'এ বছরই দেশে ফিরব' এনডিটিভি সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনার বিস্ফোরক ঘোষণা

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৮ ১৮:৩৩:৩০
'এ বছরই দেশে ফিরব' এনডিটিভি সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনার বিস্ফোরক ঘোষণা
ছবি : সংগৃহীত

দুই বছরের দীর্ঘ প্রবাসজীবন এবং দেশে রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হয়েও রাজনৈতিক পুনরুত্থানের ব্যাপারে অনড় অবস্থান ব্যক্ত করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম ‘এনডিটিভি’-কে দেওয়া এক বিশেষ ও বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন, “আমি সব বাধা ও ষড়যন্ত্র অতিক্রম করে এ বছরই দেশে ফিরব।” ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর তাঁর বিরুদ্ধে হওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়কে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ আখ্যা দিয়ে তিনি বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে তীব্রভাবে আক্রমণ করেন। দেশজুড়ে নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করে আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের প্রেক্ষাপটে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে দলটির সাংগঠনিক শক্তি, দেশের বর্তমান অর্থনীতি ও সংখ্যালঘু পরিস্থিতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন তিনি।

সাক্ষাৎকারটির মূল প্রশ্নোত্তরগুলো নিচে তুলে ধরা হলো

প্রশ্ন: আপনার বিরুদ্ধে দেশে মৃত্যুদণ্ডের রায় রয়েছে এবং দল হিসেবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমও নিষিদ্ধ। এই পরিস্থিতিতে এ বছরই আপনার দেশে ফেরার ঘোষণা কতটা বাস্তবসম্মত?

শেখ হাসিনা: আমার দেশে ফেরা কোনো ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা নয়; এটি মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, আইনের শাসন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনরুদ্ধারের লড়াই। আমার বিরুদ্ধে যে রায় দেওয়া হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অবৈধ, অসাংবিধানিক ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফসল। আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করতেই বিচারব্যবস্থাকে হাতিয়ার বানানো হয়েছে। অতীতেও এমন চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে, এবারও হবে।

আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না। ১৯৭৫ সালে আমি আমার পুরো পরিবারকে হারিয়েছি, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলাসহ বহুবার আমাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। জনগণের ভোটে পাঁচবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে আমি দেশের নজিরবিহীন উন্নয়ন করেছি। জীবনের পুরোটা সময়ই আমি দেশের মানুষের জন্য উৎসর্গ করেছি, তাই সব বাধা ভেঙে আমি এ বছরই আমার প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরব।

প্রশ্ন: বর্তমান পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পুনরুত্থান এবং পুনরায় জনসমর্থন ফিরে পাওয়া কতটা সম্ভব?

শেখ হাসিনা: আওয়ামী লীগ কোনো কাগুজে সংগঠন নয়; এটি বাংলার ইতিহাস ও মানুষের হৃদয়ের গভীরে প্রোথিত একটি শক্তি। ৭৭ বছরের পথচলায় দলটি বহুবার নিষিদ্ধ ও হামলার শিকার হলেও প্রতিবারই ফিনিক্স পাখির মতো ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অবৈধ অন্তর্বর্তী সরকারের পর এখন সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বিএনপি সরকারের অধীনে মানুষ বাস্তব চিত্র দেখছে। দেশে এখন গণতন্ত্র নেই, উগ্রবাদ ছড়াচ্ছে, অর্থনীতি পঙ্গু হচ্ছে এবং আমাদের নেতা-কর্মীদের ওপর রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন চলছে। মানুষ এখন বিগত সময়ের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের সাথে বর্তমানের তুলনা করতে পারছে। শাসকের এই নির্যাতনই আওয়ামী লীগকে প্রতিদিন আরও শক্তিশালী করছে। জনগণের শক্তিতেই দল আবার ঘুরে দাঁড়াবে।

প্রশ্ন: দল নিষিদ্ধ এবং নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে হাজারো মামলার মধ্যে এই পুনর্জাগরণ কীভাবে সম্ভব হবে?

শেখ হাসিনা: আওয়ামী লীগের পুনরুত্থান কোনো সরকারের দয়ার ওপর নির্ভর করে না, এটি জনগণের ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। তারা দল নিষিদ্ধ করতে পেরেছে, কার্যালয় বন্ধ করেছে, কিন্তু মানুষের মন থেকে আমাদের মুছে ফেলতে পারেনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চরম নির্যাতনের মধ্যেও দেশের প্রতিটি অঞ্চলে সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আওয়ামী লীগের সমর্থনে মিছিল করছে। আমাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি ঠেকাতে যেভাবে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ মোতায়েন করতে হয়েছে—তাতেই স্পষ্ট যে বর্তমান সরকার আওয়ামী লীগের শক্তিকে কতটা ভয় পায়। বাংলাদেশে প্রকৃত স্থিতিশীলতা ফেরাতে হলে আমাদের ওপর থেকে এই অবৈধ নিষেধাজ্ঞা দ্রুত তুলে নিতে হবে।

প্রশ্ন: আপনি বলেছেন, ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশ তার মৌলিক বৈশিষ্ট্য হারিয়ে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রের মডেলের দিকে যাচ্ছে। এর পেছনে আপনার যুক্তি কী?

শেখ হাসিনা: বাংলাদেশের ভিত্তি ছিল জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। ৫ আগস্টের পর আমরা দেখেছি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর সর্বাত্মক আঘাত। মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করা হয়েছে, ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে অপরাধ বানানো হয়েছে, বঙ্গবন্ধুর বাসভবন ও ভাস্কর্য ভাঙচুর করা হয়েছে।অথচ আমাদের সময়ে ২০২৩ সালে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল 7.25% এবং বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৫তম বৃহৎ অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছিল। আমরা মেগা প্রজেক্টের মাধ্যমে দেশকে উন্নয়নের বৈশ্বিক রোল মডেলে নিয়ে গিয়েছিলাম। এখন সেই উন্নয়নের ধারা ধ্বংস করে দেশে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগই জয়ী হবে জেনেই পরিকল্পিতভাবে দলটিকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা হয়েছে।

প্রশ্ন: আপনার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও দেশে ফেরার বিষয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে পর্দার আড়ালে কোনো গোপন সমঝোতা হয়েছে কি না?

শেখ হাসিনা: জনগণকে বিভ্রান্ত করতে ষড়যন্ত্রকারীরা এই অপপ্রচার চালাচ্ছে। বাংলাদেশের গণতন্ত্র, মানুষের ভোটাধিকার এবং আমাদের রাজনৈতিক অধিকার কোনো গোপন দরকষাকষির বিষয় নয়। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার কোনো দয়া নয়, এটি একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ন্যূনতম শর্ত। একইভাবে, রাজনৈতিক নির্দেশনায় পরিচালিত ট্রাইব্যুনাল বা সাজানো মামলার মাধ্যমে কখনো ন্যায়বিচার হয় না। আওয়ামী লীগ কারও রাজনৈতিক করুণা চায় না, আমরা সংবিধানপ্রদত্ত অধিকার এবং জনগণের সমর্থনের ভিত্তিতেই রাজনীতি করব। কোনো গোপন সমঝোতার প্রশ্নই ওঠে না।

প্রশ্ন: সম্প্রতি বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ও মন্দির ভাঙচুরের ঘটনাগুলোকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

শেখ হাসিনা: এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং গভীর উদ্বেগের। ৫ আগস্টের পর থেকে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান বা সুফি দরগা—কোনোটিই নিরাপদ নয়। সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে কথা বলার কারণে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস এখনও মিথ্যা মামলায় কারাগারে আছেন। ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে সব ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছিল। যারা আজ ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর আঘাত হানছে, তারা শুধু একটি সম্প্রদায়ের শত্রু নয়, তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার চেতনার শত্রু। কোনো নাগরিক যদি তার ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে ভয়ে থাকে, তবে বুঝতে হবে রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে। এই সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদ শুধু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয়, এটি পুরো দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার জন্যই বড় হুমকি।

প্রশ্ন: ভারতে আপনার বর্তমান নির্বাসিত জীবন ব্যক্তিগতভাবে কেমন কাটছে?

শেখ হাসিনা: ১৯৭৫ সালের পর আমার জীবনে ব্যক্তিগত বলে আলাদা কিছু নেই। দেশের এই চরম সংকটময় মুহূর্তে আমি মেঠো মানুষের পাশে থাকতে পারছি না, এটাই আমাকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয়। আমার মন সারাক্ষণ বাংলাদেশেই পড়ে থাকে। প্রতিদিন নেতা-কর্মীদের ওপর নির্মম নির্যাতনের খবর শোনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তবে দূর থেকেও আমি প্রতিদিন দেশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি, আন্তর্জাতিক মহলে মানবাধিকারের চিত্র তুলে ধরছি। আমার সংগ্রাম থামেনি। জনগণের শক্তিতে আমি বিশ্বাস করি এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এই লড়াইয়ে আমি মানুষের পাশেই থাকব।

/আশিক


রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের বৈঠকের বিষয়ে যা জানাল নয়াদিল্লি

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৮ ২১:০৬:০৯
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের বৈঠকের বিষয়ে যা জানাল নয়াদিল্লি
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশগ্রহণ করবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো নতুন তথ্য নেই বলে স্পষ্ট করেছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল। মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই অবস্থান তুলে ধরেন।

আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে এবারের ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার দিনক্ষণ নির্ধারিত রয়েছে। সম্মেলনের বর্ধিত আউটরিচ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে তারেক রহমান শেষ পর্যন্ত এই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে ভারত সফরে যাচ্ছেন কি না, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। এই সম্ভাব্য সফর প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জয়সোয়াল জানান, এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে জানানোর মতো নতুন কোনো অগ্রগতি বা হালনাগাদ তথ্য তাঁর হাতে নেই।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে দৃশ্যমান টানাপোড়েন তৈরি হয়। বর্তমানে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ে দফায় দফায় প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে এই প্রত্যর্পণ ইস্যুতে এখন পর্যন্ত ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

এদিকে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাম্প্রতিক এক বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়—সেখানে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর কিংবা শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট আলোচনা হয়েছে কি না। জবাবে জয়সোয়াল স্পষ্ট করেন, বৈঠকটি ছিল মূলত একটি আনুষ্ঠানিক সৌজন্য সাক্ষাৎ। সেখানে মূলত ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক সম্পর্কের নানাদিক, দুই ভূখণ্ডের মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্প্রীতি এবং ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে কীভাবে আরও ইতিবাচকভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়, সেসব বিষয় নিয়েই মতবিনিময় হয়েছে। এ ছাড়া টানা দুই বছর বন্ধ থাকার পর আগামী অক্টোবর মাস থেকে দুই দেশের মধ্যে যাত্রীবাহী আন্তদেশীয় ট্রেন চলাচল পুনরায় সচল হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মুখপাত্র জানান, এ সংক্রান্ত বিষয়েও তাঁর কাছে তাৎক্ষণিক কোনো হালনাগাদ তথ্য নেই।

/আশিক


শেখ হাসিনার বক্তব্য ইস্যুতে ‘নো কমেন্ট’, তারেক রহমানের সফর নিয়ে যা বলল ভারত

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৪ ২১:৩২:০০
শেখ হাসিনার বক্তব্য ইস্যুতে ‘নো কমেন্ট’, তারেক রহমানের সফর নিয়ে যা বলল ভারত
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি। ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে কূটনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ চলমান থাকলেও সফরের দিনক্ষণ বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিষয়ে অগ্রগতি হয়নি। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফর নিয়ে জানতে চাওয়া হলে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, এ বিষয়ে তাঁদের কাছে নতুন কোনো হালনাগাদ তথ্য নেই।

আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে আয়োজকের ভূমিকায় রয়েছে ভারত। সম্মেলনে বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশের দায়িত্বের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আউটরিচ সেশনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এছাড়া পৃথকভাবে তাঁকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণও দিয়ে রেখেছে ভারত সরকার। তবে ঢাকার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় আলোচনা ও কূটনৈতিক উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত হওয়ার পরেই কেবল এই শীর্ষ পর্যায়ের সফরের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের এই সন্ধিক্ষণে সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইস্যু। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করে একের পর এক গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার বিষয়ে ব্রিফিংয়ে ভারতের অবস্থান জানতে চাওয়া হলে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। ঢাকা শুরু থেকেই শেখ হাসিনাসহ পলাতক আসামিদের প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়ে আসছে এবং ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। বাণিজ্য, জ্বালানি, তিস্তাসহ অমীমাংসিত সীমান্ত ও নদীর হিস্যা এবং নিরাপত্তা সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ জড়িত থাকলেও, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ও পারস্পরিক আস্থার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত হওয়াকেই সফরের ক্ষেত্রে প্রাধান্য দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার।

সূত্র : এএনআই


‘চিকেনস নেক’-এ সমান্তরাল মহাসড়ক এনএইচ-৩২৭ বানাচ্ছে ভারত

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৪ ২০:১৮:৪৩
‘চিকেনস নেক’-এ সমান্তরাল মহাসড়ক এনএইচ-৩২৭ বানাচ্ছে ভারত
শিলিগুড়ি করিডোরের মানচিত্র। ছবি : এক্স হ্যান্ডেল

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেনস নেক’-এ নতুন চার লেনের মহাসড়ক নির্মাণে ২ হাজার ৭৭ কোটি ১৮ লাখ রুপি অনুমোদন দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। পশ্চিমবঙ্গের বাগডোগরা থেকে খড়িবাড়ি ও পানিটাঙ্কি হয়ে বিহারের গলগালিয়া পর্যন্ত ৩১ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি বিদ্যমান জাতীয় মহাসড়ক-২৭ (এনএইচ২৭)-এর সমান্তরালে নির্মিত হবে। নতুন এই মহাসড়কের নাম দেওয়া হয়েছে এনএইচ-৩২৭। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ভারতের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়কমন্ত্রী নিতিন গড়করি এ তথ্য জানান বলে এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছে দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া।

নেপাল, বাংলাদেশ, ভুটান ও চীনের সীমান্তবর্তী প্রায় ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সরু ভূখণ্ড ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে দেশটির মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগের একমাত্র স্থলপথ। ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আঞ্চলিক ভূরাজনীতি বিবেচনায় করিডোরটিতে প্রতিরক্ষা ও অবকাঠামোগত নিরাপত্তা জোরদারে তৎপরতা বাড়ায় নয়াদিল্লি। নতুন চার লেনের মহাসড়কটি এনএইচ২৭ থেকে ২০-৩০ কিলোমিটার দূরত্ব বজায় রেখে তৈরি করা হবে, যা মূল সড়কের ওপর কৌশলগত চাপ কমাবে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে বিকল্প সংযোগ হিসেবে ব্যবহৃত হবে। এছাড়া প্রকল্পে তিনটি বড় সেতু, একটি ওভারব্রিজ, সার্ভিস রোড এবং বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় পাঁচটি বিশেষ ‘হাতি চলাচলের আন্ডারপাস’ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এর পাশাপাশি শিলিগুড়ি অঞ্চলে দ্রুতগতির রেল করিডোর, ভূগর্ভস্থ রেলপথ ও চতুর্থ রেললাইনের কাজ চলছে। বাগডোগরা বিমানবন্দর সম্প্রসারণের পাশাপাশি রাফাল যুদ্ধবিমান মোতায়েন থাকা হাসিমারা বিমানঘাঁটি থেকেও বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা করছে ভারত। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন সড়কটি স্থানীয় যানজট হ্রাস ও কৃষি-বাণিজ্য প্রসারের পাশাপাশি সামরিক ও কৌশলগত দিক থেকেও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সংযোগ সুরক্ষায় বড় ভূমিকা পালন করবে।

সূত্র : দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া ও এনডিটিভি


দিল্লিতে রেড অ্যালার্ট জারি, ১৫টি বিমান ঘুরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৪ ১৯:১৯:১৮
দিল্লিতে রেড অ্যালার্ট জারি, ১৫টি বিমান ঘুরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ
ছবি : সংগৃহীত

টানা ভারী বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের কারণে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির স্বাভাবিক জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কায় দিল্লির বিভিন্ন অঞ্চলে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি)।

সোমবার (২৪ আগস্ট) ভোর থেকে শুরু হওয়া অবিরাম বৃষ্টিপাতে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও নিম্নাঞ্চলে তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে কর্মজীবী মানুষ ও সাধারণ পথচারীদের চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার বড় প্রভাব পড়েছে বিমান চলাচলেও। দৃশ্যমানতা হ্রাস এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরমুখী অন্তত ১৫টি উড়োজাহাজ জরুরি ভিত্তিতে জয়পুর, চণ্ডীগড় ও লখনৌ বিমানবন্দরে ঘুরিয়ে (ডাইভার্ট) দেওয়া হয়েছে।

জলাবদ্ধতার ফলে সঙ্গম বিহারের কাছে এমবি রোড, বিমানবন্দরমুখী প্রধান সড়ক এবং সাকেত কোর্ট সংলগ্ন এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে এবং যানবাহন চলাচল অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে।

আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ১৮ থেকে ২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যার মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে দিল্লির ছতরপুর অঞ্চলে। সারা দিন রাজধানীতে বজ্রসহ মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ এবং দমকা হাওয়া অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। দিল্লির পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী গুরুগ্রাম ও ফরিদাবাদ অঞ্চলের জন্যও ‘কমলা সতর্কতা’ (অরেঞ্জ অ্যালার্ট) জারি করা হয়েছে।

সূত্র: আনন্দবাজার


বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু-শিখ-জৈন শরণার্থীদের নাগরিকত্বের ঘোষণা ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২২ ২০:১৫:২৫
বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু-শিখ-জৈন শরণার্থীদের নাগরিকত্বের ঘোষণা ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
ছবি : সংগৃহীত

ধর্মীয় নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) আওতায় আবেদন করা শরণার্থীদের আগামী ছয় মাসের মধ্যেই ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রদান করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শুক্রবার (২১ আগস্ট) পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ির কাওয়াখালিতে আয়োজিত এক রাজনৈতিক সমাবেশে তিনি এ প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

সমাবেশে বক্তব্য প্রদানকালে অমিত শাহ স্পষ্ট করেন, বাংলাদেশ থেকে ভারতে চলে আসা হিন্দু, শিখ ও জৈন সম্প্রদায়ের শরণার্থীরা আগামী ছয় মাসের মধ্যে নাগরিকত্ব লাভ করবেন। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্থানীয় রাজ্য প্রশাসনের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ক্ষমতাও অর্পণ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সিএএ-এর অধীনে জমা পড়া যোগ্য আবেদনগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করে নাগরিকত্ব নিশ্চিত করতে পশ্চিমবঙ্গের আটটি জেলার জেলা সংগ্রাহকদের বিশেষ ক্ষমতা দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সাথে আবেদনকারী সকল শরণার্থীকে পূর্ণ মর্যাদার সঙ্গে নাগরিকত্ব প্রদানের নিশ্চয়তা দেন তিনি।

উল্লেখ্য, এর আগে গত বুধবার ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশের আটটি সীমান্তবর্তী রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জেলা সংগ্রাহকদের সিএএ সংক্রান্ত বিচারাধীন আবেদনগুলো সরাসরি যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তির কর্তৃত্ব প্রদান করে। পূর্বে এই আবেদনগুলো কেন্দ্রীয় সরকারের শুমারি বিভাগ, গোয়েন্দা সংস্থা (আইবি) ও ডাক বিভাগের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হতো।

নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতা প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস ও দলটির নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অতীতের অবস্থানের সমালোচনা করে অমিত শাহ বলেন, অতীতে যখন এই আইন আনা হয়েছিল, তখন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তা বাস্তবায়ন হতে না দেওয়ার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, বিরোধিতার কারণে তৃণমূল সরকারকে ক্ষমতা হারাতে হয়েছে এবং বর্তমানে রাজ্যে বিজেপি সরকার দায়িত্বে রয়েছে। এর পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে রাজ্য থেকে সব অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে বিতাড়িত করার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া


বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক ও জ্বালানি সরবরাহ পর্যালোচনার আশ্বাস ভারতের

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৮ ২১:৩৯:৪৫
বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক ও জ্বালানি সরবরাহ পর্যালোচনার আশ্বাস ভারতের
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক ও ইতিবাচক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, দ্বিপক্ষীয় সফর ছাড়াও ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে যোগ দিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে সম্ভাব্য এই সফর নিয়ে বর্তমানে নতুন কোনো হালনাগাদ তথ্য নেই এবং কোনো অগ্রগতি হলে তা পরবর্তীতে জানানো হবে।

একই সঙ্গে শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের দেওয়া চিঠি এবং অতিরিক্ত জ্বালানি চাহিদার আবেদন ভারত খতিয়ে দেখছে বলে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়। বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহের বিষয়ে মুখপাত্র উল্লেখ করেন, ডিজেল সরবরাহের বিদ্যমান চুক্তিটি অব্যাহত রয়েছে। তবে নতুন করে অতিরিক্ত সরবরাহের বিষয়টি ভারতের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ চাহিদা, তেল শোধন সক্ষমতা এবং সার্বিক প্রাপ্যতার ওপর ভিত্তি করে পর্যালোচনা করা হবে।

অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। এক বিবৃতিতে জানানো হয়, এই সফরের জন্য উপযুক্ত ও অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত হওয়া জরুরি, যা ভারতকে স্পষ্টভাবে অবহিত করা হয়েছে। গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার প্রকাশ্য বক্তব্যের কারণে সফরের অনুকূল পরিবেশ বিঘ্নিত হয়েছে বলে ঢাকা মনে করে। ফলে সফরের পরবর্তী পদক্ষেপে পারস্পরিক আস্থাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে বাংলাদেশ।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সার্বভৌম সমতা, জাতীয় মর্যাদা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনধিকার চর্চা না করা এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি মেনে সব রাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রাখবে সরকার। প্রয়োজনীয় পরিবেশ ও পারস্পরিক আস্থা নিশ্চিত হওয়ার পরই প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

/আশিক


বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনে নয়া দিল্লির ইতিবাচক পদক্ষেপ

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১১ ১৯:৫২:৫৫
বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনে নয়া দিল্লির ইতিবাচক পদক্ষেপ
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এই বৈঠকের পর ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারতে দ্বিপাক্ষিক সফরের পাশাপাশি আসন্ন ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) নয়া দিল্লিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

মুখপাত্র জানান, বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর পরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারতে দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য আমন্ত্রণ পাঠায় দিল্লি। এর পাশাপাশি, বাংলাদেশ বর্তমানে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোট বিমসটেকের সভাপতির দায়িত্বে থাকায় আগামী সেপ্টেম্বরে নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ‘আউটরিচ সেশন’-এ অংশগ্রহণের জন্য তাকে আলাদাভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

ঢাকায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও ভারতীয় হাইকমিশনারের মধ্যকার বৈঠককে গঠনমূলক ও ইতিবাচক অভিহিত করে জয়সওয়াল উল্লেখ করেন যে, আলোচনায় দুই দেশের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।

উল্লেখ্য, আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের আয়োজনে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ব্রিকসের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বিভিন্ন আঞ্চলিক জোটের প্রধানদের এই সম্মেলনে আমন্ত্রণের অংশ হিসেবেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিমসটেক সভাপতি হিসেবে তারেক রহমানকে এই আমন্ত্রণ জানান। গত ১৪ জুলাই ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এই সংক্রান্ত কূটনৈতিক পত্রটি হস্তান্তরিত হয়।

/আশিক


হালিশহরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িতে ইট-পাথর নিক্ষেপ, প্রাণরক্ষার দাবি

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৯ ১৮:২৫:০৯
হালিশহরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িতে ইট-পাথর নিক্ষেপ, প্রাণরক্ষার দাবি
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। রোববার হালিশহর এলাকায় বিক্ষোভের মুখে পড়লে তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা ইট ও পাথর ছোড়ে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এনডিটিভির বরাতে জানা যায়, পুলিশের হেফাজতে মারা যাওয়া দলীয় এক কর্মীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে হালিশহরে যাচ্ছিলেন তিনি।

হালিশহরে পৌঁছানোর পর বিক্ষোভকারীরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি ঘিরে ধরে এবং ‘চোর ভাগাও’ স্লোগান দিতে থাকে। এ সময় গাড়িতে কাদা ছোড়ার পাশাপাশি জুতা ও পানির বোতল নিক্ষেপ করা হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।

ঘটনার পর সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে মমতা বলেন, গাড়ির জানালা বন্ধ না থাকলে ইট ও পাথরের আঘাতে তাঁর মাথা ফেটে মারাত্মক অঘটন ঘটতে পারত। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, পুলিশের উপস্থিতিতেই বাইরে থেকে আসা কিছু সমাজবিরোধী উপাদান তাঁর গাড়িতে পাথর ছুড়েছে এবং পুলিশ তাঁকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে গাড়িতে থাকা তৃণমূলের লোকসভা সদস্য কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যসভার সদস্য দোলা সেনও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে, পুলিশের সহায়তায় বিরোধী দলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী পুরো বিষয়টি পরিচালনা করছেন।

তবে এই হামলার ঘটনায় দলীয় সম্পৃক্ততার অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এ ধরনের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, তাঁদের দল এই ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবে জড়িত নয়। একই সঙ্গে ঘটনাটির তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সূত্র: এনডিটিভি


ভারত সরকারের আলটিমেটামের মুখে নতিস্বীকার, ভুল স্বীকার করল মেটা

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৫ ২০:২৭:১৪
ভারত সরকারের আলটিমেটামের মুখে নতিস্বীকার, ভুল স্বীকার করল মেটা
ছবি : সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিশুদের প্রতি যৌন নিপীড়নমূলক কনটেন্ট প্রচার ও অন্যান্য পরিচালনাগত ত্রুটির দায়ে ভারত সরকারের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ। বুধবার ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি এক বিশেষ সূত্রের বরাত দিয়ে এ সংক্রান্ত একটি খবর প্রকাশ করে।

সংবাদটির তথ্যমতে, সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ভিডিও ফেসবুক থেকে সাময়িকভাবে মুছে দেয় মেটা। এই ঘটনার পরপরই মেটা কর্তৃপক্ষকে জরুরি তলব করে ভারত সরকার। সরকারের এই তলবের পেক্ষিতে মেটার একটি বৈশ্বিক প্রতিনিধি দল ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগ মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সাথে সাক্ষাৎ করে এবং তাঁর মাধ্যমে ভারত সরকারের কাছে জাকারবার্গের ক্ষমা প্রার্থনার বার্তাটি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করে।

সূত্র থেকে জানা গেছে, উক্ত বৈঠকে মেটা প্রতিনিধি দলকে ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি আইনের কিছু কঠোর দিক মনে করিয়ে দেওয়া হয়। ভারত সরকার স্পষ্ট করে জানায় যে, মেটা কেবল একটি 'মধ্যস্থতাকারী' (Intermediary) প্ল্যাটফর্ম হতে পারে না, কারণ অ্যালগরিদমের মাধ্যমে কোন কনটেন্ট কে দেখবে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিজেই নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। সেই কারণে তারা আইটি আইনের 'সেইফ হারবার' বা আইনি সুরক্ষার সুবিধার আওতাভুক্ত হবে না।

আলোচনাকালে মেটার কর্মকর্তারা স্বীকার করেন যে, বেশ কিছু বিতর্কিত ও নির্দিষ্ট কনটেন্টের প্রচার বাড়াতে প্রমোশন বা বুস্টিংয়ের কাজে বিপুল অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে। ভারতীয় কূটনৈতিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, বেআইনি ও অনাকাঙ্ক্ষিত কনটেন্ট প্রচারে নিজেদের গাফিলতি ও ভুল প্রকাশ্যে মেনে নিয়েছে মেটা।

তবে বিষয়টি এখানেই শেষ হচ্ছে না, মেটার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরবর্তীতে পুনরায় ভারত সরকারের পক্ষ থেকে তলব করা হবে বলে জানিয়েছে সূত্রের খবর। এর পূর্বে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভিডিও মুছে ফেলার ইস্যুতে জাকারবার্গকে তিন দিনের চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল ভারত সরকার; এবং ওই সময়ের মধ্যে ক্ষমা চাওয়া অথবা দায়ী কর্মীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছিল।

/আশিক

পাঠকের মতামত: