মধ্যপ্রাচ্য সংকট: তেহরানে পৌঁছাল যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক জবাব

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসনে ইরানের দেওয়া সাম্প্রতিক প্রস্তাবের বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক চিঠি তেহরানে পৌঁছেছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মৌখিকভাবে এই প্রস্তাবের সমালোচনা ও প্রত্যাখ্যান করলেও, কাতার ও ওমানের মধ্যস্থতায় আসা ওয়াশিংটনের আনুষ্ঠানিক জবাবি চিঠিটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ইরানের মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কাছে হস্তান্তর করেছেন।ইরান সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জবাব হস্তান্তরের তথ্য নিশ্চিত করা হলেও, উক্ত চিঠিতে ওয়াশিংটনের ঠিক কী ধরনের প্রতিক্রিয়া বা শর্ত রয়েছে তা আনুষ্ঠানিকভাবে গোপন রাখা হয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই দীর্ঘ সংঘাত বন্ধে এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করতে তেহরান সাতটি শর্তসহ নতুন রূপরেখা দিয়েছিল। ইরানের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—অবিলম্বে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, যুক্তরাষ্ট্রে অবরুদ্ধ কোটি কোটি ডলার অর্থ মুক্তকরণ, তেল রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং মার্কিন নৌবাহিনীর সমুদ্র অবরোধ তুলে নেওয়া।
কূটনৈতিক পর্যায়ে মধ্যস্থতা বলবৎ থাকলেও মাঠের লড়াই ও অর্থনৈতিক চাপ বজায় রয়েছে। কৌশলগত হরমুজ প্রণালীতে ছোট আকৃতির নৌযানের গতিবিধি দেখলেই ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে, তেহরানের ওপর সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিমান সংস্থাসমূহের ওপর নতুন দফায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে এবং যেকোনো দেশ বা সংস্থা তাদের সহায়তা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
সূত্র: সিএনএ
নূহ (আ.)-এর নৌকার সম্ভাব্য ধ্বংসাবশেষে প্রথমবার ড্রিলিং, ভূগর্ভে মিলল অস্বাভাবিক বস্তুর সংকেত
ইরান সীমান্তবর্তী তুরস্কের আগ্রি দোগুবেয়াজিত জেলায় অবস্থিত জাহাজের আকৃতির একটি ভূতাত্ত্বিক কাঠামোতে সম্প্রতি মাঠপর্যায়ের যৌথ সমীক্ষা শেষ করেছে সিভাস জুমহুরিয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আন্তর্জাতিক গবেষক দল। অনেকের ধারণা, এই বিশেষ কাঠামোটি হযরত নূহ (আ.)-এর সেই ঐতিহাসিক নৌকার ধ্বংসাবশেষ।
নতুন এই অনুসন্ধানে ড্রিলিংয়ের মাধ্যমে সংগৃহীত মাটির নমুনা এবং রাডার স্ক্যানে ভূগর্ভে কিছু অসামঞ্জস্য ও অস্বাভাবিক বস্তুর উপস্থিতি ধরা পড়েছে। মাটির নিচে চিহ্নিত এই নমুনা ও বস্তু প্রাকৃতিকভাবে গঠিত নাকি মানুষের তৈরি, তা নিশ্চিত হতে বর্তমানে বিভিন্ন গবেষণাগারে বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, সব তথ্য-উপাত্ত মূল্যায়নের পর আগামী বছরের এপ্রিল বা মে মাসের মধ্যে এ বিষয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হতে পারে।
ঐতিহাসিক এই কাঠামোটি প্রথম নজরে আসে ১৯৫৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর, যখন তুরস্কের সশস্ত্র বাহিনীর হয়ে আকাশপথে জরিপ চালানোর সময় ম্যাপিং ইঞ্জিনিয়ার ইলহান দুরুপিনার এটি আবিষ্কার করেন। পরবর্তী সময়ে বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘকাল ধরে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নানা ধরনের গবেষণা চললেও, চলতি বছরের মে মাস থেকে শুরু হওয়া এই সর্বশেষ প্রকল্পটিকে সবচেয়ে বিস্তৃত বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক সেনকার আতিলার নেতৃত্বে গঠিত এই দলে পাঁচটি দেশের প্রায় ২০ জন বিজ্ঞানী অংশ নেন। তারা তেলচেকার ও উজেঙ্গিলি গ্রামের মধ্যবর্তী ওই এলাকায় টানা ৯০ দিন কাজ করে আধুনিক ড্রোন, নতুন প্রজন্মের ভূগর্ভস্থ রাডার সিস্টেম ব্যবহার করে ভূখণ্ডের ত্রিমাত্রিক নকশা তৈরি করেছেন এবং অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যে স্থানটির বিভিন্ন গভীরতা থেকে প্রায় ১ হাজার মাটির নমুনা ও ড্রিলিং কোর সংগ্রহ করেছেন।
গবেষক দলের উপপ্রধান ও মার্কিন বিজ্ঞানী অ্যান্ড্রু জোনস জানান, এই অনুসন্ধানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হলো—কাঠামোটি কোনো একক শক্ত পাথরখণ্ড নয়, বরং এটি মূলত মাটিতে গঠিত। ইতিপূর্বে পাথর ক্ষয়ে গিয়ে তৈরি প্রাকৃতিক আকৃতি হিসেবে যা ধারণা করা হচ্ছিল, ড্রিলিং অনুসন্ধানে তার বিপরীতে কেবল ধারাবাহিক মাটির স্তরই উঠে এসেছে।
খনন চলাকালে বিজ্ঞানীরা ভূপৃষ্ঠের গভীরে কিছু কালচে রঙের মাটি ও জৈব উপাদানের উপস্থিতি পেয়েছেন, যা প্রাচীন কাঠ পচে তৈরি হয়েছে নাকি মানুষের কোনো অতীত কর্মকাণ্ডের ফল—তা বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিরূপণ করা হচ্ছে। অগাস্টে পাওয়া রাডার স্ক্যানের অসামঞ্জস্যপূর্ণ সংকেতগুলোকে ভিত্তি ধরে মার্কিন বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতায় নিখুঁত উপাত্ত সংগ্রহের চেষ্টা চালানো হয়েছে।
আগের গবেষণাগুলো কেবল ভূপৃষ্ঠের উপরিভাগ বিশ্লেষণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলেও, সরকারি অনুমোদন নিয়ে এটাই প্রথমবার সেখানে গভীর কোর ড্রিলিং চালিয়েছে সিভাস জুমহুরিয়েত বিশ্ববিদ্যালয়। তবে সাম্প্রতিক সময়জুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে নূহ (আ.)-এর নৌকার সুনির্দিষ্ট অস্তিত্ব প্রমাণিত হয়েছে বলে যে দাবি উঠেছে, তার জবাবে চরম সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন অ্যান্ড্রু জোনস।
তিনি স্পষ্ট করেন যে, অনুসন্ধান প্রক্রিয়ার প্রাথমিক ধাপ শেষ হলেও বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার মূল কাজ এখনো বাকি। সম্পূর্ণ ল্যাব পরীক্ষার ফলাফল ও আন্তর্জাতিক রাডার টিমের বিশ্লেষিত প্রতিবেদন পাওয়ার পরেই কেবল নিশ্চিত করে বলা যাবে যে এটি স্রেফ প্রকৃতির সৃষ্টি নাকি প্রাচীন মানবসভ্যতার কোনো হারিয়ে যাওয়া কীর্তি। তুরস্কের ইস্তাম্বুলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘ডেইলি সাবাহ’-এ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) এই গবেষণাসংক্রান্ত প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।
/আশিক
এক দশক পর চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর ও গদর বন্দর ঘিরে নতুন সমীকরণ
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরের (সিপিইসির) প্রাণকেন্দ্র ও বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) প্রধান স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত গদর বন্দরকে ঘিরে চীনের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা এখন গভীর সংকটের মুখে পড়েছে। অস্থিতিশীল বেলুচিস্তান উপকূলে অবস্থিত এই গভীর সমুদ্রবন্দরটির বাণিজ্যিক সম্ভাবনা দিন দিন সীমিত হয়ে পড়ায় এটি চীনের জন্য আশীর্বাদের বদলে এক আর্থিক ও নিরাপত্তাজনিত ‘বোঝা’য় পরিণত হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান লোয়ি ইনস্টিটিউটের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে গদরকে ঘিরে চীন যে বড় অঙ্কের লাভের প্রত্যাশা করেছিল, তা বাস্তবে মিলছে না। বরং অব্যাহত নিরাপত্তা ঝুঁকি, কৌশলগত জটিলতা এবং অর্থনৈতিক অলাভজনকতার কারণে প্রকল্পটি বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। ২০১৩ সালে ঘোষিত এবং ২০১৫ সালে চীন-পাকিস্তান যৌথ উদ্যোগে সম্প্রসারিত এই প্রকল্পটি বিশ্ববাণিজ্যে যে রূপান্তর আনার কথা ছিল, এক দশক পর তার আশার বেলুন ক্রমেই ফুটো হয়ে যাচ্ছে।
গদর বন্দরের বড় প্রতিবন্ধকতাগুলোর অন্যতম হলো বেলুচিস্তানের নাজুক নিরাপত্তা পরিস্থিতি। বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো, বিশেষ করে বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) ও মজিদ ব্রিগেড, দীর্ঘদিন ধরে চীনা প্রকৌশলী, নাগরিক ও সিপিইসির অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে সিরিজ হামলা চালিয়ে আসছে। ২০২৪ সালের মার্চে গদর পোর্ট অথরিটি কমপ্লেক্স এবং অক্টোবরে করাচি বিমানবন্দরের কাছে চীনা নাগরিকদের ওপর আত্মঘাতী হামলা প্রকল্পটির নিরাপত্তাহীনতাকে নতুন করে সামনে আনে। চীনের কর্মীদের সুরক্ষায় পাকিস্তান বিশেষ নিরাপত্তা বিভাগ মোতায়েন করলেও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের তৎপরতা বন্ধ করা সম্ভব হয়নি, যা ইসলামাবাদ ও বেইজিংয়ের কূটনৈতিক সম্পর্কেও টানাপোড়েন তৈরি করছে।
নিরাপত্তা সংকটের পাশাপাশি ভৌগোলিক অবস্থান ও লজিস্টিক বাস্তবতাও গদরের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করছে। পরিকল্পনা ছিল গদর থেকে স্থলপথে কারাকোরাম মহাসড়ক হয়ে চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে পণ্য পৌঁছানোর। তবে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪ হাজার ৬০০ মিটারেরও বেশি উঁচুতে অবস্থিত এই পাহাড়ি পথটিতে নিয়মিত ভূমিধস, তুষারধস ও চরম প্রতিকূল আবহাওয়া লেগে থাকে। আন্তর্জাতিক শিপিং বিশেষজ্ঞ ও লোয়ি ইনস্টিটিউটের মতে, পাকিস্তানের দুর্গম ভূখণ্ড অতিক্রম করে স্থলপথে বা পাইপলাইনে জ্বালানি ও পণ্য পরিবহন করা সরাসরি সমুদ্রপথে চীনের পূর্বাঞ্চলীয় বন্দরে পণ্য পাঠানোর তুলনায় বহুগুণ বেশি ব্যয়বহুল।
বাণিজ্যিক অবকাঠামোর দুর্বলতা এবং স্থানীয় অসন্তোষও বন্দরটির স্থবিরতার বড় কারণ। পর্যাপ্ত পণ্য পরিবহন ও পশ্চাদভূমি না থাকায় আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলো গদরকে এড়িয়ে দুবাই, সালালাহ বা করাচির মতো প্রতিষ্ঠিত বন্দর ব্যবহার করছে। একই সাথে গদর শহরে সুপেয় পানি ও বিদ্যুতের দীর্ঘদিনের তীব্র সংকট রয়েছে। স্থানীয় জেলে ও অধিবাসীরা 'হক দো তেহরিক' আন্দোলনের মাধ্যমে পানি-বিদ্যুৎ সংকট এবং মৎস্য শিকারের ওপর বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে লাগাতার বিক্ষোভ চালিয়ে আসছে। অর্থনৈতিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ক্ষোভ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে চীনের প্রতি বিরূপ মনোভাব বাড়িয়ে তুলছে।
বিশ্বজুড়ে চীনা বিনিয়োগের কৌশলে আসা পরিবর্তন এবং পাকিস্তানের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট গদরের ভবিষ্যৎকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। মেগা প্রকল্পের বদলে বেইজিং এখন ‘স্মল ইজ বিউটিফুল’ নীতির অধীনে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও দ্রুত মুনাফাভিত্তিক প্রকল্পে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। অন্যদিকে, আইএমএফের ঋণ ও চরম বৈদেশিক মুদ্রার সংকটে থাকা পাকিস্তানের পক্ষে গদরের মতো অলাভজনক প্রকল্পের বাড়তি নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এই বাস্তবতায় গবেষকদের ধারণা, বেইজিং হয়তো গদরকে কোনো ব্যস্ত বাণিজ্যিক হাব বানানোর আশা ছেড়ে দিয়ে সীমিত পরিসরের সুরক্ষিত একটি লজিস্টিক ও নৌ-জ্বালানি সরবরাহ কেন্দ্রে রূপান্তর করতে পারে।
সূত্র:মানি কন্ট্রোল
যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ নীতিতে বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে বাংলাদেশসহ ২০ দেশ
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি করা নির্দিষ্ট কিছু বিশেষায়িত ওষুধ ও প্রাসঙ্গিক উপকরণের ওপর শূন্য শতাংশ ‘অ্যাড ভ্যালোরেম’ শুল্ক সুবিধা ঘোষণা করেছে মার্কিন সরকার। বিরল রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধসহ জীবনরক্ষাকারী কয়েকটি বিশেষায়িত ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের মোট ২০টি দেশ ও অঞ্চলকে এই বিশেষ বাণিজ্য সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
সম্প্রতি মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের ব্যুরো অব ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড সিকিউরিটি (বিআইএস) ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত এক নির্দেশনায় এই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। এর আগে পেটেন্টভুক্ত ফার্মাসিউটিক্যালস সামগ্রী ও উপকরণের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট শতভাগ অ্যাড ভ্যালোরেম শুল্ক আরোপ করেছিলেন। তবে নতুন নীতিমালায় প্রয়োজনীয় কিছু বিশেষায়িত ওষুধ ও উপাদানকে ওই উচ্চ শুল্কের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। একই সাথে সাধারণ জেনেরিক ওষুধ, ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল, গবেষণা ও অ-বাণিজ্যিক ব্যবহারে আমদানিকৃত সামগ্রীকেও শতভাগ শুল্কের বাইরে রাখার বিধান পুনর্ব্যক্ত করেছে মার্কিন প্রশাসন।
নতুন এই ব্যবস্থার অধীনে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে শূন্য শুল্কের সুবিধা পাবে যেসব পণ্য—তার মধ্যে বিরল ব্যাধির ওষুধ, নিউক্লিয়ার মেডিসিন, প্লাজমা-ভিত্তিক পণ্য, বন্ধ্যত্বের চিকিৎসা, সেল থেরাপি, জিন থেরাপি, অ্যান্টিবডি-ড্রাগ কনজুগেটস (এডিসি), বিভিন্ন রাসায়নিক বা রেডিওলজিক্যাল হুমকি মোকাবিলার চিকিৎসা এবং পশুপালন খাতের ওষুধ অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশের পাশাপাশি আর্জেন্টিনা, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য, সুইজারল্যান্ড, তাইওয়ান, ভিয়েতনাম ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো দেশ ও অঞ্চলগুলো নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণের মাধ্যমে এই সুযোগ পাবে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি নির্দিষ্ট ফার্মাসিউটিক্যালস রপ্তানিতে বাড়তি অতিরিক্ত শুল্কের বড় মনস্তাত্ত্বিক ও আর্থিক চাপ কমবে।
/আশিক
সাত মাসের সংঘাত থামাতে সক্রিয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, নতুন আলোচনার ইঙ্গিত
দীর্ঘ সাত মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটাতে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলাদাভাবে আলোচনায় অংশ নিয়েছেন বলে উভয় দেশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
আলোচনার পরবর্তী ধাপে ইরানের উত্থাপিত সাত দিনের একটি সংশোধিত প্রস্তাব প্রাধান্য পেতে পারে, যা গত সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে উপস্থাপন করা হয়েছিল। উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে বিমান হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই দীর্ঘ সাত মাসের লড়াইয়ে হাজার হাজার প্রাণহানি ঘটেছে। একই সাথে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের অর্থনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর আগে মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টায় এপ্রিল ও জুনে দুই দফায় সংঘাত বিরতির বিষয়ে উভয় দেশ একমত হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থানরত ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, তেহরানের দেওয়া সর্বশেষ প্রস্তাব এবং হরমুজ প্রণালীতে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক করার শর্তগুলোর বিষয়ে তারা ওয়াশিংটনের আনুষ্ঠানিক উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছেন। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত করে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, চলতি সপ্তাহেই ইরানের সঙ্গে আরও আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে।
ইরানের প্রস্তাবটিতে ইরান ও লেবাননে যাবতীয় সামরিক আক্রমণ বন্ধ, জব্দ করা ইরানি অর্থ অবমুক্তকরণ, জ্বালানি তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানি সমুদ্রবন্দরগুলোর অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। এর বিনিময়ে ইরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেবে এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পুনরায় আলোচনা শুরু করতে সম্মত হবে। আরাগচি সুস্পষ্টভাবে পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্তকরণ তাদের উত্থাপিত শর্তাবলি পূরণের ওপরই নির্ভরশীল এবং কেবল আলোচনার মাধ্যমেই এই সংকট নিরসন সম্ভব।
সূত্র: সামা টিভি
যুদ্ধ নাকি কূটনীতি? নিউ ইয়র্কে অবস্থানকালে বার্তা দিলেন আব্বাস আরাগচি
ইরানের চূড়ান্ত অবস্থান একদম স্পষ্ট এবং দেশটি যুদ্ধ মোকাবিলার পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতির পাশাপাশি কূটনৈতিক উপায়ে সংকট সমাধানের পথও খোলা রেখেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তেহরান কখনো যুদ্ধ চায় না; বরং বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে আমেরিকা নিজেই সংঘাত ও যুদ্ধ উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন আব্বাস আরাগচি। সেখানে অবস্থানকালে স্থানীয় গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর এই নিউইয়র্ক সফরের মূল উদ্দেশ্যই ছিল গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি এবং উদ্ভূত যুদ্ধাবস্থা নিয়ে তেহরানের সুনির্দিষ্ট ও সুদৃঢ় দৃষ্টিভঙ্গি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে উপস্থাপন করা।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারক ও শীর্ষ নেতার প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনায় বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্বাভাবিক চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার বিষয়ে কিছু শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে যদি এই কৌশলগত নৌপথ সচল দেখতে হয়, তবে প্রস্তাবিত সেই শর্তসমূহ অবশ্যই অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে হবে।
কূটনৈতিক উদ্যোগের কথা তুলে ধরে আরাগচি বলেন, কাতারের মধ্যস্থতার মাধ্যমে ইতোমধ্যে ওয়াশিংটনের নিকট ইরানের সাত দফা বিশেষ প্রস্তাবনা হস্তান্তর করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রকাশ্য বক্তব্য বা বিবৃতি যা-ই থাকুক না কেন, তেহরান এখন কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আনুষ্ঠানিক জবাবের প্রত্যাশায় রয়েছে।
তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, সোমবার দোহার মধ্যস্থতাকারী প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাঁদের নতুন করে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, কাতারি পক্ষ ওয়াশিংটন প্রশাসনকে ইরানের মতামতের বিষয়টি বিস্তারিত অবহিত করবে এবং একটি চূড়ান্ত ও স্পষ্ট উত্তরের ব্যবস্থা করবে। আব্বাস আরাগচি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে ইরান সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাস ও সার্বভৌম ক্ষমতার জোরে নিজেদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে যাচ্ছে এবং ওয়াশিংটনের কাছ থেকে যেকোনো উত্তর বা বার্তা আসার পর তেহরান তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
সূত্র: মেহের নিউজ।
সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর নিয়ে গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন নেতানিয়াহু
সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর ঘিরে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত সাম্প্রতিক একটি সংবাদকে সম্পূর্ণ 'ভুয়া খবর' বা ফেক নিউজ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়। এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর পরিষ্কার জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করা এবং মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করাই ছিল এই সফরের একমাত্র মূল উদ্দেশ্য।
একটি বিশেষ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের আকস্মিক ও অভূতপূর্ব হামলার পূর্বে ইসরায়েলকে সম্ভাব্য ওই নিরাপত্তা ঝুঁকি সম্পর্কে আগাম সতর্কবার্তা দিয়ে সতর্ক করেছিলেন আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। সেই সংবাদ ছড়ানোর পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ্যে অস্বীকার করার জন্য আমিরাত সফরকালে প্রেসিডেন্টের কাছে নেতানিয়াহু ব্যক্তিগতভাবে বিশেষ অনুরোধ জানান বলে গুঞ্জন ওঠে।
তবে এ সংক্রান্ত সকল দাবি ও জল্পনা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর। তাদের ভাষ্যমতে, উক্ত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এই ধরনের কোনো বিষয়ের আলোচনা বা প্রস্তাব উত্থাপিতই হয়নি। অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে আবুধাবির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরাসরি কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে এক বিবৃতিতে তারা উল্লেখ করে যে, ইসরায়েলের সাথে আমিরাতের কূটনৈতিক যোগাযোগের পথ সর্বদাই উন্মুক্ত রয়েছে এবং দ্বিপক্ষীয় কৌশলগত স্বার্থে দুটি দেশের মধ্যে নিয়মিত তথ্য ও গোয়েন্দা খবরাখবর আদান-প্রদান অব্যাহত থাকে।
সূত্র: মিডলইস্ট মনিটর
আমরা তেল রফতানি করতে না পারলে মধ্যপ্রাচ্যের কেউ বিক্রি করতে পারবে না: ইরান
ইরানের শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্র এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী দেশগুলোকে উদ্দেশ্য করে এক কড়া অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা হুঁশিয়ারি প্রদান করেছে। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান যদি আন্তর্জাতিক বাজারে নিজস্ব অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি করতে না পারে, তবে মধ্যপ্রাচ্যের অন্য কোনো দেশকেও তেল রফতানি করতে দেওয়া হবে না।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে সম্প্রচারিত এক বিশেষ বক্তব্যে স্পিকার গালিবাফ এই বার্তা দেন। হুঁশিয়ারি প্রদান করে তিনি বলেন, যে ভৌগোলিক অঞ্চল থেকে ইরানকে তেল বিক্রিতে বাধা দেওয়া হবে বা রফতানি বন্ধ থাকবে, সেই একই অঞ্চল থেকে অন্য কোনো রাষ্ট্রও তেল বাণিজ্য চালাতে পারবে না।
তিনি আরও যোগ করেন, ইরানের নিজস্ব জাতীয় ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত না হলে এই পুরো অঞ্চলের কোনো ধরনের জ্বালানি ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোই আর নিরাপদ থাকবে না। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও জ্বালানি রুট ঘিরে বাড়তে থাকা আঞ্চলিক সংকটের মুখেই ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে আমেরিকা ও তার আঞ্চলিক মিত্র দেশগুলোর প্রতি যৌথভাবে এই কঠোর বার্তা দেওয়া হলো।
/আশিক
ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়: ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী
গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েল সরকারের সাম্প্রতিক সামারিক কার্যক্রম ও নীতিকে পুরো মানবজাতির জন্য চরম লজ্জাজনক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড। যুক্তরাজ্যে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির বার্ষিক রাজনৈতিক সম্মেলনে দেয়া এক গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে তিনি সুস্পষ্টভাবে মন্তব্য করেন, ইসরায়েল যেসব নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখিই হোক না কেন, বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো এই ধরনের পাশবিকতা ও নৃশংসতাকে কোনো যুক্তিতেই বৈধতা দেওয়া যায় না।
মিলিব্যান্ড বলেন, ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর অবর্ণনীয় দুর্ভোগ ও মানবতা বিপর্যয় দেখে বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, তা তাঁর সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে উপলব্ধি করছে। এই সংকট নিরসনে যুক্তরাজ্য সরকার এখন কেবল আলোচনার টেবিলে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবিক পদক্ষেপ নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। লেবার পার্টির বর্তমান পররাষ্ট্রনীতিতে পশ্চিম তীরের বেআইনি ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের উচ্ছেদ এবং গাজা উপত্যকায় সংঘটিত সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের বিষয়গুলোকে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরা হচ্ছে। এর পাশাপাশি ইসরায়েলের অবৈধ বসতি অঞ্চলে উৎপাদিত পণ্যের যুক্তরাজ্যে আমদানি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সাথে ওইসব দখলীকৃত এলাকার যেকোনো নির্মাণ প্রকল্প বা অর্থায়নে ব্রিটিশ সহায়তা স্থায়ীভাবে বন্ধ করার জোরালো ঘোষণা দেন এই প্রবীণ কূটনৈতিক।
তবে এই কঠোর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপগুলো সাধারণ ইসরায়েলি নাগরিকদের লক্ষ্য করে নয়, বরং প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ইসরায়েল সরকারের আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে গৃহীত হচ্ছে বলে পরিষ্কার করেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী। স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পথকে স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ার যেকোনো আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে ব্রিটেন দৃঢ় অবস্থানে থাকবে বলেও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আদর্শের কথা উল্লেখ করে মিলিব্যান্ড স্মরণ করিয়ে দেন যে, যেকোনো প্রকাশ্য অন্যায়ের সামনে নীরব থাকা অপরাধের শামিল। আগামীর নতুন প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও টেকসই একটি বিশ্ব গড়ে তোলা আমাদের সকলের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। বয়সের সাথে সাথে যে মানবিক নীতি ও মূল্যবোধ কখনো ম্লান হয়ে যেতে পারে না, তা মনে করিয়ে দিয়ে ব্রিটিশ জাতীয় মর্যাদা রক্ষায় সোচ্চার থাকার সংকল্প ব্যক্ত করেন তিনি। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা এবং অর্থনৈতিক স্বার্থে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সাথে যুক্তরাজ্যের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো জোরদার করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নতুন সতর্কতা
সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের স্থানীয় আইনকানুন কঠোরভাবে মেনে চলা, নিরাপদ প্রবাসজীবন সুনিশ্চিত করা এবং যেকোনো ধরনের আইনি ঝামেলা এড়াতে জরুরি সতর্কতা জারি করেছে জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) প্রবাসীদের স্বার্থে প্রকাশিত এক জনকল্যাণমূলক বিজ্ঞপ্তিতে এই সতর্কবার্তা ও দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। দেশটির স্থানীয় আইন, আইনশৃঙ্খলা কিংবা জননিরাপত্তার পরিপন্থী এমন কোনো বিষয় ফেসবুক, ইউটিউব বা এক্সের (সাবেক টুইটার) মতো মাধ্যমে শেয়ার, প্রচার, প্রকাশ বা এমনকি নিজের কাছে সংরক্ষণ করা থেকেও বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের সংবেদনশীল বা বিতর্কিত পোস্টে কোনো লাইক, মন্তব্য কিংবা পুনরুল্লেখ না করতে প্রবাসীদের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে কনস্যুলেট।
আইনি সুরক্ষার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যেকোনো কাগজপত্রের ভেতরের বিষয়বস্তু বা শর্ত পুরোপুরি না বুঝে স্বাক্ষর করা একেবারেই উচিত নয়। একই সঙ্গে কোনো অবস্থাতেই খালি বা সাদা কাগজে কোনো ধরনের স্বাক্ষর ও আঙুলের ছাপ বা টিপছাপ না দেওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
ব্যক্তিগত আইনি নথির অপব্যবহার রোধে আরও জানানো হয়, কোনো প্রবাসী নিজের ইকামার (বসবাস অনুমতিপত্র) অধীনে অন্য কোনো ব্যক্তি, নিয়োগকর্তা বা প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে কোনো সিম কার্ড, মোবাইল সেট, গাড়ি কিংবা অন্য কোনো স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ নিবন্ধিত করতে পারবেন না।
এ ছাড়া সৌদি আরবে যে এলাকা বা প্রতিষ্ঠানের নামে ইকামা ইস্যু করা হয়েছে, তা বাদ দিয়ে অন্য কোথাও বা অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করা আইনত দণ্ডনীয়। রাস্তার পাশে কুড়িয়ে পাওয়া জিনিসপত্র বা বাতিল ধাতু (স্ক্র্যাপ) সংগ্রহ করে বিক্রি করা, অনুমোদন ছাড়া ফুটপাতে দোকানপাট বসানো কিংবা অবৈধভাবে পানি বিক্রির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকেও প্রবাসীদের সম্পূর্ণ দূরে থাকতে বলা হয়েছে। একই সাথে অপরিচিত বা অচেনা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অবৈধ আর্থিক লেনদেন থেকে দূরে থাকা এবং চাকরির ভুয়া প্রলোভন এড়িয়ে চলার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
পরিশেষে কনস্যুলেট জেনারেল উল্লেখ করে, সৌদি আরবের প্রচলিত আইনের প্রতি প্রবাসী বাংলাদেশীদের শ্রদ্ধাশীল ও সচেতন আচরণ তাদের প্রবাসজীবনকে নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত রাখবে। একই সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সুনাম ও ইতিবাচক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল রাখতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- মধ্যপ্রাচ্য সংকট: তেহরানে পৌঁছাল যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক জবাব
- লাইন পরিবর্তন কাজ: বৃহস্পতিবার রাজধানীর বেশ কিছু এলাকায় জরুরি বার্তা তিতাসের
- কলকাতায় ভারত-ব্রাজিল ম্যাচের টিকিটে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য ধামাকা অফার
- নূহ (আ.)-এর নৌকার সম্ভাব্য ধ্বংসাবশেষে প্রথমবার ড্রিলিং, ভূগর্ভে মিলল অস্বাভাবিক বস্তুর সংকেত
- এক দশক পর চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর ও গদর বন্দর ঘিরে নতুন সমীকরণ
- প্রবীণদের বয়স্ক ভাতা বৃদ্ধি ও ফ্যামিলি কার্ডে সহায়তার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
- ভোজ্যতেলের দাম বাড়াতে ব্যবসায়ীদের চাপ, বাণিজ্যমন্ত্রীর অবস্থান পরিষ্কার
- এশিয়ান গেমসে বৃষ্টির থাবা, সেমিফাইনালের আগে নতুন সমীকরণে বাংলাদেশ
- আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলায় নতুন মোড়, আদালতে বাদীর বিশেষ আবেদন
- ডলারের দাপটে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে নতুন টানাপোড়েন
- বিইআরসির নতুন বিজ্ঞপ্তিতে বাড়ল শিল্পে ব্যবহৃত জ্বালানির দাম
- শেখ হাসিনার দেশে ফেরার কোনো সুযোগ নেই, রাজনীতি শেষ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
- যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ নীতিতে বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে বাংলাদেশসহ ২০ দেশ
- দলীয় বিবেচনা নয়, সর্বজনীন কল্যাণে কাজ করবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়: মন্ত্রী জাহিদ হোসেন
- সাত মাসের সংঘাত থামাতে সক্রিয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, নতুন আলোচনার ইঙ্গিত
- দাম বাড়তেই তেল সংকট কীভাবে মিটল? বিপিসির ব্যাখ্যায় অসন্তুষ্ট সংসদীয় কমিটি
- সব পক্ষের মতামতেই আসবে অন্তর্ভুক্তিমূলক সংবিধান সংশোধনী: সালাহউদ্দিন আহমদ
- চরম অর্থনৈতিক সংকটে ইরান, নতুন রেকর্ড স্পর্শ করল দেশটির মুদ্রা
- অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের দিনেও ব্রাজিল শিবিরে নতুন অস্বস্তি
- টানা ৭ দিনের ছুটি পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা, সরকারি চাকরিজীবীদের ৫ দিন
- অ্যাপ ইনস্টল না করেই সাইবার ঝুঁকি এড়ানোর উপায় চালু করল ট্রুকলার
- যুদ্ধ নাকি কূটনীতি? নিউ ইয়র্কে অবস্থানকালে বার্তা দিলেন আব্বাস আরাগচি
- আদালতে আত্মসমর্পণ করে নতুন সিদ্ধান্ত পেলেন অভিনেত্রী তানজিন তিশা
- ২৫০ কোটি টাকার দুর্নীতি মামলায় শেখ হাসিনার সাবেক সামরিক উপদেষ্টাকে দুদকের জরুরি তলব
- সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর নিয়ে গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন নেতানিয়াহু
- আমরা তেল রফতানি করতে না পারলে মধ্যপ্রাচ্যের কেউ বিক্রি করতে পারবে না: ইরান
- একনেক বৈঠকে ১৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি বরাদ্দে মেগা সিদ্ধান্ত
- শেখ হাসিনাকে ফেরত আনার বিষয়টিকে দ্বিপক্ষীয় দেখছে সরকার, প্রয়োজন নেই যুক্তরাষ্ট্রের
- নেপালে আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ: বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য জরুরি সতর্কবার্তা জারি
- ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়: ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী
- সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নতুন সতর্কতা
- মার্কিন চাপে কি বোয়িং কিনছে বাংলাদেশ? মুখ খুললেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
- শেষ হলো ভোট গ্রহণ, ব্যালন ডি'অর জয়ের দৌড়ে এগিয়ে যারা
- শেষ হলো ভোট গ্রহণ, ব্যালন ডি'অর জয়ের দৌড়ে এগিয়ে যারা
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছে যে ৫টি প্রশ্ন করা বিপজ্জনক হতে পারে
- 'ছাত্ররা নামলেই গুলি করে মারা হবে' ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়ে সর্বোচ্চ শাস্তি চাইলেন জুলাইযোদ্ধা
- জাতীয় নাগরিক পার্টির বড় সিদ্ধান্ত: নতুন জাতীয় দায়িত্বে সারজিস আলম
- পৈতৃক জমির ওপর পিচঢালাই রাস্তার আশঙ্কায় আইনি নোটিশ, যৌথ ভূ-জরিপের দাবি
- ইরানে আর কখনো বিদেশি আধিপত্য ফিরবে না, আরব সাগর থেকেও তাড়ানো হবে শত্রুদের: খামেনি
- চীনের সাথে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
- আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও আমদানির নতুন সংকট: বিশেষ প্রতিবেদন
- এশিয়ান গেমসের নকআউট পর্বের আগে বড় ধাক্কা বাংলাদেশ ক্রিকেট দলে
- বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন উপকূলে নিম্নচাপ: জাতীয় আবহাওয়া দপ্তরের নতুন পাঁচ দিনের তথ্য
- সুদের হার বাড়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে ধস, ৭ সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন
- বিয়ে সাড়ে চার মাসের মাথায় বিয়োগান্তক পরিণতি: কড়া বিচারে কারাগারে গাজী নজরুল
- প্রতিযোগী দেশ টেক্কা দিতে বাজারে বিশেষ ম্যাট্রিক্স প্রণয়ন করছে বাংলাদেশ
- হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ইরানের নতুন অবস্থান প্রকাশ
- আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের নতুন অবস্থান: প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফরের অর্জন
- পারমাণবিক কর্মসূচি ও বৈশ্বিক চাপ: তেহরানের নতুন কৌশলগত অবস্থান প্রকাশ
- বঙ্গোপসাগরের প্রাকৃতিক সম্পদ ও জ্বালানি সম্ভাবনা নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য
- ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের আস্থার প্রতীক: গাজী শওকাত হোসেনের পরিবার-সাড়ে পাঁচ দশকের জনসেবা
- আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দক্ষিণ শ্রীপুরে সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে প্রার্থী হতে চান পাপিয়া পারভীন
- বাংলাদেশে অফিস খোলার প্রক্রিয়ায় মেটার নতুন অগ্রগতি
- অতীত আর বর্তমানের মিল: দেশজুড়ে আবার কি এক-এগারোর ছায়া?
- জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের চরম সংকট: কার্গো স্থানান্তর বন্ধে কমলো এলএনজি সরবরাহ
- বারিধারায় ফুটপাতে গাড়ির চাপায় শ্রমিকের মৃত্যু: ৯ লাখ টাকায় মামলার আপস
- ২০-এর কোঠাতেই চুল পাতলা হওয়া রোধে যেসব বিষয় জানা জরুরি
- যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে যুদ্ধ ভারত মহাসাগরে ছড়ানোর হুমকি ইরানের
- গ্যাস্ট্রিক বা দুর্বলতা ভেবে ভুল করছেন না তো? জেনে নিন হার্ট অ্যাটাকের সূক্ষ্ম ৪ লক্ষণ
- দেশের বাজারে নতুন সমন্বয়: অলঙ্কার কিনতে গুণতে হবে বাড়তি টাকা
- ভুয়া বিজ্ঞাপনের অভিযোগে গ্রাহকদের কোটি কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে আইফোন নির্মাতা
- টেস্ট ক্রিকেটে নতুন স্বপ্ন ও বাংলাদেশ দলের অবস্থান নিয়ে বড় তথ্য
- ফিলিস্তিন শাসন করবে ফিলিস্তিনিরাই: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বার্তা দিল চীন
- ম্যারাডোনার মৃত্যু মামলায় যুক্ত হলো নতুন মোড় ও বৈজ্ঞানিক তথ্য
- ১১ জেলায় শুক্রবার রাত পর্যন্ত তীব্র ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস








