দিল্লির মানচিত্র ও ভূগোল বদলে দেব ভারতকে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর চূড়ান্ত হুমকি

দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে তীব্র পারদ চড়িয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে এক নজিরবিহীন ও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় হুমকি দিয়ে বলেছেন, ভবিষ্যতে ভারত যদি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আর কোনো ধরনের দুঃসাহসিক সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তবে “দিল্লির মানচিত্র ও ভূগোল বদলে যেতে পারে” এবং ভারত চিরতরে “ইতিহাসের অংশে” পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।
ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর সাম্প্রতিক এক আক্রমণাত্মক মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের জনপ্রিয় টকশো ‘ক্যাপিটাল টক’-এ অংশ নিয়ে তিনি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।
খাজা আসিফ দাবি করেন, গত ২২ এপ্রিল থেকে ১০ মে পর্যন্ত চলা ১৯ দিনের রক্তক্ষয়ী সামরিক সংঘাতে ভারত চরম পরাজয়ের মুখে পড়েছে এবং সেই বড় ক্ষতি ও সামরিক লজ্জা পুষিয়ে নিতেই ভারতের নতুন সেনাপ্রধান এখন ফাঁকা বুলি আউড়ে হারানো মর্যাদা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছেন।
তিনি জানান, ভারতের সামরিক অভিযানের জবাবে পাকিস্তান ‘অপারেশন বুনইয়ান-উম-মারসুস’ নামে এক বিশাল পাল্টা আঘাত হানে। ইসলামাবাদের দাবি, ওই অভিযানে ভারতের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি রাফালসহ ভারতের আটটি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এবং বেশ কয়েকটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে পাকিস্তানি বিমান বাহিনী।
তবে এই আকাশচুম্বী দাবির পক্ষে এখনো কোনো স্বাধীন বা আন্তর্জাতিক সত্যতা মেলেনি। প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও খোলসা করেন যে, প্রায় ৮৭ ঘণ্টার টানা সর্বাত্মক সংঘাতের পর পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি মধ্যস্থতায় গত ১০ মে দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে এই সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মতে, এই সাম্প্রতিক যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারত এখন এক চরম “বিব্রতকর ও একাকী” অবস্থার মুখোমুখি হয়েছে। একই সাথে বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে দিল্লির আগের প্রভাবশালী একচেটিয়া কূটনৈতিক সম্পর্ক সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে এবং পাকিস্তান এই অঞ্চলে একটি অত্যন্ত “সম্মানজনক ও শক্তিশালী অবস্থান” তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।
টকশোতে ভারত-ইসরায়েল অক্ষ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে খাজা আসিফ দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে এই অঞ্চলে ভারতের চেয়ে শক্তিশালী কোনো মুসলিম বা অন্য রাষ্ট্রের উত্থান তেল আবিব কখনো চায় না, যার ফলে মোদি সরকার ও ইসরায়েলের কৌশলগত লক্ষ্য ও নোংরা স্বার্থ আজ একই বিন্দুতে মিলে গেছে।
/আশিক
নেতাদের জুয়ার মূল্য নগদে শোধ করছে মার্কিন পরিবারগুলো: ইরান
ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের নেওয়া বৈরী নীতির আর্থিক বোঝা ও মার্কিন নেতাদের ভুল সিদ্ধান্তের মূল্য এখন যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ পরিবারগুলোকে দিতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির আন্তর্জাতিকবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আলি আকবর ভেলায়াতি। তাঁর দাবি, এই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে ভূরাজনৈতিক ও আঞ্চলিক সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ-এর বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধ নীতির অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে কথা বলেন ভেলায়াতি। তিনি উল্লেখ করেন, একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধ নিয়ে গর্ব করছেন, অন্যদিকে স্বয়ং মার্কিন সিনেটর জন কর্নিন যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার লাগামহীন ব্যয় নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
১৯৫৩ সালের ১৯ আগস্ট (ইরানি ক্যালেন্ডারে ২৮ মোরদাদ) ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সংঘটিত অভ্যুত্থানের—যার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মোসাদ্দেকের নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছিল—৭৩তম বার্ষিকীর প্রাক্কালে ভেলায়াতি এ মন্তব্য করেন। তিনি লেখেন, সাত দশকেরও বেশি সময় পর আজ আঞ্চলিক ক্ষমতার সমীকরণ পুরোপুরি বদলে গেছে এবং মার্কিন নেতাদের ঝুঁকিপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির আর্থিক মাশুল সাধারণ আমেরিকান নাগরিকদেরই জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির মাধ্যমে সরাসরি পরিশোধ করতে হচ্ছে।
সুত্র : আইআরএনএ
অবিলম্বে সাদা পতাকা তুলে আত্মসমর্পণ করুক ইরান: ট্রাম্প
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে দেশটিকে কালবিলম্ব না করে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন, সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত না করে তেহরানের উচিত দ্রুত ‘আত্মসমর্পণের সাদা পতাকা’ তুলে ধরা।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন।
সাক্ষাৎকারে মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক ভূরাজনৈতিক ও সামরিক প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করে ট্রাম্প জানান, বিদ্যমান বাস্তবতায় সংঘাত বাড়িয়ে যাওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই এবং সংকট নিরসনে তেহরানের আত্মসমর্পণের পথ বেছে নেওয়াই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত হবে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার চরম উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বার্তা বৈশ্বিক কূটনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করেছে, যা বিশ্লেষকদের মতে পুরো মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও স্পর্শকাতর করে তুলতে পারে।
সূত্র: আল-জাজিরা।
বরফ গলে নতুন রুট: সুয়েজ ও হরমুজকে কি টেক্কা দিতে পারবে চীন-রাশিয়া?
সুয়েজ খাল ও হরমুজ প্রণালির ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি এবং দীর্ঘ দূরত্বের বিকল্প হিসেবে আর্কটিক অঞ্চলের ‘নর্দার্ন সি রুট’ (এনএসআর) দিয়ে নিয়মিত বাণিজ্যিক জাহাজ পরিচালনা শুরু করেছে চীন। বরফাচ্ছাদিত রাশিয়ার উত্তর উপকূল ঘেঁষা ৫ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নৌপথটি চীন ও ইউরোপের মধ্যকার সমুদ্রযাত্রার সময় প্রায় অর্ধেকে কমিয়ে আনলেও এর বিপরীতে পরিবেশগত বিপর্যয় ও নানামুখী পরিচালন ঝুঁকির প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরা।
চীনের শিপিং প্রতিষ্ঠান ‘সি লেজেন্ড’ সম্প্রতি এই পথে নিয়মিত কনটেইনার পরিবহন শুরু করেছে। প্রচলিত সুয়েজ খাল রুটে চীনের নিংবো-ঝৌশান বন্দর থেকে যুক্তরাজ্যের ফেলিক্সস্টো পৌঁছাতে যেখানে ৪০ দিনের বেশি সময় লাগে, সেখানে এই আর্কটিক রুটে সময় লাগছে মাত্র ১৮ দিন। যাত্রাপথ সংক্ষিপ্ত হওয়ায় এটি বিশেষ করে চীনের প্রধান রপ্তানি পণ্য—যেমন বৈদ্যুতিক যান (ইভি), লিথিয়াম ব্যাটারি ও সৌর প্যানেলের মতো তাপমাত্রাসংবেদনশীল পণ্যের দ্রুত সরবরাহে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
২০১৭ সালে ঘোষিত প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ‘পোলার সিল্ক রোড’ রূপরেখার অংশ হিসেবে এবং ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় থাকা রাশিয়ার সাথে বেইজিংয়ের ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধির ফলে রুটটির ব্যবহার গতি পেয়েছে। রুশ রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা 'রোসাটম' এই জলপথে জাহাজ চলাচলের অনুমতি ও পারমাণবিক শক্তিচালিত বরফভাঙা জাহাজের সহায়তা দিচ্ছে।
তবে সময় ও কার্বন নিঃসরণ কমার সুবিধার বিপরীতে পরিবেশবিদরা মারাত্মক আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। আর্কটিকের অতি সংবেদনশীল পরিবেশে কোনো জাহাজ দুর্ঘটনার শিকার হয়ে তেল ছড়িয়ে পড়লে তা অপসারণ প্রায় অসম্ভব। ভারী জ্বালানি থেকে নির্গত কালো কার্বন বরফে জমে সূর্যের আলো শোষণ বাড়ায়, যা বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও বরফ গলার গতিকে আরও ত্বরান্বিত করবে।
এছাড়া যথাযথ বিমা ও তদারকিহীন রাশিয়ার ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা নিষেধাজ্ঞা এড়ানো প্রায় ১০০টি জাহাজের এই রুটে চলাচল ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান, উদ্ধারকাজে দীর্ঘসূত্রতা ও সীমিত মৌসুমের কারণে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন—সম্ভাবনা থাকলেও এই মুহূর্তে নর্দার্ন সি রুট সুয়েজ খাল বা হরমুজ প্রণালির পূর্ণাঙ্গ বিকল্প হতে পারছে না।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
ট্রাম্পের মেয়াদে আর্থিক পরিস্থিতির অবনতি: মার্কিন জরিপে চাঞ্চল্যকর তথ্য
যুক্তরাষ্ট্রে আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রকাশিত এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে দেশটির অর্ধেকেরও বেশি নাগরিকের আর্থিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের সহায়তায় লন্ডনভিত্তিক অরাজনৈতিক গবেষণা সংস্থা ফোকালডাটা এই জরিপটি পরিচালনা করে।
জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, ৫৩ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার জানিয়েছেন যে ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আগের চেয়ে খারাপ হয়েছে। এর মধ্যে ৫৭ শতাংশ নির্দলীয় ভোটার এবং প্রায় এক-চতুর্থাংশ রিপাবলিকান সমর্থক রয়েছেন। এছাড়া জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার মনে করেন মার্কিন অর্থনীতি বর্তমানে ভুল পথে পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে মাত্র ২৫ শতাংশ মানুষ মনে করেন এটি সঠিক পথে রয়েছে।
মুদ্রাস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং কর্মসংস্থান মোকাবিলার ক্ষেত্রে ভোটাররা ক্ষমতাসীন রিপাবলিকানদের তুলনায় ডেমোক্র্যাটদের ওপর বেশি আস্থা প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকায় ৬৪ শতাংশ ভোটার সরাসরি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সামগ্রিকভাবে প্রেসিডেন্টের কাজের প্রতি ৫৫ শতাংশ মানুষ অনাস্থা জানিয়েছেন এবং তাঁর নিজ দল রিপাবলিকানদের মধ্যেও তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ৮ শতাংশ পয়েন্ট হ্রাস পেয়েছে।
আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে কাকে সমর্থন করবেন—এমন প্রশ্নে ৪৪ শতাংশ ভোটার ডেমোক্র্যাটদের এবং ৩৯ শতাংশ রিপাবলিকানদের প্রতি সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। জরিপের বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটরা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করা দলটির জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
মূল্যস্ফীতি ও প্রকৃত মজুরি হ্রাসের প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষের অসন্তোষের মুখে ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছেন হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেশাই। তিনি দাবি করেন, সরকার প্রেসক্রিপশন ওষুধের দাম কমানো, দেশে কর্মসংস্থান ফিরিয়ে আনা এবং কর হ্রাসের মাধ্যমে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় রয়েছে। পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনে সরকার উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে বলেও তিনি জানান।
গত ৭ থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত ১ হাজার ৯১৩ জন নিবন্ধিত ভোটারের মতামতের ভিত্তিতে এই জরিপটি পরিচালিত হয়।
সূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।
ইরানকে পরমাণু অস্ত্রহীন রাখতে বাড়তি তেলের দামও মেনে নেওয়া যায়: ট্রাম্প
ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য মেনে নেওয়ার জন্য আমেরিকানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানকে ‘ভীষণ শয়তান’ আখ্যা দিয়ে তিনি দাবি করেন, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নস্যাৎ করাই চলমান সামরিক অভিযানের অন্যতম মূল উদ্দেশ্য।
অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নাকচ করে ওয়াশিংটনকে পরাজয়ের বাস্তবতা মেনে নেওয়ার বার্তা দিয়েছে তেহরান। দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে স্পষ্ট করেছেন, যুদ্ধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতেই থাকবে এবং এই জলপথ দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলের বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা ইরানবিরোধী সামরিক সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা কেপলার জানিয়েছে, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন গড়ে ১৩০টির বেশি জাহাজ চলাচল করলেও শুক্রবার মাত্র দুটি জাহাজ এ প্রণালি অতিক্রম করেছে, যার কোনোটিতেই অপরিশোধিত তেল ছিল না।
নিউইয়র্কের গার্ডেন সিটিতে এক রাজনৈতিক সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, পারমাণবিক হুমকি মোকাবিলায় গ্যাসোলিনের জন্য কিছুটা বাড়তি ব্যয় করা অযৌক্তিক নয়। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের হিসাবে, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিনের গড় দাম ৪.০৮ ডলারে পৌঁছেছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৯ শতাংশ বেশি। এই মূল্যবৃদ্ধি অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ও আসন্ন কংগ্রেস নির্বাচনের আগে ভোটারদের মধ্যে অস্বস্তি বাড়াচ্ছে। একই সময়ে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক সপ্তাহে ৬ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআই তেলের দাম ৫.৪ শতাংশ বেড়েছে।
এদিকে যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে ইরানেও অর্থনৈতিক সংকট তীব্র হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অভ্যন্তরীণ উচ্চ মূল্যস্ফীতির জন্য মার্কিন বন্দর অবরোধ ও তেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞাকে দায়ী করেছেন। বিপরীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট আগামী সপ্তাহেই তেহরানের ওপর আরও কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সার্বিকভাবে কূটনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় জুনে যুদ্ধ বন্ধের যে আলোচনা চলছিল, তা এখন পুরোপুরি ভেস্তে গেছে।
সূত্র : রয়টার্স।
১৯৫৩ সালের পর আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি? উত্তর কোরিয়ার কোর্টে বল ঠেলল দক্ষিণ কোরিয়া
দীর্ঘদিনের বৈরিতা দূর করে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ সমাপ্তির লক্ষ্যে প্রতিবেশী উত্তর কোরিয়াকে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং। ১৯৫৩ সালে একটি অস্ত্রবিরতি চুক্তির মাধ্যমে কোরীয় যুদ্ধ থামলেও, কৌশলগত ও কাগজে-কলমে উভয় দেশ এখনও যুদ্ধরত অবস্থায় রয়েছে। জাপানি ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তি দিবসের ভাষণে এই ঐতিহাসিক আহ্বান জানান তিনি।
প্রেসিডেন্ট লি উল্লেখ করেন, দুই দেশের অসামরিকীকৃত সীমান্ত এলাকায় (ডিএমজেড) যেকোনো ধরনের উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাত রোধে নতুন নিরাপত্তা রূপরেখা প্রণয়ন করা আবশ্যক। একই সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে সরাসরি আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। তার প্রশাসন চায় উভয় দেশই পারস্পরিক ক্ষতিসাধনের মনোভাব ত্যাগ করে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নীতিতে ফিরে আসুক।
গত বছর সিউলের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই উত্তর কোরিয়া ও চীনের সাথে কূটনৈতিক ও আঞ্চলিক সম্পর্ক উন্নয়নে ইতিবাচক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন লি জে-মিয়ং। ২০২২ সালে পিয়ংইয়ং নিজেদেরকে পূর্ণাঙ্গ পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা দেয় এবং কোনো অবস্থাতেই নিরস্ত্রীকরণে যাবে না বলে কঠোর অবস্থানে থাকে। অবশ্য প্রেসিডেন্ট লি আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, উত্তর কোরিয়ার অস্ত্র কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার মতো বাস্তবসম্মত চুক্তিতে তার সরকার সমর্থন দিতে প্রস্তুত।
তবে দক্ষিণ কোরিয়ার এই শান্তি প্রস্তাবের ব্যাপারে পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি। বরং প্রস্তাবের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়াকে কেন্দ্র করে গত মঙ্গলবার সমুদ্র অভিমুখে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে উত্তর কোরিয়া, যা চলতি বছরে তাদের পরিচালিত ১১তম ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা।
সূত্র: বিবিসি।
সাগরে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা: ক্ষোভে ফুঁসছে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নাবিকরা
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এর বেশ কয়েকজন নাবিক ও মেরিন সেনা সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন বলে তথ্য সামনে এসেছে। এ ঘটনায় রণতরীটিতে অবস্থানরত প্রায় ৫ হাজার সামরিক সদস্যের মানসিক স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
নেভি টাইমস এবং স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজে দায়িত্ব পালনকালে একাধিক সদস্যের সমুদ্রে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা আটকে দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের বন্দর বিরতি ছাড়াই সদস্যরা টানা ২৫০ দিন ধরে সাগরে অবস্থান করছেন, যা আধুনিক মার্কিন নৌবাহিনীর ইতিহাসে অন্যতম দীর্ঘতম একটানা মোতায়েন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
সম্প্রতি সান দিয়েগোতে নৌবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রায় দুই শতাধিক নাবিকের স্বজনরা এই দীর্ঘমেয়াদী মিশন এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের মানসিক বিপর্যয় নিয়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ জানান।
এক নাবিকের স্ত্রী জানান, মানসিক অবসাদে তার স্বামী তাকে বার্তা পাঠিয়ে লিখেছিলেন যে তিনি সম্ভবত পরদিন আর নাও বাঁচতে পারেন। আরেকজন পরিবার সদস্য নিশ্চিত করেছেন যে, চরম মানসিক চাপের মুখে তাঁর স্বামী সাগরে ঝাঁপ দিয়ে জীবন শেষ করার পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।
দীর্ঘ মোতায়েনের পাশাপাশি রণতরীর অভ্যন্তরীণ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়েও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার আইনপ্রণেতা মাইক লেভিন। তিনি উল্লেখ করেন, রণতরীটিতে নষ্ট শৌচাগার, ছত্রাকযুক্ত গোসলখানা, দীর্ঘ সময় ধরে লন্ড্রি ব্যবস্থা অচল থাকা এবং পর্যাপ্ত গরম পানির তীব্র অভাব রয়েছে। এছাড়াও খাবারের মান ও সরবরাহে ঘাটতির বিষয়গুলোও সামনে এসেছে।
গত বছরের ২১ নভেম্বর সান দিয়েগো থেকে সমুদ্রযাত্রা শুরু করেছিল ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। শুরুর দিকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দায়িত্বে থাকার কথা থাকলেও পরবর্তীতে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে তৈরি হওয়া সংঘাতের কারণে রণতরীটিকে মধ্যপ্রাচ্যে স্থানান্তর করা হয়। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী গত মে মাসে এই দায়িত্ব শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে মেয়াদ বাড়িয়ে নেওয়া হয়।
যদিও এর আগে জাহাজের সার্বিক দুরবস্থা সংক্রান্ত খবরগুলোকে ভিত্তিহীন বা মিথ্যা দাবি করে উড়িয়ে দিয়েছিলেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তবে নতুন করে আত্মহত্যার চেষ্টার খবর সামনে আসায় মার্কিন নৌবাহিনীর সদস্যদের কাজের পরিবেশ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে আবারও জোরালো প্রশ্ন উঠেছে।
সূত্র: পার্সটুডে
ক্ষমতার পাঁচ বছর: নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণে তালেবান, চরম সংকটে আফগান অর্থনীতি
২০২১ সালের ১৫ আগস্ট ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার পর পাঁচ বছর পূর্ণ করল তালেবান। দীর্ঘ এই সময়ে আফগানিস্তানে বিদেশি সেনার উপস্থিতি নেই এবং বড় ধরনের কোনো সামরিক প্রতিরোধও গড়ে ওঠেনি, যার মাধ্যমে দেশটিজুড়ে নিজেদের শাসন সুসংহত করেছে শাসকগোষ্ঠীটি। তবে অভ্যন্তরীণ এই স্থিতিশীলতার বিপরীতে অর্থনৈতিক দৈন্য, আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা এবং কঠোর দমননীতির কারণে আফগানিস্তান ক্রমশ এক সংকটাপন্ন রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে নারী ও মেয়েদের ওপর আরোপ করা লাগাতার বিধিনিষেধ বর্তমান শাসনব্যবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ক্ষমতাকেন্দ্রিক বিন্যাসে রাজধানী কাবুলে আনুষ্ঠানিক প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হলেও মূল কর্তৃত্ব রয়েছে কান্দাহারে। তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা কান্দাহার থেকেই রাষ্ট্রীয় নীতি ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো নিয়ন্ত্রণ করছেন। প্রধানমন্ত্রী, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতো প্রভাবশালী পদগুলোতে কান্দাহারভিত্তিক কট্টরপন্থি নেতাদের প্রভাব স্পষ্ট। অন্যদিকে কাবুলে অবস্থান করে মোল্লা আবদুল গনি বারাদার, সিরাজউদ্দিন হাক্কানি, মাওলভি ইয়াকুব ও আমির খান মুত্তাকির মতো জ্যেষ্ঠ নেতারা প্রশাসন, অর্থনীতি ও বহির্বিশ্বের সাথে কূটনৈতিক যোগাযোগ রক্ষা করছেন; যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে কান্দাহারের আধিপত্যই বজায় থাকে। আনুগত্য ধরে রাখতে সামরিক শক্তির পাশাপাশি পৃষ্ঠপোষকতা, রাষ্ট্রীয় সুবিধা ও ধর্মীয় নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছে কর্তৃপক্ষ, যেখানে প্রায় ১৫ হাজার মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
ক্ষমতাগ্রহণের পর থেকেই মারাত্মক আর্থিক সংকটে নিমজ্জিত রয়েছে আফগান অর্থনীতি। পূর্বে যেখানে সরকারি ব্যয়ের প্রায় ৭৫ শতাংশ বিদেশি অনুদান থেকে নির্বাহ হতো, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সাথে সাথে তা বন্ধ হয়ে যায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে থাকা দেশটির প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ জব্দ করা হয়। নিজস্ব উদ্যোগে শুল্ক ও খনিজ খাত থেকে রাজস্ব আদায় বাড়ানো হলেও সাধারণ নাগরিকদের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটেনি; এখনও দেশটির প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ দৈনন্দিন ন্যূনতম চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) তথ্যমতে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে অর্জিত ২.৩ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১.৯ শতাংশে নেমে এসেছে। উপরন্তু, ইরান ও পাকিস্তান থেকে ২০২৩ সালের পর ৫০ লাখের বেশি আফগানকে ফেরত পাঠানোয় দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
তালেবান সরকারের সবচেয়ে সমালোচিত দিক হলো নারীদের অধিকার হরণ। নারীদের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বন্ধ করার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা, স্বাধীনভাবে চলাচল, চাকরি এবং জনপরিসরে অংশগ্রহণে জারি করা হয়েছে কঠোর নিষেধাজ্ঞা। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা ও প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে নারীদের ওপর প্রাতিষ্ঠানিক নিপীড়নকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য করে গোপন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের মূল্যায়নে, নারীদের কর্মসংস্থান থেকে দূরে সরিয়ে রাখার ফলে আফগানিস্তান বছরে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার বা জাতীয় জিডিপির প্রায় ৬ শতাংশ সমপরিমাণ অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছে।
একসময়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র পাকিস্তানের সাথেও তালেবানের সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটল ধরেছে। ইসলামাবাদভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানকে (টিটিপি) আশ্রয় ও সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে দুই দেশের সীমান্তে নিয়মিত উত্তেজনা বিরাজ করছে। পাকিস্তান ইতিমধ্যে ২৬ লাখের বেশি আফগানকে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে এবং সীমান্তে বাণিজ্যিক পথ বন্ধের পাশাপাশি আফগান ভূখণ্ডে বিমান হামলাও চালিয়েছে। টিটিপির সঙ্গে আদর্শিক ঘনিষ্ঠতা থাকায় তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া তালেবানের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের জন্যও একটি বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
একই সময়ে দেশটির ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, বিশেষ করে মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৫ শতাংশ প্রতিনিধিত্বকারী শিয়া ও হাজারা জনগোষ্ঠী তীব্র বৈষম্য ও বাধার মুখে রয়েছে। শিয়া ধর্মীয় শিক্ষা ও আইনি অধিকার খর্ব করার পাশাপাশি তাদের শীর্ষ আলেমদের প্রাদেশিক কাউন্সিল থেকে দূরে রাখা হয়েছে এবং সালাফি মতাবলম্বীদের ওপরও দমনপীড়ন অব্যাহত রয়েছে।
সামরিক দিক থেকে তালেবানের বিরুদ্ধে কোনো সুসংগঠিত সশস্ত্র বিরোধী জোট বা বিদেশি সমর্থনপুষ্ট বিকল্প শক্তি না থাকলেও অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের কোন্দল এবং অর্থনৈতিক স্থবিরতা তাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। চীন, রাশিয়া কিংবা মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে বাস্তবমুখী কিছু বাণিজ্যিক যোগাযোগ বজায় থাকলেও পশ্চিমা দেশগুলোর আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ছাড়া দেশটির স্থায়ী অর্থনৈতিক ও মানবিক উত্তরণ অনিশ্চিত।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ টেনে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিল ইরান
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সংঘাত বা যুদ্ধ শুরু হলে তা প্রয়োজনভেদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত দীর্ঘায়িত করতে প্রস্তুত ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) জ্যেষ্ঠ কমান্ডার মোহাম্মদ রেজা নাকদি সম্প্রতি এমনই এক কঠোর কৌশলগত বার্তা দিয়েছেন।
মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম পিবিএসকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে জেনারেল নাকদি জানান, লড়াই বা সংঘাতের সময় যত বাড়বে, আইআরজিসি তথা ইরান বাস্তব যুদ্ধের কৌশল ও অভিজ্ঞতা তৈরিতে ততটাই সমৃদ্ধ হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ইরানের ওপর নতুন করে যেকোনো ধরণের হামলা চালানোর আগে তা যে অত্যন্ত ব্যয়বহুল হবে—সেই বার্তাই প্রতিপক্ষ ওয়াশিংটনকে দিতে চায় তেহরান।
সাক্ষাৎকারে নাকদি স্বীকার করে নেন যে, মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে লড়াই পরিচালনার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা আগে ইরানের ছিল না, যা তারা বিগত কয়েক মাসের পরিস্থিতি ও সংঘাত থেকে রপ্ত করেছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পুরো মেয়াদজুড়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়াই তেহরানের চূড়ান্ত কৌশল কি না—সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের বিপরীতে নাকদি স্পষ্ট করেন যে, তাদের আসল লক্ষ্য যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করে প্রতিপক্ষকে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে ক্ষয় করা। এর মাধ্যমে এমন এক অনমনীয় প্রতিরোধ ও জবাবের সক্ষমতা দাঁড় করানোই লক্ষ্য, যেন ভবিষ্যতে কেউ ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের চিন্তা করার সাহস না পায়।
সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাব্য আশঙ্কা নিয়ে সতর্কবার্তাও দেন এই জ্যেষ্ঠ কমান্ডার। তিনি মন্তব্য করেন, সংঘাতের মধ্যে মার্কিন প্রশাসন যদি এমন ভুল সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তা ওয়াশিংটনের জন্য সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হবে এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা তাদের সকল সামরিক ঘাঁটিগুলোকে সরাসরি ঝুঁকিতে ফেলবে। অবশ্য ইরানের নিজস্ব পারমাণবিক বোমা তৈরির ব্যাপারে কথা বলতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, তেহরানের ক্ষমতার আসল উৎস জনগণ ও অভ্যন্তরীণ প্রতিরোধ, পারমাণবিক বোমার দিকে যাওয়ার প্রয়োজন তাদের নেই।
নিজের দেশের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদন ব্যবস্থার সক্ষমতা তুলে ধরে নাকদি জানান, বর্তমানে ইরান প্রতিদিন যে পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন করছে, তা সংঘাতের ব্যবহৃত সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি। তাই সামরিক হামলা ও যুদ্ধ যদি বছরের পর বছর ধরেও চলে, তাহলেও শেষ দিন পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে যেতে সক্ষম থাকবে তেহরান।
এদিকে মার্কিন ও ইরানি কর্তৃপক্ষের সামরিক উত্তেজনার মাঝে আন্তর্জাতিক বলয়ে মধ্যস্থতা বা কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি আসেনি। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ দাবি করে দু দেশই একে অপরের মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। রাজনৈতিক সমঝোতা না এলে এবং এই সামরিক অচল অবস্থা প্রলম্বিত হলে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যদস্তু হওয়ার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মক অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- নেতাদের জুয়ার মূল্য নগদে শোধ করছে মার্কিন পরিবারগুলো: ইরান
- সুরক্ষা নিশ্চিত না হলে স্বাধীন সাংবাদিকতা অসম্ভব: বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ
- বাণিজ্য বাধা দূর করতে ঢাকায় ভারতের শীর্ষ ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল
- ২০২৮-২৯ থেকে নতুন অর্থবছর: ৯ মাসের অন্তর্বর্তী বাজেট ২০২৭-২৮ অর্থবছরে
- মক্কা-মদিনায় হজযাত্রীদের আবাসন নিয়ে পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নতুন নিয়ম
- সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্টের পারফরম্যান্স জানাবে গুগল সার্চ কনসোল
- অনুমতি ছাড়া মিছিলের চেষ্টা: হবিগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৩ নেতা আটক
- সরকারের ছয় মাস পূর্তিতে চরমোনাই পীরের ৬ দফা পরামর্শ
- বদলে যাচ্ছে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম: আসছে একগুচ্ছ বড় পরিবর্তন
- অবিলম্বে সাদা পতাকা তুলে আত্মসমর্পণ করুক ইরান: ট্রাম্প
- বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সহজ হচ্ছে ভিসা নীতি: শিক্ষামন্ত্রী
- দেশের ১৫ অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির নতুন পূর্বাভাস
- বরফ গলে নতুন রুট: সুয়েজ ও হরমুজকে কি টেক্কা দিতে পারবে চীন-রাশিয়া?
- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি সফরের আমন্ত্রণ জানালেন মোহাম্মদ বিন সালমান
- নবম জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ
- জননিরাপত্তা নিশ্চিতে রায়পুরা থানায় দুটি পুলিশ ভ্যান দিলেন এমপি বকুল
- ট্রাম্পের মেয়াদে আর্থিক পরিস্থিতির অবনতি: মার্কিন জরিপে চাঞ্চল্যকর তথ্য
- এখানকার সরকারই আমি, কুষ্টিয়ায় লাঠি মিছিলে আমির হামজার হুঁশিয়ারি
- শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে ফিরলেও পাবেন না বিলম্ব মার্জনা: ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশন
- মধ্যরাতের মধ্যে যেসব এলাকায় ৬০ কিমি বেগে ঝড় হতে পারে
- জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়তে চায় সরকার: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
- ভারত-পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের বিশ্বরেকর্ড
- কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে যেসব অভ্যাস বর্জনীয়
- নারীদের অনার্স পর্যন্ত পড়াশোনা ফ্রি করার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
- টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলতে বাংলাদেশের সামনে যে সমীকরণ
- হরমুজ সংকটেও বাড়েনি তেলের দাম, নেপথ্যে চীনের গোপন চাল
- ড. ইউনূসের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আইনি নোটিশ
- ইরানকে পরমাণু অস্ত্রহীন রাখতে বাড়তি তেলের দামও মেনে নেওয়া যায়: ট্রাম্প
- গত ১৭ বছরের সব হত্যাকাণ্ডের বিচার করা হবে: আইনমন্ত্রী
- বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট কাটতে কমপক্ষে দুই বছর লাগবে: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী
- কুষ্টিয়ায় জামায়াত ও গণঅধিকার পরিষদের সংঘর্ষ: এমপি আমির হামজার গাড়িতে হামলা
- মেটার নতুন এআই অ্যাপে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য নতুন সুবিধা
- বিএনপির জনপ্রিয়তার মূল কারিগর ছিলেন খালেদা জিয়া: মির্জা ফখরুল
- সংগ্রামের পথ পেরিয়ে নেতৃত্বের সর্বোচ্চ শিখরে—ত্যাগ, যোগ্যতা ও আনুগত্যের ঐতিহাসিক স্বীকৃতি
- ফরিদপুরে গভীর রাতে প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি
- চব্বিশ ঘণ্টার ব্যবধানে স্বর্ণের দামে পরিবর্তন
- ১৯৫৩ সালের পর আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি? উত্তর কোরিয়ার কোর্টে বল ঠেলল দক্ষিণ কোরিয়া
- সামনে হারিকেন পেছনে ফ্যান, বিরোধীদের প্রতিবাদ নিয়ে তারেক রহমানের কটাক্ষ
- শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করে ফেসবুকে শ্রদ্ধা জানালেন সাকিব আল হাসান
- নিজের হায়াত কমিয়ে নেত্রীর হায়াত বাড়াও— মাজারে মিলল আবেগঘন চিঠি
- বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে দুঃখ প্রকাশ, বিরোধীদের বাস্তবসম্মত সমাধান দেওয়ার আহ্বান তারেক রহমানের
- সাগরে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা: ক্ষোভে ফুঁসছে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নাবিকরা
- ইতিহাসে নাম লেখানোর দিনে টাইগারদের লড়াকু ব্যাটিংয়ের প্রশংসায় হ্যাজলউড
- গ্যাস সংকট আমাদের তৈরি নয়, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া: বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী
- ক্ষমতার পাঁচ বছর: নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণে তালেবান, চরম সংকটে আফগান অর্থনীতি
- দীর্ঘ ২৩ বছরের উপস্থিতির ইতি, ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাক ছাড়ছে সব মার্কিন সেনা
- দেশজুড়ে বিশেষ নজরদারি! ১৫ আগস্ট ঘিরে নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ করছে র্যাব
- ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ টেনে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিল ইরান
- দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা ও আবহাওয়া দপ্তরের নতুন নির্দেশনা
- চাঁদ দেখা যায়নি, ঈদে মিলাদুন্নবীর চূড়ান্ত তারিখ জানাল ইসলামিক ফাউন্ডেশন
- সৌদি যুবরাজকে ফোন জেলেনস্কির, ফোনালাপে যে চুক্তি আলোচনায়
- বাংলাদেশের ৪৬ ধাপ পেছনের দেশ খেলবে বিশ্বকাপে
- স্বর্ণের বাজারে বড় লাফ, নতুন দাম জানাল বাজুস
- তারেক রহমানের সঙ্গে ভিসা প্রেসিডেন্টের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা
- এসএসসির ফল পুনর্নিরীক্ষণ শুরু আজ, আবেদন করবেন যেভাবে
- আজ শপিংয়ের পরিকল্পনা? এই মার্কেটগুলো থাকবে বন্ধ
- আজকের নামাজের সময়: ফজর থেকে ইশা একনজরে
- হাসিনা-কাদের-হাছানের নতুন কল রেকর্ড ট্রাইব্যুনালে
- প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বন্ধ ৩ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল চালুর চুক্তি স্বাক্ষর
- সরাসরি সম্প্রচার ও সরাসরি গণনা: যেভাবে জানা যাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফল
- নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় নতুন গতি
- জীবনের সেরা উপদেষ্টাকে হারিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মেসি আবেগপ্লাবিত
- ইন্টার মায়ামি ও বিশ্ব ফুটবলে মেসির ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তা
- ডিজিটাল সেবা সত্ত্বেও কেন দালাল ধরে লাইসেন্স পেতে হয়, প্রশ্ন জাইমা রহমানের
- পরিবেশ রক্ষায় মোস্তফা হাকিম ব্লাড ব্যাংকের চারা বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ








