পাকিস্তানকে একঘরে করার মোদির ১০ বছরের নীতি ব্যর্থ ও বুমেরাং: আল-জাজিরা

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ৩১ ২১:৪৬:২৯
পাকিস্তানকে একঘরে করার মোদির ১০ বছরের নীতি ব্যর্থ ও বুমেরাং: আল-জাজিরা
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামী বিশ্ব ও বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতা এবং ভারতের একঘরে করার নীতির অকার্যকারিতা নিয়ে কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা এক চাঞ্চল্যকর বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম প্রধান ও ঘোষিত লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্পূর্ণ একঘরে বা ‘ডিপ্লোম্যাটিক আইসোলেশন’-এ ফেলা। বিশেষ করে ২০১৪ সালে মোদি ক্ষমতায় আসার পর এবং ২০১৬ সালের উরি হামলার পর থেকে দিল্লির এই আক্রমণাত্মক নীতি আরও স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। দিল্লির কৌশল ছিল বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তানকে “সন্ত্রাসবাদে মদদদাতা রাষ্ট্র” হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা এবং দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক সম্পর্ক সীমিত করে দেওয়া।

তবে আল-জাজিরার সাম্প্রতিক এক গভীর বিশ্লেষণ বলছে, মোদি সরকারের গত এক দশকের এই ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ প্রত্যাশিত ফল দিতে ব্যর্থ হয়েছে। বরং অনেক ক্ষেত্রে এটি ভারতের জন্য উল্টো ফল বা ‘বুমেরাং’ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে পাকিস্তান আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন না হয়ে উল্টো বিশ্বমঞ্চে নতুন নতুন শক্তিশালী অংশীদারিত্ব ও কূটনৈতিক জোট গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে।

ভারত শুরু থেকেই চেষ্টা করেছে আন্তর্জাতিক বড় বড় ফোরামে পাকিস্তানকে কোণঠাসা করতে। জাতিসংঘ (UN), জি-টোয়েন্টি (G20), সার্কসহ (SAARC) বিভিন্ন বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়। বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা বা সার্ক-এর কার্যক্রম বর্তমানে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে, কারণ ভারত পাকিস্তানের সঙ্গে আঞ্চলিক সহযোগিতা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। ২০১৬ সালের পর ভারত ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য সার্ক শীর্ষ সম্মেলন বর্জন করলে এই আঞ্চলিক সংগঠনটির মেরুদণ্ড আরও দুর্বল হয়ে পড়ে।

দিল্লির পাকিস্তান-কেন্দ্রিক কৌশলের মূল তিনটি দিক ছিল—প্রথমত, পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিকভাবে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করা; দ্বিতীয়ত, পরাশক্তিগুলোর কাছে পাকিস্তানের গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা কমিয়ে আনা; এবং তৃতীয়ত, দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক কূটনৈতিক কাঠামোয় ভারতের একক প্রভাব বৃদ্ধি করা। শুরুতে এই কৌশল অনেকটাই কার্যকর মনে হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হয়ে যায়।

আল-জাজিরার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ভারতের এই নীতি ব্যর্থ হওয়ার অন্যতম বড় চালিকাশক্তি হলো চীন-পাকিস্তান সম্পর্কের অভাবনীয় গভীরতা ও মেগা বিনিয়োগ। চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (BRI)-এর অংশ হিসেবে ‘চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর’ (CPEC) প্রকল্প পাকিস্তানের অর্থনীতি ও অবকাঠামো খাতে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের দুয়ার খুলে দেয়। এই প্রকল্পের মাধ্যমে জ্বালানি, শক্তি খাত এবং গভীর সমুদ্রবন্দরের মতো যোগাযোগ ব্যবস্থায় পাকিস্তান ব্যাপক উন্নয়ন সহযোগিতা পায়। ফলে ইসলামাবাদের জন্য বেইজিংয়ের ভেটো ও সমর্থন আন্তর্জাতিক মঞ্চে একটি শক্তিশালী কূটনৈতিক ঢাল হিসেবে কাজ করছে।

অন্যদিকে পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রও ভূ-রাজনৈতিক কারণে পাকিস্তানকে পুরোপুরি উপেক্ষা বা অবহেলা করতে পারেনি। আফগানিস্তানের জটিল পরিস্থিতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষা এবং দীর্ঘদিনের সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতার কারণে ওয়াশিংটনকে সবসময়ই ইসলামের সঙ্গে একটি কার্যকর সম্পর্ক বজায় রাখতে হয়েছে। আল-জাজিরা বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল সবসময় ভারসাম্যপূর্ণ ছিল—ভারতকে কৌশলগত মূল অংশীদার হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হলেও পাকিস্তানকে তারা কখনোই পুরোপুরি ফেলে দেয়নি।

এই বৈশ্বিক মেরুকরণের মধ্যেই পাকিস্তান মধ্যপ্রাচ্যের পরাশক্তি ও প্রভাবশালী মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ক আরও জোরদার করেছে। বিশেষ করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE) এবং কাতারের মতো ধনী দেশগুলোর সঙ্গে বিশাল অর্থনৈতিক ও শ্রমবাজার-ভিত্তিক অংশীদারিত্ব ইসলামাবাদের অর্থনীতিকে সচল রেখেছে। বিপুল সংখ্যক পাকিস্তানি রেমিট্যান্স যোদ্ধা মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত থাকায় এই সম্পর্ক শুধু কূটনৈতিক নয়, বরং অর্থনৈতিক লাইফলাইন হিসেবে রূপ নিয়েছে। আল-জাজিরা স্পষ্ট করেছে যে—চীন, যুক্তরাষ্ট্র এবং মধ্যপ্রাচ্যের এই তিনটি বড় আন্তর্জাতিক সংযোগই পাকিস্তানকে একটি “পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন রাষ্ট্র” হওয়া থেকে রক্ষা করেছে।

ভারতের কৌশল ব্যর্থ হওয়ার আরেকটি বড় তাত্ত্বিক কারণ হলো বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য পরিবর্তন। আজকের আন্তর্জাতিক বিশ্ব আর এককেন্দ্রিক (Unipolar) নয়; বরং এটি বহুকেন্দ্রিক বা মাল্টিপোলার (Multipolar) হয়ে উঠছে। ফলে আধুনিক বিশ্বে কোনো একটি দেশের পক্ষে অন্য কোনো সার্বভৌম দেশকে সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন বা অবরুদ্ধ করা প্রায় অসম্ভব। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এখন নিখাদ স্বার্থ এবং ‘চয়েস বেসড অ্যালায়েন্স’ বা সুবিধাভিত্তিক জোটের ওপর নির্ভরশীল, যেখানে দেশগুলো কোনো একক ব্লকে না থেকে একাধিক পক্ষের সঙ্গে সমান্তরাল সম্পর্ক বজায় রাখে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভারত পাকিস্তানকে একঘরে করতে গিয়ে আঞ্চলিক কূটনীতিতে কিছুটা একক বা আইসোলেটেড অবস্থানে চলে গেছে, যা শেষ পর্যন্ত ভারতের নিজের কূটনৈতিক নমনীয়তা (Diplomatic Flexibility) অনেক কমিয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতা কাঠামো ভেঙে পড়ায় ভারতের নিজের চারপাশেই দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ, নেপাল বা শ্রীলঙ্কার মতো প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোও এখন বহুমাত্রিক কূটনীতি পছন্দ করছে।

২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলা এবং পরবর্তী সময়ে বালাকোট বিমান হামলার পর দুই দেশের সম্পর্ক একেবারে তলানিতে পৌঁছালেও আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো এই পরিস্থিতিতে সরাসরি ভারতের পক্ষ না নিয়ে বরং উভয় পক্ষকে সংযম ও আলোচনার আহ্বান জানিয়েছিল। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ মনে করেন, ভারতের এই পাকিস্তান নীতি অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনার পরিবর্তে তাৎক্ষণিক অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ফায়দা ও বার্তা তৈরির দিকে বেশি ঝুঁকেছিল।

আল-জাজিরা উপসংহারে বলেছে, মোদির এই নীতি পাকিস্তানকে দুর্বল করার বদলে তাকে নতুন কূটনৈতিক স্পেস ও সুযোগ তৈরি করতে পরোক্ষভাবে সাহায্য করেছে। চীন, তুরস্ক, সৌদি আরব এবং কিছু ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক পাকিস্তানকে একটি বহুমাত্রিক কূটনৈতিক অবস্থানে নিয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভবিষ্যতে দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক মুক্তি কোনো সংঘাত বা একঘরে করার নীতিতে নয়, বরং সংলাপ ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপরই নির্ভর করবে।

সূত্র: আল-জাজিরা


লোকসভার বিরোধী দলের নেতা রাহুল গান্ধীর আমন্ত্রণে বিশেষ বৈঠকে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নেতারা

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৩ ২১:৩৩:১৮
লোকসভার বিরোধী দলের নেতা রাহুল গান্ধীর আমন্ত্রণে বিশেষ বৈঠকে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নেতারা
ছবি : সংগৃহীত

লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা ও কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতা, বিরোধী এমপি, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মঙ্গলবার এক বিশেষ চা-চক্রে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দেওয়া একটি পোস্টে তিনি নিজেই এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ইনস্টাগ্রামে নিজের ভেরিফায়েড হ্যান্ডলে দেওয়া ওই পোস্টে রাহুল গান্ধী লিখেছেন, আজ তিনি তাঁর বাসভবনে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নেতা, বিরোধী দলের সংসদ সদস্য, ছাত্রসংগঠন ও সুশীল সমাজের বন্ধুদের চা পানের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। গণতন্ত্র রক্ষার এই অবিরাম গণআন্দোলনে তারা সবাই সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ আছেন এবং এই লড়াই সর্বতোভাবে অব্যাহত থাকবে বলেও অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি। চা চক্রের এই আনুষ্ঠানিকতা শেষে আমন্ত্রিত নেতারা গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মুখোমুখি কথা বলবেন বলে জানা গেছে।

মূলত বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র বিতর্কের মাঝেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। গত কিছু সময় ধরে রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী দলগুলো প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের জোরালো দাবি জানিয়ে আসছে।

ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এ প্রকাশিত একটি চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে মূলত এই পদত্যাগের দাবি তুলেছে বিরোধীরা। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, গত বছর বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (এসআইআর) অভিযান পরিচালনার সময় নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনারদের অনেক কিছু জানানোই হয়নি। শুধু তা-ই নয়, দুই নির্বাচন কমিশনার নাকি বারবার এই ধরনের একতরফা সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন, যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।

/আশিক


দিল্লিতে আটক নারী আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৩ ১৮:২০:২১
দিল্লিতে আটক নারী আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে চলমান বিক্ষোভ দমনের সময় আটক নারী আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, পুলিশের গাড়িতে তোলার পর নারী পুলিশ সদস্যরা তাদের শারীরিক নির্যাতন করেছেন। এমনকি তাদের গলা চেপে ধরা, বুক ও সংবেদনশীল স্থানে আঘাত করার মতো গুরুতর অভিযোগও তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যম ‘স্ক্রল ডট ইন’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নরিন নামের এক নারী বিক্ষোভকারী এসব অভিযোগ প্রকাশ্যে আনেন। তিনি ওয়ার্কার্স পার্টি অব ইন্ডিয়ার একজন সদস্য। তার বর্ণনা অনুযায়ী, গত রোববার মধ্য দিল্লিতে তারা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছিলেন। এমন সময় পুলিশ এসে সেখান থেকে ১৬ জনকে জোরপূর্বক আটক করে একটি ভ্যানে তোলে। আটককৃতদের মধ্যে ১৫ জনই নারী ছিলেন বলে তিনি জানান।

নওরিন অভিযোগ করেন, ভ্যানে তোলার পরপরই নারী পুলিশ সদস্যরা তাদের ওপর চড়াও হন এবং মারধর শুরু করেন। ‘দিশা স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন’-এর সদস্য শারন্যাকে ভ্যানের মেঝেতে ফেলে এক নারী পুলিশ সদস্য তার গলা চেপে ধরেন বলে তিনি জানান। এ সময় কনুই দিয়েও শারন্যাকে আঘাত করা হয়। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে পুলিশ তাকে চিকিৎসার জন্য অন্য কোথাও নিয়ে যায় বলে নওরিন উল্লেখ করেন।

শুধু তাই নয়, ভ্যানে থাকা অন্যান্য নারী বিক্ষোভকারীদের বুকে ও যৌনাঙ্গেও আঘাত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। আকস্মিক এই পুলিশি অভিযানের সময় আন্দোলনকারীদের বেশ কয়েকটি মোবাইল ফোনও বলপূর্বক কেড়ে নেওয়া হয়।

তবে নারী বিক্ষোভকারীদের ওপর এই শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করাও সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য, বিশেষ নিবিড় পর্যালোচনা (এসআইআর) কার্যক্রম ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে গত শনিবার ও রবিবার ককরোচ জনতা পার্টিসহ বিভিন্ন ছাত্র ও প্রতিবাদী সংগঠন দিল্লিতে বড় ধরনের বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। আন্দোলনকারীরা পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয় এবং বেশ কয়েকজনকে আটক করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

/আশিক


দিল্লিতে ২০ হাজার আধাসামরিক বাহিনী আরও এক মাস রাখার সিদ্ধান্ত

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১২ ২০:৫৯:১৬
দিল্লিতে ২০ হাজার আধাসামরিক বাহিনী আরও এক মাস রাখার সিদ্ধান্ত
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বিরোধী জোট 'ইন্ডিয়া' ও বিভিন্ন সংগঠনের চলমান বিক্ষোভ এবং আসন্ন উৎসবের মৌসুমকে সামনে রেখে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির তথ্য অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে দিল্লিতে মোতায়েন করা প্রায় ২০ হাজার আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যকে অন্তত আরও এক মাস রাজধানীতেই বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মূলত উৎসবের মৌসুমে বাজার ও জনসমাগমস্থলগুলোতে মানুষের প্রচণ্ড ভিড় বাড়ায় সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে চলমান বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে দিল্লির নতুন করে তিনটি নির্দিষ্ট স্থানকে প্রতিবাদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। স্থানগুলো হলো—রামলীলা ময়দান, বুরারি ময়দান ও সিবিডি ময়দান। তবে এতদিন ধরে রাজনৈতিক বিক্ষোভের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত অতি সুরক্ষিত যন্তর মন্তর এলাকাটিকে নতুন এই তালিকা থেকে পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন হবে, তা নিয়ে ইতোমধ্যে উচ্চপর্যায়ের বিস্তারিত পর্যালোচনা সম্পন্ন হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার সন্ধ্যায় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রাসহ বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার শীর্ষস্থানীয় নেতারা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে একটি স্মারকলিপি জমা দিতে সুপ্রিম কোর্টের অভিমুখে লংমার্চ বা মিছিল করেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া এই আন্দোলনকে ঘিরে রাজধানীতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

বিক্ষোভের জেরে অননুমোদিত জমায়েত রোধ এবং যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে দিল্লির প্রবেশদ্বার, বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা, রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল ও স্পর্শকাতর পয়েন্টগুলোতে নিরাপত্তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। শহরের প্রতিটি প্রবেশপথে যানবাহনে নিয়মিত ও কঠোর তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। পাশাপাশি নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা এড়াতে হোটেল, গেস্টহাউস, লজ ও ধর্মশালাগুলোতে宿泊কারীদের পরিচয় যাচাই করার জন্য বিশেষ অভিযানও জোরদার করা হয়েছে।

আধাসামরিক বাহিনীর পাশাপাশি দিল্লি পুলিশের হাজার হাজার সদস্যও মাঠে থেকে দায়িত্ব পালন করছেন। বিশেষ করে নয়াদিল্লি জেলাকে মোট ২০টি আলাদা অঞ্চলে ভাগ করে মাঠপর্যায়ের সার্বিক পরিস্থিতি কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে। যুগ্ম কমিশনার, উপকমিশনার (ডিসিপি) এবং অতিরিক্ত উপকমিশনার পদমর্যাদার শীর্ষ কর্মকর্তারা সরাসরি মাঠে থেকে পুরো নিরাপত্তা পরিস্থিতি তদারকি করছেন।

অন্যদিকে, এই আন্দোলনকে কেবল রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে সীমাবদ্ধ না রেখে এটিকে একটি বৃহত্তর ‘গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ’ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা চালাচ্ছে বিরোধী জোট। এজন্য সাধারণ শিক্ষার্থী এবং নাগরিক সমাজের বিভিন্ন সংগঠনকে এই আন্দোলনে সম্পৃক্ত করার জন্য নানামুখী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মূলত বিশেষ নিবিড় পর্যালোচনা (এসআইআর) কার্যক্রম এবং নির্বাচন কমিশনের কিছু সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই আন্দোলন বর্তমানে মোদি সরকারের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জে রূপ নিয়েছে।

/আশিক


কত পুলিশ আনবেন আনুন, ভয় পাই না: অমিত শাহকে রাহুল গান্ধীর কড়া বার্তা

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১২ ১৮:৫০:২২
কত পুলিশ আনবেন আনুন, ভয় পাই না: অমিত শাহকে রাহুল গান্ধীর কড়া বার্তা
ছবি : সংগৃহীত

ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়ম ও বিতর্কের জেরে ভারতে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর প্রতিবাদে দিল্লির সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে পদযাত্রার ডাক দিয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা ও কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে সোমবার দিল্লিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো হাজার হাজার পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দেওয়ায় শহরজুড়ে যান চলাচল চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলতি মাসজুড়ে বিরোধী দল ও আন্দোলনকারীরা প্রতিনিয়ত প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছেন। বিরোধীদের মূল অভিযোগ, এই বিতর্কিত তালিকা সংশোধনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) রাজনৈতিক সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে নির্বাচন পরিচালনাকারী সংস্থা 'ইলেকশন কমিশন অব ইন্ডিয়া' (ইসিআই) এসব অনিয়মের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, ভোটার তালিকা থেকে ভুয়া এন্ট্রি, মৃত ব্যক্তি এবং দ্বৈত নাম বাদ দেওয়ার জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বিক্ষোভ দমন করতে পুলিশ দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে ধাতব ব্যারিকেড বসিয়েছে। আন্দোলন চলাকালে ইতোমধ্যেই হাজারো মানুষকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশের এমন গণ-আটক অভিযানের কড়া সমালোচনা করে বিরোধী নেতারা বলছেন, সরকার বলপ্রয়োগের মাধ্যমে বিরোধী কণ্ঠ ও গণআন্দোলন চেপে রাখার চেষ্টা করছে। এমনক সিজেপির সমর্থকদের ওপরও পুলিশের বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক নেতা ও সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সিপিআই(এম) সংসদ সদস্য জন ব্রিটাস জানান, বিক্ষোভকালে পুলিশ তাকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায় এবং ধস্তাধস্তি করে। এই ঘটনাকে তিনি গণতান্ত্রিক অধিকার ও আইনের শাসনের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে, প্রেস কার্ড দেখানোর পরেও বহু সাংবাদিককে আটক করা হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদ স্বাধীনতা বিষয়ক সংস্থা 'রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস' জানিয়েছে, অন্তত ১৬ জন সাংবাদিককে কাজ করার সময় নির্মমভাবে আটক করা হয়, যা পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে একদমই অগ্রহণযোগ্য।

এমন পরিস্থিতির মাঝেই রাহুল গান্ধী আন্দোলনকারীদের সুপ্রিম কোর্টের দিকে পদযাত্রায় যোগ দেওয়ার জোর আহ্বান জানান। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে উদ্দেশ্য করে এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বার্তায় রাহুল জানান, ১০ হাজার কিংবা ৪০ হাজার—যত পুলিশ বা বিজেপি-আরএসএসের লোকই পাঠানো হোক না কেন, তারা ভয় পাওয়ার পাত্র নন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাদের এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিরোধী সিজেপি ও মিত্র দলগুলো।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির টানা ১২ বছরের শাসনামলে এই ভোটার তালিকা বিতর্ক অন্যতম বড় রাজনৈতিক সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নতুন সংশোধনের ফলে প্রায় ১৩ কোটি ৩০ লাখ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে কাটা গেছে। সমালোচকদের বড় একটি অংশ মনে করছে, এই প্রক্রিয়ায় সংখ্যালঘু বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে তুলনামূলক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে।

সূত্র: আলজাজিরা


পারমাণবিক হুমকির কাছে মাথা নোয়াবে না ভারত: জাতিসংঘে কড়া বার্তা

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১১ ২০:৪৯:০৫
পারমাণবিক হুমকির কাছে মাথা নোয়াবে না ভারত: জাতিসংঘে কড়া বার্তা
ছবি : সংগৃহীত

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের প্রথম কমিটির বৈঠকে পাকিস্তানের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে কড়া অবস্থান স্পষ্ট করেছে ভারত। দেশটির ফার্স্ট সেক্রেটারি অনমল শের সিং বেদি ‘রাইট অব রিপ্লাই’ বা জবাব দেওয়ার অধিকার প্রয়োগ করে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, সন্ত্রাসী হামলার জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পারমাণবিক হুমকির কাছে নয়াদিল্লি মাথা নোয়াবে না। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে পারমাণবিক শক্তির ভয় দেখিয়ে হামলার দায় এড়ানোর যে কৌশল নেওয়া হয়, তার তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।

বৈঠকে পেহেলগামে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার প্রসঙ্গ টেনে ভারতীয় কূটনীতিক জানান, গত বছরের মে মাসে ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর ভারত যে সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছিল তা ছিল সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক। এটি কোনো বড় ধরনের যুদ্ধের সূচনা করার উদ্দেশ্যে ছিল না, বরং সুনির্দিষ্ট ও পরিমিত পন্থায় সন্ত্রাসী হুমকি মোকাবিলা করার জন্যই ওই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ভারতের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী হামলার উপযুক্ত জবাব দেওয়ার পূর্ণ অধিকার দেশের রয়েছে।

পাকিস্তানকে উদ্দেশ করে বেদি আরও বলেন, শান্তি ও সংযমের কথা বললেও সংকট সৃষ্টিকারী কর্মকাণ্ডের দায় সংশ্লিষ্ট দেশকেই নিতে হবে। সন্ত্রাসবাদে মদদদাতা এবং হামলার পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করা হবে না বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছে ভারত। এছাড়া জম্মু ও কাশ্মীরকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করে অবৈধ দখলে থাকা ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

১৯৬০ সালের সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তি প্রসঙ্গে ভারতীয় প্রতিনিধি বলেন, পারস্পরিক আস্থা ও সদিচ্ছার ওপর ভিত্তি করে ওই চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল। ফলে কোনো রাষ্ট্র সেই আস্থার ভিত্তি দুর্বল করে কেবল চুক্তি থেকে প্রাপ্ত সুযোগ-সুবিধাগুলো একতরফাভাবে ভোগ করার দাবি করতে পারে না। একই সঙ্গে পারমাণবিক প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং পাকিস্তানি বিজ্ঞানী এ কিউ খানের পরমাণু প্রসার নেটওয়ার্কের ইতিহাস তুলে ধরে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার স্বার্থে রাষ্ট্রগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের তাগিদ দেন তিনি।

/আশিক


দিল্লিতে নজিরবিহীন কড়াকড়ি: মোদি-শাহকে নিয়ে যা বলল সিজেপি

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১১ ১৮:১৮:০৭
দিল্লিতে নজিরবিহীন কড়াকড়ি: মোদি-শাহকে নিয়ে যা বলল সিজেপি
ছবি : সংগৃহীত

দিল্লিতে চলমান নজিরবিহীন কড়াকড়ি ও দমনপীড়নের তীব্র নিন্দা জানিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সংগঠনের শীর্ষ নেতারা অভিযোগ করেছেন, দেশের পরিস্থিতিকে এক প্রকার ‘যুদ্ধাবস্থার’ দিকে ঠেলে দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের লজ্জিত হওয়া উচিত। একই সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন যেকোনো মূল্যে চালিয়ে যাওয়ার দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও প্রিন্টের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার দিল্লিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে, সরকার নিজ দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধেই রাষ্ট্রযন্ত্রকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। আন্দোলনকারীরা নির্দিষ্ট স্থানে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও প্রশাসন চাইলে আলোচনার জন্য তাদের কোনো প্রতিনিধিদলকে আমন্ত্রণ জানাতে পারত।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয় যে, নির্বিচারে ট্রেন বাতিল করা, বিক্ষোভে বাধা দেওয়া এবং সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের পাইকারি হারে আটকের মাধ্যমে মোদি সরকার কার্যত দেশে এক অঘোষিত জরুরি অবস্থার মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছে। বেআইনিভাবে আটক করার পর অনেককে ছেড়ে দেওয়ার সময় ‘আগামী এক বছর শান্তি বজায় রাখার’ শর্ত দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তারা মন্তব্য করেন যে, নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ এবং জ্ঞানেশ কুমাররাই মূলত দেশের শান্তি শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন।

এর আগে শনিবার দিল্লির প্রতিবাদ কর্মসূচি ভেস্তে দিতে প্রশাসন নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে এবং বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করে। এ সময় হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করা হলেও রোববার তাদের অনেককে ছেড়ে দেওয়া হয়। এদিকে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও কড়াকড়ির প্রেক্ষাপটে বন্ধ রাখা মেট্রো পরিষেবা এবং ইন্টারনেট সংযোগ অবিলম্বে চালুর জন্য রোববার সরকারকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট। আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, যেকোনো ধরনের বিধিনিষেধ বা কড়াকড়ি আরোপের ক্ষেত্রে অবশ্যই সংবিধানের ১৯(২) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী জনশৃঙ্খলার শর্ত কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।

এদিকে হিন্দুস্থান টাইমস জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশ ও প্রশাসনের বাধা সত্ত্বেও রোববার বিক্ষুদ্ধ বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ পুনরায় রাজপথে নেমে আসে। কনট প্লেসের দিকে মিছিল নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ আন্দোলনকর্মী ও শিক্ষার্থী নেহা বোরাকে আটকের চেষ্টা চালায়। এ সময় তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলেও বিকেল তিনটার দিকে এইচ ব্লকের আশপাশ থেকে তাকে আটক করে পুলিশ।

/আশিক


দিল্লিতে আটক তৃণমূল বিধায়কদের নিয়ে থানায় অনশন-ধরনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১০ ২০:৫০:২৭
দিল্লিতে আটক তৃণমূল বিধায়কদের নিয়ে থানায় অনশন-ধরনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
ছবি : সংগৃহীত

দিল্লিতে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে আটক হওয়া তৃণমূল কংগ্রেসের পাঁচ বিধায়ককে সাথে নিয়ে দ্বারকা নর্থ থানায় অবস্থান ধরনায় বসেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আটক বিধায়কদের প্রিজন ভ্যানে তুলে প্রায় দুই ঘণ্টা শহরজুড়ে ঘোরানোর অভিযোগ তুলেছেন তিনি। এই চরম অব্যবস্থার প্রতিবাদে আগামী সোমবার বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র উদ্যোগে আয়োজিত মিছিলেও শামিল হওয়ার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক পোস্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিশ্চিত করেন যে, বিকেল চারটার দিকে বিধায়কদের সাথে নিয়ে থানার ভেতরেই অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন তিনি। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী শনিবার রাতে তাঁর কলকাতায় ফেরার কথা থাকলেও উদ্ভূত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দিল্লিতে অবস্থান করেই এই প্রতিবাদের পথ বেছে নিয়েছেন তিনি।

নিজের ধারণ করা ভিডিও বার্তায় মমতা জানান, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে যন্তর মন্তরের দিকে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু দিল্লি পুলিশ তাঁদের অগ্রযাত্রায় বাধা দেয়। পরবর্তীকালে বাসস্ট্যান্ডের কাছে ব্যানার নিয়ে বসে প্রতিবাদ জানাতে গেলে পুলিশ ব্যানার সরাতে বলে। তাঁদের নির্দেশনা পুরোপুরি মেনে চলার পরও পুলিশের প্রিজন ভ্যানে তুলে অপরাধীদের মতো প্রায় দুই ঘণ্টা ঘুরিয়ে নেওয়া হয় বলে তিনি কঠোর সমালোচনা করেন।

কোনো ধরনের আইন ভঙ্গ না করা সত্ত্বেও রাজ্য বিধায়কদের সাথে এমন অন্যায় আচরণের প্রতিবাদে এই থানার ভেতরই জলস্পর্শ না করে অনড় অবস্থান বজায় রাখার ঘোষণা দেন তিনি। এ সময় তাঁর সাথে ছিলেন ডেরেক ও’ব্রায়েন, প্রতিমা মণ্ডল, দোলা সেন, সাকেত ও শ্যামল ইসলাম।

কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তীব্র সমালোচনা করে মমতা স্পষ্ট করেন যে, তিনি সাধারণ পুলিশ সদস্যদের দায়ী করছেন না। বরং ওপর মহলের রাজনৈতিক নির্দেশ পালন করতেই পুলিশ এমন কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থী, কৃষক ও নারীদের ওপর নির্যাতনের প্রসঙ্গ টেনে কেন্দ্রের ভূমিকাকে কাঠগড়ায় তোলেন তিনি। প্রতিবাদের তাগিদে দরকার পড়লে টানা ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা এই অনশন ও ধরনা চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী।

অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরের দিকে এগোতে থাকা সিজেপি (ককরোচ জনতা পার্টি) সমর্থিত বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে শনিবার পর্যন্ত অন্তত এক হাজার বিক্ষোভকারীকে আগাম আটক করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, কর্মসূচির কোনো অনুমতি না থাকায় নিরাপত্তার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সময় মুম্বাই থেকে দিল্লিতে এসে পৌঁছানো সিজেপি কর্মী অভিজিৎ দীপকেও রানওয়ে এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া


‘যত খুশি পুলিশ মোতায়েন করুন, আমরা পিছু হটব না’: মোদিকে রাহুল গান্ধীর চরম চ্যালেঞ্জ

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১০ ২০:৩৮:৫১
‘যত খুশি পুলিশ মোতায়েন করুন, আমরা পিছু হটব না’: মোদিকে রাহুল গান্ধীর চরম চ্যালেঞ্জ
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী তরুণ সমাজকে আন্দোলন ও বিক্ষোভ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সরাসরি রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, আন্দোলন দমনে যত পুলিশই মোতায়েন করা হোক বা যত নেতাকর্মীকেই আটক করা হোক না কেন, কংগ্রেস বা আন্দোলনকারীরা কোনোভাবেই পিছু হটবে না।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় রাহুল গান্ধী নিজের এই কঠোর মনোভাব তুলে ধরেন। নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশে তিনি লেখেন, মোদি যেন তাঁর ইচ্ছামতো পদক্ষেপ নেন। সরকার চাইলে ১০ হাজার, ২০ হাজার কিংবা ৫০ হাজার পুলিশ মোতায়েন করতে পারে এবং সব নেতা ও তরুণদের গ্রেপ্তার করতে পারে। এমনকি বিরোধীদের সবাইকে গ্রেপ্তার করলেও আন্দোলন থামবে না বলে তিনি জানান।

বার্তায় রাহুল গান্ধী আরও উল্লেখ করেন, গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি নরেন্দ্র মোদি ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক সংগ্রাম চালিয়ে আসছেন। এই দীর্ঘ লড়াইয়ের অভিজ্ঞতার আলোকেই প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক চাল ও কর্মকৌশল সম্পর্কে তাঁর স্পষ্ট ও গভীর ধারণা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

কংগ্রেসের এই প্রভাবশালী নেতা অভিযোগ তোলেন, বর্তমান ক্ষমতাসীন জোটের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক ভীতি কাজ করছে। তাঁর ভাষ্যমতে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল রাজনৈতিকভাবে চরম চাপে রয়েছেন। বিরোধীদের নিরবচ্ছিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনের ফলেই তাঁদের প্রভাব ও কার্যক্রম দিন দিন সংকুচিত হয়ে আসছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

/আশিক


পতনের দ্বারপ্রান্তে মোদি

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১০ ১৮:৫৭:৪৩
পতনের দ্বারপ্রান্তে মোদি
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক আচরণ ও পদক্ষেপ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে তাঁর সরকার পতনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে—এমন মন্তব্য করেছেন নিখিল ভারত কংগ্রেস কমিটির (এআইসিসি) সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল। দেশজুড়ে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলা রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যে আয়োজিত বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তীব্র আক্রমণ শানান।

সংবাদ সম্মেলনে কে সি বেণুগোপাল অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যৌথভাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে রক্ষা করার মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে তাদের এই কৌশল সরকারের শেষ রক্ষা করতে পারবে না এবং এটিই তাদের পতনের মূল কারণ হয়ে দাঁড়াবে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও বলেন যে, মোদি সরকার বিরোধী দলের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে ভয় পায়; আর সেই ভয়ের কারণেই রাজধানী দিল্লি ও মুম্বাইসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা, কঠোর পুলিশি নিরাপত্তা এবং নির্বিচারে আটকের মতো দমনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

জনগণের সাংবিধানিক ভোটাধিকার রক্ষা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার দাবিতে আগামী সোমবার দিল্লিতে একটি বৃহৎ বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে ‘ইন্ডিয়া’ জোট। এর অংশ হিসেবে বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতারা ইতোমধ্যেই ভারতের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিজেদের গভীর উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি, আগামী সোমবার এই দাবির সপক্ষে দেশের প্রধান বিচারপতির (সিজেআই) সঙ্গেও তাদের সাক্ষাতের কর্মসূচি নির্ধারিত রয়েছে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও নির্বাচন ব্যবস্থার পূর্ণ সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত বিরোধী দলগুলোর এই আন্দোলন সর্বস্তরে অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন কংগ্রেসের এই শীর্ষ নেতা।

সূত্র: রেডিফ

পাঠকের মতামত: