ব্রিটিশ আমলের ঔপনিবেশিক মানসিকতা দূর করতে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বদল

তামিলনাড়ুর সচিবালয়ে বহু দশকের পুরোনো এক ঔপনিবেশিক প্রথার ইতি টেনেছেন রাজ্যের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী ও জনপ্রিয় অভিনেতা থালাপতি বিজয়। ব্রিটিশ আমল থেকে চলে আসা সরকারি কর্মকর্তাদের চেয়ারে সাদা তোয়ালে পাতার এই রেওয়াজকে ক্ষমতা ও আমলাতান্ত্রিক দূরত্বের প্রতীক হিসেবে দেখা হতো। শুক্রবার (১৫ মে) এক প্রশাসনিক বৈঠকে নিজের চেয়ার থেকে এই সাদা তোয়ালে সরিয়ে দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসায় ভাসছেন তিনি।
ঘটনার সূত্রপাত পরিবেশ ও সমাজকর্মী লিসিপ্রিয়া কাঞ্জুগামের একটি এক্স (টুইটার) পোস্ট থেকে। তিনি তাঁর পোস্টে লেখেন, সরকারি অফিসের চেয়ারে সাদা তোয়ালে পাতা এখনো ঔপনিবেশিক মানসিকতার প্রতীক। শুধু মন্ত্রীরা নন, অনেক উচ্চপদস্থ আমলাদের ঘরেও এই প্রথা চলছে। তিনি নতুন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের কাছে আবেদন জানান, এই রেওয়াজ বন্ধ করে সাধারণ মানুষের সামনে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করুন।
এই পোস্টের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তামিলনাড়ুর প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন চোখে পড়ে। ১৫ মে সচিবালয়ে প্রশাসনিক বৈঠকে বিজয়ের চেয়ারটি ছিল একদম সাধারণ—উপরে কোনো তোয়ালে বা বাড়তি কাপড় ছিল না।
১০ মে শপথ নেওয়ার পর থেকেই একের পর এক জনবান্ধব সিদ্ধান্তের কারণে আলোচনায় রয়েছেন থালাপতি বিজয়। চেয়ার থেকে তোয়ালে সরানোর বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি। তবে নেটদুনিয়ায় এটাকে ‘প্রতীকী কিন্তু খুবই শক্তিশালী পদক্ষেপ’ বলে সাধুবাদ জানাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
অনেকে মনে করছেন, এর মাধ্যমে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে দূরত্ব কমানোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। লিসিপ্রিয়া কাঞ্জুগাম নিজেও বিজয়কে ধন্যবাদ জানিয়ে লিখেছেন, জনগণের অনুভূতিকে সম্মান জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সঠিক পদক্ষেপ নিয়েছেন।
ইতিহাসবিদদের মতে, ব্রিটিশ আমলে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিশেষ মর্যাদা, আভিজাত্য ও আরামের জন্যই এই প্রথা চালু হয়েছিল। স্বাধীনতার এত বছর পরেও ভারতের প্রশাসনিক সংস্কৃতির রন্ধ্রে রন্ধ্রে সেই মানসিকতা টিকে ছিল। এমন প্রেক্ষাপটে থালাপতি বিজয়ের এই সিদ্ধান্তকে কেবল আসবাবের ভোলবদল নয়, বরং আমলাতন্ত্রের অহংকার ভাঙার একটি বড় রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক বার্তা হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
'এ বছরই দেশে ফিরব' এনডিটিভি সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনার বিস্ফোরক ঘোষণা
দুই বছরের দীর্ঘ প্রবাসজীবন এবং দেশে রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হয়েও রাজনৈতিক পুনরুত্থানের ব্যাপারে অনড় অবস্থান ব্যক্ত করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম ‘এনডিটিভি’-কে দেওয়া এক বিশেষ ও বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন, “আমি সব বাধা ও ষড়যন্ত্র অতিক্রম করে এ বছরই দেশে ফিরব।” ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর তাঁর বিরুদ্ধে হওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়কে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ আখ্যা দিয়ে তিনি বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে তীব্রভাবে আক্রমণ করেন। দেশজুড়ে নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করে আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের প্রেক্ষাপটে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে দলটির সাংগঠনিক শক্তি, দেশের বর্তমান অর্থনীতি ও সংখ্যালঘু পরিস্থিতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন তিনি।
সাক্ষাৎকারটির মূল প্রশ্নোত্তরগুলো নিচে তুলে ধরা হলো
প্রশ্ন: আপনার বিরুদ্ধে দেশে মৃত্যুদণ্ডের রায় রয়েছে এবং দল হিসেবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমও নিষিদ্ধ। এই পরিস্থিতিতে এ বছরই আপনার দেশে ফেরার ঘোষণা কতটা বাস্তবসম্মত?
শেখ হাসিনা: আমার দেশে ফেরা কোনো ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা নয়; এটি মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, আইনের শাসন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনরুদ্ধারের লড়াই। আমার বিরুদ্ধে যে রায় দেওয়া হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অবৈধ, অসাংবিধানিক ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফসল। আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করতেই বিচারব্যবস্থাকে হাতিয়ার বানানো হয়েছে। অতীতেও এমন চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে, এবারও হবে।
আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না। ১৯৭৫ সালে আমি আমার পুরো পরিবারকে হারিয়েছি, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলাসহ বহুবার আমাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। জনগণের ভোটে পাঁচবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে আমি দেশের নজিরবিহীন উন্নয়ন করেছি। জীবনের পুরোটা সময়ই আমি দেশের মানুষের জন্য উৎসর্গ করেছি, তাই সব বাধা ভেঙে আমি এ বছরই আমার প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরব।
প্রশ্ন: বর্তমান পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পুনরুত্থান এবং পুনরায় জনসমর্থন ফিরে পাওয়া কতটা সম্ভব?
শেখ হাসিনা: আওয়ামী লীগ কোনো কাগুজে সংগঠন নয়; এটি বাংলার ইতিহাস ও মানুষের হৃদয়ের গভীরে প্রোথিত একটি শক্তি। ৭৭ বছরের পথচলায় দলটি বহুবার নিষিদ্ধ ও হামলার শিকার হলেও প্রতিবারই ফিনিক্স পাখির মতো ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অবৈধ অন্তর্বর্তী সরকারের পর এখন সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বিএনপি সরকারের অধীনে মানুষ বাস্তব চিত্র দেখছে। দেশে এখন গণতন্ত্র নেই, উগ্রবাদ ছড়াচ্ছে, অর্থনীতি পঙ্গু হচ্ছে এবং আমাদের নেতা-কর্মীদের ওপর রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন চলছে। মানুষ এখন বিগত সময়ের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের সাথে বর্তমানের তুলনা করতে পারছে। শাসকের এই নির্যাতনই আওয়ামী লীগকে প্রতিদিন আরও শক্তিশালী করছে। জনগণের শক্তিতেই দল আবার ঘুরে দাঁড়াবে।
প্রশ্ন: দল নিষিদ্ধ এবং নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে হাজারো মামলার মধ্যে এই পুনর্জাগরণ কীভাবে সম্ভব হবে?
শেখ হাসিনা: আওয়ামী লীগের পুনরুত্থান কোনো সরকারের দয়ার ওপর নির্ভর করে না, এটি জনগণের ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। তারা দল নিষিদ্ধ করতে পেরেছে, কার্যালয় বন্ধ করেছে, কিন্তু মানুষের মন থেকে আমাদের মুছে ফেলতে পারেনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চরম নির্যাতনের মধ্যেও দেশের প্রতিটি অঞ্চলে সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আওয়ামী লীগের সমর্থনে মিছিল করছে। আমাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি ঠেকাতে যেভাবে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ মোতায়েন করতে হয়েছে—তাতেই স্পষ্ট যে বর্তমান সরকার আওয়ামী লীগের শক্তিকে কতটা ভয় পায়। বাংলাদেশে প্রকৃত স্থিতিশীলতা ফেরাতে হলে আমাদের ওপর থেকে এই অবৈধ নিষেধাজ্ঞা দ্রুত তুলে নিতে হবে।
প্রশ্ন: আপনি বলেছেন, ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশ তার মৌলিক বৈশিষ্ট্য হারিয়ে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রের মডেলের দিকে যাচ্ছে। এর পেছনে আপনার যুক্তি কী?
শেখ হাসিনা: বাংলাদেশের ভিত্তি ছিল জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। ৫ আগস্টের পর আমরা দেখেছি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর সর্বাত্মক আঘাত। মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করা হয়েছে, ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে অপরাধ বানানো হয়েছে, বঙ্গবন্ধুর বাসভবন ও ভাস্কর্য ভাঙচুর করা হয়েছে।অথচ আমাদের সময়ে ২০২৩ সালে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল 7.25% এবং বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৫তম বৃহৎ অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছিল। আমরা মেগা প্রজেক্টের মাধ্যমে দেশকে উন্নয়নের বৈশ্বিক রোল মডেলে নিয়ে গিয়েছিলাম। এখন সেই উন্নয়নের ধারা ধ্বংস করে দেশে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগই জয়ী হবে জেনেই পরিকল্পিতভাবে দলটিকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা হয়েছে।
প্রশ্ন: আপনার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও দেশে ফেরার বিষয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে পর্দার আড়ালে কোনো গোপন সমঝোতা হয়েছে কি না?
শেখ হাসিনা: জনগণকে বিভ্রান্ত করতে ষড়যন্ত্রকারীরা এই অপপ্রচার চালাচ্ছে। বাংলাদেশের গণতন্ত্র, মানুষের ভোটাধিকার এবং আমাদের রাজনৈতিক অধিকার কোনো গোপন দরকষাকষির বিষয় নয়। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার কোনো দয়া নয়, এটি একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ন্যূনতম শর্ত। একইভাবে, রাজনৈতিক নির্দেশনায় পরিচালিত ট্রাইব্যুনাল বা সাজানো মামলার মাধ্যমে কখনো ন্যায়বিচার হয় না। আওয়ামী লীগ কারও রাজনৈতিক করুণা চায় না, আমরা সংবিধানপ্রদত্ত অধিকার এবং জনগণের সমর্থনের ভিত্তিতেই রাজনীতি করব। কোনো গোপন সমঝোতার প্রশ্নই ওঠে না।
প্রশ্ন: সম্প্রতি বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ও মন্দির ভাঙচুরের ঘটনাগুলোকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
শেখ হাসিনা: এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং গভীর উদ্বেগের। ৫ আগস্টের পর থেকে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান বা সুফি দরগা—কোনোটিই নিরাপদ নয়। সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে কথা বলার কারণে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস এখনও মিথ্যা মামলায় কারাগারে আছেন। ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে সব ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছিল। যারা আজ ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর আঘাত হানছে, তারা শুধু একটি সম্প্রদায়ের শত্রু নয়, তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার চেতনার শত্রু। কোনো নাগরিক যদি তার ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে ভয়ে থাকে, তবে বুঝতে হবে রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে। এই সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদ শুধু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয়, এটি পুরো দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার জন্যই বড় হুমকি।
প্রশ্ন: ভারতে আপনার বর্তমান নির্বাসিত জীবন ব্যক্তিগতভাবে কেমন কাটছে?
শেখ হাসিনা: ১৯৭৫ সালের পর আমার জীবনে ব্যক্তিগত বলে আলাদা কিছু নেই। দেশের এই চরম সংকটময় মুহূর্তে আমি মেঠো মানুষের পাশে থাকতে পারছি না, এটাই আমাকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয়। আমার মন সারাক্ষণ বাংলাদেশেই পড়ে থাকে। প্রতিদিন নেতা-কর্মীদের ওপর নির্মম নির্যাতনের খবর শোনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তবে দূর থেকেও আমি প্রতিদিন দেশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি, আন্তর্জাতিক মহলে মানবাধিকারের চিত্র তুলে ধরছি। আমার সংগ্রাম থামেনি। জনগণের শক্তিতে আমি বিশ্বাস করি এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এই লড়াইয়ে আমি মানুষের পাশেই থাকব।
/আশিক
পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক তোলপাড়: মমতাকে সরিয়ে তৃণমূলের নতুন চেয়ারম্যান অরূপ রায়
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নজিরবিহীন ও নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় তিন দশক আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে যে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল, এখন সেই দলেরই সর্বোচ্চ পদ তথা চেয়ারম্যান পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি তুলেছে দলের একটি ক্ষুব্ধ অংশ। তৃণমূলের এই বিদ্রোহী নেতারা দলটির প্রতিষ্ঠাতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাদ দিয়ে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে হাওড়ার বর্তমান বিধায়ক অরূপ রায়ের নাম ঘোষণা করেছেন।
সোমবার (২২ জুন) কলকাতার নিউ টাউনের একটি অভিজাত হোটেলে তৃণমূলের এই বিক্ষুব্ধ ও বিদ্রোহী শিবিরের এক বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আয়োজিত এই সভায় দলটির বড় একটি অংশ যোগ দেয়। বিদ্রোহী নেতাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই বৈঠকে দলটির প্রায় ৬০ জন বর্তমান বিধায়ক এবং কলকাতা পৌরসভার প্রায় ৭০ জন প্রাক্তন কাউন্সিলর সশরীরে উপস্থিত থেকে এই সিদ্ধান্তের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।
অনুষ্ঠিত এই বৈঠক থেকে দলের ভেতর বড় ধরনের সাংগঠনিক পরিবর্তনের ডাক দিয়ে একটি নতুন জাতীয় কর্মসমিতি গঠনের কথা জানানো হয়। বিক্ষুব্ধ নেতাদের অভিযোগ, দলের নিজস্ব সাংগঠনিক সংবিধান বা গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পরপর জাতীয় কর্মসমিতি পুনর্গঠন করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু ২০২২ সালের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও দলটির ভেতরে এমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দলীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও আইনি বাধ্যবাধকতা বজায় রাখতেই তারা এই নতুন বিকল্প কমিটি গঠনে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি করেন।
ঘোষিত এই নতুন সাংগঠনিক কমিটিতে অরূপ রায়কে চেয়ারম্যান করার পাশাপাশি দলের শীর্ষ স্তরেও বড় রদবদল করা হয়েছে। কমিটির সহ-সভাপতি পদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, রথীন ঘোষ এবং সাবিনা ইয়াসমিনকে। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, জাভেদ খান এবং সন্দীপন সাহা। এছাড়া দলটির নতুন কোষাধ্যক্ষ হিসেবে আখরুজ্জামান আনসারির নাম ঘোষণা করা হয়েছে এবং দলের দীর্ঘদিনের আর্থিক লেনদেন ও কার্যক্রম খতিয়ে দেখতে একটি অডিট বা নিরীক্ষক দল নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিদ্রোহী এই গোষ্ঠীর স্পষ্ট বক্তব্য, তারা দল ভাঙতে চান না বরং দলের ভেতর কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে একটি নতুন এবং গতিশীল নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চান। অপরদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগত ও মূল ধারার নেতারা এই পুরো ঘটনাকে পাত্তাই দিতে চাচ্ছেন না। তাদের পাল্টা দাবি, দলের প্রচলিত গঠনতন্ত্র ও নিয়মকানুন অমান্য করে মুষ্টিমেয় কিছু নেতার নেওয়া এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্তের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা আইনি বৈধতা নেই।
দলীয় বৈধতার প্রশ্ন যা-ই থাক, পশ্চিমবঙ্গের সামগ্রিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই ঘটনাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। যার একক ক্যারিশমা, নেতৃত্ব ও আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার ওপর ভর করে তৃণমূল কংগ্রেসের জন্ম ও ক্ষমতার উত্থান ঘটেছিল, আজ তাঁর নেতৃত্বকেই দলের একটি বড় অংশ সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল। এই নতুন সমীকরণ আগামী দিনে রাজ্যের বিরোধী রাজনীতির মাঠ এবং তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্যকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
/আশিক
মমতাকে বাংলাদেশে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে নতুন বিতর্কে বিজেপির মন্ত্রী
ভারতের সংবিধান ও সরকারকে যদি দেশের কোনো নাগরিক বা রাজনৈতিক নেতা অমান্য করেন, তবে তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এ দেশে না থেকে বাংলাদেশে চলে যাওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বিজেপি নেতা ও মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তা (পিএসও) পরিবর্তনের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দিলীপ ঘোষ এই বিতর্কিত মন্তব্য করেন।
দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিএসও হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন স্বরুপ গোস্বামী ও কুসুম কুমার দ্বিবেদী। সরকারি নিয়ম ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত বুধবার সন্ধ্যায় তাদেরকে সেই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নতুন নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমান রাজ্য সরকারের এই আকস্মিক প্রশাসনিক পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করে ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস।
প্রশাসনিক সূত্র থেকে জানা গেছে, সরকারিভাবে পাঠানো নতুন নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের নিজের দায়িত্বে যোগ দিতে দেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর পরিবর্তে তিনি সরকারি নিরাপত্তা বর্জন করে সম্পূর্ণ নিজস্ব ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে নতুন নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করেছেন। বৃহস্পতিবার সকালে এই সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ প্রশ্ন তোলেন, একসময় সরকার তাকেও দুজন নিরাপত্তারক্ষী দিয়েছিল এবং সরকারি সিদ্ধান্ত মেনে ওনারা দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন সরকারি সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নিজের পছন্দমতো নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগ করবেন?
বিজেপির এই মন্ত্রী আরও যুক্তি দেন যে, যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তখন তিনিও ক্ষমতার আওতায় এই ধরনের প্রশাসনিক বদলি ও নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতেন। কাকে কোন পদে বা কোথায় দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনিই নির্ধারণ করতেন। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান যিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পদে আসীন রয়েছেন, প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী এই ধরনের নিয়োগ ও বদলি ঠিক করার সম্পূর্ণ আইনি ও সাংবিধানিক অধিকার তারও রয়েছে।
দিলীপ ঘোষ বলেন, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী কেবল তার প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। এমতাবস্থায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন এই সরকারি সিদ্ধান্ত মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছন তা বোধগম্য নয়। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কেউ যদি দেশের সংবিধান ও নির্বাচিত সরকারকে অমান্য করেন, তবে তার এই দেশে থাকার কোনো যৌক্তিকতা নেই; তার বরং বাংলাদেশে চলে যাওয়া উচিত।
উল্লেখ্য, এর আগেও বিভিন্ন বিষয়ে মন্তব্য করে রাজনৈতিক মহলে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন দিলীপ ঘোষ। সম্প্রতি পবিত্র ঈদুল আজহায় কলকাতার ঐতিহাসিক রেড রোডে মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের অনুমতি না দেওয়ার পক্ষে যুক্তি দেখাতে গিয়েও তিনি উগ্র মন্তব্য করেছিলেন। সেই সময় তিনি বলেছিলেন, নামাজ পড়তে হলে বাংলাদেশ বা পাকিস্তানে গিয়ে পড়া উচিত, এখানে এসব চলবে না কারণ এখন সরকার পরিবর্তন হয়েছে।
/আশিক
বিপুল সংখ্যক নারী পুলিশ নিয়ে মমতার বাড়ির দপ্তরে হানা দিল সিআইডি
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বিধায়কদের স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ ঘিরে চলমান রাজনৈতিক বিতর্ক এক নজিরবিহীন ও চরম নাটকীয় মোড়ে নিয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই জালিয়াতি মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে আজ মঙ্গলবার (৯ জুন ২০২৬) দুপুরের দিকে পশ্চিমবঙ্গের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কলকাতার কালীঘাটের বাসভবনে তল্লাশি পরোয়ানা নিয়ে হানা দিয়েছে। ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির (NDTV) বিশেষ প্রতিবেদনে এই বিস্ফোরক তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সিআইডির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা স্থানীয় কালীঘাট থানার পুলিশ এবং বিপুল সংখ্যক নারী পুলিশ বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে দুপুরের দিকে তৃণমূল কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ৩০বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে প্রবেশ করেন। তদন্তকারী সংস্থার এই নজিরবিহীন পদক্ষেপটি এসেছে কয়েকদিন আগে দেওয়া একটি আইনি নোটিশের জের ধরে। ওই নোটিশে মূলত বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতির জন্য স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া প্রস্তাবে তৃণমূল বিধায়কদের স্বাক্ষর জাল করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তথ্য চাওয়া হয়েছিল।
সিআইডির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সিআইডির নোটিশের জবাবে উল্লেখ করেছিলেন যে—বিধায়কদের ওই স্বাক্ষরগুলো দলীয় কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকেই সংগ্রহ করা হয়েছিল। অভিষেকের দেওয়া সেই দাপ্তরিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই আজ সিআইডির তিনটি পৃথক দল একযোগে কলকাতায় এই হাই-প্রোফাইল চিরুনি অভিযান পরিচালনা করছে। এর মধ্যে একটি দল সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে, আরেকটি দল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়ে এবং তৃতীয় দলটি অভিষেকের ব্যক্তিগত বাসভবনে একযোগে তল্লাশি চালাচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় সৃষ্টি করা এই বিতর্কের সূত্রপাত হয় মূলত বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে জ্যেষ্ঠ তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিতে স্পিকারের কাছে পাঠানো একটি বিশেষ প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ ওঠে, বাম ও বিজেপিকে টেক্কা দিতে পাঠানো ওই আবেদনে একাধিক বিধায়কের স্বাক্ষর জালিয়াতি করা হয়েছে। তৃণমূলের নিজস্ব দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা স্পিকারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন যে, প্রস্তাবটি সম্পূর্ণ ‘মনগড়া, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও জালিয়াতির মাধ্যমে’ তৈরি করা হয়েছে।
তাঁদের দাবি, আবেদনে থাকা ৭০টি স্বাক্ষরের মধ্যে অন্তত ১৪টি স্বাক্ষর সন্দেহজনকভাবে ব্লক লেটারে (Capital Letters) লেখা ছিল, যা জালিয়াতির স্পষ্ট প্রমাণ দেয়। এই গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে কলকাতায় একটি এফআইআর দায়ের হওয়ার পর আদালতের নির্দেশে সিআইডি তদন্ত শুরু করে। অবশ্য এর পরপরই দলবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ওই দুই বিদ্রোহী বিধায়ককে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কার করা হয়। সিআইডির আজকের এই সাঁড়াশি অভিযান পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান তৃণমূল সরকারের জন্য বড় ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
/আশিক
ভারতের পরমাণু নীতিতে ঐতিহাসিক বদল: প্রথমবারের মতো ১২টি ওয়ারহেড সরাসরি মোতায়েন
ভারতের দীর্ঘদিনের পারমাণবিক অস্ত্র নীতিতে এক ঐতিহাসিক ও কৌশলগত পরিবর্তনের চাঞ্চল্যকর ইঙ্গিত দিয়েছে বিশ্বের শীর্ষ অস্ত্র পর্যবেক্ষণ সংস্থা স্টকহোম আন্তর্জাতিক শান্তি গবেষণা ইনস্টিটিউট (SIPRI)। সংস্থাটির সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার (৯ জুন ২০২৬) ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি (NDTV) এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ভারত ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ১২টি পারমাণবিক ওয়ারহেড ‘অপারেশনালি ডিপ্লয়েড’ বা সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে কার্যকরভাবে মোতায়েন করেছে।
সিপরির (SIPRI) সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এতদিন পর্যন্ত ভারতের পারমাণবিক নীতি ছিল মূলত 'প্রতিরোধমূলক' এবং তারা তাদের পারমাণবিক ওয়ারহেড এবং সেগুলো বহনে সক্ষম দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বা অন্যান্য ডেলিভারি সিস্টেম সম্পূর্ণ আলাদা আলাদা সুরক্ষিত স্থানে সংরক্ষণ করত। কিন্তু এবারই প্রথম ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের একটি অংশকে শুধু সাধারণ মজুত হিসেবে নয়, বরং তাৎক্ষণিক আক্রমণের জন্য ‘কার্যকরভাবে মোতায়েন’ অবস্থায় শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ভারতের এই ১২টি নতুন মোতায়েনকৃত পারমাণবিক ওয়ারহেড সম্ভবত সরাসরি সংশ্লিষ্ট মিসাইল সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে অথবা এমন কৌশলগত সামরিক ঘাঁটিতে হাই-অ্যালার্টে রাখা হয়েছে, যেখান থেকে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে অত্যন্ত দ্রুততম সময়ে এগুলো নিক্ষেপ করা সম্ভব। এ ছাড়া ভারতের তৈরি নতুন ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র সাইলো (Missile Silo) এবং নতুন পরমাণু চালিত সাবমেরিনে প্রস্তুত অবস্থায় অস্ত্র মোতায়েন রাখা নয়াদিল্লির পারমাণবিক যুদ্ধপ্রস্তুতি বহুগুণ বৃদ্ধির স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে।
বিশ্বখ্যাত এই গবেষণা ইনস্টিটিউটটি আরও জানিয়েছে, ২০blank সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রের মোট মজুত একলাফে প্রায় ১৯০টিতে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় সামান্য বেশি। এসব শক্তিশালী গণবিধ্বংসী অস্ত্র বর্তমানে বিমান বাহিনী, স্থলভিত্তিক দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী পারমাণবিক সাবমেরিন—এই তিন মাধ্যমের সমন্বয়ে গঠিত ভারতের ক্রমবিকাশমান ‘নিউক্লিয়ার ট্রায়াড’ (Nuclear Triad)-এর অংশ হিসেবে কাজ করছে।
সিপরির প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ভারত ইতোমধ্যে তাদের একটি গভীর সমুদ্রের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী পারমাণবিক সাবমেরিনে (SSBN) সীমিত সংখ্যক পরমাণু অস্ত্র স্থায়ীভাবে মোতায়েন করেছে এবং চিরবৈরী প্রতিবেশী চীন ও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক প্রতিরোধ সক্ষমতা প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিয়মিত টহল কার্যক্রমও পরিচালনা করছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।
/আশিক
দিল্লির রাজপথে ‘তেলাপোকা বাহিনীর’ গর্জন, মোদি সরকারের জন্য বড় সতর্কবার্তা
ভারতে জেন-জির হাত ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হওয়া একটি ব্যঙ্গাত্মক রসিকতা এখন রূপ নিয়েছে দেশটির ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক শিবিরের সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণে। ব্যাপক বেকারত্ব এবং শিক্ষা ব্যবস্থার একের পর এক কেলেঙ্কারিতে ক্ষুব্ধ তরুণদের সমর্থনে রাতারাতি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) বা ‘তেলাপোকা পার্টি’।
মাত্র এক মাসেরও কম সময়ে এই কাল্পনিক রাজনৈতিক দলটির ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ারের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২২ মিলিয়ন (২ কোটি ২০ লাখ), যা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) অফিশিয়াল ফলোয়ার সংখ্যার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি।
ব্যতিক্রমী এই আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটেছিল গত মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে, যখন ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্যকান্ত একটি মামলার শুনানির সময় কিছু বেকার যুবককে ‘পরজীবী’ এবং ‘তেলাপোকা’র সঙ্গে তুলনা করেন বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে তিনি দাবি করেন যে তার বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল, তবে ততক্ষণে তরুণদের রাগ ক্ষোভে রূপ নেয়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটির গ্র্যাজুয়েট এবং রাজনৈতিক যোগাযোগ কৌশলবিদ অভিজিৎ দিপকে এই অপমানকে পুঁজি করে ব্যঙ্গাত্মকভাবে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র একটি ওয়েবসাইট ও সোশ্যাল মিডিয়া পেজ খোলেন এবং একে ভারতের ‘অলস, বেকার ও অবহেলিত’ তরুণদের একমাত্র কণ্ঠস্বর হিসেবে ঘোষণা করেন, যা নিমেষেই ভাইরাল হয়ে যায়।
অনলাইনের এই বিপুল জনপ্রিয়তা এখন আর শুধু স্ক্রিনের ভেতর সীমাবদ্ধ নেই, তা আছড়ে পড়েছে দিল্লির রাজপথে। প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে ফিরেই গতকাল শনিবার (৬ জুন) দিল্লির জন্তর মন্তরে এক বিশাল যুব সমাবেশের ডাক দেন। ভারতের সাম্প্রতিক বড় বড় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থার অনিয়মের প্রতিবাদে এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়, যেখান থেকে দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করা হয়েছে।
মাথায় তেলাপোকার মাস্ক এবং হাতে ‘আমিই তেলাপোকা’ লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে হাজার হাজার তরুণ এই বিক্ষোভে অংশ নেন। অনলাইনের ভার্চুয়াল ফলোয়াররা বাস্তবে এসে মাঠের রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, এই প্রতিবাদ ছিল মোদি সরকারের জন্য তার প্রথম বাস্তব পরীক্ষা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মোদি সরকারের জন্য এটি একটি বড় সতর্কবার্তা। ভারতের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬৫ শতাংশেরই বয়স ৩৫ বছরের নিচে হলেও দেশটির নীতিনির্ধারক ও শীর্ষ নেতাদের গড় বয়স ৬০ থেকে ৭০-এর কোঠায়, যেখানে খোদ প্রধানমন্ত্রী মোদির বয়স ৭৫ বছর। ভারতের অর্থনীতি বড় হলেও উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার প্রায় ২৯ শতাংশে ঠেকেছে এবং এর ওপর প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা তাদের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক ইতিহাস বিশেষ করে বাংলাদেশ এবং নেপালে তরুণ প্রজন্মের সোশ্যাল মিডিয়া ভিত্তিক আন্দোলন যেভাবে অনমনীয় সরকারকে পতন ঘটিয়েছিল, সিজেপির এই উত্থানকে অনেকেই সেই সারিতে ফেলছেন। শুরুতে বিজেপি একে ‘অনলাইন স্টান্ট’ বলে উড়িয়ে দিলেও, দিল্লির রাজপথে তেলাপোকা বাহিনীর গর্জন এবং মোদির চেয়ে দ্বিগুণ অনলাইন ফলোয়ারের এই জোয়ার মোদি সরকারের দীর্ঘ ১২ বছরের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ভিতকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে।
সূত্র: ব্লুমবার্গ।
ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ধনকুবের রবিন খুদার
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলীয় ধনকুবের রবিন খুদার প্রতিষ্ঠিত বিশ্বখ্যাত ডেটা সেন্টার কোম্পানি ‘এয়ারট্রাংক’ (AirTrunk) আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতে ৩০ বিলিয়ন (৩ হাজার কোটি) মার্কিন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগের এক মেগা পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে এশিয়ার বাজারে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যেই এই বিশাল বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে এয়ারট্রাংক কর্তৃপক্ষের এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর আনুষ্ঠানিকভাবে এই পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। এই মেগা প্রকল্পের আওতায় কোম্পানিটি ভারতজুড়ে প্রায় ৫ গিগাওয়াট (GW) বিদ্যুৎ সক্ষমতার সর্বাধুনিক ডেটা সেন্টার হাব গড়ে তুলতে চায়।
এই বিনিয়োগ প্রসঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, এয়ারট্রাংকের এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ ভারতের এআই ও ক্লাউড কম্পিউটিং খাতে দেশের বৈশ্বিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে এটি ভারতে বিপুল নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্থানীয় প্রযুক্তিগত সরবরাহব্যবস্থার উন্নয়ন এবং উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রস্তাবিত এই মহাপরিকল্পনার মধ্যে সবচেয়ে বড় ও প্রধান প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্রে। রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস নিশ্চিত করেছেন যে, এয়ারট্রাংক সেখানে প্রায় ২ ট্রিলিয়ন (২ লাখ কোটি) ভারতীয় রুপি বিনিয়োগে একাই ৩ গিগাওয়াট ক্ষমতার একটি সুবিশাল ডেটা সেন্টার হাব নির্মাণ করবে।
এই লক্ষ্য পূরণে ইতোমধ্যে মুম্বাইয়ের উপকণ্ঠে রায়গড় এলাকায় প্রয়োজনীয় জমি কেনার প্রাথমিক চুক্তিও সম্পন্ন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। বিখ্যাত ব্যবসায়িক সাময়িকী ‘ফোর্বস এশিয়া’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এয়ারট্রাংকের প্রতিষ্ঠাতা রবিন খুদা বলেন, “ভারত এমন একটি বিশাল বাজার, যেখানে ভবিষ্যতের ডিজিটাল চাহিদার পরিসর আমাদের কোম্পানির উচ্চাকাঙ্ক্ষার সঙ্গে শতভাগ সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিপুল জনসংখ্যা, দ্রুত ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার এবং এআই খাতে ভারতের বর্তমান অগ্রযাত্রা এই দেশটিকে অনন্য করে তুলেছে।”
উল্লেখ্য, এয়ারট্রাংক বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া, হংকং, ভারত, জাপান, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে তাদের আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ব্যবসার পরিধি বাড়াতে চলতি বছরের এপ্রিলে কোম্পানিটি ভারতের মুম্বাইভিত্তিক অন্যতম শীর্ষ ডেটা সেন্টার ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান ‘লুমিনা ক্লাউডইনফ্রা’-কেও সম্পূর্ণ অধিগ্রহণ করে। ফোর্বসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সফল উদ্যোক্তা রবিন খুদার বর্তমান ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ১ বিলিয়ন (২১০ কোটি) মার্কিন ডলার।
তিনি ২০১৫ সালে এয়ারট্রাঙ্ক প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাকস্টোন ও কানাডা পেনশন প্ল্যান ইনভেস্টমেন্ট বোর্ডের নেতৃত্বাধীন একটি শক্তিশালী জোট ১৬ বিলিয়ন ডলারে কোম্পানিটি কিনে নিলেও, রবিন খুদা এখনও প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী (CEO) হিসেবে মূল্যবান অংশীদারিত্ব ও নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছেন।
/আশিক
বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে রেড অ্যালার্ট, সুরক্ষায় মোতায়েন সহস্রাধিক নিরাপত্তাকর্মী
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক জন্তর মন্তরে এক বিশাল বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেছে রাজনৈতিক দল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। আজ শনিবার (৬ জুন) সকাল থেকেই দলটির হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা ব্যানার-ফেস্টুন হাতে জন্তর মন্তর এলাকায় জড়ো হতে শুরু করেন। দলটির অভিযোগ, সাম্প্রতিক জাতীয় পরীক্ষাগুলোতে নজিরবিহীন অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে, যার দায় শিক্ষামন্ত্রী এড়াতে পারেন না। দীর্ঘ টানাপোড়েন ও আলোচনার পর অবশেষে দিল্লি পুলিশ জন্তর মন্তরে এই বিক্ষোভ সমাবেশের আনুষ্ঠানিক অনুমতি দিয়েছে বলে সিজেপির পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
এই আন্দোলনের মূল নেতৃত্ব দিতে এবং সরাসরি অংশ নিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আজ সকালেই দিল্লিতে এসে পৌঁছেছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণের পরপরই নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হ্যান্ডেলে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় তিনি আন্দোলনকে সম্পূর্ণ অহিংস ও শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালনার আহ্বান জানান।
একই সাথে তিনি বিক্ষোভে অংশ নেওয়া প্রতিটি সমর্থককে নিজেদের সাথে পাঠ্যবই এবং ভারতের জাতীয় পতাকা রাখার বিশেষ অনুরোধ করেন। এর আগে গত সপ্তাহে এক ভিডিও বার্তায় তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, প্রশ্ন ফাঁসের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে ৬ জুন থেকে রাজপথে শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। উল্লেখ্য, লাদাখের বিখ্যাত পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকও এই দাবি সমর্থন করেছেন এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করলে তিনিও এই আন্দোলনে সশরীরে যোগ দেবেন বলে জানা গেছে।
এদিকে এই হাইপ্রোফাইল বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুরো দিল্লি জুড়ে নিশ্ছিদ্র ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে প্রশাসন। দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক ও জনবহুল এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে এবং জন্তর মন্তর ও তার আশপাশে এক হাজারের বেশি কেন্দ্রীয় নিরাপত্তাকর্মী সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। সিজেপির মুখপাত্র গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, দিল্লি পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে দীর্ঘ আলোচনার পরই কেবল তারা জন্তর মন্তরে বসার অনুমতি পেয়েছেন।
অন্যদিকে দিল্লি পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, দলটির পক্ষ থেকে আগে কোনো আনুষ্ঠানিক লিখিত আবেদন পাওয়া না গেলেও উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে নিবিড়ভাবে নজরদারি চালানো হচ্ছে। আন্দোলন ঘিরে ভারতের রাজধানীতে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হলেও আয়োজকেরা শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবেই কর্মসূচি সফল করার ওপর সর্বোচ্চ জোর দিচ্ছেন।
/আশিক
হাদি খুন নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য: মমতার বিরুদ্ধে ভারতে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা দায়ের
বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার জেরে এবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সদ্য সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতাসহ একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের আইনজীবী রিংকু চ্যাটার্জি সিং গত রাতে শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগটি দায়ের করেন। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের মাত্র এক মাস পর, প্রথম রাজনৈতিক কর্মসূচিতেই বাংলাদেশের একটি হত্যাকাণ্ড নিয়ে দেওয়া তাঁর এই বিস্ফোরক বক্তব্যের জেরে এখন খোদ ভারতেই আইনি জালে জড়ালেন মমতা।
অভিযোগকারী আইনজীবী রিংকু চ্যাটার্জি সিং তাঁর এজাহারে দাবি করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জনসভায় দাঁড়িয়ে ভারতের নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জনমনে তীব্র ঘৃণা ও বিভেদ তৈরির অপচেষ্টা করেছেন। এছাড়া, বাংলাদেশের একটি স্পর্শকাতর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সরাসরি জড়িয়ে তিনি যে ভিত্তিহীন মন্তব্য করেছেন, তা আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের ভাবমূর্তি ও সম্মান মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করেছে। এই ধরনের আপত্তিকর বক্তব্য প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশের সাথে ভারতের দীর্ঘদিনের সুদৃঢ় কূটনৈতিক সম্পর্কে বড় ধরনের সংকট তৈরি করতে পারে এবং এটি দুই দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক বিরাট হুমকি।
এই গুরুতর অপরাধের কারণে মমতার বিরুদ্ধে ভারতের নতুন ফৌজদারি আইন ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ (বিএনএস)-এর ১৫২, ১৫৩, ১৫৩(এ), ১৯১, ১৯২, ১৯৬, ৩৫১, ৩৫২ এবং ৩৫৩-সহ একাধিক কঠোর ধারায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, বিএনএস-এর ১৫২ ধারাটি ভারতের সার্বভৌমত্ব, একতা ও অখণ্ডতাকে বিপন্নকারী কার্যকলাপকে রাষ্ট্রদ্রোহিতা সমতুল্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করে। এছাড়া, ১৫৩ ধারা অনুযায়ী—ভারতের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকা কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের (এক্ষেত্রে বাংলাদেশ) বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা বা বিদ্বেষ ছড়ানোর চেষ্টা করা একটি অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ।
একই সঙ্গে ১৫৩ (এ) ধারা অনুযায়ী, ধর্ম ও ভাষার ভিত্তিতে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা ছড়ানোর অভিযোগও আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। আইনজীবী রিংকু চ্যাটার্জি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আগামী ৮ জুন হাইকোর্ট খুললেই তিনি সাবেক এই মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হবেন।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার কলকাতার ধর্মতলার এক রাজনৈতিক সভা থেকে মমতা দাবি করেছিলেন, বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির হত্যাকারীরা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে বেআইনিভাবে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করার পর রাজ্য পুলিশের এসটিএফ তাদের গ্রেপ্তার করে। এরপর ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ স্বয়ং মমতাকে ফোন করে ‘দেশের স্বার্থে’ বিষয়টি গোপন রাখতে ও মুখ না খুলতে অনুরোধ করেছিলেন।
সভায় অমিত শাহকে তীব্র আক্রমণ করে মমতা বলেন, “কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়ে ছিল? আজকের সরকার পরিবর্তন হলেও আমি সবটাই জানি। আমার হৃদয়টাই একটা কথার ভাণ্ডার। আমি সেই নামটা বলতে চাইছি না, বললে বাংলাদেশ উত্তাল হয়ে যাবে। আমি বাংলাদেশকে ভালোবাসি, দেশের স্বার্থে ওই নাম আমি বলবো না।” মমতার এই মন্তব্যকে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কেন্দ্রীয় সরকারকে বেকায়দায় ফেলার কৌশল হিসেবে দেখা হলেও, এটি এখন আন্তর্জাতিক ও আইনি অঙ্গনে এক নতুন উত্তেজনার জন্ম দিল।
সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ
পাঠকের মতামত:
- ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য নীতির আগুনে পুড়ছে বিশ্ব, একমাত্র ‘স্পষ্ট বিজয়ী’ হিসেবে উদয় চীনের
- অসলো চুক্তি লঙ্ঘন করে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের মানচিত্র বদলে দেওয়ার গোপন ছক ফাঁস
- দীর্ঘ ২৮ বছর পর নকআউটে নরওয়ে: আইভরি কোস্টের বিপক্ষে আজ মাঠে নামছেন হালান্ড
- পিছিয়ে পড়েও মেজাজ হারাননি আনচেলত্তি, ড্রেসিংরুমের সেই গোপন বার্তা ফাঁস
- ১৯৭৪ থেকে ১৯৯০: বিশ্বমঞ্চে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল দ্বৈরথের রোমাঞ্চকর চার অধ্যায়
- দেবিদ্বারে ৪ হাজারের বেশি কৃষকের মাঝে কৃষি প্রণোদনা বিতরণ
- নানিয়ারচর জোনের উদ্যোগে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ ও গৃহ পুননির্মাণে সহায়তা প্রদান
- ভারতীয় ভিসা আবেদনে বড় পরিবর্তন
- নম্বর লুকিয়ে প্রোফাইল শেয়ারের ফিচার আনল হোয়াটসঅ্যাপ: নাম বুকিং শুরু আজই
- প্রায় ১৫০ বছরের পুরোনো আইন বাতিল করে পাস হলো জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬
- ইরান সরকারের বিশেষ আমন্ত্রণে তেহরান যাচ্ছে জামায়াতের সংসদীয় প্রতিনিধিদল
- ব্রাজিলের হেক্সা মিশনের পরবর্তী রোডম্যাপ: সেমিফাইনালে সুপার ক্লাসিকোর আভাস
- স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে ইসি: মির্জা ফখরুল
- ৬০ দিনের মধ্যে কেটে গেল ১৪ দিন, তবুও আলোর মুখ দেখেনি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি
- ১ জুলাই থেকে নতুন অর্থনৈতিক অভিযাত্রা: পাস হলো দেশের অন্যতম বড় জাতীয় বাজেট
- স্বর্ণের পর এবার কমল রুপার দাম, প্রকাশ নতুন তালিকা
- ভিসা সহজ হতেই বদলাচ্ছে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ক
- স্বর্ণ কিনবেন? জেনে নিন আজকের সর্বশেষ দাম
- আজ ঢাকার যেসব মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
- ব্রাজিলকে নিয়ে ভুল ভবিষ্যদ্বাণী, জার্মান অর্থনীতিবিদকে নেইমারের খোঁচা
- ইউনূস সরকারের কর্মকাণ্ডের তদন্ত কেন গুরুত্বপূর্ণ
- দোহায় আজ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক, দাবি ট্রাম্পের
- দোহায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকের খবর নাকচ ইরানের
- আজকের খেলার সূচি, কোন ম্যাচ কখন দেখবেন
- আজকের নামাজের সময়সূচি, জেনে নিন এক নজরে
- মহাকাশের ৩ স্পর্শকাতর ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে টপকে গেল চীন
- হাসিনাকে ভারত থেকে ফিরিয়ে এনে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলানো হবে জুড়ীতে পাটোয়ারী
- একীভূত ৫ ব্যাংকের আমানতের টাকা ধাপে ধাপে ফেরত দেওয়া হবে: সংসদে অর্থমন্ত্রী
- করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়িয়ে মধ্যবিত্তদের বড় স্বস্তি দিল সরকার
- হিউস্টনে আজ ব্রাজিলের স্বপ্নভঙ্গ করতে পারে জাপানের যে ৫টি মারাত্মক কৌশল
- জাপানের বিরুদ্ধে নামার আগে দাদির ভিডিও দেখে ক্যামেরার সামনেই কাঁদলেন ভিনিসিয়ুস
- তিস্তা প্রকল্পে বাংলাদেশকে চীনের পূর্ণ সমর্থন, ভারতের উদ্বেগ নিয়ে বেইজিংয়ের কড়া বার্তা
- শর্ত পূরণ আর তারিখ চূড়ান্ত না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা নয়: তেহরান
- আর থাকবে না দীর্ঘ লোডশেডিং, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সর্বোচ্চ চেষ্টার ঘোষণা
- ২ গোলের লিড হারিয়েও হারের ক্ষত বুকে নিয়ে জাপানের মুখোমুখি হচ্ছে সেলেসাওরা
- সংসদে অর্থমন্ত্রীর আশ্বাসের বাণী: দেশ ও জনগণের ক্ষতি হয় এমন কোনো চুক্তি নয়
- জুনে ডেঙ্গুর ভয়াবহ রূপ: পাঁচ মাস মিলিয়ে যা ছিল, এক মাসেই তার দ্বিগুণের বেশি মৃত্যু
- একাদশ গোপন রেখে জাপানের বিরুদ্ধে রহস্য জিইয়ে রাখলেন ব্রাজিল কোচ আনচেলত্তি
- যুদ্ধবিরতি চুক্তি ইরানি জনগণের ‘বিশাল বিজয়’: প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান
- তরুণরা নিজেরাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, চাকরির জন্য বছর পার করতে হবে না: প্রধানমন্ত্রী
- ষষ্ঠ বিশ্বকাপের স্বপ্নে আজ বড় পরীক্ষায় ব্রাজিল
- সৌদিতে প্রবাসীদের জন্য জরুরি সতর্কবার্তা
- সংসদে অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ বার্তা
- আজ ঢাকার যেসব মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
- সেমিনার, সম্মেলনসহ আজকের গুরুত্বপূর্ণ সব কর্মসূচি
- নেইমারকে নিয়ে সুখবর দিলেন আনচেলত্তি
- প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে সবুজায়নে নতুন অধ্যায়ের সূচনা
- আজকের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় জানুন এক নজরে
- আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম, আজ কত দামে বিক্রি হচ্ছে
- বাংলাদেশ টেস্টসহ আজকের সব খেলার পূর্ণ সূচি
- দোহায় আজ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক, দাবি ট্রাম্পের
- দোহায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকের খবর নাকচ ইরানের
- নকআউটে ব্রাজিল, কবে-কোথায় ম্যাচ? প্রতিপক্ষ কারা
- বুধবার বন্ধ থাকবে যমুনা ফিউচার পার্কসহ যেসব মার্কেট
- ‘চল যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে’ নাজিরপুরে মাদক নির্মূলে মানববন্ধন
- সোনার বাজারে ধ্বস, ১ লাখ ৮২ হাজার টাকায় মিলবে ভরি
- স্বর্ণ কিনবেন? জেনে নিন আজকের সর্বশেষ দাম
- ভূমিকম্পের আগেই ফোনে সতর্কবার্তা, যেভাবে চালু করবেন এই ফিচার
- মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলা
- সৌদিতে প্রবাসীদের জন্য জরুরি সতর্কবার্তা
- আজকের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ, জেনে নিন সব সময়
- সৌদিতে যেতে পারবেন না ৩ দেশের ভ্রমণকারীরা
- স্বর্ণের পর এবার কমল রুপার দাম, প্রকাশ নতুন তালিকা
- হরমুজ ঘিরে নতুন উত্তেজনা, হুঁশিয়ারি আইআরজিসির
- আশুরার রোজা কেন এত ফজিলতপূর্ণ? জেনে নিন








