বিশ্বজুড়ে এখন ‘থ্যাংক ইউ পাকিস্তান’! পাল্টে গেল শাহবাজ সরকারের ভাবমূর্তি

পাকিস্তান ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১১ ১৯:২২:০০
বিশ্বজুড়ে এখন ‘থ্যাংক ইউ পাকিস্তান’! পাল্টে গেল শাহবাজ সরকারের ভাবমূর্তি
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ

বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তানের ভাবমূর্তি এখন এক নাটকীয় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশটির প্রতি বিশ্ববাসীর দীর্ঘদিনের নেতিবাচক ধারণা এখন ইতিবাচক মনোভাবে রূপ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ইপসোসের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত মাসের শেষ দিকেও পাকিস্তানের কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিশ্বের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষের মনে নেতিবাচক ধারণা ছিল। তবে গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে চিত্রটি সম্পূর্ণ বদলে গেছে।

বর্তমানে ৭০ শতাংশের বেশি মানুষ পাকিস্তানের বর্তমান কূটনৈতিক ভূমিকার বিষয়ে ইতিবাচক মত দিচ্ছেন। উল্লেখ্য, এর আগে পাকিস্তানের প্রতি সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক মনোভাব ছিল যুক্তরাষ্ট্র, ভারত এবং খোদ পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নাগরিকদের মধ্যে, যারা সরকারের বৈধতা ও রণকৌশল নিয়ে সন্দিহান ছিলেন।

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘থ্যাংক ইউ পাকিস্তান’ হ্যাশট্যাগটি ট্রেন্ডিংয়ে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল এই যুদ্ধবিরতির জন্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের সমন্বিত উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করছে।

এমনকি ভারতের অনেক সাধারণ নাগরিকও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে পাকিস্তানের এই কূটনৈতিক সাফল্যের প্রশংসা করছেন। বিশ্বমঞ্চে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের এই নতুন উত্থান দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র: জিও নিউজ


এবার সংঘাত হবে কলকাতা পর্যন্ত! ভারতকে চরম হুমকি পাকিস্তানের

পাকিস্তান ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৫ ১৩:১১:০৫
এবার সংঘাত হবে কলকাতা পর্যন্ত! ভারতকে চরম হুমকি পাকিস্তানের
ছবি : সংগৃহীত

চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। গতকাল শনিবার (৪ এপ্রিল ২০২৬) শিয়ালকোটে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দিল্লির যেকোনো উস্কানির জবাবে এবার সংঘাত কেবল সীমান্তেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজনে কলকাতাকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।

খাজা আসিফ দাবি করেন, ভারত নিজের নাগরিকদের বা হেফাজতে থাকা পাকিস্তানি কয়েদিদের হত্যা করে জঙ্গি হামলার নাটক সাজিয়ে পাকিস্তানকে দোষারোপ করার চেষ্টা করতে পারে। তবে এই অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, "ভারত যদি এবার কোনো অভিযান চালানোর চেষ্টা করে, তবে সংঘাত ২০০-২৫০ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; ইনশাআল্লাহ আমরা তা কলকাতা পর্যন্ত নিয়ে যাব।" তিনি ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সাম্প্রতিক বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে একে ভারতের 'হতাশার প্রতিফলন' হিসেবে বর্ণনা করেন।

খাজা আসিফের মতে, ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক মর্যাদা ভারতকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি আঞ্চলিক শান্তির কথা বললেও সতর্ক করে দিয়ে বলেন, দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে যুদ্ধ হলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ এবং যেকোনো হঠকারী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের জবাব হবে দ্রুত ও চূড়ান্ত।

সূত্র: দ্য ডন, ইন্ডিয়া টুডে


কাবুলের হাসপাতালে পাকিস্তানের বিমান হামলা! ৪০০ প্রাণহানির দাবি তালেবানের

পাকিস্তান ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৭ ০৯:৫০:১০
কাবুলের হাসপাতালে পাকিস্তানের বিমান হামলা! ৪০০ প্রাণহানির দাবি তালেবানের
ছবি : সংগৃহীত

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে একটি মাদকাসক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাকিস্তানের ভয়াবহ বিমান হামলায় কমপক্ষে ৪০০ জন নিহত এবং ২৫০ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে তালেবান সরকার। সোমবার (১৬ মার্চ) রাত ৯টার দিকে কাবুলের ‘ওমিদ’ নামক ২ হাজার শয্যাবিশিষ্ট একটি নিরাময় কেন্দ্র লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছেন তালেবানের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরত। তাঁর দাবি অনুযায়ী, হামলায় হাসপাতালটির বড় একটি অংশ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং উদ্ধারকাজ এখনও চলমান থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

তবে পাকিস্তান এই অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর’ বলে পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছে। পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দাবি, তারা সোমবার রাতে কাবুল ও নানগারহারে বেসামরিক স্থাপনায় নয়, বরং জঙ্গি আস্তানা ও গোলাবারুদের গুদাম লক্ষ্য করে সুনির্দিষ্ট সামরিক অভিযান চালিয়েছে। তাদের অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তানের নাগরিকদের ওপর হামলাকারী সন্ত্রাসীদের পরিকাঠামো ধ্বংস করা। কোনো হাসপাতাল বা বেসামরিক নাগরিকের ওপর হামলার বিষয়টি তারা সাফ অস্বীকার করেছে।

প্রতিবেশী এই দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত বিরোধ ও সন্ত্রাসবাদ নিয়ে গত মাস থেকেই উত্তেজনা তুঙ্গে ছিল। পাকিস্তান অভিযোগ করে আসছে যে, তালেবান সরকার তাদের দেশে হামলাকারী জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছে। সোমবারের এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও হামলা দুই দেশের মধ্যে নতুন করে যুদ্ধের শঙ্কা জাগিয়ে তুলেছে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় আফগানিস্তানে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ দূত রিচার্ড বেনেট গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে উভয় পক্ষকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

সূত্র : রয়টার্স


জায়নবাদ মানবতার জন্য হুমকি: ইরানের যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া দাবি পাকিস্তানের

পাকিস্তান ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৩ ১৬:৪৭:৪৬
জায়নবাদ মানবতার জন্য হুমকি: ইরানের যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া দাবি পাকিস্তানের
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এক বিস্ফোরক মন্তব্যে বলেছেন যে, জায়নবাদ বা উগ্র ইহুদি জাতীয়তাবাদ মুসলিম বিশ্বে অস্থিতিশীলতার মূল চালিকাশক্তি এবং এটি বর্তমান মানবতার জন্য এক বড় হুমকি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধকে পাকিস্তানের এই মন্ত্রী একটি ‘চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) শেয়ার করা একটি পোস্টে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ইরানের ওপর এই হামলা ও যুদ্ধ পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইসলামি বিশ্বের ওপর যত বিপর্যয় ও যুদ্ধ নেমে এসেছে, তার প্রতিটি ঘটনার পেছনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জায়নবাদী মতাদর্শের হাত রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। একই সঙ্গে তিনি যেকোনো বহিরাগত হুমকির বিরুদ্ধে ঢাল হিসেবে পাকিস্তানের পারমাণবিক সক্ষমতার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

খাজা আসিফ আরও দাবি করেন যে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও বর্তমান এই ভয়াবহ সংঘাত তাদের ওপর জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এদিকে গত শনিবার মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো পাকিস্তানজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ ও সংঘাত শুরু হয়েছে।

আল জাজিরার তথ্যমতে, রোববারের সেই বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে পাকিস্তানজুড়ে অন্তত ২০ জন নিহত এবং আরও কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। এর মধ্যে করাচিতে ১০ জন, স্কার্দুতে ৮ জন এবং রাজধানী ইসলামাবাদে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির বিশাল শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতৃত্বে এই বিক্ষোভ বড় আকার ধারণ করলে নিরাপত্তা বাহিনী টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।

পরবর্তীতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক চাঞ্চল্যকর তথ্যে নিশ্চিত করেছে যে, করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটে বিক্ষোভ চলাকালে মার্কিন মেরিন সেনারা সাধারণ মানুষের ওপর সরাসরি গুলি চালিয়েছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুইজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে মেরিন সেনাদের গুলি চালানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে নিহতরা সরাসরি মেরিন সেনাদের গুলিতেই মারা গেছেন কি না, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।

ওই সময় কনস্যুলেট রক্ষায় নিয়োজিত বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী বা স্থানীয় পুলিশও গুলি চালিয়েছিল কি না, সে বিষয়েও এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ২৫ কোটি জনসংখ্যার সুন্নি প্রধান দেশ পাকিস্তানে শিয়া সম্প্রদায়ের এই বিশাল জনরোষ এবং মার্কিন কনস্যুলেটে সরাসরি গুলির ঘটনাটি দেশটিতে এক চরম অস্থির ও থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।

/আশিক


মার্কিন সেনাদের সরাসরি গুলিতে করাচি রণক্ষেত্র

পাকিস্তান ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৩ ১১:৩৬:২৩
মার্কিন সেনাদের সরাসরি গুলিতে করাচি রণক্ষেত্র
করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটের সামনে বিক্ষোভের দৃশ্য। ছবি: ভিডিও থেকে

পাকিস্তানের করাচিতে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটে বিক্ষোভ প্রদর্শনকালে এক ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে মার্কিন মেরিন সেনারা সাধারণ মানুষের ওপর সরাসরি গুলি চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, করাচিতে পাকিস্তানিদের ওপর মার্কিন মেরিন সেনাদের এই গুলিবর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। মূলত গত শনিবার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই পাকিস্তানজুড়ে চরম উত্তেজনা ও বিক্ষোভ দানা বাঁধে। করাচির মার্কিন কনস্যুলেট এলাকায় কয়েকশ বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে তাণ্ডব চালালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হয়।

এই বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ১০ জন বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুইজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন যে, কনস্যুলেট ভবন ও এর কর্মীদের রক্ষায় সেখানে মোতায়েন থাকা মেরিন সেনারা গুলি চালিয়েছে। তবে মার্কিন মেরিন সেনাদের ছোড়া গুলিতেই কোনো প্রাণহানি ঘটেছে কি না, তা এখনো স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। এছাড়া ওই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে মিশন রক্ষায় নিয়োজিত বেসরকারি নিরাপত্তা রক্ষী বা স্থানীয় পুলিশ সদস্যরাই সরাসরি গুলি চালিয়েছে কি না, সে বিষয়েও রয়টার্স নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেনি। তবে ঘটনার ভয়াবহতা বিবেচনায় নিয়ে করাচি ও এর আশেপাশে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

এই নজিরবিহীন সহিংসতার পর পাকিস্তানে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস বড় ধরণের নিরাপত্তা শঙ্কা প্রকাশ করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং নাগরিকদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে পাকিস্তানে মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে তাদের সব ধরণের ভিসা কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। করাচির এই ঘটনায় পাকিস্তান সরকারের উচ্চ মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে এবং ওয়াশিংটন থেকেও পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। ইরানের নেতার মৃত্যুর প্রতিবাদে করাচির এই বিক্ষোভ এবং তাতে মেরিন সেনাদের গুলি চালানোর ঘটনাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

/আশিক


খামেনিকে হত্যার ঘটনায় পাকিস্তানে মার্কিন কনস্যুলেটে তাণ্ডব

পাকিস্তান ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০১ ১৬:০৬:৪৬
খামেনিকে হত্যার ঘটনায় পাকিস্তানে মার্কিন কনস্যুলেটে তাণ্ডব
মার্কিন কনস্যুলেটে শত শত পাকিস্তানি হামলা চালিয়েছে। ছবি সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে পাকিস্তানের বন্দর নগরী করাচি। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় খামেনির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে রোববার (১ মার্চ) করাচিতে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটে হামলা চালায় শত শত বিক্ষুব্ধ জনতা। বার্তা সংস্থা এপি ও এএফপি জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ভেঙে কনস্যুলেটের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশের সাথে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পুরো এলাকা। ইদি ফাউন্ডেশন রেসকিউ সার্ভিসের মুখপাত্র মুহাম্মদ আমিন নিশ্চিত করেছেন যে, এই সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ২০ জন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীরা পাথর নিক্ষেপ শুরু করলে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে একদল বিক্ষোভকারী কনস্যুলেটের গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং ভবনের জানালা ও দরজার কাচ ভাঙচুর করে। এমনকি ভবনের কিছু অংশে আগুন লাগিয়ে দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। খামেনি হত্যার পর মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে পাকিস্তানেই প্রথম এমন রক্তক্ষয়ী প্রতিবাদ দেখা গেল, যা বিশ্বজুড়ে মার্কিন স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরণের উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এদিকে, ইরানের ‘চূড়ান্ত প্রতিশোধের’ হুমকির প্রেক্ষিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ আরও একটি বিধ্বংসী পোস্ট দিয়েছেন। ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে লিখেছেন, ইরান আজ প্রচণ্ড আঘাত হানার যে পরিকল্পনা করেছে, তা তাদের না করাই ভালো। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি তারা হামলা করে, তবে আমরা তাদের এমন এক শক্তি দিয়ে আঘাত করব যা আগে কখনো দেখা যায়নি!” করাচির এই সহিংসতা আর ট্রাম্পের এই কড়া বার্তার পর পুরো বিশ্ব এখন এক ভয়াবহ সামরিক সংঘাতের আশঙ্কায় দিন গুনছে।

/আশিক


১৮ বছর পর ফিরে আসা উৎসবে রক্তের দাগ: লাহোরে প্রাণ হারাল ১৭ জন

পাকিস্তান ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৫ ১৯:৩৩:৫৮
১৮ বছর পর ফিরে আসা উৎসবে রক্তের দাগ: লাহোরে প্রাণ হারাল ১৭ জন
ছবি : সংগৃহীত

পাকিস্তানের লাহোরে দীর্ঘ ১৮ বছর পর পুনরায় চালু হওয়া ঐতিহ্যবাহী ‘বসন্ত’ উৎসবে ১৭ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে বলে লাহোর হাই কোর্টকে (এলএইচসি) জানিয়েছে পাঞ্জাব প্রদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আজ বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

একজন আইনজীবীর দায়ের করা পিটিশনের প্রেক্ষিতে আদালত এই হতাহতের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তলব করেছিল। উল্লেখ্য যে এ বছর ৬ থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী এই উৎসব পালিত হয়। ২০০৭ সাল থেকে ধারালো সুতার কারণে প্রাণহানি ও আকাশমুখী গুলিবর্ষণের ঘটনায় এই উৎসব নিষিদ্ধ থাকলেও ২০২৫ সালের নতুন অধ্যাদেশের আওতায় পাঞ্জাব সরকার এবার নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছিল। তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর সরকারের বিশেষ জোর দেওয়া সত্ত্বেও উৎসব চলাকালে শতাধিক দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেছে।

মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে উৎসবের তিন দিনে মোট ১৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে যার মধ্যে তিনজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে, দুইজন গাছ থেকে পড়ে এবং বাকি ১২ জন ছাদ থেকে পড়ে মারা গেছেন। তবে আবেদনকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট আজহার সিদ্দিক জানিয়েছেন যে ঘুড়ির ধারালো সুতার আঘাতে কতজন আহত হয়েছেন সেই সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

যদিও পাঞ্জাব সরকার মেটাল বা রাসায়নিক প্রলেপযুক্ত সুতা নিষিদ্ধ করে শুধু সুতি মাঞ্জা ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুরো শহরকে তিনটি জোনে ভাগ করে নজরদারি করা হয়েছিল, তবুও দুর্ঘটনার হার নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। মজার ব্যাপার হলো উৎসব শেষে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ শরিফ একটি ‘নিরাপদ বসন্ত’ আয়োজনের জন্য কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন এবং দাবি করেছিলেন যে ঘুড়ির সুতার আঘাতে একজনেরও মৃত্যু হয়নি। আদালতের এই প্রতিবেদন সরকারের সেই দাবিকে এখন প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

/আশিক


৭ পাক সেনাকে আটক করে বিএলএ-র মৃত্যুদণ্ডের হুঁশিয়ারি

পাকিস্তান ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৭ ১১:২১:৪৭
৭ পাক সেনাকে আটক করে বিএলএ-র মৃত্যুদণ্ডের হুঁশিয়ারি
৭ পাকিস্তানি সেনা ‘কব্জায়’ আছে বলে বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দাবি যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ছবি: এনডিটিভি

বেলুচিস্তানের বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠী বালুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) দাবি করেছে যে, পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর সাতজন সদস্য বর্তমানে তাদের কব্জায় রয়েছে। আটক এই সেনাদের মুক্তির বিনিময়ে গোষ্ঠীটি পাকিস্তান সরকারকে সাত দিনের একটি সময়সীমা বা আলটিমেটাম বেঁধে দিয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

বিএলএ-র গণমাধ্যম শাখা ‘হাক্কাল’ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আগামী সাত দিনের মধ্যে যদি পাকিস্তান সরকার বন্দি বিনিময়ের বিষয়ে আলোচনায় না বসে, তবে আটককৃত সেনাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। আলটিমেটামের পাশাপাশি একটি ভিডিও বার্তাও প্রকাশ করেছে গোষ্ঠীটি, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে নির্ধারিত সময়ের আর মাত্র ছয় দিন বাকি আছে। তবে বিএলএ-র এই দাবির সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং পাকিস্তান সরকার বা দেশটির সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

বিচ্ছিন্নতাবাদী এই গোষ্ঠীটির দাবি অনুযায়ী, তাদের পরিচালিত ‘হেরফ অভিযানের’ দ্বিতীয় পর্যায়ে এই পাকিস্তানি সেনাদের আটক করা হয়। অভিযানের সময় তারা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মোট ১৭ জনকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল। তবে এর মধ্যে ১০ জন জাতিগতভাবে বালুচ এবং স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে যুক্ত থাকায় তাদের সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, স্থানীয় পরিস্থিতি এবং বালুচ জনগোষ্ঠীর স্বার্থ বিবেচনা করে ওই ১০ জনকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বর্তমানে বিএলএ-র হেফাজতে থাকা বাকি সাতজন সদস্য পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নিয়মিত ইউনিটের অন্তর্ভুক্ত বলে দাবি করা হয়েছে। বিএলএ-র ভাষ্যমতে, তাদের নিজস্ব ‘বালুচ ন্যাশনাল আদালতে’ এই সেনাদের বিচার সম্পন্ন হয়েছে। বিচার প্রক্রিয়ায় তাদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন, বলপূর্বক অন্তর্ধান বা গুম করার কাজে সহায়তা এবং বালুচ জনগোষ্ঠীর ওপর ‘গণহত্যা’ চালানোর মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। গোষ্ঠীটি আরও দাবি করেছে যে, বিচারে অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল এবং তারা তাদের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিচারে সাত সেনাই দোষী সাব্যস্ত হয়েছে এবং তাদের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়ার আগে তারা পাকিস্তানকে বন্দি বিনিময়ের একটি সুযোগ দিচ্ছে। বিএলএ-র প্রস্তাব অনুযায়ী, পাকিস্তান সরকার যদি তাদের হেফাজতে থাকা বালুচ বন্দিদের মুক্তি দেয়, তবে বিনিময়ে এই সাত সেনাকে ফেরত দেওয়া হতে পারে। এর আগেও বিভিন্ন সময় বিএলএ এ ধরনের প্রস্তাব দিলেও পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ কখনোই আলোচনায় বসেনি বলে দাবি করেছে গোষ্ঠীটি। তাদের অভিযোগ, পাকিস্তান সরকার বরাবরই তাদের নিজস্ব সেনাদের জীবনের নিরাপত্তার চেয়ে রাজনৈতিক অবস্থানকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে আসছে।

/আশিক


কারাগার থেকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে ইমরান খানকে

পাকিস্তান ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৫ ১১:৪৭:২২
কারাগার থেকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে ইমরান খানকে
ছবি : সংগৃহীত

পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) পিটিআই সমর্থকদের জোরালো দাবির মুখে পাকিস্তান সরকার এই ঘোষণা দেয়। এক্সপ্রেস ট্রিবিউন জানিয়েছে, ইমরান খান সম্প্রতি তাঁর দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার অভিযোগ তুলছিলেন, কিন্তু উপযুক্ত চিকিৎসা না পাওয়ায় তাঁর সমর্থকরা পার্লামেন্টের বাইরে বড় ধরনের অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লা তারার নিশ্চিত করেছেন যে, ইমরান খানের চোখের সমস্যার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল তাঁকে বিশেষায়িত হাসপাতালে পরীক্ষা করবেন। তাঁর চিকিৎসার সব আপডেট বিস্তারিতভাবে সুপ্রিম কোর্টেও জমা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। এদিকে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী তারিক ফজল চৌধুরী জানিয়েছেন, একজন কারাবন্দি হিসেবে ইমরান খানকে মানবাধিকার অনুযায়ী সকল প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা দেওয়া হবে এবং দ্রুতই তাঁকে কারাগার থেকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হবে।

/আশিক


পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর বড় আঘাত: ১২ শহর রণক্ষেত্র 

পাকিস্তান ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০১ ১১:২৯:২৭
পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর বড় আঘাত: ১২ শহর রণক্ষেত্র 
ছবি : সংগৃহীত

বেলুচিস্তানের রাজধানী কোয়েটাসহ অন্তত ১২টি শহরে নিষিদ্ধঘোষিত সশস্ত্র সংগঠন বেলুচ লিবারেশন আর্মির (বিএলএ) সিরিজ হামলায় পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত ৮০ জন সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহতের মধ্যে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা এবং সন্ত্রাসীবিরোধী বিশেষ দলের সদস্যরাও রয়েছেন বলে দাবি করেছে বিএলএ।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ হামলার তথ্য জানানো হয়। বিএলএ এই বিশাল অভিযানকে 'অপারেশন হেরোফ ফেজ টু' হিসেবে অভিহিত করেছে।

সংগঠনটির এক বিবৃতিতে জানানো হয়, তাদের যোদ্ধারা ১২ ঘণ্টাব্যাপী পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ও প্রশাসনিক স্থাপনাগুলোতে অনবরত হামলা চালিয়েছে। বিএলএ-র মুখপাত্র জিয়ান্দ বেলুচ জানিয়েছেন, কোয়েটা, গোয়াদার, লাসবেলা, তুরবাত, পাঞ্চগুর ও কালাতসহ প্রধান প্রধান শহরগুলোতে এই অভিযান চালানো হয়। হামলার ফলে বেশ কিছু এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর যাতায়াত সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং বিএলএ যোদ্ধারা গুরুত্বপূর্ণ ভবনগুলো দখলে নেওয়ার দাবি করে। এই অভিযানে বিএলএ-র সাতজন যোদ্ধা নিহত হয়েছে বলে সংগঠনটি স্বীকার করেছে।

তবে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মিডিয়া উইং বা আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এই হামলার ক্ষয়ক্ষতির ভিন্ন তথ্য দিয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, অভিযানে ৯২ জন সন্ত্রাসীকে হত্যা করা হয়েছে। পাশাপাশি পাকিস্তান সেনাবাহিনী স্বীকার করেছে যে, এই সংঘাতের ফলে অন্তত ১৮ জন বেসামরিক নাগরিক এবং ১৫ জন সেনা সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ এই হামলার জন্য ভারতকে দায়ী করে বলেছে, নিহতরা সবাই ‘ভারত সমর্থিত সন্ত্রাসী’ ছিল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে বেলুচিস্তানের বিভিন্ন স্থাপনায় আগুনের শিখা এবং গোলার শব্দ শোনা গেছে, যা এই ভয়াবহ সিরিজ হামলার দাবির সত্যতা নিশ্চিত করে। বিএলএ-র এই ‘ফেজ টু’ অপারেশনকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য একটি বড় ধরনের আঘাত হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

পাঠকের মতামত: