রামিসার মা-বাবার পাশে দাঁড়াতে আজ রাতেই পল্লবীর বাসায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী 

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২১ ২১:৫৩:১৮
রামিসার মা-বাবার পাশে দাঁড়াতে আজ রাতেই পল্লবীর বাসায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী 
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবীতে পাশবিক নির্যাতন ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার ৭ বছরের শিশু রামিসা আক্তারের শোকসন্তপ্ত মা-বাবার পাশে দাঁড়াতে এবং তাঁদের গভীর সমবেদনা জানাতে আজ রাতেই সরাসরি তাঁদের পল্লবীর বাসায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বিশ্বস্ত দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে ২০২৬) পূর্বনির্ধারিত মন্ত্রিসভার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষ করে রাত ৯টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী রামিসার পল্লবীর ভাড়া বাসায় পৌঁছাবেন।

সেখানে তিনি শোকে পাথর হয়ে যাওয়া শিশুটির মা-বাবাকে ব্যক্তিগতভাবে সান্ত্বনা দেবেন এবং এই বর্বরোচিত ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের দ্রুততম সময়ে দৃষ্টান্তমূলক বিচারপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করার বিষয়ে রাষ্ট্র ও সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ আশ্বস্ত করবেন।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে মিরপুর ১১ নম্বরের বি ব্লকের একটি বহুতল ফ্ল্যাট থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীর অবুঝ শিশু রামিসার ক্ষতবিক্ষত ও বীভৎস মরদেহ উদ্ধার করে পল্লবী থানা পুলিশ। ঘরের ভেতরের খাটের নিচ থেকে তার মস্তকবিহীন দেহ এবং পরবর্তীতে বাথরুমের ভেতর থেকে প্লাস্টিকের বস্তায় মোড়ানো খণ্ডিত মাথাটি উদ্ধার করা হয়। এই লোমহর্ষক ও পৈশাচিক ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পর পুলিশ ও ডিবির বিশেষ দল দ্রুততম সময়ে মেগা অভিযানে নেমে প্রথমে প্রধান আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করে এবং পরবর্তীতে একই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে মূল পলাতক ঘাতক ও পেশায় রিকশা মেকানিক সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। প্রাথমিক পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ ও নিবিড় তদন্তের পর, শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যার কথা পুরোপুরি স্বীকার করে ইতিমধ্যেই আদালতে ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধের লোমহর্ষক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে ঘাতক সোহেল রানা।

/আশিক


এক বছরেই সব স্থানীয় নির্বাচন, রক্তপাত বন্ধ করাই ইসির মূল চ্যালেঞ্জ: সিইসি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২১ ১৯:৪১:১৯
এক বছরেই সব স্থানীয় নির্বাচন, রক্তপাত বন্ধ করাই ইসির মূল চ্যালেঞ্জ: সিইসি
ছবি : সংগৃহীত

তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্রের ভিত মজবুত করতে আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৫০০টি উপজেলা, ৬১টি জেলা পরিষদ, ১৩টি সিটি করপোরেশন এবং ৩৩০টি পৌরসভাসহ সমস্ত স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের মেগা প্রস্তুতির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন নবনিযুক্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তবে এই বিশাল কর্মযজ্ঞের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের সামনে সবচেয়ে বড় অগ্নিপরীক্ষা হবে মাঠপর্যায়ের সহিংসতা ও প্রাণহানি রুখে দেওয়া।

সিইসির স্পষ্ট ভাষায়, “অতীতে স্থানীয় নির্বাচনে ব্যাপক সংঘর্ষ, শত শত মানুষের রক্তপাত ও খুনাখুনি বাংলাদেশের এক কলঙ্কজনক পুরোনো বাস্তবতা। তাই আসন্ন লোকাল গভর্নমেন্ট ইলেকশনে যেকোনো মূল্যে মারামারি ও রক্তপাত বন্ধ করাই এখন নির্বাচন কমিশনের এক নম্বর ও প্রধান চ্যালেঞ্জ।” আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে ২০২৬) রাজধানীর গুলশানের একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কঠোর বার্তা দেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পরবর্তী মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (ANFREL) এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন স্থানীয় নির্বাচনকে জাতীয় সংসদের সমমানের কঠোর ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে আয়োজন করার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, “গণতন্ত্র কেবল জাতীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, একে একদম তৃণমূলের সাধারণ মানুষের দোরগোড়া পর্যন্ত পৌঁছে দিতে হবে; কারণ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি জনগণকে সেবা দেয়, তাই তৃণমূলের গণতন্ত্র সুসংহত করা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”

নির্বাচনকে সম্পূর্ণ রক্তপাতহীন ও শান্তিপূর্ণ করতে রাজনৈতিক দলসহ সব অংশীজনকে সম্পৃক্ত করে কমিশন ব্যাপক সচেতনতামূলক সামাজিক কার্যক্রম চালাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে সিইসি দেশের বিগত ইউনিয়ন ও উপজেলা নির্বাচনের এক ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী পরিসংখ্যান ও চিত্র গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন। নির্বাচন কমিশনের অফিশিয়াল ডেটা অনুযায়ী, বিগত ২০১৬ সালের দলীয় প্রতীকের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সহিংসতায় রেকর্ড ২৩৬ জন এবং ২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন চলাকালীন দেশজুড়ে ১১৬ জন সাধারণ নাগরিক ও রাজনৈতিক কর্মী নিহত হয়েছিলেন।

বর্তমান নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকারের অধীনে এই বিপুল সংখ্যক স্থানীয় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা এবং মাঠের মাস্তানতন্ত্র দমন করা কমিশনের জন্য কঠিন হবে কি না—সাংবাদিকদের এমন এক তীক্ষ্ণ প্রশ্নের জবাবে সিইসি নাসির উদ্দিন বলেন, প্রশাসন ও সব রাজনৈতিক পক্ষের সম্মিলিত সহযোগিতা নিয়েই সহিংসতা প্রতিরোধে ইস্পাতকঠিন কাজ করবে নতুন কমিশন। তিনি আবারও দৃঢ় কণ্ঠে পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ভোটের মাঠে কোনো ধরনের ক্ষমতার দাপট বা প্রাণহানি কমিশন বরদাশত করবে না এবং এটিই তাঁদের মূল লক্ষ্য।

/আশিক


এক বছরেই সব স্থানীয় নির্বাচন, রক্তপাত বন্ধ করাই ইসির মূল চ্যালেঞ্জ: সিইসি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২১ ১৯:৪১:১৯
এক বছরেই সব স্থানীয় নির্বাচন, রক্তপাত বন্ধ করাই ইসির মূল চ্যালেঞ্জ: সিইসি
ছবি : সংগৃহীত

তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্রের ভিত মজবুত করতে আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৫০০টি উপজেলা, ৬১টি জেলা পরিষদ, ১৩টি সিটি করপোরেশন এবং ৩৩০টি পৌরসভাসহ সমস্ত স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের মেগা প্রস্তুতির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন নবনিযুক্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তবে এই বিশাল কর্মযজ্ঞের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের সামনে সবচেয়ে বড় অগ্নিপরীক্ষা হবে মাঠপর্যায়ের সহিংসতা ও প্রাণহানি রুখে দেওয়া।

সিইসির স্পষ্ট ভাষায়, “অতীতে স্থানীয় নির্বাচনে ব্যাপক সংঘর্ষ, শত শত মানুষের রক্তপাত ও খুনাখুনি বাংলাদেশের এক কলঙ্কজনক পুরোনো বাস্তবতা। তাই আসন্ন লোকাল গভর্নমেন্ট ইলেকশনে যেকোনো মূল্যে মারামারি ও রক্তপাত বন্ধ করাই এখন নির্বাচন কমিশনের এক নম্বর ও প্রধান চ্যালেঞ্জ।” আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে ২০২৬) রাজধানীর গুলশানের একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কঠোর বার্তা দেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পরবর্তী মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (ANFREL) এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন স্থানীয় নির্বাচনকে জাতীয় সংসদের সমমানের কঠোর ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে আয়োজন করার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, “গণতন্ত্র কেবল জাতীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, একে একদম তৃণমূলের সাধারণ মানুষের দোরগোড়া পর্যন্ত পৌঁছে দিতে হবে; কারণ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি জনগণকে সেবা দেয়, তাই তৃণমূলের গণতন্ত্র সুসংহত করা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”

নির্বাচনকে সম্পূর্ণ রক্তপাতহীন ও শান্তিপূর্ণ করতে রাজনৈতিক দলসহ সব অংশীজনকে সম্পৃক্ত করে কমিশন ব্যাপক সচেতনতামূলক সামাজিক কার্যক্রম চালাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে সিইসি দেশের বিগত ইউনিয়ন ও উপজেলা নির্বাচনের এক ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী পরিসংখ্যান ও চিত্র গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন। নির্বাচন কমিশনের অফিশিয়াল ডেটা অনুযায়ী, বিগত ২০১৬ সালের দলীয় প্রতীকের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সহিংসতায় রেকর্ড ২৩৬ জন এবং ২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন চলাকালীন দেশজুড়ে ১১৬ জন সাধারণ নাগরিক ও রাজনৈতিক কর্মী নিহত হয়েছিলেন।

বর্তমান নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকারের অধীনে এই বিপুল সংখ্যক স্থানীয় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা এবং মাঠের মাস্তানতন্ত্র দমন করা কমিশনের জন্য কঠিন হবে কি না—সাংবাদিকদের এমন এক তীক্ষ্ণ প্রশ্নের জবাবে সিইসি নাসির উদ্দিন বলেন, প্রশাসন ও সব রাজনৈতিক পক্ষের সম্মিলিত সহযোগিতা নিয়েই সহিংসতা প্রতিরোধে ইস্পাতকঠিন কাজ করবে নতুন কমিশন। তিনি আবারও দৃঢ় কণ্ঠে পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ভোটের মাঠে কোনো ধরনের ক্ষমতার দাপট বা প্রাণহানি কমিশন বরদাশত করবে না এবং এটিই তাঁদের মূল লক্ষ্য।

/আশিক


রামিসার খুনি ২৪ ঘণ্টাতেই গ্রেপ্তার, এবার গুরুত্ব পাচ্ছে তনু হত্যা মামলা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২১ ১৯:১৬:০১
রামিসার খুনি ২৪ ঘণ্টাতেই গ্রেপ্তার, এবার গুরুত্ব পাচ্ছে তনু হত্যা মামলা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণীর অবুঝ শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল ঘাতককে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই পৈশাচিক ঘটনার দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে নিখুঁত চার্জশিট (তদন্ত প্রতিবেদন) দাখিল করা হবে।

পাশাপাশি কুমিল্লা সেনানিবাসের তনু হত্যাকাণ্ডসহ অতীতে দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত থাকা বেশ কয়েকটি আলোচিত ও স্পর্শকাতর মেগা মামলাও বর্তমান সরকার নতুন তালিকাভুক্ত করে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পুনঃতদন্ত শুরু করেছে। আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেন।

দেশের সাম্প্রতিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পুলিশি অ্যাকশন নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বিএনপি রাষ্ট্রীয় দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর দেশে যতোগুলো এই ধরনের ঘৃণ্য ও অমানবিক অপরাধের ঘটনা ঘটেছে, তার একটিতেও পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করেনি কিংবা সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি—এমন একটা নজিরও কেউ দেখাতে পারবে না।”

পল্লবীর শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি পুলিশের দ্রুত সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরেন। দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ স্বীকার করেন যে, সাধারণ জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী শতভাগ শান্তি নিশ্চিত করতে যা যা করা প্রয়োজন, সরকার তা করার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, “আমরা পুলিশ প্রশাসনের ভেতরে ব্যাপক গুণগত সংস্কারের চেষ্টা করছি। এখনো অনেক কিছু করা বাকি আছে, সেটি আমি অকপটে মানি; তবে দেশবাসীকে মনে রাখতে হবে যে আমাদের এই নতুন সরকারের বয়স মাত্র তিন মাস।”

এদিকে এই ধরণের পৈশাচিক অপরাধ দমনে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল বা মৃত্যুদণ্ডের আইন কঠোর করার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এক ভিন্ন ও তাত্ত্বিক অবস্থান নেন। তিনি বলেন, কোনো অপরাধের ঘটনা ঘটলেই স্রেফ আবেগতাড়িত হয়ে তাড়াহুড়ো করে নতুন আইন তৈরি বা বিশেষ আদালত গঠন করা উচিত নয়; কারণ কঠোর আইন ঢালাওভাবে প্রয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক অপব্যবহারের একটা বড় ঝুঁকিও সমাজ ও রাষ্ট্রে থেকে যায়, যা বিবেচনা রাখা জরুরি।

অন্যদিকে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী সরকারের মাদরাসা নীতি এবং নাগরিকত্ব ইস্যুকে সম্পূর্ণ ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্তে যেকোনো ধরণের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, “আমরা সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক আইন মেনে ও অফিশিয়াল চ্যানেলে তাকে ফেরত চাই। ইতিমধ্যেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক প্রত্যার্পণ চুক্তি (Extradition Treaty) অনুসারে ভারতকে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করা হয়েছে। আমরা চাই তিনি দেশে ফিরে আদালতের মুখোমুখি হয়ে নিজের সমস্ত মামলার আইনি মোকাবিলা করুন।”

/আশিক


পরিস্থিতি এখন স্থিতিশীল, ধীরে ধীরে ব্যারাকে ফিরে যাচ্ছে সেনাবাহিনী: সেনাপ্রধান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২১ ১৮:৫৭:৪৩
পরিস্থিতি এখন স্থিতিশীল, ধীরে ধীরে ব্যারাকে ফিরে যাচ্ছে সেনাবাহিনী: সেনাপ্রধান
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ প্রায় ১৮ মাস যাবৎ দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে নিয়োজিত থাকার পর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্থিতিশীল হওয়ায় সেনা সদস্যরা ধীরে ধীরে ব্যারাকে ফিরে যাচ্ছেন এবং এখন থেকে তাঁদের মূল মনোযোগ হবে ক্যান্টনমেন্টে নিয়মিত পেশাদার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা। আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে ২০২৬) কুমিল্লা সেনানিবাসে আয়োজিত ‘সেনাবাহিনী ফায়ারিং প্রতিযোগিতা-২০২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেনাপ্রধান এই গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বার্তা দেন।

জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই থেকে দেশের এক চরম ক্রান্তিলগ্নে ও জনস্বার্থে সেনাবাহিনী মাঠে নেমে অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছে। দীর্ঘ সময় ফিল্ডে ডিউটি করার পরও সেনাসদস্যরা ফায়ারিংয়ে যে অভূতপূর্ব পেশাদার দক্ষতা ও পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমাদের প্রধান কাজ হচ্ছে ক্যান্টনমেন্টে ফিরে গিয়ে নিয়মিত কঠোর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা, সেনাবাহিনীকে যুদ্ধের জন্য সদা প্রস্তুত রাখা এবং বাহিনীর ম্যুরালিটি ও ডিসিপ্লিন কঠোরভাবে বজায় রাখা। সেই প্রক্রিয়া আমরা ইতিমধ্যেই শুরু করেছি।” তবে ব্যারাকে ফিরে গেলেও বেসামরিক সরকারের প্রয়োজনে যেকোনো সময় এবং যেকোনো ক্রান্তিলগ্নে রাষ্ট্রকে সহায়তার জন্য সেনাবাহিনী সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, গত ১৬ মে সদর দপ্তর ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় কুমিল্লা সেনানিবাসে এই ফায়ারিং প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছিল। এতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ফরমেশন, লজিস্টিকস এরিয়া, পাঁচটি স্বতন্ত্র ব্রিগেড এবং প্যারা কমান্ডো ব্রিগেডসহ দেশের মোট ১৭টি শক্তিশালী দল অংশ নেয়।

এবারের প্রতিযোগিতায় চূড়ান্ত শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে ১৭ পদাতিক ডিভিশন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব লাভ করে এবং প্যারা কমান্ডো ব্রিগেড রানারআপ হওয়ার কৃতিত্ব দেখায়। অনুষ্ঠান শেষে সেনাপ্রধান বিজয়ী ও রানারআপ দলের সদস্যদের হাতে অফিশিয়াল ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন। অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর মাস্টার জেনারেল অব দ্য অর্ডিন্যান্স (এমজিও), ৩৩ ও ১৭ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি এবং কুমিল্লা ও সিলেট এরিয়ার কমান্ডারসহ সেনাসদরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


সচিবালয়ে নতুন দুই মন্ত্রীর সাথে আমিরাতের রাষ্ট্রদূতের বৈঠক: বড় খবরের আভাস

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২১ ১৮:৩১:৪৩
সচিবালয়ে নতুন দুই মন্ত্রীর সাথে আমিরাতের রাষ্ট্রদূতের বৈঠক: বড় খবরের আভাস
ছবি : সংগৃহীত

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নবনির্মিত অত্যাধুনিক তৃতীয় টার্মিনালের (Third Terminal) বহুল আলোচিত গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং (Ground Handling) কার্যক্রম এককভাবে পরিচালনা করতে আনুষ্ঠানিকভাবে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE) ভিত্তিক বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ বিমানসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘ডিনাটা’ (dnata)।

আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে ২০২৬) সকালে সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আফরোজা খানম এবং একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠককালে এই প্রস্তাব দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলি আবদুল্লাহ আল আমৌদি।

সচিবালয়ের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরালো করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বিমান চলাচল (অ্যাভিয়েশন) ও পর্যটন খাতের সার্বিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

আলোচনার একপর্যায়ে ইউএই’র রাষ্ট্রদূত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের আন্তর্জাতিক টেন্ডার ও পরিচালন প্রক্রিয়ায় দুবাই ভিত্তিক জায়ান্ট প্রতিষ্ঠান ‘ডিনাটা’-এর সম্পৃক্ত হওয়ার প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারের নীতিগত টেবিল ও মন্ত্রীদের সামনে তুলে ধরেন।

রাষ্ট্রদূতের এই সরাসরি প্রস্তাবের জবাবে বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, তৃতীয় টার্মিনালটি পুরোদমে চালু করার সমস্ত প্রস্তুতিমূলক ও কারিগরি কার্যক্রম বর্তমানে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। টার্মিনালের সমস্ত অবকাঠামোগত ও পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার পরই মূলত সরকার আন্তর্জাতিক বিধিমালা মেনে এ বিষয়ে চূড়ান্ত প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আগ্রহী পক্ষগুলোকে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করবে।

অন্যদিকে, মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী আফরোজা খানম জোর দিয়ে বলেন, ঢাকার প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীসেবা ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার সম্ভাব্য সব ধরনের আধুনিক ও যুগোপযোগী উদ্যোগ নিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। এ সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের বর্তমান নতুন সরকারের উন্নয়ন এজেন্ডার প্রশংসা করেন এবং ঢাকার সাথে আবুধাবির অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গতিশীল করতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

/আশিক


ধর্ষণ ও শিশু হত্যা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, দীর্ঘদিনের নৈতিক অবক্ষয়ের ফল: মির্জা ফখরুল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২১ ১১:৪৩:০৬
ধর্ষণ ও শিশু হত্যা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, দীর্ঘদিনের নৈতিক অবক্ষয়ের ফল: মির্জা ফখরুল
ছবি : সংগৃহীত

দেশে সাম্প্রতিক সময়ে জ্যামিতিক হারে বাড়তে থাকা নৃশংস শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ এবং পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে একে সামাজিক ও নৈতিক কাঠামোর চরম ধস হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, “এই বর্বরোচিত অপরাধগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং আমাদের সমাজে বহু বছর ধরে শিকড় গেড়ে বসা নৈতিক অবক্ষয়, সামষ্টিক সামাজিক দায়িত্বহীনতা এবং মানবিক মূল্যবোধের দ্রুত পতনের এক অবধারিত ও ভয়াবহ প্রতিফলন।” আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বিশেষ নীতিগত বার্তায় তিনি এই সামাজিক সংকটের গভীরতা তুলে ধরেন।

রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এলজিআরডি মন্ত্রীর এই ফেসবুক বার্তা দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁর বার্তায় সরকারের কঠোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, “আমরা এই অমানবিক অপরাধের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে সর্বাত্মক প্রতিরোধ প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে সম্পূর্ণ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

আমরা একটি নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করব, যেখানে আমাদের প্রতিটি সন্তান কোনো ধরণের ভয় বা শঙ্কা ছাড়া স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে পারবে।” তবে এই ধরণের পৈশাচিক সামাজিক অপরাধ স্রেফ প্রশাসনিকভাবে দমন করা অসম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

বার্তাটিতে মির্জা ফখরুল আরও যোগ করেন, “এই ক্রান্তিলগ্নে শুধু কঠোর আইন প্রণয়ন বা সরকারের একক উদ্যোগ কোনোভাবেই যথেষ্ট নয়। এর জন্য এই মুহূর্তে প্রয়োজন একটি শক্তিশালী এবং ইস্পাতকঠিন ‘জাতীয় সামাজিক আন্দোলন’।” তিনি দল-মত নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি পরিবার, বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, গণমাধ্যম, সামাজিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের নাগরিককে যার যার অবস্থান থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, আমাদের নতুন প্রজন্ম ও ছেলেমেয়েদের পারিবারিক শিক্ষা থেকেই পারস্পরিক সম্মান, মানবিকতা, নাগরিক দায়িত্ববোধ এবং নারীর সর্বোচ্চ মর্যাদা সম্পর্কে সুশিক্ষা দিতে হবে। এলজিআরডি মন্ত্রী দেশের আপামর জনসাধারণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমাদের শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অর্থই হলো সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎকে নিরাপদ করা। আসুন, এই অবক্ষয় রুখে দেওয়ার ও সমাজ পরিবর্তনের মহৎ সংগ্রামে আমরা সবাই একযোগে শামিল হই।”

/আশিক


রাজশাহীতে মেগা পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের ঐতিহাসিক ঘোষণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২০ ২১:৫৯:৩৩
রাজশাহীতে মেগা পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের ঐতিহাসিক ঘোষণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের উত্তর ও দক্ষিণ অঞ্চলের তীব্র পানির সংকট মেটাতে এবং শুষ্ক মৌসুমে কৃষিকাজ সচল রাখতে রাজশাহীর পদ্মা নদীতে একটি মেগা ‘পদ্মা ব্যারেজ’ (Padma Barrage) নির্মাণের ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছেন। সীমান্তের ওপারে বাঁধ বা ব্যারেজ তৈরি করে প্রতিবেশি দেশ বিভিন্ন কৌশলে পানি সরিয়ে নেওয়ার ফলে বাংলাদেশ যে খরা মৌসুমে চরম পানির ঘাটতিতে পড়ছে, সেই বৈষম্য দূর করতেই এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। আজ বুধবার (২০ মে) দুপুরে গাজীপুরে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এই ঘোষণা দেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, “আমরা এই পদ্মা ব্যারেজটি মূলত এই কারণেই করতে চাচ্ছি, যাতে বর্ষাকাল কিংবা খরা মৌসুম—যেকোনো সময়েই আমাদের দেশের সাধারণ মানুষ এবং প্রান্তিক কৃষকেরা যেন ফসলের মাঠে ঠিক সময়ে পর্যাপ্ত পানি পায়।” ব্যারেজ নির্মাণের পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক কৃষি ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর সুরক্ষায় নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম মূল অঙ্গীকার ‘খাল খনন কর্মসূচি’র দৃশ্যমান অগ্রগতি তুলে ধরেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, “আমরা আলহামদুলিল্লাহ সরকার গঠন করেছি এবং ইশতেহার অনুযায়ী দেশব্যাপী মেগা খাল খনন কর্মসূচি ইতিমধ্যে শুরু করে দিয়েছি। এই খাল খননের সাথে আমাদের দেশের কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকা ওতপ্রোতভাবে জড়িত; এর সাথে সরাসরি দেশের কৃষি উৎপাদন জড়িত। তাই যেকোনো মূল্যে এবং যেভাবেই হোক আমাদের এই খাল খনন কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করতে হবে।”

উন্নয়ন প্রকল্পের নামে নির্বিচারে পরিবেশ ধ্বংস ও গাছ কাটার প্রচলিত সংস্কৃতির বিরুদ্ধে নিজের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার উদাহরণ দেন। তিনি বলেন, “কক্সবাজারে সমুদ্রের তীর ধরে একটি বিশেষ রাস্তা নির্মাণ (Marine Drive) হচ্ছে। সেখানে আমি নিজে দেখলাম যে রাস্তার জন্য প্রায় ৩ শতাধিক গাছ কেটে ফেলার একটি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জানার পর আমি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে কড়া নির্দেশ দিয়েছি, যাতে পুরো রাস্তার ডিজাইন বা নকশাটি পরিবর্তন করা হয়, কিন্তু একটি গাছও যেন কাটা না পড়ে। উন্নয়ন অবশ্যই হবে, তবে গাছ ও পরিবেশ রক্ষা করে।”

এর আগে দুপুর ঠিক ২টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গাজীপুরের টঙ্গীর সাতাইশ এলাকায় নবনির্মিত জাতীয় দুর্যোগ ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবনের আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। উদ্বোধন শেষে তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় প্রতীকী হিসেবে একটি তালগাছ রোপণ করেন এবং ইনস্টিটিউটের নিজস্ব পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।

/আশিক


বিদ্যুৎ খাতের নিজস্ব অনিয়ম ও অপচয়ের খেসারত দিতে হবে সাধারণ গ্রাহকদের

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২০ ১৮:১০:২৩
বিদ্যুৎ খাতের নিজস্ব অনিয়ম ও অপচয়ের খেসারত দিতে হবে সাধারণ গ্রাহকদের
ছবি : সংগৃহীত

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে পিষ্ট সাধারণ মানুষের ওপর এবার বিদ্যুতের চরম ‘ডাবল ট্রিপল’ ধাক্কা আসছে। গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর জোর আলোচনার মধ্যেই এবার বিদ্যুতের সঞ্চালন চার্জ বা হুইলিং চার্জ (Wheeling Charge) এক ধাক্কায় প্রায় ৬০ শতাংশ বাড়ানোর প্রকাশ্য প্রস্তাব দিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি)।

সংস্থাটি প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের সঞ্চালন ব্যয় বর্তমানের ৩০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে এক লাফে ৪৯ পয়সা করার জন্য বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানিয়েছে। আজ বুধবার (২০ মে) রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক হাই-ভোল্টেজ গণশুনানিতে এই বিস্ফোরক প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।

গণশুনানিতে পিজিসিবির পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা, গ্রিড পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি দেশি-বিদেশি ঋণের কিস্তি ও মোটা অঙ্কের সুদ পরিশোধে নিজেদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতেই এই ১৯ পয়সা বা ৬০ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

তবে পিজিসিবির এই হুইলিং চার্জ বৃদ্ধির আবেদনের চেয়েও বড় ধাক্কা এসেছে একই গণশুনানিতে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) দেওয়া পাইকারি মূল্যের প্রস্তাব থেকে। পিডিবি পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে, যা বর্তমান দামের তুলনায় প্রায় ১৭ থেকে ২১ শতাংশ বেশি।

পিডিবির প্রধান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম শুনানিতে আর্থিক সংকটের কঙ্কাল বের করে জানান, চলতি অর্থবছরেই পিডিবির সম্ভাব্য ঘাটতি প্রায় ৬২ হাজার কোটি টাকা এবং আগামী অর্থবছরে তা আরও বেড়ে ৬৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাবে। ফলে বিদ্যুতের দাম এখনই না বাড়ালে পুরো বিদ্যুৎ খাতই দেউলিয়া বা বড় ধরণের আর্থিক ঝুঁকিতে পড়বে।

বিদ্যুতের পাইকারি দাম ও সঞ্চালন চার্জ একযোগে বাড়ানোর এই আত্মঘাতী উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করেছেন গণশুনানিতে অংশ নেওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন এবং ভোক্তা অধিকার সংস্থা ক্যাব (CAB) এর নেতারা। গ্রাহক অধিকার নিয়ে কাজ করা বিশিষ্ট ব্যক্তিরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিদ্যুৎ খাতের লাগামহীন অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপচয়ের দায় নিজেদের ঘাড়ে না নিয়ে সরকার প্রতিনিয়ত তা সাধারণ গ্রাহকের ওপর চাপাচ্ছে।

বক্তারা হুঁশিয়ারি দেন যে, এমনিতেই উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাজারে সাধারণ মানুষের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে, এর ওপর আবার বিদ্যুতের দাম বাড়ালে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ও কারখানার উৎপাদন খরচ আকাশচুম্বী হবে, যা দেশের শিল্প খাতকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে। এদিকে বিইআরসি জানিয়েছে, আজ সঞ্চালন ও পাইকারি দামের শুনানি শেষ হলেও আগামীকাল বৃহস্পতিবার সাধারণ গ্রাহক বা খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর আবেদনের ওপর চূড়ান্ত পৃথক গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

/আশিক


৫ বার চিঠি ও ১০টি মিটিংয়েও শোনেনি অন্তর্বর্তী সরকার: ইউনিসেফ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২০ ১৮:০৭:৫৯
৫ বার চিঠি ও ১০টি মিটিংয়েও শোনেনি অন্তর্বর্তী সরকার: ইউনিসেফ
ছবি : সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের চরম নীতিগত খামখেয়ালিপনা, দীর্ঘসূত্রতা এবং জাতীয় শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অদূরদর্শিতার খেসারত দিচ্ছে বাংলাদেশ। দেশের ইতিহাসে গত আড়াই দশকের রেকর্ড ভেঙে চলতি ২০২৬ সালে দেশব্যাপী হামের ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৬০ হাজারের বেশি মানুষ, যার সিংহভাগই নিষ্পাপ শিশু।

ইতিমধ্যে এই মারাত্মক ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে ৪৭৫ জন শিশু। বিগত আড়াই দশকে দেশে কখনো হামের সংক্রমণ ৫০ হাজার ছাড়ায়নি; এমনকি ২০২৫ সালে যেখানে মাত্র ১৩২ জন রোগী শনাক্ত হয়েছিল, সেখানে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে দেশে শুরু হওয়া এই প্রলয়ংকরী মহাদুর্যোগের প্রধান কারণ—গত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হামের টিকাদানে নজিরবিহীন গাফিলতি ও টিকার কৃত্রিম সংকট। আজ বুধবার (২০ মে) দুপুরে রাজধানীর ইউনিসেফ (UNICEF) কার্যালয়ে আয়োজিত এক দীর্ঘ সংবাদ সম্মেলনে খোদ ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স এই চাঞ্চল্যকর ও বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস করেছেন।

দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই হাই-ভোল্টেজ সংবাদ সম্মেলনে রানা ফ্লাওয়ার্স সরাসরি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার দীর্ঘদিনের প্রচলিত ও দ্রুততম টিকা ক্রয়প্রক্রিয়ায় আকস্মিক ও অবৈজ্ঞানিক পরিবর্তন আনায় দেশে সময়মতো টিকা আসেনি এবং দেশ চরম ভ্যাকসীন সংকটে পড়েছে। ইউনিসেফ হাত গুটিয়ে বসে ছিল না; তারা অন্তর্বর্তী সরকারের সময় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে অন্তত ৫টি অফিশিয়াল জরুরি চিঠি পাঠিয়ে সম্ভাব্য ভয়াবহ টিকা-সংকটের কথা স্পষ্ট সতর্ক করেছিল।

শুধু চিঠিই নয়, সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে অন্তত ১০টি ধারাবাহিক মিটিংয়ে ইউনিসেফের প্রতিনিধিরা একই আশঙ্কার কথা বারবার জানালেও সরকার তা আমল দেয়নি। এর আগে ইউনিসেফের ভারপ্রাপ্ত বাংলাদেশ প্রতিনিধি স্ট্যানলি গুয়াভুইয়াও এক সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তী সরকারকে হাম নিয়ে আগাম সতর্ক করার কথা জানিয়েছিলেন। রানা ফ্লাওয়ার্স বারবার আক্ষেপ করে বলেন, “হামে এই বিপুল পরিমাণ শিশুমৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক।” তবে বর্তমান সময়ে ১ কোটি ৮০ লাখের বেশি শিশুকে জরুরি ভিত্তিতে হামের টিকা দিয়ে সংক্রমণ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনার বিষয়টিকে তিনি একটি ভালো খবর হিসেবে উল্লেখ করেন।

বর্তমানে টিকার এই মারাত্মক সংকট ও বিপুল শিশুমৃত্যুর ঘটনা তদন্তে সরকারের নেওয়া সাম্প্রতিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন ইউনিসেফ প্রতিনিধি। এই তদন্তে বিশ্ব সংস্থাটি কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহায়তা করবে কিনা—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে রানা ফ্লাওয়ার্স স্পষ্ট ও কড়া ভাষায় বলেন, “ইউনিসেফ সব সময় সত্যের পক্ষে।” তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে পরামর্শ দিয়ে বলেন, সরকার চাইলে বৈশ্বিক নিয়ম মেনে নিজস্ব উন্মুক্ত টেন্ডার (Open Tender) পদ্ধতিতে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সরাসরি টিকা ক্রয় করতে পারে; কিন্তু মনে রাখতে হবে, টিকার ব্যাকআপ মজুত সবসময় নিশ্চিত থাকা জরুরি।

উন্মুক্ত টেন্ডার পদ্ধতিতে আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়া শেষ করে দেশে টিকা আনতে কমপক্ষে এক বছর বা তার বেশি সময় লেগে যায়, যেখানে ইউনিসেফের নিজস্ব গ্লোবাল চেইনের মাধ্যমে অতি দ্রুততম সময়ে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন টিকা সংগ্রহ করা সম্ভব। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও কিচেন ক্যাবিনেটের ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই আজ বাংলাদেশের হাজার হাজার শিশুকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত:

কুরবানির চামড়া শিল্প: ন্যায্য মূল্য, বাজার কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের জরুরি প্রয়োজন

কুরবানির চামড়া শিল্প: ন্যায্য মূল্য, বাজার কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের জরুরি প্রয়োজন

বাংলাদেশের অর্থনীতি, গ্রামীণ জীবিকা এবং ধর্মীয়-সামাজিক কাঠামোর সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত হলো কুরবানি ঈদের চামড়া শিল্প। প্রতি বছর... বিস্তারিত