম্ভব চলে যাওয়াই সবার জন্য মঙ্গলজনক। তিনি আরও যোগ করেন, "অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিকদের ফেরত নেওয়ার আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব নিয়েছে ওদিকের (বাংলাদেশ) সরকার।
আমরা আমাদের রাজ্য পুলিশকে পরিষ্কার নির্দেশ দিয়ে দিয়েছি—কাউকে ধরে আর জেলে পাঠানোর কোনো প্রয়োজন নেই, কারণ আমাদের আইনে তা নেই। পুলিশ সরাসরি এদের আটক করবে এবং বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) হাতে তুলে দেবে। আমাদের দেশের মানুষের ট্যাক্সের পয়সায় ওরা এখানে বসে খাবে, সরকারি ফ্রি ওষুধ নেবে, জামাকাপড় পরবে— কেন? ওরা কি আমাদের জামাই নাকি! জলদি জলদি ভাগো।"
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের এই আকস্মিক ও কঠোর অবস্থানের সূত্রপাত মূলত গত রবিবার। সেদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা দেন যে, রাজ্যে অবৈধভাবে বসবাসকারী রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি নাগরিকদের চিহ্নিত করে রাখার জন্য অবিলম্বে প্রতিটি জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ বা ডিটেনশন ক্যাম্প চালু করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ামাত্রই মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে গত সোমবারের মধ্যে রাজ্যের জেলায় জেলায় এই হোল্ডিং সেন্টারগুলো সচল করা হয় এবং প্রথম দিনই ১২ জন বাংলাদেশিকে আটক করে সেখানে বন্দি করা হয়।
এই খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়ার পর রাজ্য পুলিশের গ্রেফতারি ও আটক শিবিরে যাওয়ার আতঙ্কে কয়েকশো মানুষ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশব্যাক বা ফেরত আসার জন্য হাকিমপুর চেকপয়েন্টে এসে ভিড় জমাচ্ছেন, যার ফলে সীমান্ত এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
/আশিক
ভারতের উত্তর প্রদেশে কঠোর বিধিনিষেধের ঘেরাটোপে ২০২৬ সালের ঈদুল আজহা
ভারতের উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ আসন্ন ঈদুল আজহা (কোরবানির ঈদ) উদ্যাপন উপলক্ষে রাজ্যজুড়ে কড়া নির্দেশনা জারি করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, কোনো অবস্থাতেই জনসমক্ষে বা উন্মুক্ত স্থানে পশু কোরবানি করা যাবে না। একই সঙ্গে আইনগতভাবে নিষিদ্ধ পশুকে কোরবানির দেওয়ার চেষ্টার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার সম্পূর্ণ ‘জিরো টলারেন্স’ (শূন্য সহনশীলতা) নীতি অবলম্বন করবে। আজ সোমবার (২৫ মে ২০২৬) ভারতের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’-র প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদন থেকে এই কড়া নির্দেশনার তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঈদুল আজহা ও আগামী উৎসবগুলোর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আজ সোমবার একটি উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক ও পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। সেখান থেকেই তিনি জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপারদের এই কঠোর নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, পশু কোরবানি কেবল আগে থেকে নির্ধারিত ও নির্দিষ্ট ঘেরা স্থানেই সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে কোনো ধরনের নতুন প্রথা বা নিয়মের সূচনা করা যাবে না।
রাস্তায় নামাজ আদায়ের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করে মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথ বলেন, ঈদের মূল জামাত ও নামাজ কেবল ঈদগাহ বা নির্ধারিত ধর্মীয় স্থানেই আদায় করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই বা কোনো অজুহাতে নামাজের জন্য সাধারণ মানুষের চলাচলের রাস্তা অবরোধ করার অনুমতি দেওয়া হবে না। রাস্তা বন্ধ করে নামাজ পড়া সম্পূর্ণ বেআইনি হিসেবে গণ্য হবে।
এছাড়াও, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে কোরবানির পরপরই দ্রুত বর্জ্য অপসারণ, পশুর রক্ত সরাসরি ড্রেনে না ফেলা, বাজারে অবৈধভাবে মাংস বিক্রি বন্ধ এবং লাইসেন্সবিহীন বেআইনি কসাইখানার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, অনুমোদিত ও বৈধ কসাইখানাগুলোকে তাদের নির্ধারিত ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত পশু না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উৎসবের দিনগুলোতে রাজ্যজুড়ে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আদেশ দিয়ে তিনি বলেন, রাজ্যের সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে পুলিশকে নিয়মিত ‘ফ্ল্যাগ মার্চ’ করতে হবে এবং উপাসনালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানগুলোতে সার্বক্ষণিক পায়ে হেঁটে টহল (Foot Patrolling) জোরদার করতে হবে।
/আশিক
বিজেপি সরকারের একের পর এক মেগা সিদ্ধান্ত: রেস্তোরাঁগুলোর মেনু থেকে উধাও হচ্ছে বিফ
পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) ঐতিহাসিক জয়ের পর রাজ্যের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রভাব এবার সরাসরি পড়তে শুরু করেছে সেখানকার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী খাদ্যসংস্কৃতিতে। সরকার গঠনের মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানেই কলকাতার একাধিক নামী ও জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ তাদের মেনু থেকে গরুর মাংসের (বিফ) তৈরি সব ধরনের খাবার স্থায়ী বা সাময়িকভাবে বাদ দিতে বাধ্য হচ্ছে। নতুন প্রশাসনের কড়া নজরদারি, গরুর মাংসের তীব্র সরবরাহ সংকট এবং সম্ভাব্য সামাজিক উত্তেজনার আশঙ্কায় রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এর ফলে কলকাতার বিখ্যাত বিফ স্টেক, চপ, কাটলেট কিংবা বিফ বিরিয়ানির মতো জনপ্রিয় খাবারগুলো এখন আর ভোজনরসিকদের পাতে উঠছে না।
কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ও পার্ক স্ট্রিটের জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ 'শেখস' জানিয়েছে, বাজার থেকে বিফের সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা তাদের মেনু থেকে স্থায়ীভাবে গরুর মাংসের পদগুলো বাদ দিয়েছে। অন্যদিকে বিখ্যাত 'মোকাম্বো' রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের মেনু কার্ডে খাবারের নাম থাকলেও পর্যাপ্ত ও বৈধ সরবরাহ না থাকায় তারা গ্রাহকদের তা পরিবেশন করতে পারছে না।
এছাড়া শহরের তরুণদের পছন্দের খাবারের দোকান 'দ্য বার্গার শপ' সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় তাদের দীর্ঘদিনের চেনা মেনু পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছে যে, তাদের আউটলেটে এখন থেকে আর কোনো বিফ বার্গার বা আইটেম পাওয়া যাবে না। রেস্তোরাঁ মালিকদের সংগঠনগুলোর মতে, এই সিদ্ধান্ত কেবল ব্যবসায়িক কারণে নয়, বরং বর্তমান পরিস্থিতিতে সামাজিক শান্তি রক্ষা ও অনাকাঙ্ক্ষিত হামলা এড়াতে এক প্রকার বাধ্য হয়েই নিতে হচ্ছে।
খাদ্যতালিকায় এই পরিবর্তনের মূল কারণ হিসেবে কাজ করছে রাজ্য সরকারের নতুন আইনি কড়াকড়ি। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার (কোরবানির ঈদ) ঠিক আগমুহূর্তে নতুন সরকার জনসমক্ষে বা প্রকাশ্যে গরু, ষাঁড় ও মহিষ জবাই নিষিদ্ধ করে পুরোনো একটি আইনি ধারা কঠোরভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনো পশুকে জবাই করতে হলে এখন থেকে বাধ্যতামূলকভাবে সরকারি প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে সনদ বা সার্টিফিকেট নিতে হবে, যেখানে পশুর সুনির্দিষ্ট বয়স বা কর্মক্ষমতা যাচাই করা হবে।
এই কড়া নীতির কারণে পশ্চিমবঙ্গের পশু বাজার ও খামারিদের মধ্যে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বড় খামারি গোপাল দাস জানান, নতুন নীতিমালার কারণে গবাদিপশু পরিবহন ও লালন-পালন করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে; বাজারে বিক্রির সুযোগ কমে যাওয়ায় প্রতিদিন পশুর পেছনে খরচ বাড়লেও তাঁরা তা বিক্রি করতে পারছেন না, ফলে সাধারণ খামারিরা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে বিক্ষোভ শুরু করেছেন।
ভারতে হিন্দুধর্মে গরুকে অত্যন্ত পবিত্র ও পূজনীয় মনে করা হলেও পশ্চিমবঙ্গ ও কলকাতায় মুসলিম, খ্রিস্টান, দলিত এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বহু মানুষের প্রধান খাদ্যতালিকায় গরুর মাংস একটি অন্যতম অনুষঙ্গ ছিল। এই পরিস্থিতিতে আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজ্যের বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় আলেম ও ইসলামি চিন্তাবিদ সম্ভাব্য আইনি হয়রানি এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা এড়াতে কোরবানি দেওয়ার ক্ষেত্রে মুসলিম সম্প্রদায়কে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার এবং সরকারি নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, কেবল খাদ্যসংস্কৃতিই নয়, পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিজেপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রাজ্যে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে উত্তরপ্রদেশের আদলে 'বুলডোজার অভিযান', শহরের সরকারি ভবন ও কাঠামোর চেনা রঙ পরিবর্তন এবং প্রশাসনিক দপ্তর স্থানান্তরের মতো একাধিক বড় ও বিতর্কিত সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন করতে শুরু করেছে, যা নিয়ে পুরো রাজ্যজুড়ে এখন তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনা চলছে।
/আশিক
তেলাপোকা’র আতঙ্কে মোদী সরকার, টুইটারের পর বন্ধ হলো সিজেপির ওয়েবসাইট
ডিজিটাল ও মিম কালচারের মাধ্যমে ভারতের মোদী সরকারের ভিত্তি নাড়িয়ে দেওয়া এবং মাত্র এক সপ্তাহে অবিশ্বাস্যভাবে ২ কোটি ২০ লাখ (২২ মিলিয়ন) ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ারের মেগা রেকর্ড গড়া ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’র (CJP) অফিশিয়াল ওয়েবসাইটটি সম্পূর্ণ বন্ধ বা সেন্সর করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। আন্দোলনের মূল প্রতিষ্ঠাতা ও পলিটিক্যাল কমিউনিকেশন স্ট্র্যাটেজিস্ট অভিজিৎ দীপকে আজ শনিবার (২৩ মে ২০২৬) সরাসরি দাবি করেছেন যে, ভারতের নরেন্দ্র মোদী সরকারের স্বৈরাচারী ও আগ্রাসী ডিজিটাল পদক্ষেপের কারণেই তাদের আইকনিক ওয়েবসাইটটি ইন্টারনেট দুনিয়া থেকে পুরোপুরি ডাউন করে দেওয়া হয়েছে।
ওয়েবসাইট বন্ধের এই মেগা ধাক্কার আগে, গত বৃহস্পতিবারই ভারত সরকারের বিশেষ অনুরোধে সিজেপি-র অফিশিয়াল ‘এক্স’ (টুইটার) অ্যাকাউন্টটি দেশটিতে সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ বা ব্লক করে দেয় এক্স কর্তৃপক্ষ। এখানেই শেষ নয়, আন্দোলনের নেপথ্যে থাকা মূল মাস্টারমাইন্ড অভিজিৎ দীপকে অভিযোগ তুলেছেন যে, ভারত সরকারের আইটি সেলের পক্ষ থেকে বর্তমানে তাঁর ব্যক্তিগত ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টটি বারবার হ্যাক করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
আজ শনিবার বিকেলে এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া এক বিবৃতিতে দীপকে ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, তরুণদের ভাষা কেড়ে নিতে তাদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটটি রাষ্ট্রীয়ভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে নয়াদিল্লির তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বা মোদী সরকারের পক্ষ থেকে এই ডিজিটাল সেন্সরশিপের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো অফিশিয়াল বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেকার তরুণদের ‘তেলাপোকা’র সঙ্গে তুলনা করার বিতর্কিত মন্তব্যের পর ক্ষোভ থেকে এই প্যারোডি দলের জন্ম হলেও, বর্তমানে ভারতে চলমান মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার (NEET) ব্যাপক প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারি ও তরুণদের চলমান গণবিক্ষোভ সিজেপি-র জনপ্রিয়তাকে দাবানলের মতো বাড়িয়ে দিয়েছে।
দীপকে দাবি করেছেন, গত মাত্র ৭ দিনে ভারতের প্রায় ১০ লাখ তরুণ বেকারত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিতে এই আন্দোলনে যুক্ত হতে অফিশিয়াল নিবন্ধন করেছেন এবং মেডিকেল প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে ভারতের বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের তাৎক্ষণিক পদত্যাগ দাবিতে সিজেপি-র অনলাইন পিটিশনে মাত্র কয়েক দিনে রেকর্ড ৬ লাখ মানুষ স্বাক্ষর করেছেন।
মাত্র ৯০ লাখ ফলোয়ার থাকা ভারতের মূল ধারার শাসক দল বিজেপির অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টকে ২ কোটি ২০ লাখ ফলোয়ার নিয়ে যোজন যোজন পেছনে ফেলে দেওয়া সিজেপি-র এই মেগা ডিজিটাল উত্থান এবং তার বিপরীতে সরকারের এই কঠোর সেন্সরশিপ ভারতের মোদী জমানায় সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার হননের বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে তীব্র বিতর্কের মুখে ফেলেছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
সোশ্যাল মিডিয়ায় হইচই, ভারতে আত্মপ্রকাশ করল তেলাপোকা জনতা পার্টি
ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি বিতর্কিত মন্তব্য এবং দেশটির কোটি কোটি বেকার ও হতাশ জেন-জি (Gen-Z) তরুণের তীব্র ক্ষোভের ওপর ভর করে ওয়ান-ক্লিক ডিজিটাল বিপ্লবের মাধ্যমে ভারতীয় রাজনীতিতে এক অবিশ্বাস্য ও পৈশাচিক চরিত্র নিয়ে আবির্ভাব ঘটেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ (CJP)।
এক সপ্তাহেরও কম সময়ে ইনস্টাগ্রামে ১ কোটি বা ১০ মিলিয়ন ফলোয়ারের মেগা মাইলফলক স্পর্শ করে এই ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলনটি খোদ ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি-র (৮.৭ মিলিয়ন ফলোয়ার) অফিশিয়াল অ্যাকাউন্টকে একচেটিয়াভাবে টেক্কা দিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এই অভূতপূর্ব রাজনৈতিক ব্যঙ্গবিদ্রূপের উত্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি (BBC) এক বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিজেপি কোনো আনুষ্ঠানিক নির্বাচন কমিশন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নয়, বরং এটি ভারতের বর্তমান নিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে ভিন্নমতাবলম্বী তরুণদের ক্ষোভ প্রকাশের একটি স্বাধীন ও স্বতঃস্ফূর্ত ‘ডিজিটাল থিয়েটার আন্দোলন’। এই প্যারোডি দলের সদস্যপদের জন্য রসিকতায় মোড়ানো কিছু অদ্ভুত শর্ত দেওয়া হয়েছে; যেমন—আবেদনকারীকে অবশ্যই অলস, বেকার, সারাক্ষণ অনলাইনে সক্রিয় এবং যেকোনো জাতীয় ইস্যুতে উচ্চস্বরে ঘ্যান ঘ্যান করা বা ‘র্যান্ট’ (Rant) করার ক্ষমতাসম্পন্ন হতে হবে।
মূলত বোস্টন ইউনিভার্সিটির ছাত্র ও সাবেক আম আদমি পার্টির (AAP) পলিটিক্যাল কমিউনিকেশন স্ট্র্যাটিজিস্ট অভিজিৎ দীপকে সম্পূর্ণ মজার ছলে গুগল ফর্মের মাধ্যমে এই আন্দোলন শুরু করেছিলেন। কিন্তু মাত্র কয়েক দিনের মাথায় এটি জেন-জি তরুণদের মাঝে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে #ম্যায়ভিককরোচ (#MeTooককরোচ) হ্যাশট্যাগ ট্রেন্ডিংয়ে রূপ নেয়।
এমনকি সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র, কীর্তি আজাদ এবং প্রবীণ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণের মতো ভারতের শীর্ষ বিরোধী নেতারাও এই প্ল্যাটফর্মের পক্ষে সরাসরি অবস্থান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘বিজেপি বনাম সিজেপি’ ন্যারেটিভ তৈরি করেছেন। তবে এর ব্যাপক জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে এক ‘আইনি দাবির’ প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যেই এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে ২ লাখ ফলোয়ার থাকা সিজেপি-র মূল অ্যাকাউন্টটি স্থগিত বা সেন্সর করা হয়েছে।
এই আন্দোলনের নেপথ্যে রয়েছে গত সপ্তাহে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চের এক চরম অবমাননাকর মন্তব্য। দিল্লি হাইকোর্টের বিরুদ্ধে এক আইনজীবীর আদালত অবমাননার মামলার শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি তীব্র অসন্তুষ্ট হয়ে মন্তব্য করেন, “সমাজে কিছু যুবক আছেন যারা কর্মসংস্থানের অভাব এবং নিজেদের পেশায় জায়গা করে নিতে না পারার কারণে তেলাপোকার মতো সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে এবং সিস্টেমকে আক্রমণ করছে।”
পরবর্তীতে প্রধান বিচারপতি এটি ‘ভুয়া ও জাল ডিগ্রিধারী’ ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে বলেছেন বলে ব্যাখ্যা দিলেও ততক্ষণে ভারতের ১৪০ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে থাকা ৩০ বছরের নিচের প্রায় ৫০ শতাংশ অসন্তুষ্ট যুবসমাজের মাঝে এই ‘তেলাপোকা’ মন্তব্যটি তীব্র ক্ষোভের আগুন জ্বালিয়ে দেয়। সেই হতাশা থেকেই জন্ম নেয় সিজেপি, যারা নিজেদের ‘অলস ও বেকারদের কণ্ঠস্বর’ এবং ‘জিরো স্পন্সরড’ বা স্বাধীন ঝাঁক হিসেবে দাবি করে।
বিবিসি তাদের বিশ্লেষণে দেখিয়েছে, শ্রীলঙ্কা, নেপাল বা বাংলাদেশে ২০২৪-২০২৫ সালে তরুণদের হাত ধরে যেভাবে রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকার পতন হয়েছে, ভারতের তরুণরা ঠিক সেই লাইনে না গিয়ে ২০২৬ সালের ডিজিটাল যুগে মিমস (Memes), পোকা-মাকড়ের ম্যাসকট এবং ব্যঙ্গাত্মক ভাষায় নিজেদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব ও বেকারত্বের বিরুদ্ধে এক অহিংস অথচ তীক্ষ্ণ ডিজিটাল ফ্রন্ট গড়ে তুলেছে।
সূত্র: বিবিসি
পশ্চিমবঙ্গের সব মাদরাসায় এবার বাধ্যতামূলক হলো বন্দে মাতরম গান
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পর এবার রাজ্যের সমস্ত মাদরাসাগুলোতেও বাধ্যতামূলকভাবে ‘বন্দে মাতরম’ গানটি গাওয়ার নিয়ম চালু করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন বিজেপি সরকার এক প্রশাসনিক আদেশে জানিয়েছে, রাজ্যের সমস্ত স্বীকৃত মাদরাসায় প্রতিদিন ক্লাস শুরুর আগে এই গানটি গাইতে হবে। এর আগে গত সপ্তাহে একই ধরনের একটি নির্দেশনা জারি করে রাজ্যের সব প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গানটি গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বৃহস্পতিবার (২১ মে ২০২৬) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
রাজ্য সরকারের সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদরাসা শিক্ষা দপ্তরের আওতাধীন মাদরাসা অধিদপ্তর থেকে জারি করা সর্বশেষ আদেশে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত স্বীকৃত, সরকারি সহায়তাপ্রাপ্ত এবং বেসরকারি মাদরাসার ক্ষেত্রে এই নতুন নিয়ম অবিলম্বে কার্যকর হবে। প্রতিদিন সকালের প্রাক-ক্লাস সমাবেশ বা দৈনিক প্রার্থনার সময় শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলকভাবে এই গানটি গাইতে হবে। এর মাত্র এক সপ্তাহ আগেই স্কুল শিক্ষা দপ্তরের আওতাধীন সব স্কুলের জন্য একই নিয়ম জারি করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর একটি অনলাইন পোস্টে পূর্ববর্তী সমস্ত রাজ্য নির্দেশনা বাতিল করার ঘোষণা দিয়ে জানান, পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাৎক্ষণিকভাবে স্কুল ও মাদরাসা শিক্ষা দপ্তরের আওতাধীন সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাস শুরুর আগে সকালের সমাবেশে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করেছে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে ভারতের ঐতিহাসিক স্বাধীনতা আন্দোলনে ‘বন্দে মাতরম’ ছিল স্বাধীনতাকামীদের অন্যতম প্রধান স্লোগান ও অনুপ্রেরণা, যা চলতি বছরের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের আগে আবারও তীব্র রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে।
মূলত চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ‘বন্দে মাতরম’ গানটিকে দেশটির মূল জাতীয় সংগীত ‘জন গণ মন’-এর সমমর্যাদা প্রদান করে। কেন্দ্রীয় সরকারের সেই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় এবার রাজ্য স্তরেও বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাত্যহিক কর্মসূচিতে জাতীয় সংগীতের পাশাপাশি ‘বন্দে মাতরম’-এর পূর্ণাঙ্গ ছয়টি স্তবক গাওয়া বাধ্যতামূলক করার এই প্রক্রিয়া শুরু হলো।
সম্প্রতি ভারতের অন্যান্য রাজ্য যেমন তামিলনাড়ু ও কেরালাতেও বিভিন্ন সরকারি শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরে এই ‘বন্দে মাতরম’ গানটি নিয়ে ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্ক ও সমালোচনা তৈরি হতে দেখা গেছে। চেন্নাইয়ের একটি সরকারি অনুষ্ঠানে মূল জাতীয় সংগীতের আগে পূর্ণাঙ্গ ‘বন্দে মাতরম’ বাজানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে ডিএমকে দলীয় মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয়কে তীব্র কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়েছিল।
অন্য দিকে কেরালা রাজ্যে ভি ডি সাথিসান সরকারের নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে পুরো ‘বন্দে মাতরম’ গানটি গাওয়ার কারণে বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো এর তীব্র সমালোচনা করে। তবে এই সমালোচনা ও বিতর্কের জবাবে কেরালা রাজ্য সরকার বা ইউডিএফ জোট নিজেদের দূরত্ব বজায় রেখে জানায়, উক্ত অনুষ্ঠানের সার্বিক সূচি নির্ধারণ করেছিল মূলত স্থানীয় রাজভবন বা রাজ্যপালের কার্যালয়। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে কমিউনিস্টরা ‘ভারতীয় সংস্কৃতিকে মনে-প্রাণে ঘৃণা করে’ বলে পাল্টা রাজনৈতিক অভিযোগ তোলে বিজেপি নেতৃত্ব।
সূত্র: এনডিটিভি
কোরবানির ঈদের মুখে বিজেপির নতুন নির্দেশিকায় বিপাকে হিন্দু খামারি ও মুসলিম ক্রেতা
পশ্চিমবঙ্গে সদ্য ক্ষমতায় আসা ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নতুন রাজ্য সরকারের জারি করা একটি বিতর্কিত নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভ, সামাজিক অস্থিরতা ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ধরনের মহাধস নেমেছে। সরকারি কয়েকটি দপ্তর থেকে হঠাৎ করেই গবাদিপশুর বয়স ও শারীরিক সক্ষমতার অফিশিয়াল সার্টিফিকেট ছাড়া উন্মুক্ত হাটে গরু কেনাবেচা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করায় রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী পশুর হাটগুলোতে এক ধরনের তীব্র আতঙ্ক ও স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পবিত্র ঈদুল আজহার (কোরবানির ঈদ) ঠিক আগ মুহূর্তে এই কঠোর নিয়ম জারি হওয়ায় হিন্দু খামারি ও মুসলিম ক্রেতা—উভয় পক্ষই চরম বিপাকে পড়েছেন। গত ৯ মে শপথ নেওয়ার মাত্র ৪ দিন পর, অর্থাৎ ১৩ মে বিজেপি সরকার এই নজিরবিহীন নির্দেশিকা জারি করে।
এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের ফলে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপি রাজনৈতিক ও সামাজিক দিক থেকে তীব্র কোণঠাসা ও চিন্তায় পড়ে গেছে বলে স্বীকার করছেন খোদ দলেরই সংখ্যালঘু নেতারা। উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার প্রভাবশালী বিজেপি নেতা ও সংখ্যালঘু সেলের সহসভাপতি ইউনুস আলী গণমাধ্যমকে স্পষ্ট জানান, এই সিদ্ধান্তের ফলে দল বড় ধরনের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি সংকটে পড়েছে। পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ অর্থনৈতিক সমীকরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে মূলত হিন্দু সম্প্রদায় এবং বিশেষ করে ‘ঘোষ’ ও ‘দাস’ সমাজ গরু লালন-পালন ও দুগ্ধ ব্যবসার সাথে সরাসরি জড়িত।
গরুর বয়স বেড়ে গেলে বা জরুরি অর্থের প্রয়োজনে হিন্দু খামারিরা তা হাটে বিক্রি করেন এবং সাধারণত মুসলিমরা সেই গরু কেনেন। এই স্বাভাবিক অর্থনৈতিক চক্রটি বুঝতে সরকারের বড় ধরনের ভুল হয়েছে।” বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, খামারিরা যদি লোকসানের মুখে গরু পালন বন্ধ করে দেন, তবে মিষ্টি, দই ও ছানার মতো দুগ্ধজাত পণ্যের বাজারে ধস নামবে, যা শিল্পে অনুন্নত পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ অর্থনীতিকে চিরতরে পঙ্গু করে দেবে।
এদিকে এই স্পর্শকাতর ইস্যুটিকে হাতিয়ার করে নবনির্বাচিত বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৃণমূলের প্রভাবশালী সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্র সদ্য নির্বাচিত বিজেপি সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে বেশ কিছু বিস্ফোরক প্রশ্ন ও দ্বিমুখী নীতির (Double-Standard) তথ্য সামনে এনেছেন।
পার্লামেন্টের অফিশিয়াল প্রশ্নোত্তর উদ্ধৃত করে মহুয়া মৈত্র দেখান, ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে ভারত বিশ্ববাজারে মাংস রপ্তানি করে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেছে। এছাড়া মহিষের মাংস বিক্রির শীর্ষ ভারতীয় করপোরেট সংস্থা ‘অ্যালানা গ্রুপ’ খোদ বিজেপির কেন্দ্রীয় তহবিলে ৩০ কোটি টাকা অনুদান বা চাঁদা দিয়েছে। মহুয়ার মূল প্রশ্ন—করপোরেট থেকে কোটি কোটি টাকা অনুদান নেওয়া বা বৈদেশিক মুদ্রা আয় করায় যদি বিজেপির বাধা না থাকে, তবে বাংলার সাধারণ গরিব মানুষের পেটে লাথি মেরে এই ঐতিহ্যবাহী ব্যবসা বন্ধ করার চেষ্টা কেন?
বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে গ্রামীণ খামারিদের যে করুণ চিত্র উঠে আসছে, তাতে দেখা যাচ্ছে বিশেষ করে হিন্দু গোপালক পরিবারের নারীরা ক্যামেরার সামনে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। খামারিদের বক্তব্য—বছরের এই কোরবানি ঈদের সময়ে একটি গরু ভালো দামে বিক্রি করে তাঁরা এককালীন মোটা টাকা রোজগার করেন, যা দিয়ে সারা বছরের কৃষিঋণ এবং বিভিন্ন মাইক্রোক্রেডিট (ক্ষুদ্রঋণ) সংস্থা থেকে নেওয়া চড়া সুদের ধার মেটানো হয়। বিধিনিষেধ দ্রুত শিথিল করা না হলে খামারিদের অনেকেই প্রকাশ্য আত্মহত্যার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তীব্র সামাজিক ও রাজনৈতিক চাপের মুখে থাকলেও পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন বিজেপি নেতারা।
সংখ্যালঘু নেতা ইউনুস আলী অকপটে স্বীকার করেন, বিজেপি মূলত হিন্দুদের কট্টর ভোটে ক্ষমতায় এসেছে, তাই হিন্দু ভোটারদের সন্তুষ্ট করতে তারা আবেগের বশে এমন একটা নির্দেশিকা জারি করতে চেয়েছিল; কিন্তু বাস্তবায়ন করতে গিয়ে উল্টো নিজেদের ভোটারদেরই ক্ষতি করে বসেছে। তবে রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ওপর আস্থা রেখে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ঈদুল আজহার আগেই সরকার আলোচনার মাধ্যমে একটি বাস্তবসম্মত ও নমনীয় সমাধান সূত্র বের করবে।
/আশিক
ঈদের আগে মুসলিমদের গরু কেনা বন্ধ; পশ্চিমবঙ্গে হিন্দু খামারিদের মাঝে হাহাকার
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের নতুন পশুরক্ষা ও কসাইখানা নীতিমালার জেরে আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার আগে গরু কেনা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছেন স্থানীয় মুসলিমরা। আকস্মিক এই সিদ্ধান্তের ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন রাজ্যের হাজার হাজার সনাতন (হিন্দু) ধর্মাবলম্বী খামারি ও গরু ব্যবসায়ী।
কোরবানির ঈদকে লক্ষ্য করে বিপুল অর্থ, সময় ও শ্রমে যেসব গরু তাঁরা লালন-পালন করে মোটাতাজা করেছিলেন, বাজারে আকস্মিক ক্রেতাশূন্যতার কারণে সেগুলো বিক্রি করতে না পেরে খামারিদের মধ্যে হাহাকার ও চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। আজ সোমবার (১৮ মে) মন্ত্রিসভার হাই-ভোল্টেজ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই জটিল পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন রাজ্যের নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
পশ্চিমবঙ্গের নবগঠিত রাজ্য সরকারের এই বিশেষ পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “আমাদের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুরো বিষয়টি নিজে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। এই উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের স্বার্থ সুরক্ষায় খুব তাড়াতাড়ি কোনো সুনির্দিষ্ট বিকল্প পরিকল্পনা বা প্যাকেজ গ্রহণ করবে রাজ্য সরকার।
তবে পুরো বিষয়টির ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই খুব দ্রুত বিস্তারিত ঘোষণা দেবেন।” উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে একটি বড় ঐতিহ্য ছিল যে, কোরবানির ঈদে বিক্রির উদ্দেশ্যেই হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেক প্রান্তিক মানুষ ও খামারি বাণিজ্যিকভাবে গরু মোটাতাজা করতেন এবং এর আগে কখনো তাঁদের বিপণনে কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি।
তবে সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার একটি কঠোর প্রশাসনিক নির্দেশনা জারি করে। নতুন আইন অনুযায়ী, বিশেষ সরকারি অনুমতি ছাড়া রাজ্যটিতে কেউ কোনো গরু বা মহিষ জবাই করতে পারবেন না।
একই সঙ্গে জবাইযোগ্য গরুর বয়স বাধ্যতামূলকভাবে কমপক্ষে ১৪ বছর হতে হবে বলে শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়। এই কঠোর আইনি জটিলতা এবং আইনি হয়রানির আশঙ্কায় এবার ঈদের হাটে মুসলিম ক্রেতারা গরু কেনা থেকে পুরোপুরি বিরত থাকছেন, যা সরাসরি আঘাত হেনেছে সনাতন ধর্মের খামারিদের গ্রামীণ অর্থনীতিতে।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- পাকিস্তানকে একঘরে করার মোদির ১০ বছরের নীতি ব্যর্থ ও বুমেরাং: আল-জাজিরা
- আবহাওয়ার ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাস: চলতি সপ্তাহে দেশের কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণ
- গ্রিনকার্ডের কড়াকড়ি নিয়ম থেকে আংশিক পিছুটান দিল মার্কিন সরকার
- শহীদ জিয়ার কালজয়ী আদর্শেই সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- আমি কী জিনিস শেখ হাসিনার কাছে জাইনা নিয়েন: শফিকুল ইসলাম মাসুদ
- আসিফ মাহমুদের দুর্নীতির কারণেই আসন ছাড়েননি জামায়াত আমির: রাশেদ খান
- নেতানিয়াহুর পদত্যাগের দাবিতে তেল আবিবে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ
- রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করার দুঃসাহস দেখালে পুরোপুরি নির্মূল করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- আরব সাগরের তীরে ভারতকে হারিয়ে আজও কি উৎসব করবে বাংলাদেশ?
- ট্রাম্পের সামনে ভালো বিকল্প নেই, বেছে নিতে হবে খারাপ বা আরও খারাপ পথ: আইআরজিসি
- আগামীতে জামায়াতে ইসলামীই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসবে: ডা. আবদুল্লাহ তাহের
- দেশে শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপ বৃদ্ধি: ২৪ ঘণ্টায় বড় ধাক্কা স্বাস্থ্য খাতে
- আর্জেন্টিনার প্রস্তুতি ম্যাচের সূচি প্রকাশ: প্রতিপক্ষ হন্ডুরাস ও আইসল্যান্ড
- প্রকল্পের আড়ালে ক্ষমতার প্রভাব? আসিফ-হাসনাতকে নিয়ে নতুন বিতর্ক
- পিএসজি'র চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের আনন্দ ফ্রান্সে রণক্ষেত্র, দেশজুড়ে ৪ শতাধিক গ্রেপ্তার
- ক্যান্সার চিকিৎসায় চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের বড় সাফল্য, স্মার্ট ইনজেকশনে উধাও হচ্ছে টিউমার
- রামিসা হত্যা মামলায় সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সাজা চাওয়া হবে: আইনমন্ত্রী
- জঙ্গল সলিমপুরে আধুনিক কারাগার ও সেনানিবাস করবে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- নবম জাতীয় পে-স্কেল ২০২৬: কোন গ্রেডের মূল বেতন কত টাকা বাড়ছে? দেখে নিন তালিকা
- ইরান চুক্তির খসড়ায় ট্রাম্পের আপত্তি, চুক্তিতে বড় ধরনের সংশোধনীর নির্দেশ
- মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি ইরানের আইআরজিসি'র, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা
- ৩ উপকূলীয় জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়ার আভাস, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত
- বড় ধরনের মোড়ে বিশ্ববাজার: স্বর্ণের দাম কি আরও কমবে নাকি বাড়বে?
- সোমবার থেকে নিয়মিত কাজের ছন্দে ফিরছে দেশ, কর্মস্থলে ফিরছেন লাখো চাকুরিজীবী
- ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ
- সালাহকে অধিনায়ক করে মিসরের ২৬ সদস্যের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা, বড় চমক হামজা
- খুলনা ঘরের ভেতর শাশুড়ি ও দুই শিশুসহ একই পরিবারের ৩ জনকে নৃশংস হত্যা
- ইসরায়েলের পরবর্তী সামরিক লক্ষ্যবস্তু হতে পারে তুরস্ক ও মিসর
- ইউটিউবে বিনামূল্যে দেখা যাবে বিশ্বকাপের ১০৪ ম্যাচ, নেপথ্যে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো
- একা কোনো পরিবর্তন আনতে পারবে না বিএনপি, প্রয়োজন জনগণের অংশগ্রহণ: আমির খসরু
- পুরোনো আইফোন কেনার আগে সাবধান! সেটিংসের Genuine Part দেখেই ফ্রেশ ভাববেন না
- যাত্রার আগে মার্কিন নৌবাহিনীর সাথে সমন্বয় বাধ্যতামূলক, হরমুজে জারি হলো রেড অ্যালার্ট
- জিয়া ও খালেদা জিয়ার প্রদর্শিত পথই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের মূল ঠিকানা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- বৈষম্যবিরোধী রাজনীতির আড়ালে টাকা লুটেছেন আসিফ ও হাসনাত
- আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশুমৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
- আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশুমৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
- দেশ কোনো সরকার, দল বা ব্যক্তির একার নয়: ২০ কোটি মানুষই এর মালিক
- ১ জুলাইয়ের ডেডলাইন ধরে কাজ করছে অর্থ মন্ত্রণালয়, চূড়ান্ত পর্যায়ে নবম পে স্কেল
- মির্জা ফখরুল ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সরকারের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে মাজার জিয়ারত প্রধানমন্ত্রীর
- মাংস খাওয়ার পর বমি ও তীব্র পেট ব্যথা? অবহেলা করলে হতে পারে জীবনঝুঁকি
- শহীদ জিয়ার স্বনির্ভর উন্নয়ন ভাবনা নতুন প্রজন্মের অনুপ্রেরণার উৎস: রাষ্ট্রপতি
- কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই মধ্যপ্রাচ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা, ট্রাম্পের নতুন যুদ্ধ হুঁশিয়ারি
- দুপুরের মধ্যে ৫ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত
- বিয়ের মৌসুমে সোনা ও রুপার বাজারে আগুন, অলঙ্কার কিনতে পকেটে টান ক্রেতাদের
- ৩০ মে ২০২৬: ঢাকা ও দেশের অন্যান্য বিভাগীয় শহরের নামাজের সঠিক সময়ঘণ্টা
- শহিদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে বিএনপির আট দিনের কর্মসূচি
- বিকল্প লোহিত সাগর রুটেও হুথি আতঙ্ক, তীব্র জ্বালানি সংকটের মুখে এশিয়ার বাজার
- কঙ্কর নিক্ষেপ শেষেই শুরু ফিরতি যাত্রা, জেদ্দা থেকে প্রথম ফ্লাইটে দেশে ফিরছেন হাজিরা
- বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামে বড় ধস, দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে আন্তর্জাতিক দর
- এখন থেকে চিড়িয়াখানায় দেখা যাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে
- একটি গরুর দাম ৫৯ কোটি টাকা! গিনেস বুকে নাম তুলে বিশ্বজুড়ে তোলপাড়
- মহিষটির চুল দারুণ! ট্রাম্পের নামে ভাইরাল হওয়া স্ক্রিনশটের আসল সত্য ফাঁস
- ভারতের উত্তর প্রদেশে কঠোর বিধিনিষেধের ঘেরাটোপে ২০২৬ সালের ঈদুল আজহা
- ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য ২৬ মে ২০২৬-এর নামাজের সময়সূচি প্রকাশ
- কোরবানি হচ্ছে না ভাইরাল মহিষ ডোনাল্ড ট্রাম্প, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে ফিরল খামারে
- ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি
- কালিগঞ্জে জমি দখলের অভিযোগ,প্রাণনাশের হুমকির দাবি
- ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি
- জলদি জলদি ভাগো, জামাই নাকি! সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর তীব্র কটাক্ষ
- সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে আজ পবিত্র ঈদুল আজহা: উৎসবের আমেজে কোরবানি ও ঈদ জামাত
- আজ থেকেই কার্যকর হচ্ছে সোনা-রুপার নতুন আকাশচুম্বী দাম
- চাটখিলে কোরবানি হাটের মূল আকর্ষণ ৩০ মণের নোয়াখালীর বস
- গাণিতিক মডেলের বিস্ফোরক পূর্বাভাস: ২০২৬ বিশ্বকাপ জিতবে নেদারল্যান্ডস!
- ঈদের দিন কেমন থাকবে আবহাওয়া?
- কাতার সেমিফাইনালের সেই নায়ক এবারও আর্জেন্টিনাকে মেগা আনন্দে ভাসাতে মরিয়া








