তুরস্ক-সৌদি-পাকিস্তান চুক্তি কি নতুন সামরিক জোট? যা বললেন এরদোগান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৮ ০৯:২৫:৪৭
তুরস্ক-সৌদি-পাকিস্তান চুক্তি কি নতুন সামরিক জোট? যা বললেন এরদোগান
ছবি : সংগৃহীত

তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত নতুন যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে করা হয়নি বলে জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধিতে বিশ্বাসী ‘ভ্রাতৃপ্রতিম’ ও বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর জন্য ভবিষ্যতে এই প্রতিরক্ষা কাঠামোয় যুক্ত হওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি নতুন চুক্তির লক্ষ্য ও প্রকৃতি ব্যাখ্যা করেন।

এর কয়েক ঘণ্টা আগেই সৌদি আরবের মক্কায় তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের শীর্ষ নেতারা বহুল আলোচিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করেন। চুক্তিতে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ স্বাক্ষর করেন। চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধারা অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির বিরুদ্ধে সশস্ত্র হামলাকে অন্য দুই দেশের ওপর হামলা হিসেবেও বিবেচনা করা হবে।

এরদোগান বলেন, চুক্তিটি মূলত পারস্পরিক প্রতিরোধক্ষমতা বা ‘কলেকটিভ ডিটারেন্স’-এর নীতির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তিন দেশের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও গভীর করার পাশাপাশি যৌথ সামরিক প্রকল্প, প্রতিরক্ষা শিল্পে অংশীদারত্ব এবং সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমে সমন্বয় বাড়ানো হবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এই কাঠামোর উদ্দেশ্য নতুন সংঘাত সৃষ্টি করা নয়; বরং সম্ভাব্য আগ্রাসন ঠেকাতে তিন দেশের সক্ষমতা একত্রিত করা।

নতুন চুক্তিতে জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদে স্বীকৃত ব্যক্তিগত ও সম্মিলিত আত্মরক্ষার অধিকারের কথাও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। জাতিসংঘ সনদের ওই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সদস্য রাষ্ট্র সশস্ত্র হামলার শিকার হলে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আগ পর্যন্ত দেশটি এককভাবে বা মিত্রদের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করতে পারে। নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তির আইনি ভিত্তি ব্যাখ্যায় এই ধারাটিকে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে তিন দেশ।

এরদোগান স্পষ্ট করেছেন, মক্কা চুক্তিকে ইরান, ইসরায়েল, ভারত কিংবা অন্য কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে গঠিত সামরিক জোট হিসেবে দেখা উচিত নয়। তাঁর মতে, এটি একটি প্রতিরক্ষামূলক কাঠামো এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যেই তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে অঞ্চলটির শান্তি ও স্থিতিশীলতায় অবদান রাখতে আগ্রহী অন্যান্য বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের জন্য চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও খোলা রয়েছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সামরিক অস্থিরতার মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ায় এর ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব বেড়েছে। ইরানকে ঘিরে সংঘাত, উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যগত ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার মধ্যে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান নিজেদের মধ্যে আরও দৃঢ় নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তুলছে।

তবে চুক্তিতে ঠিক কী ধরনের সামরিক সহায়তা বাধ্যতামূলক হবে, সে বিষয়ে এখনো পূর্ণাঙ্গ বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। কোনো সদস্য রাষ্ট্র আক্রান্ত হলে অন্য দুটি দেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেনা পাঠাবে কি না, অথবা গোয়েন্দা সহায়তা, আকাশ প্রতিরক্ষা, অস্ত্র সরবরাহ ও লজিস্টিক সহযোগিতার মধ্যেই দায়িত্ব সীমাবদ্ধ থাকবে কি না—এসব বিষয় এখনো পরিষ্কার নয়। রয়টার্সও জানিয়েছে, পারস্পরিক প্রতিরক্ষার অঙ্গীকার থাকলেও বাস্তব সামরিক দায়বদ্ধতার বিস্তারিত এখনো অস্পষ্ট।

পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে বহু দশক ধরে ঘনিষ্ঠ সামরিক সম্পর্ক রয়েছে। সৌদি সামরিক বাহিনীর প্রশিক্ষণ, যৌথ মহড়া এবং নিরাপত্তা সহযোগিতায় পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের ভূমিকা আছে। অন্যদিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যেও প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যুদ্ধজাহাজ, ড্রোন, প্রশিক্ষণ ও সামরিক প্রযুক্তি নিয়ে দুই দেশের একাধিক যৌথ প্রকল্প রয়েছে। নতুন ত্রিপক্ষীয় চুক্তি এসব দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসতে পারে।

তুরস্কের ক্ষেত্রে চুক্তিটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো দেশটি ইতোমধ্যেই ন্যাটোর সদস্য। ফলে আঙ্কারার নতুন আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা অঙ্গীকার ভবিষ্যতে ন্যাটোর বিদ্যমান দায়বদ্ধতার সঙ্গে কীভাবে সমন্বিত হবে, তা নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে নতুন চুক্তিকে ন্যাটোর বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন করেনি তুরস্ক এবং এটি নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক সামরিক ব্লক তৈরির পদক্ষেপ নয় বলেও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো জোর দিয়েছে।

পাকিস্তানের পারমাণবিক সক্ষমতার কারণে চুক্তিটি নিয়ে আরেকটি প্রশ্নও সামনে এসেছে—এই প্রতিরক্ষা কাঠামোর সঙ্গে দেশটির পারমাণবিক অস্ত্রের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না। তবে পাকিস্তান এর আগে স্পষ্ট করেছে, সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার অর্থ পারমাণবিক অস্ত্র ভাগাভাগি বা পারমাণবিক সুরক্ষা ছাতা দেওয়া নয়। রয়টার্সও জানিয়েছে, নতুন চুক্তিকে পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো দেখছে না।

মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক সম্ভবত আঞ্চলিক নিরাপত্তায় স্থানীয় শক্তিগুলোর ক্রমবর্ধমান ভূমিকা। কয়েক দশক ধরে উপসাগরীয় নিরাপত্তার প্রধান বহিঃশক্তি ছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের এই নতুন ব্যবস্থা একটি অধিকতর অঞ্চলনির্ভর নিরাপত্তা কাঠামোর ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন।

তবে এটি কতটা কার্যকর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় পরিণত হবে, সেটি নির্ভর করবে বাস্তবায়ন কাঠামোর ওপর। যৌথ কমান্ড, সামরিক পরিকল্পনা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, অস্ত্রের আন্তঃকার্যক্ষমতা এবং সংকটের সময় সিদ্ধান্ত নেওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত প্রকাশ হলে চুক্তিটির প্রকৃত কৌশলগত গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হবে।

-রফিক


তেহরানের আকাশে রহস্যময় আলোর পিণ্ড: নতুন করে জল্পনা শুরু

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২১ ২১:৪৫:১৬
তেহরানের আকাশে রহস্যময় আলোর পিণ্ড: নতুন করে জল্পনা শুরু
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের রাজধানী তেহরানের আকাশে ২০ সেপ্টেম্বর রাতে উজ্জ্বল ও বহুরঙা আলোযুক্ত একটি রহস্যময় উড়ন্ত বস্তু দেখা যাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এক্স প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও অনুযায়ী ঘটনাটি আজাদেগান এক্সপ্রেসওয়ে সংলগ্ন এলাকায় ঘটেছে বলে দাবি করা হলেও, এর সত্যতা কিংবা বস্তুটির প্রকৃত পরিচয় এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং ইরান সরকারের পক্ষ থেকেও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা নতুন চাঞ্চল্যের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে একই দিনে ইরানের সামরিক বাহিনী মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ভ্রমণ সতর্কতা জারি করায় বিষয়টি নিয়ে জল্পনা আরও বেড়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বস্তুটিকে সামরিক ড্রোন, একাধিক ড্রোনের বহর কিংবা এলইডি আলোযুক্ত ঘুড়ি হিসেবে অনুমান করা হলেও নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য মেলেনি। সাম্প্রতিক এই ঘটনাটি অনেকের মনে ১৯৭৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর রাতের আলোচিত তেহরান ইউএফও ঘটনার স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে, সে সময়ও আকাশে অস্বাভাবিক বস্তু দেখে এফ-৪ যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়েছিল এবং যার দাপ্তরিক নথিপত্র মার্কিন সংস্থাসমূহের আর্কাইভে রয়েছে। তবে চলতি সপ্তাহের এই আলোর সঙ্গে ১৯৭৬ সালের ঐতিহাসিক ঘটনার কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি। স্বাধীন কোনো সংস্থা ভিডিওগুলোর সত্যতা নিশ্চিত না করায় এটি ড্রোন, অন্য কোনো আকাশযান নাকি ভিন্ন কিছু—সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি।

সূত্র: এনডিটিভি


নতুন সামরিক সক্ষমতা দেখে বিশ্ব চমকে যাবে: আইআরজিসির চরম হুঁশিয়ারি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২১ ২১:৩৮:১১
নতুন সামরিক সক্ষমতা দেখে বিশ্ব চমকে যাবে: আইআরজিসির চরম হুঁশিয়ারি
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় হামলা চালালে দেশটির বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ নতুন সামরিক কৌশল এবং আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মাঠে নামার হুশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি জানান, সম্ভাব্য মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে যুদ্ধের ভৌগোলিক পরিধি বাড়ানো হবে এবং এমন কিছু নতুন অস্ত্র ব্যবহার করা হবে যা দেখে বিশ্ব অবাক হয়ে যাবে। এছাড়া ইরানের পরবর্তী আঘাতের লক্ষ্যস্থল হিসেবে আগের স্থানগুলোর বাইরে সম্পূর্ণ নতুন কিছু এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সাক্ষাৎকারে মোহেব্বি দাবি করেন যে সাম্প্রতিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র একটি ঐতিহাসিক ও অপমানজনক পরাজয়ের মুখে পড়েছে, যা ওয়াশিংটন স্বীকার করতে সাহস পাচ্ছে না। হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকা এবং পারস্য উপসাগরীয় এলাকা ও উত্তর ইরাকে অবস্থিত মার্কিন গোয়েন্দা ঘাঁটিতে সফল ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানা মার্কিন ব্যর্থতারই বড় প্রমাণ বলে দাবি করেন তিনি। তবে আইআরজিসির এসব দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের এই চলমান উত্তেজনা প্রশমিত করতে কাতার উভয় পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ ও মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি ব্লুমবার্গকে নিশ্চিত করেছেন।

/আশিক


আন্তর্জাতিক মহলের সমালোচনার মধ্যেই রাশিয়ার নির্বাচন সম্পন্ন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২১ ১৯:৩৭:০৩
আন্তর্জাতিক মহলের সমালোচনার মধ্যেই রাশিয়ার নির্বাচন সম্পন্ন
ছবি : সংগৃহীত

রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ক্ষমতাসীন দল ‘ইউনাইটেড রাশিয়া’ ঐতিহাসিক ও নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে। উল্লেখযোগ্য কোনো জোরালো বিরোধিতা ছাড়াই অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী এই নির্বাচনে দেশটির ৪৫০টি আসনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৫৫টিতেই জয়লাভ করেছে দলটি। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের প্রধান এলা পামফিলোভা প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ করে এই বিশাল জয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর মাধ্যমে পার্লামেন্টে পুতিনের দলের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হয়েছে এবং তারা তাদের আগের ৩৪৩ আসনের রেকর্ডও ভেঙে ফেলল।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ জানিয়েছেন, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর এটিই প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচন এবং এর ফলাফল প্রমাণ করে যে সাধারণ মানুষ প্রেসিডেন্ট পুতিনের নীতি ও নেতৃত্বের ওপর পূর্ণ আস্থা বজায় রেখেছে। গত আড়াই দশক ধরে রাশিয়ার রাজনীতি নিয়ন্ত্রণকারী দলটির এই সুপারমাজোরিটি বা দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা তাদের প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধনের একক ক্ষমতা প্রদান করছে। ৫৯ শতাংশের বেশি ভোটারের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে যুদ্ধবিরোধী একমাত্র দলটিকে আগেই প্রার্থিতা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল এবং ভোটের শেষ দিনে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালানো হলেও কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে নির্বাচন সম্পন্ন হয়।

ফলাফল অনুযায়ী, কমিউনিস্ট পার্টি ৪০টি, জাতীয়তাবাদী এলডিপিআর ২৫টি এবং নিউ পিপল পার্টি ২০টি আসনে জয়ী হয়েছে। এছাড়া চেচনিয়ায় আঞ্চলিক প্রধান রমজান কাদিরভ ৯৯.৮৫ শতাংশ ভোট পেয়ে পুনরায় বিজয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এই নির্বাচনকে গণতন্ত্রের লোকদেখানো প্রহসন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

সূত্র: এএফপি


যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য বিশ্বাস করে না বিশ্ব, মন্তব্য ইরানি মুখপাত্রের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২০ ২১:৩৪:৪৫
যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য বিশ্বাস করে না বিশ্ব, মন্তব্য ইরানি মুখপাত্রের
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো বক্তব্য অন্ধভাবে বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি ওয়াশিংটনের নীতিকে সরল ও ভণ্ডামিপূর্ণ বলে আখ্যায়িত করে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।

বাঘাইয়ের মতে, ওয়াশিংটন এখনো এমন একটি মানসিকতায় আটকে রয়েছে যেখানে তারা মনে করে বিশ্বের অন্যান্য দেশের স্মৃতিশক্তি বা বিশ্লেষণ করার কোনো ক্ষমতা নেই। তারা ধরে নিয়েছে যে সবাই অন্ধভাবে তাদের কথা বিশ্বাস করবে এবং কোনো প্রশ্ন ছাড়াই তা মেনে নেবে।

একদিকে ইরানের সাধারণ মানুষকে চরম অর্থনৈতিক সংকটে ফেলতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, অন্যদিকে ইরানি কর্মকর্তারা যাতে মার্কিন পাইকারি কোনো দোকান থেকে কেনাকাটা করতে না পারেন—এমন কূটনৈতিক পদক্ষেপকে বড় করে দেখানো হচ্ছে। পুরো একটি জাতির জীবিকা ধ্বংসের মতো কঠোর নিষেধাজ্ঞাকে উদযাপনের পাশাপাশি সাধারণ দোকানের সদস্যপদ কার্ড নিয়ে বড় বড় কথা বলা যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিচারিতা ও নীতির চরম অসংগতিকেই স্পষ্ট করে তোলে। ওয়াশিংটনের এসব বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে তাদের নেওয়া নীতির চিন্তাগত সীমাবদ্ধতাও ফুটে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

/আশিক


ধারণাকেও ছাড়িয়ে গেল খরচ! ইরান যুদ্ধে কত ব্যয় হলো যুক্তরাষ্ট্রের?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২০ ১৯:২০:০০
ধারণাকেও ছাড়িয়ে গেল খরচ! ইরান যুদ্ধে কত ব্যয় হলো যুক্তরাষ্ট্রের?
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ইতোমধ্যে ৪ হাজার ৫১০ কোটি (৪৫.১ বিলিয়ন) ডলারে পৌঁছেছে। মার্কিন কংগ্রেসের কাছে দেওয়া পেন্টাগনের সাম্প্রতিক হিসাবের বরাতে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য জানিয়েছে সিএনএন। সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অভিযানের ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪ হাজার ৩৬০ কোটি ডলার; এর সঙ্গে অতিরিক্ত জ্বালানি বাবদ আরও ১৫০ কোটি ডলার যোগ হয়ে মোট ব্যয়ের অঙ্ক ৪৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

তবে প্রতিরক্ষা ও বাজেট বিশ্লেষকদের মতে, পেন্টাগনের দেওয়া এই পরিসংখ্যান যুদ্ধের প্রকৃত আর্থিক ক্ষতির সম্পূর্ণ চিত্র নয়। কারণ এই হিসাবে ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও আঞ্চলিক স্থাপনা পুনর্নির্মাণের খরচ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরোক্ষ ব্যয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। পেন্টাগনের বর্তমান এই হিসাব কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসের (সিবিও) পূর্বানুমানকেও ছাড়িয়ে গেছে।

সিবিও পূর্বাভাস দিয়েছিল যে আগস্টের পর যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে প্রতি মাসে অতিরিক্ত ২০০ থেকে ৩০০ কোটি ডলার খরচ হতে পারে, যা সংঘাত বাড়লে আরও ঊর্ধ্বমুখী হবে। একই সঙ্গে এই বিপুল খরচের ধাক্কায় ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সিবিও।

সূত্র: সিএনএন


২৭ সেপ্টেম্বরের মিছিল ঘিরে পাকিস্তানে চরম উত্তেজনা, গ্রেপ্তার ইমরান খানের বোন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২০ ১৯:০৬:৩৮
২৭ সেপ্টেম্বরের মিছিল ঘিরে পাকিস্তানে চরম উত্তেজনা, গ্রেপ্তার ইমরান খানের বোন
ছবি : সংগৃহীত

পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বোন আলিমা খানকে লাহোরে তাঁর নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ মিছিলের আগে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) এ গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটে বলে রয়টার্সের বরাতে নিশ্চিত করেছেন পিটিআই পাঞ্জাবের এক মুখপাত্র।

গ্রেপ্তারের পর লাহোর জেলা প্রশাসনের জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে আলিমা খানকে ৩০ দিনের জন্য কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই তাঁকে আটক করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, যেকোনো জনসমাগমে তাঁর উপস্থিতি জননিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করতে পারে।

কারাবন্দি ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে আগামী সপ্তাহে রাজধানী ইসলামাবাদ অভিমুখে গণমিছিলের ডাক দিয়েছে পিটিআই। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি এর আগেই স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে এই কর্মসূচি প্রতিহত করতে প্রশাসন সম্ভাব্য সব ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নেবে। এদিকে ইমরান খানের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগী জুলফি বুখারি এই আটকের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি মন্তব্য করেন, ২৭ সেপ্টেম্বরের আসন্ন গণবিক্ষোভ ঘিরে সরকার কতটা শঙ্কিত ও উদ্বেগে রয়েছে, আলিমা খানকে গ্রেপ্তারের ঘটনাই তার প্রমাণ।

সূত্র : রয়টার্স


রাজধানী রিয়াদের আকাশে আগুনের শিখা! কী ঘটেছে আরামকো ও বিমানবন্দরে?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২০ ১৭:০৬:২১
রাজধানী রিয়াদের আকাশে আগুনের শিখা! কী ঘটেছে আরামকো ও বিমানবন্দরে?
ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের বিভিন্ন সংবেদনশীল স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিকটবর্তী এলাকা থেকে তীব্র আগুনের শিখা ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী প্রত্যক্ষ করার কয়েক ঘণ্টা পর এ হামলার আনুষ্ঠানিক দায় স্বীকার করে গোষ্ঠীটি। রয়টার্সের প্রকাশিত ভিডিওচিত্রে বিমানবন্দর মহাসড়কের পাশে জ্বালানি ট্যাংকের কাছে আগুন ও ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে।

হুতিদের দাবি অনুযায়ী, রিয়াদের পাশাপাশি লোহিত সাগরের তীরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ শিল্পনগরী ইয়ানবুতে অবস্থিত সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর স্থাপনাতেও তারা যৌথ আক্রমণ চালিয়েছে। ইয়েমেনের রাজধানী সানায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এ আক্রমণ চালানো হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করে। তবে রিয়াদের সুনির্দিষ্ট কোন কোন স্থাপনায় আঘাত হানা হয়েছে, তা স্পষ্ট করেনি গোষ্ঠীটি। উল্লেখ্য, চলমান সংঘাত শুরুর পর এটিই রিয়াদে হুতিদের প্রথম হামলার দাবি।

অন্যদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট দাবি করেছে, শনিবার ভোররাতে রিয়াদের আকাশসীমায় হুতিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সফলভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বিশ ও ফারাসান, পশ্চিমাঞ্চলীয় তায়েফ এবং ইয়ানবু লক্ষ্য করে চালানো হামলার অপচেষ্টাও রুখে দেওয়া হয়েছে। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে রিয়াদে দুই দফা নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হলে বাসিন্দারা দফায় দফায় বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান, যা ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের প্রতিরোধমূলক বিস্ফোরণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য নিশ্চিত করেনি সৌদি কর্তৃপক্ষ।

/আশিক


ইরান যুদ্ধে বড় অর্থনৈতিক ধাক্কা, তথ্য ফাঁসে ট্রাম্পের তীব্র ক্ষোভ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৯ ২১:৪৭:৫১
ইরান যুদ্ধে বড় অর্থনৈতিক ধাক্কা, তথ্য ফাঁসে ট্রাম্পের তীব্র ক্ষোভ
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় ইতোমধ্যে ৪ হাজার ৩৬০ কোটি (৪৩.৬ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) আইনপ্রণেতাদের কাছে পাঠানো হালনাগাদ হিসাব অনুসারে, এই বিপুল খরচের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই চলে যাচ্ছে ব্যবহৃত সমরাস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত পুনরায় পূরণ করতে। হিসাব অনুযায়ী, গত ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরাসরি সামরিক অভিযানে পেন্টাগনের ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ১২০ কোটি ডলার। এর বাইরে অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত পুনঃস্থাপনে প্রায় ২ হাজার ৮১০ কোটি ডলার এবং ক্ষতিগ্রস্ত বা হারানো সামরিক সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনে আরও ৪৩০ কোটি ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

তবে সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকৃত ক্ষতির আর্থিক অঙ্ক আরও ব্যাপক হতে পারে, কারণ হামলায় ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সামরিক ঘাঁটি ও অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের ব্যয় সেন্টকমের এই হিসাবে আসেনি। পেন্টাগনের ইনস্পেক্টর জেনারেলের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের আটটি দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শত শত ভবন, উন্নত রাডার ব্যবস্থা এবং বেশ কিছু যুদ্ধবিমান ও নজরদারি আকাশযান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস)-এর বিশ্লেষণমতে, প্যাট্রিয়ট ও থাডের মতো ব্যয়বহুল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ইরানি আক্রমণ প্রতিহত করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র মজুতের ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি হয়েছে, যা দেশটির সামগ্রিক প্রতিরক্ষা শিল্পের পুনঃসরবরাহের দুর্বলতাকে সামনে এনেছে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক মজুতের ঘাটতি ও ব্যয় সংক্রান্ত ফাঁস হওয়া এসব প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ দাবি করে নস্যাৎ করেছেন।

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস


তিব্বত-নেপালে বরফ ধস ও পাহাড়ি ঢল: চরম ঝুঁকিতে বাংলাদেশসহ আট দেশ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৯ ২১:৩১:৩০
তিব্বত-নেপালে বরফ ধস ও পাহাড়ি ঢল: চরম ঝুঁকিতে বাংলাদেশসহ আট দেশ
ছবি : সংগৃহীত

নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক আকস্মিক বরফ ধস ও সর্বনাশা পাহাড়ি ঢল কেবল একটি বিচ্ছিন্ন বা স্থানীয় দুর্যোগ নয়, বরং এটি সমগ্র হিমালয় অঞ্চলের পরিবেশ ব্যবস্থার ওপর নেমে আসা এক মারাত্মক অশনিসংকেত। হিমালয়ের পানির ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভর করে টিকে থাকা বাংলাদেশসহ এই অঞ্চলের আটটি দেশের জন্য এই বিপর্যয় এক তীব্র সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে হিমালয়ের হিমবাহগুলো আশঙ্কাজনক গতিতে গলতে থাকায় এ ধরনের চরম আবহাওয়া পরিস্থিতির পৌনঃপুনিক ঝুঁকি আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।

বিশেষ করে ভৌগোলিকভাবে গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা অববাহিকার ভাটির প্রান্তে অবস্থিত হওয়ায় উজানের পাহাড়ি ঢল, আকস্মিক হিমবাহ হ্রদ বিস্ফোরণ (GLOF) কিংবা বরফ ধসের সরাসরি প্রভাব এসে পড়ে বাংলাদেশের ওপর। জলবায়ুর দ্রুত পরিবর্তনের কারণে নদীভাঙন, অসময়ে তীব্র পাহাড়ি ঢল এবং পূর্বাভাসবিহীন প্রলয়ঙ্করী বন্যার তীব্র ঝুঁকি আরও গভীর হচ্ছে।

এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে এককভাবে কোনো দেশের পক্ষে এ ধরনের বিপর্যয় সামাল দেওয়া সম্ভব নয় বলে একমত হয়েছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। বিপর্যয় কমাতে বাংলাদেশ, ভারত, চীন, নেপাল, ভুটান ও পাকিস্তানসহ সংশ্লিষ্ট আটটি দেশের মধ্যে অবিলম্বে একটি সমন্বিত আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে উজানের পাহাড়ি আবহাওয়ার পূর্বাভাস, নদ-নদীর প্রবাহ এবং পানি বৃদ্ধির রিয়েল-টাইম তথ্য আদান-প্রদানে যৌথ নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে যথাসময়ে আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছানো সম্ভব হবে এবং প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি বহুলাংশে কমিয়ে আনা যাবে।

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস ।

পাঠকের মতামত: