মমতাকে বাংলাদেশে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে নতুন বিতর্কে বিজেপির মন্ত্রী

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৮ ২০:৩০:০০
মমতাকে বাংলাদেশে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে নতুন বিতর্কে বিজেপির মন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের সংবিধান ও সরকারকে যদি দেশের কোনো নাগরিক বা রাজনৈতিক নেতা অমান্য করেন, তবে তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এ দেশে না থেকে বাংলাদেশে চলে যাওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বিজেপি নেতা ও মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তা (পিএসও) পরিবর্তনের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দিলীপ ঘোষ এই বিতর্কিত মন্তব্য করেন।

দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিএসও হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন স্বরুপ গোস্বামী ও কুসুম কুমার দ্বিবেদী। সরকারি নিয়ম ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত বুধবার সন্ধ্যায় তাদেরকে সেই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নতুন নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমান রাজ্য সরকারের এই আকস্মিক প্রশাসনিক পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করে ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস।

প্রশাসনিক সূত্র থেকে জানা গেছে, সরকারিভাবে পাঠানো নতুন নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের নিজের দায়িত্বে যোগ দিতে দেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর পরিবর্তে তিনি সরকারি নিরাপত্তা বর্জন করে সম্পূর্ণ নিজস্ব ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে নতুন নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করেছেন। বৃহস্পতিবার সকালে এই সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ প্রশ্ন তোলেন, একসময় সরকার তাকেও দুজন নিরাপত্তারক্ষী দিয়েছিল এবং সরকারি সিদ্ধান্ত মেনে ওনারা দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন সরকারি সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নিজের পছন্দমতো নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগ করবেন?

বিজেপির এই মন্ত্রী আরও যুক্তি দেন যে, যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তখন তিনিও ক্ষমতার আওতায় এই ধরনের প্রশাসনিক বদলি ও নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতেন। কাকে কোন পদে বা কোথায় দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনিই নির্ধারণ করতেন। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান যিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পদে আসীন রয়েছেন, প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী এই ধরনের নিয়োগ ও বদলি ঠিক করার সম্পূর্ণ আইনি ও সাংবিধানিক অধিকার তারও রয়েছে।

দিলীপ ঘোষ বলেন, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী কেবল তার প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। এমতাবস্থায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন এই সরকারি সিদ্ধান্ত মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছন তা বোধগম্য নয়। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কেউ যদি দেশের সংবিধান ও নির্বাচিত সরকারকে অমান্য করেন, তবে তার এই দেশে থাকার কোনো যৌক্তিকতা নেই; তার বরং বাংলাদেশে চলে যাওয়া উচিত।

উল্লেখ্য, এর আগেও বিভিন্ন বিষয়ে মন্তব্য করে রাজনৈতিক মহলে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন দিলীপ ঘোষ। সম্প্রতি পবিত্র ঈদুল আজহায় কলকাতার ঐতিহাসিক রেড রোডে মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের অনুমতি না দেওয়ার পক্ষে যুক্তি দেখাতে গিয়েও তিনি উগ্র মন্তব্য করেছিলেন। সেই সময় তিনি বলেছিলেন, নামাজ পড়তে হলে বাংলাদেশ বা পাকিস্তানে গিয়ে পড়া উচিত, এখানে এসব চলবে না কারণ এখন সরকার পরিবর্তন হয়েছে।

/আশিক


প্রশ্নফাঁস আন্দোলনে সহিংসতার পেছনে জামায়াত ও বিদেশি শক্তির হাত: শুভেন্দু অধিকারী

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৬ ২০:৩৫:১১
প্রশ্নফাঁস আন্দোলনে সহিংসতার পেছনে জামায়াত ও বিদেশি শক্তির হাত: শুভেন্দু অধিকারী
ছবি : সংগৃহীত

ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আয়োজিত আন্দোলন ঘিরে সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনায় ‘বিদেশি মদদপুষ্ট ইসলামপন্থি মৌলবাদী’ গোষ্ঠীর ইন্ধন ও সম্পৃক্ততার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

তিনি দাবি করেছেন, আন্দোলনে সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বড় অংশই কোনো শিক্ষার্থী নন; বরং তারা জামায়াতপন্থি মৌলবাদী চক্রের সদস্য। এসব নাশকতাকারীর পেছনে কোনো প্রভাবশালী বিদেশি শক্তির সমর্থন বা অর্থায়ন ছিল কি না, তা দেশটির তদন্তকারী সংস্থাগুলো খতিয়ে দেখবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

রোববার (২৬ জুলাই) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “সহিংসতায় লিপ্ত হওয়া এই ব্যক্তিদের সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা কোনোভাবেই শিক্ষার্থী নন, তারা মূলত জামায়াতি মৌলবাদী। তাদের পেছনে কোনো বিদেশি শক্তির প্রত্যক্ষ মদদ ছিল কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তেই বেরিয়ে আসবে।”

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার বিতর্কিত 'নিট' (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভে বামপন্থি সমর্থিত আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ একপর্যায়ে লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষের পর সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের সদ্য প্রণীত কঠোর ‘অ্যান্টি-গুন্ডা’ আইন প্রয়োগ করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে প্রশাসন। এ প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যারা রাজপথে এই সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে, যা তাদের পরবর্তী তিন প্রজন্মও আজীবন মনে রাখবে।”

এর আগে বিধানসভার অধিবেশনেও তিনি দাবি করেছিলেন যে, সহিংস বিক্ষোভস্থল থেকে শনাক্ত হওয়া প্রায় ৭০ জন ব্যক্তির কেউই প্রকৃত শিক্ষার্থী নন এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস বিরোধী মূল আন্দোলনের সঙ্গে তাদের সুনির্দিষ্ট কোনো যোগসূত্র নেই।

শুভেন্দু অধিকারীর মতে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যে অবৈধ মাদ্রাসার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, ওবিসি সনদ সংক্রান্ত আদালতের নির্দেশনাবলী বাস্তবায়ন, গবাদিপশু জবাই-সংক্রান্ত আইন জোরদার করা এবং শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের প্রশাসনিক পদক্ষেপের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েই একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে এই সহিংসতা উসকে দিয়ে থাকতে পারে।

বিক্ষোভ চলাকালীন পেশাগত দায়িত্ব পালনরত এক সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা টেনে তিনি অভিযোগ করেন, সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের ইচ্ছাকৃতভাবে নিশানা করা হয়েছিল এবং এমনকি তাদের প্রাণনাশেরও চেষ্টা চালানো হয়েছিল।

অন্যদিকে, ক্রমবর্ধমান ছাত্র অসন্তোষের মুখে কেন্দ্রীয় সরকার সোমবার লোকসভায় ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’ উত্থাপনের জোর প্রস্তুতি নিয়েছে। এই প্রস্তাবিত আইনে পরীক্ষা সংক্রান্ত জালিয়াতির দ্রুত বিচারের স্বার্থে প্রতিটি রাজ্যে ডেডিকেটেড ‘ফাস্ট-ট্র্যাক’ আদালত গঠন, নির্ধারিত দুই মাসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করা এবং দোষীদের ন্যূনতম ৫ বছর থেকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ রুপি পর্যন্ত জরিমানার কঠোর বিধান রাখা হয়েছে।

সরকার পক্ষ জানিয়েছে, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস ইস্যুকে কেন্দ্র করে তরুণ শিক্ষার্থীদের দাবির মুখেই এই আইনি সংশোধনী আনা হচ্ছে। তবে আন্দোলন পরিচালনাকারী দল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) শনিবার তাদের টানা ৩৬ দিনের কর্মসূচি আনুষ্ঠানিক প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে। সংগঠনটির দাবি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা প্রদান এবং তাদের অন্যান্য যৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়ার কারণেই তারা আন্দোলন স্থগিতের এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া


শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার পর এবার দিল্লিতে সরকার পতনের ডাক

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৫ ২১:৫১:৫৭
শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার পর এবার দিল্লিতে সরকার পতনের ডাক
ছবি : সংগৃহীত

ভারতে চলমান পরীক্ষাসংক্রান্ত অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর দেশটির নরেন্দ্র মোদী নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারকে উৎখাত করার সময় এসে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। বিক্ষোভের তোপের মুখে শনিবার (২৫ জুলাই) পদত্যাগপত্র জমা দেন শিক্ষামন্ত্রী।

শনিবার সকালে নয়াদিল্লিতে ১০ জনপথের নিজস্ব বাসভবনে আন্দোলনরত একদল শিক্ষার্থীর সঙ্গে কুশল বিনিময় ও বৈঠক করেন রাহুল গান্ধী। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তিনি সংবিধান, গণতন্ত্র ও নিজেদের ক্যারিয়ার সুরক্ষায় রাজপথে নামা সব তরুণ শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানান। রাহুলের মতে, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের ঘটনাটি দেশটির শিক্ষাব্যবস্থা পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে এক বিশাল সাফল্য।

শিক্ষামন্ত্রী সরে দাঁড়ালেও মূল আন্দোলন এখনো শেষ হয়নি দাবি করে রাহুল গান্ধী জানান, তাদের প্রধান দুটি দাবি এখনো অপূরণীয়। প্রথমত, দেশটির সার্বিক ভবিষ্যৎ ও ছাত্রসমাজের সম্মানার্থে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। দ্বিতীয়ত, আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের ওপর যে ধরনের সহিংসতা চালানো হয়েছে, তাতে জড়িত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সমাজের অবহেলিত কৃষক, শ্রমিক ও নিম্নবিত্তদের উদ্দেশে তিনি সংবিধানে দেওয়া অধিকারে অটল থাকার আহ্বান জানান এবং বর্তমান সরকারকে অপসারণের সময় এসেছে উল্লেখ করে কাউকে ভয় না পাওয়ার বার্তা দেন।

অন্য দিকে টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে শিক্ষার্থীদের তীব্র বিক্ষোভের মুখে শনিবার এক্সে নিজের পদত্যাগের খবর নিশ্চিত করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। তিনি জানান, দেশের কোটি তরুণের ভবিষ্যৎ রক্ষা এবং যন্তর মন্তরের বিদ্যমান উত্তাল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনো রাষ্ট্রবিরোধী গোষ্ঠী যাতে অস্থিরতা তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে তিনি ইস্তফা দিয়েছেন। উল্লেখ্য, সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করার পরদিনই পদত্যাগের এই ঘোষণা এল।

শিক্ষামন্ত্রীর বিদায়ের পর যন্তর মন্তরের প্রতিবাদী মঞ্চ থেকে ভারতের প্রধান বিচারপতিকে ধন্যবাদ জানান সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, গত ১৫ মে সুপ্রিম কোর্টের এক আইনি শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত তরুণদের নিয়ে যে মন্তব্য করেছিলেন, তা থেকেই এই গণআন্দোলনের সূচনা হয়। প্রধান বিচারপতি পরবর্তীতে স্পষ্ট করেছিলেন যে তার বক্তব্যটি ভুয়া আইনি ডিগ্রিধারীদের উদ্দেশ্যে ছিল এবং গণমাধ্যমে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তবে সেই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে নজিরবিহীন ছাত্র অসন্তোষের জন্ম দেয়।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস।


জয়ী ছাত্র আন্দোলন: যন্তর মন্তর ছেড়ে ঘরে ফেরার ডাক দিল সিজেপি

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৫ ১৯:৫১:৩৮
জয়ী ছাত্র আন্দোলন: যন্তর মন্তর ছেড়ে ঘরে ফেরার ডাক দিল সিজেপি
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) উত্থাপিত সমস্ত দাবি পরিশেষে মেনে নিয়েছে দেশটির সরকার। দাবি আদায়ের পর চলমান আন্দোলন স্থগিত করে আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ গৃহে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি। শনিবার তথ্যটি নিশ্চিত করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।

শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনস্থলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাংকা ঘোষণা করেন, তাদের সংগঠনের প্রতিটি দাবি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছে। ফলে বিদ্যমান বিক্ষোভ কর্মসূচির সমাপ্তি টেনে অবিলম্বে আন্দোলনকারীদের ঘরে ফেরার আহ্বান জানান তিনি।

আশুতোষ রাংকা আরও জানান, আন্দোলন স্থগিত হলেও তাদের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও পরবর্তী রাজনৈতিক কৌশল সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত পরে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে।

আন্দোলনের এই সফলতায় যৌথ সংহতি জানিয়ে আন্দোলনকারীদের আন্তরিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন অন্যতম শীর্ষ মুখ সোনম ওয়াংচুক। শুরু থেকেই যারা এই দাবি তুলে মাঠের লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন, তাদের সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন তিনি।

অন্য এক বক্তব্যে আশুতোষ রাংকা জোর দিয়ে বলেন, সিজেপির উত্থাপিত শর্তগুলো কখনোই চরমপন্থী বা অযৌক্তিক ছিল না; বরং তা ছিল সাধারণ ও মৌলিক অধিকারের দাবি। সরকারের সব দাবি মেনে নেওয়ার সিদ্ধান্তেই সেটি চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

/আশিক


শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পরও থামছে না সিজেপির আন্দোলন, বাকি ২ দাবি

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৫ ১৮:১৩:২৭
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পরও থামছে না সিজেপির আন্দোলন, বাকি ২ দাবি
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করলেও নিজেদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছে রাজনৈতিক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। প্রথম দাবিটি পূরণ হলেও বাকি আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বেন না বলে জানিয়ে দিয়েছে দলটি। তথ্যটি নিশ্চিত করে সংবাদ প্রকাশ করেছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।

শনিবার (২৫ জুলাই) সিজেপির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ইস্যুতে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছিল তাদের আন্দোলনের প্রাথমিক দাবি, যা ইতিমধ্যেই মেনে নিয়েছে সরকার। তবে তাদের তোলা বাকি দুটি মৌলিক দাবি এখনো অপূরণীয় রয়ে গেছে।

সিজেপির উত্থাপিত অপর দুটি দাবির মধ্যে প্রথমটি হলো—প্রশ্নফাঁসের জেরে মানসিক চাপে আত্মহত্যা করা প্রতিটি শিক্ষার্থীর পরিবারকে ১ কোটি রুপি করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে। দ্বিতীয় দাবিটি হলো—চলমান এই আন্দোলনে অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কোনো ধরনের আইনি বা প্রশাসনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে না।

দলটির নীতিনির্ধারকেরা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, অবশিষ্ট এই দাবি দুটি পুরোপুরি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সরকারের ওপর তাদের সর্বাত্মক আন্দোলন ও রাজনৈতিক চাপ বহাল থাকবে। তাদের মতে, পুরো পরীক্ষা ব্যবস্থায় পূর্ণাঙ্গ জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত ছাত্র-ছাত্রীদের ন্যায়বিচার সুনিশ্চিত করাই এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য।

/আশিক


১৪৪ ধারার অজুহাতে যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের বাধা

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৩ ২০:২৬:১৮
১৪৪ ধারার অজুহাতে যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের বাধা
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-এর আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে যোগ দিতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের পথে বাধা সৃষ্টি করেছে দিল্লি পুলিশ।

বৃহস্পতিবার অটোরিকশায় করে যন্তর মন্তরের কর্মসূচিস্থলে যাওয়ার পথে একদল শিক্ষার্থীকে গন্তব্য থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার আগেই থামিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাদের আর সামনের দিকে অগ্রসর হতে দেয়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

আটকে পড়া শিক্ষার্থীরা জানান, তারা সম্পূর্ণ শান্তিপূর্নভাবে সাধারণ যাত্রীর মতো অটোতে করে বিক্ষোভে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। তবে কোনো কারণ ছাড়াই মাঝপথে তাদের পথ রোধ করে পুলিশ।

অন্যদিকে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিএনএসএস আইনের আওতায় ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে। সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এবং যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতেই শিক্ষার্থীদের যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়া থেকে বিরত রাখা হয়েছে।

পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় চলমান বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে সিজেপি এবং কয়েকটি ছাত্র সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এই প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়। তবে প্রতিবাদস্থলে বড় ধরনের জনসমাগম ঠেকানোর লক্ষ্যে দিল্লির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও পয়েন্টগুলোতে জোরদার করা হয়েছে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

সূত্র: দ্য হিন্দু


মোদী সরকারের আলোচনার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিল সিজেপি, অনড় যন্তর মন্তরে

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৩ ২০:০৫:২১
মোদী সরকারের আলোচনার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিল সিজেপি, অনড় যন্তর মন্তরে
ছবি : সংগৃহীত

ভারতে চলমান বিতর্কিত প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে আসা বৈঠকের আহ্বান সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলটির স্পষ্ট বক্তব্য, আলোচনা হতে হলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের আন্দোলনের মূল কেন্দ্র দিল্লির যন্তর মন্তরে আসতে হবে, নতুবা যেকোনো নিরপেক্ষ স্থানে এই বৈঠকের আয়োজন করতে হবে।

বৃহস্পতিবার ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা সিজেপি নেতাদের সঙ্গে আলোচনার একটি প্রস্তাব পাঠান। তবে আন্দোলনকারী রাজনৈতিক দলটির পক্ষ থেকে সে প্রস্তাব সঙ্গে সঙ্গেই প্রত্যাখ্যান করা হয়।

সরকারের অনাগ্রহের বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে সিজেপি নেতা অশুতোষ রাঙ্কা জানান, সাধারণ মানুষের ক্ষোভের কারণে মন্ত্রীরা যন্তর মন্তরে আসতে রাজি হচ্ছেন না বলে জানানো হয়েছে। তবে তিনি অনর্থক সময় নষ্ট না করার বার্তা দেন।

এর আগে আন্দোলনরত তরুণ নেতাদের আলোচনার টেবিলে আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন আরেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। তিনি স্পষ্ট করেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও চলমান এই গণআন্দোলন সরকারের জন্য কোনো প্রেস্টিজ ইস্যু নয়। তিনি ও জে.পি. নাড্ডা যেকোনো সময় আলোচনায় বসতে তৈরি আছেন এবং এর জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি।

মন্ত্রীর এমন নমনীয় আশ্বাসের পরও নিজেদের অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন সিজেপি নেতারা। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আলোচনা সম্পর্কিত শর্তে কোনো পরিবর্তন আসবে না এবং বৈঠক হতে হলে অবশ্যই তা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ জায়গায় হতে হবে।

অন্যদিকে, আন্দোলন পরিচালনায় অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করা সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক শারীরিক অসুস্থতার কারণে সাময়িক বিশ্রামে থাকার তথ্য জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সামাজিক মাধ্যমে এক বার্তায় তিনি নিশ্চিত করেন, সাময়িকভাবে কিছুটা দূরে থাকলেও সন্ধ্যার মধ্যেই তিনি পুনরায় যন্তর মন্তরের প্রতিবাদী মঞ্চে যোগ দেবেন।

অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে আন্দোলনকারীরা দেশটির কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে তাদের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।

উল্লেখ্য, বুধবার রাতে দিল্লিতে অবস্থানরত আন্দোলনকারীদের হটাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নেয় এবং পুলিশ লাঠিচার্জের পাশাপাশি কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়ে। পুলিশ প্রশাসন দাবি করেছে, পার্লামেন্ট স্ট্রিটের অভিমুখে ধেয়ে আসা বিক্ষোভকারীদের একটি দল তাদের ওপর পাথর ও বোতল ছোঁড়ায় তারা প্রতিহত করতে বাধ্য হয়।

তবে বিক্ষোভকারীদের দাবি, পুলিশ সম্পূর্ণ অহেতুক ও অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের মাধ্যমে ন্যায়সংগত আন্দোলন নস্যাৎ করার চেষ্টা চালিয়েছে। অভিজিৎ দীপকও পুলিশের এই আগ্রাসী ভূমিকার তীব্র নিন্দা জানান। আন্দোলনকারীদের যৌথ ঘোষণা—প্রশ্নপত্র ফাঁসের পূর্ণাঙ্গ নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রকৃত দোষীদের শাস্তির আওতায় না আনা পর্যন্ত এই আন্দোলন থামবে না।

/আশিক


ককরোচ মুভমেন্টে উত্তাল দিল্লি: প্রশ্নফাঁস কাণ্ডেও কেন অনড় মোদি ও তাঁর শিক্ষামন্ত্রী?

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৩ ১৮:৩৭:৩০
ককরোচ মুভমেন্টে উত্তাল দিল্লি: প্রশ্নফাঁস কাণ্ডেও কেন অনড় মোদি ও তাঁর শিক্ষামন্ত্রী?
ছবি : সংগৃহীত

ভারতে পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে দেশটির রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গন। জেন-জি তরুণদের আন্দোলন ‘ককরোচ মুভমেন্ট’-এর হাজার হাজার সমর্থক গত এক মাস ধরে নয়া দিল্লিতে অবস্থান ধর্মঘট পালন করছেন।

পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাসে শতাধিক আন্দোলনকারী আহত হলেও তারা পিছু হটেননি। এত তীব্র বিক্ষোভ ও বিরোধীদের চাপের পরও মোদি সরকার শিক্ষামন্ত্রীকে বরখাস্ত বা পদত্যাগে বাধ্য করেনি। আপাতদৃষ্টিতে এটি অস্বাভাবিক মনে হলেও নরেন্দ্র মোদির ১২ বছরের শাসনকালের ধারা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, রাজপথ বা মিডিয়ার চাপের মুখে নিজের মন্ত্রীদের পদত্যাগ না করানো তাঁর বহু পুরোনো কৌশল।

মোদি সরকারের এই নীতি পূর্ববর্তী কংগ্রেস সরকারের বিপরীত। কংগ্রেস আমলে কেলেঙ্কারি বা জনদাবিতে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের সরিয়ে দেওয়া হলেও, মোদি জমানায় এটিকে প্রশাসনিক দুর্বলতা হিসেবে দেখা হয়। ২০১৫ সালের দাদরি গণপিটুনি কাণ্ডের পর মহেশ শর্মা, ২০১৬ সালে রোহিত ভেমুলার আত্মহত্যার পর স্মৃতি ইরানি ও বান্দারু দত্তাত্রেয় এবং ২০২১ সালে লখিমপুর খেরির ঘটনার পর অজয় মিশ্র তেনি—কাউকেই গণদাবির মুখে বরখাস্ত করা হয়নি।

১২ বছরে কেবল করোনা মহামারীর সময় কোভিড ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতার দায়ে তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. হর্ষ বর্ধনের পদত্যাগই ছিল এর একমাত্র ব্যতিক্রম। রাজপথের চাপের সামনে নতি স্বীকার না করে বরং নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকাকেই রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন মোদি।

/আশিক


এই মোদি সরকারের পতন ঘটাও: আটকের সময় রাহুলকে কানে কানে পুলিশ সদস্যের বার্তা!

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২২ ১৯:২৭:৩২
এই মোদি সরকারের পতন ঘটাও: আটকের সময় রাহুলকে কানে কানে পুলিশ সদস্যের বার্তা!
ছবি : সংগৃহীত

প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে তোলপাড় সৃষ্টি করা আন্দোলনে অংশ নিয়ে আটক হওয়ার পর এবার নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। আটকের মুহূর্তে দায়িত্বপ্রাপ্ত এক পুলিশ কর্মকর্তা তাঁকে খোদ মোদি সরকারের পতন ঘটানোর পরামর্শ দিয়েছেন বলে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন তিনি।

বুধবার (২২ জুলাই ২০২৬) পুলিশি হেফাজত থেকে মুক্ত হয়ে নিজের আটকের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিতে গিয়ে রাজকীয় এই দাবি সামনে আনেন রাহুল গান্ধী।

এর আগে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষাসহ একাধিক সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে দিল্লির রাস্তায় নামেন রাহুল। আন্দোলনের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবন অভিমুখে পদযাত্রার সময় পুলিশ তাঁকে আটক করে বাসে তুলে নিয়ে যায়।

সেই আটক প্রক্রিয়ার পরের দিনই রাহুল গান্ধী বলেন, “আমাকে যখন আটক করে গাড়িতে তোলা হচ্ছিল, তখন আমাকে নিরাপত্তায় থাকা এক পুলিশ সদস্য ব্যক্তিগতভাবে এসে আমার কানে কানে বলেন—‘এই (মোদি) সরকারের পতন ঘটিয়ে দাও’।”

দেশের শিক্ষাব্যবস্থার ভঙ্গুর দশার জন্য কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে দায়ী করে তাঁর অনতিবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করেছেন রাহুল। তিনি কঠোর ভাষায় বলেন, “আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ধর্মেন্দ্র প্রধানের দ্রুত পদত্যাগ চাচ্ছেন। শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে তিনি সম্পূর্ণ ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছেন। তাঁকে এই মুহূর্তেই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া উচিত। আস্ত একটা শিক্ষাব্যবস্থা চালানোর ক্ষেত্রে তিনি চরম অযোগ্য ও অক্ষম ব্যক্তি।”

উল্লেখ্য, ভারতে ব্যাপক আলোড়ন তোলা মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসার পর ক্ষোভে ফুসে ওঠেন তরুণ ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। স্বতঃস্ফূর্তভাবে তারা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র ব্যানারে দিল্লি রাজপথ অচল করে আন্দোলন শুরু করে এবং শুরু থেকেই শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অটল রয়েছে।

বিজেপি সরকারের ১২ বছরের রেকর্ড তুলে ধরে রাহুল গান্ধী দাবি করেন, এ পর্যন্ত দেশে মোট ১৫২ বার প্রশ্নপত্র ফাঁসের নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে।

এই পরিসংখ্যান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, “গত এক যুগে ১৫২ বার প্রশ্ন ফাঁস হওয়া মানে আপনি হিসাব করলে দেখবেন প্রতি মাসে গড়ে একবার করে কোনো না কোনো পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে! এতে দেশের প্রায় সাড়ে সাত কোটি শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, যাদের সিংহভাগই মধ্যবিত্ত শ্রেণির। সন্তানের পড়াশোনা ও পরীক্ষার ফি জোগাতে পরিবারের জীবনের সব কষ্টার্জিত সঞ্চয় তারা শেষ করেছেন, অথচ তারাই সবচেয়ে বেশি প্রতারিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।”

সবচেয়ে ক্ষোভের বিষয় হিসেবে সরকারের বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে অভিযুক্ত করে তিনি আরও বলেন, “সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো—এত বড় বড় জাতীয় কেলেঙ্কারি ও গত ১০ বছরে টানা এত প্রশ্ন ফাঁসের পরও আজ পর্যন্ত কাউকেই দায়ী করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হয়নি। বিচার পাওয়ার হার এক কথায় শূন্য!”

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে


শিক্ষার্থী নির্যাতনের জবাব চাইতে গিয়ে বন্দি রাহুল গান্ধী, উত্তাল ভারতের রাজনীতি

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২১ ২০:৩৬:২৬
শিক্ষার্থী নির্যাতনের জবাব চাইতে গিয়ে বন্দি রাহুল গান্ধী, উত্তাল ভারতের রাজনীতি
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের আলোচিত পরীক্ষা বিতর্ক ও প্রশ্নপত্র ফাঁস ইস্যুতে রাজনৈতিক উত্তাপ এবার চরমে পৌঁছেছে। দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় জরুরি সংস্কার এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের দ্রুত পদত্যাগের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রাসহ একাধিক শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। মঙ্গলবার (২১ জুলাই ২০২৬) নতুন দিল্লির লোক কল্যাণ মার্গে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা ‘এএনআই’ (ANI)।

কংগ্রেসের অভিযোগ, আন্দোলনরত নিরপরাধ শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীদের ওপর দিল্লি পুলিশ বেপরোয়া ও অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে। পুলিশের এই নজিরবিহীন অভিযানের তীব্র প্রতিবাদ জানাতে এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ড নিয়ে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর জবাবদিহি চাইতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রার নেতৃত্বে দলটির শীর্ষ নেতারা একযোগে লোক কল্যাণ মার্গে অবস্থান নেন। অবস্থান কর্মসূচির একপর্যায়ে দিল্লি পুলিশ সরাসরি হস্তক্ষেপ করে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কাসহ সেখানে উপস্থিত অন্য জ্যেষ্ঠ নেতাদের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে যায়।

আটক হওয়ার আগে রাহুল গান্ধী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, রাজপথে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিরুদ্ধে সরকারের নির্দেশে পুলিশি নির্যাতনের বিষয়ে তারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে সরাসরি উত্তর চাইতে সেখানে গেছেন।

এর আগে, প্রশ্নপত্র ফাঁস কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে এবং শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কারের একদফা দাবিতে দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) সমর্থিত হাজার হাজার ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী সংসদ ভবনের দিকে ঐতিহাসিক মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে পুলিশি বাধার মুখে সেই মিছিল সংঘর্ষে রূপ নেয়। দিল্লি পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘর্ষ, লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের ঘটনায় পুলিশ সদস্য ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীসহ প্রায় ১৮০ জন আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে আটক ও বিক্ষোভের প্রসঙ্গে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, অতিসংবেদনশীল লোক কল্যাণ মার্গ এলাকায় কোনো প্রকার পূর্বানুমতি ছাড়া বেআইনিভাবে বিক্ষোভ প্রদর্শন করায় আইন অনুযায়ী কংগ্রেস নেতাদের আটক করে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

সূত্র: এনি

পাঠকের মতামত: