ট্রাম্পের সামনে ভালো বিকল্প নেই, বেছে নিতে হবে খারাপ বা আরও খারাপ পথ: আইআরজিসি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ৩১ ১৭:৫৪:৫৩
ট্রাম্পের সামনে ভালো বিকল্প নেই, বেছে নিতে হবে খারাপ বা আরও খারাপ পথ: আইআরজিসি
ছবি : সংগৃহীত

ইরানকে ঘিরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে ভালো কোনো বিকল্প বা রাস্তা খোলা নেই বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) রাজনৈতিকবিষয়ক উপপ্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াদোল্লাহ জাভানি। তাঁর ভাষায়, ট্রাম্পকে এখন হয় ‘খারাপ’ অথবা ‘আরও খারাপ’—এই দুটি প্রতিকূল পথের যেকোনো একটিকে বাধ্য হয়ে বেছে নিতে হবে। গতকাল শনিবার (৩০ মে) তেহরানে দেওয়া এক নীতিগত বক্তব্যে জাভানি এই মন্তব্য করেন।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাভানি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের পরিচালিত দীর্ঘ সংঘাতের ফলাফল এখন বিশ্ববাসীর সামনে পরিষ্কার। মার্কিন প্রশাসনকে হয় এখন ইরানি জাতির বৈধ অধিকার ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতাকে মেনে নিতে হবে, নয়তো মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে আত্মঘাতী আগ্রাসনের পথেই এগোতে হবে।

তিনি দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধাবস্থা তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মূলত এক বিশাল কৌশলগত ভুল করেছে। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা এবং তেহরানের বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে উৎখাত করা। তবে ইরানের সামরিক ও বেসামরিক প্রতিরোধের মুখে সেই লক্ষ্য অর্জনে তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন আইআরজিসি’র এই শীর্ষ কমান্ডার।

জাভানি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণভাবে ইরানের পক্ষে পরিবর্তিত হয়েছে। জলপথের দিক থেকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’র ওপর ইরান এখন অত্যন্ত প্রভাবশালী ও নিয়ন্ত্রণমূলক অবস্থানে রয়েছে। এই দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা নিরসনে ইরান ইতোমধ্যে নিজেদের যৌক্তিক শর্তাবলি বিশ্বমঞ্চে ঘোষণা করেছে এবং এখন পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার একক দায়িত্ব ও বল সম্পূর্ণ যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে।

ইরানের ভেতরের জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে আইআরজিসির এই নীতি নির্ধারক বলেন, দেশের সশস্ত্র বাহিনী এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে এ বিষয়ে একটি ইস্পাতকঠিন ঐকমত্য রয়েছে যে, যেকোনো মূল্যে ইরানি জনগণের জাতীয় অধিকার নিশ্চিত করতে হবে; তা আন্তর্জাতিক আলোচনার টেবিলেই হোক কিংবা অন্য কোনো উপায়ে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনকে চূড়ান্ত সতর্ক করে তিনি বলেন, প্রতিপক্ষ যদি আবারও কোনো ভুল হিসাব-নিকাশ করে, তাহলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এবার আরও বহুগুণ শক্তিশালী, নিখুঁত ও কঠোর জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে।

সূত্র : প্রেস টিভি


নেদারল্যান্ডসের পরীক্ষাকেন্দ্রে ধরা পড়ল ট্রাম্পের মুখের ছাপযুক্ত বিপজ্জনক বড়ি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৯ ২১:৪৮:০৪
নেদারল্যান্ডসের পরীক্ষাকেন্দ্রে ধরা পড়ল ট্রাম্পের মুখের ছাপযুক্ত বিপজ্জনক বড়ি
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুখের আদলে তৈরি বিশেষ ধরনের এক্সট্যাসি বড়ি নিয়ে তীব্র সতর্কতা জারি করেছে নেদারল্যান্ডসের মাদকাসক্তি ও মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক সংস্থা ট্রিমবোস ইনস্টিটিউট। বড়িগুলোতে ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান পিএমএমএ মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণে পাওয়ার পর এই জরুরি বার্তা দেওয়া হয়। শনিবার (২৯ আগস্ট) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, চলতি আগস্ট মাসে নেদারল্যান্ডসের কয়েকটি মাদক পরীক্ষাকেন্দ্রে ওই বড়িগুলো জমা পড়ার পর সেগুলোর রাসায়নিক পরীক্ষা চালানো হয়। পরীক্ষার ফলাফলে সেগুলোতে বিপজ্জনক মাত্রার পিএমএমএ উপাদানের উপস্থিতি ধরা পড়ে। এর প্রেক্ষিতে ট্রিমবোস ইনস্টিটিউট সাধারণ মানুষকে এগুলো গ্রহণ থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, এই বড়ি সেবনে শরীরের তাপমাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যেতে পারে, যা সরাসরি প্রাণহানির কারণ হতে পারে।

শনাক্ত হওয়া বড়িগুলোর নকশা সম্পর্কে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এর এক পাশে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুখাবয়ব খোদাই করা এবং অপর পাশে ‘ট্রাম্প’ ও ‘এনএল’ শব্দ দুটি মুদ্রিত রয়েছে। পিএমএমএ মূলত এমন এক ধরনের রাসায়নিক উপাদান, যা সাধারণ এক্সট্যাসির মূল উপাদান এমডিএমএর সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হলেও মানবদেহে এর প্রতিক্রিয়া শুরু হতে দীর্ঘ সময় নেয়। এছাড়া প্রত্যাশিত মাদক প্রভাব দেরিতে শুরু হওয়ায় ব্যবহারকারীরা বিভ্রান্ত হয়ে অতিরিক্ত মাত্রায় বড়ি সেবন করে ফেলতে পারেন, যা মারাত্মক ঝুঁকির জন্ম দেয়।

এই রাসায়নিকের প্রভাবে মানবদেহে বমি বমি ভাব, মাত্রাতিরিক্ত হৃদস্পন্দন এবং তীব্র খিঁচুনির মতো মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। বড়ি গ্রহণের কয়েক ঘণ্টা পরও এসব উপসর্গের প্রকাশ ঘটতে পারে বলে চিকিৎসকেরা সতর্ক করেছেন। তবে ট্রিমবোস ইনস্টিটিউটের মুখপাত্র অ্যানিক গ্রুটহুইস জানিয়েছেন, এই বড়ি সেবনের কারণে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর ঘটনা বা গুরুতর অসুস্থতার তথ্য রেকর্ড করা হয়নি।

নেদারল্যান্ডসের আইনে এক্সট্যাসি উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও ২০২৪ সালের একটি সরকারি প্রতিবেদনের তথ্যমতে, বিনোদনমূলক পার্টিগুলোতে মাদক হিসেবে এটির ব্যাপক ব্যবহার এখনো বজায় রয়েছে। উল্লেখ্য, ট্রাম্পের অবয়বে মাদক তৈরির ঘটনা এটিই প্রথম নয়; এর আগে ২০১৭ সালেও জার্মানির পুলিশ ট্রাম্পের মুখের আদলে তৈরি প্রায় ৫ হাজার কমলা রঙের এক্সট্যাসি বড়ি উদ্ধার করেছিল।

সূত্র: বিবিসি


ইরানের অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধের ঘোষণা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৯ ২১:৪৩:৫৯
ইরানের অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধের ঘোষণা
ছবি : সংগৃহীত

কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ বজায় রয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌ শাখা। হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রয়েছে—যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের এমন বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা ও প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এ বিবৃতি দেয় সংস্থাটি।

আইআরজিসির নৌবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিক ও উন্মুক্ত থাকা প্রসঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের দেওয়া বক্তব্য পুরোপুরি অসত্য। বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং নিজেদের নীতিগত ব্যর্থতা ঢাকতেই ওয়াশিংটন এ ধরনের ভিত্তিহীন দাবি প্রচার করছে।

ইরানি বাহিনী আরও স্পষ্ট করে জানিয়েছে, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক জলপথের ওপর দেশটির সামরিক যোদ্ধাদের শতভাগ পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। ফলে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পূর্বানুমতি বা সমন্বয় ছাড়া চলাচলকারী যেকোনো নৌযানের জন্য প্রণালিটি কার্যত পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে।

বিবৃতির শেষাংশে দেশটির নাগরিকদের আশ্বস্ত করে বলা হয়, মার্কিন বাহিনীর যেকোনো ধরনের আগ্রাসন ও অপতৎপরতা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত প্রণালিতে এই ধরনের কঠোর নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।

সূত্র: পার্সটুডে


নেপালে বন্যায় ৬৬৯ মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ এখনো ২ হাজারের বেশি মানুষ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৯ ২১:৩১:৪৫
নেপালে বন্যায় ৬৬৯ মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ এখনো ২ হাজারের বেশি মানুষ
ছবি : সংগৃহীত

নেপালে সাম্প্রতিক ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর এখনো ২ হাজার ৩৬২ জন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। অন্যদিকে চলমান উদ্ধার তৎপরতায় এ পর্যন্ত ৬৬৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) নেপাল পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানানো হয়।

দ্য কাঠমান্ডু পোস্টের এক প্রতিবেদনে নেপাল পুলিশের মুখপাত্র অভি নারায়ণ কাফালের বরাত দিয়ে জানানো হয়, নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে ১ হাজার ৮৬৩ জনই স্থানীয় নেপালি নাগরিক, যার মধ্যে পুরুষ ১ হাজার ৫৯১ জন এবং নারী ২৬৪ জন। এছাড়া নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন ৪৯৯ জন বিদেশি নাগরিক, যাঁদের মধ্যে ২২৩ জন পুরুষ ও ৩০০ জন নারী। উদ্ধারকৃত ৬৬৯টি মরদেহের মধ্যে ২৬৮ জন পুরুষ, ১৪৮ জন নারী, ২২ জন কিশোরী এবং ২০ জন কিশোরের মরদেহ রয়েছে। এর পাশাপাশি ২১১টি আংশিক মানব দেহাবশেষ উদ্ধার করেছে উদ্ধারকারী দল। শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া শেষে এ পর্যন্ত ২০টি মরদেহ তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের পর থেকে পরিচালিত অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৩০১ জন আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। উদ্ধার হওয়া এই আহতদের মধ্যে ১ হাজার ৫০৬ জন পুরুষ এবং ৭৯৫ জন নারী রয়েছেন।

প্রলয়ংকারী পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় ঘরবাড়ি হারিয়ে প্রায় ১ হাজার মানুষ বর্তমানে নুয়াকোট জেলার নয়টি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে দিন কাটাচ্ছেন। তবে ধাদিং জেলার আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা বাস্তুচ্যুত মানুষদের ইতিমধ্যে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। ভয়াবহ এই দুর্যোগে নিখোঁজ থাকা ব্যক্তিদের দ্রুত সন্ধান এবং নিহতদের শনাক্ত করতে দুর্গত অঞ্চলগুলোতে এখনো ব্যাপকভাবে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে।

সূত্র: দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট


মাত্র আধা ঘণ্টাতেই নিশ্চিহ্ন জনপদ, ভয়াবহ দুর্যোগের বিবরণ ত্রাণকর্মীদের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৯ ১৯:৪৫:১২
মাত্র আধা ঘণ্টাতেই নিশ্চিহ্ন জনপদ, ভয়াবহ দুর্যোগের বিবরণ ত্রাণকর্মীদের
ছবি : সংগৃহীত

নেপালে সাম্প্রতিক পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যার তীব্রতা কতটা প্রলয়ংকরী ছিল, তা উঠে এসেছে দুর্গত এলাকায় কর্মরত আন্তর্জাতিক ত্রাণকর্মীদের বর্ণনায়। দুর্যোগ মোকাবিলায় নিয়োজিত আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের রন্ধন বিভাগের পরিচালক ক্রিস মিলার জানিয়েছেন, বন্যার পানির তোড়ে কয়েকটি জনপদ মাত্র ২০ থেকে ৩০ মিনিটের ব্যবধানে সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে। কাঠমান্ডু থেকে সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন, এই দুর্যোগের সবচেয়ে মারাত্মক দিক ছিল এর অভাবনীয় গতি; যার ফলে নিমেষেই পুরো এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।

দুর্যোগকবলিত মানুষের মাঝে জরুরি খাদ্যসহায়তা পৌঁছে দিতে স্থানীয় রেস্তোরাঁগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেন। মিলার জানান, চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ সংস্থাটি বন্যার আঘাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া উত্তরাঞ্চলের দুর্গম এলাকাগুলোতে ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করার পরিকল্পনা নিয়েছে। সেখানে স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠনের সহায়তায় একাধিক অস্থায়ী ফিল্ড কিচেন চালু করা হবে, যেখান থেকে প্রস্তুত করা গরম খাবার সরাসরি ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

এদিকে প্রকৃতির এই আকস্মিক তাণ্ডবে নিখোঁজ হওয়া মানুষদের পরিবারের মাঝে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা ২৬ বছর বয়সী যন্ত্রপ্রকৌশলী প্রতীক গৌতম রসুয়া জেলার আপার ত্রিশূলী ১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত ছিলেন। তাঁর ভাই প্রভব গৌতম সিএনএনকে জানান, গত বুধবার সকাল ৯টা ৬ মিনিটে প্রতীক স্ন্যাপচ্যাটে একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও পোস্ট করেছিলেন। সেই ভিডিওতে প্রকল্পের ক্যাম্প প্রাঙ্গণে বিপৎকালীন সাইরেন বাজতে এবং আতঙ্কিত লোকজনকে জীবন বাঁচাতে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে ওপরের দিকে ছুটতে দেখা যায়।

ভিডিওটি প্রকাশের পর থেকেই প্রতীকের সঙ্গে পরিবারের সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দুর্যোগের পর ৭২ ঘণ্টারও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁর কোনো সন্ধান না মেলায় স্বজনদের উদ্বেগ চরমে পৌঁছেছে। ওই প্রকল্পের একই কক্ষে অবস্থান করা প্রতীকের আরেকজন সহকর্মীও নিখোঁজ রয়েছেন। পরিবার জানায়, ভিডিও ধারণের মুহূর্তে প্রতীক তাঁর অফিসের বাইরে অবস্থান করছিলেন এবং পরবর্তীতে ঠিক কী ঘটেছে তা এখনো স্পষ্ট নয়।

অন্য একটি ভিডিও চিত্রে প্রকল্প এলাকার দুটি ছোট গাড়ির পাশে এক কর্মকর্তাকে দেখা গেলেও, সেই গাড়িতে থাকা প্রকৌশলীদের উদ্ধার বা অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য মেলেনি। এর আগে এমন পরিস্থিতিতে সাইরেন বাজলে কর্মীরা সাধারণত উঁচু পাহাড়ি জায়গায় আশ্রয় নিতেন বলেও পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

বন্যার তীব্র পানির স্রোত এবং বহু এলাকায় সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় দুর্গত স্থানগুলোতে উদ্ধার তৎপরতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পাহাড়ি জনপদগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় উদ্ধারকারী দল ও ত্রাণসামগ্রী পাঠাতে মূলত হেলিকপ্টারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান ও খাদ্যহীন মানুষের কাছে জরুরি ত্রাণ পৌঁছানোর জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র: সিএনএন


নেপালে ১০ কর্মীকে উদ্ধারের পর নিখোঁজ বাকি ৯ জনের সন্ধানে দক্ষিণ কোরিয়া

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৯ ১৯:২৭:৫২
নেপালে ১০ কর্মীকে উদ্ধারের পর নিখোঁজ বাকি ৯ জনের সন্ধানে দক্ষিণ কোরিয়া
ছবি : সংগৃহীত

নেপালে আকস্মিক ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ে নিখোঁজ হওয়া নিজেদের ৯ নাগরিকের সন্ধানে বিশেষ উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। শনিবার (২৯ আগস্ট) দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, নিখোঁজ ব্যক্তিরা দক্ষিণ কোরীয় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের প্রতিষ্ঠান কোরিয়া সাউথ-ইস্ট পাওয়ার এবং দুসান এনারবিলিটির কর্মী।

নেপালের রাসুয়া অঞ্চলে একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে কর্মরত ছিলেন এই কর্মীরা। গত বুধবার সকালে সেখানে আকস্মিক বন্যা আঘাত হানলে তাঁদের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিখোঁজ কর্মীদের সম্ভাব্য অবস্থান শনাক্ত ও অনুসন্ধানের জন্য দুটি ভাড়া করা হেলিকপ্টার নিয়ে উদ্ধারকারী দল ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট দুর্গম এলাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কোরিয়া হেরাল্ড উল্লেখ করেছে।

এর আগে ওই অঞ্চলেরই অন্য একটি এলাকায় বিপদের মুখে আটকে পড়া দুসান এনারবিলিটির আরও ১০ কর্মীকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল।

কর্মীদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা সামনে আসার পর দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউন দ্রুত এক জরুরি বৈঠক ডাকেন। নেপালের স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় রেখে নিখোঁজদের দ্রুত সন্ধান চালানো এবং দেশটিতে অবস্থানরত অন্যান্য কোরীয় নাগরিকদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাঠমান্ডুর দক্ষিণ কোরীয় দূতাবাসকে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


নেপালে বিপর্যয়: শত শত মৃত্যু, নিখোঁজ ১৪০০

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৮ ১০:১৫:১৬
নেপালে বিপর্যয়: শত শত মৃত্যু, নিখোঁজ ১৪০০
ছবি : সংগৃহীত

হিমালয়ঘেঁষা নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের রূপ নিয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) শুরু হওয়া দুর্যোগের পর তৃতীয় দিনের মতো ধ্বংসস্তূপ, কাদা ও বিচ্ছিন্ন জনপদে নিখোঁজদের সন্ধান চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। শুক্রবার সকালের আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সর্বশেষ হিসাবে নেপালে মৃতের সংখ্যা ৪৬৯ জনে পৌঁছেছে এবং প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ এখনো নিখোঁজ। তবে উদ্ধার অভিযান দুর্গম ও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে অগ্রসর হওয়ার সঙ্গে প্রাণহানি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিপর্যয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নেপালের ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী নদী অববাহিকা এবং তিব্বত সীমান্তসংলগ্ন বিস্তীর্ণ পাহাড়ি অঞ্চল। প্রবল স্রোতের সঙ্গে নেমে আসা বিপুল পরিমাণ কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ মুহূর্তের মধ্যে বিভিন্ন বসতি, সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। অনেক জায়গায় যোগাযোগব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় উদ্ধারকারী দলগুলোকে হেলিকপ্টারসহ বিভিন্ন উপায়ে দুর্গত এলাকায় পৌঁছাতে হচ্ছে।

দুর্যোগটির সম্ভাব্য কারণ নিয়েও নতুন তথ্য সামনে এসেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ভূমিকম্প ও ভূমিধসের কথা বলা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার পর্যবেক্ষণের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে হিমবাহের একটি অংশ ধসে পড়ার সঙ্গে বিপর্যয়কর স্রোত সৃষ্টির যোগসূত্রের কথা উঠে এসেছে। রয়টার্সও জানিয়েছে, বিপুল বরফ, কাদা ও শিলার ধস পাহাড়ি নদীব্যবস্থায় নেমে এসে প্রবল বন্যা সৃষ্টি করেছে। তবে বিপর্যয়ের পূর্ণাঙ্গ ভূতাত্ত্বিক কারণ নির্ধারণে আরও বিশ্লেষণ প্রয়োজন।

নিখোঁজ ব্যক্তিদের বড় একটি অংশ বিদেশি পর্যটক ও তীর্থযাত্রী হওয়ায় এই দুর্যোগ আন্তর্জাতিক মাত্রাও পেয়েছে। কৈলাস-মানস সরোবরগামী পর্যটক ও তীর্থযাত্রীদের অনেকে দুর্যোগের সময় নেপাল-তিব্বত সীমান্ত অঞ্চলে অবস্থান করছিলেন। ভারতীয় নাগরিকদের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের নিখোঁজ থাকার খবর পাওয়া গেছে। যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় নিখোঁজের তালিকা যাচাই এবং বিদেশিদের অবস্থান নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে উঠেছে।

নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিস্থিতি সামাল দিতে একটি জরুরি প্রতিক্রিয়া দল গঠন করেছে। এই দল অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রমে সমন্বয়, নিখোঁজদের তথ্য যাচাই এবং দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত বিদেশি নাগরিকদের কনস্যুলার সহায়তার কাজ করছে। একই সঙ্গে প্রতিবেশী ভারতসহ বিভিন্ন দেশ নেপালের উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছে।

তবে চলমান উদ্ধার অভিযানের মধ্যেই নতুন বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। চীনের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নেপালের ছোচেন খোলা নদী ও চীনের পুরেপু সাংপো নদীর সংযোগস্থলের কাছে ভূমিধসের কারণে একটি প্রাকৃতিক ‘ব্যারিয়ার লেক’ বা বাধাগ্রস্ত জলাধার তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল নাগাদ সেখানে আনুমানিক ২০ লাখ ঘনমিটার পানি জমেছিল। আগামী তিন দিনে আরও প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি সেখানে প্রবেশ করতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

এই প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে গেলে জমে থাকা বিপুল পানি আকস্মিকভাবে নিম্নাঞ্চলের দিকে নেমে নতুন বন্যা সৃষ্টি করতে পারে। ঝুঁকির মাত্রা বিবেচনায় চীনা কর্তৃপক্ষ জরুরি বন্যা প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে এবং স্যাটেলাইট রিমোট সেন্সিংসহ বিভিন্ন প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। সম্ভাব্য প্লাবনপথের জনবসতি শনাক্ত এবং প্রয়োজন হলে আগাম সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

হিমালয় অঞ্চলের এই বিপর্যয় পাহাড়ি নদী অববাহিকায় হিমবাহ, ভূমিধস এবং প্রাকৃতিকভাবে তৈরি অস্থায়ী বাঁধের ঝুঁকিকে আবারও সামনে এনেছে। দুর্গম ভূপ্রকৃতি, ভেঙে পড়া যোগাযোগব্যবস্থা এবং নতুন করে বন্যার আশঙ্কার কারণে উদ্ধার অভিযান এখন সময়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়েছে। শত শত পরিবার এখনো নিখোঁজ স্বজনদের খবরের অপেক্ষায় রয়েছে, আর উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপ ও কাদার নিচে জীবিত কাউকে খুঁজে পাওয়ার আশায় অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

-রফিক


বাঁধ ভাঙার অভিযোগ নাকচ চীনের: নেপালকে হিমবাহ ধসের তথ্য দিল ইউএসজিএস

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৭ ২১:০৪:৪৭
বাঁধ ভাঙার অভিযোগ নাকচ চীনের: নেপালকে হিমবাহ ধসের তথ্য দিল ইউএসজিএস
ছবি : সংগৃহীত

ভয়াবহ বন্যা ও আকস্মিক জলস্রোতে বিপর্যস্ত নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩২ জনে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে দেশটির পুলিশ সর্বশেষ এই প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করে।

এদিকে দুর্যোগের মূল কারণ নিয়ে নেপাল ও চীনের মধ্যে শুরু হয়েছে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য, যার জেরে দুই প্রতিবেশী দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিপর্যয়ের শুরুতে নেপাল চীনা বাঁধ ভেঙে যাওয়ার অভিযোগ তুললেও বেইজিং তা পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। নেপালের দাবি ছিল, চীনের একটি বাঁধ ধসে পড়ায় এই আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয় এবং চীন এ সংক্রান্ত কোনো আগাম সতর্কবার্তা দেয়নি।

তবে এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে কাঠমান্ডুতে নিযুক্ত চীনা দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানায়, বিপর্যয়ের সূত্রপাত ঘটেছিল ২৬ আগস্ট সকালে সীমান্ত এলাকায় সংঘটিত ভূমিকম্প বা হিমবাহ ধস থেকে সৃষ্ট কাদাধসের কারণে। এর ফলেই গিরং-রাসুয়াগাধি সীমান্তে উভয় দেশের নাগরিকরা হতাহত ও নিখোঁজ হন। বেইজিং স্পষ্ট করেছে যে, একে অপরকে দোষারোপ না করে যৌথ সহযোগিতার মাধ্যমে জীবন রক্ষায় জোর দেওয়া উচিত।

অন্যদিকে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, সিসমিক তথ্য, ভূকম্পন তরঙ্গ ও স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণের পর তারা নিশ্চিত হয়েছে যে কাঠমান্ডুর উত্তরে সৃষ্ট কম্পনটি ভূমিকম্প নয়, বরং হিমবাহ ধসের ফল ছিল; যার সংশোধিত কম্পনের মাত্রা ছিল ৫.২। সংস্থাটির মতে, বিপুল পরিমাণ বরফ ও পাথর ধসে নিচে নেমে আসার ফলেই এমন প্রলয়ঙ্করী আকস্মিক জলস্রোতের সৃষ্টি হয়। জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক মূল্যায়নও ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, হিমবাহের এই ধসই উপত্যকার জনবসতিগুলো ভেসে যাওয়ার মূল কারণ।

/আশিক


নেপালে আরও একটি কৃত্রিম লেক ফেটে বন্যার শঙ্কা: চীনের সতর্কতা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৭ ২০:২৮:৩৫
নেপালে আরও একটি কৃত্রিম লেক ফেটে বন্যার শঙ্কা: চীনের সতর্কতা
ছবি : সংগৃহীত

একটি কৃত্রিম লেক ফেটে গিয়ে বুধবার (২৬ আগস্ট) নেপালে স্মরণকালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়, যাতে এখন পর্যন্ত সাড়ে তিন শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় দেড় হাজার মানুষ। এই প্রলয়ঙ্করী দুর্যোগের রেশ কাটতে না কাটতেই নেপালকে নতুন করে বড় ধরনের সতর্কবার্তা দিয়েছে চীন। বেইজিং জানিয়েছে, সীমান্তসংলগ্ন তিব্বত অঞ্চলে আরও একটি কৃত্রিম হ্রদ তৈরি হয়েছে, যা যেকোনো মুহূর্তে বিস্ফোরিত হয়ে নতুন করে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পারে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) চীনা টেলিভিশন চ্যানেল সিসিটিভির বরাতে দেশটির সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস এই তথ্য প্রকাশ করে। চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নবগঠিত কৃত্রিম লেকটি ইতোমধ্যেই অতিরিক্ত পানিতে পূর্ণ হয়ে গেছে। শনিবার সকাল পর্যন্ত সেখানে প্রায় ২০ লাখ (২ মিলিয়ন) কিউবিক মিটার পানি জমে ছিল এবং পরবর্তী দুই থেকে তিন দিনে আরও প্রায় ৩০ লাখ (৩ মিলিয়ন) কিউবিক মিটার পানি যুক্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে মাত্রাতিরিক্ত পানির চাপে বাঁধ বা লেকটির যেকোনো সময় ধসে পড়ার তীব্র ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তিব্বতের ছোচেন খোলা ও পুরেপু সাংপো নদীর মোহনার কাছাকাছি এলাকায় বিপজ্জনক এই কৃত্রিম জলাশয়টি সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করায় চীনা কর্তৃপক্ষ সার্বক্ষণিক লেকটির ওপর কড়া নজরদারি রাখছে এবং বাঁধ ভাঙলে সম্ভাব্য প্লাবনের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণসহ জরুরি উদ্ধার তৎপরতার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখছে। উল্লেখ্য, তিব্বত থেকে উৎপন্ন এই নদী দুটি একত্রিত হয়ে নেপালে প্রবেশ করেছে, যা সেখানে 'ভোটেকোশি' নদী নামে পরিচিত এবং এটি মূলত ত্রিশূলী নদীর প্রধান ঊর্ধ্ব উপনদী।

বুধবার মূলত এই ভোটেকোশি নদীর অববাহিকাতেই কৃত্রিম লেক বিস্ফোরণে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছিল, যার তোড়ে নিচু অঞ্চলের বহু জনপদ প্লাবিত হয়ে কাদা-পানিতে ঢেকে যায় এবং পথের সমস্ত অবকাঠামো তছনছ হয়ে পড়ে। আগের সেই আকস্মিক বিপর্যয়ের পর যখন জোর উদ্ধার অভিযান চলছে, ঠিক তখনই নতুন আরেকটি কৃত্রিম লেক ফেটে পড়ার এই পূর্বাভাস নেপালজুড়ে চরম আতঙ্ক তৈরি করেছে।

/আশিক


ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা পুনর্নির্মাণের প্রমাণ মেলেনি: আইএইএ প্রধান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৭ ১৮:২১:৫৪
ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা পুনর্নির্মাণের প্রমাণ মেলেনি: আইএইএ প্রধান
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ব্যাপকভাবে পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে—এমন কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি।

আর্জেন্টিনার সংবাদপত্র ক্লারিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধের কারণে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে, তবে মাঠপর্যায়ে পর্যবেক্ষণ ও সামগ্রিক যাচাই-বাছাই কার্যক্রম পুনরায় শুরু করতে সংস্থাটি প্রস্তুত রয়েছে।

রাফায়েল গ্রোসির ভাষ্যমতে, ইরানের কাছে থাকা প্রায় ৪৪০ কেজি বা ৯৭২ পাউন্ড উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত গত বছরের ‘১২ দিনের যুদ্ধ’-এর সময় যেখানে ছিল, মূলত সেখানেই রয়েছে।

সামরিক হামলার কারণে সংশ্লিষ্ট পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং ইরান হয়তো কিছু অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো মেরামতের প্রাথমিক কাজ শুরু করে থাকতে পারে—এমন সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে তেহরান এগুলো পুরোদমে পুনর্নির্মাণ করছে, এমন কোনো সুনির্দিষ্ট ও অকাট্য তথ্য-প্রমাণ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের হাতে নেই। ফলে পুরো বিষয়টি এখনো একটি বড় ধরনের অমীমাংসিত সংকট হিসেবে রয়ে গেছে।

উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জ্বালানি ও সামরিক সক্ষমতা—উভয় ক্ষেত্রের সঙ্গেই ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত হওয়ায় ইরানের এই মজুত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে গভীর উদ্বেগ রয়েছে।

আইএইএ প্রধানের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, হামলার পর ওই ইউরেনিয়াম অন্যত্র স্থানান্তর করার নিশ্চিত কোনো তথ্য না থাকলেও, এর বর্তমান অবস্থা ও অবস্থান সরাসরি সরেজমিনে যাচাইয়ের জন্য পরিদর্শকদের স্বাধীন প্রবেশাধিকার প্রয়োজন। যুদ্ধের কারণে সংস্থাগত নজরদারি ব্যাহত হওয়ায় মজুতটির প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে একধরনের আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে।

পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে সরাসরি সামরিক আঘাতের পর আইএইএর নিয়মিত পরিদর্শন প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে স্বাধীন তথ্য সরবরাহের পথকে জটিল করে তুলেছে। গ্রোসি জোর দিয়ে জানান, পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ইরানে আইএইএর প্রযুক্তিগত পর্যবেক্ষণ ও পরিদর্শন পুনরায় চালু করা অত্যন্ত জরুরি।

স্থাপনাগুলোর ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র নিরূপণ, কোনো পুনর্গঠন কার্যক্রম চলছে কি না তা নিশ্চিতকরণ এবং ইউরেনিয়াম মজুতের সঠিক হিসাব পাওয়ার জন্য সরাসরি পরিদর্শনের কোনো বিকল্প নেই বলেই আন্তর্জাতিক মহল মনে করছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

পাঠকের মতামত: