রক্তক্ষয়ী সংঘাতে লণ্ডভণ্ড পশ্চিম উপকূল, ইয়েমেনে তৈরি হচ্ছে বড় মানবিক বিপর্যয়

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৬ ১৭:৫৬:৪২
রক্তক্ষয়ী সংঘাতে লণ্ডভণ্ড পশ্চিম উপকূল, ইয়েমেনে তৈরি হচ্ছে বড় মানবিক বিপর্যয়
বাস্তুচ্যুত ইয়েমেনিরা। ছবি: আল জাজিরা

ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহী ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি বাহিনীর মধ্যকার সংঘাত মারাত্মক রূপ নেওয়ায় এক লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের বরাতে এই মানবিক সংকটের তথ্য জানানো হয়েছে। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, সংঘাতের মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকলে দেশটি এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হবে।

ইউএনএইচসিআর এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানায়, ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় দেশের অভ্যন্তরে এক লাখের বেশি মানুষ বসতভিটা ত্যাগ করে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে পালিয়েছেন। জীবন বাঁচাতে আরও হাজার হাজার মানুষ চরম ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল বাব আল-মান্দাব প্রণালী পাড়ি দিয়ে পূর্ব আফ্রিকার দেশ জিবুতিতে প্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছেন। হঠাৎ সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় বেশিরভাগ পরিবার জরুরি জিনিসপত্র ছাড়াই কোনোমতে প্রাণ নিয়ে পালিয়েছে। ফলে এসব বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য জরুরি ভিত্তিতে অস্থায়ী আশ্রয়, খাদ্য, সুপেয় পানি এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে, যা স্থানীয় স্বাগতিক জনগোষ্ঠীর সীমিত সম্পদের ওপর চরম চাপ তৈরি করছে।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ইয়েমেনের ভেতরে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর তাৎক্ষণিক সহায়তা নিশ্চিত করতে আনুমানিক ১ কোটি ৪০ লাখ ডলারের নতুন জরুরি তহবিলের প্রয়োজন। পাশাপাশি জিবুতিতে আশ্রয় নেওয়া মানুষদের জন্যও বাড়তি আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন হবে। এই সংঘাতের কারণে ইয়েমেনে পূর্ব থেকে অবস্থানরত সোমালিয়া ও ইথিওপিয়া থেকে আসা নিবন্ধিত ৬৫ হাজারেরও বেশি বিদেশি শরণার্থী নতুন করে চরম জীবনঝুঁকির মধ্যে পড়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুতি বিদ্রোহীদের দ্রুত সামরিক অগ্রযাত্রার ফলে এই তীব্র বাস্তুচ্যুতির ঘটনা শুরু হয়েছে। হুতিরা মূলত লোহিত সাগর উপকূলের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে বাব আল-মান্দাব প্রণালীর ওপর নিজেদের অবস্থান সুসংহত করার কৌশল নিয়েছে। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে যুক্তকারী এই কৌশলগত বাব আল-মান্দাব প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বৈশ্বিক সামুদ্রিক পথ; হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থার কারণে বৈশ্বিক বাণিজ্যের বিকল্প হিসেবে বর্তমানে এ জলপথের ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা


চাঁদের বুকে পারমাণবিক চুল্লি বসাতে লড়ছে তিন পরাশক্তি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ৩১ ১৮:৩৯:৩৮
চাঁদের বুকে পারমাণবিক চুল্লি বসাতে লড়ছে তিন পরাশক্তি
ছবি : সংগৃহীত

চাঁদের বুকে আধিপত্য বিস্তারে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়ার মধ্যকার প্রতিযোগিতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। কেবল নভোচারী পাঠানো নয়, বরং চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি নির্মাণ, বরফ থেকে পানি ও রকেটের জ্বালানি উৎপাদন এবং মূল্যবান খনিজ সম্পদ আহরণের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে পরাশক্তিগুলো। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হিসেবে সামনে এসেছে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।

চাঁদের মেরু অঞ্চলের গভীর খাদ বা চির-অন্ধকার অঞ্চলে পানির বরফের সন্ধান মিলেছে, যা প্রক্রিয়াজাত করে পানীয় জল, অক্সিজেন ও জ্বালানি তৈরি করা সম্ভব। এছাড়া চাঁদের মাটিতে থাকা অ্যালুমিনিয়াম, টাইটানিয়াম ও সিলিকন আহরণের পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে চাঁদের প্রায় চৌদ্দ পৃথিবী দিন সমমানের দীর্ঘ রাত ও অন্ধকারের কারণে সৌরবিদ্যুতের ওপর নির্ভর করা সম্ভব নয়। এই সমস্যার সমাধানেই পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা দীর্ঘ সময় ধরে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম।

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা ‘লুনার রিয়্যাক্টর-১’ (LR-1) প্রকল্পের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে। ছয় হাজার কেজির কম ওজনের এই চুল্লি পাঁচ বছর পর্যন্ত রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়াই বিদ্যুৎ দিতে পারবে। এছাড়া ২০৩০-এর দশকের শুরুতে ৪০ কিলোওয়াট ক্ষমতার পারমাণবিক ব্যবস্থা চালুর কাজও চলছে। অন্যদিকে, চীন ও রাশিয়া যৌথভাবে আন্তর্জাতিক চন্দ্র গবেষণা কেন্দ্রের জন্য পারমাণবিক বিদ্যুৎব্যবস্থা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। রুশ মহাকাশ সংস্থা রসকসমস ২০৩৬ সালের মধ্যে ১০ কিলোওয়াট ক্ষমতার পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, যা রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়াই ১০ বছরের বেশি সচল থাকবে।

মহাকাশ খাতের বেসরকারি উদ্যোক্তারাও পিছিয়ে নেই। ইলন মাস্কের স্পেসএক্স চাঁদের খনিজ ব্যবহার করে মহাকাশেই স্যাটেলাইট ও যন্ত্রাংশ তৈরির কারখানা স্থাপনের কথা ভাবছে। তবে এই উদ্যোগের বড় চ্যালেঞ্জ হলো নিরাপত্তা। রকেটে করে পারমাণবিক চুল্লি পরিবহনের সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে। ১৯৭৮ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের ‘কসমস-৯৫৪’ স্যাটেলাইট কানাডায় বিধ্বস্ত হয়ে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাটি এ ক্ষেত্রে বড় সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হয়।

বৈজ্ঞানিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থের পাশাপাশি এই প্রতিযোগিতায় রয়েছে কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী করার উদ্দেশ্য। ১৯৬৭ সালের ‘আউটার স্পেস ট্রিটি’ অনুযায়ী চাঁদের সার্বভৌম মালিকানা দাবির সুযোগ না থাকলেও, বরফ ও খনিজসমৃদ্ধ অঞ্চলগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ভূরাজনৈতিক ও কূটনৈতিক দ্বন্দ্বের আশঙ্কা রয়েছে।

আল জাজিরা


যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে মোজতবা খামেনির চরম হুঙ্কার: মানা হবে না কোনো সীমানা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ৩১ ১৮:২১:১৮
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে মোজতবা খামেনির চরম হুঙ্কার: মানা হবে না কোনো সীমানা
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে আবারও নতুন করে বড় ধরনের যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার তীব্র আশঙ্কার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে চরম হুঙ্কার দিয়েছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান কিংবা দেশটির আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর যদি নতুন করে কোনো সামরিক আগ্রাসন চালানো হয়, তবে তার উপযুক্ত জবাব দিতে ইরানি বাহিনী কোনো ধরনের ভৌগোলিক সীমানা বা আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে চলবে না।

মোজতবা খামেনির অফিসিয়াল টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত এক বিশেষ যুদ্ধংদেহী বার্তায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীকে যেকোনো সম্ভাব্য হামলার বিপরীতে তাৎক্ষণিকভাবে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই বিবৃতিতে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে সতর্ক করে বলা হয়েছে, শত্রুপক্ষ যদি আবারও কোনো সামরিক বা প্রতিকূল পদক্ষেপ নেওয়ার দুঃসাহস দেখায়, তবে সেই সংঘাত কখন এবং কীভাবে সমাপ্ত হবে, তা নির্ধারণ করবে কেবল তেহরান।

পরিস্থিতি আরও বেশি সংঘাতপূর্ণ করে তোলার নির্দেশ দিয়ে খামেনি ঘোষণা করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সমস্ত স্থাবর-অস্থাবর এবং সামরিক স্থাপনাকে যেন তেহরানের নতুন ‘টার্গেট লিস্ট’ বা লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর সুদূরপ্রসারী অর্থ হলো, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে সেই লড়াই আর কেবল মধ্যপ্রাচ্যের নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন ও ইসরাইলি স্বার্থ এবং স্থাপনাগুলোও সরাসরি ইরানি বাহিনীর হামলার নিশানা হতে পারে।

সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল


মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন উত্তাপ: প্রস্তুত থাকার নির্দেশ আমেরিকার

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ৩১ ১৮:১২:৩০
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন উত্তাপ: প্রস্তুত থাকার নির্দেশ আমেরিকার
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোকে ইরানে নতুন সামরিক হামলার আশঙ্কায় প্রস্তুত থাকার জন্য কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ও কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আগামী ৩ নভেম্বর মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পরদিনই—অর্থাৎ ৪ নভেম্বর থেকে এই সম্ভাব্য হামলা শুরু হতে পারে। যদিও ওয়াশিংটন বা হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত বা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করা হয়নি, তবে সম্ভাব্য স্বল্পস্থায়ী ও তীব্র এই সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিয়ে উপসাগরীয় অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা বা ব্রিফিং করা হচ্ছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘এমএস নাও’ এবং ‘দ্য টাইমস অব ইসরায়েল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, জ্যেষ্ঠ উপসাগরীয় আরব কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে নতুন করে হামলা শুরু হলে তার তীব্রতা অনেক বেশি হতে পারে। তবে এই পদক্ষেপে ইরানের পক্ষ থেকে ভয়াবহ পাল্টা আক্রমণের আশঙ্কায় রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো। এ কারণে উপসাগরীয় মিত্ররা ওয়াশিংটনকে অতিরিক্ত উত্তেজনা প্রশমিত করার জন্য জোর তাগিদ দিচ্ছে। এমনকি আঞ্চলিক নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে কিছু উপসাগরীয় দেশ তাদের ভূখণ্ডে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালানোর বিরোধিতা পর্যন্ত করতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার আগে ইরানে নতুন করে কোনো হামলা চালানো হবে না। তবে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরান যাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করার জন্য ট্রাম্প প্রশাসন সমস্ত বিকল্পই খোলা রেখেছে। বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশকে ব্যক্তিগতভাবে প্রস্তুত থাকার এই সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের চূড়ান্ত রূপরেখা বা সময়সূচি নিয়ে এখনো নানা কূটনৈতিক অনিশ্চয়তা বজায় রয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েলের


যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আশঙ্কায় তেহরান আগাম আক্রমণ চালাতে পারে: এফডিডি কর্মকর্তা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৯ ২০:২৯:৩২
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আশঙ্কায় তেহরান আগাম আক্রমণ চালাতে পারে: এফডিডি কর্মকর্তা
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের আশঙ্কার মুখে তেহরান আগেভাগেই ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে আগাম হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিজের (এফডিডি) নির্বাহী পরিচালক জনাথন শ্যানজার। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের পর ইরানে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে জোরালো গুঞ্জন রয়েছে। তবে শ্যানজারের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা আসন্ন বুঝে তেহরানের শীর্ষ নেতৃত্ব হাত গুটিয়ে বসে না থেকে বরং কৌশলগত সুবিধা অর্জনের জন্য আগেভাগেই আক্রমণ চালিয়ে বসার ঝুঁকি রয়েছে।

চলমান এই উত্তেজনার ফলে মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় মার্কিন ভোটারদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে, যা নির্বাচনী প্রচারণায় রিপাবলিকান প্রার্থীদের বেশ চাপে ফেলে দিয়েছে। শুধু পেট্রল বা জ্বালানি তেলই নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতির অন্যান্য খাতেও পণ্য ও সেবার ব্যয় ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। পেন্টাগনের সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক এই সামরিক কার্যক্রমে মার্কিন করদাতাদের ব্যয় ইতোমধ্যে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭১০ কোটি ডলারে।

তবে শ্যানজারের এই বিশ্লেষণটি একান্তই সম্ভাব্য পরিস্থিতির একটি মূল্যায়ন মাত্র, যেখানে ইরানের সুনির্দিষ্ট কোনো আগাম হামলার পরিকল্পনা বা নিশ্চিত সামরিক পদক্ষেপের কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, হামলার সময় নিয়ে এই অনিশ্চয়তা এবং তেহরানের পাল্টা আঘাত হানার আশঙ্কা সামগ্রিক মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

সূত্র: আল-জাজিরা


নেতানিয়াহুর দলের অভিযোগ খারিজ করে দিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৯ ১৮:৪৪:১৫
নেতানিয়াহুর দলের অভিযোগ খারিজ করে দিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেট নির্বাচনে দেশটির আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে ভোট চুরি ও কারচুপির সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ পায়নি ইসরায়েলি পুলিশ। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ পার্টি এই জালিয়াতির অভিযোগ তুললেও পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছে যে এবারের নির্বাচনে অনিয়মের ঘটনা বরং বিগত নির্বাচনগুলোর তুলনায় বেশ কম ছিল।

টাইমস অব ইসরায়েলের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, একাধিক হিব্রুভাষী সংবাদমাধ্যমকে ইসরায়েলি পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে লিকুদ পার্টি যে অভিযোগগুলো উত্থাপন করেছে, সেগুলোর সপক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের গোয়েন্দা তথ্যপ্রমাণ বা তদন্তভিত্তিক সত্যতা পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, নেসেটের সাম্প্রতিক এই নির্বাচনে ইসরায়েলি আরব দলগুলো বেশ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে এবং দেশটির ১২০ আসনের পার্লামেন্টে রেকর্ড ১৯টি আসনে জয়লাভ করেছে। এর আগে ইসরায়েলের ইতিহাসে কোনো নির্বাচনে আরব দলগুলো এত বেশি আসন লাভ করতে পারেনি।

এই অপ্রত্যাশিত ফলাফল নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি লিকুদ পার্টি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে দাবি করে যে, আরব দলগুলো ভোট চুরি করেছে। দলটির পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয় যে, নিষিদ্ধ সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করা হয়েছে এবং এর পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদে সমর্থন, দুর্নীতি, হুমকি ও সহিংসতার মতো গুরুতর অপরাধের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। এমনকি এসব অভিযোগের সপক্ষে উপযুক্ত প্রমাণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের কথাও বলেছিল লিকুদ পার্টি।

এদিকে, নির্বাচনের প্রায় সব আসনেই ভোট গণনা শেষে প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে যে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এবং তাদের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জোট সব মিলিয়ে ৫৩টি আসনে জয়লাভ করেছে। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টি এবং তাদের সমমনা জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। এর ফলে ইসরায়েলের বর্তমান সংসদে কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের মতো প্রয়োজনীয় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। এমন পরিস্থিতিতে সরকার গঠনের জটিল সমীকরণে আরব দলগুলোর ভূমিকা ও সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঠিক এই সময়ে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ পুরোপুরি খারিজ করে দিয়ে পুলিশের দেওয়া এই বক্তব্য দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

/আশিক


ডিভি লটারি ২০২৭-এ বাংলাদেশ কি সুযোগ পাবে?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৯ ১৮:২৭:৪৮
ডিভি লটারি ২০২৭-এ বাংলাদেশ কি সুযোগ পাবে?

যুক্তরাষ্ট্রের ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) বা গ্রিন কার্ড লটারি ২০২৭-এর নিবন্ধন প্রক্রিয়া পুনরায় চালু হতে যাচ্ছে। মার্কিন আদালতের সাম্প্রতিক এক গুরুত্বপূর্ণ আদেশের প্রেক্ষিতে মার্কিন প্রশাসন এই কার্যক্রম শুরু করার উদ্যোগ নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কর্তৃক প্রকাশিত নির্দেশনার মাধ্যমে জানা যেতে পারে যে এবারের কর্মসূচিতে বাংলাদেশিরা আবেদন করার সুযোগ পাবেন কি না।

যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৯০ সালের ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট অনুযায়ী ঐতিহাসিকভা্রে কম অভিবাসী পাঠানো দেশের নাগরিকদের জন্য এই ডিভি লটারি প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ লাভ করেন। তবে উচ্চ অভিবাসন হারের কারণে ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশ এই ডিভি লটারি কর্মসূচির যোগ্য দেশের তালিকার বাইরে রয়েছে। এর আগে ২০০৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে ৫০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি এই কর্মসূচির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। তাই এবারের ২০২৭ সালের ডিভি লটারিতে বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না, তা নিয়ে সম্ভাব্য আবেদনকারীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আদালতের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৯ অক্টোবর ডিভি লটারি ২০২৭-এর যোগ্যতা, শর্তাবলি ও আবেদনসংক্রান্ত নির্দেশিকা প্রকাশের কথা ছিল এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী ১ নভেম্বর থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়ে তা ৩০ দিন পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন ওই আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে এবং স্থগিতাদেশ চেয়েছে। এ কারণে নিবন্ধন শুরুর সম্ভাব্য তারিখ ও পুরো প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা নিয়ে এখনো কিছু অনিশ্চয়তা রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং আবেদনের শেষ তারিখ, ফল প্রকাশের সময়সূচি ও অন্যান্য শর্ত সম্পর্কে নিশ্চিত হতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা ও ওয়েবসাইট (https://travel.state.gov/) অনুসরণ করা জরুরি।

সাধারণত ডিভি লটারিতে অংশ নিতে আবেদনকারীকে যোগ্য দেশের নাগরিক হতে হয় এবং নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা কিংবা নির্দিষ্ট পেশায় প্রয়োজনীয় কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। সাধারণত উচ্চমাধ্যমিক বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা অথবা নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন পেশায় নির্ধারিত সময়ের কাজের অভিজ্ঞতা এক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য হয়। তবে বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সুযোগ নির্ভর করবে ২০২৭ সালের কর্মসূচিতে বাংলাদেশের যোগ্যতার অবস্থান এবং মার্কিন প্রশাসনের প্রযোজ্য চূড়ান্ত নিয়মের ওপর।

সূত্র: ফোর্বস


ইসরায়েলে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৮ ১৮:৪৭:১৩
ইসরায়েলে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলের সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনের প্রাথমিক ফল ও এক্সিট পোলের পূর্বাভাসে ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলেছে। ১২০ আসনের নেসেটে এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন কোনো জোটই নিশ্চিত করতে না পারায় পরবর্তী সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির প্রাথমিক গণনা অনুযায়ী ২৭টি আসন নিয়ে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে লিকুদ পার্টি এগিয়ে রয়েছে এবং নেতানিয়াহুর জোট ৫৪টি ও আইজেনকটের বিরোধী জোট ৫০টি আসন পেতে পারে। এছাড়া বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের এক্সিট পোলেও দুই জোটের মধ্যে সমানে সমান লড়াইয়ের চিত্র উঠে এসেছে।

সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় সরকার গঠনের চাবিকাঠি এখন ছোট দলগুলোর হাতে চলে গেছে, যার মধ্যে আরব নেতৃত্বাধীন রা’আম ও জয়েন্ট লিস্টের সম্মিলিত আসনসংখ্যা ১৬ থেকে ১৯টির মধ্যে হতে পারে। তবে নেতানিয়াহু ও ইহুদি নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট—উভয় পক্ষই আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনে অনীহা বা বিরোধিতা প্রকাশ করায় রাজনৈতিক সমঝোতা কঠিন হয়ে পড়েছে। নেতানিয়াহুর জোটে লিকুদ পার্টির পাশাপাশি শাস, ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম, রিলিজিয়াস জায়োনিজম এবং ওতজমা ইয়েহুদিত রয়েছে; অন্যদিকে বিরোধী জোটে ইয়াশার, টুগেদার, ইসরায়েল বেইতেনু এবং ডেমোক্র্যাটস দলগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

আগামী ৪ নভেম্বর নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের কথা রয়েছে এবং এরপর ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় আইনপ্রণেতাকে সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় দিয়ে দায়িত্ব দেবেন, প্রয়োজনে যা আরও ১৪ দিন বাড়ানো যাবে। প্রথম ব্যক্তি ব্যর্থ হলে অন্য কাউকে সুযোগ দেওয়া হবে এবং শেষ পর্যন্ত কোনো পক্ষই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হলে ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মতো পুনরায় নির্বাচনের মুখোমুখি হতে পারে দেশটি। দীর্ঘ ১৯ বছর ক্ষমতায় থাকা এবং বর্তমানে দুর্নীতির বিচার চলাকালীন নেতানিয়াহু নতুন সরকার গঠনের আলোচনা চলাকালে তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

/আশিক


হুথিদের হামলা থামাতে তেহরানকে ১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাব সৌদির?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৭ ২০:০৯:৫০
হুথিদের হামলা থামাতে তেহরানকে ১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাব সৌদির?
ছবি : সংগৃহীত

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে এবং সৌদি আরবের ভূখণ্ডে তাদের হামলা বন্ধ করার শর্তে ইরানকে ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ডলারের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার একটি প্রস্তাব দিয়েছে সৌদি আরব—এমন এক চাঞ্চল্যকর দাবি প্রকাশ করেছে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ‘ইসরাইল হায়োম’। উপসাগরীয় অঞ্চলের কূটনৈতিক সূত্রের বরা터 প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদির গুরুত্বপূর্ণ তেল ও অন্যান্য অবকাঠামো লক্ষ্য করে হুথিদের ধ্বংসাত্মক হামলা স্থায়ীভাবে বন্ধ করাই এই গোপন প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে যে, গত সপ্তাহে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমানের আকস্মিক তেহরান সফরের সময় এই চুক্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়, যেখানে আঞ্চলিক কূটনৈতিক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখার প্রস্তাব দেয় তেহরান। আশ্চর্যের বিষয় হলো, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী যে হারকিউলিস সামরিক পরিবহন বিমানে চড়ে তেহরানে অবতরণ করেছিলেন, সেই বিমানে করেই তিনি শারীরিকভাবে নগদ ১০০ কোটি ডলার সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বা স্বাধীন কোনো সূত্রের পক্ষ থেকে এই দাবির সত্যতা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান এবং মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা জোটের সদস্য দেশের প্রতিনিধিদলের এই তেহরান সফর মূলত চলমান আঞ্চলিক সংকটের উত্তেজনা প্রশমিত করার একটি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা। এর মূল লক্ষ্য পারস্পরিক সংলাপ ও রাজনৈতিক সমাধানের পথ উন্মুক্ত করা এবং কাতার ও পাকিস্তানের চলমান মধ্যস্থতার উদ্যোগগুলোকে জোরালো সমর্থন দেওয়া। মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের অংশ হিসেবে আয়োজিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিনও অংশ নিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।

যদিও মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির নিয়মানুযায়ী কোনো সদস্য দেশ আক্রান্ত হলে সম্মিলিত সামরিক সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে, তবুও পাকিস্তান ও তুরস্ক এখন পর্যন্ত সরাসরি কোনো যুদ্ধক্ষেত্রে সেনা মোতায়েন না করে নিজেদের ভূমিকা কেবল সামরিক উপদেষ্টা পাঠানোর মধ্যেই সীমিত রেখেছে। অন্যদিকে, এই বৈঠকে ইরানের প্রতিনিধিত্ব করেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই এবং প্রভাবশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদির বিমানবন্দর এবং তেল শোধনাগারসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হুথিদের ধারাবাহিক ও শক্তিশালী ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দেশটির অর্থনীতি ও নিরাপত্তায় ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারের ওপর ইরানের পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ চাপের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বৈশ্বিক তেল রপ্তানিও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। হুথিদের আকস্মিক তীব্র হামলার কারণে রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে অতীতে বেশ কিছুদিন সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হয়েছিল এবং সৌদির একটি বড় আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলনও স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছিল প্রশাসন। ‘ইসরাইল হায়োম’-এর সঙ্গে আলাপকালে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সৌদি কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, হুথিদের সঙ্গে বর্তমান এই সংঘাতের অন্যতম প্রধান কারণ হলো তিন বছর আগে করা পূর্বের চুক্তিগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়নে দুই পক্ষের ব্যর্থতা।

প্রস্তাবিত নতুন চুক্তি অনুযায়ী, সৌদির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি সমঝোতা বজায় রাখতে হুথিদের মোটা অঙ্কের সরাসরি আর্থিক সহায়তা দিতে রাজি হয়েছে রিয়াদ। এই বিশাল অর্থ মূলত হুথি-নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনি অঞ্চলের অবহেলিত বেসামরিক অবকাঠামো পুনর্গঠন এবং দীর্ঘবঞ্চনার শিকার সরকারি খাতের কর্মচারীদের বকেয়া বেতন পরিশোধের কাজে ব্যবহারের কথা রয়েছে।

এর বিনিময়ে হুথিদের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি কঠোরভাবে মেনে চলা এবং সৌদি আরবের অভ্যন্তরে সব ধরনের হামলা চিরতরে বন্ধ করার কড়া শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে হুথিরা প্রকাশ্যে অভিযোগ করে আসছে যে সৌদি আরব ইতিপূর্বে স্বাক্ষরিত বিভিন্ন চুক্তি থেকে নানা অজুহাতে সরে এসেছে, এবং তাদের এই অনড় অবস্থানের পেছনে তেহরানের প্রত্যক্ষ মদদ ও সহযোগিতা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। সর্বোপরি, নগদ ১০০ কোটি ডলার বিমানে বয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো চাঞ্চল্যকর দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব না হলেও, মধ্যপ্রাচ্যের জটিল ভূরাজনীতিতে এই খবরটি যে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

সূত্র: এনডিটিভি


ব্রাজিলে লুলার প্রত্যাবর্তন, লাতিন আমেরিকায় চাপে ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৭ ১৮:৪০:৫৪
ব্রাজিলে লুলার প্রত্যাবর্তন, লাতিন আমেরিকায় চাপে ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

ব্রাজিলের বামপন্থী প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার নির্বাচনী প্রত্যাবর্তন লাতিন আমেরিকায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রভাব বিস্তারের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। ওয়াশিংটনের চাপ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগের মুখে ব্রাজিলের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় লুলার অনড় অবস্থান তাকে দারুণ রাজনৈতিক সুবিধা এনে দিয়েছে। লাতিন আমেরিকার অন্যান্য দেশে ডানপন্থী ও ট্রাম্পঘনিষ্ঠ নেতাদের উত্থান ঘটলেও, ব্রাজিলে লুলার এই বিজয় যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার কৌশলকে বেশ জটিল করে তুলেছে।

নির্বাচনে জয়ের পর দেওয়া ভাষণে লুলা স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা দেন যে, ব্রাজিল কারও পেছনের উঠান হয়ে থাকা কোনোভাবেই মেনে নেবে না। তার এই বক্তব্যের মূল নিশানা ছিল ওয়াশিংটন। যদিও সাধারণত পররাষ্ট্রনীতি কোনো দেশের নির্বাচনী ফলাফলের প্রধান নির্ধারক হয় না, তবে ব্রাজিলের ক্ষেত্রে মার্কিন হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে লুলার কড়া অবস্থান ভোটারদের মনে তীব্র দেশপ্রেমের জোয়ার তৈরি করেছিল। সাবেক এই শ্রমিকনেতার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো যেকোনো ক্ষমতাধর ব্যক্তি বা শক্তির অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকা। যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে তার অবিচল ও দৃঢ় মনোভাব সেই পরিচিত রাজনৈতিক ভাবমূর্তির সঙ্গেই পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

আশ্চর্যজনকভাবে, লুলার এই দৃঢ়তা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মনেও একধরনের সম্মানবোধ তৈরি করেছে বলে প্রতীয়মান হয়। নির্বাচনের ফল নিয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে ট্রাম্প জানান যে তিনি লুলাকে পছন্দ করেন এবং তাদের মধ্যে সম্পর্ক বেশ ভালো। তবে একই সঙ্গে তিনি কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের না নেওয়ার দাবি করলেও নির্বাচনকে ‘ভয়াবহ’ ও ‘কারচুপিপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেন। ট্রাম্পের এমন দ্বৈত অবস্থান দুই নেতার মধ্যকার সম্পর্কের জটিলতাই ফুটিয়ে তোলে। ট্রাম্প সরাসরি লুলার প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারোর পক্ষে প্রকাশ্যে কোনো অবস্থান না নিলেও, ফ্লাভিওর বাবা তথা ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। এমনকি ফ্লাভিও নিজেও নির্বাচনের ফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান।

এর আগে প্রায় এক বছর আগে লুলার সঙ্গে তার বাসভবনে কথা বলার সময় দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছিল। সে সময় লুলা স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে ট্রাম্পের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই এবং নিজে থেকে ফোন করারও কোনো পরিকল্পনা তার নেই। এর অংশ হিসেবেই পূর্বে ব্রাজিলের ওপর কঠোর শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। মনে করা হয়, জইর বলসোনারোর বিরুদ্ধে চলা অভ্যুত্থানচেষ্টার মামলাটিকে ট্রাম্প ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ হিসেবে দেখার কারণে এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল। বিশ্বের অনেক মিত্রদেশ ট্রাম্পের সঙ্গে যেকোনো ধরনের বিরোধ এড়িয়ে চলার পথ বেছে নিলেও, লুলা এক্ষেত্রে সম্পূর্ণ পাল্টা অবস্থান গ্রহণ করেন। তিনি ব্রাজিলের সার্বভৌমত্বের পক্ষে জোরালো বক্তব্য দেন এবং বিচারিক প্রক্রিয়ায় মার্কিন অযাচিত হস্তক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেন। প্রচারণায় তাকে ‘ব্রাজিল ব্রাজিলীয়দের’—এমন বার্তা লেখা বিশেষ নীল টুপি পরে অংশ নিতে দেখা যায়, যা তার জনসমর্থন আরও বাড়িয়ে দেয়।

শুল্ক আরোপের পক্ষে তদবির চালিয়ে যাওয়া বলসোনারো পরিবারকে দেশপ্রেমহীন বলেও অভিযুক্ত করেন লুলা। দেশপ্রেমের বিষয়ে সাধারণত নিজেদের শক্ত অবস্থান দাবি করে আসা ব্রাজিলের ডানপন্থী শিবিরের জন্য এটি রাজনৈতিকভাবে বেশ অস্বস্তিকর এক পরিস্থিতি তৈরি করে। এমনকি ব্রাজিলের কৃষি খাতের প্রভাবশালী কিছু ব্যবসায়ী গোষ্ঠীও, যারা মূলত বলসোনারোর সমর্থক এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, লুলার বক্তব্যের যৌক্তিকতা স্বীকার করতে বাধ্য হন। একপর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক কমিয়ে কিছুটা পিছু হটলেও পরবর্তীতে তা আবার বাড়িয়ে দেওয়া হয়। তবে এসবকিছুর মাঝেই দুই দেশের হিমশীতল সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করে। জাতিসংঘে দুই নেতার সাক্ষাতের পর হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকটিকে ট্রাম্প ‘খুব ভালো’ এবং লুলা ‘খুব সন্তুষ্ট’ বলে অভিহিত করেন। এই ঘটনাগুলো থেকে স্পষ্ট হয় যে, যেকোনো আপসহীন ও দৃঢ়চেতা নেতার প্রতি ট্রাম্পের মনে একপ্রকার প্রচ্ছন্ন শ্রদ্ধা কাজ করে।

তাহলে লুলার এই জয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অসন্তুষ্ট হওয়ার আসল কারণ কী? সাম্প্রতিক সময়ে লাতিন আমেরিকার রাজনৈতিক মানচিত্রে ডানপন্থী শক্তির প্রভাব লক্ষণীয়ভাবে বেড়েছে। ইকুয়েডর, চিলি, কলম্বিয়া, আর্জেন্টিনা ও পেরুর মতো দেশগুলোতে ট্রাম্পের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ একাধিক নেতা রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছেন। এই মিত্রদের হাতিয়ার বানিয়ে পশ্চিম গোলার্ধে নিজস্ব আধিপত্য পাকাপোক্ত করতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র, যা ট্রাম্প প্রশাসন ‘ডনরো ডকট্রিন’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

লাতিন আমেরিকাবিষয়ক গবেষক ক্রিস্টোফার সাবাতিনির মতে, প্রথম দফার নির্বাচনে ফ্লাভিও বলসোনারো কিছুটা এগিয়ে যাওয়ার পর ট্রাম্প হয়তো ভেবেছিলেন ব্রাজিল হতে চলেছে তাদের জন্য সবচেয়ে বড় পুরস্কার। লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে ব্রাজিল যদি ট্রাম্পের ‘শিল্ড অব আমেরিকাস’ জোটে যোগ দিয়ে মাদক পাচারবিরোধী উদ্যোগে অংশ নিত, তবে তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় জয় হতো। পাশাপাশি, চীনের পরেই বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরল মৃত্তিকা খনিজের মজুত থাকা ব্রাজিলে অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রবেশাধিকার পাওয়ারও জোরালো মার্কিন স্বার্থ ছিল। লুলার জয়ে সেই সুদূরপ্রসারি পরিকল্পনা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ফলে আগামী চার বছরের মেয়াদে ব্রাজিলের সঙ্গে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নতুন করে ছক কষতে বাধ্য হচ্ছে ওয়াশিংটন।

সম্পর্কের কিছুটা উন্নতি সত্ত্বেও দুই দেশের মধ্যে বিরোধ জিইয়ে রাখার মতো বেশ কিছু অমীমাংসিত ক্ষেত্র রয়ে গেছে। চলতি বছরের শুরুতে ব্রাজিল অভিযোগ করে যে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির নির্বাচনী ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এই ঘটনায় সফরে আসতে চাওয়া মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দুই কর্মকর্তাকে ভিসা দিতে অস্বীকার করে ব্রাজিল, যার জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও তাদের রাষ্ট্রদূতের ভিসা বাতিল করে। অবশ্য ওয়াশিংটন ব্রাজিলের এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। ট্রাম্প যদি ভবিষ্যতেও ব্রাজিলের নির্বাচনকে বারবার ‘কারচুপিপূর্ণ’ বলে আখ্যায়িত করতে থাকেন, তবে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া, লাতিন আমেরিকায় যেকোনো ধরনের মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের তীব্র বিরোধী লুলা।

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার অপচেষ্টা কিংবা মাদক পাচারের অভিযোগে সন্দেহভাজন নৌযানে বোমা হামলা চালানোর মতো মার্কিন পদক্ষেপগুলোর কঠোর সমালোচনা করেছেন তিনি। ফ্লাভিও বলসোনারোর তদবিরের সূত্রে যুক্তরাষ্ট্র যখন ব্রাজিলের দুটি প্রধান অপরাধী চক্রকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে, তখনও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন লুলা। তার জোরালো আশঙ্কা ছিল যে এ ধরনের একতরফা পদক্ষেপ ব্রাজিলের সার্বিক সার্বভৌমত্বের জন্য বড় ধরনের হুমকি বয়ে আনতে পারে। লাতিন আমেরিকার বামপন্থী রাজনীতির কাছে এই বিষয়গুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল, কারণ গত শতাব্দীর এই অঞ্চলে সংঘটিত একাধিক নৃশংস সামরিক স্বৈরশাসনের পেছনে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতার কালো ইতিহাস রয়েছে।

প্রযুক্তি ও ডিজিটাল অর্থনীতির উদীয়মান খাতগুলোও এখন যুক্তরাষ্ট্র-ব্রাজিল সম্পর্কের নতুন বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। লুলার নির্বাচনী প্রচারশিবির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলেছিল যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জায়ান্ট মেটা ফ্লাভিও বলসোনারোর পক্ষে প্রকাশ্য পক্ষপাতিত্ব করছে। মেটা এই অভিযোগ অস্বীকার করলেও স্বীকার করে যে কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণের কিছু প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে লুলার পক্ষের কয়েকটি পোস্ট ভুলবশত মুছে ফেলা হয়েছিল বা সেগুলোর প্রচার সীমিত করা হয়েছিল।

এর কড়া জবাব হিসেবে লুলার সমর্থকেরা অ্যালগরিদমের সমস্ত প্রভাব পাশ কাটিয়ে তাদের মূল বার্তা ছড়িয়ে দিতে প্রায় এক কোটি সদস্যের বিশাল সব হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ব্যবহার করেন। অন্যদিকে, ব্রাজিলের অত্যন্ত সফল তাৎক্ষণিক অর্থ লেনদেনব্যবস্থা ‘পিক্স’ নিয়েও ট্রাম্প প্রশাসনের গভীর অসন্তোষ রয়েছে। দেশটির অর্থনীতিতে বিপ্লব ঘটানো এই ডিজিটাল ব্যবস্থা অত্যন্ত দ্রুত ও সহজে গ্রাহকদের অর্থ লেনদেনের সুযোগ করে দিচ্ছে। তবে ওয়াশিংটনের ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গিতে, পিক্সের ক্রমবর্ধমান বিস্তার ভিসা ও মাস্টারকার্ডের মতো বড় বড় মার্কিন পেমেন্ট প্রতিষ্ঠানের একচ্ছত্র ব্যবসার পথে তীব্র প্রতিযোগিতামূলক চাপ সৃষ্টি করছে।

নির্বাচনী প্রচারের উত্তাপের সময় দুই পক্ষের রাজনৈতিক বিভাজন ছিল অত্যন্ত প্রকাশ্য। বলসোনারোর বিভিন্ন নির্বাচনী সমাবেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা প্রকাশ্যে ওড়াতে দেখা গেছে। এমনকি একটি সমাবেশে ‘ট্রাম্প, ব্রাজিলে পারমাণবিক হামলা চালাও’ লেখা একটি অবাস্তব বেলুন পর্যন্ত প্রদর্শিত হয়েছিল। এর বিপরীতে লুলা ও তার অনুসারীরা ভোটারদের সতর্ক করে বলেছিলেন যে ফ্লাভিও বলসোনারো দেশের নিজস্ব স্বার্থের চেয়ে মার্কিন স্বার্থকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। তবে এত কিছুর পরও দুই দেশের মধ্যকার বিশাল বাণিজ্যিক সম্পর্কের গুরুত্বকে কোনোভাবেই খাটো করে দেখার উপায় নেই। চীনের পরেই যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ব্রাজিলের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার।

ফলে রাজনৈতিক নানা মতপার্থক্য সত্ত্বেও দুই দেশের অর্থনৈতিক পারস্পরিক নির্ভরশীলতা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। আপাতত ট্রাম্প ও লুলার মধ্যে কোনো রকমে কাজ চালিয়ে নেওয়ার মতো সম্পর্ক বজায় থাকলেও তা কত দীর্ঘস্থায়ী হবে, তা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মার্কিন প্রশাসন কতটা হস্তক্ষেপের চেষ্টা চালায় এবং তার জবাবে লুলা কতটা আপসহীন ও দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেন তার ওপর। সব মিলিয়ে, ব্রাজিলে লুলার এই প্রত্যাবর্তন কেবল দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কোনো সাধারণ ঘটনা নয়; বরং এটি লাতিন আমেরিকায় মার্কিন প্রভাব বিস্তারের উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার চিরন্তন আকাঙ্ক্ষার মধ্যকার এক দীর্ঘস্থায়ী টানাপোড়েনকে বিশ্ববাসীর সামনে অত্যন্ত স্পষ্ট করে তুলেছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: