কোরবানির ঈদের মুখে বিজেপির নতুন নির্দেশিকায় বিপাকে হিন্দু খামারি ও মুসলিম ক্রেতা

পশ্চিমবঙ্গে সদ্য ক্ষমতায় আসা ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নতুন রাজ্য সরকারের জারি করা একটি বিতর্কিত নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভ, সামাজিক অস্থিরতা ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ধরনের মহাধস নেমেছে। সরকারি কয়েকটি দপ্তর থেকে হঠাৎ করেই গবাদিপশুর বয়স ও শারীরিক সক্ষমতার অফিশিয়াল সার্টিফিকেট ছাড়া উন্মুক্ত হাটে গরু কেনাবেচা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করায় রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী পশুর হাটগুলোতে এক ধরনের তীব্র আতঙ্ক ও স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পবিত্র ঈদুল আজহার (কোরবানির ঈদ) ঠিক আগ মুহূর্তে এই কঠোর নিয়ম জারি হওয়ায় হিন্দু খামারি ও মুসলিম ক্রেতা—উভয় পক্ষই চরম বিপাকে পড়েছেন। গত ৯ মে শপথ নেওয়ার মাত্র ৪ দিন পর, অর্থাৎ ১৩ মে বিজেপি সরকার এই নজিরবিহীন নির্দেশিকা জারি করে।
এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের ফলে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপি রাজনৈতিক ও সামাজিক দিক থেকে তীব্র কোণঠাসা ও চিন্তায় পড়ে গেছে বলে স্বীকার করছেন খোদ দলেরই সংখ্যালঘু নেতারা। উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার প্রভাবশালী বিজেপি নেতা ও সংখ্যালঘু সেলের সহসভাপতি ইউনুস আলী গণমাধ্যমকে স্পষ্ট জানান, এই সিদ্ধান্তের ফলে দল বড় ধরনের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি সংকটে পড়েছে। পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ অর্থনৈতিক সমীকরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে মূলত হিন্দু সম্প্রদায় এবং বিশেষ করে ‘ঘোষ’ ও ‘দাস’ সমাজ গরু লালন-পালন ও দুগ্ধ ব্যবসার সাথে সরাসরি জড়িত।
গরুর বয়স বেড়ে গেলে বা জরুরি অর্থের প্রয়োজনে হিন্দু খামারিরা তা হাটে বিক্রি করেন এবং সাধারণত মুসলিমরা সেই গরু কেনেন। এই স্বাভাবিক অর্থনৈতিক চক্রটি বুঝতে সরকারের বড় ধরনের ভুল হয়েছে।” বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, খামারিরা যদি লোকসানের মুখে গরু পালন বন্ধ করে দেন, তবে মিষ্টি, দই ও ছানার মতো দুগ্ধজাত পণ্যের বাজারে ধস নামবে, যা শিল্পে অনুন্নত পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ অর্থনীতিকে চিরতরে পঙ্গু করে দেবে।
এদিকে এই স্পর্শকাতর ইস্যুটিকে হাতিয়ার করে নবনির্বাচিত বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৃণমূলের প্রভাবশালী সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্র সদ্য নির্বাচিত বিজেপি সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে বেশ কিছু বিস্ফোরক প্রশ্ন ও দ্বিমুখী নীতির (Double-Standard) তথ্য সামনে এনেছেন।
পার্লামেন্টের অফিশিয়াল প্রশ্নোত্তর উদ্ধৃত করে মহুয়া মৈত্র দেখান, ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে ভারত বিশ্ববাজারে মাংস রপ্তানি করে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেছে। এছাড়া মহিষের মাংস বিক্রির শীর্ষ ভারতীয় করপোরেট সংস্থা ‘অ্যালানা গ্রুপ’ খোদ বিজেপির কেন্দ্রীয় তহবিলে ৩০ কোটি টাকা অনুদান বা চাঁদা দিয়েছে। মহুয়ার মূল প্রশ্ন—করপোরেট থেকে কোটি কোটি টাকা অনুদান নেওয়া বা বৈদেশিক মুদ্রা আয় করায় যদি বিজেপির বাধা না থাকে, তবে বাংলার সাধারণ গরিব মানুষের পেটে লাথি মেরে এই ঐতিহ্যবাহী ব্যবসা বন্ধ করার চেষ্টা কেন?
বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে গ্রামীণ খামারিদের যে করুণ চিত্র উঠে আসছে, তাতে দেখা যাচ্ছে বিশেষ করে হিন্দু গোপালক পরিবারের নারীরা ক্যামেরার সামনে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। খামারিদের বক্তব্য—বছরের এই কোরবানি ঈদের সময়ে একটি গরু ভালো দামে বিক্রি করে তাঁরা এককালীন মোটা টাকা রোজগার করেন, যা দিয়ে সারা বছরের কৃষিঋণ এবং বিভিন্ন মাইক্রোক্রেডিট (ক্ষুদ্রঋণ) সংস্থা থেকে নেওয়া চড়া সুদের ধার মেটানো হয়। বিধিনিষেধ দ্রুত শিথিল করা না হলে খামারিদের অনেকেই প্রকাশ্য আত্মহত্যার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তীব্র সামাজিক ও রাজনৈতিক চাপের মুখে থাকলেও পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন বিজেপি নেতারা।
সংখ্যালঘু নেতা ইউনুস আলী অকপটে স্বীকার করেন, বিজেপি মূলত হিন্দুদের কট্টর ভোটে ক্ষমতায় এসেছে, তাই হিন্দু ভোটারদের সন্তুষ্ট করতে তারা আবেগের বশে এমন একটা নির্দেশিকা জারি করতে চেয়েছিল; কিন্তু বাস্তবায়ন করতে গিয়ে উল্টো নিজেদের ভোটারদেরই ক্ষতি করে বসেছে। তবে রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ওপর আস্থা রেখে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ঈদুল আজহার আগেই সরকার আলোচনার মাধ্যমে একটি বাস্তবসম্মত ও নমনীয় সমাধান সূত্র বের করবে।
/আশিক
ঈদের আগে মুসলিমদের গরু কেনা বন্ধ; পশ্চিমবঙ্গে হিন্দু খামারিদের মাঝে হাহাকার
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের নতুন পশুরক্ষা ও কসাইখানা নীতিমালার জেরে আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার আগে গরু কেনা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছেন স্থানীয় মুসলিমরা। আকস্মিক এই সিদ্ধান্তের ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন রাজ্যের হাজার হাজার সনাতন (হিন্দু) ধর্মাবলম্বী খামারি ও গরু ব্যবসায়ী।
কোরবানির ঈদকে লক্ষ্য করে বিপুল অর্থ, সময় ও শ্রমে যেসব গরু তাঁরা লালন-পালন করে মোটাতাজা করেছিলেন, বাজারে আকস্মিক ক্রেতাশূন্যতার কারণে সেগুলো বিক্রি করতে না পেরে খামারিদের মধ্যে হাহাকার ও চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। আজ সোমবার (১৮ মে) মন্ত্রিসভার হাই-ভোল্টেজ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই জটিল পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন রাজ্যের নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
পশ্চিমবঙ্গের নবগঠিত রাজ্য সরকারের এই বিশেষ পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “আমাদের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুরো বিষয়টি নিজে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। এই উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের স্বার্থ সুরক্ষায় খুব তাড়াতাড়ি কোনো সুনির্দিষ্ট বিকল্প পরিকল্পনা বা প্যাকেজ গ্রহণ করবে রাজ্য সরকার।
তবে পুরো বিষয়টির ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই খুব দ্রুত বিস্তারিত ঘোষণা দেবেন।” উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে একটি বড় ঐতিহ্য ছিল যে, কোরবানির ঈদে বিক্রির উদ্দেশ্যেই হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেক প্রান্তিক মানুষ ও খামারি বাণিজ্যিকভাবে গরু মোটাতাজা করতেন এবং এর আগে কখনো তাঁদের বিপণনে কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি।
তবে সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার একটি কঠোর প্রশাসনিক নির্দেশনা জারি করে। নতুন আইন অনুযায়ী, বিশেষ সরকারি অনুমতি ছাড়া রাজ্যটিতে কেউ কোনো গরু বা মহিষ জবাই করতে পারবেন না।
একই সঙ্গে জবাইযোগ্য গরুর বয়স বাধ্যতামূলকভাবে কমপক্ষে ১৪ বছর হতে হবে বলে শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়। এই কঠোর আইনি জটিলতা এবং আইনি হয়রানির আশঙ্কায় এবার ঈদের হাটে মুসলিম ক্রেতারা গরু কেনা থেকে পুরোপুরি বিরত থাকছেন, যা সরাসরি আঘাত হেনেছে সনাতন ধর্মের খামারিদের গ্রামীণ অর্থনীতিতে।
/আশিক
পশ্চিমবঙ্গে বন্ধ হচ্ছে ইমাম ও পুরোহিত ভাতা
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক কল্যাণ নীতিতে এক যুগান্তকারী ও অত্যন্ত বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। আজ সোমবার (১৮ মে) রাজ্য মন্ত্রিসভার হাই-ভোল্টেজ বৈঠকের পর স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে এতদিন চালু থাকা সমস্ত সরকারি সহায়তামূলক ও অনুদান প্রকল্পগুলো ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হবে। রাজ্যের নবগঠিত সরকারের নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল নবান্নে সাংবাদিকদের সামনে এই বড় প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরেন।
মন্ত্রী জানান, চলতি মে মাস পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর সুবিধা যথারীতি পাওয়া যাবে, তবে আগামী জুন মাস থেকে এগুলো আর কার্যকর থাকবে না। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরের অধীনে ধর্মীয় শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তিতে এতদিন যেসব অনুদান, বিশেষ ভাতা বা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হতো, সেগুলোর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হচ্ছে।
এর ফলে পূর্ববর্তী তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে চালু হওয়া ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং সনাতন ধর্মের পুরোহিতদের মাসিক ২ হাজার টাকা করে দেওয়া ‘ভাতা’ প্রকল্পগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়ার পথে। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, এ বিষয়ে খুব শিগগিরই বিস্তারিত নির্দেশিকা (গাইডলাইন) প্রকাশ করবে রাজ্য সরকার।
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের আগে কর্মসংস্থান ও সুশাসনের পাশাপাশি তোষণমুক্ত রাজনীতির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ফলে রাজ্যটিতে সরকার গঠনের মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই এমন নীতিগত ঘোষণা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন ও তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। বিরোধী দলগুলো দীর্ঘদিন ধরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলের এই ভাতা নীতিকে ‘পক্ষপাতমূলক’ এবং ‘রেউরি সংস্কৃতি’ বা স্রেফ ভোটের স্বার্থে সরকারি কোষাগারের অর্থ বিলানো বলে তীব্র সমালোচনা করে আসছিল।
বিশেষ করে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী দীর্ঘদিন ধরে ইমাম-পুরোহিত ভাতার বিরুদ্ধে আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে আসছিলেন, যার প্রতিফলন এবার দেখা গেল নতুন সরকারের প্রথম ক্যাবিনেট সিদ্ধান্তেই। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ধর্মীয় মেরুকরণ কাটিয়ে রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোকে একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ধারায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই এই বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস
ব্রিটিশ আমলের ঔপনিবেশিক মানসিকতা দূর করতে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বদল
তামিলনাড়ুর সচিবালয়ে বহু দশকের পুরোনো এক ঔপনিবেশিক প্রথার ইতি টেনেছেন রাজ্যের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী ও জনপ্রিয় অভিনেতা থালাপতি বিজয়। ব্রিটিশ আমল থেকে চলে আসা সরকারি কর্মকর্তাদের চেয়ারে সাদা তোয়ালে পাতার এই রেওয়াজকে ক্ষমতা ও আমলাতান্ত্রিক দূরত্বের প্রতীক হিসেবে দেখা হতো। শুক্রবার (১৫ মে) এক প্রশাসনিক বৈঠকে নিজের চেয়ার থেকে এই সাদা তোয়ালে সরিয়ে দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসায় ভাসছেন তিনি।
ঘটনার সূত্রপাত পরিবেশ ও সমাজকর্মী লিসিপ্রিয়া কাঞ্জুগামের একটি এক্স (টুইটার) পোস্ট থেকে। তিনি তাঁর পোস্টে লেখেন, সরকারি অফিসের চেয়ারে সাদা তোয়ালে পাতা এখনো ঔপনিবেশিক মানসিকতার প্রতীক। শুধু মন্ত্রীরা নন, অনেক উচ্চপদস্থ আমলাদের ঘরেও এই প্রথা চলছে। তিনি নতুন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের কাছে আবেদন জানান, এই রেওয়াজ বন্ধ করে সাধারণ মানুষের সামনে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করুন।
এই পোস্টের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তামিলনাড়ুর প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন চোখে পড়ে। ১৫ মে সচিবালয়ে প্রশাসনিক বৈঠকে বিজয়ের চেয়ারটি ছিল একদম সাধারণ—উপরে কোনো তোয়ালে বা বাড়তি কাপড় ছিল না।
১০ মে শপথ নেওয়ার পর থেকেই একের পর এক জনবান্ধব সিদ্ধান্তের কারণে আলোচনায় রয়েছেন থালাপতি বিজয়। চেয়ার থেকে তোয়ালে সরানোর বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি। তবে নেটদুনিয়ায় এটাকে ‘প্রতীকী কিন্তু খুবই শক্তিশালী পদক্ষেপ’ বলে সাধুবাদ জানাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
অনেকে মনে করছেন, এর মাধ্যমে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে দূরত্ব কমানোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। লিসিপ্রিয়া কাঞ্জুগাম নিজেও বিজয়কে ধন্যবাদ জানিয়ে লিখেছেন, জনগণের অনুভূতিকে সম্মান জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সঠিক পদক্ষেপ নিয়েছেন।
ইতিহাসবিদদের মতে, ব্রিটিশ আমলে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিশেষ মর্যাদা, আভিজাত্য ও আরামের জন্যই এই প্রথা চালু হয়েছিল। স্বাধীনতার এত বছর পরেও ভারতের প্রশাসনিক সংস্কৃতির রন্ধ্রে রন্ধ্রে সেই মানসিকতা টিকে ছিল। এমন প্রেক্ষাপটে থালাপতি বিজয়ের এই সিদ্ধান্তকে কেবল আসবাবের ভোলবদল নয়, বরং আমলাতন্ত্রের অহংকার ভাঙার একটি বড় রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক বার্তা হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
ইসরায়েলকে পিতৃভূমি ও আমিরাতকে দ্বিতীয় বাড়ি বললেন মোদি
আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক অনন্য ও সুদূরপ্রসারী ভারসাম্যপূর্ণ কৌশলের নজির স্থাপন করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই তিনি একদিকে ইসরায়েলকে ‘পিতৃভূমি’ এবং অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে (ইউএই) নিজের ‘দ্বিতীয় বাড়ি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, মোদির এই অবস্থান প্রমাণ করে যে ভারত নিজের জাতীয় ও জ্বালানি নিরাপত্তা রক্ষায় আরব ও ইসরায়েল—উভয় শিবিরের সঙ্গেই সমান গুরুত্ব দিয়ে সম্পর্ক বজায় রাখছে।
পাঁচ দেশীয় সফরের প্রথম ধাপে শুক্রবার (১৫ মে) আবুধাবি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে স্বাগত জানান সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। সেখানে মোদিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়। দ্বিপাক্ষিক বৈঠককালে মোদি গভীর আবেগ প্রকাশ করে বলেন, “আমি আমার দ্বিতীয় বাড়িতে এসেছি।
এই অনুভূতিটি আমার জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, যেকোনো বৈশ্বিক বা আঞ্চলিক সংকটে আমিরাতের পাশে দাঁড়াতে ভারত বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না। এই বৈঠক থেকে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল (সাপ্লাই চেইন) সচল রাখা এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য নির্বিঘ্ন করার বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এর আগে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল সফরে গিয়ে দেশটির পার্লামেন্ট ‘নেসেটে’ দেওয়া এক বক্তব্যে নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, “ইসরায়েল আমাদের পিতৃভূমি, ভারত আমাদের মাতৃভূমি।” গত এক দশকে প্রতিরক্ষা, সাইবার প্রযুক্তি, কৃষি ও জলব্যবস্থাপনায় দুই দেশের সম্পর্ক নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটেই তিনি এই মন্তব্য করেছিলেন। মোদি উল্লেখ করেন, ভারত ও ইসরায়েলের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ঐতিহাসিক বন্ধন দীর্ঘদিনের।
মোদির এই ‘পিতৃভূমি’ সংক্রান্ত মন্তব্যের পর ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিরোধী দলগুলোর একাংশ তীব্র সমালোচনা করে এর ব্যাখ্যা দাবি করেছে। তবে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি সম্পূর্ণ ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট থেকে বলা হয়েছে এবং একে নিয়ে রাজনীতি করা অনুচিত।
আবুধাবির বৈঠকে মোদি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এই সংঘাত এখন আর আঞ্চলিক নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো সংঘাতের স্থায়ী সমাধান কেবল আলোচনার মাধ্যমেই সম্ভব।
নয়াদিল্লির কূটনৈতিক সূত্রগুলো মনে করছে, নরেন্দ্র মোদির এই পাঁচ দেশীয় সফর এবং আরব-ইসরায়েলকে সমানভাবে আপন করে নেওয়ার নীতি ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে ভারতের ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক প্রভাবকেই ফুটিয়ে তুলছে।
সূত্র: এনডিটিভি, ইন্ডিয়া ডট কম
কোচিং বাণিজ্যের অবসান চান থালাপতি বিজয়: মেডিকেল ভর্তিতে নতুন প্রস্তাব
ভারতে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ভর্তির অভিন্ন প্রবেশিকা পরীক্ষা (NEET) নিয়ে ফের উত্তাল হয়ে উঠেছে জাতীয় রাজনীতি। বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষা বাতিলের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয় সরাসরি এই কেন্দ্রীয় পরীক্ষা ব্যবস্থা বাতিলের দাবি তুলেছেন। তাঁর মতে, একটি কেন্দ্রীয় পরীক্ষার ওপর শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নির্ভর না করে উচ্চমাধ্যমিকের ফলাফলের ভিত্তিতেই মেডিকেল কলেজগুলোতে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা উচিত।
সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে মুখ্যমন্ত্রী বিজয় অভিযোগ করেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকে ধূলিসাৎ করছে। তিনি বলেন, “কোচিং-নির্ভর এই ব্যবস্থা গ্রামীণ ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পিছিয়ে দিচ্ছে।” বিজয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী, ডেন্টিস্ট্রি ও আয়ুষসহ সব ধরনের মেডিকেল কোর্সে ভর্তির ক্ষেত্রে উচ্চমাধ্যমিকের ধারাবাহিক ফলাফলই হওয়া উচিত প্রকৃত যোগ্যতার মানদণ্ড। তিনি মনে করেন, একদিনের তিন ঘণ্টার পরীক্ষা একজন শিক্ষার্থীর মেধা মূল্যায়নের জন্য যথেষ্ট নয়।
তামিলনাড়ু সরকার দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, এই অভিন্ন পরীক্ষা ব্যবস্থা মূলত শহুরে ও ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের সুবিধা দেয়। এর ফলে আঞ্চলিক ভাষায় পড়াশোনা করা মেধাবী শিক্ষার্থীরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। উল্লেখ্য, এই পরীক্ষা থেকে রাজ্যকে ছাড় দেওয়ার জন্য তামিলনাড়ু বিধানসভায় একটি বিল পাস করা হয়েছিল, যা বর্তমানে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের অপেক্ষায় ঝুলে আছে।
সাম্প্রতিক প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ভারতের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও বিরোধী দলগুলো মোদি সরকারের তীব্র সমালোচনা করছে। তদন্তভার কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে থাকলেও পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে। যদিও এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে থালাপতি বিজয়ের এই কঠোর অবস্থান দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
/আশিক
মুখ্যমন্ত্রী হয়েই বিজয়ের মাস্টারস্ট্রোক: তামিলনাড়ু জুড়ে ৭১৭ মদের দোকান বন্ধ
তামিলনাড়ুর নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী এবং জনপ্রিয় অভিনেতা জোসেফ বিজয় ওরফে ‘থালাপতি’ বিজয় ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম দিনেই এক সাহসী ও নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিয়েছেন। মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রথম দিনেই তিনি রাজ্যজুড়ে ৭০০-র বেশি মদের দোকান বন্ধের নির্দেশ জারি করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি নাগরিক অধিকার রক্ষা এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিজের কঠোর অবস্থানের স্পষ্ট বার্তা দিলেন।
মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের নির্দেশ অনুযায়ী, তামিলনাড়ু স্টেট মার্কেটিং কর্পোরেশন (টাসম্যাক) পরিচালিত ৭১৭টি মদের দোকান অবিলম্বে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এই দোকানগুলো মূলত বিভিন্ন মন্দির, মসজিদ, গির্জা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং জনবহুল বাস স্ট্যান্ডের ৫০ মিটারের মধ্যে অবস্থিত ছিল। সরকারি তথ্যমতে, বন্ধ হতে যাওয়া দোকানগুলোর মধ্যে ২৭৬টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কাছে এবং ১৮৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একদম কাছে অবস্থিত। বর্তমানে রাজ্যে মোট ৪ হাজার ৭৬৫টি মদের দোকান থাকলেও এখন থেকে জনবহুল ও সংবেদনশীল এলাকায় মদ বিক্রি নিষিদ্ধ করা হলো।
গত রবিবার ৫১ বছর বয়সী এই মেগাস্টার তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। তার রাজনৈতিক দল 'টিভিকে' (তামিলনাড়ু ভেট্টি কাজাগাম) কংগ্রেস, বামপন্থী এবং মুসলিম লিগের সমর্থন নিয়ে তামিলনাড়ুর ইতিহাসে প্রথমবার একটি জোট সরকার গঠন করেছে। ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-র দীর্ঘদিনের দ্বিমুখী আধিপত্য ভেঙে বিজয়ের এই বিজয়কে ঐতিহাসিক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
মদের দোকান বন্ধের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী বিজয় আরও কিছু জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে প্রতিটি পরিবারের জন্য বিনামূল্যে ২০০ ইউনিট বিদ্যুৎ প্রদান এবং মহিলাদের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ বাহিনী গঠন। এছাড়া জেলাগুলোতে মাদক বিরোধী বিশেষ ইউনিট গড়ার পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছেন তিনি। তবে মদের দোকান বন্ধের ফলে রাজ্যের রাজস্ব আয়ে বড় ধরনের টান পড়ার আশঙ্কা থাকলেও বিজয় তার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন। একই সাথে ডিএমকে আমলের অর্থনীতি নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশের ঘোষণায় দক্ষিণী রাজনীতি এখন উত্তাল।
সূত্র: এবিপি
বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া নির্মাণে বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের নির্দেশ
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এক নাটকীয় সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পথ প্রশস্ত হলো। সোমবার (১১ মে) নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে বেড়া নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি বিএসএফ-এর (BSF) হাতে তুলে দেওয়া হবে।
গত শনিবার শপথগ্রহণের পর আজই ছিল শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক। বৈঠকে রাজ্যের 'জনবিন্যাস বদলে যাওয়া' নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা নতুন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এর আগে জমি নিয়ে রাজ্য-কেন্দ্র রেষারেষির কারণে অনেক জায়গায় কাঁটাতারের কাজ থমকে ছিল, যা নিয়ে কেন্দ্র বারবার অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল। কিন্তু প্রথম দিনই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দপ্তর ও বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তরের অনুমোদন দিয়ে সেই জটিলতার অবসান ঘটালেন শুভেন্দু।
এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং ভূমি ও রাজস্ব সচিবকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এদিকে, নবান্ন ও তার আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে বড় অগ্রগতি হয়েছে। পুলিশ ঝাড়খণ্ডের নম্বর প্লেটযুক্ত একটি গাড়ি জব্দ করার পাশাপাশি তিনজনকে আটক করেছে। ঘাতকদের সন্ধানে পুলিশের একটি দল বর্তমানে উত্তর প্রদেশে অবস্থান করছে।
/আশিক
জনগণের একটি টাকাও স্পর্শ করব না: থালাপতি বিজয়
তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পর নিজের প্রথম ভাষণেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন থালাপতি বিজয়। রোববার (১০ মে) চেন্নাইয়ে শপথ অনুষ্ঠান শেষে সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, "আমি জনগণের একটি টাকাও স্পর্শ করব না এবং ধীরে ধীরে আমার দেওয়া সব প্রতিশ্রুতি পূরণ করব।"
নিজেকে জনগণের 'ছোট ভাই' হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিজয় তার জোটসঙ্গীদের প্রতি কঠোর বার্তা প্রদান করেন। তিনি বলেন, “আমি নিজে কোনো ভুল করব না এবং আমার সঙ্গে থাকা কাউকেও ভুল করতে দেব না। যদি কারও মনে খারাপ কোনো উদ্দেশ্য থেকে থাকে, তবে এখনই তা বাদ দিন।”
নিজের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করে এই অভিনেতা-রাজনীতিবিদ আরও বলেন, “আমি কোনো ফেরেশতা নই; বরং আপনাদের মতোই একজন সাধারণ মানুষ। আমরা যা দিতে পারব না, তেমন কোনো মিথ্যা প্রতিশ্রুতি আমি দেব না। তবে আমি বিশ্বাস করি, আপনাদের পাশে পেলে আমরা অসম্ভবকেও সম্ভব করতে পারব। কাজের মাধ্যমে নিজেকে প্রমাণ করার জন্য আমাকে কিছুটা সময় দিন।”
সূত্র: এনডিটিভি
তামিলনাড়ুতে ‘থালাপতি’ যুগের সূচনা: মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন বিজয়
তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে দীর্ঘ ছয় দশকের প্রথা ভেঙে এক নতুন ইতিহাসের সূচনা হলো। দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার মেগাস্টার থেকে রাজনীতির ময়দানে পা রাখা থালাপতি বিজয় আজ রোববার (১০ মে) তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। এর মধ্য দিয়ে রাজ্যটিতে ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-র দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক আধিপত্যের অবসান ঘটল।
রোববার স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে চেন্নাইয়ের নেহরু স্টেডিয়ামে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শপথ নেন থালাপতি বিজয়। তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকার। গত ৬০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম তামিলনাড়ুতে দ্রাবিড় রাজনীতির দুই প্রধান শক্তিকে পাশ কাটিয়ে তৃতীয় কোনো শক্তির নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলো।
বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ের দল ‘তামিলাগা ভেত্রি কাজাগম’ (টিভিকে) ২৩৪টি আসনের মধ্যে ১০৮টি আসনে জয়লাভ করে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয়। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮টি আসনের ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে তাকে ব্যাপক রাজনৈতিক দৌড়ঝাঁপ ও জোট সমীকরণের মুখোমুখি হতে হয়েছে। গত পাঁচ দিনে তিনি চারবার রাজ্যপালের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। দুই আসন থেকে জয়ী হওয়ায় বিজয়কে একটি আসন ছাড়তে হবে, যার ফলে জোটের হিসাব মেলাতে তাকে আরও কৌশলী হতে হয়।
শুরুতে কংগ্রেসের ৫ জন বিধায়ক বিজয়কে সমর্থন দিলেও রাজ্যপাল সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দাবি করেন। বুধবার কংগ্রেস নেতাদের নিয়ে রাজ্যপালের কাছে গেলেও তিনি আরও সমর্থন জোগাড়ের নির্দেশ দেন। এরপর বৃহস্পতিবারের বৈঠকেও রাজ্যপাল সন্তুষ্ট না হওয়ায় লোক ভবন থেকে জানানো হয় যে, সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় সমর্থন এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
শুক্রবার বড় ধরনের মোড় ঘোরে রাজনীতিতে। ডিএমকে-র সঙ্গ ছেড়ে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই) ও সিপিআই (মার্কসবাদী) তাদের ২ জন করে মোট ৪ জন বিধায়কের সমর্থন বিজয়কে দেওয়ার ঘোষণা দেয়। এতে জোটের শক্তি দাঁড়ায় ১১৬-তে, যা ম্যাজিক ফিগার থেকে ২ কম ছিল। অবশেষে শনিবার সকালে ভিসিকে প্রধান থোল থিরুমাভালাভান এবং পরে আইইউএমএল সমর্থন ঘোষণা করলে বিজয়ের জোটের বিধায়ক সংখ্যা দাঁড়ায় ১২০ জনে।
শনিবার সন্ধ্যায় তামিলনাড়ু কংগ্রেস সভাপতি কে সেলভাপেরুনথাগাই এবং সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক পি শানমুগামকে সাথে নিয়ে রাজভবনে গিয়ে সমর্থনের চিঠি জমা দেন বিজয়। রাজ্যপাল আরলেকার এক ঘণ্টার দীর্ঘ বৈঠক শেষে তাকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন এবং সরকার গঠনের অনুমতি প্রদান করেন। তবে আগামী ১৩ মে’র মধ্যে বিধানসভায় বিজয়ের নেতৃত্বাধীন সরকারকে আস্থা ভোটের মাধ্যমে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি
পাঠকের মতামত:
- কোরবানির ঈদের মুখে বিজেপির নতুন নির্দেশিকায় বিপাকে হিন্দু খামারি ও মুসলিম ক্রেতা
- টয়লেটে নিয়ে পাশবিক নির্যাতন ও হত্যা: পল্লবীর শিশু খুনের রোমহর্ষক জবানবন্দি
- বিদ্যুৎ খাতের নিজস্ব অনিয়ম ও অপচয়ের খেসারত দিতে হবে সাধারণ গ্রাহকদের
- ৫ বার চিঠি ও ১০টি মিটিংয়েও শোনেনি অন্তর্বর্তী সরকার: ইউনিসেফ
- ৫ বার চিঠি ও ১০টি মিটিংয়েও শোনেনি অন্তর্বর্তী সরকার: ইউনিসেফ
- ২০ মে: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ২০ মে: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ২০ মে: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- নারীদের সুন্দর ও আকর্ষণীয় শারীরিক গঠন ধরে রাখার ৫টি বৈজ্ঞানিক ও টেকসই উপায়
- রাজনীতিতে অলিখিতভাবে আওয়ামী লীগ ফিরে এসেছে: মাহফুজ আলম
- পুঁজিবাজার ও এনবিআরসহ পুরো আর্থিক খাত বিকেন্দ্রীকরণের ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর
- পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিয়ে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতকে পেছনে ফেলল বাংলাদেশ
- বেতন বৈষম্য কমছে: নতুন পে স্কেলে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের জন্য বিশেষ সুবিধা
- গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
- ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মাথার দাম ঘোষণা ইরানের
- খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভোররাতে ভয়াবহ আগুন; আতঙ্কে হুড়োহুড়ি
- আজ দুপুরের মধ্যে দেশের তিন বিভাগে ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস
- ইরান যুদ্ধ খুব দ্রুত শেষ করার ঘোষণা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
- তেজাবি স্বর্ণের দাম কমায় দেশের বাজারে সোনার মূল্যে বড় ছাড়
- ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সর্বশেষ সময়সূচি
- একই ভাগে দুই ভাই মিলে কোরবানি দেওয়া নিয়ে কী বলছে ইসলামি শরিয়ত?
- পর্তুগালের বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা; ২৭ সদস্যের দলে ৪ গোলরক্ষক
- মেঘনা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান তাজ ঢাকায় গ্রেফতার
- নানিয়ারচর সেনা জোন কর্তৃক চেঙ্গি নদীতে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
- তনু হত্যা মামলায় নতুন গতি: দেশ ছেড়ে কুয়েতে পালালেন সন্দেহভাজন সাবেক সেনাসদস্য শাহিন
- হিজবুল্লাহর ক্রুজ ড্রোন এখন বড় হুমকি: জরুরি বৈঠক ডেকে পিছু হটলেন নেতানিয়াহু
- ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশ এখন আসল গণতন্ত্রের পথে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- বুধবার ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- হাসিনাকে দেশে এনে ফাঁসি দিলেই বন্ধ হবে সীমান্ত হত্যা: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
- ইমরান খানকে সরাতে মার্কিন চাপের প্রমাণ দিল ড্রপ সাইট
- মামলা থেকে বাঁচতে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতারা এখন ভুঁইফোঁড় সাংবাদিক: তথ্যমন্ত্রী
- নিরাপত্তার কড়া দেয়াল ভাঙলেন প্রধানমন্ত্রী: তেজগাঁওয়ে শিশুদের মাঝে অন্য এক তারেক রহমান
- হরমুজ প্রণালির কেশম দ্বীপে বিকট বিস্ফোরণ
- ইতিহাসের দোরগোড়ায় বাংলাদেশ
- দ্রুতই মাথা উঁচু করে দেশে ফিরব: আনন্দবাজারের সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা
- ১৯ মে: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ১৯ মে: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ১৯ মে: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- টোল না কি কৌশলগত ফাঁদ? হরমুজে ইরানের ক্রিপ্টো-বিমা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড়
- অযথা হয়রানি ও ঘুষ বাণিজ্যের দিন শেষ: স্মার্ট ভূমি ব্যবস্থাপনার ঘোষণা তারেক রহমানের
- টাইগারদের চোখ ঐতিহাসিক জয়ে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন শান মাসুদ ও বাবর আজম
- ভূমিকম্পের আশঙ্কায় ফায়ার সার্ভিসের উন্নয়ন ও অন্যান্য বাহিনীর সমন্বয় জরুরি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- ঈদের আগে মুসলিমদের গরু কেনা বন্ধ; পশ্চিমবঙ্গে হিন্দু খামারিদের মাঝে হাহাকার
- খোলা বাজারে ডলার ও পাউন্ডের দামে নতুন রেকর্ড, হু হু করে বাড়ছে টাকার মান
- এক বছরে শেষ হবে ৫টি স্থানীয় সরকার নির্বাচন: বগুড়ায় মেগা রোডম্যাপ ঘোষণা
- ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের পূর্ণ অধিকার রয়েছে: রাশিয়া
- ইতিহাসের পাতায় নেইমার: কাফু-রোনালদোদের এলিট ক্লাবে হানা দিলেন ১০ নম্বর
- ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সর্বশেষ সময়সূচি
- আজকের গোল্ড আপডেট: মঙ্গলবার দেশজুড়ে কার্যকর হচ্ছে সোনার নতুন দাম
- দিল্লির মানচিত্র ও ভূগোল বদলে দেব ভারতকে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর চূড়ান্ত হুমকি
- ১৮ মে: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- সোনার বাজারে আগুনের হল্কা: নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে ২২ ক্যারেট
- ১৪ মে: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ১৪ মে: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ১৮ মে: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ১৮ মে: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- শেয়ারবাজারের সাপ্তাহিক পুর্নাংগ বিশ্লেষণ
- ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি
- শনিবার বিদ্যুৎ বিভ্রাট, ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- কুমিল্লায় সুজনের সভা: গণতন্ত্র শক্তিশালীকরণের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা
- হরমুজ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের বিরল ঐকমত্য
- নবম পে-স্কেলে কার বেতন কত বাড়তে পারে
- যে ৫ জেলায় সন্ধ্যার মধ্যে ঝড়ের আশঙ্কা
- রাজধানীতে আজ কেমন থাকবে আবহাওয়া
- টাইগারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে দিশেহারা পাকিস্তান: সিলেট টেস্টের রোমাঞ্চকর দ্বিতীয় দিন








