এক বছরেই সব স্থানীয় নির্বাচন, রক্তপাত বন্ধ করাই ইসির মূল চ্যালেঞ্জ: সিইসি

তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্রের ভিত মজবুত করতে আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৫০০টি উপজেলা, ৬১টি জেলা পরিষদ, ১৩টি সিটি করপোরেশন এবং ৩৩০টি পৌরসভাসহ সমস্ত স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের মেগা প্রস্তুতির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন নবনিযুক্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তবে এই বিশাল কর্মযজ্ঞের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের সামনে সবচেয়ে বড় অগ্নিপরীক্ষা হবে মাঠপর্যায়ের সহিংসতা ও প্রাণহানি রুখে দেওয়া।
সিইসির স্পষ্ট ভাষায়, “অতীতে স্থানীয় নির্বাচনে ব্যাপক সংঘর্ষ, শত শত মানুষের রক্তপাত ও খুনাখুনি বাংলাদেশের এক কলঙ্কজনক পুরোনো বাস্তবতা। তাই আসন্ন লোকাল গভর্নমেন্ট ইলেকশনে যেকোনো মূল্যে মারামারি ও রক্তপাত বন্ধ করাই এখন নির্বাচন কমিশনের এক নম্বর ও প্রধান চ্যালেঞ্জ।” আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে ২০২৬) রাজধানীর গুলশানের একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কঠোর বার্তা দেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পরবর্তী মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (ANFREL) এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন স্থানীয় নির্বাচনকে জাতীয় সংসদের সমমানের কঠোর ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে আয়োজন করার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, “গণতন্ত্র কেবল জাতীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, একে একদম তৃণমূলের সাধারণ মানুষের দোরগোড়া পর্যন্ত পৌঁছে দিতে হবে; কারণ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি জনগণকে সেবা দেয়, তাই তৃণমূলের গণতন্ত্র সুসংহত করা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”
নির্বাচনকে সম্পূর্ণ রক্তপাতহীন ও শান্তিপূর্ণ করতে রাজনৈতিক দলসহ সব অংশীজনকে সম্পৃক্ত করে কমিশন ব্যাপক সচেতনতামূলক সামাজিক কার্যক্রম চালাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে সিইসি দেশের বিগত ইউনিয়ন ও উপজেলা নির্বাচনের এক ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী পরিসংখ্যান ও চিত্র গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন। নির্বাচন কমিশনের অফিশিয়াল ডেটা অনুযায়ী, বিগত ২০১৬ সালের দলীয় প্রতীকের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সহিংসতায় রেকর্ড ২৩৬ জন এবং ২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন চলাকালীন দেশজুড়ে ১১৬ জন সাধারণ নাগরিক ও রাজনৈতিক কর্মী নিহত হয়েছিলেন।
বর্তমান নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকারের অধীনে এই বিপুল সংখ্যক স্থানীয় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা এবং মাঠের মাস্তানতন্ত্র দমন করা কমিশনের জন্য কঠিন হবে কি না—সাংবাদিকদের এমন এক তীক্ষ্ণ প্রশ্নের জবাবে সিইসি নাসির উদ্দিন বলেন, প্রশাসন ও সব রাজনৈতিক পক্ষের সম্মিলিত সহযোগিতা নিয়েই সহিংসতা প্রতিরোধে ইস্পাতকঠিন কাজ করবে নতুন কমিশন। তিনি আবারও দৃঢ় কণ্ঠে পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ভোটের মাঠে কোনো ধরনের ক্ষমতার দাপট বা প্রাণহানি কমিশন বরদাশত করবে না এবং এটিই তাঁদের মূল লক্ষ্য।
/আশিক
পূর্ণ ক্ষমতায় রামপালের দুই ইউনিট, জাতীয় গ্রিডে রেকর্ড পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ
বাগেরহাটের রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছে। কেন্দ্রটির দুটি ইউনিট থেকে যৌথভাবে প্রথমবারের মতো সর্বোচ্চ ১ হাজার ৩২১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে, যা সরাসরি জাতীয় পাওয়ার গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।
শনিবার বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির মানবসম্পদ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আনোয়ারুল আজিম এই সাফল্যের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, প্রযুক্তিগত সাময়িক জটিলতার কারণে উৎপাদন সাময়িকভাবে থমকে গেলেও বর্তমানে উভয় ইউনিট থেকেই নিরবচ্ছিন্নভাবে পুরোদমে বিদ্যুৎ উৎপাদন চালু রাখা সম্ভব হয়েছে।
উৎপাদনের বিস্তারিত পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে বর্তমানে ৬৫৬ মেগাওয়াট এবং দ্বিতীয় ইউনিট থেকে ৬৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়ে সরাসরি জাতীয় গ্রিডে জমা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ও ভারতের পারস্পরিক যৌথ অংশীদারিত্বে ২০১০ সালে এই বৃহৎ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি স্থাপনের আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে ২০১২ সালের ২৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) এবং ভারতের ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার করপোরেশনের (এনটিপিসি) মধ্যে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই চুক্তির আইনি বাধ্যবাধকতার অধীনে যৌথ মালিকানাধীন ‘বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড’ (বিআইএফপিসিএল) গঠিত হয়।
/আশিক
বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তাই এখন নতুন স্বাভাবিক: অর্থমন্ত্রী আমির খসরু
বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পেক্ষাপটে অনিয়ম ও অনিশ্চয়তাই এখন নতুন স্বাভাবিক অবস্থা হিসেবে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানান, বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্থর প্রবৃদ্ধি, ঋণের অনাকাঙ্ক্ষিত উচ্চ ব্যয় এবং বিভিন্ন দেশের বাণিজ্যিক সংরক্ষণবাদের মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হলে নিখুঁত ও তথ্যনির্ভর নীতি নির্ধারণই হচ্ছে জাতীয় অর্থনীতির মূল চাবিকাঠি।
শনিবার (৩ অক্টোবর) ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) অর্থনীতি বিভাগের সার্বিক সহযোগিতায় এবং জুনিয়র ইকোনমিস্টস ফোরামের (জেইএফ) উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় অর্থনীতি প্রতিযোগিতা ‘ইকনথন ২০২৬’-এর গ্র্যান্ড ফাইনালের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরবর্তীতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তু নিশ্চিত করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, যেকোনো কার্যকর নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত সমাধান এবং তথ্যের সঠিক ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি। অর্থ মন্ত্রণালয়কে প্রতিনিয়ত নানাবিধ অপ্রাক্কলিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, যেখানে সীমাবদ্ধ তথ্যের ওপর নির্ভর করেই সরকারকে অত্যন্ত সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
এ সময় দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২২৪টি দল ‘ইকনথন ২০২৬’-এ অংশগ্রহণ করায় আনন্দ প্রকাশ করে তিনি কুইজ, কেস সলভিং ও পলিসি মেকিংভিত্তিক প্রতিযোগিতার কঠিন ধাপগুলো পার হয়ে চূড়ান্ত পর্বে পৌঁছানো শিক্ষার্থীদের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
বর্তমান অর্থনৈতিক চালচিত্র তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর প্রবল চাপ, জলবায়ু পরিবর্তনের নানামুখী নেতিবাচক প্রভাব এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর প্রতিনিয়ত চাপ সৃষ্টি করছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবিলা করতে হলে দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখার পাশাপাশি বিদ্যমান কর ব্যবস্থার দ্রুত আধুনিকায়ন প্রয়োজন।
তিনি স্পষ্ট করে জানান, সাধারণ জনগণের কষ্টার্জিত করের প্রতিটি টাকার শতভাগ স্বচ্ছতা ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে অর্থমন্ত্রী পরামর্শ দিয়ে বলেন, সঠিক দক্ষতা ছাড়া কোনো জাতি বেশিদূর এগোতে পারে না, আর সততা ও মানবিক মূল্যবোধ ছাড়া সেই অর্জিত দক্ষতা কখনো সমাজকে সঠিক পথের দিশা দেখাতে পারে না। অর্থনীতি কেবল ক্লাসরুমের পরীক্ষা পাসের বিষয় নয়, বরং এটিকে গভীরভাবে অনুধাবন করে নীতি ও সততার সাথে দেশের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করতে হবে।
ইউআইইউর ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. আবুল কাশেম মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউআইইউ বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ও ইউনাইটেড গ্রুপের প্রধান উপদেষ্টা হাসান মাহমুদ রাজা এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য ও ইউনাইটেড গ্রুপের উপদেষ্টা কে এম এ শামীম। সমাপনী পর্বে অর্থমন্ত্রী বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মাঝে সম্মাননা ও পুরস্কার তুলে দেন।
/আশিক
জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে মানবিক প্রয়াসে শীর্ষ নেতৃত্বের সহধর্মিণীরা
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি নিউইয়র্কে এক মানবিক প্রয়াসের চিত্র দেখা গেছে। অধিবেশনের ব্যস্ততার মাঝে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সহধর্মিণীদের নিয়ে এক বিশেষ বৈঠকের আয়োজন করেন মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প।
এই অনুষ্ঠানে মেলানিয়া ট্রাম্প তার নতুন আন্তর্জাতিক উদ্যোগ ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার’-এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। বিশ্বজুড়ে শিশুদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করাই এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য, যার মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মেধা ও সুপ্ত সম্ভাবনাকে বিকশিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান এবং তাদের মধ্যে আন্তরিক কুশল বিনিময় হয়। সম্প্রতি হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এই বিশেষ মুহূর্তের একটি আলোকচিত্র আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে মেলানিয়া ট্রাম্প বলেন, একটি নিরাপদ ও সমৃদ্ধ পৃথিবী গড়ে তুলতে শিশুদের জন্য উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তের শিশুরা যেন তাদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সমান সুযোগ পায়, সে লক্ষ্যে তিনি উপস্থিত সকল ফার্স্ট লেডিদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
মার্কিন ফার্স্ট লেডির এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিশ্বের শীর্ষ নেতাদের সহধর্মিণীদের এই উদ্যোগ নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা ও সাধুবাদ দেখা যাচ্ছে।
/আশিক
ট্রাম্পের নৈশভোজের বিশেষ মুহূর্তের ছবি প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আয়োজিত বিশেষ নৈশভোজের একটি আলোকচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উন্মুক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (৩ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী তার নিজস্ব ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পেজে এই আলোকচিত্রটি পোস্ট করেন।
এর আগে গত ২২ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে যোগ দিতে আসা বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের সহধর্মিণীদের সম্মানে এই নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণে আয়োজিত সেই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন।
/আশিক
‘আমরা শেখ হাসিনাকে নিয়ে যাইনি’: ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর স্পষ্ট বক্তব্য
ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া ও বাস্তব প্রেক্ষাপট নিয়ে বিশদ ব্যাখ্যা দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। আজ শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীতে আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভার্সেশন ২০২৬’-এর একটি বিশেষ সেশনে এক শিক্ষার্থীর করা প্রশ্নের জবাবে কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ার নানা বিষয় তুলে ধরেন তিনি।
বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিউপি) শিক্ষার্থী ইফতেখার সম্পূর্ণ জাতির হয়ে ভারতের কাছে শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের নির্দিষ্ট সময়সীমা জানতে চান। জবাবে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী হালকা রসিকতার ছলে ইতিবাচক মন্তব্য করে জানান, হস্তান্তর প্রক্রিয়ার পেছনে একটি নির্দিষ্ট ও স্বচ্ছ আইনি পদ্ধতি রয়েছে, যার ওপর ভিত্তি করেই বিষয়টি এগোচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, শেখ হাসিনাকে ভারতের সামরিক বাহিনী বা বিমানবাহিনী নিয়ে যায়নি, বরং বাংলাদেশের তৎকালীন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও ট্র্যাজিক ঘটনার পর বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর এয়ারক্রাফটেই তিনি ভারতে পৌঁছান।
তৎকালীন পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে মানবিক ও ঐতিহাসিক কারণে ভারত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়। ভারতে এবং বাংলাদেশে উভয় স্থানেই কার্যকর ও স্বাধীন গণতন্ত্র বিদ্যমান রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, নির্দিষ্ট আইনি পদ্ধতির মাধ্যমেই পুরো বিষয়ের নিষ্পত্তি হবে এবং সেই আইনি প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।
/আশিক
৩ মাসের মধ্যে দেশ থেকে কিশোর গ্যাং উৎখাতের ঘোষণা চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির
আগামী তিন মাসের মধ্যে দেশ থেকে কিশোর গ্যাং উৎখাত করা হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। কিশোরদের পথভ্রষ্টতা ও অপরাধ থেকে ফিরিয়ে লেখাপড়া এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা অর্জনের সুযোগ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। আজ শুক্রবার (২ অক্টোবর) বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনে (এফডিসি) ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে করণীয়’ শীর্ষক এক ছায়া সংসদ বিতর্কে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চিফ হুইপ বলেন, কিশোর গ্যাং কালচারের পেছনে যারা মদদদাতা বা তথাকথিত ‘বড় ভাই’ হিসেবে পৃষ্ঠপোষকতা জোগায়, তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর আইনের আওতায় আনা হবে। অপরাধীর ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না উল্লেখ করে তিনি জানান, ক্ষমতার রদবদলের সুযোগে অপরাধীরা রাজনৈতিক পরিচয় বদলে অপরাধ করার চেষ্টা করে, যা রোধে ইতোমধ্যে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। ঢালাওভাবে সরকারের ওপর দায় না চাপিয়ে ইতিবাচক পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি কিশোরদের হাতে অস্ত্রের বদলে বই এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও রোবটিকসের মতো আধুনিক প্রযুক্তি তুলে দেওয়ার তাগিদ দেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। তিনি কিশোর অপরাধ রোধে রাজনৈতিক সদিচ্ছার পাশাপাশি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ‘কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে রাজনৈতিক সদিচ্ছার চেয়ে সামাজিক আন্দোলনই অধিক কার্যকর’ শীর্ষক এই ছায়া সংসদে সেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে পরাজিত করে মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিতার্কিক দল বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়।
/আশিক
ইউরেনিয়াম নিয়ে ঢাকার পথে রাশিয়ার বিশেষ বিমান
পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের প্রয়োজনীয় ইউরেনিয়াম পারমাণবিক জ্বালানিবাহী একটি বিশেষ কার্গো বিমান রাশিয়া থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুরে পৌঁছানোর কথা থাকলেও ফ্লাইট সময় পরিবর্তন করে রাত সাড়ে ১১টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমানটি অবতরণ করার কথা রয়েছে। বিকেলে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বিষয়টি নিশ্চিত করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানান, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার সকল নিয়ম মেনে সংবেদনশীল এই জ্বালানি রূপপুর প্রকল্পে স্থানান্তরের জন্য সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ও রসাটম সূত্র জানিয়েছে, রাশিয়া থেকে উড্ডয়ন করা এই বিশেষ বিমানটি কাজাখস্তান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ভারত হয়ে বাংলাদেশে এসে পৌঁছাবে। রাতেই বিমানবন্দরে অবতরণের পর শনিবার ভোরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কঠোর ও সুসংহত নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ইউরেনিয়ামের এই চালান সড়কপথে সরাসরি পাবনার রূপপুরে নিয়ে যাওয়া হবে। চুক্তি অনুযায়ী প্রথম তিন বছর রাশিয়া থেকে এই জ্বালানি সরবরাহ করা হবে এবং ডিসেম্বরের মধ্যে রূপপুরের দুটি ইউনিটের জন্য মোট ৯টি কার্গোতে পারমাণবিক জ্বালানি দেশে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
দুটি ইউনিটে ২,৪০০ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতা সম্পন্ন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে ইতোমধ্যেই প্রাথমিক জ্বালানি লোড করা হয়েছে এবং বাণিজ্যিক উৎপাদনের জন্য কারিগরি প্রস্তুতি চলছে। অতি সম্প্রতি সেফটি ভালভের ত্রুটি সফলভাবে মেরামতের পর চূড়ান্ত পরীক্ষার ধাপগুলো সম্পন্ন হলে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
/আশিক
‘স্বৈরাচার ও গুপ্ত দল আবার এক হয়েছে’: ফেনী থেকে সতর্ক করলেন তারেক রহমান
দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে ‘স্বৈরাচার ও গুপ্ত দল আবার এক হয়েছে’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখতে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ ও সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে ফেনীর ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ইমাম-পুরোহিতসহ ধর্মীয় সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের সম্মানী ও বিভিন্ন সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সমাজকল্যাণ, কৃষি ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠান থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিভিন্ন জেলায় ভাতা প্রদান কার্যক্রমও উদ্বোধন করেন তিনি।
‘এক দফা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে, আসলে কী চায়?’
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মসূচির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছু রাজনৈতিক দল ‘এক দফা, এক দফা’ বলে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু তারা আসলে কী চায়, সেটি জনগণের কাছে স্পষ্ট নয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, যারা গণঅভ্যুত্থানের মুখে পালিয়ে গেছে এবং যারা এখন এক দফার কথা বলছে, তাদের কাছে প্রশ্ন রাখতে হবে, তারা দেশের উন্নয়ন চায় কি না।
তিনি বলেন, বিএনপি জনগণের সমর্থন নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে চায়। অন্য রাজনৈতিক শক্তিগুলো কী চায়, সেটিও জনগণের সামনে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
নির্বাচনের আগে একটি দলের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি দল ‘বেহেশতের টিকিট’ বিক্রি করেছিল। অথচ বেহেশত ও দোজখের মালিক একমাত্র আল্লাহ। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ‘শিরক ও মুনাফেকি’ কি না, সে প্রশ্নও উপস্থিত জনতার কাছে রাখেন তিনি।
তারেক রহমান অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছরে বিএনপির কয়েক হাজার নেতাকর্মী মামলা, হামলা ও গুমের শিকার হয়েছেন। সেই সময়ে যারা নীরব ছিলেন, তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
‘তারা ৭১-এর ভূমিকায় ফিরে গেছে’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তারা ৭১-এর ভূমিকায় ফিরে গেছে। মনে রাখতে হবে, মানুষ জীবন ও ইজ্জত দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছে।”
তার দাবি, দীর্ঘ ১৭ বছর দেশে গণতন্ত্রের কার্যকর চর্চা না থাকায় উন্নয়নের গতি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমান সরকার দেশের ২০ কোটি মানুষের ‘৪০ কোটি হাতকে’ কর্মক্ষম শক্তিতে পরিণত করতে চায়।
উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্থিতিশীল পরিবেশের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিএনপি যখনই রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে, দেশ ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করেছে। এখন সময় সামনে এগিয়ে যাওয়ার। সেজন্য অনুকূল রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ প্রয়োজন।
কেউ যেন অযথা পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে না পারে এবং দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, সেজন্য জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা ও সহায়তা কর্মসূচির সুবিধা দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ পাচ্ছে।
ফেনী ‘নিজের বাড়ি’, বললেন প্রধানমন্ত্রী
বক্তব্যের শুরুতে ফেনীর সঙ্গে নিজের পারিবারিক ও আবেগের সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, ফেনীতে এসে তিনি উৎফুল্ল এবং জায়গাটিকে নিজের বাড়ির মতো মনে হচ্ছে। তার মা-বাবা কেউই এখন বেঁচে নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফেনী তার মায়ের বাড়ি, নানার বাড়ি। তাই ফেনীবাসী তার আপনজন ও অভিভাবক।
এ সময় উপস্থিত জনতা হাত তুলে তাকে সমর্থন জানান।
কৃষক কার্ড থেকে ধর্মীয় সেবকদের সম্মানী
অনুষ্ঠান থেকে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম ও পুরোহিতসহ ধর্মীয় সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান এবং ২৪৯ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সোলার প্যানেল স্থাপনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি ও প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় ফেনী জেলায় পাঁচ হাজার ৬৪৩ জন কৃষককে কার্ড দেওয়ার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এক হাজার ১২ জন কৃষক। তাদের মধ্য থেকে ১০ জন প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সরাসরি কৃষক কার্ড গ্রহণ করেন।
জেলার বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত ও সেবায়েতদের জন্যও সম্মানী ভাতা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফেনীতে এ কর্মসূচির আওতায় ২৭৫ জনকে মনোনীত করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাদের মধ্য থেকে ছয়জন ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেম, দুজন সেবায়েত এবং দুজন পুরোহিত প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সরাসরি সম্মানী গ্রহণ করেন।
১,৫৪২ কোটি টাকার মুহুরী-কহুয়া প্রকল্প উদ্বোধন
দিনব্যাপী ফেনী সফরের শুরুতে দুপুরে পরশুরামে যান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে বৃষ্টির মধ্যেই ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন তিনি। প্রকল্পটির মোট ব্যয় এক হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা।
প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৬৮ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ এবং ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণ করা হবে। প্রকল্প উদ্বোধনের পর নদীপাড়ে একটি গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
‘দল যার, দেশটা সবার’
পরশুরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, জনবহুল একটি দেশে কিছু রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডকে পুঁজি করে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। এর ফলে দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হলে সংশ্লিষ্টদের তার দায় নিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের কিছু নেতাকর্মীর কর্মকাণ্ডে শুধু দেশের অভ্যন্তরেই নয়, বহির্বিশ্বেও বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
দেশকে বিভ্রান্তি থেকে রক্ষায় ১৯৭১ এবং ১৯৮৬ সালে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভূমিকা জনগণের সামনে তুলে ধরার কথাও বলেন তিনি।
অরাজকতা ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, “দল যার, দেশটা সবার।”
গণতান্ত্রিক ধারা ও উন্নয়ন অব্যাহত রাখার পাশাপাশি অপপ্রচারের বিরুদ্ধেও জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। কোনো দলের নাম উল্লেখ না করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দয়া করে আগে নিজের ঘর সামলান, পরে অন্যদের নসিয়ত করুন।”
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হবে ১৫০ শয্যার
স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ নিয়েও সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের পাঁচ বছরের মেয়াদের মধ্যে দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। একই সঙ্গে উপজেলা পর্যায়ের এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কিডনি রোগীদের জন্য ডায়ালাইসিস সুবিধা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
কৃষকদের জন্য সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সরকার গঠনের পর বিএনপি ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে। এতে সরকারের প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলেও দেশের ১৩ লাখ কৃষক উপকৃত হয়েছেন বলে জানান তিনি।
৩৪ হাজার হেক্টর জমি আসবে আবাদের আওতায়
মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলের মানুষ বন্যার ক্ষয়ক্ষতি থেকে অনেকাংশে সুরক্ষা পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তারেক রহমান বলেন, প্রকল্পটির মাধ্যমে নতুন করে প্রায় ৩৪ হাজার হেক্টর জমি আবাদের আওতায় আসবে। একই সঙ্গে কৃষি উৎপাদন বছরে প্রায় এক লাখ মেট্রিক টন বাড়বে। উৎপাদন বাড়লে কৃষিপণ্যের সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে খাদ্যশস্য রাখা সহজ হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
খালেদা জিয়া মহিলা কলেজ জাতীয়করণের প্রতিশ্রুতি
পরশুরামের কর্মসূচি শেষে ফুলগাজীতে প্রতিষ্ঠিত বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজ পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং শিক্ষাক্ষেত্রে বিএনপির পূর্ববর্তী সরকারগুলোর বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন।
তারেক রহমান বলেন, ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠনের পর নারী শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। ২০০১ সালে বিএনপি তৃতীয়বার সরকার গঠনের পর পুরো শিক্ষা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই সরকারের সময় দেশ ‘নকলমুক্ত’ হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
এ সময় শিক্ষার্থীরা বেগম খালেদা জিয়ার নামে প্রতিষ্ঠিত মহিলা কলেজটি জাতীয়করণের দাবি জানান। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কলেজটি জাতীয়করণের প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী। তবে এর সঙ্গে ভালো ও গুণগত ফলাফল অর্জনের শর্তও দেন তিনি। পরে কলেজ মাঠে একটি গাছের চারা রোপণ করেন তারেক রহমান।
সফরে ছিলেন যারা
প্রধানমন্ত্রীর ফেনীর বিভিন্ন কর্মসূচিতে পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়কমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড জাহিদ হোসেন, কৃষিমন্ত্রী আমিনুর রশিদ এয়াছিন, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল এবং ধর্ম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানুসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এলপিজি আমদানি পর্যাপ্ত, তবু ১৫৮৫ টাকার সিলিন্ডার ২৯০০: গ্যাস গেল কোথায়?
দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) আমদানিতে দৃশ্যত কোনো ঘাটতি নেই। আগস্ট ও সেপ্টেম্বর, টানা দুই মাসেই চাহিদা মেটানোর মতো এলপিজি দেশে এসেছে। অথচ খুচরা বাজারে তৈরি হয়েছে তীব্র সংকট। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত এক হাজার ৫৮৫ টাকার ১২ কেজির সিলিন্ডার কোথাও কোথাও বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার ৯০০ টাকায়। অনেক দোকানে আবার ক্রেতাকে বলা হচ্ছে, সিলিন্ডারই নেই।
আমদানি স্বাভাবিক থাকার পরও বাজারে এমন পরিস্থিতি কেন, সেই প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে উঠে আসছে সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে মজুত, অতিরিক্ত মুনাফার চেষ্টা এবং আসন্ন মূল্য ঘোষণাকে ঘিরে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির আশঙ্কা। তবে এর দায় কার, তা নিয়ে অপারেটর, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা একে অপরের দিকে আঙুল তুলছেন।
দুই মাসে ৩ লাখ ১৩ হাজার টন আমদানি, তবু সংকট কেন?
বিইআরসির তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে দেশে প্রায় এক লাখ ৫৬ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। আগস্টে আমদানির পরিমাণ ছিল প্রায় এক লাখ ৫৭ হাজার টন। অর্থাৎ দুই মাসে মোট প্রায় তিন লাখ ১৩ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছে।
এই পরিসংখ্যান বিবেচনায় আমদানি ঘাটতির কারণে বাজারে বর্তমান সংকট হওয়ার কথা নয় বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
বিইআরসি সাধারণত প্রতি মাসের ২ তারিখে এলপিজির নতুন মূল্য ঘোষণা করে। নতুন দাম ঘোষণার ঠিক আগে বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়া এবং অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রশ্ন উঠেছে, পরবর্তী মাসে দাম বাড়তে পারে এমন প্রত্যাশা থেকে কোনো পর্যায়ে সিলিন্ডার আটকে রাখা হচ্ছে কি না।
বিইআরসির সদস্য (গ্যাস) মো. মিজানুর রহমানও বলেছেন, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর দুই মাসেই পর্যাপ্ত এলপিজি আমদানি হয়েছে। ফলে বাজারে সরবরাহ ঘাটতি থাকার কথা নয়।
তার মতে, মাসের শেষ দিকে কোনো কোনো ব্যবসায়ী মনে করতে পারেন, সামনে দাম বাড়লে বর্তমান মজুত পরে বিক্রি করলে বেশি লাভ হবে। যদিও পরবর্তী মাসে দাম বাড়বে নাকি কমবে, তা আগে থেকে নিশ্চিত নয়। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে সৌদি কনট্রাক্ট প্রাইস (Saudi CP), জাহাজ ভাড়াসহ কয়েকটি উপাদানের ওপর দেশের এলপিজির মূল্য নির্ভর করে।
১,৫৮৫ টাকার সিলিন্ডার ২,৯০০ টাকা
বাজারের বাস্তবতা অবশ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত মূল্য থেকে অনেক দূরে। ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের নির্ধারিত মূল্য এক হাজার ৫৮৫ টাকা হলেও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তা দুই হাজার ৭০০, দুই হাজার ৮০০ এমনকি দুই হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। অর্থাৎ নির্ধারিত দামের তুলনায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে ক্রেতাকে প্রায় ৮৩ শতাংশ বেশি অর্থ গুনতে হচ্ছে।
সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, বেশি দাম দিয়েও সব জায়গায় সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। কোনো কোনো বিক্রেতা দোকান বন্ধ রাখছেন। আবার কোনো দোকানে প্রথমে ‘সিলিন্ডার নেই’ বলা হলেও বেশি দাম দিতে রাজি হলে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন ভোক্তারা।
রাজধানীর আজিমপুরের বাসিন্দা সোনিয়া পারভীন জানান, আগে এক হাজার ৫০০ থেকে এক হাজার ৬০০ টাকার মধ্যে যে সিলিন্ডার কেনা যেত, এখন সেটির জন্য দুই হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার ৯০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। তার অভিযোগ, দোকানে প্রথমে সিলিন্ডার নেই বলা হলেও বেশি দাম দিলে তা পাওয়া যাচ্ছে।
কলাবাগানের বাসিন্দা মো. আমিনুরের অভিজ্ঞতাও একই। বাসাবাড়িতে নিয়মিত পাইপলাইনের গ্যাস না থাকায় রান্নার জন্য এলপিজির ওপর নির্ভর করতে হয় তাকে। এখন রান্নার গ্যাসের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় অন্যান্য নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে পরিবারের ওপর নতুন আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।
খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, তারাও কিনছেন চড়া দামে
অস্বাভাবিক দামের জন্য শুধু খুচরা বিক্রেতাদের দায়ী করতে নারাজ ব্যবসায়ীরা।
হাতিরপুলের এক খুচরা বিক্রেতা ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম দুই হাজার ৯০০ টাকা দাবি করে বলেন, তারাই দুই হাজার ৭০০ থেকে দুই হাজার ৮০০ টাকায় সিলিন্ডার কিনছেন। ফলে কিছু লাভ রেখে বিক্রি করতে গেলে দুই হাজার ৯০০ টাকা নিতে হচ্ছে।
ধানমন্ডির আরেক খুচরা ব্যবসায়ীর দাবি, মূল সমস্যা ডিলার পর্যায়ে। ডিলারদের কাছ থেকে নির্ধারিত দামের তুলনায় অনেক বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। ফলে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক ক্ষেত্রে সিলিন্ডারই পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে দোকান বন্ধ রেখেও কর্মচারীদের বেতনসহ অন্যান্য খরচ বহন করতে হচ্ছে।
এখানেই তৈরি হয়েছে সরবরাহ শৃঙ্খলের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। আমদানি যদি পর্যাপ্ত হয় এবং অপারেটর পর্যায়েও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে, তাহলে ডিলার ও খুচরা পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই সিলিন্ডারের দাম এতটা বেড়ে যাচ্ছে কীভাবে?
অপারেটরদের দাবি, সমস্যা খুচরা বাজারে
বাংলাদেশ এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের (লোয়াব) সভাপতি এবং ডেল্টা এলপি গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আমিরুল হক অবশ্য সংকটের জন্য খুচরা পর্যায়কে দায়ী করেছেন।
তার দাবি, এলপিজি আমদানি কমেনি। খুচরা বিক্রেতাদের একটি অংশ বাজারে সমস্যা তৈরি করছেন। প্রশাসন কয়েকদিন কঠোরভাবে অভিযান পরিচালনা করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলেও মনে করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, কোনো এলপিজি অপারেটর নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে পণ্য বিক্রি করলে এবং তার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট অপারেটরের লাইসেন্স বাতিল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
অন্যদিকে খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, তারা ডিলার পর্যায়েই বেশি দাম দিচ্ছেন। ফলে সংকটের উৎস নিয়ে সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী।
নতুন দাম ঘোষণার আগে মজুতের আশঙ্কা
বিইআরসির কর্মকর্তাদের বক্তব্যে আরেকটি সম্ভাব্য কারণ সামনে এসেছে। প্রতি মাসের ২ তারিখে নতুন মূল্য ঘোষণার আগে বাজারের কোনো কোনো অংশে সিলিন্ডার ধরে রাখার প্রবণতা তৈরি হতে পারে।
পরবর্তী মূল্য যদি বাড়ে, তাহলে বর্তমান মজুত নতুন ও বেশি দামে বিক্রি করে অতিরিক্ত মুনাফা করা সম্ভব। ফলে মূল্য ঘোষণার ঠিক আগের কয়েকদিন বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির অর্থনৈতিক প্রণোদনা থাকে।
তবে বিইআরসি বলছে, নতুন দাম বাড়বে না কমবে, সেটি আগেভাগে নিশ্চিত করে বলার সুযোগ নেই। আন্তর্জাতিক বাজারের সৌদি সিপি, পরিবহন ব্যয় এবং অন্যান্য মূল্য উপাদানের ভিত্তিতে নতুন দাম নির্ধারিত হয়।
বিইআরসি বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়েছে। এর আগে বাজার মনিটরিংয়ের জন্য গঠিত কমিটিকেও আবার সক্রিয় করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসকদের বাজার তদারকি করতে বলা হয়েছে।
ক্যাবের প্রশ্ন, ব্যবস্থা কোথায়?
ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্টরা অবশ্য শুধু বাজার মনিটরিংয়ের আশ্বাসে সন্তুষ্ট নন।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলমের মতে, বর্তমান পরিস্থিতির দায় বিইআরসি এড়াতে পারে না।
তার বক্তব্য, নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত মূল্য অমান্য করে যারা অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রি করছেন, তাদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু কার্যকর প্রয়োগ না থাকায় ভোক্তাদের অতিরিক্ত অর্থ দিতে হচ্ছে।
পাইপলাইনে গ্যাস নেই, এলপিজিতেও স্বস্তি নেই
বর্তমান সংকটের সবচেয়ে বড় চাপ পড়ছে সাধারণ পরিবারের ওপর। রাজধানীর বহু এলাকায় পাইপলাইনে নিয়মিত গ্যাস পাওয়া যায় না। ফলে রান্নার জন্য এলপিজি এখন অনেক পরিবারের বিকল্প নয়, বরং অপরিহার্য জ্বালানি।
এমন পরিস্থিতিতে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের জন্য নির্ধারিত দামের চেয়ে এক হাজার থেকে এক হাজার ৩০০ টাকারও বেশি অতিরিক্ত ব্যয় করতে হলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মাসিক বাজেটে বড় ধাক্কা লাগে।
বিশেষ করে খাদ্যসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের মধ্যে রান্নার জ্বালানির এমন অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ভোক্তাদের জন্য নতুন সংকট তৈরি করেছে।
আমদানি আছে, তাহলে গ্যাস কোথায়?
এলপিজি বাজারের বর্তমান পরিস্থিতিতে তাই শুধু ‘সংকট’ শব্দটি দিয়ে সমস্যার ব্যাখ্যা করা কঠিন। কারণ আমদানির পরিসংখ্যান বলছে দেশে পর্যাপ্ত এলপিজি এসেছে। অপারেটররাও বলছেন আমদানিতে সমস্যা নেই। অথচ খুচরা বিক্রেতারা বলছেন তারা সিলিন্ডার পাচ্ছেন না অথবা অনেক বেশি দামে কিনছেন। অন্যদিকে ভোক্তারা নির্ধারিত মূল্যের প্রায় দ্বিগুণ দাম দিয়েও সিলিন্ডার পেতে হিমশিম খাচ্ছেন।
ফলে এখন মূল প্রশ্ন হচ্ছে, আমদানি থেকে অপারেটর, ডিলার, পরিবেশক হয়ে খুচরা বাজার পর্যন্ত সরবরাহ শৃঙ্খলের ঠিক কোন পর্যায়ে স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে?
বাজারে পর্যাপ্ত পণ্য থাকার পরও যদি ভোক্তার কাছে তা না পৌঁছায়, তাহলে শুধু নতুন মূল্য ঘোষণা কিংবা সাময়িক অভিযান দিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে কি না, সেই প্রশ্নও থেকে যাচ্ছে। সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিটি পর্যায়ে মূল্য ও মজুতের তথ্য নজরদারির আওতায় আনা এবং নির্ধারিত মূল্য বাস্তবায়নে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে শেষ পর্যন্ত এর মূল্য দিতে হবে সাধারণ ভোক্তাকেই।
পাঠকের মতামত:
- পূর্ণ ক্ষমতায় রামপালের দুই ইউনিট, জাতীয় গ্রিডে রেকর্ড পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ
- ডিজিটাল হচ্ছে বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন
- দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি দুই সামরিক যানের সংঘর্ষ
- মহাকাশ থেকে ভেসে এলো নতুন সংকেত: বহির্বিশ্বের গ্রহ থেকে প্রথম রেডিও তরঙ্গ শনাক্ত
- দক্ষিণ এশিয়ার মাটিতে বড় ব্যবধানে এগিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা
- বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তাই এখন নতুন স্বাভাবিক: অর্থমন্ত্রী আমির খসরু
- ইসলামাবাদ লং মার্চ বাতিল ও ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে সরগরম পাকিস্তান রাজনীতি
- দলীয় পরিচয় নিয়ে স্পষ্ট বার্তা: আখতারুজ্জামানকে নেতা মানতে রাজি নয় জামায়াত
- শরীরের অতিরিক্ত মেদ ঝরার বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া প্রকাশ
- বয়স কেবল সংখ্যা মাত্র, বৈশ্বিক মঞ্চে ফের চমক প্রবীণ অভিনেত্রীর
- আওয়ামী লীগের সঙ্গে সরকারেরই গোপন যোগাযোগ রয়েছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার
- চ্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রণালিতে চরম উত্তেজনা ও নিরাপত্তা সতর্কতা জারি
- ফুটবলের নতুন ইতিহাস গড়তে প্রস্তুত কলকাতার ক্রীড়াঙ্গন
- একদিনেই ৬১ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি: ফের ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি ইলন মাস্ক
- দিল্লিতে ফের বড় ধরনের রাজনৈতিক উত্তাপ ও বিক্ষোভ
- জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে মানবিক প্রয়াসে শীর্ষ নেতৃত্বের সহধর্মিণীরা
- ট্রাম্পের নৈশভোজের বিশেষ মুহূর্তের ছবি প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- আমি সবসময় এরদোয়ানকে খুশি রাখব: নিষেধাজ্ঞা ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প
- ‘আমরা শেখ হাসিনাকে নিয়ে যাইনি’: ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর স্পষ্ট বক্তব্য
- বিশ্বজুড়ে ডিজেলের চরম সংকটের আশঙ্কা, বৈশ্বিক সরবরাহ ধরে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের তড়িঘড়ি
- প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে তোলপাড় দিল্লি, যন্তর মন্তরে বন্ধ ইন্টারনেট
- পরমাণু অস্ত্রসহ সব ধরণের অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি পুতিনের
- ফেডের সিদ্ধান্তের আগে ডলারের সূচকে পতন, স্বর্ণের বাজারে নতুন মোড়
- ভয়াবহ দুর্ঘটনা থেকে ৩৫ যাত্রীকে রক্ষা, প্রাণ গেল চালকের
- লন্ডনে সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীরের উপস্থিতিতে গ্রেটার চট্টগ্রাম অ্যাসোসিয়েশনের মতবিনিময়
- খানাখন্দে ভরা সড়কের দিন শেষ: এমপি হাসনাত আবদুল্লাহর বরাদ্দে পাকা হচ্ছে ইউছুফপুর সড়ক
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সম্পদ ও মামলা নিয়ে এনসিপি নেতার বিস্ফোরক পোস্ট
- ১৪তম ওয়ানডে বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক সময়সূচি ও ভেন্যু ঘোষণা
- মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার মাঝে ইয়েমেনে নতুন করে বিমান হামলা শুরু
- 'বিশ্বাসঘাতকতার প্রতিশোধ ঠান্ডা মাথায় ভালো': রোনালদোর ক্যাম্প ছাড়ার পর বোনের বিস্ফোরক মন্তব্য
- শপথ নেওয়ার পরের দিনগুলোর বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুললেন ড. আসিফ নজরুল
- ৯টি প্রাকৃতিক সীমানার ৭টিই অতিক্রম করেছে মানুষ, ধেয়ে আসছে অপূরণীয় পরিবেশ বিপর্যয়
- ৩ মাসের মধ্যে দেশ থেকে কিশোর গ্যাং উৎখাতের ঘোষণা চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির
- জলপথ থেকে আকাশসীমা: ইরানকে ঘিরে ওয়াশিংটনের নজিরবিহীন পদক্ষেপ
- ইরানের সর্বোচ্চ নেতার শারীরিক অবস্থা ঘিরে শাশুড়ির গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য
- ইউরেনিয়াম নিয়ে ঢাকার পথে রাশিয়ার বিশেষ বিমান
- বিমানবন্দরে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার
- ‘স্বৈরাচার ও গুপ্ত দল আবার এক হয়েছে’: ফেনী থেকে সতর্ক করলেন তারেক রহমান
- এলপিজি আমদানি পর্যাপ্ত, তবু ১৫৮৫ টাকার সিলিন্ডার ২৯০০: গ্যাস গেল কোথায়?
- চলতি বছর ৪৩ লাখ কৃষক পাবেন ‘কৃষক কার্ড’ ও প্রণোদনা: কৃষি মন্ত্রী
- জ্বালানি তেলের নতুন প্রজ্ঞাপন জারি: অক্টোবর মাসের দর ঘোষণা
- স্কুল ভর্তি থেকে জমি কেনাবেচা: রাজ্যগুলোর কাছে ধর্মভিত্তিক হিসাব তলব ভারতের কমিটির
- উচ্ছেদের আগে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের টেকসই ব্যবস্থার তাগিদ আমীরে জামায়াতের
- দেশে এলপিজি গ্যাসের ঘাটতি নেই, কৃত্রিম সংকট রোধে ডিসিদের কড়া নির্দেশ
- রাড্ডা ক্লিনিক ভাঙচুরে এমপি মিষ্টির নাম, তদন্তে অপরাধী মিললে ছাড় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- জনপ্রীয়তায় শীর্ষে ভাড়াশিমলা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী শফিকুল ইসলাম বিশ্বাস
- মধ্যপ্রাচ্য সংকট: তেহরানে পৌঁছাল যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক জবাব
- লাইন পরিবর্তন কাজ: বৃহস্পতিবার রাজধানীর বেশ কিছু এলাকায় জরুরি বার্তা তিতাসের
- কলকাতায় ভারত-ব্রাজিল ম্যাচের টিকিটে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য ধামাকা অফার
- নূহ (আ.)-এর নৌকার সম্ভাব্য ধ্বংসাবশেষে প্রথমবার ড্রিলিং, ভূগর্ভে মিলল অস্বাভাবিক বস্তুর সংকেত
- ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের আস্থার প্রতীক: গাজী শওকাত হোসেনের পরিবার-সাড়ে পাঁচ দশকের জনসেবা
- জনপ্রীয়তায় শীর্ষে ভাড়াশিমলা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী শফিকুল ইসলাম বিশ্বাস
- পৈতৃক জমির ওপর পিচঢালাই রাস্তার আশঙ্কায় আইনি নোটিশ, যৌথ ভূ-জরিপের দাবি
- জুলাই যোদ্ধা সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরে আমরা ব্যথিত: ন্যায়বিচারের আশ্বাস রাশেদ খাঁনের
- এশিয়ান গেমসের নকআউট পর্বের আগে বড় ধাক্কা বাংলাদেশ ক্রিকেট দলে
- চীনের সাথে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
- বিশ্বমঞ্চে শচীন টেন্ডুলকারের রেকর্ড ভাঙার দ্বারপ্রান্তে বিরাট কোহলি
- ক্রিকেট খেলায় নতুন দিগন্ত: সারা দেশে ট্রায়াল পর্বের সূচনা
- জাতীয় দল ও ইতালিয়ান ক্লাবের টানাপোড়েন: বড় সিদ্ধান্তের মুখে বিশ্বজয়ী তারকা
- জাতীয় নাগরিক পার্টির বড় সিদ্ধান্ত: নতুন জাতীয় দায়িত্বে সারজিস আলম
- আমরা জয়ী হয়েছি তবে বিজয় সুসংহত করতে হবে: তেহরানে ইরানি সেনাপ্রধান
- 'ছাত্ররা নামলেই গুলি করে মারা হবে' ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়ে সর্বোচ্চ শাস্তি চাইলেন জুলাইযোদ্ধা
- ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার ও নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন: মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে বড় খবর
- শেষ হলো ভোট গ্রহণ, ব্যালন ডি'অর জয়ের দৌড়ে এগিয়ে যারা
- ইরানে আর কখনো বিদেশি আধিপত্য ফিরবে না, আরব সাগর থেকেও তাড়ানো হবে শত্রুদের: খামেনি








