তুরস্ক-সৌদি-পাকিস্তান চুক্তি কি নতুন সামরিক জোট? যা বললেন এরদোগান

তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত নতুন যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে করা হয়নি বলে জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধিতে বিশ্বাসী ‘ভ্রাতৃপ্রতিম’ ও বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর জন্য ভবিষ্যতে এই প্রতিরক্ষা কাঠামোয় যুক্ত হওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি নতুন চুক্তির লক্ষ্য ও প্রকৃতি ব্যাখ্যা করেন।
এর কয়েক ঘণ্টা আগেই সৌদি আরবের মক্কায় তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের শীর্ষ নেতারা বহুল আলোচিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করেন। চুক্তিতে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ স্বাক্ষর করেন। চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধারা অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির বিরুদ্ধে সশস্ত্র হামলাকে অন্য দুই দেশের ওপর হামলা হিসেবেও বিবেচনা করা হবে।
এরদোগান বলেন, চুক্তিটি মূলত পারস্পরিক প্রতিরোধক্ষমতা বা ‘কলেকটিভ ডিটারেন্স’-এর নীতির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তিন দেশের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও গভীর করার পাশাপাশি যৌথ সামরিক প্রকল্প, প্রতিরক্ষা শিল্পে অংশীদারত্ব এবং সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমে সমন্বয় বাড়ানো হবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এই কাঠামোর উদ্দেশ্য নতুন সংঘাত সৃষ্টি করা নয়; বরং সম্ভাব্য আগ্রাসন ঠেকাতে তিন দেশের সক্ষমতা একত্রিত করা।
নতুন চুক্তিতে জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদে স্বীকৃত ব্যক্তিগত ও সম্মিলিত আত্মরক্ষার অধিকারের কথাও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। জাতিসংঘ সনদের ওই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সদস্য রাষ্ট্র সশস্ত্র হামলার শিকার হলে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আগ পর্যন্ত দেশটি এককভাবে বা মিত্রদের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করতে পারে। নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তির আইনি ভিত্তি ব্যাখ্যায় এই ধারাটিকে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে তিন দেশ।
এরদোগান স্পষ্ট করেছেন, মক্কা চুক্তিকে ইরান, ইসরায়েল, ভারত কিংবা অন্য কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে গঠিত সামরিক জোট হিসেবে দেখা উচিত নয়। তাঁর মতে, এটি একটি প্রতিরক্ষামূলক কাঠামো এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যেই তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে অঞ্চলটির শান্তি ও স্থিতিশীলতায় অবদান রাখতে আগ্রহী অন্যান্য বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের জন্য চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও খোলা রয়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সামরিক অস্থিরতার মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ায় এর ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব বেড়েছে। ইরানকে ঘিরে সংঘাত, উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যগত ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার মধ্যে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান নিজেদের মধ্যে আরও দৃঢ় নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তুলছে।
তবে চুক্তিতে ঠিক কী ধরনের সামরিক সহায়তা বাধ্যতামূলক হবে, সে বিষয়ে এখনো পূর্ণাঙ্গ বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। কোনো সদস্য রাষ্ট্র আক্রান্ত হলে অন্য দুটি দেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেনা পাঠাবে কি না, অথবা গোয়েন্দা সহায়তা, আকাশ প্রতিরক্ষা, অস্ত্র সরবরাহ ও লজিস্টিক সহযোগিতার মধ্যেই দায়িত্ব সীমাবদ্ধ থাকবে কি না—এসব বিষয় এখনো পরিষ্কার নয়। রয়টার্সও জানিয়েছে, পারস্পরিক প্রতিরক্ষার অঙ্গীকার থাকলেও বাস্তব সামরিক দায়বদ্ধতার বিস্তারিত এখনো অস্পষ্ট।
পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে বহু দশক ধরে ঘনিষ্ঠ সামরিক সম্পর্ক রয়েছে। সৌদি সামরিক বাহিনীর প্রশিক্ষণ, যৌথ মহড়া এবং নিরাপত্তা সহযোগিতায় পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের ভূমিকা আছে। অন্যদিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যেও প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যুদ্ধজাহাজ, ড্রোন, প্রশিক্ষণ ও সামরিক প্রযুক্তি নিয়ে দুই দেশের একাধিক যৌথ প্রকল্প রয়েছে। নতুন ত্রিপক্ষীয় চুক্তি এসব দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসতে পারে।
তুরস্কের ক্ষেত্রে চুক্তিটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো দেশটি ইতোমধ্যেই ন্যাটোর সদস্য। ফলে আঙ্কারার নতুন আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা অঙ্গীকার ভবিষ্যতে ন্যাটোর বিদ্যমান দায়বদ্ধতার সঙ্গে কীভাবে সমন্বিত হবে, তা নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে নতুন চুক্তিকে ন্যাটোর বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন করেনি তুরস্ক এবং এটি নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক সামরিক ব্লক তৈরির পদক্ষেপ নয় বলেও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো জোর দিয়েছে।
পাকিস্তানের পারমাণবিক সক্ষমতার কারণে চুক্তিটি নিয়ে আরেকটি প্রশ্নও সামনে এসেছে—এই প্রতিরক্ষা কাঠামোর সঙ্গে দেশটির পারমাণবিক অস্ত্রের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না। তবে পাকিস্তান এর আগে স্পষ্ট করেছে, সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার অর্থ পারমাণবিক অস্ত্র ভাগাভাগি বা পারমাণবিক সুরক্ষা ছাতা দেওয়া নয়। রয়টার্সও জানিয়েছে, নতুন চুক্তিকে পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো দেখছে না।
মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক সম্ভবত আঞ্চলিক নিরাপত্তায় স্থানীয় শক্তিগুলোর ক্রমবর্ধমান ভূমিকা। কয়েক দশক ধরে উপসাগরীয় নিরাপত্তার প্রধান বহিঃশক্তি ছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের এই নতুন ব্যবস্থা একটি অধিকতর অঞ্চলনির্ভর নিরাপত্তা কাঠামোর ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন।
তবে এটি কতটা কার্যকর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় পরিণত হবে, সেটি নির্ভর করবে বাস্তবায়ন কাঠামোর ওপর। যৌথ কমান্ড, সামরিক পরিকল্পনা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, অস্ত্রের আন্তঃকার্যক্ষমতা এবং সংকটের সময় সিদ্ধান্ত নেওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত প্রকাশ হলে চুক্তিটির প্রকৃত কৌশলগত গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হবে।
-রফিক
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে ভারতসহ চার দেশকে বিশেষ ছাড় ইরানের
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও উত্তেজনার মধ্যেই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দিয়েছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে ভারত, চীন, ইরাক ও কাতারের জাহাজগুলোকে চলাচল নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিটির সহ-সভাপতি আমির হায়াত মোকাদ্দাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বর্তমানে এই চার দেশের বাণিজ্যিক জাহাজগুলো ওই জলপথ দিয়ে তুলনামূলক স্বাধীনভাবে চলাচল করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রও এসব জাহাজে কোনো বাধা সৃষ্টি করছে না। তবে এই বিশেষ ছাড় পাওয়ার অর্থ সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে প্রণালি ব্যবহারের সুযোগ নয়। ভারতীয়সহ নির্দিষ্ট দেশগুলোর জাহাজগুলোকে ট্রানজিট ফি বা নির্ধারিত যাতায়াত মাশুল পরিশোধ করতে হতে পারে। মূলত জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, আর্থিক মাশুল মওকুফের জন্য নয়।
বিভিন্ন দেশের জন্য এই ছাড় দেওয়ার পেছনে ইরানের রয়েছে সুনির্দিষ্ট কৌশলগত ও ভূরাজনীতিগত কারণ। চীনের ক্ষেত্রে তেহরানের প্রধান লক্ষ্য বেইজিংয়ের রাজনৈতিক সমর্থন ধরে রাখা এবং কৌশলগত সম্পর্ক দৃঢ় করা। কারণ চীন ইরানের তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা এবং গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার। অন্যদিকে, ভারত থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী আমদানির ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে ভারতীয় জাহাজগুলোর চলাচলে এই ছাড় দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি কাতার ও ইরাকের ক্ষেত্রেও রয়েছে বিশেষ বিবেচনা। কাতার বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ এলএনজি রপ্তানিকারক দেশ এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের নৌপথ সচল রাখতে দেশটির বড় ভূমিকা রয়েছে। অন্যদিকে, ইরাকের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে ইরান নিজেদের আঞ্চলিক নিরাপত্তার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত বলে মনে করে।
উল্লেখ্য, পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্তকারী হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর এই জলপথে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়। তেহরান কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করার পাশাপাশি ওয়াশিংটনও ইরানি বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ জারি করে। এই সংঘাতে এ পর্যন্ত বিভিন্ন জাহাজে হামলায় অন্তত ১৫ জন ভারতীয় নাবিক প্রাণ হারিয়েছেন। সর্বশেষ গত সোমবার ওমানের লিমার কাছে ‘এমএসভি আল জুসুফি’ নামক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলায় আরও এক ভারতীয় নাবিক নিহত হন। বাণিজ্যিক জাহাজে এ ধরনের হামলার ঘটনায় ভারত গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের তাগিদ দিয়ে আসছে।
সূত্র: এনডিটিভি
মার্কিন রাজনীতিতে নতুন সংকটের আভাস ও ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারি
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর ডোনাল্ড ট্রাম্প তৃতীয়বারের মতো অভিশংসিত হতে পারেন—এমন আশঙ্কার মুখে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাকে অভিশংসনের কোনো চেষ্টা করা হলে উল্টো ডেমোক্র্যাট পার্টিই ধ্বংস হয়ে যাবে। দেশ এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি সফল দাবি করে ট্রাম্প এই অভিশংসন উদ্যোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
সাম্প্রতিক নির্বাচনে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারালেও ডেমোক্র্যাটদের অবস্থান বেশ শক্ত হয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ২১৮টি আসনের বিপরীতে তারা ২৪০টি আসন নিশ্চিত করেছে এবং সিনেটে আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ৫৪টিতে উন্নীত করেছে। এই জয়ের সুবাদে ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্তের সুযোগ পেলেও অভিশংসনের প্রশ্নে দলটি এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিস সম্ভাবনা নাকচ না করলেও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে দায়িত্ব থেকে সরানোর বিষয়ে দলের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিচালনা ও অন্যান্য ইস্যুতে সমালোচনার মুখে থাকা হেগসেথের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিসকে আনার কথা ভাবছেন ট্রাম্প। এদিকে নির্বাচনে হারের পেছনে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রভাব রয়েছে বলে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মন্তব্য করলেও ট্রাম্প সেই যুদ্ধকে সফল বলে দাবি করেছেন।
উল্লেখ্য, এর আগে নিজের প্রথম মেয়াদে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ইউক্রেন ইস্যু এবং ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে সিনেটে নির্দোষ ঘোষিত হওয়ার মতো ঘটনার মধ্য দিয়ে দুবার অভিশংসিত হয়েছিলেন ট্রাম্প।
সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ
ইউক্রেন যুদ্ধের প্রযুক্তি এবার ইরানের হাতে তুলে দিচ্ছে রাশিয়া
রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হওয়ার তথ্য সামনে এসেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের (এফটি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানকে ৯০টি অত্যাধুনিক ‘এপিইউ-এল’ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা বিক্রির চুক্তিতে সম্মতি দিয়েছে রাশিয়া। হেলিকপ্টার থেকে পরিচালিত এসব লঞ্চার নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম, যা বর্তমানে রুশ বাহিনী ইউক্রেন যুদ্ধেও ব্যবহার করছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা খাতের ২০২৪ ও ২০২৫ সালের উৎপাদন নথিতে অস্ত্র রপ্তানির এই তথ্য উঠে এসেছে। সেখানে ক্রেতার নাম গোপন রাখতে ‘কে-১০’ সাংকেতিক পরিচয় ব্যবহার করা হলেও রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় অস্ত্র রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের নথিতে এটি ইরানকে নির্দেশ করে। রাশিয়ার এমআই-২৮ আক্রমণকারী হেলিকপ্টারে স্থাপনযোগ্য এই প্রতিটি লঞ্চার দুটি করে ‘এলএমইউআর’ ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে পারে, যার গতিপথ উড্ডয়নকালেও পরিবর্তন করা সম্ভব। তবে অস্ত্রগুলো ইতোমধ্যে তেহরানের হাতে পৌঁছেছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে কিছু জানানো হয়নি।
এছাড়াও, ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের তথ্যানুযায়ী, ‘সি৪৩০এল’ নামক একটি গোপন প্রকল্পের মাধ্যমে ইরানের সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের ইঞ্জিন ও জ্বালানি ব্যবস্থার উন্নয়নেও রুশ প্রকৌশলীরা কারিগরি সহায়তা দিয়েছেন। এর আগে রাশিয়া ইরান থেকে শাহেদ ড্রোন সংগ্রহ করলেও বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে সরাসরি জড়ানোর ঝুঁকি এড়াতে ক্রেমলিন যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য শক্তির সঙ্গে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রেখেই এগোচ্ছে। ফলে এই সামরিক লেনদেন দুই দেশের সম্পর্ক গভীর করলেও আঞ্চলিক সংঘাতে কতটুকু প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
/আশিক
পবিত্র মদিনার দিকে ছোড়া হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করল সৌদি জোট
ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিদের নিক্ষিপ্ত একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে ধ্বংস করার দাবি জানিয়েছে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। পবিত্র মদিনার দিকে তাক করে ক্ষেপণাস্ত্রটি ছোড়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে জোট কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) এক বিবৃতির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেন সৌদি জোটের মুখপাত্র কর্নেল তুর্কি আল-মালিকি। তিনি জানান, মদিনা অঞ্চলের দিকে ধেয়ে আসা হুথিদের ওই ক্ষেপণাস্ত্রটি সময়মতো প্রতিহত করে ধ্বংস করা হয়েছে।
এদিকে এই ঘটনার আগে সৌদি আরবের মদিনা প্রদেশের লোহিত সাগর উপকূলবর্তী ইয়ানবু গভর্নরেট এলাকায় দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে স্বল্প সময়ের জন্য একটি সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।
সূত্র: মিডল-ইস্ট আই
মার্কিন রাজনীতিতে ইতিহাস গড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নতুন সিনেটর
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগান অঙ্গরাজ্য থেকে জয়লাভ করে দেশটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন আবদুল এল-সাইয়েদ। বুধবার (৪ নভেম্বর) রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করে এই ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করেন মিশরীয় অভিবাসী পরিবারের এই সন্তান। এই বিজয়ের পর তার ব্যক্তিগত জীবন ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত স্ত্রী ডা. সারা জুকাকুকে নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
চলতি বছরের আগস্টে প্রকাশিত ‘মিট দ্য রিয়েল আবদুল এল-সাইয়েদ’ পডকাস্টে তাদের দাম্পত্য জীবনের মজার একটি স্মৃতি শেয়ার করেছিলেন এল-সাইয়েদ। তিনি জানান, ২০০৬ সালে সারার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর মিশর থেকে আসা তার এক চাচা রসিকতা করে বলেছিলেন, আট কোটি মিশরীয় বাদ দিয়ে তিনি কেন ভারতীয় নারীকে বিয়ে করলেন? জবাবে এল-সাইয়েদ মজা করে বলেছিলেন, ভারতীয়দের সংখ্যা যেহেতু শ কোটির বেশি, তাই পরিসংখ্যানের হিসাবে এমন কাউকে বেছে নেওয়ার সম্ভাবনাই তার বেশি ছিল। দুই দশকের এই সম্পর্কে তিনি নিজেকে অনেকখানি ভারতীয় বলেও রসিকতা করেছেন।
ডা. সারা জুকাকুর পরিবারের পৈত্রিক শিকড় ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের উপকূলীয় শহর ভাটকালে। তার দাদা জুকাকু শামসুদ্দিন তৎকালীন মহীশূর রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী বিডি জাট্টির অধীনে অর্থবিষয়ক উপমন্ত্রী এবং ভাটকালের প্রথম আইনজীবী ছিলেন। সারার বাবা ডা. তাইয়েব জুকাকু বেঙ্গালুরু থেকে চিকিৎসাশাস্ত্র শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে থিতু হন। ব্যক্তিগত জীবনে এল-সাইয়েদ ও সারা দম্পতির এমালি ও সেরিন নামের দুই কন্যাসন্তান রয়েছে। এক নির্বাচনী প্রচারে স্বামীকে নিয়ে রসিকতা করে সারা মন্তব্য করেছিলেন যে, তাকে কেউ কোনো আদেশ দিতে পারে না, কেবল তিনি ছাড়া।
সূত্র: এনডিটিভি
মার্কিন রাজনীতিতে বড় ধাক্কার মুখে ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব অনেকটাই সংকুচিত হয়ে পড়েছে। বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের পাশাপাশি সিনেটেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় তাকে ঘিরে নতুন করে অভিশংসন ও নানা তদন্তের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন রাজনীতিতে এই পরিস্থিতিকে ট্রাম্পের ক্ষমতার শেষের শুরু বা ‘লেম ডাক’ পর্যায় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক ব্যবস্থা অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ বা অসদাচরণের অভিযোগ আনার প্রক্রিয়া হলো অভিশংসন। প্রতিনিধি পরিষদে অভিযোগ পাস হওয়ার পর উচ্চকক্ষ সিনেটে তার বিচার হয়। ডেমোক্র্যাটরা চাইলে তৃতীয়বারের মতো ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব আনতে পারেন, যা নিয়ে খোদ ট্রাম্পের মধ্যেও আশঙ্কা রয়েছে। এর আগে নিজের প্রথম মেয়াদে ইউক্রেন ইস্যু এবং ক্যাপিটল ভবনে দাঙ্গায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে ডেমোক্র্যাটদের উদ্যোগে দুইবার প্রতিনিধি পরিষদে অভিশংসিত হয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে সে সময় সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তিনি রক্ষা পান।
বর্তমানে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ট্রাম্পকে সিনেটে দোষী সাব্যস্ত করা অত্যন্ত দুরূহ। মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, সিনেটে কোনো অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে পদ থেকে সরাতে উপস্থিত সিনেটরদের দুই-তৃতীয়াংশ বা ৬৭ জনের সমর্থন প্রয়োজন হয়। সাম্প্রতিক নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা সিনেটে পর্যাপ্ত আসন পেলেও তা ৬৭-এর কোটা পূরণের জন্য যথেষ্ট নয়। তাছাড়া রিপাবলিকান সিনেটরদের ভোট পাওয়ার সম্ভাবনাও অত্যন্ত কম। ফলে প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাব পাস হলেও সিনেটের বাধায় ট্রাম্পের ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা বাস্তবে খুবই কম। মার্কিন ইতিহাসে এ পর্যন্ত অ্যান্ড্রু জনসন ও বিল ক্লিনটন অভিশংসিত হলেও কোনো প্রেসিডেন্টকে এই প্রক্রিয়ায় ক্ষমতাচ্যুত করা সম্ভব হয়নি।
/আশিক
বড় ধরনের দুর্যোগের মুখে সৌদির বেশ কিছু অঞ্চল
সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে আগামী শনিবার পর্যন্ত দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। দেশটির ন্যাশনাল সেন্টার ফর মেটিওরোলজি (এনসিএম) জানিয়েছে, এই সময়ে ভারি বজ্রসহ বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও শিলাবৃষ্টি আঘাত হানতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশজুড়ে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, জাজান, আসির, আল বাহা ও মক্কা অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি মদিনা, তাবুক, আল জউফ, হাইল, নাজরানসহ রিয়াদের বিভিন্ন অংশেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে মক্কা, তায়েফ এবং এর আশেপাশের গভর্নরেটগুলোতে শনিবারেও ভারী বৃষ্টির ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। এছাড়া জেদ্দা ও রাবিঘের মতো উপকূলীয় এলাকাগুলোতেও বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
প্রতিকূল এই আবহাওয়ায় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে এনসিএম। এর ফলে তীব্র ধূলিঝড়, সড়কে দৃশ্যমানতা হ্রাস, উপকূলীয় অঞ্চলে বড় ঢেউ এবং কিছু এলাকায় টর্নেডো বা জলস্তম্ভ সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। সম্ভাব্য এই দুর্যোগ এড়াতে স্থানীয় বাসিন্দা ও চালকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আবহাওয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে এনসিএমের ওয়েবসাইট ও অ্যাপ নিয়মিত ফলো করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সূত্র: গালফ নিউজ।
ট্রাম্পকে ডাস্টবিনে ফেলার এআই ভিডিও শেয়ার করল ইরানি দূতাবাস
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরণের রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে। ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টিকে পরাজিত করে কংগ্রেসের দুই কক্ষ—সিনেট এবং প্রতিনিধি পরিষদ—উভয়টিরই একক নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে বিরোধী ডেমোক্র্যাট দল।
এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরই ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অবস্থিত ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের দূতাবাসের পক্ষ থেকে একটি প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। দূতাবাসের ভেরিফাইড সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’ (টুইটার) অ্যাকাউন্টে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি করা একটি অ্যানিমেশন ভিডিও প্রকাশ করা হয়।
প্রকাশিত ওই ভিডিওটিতে দেখা যায়, কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি মিলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জোর করে তুলে নিয়ে একটি বড় ময়লার পাত্রের ভেতর ফেলে দিচ্ছেন। ওই ময়লার পাত্রটির গায়ে ইংরেজিতে ‘বিপজ্জনক বর্জ্য’ কথাটি লেখা ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের প্রতিক্রিয়ায় মূলত এই ভিডিওটি শেয়ার করে ইরানি দূতাবাস। ভিডিওটির সঙ্গে যুক্ত করা ক্যাপশনে কেবল ‘যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন’ কথাটি লেখা হয়েছে এবং এর সঙ্গে একটি হাসিমুখের ইমোজি ব্যবহার করা হয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের এই জোরালো সাফল্যের পরই মূলত ইরানি দূতাবাসের পক্ষ থেকে এই ব্যঙ্গাত্মক পোস্টটি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
মার্কিন নির্বাচনের ফল নেতানিয়াহুর জন্য রাজনৈতিক সতর্কবার্তা: ইয়াইর গোলান
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির পরাজয় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জন্যও একটি বড় রাজনৈতিক সতর্কবার্তা—এমন মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলের বামপন্থী ডেমোক্র্যাটস দলের নেতা ইয়াইর গোলান। তাঁর দাবি, মার্কিন নির্বাচনের এই ফলাফল থেকে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় প্রধান দলের কাছেই নেতানিয়াহুর বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান অত্যন্ত অস্বস্তিকর। তাঁর মতে, নেতানিয়াহু এবং দেশটির জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ক্ষমতায় বহাল থাকলে ইসরায়েল মারাত্মক আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গুরুতর সংঘাতে লিপ্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টে এই কঠোর মন্তব্য করেন বিরোধীদলীয় এই নেতা। ইসরায়েলের ক্ষতিগ্রস্ত আন্তর্জাতিক অবস্থান পুনরুদ্ধারের জন্য দুটি ভিন্ন রাজনৈতিক পথের কথা তুলে ধরে গোলান লেখেন, ‘হয় নেতানিয়াহুর ইসরায়েল—যা বিশ্বজুড়ে বয়কটের শিকার, পশ্চাৎপদ ও বিচ্ছিন্ন এক সুপার-স্পার্টা; অথবা একটি শক্তিশালী, প্রগতিশীল, মুক্ত ও নিরাপদ ইসরায়েল। নেতানিয়াহু রাজনৈতিকভাবে হেরে গেছেন। তিনি বর্তমান ইসরায়েলের জন্য একটি বড় বিপদ।’
তাঁর মূল্যায়ন অনুযায়ী, নেতানিয়াহু সরকারের বর্তমান অতি-ডানপন্থী নীতির কারণে ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক আরও গভীর সংকটের মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে সুসম্পর্কের অবনতি দেশটির সামগ্রিক কূটনৈতিক ও কৌশলগত অবস্থানকে অত্যন্ত দুর্বল করে তুলতে পারে বলে জোরালো সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন তিনি।
ইয়াইর গোলানের ডেমোক্র্যাটস দল মূলত ইহুদি-নেতৃত্বাধীন প্রধান বিরোধী জোটের অন্যতম প্রধান একটি অংশ। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে এই জোট সচল থেকে আটচল্লিশটি আসন অর্জন করেছে। অন্যদিকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে তিপ্পান্নটি আসন। এ ছাড়া আরব-নেতৃত্বাধীন দুটি দল রেকর্ড উনিশটি আসন নিজেদের দখলে নিয়েছে। নির্বাচনের এই ফলাফল দেশটিতে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে নতুন এক জটিল রাজনৈতিক সমীকরণের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন ছোট ও মাঝারি দলের মধ্যে জোট গঠন এবং পারস্পরিক সমর্থন আদায়ের বিষয়টি এখন ইসরায়েলি রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
এদিকে ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি সাতাশ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করেছে। নির্বাচনে কোনো ধরনের কারচুপির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ না পাওয়ার পরই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। নির্বাচন প্রক্রিয়া ও ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তোলার নেতানিয়াহুর দীর্ঘ প্রচেষ্টার জন্য একে একটি বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
সরকার গঠনের পরবর্তী ধাপে দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দুই দিনব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুরু করবেন। এসব ধারাবাহিক আলোচনা শেষে তিনি জোট সরকার গঠনের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থীকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন। নতুন সরকার গঠনের এই জটিল প্রক্রিয়ার পাশাপাশি নেতানিয়াহুর দীর্ঘ রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেল আবিবের ঐতিহ্যগত সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত কোন মোড় নেয়, তা নিয়ে গোটা ইসরায়েলি রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র জল্পনা-কল্পনা অব্যাহত রয়েছে।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- ভুটানকে হারিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে শুভ সূচনা বাংলাদেশের
- নাহিদ ইসলামের ডাকে এখন ১০০ লোকও জড়ো হবে না: রাশেদ খাঁন
- হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে ভারতসহ চার দেশকে বিশেষ ছাড় ইরানের
- মার্কিন রাজনীতিতে নতুন সংকটের আভাস ও ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারি
- একাদশে বড় চমক নিয়ে মাঠে নামছে লাল-সবুজরা
- পোশাক খাতের অস্থিরতা দমনে কঠোর পদক্ষেপ প্রশাসনের
- জামায়াত জোটের বিরোধিতায় দল ছাড়লেন এনসিপি নেত্রী সামান্ত শারমিন
- রেকর্ড গড়ে বিশ্ব ও দেশীয় বাজারে বড় দরবৃদ্ধি
- সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধনী দিনে রোমাঞ্চকর লড়াই ও নাটকীয় ফিনিশ
- ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিশ্বমানের করে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী
- ইউক্রেন যুদ্ধের প্রযুক্তি এবার ইরানের হাতে তুলে দিচ্ছে রাশিয়া
- ভারতীয় ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য এল নতুন ও জরুরি নির্দেশনা
- পবিত্র মদিনার দিকে ছোড়া হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করল সৌদি জোট
- সীমান্তের ওপার থেকে দেশের বিরুদ্ধে বড় ষড়যন্ত্র চলছে: প্রধানমন্ত্রী
- মার্কিন রাজনীতিতে ইতিহাস গড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নতুন সিনেটর
- বিশ্ব ফুটবলে এক যুগের অবসান ঘটিয়ে বিদায় নিলেন তারকা
- মার্কিন রাজনীতিতে বড় ধাক্কার মুখে ডোনাল্ড ট্রাম্প
- সাংবাদিকদের গ্রেপ্তারে আদালতের অনুমতি নেওয়ার প্রস্তাব সাইবার সুরক্ষা আইনে
- সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য দল ঘোষণা করল বাংলাদেশ
- বড় ধরনের দুর্যোগের মুখে সৌদির বেশ কিছু অঞ্চল
- শীতে কি সত্যিই ফ্রিজের তাপমাত্রা কমানো উচিত?
- ট্রাম্পকে ডাস্টবিনে ফেলার এআই ভিডিও শেয়ার করল ইরানি দূতাবাস
- দীর্ঘ বিরতির পর রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি শুরু করায় মুদ্রাবাজারে আলোচনা
- মার্কিন নির্বাচনের ফল নেতানিয়াহুর জন্য রাজনৈতিক সতর্কবার্তা: ইয়াইর গোলান
- যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অচলাবস্থার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে ডলার ও তেলের দাম হ্রাস
- শ্রমিক আন্দোলনের নামে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পেছনে পার্শ্ববর্তী দেশের ইন্ধন রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- আবহাওয়ার দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে একাধিক লঘুচাপ ও ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা
- পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলেন আদালত
- আরও শক্তিশালী ইরান গড়ে তুলতে জাতীয় ঐক্যের ডাক ইরানি নেতার
- গাজীপুর ও সাভারে শ্রমিক আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না
- বিশ্ববাজারে বড় দরপতনের পর ঘুরে দাঁড়িয়েছে মূল্যবান ধাতুর বাজার
- যুক্তরাষ্ট্রবাসী বিরক্ত হলে ইসরায়েলে চলে যাওয়ার ঘোষণা মার্কিন প্রেসিডেন্টের
- সবুজ জ্বালানি ও অবকাঠামো উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ঢাকা ও বেইজিংয়ের
- শেনজেনে আসন্ন এপেক সম্মেলনে তিন বিশ্বনেতার বৈঠকের সম্ভাবনা
- পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও গ্যাসকূপ খননসহ নতুন ১৩ প্রকল্পের অনুমোদন
- ট্রাম্পের জন্য বড় ধাক্কা, মধ্যবর্তী নির্বাচনে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা: বদলে যাচ্ছে মার্কিন রাজনীতির সমীকরণ
- ‘ভুল করলে নতুন যুদ্ধক্ষেত্র দেখবে যুক্তরাষ্ট্র’: ইরানের কড়া হুঁশিয়ারি
- বাংলাদেশের পরিস্থিতি ও শ্রমিক বিক্ষোভের ওপর ভারত নজর রাখছে: রণধীর জয়সওয়াল
- শিল্পাঞ্চলের অস্থিতিশীলতার জন্য সরকারের অপরিপক্ব সিদ্ধান্ত দায়ী: হান্নান মাসউদ
- ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে আরও দুটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি আইআরজিসির
- নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে আইনি নোটিশ: ক্ষমা চাওয়ার জন্য সময় ১৫ দিন
- হুমকি পাওয়ার পর বুলগেরিয়ার সোফিয়া বিমানবন্দরে নামল ইসরায়েলি প্লেন
- মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনার জেরে ফের বাড়ল অপরিশোধিত তেলের দাম
- হরমুজ প্রণালিতে মাইনের আঘাতে তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণ
- শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের সম্পত্তি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার নির্দেশ
- টয়লেটে ফোন ব্যবহার: ডেকে আনছেন কোন স্বাস্থ্যঝুঁকি?
- শ্রমিক আন্দোলনে আওয়ামী সহিংসতার দায় জামায়াত আমির এড়াতে পারেন না: রাশেদ খান
- ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা প্রচেষ্টার মাঝেই হরমুজ প্রণালিতে বড় ধাক্কা
- ওয়াই-আকৃতির দ্বিতীয় পদ্মা ও দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
- বিএনপি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে পুষে রাখছে: নাহিদ ইসলাম
- জুলাই সনদ বাস্তবায়ন: রাজনৈতিক অঙ্গীকার, গণভোট ও সাংবিধানিক বৈধতার জটিল সমীকরণ
- জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান দিবসে ডেঙ্গু সচেতনতা ও বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত
- ১২৫তম প্রাইজবন্ড ড্র: বিজয়ী হলো যেসব নম্বর
- বেতনের দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভ: ৭ লাখের বেশি শ্রমিক কর্মবিরতিতে
- নতুন বেতনকাঠামো: কাল যারা টাকা পাচ্ছেন, যাদের অপেক্ষা করতে হবে
- কালিয়াকৈর থানার ওসির হস্তক্ষেপে স্বাভাবিক হলো ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক
- চোখের নিচে কালো দাগের পেছনে লুকিয়ে থাকা কারণ
- ধানের শীষের প্রার্থীর কাছে বড় ব্যবধানে হেরেছেন জামায়াত প্রার্থী
- সারাদেশের কোমর ভাঙা, তাই দেশ মেরামত করতে হবে: জামায়াত আমির
- জুমার খুতবায় শেখ হাসিনাকে ‘স্বৈরাচার’ বলায় খতিবকে অব্যাহতি
- সারাদেশে তিন দিন গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের স্বল্প চাপ থাকবে
- সরকার গঠন ব্যর্থ হলে ৯০ দিনের মধ্যে ইসরায়েলে নতুন নির্বাচনের হাঁকডাক
- শীতের সকালে ব্যায়ামের আগে কী খাবেন
- মাত্র দশ মিনিটে কি ধ্বংস সম্ভব ইরানের পরমাণু শক্তি
- ৯ মাসের ব্যবধানে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ৭১৯ টাকা








